বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র – ১৩ তম খণ্ড (অনুবাদসহ)

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র – ১৩ তম খণ্ড (অনুবাদসহ)

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি

(ত্রয়োদশ খণ্ড)

বিদেশী প্রতিক্রিয়াঃ জাতিসংঘ ও বিভিন্ন রাষ্ট্র

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

অ্যাটেনশন!

পরবর্তী পেজগুলোতে যাওয়ার আগে কিছু কথা জেনে রাখুনঃ

  • ডকুমেন্টটি যতদূর সম্ভব ইন্টার‌্যাক্টিভ করা চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ এই ডকুমেন্টের ভেতরেই অসংখ্য ইন্টারনাল লিংক দেয়া হয়েছে। আপনি সেখানে ক্লিক করে করে উইকিপিডিয়ার মতো এই ডকুমেন্টের বিভিন্ন স্থানে সহজেই পরিভ্রমণ করতে পারবেন। যেমন প্রতি পৃষ্ঠার নিচে নীল বর্ণে ‘সূচিপত্র’ লেখা শব্দটিতে কি-বোর্ডের Ctrl চেপে ধরে ক্লিক করলে আপনি সরাসরি এই ডকুমেন্টের সূচিপত্রে চলে যেতে পারবেন।
  • তারপর ‘দলিল প্রসঙ্গঃ বিদেশী প্রতিক্রিয়া-জাতিসংঘ ও অন্যান্য রাষ্ট্র’ শিরোনামে কিছু লেখা আছে। এটি যুদ্ধদলিলের ত্রয়োদশ তম খণ্ড থেকে সরাসরি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এখানে আপনারা জানতে পারবেন যে এই ডকুমেন্টে আসলে কী কী আছে।
  • তারপর ‘সূচিপত্র’। এখান থেকেই মূল দলিল শুরু। সূচিপত্রটি সরাসরি দলিলপত্র থেকে নেয়া হয়েছে। সূচিপত্রে লেখা পেজ নাম্বারগুলো
  • যুদ্ধদলিলে মোট ১৫ টি খণ্ড আছেঃ

প্রথম খন্ড : পটভূমি (১৯০৫-১৯৫৮)
দ্বিতীয় খন্ড : পটভূমি (১৯৫৮-১৯৭১)
তৃতীয় খন্ড : মুজিবনগর : প্রশাসন
চতুর্থ খন্ড : মুজিবনগর : প্রবাসী বাঙালীদের তৎপরতা
পঞ্চম খন্ড : মুজিবনগর : বেতারমাধ্যম
ষষ্ঠ খন্ড : মুজিবনগর : গণমাধ্যম
সপ্তম খন্ড : পাকিস্তানী দলিলপত্র: সরকারী ও বেসরকারী
অষ্টম খন্ড : গণহত্যা, শরনার্থী শিবির ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা
নবম খন্ড : সশস্ত্র সংগ্রাম (১)
দশম খন্ড : সশস্ত্র সংগ্রাম (২)
একাদশ খন্ড : সশস্ত্র সংগ্রাম (৩)
দ্বাদশ খন্ড : বিদেশী প্রতিক্রিয়া : ভারত
ত্রয়োদশ খন্ড : বিদেশী প্রতিক্রিয়া : জাতিসংঘ ও বিভিন্ন রাষ্ট্র
চতুর্দশ খন্ড : বিশ্বজনমত
পঞ্চদশ খন্ড : সাক্ষাৎকার

  • এই ডকুমেন্টে প্রতিটি দলিলের শুরুতে একটা কোড দেয়া আছে।

খণ্ড নম্বর. দলিল নম্বর. পেজ নম্বর.

অর্থাৎ 13.144.465 এর অর্থ আলোচ্য দলিলটি মূল সংকলনের ১৩তম খণ্ডের ১৪৪ নং দলিল, যা ৪৬৫ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত আছে। দলিল নম্বর বলতে সূচিপত্রে উল্লিখিত নম্বরকে বুঝানো হচ্ছে।

  • মনে করুন, ২৬ শে মার্চ উপলক্ষে আপনি কোন ম্যাগাজিনে একটি লেখা দিবেন। এই ফাইলে তখন ২৬ শে মার্চ লিখে সার্চ দিলেই ৬ষ্ঠ তম খণ্ডের সেই সংক্রান্ত সকল দলিল পেয়ে যাবেন। ফলে রেফারেন্স নিয়ে লিখতে আপনার খুবই সুবিধা হবে। কারণ আমাদের মূল উদ্দেশ্য একটাই। আমরা যেন সঠিক ইতিহাস চর্চা করে বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্ম হয়ে উঠি। এটা আমাদের নিজেদের জন্যেই অত্যন্ত প্রয়োজন। যে জাতি নিজের জন্মের ইতিহাস জানে না, সে জাতির চেয়ে দুর্বল সত্ত্বা পৃথিবীতে আর কিছু নেই।
  • মনে করুন, আপনি নিজের এলাকা নিয়ে জানতে চান। তবে নিজের এলাকার নাম লিখে এই ডকুমেন্টে সার্চ করুন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি ঢাকা এলাকার হলে Ctrl+F চেপে “ঢাকা” লিখে সার্চ করুন। ত্রয়োদশ তম খণ্ডের ঢাকা নিয়ে সকল দলিল আপনার সামনে চলে আসবে। দেশকে জানার প্রথম শর্তই হলো নিজের এলাকাকে জানা।

মনোযোগ দিয়ে সারসংক্ষেপটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এবার বিস্তারিত।

 

 

দলিল প্রসঙ্গঃ বিদেশী প্রতিক্রিয়া-জাতিসংঘ ও অন্যান্য রাষ্ট্র

 

বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র ত্রয়োদশ খন্ডে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত উক্ত বিষয়ের উপর বিভিন্ন বির্তক ও প্রস্তাব এবং বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত দলিলসমূহ অন্তভূক্ত করা হয়েছে।

দলিলের প্রাপ্যতা অন্যান্য খন্ডের বিভাজন এবং সন্নিবেশের কাজকে প্রভাবিত করেছে। তবে ত্রয়োদশ খন্ডে এই সমস্যা ছিল অন্যরূপ। এখানে বিশাল এবং বিরাট সংগ্রহ থেকে দলিল বাছাই করাই ছিল প্রধান সমস্যা। অতএব সম্পাদনা এবং নির্বাচন দুরূহ ছিল।

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন রাষ্ট্র, ব্যক্তি বা সংগঠন বাংলাদেশ আন্দোলনের প্রতি যে বলিষ্ঠ সমর্থন যুগিয়েছিল, তার একটি সঠিক চিত্র তুলে ধরাই এ খন্ডের মূল উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য সামনে রেখে যাবতীয় দলিল নির্বাচিত ও উপস্থাপিত করা হয়েছে। তবে ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিক্রিয়াও এতে সংযোজিত করা হয়েছে।

মূল বিভাজনগুলোর ভিত্তি হচ্ছে, ব্যক্তি বা সংগঠনের ভূমিকা এবং গুরুত্ব। যে সকল রাষ্ট্ৰীয় বা ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া কোনো মূল বিভাজনে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি সেগুলো একত্রিত করা হয়েছে একটি আলাদা বিভাজনে।

মূল বিভাজনগুলো হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশ সংগ্রামেঃ

(ক) যুক্তরাজ্যের ভূমিকা – পৃষ্ঠা ১ থেকে ১৯৮ পর্যমত

(খ) মার্কিন যুক্তরাজ্যের ভূমিকা – পৃষ্ঠা ২০১ থেকে ৫৫৪ পর্যন্ত

(গ) সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা- পৃষ্ঠা ৫৫৭ থেকে ৫৮২ পর্যন্ত

(ঘ) গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ভূমিকা – পৃষ্ঠা ৫৮৫ থেকে ৬০৮ পর্যন্ত

(ঙ) অন্যান্য রাষ্ট্ৰীয় নেতৃবর্গের ভূমিকা ও বিবৃতি- পৃষ্ঠা ৬১১ থেকে ৬৯৮ পর্যন্ত

(চ) জাতিসংঘ- পৃষ্ঠা ৭২১ থেকে ৯৬৮ পর্যন্ত

যুক্তরাজ্যের সরকারী ও বেসরকারী ভূমিকা এসেছে কমন্স সভার কার্যবিবরণী, বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা এবং নেতৃবর্গের বিবৃতি ও তাদের কর্মতৎপরতার মাধ্যমে। পাশাপাশি এসেছে রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবসমূহ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ার বিবরণ পাওয়া যাবে কংগ্রেসের কার্যবিবরণী, নেতৃবর্গের বিবৃতি, বিভিন্ন সংগঠনের প্রচারকার্য এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মতৎপরতা সংক্রান্ত দলিলপত্রে। এছাড়া কংগ্রেস সদস্যদের কাছে লিখিত বা তাদের দ্বারা লিখিত চিঠিপত্রও সংযোজিত করা হয়েছে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে সরকারী দলিলপত্রের মাধ্যমে। এই ভূমিকার পরিচিতি এসেছে নেতৃবর্গের বিবৃতি এবং রাষ্ট্রীয় দলিলে। গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

জাতিসংঘ এবং জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠনের দলিলপত্র সর্বশেষ উপস্থিত করা হয়েছে। এই অংশে আছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা ও সাধারণ পরিষদের বির্তক ও প্রস্তাব, মহাসচিবের আবেদন এবং অন্যান্য সংগঠনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য , বিবৃতি ও কার্যবিবরণী।

সামগ্রিকভাবে এই খন্ডে প্রচেষ্টা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতি সারা বিশ্বে যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়, তারই একটি প্রতীকী চিত্র উপস্থিত করা ।

 

 

 

 

 

 

 

সূচীপত্র

 

ক্রমিক বিষয় পৃষ্ঠা কম্পাইলার

 

স্বাধীন বাংলাদেশের সংগ্রামে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা

 

বৃটিশ পররাষ্ট্র সচিব ডগলাস হিউম-এর মন্তব্য ও বাংলাদেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিতর্ক
বাংলাদেশে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সমালোচনাঃ পররাষ্ট্র সচিব হিউম বিবৃত সুজয় বড়ুয়া
পাকিস্তানকে সাহায্য ও ত্রাণ সামগ্রী প্রদান সম্পর্কে বিতর্ক
বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিতর্ক জেসিকা গুলশান তোড়া
পাকিস্তানকে প্রদত্ত বৃটিশ সাহায্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি ১২
পাকিস্তানকে বৈদেশিক সাহায্য দান সম্পর্কে বিতর্ক ১৩
ত্রাণ সাহায্য প্রদান ও পররাষ্ট্র সচিব ইউমের বিবৃতি ১৪ মাহফুজ হোসাইন কাজল
বাংলাদেশ পরিস্থিতির প্রত্যক্ষদর্শী এম. পি. দের বিবরণ ও কমন্স সভার প্রস্তাব ১৮
পাকিস্তানকে সাহায্য দান ও শরণার্থী ত্রাণ সম্পর্কিত পররাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি ও এ সংক্রান্ত বিতর্ক ৮০ সুজয় বড়ুয়া
১০ ত্রাণ সাহায্য ও সংকট সমাধানে বৃটিশে সরকারের ভূমিকাঃ পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্য ৮৩
১১ বাংলাদেশ সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানে কমন্স সভায় পররাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি ৯৩
১২ বাংলাদেশের শোচনীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে বিবৃতি ও বিতর্ক ৯৫ Mehjabeen badhon
১৩ বৃটিশ ত্রাণতৎপরতা সম্পর্কে পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্য ১০০ চৌধুরী সাদিয়া ফাহমিদা
১৪ উপমহাদেশীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে কমন্স সভায় পররাষ্ট্র সচিবের মন্তব্য ১০১
১৫ পাক-ভারত পরিস্থিতি সম্পর্কে বৃটিশ পররাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি ১০৩
১৬ পাক-ভারত যুদ্ধঃ বৃটিশ কমন্স সভায় পররাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি ১০৫ আলিমুল ফয়সাল

 

স্বাধীন বাংলাদেশের সংগ্রামে বৃটিশ জনগণের ভূমিকা

 

১৭ বাংলাদেশের ঘটনাবলী সম্পর্কে কমন্স সভার সদস্য রাসেল জন স্টোন-এর বক্তব্য ১০৯
১৮ বাংলাদেশে নির্যাতন বন্ধের দাবীতে লর্ড সভার সদস্য লর্ড ব্রকওয়ের ভাষণ ১১০ রাইসা সাবিলা
১৯ বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কাঃ অক্সফাম ও ‘ওয়ার অন ওয়ান্ট’ সংস্থার রিপোর্ট ১১১
২০ পূর্ববঙ্গে গণহত্যা সম্পর্কে শ্রমিক দলীয় সদস্য মিঃ ব্রুস ডগলাস ম্যান-এর বক্তব্য ১১৬ Nishom Sarkar
২১ মিঃ ডগলাস ম্যান কর্তৃক পাকিস্তানের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের দাবী ১১৮
২২ বাংলাদেশের ঘটনাবলীর উপর জন স্টোনহাউসের সাক্ষাৎকার ১২০ mOhammd mohid
২৩ পাকিস্তানে প্রেরিত বৃটিশ পণ্যসামগ্রীর বীমা সুবিধা বিলোপ ১২১ ফাতেমা জোহরা
২৪ পাকিস্তানে বৃটিশ সাহায্য বন্ধের দাবী ১২২
২৫ বাংলাদেশে নির্যাতনের উপর সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পুনঃপ্রচার ১২৪ মাসরুর আহমেদ মাকিব
২৬ পূর্ববাংলা ট্র্যাজেডীর প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক দলীয় এম পি মিঃ মাইকেল বার্নস এবং ওয়ার অন ওয়ান্ট সভাপতি ডোনাল্ড চেসওয়ার্থ-এর বিবৃতি ১২৬ FatemajOhora
২৭ ১২০ জন শ্রমিক দলীয় এম পি কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানের দাবী ১২৮ MaimunaTasnim
২৮ বাংলাদেশে গণহত্যাঃ ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাব ১৩০ মাসরুর আহমেদ মাকিব
২৯ বাংলাদেশে ত্রাসের রাজত্বঃ চারজন বৃটিশ এম পি-র ঘটনা বর্ণনা ১৩১ Raisa Sabila
৩০ শরণার্থীদের দুর্দশা সম্পর্কে ‘দি টাইমস’ সম্পাদকের কাছে লেডি আলেকজান্দ্রা মেট কাফ-এর চিঠি ১৩৩ মোহিদুর
৩১ এম পি মিঃ আর্থার বটমলে ও টবী জেসেল-এর বক্তব্য ১৩৪
৩২ শ্রমিক দলের কমিটিতে পাকিস্তান পরিস্থিতি আলোচনা ১৩৫
৩৩ পাকিস্তান ও ভারত সফর শেষে বৃটিশ এম পি-র বিবৃতি ১৩৭
৩৪ বাংলাদেশে গণহত্যাঃ দুইজন আইরিশ এম পি-র বিবৃতি ১৪০
৩৫ বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর অপারেশন ওমেগার প্রচারপত্র ১৪২
৩৬ অ্যাকশন বাংলাদেশের ভূমিকা ও কর্মসূচী ১৪৪
৩৭ বাংলাদেশের ঘটনাবলীর উপর তিনজন এম পি-র বক্তব্য ১৪৭ mohidur
৩৮ এম পি মিঃ আর্থার বটমলের বক্তব্য ১৪৮
৩৯ বৃটিশ এম পি পিটার শোর-এর বক্তব্য ১৪৯ fatema
৪০ বৃটিশ এম পি বার্নার্ড ব্রেইন-এর বিবৃতি ১৫০
৪১ পাকিস্তানকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া উচিৎ নয়ঃ বৃটিশ এম পি পিটার শোর-এর বক্তব্য ১৫৩
৪২ অক্সফামের পরিচালক মিঃ কার্কলের বিবৃতি ১৫৪
৪৩ কুয়ালালামপুর কমনওয়েলথ সম্মেলনে মিঃ আর্থার বটমলের বক্তৃতা ১৫৫
৪৪ বৃটিশ ওভারসীস সোশ্যালিস্ট ফেলোশীপ-এর সভায় বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বক্তৃতা দানের আমন্ত্রণ ১৫৬
৪৫ লেবার পার্টি কর্তৃক পাকিস্তানের সমালোচনা ১৫৭ মাসরুর আহমেদ মাকিব
৪৬ ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ স্টুডেন্টস-এর আবেদন ১৫৯ মোহিদুর
৪৭ স্বাধীন বাংলার সংগ্রামে বৃটিশ শ্রমিক দলের সমর্থন জানিয়ে হেরল্ড উইলসনের পক্ষে লিখিত চিঠি ১৬১
৪৮ স্বাধীন বাংলার সংগ্রামে লেবার পার্টির সমর্থনসূচক এম পি মিকার্ডোর চিঠি ১৬২ Ayon মুuktadir
৪৯ বাংলাদেশের উপর ষাট ব্যক্তির প্রতিবেদন ১৬৩
৫০ অধিকৃত বাংলাদেশের ত্রাণকর্মরত অপারেশন ওমেগা কর্মীর কারাবরণ ১৯৬
৫১ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের যুক্তরাজ্য কমিটির আবেদন ১৯৭ প্রলয় হাসান

 

স্বাধীন বাংলাদেশের সংগ্রামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

 

৫২ যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতর মুখপাত্রের বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিবৃতি ২০১ Rana amjad
৫৩ সিনেটর বায়ার্ডকে লিখিত পররাষ্ট্র কর্মকর্তার চিঠি ২০৫
৫৪ সিনেটর জে ডাবলু ফুলব্রাইটকে লিখিত পররাষ্ট্র কর্মকর্তার পত্রগুচ্ছ ২০৭
৫৫ মার্কিন সরকারের শরণার্থী ত্রাণ সংক্রান্ত বিবৃতি ২১২
৫৬ ডঃ গ্রীনোর উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্র দপ্তর কর্মকর্তার চিঠি ২১৪
৫৭ সিনেটর কেনেডীর কাছে লিখিত পররাষ্ট্র দফতরের পত্রগুচ্ছ ২১৭
৫৮ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এজেন্সীর রিপোর্ট (অংশ) ২২৪ Rumi Ahmed
৫৯ পররাষ্ট্র দফতর কর্তৃক পাকিস্তানে অস্ত্র প্রেরণ প্রশ্নে কংগ্রেস সদস্য মাইকেল হ্যারিংটনের পত্রের জবাব ও বিবৃতি ২২৬
৬০ প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সাংবাদিক সম্মেলন ২২৮
৬১ মার্কিন আন্তঃএজেন্সী কমিটির শরণার্থী ত্রাণ সম্পর্কিত রিপোর্ট ২২৯ Saeed
৬২ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এজেন্সীর রিপোর্ট (অংশ) ২৩১ Rana masud
৬৩ কংগ্রেসের নিকট অতিরিক্ত অর্থ আবেদনকালে বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট নিক্সন ২৩৪ সিডাটিভ হিপনোটিক্স
৬৪ পররাষ্ট্র দপ্তর কর্মকর্তা কর্তৃক সিনেটর বার্চ বের পত্রের জবাব ২৩৫
৬৫ পাক-ভারত সংঘর্ষ থেকে দূরে থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সব কিছু করবেঃ রজার্স ২৩৮ আরিফ জেবতিক
৬৬ হেনরী কিসিঞ্জারের ৭ই ডিসেম্বর ’৭১-এর সাংবাদিক সম্মেলন ২৩৯
৬৭ ওয়াশিংটন স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ বৈঠকের কার্যবিবরণী ২৫১
৬৮ ওয়াশিংটন স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের ৮ ডিসেম্বর, ’৭১-এর বৈঠকের কার্যবিবরণী ২৬৪
৬৯ পরিশিষ্ট-কঃ পাক-মার্কিন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি ২৭০
৭০ পরিশিষ্ট-খ ২৭৪

 

যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের দলিলপত্র

 

৭১ বাংলাদেশের শোকাবহ ঘটনা সম্পর্কে সিনেটর হ্যারিসের মন্তব্য ২৭৭
৭২ বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সিনেটর কেনেডী ২৭৯
৭৩ কংগ্রেস সদস্য হলপার্ন-এর বক্তব্য ২৮০
৭৪ মার্কিন সামরিক সাহায্য কর্মসূচীর পুনঃপর্যালোচনা দাবী ২৮১
৭৫ বাংলাদেশের প্রশ্নে সিনেটর মাস্কি ২৮৪
৭৬ পাকিস্তানে সামরিক সাহায্য বন্ধের জন্য সিনেটর মন্ডেল, সিনেটর কেস-এর প্রস্তাব-২১ ২৮৫
৭৭ সিনেটর প্রক্সমায়ার-এর বিবৃতি ২৮৭
৭৮ কংগ্রেস সদস্য মিঃ শিউয়ের-এর বিবৃতি ২৮৯
৭৯ বাংলাদেশ থেকে ডঃ জন রোড কর্তৃক সিনেটর স্যাক্সবীকে লিখিত চিঠি ২৯১
৮০ বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের হুমকি মোকাবিলায় কেনেডীর আহবান ২৯৪
৮১ কংগ্রেস সদস্য ওয়াল্ড-এর বক্তব্য ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রদের প্রতিবাদ ২৯৬
৮২ বাংলাদেশের ঘটনা সম্পর্কে সিনেটর পীল-এর মন্তব্য ২৯৯
৮৩ সিনেটর মন্ডেল-এর বিবৃতি ও টেলিগ্রাম ৩০০
৮৪ কংগ্রেস সদস্য ম্যাকেভিটকে লিখিত শ্যামেল পরিবারের চিঠি ৩০২
৮৫ প্রতিনিধি পরিষদে ই, গালাঘের-এর বক্তৃতা ৩০৪
৮৬ পাকিস্তানে সামরিক সাহায্য স্থগিতকরণে সিনেট পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির রিপোর্ট ৩০৭
৮৭ প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাব-৩০৩ ৩১৫
৮৮ প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাব-৩০৪ ৩১৬
৮৯ অস্ত্র প্রেরণ অবশ্যই বন্ধ করতে হবেঃ সিনেটর চার্চ-এর বক্তৃতা ৩১৭
৯০ প্রতিনিধি পরিষদ পররাষ্ট্র উপ-কমিটি গৃহীত শুনানিঃ রবার্ট ডর্ফম্যান-এর বিবৃতি ৩২১
৯১ ভারতে বাংলাদেশের শরণার্থীঃ কেনেডীর বক্তৃতা ও চিঠি ৩২৯
৯২ শরণার্থী শিবির পরিদর্শনঃ ই. গালাঘের-এর বিবৃতি ৩৩২
৯৩ সিনেটর চার্চ-এর বক্তৃতা ও বৈদেশিক সাহায্য বিধি বিলে স্যাক্সবী-চার্চ সংশোধনী ৩৩৪
৯৪ পাকিস্তান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে গালাঘের-এর বক্তৃতা ৩৩৬
৯৫ ‘পাকিস্তানে সর্বপ্রকার মার্কিন সাহায্য বন্ধ করতে হবে’ঃ ই. গালাঘের ৩৪৪
৯৬ আমেরিকার পাকিস্তান নীতির সমালোচনা ৩৪৭
৯৭ পাকিস্তানে মার্কিন অস্ত্র সাহায্যঃ সিনেটর চার্চ-এর বক্তৃতা ও প্রাসঙ্গিক দলিল উদ্ধৃতি ৩৪৯
৯৮ পাকিস্তানে অস্ত্রের নতুন চালানঃ সিনেটর হার্টের মন্তব্য ৩৫৬ হাসান মুরশেদ
৯৯ প্রস্তাব নয়, আইনের মাধ্যমে অস্ত্র প্রেরণ বন্ধ করতে হবেঃ সিনেটর সিমিংটন ৩৫৭
১০০ মিঃ প্রেসিডেন্ট, পূর্ব পাকিস্তানে আমরা যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়েছিঃ সিনেটর টানি ৩৫৮
১০১ অস্ত্রের চালান পাঠানো একটি মারাত্মক ভুলঃ সিনেটর স্যাক্সবীর বক্তৃতা ৩৬২
১০২ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকগণের পত্র ৩৬৫
১০৩ বাংলাদেশের ঘটনার প্রতি সিনেটর স্যাক্সবীর দৃষ্টি আকর্ষণ ৩৬৭
১০৪ সিনেটর ম্যাকগভার্ন-এর ভাষন ৩৭১
১০৫ বাংলাদেশ আজ গণহত্যার দৃষ্টান্তঃ সিনেটর প্রক্সমায়ার ৩৭৩
১০৬ সিনেটর ফুলব্রাইটের ভাষণ ৩৭৪
১০৭ মন্ডেল-ফ্রেজার যৌথ প্রস্তাব ৩৭৬
১০৮ বাংলাদেশে বায়াফ্রার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছেঃ সিনেটর পিয়ার্সনের ভাষণ ৩৭৮
১০৯ সিনেটর স্যাক্সবীর আবারও ভাষণ ৩৮০
১১০ কংগ্রেস সদস্য রায়ান-এর বক্তৃতা ৩৮১
১১১ আমেরিকার জাতীয় প্রেসক্লাবে কেনেডীর বক্তৃতা ৩৮৪
১১২ ম্যাসাচুটস আইন সভার প্রস্তাব ৩৯১
১১৩ বাংলাদেশে শরণার্থী ত্রাণে অতিরিক্ত বরাদ্দের বিলঃ সিনেটর কেনেডী ৩৯৩
১১৪ কংগ্রেস সদস্য ফ্রিলিংঘুসেন-এর সমীক্ষা ৩৯৫
১১৫ বাংলাদেশের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ছাড়া সংকটের অবসান নাইঃ রোজেনথল ৩৯৭
১১৬ বাংলাদেশের শরণার্থীঃ সিনেটর পার্সির বক্তৃতা ৩৯৯
১১৭ সিনেটর হ্যারিসের প্রস্তাব ও বিবৃতি ৪০০
১১৮ পাকিস্তানে সমরসম্ভার প্রেরণ বন্ধে কেনেডীর সন্তোষ ৪০২
১১৯ সিনেটর অ্যালেন-এর বক্তৃতা ৪০৪
১২০ সংকট গভীরতম হচ্ছেঃ ফ্রিলিংঘুসেন ৪০৬
১২১ সিনেটের প্রস্তাব-২০৭, সিনেটর হ্যারিসের বক্তৃতা ও নিক্সনের উদ্দেশ্যে সিনেটরদের পত্র ৪০৭
১২২ বাংলাদেশের প্রতি ভারতের স্বীকৃতিতে সিনেটর বায়ার্ড ৪১২ প্রীতম দাস
১২৩ শরণার্থীরা স্বগৃহে না ফেরা পর্যন্ত সংঘর্ষ থামবে নাঃ সিনেটর কুপার ৪১৩
১২৪ নিরাপত্তা পরিষদে সোভিয়েত ভেটোঃ কংগ্রেস সদস্য রেকিক ও ফোর্ড-এর মন্তব্য ৪১৫
১২৫ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রশ্নে কংগ্রেস সদস্য মিঃ সাইক্স ৪১৭
১২৬ ভারতের প্রতি মার্কিন মনোভাবের সমালোচনা ৪১৮
১২৭ সিনেটর কেনেডীর বক্তৃতা ৪২০
১২৮ সিনেটর মাক্সির ৪-দফা প্রস্তাব ৪২৬
১২৯ উপমহাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে ই. গালাঘের-এর বক্তৃতা ৪২৮
১৩০ বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবেঃ ম্যাকক্লসকি ৪৩৩ limachowdhury
১৩১ যুক্তরাষ্ট্রের উচিত বাংলাদেশকে পূর্ণ কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়াঃ হেলস্টস্কির বক্তৃতা ও প্রস্তাব ৪৩৪
১৩২ দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন নীতি সম্পর্কে কেনেডীর ভাষণ ৪৩৭
১৩৩ পাকিস্তানের জন্য মার্কিন যুদ্ধ জাহাজঃ সিনেটর স্টিভেনশন-এর বিবৃতি ৪৪২
১৩৪ এন্টারপ্রাইজ বঙ্গোপসাগরে কেন? সিনেটর ইগলটন-এর বক্তৃতা ৪৪৪
১৩৫ ভারতের ভূমিকা সম্পর্কে কংগ্রেস সদস্য ফ্রিলিংঘুসেন ৪৪৬
১৩৬ রেরকি কর্তৃক জাতিসংঘের সমালোচনা ৪৪৭
১৩৭ যুক্তরাষ্ট্র ও পাক-ভারত যুদ্ধঃ ফ্যাসেল-এর বক্তৃতা ৪৪৮
১৩৮ পল ম্যাকক্লস্কির ৩ দফা ৪৫০
১৩৯ বিটলস সঙ্গীতানুষ্ঠানে বাংলাদেশে শান্তির আবেদন ৪৫১
১৪০ বাংলাদেশ একটি নতুন জাতিঃ সনেটর চার্চ ৪৫২

 

স্বাধীন বাংলাদেশের সংগ্রামে আমেরিকার জনগণের ভূমিকা

 

১৪১ পাকিস্তান সংকটের পটভূমি ৪৫৫
১৪২ পূর্ব পাকিস্তান বায়াফ্রা নয়’ ৪৬১
১৪৩ এনো ব্রাউন টেলার-এর প্রতিবেদন ৪৬৩
১৪৪ আমেরিকান ফ্রেন্ডস অন পাকিস্তান’-এর প্রতিবাদ ৪৬৫
১৪৫ যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত পাকিস্তানের সমরাষ্ট্র সম্পর্কে চেস্টার বাউয়েলস-এর বিবৃতি ৪৬৬
১৪৬ পূর্ব পাকিস্তানকে বাঁচানো সম্ভব ৪৬৮ SaikatJoydhar
১৪৭ সিনেটর জন পেস্টোর-এর চিঠি ৪৬৯
১৪৮ বাঙালী বুদ্ধিজীবি হত্যার প্রতিবাদ ৪৭০
১৪৯ সিনেটর ম্যাস্কির চিঠি ৪৭৫ তূর্য রহমান
১৫০ মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব রজার্সকে লিখিত গ্রীনোর চিঠি ৪৭৬
১৫১ ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসের সম্মুখে বিক্ষোভ ৪৭৯ মীর হাসান (আরিফ)
১৫২ পাকিস্তানে সাহায্য বন্ধের আহ্বান ৪৮০ আমজাদ হোসেন আবীর
১৫৩ নিউইয়র্ক টাইমস প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে জন রোডের চিঠি ৪৮১
১৫৪ যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তান নীতি পরিবর্তনের আহ্বানঃ এ ডি এ কনভেনশন ৪৮৩
১৫৫ মিসেস নিক্সনকে লিখিত ডানহাম-এর চিঠি ৪৮৪
১৫৬ ডঃ নালিনকে লিখিত সিনেটর কেনেডীর চিঠি ৪৮৭
১৫৭ পাকিস্তানে সামরিক সাহায্য বন্ধের চেষ্টায় সিনেটর মন্ডেল ৪৮৮
১৫৮ মার্কিন পররাষ্ট্র উপ-সচিবকে লিখিত গ্রীনোর চিঠি ৪৮৯
১৫৯ বাঙালীদের অধিকার স্বীকার করে নেওয়ায় সুপারিশ ৪৯২ shihab sharar muhit
১৬০ পাকিস্তান সংকটে মার্কিন সাহায্যের ভূমিকা ব্যাখ্যা ৪৯৩
১৬১ পাকিস্তানে সাহায্য স্থগিতের প্রস্তাবে হিউজেস-এর সমর্থন ৪৯৭
১৬২ ইস্ট পাকিস্তান রিলিফ ফান্ড’-এর আবেদন ৪৯৮
১৬৩ পূর্ব বাংলার জনগণের সমর্থনে বিক্ষোভে যোগদানের আহ্বান ৪৯৯
১৬৪ সমরাস্ত্রবাহী পাকিস্তানী জাহাজের প্রতি বিক্ষোভ ৫০১
১৬৫ শেখ মুজিবের প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শনের জন্য কংগ্রেস সদস্য মর্স-এর চিঠি ৫০৪
১৬৬ বাংলাদেশের জন্য তহবিল গঠনের আবেদনঃ মুহিতকে লিখিত এফ বি মালিকের চিঠি ৫০৫
১৬৭ মার্কিন নাগরিক কর্তৃক সামরিক সাহায্যবাহী জাহাজ অবরোধ ৫০৬
১৬৮ ‘ফ্রেন্ডস অব ইস্ট বেঙ্গল’-এর ভূমিকা ৫১২
১৬৯ শরণার্থী সমস্যা সম্পর্কে ডঃ টেইলর-এর প্রতিবেদন ৫১৪
১৭০ অক্সফাম আমেরিকার চাঁদা সংগ্রহ ৫১৬
১৭১ দক্ষিণ এশীয় কানাডা সম্মেলনে মার্কিন নাগরিকদের বিবৃতি ৫১৭
১৭২ বাংলাদেশ সমর্থক আমেরিকানদের তৎপরতা ৫১৮
১৭৩ উপমহাদেশীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে নিক্সনকে লিখিত খোলা চিঠি ৫২২
১৭৪ বাংলাদেশের অনুকূলে জনমত সৃষ্টির নির্দেশনাবলী ৫২৭
১৭৫ বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার’-এর   তৎপরতা ৫৩০
১৭৬ হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভে অংশগ্রহণের আহ্বান ৫৩৫
১৭৭ বিশ্বব্যাংক স্থপতির অসহযোগ ঘোষণা ৫৩৬
১৭৮ পাইপের শহরে দশদিন ৫৩৮
১৭৯ বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ ৫৩৯
১৮০ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গৃহীত চলচ্চিত্র সংক্রান্ত প্রতিবেদন ৫৪৩
১৮১ নিক্সনের কাছে মার্কিন বুদ্ধিজীবি মহলের আবেদন ৫৪৫
১৮২ শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ৫৪৭
১৮৩ বাংলাদেশের সমর্থনে কবিতা পাঠের আসর ৫৫১
১৮৪ ডঃ কিসিঞ্জারের মন্তব্যের ওপর প্রতিবেদন ৫৫২

 

স্বাধীন বাংলাদেশের সংগ্রামে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা

 

১৮৫ ইয়াহিয়ার কাছে পদগোর্নির বার্তা ৫৫৭
১৮৬ বাংলাদেশের ঘটনাবলীতে উদ্বেগঃ কোসিগিনের বক্তৃতা ৫৫৮
১৮৭ সোভিয়েত-ভারত যুক্তি বিবৃতি ৫৫৯
১৮৮ সোভিয়েত পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ভাষণ ৫৬১
১৮৯ সোভিয়েত-ভারত যুক্তি বিবৃতি ৫৬২
১৯০ নয়াদিল্লীতে পদগোর্নির ভাষণ ৫৬৬
১৯১ পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা সম্পর্কে সোভিয়েত নারী কমিটির বিবৃতি ৫৬৭
১৯২ সোভিয়েত ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ ৫৬৮
১৯৩ উপমহাদেশীয় অবস্থা সম্পর্কে ‘তাস’ ৫৬৯
১৯৪ সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বানঃ ব্রেজনেভ-এর বক্তৃতা ৫৭১
১৯৫ বাংলাদেশের সংগ্রাম সম্পর্কে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম প্রকাশ্য ঘোষণা ৫৭২ লাল কমল
১৯৬ সংঘাত নিরসনে রাজনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের আগ্রহঃ পদগোর্নির বক্তৃতা ৫৭৪
১৯৭ সোভিয়েত পররাষ্ট্র বিভাগের বিবৃতি ৫৭৫
১৯৮ সোভিয়েত গণসংগঠনসমূহের বিবৃতি ৫৭৭
১৯৯ বাংলাদেশে নির্যাতন বন্ধের জন্য সোভিয়েত শ্রমিকদের দাবী ৫৮০

 

স্বাধীন বাংলাদেশের সংগ্রামে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারের ভূমিকা

 

২০০ পিপলস্‌ ডেইলীর ভাষ্য ৫৮৫
২০১ পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষায় চীনা সমর্থনের আশ্বাস ৫৮৭
২০২ ভুট্টোর সম্মানে প্রদত্ত ভোজসভায় চীনের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তৃতা ৫৮৮
২০৩ বাংলাদেশ প্রশ্নে চীন ৫৮৯
২০৪ পাকিস্তানের প্রতি চীনের পরামর্শ ৫৯১
২০৫ জাতিসংঘ শরণার্থী কমিটিতে গণচীনের প্রতিনিধির বক্তৃতা ৫৯২
২০৬ উপমহাদেশীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে গণচীনের প্রতিনিধি ৫৯৩
২০৭ বাংলাদেশ প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদে গণচীনের প্রতিনিধি ৫৯৪
২০৮ উপমহাদেশীয় যুদ্ধে চীন পাকিস্তানকে সমর্থন করবেঃ চীনা প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা ৫৯৬
২০৯ নিরাপত্তা পরিষদে গণচীনের প্রতিনিধির বক্তৃতা ৫৯৮
২১০ পাক-ভারত যুদ্ধ প্রশ্নে চীনের ভাষ্য ৫৯৯
২১১ গণচীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তৃতা ৬০২
২১২ পাক-ভারত যুদ্ধ প্রশ্নে সোভিয়েত ভেটোর সমালোচনা ৬০৩
২১৩ পাক-ভারত যুদ্ধ ও প্রাসঙ্গিক ঘটনাবলী সম্পর্কে চীন সরকারের বিবৃতি ৬০৫

 

স্বাধীন বাংলাদেশের সংগ্রামে আন্তর্জাতিক বেসরকারী সংগঠনসমূহের ভূমিকা

 

২১৪ যুগোশ্লাভ লীগ ফর পীস-এর বিবৃতি ৬১১
২১৫ ফোর্থ ইন্টারন্যাশনাল-এর বিবৃতি ৬১২
২১৬ বুদাপেস্ট বিশ্বশান্তি পরিষদ-এর প্রস্তাব ৬১৫
২১৭ হেলসিংকী সোশ্যালিস্ট ইন্টারন্যাশনাল সম্মেলনের প্রস্তাব ৬১৭
২১৮ আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থার আহ্বান ৬১৮
২১৯ আর্জেন্টিনীয় বুদ্ধিজীবিদের আহ্বান ৬১৯
২২০ লীগ অব রেডক্রস সোসাইটি’-এর উদ্বেগ ৬২১
২২১ ফ্রেঞ্চ এপিস্কেপ্ট’-এর বিবৃতি ৬২২
২২২ আফ্রো-এশীয় গণসংহতির প্রস্তাব ৬২৩
২২৩ ভেনেজুয়েলান বিশ্বশান্তি ও মানবাধিকার পরিষদ-এর বিবৃতি ৬২৪
২২৪ আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ পরিষদের বিবৃতি ৬২৫
২২৫ বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিশ্বব্যাংক-এর প্রতিবেদন ৬২৬
২২৬ আন্তর্জাতিক বিষয়ক চার্চ কমিশনের বিবৃতি ৬৪৭
২২৭ ভেনেজুয়েলার শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের আবেদন ৬৪৯
২২৮ ফিলিপাইনীয় ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের আবেদন ৬৫১
২২৯ নরওয়ের ওয়ার্ল্ড ফেডারেলিস্ট সংস্থার প্রস্তাব ৬৫৩
২৩০ রেডক্রস লীগের ত্রাণ তৎপরতা ৬৫৪
২৩১ বাংলাদেশ সংহতি কমিটি সিলোন-এর প্রতিবাদলিপি ৬৫৫
২৩২ ল্যাটিন আমেরিকান পার্লামেন্টের প্রস্তাব ৬৫৬
২৩৩ পাগওয়াশ সম্মেলনের বাংলাদেশ বিষয়ক কমিটির বিবৃতি ৬৫৭
২৩৪ ৫৯তম প্যারিস আন্তপার্লামেন্টারী সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ৬৫৮
২৩৫ বাংলাদেশ রিলিফ কমিটি অব কোরিয়া’-র সাধারণ সম্পাদকের চিঠি ৬৬৩ Hm Ibrahim Razu
২৩৬ লন্ডন সোশ্যালিস্ট ইন্টারন্যাশনাল-এর বিবৃতি ৬৬৫
২৩৭ কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারী সম্মেলনে প্রতিনিধিদের বক্তব্য ৬৬৬
২৩৮ দিল্লী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তাব ও প্রতিনিধিবৃন্দের ভাষণ ৬৬৮
২৩৯ বাংলাদেশ প্রশ্নে ফিনল্যান্ডের ছাত্রসমাজ ৬৯১
২৪০ স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানসমূহের আন্তর্জাতিক প্রধানের আবেদন ৬৯২
২৪১ ফ্রান্সের বাংলাদেশ সংহতি কমিটির মেনিফেস্টো ৬৯৪
২৪২ হাঙ্গেরীয় শান্তি পরিষদ প্রধান-এর বিবৃতি ৬৯৬

 

বাংলাদেশ প্রশ্নে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতৃবর্গ

 

২৪৩ বাংলাদেশ প্রশ্নে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতৃবর্গের বিবৃতিসমূহ ৭০১
২৪৪ ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্ট-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ৭২১
২৪৫ জাতিসংঘ শরণার্থী হাই কমিশনার-এর বিবৃতি ৭২৩
২৪৬ মানবাধিকার কমিশন প্রতিবেদনের ওপর জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সমর সেনের বিবৃতি ৭২৮
২৪৭ জাতিসংঘ আর্থ-সামাজিক কাউন্সিল-এর সোশ্যাল কমিটিতে নিউজল্যান্ড প্রতিনিধির বিবৃতি ৭৩২
২৪৮ জাতিসংঘ মহাসচিব-এর আবেদন ৭৩৩
২৪৯ জাতিসংঘ মহাসচিব-এর আবেদন ৭৩৫
২৫০ জাতিসংঘ শরণার্থী হাই কমিশনারের সাংবাদিক সম্মেলনের রেকর্ড ৭৩৭
২৫১ আর্থ-সামাজিক কাউন্সিল অধিবেশনে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিবৃতি ৭৪৩
২৫২ আর্থ-সামাজিক কাউন্সিল অধিবেশনে শরণার্থী হাই কমিশনারের বিবৃতি ৭৪৪
২৫৩ আর্থ-সামাজিক কাউন্সিল অধিবেশনে ভারতীয় পর্যবেক্ষক দলনেতার বিবৃতি ৭৪৫
২৫৪ আর্থ-সামাজিক কাউন্সিল অধিবেশনে ইন্টার-এজেন্সী বিষয়ক কর্মকর্তার বিবৃতি ৭৪৬
২৫৫ আর্থ-সামাজিক কাউন্সিল অধিবেশনে যুগোশ্লাভ প্রতিনিধির বিবৃতি ৭৫০
২৫৬ আর্থ-সামাজিক কাউন্সিল অধিবেশনে নিউজিল্যান্ড প্রতিনিধির বিবৃতি ৭৫২
২৫৭ জাতিসংঘ মহাসচিবের শরণার্থী ত্রাণ-সংক্রান্ত স্মারক ৭৫৫
২৫৮ জাতিসংঘ উপসংস্থার কাছে বেসরকারী বিশ্ব সংস্থাসমূহের আবেদন ৭৫৬
২৫৯ জাতিসংঘ মহাসচিবের ত্রাণ সংক্রান্ত স্মারকের প্রতি ভারত সরকারের জবাব ৭৫৮
২৬০ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার কাছে প্রেরিত আন্তর্জাতিক জুরি কমিশনের টেলিগ্রামের অনুলিপি ৭৬২
২৬১ আন্তর্জাতিক জুরি কমিশন প্রতিনিধি সালবার্গ-এর বিবৃতি ৭৬৩
২৬২ ইয়াহিয়ার কাছে প্রেরিত আন্তর্জাতিক জুরি কমিশনের তারবার্তা ৭৬৯
২৬৩ জাতিসংঘ শরণার্থী হাই-কমিশন-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় প্রিন্স সদরুদ্দীন আগা খান-এর বিবৃতি ৭৭০
২৬৪ জাতিসংঘ শরণার্থী হাই-কমিশন-এর কার্যনির্বাহী কমিটির অধিবেশনে ভারত সরকারের পুনর্বাসন সচিবের বিবৃতি ৭৭৪
২৬৫ জেনেভায় জাতিসংঘ শরণার্থী হাই কমিশনার-এর সাংবাদিক সম্মেলন ৭৭৮
২৬৬ সাধারণ পরিষদ-এর তৃতীয় কমিটিতে প্রিন্স সদরুদ্দীন আগা খানের বিবৃতি ৭৮০
২৬৭ ভারতীয় প্রতিনিধি সমর সেনের বিবৃতি ৭৮৭
২৬৮ জাতিসংঘ শরণার্থী ত্রাণ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপর আলোচনার সারাংশ ৭৯৪
২৬৯ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের সংশোধিত খসড়া প্রস্তাব ৮০২
২৭০ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে গৃহীত প্রস্তাব ৮০৪
২৭১ তৃতীয় কমিটির প্রতিবেদনের ওপর সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাব ৮০৫

 

বাংলাদেশ প্রশ্নে জাতিসংঘ সাধারণ ও নিরাপত্তা পরিষদ

 

২৭২ নিরাপত্তা পরিষদ প্রেসিডেন্ট সমীপে উ-থান্ট-এর স্মারকলিপি ৮০৯
২৭৩ পূর্ববাংলা পরিস্থিতির ব্যাপারে জাতিসংঘ কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রতিবেদন মহাসচিবের মুখবন্ধ (অংশ) ৮১২
২৭৪ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে প্রদত্ত উ-থান্ট-এর পত্র ৮১৬
২৭৫ জাতিসংঘ মহাসচিবকে প্রদত্ত প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার জবাব ৮১৭
২৭৬ জাতিসংঘ মহাসচিবকে প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জবাব ৮১৮
২৭৭ নিরাপত্তা পরিষদে পূর্ববাংলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিবেদন ৮২০
২৭৮ নিরাপত্তা পরিষদে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিবেদন ৮৩০
২৭৯ নিরাপত্তা পরিষদে বিভিন্ন রাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাব ৮৩২
২৮০ সাধারণ পরিষদে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাব ৮৩৮
২৮১ সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব ৮৪১
২৮২ ঢাকা থেকে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যক্তিবর্গকে স্থানান্তর করা সম্পর্কে উ-থান্ট-এর প্রতিবেদন ৮৪৩
২৮৩ জাতিসংঘ মহাসচিবকে প্রদত্ত আগাশাহীর পত্র ৮৪৭
২৮৪ জাতিসংঘ মহাসচিবকে প্রদত্ত সমর সেনের পত্র ৮৪৯
২৮৫ নিরাপত্তা পরিষদ প্রেসিডেন্ট সমীপে জর্জ বুশ এর পত্র ৮৫৩
২৮৬ নিরাপত্তা পরিষদে বিভিন্ন রাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাব ও সংশোধনী ৮৫৪
২৮৭ বাংলাদেশ প্রশ্নে সাধারণ পরিষদ বিতর্কের সারাংশ ৮৬৬
২৮৮ সাধারণ পরিষদে সর্দার শরণ সিং-এর বিবৃতি (অংশ) ৮৬৮
২৮৯ সাধারণ পরিষদে মাহমুদ আলীর বিবৃতি ৮৭২
২৯০ সাধারণ পরিষদে মাহমুদ আলীর বিবৃতি (অংশ) ৮৮০
২৯১ পাকিস্তানী বিবৃতির জবাবে সমর সেন ৮৮৭
২৯২ ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সমর সেন-এর বিবৃতি ৮৯০
২৯৩ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আগাশাহীর বিবৃতি ৮৯৪
২৯৪ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশ প্রসঙ্গঃ পাকিস্তানী প্রতিনিধি মিঃ আগাশাহীর বিবৃতি ৯০০
২৯৫ ভারতীয় প্রতিনিধি মিঃ সমর সেনের বিবৃতি ৯১৫
২৯৬ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জর্জ বুশ-এর বিবৃতি ৯২৩
২৯৭ ফরাসী প্রতিনিধি মিঃ মরিজ-এর বিবৃতি ৯২৭
২৯৮ চীনা প্রতিনিধি হুয়াং হুয়ার বিবৃতি ৯২৯
২৯৯ সোভিয়েত প্রতিনিধি মিঃ জ্যাকব মালিকের বিবৃতি ৯৩০
৩০০ যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি স্যার কলিন ক্রো-এর বিবৃতি ৯৩৭
৩০১ ফরাসী প্রতিনিধি মিঃ মরিজ-এর বিবৃতি ৯৩৮
৩০২ সোভিয়েত প্রতিনিধি মিঃ জ্যাকব মালিকের বিবৃতি ৯৪৩
৩০৩ ভারতীয় প্রতিনিধি মিঃ সমর সেনের বিবৃতি ৯৪৪
৩০৪ পাকিস্তানের প্রতিনিধি মিঃ আগাশাহীর বিবৃতি ৯৫১
৩০৫ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জর্জ বুশ-এর বিবৃতি ৯৫৭
৩০৬ পাকিস্তানী প্রতিনিধি মিঃ আগাশাহীর বিবৃতি ৯৬০
৩০৭ ভারতীয় প্রতিনিধি মিঃ সমর সেনের বিবৃতি ৯৬৩
৩০৮ ভারতীয় প্রতিনিধি মিঃ সমর সেনের বিবৃতি ৯৬৪
৩০৯ সোভিয়েত প্রতিনিধি মিঃ জ্যাকব মালিকের বিবৃতি ৯৬৭

 

বিভিন্ন প্রতিনিধির বক্তব্য

 

৩১০ সাধারণ পরিষদে বিতর্কের সংক্ষিপ্তসার ৯৬৯
৩১১ নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনার সংক্ষিপ্তসার ৯৭৭

 

সংযোজন

 

৩১২ বাংলাদেশে জাতিসংঘ তৎপরতার সংক্ষিপ্ত চিত্র ৯৭৮

 

 

 

13.01.01-03

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বৃটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক সচিব ডগলাস হিউম এর মন্তব্য এবং বাংলাদেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিতর্ক কমনস সভার কার্যবিবরনী ২৩ মার্চ, ১৯৭১

 

 

বৈদেশিক ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব (স্যার অ্যালেক ডগলাস হিউম) : Mr. Speaker, আপনার এবং house এর অনুমতিক্রমে, পাকিস্তানের অবস্থা নিয়ে একটা বিবৃতি দিতে চাই।

পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য আমরা শোকাহত। আশা করি অবস্থা স্বাভাবিক হবে। আমরা বুঝতে পারছি এটা পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যাপার, তাই কোন রাজনৈতিক পক্ষ নেয়া হবে না। আপাতত নিরপেক্ষ থাকলেও পরিস্থিতিটা কড়া নজরে রাখা হবে এবং পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত তথ্য আদান প্রদান করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছি আমরা।

একপক্ষ আগে, ঢাকার ডেপুটি হাই কমিশনারের আদেশে ২০০ জন ইউনাইটেড কিংডম এবং কমনওয়েলথ নারী এবং শিশুকে অপসরণ করা হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান থেকে। পাকিস্তানে বিশৃঙ্খলা চলাকালীন সময়ে কোন ব্রিটিশ নাগরিকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ভাষণ দেয়ার সময় পূর্ব পাকিস্তানে নাগরিক ছিল ৭০০ জন। ২৫ শে মার্চে ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিলের অফিস এবং লাইব্রেরী আক্রমণ করা হয়েছিল। কাউন্সিলের স্টাফ মেম্বার কেউ আহত হয়নি জানা গেলেও, ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। যেহেতু পাকিস্তানের সাথে আমাদের যোগাযোগ সীমিত, যথেষ্ট পরিমাণে তথ্য নেই। এ বিষয়ে আমি হাউজকে অবহিত করতে থাকব।

Mr. Healey: রিপোর্টটির জন্য ধন্যবাদ। আমরা সবাই শোকাহত। পরিস্থিতি বিবেচনা করলে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার জন্য কাউকে দোষ দেয়া যাবে না। আমরা বিশ্বাস করি যথেষ্ট পরিমাণে তথ্য গ্রহণসাধ্য হবার পর সে আরেকটি বিবৃতি দেবে।

House পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে চিন্তিত। একারণে Right. hon gentleman এর কাছে দুটো প্রশ্নের উত্তর আশা করবো। প্রথমত, সে কি জানে ব্রিটিশ কাউন্সিল অফিসের হামলার জন্য কারা দায়ী? এবং এই ক্ষতির ক্ষতিপূরণের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি? দ্বিতীয়ত, তাকে পূর্ব পাকিস্তান কি সহায়তা করবে যদি আরো ব্রিটিশ নাগরিককে পূর্ব পাকিস্তান থেকে সরিয়ে আনতে হয়?

Sir Alec Doglus-Home: দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর, হ্যা। কিন্তু ডেপুটী হাই কমিশনারের মতে আপাতত কোন নাগরিককে আনা উচিৎ হবে না। আক্রমণের জন্য দায়ী ছিল আর্মী। আমরা এটা পাকিস্তানের অথরিটির নজরে এনেছি এবং তাদের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছি।

Mr. Thorpe: আমরাও এই শোকটা অনুভব করি। কিন্তু পাকিস্তানের এই দুঃসময়ে একসাথে পাশে দাড়ানোই কমনওয়েলথের কর্তব্য যেমনটা বন্যার সময়ে করেছিল।

নাইজেরিয়া নামক আরেকটি দেশের গৃহযুদ্ধে এই দেশের সম্পৃক্ততার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে পররাষ্ট্র সচিবের কাছে নিশ্চয়তা চাই; তাদের কোন পক্ষকেই আমদের সামরিক সহায়তা দেয়ার প্রশ্নও যেন না ওঠে।

Sir Alec Doglus-Home: আমাদের এই ঘটনায় জড়ানোর কোন উদ্দেশ্য নেই। কারণ এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। যেহেতু পাকিস্তানের সাথে কোন চুক্তি করা হয় নি, আপাতত অস্ত্র সরবরাহ করার প্রয়োজন হবে না বলে মনে হয়।

Sir F. Bennett: পাকিস্তান সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছে নেই জানতে পেরে আমি আনন্দিত, যা ব্যাপারটাকে আরো খারাপ দিকে নিয়ে যেতো। কিন্তু অন্য কোন দেশ যে হস্তক্ষেপ করার চিন্তা করছে না, এর কোন গ্যারান্টি আছে? কারণ ব্রিটেন ছাড়া যদি অন্য কোন দেশ হস্তক্ষেপ করে তাহলে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যেতে পারে।

Sir Alec Doglus-Home: আমি যতটুক জানি বাহিরের কোন দেশের যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছে নেই।

Mr. Shore: এসব খুবই দুঃখজনক ঘটনা। পররাষ্ট্র সচিব কি পাকিস্তান সরকারকে তাদের পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের উপর নির্দয় দমনমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের হয়ে তীব্র নিন্দা আরোপ করবে? এবং এটাও কি জানিয়ে দিবে যে আমরা বলছি তাদের সৈন্যবাহিনী সরিয়ে নেয়া উচিৎ, হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা উচিৎ, শেখ মুজিব এবং তার অনুসারীদের উপর নিপীড়ন বন্ধ করা উচিৎ? এছাড়াও মাননীয় সচিব তার ক্ষমতার সবটুকু দিয়ে পাকিস্তান সরকারের উপর বলপ্রয়োগ করবে যেন বাংলাকে তাদের নিজেদের ভবিষ্যত গড়ার অধিকার দেয়?

Sir Alec Doglus-Home: আমার মনে হয় না এই ব্যাপারে আমি মন্তব্য করলে কোন লাভ হবে। সবাই হিংস্রতা এড়িয়ে চলতে চায়। আর প্রেসিডেন্ট এই কাজ গুলো করছে পাকিস্তান বিভক্ত হওয়া থামানোর জন্য। আমাদের এই ব্যাপারে জড়ানো বা হস্তক্ষেপ করা উচিৎ হবে না।

Mr. wilkinson: পাকিস্তানের দুঃখজক পরিস্থিতির জন্য আমিও ক্ষোভ প্রকাশ করছি যাদের সাথে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্কও আছে। আমার Right hon. friend পাকিস্তানে অবস্থানরত ৭০০ জন ব্রিটিশ নাগরিকের কথা যখন বলছে তার মাঝে কি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়া পাকিস্তানিরাও আছে? নাকি শুধু ব্রিটিশ? তাছাড়াও এদেশের সাথে সম্পর্কিত পাকিস্তানী নাগরিকদের নিরাপত্তার খোজ নেয়া উচিৎ।

Sir Alec Doglus-Home: ৭০০ জনের মাঝে পাকিস্তানীরা নেই। যেসময় আমরা ২০০ জনকে অপসরণ করেছিলাম, ডেপুটি হাই কমিশনার তাদের সকলের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল। এমুহূর্তে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না। তবে কেউ যদি পাকিস্তান ত্যাগ করতে চায় তাদেরকে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

Mr. Alexander W. Lyon: পূর্ব পাকিস্তান এবং Biafran এর অবস্থার পার্থক্য আছে। এটা চিন্তা করে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে যে অস্ত্র পাঠাবো কি পাঠাবো না?

Sir Alec Doglus-Home: ব্যাপারটা একটা আনুমানিক পরিস্থিতি যা আমাদের এখন বাদ দেয়া উচিৎ।

Mr. Judd: আমি Right. Hon gentleman এর সাথে একমত। আমাদের পাকিস্তানের এরকম ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। কিন্তু সে কি মানবে না যে পাকিস্তানের পরাজয়ের কারণ গুলোর একটি হলো পূর্ব পাকিস্তানে তুলনায় পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রচার অনুপযুক্ত হওয়া। এই civil সমস্যার সমাধান হলে আমাদের কি উচিত নয় পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক সাহায্যের জন্য সর্বোপরি চেষ্টা করা?

Sir Alec Doglus-Home: অদ্ভুত ব্যাপারপটা হলো, প্রথম বারের মতো কোন পূর্ব পাকিস্তানী পাকিস্তানের সরকার হতে পারার পরও সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।

.

13.02.04-06

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশে সাময়িক শক্তি প্রয়োগের সমালোচনাঃ পররাষ্ট্র সচিব হিউম-এর বিবৃতি ও বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিতর্ক কমনস সভার কার্যবিবরণী ৫ এপ্রিল, ১৯৭১

পাকিস্তান

স্যার এলান ডগলাস হিউম, সচিব, বৈদেশিক এবং কমনওয়েলথ বিষয়ক দপ্তরঃ

মাননীয় স্পীকার এবং হাউসের অনুমতিক্রমে আমি পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আবারও আমার বক্তব্য পেশ করতে যাচ্ছি। গত রিপোর্টে হাউসকে আমি যেরকমটা জানিয়েছিলাম,পূর্ব পাকিস্তানে এখনো হানাহানি চলছে।সকল ঘটনা সম্পর্কে আমাদের তথ্য নেওয়া সম্ভব হয়নি,কিন্তু এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে,এতে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা উৎকণ্ঠারসহিতপাকিস্তানেররাজনৈতিকআলোচনাগুলোরগতিপ্রকৃতিঅবলোকনকরছিলামএবংআমারবন্ধুপ্রতীমমাননীয়“প্রধানমন্ত্রী”, প্রেসিডেন্ট “ইয়াহিয়া খানের” কাছে তাঁর মত প্রকাশ করে বলেছিলেন যে,রাজনৈতিক বৈষম্যগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধান করা উচিত।প্রেসিডেন্ট যে এই বিষয়ের সুরাহা চান সে বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম,আমরা আশা করেছিলাম এই বিষয়ে তিনি সফল হবেন।আমরা এটা ভেবে ভীত হয়েছিলাম যে,কোন ধরণের সংঘাত/উগ্রতা পাকিস্তানের সাংবিধানিক কাঠামোয় স্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।আমাদের পরিতাপের বিষয় এই যে,সকল আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল এবং সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছিল। আমরা মানুষের প্রাণসংহার ও পাকিস্তানের সর্বস্তরের মানুষের দুর্দশা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত ছিলাম এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের একটি বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছিলাম,সেই বক্তব্যে তিনি(প্রেসিডেন্ট) জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা স্থানান্তরের কথা উল্লেখ করেছিলেন।আমাদের অকপট আশা ছিল যে,এই উদ্দেশ্যটি বাস্তবায়িত হবে। এই বিষয়ে আমি আমার সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলতে চাই যে,পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোন উদ্দেশ্যই তার সরকারের নেই।পাকিস্তানের জনগণকেই নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং বাইরের কোন হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরো কঠিন এবং জটিল করে তুলবে। ব্রিটিশ সরকার এবং জনগণ,গত বছর পূর্ব পাকিস্তানের সাইক্লোনপীড়িত মানুষের প্রতি তাদের সহানুভূতির প্রমাণ দিয়েছে।যদি এখনো তাদেরকে এরকম কোন অনুরোধ করা হয়,তারা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের দুর্দশা লাঘবে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত। পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত কোন ব্রিটিশ স্থাপনা বা নাগরিক এর কোন ক্ষয়ক্ষতি কিংবা আহত হওয়ার কোন রিপোর্ট আমাদের কাছে আছে কিনা হাউস সেটা জানতে চেয়েছিল,আগের বক্তব্যে উল্লেখিত ঢাকাস্থ ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রাঙ্গনে হামলা ছাড়া আর কোন ঘটনা আমরা পাইনি।তবে,দূরবর্তী অঞ্চলের কিছু ব্রিটিশ নাগরিকের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।এমতাবস্থায়,যেসব নারী ও শিশুর এই দেশে অবস্থান করা জরুরি নয়,তাদেরকে ডেপুটি হাইকমিশনার মহাশয় দেশত্যাগের পরামর্শ দিয়েছেন।ফলস্বরূপ, একশ জনের মতো যুক্তরাজ্যের নাগরিক রয়্যাল এয়ার ফোর্স এবং বেসামরিক বিমানে করে ঢাকা ছেড়েছেন এবং আমার সর্বশেষ বক্তব্যের পর থেকে ৪০ জন ব্যাক্তি নৌপথে চট্টগ্রাম ছেড়েছেন। ঢাকায় নিযুক্ত ডেপুটি হাইকমিশনার এবং তাঁর সহকর্মীদের,পূর্ব পাকিস্থানের ব্রিটিশ সম্প্রদায়ের সদস্যবৃন্দ, রয়েল এয়ার ফোর্স এবং বাণিজ্যিক জাহাজের সদস্যবৃন্দকে এমন বিপদজনক অবস্থায়,অত্যন্ত নিষ্টার সাথে এবং ঠান্ডা মাথায় তাঁদের দায়িত্ব পালনের জন্য,তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

মিঃ হিলেঃ কিছুক্ষণ আগে বক্তব্যপ্রদানকারি ভদ্রলোক(জনাব,হিউম),বর্তমান অবস্থার ভূক্তভোগীদের সরকার কর্তৃক ত্রানসামগ্রী দিয়ে সাহায্য করার ইচ্ছার কথা বলেছেন-হাউস তার বক্তব্যকে স্বাগত জানাচ্ছে এবং এর পাশাপাশি ব্রিটিশ নাগরিকদের নিয়ে আসার ব্যাপারকেও হাউস সমর্থন করে।তাঁর(হিউম) পাশাপাশি আমরাও সেই ব্যাক্তিদের সম্মান জানাতে চাই,যারা ঐরকম কঠিন অবস্থায় আটকে পড়া মানুষদের বের করে আসতে সাহায্য করেছিল। পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত নির্বিচারে মানুষহত্যা এবং বাইরের হস্তক্ষেপের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বলা পূর্ববর্তী বক্তার বক্তব্যের সুত্রানুসারে,আমি দুইটি বিষয়ে দৃষ্টিপাত করতে আগ্রহী।প্রথমত,পূর্ব পাকিস্তানে রক্তপাত তাৎক্ষণিকভাবেবন্ধহওয়াউচিতএবংদ্বিতীয়ত,পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধান,ঐ অঞ্চলের মানুষের মতানুসারে হওয়া উচিত,যে মত সাম্প্রতিককালের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। আমি নিশ্চিত যে,এই হাউসের সবাই শেখ মুজিবর রহমান এবং পূর্ব পাকিস্তানের অন্যান্য নেতাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ।আমার আগের বক্তব্যদানকারী ব্যাক্তি কি তাঁদের বর্তমান অবস্থা ও ঠিকানা সম্পর্কিত কোন তথ্য হাউসকে জানাতে পারবেন?হাউসের দুপাশে বসে থাকা সকল সদস্যের ইচ্ছা যে,জনগণ সাম্প্রতিককালে বিপুল ভোটের মাধ্যমে যে প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন,তাঁদেরকে তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হোক-এই কথাটি তিনি পাকিস্তানের সরকারের কাছে প্রকাশ করবেন এমন নিশ্চয়তা কি তিনি হাউসকে দিতে পারেন?

স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ আমরা আশা করি রক্তপাত অতি শীঘ্রই বন্ধ হবে।অতি সাম্প্রতিককালে সেখানে নির্বাচন হয়েছে এবং সংবিধান গঠনের জন্য এসেম্বলী আহবান করার কথা ছিল।আমরা আশা করি,এই প্রক্রিয়া আবার শুরু হবে ।আমরাও ন্যায় ও সহানূভূতি দেখানোর পক্ষে কিন্তু আমার পূর্বতন বক্তা(জনাব,হিলে),আমাকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে বলবেন না।

মিঃ ব্রায়ানঃ যদিও কমনওয়েলথভূক্ত বন্ধুপ্রতীম দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা অনুচিত,পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল দেশের দু অংশে তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্য-এই বিষয়ে আমার পূর্বতন বক্তা (জনাব,হিউম)অবগত আছেন কি?

স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ অন্যান্য সকলের মতো,আমিও নিশ্চিত যে,পূর্ব পাকিস্তানের জন্য একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচী প্রয়োজন।আন্তর্জাতিক কোন সংস্থা-যেটি সমস্যাটির সমাধান করবে,তার অংশ হিসেবে আমরা সাহায্য করতে আগ্রহী।যদিও,আমাদের প্রধান লক্ষ্য হল যুদ্ধ বিগ্রহের অবসান ঘটানো এবং দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

মিঃ শোরঃ পূর্বতন বক্তা দ্বন্দ্বের নিরসন এবং বন্ধুত্ব পুনঃস্থাপনের জন্য যেসব প্রস্তাব করেছেন,সে প্রস্তাবকে আমরা স্বাগত জানাই।শেখ মুজিবর রহমানের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সচল রাখার নিমিত্তে নির্বাচিত দলের জনপ্রতিনিধিদের মুক্তি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা পাকিস্তান সরকারকে বোঝানোর জন্য তিনি কি নতুন কোন বিষয় যোগ করতে চান কিনা সেটা জানতে চাই?

স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ আমাদের দৃষ্টিতে সেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসা উচিত,এই বক্তব্যের এর চেয়ে বেশি কিছু বলার এখতিয়ার আমার আছে বলে,আমি মনে করি না।এই কথা বলার জন্য রাজনৈতিক আলোচনার প্রয়োজন।আমি ব্রিটিশ সরকারের একজন সদস্য হয়ে, এই ব্যাপারে কি ধরণের আলাপ হওয়া উচিত,সেই সংক্রান্ত কোন আদেশ পাকিস্তানের কোন নাগরিককে দিতে পারি না।

মিঃ সেন্ট জন স্টেভাসঃ নিরপেক্ষ ও হস্তক্ষেপ না করার ব্যাপারে আমার পূর্বতন বক্তা(জনাব,হিউম) যে ঘোষণা দিয়েছেন,সেটা আমি পুরোপুরি সমর্থন করছি।ভারতসহ অন্যান্য প্রতিবেশী রাস্ট্রের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখতে কি আমাদের কি একই নীতি অবলম্বন করা উচিত?

স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ যতটুকু আমি জানি,ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে,পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোন উদ্দেশ্য ভারতের নেই এবং ভারতের জনগণকেও এই বিষয়ে মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছে।

মিঃ থর্পঃ আমাদের মধ্যে সবাই একমত যে,আমাদের পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।আমি পূর্বতন বক্তার(জনাব হিউম) কাছে জানতে চাই,কমনওয়েলথ প্রাথমিকভাবে যখন দুপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা স্থাপন করতে পারছিল না তখন কেন কমনওয়েলথ এর মহাসচিবের সাহায্য চাওয়া হয়নি?

স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ এটা অবশ্যই পাকিস্তান সরকারের ব্যাপার,তারা যদি চায় তারা সেটা নিতে পারে।

মিঃ ডগলাস ম্যানঃ আমার পূর্বতন বক্তা(জনাব হিউম) কি,সমগ্র পাকিস্তানের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন? গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনার পর,তারা আবার কখনোই কি একীভূত হতে পারবে?তিনি কি আরো অবগত আছেন,যদিও ব্যাপারটি অভ্যন্তরীণ,কিন্তু অন্যান্য দিক বিবেচনায় এই বিষয়টি যৌক্তিক এবং প্রাসঙ্গিক;যা মোটেও খাটো করে দেখার যোগ্য নয়।ব্রিটিশ সরকারের এই ব্যাপারে প্রভাব/ক্ষমতা আছে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকারের উচিত এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা।আমার পূর্বতন বক্তা কি আরো অবগত আছেন যে,এই হাউসের উভয় পাশের মানুষের এই বিষয়ে মত আছে।যেটার পক্ষে আজকে একশর ও বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে,যেটা গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে পাকিস্তানে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ব্যবহৃত হওয়া উচিত।

স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ অবশ্যই আমি সকল সম্মনিত সুধীজনের অনুরোধ অনুযায়ী কাজ করব।এই ব্যাপারে যতটা সম্ভব করা যায়,আমরা তা করব।আমরা পাকিস্তানের বৈষম্য নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তাগ্রস্থ।আমরা বিশ্বাস করি যে,এই বৈষম্য বন্ধ হবে।আমি চাই না,এই বৈষম্য বাইরের কোন হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সমাপ্ত হোক,যদিও বাইরের কোন শক্তির পরামর্শের মাধ্যমেও প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে পারে।।

.

13.03.07-08

শিরোনাম সূত্র তারিখ
পাকিস্তানকে প্রদত্ত বৃটিশ সাহায্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি কমন্স সভার কার্যবিবরণী ৬ মে, ১৯৭১

 

পাকিস্তান (সাহায্য)

 

গত পাঁচ বছরে পাকিস্তানে প্রদত্ত মোট সাহায্যের কি পরিমাণ অংশ প্রতি বছর পূর্ব পাকিস্তানের পিছনে ব্যয় করা হয়েছে তা জনাব স্টোনহাউজ পররাষ্ট্র এবং প্রজাতন্ত্র বিভাগের সচিবের কাছে জানতে চান।

 

জনাব উড: পুরো পাকিস্তানের খরচের হিসাব একত্রে রাখা হয় বিধায় প্রতি বছর পূর্ব পাকিস্তানে ব্যয়িত অর্থের হিসাব পৃথকভাবে দেয়া সম্ভব নয়। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য গত পাঁচ বছরে যে পরিমাণ সাহায্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তা নিম্নে দেয়া হল:

 

পূর্ব পাকিস্তান                                                                          মিলিয়ন (ইউরো)

১৯৬৬-৬৭                                                                             ৩.৪

১৯৬৭-৬৮                                                                             ৪.২

১৯৬৮-৬৯                                                                             ১.০

১৯৬৯-৭০                                                                             ০.৪

১৯৭০-৭১                                                                             ০.১২২

 

পশ্চিম পাকিস্তান                                                                      মিলিয়ন (ইউরো)

১৯৬৬-৬৭                                                                             ১.৯

১৯৬৭-৬৮                                                                             ১.৬

১৯৬৮-৬৯                                                                             ২.৫

১৯৬৯-৭০                                                                             ৩.৬

১৯৭০-৭১                                                                             ১.৬

 

নতুন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একই সময়কালে প্রকল্প ব্যতীত মোট সাহায্য ধার্য করা হয়েছিল ২৮.৮ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু প্রদেশদ্বয়ের জন্য পৃথকভাবে সাহায্যের পরিমাণের কোন পরিসংখ্যান নেই।

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
পাকিস্তানকে বৈদেশিক সাহায্য দান সম্পর্কে বিতর্ক কমন্স সভার কার্যবিবরণী ৭ মে, ১৯৭১

 

পররাষ্ট্র এবং প্রজাতন্ত্র বিভাগ

পাকিস্তান

 

স্বাধীনতাকালীন সময় থেকে এখনো পর্যন্ত পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানে যুক্তরাজ্য মাথাপিছু কি পরিমাণ অর্থসাহায্য দিয়েছে, পররাষ্ট্র ও প্রজাতন্ত্র বিভাগের সচিবের কাছে জনাব স্টোনহাউজ তা জানতে চেয়েছেন।

 

জনাব উড: ১৯৫১-৫২ অর্থবছর থেকে পাকিস্তানকে ব্রিটেন অর্থসাহায্য দেয়া শুরু করে এবং তখন থেকে ১৯৬৯-৭০ অর্থবছর পর্যন্ত পাকিস্তানকে প্রদত্ত মোট অর্থসাহায্যের পরিমাণ ১০৪ মিলিয়ন ইউরো। যেহেতু পুরো অর্থটাই কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হয়েছে সেহেতু, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য মাথাপিছু অর্থসাহায্যের হিসাব পৃথকভাবে দেয়া সম্ভব নয়।

 

জনাব উইলকিনসন পরবর্তীতে পররাষ্ট্র এবং প্রজাতন্ত্র বিভাগের সচিবের কাছে আরও জানতে চেয়েছেন, পাকিস্তানে বিশেষ সাহায্য প্রদানের জন্য অন্যান্য দেশের সাথে একযোগে তিনি বর্তমানে কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

 

জনাব উড: সাহায্য প্রদানকারীদের সর্বশেষ মিটিংয়ে বৃটিশসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা পূর্ব পাকিস্তানে সাহায্য প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তান সরকার এখনও পর্যন্ত কোন ত্রাণের জন্য আবেদন করেনি, তবে আমার ধারণা অনুযায়ী ব্যাপারটি তাদের বিবেচনায় আছে।

 

.

13.04.09-11

শিরোনাম সূত্র তারিখ
পাকিস্তানের প্রতি বৃটিশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিতর্ক কমনস সভার কার্যবিবরণী ৪ মে, ১৯৭১

 

প্রঃ৬| মিঃ বার্নস প্রধানমন্ত্রীর কাছেজানতে চাইলেন পরবর্তীতে কখন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে সরকারী বৈঠকের সম্ভাবনা আছে?

প্রধানমন্ত্রীঃ আমি এই জানুয়ারীতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে দেখা করেছি। এই মুহূর্তে তার সাথে সাক্ষাতের কোন পরিকল্পনা নেই, যদিও তার সাথে আমার যোগাযোগ আছে কুটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে। উপরন্তু গত এক সপ্তাহ আগেই প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত মিঃ আরশাদ হোসেনের সাথে আমার বৈঠক হয়েছে।

মিঃ বার্নসঃ সন্মানিত প্রধানমন্ত্রী, আপনি কি এটা মেনে নিবেন যে, যখন একটি দেশ আরেকটি দেশের সাথে সম্পৃক্ত থাকে সেটা অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে বা অন্য কোন সাহায্য সরবরাহের মাধ্যমে, তখন সেই দেশের অধিকার থাকে অপর দেশটি কোন ঘটনা সম্পর্কে কথা বলার, যেমনটি পাকিস্তানে এখন হচ্ছে? প্রধানমন্ত্রী কি তৈরি আছেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে এটা বলার জন্য যে, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান সামরিক বাহিনী দ্বারা দখলকৃত থাকবে ততক্ষণ ব্রিটেন নতুন কোন সহযোগিতা পাকিস্তানকে করবেনা?

প্রধান মন্ত্রীঃ এখানে দুটো দিক রয়েছে আপনার করা প্রশ্নটির। আমি আপনার সাথে একমত এই বিষয়ে যে, আমরা আমাদের সমস্ত প্রভাব খাটিয়ে এই পরিস্থিতিতে এই বিষয় টা নিশ্চিত কর তে চাই, প্রেসিডেন্ট নিজেই প্রকাশ্যে পাকিস্তানে সাম্প্রতিক জটিলতা নিয়ে রাজনৈতিক সমাধানেরঘোষণা দিক।কিন্তু সম্মানিত বার্নস এর এটাও মনে থাকার কথা ব্রিটিশ সরকারের সাহায্য দেয়ার নীতি বলবত থাকে, নির্বিশেষে একটি দেশের জাতীয় জীবনের উপর সে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। আমি বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা কখনোই বলবোনা আমাদের এই নীতির পরিবর্তন আনা হোক।

মিঃ বার্নসঃ সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী সাহায্য দেওয়ার বিষয়ে যা বললেন সেটার উপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, তিনি কি অবগত আছেন, এখন পূর্ব পাকিস্তানের ১০ লাখ শরণার্থী বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় আশ্রিত আছেন এবং ভারত সরকার তাদের খাবার থাকার জায়গা ও স্বাস্থগত সেবা দিতেহিমশিম খাচ্ছে? তিনি কি অমন কোন পদক্ষেপ নিতে পারেন যেটা এই ক্রমবর্ধমান করুণ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সাহায্য তরান্বিত করবে?

প্রধানমন্ত্রীঃ হাজার হাজার শরণার্থী যেটা খুবই দুঃখজনক বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে আছেন। শেষ তথ্যমতে ৬০০,০০০, যদিও সেটা এখন আরো বেশি। আমরা জানি, সংখ্যাটা দৈনিক ২০০০০ করে বাড়ছে। আর সম্মানিত উত্থাপিত নির্দিষ্ট পয়েন্ট নিয়ে জানাতে চাই যে, আমরা ব্যক্তিগত সাহায্যকারী সংখ্যাগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখছি, যারা পশ্চিমবঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করছে। আমরা জানি, তারা আগামী দুদিনের মধ্যে প্রথম ফ্লাইটলোড প্রত্যাশা করছে।

মিঃশোরঃপূর্ববাংলায়জনসাধারণেরউপরপাশবিকদমনপীড়নেরবিভিন্নঅভিযোগেরপ্রেক্ষিতেসম্মানিতপ্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তানপ্রেসিডেন্টেরবাসরকারেরউপরচাপপ্রয়োগএকপর্যবেক্ষকপাঠায়।অভিযোগেরসত্যতানির্ণয়করাএবংযদিঅভিযোগসত্যহয়সেটাবন্ধেকোনপদক্ষেপনিবেনকি?

প্রধানমন্ত্রীঃসম্মানিতবন্ধুনিশ্চয়ইআমারকাছথেকেপ্রতাশ্যাকরেননাআমিআমাদেরপ্রধানমন্ত্রীওপ্রেসিডেন্টইয়াহিয়ারমধ্যেযেগোপনীয়কথাবার্তাহয়েছেতাপ্রকাশকরব।আমিঅবশ্যতারসাথেএকমতযেখানেঅভিযোগআছেওভুলউপস্থাপনআছেএকটিসমাধানেরসেখানেসঠিকউপায়টিহবেপর্যবেক্ষকথাকা, সেটাআন্তর্জাতিকসংস্থাবানির্দিষ্টদেশগুলোরবাসংবাদসংস্থারদ্বারা, যারানিজেরাইপরিস্থিতিপর্যবেক্ষণকরতেপারবে।

মিঃহুগোফ্রেসারঃআমিনিশ্চিতযেহাউসসম্মানিতপ্রধানমন্ত্রীরনিকটকৃতজ্ঞতারদেওয়াকাজেরজন্য, আমিকিতারকাছেজানতেপারি, এখনকিকোনসম্ভাবনাআছেআন্তর্জাতিকত্রাণসংস্থাগুলোরপূর্বপাকিস্তানেগিয়েকাজকরার।এখনপর্যন্তযদিওঅনেকসংস্থাঅপেক্ষাকরছেযাওয়ারজন্য, কিন্তুকাউকেইঅনুমতিদেয়াহচ্ছেনা।এটাখুবইজরুরীবিষয়এবংআমিভাবছি, আমাদেরসম্মানিতবন্ধুআমাদেরজানাবেনকিএবিষয়েএইমুহূর্তেপাকিস্তানসরকারেরসাথেতারআলোচনা?

প্রধানমন্ত্রীঃআমিজানিআন্তর্জাতিকত্রাণসংস্থাগুলোবিভিন্নক্ষেত্রেতৈরিএইকঠিনসময়েসাহায্যকরারজন্য।আমাদেরওইসবসংস্থাগুলোরসাথেযোগাযোগআছেযারাএইদেশেআমাদেরকাছেবিষয়টিনিয়েএসেছে।আমিআশাকরি, আগামী৪৮ঘন্টারমধ্যেতারাতাদেরসাহায্যদিতেসক্ষমহবে।আন্তর্জাতিকসংস্থাগুলোরসাথেওআমাদেরকথাবার্তাহচ্ছে, কিন্তুআমিএইমুহূর্তেসম্মানিতবন্ধুকেজানাতেপারছিনাতারাকখনতাদেরসাহায্যপৌছাতেসক্ষমহবে।

মিঃজনমেন্ডেলসনঃ এইবিষয়েআলোকপাতকরেপ্রধানমন্ত্রীরকাছেজানতেচাইতিনিকিএকমতযেএখনমাধ্যমহিসেবেকমনওয়েলথকিংবাকমনওয়েলথঅন্তর্ভুক্তদেশগুলোরপ্রধানমন্ত্রীদেরএকটিযৌথদলেভূমিকারাখতেপারে? এবংএরআরেকটিসুবিধাহবেভারতওপাকিস্তানেরমধ্যকারমতনৈক্যেরধারএড়ানো?

প্রধানমন্ত্রীঃআমিযদিমনেকরতামঅপরএরমাধ্যমেকোনযুক্তিযুক্তঅগ্রগতিসম্ভবতাহলেআমিএকমুহূর্তদ্বিধাকরতামনাএইবিষয়ে, কিন্তুসম্মানিতবন্ধুএবংহাউসএটাউপলব্ধিকরবেনযেকমনওয়েলথদেশগুলোরমধ্যেনির্দিষ্টদ্বন্দ্বআছে।এইসমস্যারউপরেএবংআমিনিশ্চিতনাএইমুহূর্তেতাদেরকেএকত্রকরলেকোনউপকারহবে।

মিঃবিগয-ডেভিসনঃএইপ্রশ্নেরবিপরীতেসম্মানিতবন্ধুগণদ্বারাপ্রশ্নকৃতকিছুকিছুপ্রশ্নএইধারণাইকিউন্মোচিতকরেনাযে, তাদেরকেউকেউএখনোএইধারণারসাথেখাপখাইয়েনিতেপারেনিযেব্রিটেনএখনআরভারত-পাকিস্তানউপমহাদেশেরসাম্রাজ্যবাদীশক্তিনয়।

প্রধানমন্ত্রীঃআমিসম্মানিতবন্ধুরসাথেএকমতযেআমাদেরকেএকটিদেশহিসেবেপাকিস্তানস্বাধীনতাওসার্বভৌমত্বেরউপরসম্মানরাখতেহবে।আমিএটাসবসময়ইখুবপরিষ্কারভাবেপাকিস্তানেরপ্রেসিডেন্টেরনিকটজানিয়েএসেছিযেএটাইব্রিটিশসরকারেরমনোভাব।একইসময়েএইদেশেএবংহাউসেবর্তমানসমস্যানিয়েএকটিগভীরঅনুভূতিরয়েছে।এটাবিভিন্নসময়েদেখাগিয়েছে।যেমন, যখনপূর্বপাকিস্তানেরকিছুঅংশঘুর্ণিঝড়েরআঘাতেক্ষতিগ্রস্থহয়তখনঅসংখ্যস্বেচ্ছাসেবকপাওয়াগিয়েছিল, যেটাবিশ্বকেঅবাককরেছিল, যেটাআমারনিজস্বযোগাযোগথেকেজানি।এখানকারপরিস্থিতিরসাথেযেটারমিলরয়েছে, এইদেশেরঅনেকেইএবংহাউসবর্তমানসমস্যারবিষয়েগভীরভাবেভাবিতএবংসাভাবিকভাবেইতারাচায়সাহায্যকরতে।

মিঃডালিএলঃ এটাকিউদ্বেগেরবিষয়নয়যে, যেযুদ্ধাস্ত্রগুলোপূর্ববাংলায়ব্যবহারকরাহচ্ছেতারঅনেকগুলোই CENTO সদস্যদেশগুলোদ্বারাপ্রাপ্ত।এইদেশসহপ্রাপ্তযেসবএরব্যবহারকরারকথাছিলসম্পূর্ণভিন্নউদ্দেশ্যে।

প্রধানমন্ত্রীঃএটাসবসময়ইএকটাকঠিনপরিস্থিতিযখনজোটেরঅন্তর্ভুক্তকোনএকটিদেশেঅভ্যন্তরীণগোলযোগচলে।অন্যদিকেপাকিস্তানসরকারেরযেমনযুদ্ধাস্ত্রআছেতারঅনেকগুলোইএসেছে CENTO এবংব্রিটিশসরকারেরবাইরেথেকে।

 

.

13.05.12

শিরোনাম সূত্র তারিখ
পাকিস্তানকে প্রদত্ত বৃটিশ সাহায্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি কমন্স সভার কার্যবিবরণী ৬ মে, ১৯৭১

 

পাকিস্তান (সাহায্য)

 

গত পাঁচ বছরে পাকিস্তানে প্রদত্ত মোট সাহায্যের কি পরিমাণ অংশ প্রতি বছর পূর্ব পাকিস্তানের পিছনে ব্যয় করা হয়েছে তা জনাব স্টোনহাউজ পররাষ্ট্র এবং প্রজাতন্ত্র বিভাগের সচিবের কাছে জানতে চান।

 

জনাব উড: পুরো পাকিস্তানের খরচের হিসাব একত্রে রাখা হয় বিধায় প্রতি বছর পূর্ব পাকিস্তানে ব্যয়িত অর্থের হিসাব পৃথকভাবে দেয়া সম্ভব নয়। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য গত পাঁচ বছরে যে পরিমাণ সাহায্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তা নিম্নে দেয়া হল:

 

পূর্ব পাকিস্তান                                                                          মিলিয়ন (ইউরো)

১৯৬৬-৬৭                                                                             ৩.৪

১৯৬৭-৬৮                                                                             ৪.২

১৯৬৮-৬৯                                                                             ১.০

১৯৬৯-৭০                                                                             ০.৪

১৯৭০-৭১                                                                             ০.১২২

 

পশ্চিম পাকিস্তান                                                                      মিলিয়ন (ইউরো)

১৯৬৬-৬৭                                                                             ১.৯

১৯৬৭-৬৮                                                                             ১.৬

১৯৬৮-৬৯                                                                             ২.৫

১৯৬৯-৭০                                                                             ৩.৬

১৯৭০-৭১                                                                             ১.৬

 

নতুন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একই সময়কালে প্রকল্প ব্যতীত মোট সাহায্য ধার্য করা হয়েছিল ২৮.৮ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু প্রদেশদ্বয়ের জন্য পৃথকভাবে সাহায্যের পরিমাণের কোন পরিসংখ্যান নেই।

.

13.06.13

শিরোনাম সূত্র তারিখ
পাকিস্তানকে বৈদেশিক সাহায্য দান সম্পর্কে বিতর্ক কমন্স সভার কার্যবিবরণী ৭ মে, ১৯৭১

 

পররাষ্ট্র এবং প্রজাতন্ত্র বিভাগ

পাকিস্তান

 

স্বাধীনতাকালীন সময় থেকে এখনো পর্যন্ত পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানে যুক্তরাজ্য মাথাপিছু কি পরিমাণ অর্থসাহায্য দিয়েছে, পররাষ্ট্র ও প্রজাতন্ত্র বিভাগের সচিবের কাছে জনাব স্টোনহাউজ তা জানতে চেয়েছেন।

 

জনাব উড: ১৯৫১-৫২ অর্থবছর থেকে পাকিস্তানকে ব্রিটেন অর্থসাহায্য দেয়া শুরু করে এবং তখন থেকে ১৯৬৯-৭০ অর্থবছর পর্যন্ত পাকিস্তানকে প্রদত্ত মোট অর্থসাহায্যের পরিমাণ ১০৪ মিলিয়ন ইউরো। যেহেতু পুরো অর্থটাই কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হয়েছে সেহেতু, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য মাথাপিছু অর্থসাহায্যের হিসাব পৃথকভাবে দেয়া সম্ভব নয়।

 

জনাব উইলকিনসন পরবর্তীতে পররাষ্ট্র এবং প্রজাতন্ত্র বিভাগের সচিবের কাছে আরও জানতে চেয়েছেন, পাকিস্তানে বিশেষ সাহায্য প্রদানের জন্য অন্যান্য দেশের সাথে একযোগে তিনি বর্তমানে কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

 

জনাব উড: সাহায্য প্রদানকারীদের সর্বশেষ মিটিংয়ে বৃটিশসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা পূর্ব পাকিস্তানে সাহায্য প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তান সরকার এখনও পর্যন্ত কোন ত্রাণের জন্য আবেদন করেনি, তবে আমার ধারণা অনুযায়ী ব্যাপারটি তাদের বিবেচনায় আছে।

.

13.07.14-17

শিরোনাম সূত্র তারিখ
ত্রাণ সাহায্য প্রদান ও সামগ্রিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র সচিব হিউম এর বিবৃতি ও এ সংক্রান্ত বিতর্ক কমনস সভার কার্যবিবিরণী ১১ মে, ১৯৭১

 

 

১১ মে ১৯৭১ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পূর্ব পাকিস্থানে ত্রাণ সাহায্য প্রদান ও এবিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার ডগলাস হিউম এবং অন্যান্য সাংসদদের মধ্যে কথাপকথন ছিল অনেকটা এরকম-

স্যার ডগলাস হিউমঃ গত বৃহস্পতিবার পাকিস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে আমাকে কিছু বলতে বলা হয়েছিল। আমি এখন এবিষয়ে আলোকপাত করছি-

গত অধিবেশনেই পূর্ব পাকিস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সরকারের উদ্বেগ এবং সেখানকার দুর্দশা লাঘবে আমাদের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করা হয়েছিল। সাম্রতিক দ্বন্দ্বে পূর্ব পাকিস্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছে। এবছরের শেষের দিকে সেদেশে, বিশেষ করে যেসব এলাকা যা গত বছরের ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয়েছিল সেখানে ব্যাপক খাদ্য ঘাতটি দেখা দেবার সম্ভাবনা আছে। । আমি আবারো বলতে চাই যে আমাদের সরকার যে কোন আন্তর্জাতিক ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে সব সময়ই প্রস্তুত। এবং আমাদের মনে হয় এধরনের কার্যক্রম জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়াটাই উত্তম।

আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বলার পর জাতিসংঘের মহাসচিবকে আমরা পরামর্শ দিয়েছি যে সে যেন পাকিস্থান সরকারের কাছে তার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাহায্য নবায়নের প্রস্তাব দেয়। উ. থান্ট পাকিস্থান সরকারের সাথে সাহায্য পাঠানোর সমস্যা গুলো নিয়ে এখনো কথা বলেনি। তবে সাহায্য পাঠানোর ব্যাপারে যে কোন ধরনের উদ্যোগে পাকিস্থান সরকারের সম্মতি ও সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন। আমরা অবশ্যই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছি।

সাহায্য সহযোগিতা দিতে গেলেও পাকিস্থানের অর্থনীতির কিছু সাধারণ সমস্যা আছে। পাকিস্থান বৈদেশিক মুদ্রা ঘাটতি সহ কিছু ভয়াবহ অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবেলা করে চলেছে। বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে এইড কনসোর্টিয়ামের অধীনে এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নির্ভর করছে এখানে নেয়া সিদ্ধান্তের উপরেই।

তবে সব চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ব্যাপক সংখ্যক উদ্বাস্তু যারা ইতিমধ্যে পূর্ব পাকিস্থান থেকে সীমানা অতিক্রম করে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। ব্রিটিশ চ্যারিটিজের একটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই সাহায্যদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা খাদ্য এবং আশ্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পরিবহণের জন্য সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছে। আমার মনে হয়েছিল যে আমাদের সরকারের তাৎক্ষণিক ভাবে উচিত তাদের কে সাহায্য দেয়া এবং আমি তা ইতিমধ্যে দিয়েছিও। প্রায় ১৮ হাজার পাউন্ডের একটি সম্পূরক বন্দোবস্ত উপযুক্ত সময়ে নেয়া হবে এবং যদি প্রয়োজন পড়ে তো “সিভিল কন্টিনজেন্সি ফান্ড” থেকে অগ্রিম দেবারও ব্যবস্থা করা হবে।

উদ্বাস্তুদের সাহায্যের জন্য জাতিসংঘে ভারতীয় সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের একটি টিম এখন ভারতে কতটুক আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রয়োজন তা মুল্যায়ন করছে। আমি যা আগেই বলেছিলাম, অন্য সমস্যা গুলোর মতই এই সমস্যাটাও আন্তর্জাতিক ভাবে মোকাবেলা করাটাই সব থেকে ভালো হবে।

মি. হিলিঃ আমি নিশ্চিত যে সংসদের উভয় পক্ষের সদস্যগণই এই সমস্যাতে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে একমত হবেন। প্রকৃতপক্ষে শুধু সাহায্য ছাড়াও কিছু সম্ভাব্য বিপদে জাতিসংঘের সরাসরি সম্পৃক্ততাই সব চেয়ে যুক্তিযুক্ত।

তবে ভদ্র মহোদয় হয়তো স্বীকার করবেন যে তার কিছু কথাতে তিনি এই মানবিক বিপর্যয়ের কিছু কারনকে আড়াল করেছেন। এটা কি সত্যি না যে প্রায় ১৫ লক্ষ লোক পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছে যাদের কে খাওয়ানোর জন্য ভারতীয় সরকারের হিসাব মতে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের সাহায্য দরকার? এটা কি সত্যি না যে পূর্ব পাকিস্থানে এর চেয়ে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের সাহায্য দরকার?

পূর্ব পাকিস্থানে এইসব প্রয়োজনে যে সাহায্য যাচ্ছে আপনি কি তাতে সন্তুষ্ট? আপনি কি জানেন যে রেড ক্রসের একটি বিমান চিকিৎসার মালামাল নিয়ে অবতরণের অনুমতি পায়নি? এবং আপনি কি জানেন যে যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য সুত্র বলছে বিশাল পরিমাণ ওষুধ সামগ্রীর মজুদ চিটাগাঙে থাকা সত্ত্বেও তা বিতরণের অনুমতি এখনো পাওয়া যায়নি?

আপনি কি মানবেন যে পাকিস্থানকে অর্থনৈতিক সাহায্য দান এই এলাকার মানুষের দুর্দশা দূর করতে খুব কমই সাহায্য করবে যদিনা এই সমস্যার সমাধানে পূর্ব পাকিস্থানের মানুষের ইচ্ছার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি রাজনৈতিক মিমাংসা নেয়া না হয়, যে ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ তারা দেখিয়েছিলেন কিছুদিন আগের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে?

আমার আগের প্রশ্নে আপনি কথা দিয়েছিলেন আপনি জানাবেন যে শেখ মুজিবুর রহমান কি পাকিস্থানের কারাগারে বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন? আপনি কি মানবেন যে পাকিস্থানকে যদি অগণতান্ত্রিক নেতৃত্বর হাতে ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে পাকিস্থানের ক্ষমতা অন্য কোন শক্তির হাতে চলে যেতে পারে যা কিনা শুধু পাকিস্থানের জন্যই নয়, বরঞ্চ এই উপমহাদেশের জন্যই একটি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে?

স্যার ডগলাস হিউমঃ আপনার মতই বলতে চাই এটা আসলেই একটি অনেক বড় মানবিক বিপর্যয়। যত সংখ্যক উদ্বাস্তু ভারতে আশ্রয় নিয়েছে এবং সম্ভাব্য যে পরিমাণ ত্রাণ এই বছরের শেষের দিকে দরকার হতে পারে তা অনুমান করে সহযেই বলে দেয়া যায় যে এই মানবিক বিপর্যয় কতটা ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। এই কারনেই জাতিসংঘের এগিয়ে আসাটা খুব জরুরী। সম্ভবত একমাত্র জাতিসংঘই পারে এই সমস্যার সমাধান করতে এবং আমার বিশ্বাস জাতিসংঘ তা করবে।

আপনার রাজনৈতিক মিমাংসা নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তরে বলতে পারি এটা অবশ্যই শুধুমাত্র পাকিস্থানের জনগনের জন্যই হতে হবে। বাইরের কেউ তা চাপিয়ে দিতে পারবেনা। আমি আগেই বলেছিলাম, রাজনৈতিক মিমাংসার ব্যাপারে আমরা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছি। এবং সব কিছুর শেষে এইটাই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান। কিন্তু এটা হতে হবে পাকিস্থানের প্রেসিডেন্ট এবং জনগনের জন্য।

মি হিলিঃ পররাষ্ট্র মন্ত্রী কি আমার প্রশ্নের নির্দিষ্ট করে উত্তর দেবেন? পাকিস্থানে ইতিমধ্যে পৌছে যাওয়া ওষুধপত্র এবং অন্যান্য সাহায্য বিতরণে পূর্ব পাকিস্থান কর্তৃপক্ষ যে অনুমতি দেয়নি এব্যাপারে আপনার কাছে কোন তথ্য আছে কি?

স্যার ডগলাস হিউমঃ রেড ক্রসের একটি চালান পাকিস্থান কর্তৃপক্ষ ঢুকতে দেয়নি। আমাদের যতটুকু মনে হয় যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্য থাকার পরেও তা বিলি করার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে- এক, সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দুই, বর্তমানে এই বিলি করার কাজটি পাকিস্থান আর্মিকেই করতে হবে, যে আর্মি নিজেই এখন একটা বড় সমস্যা। তাই আমার আবেদন হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব একটি গ্রুপের সেখানে যেয়ে কতটুক সাযাজ্য প্রয়োজন এবং কিভাবে খাদ্য জনগনের কাছে পৌঁছান যায় তা নির্ধারণ করা। অন্য সমস্যা গুলো এখন ততটা বড় নয়।

মি. উডহাউজঃ মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী কি জানেন ব্রিটেনের “চ্যারিটি কমিশনার” একটি নির্দেশ জারি করেছেন যে “পাকিস্থান ফ্লাড রিলিফ ফান্ডের” টাকা বর্তমান দুর্যোগে ব্যবহার করা যাবেনা? যদি এই নিষেধাজ্ঞাটা পুরোটাই কৌশলগত কারনে হয় তাহলে আপনি বলবেন কি এই নিষেধাজ্ঞাটা কিভাবে উঠানো যায়?

স্যার ডগলাস হিউমঃ আমরা এই ব্যাপারটা খতিয়ে দেখেছি। যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে তাতে এই নিষেধাজ্ঞাটা উঠানো খুবই কঠিন হবে। আসলে যেসব এলাকা এখন সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে তাদের মধ্যে একটি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় দুর্গত এলাকা এবং আমরা যদি সেখানে খাদ্য নিয়ে যেতে পারি তো সে কাজে যতটুকু টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে তাও বর্তমান দুর্যোগে ব্যবহার করা যেতে পারে।

মি. থরপঃ জাতিসংঘকে ত্রাণ দেয়ার ব্যাপারে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ মনে করাতে মি. পররাষ্ট্রমন্ত্রী আপনাকে স্বাগত জানাই। আপনি কি জানেন যে এখন পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্থান থেকে ভয়াবহ নৃশংসতার খবর আসছে? কমনওয়েলথ বা জাতিসংঘের একটি পর্যবেক্ষক টিম কি সেখানে পাঠানো যায় যা এই উদ্বেগজনক অভিযোগ কে হয় প্রমাণিত করবে না হয় উড়িয়ে দেবে?

স্যার ডগলাস হিউমঃ বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার মনে হয়না যে পর্যবেক্ষকদের পাকিস্থানে যাওয়াটা কোন কাজের কথা হবে। এটা মনে করার কোন কারনই নেই যে তাদের কে পূর্ব পাকিস্থানে ঢুকতে দেয়া হবে। আপনি সম্ভবত জেনে থাকবেন যে ছয়জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক কে এই সপ্তাহে পূর্ব পাকিস্থানে ঢুকতে দেয়া হয়েছে। তাই সেদেশ থেকে আরও কিছু তথ্য আমরা পাব।

মি. শোরঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে বলবেন যে ত্রাণ এবং সাহায্য দানকারীরা কি বর্তমানে পূর্ব পাকিস্থানে অবাধে চলাচল করতে পারছে? পাকিস্থান সরকারের কাছ থেকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রের প্রতি সন্মান প্রদর্শনের ব্যাপারে আপনি কেমন সাড়া পেয়েছেন?

স্যার ডগলাস হিউমঃ পাকিস্থানের প্রেসিডেন্ট আমাদের বলেছেন যে তাদের একটি রাজনৈতিক মিমাংসার ইচ্ছা আছে এবং তিনি পূর্ব পাকিস্থানের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে চান। আমরা আশা করি যে এমনটিই হবে। পূর্ব পাকিস্থানে এখন সাহায্য শুরু করার সব চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে গত তিন মাসে প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া যোগাযোগ ব্যবস্থা। যোগাযোগ ব্যবস্থা যখন আবার ঠিক হবে, সাহায্যও যাওয়া শুরু করবে।

 

 

.

13.08.18-79

শিরোনাম সূত্র তারিখ
উপমহাদেশের পরিস্থিতির প্রত্যক্ষদর্শি এম.পিদের বিবরণ ও বিবৃতির ভিত্তিতে বিতর্ক এবং কমনস সভার প্রস্তাব কমনস সভার কার্যবিবরণী ১৪ মে, ১৯৭১

 

 

জনসাধারনের বাসস্থান

শুক্রবার, ১৪ইমে,১৯৭১

পূর্ব পাকিস্তান

 

 

বেলা ১১.৫

জনাব ব্রুস ডগলাস- মান(কেনসিংটন,উত্তর)আমি সরে যাওয়ার জন্য অনুরধ করছি,

যে, এই বাসস্থান পূর্ব পাকিস্তানে হওয়া হত্যা ও ধ্বংসের এবং বছরেরে শেষের দিকে সম্ভাব্য খাদ্য সংকট এর ভীতি প্রদর্শনে তার সরকারি প্রভাব দেখিয়ে তাদের শত্রুতা শেষ করে নিরাপদ করার জন্য, জাতিসংঘ বাঁ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংগঠনে ভর্তি, এবং একটি রাজনৈতিক নিষ্পত্তির কৃতিত্বে যা পাকিস্তানের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের সম্মান রাখবে।

 

এই মোশন আর্লি ডে মোশন নং ৫০৯ এর তুলনায় একটু বেশি সুনির্দিষ্ট যা আমি উত্থাপন করি, পূর্ব পাকিস্তান একটি যুদ্ধবিরতি নিরাপদ করার জন্য তাদের সরকারি কলিংযের প্রভাব ব্যাবহার করতে। এই মোশন ৩০০ সম্মানিত সদস্যের দ্বারা সাক্ষর করানো হয়েছে, যা আমি মনে করি এই সংসদের জন্য একটি রেকর্ড, এবং এই উদ্বেগ এবং পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে দেশের অনুভুতি হাউসে প্রতিফলিত হচ্ছে । আমি আশা করি যে এই কথনে পরিবর্তন পূর্ববর্তী মোশনের অর্জিত সমর্থন থেকে সরে আসবেনা। এই দ্বিতীয় মোশন শুধুমাত্র প্রথমেই পূর্ব বাংলার দুঃখজনক পরিস্থিতি অন্তরনিহিত ছিল তা আরও বিশদভাবে ব্যখ্যা করবে, যার উপর ব্রিটিশ সরকারের উচিত কিছু প্রভাব জাহির করা।

 

বিয়োগাত্নক ঘটনার প্রকৃতি পরিমাণ সুপরিচিত হয়। যারা মৃত তাদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের অফিসিয়াল অনুমান হচ্ছে শুধুমাত্র ১৫,০০০ জন মারা গেছে। কিন্তু সর্বনিম্ন স্বাধীন অনুমান ১০০,০০০ থেকে শুরু, এবং অনেকে হিসাব করে যে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে এক লাখের বেশি হয়ে গেছে। কিন্তু মৃতের সংখ্যা যতই হোকনা কেন, এটা নিশ্চিত যে দুই লাখের বেশি মানুষ দেশের এই আতঙ্কিত পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত ছিল, যে তারা একেবারে মর্মস্পর্শী অবস্থায় তাদের বাস্থান ভারতে সরিয়ে নিয়েছে।

 

২২শে এপ্রিল। আমি এবং আমার সম্মানিত বন্ধু সদস্য( জনাব স্টোনহাউজ) পশ্চিম্বঙ্গের শরণার্থী শিবিরের ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ক্যাম্পটি ছিল সাংঘাতিক জনাকীর্ণ। তারা খুঁটির উপর ছাঁদে গুলি ছোড়ার তেরপল, সাহে ঢেউ তোলা লোহার স্থল এবং খড় মাদুরের ছাদ স্থাপন করেন। সেই সময় প্রতি পরিবারের জন্য ১০ বাই ১০ ফিট স্থান বরাদ্দ ছিল । ক্যাম্পের প্রায় সব ফ্ল্যাট নিম্নস্তরের স্থলে অবস্থিত ছিল, এবং যে সময় আমি সেখানে ছিলাম সেখানে কেবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

 

সত্য যে হাজার হাজার পরিবার বর্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথে তাদের বাসভবন সরিয়ে নিতে বাদ্য হয়েছে, পরিস্থিতি হচ্ছে যে জায়গায় ক্যাম্পগুলো অবস্থিত সেগুলো অদুর ভবিষ্যতে প্লাবিত হতে পারে যদি ইতিমধ্যেই প্লাবিত না হয়ে থাকে তাহলে সেখানে শুকনো মাটিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক স্থায়ী কক্ষ থাকতে হবে, পালিয়ে যাওয়া পরিবারের অবস্থা যা প্রতিফলিত করে।

 

ক্যাম্পে পর্যাপ্ত খাদ্য ছিল, কিন্তু সেই খাদ্য ভারতীয় সরকারকে দিনে ৬টি নতুন পয়সায় মাথাপিছু এক রুপি খোয়াতে হয়। যখন প্রতিফলিত হয় যে ২০০ মিলিয়নের বেশি ভারতীয় নাগরিক দিনে মাথাপিছু এক রুপির মানের নীচে বাস করছে, কেউ প্রশংসা করতে পারে যে স্ত্রেন যা ভারতীয় সরকার নিজেই নিজেদের জন্য বহন করতে পারেনা। উদ্বাস্তুদের সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সহায়তা অপরিহার্য, যা ভারতের একটি অসামান্য সামাজিক ো রাজনৈতিক সমস্যা, সেইসাথে আর্থিক সমস্যাও বটে।

 

কিন্তু উদ্বাস্তুদের জন্য ভারতের সমস্যা পুরোপুরি ভিন্ন, আমরা শুধু পূর্ব পাকিস্তানের শর্ত সম্পর্কে অনুমান করতে পারি। আমি ২৪শে এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান ভ্রমণের উপর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছি, ভারত সরকারের জ্ঞান অতবা অনুমোদন ছাড়াই, তারা যেভাবে আমাকে বলেছিল যে তারা আমার নিরাপত্তার ব্যাপারে মনযোগী হবে যদি আমি ভেতরে যেতাম। আমি বাংলাদেশের ধারণকৃত এলাকা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম।

 

আমি চেয়েছিলাম, প্রথমে, উদ্বাস্তুদের থেকে কিছু তথ্য পেতে, এবং বুধবারের জন্য সম্মানিত সদস্য এবং আমি ক্যাম্পের কিছু সংখ্যক দের সাথে কথা বলেছি। ঘতনা তাদেরকে কনরকম পরিবর্তন ছাড়া বলা হয়েছিল। মাননীয় সদস্যদের উপর আমার আশ্বাস যে যারা নৃশংসতায় নিজেদের ঠেলে দিয়েছিল তাদের গুজব তইরিতে আমাদের সতর্কতা ছিল না । আমরা নিজেরাই নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে গিয়েছিলাম, এবং আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করেছি কেন তারা তাদের গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছে।

 

বার বার আমরা একই ঘটনা বলেছি: পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক সেনা কর্তৃপক্ষ গ্রামে প্রবেশ করেছিলেন, যা পড়ি রক্ষিত হয়নি, পুরুষদের মাঠে এবং পরে মহিলা ো শিশুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, একটি বিরাট সঙ্খ্যার মানুষকে হত্যা করার পর গ্রাম গুলো জ্বালিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছে।

 

বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে আমি আরও উদ্বাস্তু দেখেছি, যে আমাকে বেশি অথবে একই রকম গতনা বলেছে। এই ব্যক্তিরা ভারত সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলো। তাদের গ্রামে, যেখানে আমাদের সাক্ষাত হয়েছিলো তা থেকে ৪ মেইল দূরে, সেই সকালেই দগ্ধ করা হয়েছে। উদ্বাস্তুরা আমাদের বলেছেন যে গ্রামে যে ফসল রোপণ করা হয়েছে এমনকি যা করা হয়নি যা তারা ভারত সীমান্তে আসার সময় অতিক্রম করতে এসেছে। বাংলাদেশের শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে রোপণ চলছে।

 

এটা সুস্পষ্ট ছিল যে পাঞ্জাবিদের ঘৃণ্য, পুর পাকিস্তানের মানুসদের মধ্যে গত ছয় সপ্তাহে যা তৈরি করা হয়েছে, যার সিংহভাগ বাঙালি, পাকিস্তান আবার এক হতে পারে এটা খুব অসম্ভব।

 

উভয় পক্ষের নৃশংসতা আছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। হত্যাকন্দ জুদ্ধের একটি বাজে ব্যবসা। আমরা অনেক উৎস থেকে পরস্পর বিরোধী প্রতিবেদন শুনেছি, এবং বিশেষ করে ব্রিটিশ প্রেস থেকে, নৃশংসতার প্রকৃতির। ২রা মে সানডে টাইমস একটি বিবরণ উপস্থাপন করে যেখানে যেখানে বর্তমান নৃশংসতা বাঙ্গালিদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে এবং বাংলা বিডিআর বিদ্রোহের এই বিয়োগাত্মক ঘটনা পুরোটা পরিকল্পিত।

 

বিবরণ সত্য হলেও এটি দুঃখজনক যে সংবিধানের একটি পত্রিকা সানডে টাইমস এটি পরিষ্কার করে নি যে যেই প্রতিবেদক বিবরনটি উপস্থাপন করছেসে শুধুমাত্র পশ্চিম পাকিস্তানের নয় সম্পাদক ও কারাচি নিউজের। যেটি পশ্চিম সরকার মালিকাধীন প্রেস ট্রাষ্ট অথবা অন্যান্য স্বাধীন বিবরণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। পশ্চিমা সাংবাদিকরা সথিক, প্রতিটি বিবরণ থেকে এবং জনসংযোগ বিবৃতি থেকে এটি স্পষ্ট যে মাননীয় সদস্যবৃন্দ পশ্চিম পাকিস্তানের হাইকমিশন থেকে পেয়েছে, যে হত্যাকাণ্ড পশ্চিম পাকিস্তান সেনাবাহিনী তেকে শুরু হয়েছিল, একটি সম্ভাব্য বিডিআর বিদ্রোহের প্রতিরোধ হোক বা না হোক।

 

সেটাই প্রথম স্পষ্ট বিষয়। দ্বিতীয়টি হচ্ছে প্রতিদিনের বিলিপত্রের সাথে জয়লাভ দাবি করা । তৃতীয় দফা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডের স্কেল এবং ঘৃণাকারী পাকিস্তান এখন একটি একক মৃত রাজ্য। তাজউদ্দীন আহমেদের ভাষায়, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কথা,

‘পাকিস্তান মৃত এবং ম্রিতদেহের পরবতের নীচে চাপা পড়েছে’

পূর্ব পাকিস্তান কে নিচে ধরে রাখা শুধুমাত্র বৃহৎ সামরিক বাহিনী দ্বারা সম্ভব।

আমি পূর্ব পাকিস্তানের ভেতরে সেনা ক্যাম্পে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেছি। আলোচনা থেকে, আমি তার সাথে ছিলাম, এবং বাংলাদেশ আর্মির দ্বিতীয় নির্দেশ। মেজর ওসমান, কিছু জিনিস আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রথমতি হচ্ছে যে পশ্চিম পাকিস্তান কে জোর করা অব্দি যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। দ্বিতীয়টি হছে পক্ষের একটি ক্ষমতা ছিল, বাংলাদেশ সেনাভিনি, আওয়ামী লীগ সংগঠন এবং গেরিলা জদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, স্মরণীয় হচ্ছে যে, আমরা যা বলেছে তা অনুযায়ী , মুলত গ্রামাঞ্চল এখনো বাংলাদেশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

এটি, অবশ্যই, সথ্য যে পশ্চিম পাকিস্তান বাহিনী, ভালো সরঞ্জাম এবং উচ্চতর অগ্নি ক্ষমতা, কোর্স করার জন্য বাছাই করা যেকোনো এলাকায় পাঠাতে পারেন, জতদিন না সেতু উড়িয়ে দেয়া হয়। দেশ যোগাযোগের জন্য এই সেতুর উওর নির্ভরশীল, এবং এই সেতু ছাড়া জল্পথের উন্নয়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

 

মুলত গ্রামাঞ্চলের প্রশাসন বাংলাদেশ আর্মি দ্বারা বাহিত হয়। তাদের জনসংখ্যার সিংহভাগ সারগর্ভ সমর্থন আছে, যা পশ্চিম পাকিস্তান বাহিনীর জন্য প্রতিকূল। প্রকৃতপক্ষে, সন্তোষজনক ভাবে এই রাষ্ট্র পরিচালনা করা পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য অসম্ভব হবে।

 

আমার কাছে চিন্তার বিষয় হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পূর্ব পাকিস্তানের সেনাবাহিনী থেকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং রোগ নিয়ে চিন্তিত। তিনি আমাকে জানান দেশের এক-তৃতীয়াংশে রোপণ করা হচ্ছেনা এবং শস্য এলাকায় উচ্চতর অনুপাত, যা প্রধানত খাদ্য ফসলের উপরেই নিরভত হয়।

 

যে কোন স্বাভাবিক বছরে পূর্ব পাকিস্তান দুই লাখের মধ্যে এবং তিন লাখ খাদ্য শস্য আমদানি করে। এই বছর পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ কোন আমদানির অনুমুতি দিচ্ছে না। গতবছর নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়ে সেখানে শস্য বিশেষ করে চালেরত স্টক ধ্বংস হয়েছে।

 

স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার লাখ লাখ মানুষের অনাহারের আশঙ্কা নিয়ে অত্যন্ত সচেতন। তারা ফসল রোপণ নিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা করছেন, অন্তত তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে, কিন্তু কিছু এলাকা মানুষের কাজ করার জন্য অনেক বেশি বিপদজনক।

 

বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী ঘটনা যা আমাকে মুগ্ধ করেছে তা ছিল বাকি বিশ্ব বর্তমান অবস্থাকে পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা নিয়ে বাঙ্গালী মানুস গভীরভাবে ক্ষুব্ধ, এটি ছিল সংযোগ যা আমি মনে করেছিলাম পাকিস্তানের ইতিহাস প্রতিষ্ঠায় মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব ইত্যাদি।

 

হাউস মুলত সেখানে তিন যুক্তরাষ্ট্র ফেডারেশনে একটি প্রস্তাব প্রত্যাহার হওয়া উচিত। পশ্চিম পাকিস্তান, পূর্ব পাকিস্তান ও আসাম এবং তারপর ব্বাকি ভারতের। যা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল, এবং তারপর ১৯৪৭ এ মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব পেশ করা হয়; প্রত্যেক এলাকায় সিদ্ধান্ত নেয়ার বিধান। কিছু কিছু জায়গায় গণভোট হয়েছিল, কিন্তু পূর্ব বাংলায় পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে লেজিসলেটিভ পরিষদ যুক্ত করা সেচ্ছাসেবীদের সিদ্ধান্ত ছিল। এটি সেই সিদ্ধান্ত যা পূর্ব বাংলার মানুস এখন বাতিল করারা চেষ্টা করছেন।

 

আমি পশ্চিম পাকিস্তান দ্বারা পূর্ব পাকিস্তানে অর্থনৈতিক শোষণের কথা মনে করিয়েছি যা পাকিস্তান স্থাপন থেকেই অব্যাহত ছিল। আমি এখন হাউসে যে তথ্য দিতে পারি তা তা বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী থেকে পাওয়া নয় কিন্তু স্বাধীন সুত্রে জানা গেছে, এবং আমি ২৯শে মার্চের ফাইনানশিয়াল টাইমস ে একটি বিশেষ বিবৃতি রেফার ক্রতে পারি।

 

১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মাথাপিছু অ্ায় ছিল প্রায় সমান। যাইহোক, সাহায্যে ব্যায়ের বৈষম্যের ফলে, সংগ্রহ ও করের খরচ, চাকুরিতে বৈষম্য, পাঞ্জাবীদের জন্য কাজে অগ্রাধিকার, এবং পূর্ব পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা, যা পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ বাণিজ্য অংশীদার পশ্চিম বং পশ্চিম বঙ্গের সাধারণ বাণিজ্য অংশীদার পূর্ব পাকিস্তান কে হারায়, পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের উপর বিশাল অর্থনৈতিক নির্যাতন হচ্ছে।

 

গত বছর আওয়ামীলীগের নির্বাচন বিস্ময়কর নয়, যা পূর্ব পাকিস্তানের কিন্তু পাকিস্তান রাজ্যের অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ের প্রোগ্রাম ছিল, জনপ্রিয় ভতের ৮০ শতাংশ ১৬৯তির ১৬৭ টি আসন লাভ করেছে। এই অপ্রতিরোধ্য বিজয়ের ফলে, আওয়ামী লীগ কে পুরো পাকিস্তানের সরকার হিসেবে গন্য করা হয়। এটা সেই দাবি করে না। যাইহোক, ফলে ২৫ মার্চ ১১ টায় যুদ্ধ ঘোষণা দেয়া হয় যারা নিজের দেশের জনগণের অধিকার দাবির জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

 

বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তার সরকার কর্তৃক স্বীকৃত সরকার দেখতে উদ্বিগ্ন ছিলেন, এবং সর্বোপরি ব্রিটেনের ঐতিহাসিক সম্পরকের কারণে। আমি তার কাছে ব্যখ্যা করি এবং আমি মনে করি যে, তিনি যদি এবং জতক্ষন না বাংলাদেশ বাহিনীর পূর্ব বাংলার একটি বড় অংশ গ্রহণ এবং প্রশংসা করেন, এটি প্রয়ুন হতে পারে, পূর্ব পাকিস্তানে সাহায্য প্রদান করা, বিদেশি সরকারের পশ্চিম পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সাথে কাজ করা। এ ব্যপারে তারা নিদারুনভাবে উদ্বিগ্ন যে তাদের নির্বাচিত সরকারকে তাদের এইভাবে স্বীকৃত করা উচিত ছিল। আমি তাদের ধীশক্তি দেহে মুগ্ধ হই। সরকারের সদস্যদের সিংহভাগি সামাজিকভাবে উদার এবং আমি বিশ্বাস করি যে আমি তাদের হাউসের প্রত্যেকের সাথে প্রত্যেকের মিলিয়ে দিতে পারবো। তারা গেরিলা যুদ্ধে পাওায়া কঠিন পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন এবং সামাহিক গণতন্ত্র আদরশ ধারণকারী। একই সাথে একজন গেরিলা ও উদার হওয়া কঠিন। একটি গেরিলা যুদ্ধ অনিবার্য ছিল। সবথেকে খারাপ, যদি পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ এযাবতকালে আরও বেশি সফল হয় তাহলে ভারতের ভেতরে গেরিলা যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে।

 

ভারত সরকারের মনভাব অন্যতম সঠিক। আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবিং দিল্লীর অন্যান্য মন্ত্রী ও যারা আমাকে মুগ্ধ করে তারা পশ্চিম পাকিস্তনারে বিরোধ বিপদ সম্পর্কে সচেতন এবং পরবর্তী কয়েকবার চীনের সাথে জরিত থাকার। তা সত্ত্বেও ভারতীয় জনমত ভারপ্ত সরকারকে অনুমুতি দেয় না।

 

ফলে এটি অবশ্যম্ভাবী যে গেরিলা কার্যকলাপ থেকে উদ্বাস্তুরা ক্যাম্পে ঘাঁটি গাড়বে। এটা সীমান্তে ঘটা অনেক বিপদ বাড়তে পারাকে নিত্রিত্ত দেয়া। সত্য যে বাংলাদেশ বাহিনিকে সীমান্তে ফিরে আসার জন্য জোর করা হয়, মানে হচ্ছে সীমান্তে দুর্ঘটনা ঘটবে এবং পশ্চিম বাংলায় যুদ্ধ পরিচালনার ঘাঁটি তে অথিক বিপদের আশঙ্কা থাকবে। যদি পদক্ষেপ না নেয়া হয় এই অবস্থা একটি দীর্ঘ পরিনাম দেকে আনবে এবং লক্ষ লক্ষ ম্রত্তুর দুঃখজনক যুদ্ধ। যাইহোক এত একটি যুদ্ধ যা প্রতিরোধ করতে পারে। এটি এক যা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা গম্ভিরভাবে এবং দ্রুত পশ্চিম পাকিস্তানে প্রভাবিত করে। পশ্চিম পাকিস্তানে একটি বৃহৎ আমদানি বিল হয়েছে। যার বিদেশি রিন অনুমান করা হয় প্রায় ১,৮০০ মিলিয়ন। জুদ্ধের শুরুতে ের মজুদ প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ছিল এবং মে মাসে ইতিমধ্যে ভারতে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ঋণ পরিশোধে খরচ হয়, নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন, যখন এমনকি তারপর, দেখা করতে সক্ষম হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

 

টুডেস টাইমস পশ্চিম পাকিস্তানেরতীব্র আর্থিক সঙ্কতের উপর এখনো রিপোর্ট করেনি। সংবাদ-সপ্তাহের এ সপ্তাহের সংখ্যায় গতকালের ফাইনানশিয়াল টাইমস ের নিবন্ধন্তি নিয়ে আলোচনা করেনি। পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনীতি দেউলিয়া, ধ্বংসের পথে। পশ্চিম পাকিস্তানের একটি যুদ্ধে প্রতিদিন সরকারের প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার খোয়াতে হয়। এই পরিস্থিতিতে বাকি বিশ্ব একটি ভালো চুক্তি জাহির করেছে। আমি মনে করি যখন পশ্চিম পাকিস্তানে পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ হয় তখন আমাদের উচিত পুরো সাহায্য প্রদান স্থগিত করা। কোন ইভেন্তের জন্য আমাদের অবশ্যই নতুন কোন সাহায্যে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া উচিত নয় এবং আমাদের উচিত জথাজথ কিস্তিতে বিদ্যমান ঋণের সার্ভিসিং অঙ্গিকার করা।

 

আমি আশা করি ব্রিটিশ সরকার পসচিম পাকিস্তানে যুদ্ধ চলাকালীন সাহায্য প্রদান স্থগিত করা নিয়ে প্রেস করবেন। আমি আশা করি যে বিশ্ব ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মনিটারই ফান্ড নিঃসন্দেহে পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে করা যুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তাঙ্কে সাহায্য করা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের প্রভাব ব্যাবহার করবে। আমাদের সকল সামরিক সহায়তা শেষ করা উচিত কোন ছোট যন্ত্রাংশ বা গোলাবারুদ প্রদান বিতরণ থেকে, যেমন নিম্ন লিখিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার। আমি আশা করি যে জাতিসংঘে প্রেসের জন্য অন্য দেশগুলকে যুক্ত করতে পারি, ত্রাণ সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক তহবিল সংগঠনএ সঠিক বন্তন নিশ্চিত করার জন্য। ত্রাণ পশ্চিম পাকিস্তান সরকার দ্বারা পরিচালিত এবং যারা অভুক্ত রয়েছে তাদের রেখে ের সামরিক বাহিনিকে আরও মানুস হত্যা করার জন্য ব্যবস্থা করা হয় ।

 

সর্বোপরি, আন্তর্জাতিক চাপে আমরা যাই জাহির করিনা কেন আমাদের উচিত পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তাঙ্কে তাদের সেনা প্রত্যাহার করতে ব্যবহার করা, আওয়ামীলীগ বাংলাদেশ সরকারে অনুমুতি, পূর্ব পাকিস্তান প্রশাসনে নিতে। এখনো একটি স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কে মধ্যপন্থী ো দায়িত্বশীল দের নেতৃত্ব থেকে সুরক্ষিত করার ভালো সুযোগ রএছে। এটি বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলর মধ্যে একটি হবে কিন্তু ভারতের সাথে বানিজ্যের জন্য ম্ুক্ত থাকবে। পশ্চিম বঙ্গের পন্য ঠিক সেগুলই যা পূর্ব পাকিস্তনাএর প্রয়োজন হয়। বিশ্বের দুই দরিদতম দেশে পূর্ব পাকিস্তানের বাণিজ্য স্বাধীন থাকবে। জত বেশি যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে দারিদ্র, পীড়া কমার৪ সম্ভাবনা তত কম থাকবে এবং গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে মৃত মানুষের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে।

 

মাননীয় স্পিকার- অনেক সম্মানিত সদস্য কথা বলতে ইচ্ছুক। যারা আমার চখে ধরা পড়েছে তাদেরকে সঙ্খিপ্ত যুক্তিসঙ্গত বক্তব্য দিতে হবে।

বেলা ১১.২৭

বৈদেশিক উন্নয়ন মন্ত্রী( জনাম রিচারড উড)- মাননীয় সদস্য কেংসিংটনের জন্য, উত্তর (জনাব ডগলাস মান) একটি দুরদান্ত ইভেন্ত সম্প্রতি পাকিস্তান কে স্পর্শ করেছে। আমি আশা করি কমনস হাউস আমাকে এই বিতর্ক বেড়ে খুব তাড়াতাড়ি উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করার জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিবে যা আমাদের সব দুঃখকষ্ট বোধ, না দশ না শত সহস্র কিন্তু লাখ লাখ মানুস এই সাম্প্রতিক ঘটনার ফলে দূরে সরে গিয়েছে। আমি মনে করি সেখানে আজ সাধারণ চুক্তি হবে যে আমরা মানুষের পীড়া দূর করার জন্য এবং রাজনৈতিক ো অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনতে যাই করতে পারি তাই করার চেষ্টা করতে হবএ। হাউস্তি স্বাভাবিকভাবে, এবন্য ন্যায়ত, অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিসয়ে বিতর্ক করতে অনিচ্ছুক, কিন্তু আমার মতে এটি বঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন, বর্তমান অবস্থার পটভূমি দেখে আমাদের সিদ্ধান্তের মনোভাব ঠিক রাখা উচিত। পূর্ব থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে যেই ভ্রমণ করুক, অন্যান্য দিকে, দেশের দুতি অংশ অনইক্য দ্বারা তাড়িত করা আবশ্যক। এটি একটি দেশ যা ভউগলিক দিক থেকে অনন্য। অন্যদিকে যদি তারা দুতি অংশ পরিদর্শন করে। আমি সেখানে রমজান ের রথমে ভ্রমণ করেছি, আমার মনে হয় তারা মুসলিম ধরমের মধ্যে কত ঘনস্ত সম্পরক বজায় রেখেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ১০০ লাখ মুসলিমের জন্য পাকিস্তান ইসলামী স্বদেশ প্রতিস্থা করেছিল। অনেক মাননীয় সদস্য যারা নিজেরা দেখেছেন তারা সম্মত হবে যেই দেশ বিভক্ত হয়ে অন্তত ১০০০ মেইল দূরে চলে গেছে তাদের অসুবিধা দেখা সরকারের জন্য কঠিন হবে। কিন্তু এই সহজাত ভউগলিক অসুবিধা শুধুমাত্র বেশি পরিচিত তাই এই হাউসে পাকিস্তান সংক্ষিপ্ত স্বাধীন ইতিহাস।

.

mou

রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের রাষ্ট্রপতিত্বের পর, রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানের দ্বারা পুনরায় সামরিক শাসন ঘোষণা করা হল যখন তিনি মার্চ, ১৯৬৯ এ ক্ষমতায় এলেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল একটি বেসামরিক গণতান্ত্রিক শাসনের হাতে শীঘ্রই ক্ষমতা হস্তান্তর।

গত নভেম্বরে গঙ্গা অববাহিকায় ঘুর্নিঝড়ের পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান সফরে আমার সুযোগ হয়েছিল রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত করার, এবং আমার সম্মানিত বন্ধু প্রধানমন্ত্রী, যা হাউস জানে, গত জানুয়ারিতে তার পাকিস্তান সফরের সময় তার সাথে আলোচনায় বসেছিলেন। আমি তখন আশ্বস্ত ছিলাম এবং এখনও আশ্বস্ত আছি যে রাষ্ট্রপতির পুরোপুরিভাবে একটি বেসামরিক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় একনিষ্ঠ অভিপ্রায় ছিল।

কিন্তু তখন রাষ্ট্রপতি জোর করেছিলেন, এবং তখন থেকে জোর করছেন যে পাকিস্তানকে একটি একক মুসলিম রাষ্ট্রের মর্যাদা বজায় রাখা জরুরি। নির্বাচন গুলির ফলাফল ছিল পরিষ্কার, যেটি পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সার্বজনিন ভোটাধিকারের উপর ভিত্তি করে ছিল। শেখ মুজিবর রহমানের আওয়ামী লীগ পুর্ব পাকিস্তানে অপ্রতিরোধ্য জয় পেয়েছিল এবং নির্বাচনী পরিষদে সামগ্রিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। শেখ মুজিব এবং লীগ একটি কর্মসূচির উপর ভিত্তি করে লম্বা সময় ধরে প্রচারণা করেছেন যেখানে অন্যান্য জিনিসের মধ্যে ছিল পুর্ব পাকিস্তানে বৃহৎ মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের অপেক্ষাকৃত কম নিয়ন্ত্রণ থাকবে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা এবং বৈদেশিক বিষয়ে।

যেহেতু হাউস জানে যে, নির্বাচনের পড়ে রাষ্ট্রপতি, শেখ মুজিব এবং জনাব ভুট্টো,পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা এর মধ্যে প্রাথমিক কথা বার্তা হয়েছিল। যেহেতু হাউস আরও জানে যে দুর্ভাগ্যবশত এটি সমঝোতায় পৌঁছেনি এবং ঢাকায় একটি লম্বা সময় ধরে আলোচনা চলেছিল , রাষ্ট্রপতি মার্চের শেষ দিকে সামরিক কার্যক্রম গ্রহণ করেছিলেন।

যেহেতু সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ করেছেন, পুর্ব পাকিস্তানে নৃশংস কার্যাবলি সংঘটিত হয়েছে- যা তিনি সঠিক বলেছেন-দ্বন্দ্বের উভয় পক্ষের দ্বারা। পুর্ব পাকিস্তান সম্প্রদায়ে সকল শ্রেণীর মানুষের দুর্দশা এবং জীবননাশ আজ আমাদের গভীর উদ্বেগের ভিত্তি, একটি দেশ যেটির সাথে ব্রিটেনের এবং অনেক মানুষ যারা সেখানে বাস করেছে অনেক গভীর বন্ধন রয়েছে, একটি দেশ যেটি কমনওয়েলথ এর সাথী সদস্য এবং একটি দেশ যেখান থেকে অনেক মানুষ ব্রিটেন এ বসবাস করতে এসেছে। সেসমস্ত নিকট বন্ধনের জন্য, অতীত এবং বর্তমান উভয় সময়ে আমরা পাকিস্তানের মত দেশের প্রতি উদ্বিগ্ন হয়ে থাকি বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়।

এই সংবিগ্ন পরিস্থিতিতে যেটি মার্চ এর শেষ এবং এপ্রিলের শুরুর দিক থেকে অবস্থা করছে, এটি আমাদের জন্য জরুরি যে আমরা পুর্ব পাকিস্তানে আমাদের নিজস্ব জাতীয় অধিবাসীদের সাহায্য করি দেশ ত্যাগের জন্য যদি তারা নিরাপত্তার খাতিরে এটি জরুরি মনে করে। এই ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৮০০ ব্রিটিশ অধিবাসী দেশ ত্যাগ করেছে।

লিডস, পুর্বের (জনাব হিলি) যোগ্য সম্মানিত সদস্য এই সপ্তাহে আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধু, পররাষ্ট্র সচিবকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন শেখ মুজিবের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে, এবং আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধু এই প্রশ্নের উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং আমাকে অনুরোধ করেন এই যোগ্য সম্মানিত ভদ্রলোকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার এবং এটি করতে বলেন। এই প্রশ্ন, অন্যান্য অনেক বিষয়ের মাঝে একটি বিশয় যেটির ব্যাপারে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির সাথে যোগাযোগ রেখেছেন, এবং আমাদের সাম্প্রতিক তথ্য এটি যে শেখ পশ্চিম পাকিস্তানে নিরাপত্তা হেফাজতে আছেন এবং এটি সম্ভাব্য যে তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে, কিন্তু আমাদের কাছে কোন সুনিশ্চিত প্রতিবেদন নেই যে তাকে পুর্ব পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে।

আমি সন্দেহ প্রকাশ করছি যে আমাদের মাঝে পাকিস্তানে অতিসত্ত্বর জরুরি বিশয় কি হতে পারে এই ব্যাপারে কোন বলিষ্ঠ প্রভেদ হবে কিনা, যদিও আমি সম্পুর্ন স্পষ্ট করেছি যে বিভিন্ন পন্থার মাঝে গভীর পার্থক্য হবে যেটির দ্বারা সেই উদ্দেশ্য অর্জিত হতে পারে। একমাত্র বিচক্ষণ উদ্দেশ্য হতে পারে সেই দেশে শান্তি এবং স্থিতিশীলতার পুনঃসৃষ্টি। আমরা আমাদের স্বার্থ পাকিস্তানের সরকারের কাছে পরিষ্কার ভাবে জানিয়েছি এবং সেই সরকার আমাদের কাছে পরিষ্কার ভাবে জানিয়েছে যে তারা এই উদ্দেশ্যের প্রতি পুরোপুরি নিবেদিত।

কিন্তু রানীর সরকার এবং পাকিস্তানের বাইরে অন্যান্য সরকারের জন্য তিনটি আলাদা সমস্যা প্রতীয়মান হচ্ছে। প্রথমটি হল পুর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরে দুর্দশা এবং সম্ভাব্য খাদ্যস্বল্পতা দূরীকরণ; দ্বিতীয়টি হল যা সম্মানিত সদস্য উল্লেখ করেছেন শরনার্থীদের দুর্দশা দূরীকরণের সমস্যা যারা পুর্ব পাকিস্তান অতিক্রম করে ভারতে গিয়েছে এবং তৃতীয় সমস্যা হল দীর্ঘ মেয়াদি উন্নয়ন সহায়তা।

১১ এপ্রিল এখানে তার বক্তব্যে আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধু পররাষ্ট্র সচিব আন্তর্জাতিক ত্রাণ প্রচেষ্টায় রানীর সরকারের অংশগ্রহণের তৎপরতার কথা পুনরায় উল্লেখ করেছিলেন, এবং তিনি ১১ মে বলেছিলেন, আমেরিকান রাষ্ট্রসচিবের সাথে পরামর্শের পর, যে আমাদের দৃষ্টিতে এটি জাতিসংঘের মাধ্যমে উত্তমভাবে ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সুতরাং, উ থান্টের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছিল যেটিতে পরামর্শ ছিল যে আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য তার প্রস্তাব পুনরায় করা উচিত। উ থান্ট পাকিস্তান সরকারের সাথে ত্রাণ সমস্যার ব্যাপারে যোগাযোগ রেখেছেন এই উদ্দেশ্যে, একটি বিশেষজ্ঞ দলকে একটি বস্তুনিষ্ঠ মুল্যায়ন তৈরির জন্য যে কি প্রয়োজন এবং একটি আন্তর্জাতিক ভিত্তিতে যেকোন প্রয়োজনীয়তা সহায়তা গ্রহণ করার জন্য।

দ্বিতীয় সমস্যা যেটির উপর সম্মানিত সদস্য তার অধিকাংশ বক্তব্য নিয়োজিত করেছিলেন সেটি হল উল্লেখযোগ্য সংখক শরনার্থী বর্তমানে ভারতে অবস্থা করছে। আমি এই ব্যাপারে ভারতীয় সরকারের গভীর উদ্বেগের ব্যাপারে অবগত এবং আমি এই সরকারের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারি যে এই অবস্থার মোকাবেলা করা উচিত। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত এই ব্যাপারে আমার সাথে দুই দিন পুর্বে আলোচনা করেছেন, এবং আবারও এই সমস্যার নিশ্চিতভাবেই যেটি দরকার সেটি হল আমাদের অবশ্যই এটি আন্তর্জাতিকভাবে সমাধান করা উচিত।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যেটি আমার সম্মানিত বন্ধু হাউসকে বলেছেন, আমরা অতিসত্বর সহায়তা করেছিলাম ব্রিটিশ দাতা সংস্থা গুলোকে সহযোগিতা প্রস্তাবের মাধ্যমে যেটি ছিল ৬ মে ত্রাণ সরবরাহ নিয়ে আকাশ পথে যেতে তাদের সমর্থ করা। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দাতা সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে এবং আমি আশা রাখি যে এটি বজায় থাকবে। আমি বুঝতে পারছি যে দাতা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি- সম্ভবত ওয়েনসবারির যোগ্য সম্মানিত সদস্য (জনাব স্টোনহাউস) এবং অন্যনান্য সম্মানিত সদস্যরা সম্ভবত এর উপর মন্তব্য করতে সমর্থ হবেন- বর্তমানে ভারতে পরিস্থিতির যাচাই করছেন। আমি আরও বুঝতে পারছিযে ভারতীয় সরকার জাতিসংঘের কাছে সহায়তার জন্য আবেদন করেছে, এবং জাতিসংঘ শরনার্থী হাই কমিশনের একটি দল বর্তমানে ভারতে আছে। আমাদের এটির প্রতিবেদনের জন্য আগ্রহ সহকারে অপেক্ষা করা উচিত। একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ প্রচেষ্টা স্পষ্টত প্রয়োজন। আমাদের দৃষ্টিতে এটি জাতিসংঘের ভারতীয় সরকারের সহযোগিতায় পরিচালনা করা উচিত।

তৃতীয় সমস্যা যেটি আমি উল্লেখ করেছিলাম সেটি হল পৃথক সমস্যা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে অসুবিধা এবং সহায়তা যেটি এটিকে মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজন। এটি একটি বিশয় যেটি আমরা বিশ্ব ব্যাংকের এবং পাকিস্তান ত্রাণ সংঘের অন্যান্য সদস্যের সাথে আলোচনা করছি   শর্ত স্থাপনের চেষ্টা করার জন্য যার অধীনে এমন সহায়তা আরও কার্যকরী ভাবে প্রদান করা যেতে পারে।

আমি সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের জনাব ম্যাকনামারা এর সাথেওএটি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। এটি আমার কাছে পরিষ্কার যে অন্যান্য দাতারা আমদের উদ্বেগের সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে এবং আমাদের সাথে সহমত যে দাতা দেশ এবং সংস্থাগুলোকে অবশ্যই একসাথে কজ করতে হবে। আমরা তাই আশা করছি যে পাকিস্তানের ব্যাপারে একটি সংঘ সভা শীঘ্রই আয়োজন করা হবে, যেটিতে পরবর্তী সহায়তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হতে পারে।

.

Mou

যখন তিনি মঙ্গলবারে হস্তক্ষেপ করলেন লানার্ক এর যোগ্য সম্মানিত মহিলা সদস্য (মিসেস হার্ট), পুর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মাঝে অসমতার উল্লেখ করলেন। সম্মানিত ভদ্রলোক এই সকালে এই ব্যাপারে উল্লেখ করেছিলেন। আমরা এবং সংঘের অন্যান্য সদস্যরা এই ব্যাপারে খুবই উদ্বিগ্ন এবং আমরা এই দুঃখজনক ঘটনাগুলো ঘটার অনেক পুর্বে পুর্ব পাকিস্তানে আমাদের ত্রানের বৃহত্তর অংশ ব্যয়ের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করছি। এটি শুধুমাত্র আমরা নই যারা এই উপসংহারে পৌঁছেছে। ১ নভেম্বর পুর্ব পাকিস্তানে পা রাখার পুর্বে আমি যখন ইসলামাবাদে ছিলামামাকে পাকিস্তান সরকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্টভাবে অবগত করা হয়েছিল যে এই ভারসাম্যহীনতা যা অতীতে সৃষ্টি করা হয়েছিল, এবং যেটি তারা জানতে পেরেছে, ভবিষ্যতে বিহিত করা উচিত। আমার মনে আছে যে বাক্য প্রতিনিয়ত আমার সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছিল সেটি ছিল-“ পশ্চিম থেকে পুর্বে প্রয়োজনীয় সম্পদের স্থানান্তর”। সুতরাং, এটি এমন কিছু নয় যেটি আমরা নিজে থেকে চিন্তা করেছি; পাকিস্তান সরকারের এতে সমর্থন আছে।

আমাদের ত্রাণ সহায়তা বিশেষভাবে উপদিষ্ট ছিল, যা যোগ্য সম্মানিত মহিলা জানেন, পানি এবং কৃষি উন্নয়নের জন্য কার্যক্রম কর্মসুচিতে যেটি বিশ্বব্যাংক গত জুলাইতে প্রস্তুত করেছিল। এটি, যেমন যোগ্য সম্মানিত মহিলা জানেন, দেশব্যাপী সেচ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি খুবই বিশাল এবং উচ্চাভিলাষী কর্মসুচি, এমন এক প্রকার যেটি যেকোনো অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ভিত্তি হিসেবে অবশ্যই প্রয়োজন।

গত শরতে পুর্ব পাকিস্তান থেকে ফেরার পর, আমরা পাকিস্তান সরকারের সাথে কিছু সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম, কার্যক্রম কর্মসুচিতে আমাদের নিজস্ব ব্রিটিশ অবদান কি রুপ নেয়া উচিত। আমরা নানবিধ সম্ভাবনার ব্যাপারে আলোচনা করেছিলাম। কিছু এই আলোচনায় ফলপ্রসূ হচ্ছিল, কিন্তু হাউস এই ব্যাপারে স্পষ্ট অবগত থাকবে, এ সমস্ত এখন স্থির আছা। আমাদের বিশেষজ্ঞ এবং পরামর্শকদের পুর্ব পাকিস্তান থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং ঋনের অধীনে ব্রিটিশ দ্রব্যাদির সরবরাহ স্থগিত করা হয়েছে।

সম্মানিত সদস্যরা দেখে থাকবেন যে এক্সপোর্ট ক্রেডিটস গ্যারান্টি বিভাগকে বাধ্য করা হয়েছে পাকিস্তানের সাথে পরবর্তী কোন রপ্তানি লেনদেন বন্ধ রাখার জন্য। আমাকে বলা হয়েছে যে এটি একটি পদক্ষেপ যা অনেক অনিচ্ছার সাথে নেয়া হয়েছে। কিন্তু বিভাগের স্বাবলম্বনের ভিত্তিতে এটির কর্তব্যের আলোকে, পাকিস্তানে বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে এটি অবশ্যম্ভাবী। এই গোলযোগের দ্বারা শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়নি, অনেক গুরুতরভাবে ভবিষ্যৎ রপ্তানি আয়ও মারাত্নকভাবে কমে যেতে পারে। এসমস্ত কিছু,যা ইতোমধ্যে একটি নাজুক অর্থনীতিতে পুর্ববর্তী বন্যার ধকলের উপরে অবস্থান করছে, বৈদেশিক ঋনের বর্তমান ভার পরিশোধ অব্যাহত রাখার জন্য পাকিস্তানের সামর্থ্যের উপর গুরুতর শঙ্কা উত্থাপন করবে।

এই বর্তমান অর্থনৈতিক সমস্যা যা আমি উল্লেখ করেছি, একটি বিরোধকে সামনে নিয়ে আসে যেটি এই বিতর্কে সম্ভবত একটি বড় অংশ দখল করে আছে। রানীর সরকার উদ্বিগ্ন, যেমনটি আমি আশা করি যে আমি স্পষ্ট করেছি যে, পাকিস্তানে উন্নয়ন সহায়তা পুনরায় শুরু করা যখন এটি শুরু করা যাবে। সম্মানিত ভদ্রলোক তর্ক করেছিলেন, যেটি কোন সন্দেহ নেই যে অন্যন্য সম্মানিত সদস্যরাও তর্ক করবেন এই বিতর্কের সময়, যে আমাদের পাকিস্তানকে পরবর্তী কোন সহায়তা দেয়া উচিত নয় যতক্ষন না রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রমে রাজি হবেন। যদিও ত্রাণ সহায়তা সমস্যার সাধারণ সমাধানে একটি ভূমিকা রাখতে পারে। আমি গভীরভাবে দ্বিমত পোষণ করি যে এটিকে একটি নির্দিষ্ট সমাধান চাপিয়ে দেয়ার জন্য দণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেটিকে পর্যবেক্ষকরা, ঢাকা অথবা ইসলামাবাদ থেকে হাজার মাইল দূরে থেকে ভুলঅভাবে চিন্তা করেতে পারেন যে এটি শান্তি স্থাপনে অবদান রাখবে এই জ্ঞানের সাথে যেটি অবশ্যই অসম্পুর্ন।

সুতরাং, দ্বিধা সমাধানের জন্য যেটি আমি অধিক ইতিবাচক উপায় বিবেচনা করি সেটিকে প্রাধান্য দেব। আমরা প্রস্তুত। আমি পুনরায় বলছি যে, উন্ননের জন্য ত্রাণ সহায়তা পুনরায় চালু করার জন্য, কিন্তু আমরা স্পষ্টত এটি করতে পারি শুধুমাত্র যদি শর্তগুলো পুনরধিষ্ঠিত করা যায় যার অধীনে এই সহায়তা কার্যকরীভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়। সুতরাং, এটি রানীর সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি যে পুর্ব পাকিস্তানে একটি রাজনৈতিক সমাধান জরুরি এবং এটি অবশ্যই পাকিস্তান সরকার এবং জনগনের বিশয় যা তাদের অর্জন করতে হবে। আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধু প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সাথে ঘনিষ্ঠ এবং গোপন যোগাযোগ রেখেছেন, তাকে বলেছেন এই সমঝোতার লক্ষ্যে কাজ করতে। আমি অবগত আছি যে রাষ্ট্রপতিও সেটি করতে চান। আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধু বৈদেশিক এবং কমনওয়েলথ বিষয়ক রাষ্ট্রসচিব পুর্ব পাকিস্তানের দুর্দশা সম্পর্কে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যেটি আমি আশা করি আমি পর্যাপ্তভাবে এই সকালে উল্লেখ করেছি, এবং আমাদের আশা যে এই দ্বন্দ্বের একটি সমঝোতা যথাসম্ভব শীঘ্রই অর্জিত হবে সকল দলেনর গ্রহণযোগ্যতার উপর ভিত্তি করে।

আমি আশা করি এটি স্পষ্ট যে আমি কি বলেছি , আমি হাউসকে এই পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কোন উপদেশ দেয়ার অবস্থানেই নেই, যেটি আমি মনে করি ভুল হবে এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়ার, যেটি আমাদের একটি সুযোগ দিয়েছে সেটি থাকার যা আমি আশা করি একটি কার্যকরী এবং গঠনমূলক আলোচনা হবে।সরকার হাউসের এই উদ্বেগের ব্যাপারে অবগত এবং বিশেষত অনেক সম্মানিত সদস্যের উদ্বেগের যাদের অনেকের নির্বাচনী এলাকা পাকিস্তানের সাথে ব্যক্তিগত এবং অর্থনৈতিক বন্ধনযুক্ত। এটি একটি উদ্বেগজনক ব্যাপার যেটির আমরা পুরোপুরি অংশীদার এবং আমরা একটি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করি যেটি আমাদের সমর্থ করবে সেই ভূমিকা পালন করতে যেটি আমাদের পালন করা উচিত সমগ্র পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য। ১১:৪৭ এ এম

জনাব মাইকেল স্টুয়ার্ট (ফুলহাম)- আমরা সবাই আমাদের সম্মানিত বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞ কেনসিংটন, উত্তর এর সদস্য জনাব ডগলাস-মান এর প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন এবং যিনি খুবই চিত্তাকর্ষক এবং উদারভাবে এটির সম্পর্কে কথা বলেছিলেন।আমরা বৈদেশিক উন্নয়ন মন্ত্রীর কাছে বাধিত এই বিতর্কে শীঘ্রই হস্তক্ষেপ করার জন্য। আমরা এটি শুনে আনন্দিত যে সরকার ইতোমধ্যে ভবিষ্যতে ত্রাণের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে পদক্ষেপ নিয়েছে- জাতিসংঘের মহাসচিব এবং দাতা সংস্থাগুলোর সাথে তাদের যে আলোচনা হয়েছে।

প্রতি সপ্তাহের অতিক্রমের সাথে এই সমস্যা ব্যাপকভাবে প্রকট হবে এবং হতে থাকবে, প্রশ্ন হল এই সমস্যাগুলোর প্রতি কেমন আচরণ হবে, দুর্দশাগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্ষমতা কাদের হাতে থাকবে- তারা কি পশ্চিম পাকিস্তানী অথবা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ- ত্রাণের পাওয়া এবং ব্যাবস্থাপনার ক্ষেত্রে।

সমানভাবে, যা মন্ত্রী বললেন, যদি ত্রাণ সহায়তা পুনরায় চালু করা হয় এবং যদি এটি দেখানো হয় যে পুর্ব পাকিস্তানের প্রয়োজনীয়তার দিকে পক্ষপাত দেয়া হচ্ছে যেটি তিনি বর্ননা করলেন, এই নিতিগুলর বাস্তবতায় রুপান্তর পুর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর উপর নির্ভর করবে। সুরাং আমাদের এই দিকটি বিবেচনা করা কর্তব্য।

আমি এখানে অন্য সকলের মত জানি সেই সমস্যাগুলোকে যা ঐ পরিস্থিতিকে একটি সরকারকে ঘিরে ধরে। এই দ্বন্দ্বের এবং নাইজেরিয়ার দ্বন্দ্বের মাঝে অনেক বৈসাদৃশ্য আছে কিন্তু একটি আনুষ্ঠানিক এবং আইনি সাদৃশ্য আছে যেটির কিছু গুরুত্ব আছে। এটি হল যে উভয় ক্ষেত্রেই এটি একটি কমনওয়েলথ দেশে এটি একটি বেসামরিক যুদ্ধ। আই উপলব্ধি করছি যে যুক্তরাজ্য সরকার যে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে সেটি হল- আমরা কিভাবে কিছু উপকার করতে পারে পাকিস্তানের কাছ থেকে পুরোপুরি কোন আরোপের প্রসঙ্গ ছাড়াই যে আমরা এটির অভ্যন্তরীণ ব্যপারে হস্তক্ষেপ করছি এবং সম্ভবত এটি সিন্ধান্ত নেয় যে আমরা যা করছি সেটি বিপরীত ফল বয়ে আনবে।

 

 

.

আমি বিশ্বাস করি একটি উত্তর রয়েছে যেটি আমি আশা করেছিলাম যে মন্ত্রী দেবেন। এটি হল কমনওয়েলথ কাঠামোর মাধ্যমে কাজের চেষ্টা করা। এই বিষয়ে ব্রিটেনের একার কাজ করার চেষ্টা সন্দেহের উদ্রেক করবে যে আমরা পুনরায় সর্বশক্তির দেশ হওয়ার চেষ্টা করছি।

কমনওয়েলথ এর গঠন এবং কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট সৃষ্টির সমগ্র চিন্তার অন্যতম কারণ ছিল যাতে কমনওয়েলথ দেশগুলো একে অপরের সংস্পর্শে থাকতে পারে এমন একটি পন্থায় যেটি শত্রুতা বা হস্তক্ষেপ এর অভিযোগ এর উদ্রেক করবে না। আমি এটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ বা তত্ত্বীয় নিতিকথা হিসেবে বলছিনা। এখানে উদাহরন স্বরুপ বলা যায় যেখানে নাইজেরিয়ার সাদৃশ্য কিছুটা গুরুত্ব বহন করবে। আমার মনে আছে যে ১৯৬৯ এর শুরুর দিকে কমনওয়েলথ প্রধানমন্ত্রী দের সম্মেলনের সময়ে, প্রধান আওলোও এখানে এই দেশে ছিলেন নাইজেরিয়ান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে। লন্ডনে আরও ছিলেন বিচ্ছিন্নতাবাদী সরকারের প্রতিনিধিরা। ব্রিটিশ সরকার সমর্থ ছিল, কমনওয়েলথ সম্মেলনের পটভূমিকার প্রেক্ষিতে, প্রধান আওলোও কে বিচ্ছিন্নতাবাদী সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করার জন্য রাজি করানোতে, যেখানে প্রধান চালিকাশক্তি ছিল কমনওয়েলথ পৃষ্ঠপোষকতা। এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক ছিল যে ঐ প্রতিনিধিরা সেই সুযোগ প্রত্যাখান করেছিলেন। সেই ক্ষেত্রে, দেশটি বলেছিল “এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার” যেহেতু কমনওয়েলথ কাঠামোতে কিছুটা প্রস্তুত ছিল সমঝোতার সম্ভাব্যতা আলোচনা করার জন্য। আমার ধারণা সরকার তাদের যা আছে তার চেয়ে বেশী কিছু করতে পারত না কমনওয়েলথ কাঠামোকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে এই ভয়াবহ দ্বন্দ্বে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রচার করতে।

আমাদের আরও মনে রাখা উচিত যে নাইজেরিয়ান সরকার, নিসন্দেহে তাদের সার্বভৌম মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তাদের শক্তিসমুহের সাথে সহযোগী হিসেবে থাকতে দেয়ার জন্য ইচ্ছুক ছিল, আসলে দেখার জন্য তারা কেমন আচরণ করেছিল এবং বিশ্বের কাছে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য। তারা এটিকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে তাদের মর্যাদার পতন হিসেবে দেখেনি যেমনটি হওয়া উচিত ছিল। আমি জানি না পাকিস্তনা সরকারের আচরণ কেমন হতে পারে। কিন্তু নাইজেরিয়ার স্থাপন করা দৃষ্টান্তের প্রেক্ষিতে , পাকিস্তানে ভয়াবহ গনহত্যার উপর বিশ্ববাসীর নিঃসন্দেহ উদ্বেগের প্রেক্ষিতে, আমি বিশ্বাস করি যে এটি এমন একটি বিষয় যা তাদের বিবেচনা করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো উচিত।

আমি এর বেশী কিছু বলব না যেহেতু আমি জানি অনেকেই এই বিতর্কে অংশ নিতে ইচ্ছুক। আমি যতদুর সম্ভব পরিমিতভাবে পরামর্শ দিতে পারি যে আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই তারা ত্রাণ সহায়তার জন্য এই পর্যন্ত যা করেছে তার জন্য। আমি বিশ্বাস করি তারা হাউসের পুর্ন সমর্থনের জন্য আশ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে, পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর জন্য যা শেষ পর্যন্ত নেয়া যেতে পারে। আমি শুধু পরামর্শ দিতে চাই, এ ছাড়াও, যে একটি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা যা এখনও সেভাবে ব্যবহার করা হয়নি যেভাবে ব্যবহার করা উচিত ছিল যা হয়ত কার্যকরী হতে পারে। সকাল ১১;৫২

জনাব হিউ ফ্রেসার (স্ট্যাফোর্ড এবং স্টোন); আমিও কেনসিংটন, উত্তর (জনাব ডগলাস মান) এর সম্মানিত সদস্যকে অভিনন্দন জানাতে চাই যিনি যুক্তিযুক্ত এবং কূটনৈতিকভাবে এই বিতর্কের সুচনা করেছেন। আমি আরও অভিনন্দন জানাতে চাই বৈদেশিক উন্নয়ন এর যোগ্য সম্মানিত মন্ত্রীকে তিনি যা বলেছেন তার উপর যেটি অবশ্যম্ভাবীভাবে একটি অত্যন্ত যৌক্তিক বক্তব্য ছিল। আমি মনে করি তিনি যা বলেছেন সেটি থেকে একটি উপসংহার টানা ন্যায়সঙ্গত হবে যে যে প্রভাব যা আমাদের আছে সেটিকে আনা হবে দেখার জন্য যে একটি সমাধান পাওয়া যেতে পারে।

এটি কিছু আবেগের সাথে যা আমি অনুসরণ করি ফুলহাম এর যোগ্য সম্মানিত সদস্য (জনাব মাইকেল স্টুয়ার্ট), সেই সময়ের পরে যখন আমরা নাইজেরিয়ান বেসামরিক যুদ্ধের উপর বিবাদে জরিয়ে ছিলাম। আমিও একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে তার সাথে যোগদান করতে চাই এই পরামর্শ দেয়ার জন্য যে অন্যান্য পন্থাও রয়েছে যেখানে আরও অধিক অর্জন করা সম্ভব, জাতিসংঘের মাধ্যমে অথবা এই দেশের একা কাজ করার চাইতে।

এ ব্যাপারে কোন প্রশ্ন নেই যে যে পুর্ব পাকিস্তানে বর্তমান ভয়াবহতা একটি বাস্তবিক সমস্যার উপস্থাপন করছে যা শুধুমাত্র হাউসের নৈতিক জ্ঞানকে প্রভাবিত করবে না, বিশ্বের ঐ অংশের স্থিতিশীলতার প্রশ্নকেই প্রভাবিত করবে। কেনসিংটন, উত্তর এর সম্মানিত সদস্য যেটি স্পষ্ট করেছেন, অন্যান্য শক্তিও রয়েছে যারা জনগনের দুঃখদুর্দশার উপর সমৃদ্ধিলাভ করার চেষ্টা করছে এবং একটি এলাকার শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা করছে যেখানে দ্বন্দ্বের অনুপস্থিতি বিশ্বশান্তির জন্য অত্যাবশ্যক। আমি এই বিষয়কে ভীষণ উদ্বেগজনক হিসেবে বিবেচনা করি, শুধু এই কারণে নয় যে যে সমস্ত জনগন দুর্দশা ভোগ করছে তাদের প্রতি আমাদের অনুভুতি আছে এবং পাকিস্তানে আমাদের অনেকেরই বন্ধু রয়েছে, এই কারণেওযে এটি এশিয়ার স্থিতিশীলতার উপর বাস্তবিক হুমকি তৈরি করতে পারে। সুতরাং, দুর্ভাগ্যজনকভাবে শুধুমাত্র একটি উন্নত পরিস্থিতি তৈরির জন্য জাতিসংঘের উপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, যা এই পর্যন্ত রানীর সরকারের দ্বারা বিবেচনা করা হয়েছে, তার থেকেও এই প্রচেষ্টা আরও বড় মাপের এবং আরও অনেক গভীর মাত্রায় হতে হবে।

এখানে আমি অতিসত্ত্বর ফুলহামের যোগ্য সম্মানিত সদস্যের সাথে যোগদান করব। আমি বিশ্বাস করি যে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়ে একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে, এভং আমি মনে করি যে এটি প্ররোচিত হওয়া উচিত। কিন্তু জাতিসংঘের বাইরেও আরও দুটো এলাকা আছে যেখানে চাপ প্রয়োগ করা যেতে পারে এবং খাদ্য বন্তনের আশু সমস্যা মোকাবেলার জন্য সহায়তা সুলভ করা যেতে পারে। আমি বিশ্বাস করি সেন্টো চুক্তির অধিনে-যেতি সর্বোপরি পাকিস্তানের কাছে অনেক গুরুত্বপুর্ন এবং যেটির আমরা এবং তুরস্ক, অন্যান্যদের মাঝে সদস্য- একটি প্রস্তাবনা করা উচিত যে প্রকৌশল দল সে সমস্ত সমস্যাগুলোর মোকাবেলা করার জন্য সুলভ রাখা উচিত যেগুলো প্রকৃতিগতভাবে প্রকৌশলী এবং যেগুলো মোকাবেলা করা স্পষ্টতই পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনীর সাধ্যের বাইরে। আমি আরও বিশ্বাস করি, যেটি ফুলহামের যোগ্য সম্মানিত সদস্য পরামর্শ দিয়েছেন, যে এটি পাকিস্তানী সরকারের উপর ছেড়ে দেয়া উচিত যে পর্যবেক্ষকদের এটি দেখতে দেয়ার অনুমতি দেয়া উচিত যে খাদ্যদ্রব্য যেগুলো সহজলভ্য, ভিতরে ধুকছে এবং সরবরাহ করা হচ্ছে।

শেষে, আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের দায়িত্ব এবং গুরুত্ত্বের একটি স্থান আছে যেটি আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধুর দ্বারা স্পর্শ করা হয়েছে এবং আমাদের এটি স্পষ্ট করা উচিত যে সহায়তা বর্ধিত করা অসম্ভব সেই সময় পর্যন্ত যতক্ষণ সেই স্থানের অবকাঠামো ত্রাণ সহায়তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত। আমি বিশ্বাস করি না এটি একটি হুমকি। এটি একটি বাস্তবিক বিষয় এবং আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধু অনেক দায়িত্বজ্ঞানের সাথে এটির উপর আলোকপাত করেছেন এবং বিষয়টির উপর বেশীদূর চাপ প্রয়োগ করেননি।

কোন ধরণের মানবিক বিষয় থেকে বেশ দূরে- এবং এটি আমাদের সকলকে স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে প্রভাবিত করেছে-কিন্তু হাউস অফ কমন্স হিসেবে আমাদের সরকারের উপর প্রভাব আনতে হবে এর ফলাফলের জন্য। আমাদের পরামর্শ হল যে এই দেশ এবং আমাদের সরকারের ভীত হওয়া উচিত নয় যেটি তারা করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কমনওয়েলথ এর একজন প্রধান সদস্য হিসেবে, প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে এবং সেন্টো চুক্তির সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন এবং গতিশীল সদস্য হিসেবে, আমাদের সুযোগ আছে এটি দেখার যে এই ভয়াবহ অবস্থা হল নিয়ন্ত্রিত এবং বিশ্বশান্তির হুমকি হিসেবে পরিণত হয়নি, যেটি সহজে হতে পারত। সকাল ১১;৫৯

জনাব পিটার শোর (স্টেপনি); আমি আমার সম্মানিত বন্ধু কেনসিংটন, উত্তর এর সদস্য (জনাব ডগলাস মান)কে হাউসের সামনে এই প্রস্তাব তুলে ধরার জন্য অভিনন্দন জানানোর জন্য আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধুদের সাথে যোগদান করলাম। আমি তার প্রতি ধন্যবাদ জানাই, এবং অন্যান্য যোগ্য সম্মানিত বন্ধুদেরও ধন্যবাদ জানাই যারা পুর্ব পাকিস্তানে গিয়েছেন যতদুর পর্যন্ত তাদের যাওয়া সম্ভব ছিল, এবং যারা সরাসরি যা খুজে পেয়েছেন সেটি সহ ফিরে এসেছেন। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই সেই সাধারণ যুক্তিকে যেটি ছিল পরিস্থিতি যাচাইয়ে আমাদের অন্যতম বড় সমস্যা ছিল “লৌহ পর্দা” যেটি পুর্ব পাকিস্তানে গত ছয় সপ্তাহের অধিকাংশ সময় জুড়ে নেমে ছিল।

আমরা ঘটনাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানি যেগুলো অতিসত্ত্বর পুর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনীর দ্বারা ক্ষমতা দখল বা বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোগদখলকে ত্বরান্বিত করেছিল। আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানতাম এবং আমরা জানতাম প্রসঙ্গত যে এটি সেই পরিস্থিতি ছিলনা যেটিতে পুর্ব বাংলার প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিরা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন কিন্তু এটি ছিল সেই ঘটনা যাতে তারা তখনও রাজনৈতিক কর্মসুচির উপর জোর দিচ্ছিলেন যেটি তারা তাদের নিজেদের দেশের জনগন এবং সর্বোপরি সবার কাছে তুলে ধরেছিলেন-পাকিস্তানের স্বাধীনতা।

তখন থেকে, যাইহোক, এবং সৈন্যবাহিনীর পুর্ব বাংলায় স্থানান্তর এবং আক্রমণের কিছু দিনের মধ্যে আমরা অব্যাহত এবং সুশৃঙ্খল তথ্যের থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। প্রতিনিধিদের একত্রে আনা হয়েছিল এবং সম্ভব্য শীঘ্র মুহুর্তে তাদের দেশ থেকে প্রেরণ করা হয়েছিল। এখন, পাঁচ বা ছয় সপ্তাহ পর, আমরা পরবর্তী প্রতিবেদন গুলো গ্রহণ করা শুরু করেছি যেহেতু বেশ কিছু সংখ্যক প্রতিনিধি, শক্তভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির মাঝে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছেন কি হচ্ছে সেটির কিছু অংশ ঘুরে দেখার জন্য।

আমি এক মুহুর্তের জন্য ঘুরে দেখব প্রতিবেদনটি যেটি বুধবার, ১২ মে ফিন্যান্সিয়াল টাইমে প্রকাশ পেয়েছিল, আগেরদিন ঢাকা থেকে এটি জনাব হার্ভে ষ্টকউইন দ্বারা প্রেরিত হয়েছিল। তিনি লিখেছেনঃ

“সকল নিরপেক্ষ এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত যে মৃতের সংখ্যা শত থেকে হাজারে পৌঁছেছে”।

“অব-নগরায়ন ব্যাপক মাত্রায় অব্যাহত আছে; অধিকাংশ শ্রমিক কারখানা থেকে এবং চাষিরা ক্ষেতে থেকে অনুপস্থিত থাকা অব্যাহত রাখছে”।

এই প্রতিবেদনগুলো যেমন আছে তেমন ছাড়াও, পুর্ব বাংলা থেকে, আমরা জানি যে ব্যাপক মানবস্রোত সীমান্ত অতিক্রম করে পশ্চিম বাংলা এবং ভারতে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

স্পষ্টতই, আমরা একটি মহাবিপর্যয় প্রত্যক্ষ করছি এবং আমার অশুভ অনুভুতি হচ্ছে যে এটির মাত্রা অনেক ব্যাপক যেটি আমরা এখনও বুঝতে বা বিশ্বাস করতে শুরু করিনি। আমাদের নিজেদের জিজ্ঞাসা করতে হবে, সুতরাং, কঠিন প্রশ্ন-সর্বদাই ব্রিটিশ সরকারের জন্য কঠিন এর প্রেক্ষিতে যে শুধু একটি মিত্র রাষ্ট্র নয়, কমনওয়েলথ এর সহযোগী দেশ হিসেবে পুর্বে কি বিষয় রয়েছেঃ এই ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কি?

আমি কখনোই একজন সেরকম মানুষ ছিলাম না যে হালকাভাবে জোর দেবে যে আমাদের করা উচিত, এটি যেমন ছিল, একটি প্রথম প্রাধান্য হিসেবে আমাদের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগকে পরিতৃপ্ত করার জন্য কিছু জ্ঞানের প্রেক্ষিতে, এমন ভাবে কাজ করা উচিত যেটি নৈর্ব্যক্তিকভাবে আসল পরিস্থিতিকে সহায়তা করে না। এই ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র সচিবের কাছ থেকে বিভিন্ন বক্তব্য শোনার পর এবং এটি জেনে যে তিনি পাকিস্তান সরকারের সাথে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিনিধিত্ব তৈরি করেছেন, যদিও দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিশ্বাস করা যে ঐ ব্যক্তিগত প্রতিনিধিত্বের খুবই কম প্রভাব আছে, সর্বত্তোমভাবে। আমি মনে করি যে আমরা কথা বলে ঠিক কাজ করেছি, এবং সাধারণভাবে কি হচ্ছে সে সম্পর্কে।

যখন আমি বলি “আমরা” আমি বস্তুত সংসদের সকল সদস্যকে বোঝাই, এবং, আমি আরও আশা করি যে সরকার নিজেরাই যদিও হয়তোবা এত দৃঢ় ভাষায়, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্টভাবে এবং প্রকাশ্যে ব্যক্ত করা সঠিক মনে করবে।

.

Dibya

এর দ্বারা আমি মন্ত্রীর বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণের একাংশের সাথে যুক্ত হলাম যা এই বিয়োগন্তক ঘটনার জন্ম দিয়েছে এবং যার প্রতি আমি সম্মতি জানাতে পারিনি। প্রকৃতপক্ষে, যথার্থ ভদ্রলোকেরা পাকিস্তান রাষ্ট্রের নামকরা সংগঠনের উচ্চপদধারী ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। আমার জানামতে বিশ্বের কোন দেশ এভাবে বিভক্ত নয়। এক অংশ থেকে আরেক অংশের দূরত্ব ১০০০ মাইল। এমতাবস্তায় শক্তিশালী সার্বজনীন চেতনাই শুধুমাত্র অংশদুটিকে একত্রে রাখতে পারত।

 

১৯৪৭ সালে মুসলিম ধর্মবিশ্বাসীরা এই শক্তিশালী সার্বজনীন চেতনার প্রকাশ ঘটিয়েছিল। সত্যিটা হল, বিশ বছর কিংবা এরচেয়েও বেশি সময় পার হতে হতে এই চেতনা দূর্বল হয়ে পড়েছে এবং তাকে প্রতিস্থাপিত সাধারণ কাজের জন্য গড়ে তোলা নতুন বন্ধন।

 

দুই অঞ্চলেরই ইচ্ছা না থাকলে এইধরনের রাষ্ট্রকে একত্রে ধরে রাখা সম্ভবপর নয়। আমার মনে হয়, সেই ইচ্ছাটা নিঃশেষ হয়ে গেছে এবং তা আর পুনরায় জেগে উঠবেনা।

 

মাননীয় ভদ্রলোকের বিবৃতিতে কিভাবে বোঝাপড়া হচ্ছিল সেই ব্যাপারটি উঠে আসার পরপরই তিনি আমার সমর্থন হারালেন এবং আমার মধ্যে সহানুভূতি জাগ্রত হল। তার বিবৃতি অনুযায়ী, ইয়াহিয়া খান অসামরিক গণতন্ত্রের হাতে তার ক্ষমতা হস্তান্তর করতে আগ্রহী ছিলেন এবং তিনি সবসময়ই এটি করতে চেয়েছিলেন। সম্ভবত এটাই হতে চলেছিল। কিন্তু যখন গণতন্ত্র জাগ্রত হল এবং তিনি লক্ষ্য করলেন এটি তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা এবং ধ্যানধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, তিনি এটিকে গুঁড়িয়ে দিলেন। তিনি গণতন্ত্রকে ভেঙে দিয়েছিলেন- এটাই ছিল তার অপকর্ম, তার পাপাচার। তিনি জনগণের সম্মিলিত প্রত্যাশার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারলেন না। এটা অনেকটা গতবছরের ১৮ জুনের মত ছিল, যখন দেখলাম ভোটসংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল আমাদের একদমই পছন্দ হয়নি তখন ভদ্রলোক যাতে সরকারের প্রথম সারিতে তার বর্তমান অবস্থা ধরে রাখতে না পারে সেজন্য আমরা সৈন্য নিয়োগ করলাম।

 

এটা ছিল দন্ডনীয় অপরাধ, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অপরাধ। বিষয়টা পরিষ্কার করি। দেশের ভবিষ্যৎ অর্থাৎ এটি দুই খন্ড হবে নাকি একত্রেই থাকবে সে বিষয়ে আমি মাননীয় ভদ্রলোকের সিদ্ধান্তের ওপরে কথা বলতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম জনগণই সে সিদ্ধান্ত নেবে, কিন্তু পাকিস্তানী সৈন্যদের নৃশংস কর্মকান্ড দ্বারা তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল।

 

এটি বলার সময় নিজের মধ্যপন্থী অবস্থা দেখে আমি নিজেই অভিভূত, আমি আমাদের লক্ষ্য ও নীতিমালা যার জন্য কিছু জঘন্য ঘটনা ক্রমানুসারে সংঘটিত হয়েছে বিবেচনায় আনলাম এবং কয়েক মূহুর্ত চিন্তা করলাম তা নিয়ে আমরা কি করতে পারি। মন্ত্রী আমাদের সাহায্য কর্মসূচির ব্যবহার সম্পর্কে কি বলেছেন এবং তার মন্তব্যের নিহিতার্থ আমি সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারছি। সাহায্য কর্মসূচি আরম্ভ করার সময় তিনি বলেছিলেন এটি অবশ্যই রাজনৈতিক ফয়সালা দ্বারা চালানো যাবেনা, কারণ স্ট্যাফোর্ড এবং স্টোনের (জনাব হুগ ফ্রেসার) মাননীয় সদস্যরা দেখিয়েছিলেন রাজনৈতিক অবকাঠামো কোন ধরনের মারাত্মক এবং অসম্ভব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে এই কর্মসূচি পুনরারম্ভ করা সম্ভব হবেনা। অবশ্যই তাই হওয়া উচিত এবং এটাও ঠিক পাকিস্তান সরকারেরও তা বোঝা উচিত। যেহেতু ত্রাণ কর্মসূচির জন্য সাহায্যের সাথে শুভেচ্ছাও পাঠানো হচ্ছে আমার মনে হয় আমাদের সকল সংস্থা এবং যেসব শক্তি আমাদের আয়ত্ত্বাধীন সেগুলো আমাদের সচল করা উচিত। জাতিসংঘের সাথে নেয়া উদ্যেগটিকে আমি অন্তঃস্থল থেকে সমর্থন করি এবং আশাকরি তা সফল হবে।

 

আমি মনে করি দেশে যেকোন ধরনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রণয়নের ব্যপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বাস করি স্ট্যাফোর্ড ও স্টোনের মাননীয় সদস্য এবং আমার মাননীয় বন্ধু যিনি ফুলহ্যামেরও সদস্য (জনাব মাইকেল স্টুয়ার্ট) এই প্রশ্নে একই চিন্তাধারা পোষণ করেন।

.

Ahsan

স্যার ফ্রেডেরিক বেনেট (টর্কি)

স্টেপনির রাইট অনারেবল মেম্বার তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ের সাংবিধানিক ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষেপে তাঁর ভাষ্য তুলে ধরে ধরেছেন। তাই আমি ঠিক করেছি, কিভাবে দেশটি আমাদের চোখের সামনে দিয়ে সাংবিধানিক দিক দিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতির দিকে এগিয়ে গেল তা তুলে ধরবো। নির্বাচনের আগে শেখ মুজিব নিজে একটি আইনি কাঠামোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছিলেন। শুধু তিনি নন, আওয়ামী লীগও এর উপর ভিত্তি করেই নির্বাচনে লড়াই করার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়।

কাঠামোটি থেকে আমি শুধুমাত্র একটি উক্তি তুলে ধরছিঃ

“সমগ্র দেশের স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে এবং বাহ্যিক ও আভ্যন্তরিন বিষয়ে দায়িত্ব সমূহ যথাযথ ভাবে পালন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকতে হবে, এবং সেটা আইনি, প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক-সব বিষয়েই।“

শেখ মুজিবের দল নির্বাচনে সুস্পষ্ট বিজয় লাভ করার পর কিছু বিষয় সামনে নিয়ে আসে, তার মাঝে কয়েকটি আমি এখন তুলে ধরবো।

তিনি বলেন, জাতীয় মুদ্রার ক্ষেত্রে, সহজে বিনিময় ও পরিবর্তনযোগ্য দুটি পৃথক মুদ্রা থাকতে পারে, অথবা সকল ক্ষেত্রেই একটি মাত্র মুদ্রাও চালু রাখা যেতে পারে। এটি তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। এর পর বলা হয়েছে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংকিং প্রিজার্ভ গঠন এর কথা। আলাদা রাজস্ব ও আর্থিক নীতির কথাও বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতির অধীনস্ত থেকেও প্রতিটি রাষ্ট্র আলাদা আলাদা ভাবে নিজ অঞ্চলে কর ও শুল্ক আরোপ এবং আদায় করবে। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের এ বিষয়ে কোন এখতিয়ার থাকবে না। বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাণিজ্য চুক্তি থেকে শুরু করে ব্যবসাকার্য পরিচালনা, সবই পৃথকভাবে হতে হবে।

দেশটির অখণ্ডতা ধরে রাখার জন্য যে আইনি কাঠামো প্রয়োজন, তার সাথে উপরোক্ত বিষয়গুলো কি আদৌ সংগতিপূর্ণ? যে প্রস্তাব একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি গড়ে দিচ্ছে সেটা মেনে নেয়া কি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব? উপরের প্রস্তাবগুলো দেখার পর এটা অন্তত স্পষ্ট, কেন জেনারেল ইয়াহিয়া এবং তাঁর উপদেষ্টা মণ্ডলী ধরে নিয়েছেন যে সমস্ত মূলনীতির উপর ভিত্তি করে নির্বাচন হয়েছিল তা সবাই বর্জন করেছে। যদিও বলা হয়ে থাকে তার পক্ষ থেকে সমঝোতায় আসার জন্য তখনও কোন রকম চেষ্টা করা হয় নি। তবে আমি আনন্দিত যে আমার রাইট অনারেবল বন্ধুটি তার সমঝোতায় আসার চেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছেন। যখন শেখ মুজিব পাকিস্তানের রাজধানীতে যেয়ে আলোচনায় অস্বীকৃতি জানালেন, তখন জেনারেল ইয়াহিয়া নিজেই ঢাকা চলে যান। সেখানেই তিনি শেখ মুজিবকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, যাতে তিনি সবার সাথে সহযোগীতা করেন। তিনি শেখ মুজিবকে আলোচনার জন্য রাজধানীতে ডেকে না এনে নিজেই দুইবার ঢাকায় চলে যান। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষে এর চেয়ে বেশি আর কি করা সম্ভব? এরপর তিনি বুঝে যান রাষ্ট্রের অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য কারো কোন ইচ্ছা নেই, আর তখনি শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ।

জনাব জুলিয়াস সিলভারম্যান (বার্মিংহাম, অ্যাস্টন)

শেখ মুজিব শুধুমাত্র পূর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনই পেয়েছেন এমনটি কিন্তু নয়, আইনসভার সিংহভাগ সদস্যও তাঁর পক্ষে ছিলেন, তাই নয় কি?

স্যার এফ. বেনেটঃ

আমি মনে করি, যখন কোন ব্যক্তি যুক্তি সহকারে কোন প্রসঙ্গ উত্থাপন করছেন তখন কোন অনারারি সদস্যকে কথা বলার সুযোগ দেয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত- এই মাত্র ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। উনি যেরকমটি বলছেন আমি সেরকম কিছু বলিনি। আমি বলেছি শেখ মুজিব নির্বাচনে অংশগ্রহণের পূর্বে যে আইনি কাঠামোর বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেছিলেন, নির্বাচনের পর তা থেকে তিনি সরে এসেছেন। তিনি তাঁর দেশের ভোটার দিয়েই নির্বাচনে সুস্পষ্ট বিজয় নিশ্চিত করেছেন এ কথা সত্য, কারণ সমগ্র পাকিস্তানের মাঝে সেখানে ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এই পরিস্থিতিকে কোন ভাবেই যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতির সাথে তুলনা করা যাবে না। আওয়ামী লীগ পশ্চিম পাকিস্তানে একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি। তাই এই দেশের দুই অংশকে একত্রে রাখতে হলে হয় যুদ্ধের মাধ্যমে তাদেরকে এটা ঠিক করে নিতে হবে অথবা পূর্বে উল্লেখিত আইনি কাঠামোকে মেনে নিয়ে একটি সমঝোতায় আসতে হবে।

পাকিস্তানিরা অত্যন্ত গর্বিত জাতি। তারা খুব ভালো করেই জানে কমনওয়েলথ এর অন্তর্গত দেশসমূহের মাঝে এই দেশটি সম্পূর্ণ স্বাধীন। তারা এটাও জানে তাদের সমস্যাগুলোর জন্য ব্রিটেনও কিছুটা দায়ী, যার দায়িত্বও ছিল এই রাষ্ট্রের জন্ম। সুতরাং আমাদের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয় সে ব্যাপারে আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। এমনকি এই ‘হাউজ’ এ বসে কোন পক্ষ নেয়া থেকে বা কাউকে ভালো বা মন্দ বলা থেকেও আমাদের বিরত থাকা উচিৎ।

কোন পক্ষকে দোষারোপের থেকে এই ভোগান্তির অপসারণে আমি বেশি আগ্রহী। এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ঠিক সেই কাজটিই আমি করে চলেছি। যখনই কোন দেশ আরেক দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে, ফলাফল হয়েছে হিতে বিপরীত। এক পাকিস্তানি ব্যক্তি আমার কাছে একবার জানতে চেয়েছিলেন, নির্বাচনে জয়ের পর পাকিস্তানে সদ্য গঠিত আইনসভার প্রথম আলোচনা যদি হয় কিভাবে প্রভাব খাটিয়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সমস্যার সমাধান করা যায়-তাহলে আমার কেমন লাগবে? আমাদের কাছে তুলনাটি সামঞ্জ্যস্যপূর্ণ মনে না হতে পারে, কিন্তু পাকিস্তানিদের কাছে ব্যাপারটি ঠিক এরকমই। কানাডার ব্যাপারে ফরাসিদের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য। কানাডার সরকার সর্বদাই বাইরের প্রভাব প্রতিহত করার ব্যাপারে সচেষ্ট। আমরা দেখেছি, জেনারেল দ্য গল এর অযাচিত হস্তক্ষেপের ফলে কুইবেকে কি ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। সাহায্য যদি করতেই চাই, আমাদের কারো পক্ষ নেয়া চলবে না। আমাদের মনোযোগ থাকবে সর্বোচ্চ সাহায্য পাঠানোর ব্যাপারে। যদি আমাদের কোনপ্রকার কাজে মনে হয় আমরা অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছি, তাহলে পরিস্থিতি নিশ্চিতভাবেই খারাপের দিকে যাবে।

আমার মতে, পাকিস্তানের সামনে এখনো সুযোগ আছে, যদি পূর্ব পাকিস্তানে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফিরে আসে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদকে একসাথে বসার জন্য আহ্বান জানানোর ব্যাপারটি বিবেচনা করতে ইচ্ছুক। যদি তেমনটি কখনো ঘটে, আমার কাছে মনে হয় এ ব্যাপারটি স্পষ্ট যে নতুন করে আর কোন নির্বাচনের প্রয়োজন নেই। উপরন্তু, প্রাদেশিক পরিষদের সভায় আওয়ামী লীগের যে সমস্ত সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের মাধ্যমেই আইনি কাঠামোটির বিভিন্ন দিক বজায় রাখা সম্ভব হবে। যদি উদ্যোগগুলো সফল হয়, দেশটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে এটা হবে এক শুভ সূচনা।

কি কি উপায়ে আমরা সাহায্য করতে পারি তা আমি ইতিমধ্যেই উল্লেখ করেছি। এবং তা অবশ্যই সাহায্য পাঠানো বন্ধ করে বা অবরোধ আরোপ করে নয়। আমাদের আরও বেশি পরিমাণ সাহায্য পাঠাতে হবে এবং সে সাথে এটাও নিশ্চিত করতে হবে যেন এর পুরোটাই পূর্ব পাকিস্তানে যায়। এছাড়াও কমনওয়েলথ যে উদ্যোগটি নিয়েছে আমি তাকে সমর্থন জানাই। কেননা তাদের নেয়া এই উদ্যোগের ফলে যা অর্জন করা সম্ভব তা এর অন্তর্গত কোন স্বাধীন রাষ্ট্রের পক্ষেই অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। আশা করি সবাই তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাবেন।

ব্রিটেনের সংসদের যে সমস্ত সদস্য সেখানকার চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আগ্রহী, তাদের সামনেও একটি সুন্দর সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি। আমাদের সামনে এরকম মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে পাকিস্তান আমাদের দেশ থেকে নির্দলীয় ভিত্তিতে পরিদর্শক দল যাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহী। যদি আমাদের পক্ষ থেকে পরিদর্শনের কোন উদ্যোগ নেয়া হয় তাহলে প্রথমে ভারত যেয়ে তারপর পূর্ব পাকিস্তান যাওয়াটা হবে একটি মারাত্মক ভুল। কাশ্মীরে চলমান উত্তেজনার কথা মাথায় রেখে আমাদের ভারতে আলাদা ভাবে যেতে হবে। সংসদ সদস্যদের একই দলের প্রথমে ভারত এবং সেখান থেকে পূর্ব পাকিস্তান যাওয়াটা মোটেও উচিৎ হবে না। যদি এমনটি হয়, তাহলে এত কিছু করেও কোন সুফল বের করে আনা যাবে না।

পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাসমূহ যথেষ্টই আতঙ্কজনক। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাধা তৈরি করার বদলে যদি আমরা ক্ষত সারানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেই তাহলে শুধু পূর্ব পাকিস্তান নয়, এশিয়া মহাদেশেরও নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে তা সহায়ক হবে।

.

Nowshin

জনাব ডেনিস হেলি (লিডস, পূর্ব)- বিতর্ক তুলে ধরা এবং সরিয়ে ফেলা এবং সথিক তথ্যের যে বক্তব্য তিনি দেন তার জন্য পুরো হাউজ আমার সম্মানিত বন্ধু উত্তর কেনসিংটন এর সদস্য ( জনাব ডগলাস-মান) এর উপর কৃতজ্ঞ । বিতর্কে অংশগ্রহণকারী সদস্যবৃন্দ সম্মানিত বন্ধুর দৃষ্টান্তমূলক নেতৃত্ব অনুসরণ করেছে।

 

পাকিস্তান দুর্যোগের দুটো দিক রয়েছে। আমাদের মাথায় প্রথম এবং সবথেকে টাটকা দিক হচ্ছে প্রকাণ্ড মনুষ্য ট্র্যাজেডি, এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে অসাধারণ রাজনৈতিক বিপদ। বিশ্ব মানবিক বিয়োগ দ্বারা স্তব্ধ হয় তাই এখনো পুরোপুরি সতর্ক হতে পারেনি, আজ দেখতে পাচ্ছি যা এর থেকেও বড় মানবিক বিচ্ছেদ দেকে আনতে পারে। আমরা এখনো মানবিক বিয়োগাত্মক স্কেল উপলব্ধি করতে পারিনি। আমরা ভারতের শরণার্থী সমস্যা স্কেল জানি। ইসরাইল এবং নিউজিল্যান্ডের দুই লক্ষ্যেরও বেশি লোক তাদের ঘরবাড়ী ছেড়ে চলে গেছে এবং গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের বিবেচনায় বৃহত্তর নিরাপত্তা এলাকায় বাস করছে। উদ্বাস্তুদের দেখাশোনা করার খরচ বছরে ১৪০ ডলার ভারত সরকার অনুমান করছে। এখনো দিনে প্রায় ৬০,০০০ উদ্বাস্তু কে পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।যদি প্রবাহ অদুর ভবিষ্যতে না থামে তাহলে, ভারত সরকারের অনুমান অনুযায়ী এই সংখ্যা পাঁচ লাখে পৌঁছাতে পারে।

 

প্রশাসন অ যোগাযোগ খুব ভালভাবে ধ্বসে পড়েছে বলে পূর্ব পাকিস্তানের এই সীমারেখা এবং সমস্যার প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের খুব কম বিস্তারিত জানা আছে। কিন্তু আমরা জানি বাইরে বিশাল এলাকা জুড়ে এত বিশৃঙ্খলা রয়েছে যে কিছু শহরে, বর্তমান হতনার কারণে সাম্প্রতিকতা বেড়ে গেছে। কিন্তু আমরা জানি সেখানে শহরের বাইরে বিশাল এলাকায় বিশৃঙ্খলা রয়েছে এবং কিছু শহর সাম্প্রতিক মানবহীন ঘটনার ফলে পরিণত হয়েছে। আমরা সাম্প্রতায়িক সহিংসতার আতঙ্কজনক গল্প শুনেছি। সেখানে শুধুমাত্র এক সম্প্রদায় দ্বারা ভয়াবহ গণহত্যা পরিচালিত হয়েছে। আমরা জানি দেশের সর্বত্র প্রভাবশালী সমাজের ভয় রয়েছে। ফলে দুর্ভিক্ষ ো রোগের প্রভাব ৭০ থেকে ৭৫ মিলিয়ন বেড়ে গেছে। এটি মানুষের সমস্যা।

আমি মনে করি দৃষ্টান্তমূলক সদস্য এই বাড়ি চিনতে পেরেছে এবং মানুষের তাৎক্ষণিক সমস্য ো দুঃখকষ্টে স্বস্তি এসেছে। আমরা সরকারের সাথে সবাই একমত যে এই ত্রাণ একা এক দেশের জন্য খুব বড় একটি সমস্যা, এমনকি এক দেশের গোষ্ঠীর জন্য। শুধুমাত্র জাতিসংঘের সংস্থা বিয়োগাত্মক দের প্রয়োজনীয় ত্রাণ সংগ্রহ করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গের জাতিসংঘ দ্বারা অবিলম্বে ব্যবস্তা কার্যকর হতে পারে। ভারত সরকার বলেন যে তারা জাতিসংঘের সাহায্য চান এবং যেকোনো ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়ে তারা সাহায্য করতে সক্ষম।

 

পূর্ব পাকিস্তান এখনো কিঞ্চিৎ একটি রহস্য। আমি মনে করি মন্ত্রী বলেন যে, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে মহাসচিবের যোগাযোগ ছিল কিন্তু আমি তাকে যা বুঝেছি, সংবর্ধনা সম্পর্কে কোন চুক্তি এখনো জাতিসংঘের দলের কাছে পৌঁছায়নি। পূর্ব পাকিস্তানের দুর্ঘটনা হচ্ছে যে, এমনকি পাকিস্তান যদি জাতিসংঘের শাজ্য নিতে রাজি হয়, একটি সুষম বন্তনের মাধ্যমে কঠিন শারীরিক সমস্যা হতে পারে।

 

উদাহারনস্বরূপ আমরা জানি যে, গত নভেম্বরের সর্বনাশা বন্যা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের যে অংশ এখনো কষ্টভোগ করছে তাদের ৪.৫০ লক্ষ্য মানুষের জীবন বাইরের ত্রাণ সরবরাহের উপর নির্ভরশীল। এখনো ১৫০,০০০ টন চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রানের জন্য তাদের আপিল কোন কাজে লাগবে না।

 

আমরা এও জানি যে যখন আন্তর্জাতিক রেড ক্রস বর্তমান কষ্টভোগ সম্পর্কে জ্ঞ্যাত হয়ে ঢাকায় অবিলম্বে একটি বিমান পাঠাতে চায়, াকিস্তান সরকার এটি অবতরণের অনুমুতি দিতে অস্বীকার করে। জাতিসংঘের তাৎক্ষণিক সমস্যা নিরনয়ের সুযোগ এবং কিভাবে সুপারিশ পূরণ করা হয় টা থাকা আবশ্যক। সরকারের উপর আমাদের সবার আশা অদুর ভবিশ্যতের এই চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের প্রভাব ব্যবহার করা।

 

এই ঘতনায় বেশ কিছু দৃষ্টান্তমূলক সদস্যের সথিক ভুমিকা সম্পর্কে ধারণা আছে। মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের সাথে আমাদের একটি ঐতিহাসিক যোগাযোগ আছে; মানবিক বন্ধন আছে। পাকিস্তান ে নিয়ে আসার জন্য আমাদের ১৯৪৭ এর নিস্পত্তি দায়ী। জনাব শোর ঐতিহাসিকভাবে সঠিক, যখন তিনি বলেন একটি রাজ্য যার উপাদান ১০০০ মেইল পৃথক তাদের বেঁচে থাকা অসম্ভব।

 

জনাব শোর: আমি টা বলিনি।

জনাব হেলি: এর জন্য এই ঘটনা ঘটা সম্ভব। এটি মালয়শিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ঘটে, যেখানে হাওয়াই এবং আলস্কা বিশাল দূরত্বে পৃথক রাষ্ট্র। আমরা আশাবাদি যে, এটি সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্রের সাথে ঘটবে। আমরা আমাদের নিজস্ব ইতিহাস থেকে জানি যে যদি কোন রাষ্ট্রের উপাদান ব্যপকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকে, এটি আবশ্যকরূপে গুরুত্তপুরন যে স্বার্থ এবং দূরবর্তী উপাদান নিকতবরতি হওয়ার আকাঙ্খার জন্য সরকারের সম্মান দেখানো উচিত। আমরা ১৮তম শতাব্দীর কঠিন পথের মধ্যে এই কঠিন সমস্যা সম্পর্কে জেনেছি, অথবা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রর উপস্থিতি নেই।

 

আমরাও পাকিস্তানের এস.ই.এ.টি.ও এবং সেন্টোর মিত্র। আমি আশা করি যে, মন্ত্রী পাকিস্তানে কোন অস্ত্র না পাঠানো এবং জতক্ষন অরজন্ত কষ্টভোগ সমাধানের দিকে না যাচ্ছে ততক্ষন কাজ করার প্রস্তাব না করার আশ্বাস দেবেন।

 

বিভিন্ন সম্মানিত সদস্য বলেছেন, ব্রিটেন, প্রাক্তন যুদ্ধ ক্ষমতা এখন একটি কঠিন অবস্থানে আছে। আমাদের দেয়া কোন পরামর্শ অন্যদের কাছ থেকে আসা পরামর্শ থেকে কম স্বাগত। তুর্কির একজন সমান্নিত অদস্য হিসেবে (স্যার এফ বেনেট) বলেন, আমাদের উত্তর আয়ারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা ভালো ইচ্ছার সিঙ্গে দেখে এবং সাম্প্রদ্যিকতা এবং ধর্মীয় পার্থক্য থেকে আহরিত সমস্যা সবসময় সরকারি ক্ষমতা দিয়ে সমাধান করা যায়না। একটি জাতি যার উত্তরে কোন অধিকার আছে অবশ্যই অনন্য রাজনিতিতে সমস্যা সমাধানের কোন অধিকার নেই।

 

যাইহোক, সেদিন বলা হয় যে, যখন আমরা সরকারকে আবশ্যম্ভিকরূপে পররাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকায় নিজেদের গোপন উপস্থাপনা, পূর্ব পাকিস্তানের সাথে আমাদের সংযোগ প্রকৃতি, এবং আমাদের দায়িত্ব সান্নিত সস্য যারা সরকারি সস্য নয় উভয়ই উদ্বেগ প্রকাশে বেশি অধিকার ও দায়িত্ব রাখে।

সম্মানিত সদস্য দ্বারা শনাক্তকৃত কেন্দ্রীয় সমস্যা হচ্ছে, যদি পূর্ব পাকিস্তান এর রাজনৈতিক সমস্যার কোন নিষ্পত্তি না দেয় তাহলে পাকিস্তানে প্রয়োজনের মাত্রানুযায়ী ত্রাণ বিতরণ এবং কার্যকরী অর্থনৈতিক সহায়তা দেবার কোন সম্ভাবনা নেই। এক স্বীকারোক্তি যে পূর্ব পাকিস্তানে আমি পুনঃপ্রতিবিম্ব যা সাধারণ প্রশাসন হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে তা ধীর কঠিন এমনকি রাজনৈতিক নিষ্পত্তির পরেও বিশ্বাস করি। উত্তর কেনসিংটনের একটি ব্যাপার আছে যার সাথে আমি সম্মানিত সদস্যদের সাথে মত পোষণ করবনা। আমিমনে করি যে তিনি প্রশাসনিক ও সামাজিক সমস্যার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন সরকারের ক্ষমতাকেও রটিয়েছেন। উপায় সম্পর্কে একটি কেন্দ্রীয় সত্য এই যে, আওয়ামী লিগ ের যে বিয়োগাত্মক নাটকটি ঘটেছিল, যেমন বলা হয়েছে, অপ্রতিরোধ্য প্রাপ্তি সমর্থন- ১৬৭-১৬৯ আসন না রাজনৈতিক না প্রশাশনিকভাবে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত ছিল। বস্তুত, যদি এটি এমন হতো যে, জেনারেল চৌধুরী, একটি নির্লিপ্ত ভারতীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে লেখা, অন্য কোন দিন লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে ঘটনা খুব ভিন্ন হতে পারতো।

 

পরিস্থিতি এমন যে সরকারি উতরাধিকার পরিস্থিতি এখন পূর্ব পাকিস্তানের পুলিশের একটি বড় অংশ, সৈন্যদের একটি বড় অংশ এবং সরকারি কর্মকর্তা দের একটি বড় অংশ, হত্যা করা হয়েছে যারা খমতার ট্যাক্সে মানুষের দলে আবদ্ব হয়, অনেক বেশী অভিজ্ঞ দক্ষ ও রাজনৈতিক নেতাদের চেয়ে প্রস্তুত পূর্ব পাকিস্তানে হতে পারে। যাই হোক, আমার কাছে এই মনে হচ্ছে যে, কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ সাম্প্রতিক আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অপ্রতিরোধ্য আস্থা জ্ঞ্যাপন করে, এবং এটি করতে পারেনা এবং অবশ্যই না, রাজনৈতিক নিষ্পত্তির সাথে সংশ্লিষ্ট কারো দ্বারা অগ্রাজ্য হতে পারেনা।

 

আমি মনে করি যে শেখ মুজিবউর রহমান কে পাকিস্তান সরকার করা হবেনা । আমার কাছে এই মনে হচ্ছে যে, তারা রাজনৈতিক নিষ্পত্তি পুরোপুরি অসম্ভব করে ফেলতে পারে। এরথেকেও খারাপ হচ্ছে, অন্য নেতারা পূর্ব পাকিস্তানের সম্প্রদায়ে উপস্থিত হতে বাধ্য থাকবে। প্রকৃতপক্ষে, যে ভূখণ্ডে রাজনৈতিক অভিজাত ধ্বংস বিদ্যমান সেখানে কোন শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি সাজানো একেবারে অসম্ভব। আমি আশা করি যে, সরকার তাই করবে যা তারা পাকিস্তান সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারবে। আমার মনে হচ্ছে যে, সেখানে উন্নতি হতে হলে, শেখ রহমানের মুক্তি এবং সমস্যা সমাধানের দাওয়াত এ দায়িত্ব গ্রহণ করা অনেক ভালো কাজ।

 

আমার দ্বিতীয় দফা হচ্ছে যদি সেখানে দ্রুত রাজনৈতিক উন্নতি না ঘটে, একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য, সম্ভাব্য অপ্রতিরোধ্য পতন, কোন সংগঠিত সরকার এবং, প্রক্রিতপক্ষে বিভিন্ন পূর্ব পাকিস্তানের সংগঠনের সম্মানে। নৈরাজ্য যে, এই ধরনের একটি দুঃখজনক এবং বিপদজনক ধোস অঘরে যোগ দিবে, শুধুমাত্র পূর্ব পাকিস্তানের মানুষই নয় অথবা, প্রকৃতপক্ষে, পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান কিন্তু উপমহাদেশের সমগ্রদের জন্য। আমরা জানি যে পশ্চিমবঙ্গের ভাঙ্গন নিশ্চিত, এবং কেউ ভাবছে যদি পূর্ব পাকিস্তান সরকার অনেক্তাই আলাদা হয় যায় তাহলে বিশ্বের সে অংশে শিহরিত অবস্থা কিভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

 

যে পটভূমির বিরুদ্ধে , আমি এ সমস্যার পুরবাতিক্রমে কিছু বলতে চাই। প্রথমত সেখানে ত্রানের একটি সমস্যা রয়েছে। আমি আশা করি আমরা সবাই একমত এবং মন্ত্রী এ সম্পর্কে কিছু বলবেন যদি তিনি কথা বলতে আব্র অনুরধ করেন যে জাতসঙ্ঘের সমালোচনামূলক চলন্ত বিষয় সাহায্য পেটে এবং পাকিস্তান সরকার মহাসচিবের প্রস্তাব গ্রহণ করবেন।

 

আমি আশা করি যে ব্রিটিশ সরকার জাতিসংঘের সাহাজ্যে উদার অবদান রাখবেন, এবং তাই বাকি বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমি জানি যে মন্ত্রী দাবি করেননা যে ১৮০০০ ডলার ইতিমধ্যে দেয়া সমস্যা স্কেলের তুল্য, এবং আমি এও আশা করি যে, কিছু দেশ যার কিছু ঐতিহাসিক দায়, এবং সঙ্গে, নিকটতম পাকিস্তানে মানবন্ধন, এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে যা শুধুমাত্র সমস্যা স্কেলের সঙ্গে তুল্য নয় কিন্তু বিশ্বে অন্যদের আশা যা দেবে।

 

তুর্কির সম্মানিত সদস্যদের ধারণা সে এলাকায় একটি সংসদীয় প্রতিনিধি ডল পাঠানো যেতে পারে। আমার বলাতা গ্রাজ্য করা উচিত নয় যে, একটি প্রতিনিধিদলের পশ্চিমবঙ্গ এবং পাকিস্তান উভয় পরিদর্শন করা উচিত, কিন্তু আমার মনে হয়, শুধুমাত্র যদি আমরা সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল পাঠাতে পারি আমরা আমাদেরকে সংসদে ভালো অবহিত করতে পারিনা কিন্তু কিন্তু যারা যেতে পারে, ফিরবার সময়, ত্রাণ সমস্যায় আরও জনস্বার্থ যোগ করতে পারে এবং সমস্যার স্বস্তি করতে পারে।

 

ত্রান সমস্যার সাথে, পরবর্তী সমস্যা, সাহায্যের। মন্ত্রী যা বলেন তাতে আমি পুরোপুরি সম্মতি দিচ্ছি। আমরা বন্দোবস্তের প্রকৃত নির্দেশ দিতে পারিনা, কিনতু আমরা মনে করি আমরা পারবো, এবং অবশ্যই, একটি শর্ত হিসেবে কার্যকর সাহায্যের বন্দোবস্ত । সর্বশেষে, যেমন বলা হয়েছে ই.সি.জি.ডি ইতিমধ্যে বাধ্য হয়েছে, নিজস্ব চার্টার দ্বারা, অস্তিত্বহীন বাহ্যিক কারণে পাকিস্তানের জন্য ক্রেডিট নিশ্চয়তা প্রত্যাখ্যান করা ধার্মিক প্রতিপন্নতা,এবং আমি মনে করি আন্তর্জাতিক ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মণিটারি ফান্ড উভয় ভিন্ন বিধিতে আবদ্ধ হওয়ার ব্যপারে আমি ঠিক বলেছিলাম যা তাদের বিভিন্ন সাহায্যের শর্ত এবং যুক্তিতে স্থাপন করেছে। এটি ভদ্র রাজনৈতিক শারির কোন প্রশ্নের মধ্যে পড়েনা। এটি পুরো বিশ্বের করদাতাদের জন্য খরচকারি প্রতিস্থান্সমুহের প্রশ্ন।

 

উত্তরের সাহায্য বন্ধে আমি আম্ার সম্মানিত সদস্যদের সাথে একমত নই। আমি আশা করি যে আমি মন্ত্রিকে সথিক ব্যখ্যা দিতে পেরেছি যখন তিনি ব্রিটেনের দেয়া সাহাজ্যের বাল্ক পূর্ব পাকিস্তান প্রকল্পে আলো ঘনীভুত হওয়ার কথা বলেন, এবন এই বিয়োগাত্মক ঘটনায় আমাদের দানকৃত সাহায্যের জন্য জ্বর করা উচিত, আমাদের নিজেদের দ্বারা অথবা আন্তর্জাতিক সংস্থা যা অনশগ্রহন করে, মুলচ পূর্ব পাকিস্তানে ঘনীভূত।

.

bokul

মিঃ উডঃ এই পরিষদে কোন ভুল বোঝাবুঝি হোক আমি চাই না। সেটা আমাদের মূল উদ্দেশ্য এবং আমরা এক্ষেত্রে পাকিস্তান সরকারের সমর্থন পাচ্ছি। কিন্তু যেমনটি মাননীয় ভদ্রমহোদয় বলছিলেন এবং আমিও বলার চেষ্টা করছিলাম পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি আগের শান্ত অবস্থায় ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসুচির এগিয়ে নেয়া অসম্ভব হবে।

মিঃহ্যালিঃ আমি সেটা স্বীকার করি এবং আমার মাননীয় বন্ধু ল্যানার্কের সদস্য যদি সরাসরি বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন তিনও একই পথ অনুসরণ করবেন।

পরবর্তী ব্যাপার হচ্ছে জাতিসঙ্ঘের সম্পৃক্ততার সমালোচনামূলক গুরুত্ব। আমি ফুলহামের সদস্য (মিঃ এম. স্টুয়ার্ট) আমার মাননীয় বন্ধুর সাথে একমত পোষণ করছি যে, কমনওয়েলথ সচিবালয়ের সম্ভবত গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে,কিন্তু কমনওয়েলথ এর সম্পৃক্ততার ব্যাপারে বিশেষ জটিলতা রয়েছে। কারণ ঐ অঞ্চলে কমনওয়েলথ এর সবচেয়ে বড় দেশ ভারত এবং এক্ষেত্রে তার কাছে কমনওয়েলথের চেয়ে জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতা বেশি হবার সম্ভাবনা বেশি,কিন্তু চেষ্টা গুরুত্বপূর্ন।

সংকটের যে প্রকৃতি, মানবিক সমস্যা ও তাকে অনুসরণ করে রাজনৈতিক সমস্যার যে বিপদ যদি দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোন অগ্রগতি না হয় সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপুর্ন হয়ে উঠবে। স্বল্পমেয়াদে সাম্প্রতিক বিয়োগান্তক ঘটনায় দুর্ভোগ লাঘবের এটাই একমাত্র উপায়। আমি বিশ্বাস করই জাতিসংঘের সংশ্লিষ্টতা এই দুঃখজনক ঘটনাকে একটি আন্তর্জাতিক সঙ্ঘাতে পরিনত রোধ করা এবং বিশ্বশান্তির হুমকি প্রতিহত করায় দারুণ আশাবাদের কাজ করবে। জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা দ্রুত রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে পরিবেশ তৈরি করবে।

এক্ষেত্রে পরিস্থিতি পুর্বতন নাইজেরিয়া বা কঙ্গোর মত নয়,মূলত একজন কঙ্গো সমস্যা নিয়ে যত চিন্তা করবে তত গভীর বিশ্লেষণ সম্ভব হবে। অবশ্যই বড় পার্থক্য হচ্ছে, কঙ্গোর মর্মান্তিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার মাধ্যমে। আর পুর্বপাকিস্তানের নির্মম ঘটনা সাম্রাজ্যবাদ পরবর্তী রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারনে যেখানে ব্রিটেনের বড় দায় রয়েছে। যদি অন্য কিছু না হয়, এই নির্মম ঘটনা আমাদের সকলের দৃশ্যমান উদ্বেগকে যুক্তিযুক্ত করে।

স্যার রিচার্ড থম্পসনঃ এই বিতর্কের অন্যসকল বক্তার মত আমিও উত্তর কেনসিংটনের মাননীয় সদস্যকে(মিঃ ডগলাস ম্যান) ধন্যবাদ জানাতে চাই কারণ তিনি এত গুরুত্বপুর্ন একটি ব্যাপারে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছেন।

আমার জন্য এটা একটি চলমান বিতর্ক, কারণ আমি জন্মসূত্রে এবং বিভিন্ন সংগঠনের কারণে উপমহাদেশের বিশেষ করে বাংলার ঘটনাপ্রবাহের সাথে দীর্ঘ সময়ধরে যুক্ত। আমার জীবনের এক-চতুর্থাংশ পৃথিবীর ঐ অংশে অতিবাহিত হয়েছে। আমি সেখানে জন্মগ্রহণ করেছি,আমার জীবিকা নির্বাহ করেছি। নিজের ভাষার চেয়ে আমি প্রথম যে ভাষা শিখেছি তা হল বাংলা। যদিও আমি এখন পুনর্মূল্যায়িত হতে চাইব না,কারণ এতে মরিচা পড়ে গেছে,কিন্তু যদিও এটা আমার দেশ নয় তবুও পৃথিবীর ঘটনা আমাকে উদ্বিগ্ন করে। আমি জানি অন্য যেকোন স্থানের চেয়ে আমি বেশি আপন অনুভব করতাম।

এখানে উল্লেখ করার বিষয় হল, পুর্বের একসময় আমি কমনওয়েলথ সম্পর্ক বিষয়ক উপপররাষ্ট্র-মন্ত্রী ছিলাম এবং বিশ্বব্যাংকের সাথে ভারত,পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের সিন্ধু অববাহিকা চুক্তি স্বাক্ষরে যুক্ত ছিলাম। আমি বিশ্বাস করি ভারতের পাকিস্তানের মধ্যে সেটা ছিল সবচেয়ে অর্থবহ একক সহযোগিতা চুক্তি যা তাদের স্বাধীনতার পর থেকে কল্পনাও হয়নি। আর আমরা যারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলাম তাদের আশাবাদ এটা দেশ দুটির মধ্যে পারস্পারিক সহযোগিতা ও বিশ্বাসের নতুন যুগের সূচনা করবে।

আমি পূর্বেই বলেছি, পুর্ব পাকিস্তানের জনগন যারা ভয়াবহ বিপর্যয় ও সংকটের মাঝে পড়েছে তাদের জন্য আমার গভীর সমবেদনা রয়েছে। একইভাবে, আমি দেখতে পাচ্ছি পশ্চিম পাকিস্তান সরকারকে একটি আসন্ন হুমকি ও অনেকাংশে বিচ্ছিন্নতার সম্ভাবনার সম্মুখীন হয়ে ব্যাপকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে হয়েছিল। কিন্তু যে বাড়াবাড়ি ঘটেছিল বলে আমরা বিষ্বাস করি আমরা তা উপেক্ষা করতে পারিনা,আর যদি তা না করে থাকে তবে একটি নিরর্থক যুদ্ধের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।

এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে পাওয়া নতুন সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে সমর্থ হলেন না যে নির্বাচনে তিনি অসাধারণভাবে তার প্রদেশে ব্যাপক জয় পেয়েছিলেন। এটা ছিল একটা দীর্ঘ সামুরিক শাসনের পরিসমাপ্তি যা পাকিস্তানে একমাত্র শাসনব্যাবস্থা ছিল। আমরা প্রশংসা করতে পারি কারণ এক ব্যক্তি এক ভোটের মাধ্যমে গনপরিষদের জন্য অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের উদ্দেশ্য ছিল পুর্ব পাকিস্তানকে নিয়ে পাচ প্রদেশের জন্য একটী প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন সম্ভব করা ও পুর্ব পাকিস্তানের প্রতি পুরনো বৈষম্য দূর করা যা আমাদের অনেকের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, আমি মনে করি তা এখনো বিদ্যমান। যদি তিনি এই ফলাফল নিয়ে অগ্রসর হতেন তবে তিনি হতেন পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। মূলত পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সম্ভাবনা দেখেছিলেন।

যাইহোক সে সম্ভাবনা দূর হয়ে গেছে কিন্তু সেটা আমাদের উদ্বেগের বিষয় নয়। রহমান দৃশ্যত বিচ্ছিন্নতা অন্তর্ভুক্ত করে অন্যান্য শর্তসহ একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন যা ছিল যে ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছিলেন তা বহির্ভুত। যা নির্বাচনের পূর্বে পুর্ব পাকিস্তানের জনগনের কাছে প্রকাশ করা হয়নি এবং কোন কেন্দ্রীয় সরকার তা গ্রহন করতে পারেনা। আমি টর্কও্য়ের মাননীয় সদস্য(স্যার এফ. বেনেট) আমার বন্ধুর সাথে আমি একমত কার্যত একটি যুদ্ধবিরিতি হয়েছে। এটা বলা হচ্ছেনা যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ,গোলাগুলি,লুটতরাজ,সীমান্ত ঘটনা এবং এমন কিছু গঠছে না কিন্তু আমি বিশ্বাস করি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী একটু বেশি কঠোর ছিল।

বিপরীত প্রতিবেদন সত্বেও আমি বিশ্বাস করি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করছে। চট্রগ্রাম বন্দর পুনরায় তার কার্যক্রম শুরু করেছে এর অর্থ দেশ থেকে রপ্তানী হচ্ছে। মানুষ ধীরে ধীরে শহরে ফিরে আসছে,কাজ পুনরায় শুরু হচ্ছে, এই বিতর্কে যা হচ্ছে তার বিপরীত ঘটছে। আমি বিশ্বাস করি প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষ ও তাদের চাষাবাদের ওপর প্রভাব খাদ্য সরবরাহে খুব গুরুত্বপূর্ন, যত বলা হচ্ছে পরিস্থিতি ততটা গুরুতর নয়। আমি বিশ্বাস করি চাষাবাদ চলমান রয়েছে।

.

Bokul

পাতা-৪২

এতকিছু সত্ত্বেও আমরা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের ডাক দিতাম তাহলে সেটা বেশীক্ষণ টিকতে পারতো না । রাজনৈতিক প্রবাসী এবং কতিপয় ব্যক্তি যারা নিয়ন্ত্রন করে তাদের দুর্দান্ত প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও পুনর্বাসনের ভয়াবহ সমস্যা দৃশ্যমান ছাড়াও রাজনৈতিক নিষ্পত্তির দেহাবশেষ চলছে ।

আমাদের অবশ্যই ভবিষ্যতের দিকে নজর দিতে হবে । যদি আমরা শান্তি-সংস্থাপন করতে পারি তাহলে স্বাভাবিক সময়ে ফিরে আসা শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।জানি এই ক্ষত খুব দ্রুত সেরে উঠবে না কিন্তু তাতে অনেকটা এগিয়ে থাকবে । প্রথমত ত্রান এবং পুনর্বাসন , দ্বিতীয়ত নিষ্পত্তি যা টেকসইয়ের আশা জাগায় ।

প্রথমদিকের মূল সমস্যা হল যোগাযোগব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যা অত্যান্ত খুবই জরুরী প্রয়োজন,তারপর খাদ্য-চিকিতসা সহ অন্যান্য গুরুত্বপুর্ণ উপাদানের সহজলভ্যতার প্রশ্ন তোলা। পশ্চিম পাকিস্থানের সরকার বলেছে খাদ্য সরবরাহে নয় বরং খাদ্য বন্টনে শোচনীয় অবস্থা বিরাজমান ।

যাইহোক, আমি মনে করি পাকিস্থানী সরকার আগের চেয়ে আরো নমনীয় হবে, এখন পর্যন্ত তারা জাতিসংঘ , কমনওয়েলথ বা সেনটর যেকোন ত্রান সরবরাহকারী দলকে অনুমতি প্রদান করেছেন । সকল প্রস্তাবনা গুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে লিখা হয়েছে । আমি ব্যক্তিগতভাবে সেনটোর প্রস্তবনা গুলো পছন্দ করেছি কারন- আমাদের ক্ষমতা জড়িত মূলত মুসলমানদের ক্ষমতা এবং সেটা অত্যান্ত আবেগময় অবস্থায় পরিগণিত হতে পারে ।

কিন্তু আমি আশা করি পাকিস্থান সরকার আরো আন্তরিক হতে পারে যেখানে তারা নিরীক্ষকের সম্ভাব্য শর্তাবলী নিয়ে মোকাবেলা করবে তবে এটা সুনিশ্চিত করতে হবে প্রাপকদের তাদের অধিকার যেন যথাযথভাবে বন্টন করতে পারে । আমি তাদেরকে প্ররোচিত করেছিলাম ব্যাপারটা অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে নিতে। আমি জানতাম যে জাতির গর্ব সেখানে বিপদাপন্ন এবং কতটা পীড়াদায়ক তা আমরা জানতাম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে ত্রান পাওয়া যার জন্য আমরা অভিলাষী হয়েছি ।

প্রাচ্যের সম্মানিত সদস্যদের (মিঃ হিলি ) মতে তারা বলেছিল- যদি আন্তর্জাতিক উৎস থেকে বড় আকারে সাহায্য প্রদান করা হয় ,যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন তাদেরকে যুক্তিযুক্ত এবং যথাযোপযুক্ত উপায়ে নিশ্চিত করতে । যদি আমি আমার চিন্তাভাবনায় ঠিক থাকি এবং আমি জানি আমি ঠিক তাই যতদ্রুত সম্ভব পুনরায় যোগাযোগ করা । তারপর বিধান জারি করতে হবে যা দেশের উপকারী হয় এবং পরিচয় বহন করে করে উদাহরণসরূপ সিমেন্ট , রেললাইন ,ফ্লাট মোড়া নৌকা । একই সাথে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করে আমাদের নিজস্ব সম্পদ অপচয় করা অনুচিত বলে মনে করি ।

সাম্প্রতিককালে পশ্চিম পাকিস্থানে আঘাত হানা হ্যারিকেনের জন্য জন্য বাচ্চাদের দুধের বোতলসহ অনেক কিছু পাঠানো হয়েছে । সবাই জানে পশ্চিম পাকিস্থানে বাচ্চারা দুধ খায় । তবে বোতল প্রাপকেরা জানে না এগুলো দিয়ে তারা কি করবে । আমি মেনেই নিয়েছি এগুলো উদ্দেশ্য প্রণেদিত ভুল ছিল । যাইহোক এটা দেখে খুব ভাল লাগছে যে সাহায্যের প্রক্রিয়া সঠিক ভাবেই চলছে এবং প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থায় রেলপথ ,কালভার্ট , ও সেতু পুনঃনির্মানের পরিকল্পনা করা উচিত ।

 

রাজনৈতিক নিষ্পত্তির হেতু, আমি দৃঢ়ভাবে তাদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছি যারা বলে থাকে পূর্ব পাকিস্থানের স্বাধীনতার সম্ভবপরতা তাদের কাছে বোধগম্য নয় (Interruption) । নূন্যতম সাহায্যের সম্ভবনা ছাড়াই প্রশাসনের সাথে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী মুসলিম গ্রুপ যা ২৫ বছর আগেই ভারতের দ্বারা পরিব্যাপ্ত হওয়া যা তাদেরকে এখন উদ্ধিগ্ন করেছে আলাদা হবার জন্য যেটা তাদের বোধশক্তির কোন অর্থই প্রকাশ পায় না ।

পূর্ব পাকিস্থানের অস্তিত্বের পুরো ঐতিহাসিক কারনীটা এখনো সত্য যে মুসলমান সম্প্রদায়ের দ্বারা শাসিত অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায় বিশাল শংকায় দিনাতিপাত করে । পাকিস্থান গঠনের ২৫ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে , আমার অভিজ্ঞতায় বিবেচনাযোগ্য এমন কিছুই আমি শুনিনি , দেখিনি বা শিখিনি আমার বন্ধু ,সরকারি বা বেসরকারি সুত্র থেকে যারা রাষ্ট্রবিষয়ক মৌলিক পরিবর্তনের কোন পরামর্শ দিবে। আমি যদি সেখানে থাকতে পারতাম !

 

মিঃ জুলফিকার সিলভার ম্যানঃ এটা সত্য যে প্রায় ৬০ মিলিয়ন লোক ভারতে থাকতে পছন্দ করে তাছাড়া প্রায় শত শত শরনার্থী ভারতে প্রবেশ করেছে ? ভদ্রলোকের বক্তব্য অস্বীকার করবেন ?

স্যার আর থম্পসনঃ মোটেও না । ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের অধীবাসীদের সংখ্যা কম নয় । স্বাধীনতা লাভ এবং আলাদা হবার পূর্বে সংখ্যা অনেক ছিল ।যারা জন্মগত ভাবে এখানকার তারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে চায়নি ।

যাইহোক ,পূর্ব পাকিস্থানে ৮০ লাখ লোকের মধ্যে সমমনা মুসলিম দল আছে । সবচেয়ে কঠিন দিক অতিক্রম করতে হয়েছে অতীতে যখন ভারতের স্বাধীনতা নিদারুনভাবে সমালোচিত হচ্ছিল তখন বাঙালী মুসলমানেরা ছিল সর্বেসর্বা যে তাদের ছিটমহল থাকা এবং পাশ্চাত্যের ইসলামী সমমনা ভাইদের সাথে রাজনৈতিক সংযোগ থাকা উচিত। যদিও সময়ের পরিবর্তনের সাথে এসব কিছুই পরিবর্তন হবে , তার জন্য প্রয়োজন একটি ভাল লেনদেন। ২৫ টা বছর প্রমানের জন্য কিছুই নয় ।

ভয় থাকে যে , আমি নিশ্চিত পূর্ব-পাকিস্থানের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা কামনা করে কিছু মানুষ ,যারা সমস্ত আঘাত বাতিলের চেষ্টার পেছনে মুসলিম রাজ্য গঠনের উদ্দেশ্য ছিল । অর্থনৈতিক বা কৌশলগত ভিত্তি নেই যার উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র বোধগম্যভাবে উন্নতি লাভ করতে পারে । যদিও আমরা সচেতন পশ্চিম পাকিস্থানের নাগরিক অধিকার অবহেলার বিষয়ে , তার অবহেলা এবং দরিদ্রতা স্বাধীনতাকে থামিয়ে দিতে পারেনা ।

শতবছর ধরে পূর্ব পাকিস্থান ঐতিহ্যগতভাবে দরিদ্র,অনুন্নত এবং কৃষিপ্রধান। আমরা প্রায়ই বলে থাকি তারা পাট চাষ করে আর কলকাতা সেই লাভ ঘরে তোলে । যা এখনো সত্য। কলকাতার আশেপাশে নগরায়নের ফলে শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে যার পুরো লভ্যাংশটা যাচ্ছে পশ্চিম পাকিস্থানীদের হাতে অথচ পূর্ব পাকিস্থানের অশিক্ষিত চাষীরা যারা সরাসরি উতপাদন করতো তারাই মানবেতর জীবন যাপন করতো ।

মিঃ সিডনী বিডওয়েল(সাউথ অল)ঃ এই অংশে বিরাট সম্মাননা আছে অভিজ্ঞতার জন্য । এটা কি সত্য নয় যে পশ্চিম পাকিস্থানীরা অব্যাহতভাবে পূর্ব পাকিস্থানীদের উপর বাজে ব্যবহার করছে ? এটাও কি সত্য নয় যে রাজনৈতিক সমাধান কার্যত অসম্ভব যেখানে অর্থনৈতিক প্রাচুর্যতা যথেষ্ট রয়েছে ? যখন পূর্ব পাকিস্থানকে ব্যবহার করা হত সকল মুনাফা ও লাভের উৎস হিসাবে , তাছাড়া তখন কি পশ্চিম পাকিস্থান পূর্বকে কলোনি হিসাবে বিবেচনা করতো ?

.

nijhum

44.

একটা অন্যতম কারন হল দুই অংশের মধ্যে অর্থনৈতিক অসমতা। তবে আমি সন্তুষ্ট যে, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার একটিকে তুলে নিয়েছে। নিশ্চিতভাবে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান চাইলে সাধারন নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকার করে নিতে হবে যার অর্থ হতে পারে, পুরো দেশের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচিত প্রতিনিধি আছে।

 

 

মি. বিডওয়েল: আর চাপের ব্যাপারে কী বলবেন?

 

স্যার আর. থম্পসন: এটা ছিল রক্ষাকবজ যা ঐ অবস্থানের প্রতিবিহিত করতে পারতো এবং আমি যে যদি এটাকে কাজ করার একটা সুযোগ দেওয়া হত, শেষ পর্যন্ত এটা প্রতিবিহিত করতো।

 

মি. বডওয়েল: নিষ্ঠুর সামরিক চাপের প্রতিবিহিত?

 

স্যার আর. থম্পসন: একজন ভদ্রলোক কোন বিষয়ের উপর তার মতামত দ্বারা অভিহিত হন।এটা নতুন কোন সমস্যা নয়। গোটা পাকিস্তানের স্বাধীনতার সাথেই এটা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনে আমরা বুঝতে পেরেছি যে পূর্ব পাকিস্তান পাট রপ্তানীর সম্পূর্ন প্রাপ্য পাচ্ছিল না, যেখানে সম্পূর্ণ অর্থনীতি এর উপর নির্ভর ছিল।

এটা আগেই ঠিক করা ছিলো যে এটি সংশোধন করা হবে, কিন্তু তা এই বিদ্রোহের জন্য বাস্তবায়ন করার জন্য কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি৷ যাইহোক, এটি এখনো হতে পারে৷ আমি আশাবাদী যদি সরকার পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধির অধীনে পূনর্বাসন এবং সহায়তা কর্মসূচি চালু করে৷ তাদের মধ্যে অনেকেই টিকে থাকবে, কিছু ভবিষ্যতকে ন্যায্য করার জন্য প্রশাসন পুণর্গঠন এবং বিন্যাসে সরকারের সাথে এগিয়ে আসবে৷ প্রস্তাবটি নতুন সংবিধানের এক ব্যাক্তি এক ভোট ধারনার অন্তর্ভুক্ত আইনি কাঠোমোয় রূপায়িত হবে , সরকারের ধারনা পাঁচটি প্রদেশে বিকেন্দ্রিকরণে পূর্ব পাকিস্তানের গণপূর্ত ব্যায় ভাগ কম ছিলো৷ আমি বিশ্বাস করি সমতা আসবে এবং যৌক্তিকভাবে সন্তোষজনক ফলাফল সুরক্ষিত হবে, একটি নতুন সংবিধান করা হবে পুরাতন সামরিক আইন প্রতিস্থাপন করার জন্য৷ পাকিস্তানের চূড়ান্ত স্থিতি ই হবে প্রত্যাশার সর্বোৎকৃষ্ট পুনর্মিলন , এবং আমি শেষ করবো রাস্ট্রপতির কিছু উদ্ধৃতির দ্বারা

আমি তোমাদের সত্যি বলছি যে আমার লক্ষ্য একই রয়েছে যথা জণগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। অবস্থার সম্মতিসাপেক্ষে যত দ্রুত সম্ভব আমি এই বিষয়ের অর্জনের প্রতি পরিষ্কার পদক্ষেপ নেবো।

১: ১০ পিএম,

জনাব জন পারডোয়ে (কর্ণেল, উত্তর)

: (মি. ডাগলার মান) উত্তর, কেনিংসটনের সদস্য, এই বিতর্ককে পরিচিত করার জন্য আমিও মাননীয়কে আমার অভিনন্দন দিতে চাই এবং তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা প্রসারিত করতে চাই। সকল সম্মানীয়’র ভয়াবহ অবস্থা অভিহিত করতে আমি তার সাথে যোগ দেবো।

 

 

 

45.

তারা জানালো কি কি ঘটেছিল, কি কি ঘটছে আর কি হতে পারে যদি না কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়। আমি বিশেষভাবে তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তার এই উপকারের জন্যে কারণ অবস্থাটা আমার জন্যে একদম অপরিচিত ছিল, তখনও যদি আমাদের কোন ধরণের বিপ্লবের সম্মুখীন হতে হতো, যা মার্কসবাদী বা সমাজতান্ত্রিক কোন বিপ্লব ছিল না, কিন্তু তবুও উনিশ শতকের একটি সংস্কার মুক্ত বিপ্লব ছিল। সম্ভবত আমরা এসবের সাথে মানিয়ে চলার ক্ষমতাও হারিয়েছিলাম। এটা একটা মারাত্মক বিপদ যে এই বিতর্ক কেবল ভয়াবহ একটি প্রকাশ, কেবল বলার অপেক্ষা রাখে না, ওয়েল বাস্তবে সেখানে আমাদের করার মত কিছু নেই। সেখানে কিছু কথা ভেতর ভেতর চলছিল, আর এই বিতর্কের শুরুতেও এই ঘটনার কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছিলো, যদিও মনে হচ্ছিলো আমাদের আর কিছুই করা উচিৎ হবে না, যেন আমাদের মাঝে সমাজতন্ত্রের আর কোন শক্তি বাকি নেই, ঐ প্যাক্স ব্রিটানিকা এখন মৃত, যদিও এই ঘটনার অস্তিত্ব নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহ ছিল, আর আমাদের এর মাঝ থেকে বের হওয়াটাও জরুরী ছিল, আর এই অভিব্যক্তির সঙ্গে ভয়, শঙ্কা এবং অন্তর্বেদনাও উপস্থিত ছিল।

আমি যে সত্যটা বিশ্বাস করিনা তা হলো, যে আমরা পরবর্তী ইম্পেরিয়াল শক্তি মানে আমরা আমাদের ক্রমাগত ক্ষণস্থায়ী দিনগুলি অবশ্যই অন্য পাশে অতিবাহিত করবো। যদি আমরা কাজ করতে পারি তবে তা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং তা করার আমাদের ইচ্ছা ও সংকল্প হলো একটি সন্মানজনক প্রতিক্রিয়া এবং তা শুধুমাত্র সাম্রাজ্য-উত্তর ছিনিয়ে নেওয়ার প্রতিক্রিয়া নয়।। পাকিস্তানের অবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, শুধুমাত্র মানব পরিপ্রেক্ষিতে এবং কারন তা বিশাল মানব সহানুভূতি উত্থাপন করছে তার জন্য নয়, কিন্তু কারন হচ্ছে এটি একটি বিশ্ব ক্ষুদ্র সমস্যা যা সারাবিশ্বের মুখোমুখি হচ্ছে। এই সমস্যা গুলো হছে অতিরিক্ত জনসংখ্যা, অসহ্যকর দারিদ্র, অনাহার, অবিরাম সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং ভয়ানক সমস্যাটা হচ্ছে যাকে আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার বুঝিয়ে থাকি। যেমন টি বলা হয়েছে, যে কেউ পাকিস্তানের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখতে পাবে যে, দেশটির মধ্যে সহজাত ভৌগলিক অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। এটা সম্ভবত ভৌগলিকভাবে অনন্য নয়।কারণ সেখানে অন্য দেশ আছে যাদের অন্তত তাদের উপাদানের অংশের মধ্যে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। যখন একটি দেশের দিকে তাকিয়ে ভৌগলিক ভাবে এভাবে বিভক্ত করা হয় , সমস্ত ইতিহাস তখন চিৎকার করে বলে যে, দুটো অংশকে শুধু ধর্মের কারনে একসাথে ঝুলিয়ে রাখা অসম্ভব। ‘আমি মনে করি, স্বার্থের কারণে সমাজে শ্রেণী থাকবে! তবে আমি এটাও মনে করি না, মার্কসবাদীরা ইতিহাসকে যেভাবে সাজিয়েছেন বা ব্যাখ্যা করেছেন, ঠিক সেভাবেই অর্থনৈতিক-স্বার্থে সমাজে শ্রেণী থাকতে হবে!

পাকিস্তানের পরিস্থিতিতে দুইটি আলাদা উপাংশের মধ্যে এই ধরনের স্বার্থভিত্তিক সম্প্রদায় নেই এবং বিগত বছরগুলোতেও ছিল না। রাষ্ট্রটি তার ভিত্তি এবং উপস্থিতির জন্য এক ধরনের ভয়, এমনকি ঘৃণা নিয়ে ইন্ডিয়ার উপর নির্ভরশীল। এরকম ভয় বা ঘৃনার প্রতি পশ্চিমবঙ্গের আগ্রহ না থাকার অনিবার্য কারন আছে। ক্রয়ডন (Croydon) দক্ষিনের সম্মানিত সদস্য (স্যার আর. থম্পসন) ২৫ বছর আগে যে মতবাদ উত্থাপন করেছিলেন তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অবশ্যই ছিল। কিন্তু এই ভিন্নতার উপাদান ছিল- (এবং আমাদের সার্বভৌম ইতিহাসের উপর আমার পড়া, এটি যদি তার না হয়)- আমরা গোটা ভারতীয় উপমহাদেশকে ভাগ করে শাসন করার জন্য এসব সম্প্রদায়কে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করতাম। একটা বড় পরিসরে আমরা ধ্বংয়াহ করে ফেলি, যেমনটা আয়ারল্যান্ডে বছরের পর বছর করেছি, আমাদের নিজস্ব সার্বভৌম কারনে দুটো সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাগ।

 

স্যার আর.থম্পসন: আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে সম্মানিত ভদ্রলোক পুরোপুরি ভুল ছিলেন। আমরা ভারতীয় উপমহাদেশে ঐকিক রাষ্ট্র চেয়েছিলাম। আমরা প্রায় পেরেছিলামও, এবং এটাই ছিল একমাত্র কারন যে আমরা এমন একটা অচলপ্রায় রাষ্ট্রে ছিলাম যেখানে কোন কার্যকর সরকার না রেখে আমাদের সরে আসা সম্ভব ছিল না, এটা আমাদের বিবেক-বিরুদ্ধ ছিল,কিন্তু যেহেতু এটা সবচেয়ে ভালো ছিল যা অর্জন করা যেত, দেশটিকে ধর্মের ভিত্তিতে দুই ভাগে ভাগ করে।

.

Joya Korem

প্রধানত ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে কাশ্মীর বিতর্কের মতবিরোধ থেকে এর উৎপত্তি।

অতীত ইতিহাস জানা না থাকলে এ পরিস্থিতি অনুধাবন করা খুব কঠিন। বাংলায় মুসলিম শাসনের পূর্বে উচ্চবর্ণ হিন্দুরা তাদের স্বদেশীয়দের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করত। সাধারণ মানুষের ভাষা তাদের জন্য প্রযোজ্য ছিল না, তাদের ভাষা ছিল দেবতাদের ভাষা সংস্কৃত। ইসলামের কারনেই বাংলা সাহিত্য আকৃতিলাভ করেছে ও সহনশীল মুসলিম শাসকগণের অধীনেই বাংলা কবিতা উচ্চমার্গে পৌঁছেছে। পরবর্তীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে স্থাপিত ব্রিটিশ আধিপত্যে বাংলার মুসলমানদের মর্যাদা হ্রাস পায়। এরপর উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুরা মুসলমানদের অবজ্ঞা করতে থাকে ও উচ্চ শ্রেণীর মুসলমানরা উর্দু ভাষা গ্রহণ করেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের তাবেদার ছাড়া আর কিছু নয় এই অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিপীড়িত হচ্ছে এমন ধারনা মুসলিম লীগকে একটি জনপ্রিয় দলে পরিণত করে, যা সম্ভবত অন্য যেকোন জায়গার চেয়ে বাংলায় গভীরভাবে অনুভুত হয়েছে।

কার্জন কর্তৃক ১৯০৫ সালে আদি একক-বাংলার প্রথম ভাগাভাগি ছিল হিন্দু অর্থ যোগানদাতাদের কঠোর অর্থনৈতিক দমন থেকে বাংলার মুসলিমদের উদ্ধার বা উদ্ধার প্রচেষ্টার একটি চমৎকার পদক্ষেপ, যদিও তা তাঁর দ্বারা সূচিত হয়নি। ১৯৪৭ সালে বাংলার দ্বিতীয় দেশভাগ পূর্ব পাকিস্তানের জন্ম দেয়। আমি নির্দ্বিধায় স্বীকার করি যে, বাংলার কোন অংশই মোহাম্মাদ ইকবালের প্রথম রূপরেখায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না; তবে অবিভক্ত ভারতে ব্রিটিশ শাসনের শেষভাগের ঘটনাপ্রবাহ, ত্রুটি সমূহ ও ভুল বোঝাবুঝি পাকিস্তানের সাথে এর অন্তর্ভুক্তিকে অপরিহার্য করে তোলে।

পূর্ব পাকিস্তানের উপর পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ এই হাউসের কেউই অস্বীকার করে না। পশ্চিমাদের দ্বারা শোষিত পূর্ব পাকিস্তান একটি দুগ্ধদায়ী গাভী হিসেবে গণ্য হচ্ছে যা পাকিস্তানেরই একটি রাজ্য। তবে এটুকু বলা উচিত, পূর্ব পাকিস্তানের অনেক উচ্চ প্রশাসনিক পদে পশ্চিমাদের অন্তর্ভুক্তি দেশভাগের সময় হিন্দু কর্মকর্তাদের অভিবাসনের কারনে হয়েছিল।

কেউ দ্বিমত পোষণ করতে পারবে না যে তহবিল, আয় ও সম্পদের অসম বণ্টন হয়েছে, যদিও আমি মনে করি যে, এই অধিকার প্রয়োগের উদ্যোগটি মাননীয় সদস্যদের পরামর্শের কিছু পূর্বেই গৃহীত হয়েছে। এটিও বলা বাহুল্য যে, এমনকি ১৯৬৮ সালের পূর্বেও পাকিস্তানের ছয় জন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে তিনজনই ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের।

একটি আমেরিকান নথিতে, যা বাংলাদেশ এসোসিয়েশন মাননীয় সদস্যদের নিকট প্রচার করেছেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে “পাগল” এবং “ক্ষমতামত্ত” বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যারা জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে চেনেন তারা কখনই এই বর্ণনার সাথে তাকে মেলাতে পারবেন না। আমি বাংলাদেশের সমর্থনকারীদের এই পরামর্শ দেই যে, যদি তারা এই দেশের জনগণের যুক্তিসঙ্গত মনে ছাপ রাখতে চান, তবে এধরণের ভাষা প্রয়োগ করবেন না। সন্দেহাতীত ভাবে জেনারেল ইয়াহিয়া খান একজন পেশাদার সৈনিক যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ পতাকার অধীনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন, তার রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পেতে ও নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে উদগ্রীব। তিনি পাকিস্তানের দুই অংশের মাঝে ভারসাম্যহীনতা, অসমতা, অবিচারের প্রতিকারের ব্যপারেও সচেষ্ট।

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেউ অস্বীকার করবেন না যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। শুধু শেখ মুজিব রহমানের আওয়ামী লীগই নয় বরং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সকল দলই প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ব্যপারে একমত ছিলেন। স্বায়ত্তশাসনের দাবী আমরা কেবল পূর্ব পাকিস্তানেই শুনতে পাই না, বরং পশ্চিমের প্রদেশ গুলোও স্বায়ত্তশাসন এবং পশ্চিমের দলগুলো প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন চেয়েছিল। যখন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তখন শেখ মুজিব রহমান ও তার লীগ সমর্থিত আইনি কাঠামোতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল। আমি জানি না তা কেনসিংটন, নর্থ বা অন্য যে কারও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অস্বীকার করা হয়েছে কিনা।

বিতর্কের মনোভাব নিয়ে নয়, বরং যেহেতু নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া খুব কঠিন তাই জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে সম্মানিত ভদ্রলোক কে জিজ্ঞাসা করি যে, তিনি কি জেনারেল ইয়াহিয়া খানের এই বিবৃতি গ্রহণ করেছেন যে, তিনি শেখ মুজিব রহমান কর্তৃক আশ্বস্ত হয়েছেন যে, তাঁর মনে সংবিধানের যে রূপরেখা রয়েছে তা শুধুমাত্র ক্ষোভ প্রশমনে বৈধতা প্রদানের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সামগ্রিক ভাবে পাকিস্তানের অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সংহতি বজায়ের উদেশ্যেও নিহিত। আমি এর বিপক্ষে কোন অবস্থান দেখিনি এবং আমি মনে করি যে এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জনাব ডগলাস মানঃ মাননীয় ভদ্রলোক যেরূপ আমাকে অনুরোধ করেছেন, আমি স্বীকার করি যে, আওয়ামী লীগার দের নির্বাচন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে পরিষ্কারভাবে এটি শেখ মুজিবের প্রকৃত উদ্দেশ্যের অংশ ছিল যে, পূর্ব পাকিস্তান সামগ্রিক পাকিস্তানের একটি রাজ্যের অংশ হিসেবে থাকবে, তবে এর অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন থাকবে; এবং নির্বাচনী বিজয় লাভের পর অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন আওয়ামী লীগের জোরাল দাবিতে পরিণত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ঘোষণা নিঃসন্দেহে শেখ মুজিবের নিকট বিস্ময়কর। আমি আশা করি যে, মাননীয় ভদ্রলোক এটিও স্বীকার করবেন যে, যুদ্ধটি প্রেসিডেন্ট কর্তৃক সূচীত হয়েছিল এবং এটি আমেরিকান অধ্যাপকগণ নন যারা “ পাগল ও ক্ষমতামত্ত” বিশেষণ ব্যবহার করেছিলেন এবং হত্যাযজ্ঞের সূচনা করেছিল পাকিস্তান সামরিক কর্তৃপক্ষ।

জনাব বিগস-ডেভিসনঃ এসব জটিল ঘটনাসমূহ অনুসন্ধান করা কঠিন। অবস্থাদৃষ্টে যা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে তা হল, নির্বাচনের সুবিধা নিয়ে একটি একক রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী না হয়ে শেখ মুজিব বরং পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতায় মনোযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এটি আমার নিজস্ব অভিমত।

পূর্ব পাকিস্তানে ভয়ানক নৃশংসতার ঘটনায় হাউস গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়েছে। আমি আনন্দিত যে, কেনসিংটন, নর্থের মাননীয় সদস্য বলেছেন যে, সকল নৃশংসতাই একপাক্ষিক ভাবে সংঘটিত হয়নি এবং সব কিছুই পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা সংঘটিত হয়নি। আমি ভেবেছিলাম যে, গার্ডিয়ানের গত ১০ই মে প্রকাশিত ঢাকা থেকে এস. আর. ঘাউরিঁর প্রতিবেদনটি চিত্তাকর্ষক ছিল, যখন তিনি বললেন যে,

“অবশ্যম্ভাবীভাবেই, এই রক্তাক্ত নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে বেচারা বিহারী……. পাকিস্তানের বন্দর কেন্দ্রিক দ্রুত বর্ধমান, সেই মতাদর্শ জড়িয়ে আছে যা এই দেশের জন্ম দিয়েছিল এমনকি নিজেকে এর জিম্মাদার, ব্যাখ্যাকারী ও চালনাকারী রূপে নিয়োগদানকারী। ২৩ বছরে দুই বার উদ্বাস্তু হওয়ার বেদনাদায়ক ইতিহাস রয়েছে বিহারীদের……পাকিস্তান তার আবেগ ও তার আশ্রয়।

এই দুঃখজনক ঘটনাপ্রবাহে কেউ কেউ বিহারী সম্প্রদায়কে কিছুটা ভুলে গিয়েছে।

এটি এখন ক্রমান্ময়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, অনেক খারাপ গল্পই অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। আমি এতে বিস্মিত নই। যখন আমি পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত ছিলাম এবং হিন্দু ও শিখ সংখ্যালঘু, মুসলিমরা যাদের হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত ছিল তাদের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিলাম, আমাকে গুলিচালনার নির্দেশ দিতে হয়েছিল, হতাহতের সংখ্যা এক হাতেই গুনে দেয়া যেত, কিন্তু সন্ধ্যার মধ্যেই সকল জেলায় ছড়িয়ে পড়ত যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এরূপ পরিস্থিতিতে যে কেউ তাই আশা করে।

আমি খুব আনন্দিত যে, ভারতীয় বেতারের প্রচার অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ যাদেরকে “নির্মূল” করার কথা বলা হয়েছিল তারা জীবিত আছেন এবং বাঙ্গালী কবি বেগম সুফিয়া কামাল মারা যান নি।

হত্যাকাণ্ড সকল বিবেচনায়ই খুবই ভয়ানক হওয়া সত্ত্বেও অনেক প্রতিবেদনে আমার প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি আমি সন্দেহ করি যে আসলেই কি উদ্বাস্তুদের সংখ্যা ২ মিলিয়ন। এই সপ্তাহের শুরুর দিকে যখন আমার ডানে সম্মানিত বন্ধু পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক সচিব তার বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন আমি বলতে চেয়েছিলাম যে, ঐ সীমান্ত ছাড়িয়ে যাওয়া আন্দোলনে, সেখানে সর্বদাই ঝামেলাপূর্ণ ও ঘাটতিপূর্ণ সময় ছিল, এবং আমি খুবই আশা করি, যেহেতু পরিস্থিতি সমূহ ক্রমান্ময়ে স্বাভাবিক হচ্ছে – ক্রয়ডন, দক্ষিণের আমার মাননীয় বন্ধু আমাদের আশা করার কারন দেখিয়েছেন যে, যেহেতু পূর্ব পাকিস্তান অঞ্চলে পাল্টা একটি আন্দোলন হবে, তাই ক্রমেই পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

কেনসিংটন, নর্থের মাননীয় সদস্য বিষণ্ণ ছিলেন। তিনি বলেন যে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। আমি আশা করি যে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল চৌধুরীই সঠিক এবং যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়াছে। গেছে। একটি গেরিলা সংঘর্ষ জ্বলে উঠতে পারে। সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বাংলায় নতুন কিছু নয়। প্রথম দেশভাগের সময় ১৯০৫ সালে যা ১৯১১ তে শেষ হয়েছিল, এবং বেসামরিক অবাধ্যতার সময়েও এই উদ্বেগ ব্যপক ছিল।

তবে স্বাভাবিকতার লক্ষণ রয়েছে। লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যে, বাঙ্গালী নেতৃবৃন্দরা কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে সামনে এগিয়ে আসছেন এবং একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানর চেষ্টা করছেন। চালনা ও চট্টগ্রামে পাট বোঝাই করা হচ্ছে। বিচ্ছিন্নতার মাঝে আমি কোন রাজনৈতিক সমাধান দেখতে পাই না। কিন্তু, রাজনৈতিক সমাধান পাকিস্তানীদের জন্যই। আমি জেনারেল ইয়াহিয়া খানের প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করি যে, তিনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, যেমন জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। একজন সামরিক ব্যক্তি হিসেবে তিনি অন্য সবার চেয়ে ভাল জানেন যে বেয়নেটের উপর কেউ চিরকাল বসতে পারে না।

পরিশেষে আমি এই ব্যপারে ব্রিটিশদের চাওয়া উল্লেখ করতে চাই। আমরা অবশ্যই চাই যে, কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশ সমুহ যারা আমাদের সাথে CENTO ও S.E.A.T.O তে সম্পৃক্ত রয়েছে, তাদের মাঝে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বিরাজ করে। যদি বিচ্ছিন্নতা হয় তবে সেটাই সর্বশেষ হবে না। যারা পখতুনিস্তান চায় তাদের এমনকি পাকিস্তানের অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনেও পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতা ইন্ধন যোগাবে। এটা বিস্ময়কর নয় যে ভারত, তার সকল সমস্যা ও বিভিন্ন ভাষাগত প্রদেশ থাকা সত্ত্বেও, ভারত যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর, সতর্ক রয়েছে, এবং ব্রিটিশ সরকারও সঠিক ভাবেই কম রক্ষণশীল নয়, যেহেতু বর্তমানে বিচ্ছিন্নতা সমস্ত উপমহাদেশের জন্য একটি হুমকি স্বরূপ, এবং শুধু পাকিস্তানে নয়; যেখানে চীন প্রয়োগ করেছে এবং সীমানায় উপস্থিত ও অতিক্রম করছে, অপেক্ষা করছে।

জনাব ডেপুটি স্পিকার (স্যার রবার্ট গ্র্যান্ট-ফেরিস): ডানের সম্মানিত ওয়েন্সবারির সদস্য (জনাব স্টোনহাউস) কে ডাকার পূর্বে, আমার মনে হয় এই হাউসের কার্যক্রমের সহায়ক হবে, যদি আমি বলি যে, এখন থেকে সম্মানিত সদস্যবৃন্দ যারা বিতর্কে অংশ নিতে চান প্রত্যেকেই অংশ নিতে পারবেন, গড়ে ১২ মিনিটের মধ্যে তাদের বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখবেন। পর্যাপ্ত সময় ছেড়ে যাচ্ছি ডানের লানার্কের মাননীয়া সদস্যা (মিসেস হেইট) ও বিতর্ক সমাপ্তির জন্য মন্ত্রী মহোদয়কে।

 

 

.

নিলয় কুমার সরকার

 

দুপুর ১টা বেজে ৪২ মিনিট।

Mr. John Stonehouse (Wednesbury): হাউস বিতর্ক সূচনা এবং মধ্যপন্থী উপায়ে সে বিষয় প্রবর্তন জন্য আমার সম্মানিত বন্ধু কেনসিংটন এর সদস্য (জনাব ডগলাস মান) এর প্রতি কৃতজ্ঞ।

আমার পর্যবেক্ষণ যা অনারারি সদস্য Croydon , দক্ষিণ (স্যার আর থম্পসন) দ্বারা তৈরি করা হয়েছে এবং কিছু রাজনৈতিক পয়েন্ট মোকাবেলা করতে চান যা অনারারি সদস্য Chigwell (জনাব বিগস ডেভিসন) দ্বারা উত্থাপিত হয়। আমি আমার বক্তৃতা যে অংশ অনারারি সদস্য কর্নত্তয়াল (জনাব Pardoe), এর কথাকে সমর্থন করে তার জন্য আনন্দিত।

প্রথমত, আমি মনে করি হাউস একমত হতে হবে যে এটা খুবই উদ্বেগজনক ব্যাপার যে আমাদের এই বিতর্কের জন্য প্রায় সাত সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং আমার অনারারি বন্ধু সদস্য কেনসিংটন, এর ব্যালট জেতার ভাগ্যের উপর নির্ভর করতে হয়েছে। এটা বরং বিষণ্ণকর যে আমাদের সংসদীয় পদ্ধতি বিশ্বের উদ্বেগের বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় সরকারি বা বিরোধী দলের জন্য বরাদ্দ করার অনুমতি দেয় না। যাইহোক, আমরা আজ বিতর্ক করছি এবং আমি আনন্দিত যে আমরা এই সুযোগ পেয়েছি। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক বিতর্ক প্রমাণিত হতে যাচ্ছে। উভয় পক্ষের কাছ থেকে অবদান অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়েছে, তাদের অনেক গভীর অভিজ্ঞতা রয়েছে।

আমি আমার সাম্প্রতিক সহযোগী ত্রাণ প্রতিষ্ঠানের সাথে তিন সপ্তাহ আগে ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ-পূর্ব বাংলার সীমান্ত থেকে আমার সফরের কথা বলতে প্রথম চাই, এবং আমি হাউসে নিশ্চিত করে বলছি অনারারি বন্ধু সদস্য, কেনসিংটন উত্তর এর কথা যে শিবিরে তাদের আমি দেখেছি। সে সময় দিনে ঢালাও হারে সীমান্তের উপর আতঙ্কজনক-শরণার্থী ছিল। আগ্রহউদ্দীপক বিষয় হল- আমি এটা নিশ্চিত করছি যে যেহেতু উদ্বাস্তুদের অধিকাংশই সংখ্যাগুরু মুসলিম, হিন্দু নয়। এই অবস্থা যে বিভাজনের সময় প্রয়োগ এবং তার পরের থেকে যখন পূর্ব থেকে মানুষ পালিয়ে আসত তা থেকে পুরোপুরি ভিন্ন। পরিস্থিতি এমন ছিল যে সংখ্যাগুরু হিন্দু ছিল, ছিল যদি না সব হিন্দু, একটি মুসলিম রাষ্ট্র যেখানে তারা ভয় করে যে তারা অবদমিত হবে তাই তা থেকে পালিয়ে আসত। পরিস্থিতি এখন এমন যে শরণার্থীদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম পালিয়ে আসছে মুসলিম রাষ্ট্র থেকে যেখানে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী ছিল।

এই পরিস্থিতিতে, এটা ভারতীয় সরকার ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অবদান যে, তারা অবাধে লাখ লাখ না হলেও হাজার হাজার এই শত শত গ্রহণ করেছে যেখানে তারা নিজেরাই অধিক জনসংখ্যার দেশ, এবং কোনো দ্বিধা ছাড়াই, তাদের সম্পদের সর্বোত্তম সান্ত্বনা এবং খাদ্য তারা প্রদান করেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই মানবিক কাজের জন্য অভিনন্দিত হওয়ার প্রাপ্য। এটা হয়ত সহজ হত তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া, আর বলে দেয়া, “এটি আমাদের সমস্যা নয়”।

প্রধানমন্ত্রী নেহরু, পার্টিশন এর সময়ে, একটি গ্যারান্টি দিয়েছিলেন যে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো সদস্য ভারতে যাওয়ার অধিকার থাকবে। স্পষ্টত যে এই গ্যারান্টি পূর্ববাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য করা হয়নি। ভারত, প্রকৃতপক্ষে, তার অধিকার র‍্যেছে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার এবং উদ্বাস্তুদের অন্তঃপ্রবাহ প্রতিরোধ করবে যারা শুধুমাত্র জনাকীর্ণ পশ্চিমবঙ্গে অর্থনৈতিক সমস্যার যোগ করবে না কিন্তু সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা জন্য কারণ তৈরি করতে পারে, যেমন সেই এলাকার হিন্দুপ্রধান মানুষজন অনুভূত করছে যে পালিয়ে আসা মুসলমানদের নিজেদের অবস্থার চেয়ে ভাল সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

একটি বিপজ্জনক দিক হল, একটি বিশেষ জেলার জনসংখ্যার অর্ধেক শরনার্থী হয়ে এসেছে এবং পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসন অর্থ দিয়ে অনুপ্রবেশকারী ঢুকিয়ে দিতে পারে যারা ভারতীয় অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে পূর্ব বঙ্গের পরিস্থিতির উপর থেকে নজর সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে পারে।

আমি যে গল্প শুনতে পেলাম তাতে আতঙ্কিত ছিলাম। আমি সেসব গল্প যা প্রেস রিপোর্ট করা হয়েছিল তার পুনরালোচনা করতে চাই না- আমরা তাদের পড়েছি – কিন্তু আমার হাউসকে বলতে হবে যে আমি উদ্বাস্তুদের থেকে সরাসরি শুনেছি তা সত্যিই ভয়ঙ্কর ছিল। আমি একটি গ্রুপের সাথে কথা বলেছি যাদের স্ত্রীরা তাদের সন্তানদের ধরে ছিল। তাদের গল্প শোনানোর সময় তারা কাঁদছিল। তারা বলছিল তাদের স্বামীরা যারা কোন নেতা নয়, আওয়ামী লীগের সমর্থক নয়, পাকিস্তানি আর্মি প্লাটুন গ্রামে ঢোকার পর তাদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং ঠান্ডা মেজাজে তাদের গুলি করে।

উদ্বাস্তুরা নিজেরা পশ্চিম পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে নির্বিচারে ক্ষেতে কৃষক হত্যা করতে দেখেছিল। তারা বলেন এই নৃশংসতা বাঙালিদের বিরুদ্ধে বিহারীদের দ্বারা সংঘটিত, বিহারীদের আচরণ সম্পূর্ণ আগ্রাসী ছিল কারণ তারা সেনাবাহিনীর দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। আমি বিতর্ক করব না যে অন্য দিকেও নৃশংসতা ছিল, এবং তাদের সমানভাবে আক্ষেপ করতে হবে। বাঙালিদের বিহারীদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার ঘটনা হয়েছে। কিন্তু এই সবের কারণ হল পশ্চিম পাকিস্তান সরকার গত বছর নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ইচ্ছার অভিব্যক্তির প্রতি সমর্থন বজায় রাখার ব্যাপারে ব্যর্থ হয়েছে।

এটা আমার কাছে পরিষ্কার যে ক্যাম্পে থাকা হাজার হাজার মানুষ যারা ভারতে পালিয়ে এসেছে, প্রকৃতপক্ষে যেখানে মুসলিমরা স্বেচ্ছায় আসতে চায় না, যারা বছরের পর বছর ভারত এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে ছড়ানো প্রপাগান্ডার শিকার, তারা পশ্চিম পাকিস্তানিদের কার্যকলাপে আশাভঙ্গ ও মোহভঙ্গ না হলে পূর্ব বাংলা থেকে পালিয়ে আসতে চাইত না।

আমাকে না শুধুমাত্র, অন্যান্য পর্যবেক্ষকের যারা সেখানে ছিল, তাদের কাছে মানুষের ভয়ংকর ঘটনার কিছু বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘটেছে। সরলভাবে, সেখানে বড় অনুপাতে একটি গণহত্যার হয়েছে। এটা অচিন্তনীয় যে একটি গণহত্যা না হলে সুবিশাল সংখ্যার মানুষ এই সীমান্ত জুড়ে পালিয়ে আছে ।

যারা এই সমস্যার একটি সমাধান খুঁজে পেতে চান নৃশংসতার এবং সামরিক ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকার নিন্দা করতে হবে। এটা যথেষ্ট নয় যে অন্য দিকে হত্যাযজ্ঞ হয়েছে পাশাপাশি পরিস্থিতির পাশ কাটিয়ে যেতে হবে। আমি একমত সেখানে সম্ভবত ঘটেছে, কিন্তু আমাদের স্বীকার করতে হবে যে সামরিক শক্তির বড় হত্যাযজ্ঞ যা পশ্চিম পাকিস্তানীরা গোপনে কয়েক সপ্তাহ ধরে গোপনে রেখেছে যখন আলোচনার অগ্রগতি হচ্ছিল। যখন কয়েক মাস আগে থেকে পূর্ব বাংলায় দুর্ভিক্ষের বিপদ বিবেচনা করা হয় পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হয়ে ওঠে। বর্তমান সময়ে, অনেক এলাকায়, সেখানে বিতরণ ও যোগাযোগের অভাবের কারণে খাদ্য ঘাটতি রয়েছে। সড়ক ও রেলপথ কাটা হয়েছে। যে সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই। ফাইনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন দুই দিন আগে জনাব হার্ভে স্টক উইন এটি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু আগামী কয়েক সপ্তাহের দুর্ভিক্ষ বিপত্তি যা অবশ্যই আসবে, আমাদের নিজেদেরকে ব্যসচেতন রাখতে হবে যেন এটিকে তুচ্ছ না ভাবা হয়, প্রধান ধান ফসল, তথাকথিত আমান ফসল, প্রাক বর্ষা সময়কালে রোপণ করা হয় নি।

এই ফসল থেকে পূর্ববাংলায় উত্পাদিত মোট ধানের ৬০/৭০ শতাংশ আসে এবং যদি এটা রোপণ করা না হয়, এটা অক্টোবর এবং নভেম্বর চাষ করা যাবে না। দুর্ভিক্ষ আসবে সম্ভবত যা ১৯৪৩ সালে সংঘটিত দুর্ভিক্ষ এর সর্বনাশা প্রভাবের সমান হবে।

আমাদের নিজেদেরকে সমস্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে চিন্তা করা উচিত। প্রথম প্রয়োজন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা শরণার্থী শিবিরে এইড সহায়তা করা। এখানে, আমি বলতে চাই ত্রাণ সংগঠনগুলো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহানুভূতিশীল এবং সহায়তার জন্য আবেদন সাড়া দানকে প্রশংসা করেন। তার উষ্ণ প্রতিক্রিয়া এবং কর্ম গতির ফলে, আমরা ওয়ার অফ ওয়ান্ট, অক্সফাম ও খ্রিষ্টান এইডের দেয়া ত্রান প্লেন ভরে পাঠাতে পেরেছি। কিন্তু এই এইড, যদিও এটার প্রশংসা করা হয়, কিন্তু এটা প্রয়োজনের তুলনায় সমুদ্রের একটি বিন্দু মাত্র।

আমি আজ একটি টেলিগ্রাম পেয়েছি কলকাতা থেকে পাঠানো, রেভারেন্ড জন হেস্টিংস, কলকাতার একজন মন্ত্রী যিনি অনেক বছর ধরে ত্রাণ কাজে কলকাতায় নিবেদিত এবং যিনি এখন ক্যাম্পে সহযোগিতার সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি বলেন:

“সবাই দাতাদের ও পররাষ্ট্র সচিবের প্রতি তাঁবু ও সরবরাহ চালান এর জন্য কৃতজ্ঞ। অফিসিয়াল শরণার্থী সংখ্যা পশ্চিমবঙ্গে ১.৮ মিলিয়ন; পুরো ভারতে ২.৫ মিলিয়ন। ১ মিলিয়নের জন্য ভাল আশ্রয় এখনও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।“

তিনি দেখিয়েছেন যে, যদিও শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে, আমরা নিজেদের পূর্ব বাংলায় সমস্যা নিয়েও চিন্তা করা উচিতঃ

“আমরা বাস্তব সমস্যা এড়ানোর জন্য সন্দেহভাজন হয়ে যাব যদি আমরা শরণার্থী সেবা থামিয়ে দিই।“

প্রথমত, তারপর, শরণার্থী ক্যাম্পে: ব্যাপক সহায়তা হতে হবে সেখানে। এখানে, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ যদিও আসছে একটু ধীরে, সেটিকে স্বাগত জানানো হবে। জাতিসংঘ ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করেছে, শুধুমাত্র ক্যাম্পে শরণার্থীদের বিশেষ সহায়তা দেবার জন্যই নয়, সীমান্ত জুড়ে তাদের পুনর্বাসন করার জন্যও। পূর্ববাংলার নিজের পরিস্থিতি এবং কয়েক মাসের মধ্যে প্রত্যাশিত দুর্ভিক্ষের জন্য জন্য জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর এখন দুর্যোগ মোকাবেলায় পরিকল্পনা শুরু করা উচিত।

আমি কিছু রাজনৈতিক পয়েন্টে আসছি যা বিতর্কে উত্থাপিত হয়েছে এবং আমি Torquay এর অনারারি সদস্য (স্যার এফ বেনেট) এবং তার অনারারি বন্ধু সদস্য Croydon, দক্ষিণ এর মন্তব্যের কিছু বিষয় অবিলম্বে নিতে চাই। Torquay এর অনারারি সদস্য বলেন, শেখ মুজিব রহমান নির্বাচনের সময় স্বীকার করেছিল একটি ঐক্যবদ্ধ দেশে ধারাবাহিকতা জন্য নির্দিষ্ট আইনি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, এবং তিনি একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী দর্শনের প্রচার করছিলেন শুধুমাত্র নির্বাচনের পরে। অনারারি ভদ্রলোক বলেন নির্বাচনের পূর্বে ছয় দফা আইনি কাঠামোর সংগে মিলে নি যার ব্যাপারে শেখ মুজিব রহমান একমত ছিলেন।

অনারারি জেন্টলম্যান যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ ভুল। আমি এখানে Keesing এর সমসাময়িক আর্কাইভ থেকে করা ৬ই ফেব্রুয়ারি একটি ডকুমেন্ট দেখাচ্ছি যা দেখায় যে, আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসনের ছয়দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন যা ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব রহমান দ্বারা পেশ করা হয়। এটা কোন নতুন প্রোগ্রাম নয়, এটা এমন কিছু, যার জন্য আওয়ামী লীগের বহু বছর ধরে কাজ করেছে। ছয় দফা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের বেশ কিছু পয়েন্ট ছিল যে পয়েন্টগুলা যা শেখ মুজিব রহমান নির্বাচনের পর অনুসরণ করতে চাইবেন যা নির্দেশিত ছিল বলে উল্লেখ করেন Torquay এর জন্য অনারারি সদস্য।

বস্তুতপক্ষে, মানব ইতিহাসে খুব কমই এরকম স্পষ্ট নির্বাচনী প্রোগ্রাম যেখানে এক ব্যক্তি এক ভোট বা আরও স্পষ্ট করে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে মানুষের সামনে আনা হয়েছে। এখানে আমাদের ছয় দফা আছে। নির্বাচনে যে তারা পাকিস্তানের একটি এক দেশের আইনী কাঠামোর মধ্যে হবে না সময় কোন প্রশ্ন ছিল না। ইয়াহিয়া খান এবং তার সহযোগীদের থেকে এই প্রোগ্রামের ব্যাপারে কোন আপত্তি পেশ করা হয় নি কারণ, অবশ্যই তারা এটি পূর্ব বাংলায় এই পরিমাণে সমর্থিত হবে আশা করেনি। শুধুমাত্র নির্বাচনের পর, যখন পূর্ববঙ্গে আসনের ৯৮ শতাংশে এই ধরনের একটি প্রোগ্রাম উপর জয়ী হয়, আপত্তি উত্থাপিত হতে শুরু করেছিল।

এখন আমরা গভীর দার্শনিক ও সাংবিধানিক সমস্যায় জড়িত। আমি একজন সম্মানিত সদস্যের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলছিলাম এবন তার মন্তব্য ছিল, “তারা তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। একবার আমরা এটা তাদের দিয়েছি, নিজস্ব রসে সিদ্ধ হওয়া তাদের নিজেদের ব্যাপার। তারা একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতি. আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারব না। তাদের কঠিন উপায়ে শিখতে হবে।“ আমি এ সব বিষয়ে এ মনোভাবের সঙ্গে একমত হতে পারি না। আমি কর্নওয়াল, উত্তর এর অনারারি সদস্যের সঙ্গে একমত। সম্মানের সঙ্গে আমাদের অন্যান্য দেশের ব্যাপারে আগ্রহ থাকবে, বিশেষত যখন গণহত্যা সংগঠিত হয় এবং গণতান্ত্রিক ধ্যান ধারনাকে অস্বীকার করা হয়, এটা একটা দায়িত্ব যা আমরা হৃদয় থেকে উপলব্ধি করি।

এখন জাতিসংঘের কার্যাবলী। আমি একমত যে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে ত্রাণ প্রচার সাহায্যার্থে নিতে এবং দুর্ভিক্ষ এড়ানো সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে হবে। কিন্তু জাতিসংঘকে শুধুমাত্র এটি নিয়ে ব্যস্ত থাকা উচিত হবে না। চার্টার দশের ধারা ১ এ জাতিসংঘের প্রথম উদ্দেশ্য হল যেঃ

শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য, এবং শেষপর্যন্ত: শান্তির জন্য হুমকি প্রতিরোধ ও অপসারণের জন্য কার্যকর সমষ্টিগত ব্যবস্থা গ্রহণ”

সবাই স্বীকার করে যে এটি শান্তির জন্য একটি ব্যবস্থা, চীন একপাশে সঙ্গে ্খেলছে এবং U.S.S.R. সম্ভবত অন্য পাশে খেলছে।

প্রবন্ধ ১ অব্যাহত:

“আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বা শান্তির ভঙ্গের অন্যান্য কার্যকলাপ দমন করা”

একটি আগ্রাসী ঘটনা ঘটেছে, পাকিস্তানি আর্মি দ্বারা, আমরা যেসব প্রমাণ শুনেছি যেভাবে নিরীহ মানুষকে আক্রমণ ও হত্যা করা হচ্ছে যা গত ২০ বছরের মধ্যে ঘটা সব থেকে বাজে ঘটনা।

পরবর্তীতে,

শান্তি ভঙ্গ হতে পারে এমন কর্মকান্ডের শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক আইন, সমন্বয় বা আন্তর্জাতিক বিরোধ বা পরিস্থিতি নিষ্পত্তিকরণ যা মূলনীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

.

আমি অপূর্ব

এতে এমন কিছু নেই যা একে শুধুমাত্র একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের সাথে অপর সার্বভৌম রাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে। কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে যদি এমন বিভক্তি দেখা দিতে থাকে যা বিশ্ব শান্তির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে তবে জাতিসংঘের এ ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করা উচিৎ। জাতিসংঘ সনদের ধারা ১ এর অনুচ্ছেদ ২ অনুসারে, ‘জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ’ এর অধিকার রয়েছে। এটি যদি সততার সাথে প্রয়োগ করা হয় তবে নিশ্চিতভাবেই এটি পূর্ব বাংলার মানুষের জন্যও প্রযোজ্য, যারা কীনা আওয়ামী লীগের ছয় দফা দাবিকে বিপুল ভোটের মাধ্যমে সমর্থন দিয়েছে এবং পূর্ব বাংলায় তারা নিজেরা আস্থা রাখতে পারে এমন সরকারের ব্যাপারে তাদের চাহিদা ব্যক্ত করেছে। আমি সেই সব সম্মানীত সদস্যের সাথে একমত যারা মনে করেন অখণ্ড পাকিস্তানকে আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় এবং বাংলাদেশ সরকার অবশ্যম্ভাবী ভাবেই গঠিত হবে। এই ৭৫ মিলিয়ন মানুষ গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেছেন। তবে, যাই হোক, জাতিসংঘ হয়ত নিজে এই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিতে পারে না এবং আমি জাতিসংঘের করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করতে চাই। জাতিসংঘ সনদের ধারা ৩৩ অনুসারেঃ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে এমন যে কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে প্রথমেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। “নিরাপত্তা পরিষদ” ধারা ৩৪ অনুসারে, “যে কোনো বিরোধ বা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে পারে কী না তা জাতিসংঘ খতিয়ে দেখতে পারে।“ আমার মনে হয় এই বিতর্কে অংশ নেয়া প্রত্যেক সম্মানীত সদস্য একমত হয়েছেন যে এক্ষেত্রে সেই পরিস্থিতি প্রযোজ্য। অতএব, জাতিসংঘের শুধু ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিলে চলবে না, যদিও এটাও জরুরি, কিন্তু, সনদের এই ধারার প্রয়োগেও মনোযোগী হতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিসংঘ বৃহৎ শক্তিগুলোর এক ক্লাবে পরিণত হয়েছে। এটি এমন একটি ক্লাব যেখানে শুধু সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলো প্রবেশাধিকার পায়। মানবতা জাতিসংঘের কাছে কোনো মূল্য পায় না যদি না কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র তার প্রতিনিধিত্ব করে। এটি একটি দুঃখজনক বিষয় এবং আমি আশা করি যে, কোনো একসময়ে, এ বিষয়ে এমন কিছু করা হবে যাতে করে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়াই নিপীড়িত মানবতা জাতিসংঘের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করতে পারে। আমি বিশ্বাস করি যে ইতোমধ্যে ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল এবং আরও কিছু এজেন্সির ক্ষেত্রে এটি হয়েছে। পূর্ব বাংলার গত কয়েক সপ্তাহের বিদ্যমান পরিস্থিতির মতো অবস্থার প্রতি নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কোনো একটা সুযোগ থাকতে হবে যেন কোনো বৃহৎ বা ক্ষুদ্র শক্তির কাছ থেকে অনুরোধ আসার অপেক্ষা না করে ধারা ৩৩ ও ৩৪ অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। যদি কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র এখন এ ধরণের কোনো পদক্ষেপ নেয়, হয়তো তাহলে জাতিসংঘ নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে কাজ শুরু করতে পারে। একটি যুদ্ধবিরতি এবং সুষ্ঠ যোগাযোগ এবং সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দুর্ভিক্ষ ও রোগব্যাধী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে তা নিশ্চিত করার পরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পূর্ব পাকিস্তানে একটি গণভোটের ব্যবস্থা করা যায় যেন কোনো সন্দেহের অবকাশ ছাড়া নির্ধারণ করা যায় যে জনগণ স্বাধীন বাংলাদেশ চায়, না কি পশ্চিমের সাথে একই রাষ্ট্র হিসেবে একত্রীভূত থাকতে চায়। আমি বিশ্বাস করি তাদের সিদ্ধান্ত কী হবে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেয়া হয়ে গিয়েছে। যদি, যে কারণেই হোক, জাতিসংঘ গত বছরের নির্বাচনের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারে, সেক্ষেত্রে আমি বিশ্বাস করি একটি গণভোট তাদেরকে সহায়তা করতে পারে। সিগওয়েল এর সম্মানীত সদস্য বাংলাদেশি সমর্থকদের দ্বারা প্রচারিত একটি বিজ্ঞপ্তির ভাষাকে অসংযত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে ক্ষমতার নেশায় মত্ত এবং পাগল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমার জানতে ইচ্ছে হয়, সম্মানীত সদস্য দুই দিন আগে আমার হাতে আসা পাকিস্তানের মহামান্য হাই কমিশনার জনাব সালমান এ. আলীর পাঠানো অপর একটি দলিলেরও এমন সমালোচনা করবেন কী না। দলিলটি কিছুটা এরকম- “আওয়ামী লীগ যাদেরকে প্ররোচনার মাধ্যমে জয় করতে ব্যর্থ হয়েছিল তাদেরকে নাৎসি স্টাইলের কৌশল খাটিয়ে নিজেদের পথে আনতে চেষ্টা করেছিল। সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল এবং অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট অংশের দ্বারা নির্দেশিত ও পরিচালিত হত্যাকাণ্ড সমূহের সত্যিকারের মাত্রা এখন পরিষ্কার হচ্ছে।“ সম্মানীত সদস্য অপর পক্ষের ‘বাড়াবাড়ি’র নিন্দা করেছেন। আমি আশা করবো তিনি এই বাড়াবাড়িরও নিন্দা করবেন। আমি এর উল্লেখ করছি এটা দেখানোর জন্য যে, এই বিরোধে উভয়পক্ষই কিছু অত্যন্ত নিন্দনীয় বক্তব্য দিচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি না এরকম প্রতিটি অভিযোগ, পালটা অভিযোগের বিচার করতে যাওয়া আমাদের নিজেদের জন্য কোনো সুবিধার কারণ হবে বা সমস্যার সমাধান অনুসন্ধানে কোনো সুবিধার কারণ হবে। সময়মত, ঘটে যাওয়া মৃত্যুগুলো সম্পর্কে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন আসবে, কিন্তু আজকে আমাদের উদ্দেশ্য তদন্ত নয়, দোষারোপ নয়, বরং চলমান যে কোনো বাড়াবাড়ির নিন্দা করা যা আমি একটু আগে কলকাতার যে টেলিগ্রামের কথা আমি বলেছি তাতে উল্লেখ করা হয়েছে এখনও চলমান হিসেবে, এই আশায় যে আমরা এর একটি বিহিত করতে পারবো, এর এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করতে পারবো যা সম্পূর্ণভাবে পূর্ব বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার উপর ভিত্তিকৃত। মি. বিগস ডেভিসনঃ সম্মানীত সদস্য আমার উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য দিয়েছেন। আমি মনে করি না যে দু’টি বিবৃতি পরস্পর তুলনাযোগ্য। একটি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগ, অপরটি একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও সততার বিরুদ্ধে আক্রমণ। আমি পরেরটির ব্যাপক প্রতিবাদ করছি। এই দু’টি তুলনাযোগ্য নয়। মি. স্টোনহাউসঃ আমি বিশ্বাস করি যে, পরিস্থিতি নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের দিকেই নির্দেশ করছে। এতে অনেক মাস লাগতে পারে, বা বছরও লাগতে পারে, কিন্তু আমি মনে করি এক হাজার মাইলের বেশি দূরত্বে অবস্থিত ৭৫ মিলিয়ন মানুষের একটি দেশে, বিহারি সংখ্যালঘু ব্যতীত যার অধিকাংশই বর্তমানে তাদের বিরোধীতা করবে, সেখানে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন পুনর্বহাল করা অসম্ভব হবে। এই পরিস্থিতিতে, দীর্ঘযাত্রায়, পূর্ব বাংলার জনগণের জয় হবেই। অতএব, আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের উচিৎ হবে না পশ্চিম পাকিস্তানিদের এটা ভাবতে উৎসাহী করা যে, তারা কোনো ‘স্বাভাবিক’ পরিস্থিতিতে ফেরত যেতে পারবে যাতে তারা দেশের এই অঞ্চলে তাদের শাসন চালিয়ে যেতে পারবে। আমি বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশের জন্ম হবেই, এবং আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে, বিশ্ব শান্তির স্বার্থে তাদেরকে এটি অর্জনে সহায়তা দেয়া উচিৎ।

.

ফারজানা আক্তার মুনিয়া

২ঃ১০ অপরাহ্ণ রেভারেন্ড ইয়ান পেইসলি (অ্যান্ট্রিয়াম, উত্তর)ঃ অন্য সকল সম্মানীত সদস্যের ন্যায় আমিও এই প্রস্তাবের প্রস্তাবক, সম্মানীত সদস্য, কেনসিংটন, উত্তর (মি. ডগলাস মান)কে সাধুবাদ জানাতে চাই। পূর্ব পাকিস্তান ট্রাজেডির প্রতি আলোকপাত করে এমন যেকোনো কিছুই স্বাগত জানানোর যোগ্য। যাই হোক, এখানে আরও একটি ট্রাজেডি আছে। সেটি হলো, অনেকের মধ্যে এক ধরণের উদাসীনতা, সচেতনতার অভাব, এমনকী গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি সম্পর্কে নির্লিপ্ততাও আছে। নিজের এবং বিশ্ব স্বার্থের কারণে, যেসব বিষয়ের সম্পূর্ণভাবে নিন্দা করা উচিৎ সেসব বিষয়ে প্রকাশ্যে এবং স্পষ্টভাবে কিছু না বলার একটা প্রবণতা আছে। আমরা এমন এক সময়ে বাস করি, যখন আমরা অত্যাচার, সহিংসতা, রক্তপাত, অরাজকতা এবং অনাচারের সাথে মানিয়ে নিয়েছি। পুরো জাতি জুড়ে যে গভীর উদ্বেগ থাকা উচিৎ, তা নেই। কোনো বিতর্ক যদি আমাদের এই জাতিকে নাড়া দিতে পারে তো সেটি হচ্ছে এই বিতর্কটি। আমি বিতর্কে অংশ নেয়া সকল সম্মানিত সদস্যের উদ্বেগ প্রকাশকে স্বাগত জানাই। যাই হোক, জাতি জুড়ে যে আগ্রহের অভাব তা অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রনহীন সমাজ আমাদের নৈতিকতার যে অবক্ষয় ঘটিয়েছে তারই প্রমাণ দেয়। যে গভীর আন্তরিক উদ্বেগ থাকার কথা ছিল তা নেই। পূর্ব পাকিস্তানের সন্ধ্যা ঘনিয়েছিল সাইক্লোনের মাধ্যমে। এখন তারা তাদের মধ্যরাত পার করছে, আর সে কী এক মধ্যরাত! প্রতিবেদনগুলো যদি অতিরঞ্জিতও হয়ে থাকে, তবুও কোনো সন্দেহ নেই যে পূর্ব পাকিস্তানে এক বিভৎস হত্যাকাণ্ড চলেছে। হাউস এর এদিকের এক সম্মানিত সদস্য পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের ২৫ মার্চের বক্তব্যের উল্লেখ করেছেন। সেটি ছিল একটি দুঃখজনক বক্তব্য, কারণ এটি ছিল সেই একই দিন সন্ধ্যায় যে দিন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে হানা দিয়েছিল, এবং কোনো সন্দেহ নেই যে সেখানে ভয়ানক হত্যাকাণ্ড চলেছে। সেখানে ভয়াবহ নৃশংসতা ঘটানো হয়েছে তাতেও কোনো সন্দেহ নেই। আমি বিশ্বাস করি যে নৃশংসতা উভয়পক্ষের উপরই ঘটানো হয়েছে। তবে, এটা বলাও ঠিক হবে যে, এক পক্ষের ক্ষেত্রে তা নিরাশা এবং গভীর হতাশার বোধ থেকে এসেছে, আর অপর পক্ষে তা বর্বর সামরিক শক্তির জোর থাকার ফলাফল। আমরা যারা এই হাউসে আছি তাদেরকে বর্বর সামরিক শক্তির নিন্দায় সর্বজনীন হতে হবে। গৃহসমূহ ধ্বংস করা হয়েছে, পরিবারগুলোকে হত্যা করা হয়েছে এবং শহরগুলোতে ধর্ষণ করা হয়েছে। দশ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং শত সহস্র মানুষকে গৃহহীন করা হয়েছে। আমি এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই। আমি একে প্রথমত মানবিক কারণে স্বাগত জানাই। মৃত এবং মৃতপ্রায় মানুষের আর্তনাদ যেন বৃথা না যায়। অত্যাচার, রক্তপাত এবং আমাদের উদ্দেশ্যে আমাদের ভাইদের আর্তনাদে সরকার এবং রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ হওয়া উচিৎ। এটা এমন দিন নয়, যখন আমাদের আলোচ্য এই মাত্রার একটি ইস্যু এবং ট্রাজেডি নিয়ে কোনো সরকার গড়িমসি করতে পারে। গণতন্ত্রের স্বার্থেও এই প্রস্তাবকে সমর্থন দিচ্ছি, কারণ এখানে কোনো সন্দেহ নেই যে পূর্ব পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্ব পাকিস্তান ও আমার নিজ দেশের পরিস্থিতিকে সমান্তরাল ভাবে দেখানোর একটা চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু, সম্মানিত সদস্যদের সচেতন থাকতে হবে যে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবেই থাকতে চায়, পক্ষান্তরে, পূর্ব পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধিকার চায়। দু’টো পরিস্থিতি সমান্তরাল নয়। এই হাউসে আমরা সময়ে সময়েই শুনে থাকি যে, সকল সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষা করতে হবে। পূর্ব পাকিস্তান প্রশ্নে এটি হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের তারা কী ধরণের দেশে বসবাস করতে চায় এবং কী ধরণের সংবিধানের অধীনে কাজ করতে চায় তা বলার অধিকার। অবশ্যই গণতন্ত্রের স্বার্থেই তাদের অধিকার আছে তাদের কণ্ঠ বিশ্বের কাছে পৌঁছানোর। যদি বিশ্বনেতাদের মাঝে এই হাউসের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে হয়, যদি সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু উভয়ের অধিকারের রক্ষক হিসেবে এই হাউস জনগণের আস্থা পেতে চায়, তাহলে সরকারকে অবশ্যই আজ সম্মানিত সদস্যদের প্রস্তাবিত কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দেখাতে হবে যে তারা সঠিক পথে চলতে চায়, সেই পথে যা এই সকল মানুষকে তাদের গভীর ও ভয়াবহ সংকট এবং ভয়ংকর কষ্টের সময় সাহায্য করবে। ২ঃ১৬ অপরাহ্ণ মি. জুলিয়াস সিলভারম্যান (বার্মিংহাম, অ্যাস্টন)ঃ আমি কি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উত্থাপন করার জন্য আমার সম্মানিত বন্ধু কেনসিংটন, উত্তর এর সদস্য (মি. ডগলাস মান) এর উদ্দেশ্যে যে অভিনন্দনসমূহ পৌঁছানো হয়েছে তাতে আমার কণ্ঠও যোগ করতে পারি? এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে এই হাউসের প্রত্যেক সদস্য এবং দেশের সকলের সচেতন হওয়া উচিৎ। এমনকী যদি অপর একটি সরকারের নিন্দা করার বিষয়ে আমাদের সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে অনীহার কারণটি কেউ বুঝতেও পারেন, তবু সংশ্লিষ্ট সকল আন্তর্জাতিক প্রভাব সহকারে, যেকোনো মূল্যে এই হাউসের এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে, কী ঘটেছে সে বিষয়ে সত্যটি সুস্পষ্ট এবং পরিষ্কার। ৭৫ মিলিয়ন মানুষের একটি জাতি স্বায়ত্তশাসনের জন্য আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, স্বাধীনতা বা বিচ্ছিন্নতার জন্য নয়। তারা শুধু তাদের মতামত প্রকাশ করেনি। তারা এটি স্পষ্টভাবে করেছে এমন একটি নির্বাচনে যা সুষ্ঠু হয়েছে বলে উভয়পক্ষই একমত হয়েছে। সম্ভবত নির্বাচনে সকল পক্ষের আশানুরূপ ফলাফল আসেনি, কিন্তু নির্বাচনটি সুষ্ঠু হয়েছে সে ব্যাপারে সাধারণভাবে সবাই একমত। পূর্ব বাংলায় এর ফলাফল স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে বিপুল সমর্থন দিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবেই সেখানে দর কষাকষি শুরু হয়ে যায়। তারা বিভক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু বিভক্ত হবার আগেই, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, যা প্রায় সম্পূর্ণভাবেই পশ্চিম পাকিস্তানিদের দ্বারা গঠিত, সদ্য নির্বাচিত দলটির উপর বর্বর নির্যাতন চালানো শুরু করে, যাদেরকে কিছুদিন আগেই জনগণ তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। হতে পারে যে, গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া এবং পাইকারি গণহাত্যার বর্ণনাগুলোতে কিছুটা অতিরঞ্জন আছে। কিন্তু আমি মনে করি যে আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে এটা বোঝার জন্য যে, যদি, এমনকী এর অর্ধেকও সত্যি হয় তাহলেও পূর্ব পাকিস্তানে যা হচ্ছে তা ক্ষমার অযোগ্য। আমরা ২ মিলিয়ন মানুষের উদ্বাস্তু হবার খবর পেয়েছি, সিগওয়েলের সম্মানিত সদস্য (মি. বিগস-ডেভিসন) বলেছেন যে সংখ্যাটি সম্ভবত সঠিক নয়। সেটা যাই হোক, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিপুল পরিমাণ শরণার্থী, যাদের অধিকাংশ মুসলিম, তাদের নিজেদের গ্রাম, মাটি, বাড়ি ত্যাগ করে এমন এক অচেনা দেশের পথে পাড়ি দিয়েছে যে দেশকে তারা বহু বছর ধরেই শত্রু জ্ঞান করে আসছে। অবশ্যই, কোনো ভয়ানক শক্তি দ্বারা চালিত না হয়ে এই অপসরণ ঘটেনি। এই বিষয়টি, যে কোনো অবস্থায়, পূর্ব পাকিস্তানে যা হচ্ছে সে সম্পর্কে আমরা যে ভয়ঙ্কর কাহিনীগুলো শুনছি তার বড় অংশকে সমর্থন করে।

.

রাফি শামস

একাধিক সম্মানিত সদস্য জানিয়েছিলেন, যেহেতু শেখ মুজিবুর রহমান অপসরণ চেয়েছিলেন তাই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আলোচনা ভেঙে দেয়ার এবং তার মিলিটারী ফোর্স পাঠানোর কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছিল । এই মতামতের কোন বৈধ ভিত্তি আমি পাইনি। সাড়ের সাত কোটি মানুষের একটি জাতি যদি স্বাধীনতা চায় , কেন তাদের ভাগ্য নিরুপণের অধিকার তাদের থাকবে না? এরকম একজন জেনারেলের, যার কিনা কোন বৈধ সাংবিধানিক অবস্থান নেই,যে কিনা কোন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে এই অবস্থানে আসেনি , বরং এসেছে সেনাবাহিনীর হাত ধরে- তার কী অধিকার আছে সাড়ে সাত কোটি মানুষের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকাশিত মতামতকে উপেক্ষা করার? যদিও তারা এত দূর অবধি চিন্তা করেনি, তারা চেয়েছিল অর্থনৈতিক স্বায়ত্বশাসনের অধিকার। এই দেশ গুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করে বলতে পারি তারা এটা করতে বাধ্য হয়েছিল।

 

জেনারেল ইয়াহিয়া খানের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার অবকাশ আছে। সমস্যা হল, ঠিক যখন আলোচনা চলছিল তখন সৈন্য ও অস্ত্র বোঝাই যুদ্ধজাহাজ ভারতীয় উপদ্বীপ ধরে যাত্রা শুরু করেছে। তাই প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে এই আলোচনা কি তবে শুধু মাত্র সময়ক্ষেপণ ছিল নাকি সৎ উদ্দেশ্যেই এটা চলছিল? তবে এই আলোচনা সত্যি হোক বা নাই হোক, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কোন অবস্থাতেই বিশ্ব জনমতের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

 

ঘটনা সমূহ সম্পূর্ন পরিষ্কার। আমি জানিনা,কিভাবে ইতিহাস কিংবা সাংবিধানিক খুঁটিনাটি এই সমস্ত পরিষ্কার ঘটনবলী কে নস্যাৎ করতে পারে।

 

এরকম অবস্থায় আমাদের কী করা উচিত? কয়েকজন সম্মানিত সদস্যের মতে এরকম অবস্থায় যদি সরকার কোন মতামত দিতে যায় তবে সেটা সরকারের জন্য হীতে বিপরীত হবে। এর বাইরে আমি আশা করছি জাতিসংঘ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে কোন বিবৃতি প্রদান করবে। আমি এমন কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম যারা আশা করে সরকার ক্ষতিগ্রস্থ দের ত্রাণ ও সাহায্য প্রদানের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আমি নিশ্চিত, এখন পর্যন্ত যে ১৮০০০ ইউরো সাহায্য হিসেবে দেয়া হচ্ছে সেটা অপ্রতুল, এ ব্যাপারে মন্ত্রী আমার সাথে একমত হবেন। এটি খুবই সামান্য। আমি আশা করছি এটা মাত্র শুরু। বড় অংকের সাহায্য সরকারের থেকে প্রয়োজন হবে এবং আশা করছি অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশ গুলোও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। সামান্য সম্পদের গরিব দেশ ভারত কেবলামাত্র ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এই ভয়াবহ দুর্যোগের সম্পূর্ণ চাপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। এই বোঝা বিশ্বের সকল দেশেরই গ্রহণ করা উচিত।

 

আমি মনে করিনা কেবল মাত্র স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দ্বারা এই সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে কারণ এই সমস্যা বিশাল। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই বলেছেন পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে। সুতরাং এটি এখন সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। সরকারের সাহায্য ছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন সঙ্ঘ গুলোও এখানে কাজ করতে পারবেনা। আমি আশা করব সরকার এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে,ভারতীয় উপমহাদেশে আমাদের বিশেষ এবং ঐতিহাসিক অবস্থানের জন্যই।

 

পূর্ব-বাংলার মানুষদের ত্রাণ পৌছানোর আগে এটিও মাথায় রাখতে হবে যে, তাদের মনে হতেই পারে পাকিস্তান সরকারের মাধ্যমে আসা এই ত্রাণ সাহায্য আসলে তাদের সাহায্য করার জন্য নয়, বরং আধিপত্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। কাজেই যদি এবং যখন এধরনের সাহায্য দেয়া সম্ভব হবে সরকার এবং জাতিসঙ্ঘ এই সাহায্য প্রদানের ব্যাপারে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যবেক্ষন বজায় রাখবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে মানবিক বিবেচনায় দেয়া সাহায্য যেন অন্য কেউই ব্যবহার না করে।

 

আমি ধারণা করছি এই সমগ্র কক্ষ আশা করে সরকার এই পরিস্থিত মোকাবেলায় সংবেদনশীল হবে, বিশেষ করে ভারতে অবস্থানরত বিশাল উদ্বাস্তু শিবিরের ব্যাপারে।

 

 

মি.বার্নার্ড ব্রেইনি (এসেক্স, সাউথ-ইস্ট) ঃ এই বিতর্ক আমাদের সম্মানিত সদস্যদের তীব্র সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। একদিকে এনিয়ে দ্বিমত করার অবকাশ নেই যে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সাথে কী হচ্ছে। এতক্ষন আমি যতগুলো বক্তব্য শুনলাম তা থেকেই এটি পরিষ্কার। আমরা সবাই এ ব্যাপারে একমত এবং সবাই বাস্তবিক কোন কিছু করতে আগ্রহী।

 

অন্যদিকে পাকিস্তান একটি সার্বভৌম দেশ যাদের সাথে আমাদের দীর্ঘ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক আছে। এই দেশটি সাম্প্রতিক কালে অর্থনৈতিক সমস্যারও সম্মুখীন হয়েছে। সে সময় অন্যান্য দেশের সাথে আমরাও তাদের পাশে ছিলাম সেটা সত্যি, কিন্তু যেহেতু পাকিস্তান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র, আমাদের এ ব্যাপারে মত প্রকাশের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে এবং একই সাথে আমাদের কর্ম পরিকল্পনা ঠিক করার ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

 

এটা আমাদের বোঝা উচিত যে, যেমনটা আমরা অনেকেই নাইজেরিয়ান গৃহ যুদ্ধের সময় থেকে বলে আসছি , আমরা এখন আর কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশ গুলোর শাসনকর্তা নই, আমাদের আইন সেখানে এখন আর চালু নেই। অনেক সময়ই প্রাক্তন রাজকীয় শক্তিদের হস্তক্ষেপ তাদের বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে। স্বাধীনতা মানে কেবল নিজেদের নীতি গ্রহণের স্বাধীনতাই নয়, বরং ভুল করার স্বাধীনতাও।

 

তারপরও, আমরা ব্যাপারটা এভাবে ছেড়ে দিতে পারিনা। সব কিছুর পরও ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের সাথে আমাদের গভীর বন্ধন রয়েছে। তিন শতক জুড়ে আমাদের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের,যারা এখন ভারত এবং পাকিস্তান,যে সম্পর্ক ছিল তা আমরা মুছে ফেলতে পারবনা কারণ তারা আমাদের ইতিহাসের অংশ। ভারত ও পাকিস্তানের অনেকের সাথেই আমাদের অনেকের গভীর ও আত্মিক যোগাযোগ আছে। সেই সাথে আছে ব্যবসায়িক সম্পর্ক। তাই আমরা, আমাদের সম্মানিত সদস্যরা যেমনটা বললেন, ভারতীয় উপমহাদেশের এই বিভাজনে আমাদেরও দায়বদ্ধতা আছে।

 

পাশাপাশি, অন্যান্য দেশ গুলোর সাথে আমরাও ভারত ও পাকিস্তান উভয়কে অর্থনৈতিক ভাবে সাহায্য করেছি,আর তাই এই দু দেশেরই উন্নতির পিছনে আমাদের ভূমিকা আছে। সমগ্র বিশ্বে রোগ,শোক ও অশিক্ষার বিরূদ্ধে যুদ্ধ করে শান্তি ছড়ানো ছাড়া ব্রিটিশদের কোন স্বার্থ নেই। এটা এমন একটা অবস্থা,যা ব্রিটেনের জন্য নতুন ধরণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। মানুষ ব্রিটিশ প্রভাবের কথা বলে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে, যে কোন বিচারে ,এটা অনেক বিশাল হতে পারে।

 

আমার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু বলা উচিত নয়, অন্যান্য সম্মানিত সদস্যদের মত আমার এত তথ্যসূত্র নেই।

.

Farhana

মন্ত্রী সাহেব বলেন ব্রিটীশ সরকার পাকিস্তান সরকার কে তখন ই অনুদান দেয়ার কথা চিন্তা করবে যদি তা সঠিক ভাবে বিতরন নিশ্চিত করা হয়। এই ব্যাপারে আসলে একটি রাজনইতিক ঐকমতে আসতে হবে। পশ্চিম পাকিস্তান কি রাজনৈতিক ভাবে কখনো একটি স্থির অবস্থায় আসতে পারবে? আমার ধারনা, পাকিস্তান সরকারের হাতে যদি বিশয়টি ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে এই সমস্যার সমাধান কখনই হবে না।
জনাব জেমস কিলফেডার বলেন, তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন যে প্রেসিডেন্ট এবং পাকিস্তান সরকার কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক সরকার গঠনে যথাযথ উদ্যোগ নেয় নি। আমরা সবাই জানি যে আর্মি যখন কোনো দেশের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রন করে তখন নির্বাচনে অনেক কারচুপি হবার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু এই ব্যাপারে পাকিস্তান সরকার বা প্রেসিডেন্ট কেউ ই কোনো ব্যাবস্থা গ্রহন করেনি।

অপরদিকে, জনাব বারন্স এর মতে ২৫ মার্চ ও তার ফলাফল সরূপ পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ যে রাজনৈতিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে সহজে ্পূরব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অবস্থায় কোনো স্থিরতা আসবেনা যতক্ষন না বিশ্বের অন্যান্য দেশ পাকিস্তান সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি না করে।

সরকারের আন্তর্জাতিক ভাবে অনুদান চাওয়ার সিধান্ত কে আমি স্বাগত জানাই কিন্তু সরকারের আগে নিজেদের রিলিফ কমিটি গূলোর উপর জোর দেয়া উচিত। কারন আন্তর্জাতিক ভাবে বিষয়টির সমাধান হওয়া বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার । আমাদের নিজস্ব সংস্থা গূলোর ই এই ব্যাপারে অতি দ্রুত ও যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়ায় ব্যাপারে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা আছে। সরকারের যাথাযথ সহযোগীতা পেলে তারা তড়িৎ গতিতে সব কাজ ঠিক সময়ে সম্পাদন করে ফেলতে পারবে।

আমি মন্ত্রী মহোদয় কে এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ ধারনআ দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি যে ব্রিটিশ সরকার রিলিফের ব্যাপারে (আন্তর্জাতিক রিলিফ যা ইউনাইটেদ নেশান এর মাধ্যমে পাঠানো হবে ও দেশিয় সংস্থা উভয়) কিভাবে সহোযোগীতার কথা বলেছেন । ফরেন সেক্রেটারি কে মঙ্গলবার এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি, তিনি যোগাযোগ ব্যাবস্থার কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং বলেন যে পাকিস্তানী আর্মি দের মাধ্যমে রিলিফ বন্টন করা হবে।

রিলিফ কমিটির সমস্যা গুলো খুঁজে বের করতে হবে। উপযুক্ত সাহায্য ও প্রষ্ঠপোষকতা পেলে রিলিফ কমিটি সব কাজ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।

দেশের এমন অবস্থায় আর্মি দের মাধ্যমে খাদ্য বন্টন করতে হলে খুব বাজে অবস্থার সৃষ্টি হবে। নাইজেরিয়ান কনফ্লিক্ট এ যে সমস্যা গূলো তৈরি হয়েছিল তা এখানেও দেখা দিবে। সাধারন জনগন কে কখনোই এটা বুঝানো সম্ভব হবে না যে আর্মিরা সুষ্ঠু ভাবে খাদ্য বন্টন করবে।

আমি আমার সম্মানিত বন্ধু কে অভিনন্দন জানাচ্ছি বিষয়টি তিনি উত্থাপন করেছেন বলে যা একটি বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে এমন ২য় বার হল যে ইউ এন ও কমন ওয়েলথ, একটি কমন ওয়েলথ এর অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট রাজনৈতিক ব্যাপারে সাহায্য করতে অক্ষম হল। এই দুট সংস্থা কে তাদের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে হলে এই সমস্যা মোকাবেলায় কোনো না কোন দক্ষ উপায় যেভাবেই হোক খুজে বের করতে হবে/

 

যথাযথ কর্তৃপক্ষ একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার আমার দৃষ্টিতে এনেছে এবং তা হল, পাকিস্তান হাইকমিশন ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করেছে যাতে ব্রিটিশ নিরাপত্তা রক্ষি বাহিনি পাকিস্তান এর ব্যাপারে আরো তথ্য যোগাড় করে, বিশেষ করে- পাকিস্তানি ও ব্রিটিশ দের মধ্যে কয়জন বিদ্রোহের সাথে জড়িত আছে।।

এসব বিদ্রোহের সাথে যারা জড়িত তারা কিছু সপ্তাহ ধরেই অনেক কে ইন্টারভিউ দিচ্ছে, যার মধ্যে স্পেশাল ব্রাঞ্চ এর লোকজন ও আছে। সবাই নিরাপত্তা কর্মীদের দুশ্চিন্তা সম্পর্কে অবগত আছে। এই নিয়ে অভিযোগ করার কনো অবকাশ নেই যে নিরাপত্তা কর্মীরা action bangladesh এর লোকজন দের জিজ্ঞাসাবাদ কেন করছে, কারন তারা এই চাকরীতেই নিয়োজিত এবং এই জন্যই তাদের বেতন দেয়া হয়। এটি হতাশাজনক হলেও এখন অনিবার্য পরিস্থিতি যা মেনে নিতে হবে।

তারচেয়েও বড় যে অভিযোগটি একটি বিশ্বস্ত সূত্রে সামনে এসেছে তা হল, পাকিস্তানি হাইকমিশনের কাছে অনেক তথ্য পাচার হচ্ছে, মন্ত্রী মহোদয়কে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হল।

Mr. John H. Osborn Sheffield. Hallam এর মতে, একটি স্বাধীন দেশের উপর ইচ্ছামত বিতর্কিত ভাবে যা কিছু ইচ্ছা করা যায়না। এই পরিস্থিতি থেকে দেশ কে রক্ষা করে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় নিএ যাওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব । আমাদের কি কি করনীয় এই ব্যাপারে আলোচনা করে একটি সিধান্তে আসতে হবে। দেখতে হবে আমাদের ক্ষমতা আসলে কত টুকু। কারন আমাদের হাতে আর একচ্ছত্র অধিকার নেই, এছাড়া কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া আর সৌহার্দ পূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়ার মাঝে অনেক পার্থক্য আছে।

কিন্তু পূর্ব পাকিতানে নির্বিচারে গনহত্যা চলছিল যা মানবতার জন্য হুমকিসরূপ। এই থেকে প্রমান হচ্ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের পাঞ্জাবিরা বাঙ্গালীদের উপর কি ভয়াবহ জুলুম করছিল। পাকিস্তানী মিলিটারি রা যেভাবে অত্যাচার শুরু করেছিল তা আর কোন রকম রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে পরেনা। কিন্তু এই জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বা প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব কারোর ই কারোর ই সম্পূর্ণ ভাবে নিন্দা করা যায়না।

সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। আমরা জানি ইয়াহিয়া খান মিলিটারি সরকার এর হাতে সম্পূর্ণ গনতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তানত্র করতে চেয়েছিল। আমি এই নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করি যে শেখ মুজিবর রহমান তার ক্ষমতার উপযুক্ত প্রইয়োগ করে নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারেন নি। এবং দুই বছর আলোচনা করেও তিনি কোন সমঝোতায় আসতে পারেন নি।

তথাকথিত ‘ছয় দফা’ নিয়েও ওনেক আলোচনা হয়েছে। একটি হল, federal gvt নিরাপত্তা ও বৈদেশিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে। আরেকটি হল, সংবিধান একটি নিজস্ব ফেডেরাল এর আওতায় থাকা উচিত। সম্প্রতি আরো কিছু বিশয় এখানে যুক্ত হয়েছে, মিলিটারি দের সরিয়ে নিয়ে তাদের ব্যারাক এ ফিরে যেতে বলা এর মধ্যে একটি।

সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়েও একটী দন্দের সৃষ্টি হতে পারে, ভোটার রা ভাবতে পারে তারা একটী বিভক্ত প্রদেশ সৃষ্টির জন্য ভোট দিয়েছে। বাংলাদেশ এটিকে দুটি জাতির মধ্যে যুদ্ধ বলে ঘোষনা দিয়েছে, আমাদের মাঝেও এই নিয়ে তর্ক হবে যে এটি কি আসলেও নাকি সামরিক যুদ্ধ নাকি মুক্তির জন্য যুদ্ধ। এটি যাই হোক না কেন তা নিয়ে আফসোস করা উচত নয় এবং যা নিন্দা করার মত বিষয় তা নিয়ে অবশ্যই নিন্দা করা উচিত। গত ২৫ বছর নিয়েই পাকিস্তান বিভক্তিকরন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, এখন বাংলাদেশ এই বিষয়ে বিশ্বের সহানূভুতি পাচ্ছে।

এখন আমরা বুঝতে পারছি যে বাংলাদেশ কে ছোট করে দেখা ঠিক হয়নি, সেখানে এক বিশাল বিপ্লব ঘটছে। স্বাধীনতার জন্য তাদের ঘটানো বিপ্লব যার সাথে বায়ফ্রার বিপ্লবের মিল পাওয়া যায়।

জনাব মাইকেল স্টুয়ারট নাইজেরিয়ার সাথেও এর মিল খুঁজে পান। যদিও আমরা আসলে সঠিকভাবে জানিনা যে কি হয়েছিল, Anthony Mascarenhas এর মতে বিদ্রোহ প্রথম বাঙ্গালীরাই শুরু করেছিল।

ব্রিটিশ সরকার ও আমেরিকান সরকার এই বিদ্রোহের ব্যাপারে একই রকম ধারনা পোষন করেন, অপরদিকে চীনা সরকার পাকিস্তান কে সমর্থন করে, এরমধ্যে ভারত রেফুজি দের নিয়ে অনেক ঝামেলায় আছে। রেফ্যুজি ক্যাম্প গুলর অবস্থা অনেক শোচনীয় ছিল, এবং এও বুঝা যাচ্ছিল যে যেভাবে এরা আসছে কিছু দিন এর মধ্যেই এর সংখ্যা ২/৩ লাখ এ ছড়াবে, চমকপ্রদ ব্যাপার হল, রেফ্যুজি দের মধেয় কিন্তু সবাই মুসলিম ছিল না।

 

বর্ডার এ ভারত ও পাকিস্তান এর মধ্যে এ নিয়ে অনেক গোলমাল হচ্ছিল, আমরা ব্রিটিশ রা জানতাম যে কোন ব্যাপারে আসলে আমাদের কতটা ভূমিকা রাখা উচিত ও কোথায় কি করা উচিত। শোনা যাচ্ছিল যে পশ্চিম পাকিস্তান কে আর কোনো রকম সাহায্য করা হবেনা, কিন্তু আমরা কোন একটি জাতিএ ধ্বংস হতে দিতে পারিনা।

আমি সরকারের এই সিধান্ত কে স্বাগত জানাই যে তারা পূর্ব পাকিস্তান কে সাহায্য করতে যাচ্ছে। বহির্বিশ্বের চাপ এইদিক এই ছিল যে পূর্ব পাকিস্তান এর সাহায্য প্রয়োজন । শেফিল্ড এলাকায় আমি এমন অনেক মানুষের সাথে কথা বলেছি যারা পূর্ব পাকিস্তান থেকে এখানে এসেছে এবং তারা জানে যে তাদের পরিবার পরিজন কি অবস্থায় আছে বা তাদের সাথে কি হয়েছে।

 

.

Nury

(১)

শেফিল্ড সকাল তারবার্তায় মর্ট রোজেন ব্লুম এর ” শকুনে পূর্ণ বাংলাদেশ ” এর অধিকাংশ সংগঠকের পরিবার পাকিস্তানে(গঠনের পেছনে) ছিল এবং মৃত(মেরে ফেলা হয়েছে)। এই দুঃখজনক ঘটনাটি আমাদের সকলকে অনুপ্রানিত করে।

(২)এইজন্য কি আমরা অপরিহার্যভাবে পশ্চিম পাকিস্তান সরকারকে দোষারোপ করতে পারি?যেখানে যোগাযোগের একটি ব্যর্থতা রয়েছে।পাকিস্তান সরকারকে অবশ্যই এই ঘটনা দেশের জনগণের সামনে আনা উচিত। সমস্যার সম্মুখীন নাইজেরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এটা ছিল সপ্তাহ এবং মাসের জন্য।আমরা শুনেছিলাম কেবলমাত্র বিয়াফ্রামের গল্প।সাংবাদিকরা পেছনের কাহিনী সামনে এনেছিল যা আমাদের সকলের উদ্বেগের কারন।আমাদের সত্যিটা জানাতে এবং পাকিস্তান সরকারের গঠনমূলক মনোভাব জনগনের সামনে তুলে ধরতে কিছু প্রচেষ্টা অবশ্যই ছিল।

(৩)গ্রেট ব্রিটেন একটি বিশ্বের শক্তি হিসেবে আর নেই কিন্তু এটি একটি সমাধান অর্জন করতে নৈতিক প্রভাব এবং বৈশ্বিক নৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারে। চুড়ান্ত সমাধান অবশ্যই পাকিস্তানে।একটি অব্যাহত সাহায্যের কার্যক্রম অবশ্যই পরিচালিত করা হয় কিন্তু এটি অবশ্যই যথাযথভাবে শাসিত এবং যেটি কঠিন হবে কারন আমি সরকারের ভাল অবস্থা বুঝতে পারি যেখানে সরকার নিজেই প্রোগ্রাম পরিচালনা করতে চাইবে।

একই ধরনের সমস্যা যেটি নাইজেরিয়াতে আমরা পেয়েছিলাম।ভারতীয় উপমহাদেশে পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে যে পরিস্থিতি উদ্ভূত হয়েছিল তা মুক্ত বিশ্ব সদয়ভাবে গ্রহণ করেনি।আমরা চাই সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক কিন্তু যে সমস্যা উদ্ভূত হয়েছে তা থেকে কেবলমাত্র একটি উপলব্ধি আসতে পারে,আমাদের একটি নৈতিক দায়িত্ব হলো আমাদের প্রভাব খাটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এদের মধ্যকার যারা একে অপরের সাথে কথা বলতে চায় না এবং সেখানে ঘৃণার অবস্থান থেকে সহানুভূতি প্রতিস্থাপন করতে হবে।

৪)

বিকেল ৩ টা বেজে ৮ মিনিট,

জনাব ফ্রাঙ্ক জুদ (পোর্টসমাউথ,পশ্চিম) :

আমি যোগদান করেছি সেখানে, যে আমার সম্মানিত বন্ধু(মি: ডগলাস মান)উত্তর কেসিংটন এর সদস্য একটি বিতর্ক উপস্থাপন করবার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে।আমি যোগদান করেছি তাদের সাথে যদিও তারা মন্ত্রী তাদের সমর্থনে ভালো খবর যা বলেছিল তা প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিল।নথিভুক্ত হয়েছিল জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কর্ম এবং উন্নতি অগ্রগতি সম্পর্কে বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার মধ্যে কোন দুর্দশায় দ্রুত প্রয়োজনে একটি সমন্বিত ড্রাইভ সংগঠিত করতে চেস্টা করেছিল।

(৫)

আমার মন্ত্রীর কাছে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন আছে।তিনি কি একটি আশ্বাস দিতে পারেন যে,সরকার এদেশের কোন ছাত্রছাত্রীকে পৃূর্ব পাকিস্তানে পড়াশুনা করার অনুমতি দিবেনা।জোরপূর্বক তাদের গবেষণা শেষ করতে হবে অস্বাভাবিক তারাতারি? যদি সরকার কোন শিক্ষার্থীকে এরকম দূর্ভাগ্যপূর্ণ অবস্থায় পায়।আমি অশা করি যে তারা তাদের গবেষণা যেন সম্পন্ন করতে পারে তা নিশ্চিত করবে।

(৬)

আপাত দৃস্টিতে বড় ঝড়ও পরে শান্ত হতে পারে।এ থেকে এই পর্যায়ে কোন ভিত্তিহীন অসম্পূর্নতা উদ্ভূত হলে আমাদের তাই সতর্ক হতে হবে।যুদ্ধ এবং হত্যা বিচারে প্রাথমিক পর্যায়ে যা যা ঘটেছে তার উপর বর্তমানে কোন গল্প নেই।এরকম আপাত শান্ত পরিস্থিতিতেও আমাদের শিথিল আচরনের কোন কারন নেই।যদি পাকিস্তান সামরিক সরকারের গোপন করার ভয় না থাকে তবে আগ্রহী হয়ে এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দ্বারা অনুৃৃমোদন দিয়ে সেখানে থেকে সহযোগীতা করা উচিত।

.

৭১ পৃষ্ঠা —————————>>

 

 

 

 

 

খুব সত্যি যে একটি দেশের উন্নয়নশীল দেশের সাথে সম্পর্ক অআছে মানে দাতা দেশ উন্নত দেশগুলোর ঘটনায় মধ্যস্থ করে কারন অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকার ঐ দেশকে সমর্থন দিয়ে থাকে তা নিচে দেওয়া হলো। ঘটনা হলো একটি দেশ সার্বভৌম দেশের সাথে সামরিক সহযোগীতা করে মানে হলো যে,কারন এটি দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা নীতির উপর নির্ভর করে প্রথম দেশের সহযোগীতার উপর হস্তক্ষেপ করছে।

 

 

 

 

-যদি বাসস্থান এই কারনে গ্রহণ করতে হয়,অআমরা নিজেদেরকে যে প্রশ্নটি অবশ্যই করব তা হলো,হস্তক্ষেপের যে নীতি পাকিস্তানে অআমরা চালু করেছিলাম সেখানকার অআবহাওয়ার একটা পরিবর্তন দরকার।আমি তর্ক করে প্রমাণ করব যে সেখানে এটির একটি পরিবর্তন দরকার।সফল হতে হলে সাহায্য অবশ্যই হতে হবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে।একটি সুস্থ অংশীদারিত্বের অর্থ হলো যে,অংশীদাররা সবাই কথা বলতে এবং অধিবেশন কালে তাদের কথা নিঃসংঙ্কোচে বলবে।আমি অআমার সংগঠকদের বাড়ি যেতে পারব না এবং একটি সরকারের সমর্থনে তাদের করের ব্যবহার প্রতিপাদন করতে পারব না।যেটিতে আমি বিশ্বের যে কোন এলাকায় খুঁজে পাই অসমর্থনীয় এবং শোচনীয় শাসন ব্যবস্থা। যদি সংজ্ঞানুসারে একটি সফল অংশীদারিত্ব গঠনে কাজ করা হয় তবে অআমাদের একটি অধিকার অআছে অংশীদারিত্ব গঠনে কিছু বলতে।

 

 

 

-আমি বিশ্বাস করি যে,সম্পূর্ণ সাম্রাজ্য থেকে কমনওয়েলথের রুপান্তরের সাথে কমনওয়েলথের মধ্যে অংশীদারিত্বের উপর অআমরাই নতুন সম্পর্ক চালু করেছি।যদিও অআমরা অতি মেজাজের কারনে সেখানকার সংবেদনশীলতা বুঝেছি। পোস্ট সাম্রাজ্যবাদের এই যুগের উপর অআমাদের অক্ষমতার একটি অনুভূতি,সুপারিশের জন্য এটি অর্থহীন।এখন অআমরা সাম্রাজ্যবাদী দায়িত্বের নিষেধ থেকে মুক্ত।অআরো অআছে যেমন,অআমরা খোলাখুলি এবং মুক্তভাবে সমতার হিসেবে দেশে অংশীদার হিসেবে কথা বলতে পারিনা;যেমন পাকিস্তান।যখন অআমরা ঐ পরিস্থিতির সম্মুখীন হই অআমরা দেখতে পাই সবচেয়ে খারাপ ধরনের প্রতিবন্ধকতা সাজানোর উপর নিযুক্ত করা হয়েছে।তাই নয় কি।

 

 

 

পরবর্তীতে অআমার মনে হয়েছে যে, বিশ্বের সম্প্রদায়ের অআবশ্যিক পারস্পারিক অধীনতায় স্পস্ট করে প্রমাণ দেখায় পাকিস্তানে কি ঘটেছিল।অআমরা দেখেছি যে,শরণার্থী সমস্যা অআসলে তাৎক্ষনিক একটি অআন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিনত হয়েছে।ভারতে যে সকল শরণার্থী অআছে বর্তমানে কেবলমাত্র সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সমস্যাই না,ভারতে এটি একটি কৌশলগত সমস্যা। গেরিলা কার্যক্রমের কারনে সৃস্ট দ্বন্দ্ব থেকে দায়মুক্ত থাকতে ভারতকে খুঁজে নিতে হবে কঠিন পথ।যেটির উপর ভিত্তি করে হতে পারে শরণার্থী শিবির। সুতরাং এটি একটি অআন্তর্জাতিক সমস্যা।

 

 

 

অআমরা অআরো জানি অআমার ডানের সম্মানিত বন্ধু লীডস এর সদস্য, পূর্ব (মিঃ হেলি) এটি তৈরি করেছিল যা খুব স্পস্ট করেছিল মূলত সেখানে অআরেকটি অআন্তর্জাতিক মাত্রার সমস্যা ছিল। কারন সম্ভাবনার সাথে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে চিন্তা বৃদ্ধি পেয়েছিল তা অআমরা অবশ্যই বিবেচনায় রাখব।রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সম্ভাবনা যেটি তা হলো তৎক্ষনাত এলাকার জন্যই নয় অআমাদের সকলের জন্য দলগুলো দ্রুত বর্ধিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ন ফলাফল দিয়ে দলের জন্য অপেক্ষা করছিল।

 

 

 

অতএব, আমি বিশ্বাস করি যে পাকিস্তানের সামরিক শাসন ব্যবস্থা নিয়ে অআমাদের স্পস্টাস্পস্টিভাবে কথা বলা উচিত।এবং এটার জন্য একটা পরিকল্পনা দরকার যে, যদি অআমরা ঐ শাসন ব্যবস্থার সাথে কোন সাহায্য এবং উন্নয়নমূলক সম্পর্ক চালু রাখতে চাই। যে পরিমান নির্মমতা এবং পাকিস্তানের জনগনের উপর চাপিয়ে দেওয়া স্বৈরাচারী নীতিগুলি মেনে অআমরা অধীন থাকতে পারব না।এই শাসন ব্যবস্থা নিয়ে কিছু বলতে অআমাদের প্রস্তুত থাকা দরকার। এটি অআমাদের নিকট পরিস্কার যে,সংযুক্ত একটি পাকিস্তানের একমাত্র কার্যকর ভবিস্যৎ এর জন্য যেটি ভাল ইচ্ছার উপর ভিত্তি করে এবং দুটি অংশেই স্বেচ্ছাসেবী সহযোগীতা এবং যেটি একটি অংশের উপর অন্য অংশের দ্বারা চাপিয়ে দেওয়ায় একটি সংযুক্ত পাকিস্তানের অনিবার্য বিচ্ছিনতায় প্রতিশ্রুত হয়।

.

Nabila

পৃষ্ঠা-৭৬-৭৯

খণ্ড-ত্রয়োদশ

দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধান সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করা হয়েছে,এবং প্রত্যেক ব্যাক্তি সদস্যেরই উচিত তাদের মতামত প্রকাশ করা।

পূর্ব পাকিস্তানের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার উপর একাগ্রতা নিয়ে মন্তব্য দিয়ে আমি উপসংহার টানতে চাই।আমি, দক্ষিণ-পূর্ব (জনাব braine),এসেক্সের সম্মানিত সদস্য এবং আমার পোর্টস্মাউথের সম্মানিত বন্ধু,দক্ষিনের (জনাব Judd) এর কথা শুনে খুশি হয়েছিলাম এবং অন্যান্যরাও এই ব্যাপারে জোর সমর্থন দেয়।সম্ভবত সম্মানিত সদস্যগন তাদের একান্ত এবং ব্যাক্তিগত চলমান পর্যবেক্ষনের উপর জোর প্রদানের জন্য।এবং এতে আরও কিছু সংখ্যা যোগ করা উচিত।করাচিতে মাথাপিছু আয় পূর্ব পাকিস্তানের মাথা পিছু আয়ের প্রায় ৬০শতাংশ উপরে।পশ্চিম পাকিস্তানের গ্রামাঞ্চলে মাথাপিছু আয় পূর্ব পাকিস্তানের গ্রামাঞ্চলের মাথাপিছু আয়ের প্রায় ২৫শতাংশ উপরে।যাই হোক না কেন,এটা সুস্পষ্টভাবে বলা যায় যে এই পরিসংখ্যান ১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের ভেতরের সংকীর্ণ ফারাককে প্রদর্শন করে।পূর্ব পাকিস্তানের ওই সময়ে এই নিদারুণ ত্রুটিপূর্ন ফলনের পেছনে কি কারণ ছিল এর ভেতর প্রচেস্টা ছিল তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অসামঞ্জস্যতা দূরীকরণের এবং তারা এই সমস্যার কারণও ধরতে শুরু করে।

আমার সম্মানিত বন্ধু,ইস্ট হ্যামের সদস্য,উত্তর(জনাব প্রেন্টিস) এই মাসের শুরুতে মন্ত্রির তরফ থেকে প্রত্যুত্তর দেন যার মূল বক্তব্য ছিল,তিনি এবং আমি আমাদের দ্বায়িত্বের ভাগ যা কিনা ব্রিটিশ সহায়তার অধীনে কেবলমাত্র এক-পঞ্চমাংশ এই বছর সংঘটিত হয়েছে এবং এর বেশিরভাগই শুরু হয়েছিল ১৯৭০ সালে।আমরা আরও বেশি আনন্দিত কারণ এই প্রোগ্রাম আমরা প্রবর্তন করেছিলাম এবং প্রধানমন্ত্রী সেচ ও কৃষিক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানে এই কার্যক্রম এখনও চালু রেখেছেন।আমি আশা করি এই চুক্তির বাস্তবায়ন ঘটবে এবং এই বৃহদ কার্যক্রমে আমরা অবদান রাখতে পারব।

যা প্রয়োজন,ভারতকে তার সম্পর্কের সমস্যা সমাধানে,পূর্ব পাকিস্তানে ইউনাইটেড নেশানের ত্রাণ সহায়তার জন্য দ্রুত কার্যক্রমের প্রয়োজন অথবা শান্তিপূর্ন অবস্থার মাধ্যমে যেন পাকিস্তানকে পুনরায় সহায়তা প্রদান করা যায় তার জন্য যৌক্তিক উদ্দেশ্যের প্রয়োজন যাতে করে তীব্র উদ্বেগের মাধ্যমে সরকার তা অনুভব করতে পারে,যা কিনা আজ যারা এই বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তাদের মাধ্যমে উচ্চারিত হয়েছে,এবং সেই উদ্বেগ এবং জরুরি অবস্থা সাহায্য সংঘ এবং উইনাইটেড নেশানের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বিকাল ৩:৪৩

জনাব উডঃ যদি এই প্রতিষ্ঠান আমাকে বিদায় দিতে রাজি থাকে,তবে আমি কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে চেস্টা করব।

বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় এবং ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনের উপর ভিত্তি করে বলা যায় একটি চমৎকার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।সম্ভবত এই সম্পর্কে আমার বলার তেমন কিছুই নেই।আমার সম্মানিত বন্ধু,পররাষ্ট্র সচিব এবং কমনওয়েলথ এফেয়ারস এর জন্য সতর্কতামুলক প্রত্যুত্তর দিলেন সম্মানিত সদস্য উত্তর(জনাব ডগ্লাস-ম্যান)কে যখন তিনি কেনসিংটনকে নিয়ে গত মঙ্গলবার একটি প্রশ্ন করেছিলেন।এই ব্যাপারে আমি একটা মন্তব্য যোগ করতে পারি,যা বিভিন্ন সময়ে রাজনীতিতে যুক্ত থেকে আমি শিখেছি যে,সময়ে সময়ে যে সব সমস্যা আমাদের সামনে আসে কিংবা প্রদর্শন করা হয় তা আমরা যেমনটা জানি তার চেয়ে অনেক সহজভাবে দেখানো হয়।এটি একটি সমস্যা এবং আমার কাছে এটি অনেক বড় কঠিন বিষয় বলে মনে হয়।

পাকিস্তান সরকার এবং অন্যান্য সরকারের মধ্যকার রাজনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপারে,যখন সম্মানিত সদস্য Wednesbury(জনাব স্টোনহাউজ) উইনাইটেড নেশান এবং হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে তার মতামত দিচ্ছিলেন তিনি অনুচ্ছেদ ২(৭) এর সম্বন্ধে কিছু উল্লেখ করেননি যা আমার আশা করা উচিত ছিল।কারণ এই অনুচ্ছেদে আভ্যন্তরীণ বিষয়ে সদস্য রাস্ট্রের হস্তক্ষেপ না করার ব্যাপারে সরাসরি আলোচনা করা হয়েছে।

অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কে আমি যদি কিছু বলতে চাই তবে তা হচ্ছে,গ্রেট ব্রিটেন এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ট।এবং যারা বিতর্কে অংশ নিয়েছেন তারা সবাই এই ব্যাপারে সহমত প্রকাশ করেছেন।ভারতের সাথেও আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ট।

জনাব স্টোনহাউজঃ সম্মানিত সদস্যগন কি এই ব্যাপারে একমত হতে পারেন যে অনুচ্ছেদ ২ কাউকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম যে একমাত্র ইনাইটেড নেশানই সদস্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে এছাড়া পৃথক কোন সার্বভৌম রাষ্ট্রের এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবার অধিকার নেই।

জনাব উডঃ যদি আমরা ইউনাইটেড নেশানের দলিল নিয়ে বিতর্কে বসতে চাই,তবে আমার অন্যান্য যে সকল বিষয়ে উত্তর দেয়া দরকার তা ব্যাতিত আমরা কাঙ্ক্ষিত সময়ে আলোচনা শেষ করতে পারব।সম্মানিত সদস্যগন এই ব্যাপারে খেয়াল করে থাকবেন যে ইউনাইটেড নেশান এই সম্পর্কে তার মতামত ব্যাক্ত করবে,অনুচ্ছেদ ২(৭) এর আলোকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এই ক্ষেত্রে অসমীচীন।আমার মনে হয় আমার চালিয়ে যাওয়া উচিত কারণ এখানে আরও অনেক প্রশ্ন আমাকে করা হয়েছে এবং সেগুলোর উত্তর আমার দেয়া প্রয়োজন।

পুর্ব পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিনতিতে যেই উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে ইতোমধ্যে আমি ভারত সরকারের সাথে সমবেদনা প্রকাশ করেছি ,যার পরিস্থিতি সম্পর্কে ভারতীয় হাই কমিশনার আমার কাছে পুর্বেই জানিয়েছেন।ভারতীয় সরকার ভালো করে জানেন যে তাদের এই অসহায় অবস্থার সাথে মর্মান্তিক কষ্টের ভার লাঘবের জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় যোগ দেবার জন্য আমাদের ইচ্ছার কথা।

সম্মানিত সদস্যগনের মধ্য অনেকেই ত্রাণের বিধানের কথা উল্লেখ করেছেন।ভারতে ত্রাণ সহায়তার ক্ষেত্রের প্রশ্নে,আমি যা বুঝি তার উল্লেখ আমি ইতোমধ্যে দু’বার করেছি যে কি অবস্থার উদ্রেক হতে পারে।wednesbery এর সম্মানিত সদস্যের কাছে আমি কৃতজ্ঞ,কারণ আমার সম্মানিত বন্ধুর কাছে যেই অবদানের জন্য তিনি যেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার জন্য,হয়ত এই ব্যাপারে এখন আমরা একমত হতে পারব।সম্মানিত সদস্যের প্রতি আমার উত্তর হচ্ছে যে,না ১৮০০০ পাউন্ড সহায়তার ক্ষেত্রে আমাদের ইচ্ছার ব্যাপ্তি নয় যদি না সেখানে সর্বোচ্চ পরিমান সহায়তার কথা আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় উল্লেখ থাকত,যেখানে আমাদের অবশ্যই সহায়তা প্রদান করার দরকার হত।

আমরা চ্যারিটেবল সোসাইটি এবং ইউনাইটেড নেশানের হাই কমিশনের রিপোর্টের অপেক্ষা করছি।সম্মানিত লেডি লানার্কের সদস্য(মিসেস হার্ট) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে আমরা কখন রিপোর্ট পাব।আমি বুঝতে পারছি যে অক্সফামের ব্রিগেডিয়ার ব্ল্যাকম্যান এই সপ্তাহান্তে বাংলা থেকে ফিরে এসেছেন এবং অক্সফামের আবাসিক প্রতিনিধি অন্যান্য ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন।এটি রিপোর্টের অন্য প্রান্ত ব্যাখ্যা করছে।উইনাইটেড নেশানের হাই কমিশন ক্যাম্প এখনও পরিদর্শন করছেন।আমি জানি না এই রিপোর্ট কখন আসবে, কিন্তু আমি বুঝতে পারছি যে কমিশন আসছে সপ্তাহে দিল্লি ফিরে যাবার একটা সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমরা রিপোর্ট পাবার পর খুব বেশি দেরি হবে না।

লিডসের সম্মানিত সদস্য,পূর্ব(জনাব হ্যালি) বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন,খুবই স্বাভাবিকভাবে,পাকিস্তানের নিজের ত্রাণ এবং পুনর্বাসনের যোগান নিয়ে।উ থান্ট দু’টি প্রস্তাব দিয়েছিলেন,প্রথমত পাকিস্তান সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা গ্রহন করা দ্বিতীয়ত তাদের একটি দল গ্রহণ করবার জন্য প্রস্তুত থাকা যারা প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে নিরুপন করবে।উ থান্টের এইসব পদক্ষেপের পাশাপাশি পাকিস্তান সরকারের উপর দ্রুত আন্তর্জাতিক সহায়তারও আশা করছি।

এখানে অন্যতম সমস্যা, বিমানপোতের সাথে সংযোগের ক্ষেত্রে যা কিনা Wednesbury এর সম্মানিত সদস্য এর মর্ম বুঝবেন,এবং সম্মানিত সদস্যগন এ ব্যাপারে অবহিত আছেন যা কিনা চট্টগ্রামে অবতরন করেছে এবং আমরা পাকিস্তান সরকারের কাছে অঙ্গিকার বদ্ধ যে এইগুলো ঘূর্নিঝড় উপদ্রুত এলাকায় পূনর্বাসন কাজে ব্যাবহৃত হবে।যদি আমরা ত্রাণ ও সরঞ্জাম পেতে চাই তবে যে ত্রাণ আনতে পারবে,যা আন্তর্জাতিক সংস্থার অনুগ্রহ,তবে আমাদেরকে অবশ্যই পাকিস্তান সরকারের মতামত ও অঙ্গিকারনামা গ্রহন করতে হবে যাতে করে আমরা যেভাবে চাই তা সেভাবেই ব্যাবহৃত হবে,কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমার মতামত বদলে যাবে,যা কিনা আমি আশা করছি সভায় ভাগ করে নেয়া হবে যে আমরা এটা আন্তর্জাতিক ভিত্তিতে পেতে পারি এবং সেই পথেই আমরা কাজ করছি।

ফুলহামের সম্মানিত সদস্য(জনাব এম. স্টুয়ার্ট) এবং অন্যান্যরা কমনওয়েলথের কাজের সম্ভাবনার ব্যাপারে ধারণা দেন।আমার ধারনা আমার সম্মানিত বন্ধু স্টাফোর্ড এবং স্টোনের সদস্য (জনাব হিউ ফ্রেসার) CENTO এর মাধ্যমে কাজের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন।আপাত অবস্থান বলতে নিরীক্ষণ ছাড়াও লিডসের সম্মানিত সদস্য পূর্বদিক কর্ত্রিক প্রদত্ত হয়েছে যা কিনা আমাদের সবারই কম বেশি হয়েছে যেটা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তি সমস্যার কারণে হয়েছে।আমাদের যে কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অগ্রগতি সাধনে সাবধান থাকা দরকার সেটা কমনয়েলথ হোক,CENTO হোক কিংবা ইউনাইটেড নেশানই হোক না কেন।আমাদের সেসকল প্রতিষ্ঠানের প্রতি মনোনিবেশ করা দরকার যা পাকিস্তান সরকারের কাছে সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য হবে।ইউনাইটেড নেশানের সম্পৃক্ততা সম্মানিত সদস্যগন এবং আমিও কামনা করি যদিও আমার সম্মানিত বন্ধু ফরেন ও কমনয়েলথের সেক্রেটারি সম্মানিত সদস্যের এই ভাবনাকে অসম্মান করবেন না তথাপি অন্যান্য সম্ভাবনাগুলোও আমাদের পরিক্ষা করে দেখা দরকার।

লিডসের সম্মানিত সদস্য অস্ত্র সরবরাহের ব্যাপারে প্রশ্নে উল্লেখ করেছেন।আমার সম্মানিত বন্ধু প্রশ্ন পর্যালোচনা করেছেন।একমাত্র উল্লেখযোগ্য অস্ত্র লেনদেন করা হচ্ছে ১৯৬৭ সাল থেকে চলে আসা একটি চুক্তির ধারাবাহিকতা যা কিনা নৌ বাহিনির জাহাজ সংশোধনে এবং রাডারের যন্ত্রপাতির জন্য করা হয়।এছাড়া তেমন কোন উল্লেখযোগ্য অস্ত্রের লেনদেন যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের মধ্যে আজ অবধি সংঘটিত হয় নি।এবং আমার সম্মানিত বন্ধু বেশ আনন্দিত এটা জেনে যে এই চুক্তির কোন ধরনের পরিবর্তন আপাতত করতে হচ্ছে না আর আমার মনে হয় না এই ব্যাপারে আমাদের নেয়া পদক্ষেপ কোন কাজে আসবে।

ব্র্যান্ট ফোর্ড এবং চিজউইকের সম্মানিত সদস্য (জনাব বার্নস) পাকিস্তানি হাই কমিশনের মাধ্যমে এই দেশে পাকিস্তানি নাগরিকদের কার্যক্রম অনুসন্ধানের ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন।আমি যা বলেছি তা থেকে এটা সুস্পষ্ট ভাবে প্রতীয়মান যে পাকিস্তান হাই কমিশন থেকে এই ধরনের কোন তথ্যের জন্য পররাস্ট্র মন্ত্রনালয়ে অনুরোধ করা হয় নি।

পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা কার্যকরভাবে পুনরায় শুরু করবার জন্য সাহায্যের বিধান পুনরায় চালু করবার সক্ষমতার প্রশ্নে বিতর্ক আবারও কেন্দ্রিভুত হচ্ছে।পূর্ব পাকিস্তান ও ভারতে ত্রাণ সহায়তাকে অভ্যর্থনা জানানো ছাড়াও

এই ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছে যে,রাজনৈতিক অবস্থার স্থিতিশীলতা পুনঃস্থাপন করা ছাড়া এই কার্যক্রম পুনরায় শুরুর আশা আমরা করতে পারি না।

সেখানে আরও একটি সাধারন চুক্তি করা হয়েছে যেখানে পূর্ব পাকিস্তানকে ভবিষ্যতে সহায়তা দেবার জন্য জোর প্রদান করা হয়েছে।সম্মানিত লেডি তার পূর্ন সমর্থন দিয়েছেন।আমি পুনরাবৃত্তি করছি গত নভেম্বরে যখন থেকে আমি পাকিস্তানে আছি তখন এই মতবাদ পাকিস্তানি সরকারের মাধ্যমে সবার সাথে ভাগ করেছে।

আমার এর সম্মানিত বন্ধু এসেক্সের সদস্য দক্ষিণ-পূর্ব (জনাব ব্রেইনি) সহায়-সংঘের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন।যে বৈঠকের কথা তিনি ভাবছিলেন তা ১৯৭০ এর জুলাই মাসের সরকার পরিবর্তনের পরই সংঘটিত হয়েছিল।সেই সময় বিশ্বব্যাংক তাদের কার্যপ্রক্রিয়ার প্রোগ্রাম সৃষ্টি করে।সভায় আসন্ন বছরের জন্য প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমান ছিল ৩৭৬ মিলিয়ন ডলার।আমার সম্মানিত বন্ধু তার গানিতিক দক্ষতার কারণে সহজেই অনুমান করতে পারবেন অর্থের পরিমাণ।এই ত্রাণ কর্মসুচির বৃহত্তর দিক ছিল পাকিস্তানে গিয়ে কার্যক্রমে অংশগ্রহন করা।যখন জরুরি অবস্থার জারি হয়েছিল তখন আমরা তিনটি প্রধান আলোচনায় এগিয়ে ছিলাম এবং এর মধ্যে একটি মূলধন প্রকল্প আমরা আমাদের ত্রাণ কর্মসুচির আওতায় আনতে চেয়েছিলাম।সহায়-সঙ্ঘ সেদিন থেকে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সমস্যার মোকাবেলা করছে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে।আমার সম্মানিত বন্ধুরও এই বিষয়টি মাথায় ছিল।সেই সময়ে আমি খুব চিন্তায় পড়ে যাই কারণ তাকে রিপোর্ট করবার মত তেমন কোন তথ্য আমার কাছে ছিল না।একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং দাতা এবং পাকিস্তান সরকারের মাঝে আলোচনা চলছিল।আরও একটি বৈঠক হবে এবং আমি আশা করছি সেখানে অগ্রগতির সম্ভাবনা আছে।

পোর্টসমাউথ.ইস্টের সম্মানিত সদস্য (জনাব জুড),তিনি আমাকে অবগত করেছিলেন যে তাকে দ্রুত যেতে হবে,পূর্ব পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের কথা জিজ্ঞেস করছিলেন যে যাদেরকে তাদের ছাত্রজীবন স্থগিত করতে হবে।আমি নিশ্চিতভাবে বলেছিলাম যে, শুধুমাত্র জরুরি অবস্থায় তহবিলের অভাবে কোন পুর্ব পাকিস্তানি শিক্ষার্থিকে অকালে ছাত্রজীবন বন্ধ করতে হবে না।আমি সম্মানিত মহোদয়কে তার আশ্বাস দিয়েছিলাম।

আমরা বেশ কিছু ভাষণ শুনেছি,যার বেশ কিছুতে পূর্ব পাকিস্তানকে অপসারনের সম্ভাবনার ব্যাপারে সমর্থন ছিল।অন্য্যগুলোতে যদিও এই সম্ভাবনাকে সমর্থন দেয়া হয় নি তথাপি পাকিস্তানের দুই অংশের শান্তিপূর্ন এবং গঠনমূলক পূনর্মিলন নিয়ে সন্দেহ ছিল।এই ধরনের জল্পনার মুল্য প্রায় না থাকার মতই।পূর্বে আমি যা বলেছিলাম পরিশেষে আমি তাতেই বহাল থাকব,যে উদ্দেশ্য আমি উত্থাপন করেছি তা কামনীয়;সমগ্র পাকিস্তানের,পূর্ব এবং পশ্চিম,শান্তিপূর্ন ও স্থিতিশীল পুনরায় সৃষ্টি করা প্রবলভাবে কাম্য,যদি কিনা তা সাধিত হতে পারে,আমি অঙ্গীকার করছি যে আমরা আমাদের সকল ধরনের চেস্টা বহাল রাখব এবং পাকিস্তান সরকারকে তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তার জন্য যে কোন ধরনের চাপ প্রদানের আদেশ অব্যহত রাখব।

প্রশ্ন করা এবং করতে সম্মত হওয়া।

সংশোধিত

এই প্রতিষ্ঠান,পূর্ব পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া হত্যাকান্ড ও ধ্বংসের এবং বছরের শেষে খাদ্যাভাবের সম্ভাব্য সঙ্কটের ব্যাপারে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন,মহামান্য সরকারকে এই বিবাদের সমাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য তার সকল ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে,ইউনাইটেড নেশান অথবা অন্যন্য ত্রাণ সহায়তা সংস্থার স্বীকৃতি এবং রাজনৈতিক সমঝোতা অর্জনই পাকিস্তানের জনগনের গনতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মান দেবে।

.

 

13.09.80-82

শিরোনাম সূত্র তারিখ
পাকিস্তানকে সাহায্য দান ও শরণার্থী ত্রাণসামগ্রী সম্পর্কে পররাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি ও এ সংক্রান্ত বিতর্ক কমনস সভার কার্যবিবরণী ১৭ মে, ১৯৭১

 

জনাব শোর যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো কি ধরণের ত্রাণসামগ্রী পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে পৌছেছে;আর ত্রাণদানকারী সংস্থাগুলো বিতরণ কাজ পরিদর্শন করার সুযোগ পাচ্ছে কিনা তা পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ সম্পর্ক বিষয়ক সচিবের নিকট জানতে চাইলেন।

পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ সম্পর্ক বিষয়ক সচিব(স্যার এলেক ডগলাস হিউম) এর বক্তব্যঃ আমি আমার পূর্বতন বক্তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আমি এই বিষয়ে গত ১১ই মে এবং ১৪ই মে হাউজে পৃথক বক্তব্য রেখেছিলাম।(ভলিউম ৮১৭. সি.২০৬-২১৩ ; ভলিউম ৮১৭. সি. ৭৬১-৭৬৭)

জনাব শোর এর বক্তব্যঃ সম্মানিত বক্তার খেয়াল আছে কি,পাকিস্তানে একটি পর্যবেক্ষণকারি দল প্রবেশের প্রস্তাব,পুনরায় পাকিস্তান সরকারের কাছে তুলে ধরার জন্য,তিনি ইউ থান্টকে কিছু কাগজ জমা দিয়েছিলেন।সে বিষয়ে পাকিস্তান সরকার ইউ থান্টকে কোন জবাব দিয়েছে কি?তিনি কি অবগত আছেন,গত ১৩ তারিখ চিঠি-আদান প্রদানে বিষয়ে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে,তাতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোন আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।

স্যার এলেক ডগলাস হিউম এর জবাবঃ আমি এই বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছি।জাতিসংঘ এবং বিশ্বব্যাংক পাকিস্তান সরকারের সাথে যোগাযোগ করছে।আমি আজকে,নতুন কোন তথ্য জানাতে পারছি না,তবে বলতে চাই যে,তাদের মধ্যে যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ আছে এবং প্রত্যাশা করি তারা বিষয়টির গুরুত্ব উপলদ্ধি করতে পেরেছে।

জনাব হিলে এর বক্তব্যঃ প্রেস রিপোর্টে বলা হচ্ছে-জাতিসংঘ পূর্ব বাংলায় ত্রানসামগ্রী পাঠাতে চায়, এই মর্মে পাকিস্তানকে “ইউ থান্ট” যে অনুরোধ করেছিল,পাকিস্তান সরকার সে অনুরোধ প্রত্যাখান করেছে।এই বক্তব্যটির সত্যতা কতটুকু-সেটা কি মাননীয় সচিব আমাদের জানাতে পারবেন?প্রকাশিত রিপোর্টসমূহ সত্য হতে পারে–এই ধারণা করে কি তাঁর সরকার কি কোন বিবৃতি তৈরি করেছে?

স্যার এলেক ডগলাস হিউম এর জবাবঃ এখানে দুইটি বিষয় আছে।প্রথম বিষয়টি হল,ভারতে অবস্থিত শরনার্থী ক্যাম্পগুলোর কথা চিন্তা করে বলা যায় যে,ত্রানসামগ্রী দুটি ভাগে ভাগ হওয়া উচিত,এমনকি এক্ষেত্রে ভারতের শরনার্থী ক্যাম্পগুলোকেই প্রাধাণ্য দেওয়া উচিত।পরের চিন্তা হল,যদি পুর্ব পাকিস্তানে তীব্র দুর্ভিক্ষ হয়ে থাকে তাহলে সেখানেও প্রচুর ত্রানসহায়তার দরকার পড়বে।বর্তমান প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সরকার বলছে-ত্রানসামগ্রী শুধুমাত্র পূর্ব পাকিস্তানে পাঠানো উচিত এবং সেটা অবশ্যই সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে বিতরণ করা উচিত।ত্রাণসামগ্রী জাতিসংঘ কর্তৃক বিতরণের ব্যাপারে,ইউ থান্ট এবং পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা এখনো চলছে।

জনাব হিলে এর বক্তব্যঃ পূর্ব বাংলার প্রায় ৪ মিলিয়ন মানুষ এখন বন্যাজনিত কারণে প্রচন্ড দুর্দশার মধ্যে আছে,চট্টগ্রামে এখন যে খাদ্য মজুদ আছে,তা যদি দ্রুত সবার কাছে পৌঁছান না যায়,তাহলে সাধারণ মানুষ দুর্ভিক্ষের কারণে মারা যাবে।একথা গত শুক্রবার বৈদেশিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন।–এবিষয়ে আমরা সকলে অবগত আছি। এ বিষয়ে কি কোন অগ্রগতি হয়েছে?

স্যার এলেক ডগলাস হিউম এর জবাবঃ ভারতীয় সরকারের অনুরোধে,এ বিষয় বিবেচনায় জাতিসংঘের একজন দূত এখন ভারতে অবস্থান করছেন। আমি আশা করি যে, অতি শীঘ্রই তাঁর কাছ থেকে এই বিষয়ে কোন সুপারিশ আমরা পাব।আর হ্যাঁ,যদি প্রয়োজন হয়,আমরা ত্রাণপরিবহন কাজের ব্যাপারে সাহায্য করব,কিন্তু সেটা হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক কোন সংস্থার ছত্রছায়ায় এবং এক্ষেত্রে জাতিসংঘ সবচেয়ে ভালো উপায়/মাধ্যম হতে পারে।

২৮। জনাব গ্রেভিল জেনার, বৈদেশিক এবং কমনওয়েলথ বিষয়ক সচিবের কাছে পূর্ব পাকিস্তানের ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে বিষয়ক তিনি(বৈদেশিক এবং কমনওয়েলথ সচিব) কি কোন পুনঃ কোন নোটিশ দিবেন কিনা তা জানতে চাইলেন।

স্যার এলেক ডগলাস হিউম এর জবাবঃ পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানরত যুক্তরাজ্যের কোন নাগরিকের হতাহত হওয়ার নিশ্চিত খবর পাওয়া যায় নি। একটা রিপোর্টে ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রমকালে এক যুক্তরাজ্যের নাগরিকের আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে কিন্তু তদন্ত ব্যতিরেখে ঐ ঘটনার কোন সত্যতা নিশ্চিত করা যায় না।

জনাব জেনার এর বক্তব্যঃ সম্মানিত বক্তা কি অবগত আছেন,আমাদের দেশে অবস্থানরত অনেক মানুষের আত্মীয়-স্বজন পুর্ব পাকিস্তানে আছেন,তাঁদের আত্মীয়-স্বজন জীবিত কি মৃত সেই খবর তাঁরা পাচ্ছেন না ? তিনি কি এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন,যাতে এখানকার মানুষগুলো (ব্রিটিশ নাগরিক বা নাগরিক নয় সবাই)তাঁদের পরিবার ভালো আছে কি নেই, সেই খবর নিতে পারে?

স্যার এলেক ডগলাস হিউম এর জবাবঃ লন্ডনে পাকিস্তান দুতাবাস থাকার অন্যতম কারণ তো এটাই। তাঁদের আত্মীয়দের পাকিস্তানের রাস্ট্রদূতের কাছে যাওয়া উচিত যে কোন ধরণের তথ্য ও পরামর্শের জন্য তাঁর শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

জনাব,জর্জ কানিংহাম এর বক্তব্যঃ মাননীয় সচিব কি স্বীকার করবেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পূর্ব বাংলার কোন ব্যক্তির পক্ষে হাইকমিশনে গিয়ে তাঁর আত্মীয়ের খোঁজখবর নেওয়া নিতান্ত অসম্ভব? ব্রিটিশ নাগরিকরা ব্রিটিশ কূটনৈতিক দপ্তরসমূহ থেকে যেরকম সুবিধা পায়,এই দেশে অবস্থানকারী কিন্তু ব্রিটিশ নাগরিক নয় এমন ব্যাক্তিদেরও এই ব্যাপারে অনুরূপ সাহায্য দেওয়া হবে,এইরকম কোন নিশ্চয়তা কি তিনি(সচিব) আমাদের দিতে পারেন?

স্যার এলেক ডগলাস হিউম এর জবাবঃ হাইকমিশনের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য থাকলে,পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ হাইকমিশনে তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের তথ্য অনুসন্ধানের জন্য গিয়ে কোনরকমের অসুবিধায় পড়ার কথা না।আমি ভেবেছিলাম যে,পার্লামেন্টের সম্মানিত সদস্যরা হয়ত ভালোভাবেই জানেন-আমাদের কাছে যে পরিমাণ তথ্য আছে,তার চেয়ে বেশি তথ্য হাইকমিশনের কাছে আছে।যদি মানুষ অসুবিধায় পড়ে,আমরা তাঁকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারব এবং তা করব।কিন্তু হাইকমিশনই এক্ষেত্রে সর্বোৎকৃষ্ট জায়গা-যেখান থেকে তাঁরা সাহায্য পেতে পারে।

স্যার এফ. বেনেট. এর বক্তব্যঃ আমার বিরোধীদলীয় সদস্যের বক্তব্য,পাকিস্তানের হাইকমিশনার প্রতি নীরব অসমর্থনের প্রমান নয় কি?এটা কি এমন কোন ব্যাপার যে, ডেপুটি হাই কমিশনার একজন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালী নয় বলে তাঁরা সেখানে যাচ্ছেন না?

স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ হ্যাঁ,আমার ভাবা উচিত যে, হাইকমিশনার এবং তাঁর সহকারীরা পাকিস্তানি নাগরিকদের তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে যথাসাধ্য সাহায্য করবে।যদিও বর্তমানে তথ্য পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৩১) জনাব জুড পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক সচিবের কাছে জানতে চাইলেন,পূর্ব পাকিস্তানে চলমান সংঘাত এর পর থেকে পাকিস্তানে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পুনঃমূল্যায়নের জন্য তিনি পাকিস্তানের ত্রাণদানকারী সংস্থাকে তিনি কি কি প্রস্তাব দিয়েছেন?

বৈদেশিক উন্নয়ন সংক্রান্ত মন্ত্রী(জনাব, রিচার্ড উড) এর বক্তব্যঃ আমি প্রস্তাব দেওয়ার মতো এমন কোন অবস্থানে নেই।আমাদের মত হল,বর্তমানে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে যে আলোচনা হচ্ছে,তা সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা।

জনাব জুড এর জবাবঃ আমার পুর্বতন বক্তাকে তাঁর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তাঁকে অনুরোধ করতে চাই,পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ যাতে ত্রাণসুবিধা থেকে যাতে বঞ্চিত না হয় সেটা নিশ্চিত করার নিমিত্তে ,তিনি যাতে সবসময় কনসর্টিয়ামের(সংস্থাটির) রিভিউ আহব্বান করার জন্য প্রস্তুত থাকেন।

জনাব উড এর জবাবঃ এই বিষয়ে সংস্থাটির(কনসর্টিয়াম)মতৈক্যে পৌঁছানো উচিত, আমি এই বিষয়ে খুবই চিন্তিত এবং এজন্য সংস্থার(কনসর্টিয়ামের) সামনের সভায় আমাদের অবস্থান কি হবে নিশ্চিত করতে,আমি বিষয়টি সতর্কতার সাথে বিবেচনা করছি।

জনাব টিলনে এর বক্তব্যঃ গত কয়েক বছর ধরে,ঝড় ও বন্যার মতো জরুরি পরিস্থিতির জন্য ফান্ড সংগ্রহের যে কথা চলে আসছিল,সেটা কি আমার মাননীয় সহকর্মী বিবেচনায় রাখবেন না?

জনাব উড এর বক্তব্যঃ আমি এই বিষয়ে নোট নিয়ে রাখছি।

জনাবা হার্ট এর বক্তব্যঃ এই জুনেই দাতাসংস্থার প্রস্তাবিত বৈঠক আয়োজিত হবে,এই বিষয়টি কি আমার পূর্বতন বক্তা কি নিশ্চিত করতে পারবেন?গত শুক্রবারে,হাউজে এই বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে নানা মতের উদ্ভব হয়েছে। আমাদের প্রস্তাব এবং সংস্থার(কনসর্টিয়াম) সাধারণ আলোচনা অনুযায়ী,এই বিষয়ে আলোচনার অগ্রগতির খবর কি আমার পূর্বতন সম্মানিত বক্তা হাউজকে নিয়মিতভাবে জানাতে পারবেন?

জনাব উডের বক্তব্যঃ আমি আশা করি আমার পূর্বতন বক্তা কে উভয় বিশয়ের আমি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারব।

 

.

13.10.83-92

শিরোনাম সূত্র তারিখ
ত্রাণ সাহায্য ও সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের ব্যাপারে বৃটিশ সরকারের ভূমিকাঃ পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্য ও তৎসংক্রান্ত বিতর্ক কমনস্‌ সভার কার্যবিবরণী

৮ জুন, ১৯৭১

 

 

 

পূর্ব পাকিস্তান

 

পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী (স্যার এ্যালেক ডগলাস-হোম): সংসদীয় সভার মাননীয় স্পিকার, আপনার অনুমতিক্রমে আমি একটি বিবৃতি প্রদান করতে চাই।

পূর্ব পাকিস্তান হতে ভারতে শরণার্থীদের প্রবাহে পাকিস্তানের পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ার সময় হতেই সংসদে বিতর্ক হয়েছে। এই সংখ্যাটি এখন আনুমানিক ভাবে ৪০ লক্ষাধিক বলে পরিগনিত হচ্ছে।

এপ্রিলেই এটা স্পষ্ট হয়েগিয়েছিল যে পূর্ব পাকিস্তানের চলমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে খাদ্য সরবরাহ সম্পর্কিত পরিস্থিতির গুরুতর আকারের রূপ নিতে পারে। এইজন্যই আমেরিকার স্বরাষ্ট্র সচিব এখানে যখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া চুক্তি সংস্থার সভার জন্য ছিলেন তখন আমরা যৌথভাবে জাতিসংঘের মহাসচিবের নিকট তা উপস্থাপন করি এবং তাঁর কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই যেন পূর্ব পাকিস্তানে জাতিসংঘের একটি দলকে তৈরী করা হয় যাতে ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় বিষয়ে ধারণা করতে পারে এবং সেই হিসাবে পর্যাপ্ততানুযায়ী আন্তর্জাতিক ত্রাণ গঠন করতে পারে।

ভারতে শরণার্থীদের জন্য উ থান্টের দ্বারা জারিকৃত প্রথম আর্থিক আবেদনের প্রেক্ষিতে এর পরের দিনই যাদের সবচাইতে বেশী ত্রাণের প্রয়োজন তাদের জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মহামান্য রানীর প্রশাসন ১ মিলিয়ন পাউন্ডের অনুমোদন দেন। একই সাথে আমরা ৭৫০,০০০ পাউন্ড মূল্যমানের খাদ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি প্রদান করি। আহ্বানের দুই সপ্তাহের মধ্যেই সর্বমোট অবদানের যে পরিমাণ তার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই হচ্ছে মহামান্য রানীর প্রশাসন দ্বারা দেওয়া সহযোগীতার। অন্যান্য দেশগুলো সরাসরি ভারতকেই সাহায্য প্রদান করেছে এবং অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে জাতিসংঘের ত্রাণ সাহায্যের জন্য আরো যোগাড় করা হচ্ছে, কিন্তু তার চাইতেও আরও বেশী সাহায্যের প্রয়োজন হবে যদি তা মহসাচিবের দেওয়া ১৭৫ মিলিয়ন ডলার সাহায্যের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়।

এছাড়াও, সেইখানে যারা যারা কাজ করছেন তাদের দেওয়া ভাষ্য অনুযায়ী দ্রুতই অন্যান্য যে সকল অত্যন্ত জরুরী সহযোগীতার প্রয়োজন তার জন্য আমরা আরও সাহায্য করার ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা তাৎক্ষণিকভাবেই তা অনুমোদন করেছি যাতে জাতিসংঘের তহবিলে কোনরূপ ঘাটতি তৈরী না হয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ত্রাণ সংগ্রহের সেই প্রয়োজনীয়তা অনুসারে দরকারি ব্যাপারগুলো যাতে পূরণ করা যায়।

শরণার্থীদের অব্যাহত বর্ধিত আগমন এবং ৪ঠা জুনে ভারত সরকার কর্তৃক কলেরার মহামারী হিসেবে রূপ নেওয়ার ঘোষণায় কিছু বিষয় এখন চিহ্নিত করা গিয়েছে, যেমন- আশ্রয়, ঔষধ সামগ্রী, পরিবহন এবং খাদ্য।

সাহায্যের প্রথমভাগে ৬ইমে’র শুরুতেই বৃটিশ দাতব্য সংস্থাগুলো পরিবহনের মাধ্যমে তাঁবু পাঠিয়ে যার মূল্য পরিশোধ করেছিল মহামান্য রানীর প্রশাসন। বর্তমানে আমরা পাঠানোর জন্য বড় আকারের তাঁবু সিঙ্গাপুর হতে সংগ্রহ করছি। গতকালই আমি ঘোষণা করেছিলাম যে, কলেরার ভ্যাকসিন, সিরিঞ্জ এবং স্যালাইনের জন্য আমরা মূল্য পরিশোধে প্রস্তুত আছি যাতে আর্থিক সংকটের জন্য কোন প্রকারের দেরী না হয়। ১ মিলিয়নেরও বেশী ভ্যাকসিন ডোজ ও একটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল সম্বলিত দুইটি বৃহৎ চালান

 

পাতা নংঃ ৮৩

 

বৃটিশ দাতব্য সংস্থা দ্বারা প্রেরণ করা হয়েছে। সরবরাহ যাতে ঠিকমতো পৌঁছায় তার প্রয়োজনানুযায়ী আমরা পরিবহণের ব্যবস্থা করেছি এবং যতক্ষণ এরূপ সাহায্যের প্রয়োজন থাকবে ততোক্ষণ এমনই করে যাবো। উ থানটকে আমি বলেছি যে, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও যোগ্য প্রশাসনিক লোকের যোগান দিতে আমরা প্রস্তুত আছি। খাদ্যের বিষয়ে আমাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সহায়তা জাতিসংঘের মাধ্যমে পৌঁছানো হবে।

এই ব্যাপারটি মোকাবিলায় বৃটিশ দাতব্য সংস্থার সাড়া দেওয়াটা দুর্দান্ত ছিল, কিন্তু এই প্রকারের সমস্যা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় পরিষদের দ্বারা সমন্বয়ের ও নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে। ভারত সরকার এতে উদারতা এবং সংস্থানের মাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, কিন্তু এটা পরিষ্কার যে, এই বোঝা শুধুমাত্র তাদের একার উপর বর্তায় না। তাই মহামান্য রানীর প্রশাসন মনে করেন যে, এর দায় দায়িত্ব অবশ্য জাতিসংঘকে গ্রহণ করতে হবে।

উ থান্ট জাতিসংঘের হাই কমিশনারকে শরণার্থী বিষয়ে সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়গ করেছেন। বর্তমানে হাই কমিশনার নিজেও পাকিস্তানে অবস্থান করছেন এবং তার প্রতিনিধিত্বকারীদেরকে পশ্চিম বঙ্গ ও পূর্ব পাকিস্তানে রেখেছেন।

উ থান্টকে আমি বলেছি যে, আমরা আর্থিক ও পরিস্থিতির বিবেচনায় অন্যান্য প্রয়োজনীয়তাতে আরও অবদান রাখতে প্রস্তুত আছি এবং আমি মনে করি যে সমন্বয়কারী নিশ্চিত করবেন যে জন-সংস্থা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের উৎসগুলোর সাহায্যকে প্রয়োজনানুসারে সর্বোচ্চ ব্যবহারিকতার বিচারে প্রয়োগ করবেন।

এখানে তিনটি সমস্যা রয়েছে যা একটি অন্যান্যগুলোর সাথে সংযুক্ত। প্রথমটি হচ্ছে শরণার্থীরা। এদের অব্যাহত আগমন থামাতে এবং পাকিস্তানে তাদের ফিরে যাওয়ার জন্য পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি তৈরীর আস্থা যোগাতে হবে যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপরই নির্ভর করছে। দ্বিতীয়ত, পুরো দেশজুড়ে বিদ্যমান পরিস্থিতিকে জীবনধারণকে সামাল দিতে পারার মতো পাকিস্তানের অর্থনীতির সেই যোগ্যতার হতে হবে। কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করার অন্তবর্তীকালীন সময়ে নতুন কোন ত্রাণের সরবরাহ না আসলে হাজারো লোককে কর্মহীন করে দিতে পারে যা এই বিদ্যমান হৃদয় বিদারক পরিস্থিতিতে নতুন দুর্বিপাকের ক্ষেত্র যোগ করবে মাত্র।

সর্বশেষ হচ্ছে, এই বছরের শেষদিকে পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও খাদ্য উৎপাদনের স্বল্পতায় দুর্ভিক্ষের বিস্তার ঘটার সম্ভাবনা। এই প্রয়োজনীয়তার বিচারে পাকিস্তান সরকারকে অবশ্যই জাতিসংঘের সমন্বকারীর সাথে সহযোগীতার মাধ্যম পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

পরিস্থিতির অগ্রগামীতা সম্পর্ক আমি আমাদের সংসদকে অবহিত করবো।

মিসেস জুডিথ হার্টঃ আমি সম্মানিত রাইট ভদ্রমহোদয়কে তাঁর বক্তব্যের জন্য এবং বৃটিশ দাতব্য সাহায্যকারী সংস্থার প্রচেষ্টা নিয়ে তাঁর নিজস্ব উপলব্দিকে জ্ঞাপনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমি কি তাঁকে তিনটি প্রশ্ন করতে পারি?

প্রথমত, দুর্ভোগ এবং প্রয়োজনের ব্যাপারে পুরোদস্তুর বর্ণনা দেওয়া, তিনি কী বর্তমানে উ থান্টের জাতিসংঘ ওসরাসরি ভারত উভয়কেই ত্রাণ কার্যকলাপে আরও বেশী করে সহযোগীতা করার বিষয়টিকে বিবেচনা করবেন না, যখন ২ মিলিয়ন পাউন্ড সহ আরও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি করার বিষয়টি রয়েছে তখন কী তা এই বিষয় নিয়ে বৃটিশদের বর্তমান উদ্বেগের মাপকাটি নয়?

দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানে ভবিষ্যৎ ত্রাণ কার্যক্রমে মাননীয় রাইট ভদ্রমহোদয় কী নিশ্চিত করছেন যে আসন্ন পাকিস্তান এইড কন্সোর্টিয়ামের সভায় পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুতরভাবে বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা ও অর্থনৈতিক সঙ্কটাপন্ন পটভূমিতে বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে সে সরকার তার কথামতো শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধান কী অন্য কোন অর্থে বা ভবিষ্যৎ ত্রাণ কার্যক্রমের চাইতে অপরিহার্য হিসেবে পুনঃবিবেচনা করবে?

.

সুজয় বড়ুয়া

<<<ত্রয়োদশ খণ্ড- ৮৫ পৃষ্ঠা>>>

তৃতীয়ত, পরবর্তী কথাগুলো এই দ্বন্দ্বের প্রভাব সম্পর্কিত- পাকিস্তানের মধ্যে যে একটি দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে, সেটি এখন পাকিস্তানের সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং সেটি আন্তর্জাতিক শান্তি এবং এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার পূর্বের সম্মানিত বক্তা কি এই বিষয়ে আমার সাথে একমত যে, বিষয়টিকে এখন আর শুধুমাত্র পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে, বিবেচনা করা যায় না? জরুরি বিষয় হিসেবে নিরাপত্তা কাউন্সিল কিংবা অন্য কোন উপযুক্ত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়টি উত্থাপন করা যায় কিনা, সেটা কি তিনি বিবেচনা করে দেখবেন? স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ বর্তমানে আরো আর্থিক বরাদ্দ দেওয়ার ব্যাপারে আমার পূর্বতন সম্মানিত বক্তা যে প্রশ্ন করেছেন তার উত্তরে বলছি, এটা করা উচিত হবে কিনা সেটা অবশ্যই আমরা বিবেচনা করে দেখবো। ভারতীয় সরকারের কাছ থেকে সরাসরি কোন অনুরোধ আমাদের কাছে আসে নি, যদিও জুনের ১৭ তারিখে ভারতীয় কনসোর্টিয়াম এর সভা বসার কথা রয়েছে। সে সময়ে, আমাদের ধারণা অনুযায়ী ভারতীয় কোন অনুরোধ আসে কিনা, সেটা দেখার জন্য আমি ঐ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই। সাহায্য সংক্রান্ত পাকিস্তানী কনসোর্টিয়াম এর অনেক আগেই বৈঠকে বসবে। কনসোর্টিয়ামের সব সদস্য পাকিস্তান সরকারকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, সেখানে একটি রাজনৈতিক কাঠামো থাকতে হবে, যার মাধ্যমে সাহায্য প্রদান করা হবে।

.

আমার পূর্বতন সম্মানিত বক্তা তাঁর সর্বশেষ পয়েন্টে, বিষয়টিকে পাকিস্তান অথবা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় থাকছে না উল্লেখ করে এবং বিষয়টিকে নিরাপত্তা পরিষদে তোলার কথা উল্লেখ করেছেন, সেটার উত্তরে বলছি, বিষয়টি অবশ্যই প্রথমত ভারত অথবা পাকিস্তানের এবং এদের মধ্যে কেউই এখন এধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়নি। . জনাব, হ্যারল্ড উইলসনঃ আমার পূর্বতন সম্মানিত বক্তা কি অবগত আছেন যে পুরো হাউজ এবং আমি বিশ্বাস করি সারা দেশের প্রতিনিধি নির্বাচনকারীরা জানেন পূর্বের ঘটা যেকোন ঘটনার চেয়েও খারাপ মানবিক বিপর্যয় সেখানে হয়েছে,যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, এমনকি যুদ্ধাবস্থা ছাড়াও?

.

নিশ্চয়ই, এমতাবস্থায় যখন বিষয়টিকে যথাযথ কোন উপায়ে মোকাবেলা করার কোন ইচ্ছে নেই, আমি কি আমার পূর্বতন সম্মানিত বক্তার কাছে জানতে চাই- তিনি কি অবগত আছেন দেশজুড়ে এমন মনোভাব আছে যে, এ বিষয়টিতে জরুরি তাগাদার অভাব আছে বলে তারা মনে করে? (সম্মানিত সদস্যমণ্ডলী-“ননসেন্স”)। যদি অপরপক্ষের সম্মানিত সদস্যরা বাধা দানে নিমগ্ন হন, আমি আগে যা বলেছি তা অবশ্যই আবার বলবো যে, ধারণা করা হয় সেখানে ত্রাণসহায়তা বিষয়ের চেয়ে “সাধারন আলোচনা” এর বিষয়ই অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। . উদাহরণস্বরূপ, বৈদেশিক সচিব কি অবগত আছেন, কয়েক সপ্তাহ হয়ে গেছে, যখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে জরুরি ও গুরুত্বের দিক উল্লেখ করে তাঁকে চাপ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন এবং এই সপ্তাহগুলো কেটে গেলেও যে, তাঁর কাছ থেকে ঐ প্রশ্নের বিষয়ে কোন রিপোর্ট হাউজ পায়নি?

.

এটির গুরুত্ত্বের কথা তুলে ধরে, আমার পূর্বের সম্মানিত বক্তা ১৭ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা বলছেন। তিনি কি এখানে এবং এখন সরকারী ডেসপ্যাচ বক্স থেকে জরুরি নিবেদন করে যথাযথ পন্থা যেটা অবলম্বন করে হাউজের প্রধানের সাথে আলোচনা করে আগামীকাল হাউজে এই জরুরী বিষয়ের আলোচনার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে কিনা, তা জানাতে পারবেন? (সম্মানিত সদস্যমণ্ডলী- “আগামীকাল এই বিষয়ে আলোচনা হবে”)। আমি বলেছি যে আমাদের এ জরুরি বিষয়ে আলোচনা করা উচিত। আগামীকাল সাহায্য বিষয়ক আলোচনাটি আরো বেশি গঠনমূলক হবে কারণ এতে উভয় পক্ষের সম্মানীত সদস্যরা বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাবেন। যদি সাধারণ সাহায্য সংক্রান্ত বিতর্কে বেশিরভাগ কথাই যদি পাকিস্তান সম্পর্কিত থাকে- তাহলে ব্যাপারটা অশোভনীয় হবে। . আমার পূর্বতন সম্মানিত বক্তা কি হাউজের মূলবিষয় পুনঃনির্ধারিত করার জন্য, তার পূর্বতন সম্মানিত বন্ধুপ্রতিম বক্তাকে অনুরোধ করবেন- আমাদের সরকার এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করে সময় নষ্ট করুক,

 

<<<<ত্রয়োদশ খণ্ড, ৮৬ পৃষ্ঠা>>> . সম্ভবত সাহায্য সংক্রান্ত আলোচনা দীর্ঘায়িত করে – তা আমরা চাই না? আমরা এখনো পর্যন্ত যতগুলো মানবিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি এর মধ্যে একটি অন্যতম জরুরি ঘটনা। আমরা যদি আগামীকালেরর মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনার আয়োজন করতে না পারি, তাহলে ত্বরিতগতি দেখাতে না পারার কারনে আমরাও অপরাধী হব। . স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ অবশ্যই, এটি আমাদের অনেকদিনের দেখা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম; এবং বিষয়টি কেউই অস্বীকার করছে না। আমার পূর্বের সম্মানিত বক্তা আশু প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। আমি যে বলেছিলাম-যুক্তরাজ্য থেকে যে সাহায্য এসেছে, তার চল্লিশ শতাংশ সাহায্য গতো সপ্তাহ থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে কথাটি সম্ভবত তিনি শুনেননি। . তারিখের কথা বলতে গিয়ে আমি ১৭ জুনের কথা উল্লেখ করেছি কারণ পূর্বের সম্মানিত বক্তা ল্যানার্ক এর সদস্য (মিসেস হার্ট) ভারতের একটি অনুরোধের কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি বুঝতে পেরেছি যে, তিনি যে তারিখের কথা বলেছেন, সে তারিখে কনসোর্টিয়ামে যেখানে তাঁদের মধ্যে সভা হওয়ার কথা আছে, সেখানে ভারত কাছ থেকে কোন অনুরোধ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদি এখন থেকে সেই সময়ের মধ্যে কোন অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হয়, আমরা তা সরবরাহ করবো।

.

আমি আশা করবো, এই দেশের সমালোচনা করার পরিবর্তে – যেটা আদৌ প্রয়োজন নেই<বিরতি>আমার পূর্বের সম্মানিত বক্তা এই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাতে মানুষকে যুক্ত করতে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। . জনাব, বয়েড কার্পেন্টারঃ মহারাণীর সরকার সাহায্য পাঠানোর দিক দিয়ে যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন- সেটা সারা বিশ্বের কাছে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, সেটার প্রশংসা করার পাশাপাশি আমি আমার সম্মানিত পূর্বতন বন্ধুর কাছে জানতে চাই, পাকিস্তান সরকার কিংবা ঢাকায় নিযুক্ত সহকারী হাই কমিশনারের বরাত দিয়ে তিনি কি বলতে পারবেন,কি কি কারণে এই বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে, এই কারণগুলো কি এখনো বিদ্যমান আছে এবং এই কারণগুলোর কি প্রতিকার আছে?

.

জনাব, বয়েড কার্পেন্টারঃ মহারাণীর সরকার সাহায্য পাঠানোর দিক দিয়ে যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন- সেটা সারা বিশ্বের কাছে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, সেটার প্রশংসা করার পাশাপাশি আমি আমার সম্মানিত পূর্বতন বন্ধুর কাছে জানতে চাই, পাকিস্তান সরকার কিংবা ঢাকায় নিযুক্ত সহকারী হাই কমিশনারের বরাত দিয়ে তিনি কি বলতে পারবেন,কি কি কারণে এই বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে, এই কারণগুলো কি এখনো বিদ্যমান আছে এবং এই কারণগুলোর কি প্রতিকার আছে? . স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ এই মানুষগুলোর উপর প্রভাব বিস্তার করছে ভয়। তারা পালিয়ে গিয়েছিলো কারণ তারা মনে করছিল পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাদের কাছে অসহনীয় জনসংখ্যাকে দমন করার জন্য কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই কারণেই তারা ভারতীয় সীমান্তর দিকে পালিয়ে গিয়েছিল। এই সব শরনার্থীদের ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায় হল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে হবে, যেটা তাদের তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা জোগাবে। আমি পাকিস্তানী সহকারী হাইকমশিনারকে নিয়মিতভাবে দেখেছি। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার তৎপরতা দেখে সন্তুষ্ট। তিনি বলেছেন যে তারা উদ্দেশ্য যত দ্রুত সম্ভব এই বিষয়টির সুরাহা করা। যদি, এমনটা ঘটে তাহলে আমরা কিছু শরণার্থীকে ফিরতে দেখবো। কিন্তু আমি এই ভেবে ভীত যে, এটি না ঘটা পর্যন্ত তারা ফিরবে না।

.

জনাব মাইকেল স্টুয়ার্টঃ আমার পূর্বতন সম্মানিত বক্তা কি বলতে পারবেন এই পরিস্থিতে কেন ঢাকায় নিযুক্ত মহারাণীর প্রতিনিধিকে ফিরিয়ে আনতে আপাত প্রস্তাব আনা হয়েছে, এবং তাঁর পরিবর্তে অন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? . স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে কারণ তাকে প্রচুর ধকল পোহাতে হয়েছে এবং তাঁর স্বল্প বিশ্রামের প্রয়োজন। আমরা তাঁকে পরিবর্তন করছি। . জনাব ডাডস পারকার, এমন পরিস্থিতিতে কি পরিমাণ সুবিধাদি, মানুষ ও সামগ্রী সিঙ্গাপুরে পাঠানো প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে? . স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ আমরা সিঙ্গাপুর থেকে বিমান ব্যবহার করতে সমর্থ হয়েছি এবং আমরা

.

পৃষ্ঠা ৮৭-৮৮ (৮৭ এর দ্বিতীয় প্যারা থেকে শুরু)

 

 

মিস্টার ডেভিড স্টিলঃ তিন মাস আগে, ৭ এপ্রিল তারিখে, ব্রিটিশ চ্যারিটির সমন্বয়ক তার রিপোর্টে অবর্ণনীয় যে দুঃখজনক পরিস্থিতির পূর্বাভাষ দিয়েছিলেন, সেটি সম্পর্কে সরকার কি অবগত ছিল?যদি সরকার অবগত থেকে থাকে, তাহলে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিরক্ষা বিভাগ, সরকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং অন্যান্য দেশের সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার লক্ষে যথেষ্ট সমন্বয় করা হয়েছিল কিনা, এ ব্যাপারে সরকারের মান্যবর ভদ্রমহোদয় ও তার অধীন বিভাগ কি নিশ্চিত?

 

স্যার অ্যালেক ডগলাস-হোমঃ আমি মনে এটি নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, প্রয়োজনমাফিক মোতায়েনের জন্য যথেষ্ট সংখ্যক যানবাহন আমাদের কাছে আছে, এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে ব্যবহারের জন্য কিছু বাড়তিও মজুদ আছে।

 

স্যার এইচ লেগ-বুর্কঃ মহারানির সরকার এ বিষয়ে যা যা ত্বরিত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়েছে, তা পুরো জাতির চিন্তা ও প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, এ বিষয়ে কি আমার বন্ধু সরকারের মান্যবর ভদ্রমহোদয় অবগত আছেন?

 

চূড়ান্ত দুর্ভোগ ও অচলাবস্থার মাঝে এই শরণার্থীদের কলিকাতা অভিগমনের যে ধারা – সেটি কি আমার মান্যবর মন্ধু বিবেচনায় নিয়েছেন? কলেরা রোগ প্রতিষেধ করার চেয়ে কলিকাতা অভিমুখে শরনারথীর ঢল থামানো যে বেশি জরুরি, সেটি কি তিনি অনুধাবন করেন? এই ঢল থামানোর জন্য মাঠ পর্যায়ে প্রতিরোধব্যবস্থা বৃদ্ধি করার জন্য ভারত সরকারের তরফ থেকে কমনওয়েলথের কোন সমন্বিত পদক্ষেপের অনুরোধ আসলে, সেটি কি যথাযথ বিবেচনায় নেয়া সম্ভব?

 

স্যার অ্যালেক ডগলাস-হোমঃ আমার জানা মতে, বর্তমান পরিস্থিতে ভারত সরকার মনে করছে যে বিদ্যমান সমস্যা মোকাবেলার সামর্থ তাদের আছে। তবে তারা যদি কোন রকম সহায়তার প্রয়োজন বোধ করে, তারা অবশ্যই নির্দ্বিধায় সেটি জানাতে পারে।

 

মিস্টার ডগলাস-মানঃ আমি মেনে নিচ্ছি যে ফরেন সেক্রেটারি মহোদয় শরণার্থীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের জন্য রাজনৈতিক সমাধানের কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি কি তার ইতোমধ্যে উল্লেখিত উন্নয়ন সহায়তা বন্ধের পাশাপাশি ঋণ সুবিধা বন্ধ করার কথাও বিবেচনা করবেন? তার কারণ, বিশ্বের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে পাকিস্তান সরকার নিশ্চিতভাবেই আর এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেনা। আমরা ছাড়াও অপরাপর আন্তর্জাতিক দাতারা পাকিস্তান সরকারকে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাবার আর্থিক সম্বল যোগানো বন্ধ করবে, এটি কি তিনি নিশ্চিত করতে পারবেন?

 

স্যার অ্যালেক ডগলাস-হোমঃ আমরা পাকিস্তানকে এই যুদ্ধা চালানোর আর্থিক সম্বল যোগাচ্ছিনা। যে উন্নয়ন সহায়তা আমরা সেখানে দিচ্ছি সেটি সুনির্দিষ্টভাবে উন্নয়ন প্রকল্প ও কর্মসংস্থান এর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমি আগেও বলেছি, এই উন্নয়ন সহায়তা বন্ধ করলে সেখানে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। বিদ্যমান দুর্ভোগের সাথে মানুষের জন্য আরও বাড়তি যাতনা তৈরী করার কোন যুক্তি আমি দেখিনা। তবে আমাদের কন্সোর্টিয়াম অবশ্যই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পাকিস্তানে উন্নয়ন সহায়তা কিভাবে যাচ্ছে সেটি নিরীক্ষা করে দেখবে।

 

স্যার এফ বেনেটঃ সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে শরণার্থীদের একটি বড় এবং ক্রমবর্ধমান অংশই হিন্দু। ১৯৪৭ এর পরিস্থিতি মাথায় রেখে, এটি বলা কি অত্যুক্তি হবে যে একটি অসামান্য পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে? যদি ধর্মের ভিত্তিতে এই শরণার্থীকূল দুরাবস্থার শিকার হয়ে থাকে, তাহলে তারা কি আদৌ স্বদেশে ফিরে আসার সম্ভাবনাকে আমলে নেবে? ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে অতীতে যে জনগোষ্ঠি দেশত্যাগ করেছে, তারা কখনোই আদি নিবাসে আর ফিরে যায়নি।

 

স্যার অ্যালেক ডগলাস-হোমঃ আমি মনে করি এই ভীতিটি প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করছে।

 

মিস্টার আলফ্রেড মরিসঃ আন্তর্জাতিকভাবে ত্রাণ সহায়তার মজুদ গড়ে তোলার জন্য আমার প্রস্তাবের জবাবে ২৪ নভেম্বরে মাননীয় সেক্রেটারী যে উত্তর দিয়েছিলেন, তাতে তিনি এই বিষয়টিকে ‘জরুরী’ বলে অবিহিত করেছিলেন। আমি এই প্রস্তাবটি হেগ এ আই পি ইউ কনফারেন্সে পেশ করেছিলাম – এটিকে জরুরী বলে আখ্যা দিয়ে জরুরী পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ার কথা কি তাঁর মনে আছে? এটি কি ব্রিটেনের পক্ষ থেকে নেয়া একটি জরুরী আন্তর্জাতিক উদ্যোগ হতে পারেনা?

 

স্যার অ্যালেক ডগলাস-হোমঃ আমি আশা করি আমার মাননীয় বন্ধু আমাকে কালক্ষেপনের দায়ে আভিযুক্ত করছেনা – যেমনটি তিনি গতকাল করেছেন বলে আমার মনে হয়েছে। ওই প্রস্তাবের পরপরই আমি জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবের কাছে বার্তা পাঠাই, এবং তিনিও এই প্রস্তাব অনুযায়ী একটি স্থায়ী ব্যবস্থা বা সংস্থা গঠনের জন্য যাচাই বাছাই’র প্রক্রিয়া শুরু করেন। আমাদের উদ্দেশ্য হবে এরকম হৃদয়বিদারক সংকট ঘটে যাওয়ার আগেই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারা। আগামী এক মাসের মধ্যে এই যাচাই বাছাই এর প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবে। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব এই বিষয়ে সম্ভাব্য সবকিছুই করেছেন। তবুও, যদি তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়, তাহলে আমি তাকে এই বিষয়টি আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে জোর অনুরোধ করব।

 

স্যার থমাস আর থম্পসনঃ আমার মান্যবর বন্ধু কি মনে করেন এই সংকটের মোকাবেলায় পাঠানো বিদেশি ত্রাণ সাহায্য কিভাবে বিতরণ ও সমন্বয় হচ্ছে তাঁর ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্ট? তিনি কি লক্ষ করেছেন যে সরকারি ও বেসরকারি সব ধরণের উৎস থেকে প্রেরিত ত্রাণ সামগ্রী এমন সব এলাকায় জড়ো হচ্ছে যেখানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কার্যত নিঃশেষ হয়ে আসছে? এই অবস্থা সামাল দেয়ার মত যথেষ্ট লোকবল বা সামর্থ জাতিসঙ্ঘের আছে বলে কি তিনি মনে করেন? বিকল্প হিসাবে ভারত সরকারকে বাড়তি লোকবল নিয়োগ করতে বলাটাই কি সমীচিন হবেনা? বিশেষ করে যেহেতু সমস্যাটির উপস্থিতি ভারতের নিজের মাটিতেই?

 

স্যার অ্যালেক ডগলাস-হোমঃ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ভেঙ্গে পড়ছে বলে আমি মনে করিনা। ভারত সরকার তাদের সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছে, এবং তাদের আরও সাহায্য প্রয়োজন কিনা সেটা নির্ধারণের ভার তাদের হাতেই ছেড়ে দিতে হবে। আমাদের দরকার বিদেশ থেকে আসা ত্রাণ সামগ্রীর শ্রেয়তর ব্যবস্থাপনা। এই সমন্বয়ের ভার কেবল ভারতের কাঁধে চাপিয়ে না দিয়ে জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে নিয়োজিত প্রতিনিধিকেও এই দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি তাঁর টীম সহ ঘটনাস্থলেই আছেন, আমরা ঊথান্ট’কে (জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব) বলেছি আরও সাহায্য বা প্রশাসনিক লোকবল প্রয়োজন হলে সেগুলো দেয়ার জন্য ব্রিটেন প্রস্তুত আছে।

 

মিস্টার শোরঃ শরণার্থীদের সহায়তা ও ত্রাণ দেয়ার জন্য যে পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছে, আমি সেগুলোকে স্বাগত জানাই। কিন্তু আমরা কি এটি বিবেচনায় নিচ্ছি, যে পূর্ব বাংলায় পাকিস্তান সরকারের বিদ্যমান নীতি ও অভিযানের কারণেই এই সমস্যার উদ্ভব? তাদের চলমান কর্মকাণ্ডের কারণেই এই শরণার্থী সমস্যার উদ্রেক। ফরেন সেক্রেটারী মহোদয় কি এই সমস্যার বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য একটি রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষে কোন ন্যয়সম্মত উদ্যোগ নেবেন?

 

 

(৮৮ এর শেষ প্যারা বাদে)

 

 

.

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ সর্বপ্রথমে আমাদের পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকে বোঝাতে হবে যে যদি দেশটিকে পুনরায় একত্রিত করতে হয় তবে এরূপ একটি মীমাংসার প্রয়োজন হবে। আমার মনে হয় তিনি তা মেনে নিয়েছেন। তিনি আমাদের বলেছেন যে তিনি ব্যস্ত হাতে পূর্ব পাকিস্তানে এমন একটি রাজনৈতিক কাঠামো তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন যা শরণার্থীদের ফিরে আসবার আত্মবিশ্বাস জাগাবে। আমি তথ্য পেয়েছি যে এ ব্যাপারে তিনি হাই কমিশনারের সাথেও কথা বলেছেন। আমার মনে হয় না ঠিক এই মুহূর্তে আমরা এর চাইতে আর বেশি কিছু করতে পারব। তবে স্বাভাবিকভাবেই চলমান ঘটনাবলির প্রতি আমাদের সজাগ দৃষ্টি বজায় থাকবে।

 

মি. লংডেনঃ আমার সম্মানিত বন্ধুর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে এবং কোনোভাবেই সরকারের বিরোধিতা না করে আমি কি ভবিষ্যতের ব্যাপারে আলোচনায় প্রত্যাবর্তন করতে পারি? একটি আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঘটা এবং সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে বিশ্বজুড়ে প্রতিবারই বিবেকবর্জিত যে বিলম্বের দেখা আমরা পাই, এর কারণ কী? কেন জাতিসংঘ এই কেন্দ্রীয় কমিটিকে স্থায়ীরূপ দেয় নি?

 

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ সেটা জাতিসংঘের বিষয়। ম্যানচেস্টার, ওয়াইদ্যানশো এর সম্মানিত সদস্য (মি. অ্যালফ্রেড মরিস) তার প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে আমি যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি তাদের ব্যাপারে অবগত আছেন। আমি আশা করব যে ইউ থান্টের তদন্তকাজ এটাই প্রমাণ করবে যে এমন একটি কমিটি স্থাপন করা সম্ভব, যাতে করে জরুরি কোনো অবস্থা তৈরির সাথেসাথেই বর্তমানে চলমান পদ্ধতিতে যে মূল্যবান সময়ের অপচয় হয় তাকে পাশ কাটিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও জনবলের ব্যবস্থা করতে পারি। আর যেরূপ আমি বলেছি, এই প্রতিবেদন দ্রুতই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।

 

মি. কার্টার-জোনসঃ আমি সম্মানিত সজ্জনকে ভারতকে ইতোমধ্যেই পাঠানো সাহায্য বিষয়ে তার বক্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু এ সম্পর্কিত পরিসংখ্যান কি এটাই প্রমাণ করে না যে চাহিদার তুলনায় এই সাহায্য কতটা অপ্রতুল? এই লক্ষ লক্ষ ভুক্তভোগীর জন্যে আমাদের এই উদ্যোগ যে আরো অনেক বৃহদাকার রূপে দরকার, সেটাই কি প্রতীয়মান হচ্ছে না?

 

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ আমি নিশ্চিত যে টাকা-পয়সার কোনো সমস্যা হবে না। কলেরা মহামারীকে ঠেকাতে ঘটনাস্থলে এখন প্রয়োজন সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কার্যকলাপের। যন্ত্রপাতি, ভ্যাকসিন ও যথেষ্ট পরিমাণে স্যালাইন সেখানে মজুদ আছে, এবং আশা করা যায় যে মহামারী দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

 

মি. টম কিং: এই জরুরি সমস্যার ব্যাপারে স্বল্পমেয়াদী এই সচেতনতাকে আমি সাধুবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু আমার সম্মানিত বন্ধু কি এই ব্যাপারে একমত হবেন না যে বিশ্বে জনসংখ্যা বিস্ফোরণ কিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে সে ব্যাপারে পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাবলি আমাদের বিপদসংকেত দেখাচ্ছে? বিশ্বজুড়ে এই ব্যাপারে আলোচনার ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের যে আরো জোর দেয়া প্রয়োজন সেটা কি তিনি এখনো উপলব্ধি করতে পারেন নি?

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ ভারতীয় সরকার এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়েছে। আমার সম্মানিত বন্ধুর উত্থাপিত বিষয়ের প্রতি আমাদের সরকারও অবশ্যই আগ্রহী।

 

মি. জন মেনডেলসনঃ সম্মানিত বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিবের দেয়া বক্তব্যের আলোকে আমি আমার, এবং আরো অনেক সম্মানিত সদস্যবর্গের লভিত কিছু অভিজ্ঞতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আলোচ্য বিষয়ে আমাদের সরকারের চলমান কার্যাবলি সম্পর্কে আমি যখনই কথা বলি, তখনই অনেকে আমাদের প্রশ্ন করে যে এ বিষয়ে আরো দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভবপর ছিল কি না এবং প্রকৃতপক্ষেই খুব বেশি দেরি হয়ে গিয়েছে কি না। প্রশ্নকর্তাদের মাঝে সকলপ্রকার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী মানুষই রয়েছে। সম্মানিত সদস্যবর্গের এই বিষয়টি এখানে উত্থাপন করা প্রয়োজন। পররাষ্ট্র সচিবের উচিৎ বিরক্ত না হয়ে উত্তর প্রদানের এই সুযোগকে স্বাগত জানানো। (সম্মানিত সদস্যবর্গঃ “ওহ”) আমি জানি বিষয়টি বিতর্কিত, তবে অকপটে করা প্রশ্নের উত্তর দেবার সুযোগ সম্মানিত সজ্জনের স্বাগত জানানোই উচিৎ। শুধুমাত্র সাহায্য করবার মধ্যে আটকে না থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকে পূর্ব পাকিস্তানে জাতিসংঘের একটি কমিশন পাঠাবার অনুমতি প্রদানের বিষয়ে বলবার সময় কি এখনো আসে নি যাতে করে যেসকল জনগণ ফেরত আসতে বা থেকে যেতে ভয় পাচ্ছে তারা আন্তর্জাতিক নজরদারিতে অধিকতর নিরাপদ বোধ করতে পারে?

 

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ এ মুহূর্তে পাকিস্তানে অবস্থানরত একটি আন্তর্জাতিক দল সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা পরখ করে দেখছে। আমি সম্মানিত সদস্যকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে পাকিস্তান একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং আমরা একটি রাজনৈতিক মীমাংসা নির্ধারণ করে দিতে পারি না। আশা করি আমি কোনো বিরক্তি প্রকাশ করছি না। তবে যখন আমি এই সভাকে অনুরোধ করব যেন তারা আমাদের এই বিস্তৃত কর্মকাণ্ডের যথাযথ স্বীকৃতি দেন এবং অন্যদের আরো বেশি করে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করেন, মনে হয় না সেটা ভুল কিছু বলা হবে।

 

মি. ব্রাইনিঃ ফসলহানি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ধ্বংসসাধনের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে আসন্ন আরো বৃহদাকার এক দুর্যোগের প্রতি আজ বিকেলে সম্মানিত সহকর্মী আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। জাতিসংঘের বিলম্বিত প্রতিক্রিয়ার আলোকে আমার সম্মানিত বন্ধু বলতে পারেন কি যে খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী কমনওয়েলথ দেশগুলো – বিশেষ করে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড- এর সাথে প্রস্তুতিমূলক কোনো আলোচনা শুরু করা যায় কিনা, যাতে করে আসন্ন এই বিরাট খাদ্য চাহিদা মেটাতে এখন থেকেই খাদ্যশস্য মজুদ করে রাখা যায়?

 

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ এ কারণেই আমেরিয়াকন স্বরাষ্ট্রসচিব এবং আমি এপ্রিল মাসে পদক্ষেপ গ্রহণ করি। এখন সেখানে জাতিসংঘের একটি দল কর্মরত আছে যারা দ্রুতই সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং নভেম্বরে চাহিদা কেমন হতে পারে তার হিসাব দিতে পারবে। আমি অবশ্যই সেই প্রতিবেদন হাতে পাবার চেষ্টা করব। যদি কমনওয়েলথ দেশগুলোকে খাদ্যের চাহিদা ও মজুদ সম্পর্কে আগে থেকে সতর্ক করে দিয়ে সাহায্য করা যায় তবে তাও করা হবে।

 

মি. স্টোনহাউসঃ মানবিকতা ও সহানুভূতির সাথে তাদের অনুরোধে সাড়া দেয়ায় ব্রিটেনের দাতব্যসংস্থাগুলোর কাছে পররাষ্ট্র সচিবের যে সমাদর সে বিষয়ে কি তিনি অবগত আছেন? জাতিসংঘের কাছে আবেদন বিষয়ে প্রদত্ত তার জবাবের দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে জানতে চাই, ভারতের এ বিষয়ে কোনো আলোচনার সূচনা না করার পেছনে যে বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে তা কি তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন? পূর্ব পাকিস্তানে চলমান সংঘর্ষকে তারা সমর্থন করছে, এমন কোনো অভিযোগের দায় ভারত নিজের মাথায় নিতে চায় না। এ বিষয়ে তারা অতি সতর্ক। যখন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী আগামী সপ্তাহে এখানে আসবেন তখন এ বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের ব্যাপারে পররাষ্ট্র সচিব তার সাথে আলোচনা করবেন কি? যদি ভারতীয়রা এর পক্ষে থাকে তবে আমাদের সরকার এবং পূর্ব বাংলার জনগণের উপর এক সামরিক শাসকগোষ্ঠীর চালানো নির্যাতন, যা পররাষ্ট্র সচিব টেমসের সন্নিকটের কিংস্টোনের সম্মানিত সদস্য (মি. বয়েড কার্পেন্টার) এর প্রশ্নের জবাবে ব্যক্ত করেছেন, এর কারণে ভীষণ রকম ক্ষুদ্ধ বিশ্ব মানবের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র সচিব তা উত্থাপনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কি?

 

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ অবশ্যই আমি এসকল বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে আলোচনা করব। যদি ভারতীয় সরকার আমাদের সরাসরি সাহায্য চায়, তবে অবশ্যই আমরা সানন্দে তা বিবেচনা করব। আমি আশা করি সম্মানিত ভদ্রমহোদয়া এবং অন্যান্যদের কাছে আমি এ ব্যাপারটি পরিষ্কার করতে পেরেছি যে আরো অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো সীমারেখা নেই। আমরা দেখতে চাই ঠিক কী প্রয়োজন, এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে আমরা আরো অর্থ সাহায্য পাঠাবার ব্যবস্থা করব। নিরাপত্তা পরিষদের ব্যাপারে প্রশ্নের উত্তর ভারতীয় সরকারকেই দিতে হবে।

.

hasan latif

পৃষ্ঠাঃ ৯১

মিঃ হ্যারল্ড উইলসনঃ একটি জরুরী বিষয়ের উপর বিতর্কের জন্য স্বাভাবিক চ্যানেলের usual channels (pls chk) মাধ্যমে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রী অথবা যদি তিনি চান তাঁর ডানপন্থী সংসদীয় নেতা প্রস্তুত আছেন কিনা? সংসদের কারও এই বিতর্কে ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্তের জন্য আগ্রহ/ মানসিকতা থাকবে না, কিন্তু সমস্যাটির জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বিষয়ে সংসদের উদ্বেগের কারণে এই বিতর্ক অবশ্যই যৌক্তিক। ডানপন্থী মহোদয় বা যে কেহ উত্তর দিতে চাইলে আমার পরবর্তি জিজ্ঞাস্য এই যে তিনি/ তাঁরা স্বাভাবিকভাবে ৯ নং স্থগিতাদেশের উপর তাৎক্ষণিকভাবে বিতর্কের জন্য আগ্রহ রয়েছে কিনা যেটি ত্রান সংক্রান্ত বিতর্ক হওয়ায় বিষয়টি কঠিন হবে। এই বিষয়টি আলোচনার জন্য ত্রাণ সংক্রান্ত বিতর্ক টেনে আনা ঠিক হবে না কেন না, আমাদের ডানপন্থী বন্ধু ত্রাণ সংক্রান্ত প্রশ্নের অনেকগুলোর উত্তরেই বিষয় বস্তু থেকে অনেক দুরে সরে যান। হাউজ অফ কমন্স এর নেতা ও পরিষদের সভাপতি লর্ড (মিঃ উইলিয়াম হুইটল) আমি ডানপন্থী নেতার প্রতি কৃতজ্ঞ, এই বিষয়ে সংসদের উদ্বেগও সম্পুর্নরূপে প্রশংসণীয়। আগামীকাল, যেমনটি ডানপন্থী মহোদয় জানেন, সংসদ স্থগিতের গতির জন্য ত্রাণ এর উপর বিতর্কের পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্থগিতের গতিতে যা উত্থিত হয়েছে তা আমাদের জন্য নয় বরং তার ব্যাপকতা সম্প্রসারিত। এই দু’টি বিষয়কে আজ ও আগামীকালের মধ্য বিভাজন করে অথবা এরকম কোন ব্যবস্থা করা যায় কিনা তার সম্ভাবনা নিয়ে স্বাভাবিক চ্যানেলে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।স্বাভাবিক চ্যানেলের usual channels (pls chk) মাধ্যমে আলোচনার জন্য আমি খুবই প্রস্তুত আছি। মিঃ হ্যারল্ড উইলসনঃ ডানপন্থী মহোদয়কে তাঁর তাৎক্ষণিক উত্তরের জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই। আমরা এমনভাবে সহযোগীতার জন্য প্রস্তুত থাকব যাতে করে সরকারকে সরকারের সময় অপচয় করতে না হয়, উদাহরণস্বরূপঃ ৭:০০ বা ৮:০০ ঘটিকা পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তান সমস্যা বিতর্ক চলতে পারে এবং তারপর, সংসদ একমত হলে, সময় বর্ধিত করা যেতে পারে যাতে করে তারপরও অন্যান্য ত্রাণ সংক্রান্ত বিষয়ের উপর যথোপযুক্ত ও পূর্ণাঙ্গ বিতর্ক চলতে পারে। মিঃ বার্ণসঃ আমি তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশ নং: ৯ অনুসারে “যেসমস্ত উদ্বাস্তু পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে এসেছে তাঁদের অনুকূলে বৃটিশ সরকারের সহযোগীতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এবং একই সময়ে তাঁদের নীতি পাকিস্তানের নিকট ব্যাখ্যাকরণ” শিরোনামে একটি নির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় আসার জন্য অনুরোধ করছি যা জরুরীভাবে বিবেচণা করা উচিৎ। আমি বুঝতে পারছি যে আগামীকাল ত্রাণ সংক্রান্ত বিতর্ক হবে, কিন্তু বৃটেনের সহযোগীতার বিষয়টি এতই জরুরী ও নির্দিষ্ট যে সাধারণ বৈদেশীক ত্রাণ সংক্রান্ত বিতর্কে নিমজ্জিত হলে তা হবে সম্পুর্ণভাবে অযৌক্তিক। দ্বিতীয়ত, এই সংসদের জানা উচিৎ যে ভারত ও বৃটিশ হাইকমিশনেও যথেষ্ট দ্বিধা রয়েছে যে পাকিস্তানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বৃটেনের অবস্থান আসলে কোথায় যা বৈদেশীক ত্রাণের অঙ্গীকার হতে সম্পুর্ণ পৃথক, যেমনটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, যার উপর আগামীকাল বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে দেশে ও সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ব্যাপক উদ্বেগ থাকায়, আমি আকূলভাবে পরামর্শ দিচ্ছি যে এই বিষয়টি নিজে থেকেই আগামীকাল একটি জরুরী বিষয় হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবেই বিতর্কের বিষয়বস্তু হওয়ার যোগ্য। পৃষ্ঠাঃ ৯২ মিঃ স্পীকারঃ সম্মানীত সাংসদ তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশ নং: ৯ হতে সড়ে এসে “যেসমস্ত উদ্বাস্তু পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে এসেছে তাঁদের অনুকূলে বৃটিশ সরকারের সহযোগীতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এবং একই সময়ে তাঁদের নীতি পাকিস্তানের নিকট ব্যাখ্যাকরণ” শিরোনামে একটি সুনির্দিষ্ট ও জরুরী জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তাব করেছেন। ধারণা করা যায় যে মাননীয় স্পীকার তাৎক্ষণিক আদেশ নং-৯ অনুসারে আদেশে উল্লেখিত প্রভাবকসমূহ বিবেচণা করবেন বলে আমি মনে করি এবং সংসদের ফ্লোরের কোথায় কি আলোচনা হচ্ছে সে বিষয়ে টুকে/ নোট নেবেন। আমি দুখিঃত যে সম্মানীত সাংসদ যে আবেদন করেছেন, যার জন্য তিনি মহানুভবতা দেখিয়ে আমাকে যে নোটিশ দিয়েছেন, তাঁর আবেদনের সাথে আমি একমত নই। পরবর্তিতে- মিঃ হুইটলঃ বিরোধী দলের নেতার সাথে আলোচনা অনুসারে সংসদের জন্য এটা জানা উপকারী হতে পারে যে ইতোমধ্যেই স্বাভাবিক চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে আলোচনা সংঘটিত হয়েছে। এটা প্রস্তাব করা হয়েছে যে আগামীকাল স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত আলোচনা ৮:০০ ঘটিকা পর্যন্ত কেবল পাকিস্তানের অবস্থার উপর হতে থাকবে এবং তারপর এক ঘন্টার বিরতি দিয়ে ত্রাণ এর উপর আলোচনা শুরু হয়ে তা ১১:০০ ঘটিকা পর্যন্ত চলতে থাকবে। তারপর দিনের কার্যসূচীর ক্রম স্থির করা হবে। আমি আশা করি যে এই ব্যবস্থাপনা সংসদে সন্তোষজনকভাবে বিবেচণা করা হবে এবং একই সাথে ভেব দেখা হবে যে আগামীকালের কার্যসূচী পরিবর্তনের জন্য সংসদে পর্যাপ্ত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

 

.

13.11.93-94

                 শিরোনাম                        সূত্র                    তারিখ
বাংলাদেশ সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান অবশ্যই করতে হবে:কমনস সভার পররাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি        কমনস সভার কার্যাবলি              ২৩ জুন, ১৯৭১

১৯৭১ সালের ২৩ জুন হাউজ অব কমনস সভায় যুক্তরাজ্য সরকারের পররাষ্ট্র সচিব এলেক ডগলাস হোম এর বিবৃতির সারসংক্ষেপ।

২১ জুন সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব মি. শরণ সিং এর সাথে আমিসহ আমার ডান দৃষ্টান্তমূলক বন্ধু প্রধানমন্ত্রীর একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, আলোচনা চলাকালীন ভারতে ব্যাপকভাবে ক্রমাগত উদ্বাস্তুু প্রবেশ যে একটি স্থায়ী বিপদ ও বোঝার সৃষ্টি করছে এবং পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা নিয়ে সরকার তাদের যে উদ্বেগ প্রকাশ করছে সে বিষয়টি তিনি আমাদের কাছে স্পষ্ট করেন।

ইন্ডিয়া এইড কনসরটিয়ামের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ওনার সরকার উদ্বাস্তুদের সহযোগিতা ও ভারতীয় সরকারের অর্থনৈতিক বোঝার উপশমের জন্য সরকার পাঁচ মিলিয়ন টাকা সুলভ করে।

কনসরটিয়ামের অন্যান্য সদস্যদের মত আমরাও এই অবদানে সাহায্য করি এবং আমাদের স্বাভাবিক উন্নয়নের উপর ভারত সহযোগিতা করে।উপরন্তু ভারতে উদ্বাস্তুদের সরাসরি ত্রান প্রদানের জন্য সরকারের সহযোগিতায় আরও ১ মিলিয়ন টাকা প্রদানের জন্য আবেদন করা হয়।

ওনার সরকার ত্রানের জন্য সকল ধরনের সহযোগিতাকে সহজলভ্য করে এবং ভারতে পুনর্বাসনের জন্য এর পরিমান ৮ মিলিয়নে বর্ধিত করে।এটি একটি মানবিক কাজ যার সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই যেখানে আমি আশা করি ইউনাইটেড ন্যাশনের বেশিরভাগ বেশিরভাগ সদস্যই তাতে অংশগ্রহন করবে।এই পর্যন্ত প্রায় ২৩ জন অংশ নিয়েছে।

২১ জুন পাকিস্তান কনসরটিয়ামের সদস্যদের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট গুলো বিবেচনা করা হয় এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রতিনিধিগন যারা পূর্ব পাকিস্তান পরিদর্শন করেন এবং ইসলামাবাদের সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

নতুন যেকোন সহযোগিতায় যেকোন কিছু দানের জন্য কোন অঙ্গীকারবদ্ধতার কথা বলা হয় নি যদিও সকলেই পূর্ব পাকিস্তানের এই মানবিক মুক্তির জন্য ইউনাইটেড ন্যাশনের কার্যকর নজরদারিতে অবদানে সম্মতি প্রকাশ করে।

মহামান্য সরকারের নীতি সেই অবস্থান প্রকাশ করে যে পাকিস্তান ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প যতদূর সম্ভব ক্রমাগত চালনা করছে কিন্তু সত্যিকারের একটি রাজনৈতিক সমাধানের দিকে অগ্রগতির বিষয়ে একটি দৃঢ় প্রমান না পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রতি নতুন ব্রিটিশদের সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোন প্রশ্ন থাকতে পারে না।

পূর্ব পাকিস্তানের এই বিশৃঙ্খল অবস্থা অব্যাহত রয়েছে। এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে দুইজন ব্রিটিশ নাগরিক মি. পি. জে. চালমার্স ও জে. ওয়াই বয়েড যারা উভয়ই সিলেট জেলার চা-রোপন এস্টেট এ কর্মরত থাকা সত্ত্বেও তাদের অনুপস্থিতির তথ্য আইন সভায় আমাকে রিপোর্ট করতে হয়।

পূর্ব পাকিস্তান ও ভারত উভয়েরই ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের শত চেষ্টা সত্ত্বেও পাকিস্তানের মার্শাল ল শাসন ও ভারতীয় সরকারের মাঝে অনুসন্ধান করে তাদের কোনো সংবাদ সংগ্রহ করা সম্ভব হয় নি।

এই পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তার জন্য গভীর শংকার তৈরি হয় এবং আমি মহামান্য সরকারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছি এবং এই উদ্বগময় সময়ে দেশে তাদের স্বজনদের নিকট আইনসভা ১টা নিশ্চয়তা প্রদান করে।

 

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট যারা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে গেছে তারা তাদের বাড়িতে ফিরে আাসবে এই আাশাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং এমন ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন যে তারা যে শংকা বোধ করছে তাদের সেই শংকার কোনো কারন নেই।

মাহামান্য সরকার তার নিকট একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থা পুনরুদ্ধারের গুরুত্বকে প্রকাশ করে যেখানে আস্থাই পারে তাকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক জীবন পুনরুদ্ধার করতে।

আমার দেয়া বিবৃতির মাধ্যমে আমি এই ডানপন্থী ভদ্রলোক কে তার সাধারন অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ফলাফল বা রাজনৈতিক ভবিষ্যত কি হতে পারে প্রকাশ্যে আমার এই বিষয়ে পরামর্শ দেয়ার জন্য এই সময় সহায়ক হবে না।

আমাদের ব্যক্তিগত অনেক পরামর্শের ভিত্তিতে ২৮ জুন প্রেসিডেন্ট একটি বিবৃতি প্রদান করেন। একটি আশা ছিল এবং আমরাও তার কাছে এই আশাই প্রকাশ করেছিলাম যে তিনি পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পশ্চিম পাকিস্তানে একত্রিত করতে সক্ষম হবেন। আমরা মনে করি এটি অপরিহার্য।

ভারতীয় সরকার এ ধরনের কোনো প্রস্তাবনা উত্থাপন করে নি এবং আমার মনে হয় যে অতঃপর আমাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করাই উত্তম এবং উদ্বাস্তুদের একটি বৃহদাংশ পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা পরবর্তীতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি তার বিবৃতিতে প্রকাশ করেন,এছাড়াও সেই অংশে ইউনাইটেড ন্যাশনের যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে অকালীন হবে।

যেখানে একটি রাজনৈতিক বিবৃতি আবশ্যক।সেখানে একটি বেসামরিক সরকারও বহাল থাকতে হবে।সরকারের প্রশাসনিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন অবশ্যই হতে হবে।দৃষ্টান্তমূলক সদস্যরাই চিহ্নিত করবে যে একমাত্র সেনাবাহিনীই খাদ্য বিতরনের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে।

 

.

13.12.95-99

 

শিরোনাম সুত্র তারিখ
বাংলাদেশের শোচনীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে পররাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি ও সংক্রান্ত বিতর্ক কমনস সভার কার্যবিবরনী ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

 

হাউজ অফ কমনস

বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭১

পুর্ব বাংলা

 

মি। হীলে (এক ব্যাক্তিগত বিজ্ঞপ্তিতে) পররাষ্ট্র এবং কমোনওয়েলথ সচিবকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি এবং তার সরকার কি পূর্ব পাকিস্থানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে নীতি প্রনয়নে কোন বিবৃতি প্রাদান করবেন কি না।

 

 

স্যার এলান ডগলাস হিউম, সচিব, বৈদেশিক এবং কমনওয়েলথ বিষয়ক দপ্তরঃ

ইস্ট বেঙ্গলের বর্তমান অবস্থা আমাদের অত্যন্ত ভাবিয়ে তুলছে; ২৩শে জুন পার্লামেন্ট হাউজে আমার বক্তব্যের পর বেশ কিছু উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। পূর্বের বেসামরিক প্রশাসন এবং সরকার গঠনের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান প্রস্তাব করেছেন। একজন বেসামরিক গভর্নর এবং বেশ কিছু বেসামরিক মন্ত্রীর নাম ঘোষনা করা হয়েছে; প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান, নির্বাচিত সরকার গঠনের জন্য, সাধারন নির্বাচনের ঘোষনা দিয়েছেন; ১৯৭১ সালের ১ম মার্চ থেকে ৫তম সেপ্টেম্বরের ঘটনার জন্য সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করেছেন। তবে ধারনা করা হয়, এই প্রস্তাব থেকে লাভবান হওয়া, অনেক ব্যাক্তিই ইন্ডিয়াতে পালিয়ে গেছেন।

আমরা এসব উন্নয়নকে নির্বাচিত সরকার গঠনের একটি ধাপ মনে করে স্বাগত জানাই এবং আদেশক্রমে পুর্ব পাকিস্তানকে তাদের সাধারন অবস্থায় ফিরে আসার জন্য আহবান জানাই।

যদিও ইস্ট পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থায় আমরা অত্যন্ত চিন্তিত; ইন্ডিয়াতে পালিয়ে যাওয়া উদ্বাস্তুদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে, যা বর্তমানে, ইন্ডিয়ান সরকার মতে, প্রায় ৮ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে; এত সংখ্যাক উদ্বাস্তুদের চাহিদা পূরন করা ইন্ডিয়ান অর্থনীতি এবং তার সম্পদের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলছে; তবে ইন্ডিয়ান সরকার যে ভাবে এত বিশাল জনগোষ্ঠির অন্তঃপ্রবাহকে অবিচ্ছেদ্দ সমর্থন করে যাচ্ছেন, তার জন্য ইন্ডিয়ান সরকারকে আমি ব্যাক্তিগতভাবে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই; তবে এরুপ সমস্যা সমাধান শুধু ইন্ডিয়ার একার দায়িত্ব নয়; ইতিমধ্যে ইন্ডিয়ান সরকার ৮মিলিয়ন পাউন্ড, রিলিফ এবং ইন্ডিয়াতে পুনর্বাসনের জন্য লিন্ড প্রদান করেছেন; ইউ থ্যান্টের সাহায্যের আবেদনে, আমরাও ইতমধ্যে প্রায় ১ মিলিয়ন পাউন্ড ইস্ট পাকিস্তানে পাঠিয়েছি; আমরা আশা করছি, জাতিসংঘের অন্যান্য দেশও ইউ থ্যান্টের এই সাহায্যে আবেদনে এগিয়ে আসবেন।যেহেতু সংসদে আমি আগে বলেছি, আমরা আরো সাহায্য প্রেরনের জন্য প্রস্তুত আছি।

আমি নিশ্চিত যে, সংসদ আমার এই গভীর উদ্বেগকে গুরুত্বারোপ করে, ইস্ট-পাকিস্তান এবং ইন্ডিয়াতে আসন্ন খাদ্য সংকট, শিশু মৃত্যুহার এবং রোগ-ব্যাধিকে, রিপোর্টে উল্লেখ করবেন। এটা আমাদের দৃঢ় দৃষ্টি যে, আন্তর্জাতিক রিলিফ ব্যাবস্থাপনা এবং ভবিষ্যতের কোন মানবিক দূর্যোগ প্রতিহত করার জন্য, ইউনাইটেড ন্যাশনস ভুমিকা অনসিকার্য; আমাদের সকলেরই উচিত ইউনাইটেড ন্যাশনস’এর রিলিফ অপারেশনের এমন চেষ্টাকে সাধুবাদ জানানো এবং তাদের সাহায্যে সপুর্নভাবে এগিয়ে আসা; এই লক্ষ্যে আমি আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে ইউনাইটেড ন্যাশনের সাধারন-সচিবের সাথে বৈঠকের সিন্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য থাকবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে এক যোগে, উপমহাদেশের এহেন সমস্যা দূরকর এবং যথা সম্ভব উদবাস্তুদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে এনে, সাধারন জীবন-যাপনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কাজ করা।

মি. হিলেঃ প্রথমত আমি ফরেইন সক্রেটারি কে তার বক্তব্যের জন্য আন্তরিক অভনন্দন জানাতে চাই, বিশেষ করে, যে আন্তরিকতার সাথে তিনি বক্তব্যটি উপস্থাপন করলেন। আমি বলতে চাই, আমরা সকলেই এটা মানি যে, তার মহিমান্বিত সরকার এই বিয়গান্তক সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকেবেহাল আছেন, কিন্তু, তিনি নিজেই বলেছেন, এই সমস্যার সমাধান, ইন্ডিয়া বা ব্রিটেইন বা অন্য কোন রাষ্ট্রের পক্ষে বা কিছু রাষ্ট্রের পক্ষে একা সমাধান সম্ভব নয়।

ইউনাইটেড ন্যাশনের সংস্থাগুলো কতৃক, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহন না করা গেলে, ক্রিসমাসের আগে, লক্ষাধিক কিংবা তারো বেশী মানুশ মারা জেতে পারে, এ ব্যাপারে মাননীয় বিশিষ্ট সদস্যরা কি অবগত আছেন?

মাননীয় বিশিষ্ট সদস্যরা কি আরো অবগত আছেন যে, এক মাস পুর্বে আমি তাকে বলেছিলাম, মৌসুমি বায়ু শেষ হওয়ার সাথে সাথে, পুর্ব পাকিস্থানে যুদ্ধ লাগার সম্ভবনা আছে, যার ভয়াবহতা শুধু উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না? তাই তিনি যখন আগামী সপ্তাহে জাতিসংহ যাবেন, তিনি কি এটা নিশ্চিত করবেন, জাতিসংহ, শুধু রিলিফের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব নেবেন না, বরং তার চেয়ে ভয়াবহ এবং গুরুত্বপুর্ন, রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে দায়ত্ব নেবেন?

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ আমি মি. হীলের কাছে, তার বক্তব্যের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। যেহেতু তিনি বললেন, এই সমস্যার পরিধি অনেক বেশী, এটি সত্যি আমাদের মাথা ব্যাথার কারন। আমার মনে হয়, পুর্ব পাকিস্থানের এক মাসের মধ্যে দুর্ভিক্ষ্য শুরু হতে যাচ্ছে। যদিও আমাদের পক্ষে একেবারে সঠিক তথ্য যোগার করা খুব কঠিন, তবে, রিপোর্ট বলছে, যদিও মোটামুটি পর্যাপ্ত পরিমান খাবার মজুদ আছে, তবে তা সবার কাছে পৌছে দেয়ার জন্য, যোগাযোগ ব্যাবস্থা খুবই করূন। তাই, জাতিসংঘের কাছে, অনেক সমস্যার একটি হচ্ছে, কিভাবে এই খাবার, দরকারী জায়গাগুলোতে পৌছে দেয়া।

আগামী সপ্তাহে ইউ থ্যাণ্টের সাথে বৈঠকে, আমি এই সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব এবং তার সাথে, আমেরিকান রাষ্ট্র সচিব এবং অন্যান্য যারা এই সমস্যার রিলিফ এবং মানিবিক ব্যাপারে আলোচনায় আগ্রহী, তাদের সাথেও বৈঠক করবো।

রাজনৈতিক ব্যাপারে, একটা বন্দোবস্ত দরকার, যাতে, ইন্ডিয়া থেকে পাকিস্থানে ফেরা উদবাস্তুদের সার্থ্য রক্ষা হয়। এটা আরো জটিল বিষয়, এবং উভয় পক্ষের সম্মতি ব্যাতিত, জাতিসংঘের একার পক্ষে এই ব্যাপারে কিছু করা সম্ভব নয়।করব।যেহেতু, যতদূর আমি জানি, পাকিস্থান, উদবাস্তূদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে, তাদের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের যে কোন সংখ্যক কর্মীবৃন্দকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ইন্ডিয়া এই ব্যাপারে জাতিসংঘের সাথে কাজ করতে অমত প্রকাশ করেছে, এবং তাদেরকে পাকিস্থানে ফিরে গিয়ে, পাকিস্থানের সাথে কথা বলার আহবান করেছে।

মি। হীলেঃ আমি পররাস্ট্র সচিবের সাথে একমত যে, ইন্ডিয়া এবং পাকিস্থান উভয়ের সম্মতি ছাড়া, জাতিসংঘের একার পক্ষে এই সমস্যা সমাধান খুব জটিল, কিন্তু, তিনি কি এই ব্যাপারে অবগত নন, যদি জাতিসংঘ তার নিজের মহাসচিবের কথা মত কাজ না করে, তবে, তা শান্তি এবং লক্ষ্যাধিক মানুশের জীবনের জন্য মারাত্নক ঝুঁকির কারন হতে পারে? যদি ইন্ডিয়া এবং পাকিস্থান, উভয়ের সম্মতিতে কোন সমাধানে না পৌছানো যায়, তবে, তিনি যখন আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের অধিদপ্তরে যাবেন, তিনি কি নিরাপত্তা পরিষদে এই ব্যাপারে সম্পুর্ণ আলোচনা করবেন?

স্যার আলেক ডগলাস হোমঃ নিউ ইয়র্কে আমি ইন্ডিয়ান পররাষ্ট্র মন্তীর সাথে দেখা করবো এবং এই ব্যাপারে আলোচনার চেষ্টা করবো। আমি জানি না, এই ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনা কতটা সাহায্য করবে, তবে, আমি নিশ্চিত, যদি ইন্ডিয়া এবং পাকিস্থান এই ব্যাপারে জাতিসংঘের সাথে সহোযগীতা না করে, তবে তার পরিনতি যুদ্ধ দিয়ে হবে।

মি। ব্রেইনীঃ এটা কি সবসময় সঠিক যে, পর্যাপ্ত পরিমান খাবার থাকা সর্তেও, শুধুমাত্র, যোগাযোগ ব্যাবস্থার কারনে, সঠিক ভাবে বিতরণ না করার জন্য দুর্ভিক্ষ্য শুরু হয়? আমার সন্মানিত প্রিয় বন্ধুরা কি এই ব্যাপারে অবগত আছেন যে, পুর্ব পাকিস্থানে জাতিসংঘের মাঠ কর্মীরা বলছে, যদি জাতিসংঘ কোন পদক্ষেপ না নেয় তবে, কল্পনাতীত এক বিপর্যয়ের জন্ম দেবে আর এই বিপর্যয়ের ফলে, পাকিস্থান থেকে ইন্ডিয়াতে গমনরন উদ্বাস্তু দের সংখ্যা আরো বাড়িয়ে দেবে, কারন, ক্ষুদার্থ মানুশ এক জায়গায় থেমে থাকে না? তাই আমি কি আমার সন্মানীত বন্ধুকে, তার পেশকৃত বক্তব্য বাস্তবায়নে জোর দিতে পারি? আমি নিশ্চিত যে, তিনি, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের মিটিংএ, যে সকল সরকার, ইউ থান্টের আপীল, যা কিনা শুধু পুর্ব পাকিস্থানের মানবীক রিলিফ সম্পপর্কীত না বরং ইন্ডিয়ার এই অসহনীয় উদবাস্তু সমস্যা সমাধানের ব্যাপার্‌ উদাসীন ছিলেন, তাদের মনোযোগ আকর্ষনে সক্ষম হবেন।

স্যার আলেক ডগ্লাস হোমঃ আমি আমার মাননীয় বন্ধুর আবেদনকে সমর্থন জানাই। আমি শুধু ইউ থ্যান্টের সাথেই দেখা করবো না, বরং এই সকল বিষয় উপস্থাপন করে, সমাবেশে বক্তব্য উপস্থাপন করবো। সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন বিষয়, এই সমস্যা সমাধানে, ইন্ডিয়া এবং পাকিস্থান, উভয় পক্ষের সহযোগীতা।এক পক্ষের অমতে, এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।

মি। স্টোনহাউজঃ পররাষ্ট্র সচিব কি এই বিষয়টি উত্থাপন করবেন যে, তিনি এই সমস্যায় যেভাবে মানবিক এবং সহানুভুতিপুর্ন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তাতে তিনি এবং সংসদ, উভয়ই ব্যাপকভাবে প্রস হয়েছে? তিনি কি সাধারন সভায় তার বিবৃতিতে, এই ভয়ংকর অবস্থার কথা উল্লেখ করে, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের আবেদন করবেন, তা পাকিস্থান কর্তৃপক্ষের অমতে গেলেও, কারন যতদুর শোনা যায়, পুর্ব পাকিস্থানে বেসামরিক যুদ্ধের সম্ভবনা আছে, আর যেহেতু, পাকিস্থান আর্মি সম্পুর্ন পুর্ব পাকিস্থান নিয়ন্ত্রন করে না, কারন তার অনেক বড় একটা অংশ বাংলাদেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়? তিনি কি তার বিবৃতির আলোকে স্বীকার করবেন না যে, শেখ মুজিবকে মুক্তি না দিলে এবং তাকে এই আলোচনার সামীল না করলে, এই অবস্থার নিয়ন্ত্রন সম্ভব নয়?

স্যার অ্যালেক ডগ্লাস হোমঃ মাননীয় মহাদয়, যেহেতু আপনারা জানেন যে, আমরা ইতিমধ্যে এই ব্যাপারে পাকিস্থানের প্রেসিডেন্টের কাছে বিচারে ক্ষমাশীলতা প্রদানের আবেদন করেছি এবং বিষয়টি এখন দেখা হচ্ছে। আমরা মনে হয়, আমরা এর চেয়ে বেশী কিছুই করতে পারি না, তবে আমরা বেশ আশাবাদী।মানিনীয় মহাদয়, আমি এই সকল বিষয় নিয়ে ইউ থ্যান্টের এবং জাতিসংঘের সাথে আলোচনায় উপস্থাপন করবো এবং আশারাখি ফিরে এসে সংসদে বিবৃতি পেষ করবো।

 

মি। পার্ডোঃ আমি মাননীয় অ্যালেক ডগলাস্কে আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে চাই, ব্রিটিশ সরকারের এমন সাহাজ্যের জন্য। কিন্তু তিনি কি আমাদের, বর্তমানে শেখ মুজিবের শারিরীক অবস্থা এবং তিনি কবে নাগাদ মুক্তি হতে পারেন, এই অবস্থা সম্পর্কে ধারনা দিতে পারেন, যেহেতু তার মুক্তি ব্যাতীত, অবস্থা নিয়ন্ত্রের কোন সম্ভবনা নেই? পররাষ্ট্র সচিব কি আমাদের আরো বলতে পারেন যে তিনি কমোনওয়েলথ ভুক্ত দেশের সাথে, সম্মিলিতভাবে পাকিস্থানের উপর জোর করার ব্যাপারে কি বলেছেন?

স্যার অ্যালেক ডগলাসঃ অনেক দেশই পাকিস্থানের প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলেছে। এটাই আমি জানি। আমার মনে হয়, এর চেয়ে বেশী প্রকাশ্যে কিছুই বলা আমার পক্ষে অনুচিত।

মিঃ বিগস-ড্যাভিসনঃ পুর্ব পাকিস্থানে দুর্ভিক্ষের প্রভাব এড়ানোর জন্য সকল ব্যাবস্থা কি গ্রহন করা হয়েছে? আমি জতদুর জানি, পাকিস্থান সরকারের যানবাহন ক্রয়ে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল এবং কিছু চালান বাতিল হয়ে গিয়েছিল। আমার মানিনীয় বন্ধু কি, এই ব্যাপারটা একটু দেখবেন যে, কি করা জেতে পারে?

স্যার অ্যালেক ডগ্লাসঃ আমরা ইতিমধ্যে রিলিভ বিতরনের জন্য ভাসমান নৌকা দিয়েছি, এবং আমাদের সাধ্যের ভিতরে আর যা যা বিতরণ করতে পারি, আমরা তা করবো; কিন্তু যেহেতু আমার মাননীর বন্ধু বলেছেন, এই মুহুর্তে যাতায়াত ব্যাবস্থাটা প্রধান সমস্যা, খাদ্য বিতরন না।

মিঃ প্যাজেটঃ আমার প্রিয় বন্ধু কি একমত প্রকাশ করবেন যে, দুর্ভিক্ষ এবং উদবাস্তু সমস্যা সমাধানের পর, প্রধান ইস্যু হবে, পুর্ব পাকিস্থানের অধিকাংশ মানুশ, অপ্ল সংখ্যাক পশ্চিম পাকিস্থানিদের এমত আচরনের কারনে, পাকিস্থানী আর্মির শাষন ব্যাবস্থা আর মেনে নেবেন না? আমরা কি, ১৫০০ মাইল দূরে অবস্থিত এই দুটি রাষ্ট্রের, ভংগন ঠেকাতে কিছু করতে পারি?

স্যার আলেক ডগ্লাস-হোমঃ আমি জানি না, আমরা এই দুটি রাষ্ট্র পৃথক হয়ে গেলে, শান্তি-শৃংখলা প্রতিষ্ঠায় আমরা আসলেও কিছু করতে পারি কি না। আমি মনে করি, অনেক ব্যাক্তি, আশংকার সাথে এই ব্যাপারটি দেখছেন। প্রসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান, সাধারন নির্বাচন এবং নির্বাচিত সরকার গঠনে তার উদ্দেশ্যের কথা জানিয়েছেন। আমি মনে করি, তার এই উদ্দেশ্য পুরনের উপর এই অবস্থার সার্বিক অবস্থা নির্ভর করছে।

মি। মৌলেঃ আমি জনাব স্টোন হাউজের সাথে একমত হয়ে, মাননীয় পররাষ্ট্র সচিব কে, এরুপ বিষাদগ্রস্থ অবস্থায় তার এই মানবিক এবং দ্রুত উদ্যোগকে স্বাগত জানাই; কিন্তু, মানিনীয় সচিব কি অবগত আছেন যে,   প্রসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের এই গনতান্ত্রিক সরকার গঠনের আলোচনা কি সত্যিই তাদের কাছে স্বাগত হবে, যারা দেখেছে, শেখমুজিবের অপরাধ এবং তার কারাবরনের কারন ছিল, গনতান্ত্রিক সরকার গঠন এবং তার অধিকাংশ সংখ্যা প্রাপ্তি? মানিনীয় সচিব কি আরো অবগত আছেন যে, পাকিস্থানী আর্মি অনেক সেচ্ছা সেবক সংস্থা, বিশেষ করে, ওয়ার অন ওয়ান্টএর মত সংস্থাদের বাংলাদেশে রিলিফ এবং ত্রান প্রদানে জেতে দিচ্ছেন না?

স্যার অ্যালেক ডগ্লাস হোমঃ আমি জতটুকু জানি, পাকিস্থানী সরকার, স্বেচ্ছা সেবক সংস্থাদের ব্যাপারে খুব আশাবাদী, তবে তারা চায়, যেসব জাগয়া বন্যা দ্বারা ক্ষতিগ্রাস্থ সে সব যায়গা, সে সব যায়গায় রিলিফ এবং ত্রাণ কার্যক্রম চলুক। তবে আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে চাই, জাতিসংঘের পুরা ত্রান ব্যাবস্থাকে পর্যালোচনা করা উচিত। এছাড়া এখানে অনিশ্চয়তা রয়ে যাবে। কিন্তু আমি আশাবাদী, স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা গুলোকে কাজে লাগানো হবে।

মিসেস। হার্টঃ মি। হিলের এ যাবত বিবৃতি থেকে এটা কি আমরা বলতে পারি, তিনি এই ব্যাপারে একমত যে, সুষ্ঠূভাবে খাদ্য বিতরনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক উপস্থিতি দরকার, তানাহলে এই, কোন পদ্ধতি অবলম্বন না করে, ত্রান বিতরন করা হলে, তা সামরিক উদ্দ্যশে ব্যাবহার হতে পারে?

দ্বিতীয়ত, মি। হীলে, কি সম্পূর্ণভাবে অবগত আছেন, ওইসব প্রশ্নের ব্যাপারে, যা ব্রিটেইনের বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থা দ্বারা উল্লেখিত হয়েছে?

তৃতীয়ত, জনাব হীলে যখন নিউ-ইউর্কে যাবেন, তিনি কি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পাকিস্থান এইডের কন্সোরটিয়ামের সাথে আলোচনায় করবেন, যেন ইয়াহিয়া খানকে এই রাজনৈতিক অস্থিরতা স্থীতিশীল করার জন্য একটি অকৃত্রিম ব্যাবস্থা গ্রহন করতে তাড়না প্রদান করা হয় এবং ইন্ডিয়াকে অতিরিক্ত অর্থনৈতক সাহায্য প্রদান করা হয়?

স্যার অ্যালেক ডগ্লাস হোমঃ আমার মনে হয়, একটি গুরুত্বপুর্ণ আন্ত্ররজাতিক উপস্থিতির প্রয়োজন হবে।পুর্ব পাকিস্থানে ইতিমধ্যে ৪০ জন কর্মী কর্মরত আছেন, এবং আমার মনে হয় আরো কর্মীর প্র্য়োজন হবে, বিশেষ করে যারা, যোগাযোগ এবং যাতায়াতের ব্যাপারে অভিজ্ঞ। আমি আগামী কাল স্বেচ্ছা-সেবক সংস্থাগুলোর সাথে সাক্ষাৎ করবো এবং মিসেস হার্টের উপস্থাপিত প্রশ্নগুলোর নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করবো; দেখা যাক তারা কতদুর কি করতে পারে। আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছি না যে, আমি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবো কি না, তবে আমি চেষ্টা করবো। পাকিস্থানের সার্বিক সাহায্যের ব্যাপারে, কোন্সোর্টিয়ামের পুরো পাকিস্থানের সার্বিক উন্নয়নে, একটি পরিকল্পনা প্রনয়নের চেষ্টা করছেন। মিসেস হার্ট, আমি মনে করি, পাকিস্থানের সম্মতিক্রমে, কনসোর্টিয়ামে একটি সর্বসম্মত নীতি প্রনয়ন হয়েছিল যে, অধিকাংশ সাহায্য পুর্ব-পাকিস্থানে প্রদান করা হবে, তবে, সেটা নির্ভর করছে সেখান কার রাজনৈতিক গঠন্ততন্ত্রের উপর যাকি না ভবিষ্যত রাজনৈতিক স্থীতিশীলতা আনবে।

 

.

13.13.100

শিরোনাম সুত্র তারিখ
বৃটিশ ত্রান তৎপরতা সম্পর্কে পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্য কমনস সভার কার্যবিবরনী ১৮ই অক্টোবর,১৯৭১

যুক্ত রাজ্যের হাউস ওফ কমন্সে পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ সচিব, স্যার এলেক ডগলাস হিউমের বিবৃতি

১৮ই অক্টোবর,১৯৭১

মি. করম্যাক পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ সচিবকে তৎকালীন সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের শরণারথীদের জন্য সরকার কর্তৃক কৃত সহযোগীতা্র ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন ।

স্যার এলেস ডগলাস হিউম- পূর্ব পাকিস্তানের সাথে পাকিস্তান সরকার ও জনগনের রাজনৈতিক মীমাংসার দ্বায়িত্বের ব্যাপারে আমি বার বার বলেছিলাম। প্রকৃতপক্ষে মানবিকতার ক্ষেত্রগুলই আন্তর্জাতিক চাপা উদ্বেগের মূল কারন, এবং উ থান্ট এর বর্তমান আবেদন এবং ১১ই অক্টোবরের যুবরাজ সাদরুদ্দিন খানের আবেদন এর প্রেক্ষিতে আমি সন্তুষ্টি জ্ঞাপন করছি যে, গভর্নমেন্ট ভারতে শরণার্থী দের জন্য ৭.৫ মিলিয়ন পাউন্ড এবং পূণরায় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ১ মিলিয়ন পাউন্ড ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে ।

এতে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বমোট ১৪,৭৫০,০০০ পাউন্ড শরণার্থীদের ত্রাণের জন্য এবং ২ মিলিয়ন পাউন্ড পূর্ব পাকিস্তানের সাহায্যের জন্য দেয়া হয় । আমি আশা করব অন্যান্য দেশ গুলোও উ থন্ট এর এই আবেদনে মহত্বের পরিচয় দিবে।

মিঃ প্রিন্টিস – পররাষ্ট্র সচিব কি সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে সম্মত হবে যে শরণার্থীদের জীবিত রাখার জন্য প্রতিদিন ১ মিলিয়ন পাউন্ডের চেয়েও বেশি খরচ হচ্ছে এবং যতটা সাহায্য বাইরের দেশ থেকে এসেছে গত ছয় মাসের খরচ তার দ্বিগুণের চেয়েও বেশি হয়েছে।

অদূর ভবিষ্যতে ব্রিটেন ও অন্যান্য দেশ থেকে এর চেয়ে আরও বৃহত্তর পরিসংখ্যান প্রয়োজন হতে যাচ্ছে ।

স্যার এলেস ডগলাস হিউম- আমরা আমাদের মতো যথাসাধ্য করে যাবো কিন্তু আমি মনে করি অন্যান্য দেশের প্রচেষ্টা ও আমাদের প্রচেষ্টার সাথে যেন মিলে ।

 

.

13.14.101-102

শিরোনাম সূত্র তারিখ
উপমহাদেশীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে কমনস সভায় পররাষ্ট্র সচিবের মন্তব্য কমনস সভার কার্যবিবরণী ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১

ব্রিটিশ হাউয অভ কমনস-এ যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক সচিব, স্যার অ্যালেক ডগলাস-হোম এর বিবৃতি

নভেম্বর ৪, ১৯৭১

 

ভারতীয় উপমহাদেশ প্রসঙ্গে, কমনওয়েলথ এর সদস্য বৃহৎ দু’টি দেশ, যাদের সাথে বন্ধুত্বকে আমরা মূল্যবান মনে করি, বর্তমানে যেন কোনো এক গ্রিক ট্রাজেডির মত, তাদের নিজেদেরকে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কুণ্ডলির দিকে ধাবিত হতে দেখছে যাতে কীনা যুদ্ধের ঝুঁকিও বিদ্যমান। মানুষের দুর্দশা, যা কীনা এখানে ব্যাপক মাত্রায় বিদ্যমান, স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে মানব সভ্যতার এই শিক্ষা লাভে ব্যর্থতার কথা যে, মানুষ রাজনীতির চেয়ে বরং খাদ্য চায়, এবং যুদ্ধের চেয়ে শান্তি চায়। গত সপ্তাহে মিসেস গান্ধী যখন লন্ডনে ছিলেন তখন তাঁর সাথে প্রধানমন্ত্রী এবং আমার আলোচনা হয়েছে। আমি আশা করি যে হাউয বুঝবে যে, যে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি তা গোপনীয় এবং আমি সে আলোচনার পূর্ণ বিবরণ পেশ করতে অপারগ। এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের মনোভাব সম্পর্কেও আমাদের অবগত রাখা হয়েছে।

ভারতে শরণার্থীরদের বন্যার দ্বারা সৃষ্ট এই জরুরী অবস্থায়, আমাদের বুঝতে হবে এই পরিস্থিতিটি বিভিন্নভাবে ভারতের জীবনযাত্রায় যে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে তাকে, যা সরকারের এ সংক্রান্ত নীতিকে দু’টি লক্ষ্য অভিমুখে পরিচালিত করেছে। প্রথমত, দুর্দশা, যা মর্মান্তিক এবং ব্যাপক, তা লাঘবের চেষ্টা। আমরা ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড সহযোগিতা পাঠিয়েছি ভারতে শরণার্থীদের এবং ২ মিলিয়ন পাউন্ড পাঠিয়েছি পূর্ব পাকিস্তানে। এটি করার পর, আমি মনে করি যে আমরা অন্য দেশগুলোকেও আহ্বান জানাতে পারি এই পর্যন্ত যতটুকু তারা করেছেন তার চেয়ে আরও ব্যাপকভাবে আমাদের সাথে মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য।

দ্বিতীয় হচ্ছে এই পরিস্থিতির রাজনীতি। এই দু’টি রাষ্ট্রের যুদ্ধের মতো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিপদটি গুরুতর এবং বাস্তব।এই পরিস্থিতিতে, আমাদের প্রথম দায়িত্ব আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকলের সংযম কামনা করা। আমি অব্যাহতভাবে আমার দৃষ্টিভঙ্গী ব্যক্ত করেছি যে, উত্তেজনা প্রশমন এবং শরণার্থী প্রত্যাবর্তনে সত্যিকারের উন্নয়ন তখনি আসবে যখন অখণ্ড পাকিস্তানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে।

কিন্তু এটা বলে আমাকে এটাও যোগ করতে হবে যে, পাকিস্তানিরা ছাড়া অন্য কেউ পাকিস্তানের ভবিষ্যতের জন্য সাংবিধানিক আদর্শ কি হবে তা নির্ধারণ করতে পারবে না। পাকিস্তানিদের দ্বারা নির্ধারিত না হলে কোনো সমাধানই টিকবে না।

গৃহযুদ্ধের দুর্বিপাকের পর, ঐক্য ফিরিয়ে আনা দুষ্কর। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান একজন বেসামরিক গভর্নর নিযুক্ত করেছেন। তিনি ডিসেম্বরে উপনির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছেন, এবং ২৭ ডিসেম্বরকে ঘোষণা দিয়েছেন নতুন জাতীয় সংসদের বৈঠক এর তারিখ হিসেবে। তিনি সাধারণ ক্ষমার ব্যবস্থা করেছেন। ভারত থেকে ফেরত আসা শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের অভ্যর্থনা কেন্দ্র তিনি মেনে নিয়েছেন। আমি তথ্য হিসেবে এগুলো ঘোষণা করছি। শরণার্থীরা ভারত থেকে পাকিস্তানে ফেরত আসার মত পরিস্থিতি তৈরিতে এই পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট হবে কীনা তা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি না। কিন্তু এরকম একটি সমাপ্তি টানার জন্য আমাদের সকলকে কাজ করে যেতে হবে। শরণার্থীদের ফেরত যাওয়া ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট। আপাতত আমরা পাকিস্তান ও ভারত উভয়কে আহ্বান জানাতে থাকবো উপমহাদেশের শান্তির প্রতি হুমকি সৃষ্টি করে এমন যেকোনো পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকতে। ইতোমধ্যে বিদ্যমান দুর্বিপাকের সাথে যুদ্ধ যুক্ত করা হবে চূড়ান্ত দুর্যোগ।

পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাকিস্তান দিয়েছে। তার মধ্যে প্রথম হলো সীমান্তে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার। দ্বিতীয় হলো, ঘটনাস্থলে জাতিসংঘের প্রতিনিধি গ্রহণের সদিচ্ছা প্রকাশ, প্রথমত, পর্যবেক্ষণের জন্য, এবং দ্বিতীয়ত, ফেরত আসা শরণার্থীদের গ্রহণ এবং তাদেরকে তাদের বাসস্থান পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার জন্য। আমি নিশ্চিত নই এই বিষয়টি ভারতে অবস্থানরত শরণার্থীরা বুঝতে পারছে কীনা। কিন্তু, ভারত মনে করে এই ধরণের যে পদক্ষেপগুলো আমি উল্লেখ করেছি তা ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীর ধারা অব্যাহত আছে। পাকিস্তান থেকে কী পরিমাণ শরণার্থী এখনও ভারতে প্রবেশ করছে সে সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে। আমি জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে জানতে চেয়েছি, এ বিষয়ে সত্যটি তিনি উদ্ঘাটন করতে পারবেন কীনা, কারণ, এই পর্যায়ে অন্য রাষ্ট্রগুলো কোনো সুসংহত কৌশল উদ্ভাবনের পূর্বে এটি জানা জরুরী যে এই স্রোত বন্ধ হয়েছে না কি চালু আছে।

আরও একবার বলছি, এখানে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হলো পশ্চিম পাকিস্তান এর শাসক গোষ্ঠী এবং পূর্ব পাকিস্তানে নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম এমন পক্ষের মধ্যে আলোচনা, এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেও আলোচনা।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা সংঘটনে আমাদের যদি কিছু করার থাকে আমরা তা আনন্দের সাথে করবো।

 

.

13.15.103-104

শিরোনাম সূত্র তারিখ

“পাক ভারত পরিস্থিতি সম্পর্কে কমনস সভায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি”

 

দি টাইমস ৭ ডিসেম্বর ১৯৭১

 

“পাক ভারত পরিস্থিতি সম্পর্কে কমনস সভায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব এলেক ডগলাস হোম এর বিবৃতি”

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধবিগ্রহের প্রকোপ স্থানীয় সরকারের ও তার সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের কাছে একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। গত কয়েক মাসে আমরা দেখেছি পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশ দুটির মাঝে সম্পর্কের ক্রমান্বয় অবনতি ঘটেছে। আমাদের ও অন্যান্য ক্ষমতাসীন দেশগুলোর চেষ্টা সত্বেও ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধের দিকে এগিয়ে গিয়েছে। আমাদের এখন তাৎক্ষণিক ভাবনার বিষয় এটাই, যুদ্ধটা বন্ধের চেষ্টা করা এবং একটি সঙ্গতিপূর্ণ ও সভ্য সমাধানে পৌছতে দুপক্ষের ইচ্ছেগুলোকে আমলে নিয়ে সাহায্য করা।

আমরা যখন প্রথম ভারত ও পশ্চিম পাকিস্তান সীমান্তে ৩ জানুয়ারীর আক্রমণ ও যুদ্ধের বিষয়ে জানতে পারি তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও মিসেস গান্ধীর কাছে আবেদন করে তারা যেন তাদের ক্ষমতার মধ্যে সমস্ত কিছু করার চেষ্টা করে এই যুদ্ধের বিস্তার রোধ করার জন্য। আমরা অন্যান্য দেশগুলোর সাথেও যোগাযোগ রাখছি।

 

বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনসমূহ

সামরিক পরিস্থিতির উপর প্রতিবেদনগুলো বিভ্রান্তিকর। এটা পরিষ্কার যে পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে এবং ভারত-পশ্চিম পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে ব্যাপক লড়াই চলছে। আর দুটো দেশেরই বিমান ও নৌবাহিনী এতে বিদ্যমান আছে।

আধুনিক যুদ্ধাবস্থায় যেটা সম্ভব সেটা লক্ষ করা যাচ্ছে যে, আকাশ থেকে হামলার সময় সাধারন জনগণকে নিশানা করা হচ্ছেনা।

হাউসকে জানানো যাচ্ছে যে, এই বিষয় নিয়ে ৪ ডিসেম্বর এবং গতকাল নিরাপত্তা পরিষদে সভা হয়েছে। এটা শুরু থেকেই পরিষ্কার ছিল, যে কোন প্রকার যুদ্ধবিরতি বা সেনা প্রত্যাহারের আহবানে রাশিয়া তার “ভেটো”(Veto) ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।

স্থানীয় সরকার পক্ষ থেকে বিষয়টি এভাবে দেখা হচ্ছে, এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে কোন ব্যর্থ সমাধান উপস্থাপন করে কোন লাভ নেই, যখন এটা জানাই যে সমাধানটি একটি বা অন্য আরেকটি দেশের ভেটো ক্ষমতা দ্বারা নাকচ হয়ে যাবে।

আমরা আমাদের সাধ্যের সমস্ত কিছু দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি এই প্রতিকূলতা সমূহকে অতিক্রম করে যাওয়ার এবং নিদারুণভাবে জটিল এক পরিস্থিতির সমাধান খুঁজে বের করার যে পরিস্থিতির কারণে যুদ্ধের বিস্তার হয়েছে।

এই প্রচেষ্টা সমূহ এখন পর্যন্ত লাভবান হয়নি, কিন্তু আমরা সেগুলো অব্যাহত রাখবো। জাতিসংঘের অবশ্যই এই পরিস্থিতিতে একটা ভূমিকা থাকতে হবে। সেটা শুধু যুদ্ধ বন্ধের জন্য নয়, যুদ্ধ পরবর্তী উন্নয়নের জন্যও।

যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের কিংবা যুক্তরাজ্যের সম্পত্তিতে কোন ক্ষতিসাধন হয়েছে, ভারতে কিংবা পাকিস্তানে এমন কোন প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। যদিও চা বাগানের ক্ষতি অনিবার্য হতে পারে। ২৩ নভেম্বর ইসলামাবাদে অবস্থিত হাই কমিশনার পাকিস্তানের সীমান্ত জেলায় অবস্থিত যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছিল। যখন এটা সম্ভবপর ছিলো।

লড়াই এর বিস্তার লাভের পর থেকে আকাশ থেকে আক্রমণের, চলাফেরার উপর আরোপিত বিধিনিষেধ, সাধারণ বিমান পরিবহনের স্থতিকরণ, এসব বিষয় আমলে নিয়ে পরবর্তীতে তিনি স্ব স্বস্থানে অবস্থানের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।

বর্তমানে কোন উদ্ধার কার্যই ভারত বা পাকিস্তানে করা হচ্ছেনা। যদিও আমি পরিস্থিতি পর্যালোচনার মধ্যে রেখেছি এবং প্রয়োজনে যেকোন পদক্ষেপ নেয়া হবে।

উপমহাদেশের জনসাধারনের জন্য যুদ্ধ শুধুমাত্র বিয়োগান্ত ঘটনা। আমি হাউসকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমরা আমাদের ক্ষমতার মধ্যে সবকিছুই করবো। এই উদ্বেগকর পরিস্থিতি সমাধান এবং প্রয়োজনিয় সমঝোতা কাজটি সাধনের জন্য।

(দি টাইমস, ৭ ডিসেম্বর,১৯৭১)

 

.

13.16.105-106

শিরোনাম সূত্র তারিখ
পাক-ভারত যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে কমনস সভায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি কমনস সভার কার্যবিবরণী ১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১

স্যার এলেক্স ডগলাস স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ সেক্রেটারি ব্রিটিশ   হাউজ অফ কমনস ডিসেম্বর ১৩, ১৯৭১

 

ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে চলছে প্রচন্ড শত্রুতা। ভারতীয় বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের অনেক ভেতর পর্যন্ত প্রবেশ করেছে, যশোর শহর পুরোটা দখল করে নিয়েছে এবং রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে ফেলেছে। শুধু তাই নয় বরং ভারতীয় ও পাকিস্তানী বাহিনীর মাঝে প্রচন্ড যুদ্ধ চলছে বিভিন্ন বর্ডার এলাকাতেও, যেখানে পাকিস্তানী বাহিনী ঢুকে পড়েছে ভারতের অভ্যন্তরে।

 

আপনারা জানেন ডিসেম্বর এর ৯ তারিখে করাচীতে একটি ব্রিটিশ জাহাজ আক্রান্ত হয়েছিল। সেখানে ৭ জন ব্রিটিশ নাগরিক মারা গিয়েছে এবং ৬ জন আহত হয়েছে। অবশ্য এই ব্যাপারে ইতোমধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী দু:খ প্রকাশ করেছেন। আমরাও এর ক্ষতিপূরণ দাবি করি। তবে এই ঘটনা ছাড়া আর কোন ব্রিটিশ নাগরিকদের হতাহতের খবর পাওয়া যায় নি।

এয়ারলিফট

আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে করাচী, ইসলামাবাদ ও ঢাকা থেকে বিমানযোগে সকল ব্রিটিশ ও অন্যান্য বিদেশিদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। খুলনা ও চট্টগ্রাম এ কোণো আমেরিকান রয়ে গিয়েছে কিনা সে বিষয়ে আরো নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কেউ কেউ অবশ্য নিজ ইচ্ছায়ই পাকিস্তানে অবস্থান করছে। এছাড়া সকল ব্রিটিশ নাগরিক যারা ফিরে আসতে চেয়েছিলেন তাদেরকে বিমানযোগে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মাত্র তিন দিনে ১৩০০ এর অধিক মানুষকে রয়্যাল এয়ার এর মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এটা খুব সহজ কাজ ছিল না। বিশেষত এমন একটা সময় যখন ঢাকা শহর এরকম প্রচন্ড হুমকীর সম্মূখীন। আমার বিশ্বাস হাউজের সবাই আমাদের এই অসাধারণ অর্জনে যারা সম্পৃক্ত ছিল তাদের সবাইকে ধন্যবাদ দিতে কার্পণ্য করবে না। আমাদের ডেপুটি হাইকমিশনার এবং কিছু স্টাফ এখনও ঢাকা রয়েছে।

অস্ত্র বিক্রয়

যুদ্ধ শুরুর পর আমরা অস্ত্রবিক্রির নীতিমালায় কিছু রিভিউ করেছি। আমি ডিসেম্বর এর ৬ তারিখে দেওয়া কথামত সেইসব রাষ্ট্রের সরকারের সাথে যোগাযোগ রাখছি যারা ভারত ও পাকিস্তানে অস্ত্রের মূল যোগানদাতা। এ ব্যাপারে আমি বলতে চাই, এমন যোগাযোগের কারণে অস্ত্র বিক্রির উপর সাধারন নিষেধাজ্ঞা আসার কোন সম্ভাবনা নাই। এমতবস্থায় আমাদের আচরন কেমন হবে তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। আপনারা সবাই জানেন ভারতের জন্যে কোন সামরিক সহায়তা নেই। অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রীর জন্যে ভারতীয় সরকারের সাথে বিভিন্ন কোম্পানীর দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি রয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি, উপমহাদেশের বর্তমান শত্রুতামূলক অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এর আচরণের উপর ভিত্তি করে উক্ত অস্ত্র সরবারহকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নিয়মিত পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে। বিগত কয়েকটি বছর ধরে আমরা পাকিস্তানকে নিয়মিত অস্ত্র সরবারহ করছি না। তাই পাকিস্তানের সাথে আমাদের এমন কোন চুক্তি নাই।

যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা

এই হাউজ ইতোমধ্যেই জেনে থাকবে যে রাজনৈতিক উপায়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব একাধিকবার দেয়া হয়েছে। ডিসেম্বর এর ৭ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল এসেম্বলি তে ভোটাভুটি হয়েছিল। যেখানে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশকেই যুদ্ধবিরতি ও নিজ নিজ সেনাবাহিনীকে ফিরিয়ে নেবার আহবান জানানো হয়েছিল। কিন্তু সে সব উদ্যোগই ব্যার্থ হয়।

 

এমতবস্থায় বাস্তবতার আলোকে যুদ্ধ সমাপ্ত করার জন্যে একটি গ্রহনযোগ্য সমাধান প্রয়োজন। এই জন্যে আমরা সিকিউএইটি কাউন্সিলের সকল সদস্যের সাথেও যোগাযাওগ রাখছি যেন দ্রুততম সময়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো যায় এবং একটি গঠনমূলক প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়।

 

.

13.17.109

শিরোনামঃ বাংলাদেশে নির্যাতন বন্ধের দাবিতে লর্ড সভার সদস্য লর্ড ফেনার ব্রকওয়ের ভাষণ

সূত্রঃ বাংলাদেশ ডকুমেন্টস

তারিখঃ ৪ এপ্রিল,১৯৭১

 

এপ্রিল ৪,১৯৭১ তারিখে এক জনসভায় বাংলাদেশে নির্যাতন বন্ধের দাবিতে লর্ড সভার সদস্য লর্ড ফেনার ব্রকওয়ের ভাষণ

হাউজ অফ লর্ডসের এর সদস্য, ঔপনিবেশিক শাসন অবসানের জন্য ব্রিটিশ আন্দোলনের অন্যতম চালিকাশক্তি লর্ড ফেনার ব্রকওয়ে বলেছেন, তিনি তাঁর শৈশব কাটিয়েছেন বাঙলার মাটিতে, যার জন্য তিনি সবসময়ই নিজেকে বাঙলার একজন বন্ধু বলেই পরিচয় দেন। পাকিস্তান সৃষ্টির ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিম পাকিস্তান স্বৈরাচারী শাসকদের মত পূর্ব পাকিস্তানকে শাসন করে যাবে, এমন ইচ্ছা সম্ভবত ব্রিটেনের কখনই ছিল না। তিনি অবিলম্বে পূর্ব বাঙলার মানুষের দুর্দশাপূর্ণ পরিস্থিতি অবসানের দাবি জানান। তিনি সভায় পাঁচ দফা দাবিও রাখেনঃ

(ক) অবিলম্বে পূর্ব বাঙলার দুর্গত মানুষের জন্য কার্যকরী ত্রাণ পৌঁছাতে হবে।

(খ) সকল রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে।

(গ) পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আক্রমণ বন্ধ করে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে।

(ঘ) অবিলম্বে জাতীয় পরিষদের সভা ডেকে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসে দেশের জনগণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ দিতে হবে।

(ঙ) পূর্ব পাকিস্তানে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে বিশ্ব শান্তির জন্যও হুমকি স্বরূপ বলে উল্লেখ করে জাতিসংঘকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।

(চ) তিনি আরও জানান, ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়া কমনওয়েলথ সম্মেলনে গৃহীত ‘সিংগাপুর বিবৃতি’তে উল্লেখিত স্বাধীনতার শর্তগুলো পাকিস্তান পূরণ করেছে। পূর্ব বাঙলার প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য প্রতিনিধিদল পাঠাতে কমনওয়েলথের প্রভাবশালী সদস্য যেমন ব্রিটেন, ভারত এবং কানাডার সরকারপ্রধানদের তিনি অনুরোধ করেন।

নিরাপত্তা পরিষদের সভা আহ্বান করে সেখানে পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের প্রস্তাবনাকেও তিনি জোরালো সমর্থন জানান।

গার্ডিয়ান পত্রিকার সংবাদদাতা মার্টিন অ্যাডেনি ২৫ মার্চ ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তিনি সেদিন ঘটে যাওয়া ঘটনার এক মর্মান্তিক বর্ণনা দেন।

পূর্ব বাঙলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর চালানো সশস্ত্র দমন পীড়ন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়- এই যুক্তির তীব্র সমালোচনা এবং প্রতিবাদ জানান লেবার পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ের মন্ত্রী এবং বর্তমান এমপি পিটার শোর। তিনি ব্রিটিশ সরকারকে পাকিস্তানের ঘটনাবলীর দিকে গভীর মনোযোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান। সেই সাথে রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানের উপর চাপপ্রয়োগ করে হলেও পূর্ব বাংলায় রক্তপাত বন্ধের বিনীত আহ্বান জানান। তাঁর মতে, পূর্ব বাঙলার ভবিষ্যত নির্ধারণের দায়িত্ব সে অঞ্চলের মানুষের উপরই ছেড়ে দেয়া উচিৎ, পশ্চিম পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর উপর নয়। তিনি আরও জানান, এপ্রিল ৫ এ অনুষ্ঠিতব্য কমন্স এর সভায় পূর্ব বাঙলার পরিস্থিতির একটি ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে ব্রিটিশ সরকারের উপর লেবার পার্টি তার সমস্ত প্রভাব খাটাবে।

.

13.18.110

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশে নির্যাতন বন্ধের দাবীতে লর্ড সভার সদস্য লর্ড ফ্রেনার ব্রকওয়ের ভাষণ বাংলাদেশ ডকুমেন্টস ৪ এপ্রিল, ১৯৭১

 

 

৪ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে এক যুক্তরাজ্যের এক জনসভায় হাউস অফ লর্ডসের সম্মানিত সদস্য লর্ড ফেনার ব্রকওয়ের বক্তব্যঃ

 

লর্ড ফেনার ব্রকওয়ে, একি সাথে হাউস অফ লর্ডসেরএকজন সম্মানিত সদস্য এবং উপনিবেশিক সাম্রাজ্য বিরোধী আন্দোলন এর অন্যতম পথনির্দেশক ছিলেন। তার বক্তব্যে উল্লেখ্য হয় যে তিনি তার শৈশব এর একটা বড় অংশ কাটিয়েছেন এই বাংলায় এবং একারনেই তিনি নিজেকে বাংলার একজন বন্ধু হিসাবে ভাবেন। পাকিস্তান এর সুচনার কথা স্মরন করে তিনি বলেন যে খুব ব্রিটিশরা কখনই এই উদ্দেশ্যে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি করেনি যে এটির পশ্চিম অংশ বা পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব বাংলার মানুষের উপর স্বৈরাচারী শাসন চালাবে। তিনি অনতিবিলম্বে পূর্ব বাংলার এই ভয়াবহ মানবিক দুর্যোগের অবসান দাবি করেন। তার দাবি সমুহ নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ

১। পূর্ব বাংলার দুর্গত মানুষদের জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ত্রান সামগ্রী সরবরাহ করা।

২। সকল রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি প্রদান করা।

৩। পাকিস্তানি আর্মিদের পূর্ববাংলা হতে অবিলম্বে উতখাত এবং তাদের আক্রমনের উপর যথার্থ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা জারি করা।

৪। গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত গনপ্রতিনিধিদের নিয়ে অবিলম্বে একটি জাতীয় অধিবেশন ডাকতে হবে। দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ কি হবে তা তাদের দ্বারা নির্বাচিত গনপ্রতিনিধিরাই নির্ধারণ করবে।

৫। একি সাথে তিনি এই উদ্ভুত পরিস্থিতিকে একটি আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতি একটি হুমকিস্বরূপ বিবেচনা করে, উক্ত বিষয়ে জাতিসংঘের সাহায্য কামনা করেন।

৬। তিনি একি সাথে এ বিশয়টি নিশ্চিত করেন যে, উক্ত বছর জানুয়ারি মাসে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ কনফারেন্সে যে ঘোষনাপত্র প্রকাশ করা হয়, কমনওয়েলথ এর সদস্য হিসাবে পাকিস্তান তাতে স্বীকৃতি প্রদান করে, এবং একি সাথে স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের জন্য প্রণীত বিধিমালার অনুমোদন করে। তিনি আশা করেন যে, প্রভাবশালি কমনওয়েলথ রাষ্ট্র যেমন ইংল্যান্ড, ইন্ডিয়া কিংবা কানাডা কমনওয়েলথ সচিবালয়ে পূর্ব বাংলায় কমনওয়েলথ এর একটি পর্যবেক্ষণকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব উত্থাপন করবে। তিনি পূর্ব বাংলার চলমান পরিস্থিতি বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদে একটি সভা আমন্ত্রনের জন্য ইন্ডিয়ার প্রস্তাব এর প্রতি সমর্থন জানান।

তার বক্তব্যের পর, দ্যা গারডিয়ান পত্রিকার সাংবাদিক, মারটিন আডেনি, ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় অবস্থানকালীন তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন।

এর পর, পিটার শোর, লেবার গভর্নমেন্ট এর একজন এম পি এবং প্রাক্তন মন্ত্রী, এই বক্তব্যতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন যে পূর্ব বাংলায় ঘটে যাওয়া ঘটনাসমুহ নিতান্তই পাকিস্তানের আভ্যন্তরিন বিষয়। তিনি অবিলম্বে যুক্তরাজ্যের সরকারকে এই বিষয়ে নজরদারি করার উদ্যোগ নাওয়ার দাবি জানান। তিনি ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান, যেন অবিলম্বে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এর সাথে আলোচনা করে এই রক্তপাত বন্ধের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। তিনি বলেন, পূর্ব বাংলার মানুষের ভবিষ্যৎ তারা নিজেরাই নির্ধারণ করবে, পশ্চিম পাকিস্তানি আর্মিরা নয়। একি সাথে শোর ব্রিটিশ লেবার পার্টির প্রতি আহবান জানান যেন তারা আসন্য ৫ এপ্রিলে অনুষ্ঠিতব্য কমনস ডিবেটে, ক্ষমতাসীন ব্রিটিশ সরকারের উপর সম্ভাব্য সকল চাপ সৃষ্টি করে এবং ব্রিটিশ সরকার পূর্ববাংলার এই পরিস্থিতির অবসানে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহনে প্রভাবিত করে।

.

13.19.111-115

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের আশংকা অক্সফার্ম ও ওয়ার অন ওয়ান্ট সংস্থার রিপোর্ট অক্সফার্ম ও ওয়ার অন ওয়ান্ট এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি ৭ এপ্রিল, ১৯৭১

 

 

পূর্ব পাকিস্তানের সকল জনগন অপরিমেয় এক দুর্ভিক্ষের মুখোমুুখি হতে পারে অক্সফাম এবং ওয়ার অন ওয়েন্ট রিপোর্টে বলা হয়। ভয়াবহ পরিনতি হতে পারে তাই অব্যস্মাভীভাবে নিম্মোক্ত বিষয় বিবেচনা করা উচিতঃ

১। গত নভেম্বরে সাইক্লোনে যে ক্ষতি হয় এর দেনা প্রচুর পরিমানে খাদ্যশস্য আমদানি করতে হয় যা এখনও বন্ধ হয়নি।

২। গচ্ছিত খাবার যা চিটাগং বন্দর ও অনান্য স্থানে জমা আছে তা চালানো অপছন্দনীয় হলেও এগুলো দেওয়া যেতে পারে এবং কিছুটা ক্ষতিপূরন হতে পারে।

৩। দুর্ভিক্ষ এখনকার ছোট শস্য বুনতে সংগ্রহে ব্যহত হতে পারে। বসন্তের ফসল বুনতে বাধা দিতে পারে যা বর্ষার প্রধান ফসল যার তেল এবং কৃষকের অনান্য ফসল কাটার বস্তুর সরবরাহ বাধা এটা আমাদের মতামত যে দুর্ভিক্ষ নূন্যতম মাত্রায় যেতে পারে যদি সরকার জাতিসংঘে এবং অনান্য অর্ন্তাজাতিক সংস্থা , এজেন্সি যদি একসাথে পাকিস্তানি সরকারের সাথে কাজ করে সাপ্লাই প্রতিষ্ঠা করতে সাইক্লোন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার প্রথম এবং তারপর দেশের বাকী এলাকার জুনে বর্ষার বৃষ্টির আগেই আমরা বৃটিশ সরকারের এরকম একটা সহযোগীতা পূর্ন ব্যাপারে উদ্যোগ চাইছি।

পৃষ্টা-১১২

বর্তমান অবস্থার সংক্ষিপ্ত আলোচনা হলো পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কিত ভবিষ্যতের মুক্তি এবং পুনর্বাসনের কাজ। অথবা ভবিষ্যতের ত্রান ও পুর্নবাসনের কাজের সাথে সম্পর্কিত পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্তিতির সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা।

১। বর্তমান সেনাবাহিনী আসে পূর্ব পাকিস্তানি ২৫ মার্চ হইতে সম্পূর্ন গোপনীয়তার দায়বদ্ধতা থেকে মার্চের শুরুতে একটি নিবিড় সেনাবাহিনী তৈরি করা হয় ৩০,০০০ থেকে ৭০,০০০ মানুষের যৌক্তিক নিয়মে সেনাবাহিনীর লক্ষ হয় সকল বাংলাদেশী জাতীয়বাদী সংঘটন পিষে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রন করার জন্য।

২। সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্য অর্জন করা হয়নি। সকল রিপোর্ট থেকে এটা মনে হবে যে যদিও নিয়ন্ত্রন হয়েছিল ঢাকার মধ্যে মোটামুটি দ্রুত কিন্তু এটা চট্রগামে সহজে ছিল না এবং কিছু ছোট শহর গুলোতে এখনো কোন প্রভাব পড়তে পারে নি অধিকাংশ গ্রাম এলাকাগুলোতে স্পষ্টভাবে , পশ্চিম পাকিস্তানের বাঙ্গালিদের স্পষ্টভাষী অবমাননার তাদের বাংলা জাতীয়বাদী আন্দোলনের মূল শক্তি অবমূল্যায়নের দিকে নিয়ে গেল। যাই হোক সেনাবাহিনী সম্ভবত নিহত করেছে প্রকৃত সম্ভাব্য নেতাদের এবং গুড়ো করে দিয়েছে তাদের প্রাথমিক প্রতিরোধ।

বিদেশী সরকার গুলো আচরন অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন এবং তাদের সামকরন ভাবে নেতিবাচক উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে সেনাবহিনীর প্রাথমিক নির্মম সাফল্যর।

ইউ.কে এর যথেষ্ঠ বিনিয়োগ ছিল পশ্চিম পাকিস্থানে এবং যেহেতু দুর্যোগের আশংকা তাই হাই কমিশন খুব সতর্কের সাথে নিরুৎসাহিত করেছে ত্রান সংস্থাগুলোকে যাতে তারা অধিক ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় অতিরিক্ত ত্রান না করে কেননা এটা ক্ষতিকর হতে পারে । এটা ভাবার বিষয় যে হাই কমিশনের নূন্যতম ধারনা ছিল যে, দীর্ঘমেয়াদী সৈন্য শক্তি প্রয়োগ হতে পারে কারন আমাদের শক্তি ও সামর্থ্য যথেষ্ট ছিল এটা শক্তি প্রয়োগ শুরুর আগেই

 

থেকে জানত। ইউ.এস স্বেচ্ছাকৃত শক্তি প্রয়োগের ব্যপারে তেমন আগ্রহী ছিলনা অন্যদিকে ইউ.কে গ্রহনযোগ্য বিনিয়োগ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে এবং সত্যিকারার্থে তেমন উদ্ভিগ্ন ছিল না কেন্দ্রিয় সরকারের সাথে কোন প্রকার

গোপনীয় যুদ্ধ কৌশল নিয়ে সাহায্য করা সভ্যতার চীন তাদের অঞ্চলের উপর দিয়ে সামরিক বাহিনীর চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল এবং যেহেতু ২৫ মার্চের ঘটে যাওয়া ঘটনা পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ব্যাপক কিছু ছিল। যেহেতু চীন সম্পূর্ন ঘুরে যাওয়া সম্ভাবনা ছিল যখন তারা মরিয়া বাহিরের সাহায্যেও জন্য একমাত্র রাশিয়ার একটা দেশ যারা নথিযুক্ত করেছিল। যারা উচ্চকন্ঠে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী ছিল এবং তারাই বৃহৎ আকারে হাত বাড়িয়ে চরমভঅবে পরাস্থা নেতৃত্বহীন বাংলার পাশে চীন কিছু করবার পূর্বেই যাতে ফের রাজনীতিকভাবে কিছু সুবিধা নেওয়া যায় এবং বাংলা থেকে চীন পন্থীভাব নিশ্চিত করতে । ইন্ডিয়া চোখে আঙ্গুল দেবার মত আগ্রহ , আবেগ প্রদর্শন করেছিল বাঙ্গালিদের জন্য যা না বলা হত পূর্ব পাকিস্তান তাদের বহু সুবিধা পেত না। যা দেখে পশ্চিম পাকিস্তান তাদের রাজনীতিতিতে একটা প্রভাব বিরাজ করে। তথাপি ইন্ডিয়ান ধারা বাজায় রেখে যথেষ্ট আগ্রহ ও উদ্দিপনার সাথে দীর্ঘমেয়াদী আর্মি অপারেশান চালিয়ে এবং পূর্ব পাকিস্তানের জনগনকে উদ্দিপ্ত করতে থাকেন তাদের তীব্র কঠিন কষ্টদায়ক চাপ থেকে । বর্তমানে পূর্বপাকিস্তানকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রাসঙ্গিক বিষয় নয় কিন্তু হতে পারত যদি সামরিক আক্রমন চলতে থাকত যা ঘটেছিল ভিয়েতনামের সাথে।

এখানে তিনটি বিষয়ে সম্ভাব্য ফলাফল ছিল।

পৃষ্টা-১১৩

মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র ত্রয়োদশ অধ্যায়

ক। সেনাবাহিনী সর্বাতœকভাবে নিয়ন্ত্রন নিয়ে নিয়েছে যা সত্যিই অবিস্বাস্য সম্ববত এপ্রিলের শেষ নাগাদ এটা হবে।

খ) বাহিরের কোন সাহায্য ছাড়াই বাঙ্গালিরাও সর্বাতœকভাবে নিয়ন্ত্র নিয়ে নিয়েছে এটাও সত্যিই অবিস্ব্যাস্য।

গ। মূল শহর বন্দর বিমান বন্দর এবং তার আশেপাশের অঞ্চল সেনাবাহিনীর দ্বারা কোন নিয়ন্ত্রন ছাড়াই সামরিক অচলাবস্থা চলছে যা শুধু মাত্র দেশের অন্য অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করছে।

৫। যদি বিবেচনা করা হয় তবে পশ্চিম পাকিস্তানের উপর পশ্চিম সরকারের চাপ ছাড়ই এমন অবস্থা দাড়াবে যেখানে অধিকাংশ লোকজন হতাশা ও পরাজয়ের অনুভূতি নিবে এবং এটা নি:সন্দেহে নকশাল বাদী সত্যবাদী , পশ্চিমা বিরোধীদের সমর্থন বৃদ্ধি করবে।যোগাযোগ ব্যবস্থা রাস্তাঘাট, ব্রীজ , কালভার্ট, গাড়ীঘরা নৌকা ও রেলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাতœকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এবং এর সাথে অভ্যন্তরীন ও আমদানীতে ও খাবারের বিতরন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে এবং জরুরী ত্রান সহায়তা দরকার পড়বে। তথাপি এখন সামরিক সরকার স্থানীয় চাহিদা মেটানোর জন্য বিদেশী সহায়তা দিতে অনুমোতি দিবে।

৬। যদি সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয় তবে আওয়ামিলীগের বাকীদের পরিস্থিতির উপর ঢিলেঢালা বজায় রাখতে যেখানে অধিকাংশ নেতা সৈন্য দ্বারা গুলিবিদ্ধ এটা বিভ্রান্তি বাড়বে এবং অস্থিরতা তৈরি হবে কিছু সময়ের জন্য । সুযোগ দিতে এই জন্য উপরে বর্নিত একই চরমপন্থার জন্য বিবেচনাযোগ্য সুযোগ আসবে। তথাপি সাধারন জনগন তাদের সাফল্য নিয়ে উজ্জল হবে এবং সকল সমস্যার জন্য পাকিস্তানি আর্মিদের উপরে দোষ চাপাবে এবং ফলশ্রুতি সর্বক্ষেত্র থেকে ব্যাপক বিদেশী সাহায্য গ্রহন করা হবে যা অর্জিত নিবিড় ভাবে চিহ্নিত করা হয়নি ।

 

পশ্চিম সরকার বা পশ্চিম পাাকিস্থানের সরকারের কাছে পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের উপর যা কিনা পর্যাপ্ত পরিমান চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

স্বল্প মেয়াদী ত্রান ব্যবস্থা এই মহামারী সমস্যা খানিকের জন্য স্বস্তি দিতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদী সুযোগ সুবিধা নির্ভর করছে বাঙ্গালীর অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক সংগ্রামের উপর। এই ধরনের একটি পরিস্থিতিতে সিবিসি দলিল স্বল্পমেয়াদী ও অনিশ্চিত কৌশলের চেয়ে।

৭। যদি সি বিবেচনায় নেয়া হয় যতদূর এর সম্ভাব্য পরিমান হবে। অচলাবস্থা যে মূলে অমূল বৃষ্টি আসা পর্যন্ত চলবে। আর্মি ও জনগনের জন্য যোগান ব্যবস্থা অসহনীয় হয়ে যাবে। এই মন্দতার কৌশলগত ব্যবস্থা।বাঙ্গালির সাফল্য শুধুমাত্র বাহিরের ত্রান সামগ্রী জনগনের মধ্যে ক্ষুদা ও অপুষ্টি ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। যেখানে সাইক্লোনে আক্রান্ত গ্রামআঞ্চল দেড় মিরিয়ন জনগনের দুর্দসা লাঘবে সৈন্য নিয়ন্ত্রন থেকে চেষ্টা করবে না।

পৃষ্টা-১১৪

৮। এটা এখন অনুমান করা সম্ভব যে , ঘুর্নিঝড় ও সৈন্য দ্বারা গৃহিত সামরিক অভিযানের ফলাফল মানুষের চাহিদা কী রুপ নিবে।

অ.     দেশের সব অংশে খাদ্য সরবরাহ ভেঙ্গে পড়েছে অবহেলিত হচ্ছে। যদি বৃষ্টি আরম্ভ হতে শুরু করে তবে করে অধিক পরিমানে প্রয়োজনীয় খাবার ঘুর্নঝড় আক্রান্ত এলাকায় সরবরাহ প্রায় অসম্ভব। চট্রগাম ডাকের সংরক্ষন ক্ষমতা হবে দেড় লক্ষ টন। এটা মর্চের মাঝামাঝি ছিল। এটা যুক্তিসঙ্গতভাবেই অবুমেয় যে সেখানে পরবর্তী দুমাসের জন্য সন্তুষ্ট পরিমান খাদ্যদ্রব্য কিংবা খাদ্যশস্য ছিল সমগ্র দেশের জন্য। এলাকার ক্ষতির পরিমান ছিল অজানা। সে সময়ে আমদানিকৃত শস্যের পরিমান একটু বেশি ছিল। ১৮/০৩/৭১। উপরন্তু তার সময়ের মাঝামাঝি সময়ের ফসল শীতের সেচের মাধ্যমে বোরো ফসল এপ্রিলের দিকে উঠিয়ে আনা উচিত। স্থানীয় লোকবল সাধারন ভাবে সহজলভ্য না হওয়ার দরুন আমদানীকৃত স্থানীয় শ্রমের উপর নির্ভরশীলতার দরুন ফসল উৎপাদন সম্পূর্ন রুপে হবে না। কারন শ্রম তখন সহজলভ্য হচ্ছে না।

ই.      যোাগাযোগ নিচের সংক্সিপ্ত বিবরন থেকে অনুমান করা যেতে পারে ঃ বহু যানবাহন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বহু রাস্তা, সেতু ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ট্রেনের লাইন নেক জায়গায় কেটে ফেলা হয়েছে এবং মজুদ কিছু হয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘুর্নিঝড়ের কারনে নৌ বানিজ্য পুনরুদ্ধার সম্ভব হচ্ছে না।

ঈ. ভবিষ্যৎ কৃষি উৎপাদন ঃ আক্রান্ত এলাকার ষাড় আমদানী বন্ধ হয়ে পড়েছে। অবৈধ পথে ইন্ডিয়া থেকে         আমাদনী বড় পরিমানে আমদানী বন্ধ । তার মধ্যে সন্দেহাতীতভাবে সৈন্যদের খাদ্য সরবরাহ করার জন্য অনেক গুলো জবাই করা হয়েছে। খাদ্যের জন্য বীজ ব্যবহারের ফলে এবং সার সরবরাহ বিঘিœত হবে সারা দেশ ।

উ. কৃষি কাজ যান্ত্রিকীকরন ঃ চাষাবাদের সময় লক্ষণীয় কমাতে হবে এবং জ্বালানী সরবরাহ স্বল্প সময়ের মধ্যে হতে হবে। সাথে ধানক্ষেতের উপড় উপর বায়ু অদূষনকারী সেচন প্রয়োগ এবং মূল ফসলের নামে সহায়ক ফসল উৎপাদনে একটি বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্ত হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে এটি যদিও অত্যন্ত ব্যয়বহুল একশ একর প্রতি খরচ ৩০০ ডলার।

ঊ. মেডিকেল এটা ধারনা কারা যায় যে মেডিকেল সুবিধা সরবরাহ আর্মি দ্বারা বড় পরিসরে পরিচালিত হবে এবং সত্যিকারের জরুরী মেডিকেল সেবায় প্রয়োজন পড়বে যা সাইক্লোন পরবর্তী সময়ে নেয়া হয়নি/বাস্তবীকভাবে অনুপস্থিত।

ঋ. ভবন ও নিরসন: সময় এমন হয়ে গেছে যে পুরোপুরী স্থয়ী ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান আত্রান্ত এলাকায় খুব কম পরিমানই নেয়া যাচ্ছে। এটা হতে পারে এই কারনে যে মজুদের কিছু পরিমান বা সংরক্ষিত মজুদের কিছু এলোমেলো হয়েছে ১৯৭১ এর মধ্য থেকে যে ভবনগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে তারজন সকল সম্প্রদায়ের সমর্থনে একটা সাধারন ভবন তৈরির নীতিমালা প্রয়োজন।

এ. সাইক্লোন ও সতর্কতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: সতর্কতা ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় হতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ বাথ মেরমতের কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। এবং মে ও আক্টোবর মাসের ঘুর্ণিঝড়ের পরিসংখ্যান সম্ভাবনা সম্পূর্নভাবে অপ্রস্তুত ও প্রতিরক্ষাহীন অসহায় জনগনের উপর আঘাত আসবে যার ক্ষতি হবে অসামাঞ্জস্যপূর্নভাবে।

 

 

 

 

.

13.20.116-117

শিরোনামঃ

 

সুত্রঃ তারিখঃ
পুর্ববংগে গণহত্যা সম্পর্কে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের শ্রমিক দলীয় সদস্য মিঃ ব্রুস ডগলাস ম্যান-এর বক্তব্য আনন্দবাজার

২৪ এপ্রিল, ১৯৭১

 

 

 

ভিয়েতনামে ‘মাইলাই’ একটি ব্যতিক্রম, আর গোটা পুর্ববংগই মাইলাই – ডগলাস ম্যান

(স্টাফ রিপোর্টার)

 

কলকাতা, ২৪ এপ্রিল-ব্রিটিশ পার্লামেন্টের শ্রমিক দলের সদস্য মিঃ ব্রুস ডগলাস ম্যান আজ এখানে বলেন যে, ভিয়েতনামে মার্কিন ফৌজ সাধারণ মানুষের উপর যে অত্যাচার চালিয়েছে, ইয়াহিয়াশাহীর বর্বতা তাকেও হার মানিয়েছে। তিনি বলেন, ভিয়েতনামে মাইলাই একটি ব্যতিক্রম, আর গোটা পুর্ববংগই মাইলাই। আজ সকালে কলকাতা প্রেসক্লাবে দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদের এক বৈঠকে তিনিবলেন, পুর্ববংগে নরহত্যা অভিজান বন্ধ করবার জন্য, পাকিস্তান সরকারকে মুক্তির পথে চলতে বাধ্য করবার জন্য সারা বিশ্বকে উপযুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। ভারতবর্ষ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে বলে পাকিস্তান যে অভিযোগ করেছে, সে সম্পর্কে মন্তব্য করতে বলা হলে মিঃ ম্যান বলেন, এই ব্যাআরে ভারতবর্ষ যথেষ্ট সংযমের পরিচয় দিয়েছে। যথেচ্ছ নরহত্যাকে তিনি কোনমতেই একটি দেশের অভ্যন্তরীন ব্যাপার বলে মনে করতে পারেন না। কলকাতার পাক ডেপুটি হাইকমিশন যেভাবে আনুগত্য পরিবর্তন করেছে, ইংল্যান্ডে সেরকম কিছু হলে আপনি কি করতে বলতেন?- এই প্রশ্নের জবাবে মিঃ ম্যান বলেন, তিনি একজন আইনজীবি। আইনের কথাই তিনি ভাবতেন। কেউ বাড়ি জবরদখল হয়েছে মনে হলে ইংল্যান্ডেও আইনের আশ্রয় নেয়াই একমাত্র পথ। তিনি জানান, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ২২০জন সদস্য পুর্ব্বংগে যুদ্ধবিরতির দাবী জানিয়ে পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন। এই প্রস্তাবের পক্ষে তিনিই প্রথম স্বাক্ষরকারী। ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের জন্য যে সর্বদলীয় কমিটি গঠিত হয়েছে মিঃ ডগলাস তার চেয়ারম্যান। তাঁর ধারণা ইংল্যান্ডের সরকারের মনোভাব পালটে গেছে, ওখানকার সংবাদপত্রগুলি খুব সুস্পষ্ট ভাষায় পাকিস্তানী বর্বরতার নিন্দা করেছে। হাজার হাজার নিরস্ত্র মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। এই হত্যা বন্ধ করবার জন্য ব্রিটিশ এবং অন্যান্য সরকারকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রয়োগ করতে হবে। মিঃ ম্যান অনেকগুলো উদ্বাস্তু শিবির ঘুরে এসেছেন। শিবিরের ভিতরে গিয়ে তাঁরা কথা বলেছেন। ইংল্যান্ড কি বাঙ্গালীদেরকে সাময়িক সাহায্য দেবে? না। তবে কেউ দিলে বাধাও দেবে না। পরে মিঃ ম্যান কুটনৈতিক মিশনে গিয়ে হাইকমিশনার জনাব হোসেন আলীর সংগে সাক্ষাৎ করেন। উভয়ের মধ্যে আর্তত্রাণ ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, ভারতের পক্ষে একক এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। সারা বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে। মিঃ ম্যান বলেন, মিঃ স্টোনহাউস এই সাহায্য সংগঠনের জন্যই এসেছেন। মিঃ ম্যান যাদের সংগে কথা বলেছেন, তাঁরা সকলেই যশোর জেলা থেকে এসেছেন। এদের সংগে কথা বলে মনে হয়েছে, পাঞ্জাবী মিলিটারি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মানুষ খতম করা হচ্ছে। গ্রামকে গ্রাম লোক নেই, জল নেই। মাঠে শস্য নেই, থাকলেও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আশংকা করা হচ্ছে। বিভিন্ন পক্ষের সংগে কথা বলে তাঁর মনে হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি বাঙ্গালীদের পক্ষে নৈরাশ্যজনক নয়। আবার ভারতীয় সংবাদপত্রে যেমন দেখানো হচ্ছে, তেমন আশাব্যঞ্জকও নয়। অতিরিক্ত আশাবাদী চিত্র একে ভারতীয় সংবাদপত্র মুক্তিকামী বাঙ্গালীদের ক্ষতি করবেন বলে তিনি মনে করেন। বৃটিশ সরকার নতুন বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দেবার প্রশ্নে নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি মনে করেন না।

 

.

13.21.118-119

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বৃটিশ শ্রমিক দলের প্রতিনিধি মিঃ ডগলাস ম্যান কর্তৃক পশ্চিম পাকিস্তানের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের দাবী আনন্দবাজার ২৪ এপ্রিল, ১৯৭১

 

আক্রমণকারী পঃ পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক আবরোধ করতে হবে বৃটিশ শ্রমিক দলের প্রতিনিধির দাবী \বিশেষ প্রতিনিধি/

.

বৃটিশ পার্লামেন্টের শ্রমিক দলের বৃটিশ পার্লামেন্টের শ্রমিক দলের প্রতিনিধি শ্ৰী বি ডগলাস ম্যান শুক্রবার প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, পশ্চিম পাকিস্তান বাংলাদেশ আক্রমণ করেছে। সেখানে জনগণকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। ওখানে যুদ্ধবিরতি করতে পশ্চিম পাকিস্তান যাতে বাধ্য হয়, তার জন্য রাষ্ট্রসংঘ ও কমনওয়েলথের মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক অবরোধ করতে হবে।

বাংলাদেশের জনগণের অবস্থা স্বচক্ষে দেখবার জন্য শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে শ্রী ম্যান বাংলাদেশ সীমান্তে এসেছিলেন। সাংবাদিকদের কাছে তিনি অভিভূত কষ্ঠে বলেন, শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পাক সৈন্যদের মর্মান্তিক হিংস্রতার তিনি যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পেয়েছেন। নির্বিচারে মানুষকে সেখানে হত্যা করা হয়েছে। চারদিকে একটা আতঙ্কের আবহাওয়া। এর পিছনে উদ্দেশ্য কি তিনি জানেন না। তবে তিনি এটা বুঝতে পারছেন, বাংলাদেশ ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে আর মিলনের কোনো সম্ভাবনা নেই। যা হয়েছে তা আক্রমণ – পশ্চিম পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তানের ওপর আক্রমণ। আন্তর্জাতিকভাবে একটা আক্রমণের ঘটনা হিসাবে এটিকে সকলের গ্রহণ করা উচিত। গোলাপী শংকটের সঙ্গে অক্সফোর্ড টাই পরা কেনলিংটনের এই তরুণ সুদর্শন এম-পি সাংবাদিকদের বলেন, পূর্ববঙ্গে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য বৃটেনের সংসদ সদস্যরা উদ্যোগী হয়ে একটি কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির তিনি একজন সদস্য।

.

সীমান্তের অভিজ্ঞতা

শ্রী ম্যান বলেন, সীমান্তের শরণার্থীরা আমাকে বলেছেন পাঞ্জাবী সৈন্যরা গ্রামে গ্রামে এসে নির্বিচার হত্যাকান্ড চালিয়েছে। বাড়ী-ঘর-দোরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তারপর আওয়ামী লীগ নেতাদের খুঁজে বার করার চেষ্টা করেছে। অত্যাচারের সাক্ষ্য-প্রমাণগুলি খুবই স্পষ্ট। তবে এই ব্যাপক নির্বিচারে হত্যাকান্ড বাঙালীদের তাড়ানোর জন্য সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে কিনা, তা তিনি বলতে পারেনা।

শ্রী ম্যান মনে করছেন, পূর্ববঙ্গে যে সব মানুষ এখনও আছেন, তাঁরা না খেয়ে মরবেন। কারণ বীজ বোনা হয়নি। চাষবাস বন্ধ। এর ফলাফল হবে মর্মম্ভদ। আরও উদ্বাস্ত্ত আসতে থাকবেন। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে অবিলম্বে যুদ্ধপীড়িত মানুষদের উদ্ধার করা দরকার।

 

বায়াফ্রার সঙ্গে তুলনা হয় না

বাংলাদেশের অবস্থাকে অনেকে বায়াফ্রার সঙ্গে তুলনা করছেন, কিন্তু শ্রী ম্যানের মতে, বায়াফ্রার সঙ্গে এখানকার পরিস্থিতির তুলনাই হয় না। বায়াফ্রাতে পূর্ববাংলার মত একটা নির্বাচন হয়নি। তাছাড়া ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বায়াফ্রা এমন ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্নও ছিল না।

তবু বায়াফ্রার কথা মনে করে অনেক রাষ্ট্র বাংলাদেশকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছেন না। কিন্তু এটি বাজে তুলনা’। শ্রী ম্যান কদাচ মনে করেন না যে, বাংলাদেশে আজ যা হচ্ছে, তা শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ঘটনা।

শ্রী ম্যানের বিশ্বাস, পৃথিবীর লোকেরা ভাল করে জানে না, পূর্ববঙ্গে কী হচ্ছে এমনকি তাঁর নিজের দেশের সরকার ও জনগণও বিশদ খবরাখবর জানেন না। বৃটিশ সরকার এই জন্যই চুপ করে আছেন বলে শ্রী ম্যান মনে করেন।

প্রশ্নঃ আপনি কেন বৃটিশ হাইকমিশনারকে অনুরোধ করছেন না, ঘুরে সব দেখে গিয়ে সরকারকে জানাতে?

উত্তরঃ আমি ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। দেখলাম তিনি আমার চেয়েও বেশী খবর রাখেন।

প্রশ্নঃ বৃটিশ সংবাদ পত্রগুলি কি পূর্ববঙ্গের এই যুদ্ধের খবর ছেপে দিচ্ছেন?

উত্তরঃ সিরিয়াস কাগজগুলি ভাল খবরই দিচ্ছে, কিন্তু সে তুলনায় আমাদের পপুলার খবরের কাগজগুলি ভালভাবে কভারেজ দিচ্ছে না।

 

প্রশ্নঃ আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধবার সম্ভাবনা আছে?

উত্তরঃ দেখুন, ভারত যদি হস্তক্ষেপ করে, তাহলে চীন এগিয়ে আসবে। সেক্ষেত্রে বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেবার নয়।

 

প্রশ্নঃ আপনি তো সব দেখে গেলেন, আপনার কি মনে হল ভারত এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেছে?

শ্রী ম্যানের সঙ্গে সঙ্গে জবাবঃ আমি ভারতীয় পররাষ্ট্র দফতরের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে, ভারত এমন কিছু করছে না, যেটি অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপের পক্ষে সহায়ক হতে পারে।

 

একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেনঃ আচ্ছা মিঃ ম্যান, পাকিস্তানী ডেপুটি হাইকমিশনার মিঃ মোহাম্মদ মাসুদ কলকাতার পাক ডেপুটি হাইকমিশনের খবর নিতে এসেছেন। সরকারের বদলে আপনারা এমন একটা অবস্থায় পড়লে কি করতেন?

শ্রী ম্যানঃ আমরা ব্যাপারটা আদালতের ওপরেই ছেড়ে দিতাম। আমি একজন আইন ব্যবসায়ী। আমি বুঝি এটি সম্পূর্ণ আইনের এক্তিয়ার।

 

পূর্ববঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কমিটি

বৃটেনে পূর্ববঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কমিটি-জাসটিস ফর ইষ্টবেঙ্গল কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আছেন জন হ্যানাম (কনজারভেটিভ এম-পি), জন পারদো (লিবারেল এম-পি)। কমিটিতে আরও দুজন সদস্য আছেন, তাঁরা কেউ এমপি নন। শ্রী ম্যান এই কাটমির অবস্থায়ী চেয়ারম্যান। কমিটির ছয় দফা উদ্দেশ্যঃ (১) হত্যা ও যুদ্ধ বন্ধ করা, (২) আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সেবা প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া, (৩) যতদিন পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তান ধবংসাত্মক কার্যকলাপ চালাবেন, ততদিন পাকিস্তানে উন্নয়নমূলক সাহায্য বন্ধ রাখা, (৪) পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, (৫) শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপ (৬) সিংহলে পাকিস্তানের সামরিক দ্রব্যাদি নামানোর অধিকারের অবসান।

কমিটি তাঁদের কার্যবিবরণীর এই খসড়ায় পূর্ব পাকিস্তান কথাটাই ব্যবহার করেছেন- বাংলাদেশ নয়।

.

13.22.120

শিরোনাম সূত্রঃ

তারিখঃ

 

বাংলাদেশের ঘটনাবলীর উপর বিবিসি গৃহীত জন স্টোনহাউসের সাক্ষাতকার বাংলাদেশ ডকুমেন্টস, ২৭ এপ্রিল, ১৯৭১

 

বি বি সি-র সাথে জন স্টোনহাউসের সাক্ষাতকার, ২৭ শে এপ্রিল ১৯৭১

জন স্টোনহাউস লন্ডনে ফিরে ২৭ শে এপ্রিল আজকের বি বি সি অনুষ্ঠানের এক সাক্ষাতকারে বলেন, পূর্ববঙ্গে যে ভয়াবহ ঘটণা ঘটছে তা গত যুদ্ধের পর আর কখনো দেখা যাইনি-তিনি আর যুক্ত করেন যে, পূর্ববঙ্গের ভয়াবহতাকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সাথে তুলনা করলে ভিয়েতনাম যুদ্ধকে একটি “টি পার্টির” মত মনে হবে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫শে মার্চ ছাত্র-কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে লাইনে দাড় করিয়ে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যার ঘটনাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি গভীর হতাশা ব্যক্ত করে বলেন যে, ৯৮ শতাংশ ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে একটি নির্বাচনকে শুধু প্রত্যাখানই করেনি একে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শণপূর্বক সামরিক যানতা এদেশের জনগনের উপর এক নিষ্পেশনের নীতি গ্রহণ করে। জন স্টোনহাউস বলেন যে, আমাদের এখন হাত গুটিয়ে বসে থাকার সময় নয়, আমাদের অবশ্যই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

.

13.23.121

শিরোনাম সূত্র তারিখ
পাকিস্তানে প্রেরিত বৃটিশ পণ্যসামগ্রীর বীমা সুবিধা বিলোপ টাইমস অফ ইন্ডিয়া ১৪ মে, ১৯৭১

 

 

পাকিস্তানে রপ্তানির উপর বীমা স্থগিত করেছে ব্রিটেন

জে ডি সিং

দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, বার্তা সংস্থা, লন্ডন, মে ১৪।

 

ব্রিটিশ রপ্তানীকারক বিভাগ ভবিষ্যতে পাকিস্তানে রপ্তানির উপর বীমা সুবিধা স্থগিত করেছে।

এটা পাকিস্তানে ব্রিটিশ রপ্তানির উপর বিদ্যমান অঙ্গীকার সম্মান করবে কিন্তু ভবিষ্যতে আর কোন বীমা সুবিধা প্রদান করবে না।

ব্রিটিশ রপ্তানীকারকদের পাকিস্তানে পণ্য সরবরাহ করার আগে নগদ অর্থ প্রদান করার জন্য চাপ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সচরাচর রপ্তানিকারক বিভাগ পণ্যেরচালান দেয়া জন্যঅপরিশোধ-এর বিরুদ্ধে বীমা করে।

বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা এই পদক্ষেপ নেয়ায় দুঃখপ্রকাশ করছি কিন্তু আমরা আমাদের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছি এবং এটি একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত”।

এই সিদ্ধান্ত পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট ও পাকিস্তানের ভবিষ্যত বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উপরবিভাগীরমূল্যায়ন এবংতাদেরঋণ প্রদানেরসামর্থ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। পূর্ব বাংলার সংকট সকল চালানকেই প্রভাবিত করছে ফলে দেশটিতার বৈদেশিক মুদ্রারপ্রধান উৎসথেকে বঞ্চিত হচ্ছে।পাকিস্তানে ব্রিটিশ রপ্তানিমূল্য গত বছর 900 মিলিয়ন রুপির বেশি ছিল।

সম্ভবত অতীব মূলধনী পণ্য রপ্তানি করতে ব্রিটিশ পাকিস্তানে অনুমোদিত বীমা কভার স্থগিতাদেশ দিয়েছে।

সিদ্ধান্তটি এমন একটি সময়ে আসে যখন পাকিস্তান পশ্চিম ঋণদাতাদের সরকারী ঋণ পরিশোধ স্থগিত করে। স্থগিতের ব্যাপারটি বিশ্ব ব্যাংক বিবেচনা করছে।আগামী মাসে প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য পাকিস্তান সাহায্য সংস্থা এর সভা থেকে একটি সিধান্ত আশা করা হচ্ছে।

 

.

13.24.122-123

শিরোনাম সূত্র তারিখ
পাকিস্তানে বৃটিশ সাহায্য বন্ধ করার জন্য বৃটিশ এমপিদের দাবী দি স্টেটসম্যান ১৫ মে, ১৯৭১

 

 

****** পাকিস্তানে সাহায্য বন্ধ করার দাবি যুক্তরাজ্যে *****

.

লন্ডন, মে ১৪। “বাংলাদেশের পরিস্থিতি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থান প্রত্যাখান করে, বাংলাদেশ থেকে ইসলামাবাদ যতোক্ষণ না পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার না করে তখন অবধি পাকিস্তানকে সহায়তা প্রদান বন্ধ রাখার দাবিকে গতোকাল ব্রিটিশ এমপি, শিক্ষাবিদ, রিপোর্টার ও ব্যবসায়ী নিয়ে গঠিত ২০০ জনের ও বেশি একটি দল আবার পুনর্জীবিত করেছে। ” পিটিআই এর বরাত দিয়ে।

.

দ্যা টাইমস পত্রিকা গতকাল এক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে, ব্রিটিশ সরকারকে বাংলাদেশের সর্বত্র ব্যাপক হারে আন্তর্জাতিক ত্রাণসহায়তা দেওয়ার উদ্যোগে অংশগ্রহণ করার আর্জি জানিয়েছেন।

.

বিজ্ঞাপনটার শুরুতে একটি স্লোগান লেখা ছিলো ” পাকিস্তানের এই মুহূর্তের অবস্থা দেখায় যে, অভ্যন্তরীণ সমস্যার চেয়ে মানুষ বেশি গুরুত্বপূর্ণ; দশ লক্ষ মানুষের জীবন ও মৃত্যু সকলের সমস্যা” যেটা এই জাতীয় পত্রিকার ভেতরের একটি পৃষ্ঠার তিন চতুর্থাংশ জায়গা দখল করেছে। অর্ধেকটা জায়গা জুড়ে ছিলো একটি ছবি যেখানে পাকিস্তানি সেনাদের হামলার শিকার পূর্ব বাংলার কোন একটি গ্রামের এক মধ্যবয়স্ক বাঙালির শরীর দেখানো হয়েছে।

 

“একশন বাংলাদেশ” এর অর্থায়নে, আজকে “হাউস অফ কমন্স” এর শ্রম সংক্রান্ত সাধারণ আলোচনার প্রাক্কালে বিজ্ঞাপনটি প্রদর্শিত হয়েছে। জনাব ব্রুস ডগলাস ম্যান এর গতিময় তৎপরতা এবং শেষে বাংলাদেশ বিষয়ে ব্রিটিশ নিষ্ক্রিয়তা এবং ২০৩ টি সাক্ষর যার মধ্যে লর্ড ফেনার ব্রুকওয়ে ও আছে। সাক্ষরকারীদের মধ্যে পশ্চিম ভারতীয় লেখক জনাব, ভি এস ন্যায়পাল এর নাম ও রয়েছে।

.

বিজ্ঞাপন টি হল: “২৫ শে মার্চ , পাকিস্তানি বাহিনী নিয়মিতভাবে ও বর্বরতার সহিত পূর্ব বাংলার মানুষ হত্যা করা শুরু করেছিলো যাদের লক্ষ্য ছিলো দেশের নকশাল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া।”

.

সেনাবাহিনীর অত্যাচার সহস্রাধিক মানুষের উপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না বরঞ্চ রোপন, চাষাবাদ, খাদ্য আমদানি তে বাধা দিয়ে তারা আরো দশ লক্ষের ও বেশি মানুষকে অনাহারে ভোগাচ্ছে।

.

যখন ব্রিটিশ সরকার বলছে যে, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, তখন বস্তুতপক্ষে তারা বলছে, যদি দেশের জনগণ অপরপক্ষ কে ভোট দেয়, তাহলে সরকারের অধিকার আছে তার দেশের জনগণকে মেরে ফেলার কিংবা জনগণকে অনাহারে রাখার।

 

” আমরা নিন্মসাক্ষরকারী ব্যাক্তিরা, পূর্ব বাংলা থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত, পশ্চিম পাকিস্তানে সাহায্য পাঠানো বাতিল করার জন্য ব্রিটিশ সরকারকে আহবান জানাচ্ছি। পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্র ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর জন্য, যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চলছে, সেখানে অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে ব্রিটিশ সরকারকেও সে উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার জন্য, আমার আবারো আহবান করছি। ”

.

রয়টার আরো লিখেছে- ব্রিটেনের ইয়ং লিবারেলের চেয়ারম্যান – জনাব, পিটার হেইন আজ বলেছেন যে, দেশটির পূর্বাংশ হতে, সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত, ব্রিটেনের উচিত পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠানো সকল সাহায্য বন্ধ করা।

 

ত্রয়োদশ খণ্ড – ১২৩ পৃ

.

দ্যা টাইমস পত্রিকায় পাঠানো চিঠিতে তিনি লিখেছেন: ” সম্ভবত পাকিস্তান সংকট বিষয়ে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়টিকে কেন্দ্র করে, এ সপ্তাহে একটি পার্লামেন্টারি বিতর্কের মাধ্যমে, বাংলাদেশ এর মানুষের উপর চালানো পশ্চিম পাকিস্তানীদের হত্যাযজ্ঞের কারণে সৃষ্ট অপরাধবোধ থেকে ব্রিটিশ সরকারকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করবে। ”

.

এপি ওয়াশিংটন থেকে যোগ করেছে : সাহায্য-সহায়তা পূর্ব বাংলার মানুষদেরও দেওয়া হবে এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে সাহায্য পাঠানো বন্ধ রাখতে, দি ওয়াশিংটন ডেইলি নিউজ রাষ্ট্রপতি নিক্সনকে পরামর্শ দিয়েছে।

.

সম্পাদকীয় কলামে পত্রিকাটি লিখেছে, পাকিস্তানী সেনা সরকারের একজন প্রতিনিধি তার দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় প্রতিরোধ করার জন্য একশ মিলিয়ন ডলার সাহায্য চাইতে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারকে কোন সহায়তা দেওয়ার পূর্বে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের উচিত বিষয়টি ভালোভাবে বিবেচনা করা উচিত। যতটুকু আমরা দেখতে পাই, যদিও পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালাতে ব্যবহৃত নাও হয়, ইহা পাশবিকতার কাজে ব্যবহৃত হবে।

.

13.25.124-125

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশে নির্যাতনের ওপর পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন এর পুনঃ প্রচার একশান বাংলাদেশ; উদ্ধৃতি দি গার্ডিয়ান ২৭ মে ১৯৭১

 

পূর্ব বাংলার নৃশংসতা

 

জনাব, সাংবাদিকদের মতো আমাদের সেরা কোন গল্প খোজার সময় নেই । আমরা প্রত্যেকে প্রায় ২০ বছর ধরে পশ্চিম বাংলায় বসবাস করছি এবং আমরা আমাদের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১০০ জন শরণার্থীর সাথে কথা বলেছি । পূর্ববাংলায় আসলে কি ঘটছে তার চিত্র এখন আমাদের কাছে সন্দেহাতীত ভাবে পরিষ্কার । এখানে অনেক প্রত্যক্ষদর্শী আছেন যারা পুর্ব বাংলার ররাজনৈতিক নেতা , ডাক্তার , অধ্যাপক , শিক্ষক এবং ছাত্রদের পাকিস্তানী বাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হতে দেখেছেন । এখানে আরো আছেন যারা ফায়ারিং স্কোয়াড থেকে ভাগ্যক্রমে বেচে ফিরে এসেছেন ।

 

দিনে বা রাতে গ্রামবাসীদের ঘেরাও করা হয়েছে । গ্রামবাসীরা ভীতসন্ত্রস্ত ভাবে যেদিক পেরেছে পালিয়ে গিয়েছে আর যাদের পাকিস্তানী বাহিনী খুজে পেয়েছে ধরে জবাই করেছে অথবা গুলি করে মেরেছে । মহিলাদের ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ব্যারাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে । নিরস্ত্র মানুষদের উপর বেয়নেট চার্জ করা হয়েছে বা নির্যাতন করা হয়েছে ।

 

সাত সপ্তাহ পরেও নির্যাতনের ধরন এখনো একই আছে । বিশ্বাসযোগ্য সুত্রে আরো জানা গিয়েছে যে , ছোট্ট শিশুদের বেয়নেটের উপর ছুড়ে ফেলা , মেয়েদের উপর বেয়নেট চার্জ করা, শিশুদের বেয়নেট দিয়ে টুকরো করে ফেলাসহ নানা উপায়ে তারা নিরীহ ও নিরস্ত্র মানুষের উপর নির্যাতন করছে । খবরগুলো বিশ্বাসযোগ্য এই কারনে নয় যে এগুলো অনেক মানুষই একই ধরনের সাক্ষ্য দিচ্ছে বরংচ এগুলো এজন্য বিশ্বাসযোগ্য যে যারা এসব ঘটনা আমাদের কাছে বলছে তারা মোটেও রাজনৈতিক সুবাধা পাবার জন্য এসব বলছে না , তারা এসব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বা এসবের শিকার ।

আমরা একজন মা ও একটি শিশুর কাটা হাত এবং পা দেখেছি । এগুলো ছিলো বর্ডার থকে অনেক দূরে এবং বুলেটের আঘাতে তৈরি ক্ষততে পচন ধরে গিয়েছিলো । অনেকে তাদের কন্যাকে ধর্ষিত হতে দেখেছে এবং সন্তানদের মাথা দুমড়ে মুচড়ে ফেলতে দেখেছে । কেউ কেউ তাদের স্বামী সন্তান ও অভিভাবকদের কোমড়ে দড়ি বেধে একসাথে হত্যা করতে দেখেছে । পরিবারকে পুরুষশুন্য করার জন্য পুরুষদের ধরে ধরে হত্যা করা হয়েছে । বনগাঁ হাসপাতালে আমরা একটি মেয়েকে পেয়েছি যাকে কেউ শান্ত করতে পারছেনা সে বারবার পাগলের মতো প্রলাপ করেই যাচ্ছে “ তারা আমাদের সবাইকে হত্যা করবে , তারা আমাদের সবাইকে হত্যা করবে “ । আরেকটি মেয়ে রয়েছে তার পাশের বেডে যে দিনের পর দিন ক্রমাগত ধর্ষণ ও গোপনাঙ্গে বেয়নেটের আঘাতে মারাত্তকভাবে অসুস্থ হয়ে এখনো কাঁপছে ।

 

প্রায় ৪০০ নিরিহ মানুষকে ঝাওডাঙ্গায় হত্যা করা হয়েছে যারা ভারতে আশ্রয় নিতে ছুটে আসছিলো । তাদের দলটিকে প্রথমে ঘিরে ফেলা হয়েছে তারপর নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে । কেন তাদের এভাবে হত্যা করা হচ্ছে ? তারা ভারতে যেয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের কথা ফাঁস করে দেবে একারনে নাকি তারা শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে একটি তারা যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বেছে নিছে যা তাদের একটি নির্দিষ্ট রাষ্টে স্বাধীনভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় সেজন্য !

 

আরেকটি বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে ইস্ট বেঙ্গলের শক্তিকে তারা বিনাশ করতে চেয়েছিলো । প্রথম ইস্ট বেঙ্গলের অনেকেই পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে যাদের উপর গুলি করেছিলো তাদেরই রুমমেট পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যরা । পূর্ব বাংলায় ঘটে যাওয়া নৃশংসতার একটি আরেকটি উদাহারন ।

পূর্ব বাংলায় শোষনের মাত্রা চরমে পোঁছে গিয়েছিলো । চালের দাম ছিলো পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে দ্বিগুণ । শেখ মুজিবের সমর্থকেরা গণতান্ত্রিক ভাবে ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুত ছিলো এবং তারা জনগনের অকুষ্ঠ সমর্থন পেয়েছিলো ডিসেম্বরের নির্বাচনে ১৬৯ আসনের ১৬৭ টি তে জয়ী হয়ে । কিন্তু জেনারেল ইয়াহিয়া এর সামরিক জান্তা ও জনাব ভুট্টো তা মেনে নিতে পারেন নি ।

 

এই সমস্যা কি ভারতের ? এটি আক্ষরিক অর্থেই পাকিস্তানের সমস্যা । কিন্তু পশ্চিমারা কি করছে ? পূর্ব বাংলায় গণহত্যা নির্যাতন ঘটে চলেছে পাকিস্তানি শাসকদের মদদে ।আজ পূর্ব বাংলার মানুষ অসহায় , কে তাদের জন্য রিলিফের ব্যবস্থা করছে ? কারা তাদের জন্য অর্থ সংগ্রহের প্রচারণা চালাচ্ছে ? এই রাজনৈতিক জটিলতা কি মিথ্যা ? আজ কি কোন সরকার বা কোন দেশের জনসাধারণ নেই যারা পূর্ব বাংলার মানুষকে ও তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবীকে আন্তরিকভাবে সমর্থন জানাবে ? এখানে কি কোন ঐক্যমত নেই যারা সঠিক উত্তরটি দিতে পারবে ?

রেভারেন্ড জন হ্যাস্টিং ,
রেভারেন্ড জন ক্ল্যাপহ্যাম ,

সাদ্দার স্ট্রিট মেথডিস্ট চার্চ ,কোলকাতা ।

 

অনুবাদকঃ মাসরুর আহমেদ মাকিব ।

১২৪-১২৫ পৃষ্ঠা

 

.

13.26.126-127

শিরোনাম সূত্র তারিখ
পূর্ব বাংলা ট্রাজেডির প্রত্যক্ষদর্শী বৃটেনের শ্রমিক দলের এম.পি মিঃ মাইকেল বার্নস এবং ‘ওয়ান অন ওয়ান্ট’ সভাপতি ডোনাল্ড চেসওয়ার্থ-এর বিবৃতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ২ জুন,১৯৭১

 

পূর্ব বাংলা ট্রাজেডির প্রত্যক্ষদর্শী বৃটেনের শ্রমিক দলের এম.পি মিঃ মাইকেল বার্নস এবং ‘ওয়ান অন ওয়ান্ট’ সভাপতি ডোনাল্ড চেসওয়ার্থ-এর বিবৃতি

কলকাতা,জুন ১: মিঃ মাইকেল বার্নস,বৃটিশ লেবার এমপি, যিনি বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে ভুক্তভোগীদের গতকাল দেখেতে এসেছেন, তিনি বলেছেন-“বিশ্বকে অবশ্যই এই দুঃখজনক ঘটনাটির সমাধান করার জন্য একটি সমাধান খুঁজতে হবে।”

তিনি পূর্ব বাংলায় যা ঘটছে সেটাকে শুধুমাত্র পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলাকে অর্থহীন(বোকামি) বলেছেন। তিনি এবং তাঁর সরকার এই ব্যাপারটিকে জাতিসংঘরের সামনে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মিঃ বার্নস এবং ‘ওয়ান অন ওয়ান্ট’ সভাপতি ডোনাল্ড চেসওয়ার্থ,বৃটেনের একটি দাতব্য সংস্থা, যারা সীমান্তের কিছু সংখ্যক ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে, তাঁরা বলেছে বিশ্ববাসীকে অবশ্যই যতদ্রুত সম্ভব সাধ্যমতো সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

তাঁরা প্রস্তাব দিয়েছে যে, যুক্তরাজ্যের উচিৎ অবিলম্বে তাঁদের সাহায্যের পরিমান এক মিলিয়ন থেকে দশ মিলিয়নে উন্নীত করা। মিঃ চেসওয়ার্থের মতে, সে অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূর্ব বাংলার সাইক্লোন আক্রান্ত এলাকার জন্য দেয়া হবে।

মিঃ চেসওয়ার্থ বলেছেন, বৃটিশ পররাষ্ট্র (বৈদেশিক) মন্ত্রীর ব্যক্তিগতভাবে এখানে পরিদর্শন করা উচিৎ কারণ এখানে সমস্যার মাত্রা এতোই বৃহৎ যে, লন্ডন, ওয়াশিংটন এবং মস্কোর পক্ষে এটা পরিমাপ করা কঠিন হবে। তিনি আরও বলেছে, “এখানে যা ঘটছে সেটা বিশ্ব শান্তির জন্য একটি সম্ভাব্য হুমকি নয়?”

সেনাবাহিনীর কার্যকলাপে বাংলাদেশের মানুষেরা পালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের কার্যকলাপ চরম দুর্দশা এবং ভোগান্তি নিয়ে আসছে।

মিঃ বার্নস বলেছেন, কিছু মানুষ তাঁকে বলেছে, সেনাবাহিনী পূর্ব বাংলার জনগণকে তাঁদের “রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি” পরিবর্তন করতে জোর করছে যেমনটা চাইনিজরা তিব্বতিদের ক্ষেত্রে করেছিলো।

মিঃ বার্নসের মতে, বিশ্বের সকল দেশ যারা পাকিস্তানকে অস্ত্র এবং উন্নয়ন সাহায্য দিয়েছিলো সেসবই এখন পূর্ব বাংলার বর্তমান বিয়োগান্তক ঘটনার সাথে জড়িত কারণ পাকিস্তান তার নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধেই অস্ত্রের ক্ষমতা প্রদর্শন করছে।

মিঃ বার্নস ভাবছে, দাতা দেশগুলোর এখন জাতিসংঘের মাধ্যমে কিছু শর্ত দিয়ে অস্ত্র নেয়া অথবা উন্নয়ন কাজগুলো করতে হবে যাতে পাকিস্তান সরকারের মত সরকারেরা বুঝতে পারে যে, যদি তারা নিজ দেশের মানুষের সাথে তাঁদের (দাতা দেশগুলোর) দেয়া সাহায্য ব্যবহার করে সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পরে তাহলে তাদের প্রতি দাতা দেশগুলোর মনোভাব কি হবে।

মিঃ বার্নস বলেছেন,যদি পূর্ব বাংলার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া যায় তাহলে বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবশ্যই পাকিস্তান সরকারকে অর্থনৈতিক চাপ দিতে হবে পূর্ব বাংলা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার এবং জনগণের সাথে একটি আন্তরিক সমঝোতায় আসার জন্য।

এই প্রসঙ্গে মিঃ চেসওয়ার্থ এবং মিঃ বার্নস উভয়ই বলেছেন, এরকম কোন নজির নেই যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রয়োজনে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগে বৃটেন সাথে ছিল না।

মিঃ বার্নস বলেছেন যদি বৃটেন ও আমেরিকা এবং পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পথ অনুসরণ করে এবং এই প্রশ্নে একত্রিত থাকে, তাহলে পূর্ব বাংলার জন্য একটি দীর্ঘ মেয়াদি আন্তরিক ও গণতান্ত্রিক সমাধান পাওয়া যাবে। তিনি আবারো বলেছেন, সে বৃটিশ সরকারকে এই ব্যপারে ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাপ দিবেন।

যখন তাঁর মিঃ হিথের প্রতি তাঁর না-বোধক মনোযোগ ছিল, তখন তিনি মিসেস. ইন্দিরা গান্ধীর আহ্বানে পাকিস্তানে সাহায্য স্থগিত করেছিল। মিঃ বার্নাস বলেছেন, বৃটেন পাকিস্তানে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সহযোগিতা স্থগিত করবে না। কিন্তু তারা কোন নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার করবে না যদি পাকিস্তান পূর্ব বাংলার সাথে একটি সমঝোতার বন্দোবস্ত করবে।

মিঃ চেসওয়ার্থ আরো ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে বৃটেন থেকে পাকিস্তানে কোন সহযোগিতা যাবে না। এটা এমন একটা সময় ছিল যখন সাহায্যের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছিলো এবং কিছু প্রযুক্তিগত সহায়তা, যেমনঃ ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য, চলমান ছিল।

মিঃ বার্নস এবং মিঃ চেসওয়ার্থ উভয়ই ব্যাখ্য করতে ব্যাথিত হচ্ছিলেন যে, আগামী বছরের জন্য কি সাহচর্য সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যখন সাহচর্য দেশগুলো কিছুদিন পূর্বে ফিরে যাবে, তারা ব্যয় পরিকল্পনা জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করবে। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে এবং বৃটেন দাবি করেছে পূর্ব বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসনের কোন অনুমেয় কারণ ছিল না।

মিঃ চেসওয়ার্থ বলেছেন, পূর্ব বাংলার বিয়োগান্তক প্রতি বৃটেনের প্রতিক্রিয়া ছিল এক প্রচণ্ড ধাক্কার মতো। যুক্তরাজ্যের মানুষের কাছে এটা বোঝা কষ্টকর ছিল যে এরকম নৃশংসতা সত্যিই ঘটতে পারে!

তিনি তাঁর সংগঠনকে বলেছিল,জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধি হিসেবে এবং ত্রান বিতরণ নিয়ে যুদ্ধকে স্বীকার করে নিতে বাংলাদেশ সরকারের কোন দ্বিধা ছিল না। একই সময়ে, তিনি আরো যোগ করেন যে, পাকিস্তানের সামরিক শাসনের জন্য একচেটিয়াভাবে সকল সরবরাহ বিতরণ করা ভুল হবে।

সবশেষে, মিঃ চেসওয়ার্থ পূর্ব বাংলায় একটা “গুরুতর” দুর্ভিক্ষের আশংকা করছিলেন কারণ দেশের বৃহত্তর একটা অংশে বীজ বপন করা হয় নি।

 

.

13.27.128-129

শিরোনাম সূত্র তারিখ

১২০ জন লেবার দলীয় এম.পি.-এর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি জানানোর দাবি

 

দি স্টেটসম্যান

১৭ জুন, ১৯৭১

 

 

১২০ জন লেবার দলীয় এম.পি.-এর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানের আবেদন

এস. নিহাল সিং

 

লন্ডন, জুন ১৬ একশ বিশ জন লেবার দলীয় এম.পি. গতরাতে হাউস অভ কমন্স-এ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্বীকৃতি দানের দাবি জানিয়েছেন। দাবি উত্থাপনকারীদের মধ্যে ছিলেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মি. ইয়ান মিকার্ডো, এবং প্রধান দাবি উত্থাপনকারী ছিলেন মি. জন স্টোনহাউস, যিনি গত এপ্রিলে পশ্চিম বঙ্গ সফর করে এসেছেন। গত সপ্তাহে হাউস অভ কমনস-এ এ সংক্রান্ত বিতর্কের পরই এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হলো, তবে এ ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি বাংলাদেশের স্বীকৃতি দাবি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ব্যাপক হারে বেসামরিক নাগরিক হত্যা এবং উচ্চ মাত্রার নৃশংসতা চালানোর মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব বাংলা শাসন করার সকল অধিকার হারিয়েছে। প্রস্তাবে পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতি হুমকি এবং জেনোসাইড কনভেনশনের লঙ্ঘন- উভয় বিবেচনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভা আহ্বান করা হয়। এতে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত পূর্ব বাংলার মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নিদর্শন স্বরূপ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্বীকৃতি প্রদান করা উচিত।

দু’টি বিষয় এই সুস্পষ্ট অবস্থানের জন্য দায়ী। সম্ভবত লেবার দলের মধ্যে মি. হ্যারল্ড উইলসন এর দাবিকৃত পাকিস্তান বিষয়ক বিতর্কের সময় শূন্য বিরোধী বেঞ্চ একটা অপরাধবোধের জন্ম দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, এটা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে সমস্যা সমাধানে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ, শরণার্থী সহায়তার প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল হওয়া সত্ত্বেও, ইয়াহিয়া সরকার পূর্ব বাংলার পরিস্থিতি ধামাচাপা দেয়ার পর পাকিস্তানের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার প্রতিই অধিক মনোযোগী।

বাংলাদেশ বিষয়ে এই জোরালো পদক্ষেপ নেবার বিষয়ে লেবার দলের সিদ্ধান্ত তাদের জাতীয় নির্বাহী দ্বারা এ সংক্রান্ত দু’টি প্রস্তাব পাশের মাধ্যমেও স্পষ্ট। প্রধান প্রস্তাবটিতে ব্রিটিশ সরকারকে নিরাপত্তা পরিষদে এ সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন, উ থান্টের ত্রাণ তহবিলে ব্রিটেনের অংশগ্রহণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি এবং শরণার্থীদের স্বার্থে ভারতকে উদার সহায়তা দেবার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, পূর্ব বাংলায় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গুলো অকার্যকর হয়ে পড়ায় সেখানে সাহায্য পাঠানো অর্থপূর্ণ হতে পারে না। সুতরাং, দুর্ভোগ কমাতে সাহায্য করার জন্য সরকারের উচিত পাকিস্তানকে সাহায্য সীমিত করা এবং এই মর্মে এইড পাকিস্তান কনসোর্টিয়ামের সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। দ্বিতীয় প্রস্তাবে অবিলম্বে একটি দুর্যোগ সহায়তা কমিশন গঠনের আহবান জানানো হয়েছে।

ব্রিটিশ লেবার পার্টিতে বাংলাদেশের জনগণ অতি দ্রুত মিত্র অর্জন করে নিলেও, ব্রিটিশ সরকার কতখানি সাড়া দেবে সে বিষয়ে সন্দেহ আছে, এবং ব্রিটেনের সবাই মূলতঃ মুক্ত বাজার নিয়ে অধিক আগ্রহী।

পিটিআই adds: সুইডেন, হল্যান্ড, ইটালি, অস্ট্রিয়া এবং হাঙ্গেরি সহ ইয়োরোপীয় রাষ্ট্রসমূহ এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে পাকিস্তান পূর্ব বাংলার উপর কোনো ‘একতরফা’ সমাধান চাপিয়ে দিতে পারে না এবং তারা অন্যান্য বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রসমূহ সহ এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এর উপর চাপ প্রয়োগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী মিসেস গান্ধীর ব্যক্তিগত দূত হিসেবে সফরকালে শিল্প উন্নয়ন মন্ত্রী মি. মইনুল হক চৌধুরী এর কাছে এই রাষ্ট্রসমূহ এই মনোভাব ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ বিষয়ে আলোচনার জন্য সফরে যাওয়া চার ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মধ্যে তিনিই প্রথম সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন।

 

.

13.28.130

বাংলাদেশে গনহত্যাঃ ইন্ট্যারন্যাশনাল ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশের গৃহীত প্রস্তাব । সুত্রঃ ইন্ট্যারন্যাশনাল ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ , ২৫ জুন ১৯৭১ ।

 

বাংলাদেশে গণহত্যা ও আমাদের প্রস্তাব

 

২৫শে মে লেডি গিফোর্ডের সভাপতিত্বে কনওয়ে হলে ইন্ট্যারন্যাশনাল ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ আয়োজিত সভায় জনাব জন পিটার-মিলসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণহত্যা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় । এতে সাহায্য করেন , ব্যারিস্টার অশোক সেন ( ভারতের সাবেক আঈন মন্ত্রী) ,বিচারপতি আবু এস চৌধুরী (উপাচার্য ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) , এবং বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি ব্যারিস্টার সাখাওয়াত হোসেন , ব্যারিস্টার লর্ড গিফোর্ড । নিম্নোক্ত প্রস্তাব সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়ঃ-

 

সভায় তাৎক্ষনিক ভাবে আন্তর্জাতিক গণহত্যা স্মারক বিষয়ে একটি প্রাথমিক কমিটি গঠন করতে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে বলা হয় । উক্ত কমিটি করার প্রস্তাব দেয়া হয় যেনো ঐ কমিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে যুদ্ধাপরাধ নিয়ে একটি কমিটি করার করার জন্য চাপ দিতে পারে ইসলামাবাদের পাকিস্তান সরকারের আচরন ও ঢাকায় অবস্থানকৃত তাদের সামরিক অফিসারদের বিরুদ্ধে উত্থিত পরিকল্পিত অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য । কমিটি তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা স্মারক লঙ্ঘনের তদন্ত করবে এবং জড়িতদের শাস্তির মুখোমুখি করবে ।

.

.

13.29.131-132

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশে ত্রাসের রাজত্ব বিরাজ করছেঃ চারজন বৃটিশ এমপির ঘটনা বর্ণনা দ্যা স্টেটসম্যান,

২৯ জুন ১৯৭১

 

 

ব্রিটিশ এমপি দের মতে, বাংলাদেশে ত্রাসের রাজত্ব বিরাজ করছে

সোমবার দুপুরের প্লেনে কোলকাতা থেকে ৪ জন ব্রিটিশ এমপি ঢাকায় অবতরন করেন। তাদের চারজনের পূর্ববাংলা পর্যবেক্ষণের রিপোর্ট থেকে এই উপসংহারে পৌছান যায় যে, সেখানে আতংকের আবহাওয়া বিরাজ করছে। পূর্ব বাংলায় আর্মির শাসন চলছে, মানুষ এখনও একটি জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে, বুলেটে আহত হয়ে হাত কেটে ফেলা হয়েছে, এমন মানুষেরও দেখা পাওয়া গেছে সেখানে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকা ভারি গোলাগুলি বর্ষণের সাক্ষিবহন করছে। সব মিলিয়ে পূর্ব বাংলার চলমান পরিস্থিতিকে কোনভাবেই স্বাভাবিক বলা যায়না।

এই চারজন ঢাকায় একটি স্পেশাল আরএএফ প্লেন এ অবতরন করেন। এই চারজন হলেন, মিঃ আরথার বটমলি (এলএবি), মিঃ রেগ প্রেন্টিস (এলএবি), দুইজনই পূর্বে বৈদেশিক উন্নয়ন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন, মিঃ জেমস রামসডেন, পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ পার্টির যুদ্ধ অবস্থা বিষয়ক সচিব এবং মিঃ টোবি জেসেল (কনজারভেটিভ)। তাদেরকে কোলকাতায় অভ্যর্থনা জানান, মিঃ অশোক রয়, যুগ্ম সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, মিঃ এফ এস মাইলস, কোলকাতায় কর্মরত ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার এবং অন্যান্য সরকারি উচ্চতর পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ। তারা “রাজভবন” এ অবস্থান করছেন। এর আগে ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন এ মিঃ টোবি জেসেল বলেন যে তার কাছে সুস্পষ্ট প্রমান রয়েছে যে, পূর্ববাংলার হিন্দু জনগোষ্ঠীর চরম নিপীড়ন ও নির্যাতন চালান হয়েছে। একি সাথে তিনি বলেন যে, কোন দেশের পক্ষে সন্ত্রাসের রাজত্বের মধ্যে থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।

কনজারভেটিভ পার্টির এই এমপি আরো বলেন, একের পর এক গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া এবং স্থানীয় লোকদের অন্তর্হিত হয়ে যাওয়া আরও বেশি ভয়ের কারন। পাকিস্তানি আর্মিদের কে অবশ্যই অবাধে এবং বিধিবহির্ভূতভাবে গুলি চালান বন্ধ করতে হবে।

মিঃ রেগ প্রেন্টিস জানান যে উদ্বাস্তু পূর্ব বাংলার জনগনদের এখন ফিরে যাওয়া সমীচীন হবে বলে তিনি মনে করেন না, সেখানে এখনও ত্রাশের রাজত্ব বিরাজ করছে। তিনি জানান যে সেখানে এখন আর্মির শাসন চলছে এবং মানুষ তাদেরকে ভয় পাচ্ছে। পূর্ববাংলার পূর্বাংশে এখনও একটি জটিলাবস্থা ও মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে।

পূর্ববাংলায় চারদিন অবস্থানকারি এই দলটি পূর্ববাংলায় চারদিন অবস্থান করে চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ইত্যাদি জেলাসমুহ প্লেন এবং হেলিকপ্টার যোগে ঘুরে বেড়ান। ভ্রমনের বর্ণনা দিয়ে মিঃ আরথার বটমলি বলেন, আমরা একটি বেশ লম্বা সময় ধরে হেলিকপ্টারে যাত্রা করেছি যেন আমরা সব পর্যবেক্ষণ করতে পারি। মিঃ টোবি জেসেল বলেন, তিনি যাত্রার সময় বিধ্বস্ত মানুষজন, বাড়িঘর এবং ধংশপ্রাপ্ত গ্রাম দেখতে পান। তিনি বলেন যে তারা একটি গ্রাম পরিদর্শন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তারা যেতে পারেননি কেননা পাকিস্তানি আর্মি গ্রামটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং যাওয়ার পথটি যথাসম্ভব প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ ছিল।

এসময় মিঃ রামসডেন কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে তিনি আদৌ মনে করেন কিনা যে পূর্ববাংলার এই পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে নিরসন করা সম্ভব? উত্তরে তিনি বলেন যে যে ধংসজজ্ঞ চালানো হয়েছে তা পুরবাবস্থায় ফিরিয়ে নাওয়া, একটি রাজনৈতিক সমাধানের চেয়ে বেশি জরুরি।

শরণার্থীদের ফিরত যাওয়া প্রসঙ্গে মিঃ জেসেল বলেন যে পূর্ববাংলায় শরণার্থীদের জন্য যে অভ্যর্থনাকেন্দ্র খোলা হয়েছে, তাতে অত্যন্ত কম শরণার্থীই সাড়া দিয়েছেন বলে পাকিস্তানি সরকার যথেষ্ট হতাশ। তিনি জানান যে পাকিস্তানি সরকার আশা করেছিল যে চুয়াডাঙ্গায় যে অভ্যর্থনাকেন্দ্র খোলা হয়েছে তাতে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ শরণার্থী আসবেন, কিন্তু তারা সেখানে মাত্র ২০০ জন শরণার্থী দেখতে পান, যাদের মধ্যে মাত্র দুইজন হিন্দু ব্যাক্তি ছিলেন।

আরেক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মিঃ রামসডেন বলেন, ঢাকার কিছু কিছু অংশে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে বলে তার মনে হয়েছে, কিন্তু সেটি সম্পূর্ণরূপে স্বাভাবিক বলা যায়না। দেশের সামান্য কিছু অংশে রেইল এবং স্টিমার যাতায়াত অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।

পূর্ববাংলায় কোন ধরনের নিপীড়নের উদাহরন চোখে পড়েছে কিনা, সে বিষয়ে জানতে চাইলে মিঃ বটমলি বলেন, আমি নিপীড়ন শব্দটি ব্যাবহার করবনা। মুল কথা হচ্ছে যে এটি ঘটেছে এবং এটিকে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আমরা এমন মানুশজন দেখে এসেছি যাদের হাত কেটে ফেলা হয়েছে, বুলেটের আঘাতে আহত হয়েছে এবং তারা এখনও সীমাহীন যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এমপিগন ইংল্যান্ড এ ফিরে যাওয়ার পর নিজ নিজ পার্টির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তাদের এই পর্যবেক্ষণ বিবরণী রিপোর্ট করবেন।

.

13.30.133

শরণার্থীদের-দুর্দশা সম্পর্কে ‘দি টাইমস’-এর সম্পাদকের কাছে লিখিত লেডি আলেকজান্দ্রা মেটকাফ-এর চিঠি দি টাইমস

 

৫ জুলাই,১৯৭১

 

পশ্চিমবঙ্গের শরণার্থীরা

সম্পাদকের কাছে পত্র

লেডি আলেকজান্দ্রা মেটকাফ এর নিকট হইতে

জনাব

আমি পশ্চিমবঙ্গের শরণার্থী শিবিরে কিছু সময় ব্যয় করে মাত্র ফিরলাম। পত্রিকা, টেলিভিশন ও রেডিওতে শরণার্থী শিবিরের অবস্থা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তাকে মোটেও অতিরঞ্জিত বলা যায় না। সমস্যার তাৎপর্য বিচারে শরণার্থী শিবিরের অবস্থা সত্যি ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক যা আমার দেখা অনেক দুর্যোগকবলিত এলাকায় আমি প্রত্যক্ষ করিনি।

 

৫০ লক্ষ নিঃস্ব অসহায় মানুষের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ও প্রতিদিন নতুন করে আগত জন-মানুষের স্রোত সামাল দেওয়া ভারত সরকারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব যদিও তাদের প্রচেষ্ঠা প্রসংশার দাবীদার। শিশুদের মাঝে পুষ্টিহীনতা ভয়াবহ রূপ ধারন করছে। সেভ দ্য চিলড্রেন ফান্ড ‘কল্যাণী’ হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যমে হাজার হাজার অপুষ্টির শিকার শিশুর জীবন রক্ষা করতে পারলেও ইতোমধ্যে অগণিত শিশুর মৃত্য হয়েছে।

 

আমি যে বিষয়টা জোর দিয়ে বলতে চাই তা হলো আগামী দুই থেকে তিন মাস বর্ষাকাল, এ সময়ে শরণার্থী ক্যাম্পে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিবে। খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাবে অবস্থার আরো দ্রুত অবনতি ঘটবে, রোগ-শোকের প্রার্দুভাব ছড়িয়ে পড়বে যার ফলে হাজার হাজার লোক মারা যাবে। ভয়াবহ কলেরার প্রার্দুভাবকে নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে, বিপদ কেটে গেছে ভাবলে ভুল করা হবে কারন আরও ভয়াবহ সমস্যা সামনে অপেক্ষমান।

 

রিলিফের পরিমাণ বাড়াতে হবে কমানোর সুযোগ নাই।

 

আপনার একান্ত অনুগত

 

আলেকজান্দ্রা মেটকাফ, ভাইস চেয়ারম্যান, ‘সেভ দ্য চিলড্রেন ফান্ড’।

৬এস ইটন প্যালেস এসডব্লিউওয়ান।

জুলাই ৩ ।

 

.

13.31.134

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বৃটিশ এম. পি. মিঃ আর্থার বটম্ লে ও টবী জেসেল-এর বক্তব্য দি স্টেটম্যান ৫ জুলাই, ১৯৭১

 

 

বৃটিশ এম. পি. মিঃ আর্থার বটম্ লে ও টবী জেসেল-এর বক্তব্য

বাংলাদেশের প্রতিনিধিগণ মিঃ টবি জেসেলকে, যিনি সদ্য ভারত ও পাকিস্তান ভ্রমণ করে দেশে ফিরে আসা তিন জন সংসদ সদস্যের মধ্যে একজন, ফুল প্রদান করেছেন।

মিঃ জেসেল (কনজারভেটিভ), যিনি চার সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশী স্পষ্টবাদী ও সরাসরি কথা বলেন, লন্ডন বিমানবন্দরে রিপোর্টারদের/ সাংবাদিকদের জানান যে তিনি ভারতে অবস্থিত শিবিরগুলোর পাকিস্তানী উদ্বাস্তুদের তিনি দুইটি প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “আপনারা কি ফিরে যাবেন?” উত্তর ছিল: “সব কিছু নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত, না”।

মিঃ জেসেল এর দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল: “আপনারা কখন ফিরে যাবেন?” উত্তর ছিল: “যদি শেখ মুজিবুর রহমান ফিরে যেতে বলেন, আমরা যাব”।

মিঃ রেনাল্ড প্রেন্টিস (লেবার)কে একজন পাকিস্তানী রিপোর্টার/ সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন যে সাহায্যকে চালিকা শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা কোন সু-নীতির মধ্যে পরে কি না। তিনি মাত্র সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রসেডিংসে এরকম প্রশ্ন দেখেছেন, যেখানে ১০০ টির মধ্যে ৯৯টির ক্ষেত্রেই তিনি সাহায্যকে চালিকা শক্তি হিসেবে ব্যবহারের বিপক্ষে, কিন্তু পাকিস্তানের বর্তমান ক্ষেত্রে এটা যৌক্তিক ছিল।

গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয়

মিঃ বটমলে চার সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে একমত হয়ে পূর্বে একটি বক্তব্য প্রদান করেন। উদ্ভুত অবস্থার তিনটি ক্ষেত্রে তিনি প্রাধান্য প্রদান করেনঃ পূর্ব বাংলায় চলমান সংকটের ভীতি, সেখানে চলমান নৈরাজ্য এবং উদ্বাস্তুদের আরও সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা।

মিঃ বটমলে বলেন যে তাঁর সমগ্র দায়িত্বকালীন সময়ের মধ্যে এই দায়িত্বকালীন সময়টিই ছিল সবচেয়ে হৃদয়বিদারক। তিনি রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান-কে একজন সম্মানীয় ব্যক্তি হিসেবে পেয়েছেন যিনি পূর্ব পাকিস্তানে কি ঘটছিল তা জানেন না বলে মনে হয়েছে। (italic)

কিন্তু জেনারেল টিক্কা খান, তিনি মনে করেন, ঢাকায় ভুল ব্যক্তি ছিলেন যার এই অবস্থার অর্থনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব কি হবে তার জ্ঞান বা উদ্বেগ কোনটিই ছিল না। সেনাবাহিনী শুধুমাত্র নৈরাজ্য বপনই করেনি বরং তা অবিরতভাবে চালিয়ে যায়।

পাকিস্তানের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়ে কেবলমাত্র একটি স্থান ছাড়া পূর্ব বাংলার যে স্থানে যেতে চেয়েছেন তাঁদের দলটি সেখানেই গিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

মিঃ বটমলে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে জানান যে তিনি শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীই নন বরং একজন মহা রাজনীতিবিদের মত আচরন করেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে তিনি প্রজ্ঞা ও সহানুভূতির সাথে ব্যাপক সমস্যার মোকাবেলা করছিলেন এবং তিনি সবরকমের সহায়তা প্রাপ্য।

তিনি বৃটিশ সরকার ও জনগণের নিকট উদ্বাস্তুদের জন্য ত্রান প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন এবং ভারতীয় প্রশাসনের চমৎকার কর্মকান্ডের মাধ্যমে তাঁদের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

উদ্বাস্তুদের নিজেদের বাড়ীতে ফিরতে বাধা দেয়া হচ্ছিল কি না জিজ্ঞাসা করা হলে, মিঃ বটমলে জানান যে, “এমনটি কেন হবে?” উদ্বাস্তুরা, তিনি জানান যে, ভারতের জন্য অনিবার্য সমস্যার সৃষ্টি করছিল।

 

.

13.32.135-136

শিরোনামঃ লেবার পার্টির আন্তর্জাতিক কমিটিতে পাকিস্তান পরিস্থিতি আলোচনা

সূত্রঃ লেবার পার্টি তথ্য বিভাগ

তারিখঃ ৮ জুলাই, ১৯৭১

.

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

লেবার পার্টির তথ্য বিভাগ হতে ইস্যুকৃত

পাকিস্তান

লেবার পার্টির আন্তর্জাতিক কমিটির আজকের বৈঠকে পাকিস্তানের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং নিম্নলিখিত রেজুলেশন গৃহীত হয়।

১। পশ্চিম ও পূর্ব বাংলার মানুষদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এন ই সি (ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিল) গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং বিশ্বাস করে যে, পাকিস্তানের অধীনে বর্তমান সংঘাত আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। পাকিস্তানের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব এবং শান্তির হুমকি বন্ধ করা একমাত্র সন্তোষজনক রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই সম্ভব এবং আশু প্রয়োজনীয়তা শরণার্থীদের মধ্যে মানবিক যন্ত্রণার তীব্রতা এবং যথাসময়ের পূর্বে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা ব্রিটেন থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দাবি করছে। সুতরাং, এটি মহামান্য সরকারকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ অবিলম্বে নেয়ার জন্য আহবান জানায়-

(ক) নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানে সংঘাতের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরী যা অন্যের শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ এবং নিরাপত্তাকে বিপদসংকুল করে তুলছে।

(খ) বর্তমানে উ থান্টের ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে প্রচুর পরিমাণে ব্রিটিশ অবদান বাড়ানো এবং ভারতের শরণার্থী সমস্যার খরচ মেটাতে তার প্রতি উদার বাড়তি সাহায্যের একটি তাৎক্ষণিক দ্বিপাক্ষিক প্রস্তাব করা।

ন্যাশনাল ইকোনোমিক কাউন্সিল আরও বিশ্বাস করে যে, এই অবস্থায় এটা ঠিক যে ব্রিটিশ মানুষের জানা উচিত আসন্ন পাকিস্তান এইড কনসোর্টিয়াম সভায় মাননীয় ব্রিটিশ সরকার কি প্রস্তাব করবে, যা পাকিস্তান যে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি তা বিবেচনা করবে।

ন্যাশনাল ইকোনোমিক কাউন্সিল বিশ্বাস করে যে, এমন একটি অবস্থার অবতারণা হয়েছে যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ধস নেমেছে, তাই উন্নয়নের জন্য সাহায্য অর্থপূর্ণ হতে পারে না। সুতরাং, এটি মাননীয় সরকারকে বিনীত অনুরোধ করে কনসোর্টিয়ামের আসন্ন সভায় পূর্ব পাকিস্তানে যতদিন না পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি অর্জন করা সম্ভবপর হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রতি সাহায্য ত্রাণ এবং প্রকৃত রোগ ও পীড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার জন্য গুরুত্ব আরোপ করা, মনে রাখতে হবে যে, যেসব মানুষের সাহায্য অতি প্রয়োজনীয় তারা বর্তমানে পাকিস্তানে নেই।

২। “ভারত ও পাকিস্তানের পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার সুস্পষ্ট ব্যর্থতা এবং বর্তমান সময়ে অন্যান্য অনুরূপ বিপর্যয়ে প্রযুক্তিগত সমস্যার ব্যাপারে এই কমিটি মাননীয় সরকারকে আহবান জানায় একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ কমিশন প্রতিষ্ঠার উত্থাপন করার জন্য। এই কমিশন অবিলম্বে গঠন করা উচিত এবং ত্রাণে, পরিবহনে এবং বড় মাপের সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ লোকজনের দ্বারা গঠন করতে হবে। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যেমন পাকিস্তানের নতুন পরিস্থিতিতে কমিশন নিয়মিত বৈঠক করবে এবং বৈশ্বিক মাপে কী ধরনের পদক্ষেপ জাতিসংঘের দ্বারা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজনীয়- এ ব্যাপারে রিপোর্ট করবে। কমিশন অবিলম্বে প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট বিপর্যয়ে তাৎক্ষণিক ত্রাণ পৌছানো, জীবন বাঁচানোর জন্য স্থায়ী যন্ত্রপাতি স্থাপন করবে, অপরিহার্য চিকিৎসা সরঞ্জামে সজ্জিত করবে এবং যতদিন না পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব নয় ততদিন প্রয়োজন মোতাবেক পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়া”।

 

শরণার্থী

সম্মেলন সুবিস্তৃত শরণার্থী সমস্যায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের সম্পূর্ণভাবে অপর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারত সরকার এই বোঝা অনুপাতহীনভাবে বহন করছে এবং সম্মেলন শরণার্থীদের সাহায্যে পূর্ণ দায়িত্ব নেয়ার জন্য জাতিসংঘের একটি দুর্যোগ ত্রাণ সংস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আহবান জানায়। সম্মেলন এমন একটি সংস্থার জন্য ব্রিটিশ সরকারের পূর্ণ সমর্থন অঙ্গীকার এবং একই সময়ে তাৎক্ষণিক সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্রিয় করতে ভারত সরকারের প্রতি দ্বিপাক্ষিক সহায়তা প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি করতে হবে।

সাহায্য

সন্তোষজনক রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া পাকিস্তানে দীর্ঘ-মেয়াদী সাহায্য একটি নিন্দিত সামরিক শাসনের প্রতি ভর্তুকি মনে হবে। সেই জন্য সম্মেলন সকল দেশ এবং বিশেষ করে পাকিস্তান এইড কনসোর্টিয়ামের সদস্যদের জরুরী মানবিক সাহায্য ব্যতিত সকল সাহায্য থামিয়ে রাখা উচিত যতদিন না পর্যন্ত পূর্ব বাংলার মানুষ একটি সন্তোষজনক রাজনৈতিক সমাধানে সম্মত হচ্ছে।

রাজনৈতিক সমাধান

সম্মেলন বিশ্বাস করে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর পরেই একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌছানো সম্ভব-

(১) পূর্ব বাংলায় সেনাবাহিনীর দমন শেষ হয় গেছে।
(২) পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি দেয়া হয়েছে।

যেকেনো রাজনৈতিক সমাধান পূর্ব বাংলার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতাদের সাথে আলোচনা করা এবং এ অঞ্চলের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

শান্তির জন্য হুমকি

সম্মেলন বিশ্বাস করে যে, ভারতীয় উপমহাদেশে উপস্থিত অবস্থা বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি গঠন করে। তাই জাতিসংঘের উচিত পূর্ব বাংলার মানুষের ইচ্ছা অনুযায়ী একটি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য সরাসরি নিজেকে এর কাজে জড়িত করা। সম্মেলন জাতিসংঘের বর্তমান অধিবেশনে এ ব্যাপারটি তোলার জন্য ব্রিটিশ সরকারকে আহবান জানায়।

 

.

13.34.140-141

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশে গণহত্যা প্রশ্নে দুইজন আইরিশ এম,পি’র বিবৃতি দি স্টেটসম্যান ১৫ জুলাই, ১৯৭১

 

বাংলাদেশে গণহত্যা

আইরিশ এম পি

স্টাফ রিপোর্টার

 

আইরিশ এম পি স্যার এনটনি এসমন্ড এবং মিঃ উইলিয়াম লগনান গত বুধবার কলকাতায় একটি প্রেস কনফারেন্স এ বলেন বাংলাদেশ থেকে ৭ মিলিয়ন শরণার্থীর ভারতে অনুপ্রবেশ দেশটির অর্থনীতিতে একটি ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। ডঃ লগনান এর সাথে শরণার্থীদের কথপোকথনে জানা যায় যে শরণার্থীদের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাঁর আহব্বানে শরণার্থীদের একটি বিশাল অংশ বাংলাদেশে ফিরে যেতে প্রস্তুত।

তাঁদের মতে শরণার্থীদের প্রভাবে বর্তমানে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ নাজুক এবং দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান গ্রহন না করলে তা আরও ভেংগে পড়তে পারে। সডঃ লগ্নানের মতে শরণার্থীদের বাইরে রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচনের ফলাফল অগনাতান্ত্রিক হবে, উপরন্তু বাংলাদেশে বসবাস্কারী জনগণের ভোটে নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদেরও পরিত্যাগ করা সম্ভব হবেনা।

ডঃ লগনান বাংলাদেশে চলমান রত অবস্থাকে গনহত্যা বলে আখ্যায়িত করলেও মিঃ এনটনি আন্তর্জাতিক আইনের আদলে গন্নহত্যার বিষোয়টি নিয়ে সন্দিহান। তবে তাঁরা কেউই বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত কোণো রাজণৈতিক সমাধান দিতে রাজি হননি। তবে প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে তাঁরা মিঃ ভুট্টো এবং পুর্ব বাংলার নেতাদের সাথে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে স্যার এনটনি বলেন ইয়াহিয়া খানের সাম্প্রতিক বক্তব্য বেশ অসঙ্গগতিপুর্ণ। বাংলাদেশের ব্যাপারে হস্তক্ষেপনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তানি বলেন, “ কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থাই কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্থক্ষেপ করার অধিকার রাখেনা।”

তাঁরা উভয়েই ভারতের শরণার্থী ব্যবস্থাপ্নায় বিশেষ সন্তুষ্ট ছিলেন।

দমদম থেকে আমাদের সংবাদ প্রতিবেদক জানান আইরিশ এম পি দ্বয় এখান থেকে পাকিস্থানে ভ্রমণ করবেন এবং ইয়াহিয়া খানের সাথে সাক্ষাতের চেষ্টা করবেন। পুর্ব বাংলার শরণার্থীদের অবস্থা যাচাই এর পর তাঁদের দিল্লী ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। আয়ারল্যান্ড ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে সর্বাত্মক সহায়তা করতে প্রস্তুতু বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তাঁরা বলেন তাঁরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে জেনেছেন বাংলাদেশ থেকে আগত শরণার্থীরা ভারতের অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁরা পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাত করে পারস্পারিক সমঝোতার ব্যাপারে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন। তাঁদের তিন দিন ব্যাপী কলকাতায় অবস্থান কালে তাঁরা নদীয়া ও ২৪ পরগণার শরণার্থী শিবির ভ্রমণ করবেন বলে জানান।

 

.

13.35.142-143

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর অপারেশান ওমেগার প্রচারপত্র অপারেশন ওমেগা ৩০ জুলাই, ১৯৭১

 

.

অপারেশান ওমেগা

৩ ক্যালেডনিয়ান রোড, লন্ডন এন ১

“কষ্টে জর্জরিত জনগণ ও সাহায্য করতে সক্ষম ব্যাক্তিদের মধ্যেকার দেয়াল কখনই আইন্সিদ্ধ হতে পারেনা। মরণাপন্ন ব্যক্তিকে সাহায্য করায় কোনো বাধা ই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনা।”

প্রেস স্টেটমেন্ট ৩০-০৭-৭১

 

পশ্চিম পাকিস্তানের হানাদার বাহিণী বাংলাদেশের নিরীহ জনগণের উপর অবিরত নির্যাতন আর নিষ্পেষণ চালাচ্ছে। বাকি বিশ্ব এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে নিশ্চুপ রয়েছে, যা বাংলাদেশের ৭৫ মিলিয়ন জনগণকে কোণ্ঠাসা করে ফেলেছে।

এই যুদ্ধাবস্থা বাংলাদেশে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট সৃষ্টি করেছে।

মানবিক দিক থেকে চিন্তা করলে অপারেশন ওমেগার বাংলাদেশে প্রবেশ করা ব্যাতীত অন্য কোনো উপায় নেই। কারণ প্রথমত, বাংলাদেশের জনগণরা একাকী নয় এ বিশ্বাস তাদের মধ্যে জাগ্রত করা। দ্বিতীয়ত, যাদের সাহায্য প্রয়োজন তাদের সাহায্য করা।

অপারেশন ওমেগার উদ্দেশ্য মুলত নিম্নরূপঃ

আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য বাংলাদেশে বসবাসকারী জনগণের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।

পাকিস্তান সরকারকে অপারেশন ওমেগার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও করা হবে। তবে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য পাকিস্তানের অনুমতি গ্রহন করা হবেনা কারণ অপারেশন ওমেগা বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের উপর পাকিস্তানের কোনো কতৃত্ব নেই।

আমরা সাধারণ মানুষ হিসাবে বিশ্বাস করি যে বিশ্বের মানবিক সাহায্যে বরাদ্দ অনুদান কখনই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। বরং তার উপর অভাবগ্রস্থ ও সাহায্য প্রার্থী জনগণের অধিকারই সর্বাগ্রে।

অপারেশন ওমেগার পদ্ধতি নিম্নরুপঃ

ওমেগা টিম প্রথমে ভারতে সফর করবে এবং সেখানে অবস্থানরত ওমেগা টিমের অন্যান সদস্যদের সাথে মিলিত হবে। সেখান থেকে সম্পুর্ণ ওমেগা টিম বাংলাদেশের পথে পাড়ি দিবে।

 

ভারত থেকে ওষুধ এবং অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী কেনা হবে এবং দুটি যানবাহনে করে তা ভারত থেকে বাংলাদেশে নেওয়া হবে। ওমেগা ১ বাহনটি দিল্লীতে পৌঁছানোর পর যথাশীঘ্র সম্ভব কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখান থেকে সবচেয়ে উপযোগী উপায়ে ব্যবহৃত হবে।

দুটি যানবাহন একসাথতে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। কোনো কারণে প্রথম বাহনটি নিশ্চিল হয়ে গেলে দ্বিতীয় বাহনটি সাহায্য নিয়ে জনগোনের কাছে পৌঁছুবে এবং ভারতীর সীমান্তে যোগাযোগ রক্ষা করবে। লন্ডনের সাথে জরুরি যোগাযোগ রক্ষার জন্য একজন ওমেগা স্বেচ্ছাসেবক সর্বদা সীমান্তে এবং একজন কলকাতায় অবস্থান করবে।

অপারেশন ওমেগা বাংলাদেশে তথা বিশ্ব ইতিহাসে একটি নতুন দিগন্ত সূচনা করতে পারে যখন প্রতিটি দেশের সরকারকে অবশ্যই মানবিক দিক বিবেচনা করে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে, যখন কোনো দেশের সরকারই চিঠি দলিল আর রেজলুশ্যনের আড়ালে লুকিয়ে মানবিক দায়িত্ব থেকে এড়িয়ে যেতে পারবেনা।

.

13.36.144-146

শিরোনাম সূত্র তারিখ
এ্যাকশান বাংলাদেশ-এর ভূমিকা ও কর্মসূচী এ্যাকশান বাংলাদেশ-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি … জুলাই, ১৯৭১

 

এ্যাকশন বাংলাদেশ

৩৪ স্ট্র্যাটফোর্ড ভিলা

লন্ডন এন ডব্লিউ ওয়ান

এ্যাকশান বাংলাদেশ, একটি ব্রিটিশ গ্রুপ, ২০শে এপ্রিল, ১৯৭১ সালে একটি সভায় স্থাপিত হয় যেখানে উপস্থিত ছিলেন পীস নিউজের প্রতিনিধি, ইন্টারন্যাশনাল কনসান্স ইন অ্যাকশন, পীস প্লেজ ইউনিয়ন, থার্ড ওয়ার্ল্ড রিভিও, ইয়ং লিবারেলস, বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম কমিটি, বাংলাদেশ নিউজ লেটার এবং পীস কমিটির বন্ধুরা সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

 

এটির উদ্দেশ্য ছিল পাবলিক, প্রেস এবং অন্যান্য সংগঠনের সদস্যদের জন্যে তথ্য সরবরাহ করা যাতে তারা ‘পূর্ব পাকিস্তান থেকে সৈন্য তাড়ানো এবং ত্রাণ পৌছানো’- এর ব্যপারে কিছু করতে পারে।

 

ডায়েরিঃ

এপ্রিল ২৮ঃ

ইংলিশ স্পিকিং ইউনিয়নের বাইরে সংঘটিত বিক্ষোভের কো-স্পন্সর ছিলাম, যেটি পাকিস্তান ক্রিকেট একাদশের জন্যে একটি সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল। “খেলা শুরু কোরো না- যুদ্ধ বন্ধ কর!”

 

মে ১৩ঃ

দ্যা টাইমসে একটি ৩/৪ পেইজের বিজ্ঞাপন দিই (‘এই মুহূর্তে এটাই দেখানো দরকার যে মানুষ একটি ‘অভ্যন্তরীণ সমস্যা’ থেকেও বেশি কিছু’’)। এটিতে সর্বস্তরের ২০৬ জন মানুষ স্বাক্ষর এবং আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন, এবং মে ১৪-তে হাউজ অব কমন্সে বিতর্কের আগের দিন প্রকাশিত হয়।

 

বার্মিংহাম রিলিফ এবং অ্যাকশন কমিটির কো-স্পন্সরে হাউজ অব কমন্সের বিপরীতে আলবার্ট বাঁধের উপরে একটি মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়ঃ “এম.পিজ শো ইউ কেয়ার” !

 

মে ২৫ঃ

বাংলাদেশে খাদ্য এবং ওষুধপত্র পৌঁছাতে সমর্থন পাওয়ার জন্যে ‘ব্রেক দ্যা ব্লকেড রেজোলিউশন – অবরোধ কর্মসূচী তুলে নাও’ – শীর্ষক একটি বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার সূত্রপাত করি।

 

জুন ৩ঃ

কেনসিংটনের দ্যা ভেরে হোটেলে গান্ধীর বিশিষ্ট শিষ্য, জয়প্রকাশ নারায়ণের সাথে এই বিষয়ে ক্রমেই বেড়ে যাওয়া ব্রিটিশ অ্যাকশনের জন্যে আয়োজিত একটি সংবর্ধনার সংঘটন এবং স্পন্সর করি।

জুন ৭ঃ

 

ওয়্যার রেজিস্টরস ইন্টারন্যাশনাল, কমিউনিটি রিসার্চ এন্ড অ্যাকশন গ্রুপ, ম্যানচেস্টার, এবং পিস নিউজের সহযোগিতায়ঃ অপারেশন ওমেগা চালু করা হয়। এটি ‘পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের’ ‘অনুমতি’ ছাড়াই, বাংলাদেশের মানুষের কাছে সরাসরি খাদ্য এবং চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার জন্যে একটি প্রচেষ্টা।

 

জুন ১০ঃ

লন্ডন অঞ্চলের বাংলাদেশ কমিউনিটির সাথে (বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অ্যাকশন কমিটি, বাংলাদেশ উইমেন্স এসোসিয়েশন ইন গ্রেট ব্রিটেন, বাংলাদেশ যুব সংঘ, বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি ইন স্ট্রিথাম, অ্যাকশন কমিটি ফর বাংলাদেশ (উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম লন্ডন), বাংলাদেশ ত্রাণ তহবিল এবং পরিচালনা কমিটি) যুক্ত হয়ে “স্টপ এইড টু পাকিস্তান ক্যাম্পেইন”- চালু করেছি।

 

জুন ১১ঃ

অপারেশন ওমেগা -এর উপরে দ্যা গার্ডিয়ানে প্রকাশিত ১/৪ পৃষ্ঠার বিজ্ঞাপনে কো-স্পন্সর করেছি।

 

জুন ১৪-১৮ঃ

“স্টপ এইড টু পাকিস্তান ক্যাম্পেইন” – পাকিস্তান এইড কনসোর্টিয়ামের ১০টি দেশের লন্ডন দূতাবাসের বাইরে ৫ দিনের মধ্যে ১০টি বিক্ষোভের আয়োজন করে। “পাকিস্তানকে আর্থিক সাহায্য করা মানে বাংলাদেশের জনগণকে গণহত্যা করা !” প্রতিটি দূতাবাসের একজন প্রতিনিধির কাছে নিজ নিজ হেড অব স্টেট বরাবর একটি চিঠি হস্তান্তর করা হয়।

 

জুন ১৫ঃ

“স্টপ এইড পাকিস্তান ক্যাম্পেইন”-এর দুই প্রতিনিধিকে এই ইস্যুতে ফরাসিদের উদ্বেগ বাড়াতে প্যারিসে পাঠানো হয়েছে ২১শে জুন প্যারিসে সংঘটিতব্য পাকিস্তান এইড কনসোর্টিয়ামের সভার আগেই।

 

জুন ১৮ঃ

নিউ স্টেটসম্যান-এরঃ “অ্যাকশন বাংলাদেশ” শীর্ষক ১/৪ পৃষ্ঠার বিজ্ঞপ্তিতে স্পন্সর করেছি।

 

জুন ১৯ঃ

“স্টপ এইড টু পাকিস্তান”- এর আরও ৬ জন প্রতিনিধিকে প্যারিসে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩ জন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ফিরেছে।

 

জুন ২১ঃ

 

প্যারিসঃ সকাল এগারোটা। বিশ্বব্যাংক ভবন-যেখানে পাকিস্তানে সাহায্য প্রস্তাব নিয়ে টাটকা আলোচনা চলছিল- তার বাইরে বিক্ষোভের জন্যে কো-স্পন্সর করেছি। প্রায় ১৫০ জন বাঙালি ব্রিটেন থেকে এই বিক্ষোভ সমর্থনে এসেছিল। বার্মিংহাম থেকে ২টি কোচ এবং আরেকটি লন্ডন থেকে এসেছিল। রয়টার্স এবং এ.পি. উভয়ই এই বিক্ষোভ সম্পর্কে রিপোর্ট করেছিল।

প্যারিসঃ বেলা ৪টা। ফরাসি প্রেসের কাছে এক প্রেস কনফারেন্সে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসার আগে তিন প্রত্যক্ষদর্শী- তাদের বিবরণীতে তারা কি দেখে এসেছেন তা বিবৃত করেন। ফরাসি সংবাদপত্র কমব্যাট ২২শে জুন তাদের সাক্ষ্যের পূর্ণ বিবরণী ২২শে জুন প্রকাশ করে।

 

জুন ২৫ঃ

দ্যা ট্রিবিউনে প্রকাশিতঃ “অ্যাকশন বাংলাদেশ” বিজ্ঞপ্তি স্পন্সর করেছি।

 

জুন ৩০ঃ

“পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা এবং বাংলাদেশের স্বীকৃতি”- শীর্ষক দ্যা টাইমসে প্রকাশিত সম্পূর্ণ পৃষ্ঠা(পৃষ্ঠা ৩)-এর বিজ্ঞাপন স্পন্সর করেছি। এটিতে হাউজ অব কমন্সের কাছে প্রেরিত রেজ্যুলেশনটি ছিল, যাতে ২১০ জন এম.পি স্বাক্ষর করেন, যেখানে ছিলেন ১১ জন প্রিভি কাউন্সিলর এবং ৩০ জনেরও বেশি সাবেক মন্ত্রী।

 

জুলাই ১ঃ

অপারেশন ওমেগা-এর প্রথম দল এবং গাড়ি- ওমেগা ওয়ান – বেলা বারোটায় বাংলাদেশ অভিমুখে ট্রাফালগার স্কয়ার থেকে যাত্রা শুরু করে।

 

ভবিষ্যৎ কর্মসূচীঃ

ওমেগা ২, ওমেগা ৩, ইত্যাদি ………………………….

ট্রাফালগার স্কয়ার সমাবেশ বেলা ২.০০ – সন্ধ্যা ৬.০০ টা, রোববার পহেলা অগাস্ট।

 

 

 

 

 

 

____________

 

 

.

13.37.147

শিরোনাম সূত্র তারিখ

বাংলাদেশের ঘটনাবলীর ওপর তিনজন এমপি’র বক্তব্য

 

মান্থলী কনটেম্পারারী ও হিন্দুস্তান টাইমস ৫ও৬ আগস্ট,১৯৭১

 

লর্ড ফিনার ব্রোকওয়ে, লন্ডন, আগস্ট ৬

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে হিটলারের সময় হতে আজ পর্যন্ত গনতন্ত্রকে নির্লজ্জভাবে প্রত্যাখানের নজির হলো পাকিস্তানী সামরিক জ্যান্তা কর্তৃক পূর্ববঙ্গে সামরিক হস্তক্ষেপ । বিশ্বের ধনী রাষ্টগুলোর জন্য এটা সত্যি লজ্জাজনক যে, জনদূর্ভোগ লাঘবের জন্য তারা সঠিকসময়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। পূর্ববঙ্গের হত্যাযজ্ঞ ছিল হিরোশিমার ট্রাজেডির পর সংগঠিত পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম।

মিঃ রেগিনাল্ড প্রিনটিক, লেবার এম পি, লন্ডন, আগস্ট ৫

বৃটেন ও অন্যান্য দেশগুলোর উচিত ভারতকে নতুনভাবে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া যার মাধ্যমে ভারত শরণার্থী শিবিরে পূর্ববাংলার সত্তর লাখের ও অধিক শরণার্থীকে সামাল দিতে পারে। এটা একটা সম্ভাব্য সামরিক সমাধানকে বাঁধা দানের সাথে সাথে জনহিতকর কাজের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। পূর্ববাংলায় সংগঠিত ট্রাজেডির আকার ও ভয়াবহতা নিরূপন করা এতই দূরহ যে তা কল্পনা করাও অসম্ভব। প্রথম দর্শনে আমি বলতে পারি যে, এ রকম ভয়াবহ ঘটনা আমি কখনও দেখিনি এবং আশা করব যেন ভবিষ্যতে এমন নৃশংস ঘটনার সম্মুখিন না হই।

শরণার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিতদের নিয়ে গঠিত মুক্তি ফৌজ গেরিলারা এসব অঞ্চলে সাফল্য লাভ করছে, আমার মনে হয় অধিকাংশ জনগনই এদের পক্ষে। পাকিস্তানের অবস্থান শান্তির জন্য হুমকি স্বরূপ যা সমগ্র মানব জাতির জন্য মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিতে পারে।

মিঃ ডোনাল্ড চেজওর্থ, লেবার এম.পি,নয়া দিল্লি, আগস্ট ৬

(শ্রী পৃথিব চক্রবর্তীর সাথে সাক্ষাতকার ও ‘দি হিন্দস্তান টাইমস’ ৭ আগস্ট প্রকাশিত)

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ অবশ্যম্ভাবী। পাকিস্তানী সামরিক জান্তাদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সমঝোতার কোন লক্ষণ দেখা যায়নি বরং এরা এর বিরোদ্ধে কাজ করিছল। সামরিক জ্যান্তাদের নৃশংসতার একটাই পরিনতি যা গেরিলাদের যুদ্ধের প্রতিজ্ঞাকে অনড় ও মনোবলকে চাঙ্গা করছে। ফরাসীদের বিরোদ্ধে আলজেরীয় গেরিলাদের যুদ্ধ কৌশলের চেয়েও মুক্তি ফৌজ গেরিলাদের যুদ্ধ কৌশল উচুমানের ও অধিক কার্যকর ছিল বলে মনে হয়েছে। গেরিলাদের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার পুনঃস্থাপনে পাকিস্তানী সামরিক জ্যান্তাদের দক্ষতা আলজেরিয়ায় ফরাসী বাহিনীর চেয়ে নিম্নমানের ছিল। রেলওয়ে যেগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করা ছিল তার জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত।

ইসলামাবাদের সামরিক জ্যান্তা ও বাংলাদেশের নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের সমঝোতার সম্ভাবনা অনেক আগেই শেষ হয়েছে, তাদের নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতা বাংলাদেশের জনগনের মনোবলকে আরো দৃঢ় করছে পশ্চিম পাকিস্তানের শৃংঙ্খল থেকে নিজেদের মুক্ত ও স্বাধীন করতে।

ভারতের সাথে যুদ্ধ ছাড়া আর বিশেষ কোন সুবিধা পাকিস্তানী নেতারা কিভাবে আশা করতে পারে আমার তা একেবারেই বোধগম্য নয়। আমার বিশ্বাস বিশ্ব জনমত মুক্তি ফৌজকে সহায়তার অজুহাতে পাকিস্তানী বাহিনীর ভারতের বিরোদ্ধে সামরিক হস্তক্ষপকে মেনে নেবে না। যে কেউ চাইলেই দেখতে পারে যে, মুক্তি ফৌজের অপারেশন বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানার মধ্যে সংগঠিত হচ্ছে।

 

.

13.38.148

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশের ঘটনাবলীর উপর বৃটিশ এমপি মিঃ আর্থার বটম্‌লীর বক্তব্য মান্থলী কনটেম্পোরারি ২৮ আগস্ট, ১৯৭১

 

ইয়াহিয়া খানের গোঁয়ার্তুমি।

 

আমি চাই ভারত ও পাকিস্তান কাছাকাছি আসুক। আমি চাই এই দুটো দেশ আবার এক হয়ে যাক। তবে এ ব্যাপারে আমি শুধু আশাই করতে পারি, না হলে আবার তাদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছি বলে ভুল বোঝার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ভারতীয় উপমহাদেশ আরও বিভক্ত হোক তা কোনভাবেই কাম্য নয়, কারণ এ অঞ্চলের রয়েছে এক সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আর গণিত ও পদার্থবিদ্যায় দক্ষ জনবল, যা আধুনিক বিশ্বে উন্নয়নের অপরিহার্য পূর্বশর্ত। আরও বিভক্তি এই জনশক্তিকে কাজে লাগানোর পথে বিশাল অন্তরায়। কিন্তু সামরিক বাহিনী যদি বর্তমান পরিস্থিতি তাদের মত করে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে তবে পাকিস্তানের ভেঙ্গে যাওয়া ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ব পাকিস্তানের শাসনভার ছেড়ে দেয়া। পাকিস্তানে আমার সফরের সময় জেনারেল ইয়াহিয়ার সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে আমি তাকেও একই কথা বলেছিলাম। কিন্তু আমার কথায় তার সাড়া খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিলো না। আমি তাকে উপমহাদেশে ব্রিটিশদের পরিনতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তা থেকে শিক্ষা নিতে বলি। আমি তাকে এই কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলাম যে আজ আমরা যাদের কারাবন্দী করি তারাই কিন্তু পরবর্তিতে জাতীয় নেতায় পরিণত হয়।

 

.

13.39.149

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশের ঘটনাবলীর উপর বৃটিশ এম,পি মিঃ পিটার শোর-এর বক্তব্য মান্থলী কন্টেম্প্রারী ৩১ আগস্ট,১৯৭১

 

“নিদারুণ যন্ত্রণার মৃত্যু এবং জন্মের নাভিশ্বাস”

বাংলাদেশের ঘটনা একটি প্রাচীন জাতির(পাকিস্তান) নির্মম মৃত্যু এবং একটি নতুন জাতির (বাংলাদেশ) জন্মের নাভিশ্বাস (আকস্মিক তীব্র যন্ত্রণা)।

বাংলাদেশ সমস্যার একমাত্র সমাধান হল অবিলম্বে শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি এবং পূর্ব বাংলার মানুষের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা।

বাংলাদেশ সরকারের নেতাদের সাথে কথা বলে আমি জানতে পারি, মোটকথা স্বাধীনতাই পূর্ব বাংলায় স্বাভাবিকতা আনতে পারে।

ব্রিটেনে ফিরে গিয়ে আমি বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং লেবার পার্টির নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করবো যাতে তারা পাকিস্তানের বোধোদয় ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সাময়িকভাবে তাদের অর্থনৈতিক সাহায্য স্থগিত করে।

যুক্তরাজ্যের উচিৎ পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের প্রতি সকল সাহায্য বন্ধ করে দেয়া যতক্ষন না পর্যন্ত তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাদের নৃশংস দমন বন্ধ না করবে।

মিঃ পিটার শোর, ব্রিটিশ এম,পি

আগস্ট ৩১, নয়া দিল্লী।

 

.

13.40.150-152

পূর্ব পাকিস্তানের বিষয়ে ব্রিটিশ এমপি জনাব বার্নার্ড ব্রেইন এর বিবৃতি

 

যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনই হস্তক্ষেপ না করে তবে, রাত্রি যেমন নিশ্চিত দিন অনুসরণ করে চলে তেমনি অক্টোবর নাগাদ পূর্ব পাকিস্তানেও একটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হতে পারে। গত সপ্তাহে টরোন্টোতে কানাডার অক্সফাম কতৃক আয়োজিত একটি বেসরকারি সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষজ্ঞগণ এরুপ অসন্তোষজনক উপসংহারে পৌঁছেছেন।

 

গত মাসে, বিশ্বব্যাংকের একটি মিশন পূর্ব পাকিস্তান সফর শেষে রিপোর্ট করেন যে, তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোন লক্ষণ দেখছেন না । মানুষ এখনো ভীত এবং অনাস্থাবাদী । অনেক কর্মী এবং সরকারি কর্মচারী দায়িত্বে রিপোর্ট করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। যোগাযোগ ব্যাবস্থা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।

 

সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। ভারতে এখন ৭.৫ মিলিয়ন শরণার্থী এবং তাদের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের ভয়াবহ শারীরিক অবস্থা পিছনে ছুটে যাওয়াদের সঙ্কটাপন্ন দশার যথেষ্ট প্রমাণস্বরূপ। বিদ্রোহ অব্যাহত রয়েছে। প্রদেশের নির্বাচিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এখন বেসামরিক প্রশাসন থেকে দূরবর্তী, একটি গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের সম্মুখীন ।

 

এখন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য যে বৃহত্তর দুর্ভিক্ষ এগিয়ে আসছে সেই বিশ্বাসের ভিত্তি কী?

 

প্রথমত, এটা স্বীকৃতি দিতে হবে যে, প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং সমৃদ্ধ মাটি থাকা সত্ত্বেও এই প্রদেশে ক্ষুধা ও অপুষ্টি একটি সার্বজনিন রোগ। এখানে মৌলিক খাদ্য ভাত এবং সবজি, মাছ ও ডাল সম্পুরক খাদ্য। মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য বিরল বিলাসদ্রব্য। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত বছর গড় মাথাপিছু খাদ্যশস্য ভোগ ছিল ১৬.১ আউন্স। যা উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের ২৭০০ ক্যালোরির তুলনায় শুধুমাত্র ১৭০০ ক্যালোরির যোগান দেয়। বস্তুতপক্ষে, পাকিস্তান সরকার কতৃক ১৯৬৪ সালে পরিচালিত পুষ্টি জরিপের তথ্যানুযায়ী,পূর্ব পাকিস্তানের গ্রামীণ জনসংখ্যার গড় প্রোটিনযুক্ত খাবার গ্রহণ শতকরা ৮৫ ভাগ পর্যন্ত অপর্যাপ্ত ছিল এবং অর্ধেক ছেলেমেয়েরা অপুষ্টির সীমান্তরেখার উপর ছিল। শিশু মৃত্যুর হার তাদের পঞ্চম জন্মবার্ষিকী পর্যন্ত ২৬ শতাংশ ছিল যা ইউরোপে গড় ২.৪ শতাংশ।

 

এসবের প্রভাব টরন্টো সম্মেলনে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ডঃ জন রোড দ্বারা বর্নিত হয়, যিনি সম্প্রতি পূর্ব পাকিস্তান থেকে ফিরে এসেছেন। তাঁর মূল বিষয়টা ছিল যে একটি মানুষ, যার খাদ্য এবং কল্যাণ স্বাভাবিক অবস্থাতেই অত্যন্ত প্রান্তীয়, সেখানে যদি শুধুমাত্র একটি চিরাচরিত খাবার সরবরাহে প্রান্তিক ঘাটতি হয় তবে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।তা সত্ত্বেও, যদি একটা বড় ঘাটতি হয় তবে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ অনিবার্য এবং লক্ষ লক্ষ মৃত্যু নিশ্চিত।

 

ঘাটতি সম্পর্কে তথ্য কি কি? ১৯৬৬ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান বছরে গড়ে ১০.৮ মিলিয়ন টন শস্য উৎপাদন করে, কিন্তু এখনো চলমান ঘাটতি মেটাতে বছরে ১.২ মিলিয়ন টন আমদানি করতে হয়। চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক কার্যসূচী দেশীয় উৎপাদনে ১৯৭৫ সাল নাগাদ একটি বৃহৎ বৃদ্ধি পরিকল্পনা করে । কিন্তু তা যদি অর্জন করাও যায়, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আমদানি এখনও প্রয়োজনীয় হবে।

 

দুর্ভাগ্যবশত, আদৌ বৃদ্ধি না পেয়ে, উৎপাদন মারাত্নক ভাবে ব্যাহত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন কতৃক আন্তর্জাতিক উন্নয়নের জন্য তৈরি করা সাম্প্রতিক হিসাবের উপর ভিত্তি করে ডঃ রোড কতৃক উদ্ধৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী,আগামী বছরের দেশীয় উৎপাদন বর্তমান সমস্যার পুর্বের অনুমেয় হিসেবের চেয়ে ২.২৮ মিলিয়ন টন কম হতে পারে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, পূর্ব পাকিস্তান বাংলার ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের পর বৃহত্তম খাদ্য ঘাটতির মুখোমুখি। দুর্ভিক্ষে যে তিন মিলিয়ন মানুষের ক্ষতি হয় তা স্মরণ করে এই বিষয়ে জড়িত বিষয়গুলোর ব্যাপারে ধারণা উপলব্ধি করা যাবে।

 

এরুপ ভীতিকর পরিস্থিতির কারণসমূহ গণনা কঠিন নয়।শত হাজার কৃষক ভারতে পালিয়ে গেছেন এবং এখনও পালাচ্ছেন। কৃষিঋণ ব্যাবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। গণপূর্ত কার্যক্রম ও বেসরকারি ব্যবসায়িক কার্যক্রম বস্তুত স্থগিত আছে, এবং প্রদেশের সর্বত্র নগদ অর্থের তীব্র ঘাটতি বিরাজমান। গোপন মজুত বাড়ছে এবং চালের দাম আচমকা বেড়ে গেছে।

 

ডঃ রোড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমেয় ত্রাণ উদ্ধৃত করে বলেন যে, দেশীয় উৎপাদনের সম্পূরক হিসেবে ২.৯ মিলিয়ন টন শস্য আমদানি প্রয়োজন হবে, গড় মাথাপিছু দৈনিক ভোগ ১৫ আউন্স (১৬০০ ক্যালোরি) নিশ্চিত করার জন্য। এটি একটি সর্বনিম্ন ধারণা, যেহেতু একজন প্রাপ্তবয়স্কর ১৬০০ থেকে ১৯০০ ক্যালোরি প্রয়োজন সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১৯৭০ সাল নাগাদ, কোন স্বাভাবিক বছরে খাদ্যশস্যের সর্বাধিক আমদানি ছিল ১.৫ লাখ টন, তাই প্রায় দ্বিগুণ পরিমান আমদানি ও তার সুষম বন্টনের সম্ভাবনা বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘাটতিপূর্ণ।

 

এমনকি যদিও প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাদ্য জাহাজে যেতে পারে এবং খালাস হতে পারে, তাদের ঘাটতিপুর্ন এলাকায় স্থানান্তর করা ক্ষমতা মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ।চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বন্দর ধারণক্ষমতার নিচে পরিচালিত হচ্ছে। কারণ প্রচুর বন্দর শ্রমিক পালিয়ে গেছে। সামরিক সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের অন্তর্ঘাত ক্রিয়াকলাপ দ্বারা সড়কএবং রেল যোগাযোগ গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়েছে।

 

প্রায় ৯০ শতাংশ জনগণ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে, এবং এই অনুপাত এখন সম্ভবত আরও বেশি কারণ শহুরে জনসংখ্যার অর্ধেক পালিয়ে গেছেন। কিন্তু এখানে, যেখানে প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দখল সেখানে সবচেয়ে বেশি ভঙ্গুর। বাস্তবে ভয় যে, যদি খাদ্য বিতরণ শুধুমাত্র সামরিক বাহিনীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় তবে তারা প্রথমে আদেশের পুন ইকেপ্রতিষ্ঠাঅগ্রাধিকার দেবে এবং খাদ্যকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করবে না । যদি সেটা হয়, বিদ্রোহীরা এই প্রক্রিয়া ব্যাহত করাবে সে আশা করা যেতে পারে।

 

এই পরিস্থিতিতে ডঃ রোড টরন্টো সম্মেলনে তিনটি জরুরী প্রয়োজনের কথা বলেন। প্রথমত, আন্তর্জাতিক মতামতকে দাবী জানাতে হবে যে পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিপক্ষ দলকে খাদ্য আক্রান্ত এলাকায় পৌঁছানোর অনুমতি দিতে হবে যা সেনা বা বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। দ্বিতীয়ত, খাদ্য সরাসরি প্রয়োজনগ্রস্থ মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য একমাত্র নিশ্চিত পথ হল, পাকিস্তান সরকারকে এটা মেনে নিতে হবে যে খাদ্য বিতরণ জাতিসংঘের কর্মীদের তত্ত্বাবধানে এবং অধীনে হওয়া উচিত। তৃতীয়ত, একটি বিশেষজ্ঞদের আন্তর্জাতিক দলকে বিলম্ব ছাড়াই পূর্ব পাকিস্তানের প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হবে। ইহার কাজ হবে সর্বাধিক প্রয়োজনগ্রস্থ এলাকাসমূহ নির্ধারণ করা, বর্তমান খাদ্য মজুদ মূল্যায়ন করা, ত্রাণসামগ্রীর ধরণ এবং পরিমাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে যোগাযোগ ও পরিবহন সুবিধাসমূহ মেরামতের তদারকি করা, আকাশ এবং জলপথে সহজগম্য খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা এবং বিতরণের জন্য যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতি প্রণয়ন।

এরুপ প্রয়োজনীয়তায়, এবং তাদের দ্রুত মেটানোর ক্ষেত্রে, কার্যকর ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত করার যুক্তিসঙ্গত একটি সুযোগ রয়েছে। তাৎক্ষণিক চাহিদা পুরণে, জরুরী খাদ্য সরবরাহ করা উচিত। বন্দরে যানজট এড়াতে, এবং সড়কের ভাঙ্গন এড়াতে এবং রেল যোগাযোগে উপকূলে জাহাজ ব্যবহার করা উচিত। আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহে পৌঁছাতে বিস্তৃত জলপথে একটি ছোট নৌবহর-ব্যাবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

কিন্তু সময় গুরুতরভাবে সংক্ষিপ্ত। বিশ্ব সম্প্রদায়কে এখনই কাজ করতে হবে অথবা একটি অকল্পনীয় মানবিক দুর্যোগ প্রত্যক্ষ করতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

.

13.41.153

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে আর্থিক সাহায্য দেয়া উচিত নয়ঃ বৃটিশ এমপি মিঃ পিটার শোর-এর বক্তব্য সানডে টাইমস ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

.

ব্রিটিশ এমপি, মিঃ পিটার শোর-এর বক্তব্য

২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

বক্তব্যের উপর একটি রিপোর্ট নিম্নরূপঃ

স্টেপনি-এর লেবার দলের এমপি মিঃ পিটার শোরের দৃষ্টিতে পশ্চিম পাকিস্তানে ব্রিটিশ সরকারের উচিত হবে না বাণিজ্যিক অথবা আর্থিক সাহায্য আবার শুরু করা।

মিঃ শোর, যিনি মাত্রই স্টেপনির বিশপ, রাইট রেভারেন্ড ট্রেভর হাডলস্টোন-এর সাথে দিল্লী এবং পশ্চিম পাকিস্তানে এক সপ্তাহের পরিদর্শন শেষে ফিরেছেন, তারা পররাষ্ট্র সচিব, স্যার ডগলাস-হোমের নিকট এই প্রস্তাব প্রেরণ করেন, পশ্চিম পাকিস্তানের সরকারকে বুঝতে হবে যে প