বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র – দ্বিতীয় খণ্ড (অনুবাদসহ)

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র – দ্বিতীয় খণ্ড (অনুবাদসহ)

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র

দ্বিতীয় খন্ডঃ পটভূমি (১৯৫৮-১৯৭১)

 

 

 

 

 

 

 

অ্যাটেনশন!

পরবর্তীপেজগুলোতেযাওয়ারআগেকিছুকথাজেনেরাখুনঃ

  • ডকুমেন্টটিযতদূরসম্ভবইন্টার‍্যাক্টিভকরাচেষ্টাকরাহয়েছে।অর্থাৎএইডকুমেন্টেরভেতরেইঅসংখ্যইন্টারনাললিংকদেয়াহয়েছে।আপনিসেখানেক্লিককরেকরেউইকিপিডিয়ারমতোএইডকুমেন্টেরবিভিন্নস্থানেসহজেইপরিভ্রমণকরতেপারবেন।যেমনপ্রতিপৃষ্ঠারনিচেনীলবর্ণেসূচীপত্রলেখাশব্দটিতেকিবোর্ডেরCtrl চেপেধরেক্লিককরলেআপনিসরাসরিএইডকুমেন্টেরসূচিপত্রেচলেযেতেপারবেন।
  • তারপর দলিল প্রসঙ্গশিরোনামেকিছুলেখাআছে।এটিযুদ্ধদলিলের ২য় তমখণ্ডথেকেসরাসরিলিপিবদ্ধকরাহয়েছে।এখানেআপনারাজানতেপারবেনযেএইডকুমেন্টেআসলেকীকীআছে।
  • তারপরসূচিপত্র এখান থেকেই মূল দলিল শুরু। সূচিপত্রটি সরাসরি দলিলপত্র থেকে নেয়া হয়েছে। সূচিপত্রে লেখা পেজ নাম্বারগুলো যুদ্ধদলিলের মূল সংকলনটির পেজ নাম্বারগুলোকে রিপ্রেজেন্ট করে।
  • যুদ্ধদলিলেমোট ১৫ টি খণ্ড আছেঃ

প্রথম খন্ড : পটভূমি (১৯০৫-১৯৫৮)
দ্বিতীয় খন্ড : পটভূমি (১৯৫৮-১৯৭১)
তৃতীয় খন্ড : মুজিবনগর : প্রশাসন
চতুর্থ খন্ড : মুজিবনগর : প্রবাসী বাঙালীদের তৎপরতা
পঞ্চম খন্ড : মুজিবনগর : বেতারমাধ্যম
ষষ্ঠ খন্ড : মুজিবনগর : গণমাধ্যম
সপ্তম খন্ড : পাকিস্তানী দলিলপত্র: সরকারী ও বেসরকারী
অষ্টম খন্ড : গণহত্যা, শরনার্থী শিবির ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা
নবম খন্ড : সশস্ত্র সংগ্রাম (১)
দশম খন্ড : সশস্ত্র সংগ্রাম (২)
একাদশ খন্ড : সশস্ত্র সংগ্রাম (৩)
দ্বাদশ খন্ড : বিদেশী প্রতিক্রিয়া : ভারত
ত্রয়োদশ খন্ড : বিদেশী প্রতিক্রিয়া : জাতিসংঘ ও বিভিন্ন রাষ্ট্র
চতুর্দশ খন্ড : বিশ্বজনমত
পঞ্চদশ খন্ড : সাক্ষাৎকার

  • এইডকুমেন্টেপ্রতিটিদলিলেরশুরুতেএকটাকোডদেয়াআছে।

<খণ্ড নম্বর, দলিল নম্বর, পেজ নম্বর>

অর্থাৎ <২,৩,৩>এর অর্থ আলোচ্য দলিলটি মূল সংকলনের ২য় খণ্ডের ৩ নং দলিল, যা ৩ নং

পৃষ্ঠায়মুদ্রিতআছে।দলিলনম্বরবলতেসূচিপত্রেউল্লিখিতনম্বরকেবুঝানোহচ্ছে।উদ্ধৃতদলিলটিপাকিস্তান অবজার্ভারের একটিপ্রতিবেদন।বুঝারসুবিধার্থেদলিলটিরশুরুরঅংশদেখেনিনঃ

  • দলিলেবানানসহবেশকিছুভুলআমরাখুঁজেপেয়েছি।সেগুলোকেহলুদমার্ককরাহয়েছে।

 

 

 

 

(পৃষ্ঠা নাম্বারগুলো মূল দলিলের পৃষ্ঠা নাম্বার অনুসারে সরাসরি লিখিত। এর সাথে এই ওয়ার্ড ফাইলের পৃষ্ঠা নাম্বার রিলেটেড নয়)

 

এই খণ্ডে সংগৃহীত দলিলত্রের কালসীমা ১৯৫৮ সনের ৭ অক্টোবর থেকে ১৯৭১ সনের ২৬ মার্চ পর্যন্ত।

সামরিক আইন জারির পর থেকে ১৯৬২ সালের ৮ই জুন সামরিক আইনের অবসান পর্যন্ত সব ধরণের রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ছিল। ফলে এই সময়ের দলিলপত্রে মুখ্যত সামরিক সরকারের বিভিন্ন ক্রিয়াকাণ্ডই প্রতিফলিত হয়: বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারি, যথা-এবডো (১৬ পৃষ্ঠা), লেজিসলেটিভ পাওয়ার অর্ডার (২৮ পৃষ্ঠা), মৌলিক গণতন্ত্র আইন (৩০পৃষ্ঠা), তার অধীনে নির্বাচন সংক্রান্ত রিপোর্ট (৪৮-৬১ পৃষ্ঠা), শাসনতন্ত্র কমিশন রিপোর্ট (৭৭-১২৬ পৃষ্ঠা) এবং ১৯৬২ সনের শাসনতন্ত্র সংক্রান্ত সরকারী প্রতিবেদন (১৫৮-১৭২পৃষ্ঠা)। এর সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার গ্রেফতারের সংবাদ (২,৩ পৃষ্ঠা), শহীদ দিবস পালনের প্রতি সরকারের মনোভাব (৬৩-৭০ পৃষ্ঠা), এবং ছাত্ররাজনীতির তৎকালীন পরিস্থিতি (১২৮ পৃষ্ঠা)।

সরকারী কাগজপত্র থেকে সংগৃহীত একটি দলিলে পূর্ব পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট কর্তৃক স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত পরিকল্পনার একটি দলিল এই অংশে গৃহীত হয়েছে। তা ছাড়া প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এবং জেনারেল আজম খানের ব্যাক্তিগত পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসকদের অন্তর্দ্বন্দ্বের পরিচয় ফুটে উঠেছে (১৪৭-১৫৬ পৃষ্ঠা)।

১৯৬২ সনে সামরিক আইন অবসানের পরপরই তৎকালীন সরকার কর্তৃক প্রদত্ত শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের প্রতিবাদ (১৭৩ পৃষ্ঠা) এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট প্রতিষ্ঠার দলিল সন্নিবেশিত হয়েছে ১৮৯ পৃষ্ঠায়। ১৯৬২ সনে শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে ছাত্রতের প্রদেশব্যাবী হরতাল ও প্রতিবাদের দলিল সন্নিবেশিত হয়েছে ১৮৩-১৮৮ পৃষ্ঠায়।

১৯৬৩ থেক ১৯৬৫ সন পর্যন্ত যেব দলিল অন্তর্ভূক্ত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সাইজ কমিশন রিপোর্ট (১৯৬-২১৫ পৃষ্ঠা), সরকার কর্তৃক সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ (২২০-২২২ পৃষ্ঠা), বাংলাদেশের জনসাধারণ কর্তৃক দাংগা প্রতিরোধ (২২৫ পৃষ্ঠা), সর্বদলীয় ভিত্তিতে ভোট ও প্রত্যক্ষ নির্বাচন দাবী (২২৬ পৃষ্ঠা) এবং ১৯৬৫ সনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরোধী প্রার্থী মিস ফাতেমা জিন্নাহকে পূর্ব পাকিস্তানের সকল স্বাধিকারকামী রাজনৈতিক দলই সমর্থন জানায়। এর দলিল পাওয়া যাবে ২২৮ থেকে ২৫৫ পৃষ্ঠায়।

নির্বাচনের ফলাফলের পর বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি দেশের মানুষের সামনে নতুন কর্মসূচী প্রদান করে। ১৯৬৫ সনে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ১৪-দফা কর্মসূচী প্রদান করে (২৫৭-২৬৬ পৃষ্ঠা); ৬ দফার সমর্থনে ৭ই জুনে অনুষ্ঠিত হরতাল, পুলিশের গুলিবর্ষণ (২৭৭ পৃষ্ঠা) এবং এর সর্বব্যাপী প্রতিবাদের চিত্র (২৭৭-২৮৩ পৃষ্ঠা) দলিলসমূহে পাওয়া যাবে।

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর পাকিস্তানী শাসকবর্গের আক্রমণাত্মক নীতির বিরোধিতার দলিল সংযোজিত হয়েছে ২৮৮-২৯০ পৃষ্ঠায়। পরবর্তীকালে বাংলা বর্ণমালার ওপর হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আন্দোলনের চিত্র পাওয়া যাবে ৩৭২-৩৭৯ পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত দলিলসমূহে।

১৯৬৮ সনের ৬ই জানুয়ারী কিছুসংখ্যক বেসামরিক বাঙালী নাগরিক এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের উপর পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় (৩০৪-৩০৬ পৃষ্ঠা)। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলে কথিত এই মামলায় প্রধান আসামী হন জেলে আটক অবস্থায় আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান। এই মামলা সংক্রান্ত দলিল রয়েছে ৩০৪-৩৬৮ পৃষ্ঠায়।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, বর্ণমালা সংস্কার প্রচেষ্টা, অর্থনৈতিক অসন্তোষ, সঙ্গবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্যের প্রচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক আবহাওয়া পাকিস্তানবিরোধী হয়ে ওঠে। এই সময়ে পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলন (পরবর্তীকালে সর্বহারা পার্টি) প্রণীত স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার আহ্বানের দলিল সংযোজিত হয়েছে ৩৮২-৩৯৬ পৃষ্ঠায়।

গণ-অসন্তোষের এই পরিস্থিতির মধ্যে ১৯৬৮ সনের ৬ ডিসেম্বর মওলানা ভাসানী ঘেরাও ও হরতালের ডাক দেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং ছাত্র সংগঠন কর্তৃক এই আন্দোলনকে দেশব্যাপী বিস্তৃত করার দলিল পাওয়া যাবে ৩৯৮-৪৩৮ পৃষ্ঠায়। “সংগ্রামীছাত্রসমাজের”১১–দফাআন্দোলনএবংগণভ্যুত্থানসংক্রান্তদলিলসংযোজিতহয়েছে৪০৮-৪১২পৃষ্ঠায়।

আগরতলা মামলা প্রত্যাহার, গোলটেবিল বৈঠক এবং জেনারেল ইয়াহিয়ার কাছে প্রেসিডেন্ট আইউবের ক্ষমতা হস্তান্তরের দলিল পাওয়া যাবে ৪৩৮-৪৫০ পৃষ্ঠায়। ১৯৬৯ সনের ২৬ মার্চ ক্ষমতা দখলের পরবর্তী সময় থেকে জেনারেল ইয়াহিয়া খান কর্তৃক সর্বজনীন প্রত্যক্ষ ভোটের ভিত্তিতে নির্বাচন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক ও নির্বাচনী প্রচারণা, আইনগত কাঠামো আদেশ এবং তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলসমূহের প্রতিবাদ এবং কয়েকটি রাজনৈতিক দল কর্তৃক প্রকাশ্যে স্বাধীনতার পক্ষে বক্তব্য রাখার দলিল দেয়া হয়েছে ৪৫১-৫৯২ পৃষ্ঠায়।

১৯৭০ সনের নির্বাচনে পাকিস্তানের ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় সত্ত্বেও পাকিস্তানী শাসকবর্গ কর্তৃক ক্ষমতা হস্তান্তরের সম্ভাবনা সম্পর্কে সংশয়ের এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো কর্তৃক ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধিতার দলিল রয়েছে ৫৫২-৬৬১ পৃষ্ঠায়। এ ছাড়া পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনৈতিক দল যারা গণপরিষদে যোগদান করতে চেয়েছিলেন, পাকিস্তানী শাসকবর্গ কর্তৃক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতি অন্তরায় সৃষ্টির বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বক্তব্য এবং যেসব রাজনৈতিক দল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার পক্ষে বক্তব্য পেশ করেন সেসব বিষয়ের ওপরো দলিল অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে এই অংশে।

১৯৭১ সনের ১লা মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান কর্তৃক জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিত করার ঘোষণা সংযোজিত হয়েছে ৬৬৪ পৃষ্ঠায়।

এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সমগ্র বাংলাদেশে যে অসন্তোষ পরিলক্ষিত হয় তার দলিলও রয়েছে ৬৯২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হরতাল ও সর্বব্যাপী প্রতিবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী অস্ত্র ব্যাবহার করে (৬৯১ পৃষ্ঠা) এবং ১৯৭১-এর ৬ই মার্চ ইয়াহিয়া খান গণ-অসন্তোষকে পাকিস্তানের সংহতি বিরোধী বলে আখ্যায়িত করেন (৬৯৩ পৃষ্ঠা)।

১৯৭১ সনের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের দলিল সন্নিবেশিত হয়েছে ৭০৩-৭৪৫ পৃষ্ঠায়। অসহযোগ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ নেতৃ বৃন্দের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান, জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং অন্যান্য পাকিস্তানী নেতার ঢাকা আগমন এবং ১৬ই মার্চ থেকে এই আলোচনা সংক্রান্ত দলিলাদিও রয়েছে। আলোচনা সমাপ্তির পূর্বেই ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সামরিক বাহিনী জনগণের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ চালায়।

এ খণ্ডে তিনটি সংযোজনী দেয়া হয়েছে। প্রথমটিতে (৭৯৩-৮০৮ পৃষ্ঠা) ৬ দফার নিরিখে আওয়ামী লীগের সংবিধান কমিটি-প্রণীত পাকিস্তানের ফেডারেল শাসনতন্ত্রের খসড়ার অংশবিশেষ, দ্বিতীয়টিতে বাংলাদেশের একটি দৈনিকের ১৯৬৪-৬৫ সনের দুটি উপসম্পাদকীয়সহ ১৯৭১ সনের ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দৈনিকের সংবাদ শিরোনাম মাধ্যমে স্বাধীনতা ঘোষণার আনুপূর্বিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিচয় জ্ঞাপক কয়েকটি দলিল (৮০৯-৮৩৩ পৃষ্ঠা) সন্নিবেশিত হয়েছে। তৃতীয় সংযোজনীটি হচ্ছে ইয়াহিয়া-মুজিব বৈঠকের ওপর একটি বিশেষ প্রতিবেদন (৮৩৪-৮৪৩ পৃষ্ঠা)।

 

 

 

হাসান হাফিজুর রহমান

সম্পাদক

 

 

 

 

সূচিপত্র

 

পৃষ্ঠা নং বিষয়বস্তু কম্পাইলারের নাম
আইয়ুব খান কর্তৃকসামরিক আইন ঘোষণা রুবাইদ মেহেদী অনিক
আটকের কারন জানিয়ে মাওলানা ভাসানী কে পাকিস্তান সরকারের চিঠি

নাহিদ মুহাম্মদ

 

রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ গ্রেপ্তার

নাহিদ মুহাম্মদ

 

৪-৬ স্টাডি গ্রুপ কর্তৃক পাকিস্তানের জাতীয় সংহতি

নাহিদ মুহাম্মদ

s

৭-১১ স্টাডি গ্রুপ কর্তৃক পাকিস্তানের জাতীয় সংহতি শিহাব শারার মুকিত
১২ স্টাডি গ্রুপ কর্তৃক পাকিস্তানের জাতীয় সংহতি শিহাব শারার মুকিত
১৩-১৫ সামরিক শাসনের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরকে চিঠি শিহাব শারার মুকিত
১৬-২১ নির্বাচনে প্রতিদন্ধীতার অযোগ্যতা সম্পর্কিত আদেশ ঘোষণা

নীতেশ বড়ুয়া

 

২২-২৭ এবডো অন্তর্ভুক্তি করন সংক্রান্ত সরকারি চিঠি

নীতেশ বড়ুয়া

 

২৮-২৯ লেজিসলেটিভ পাওয়ারস অর্ডার

নীতেশ বড়ুয়া

 

৩০-৩২ মৌলিক গণতন্ত্র আইন ঘোষণা

নীতেশ বড়ুয়া

 

৩৩-৩৪ পূর্ব বাংলা লিবারেশনফ্রন্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রদেশের তৎকালীন রাজনৈতিক তৎপরতার ওপর সরকারী গোপনপ্রতিবেদন

নাহিদ মুহাম্মদ

 

৩৫-৪৪ লিবারেশন ফ্রন্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর সরকারি গোপন প্রতিবেদন

নীতেশ বড়ুয়া

 

৪৫-৪৭ লিবারেশন ফ্রন্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর সরকারি গোপন প্রতিবেদন

ফয়সাল

 

৪৮ মৌলিক গণতন্ত্রেরভিত্তিতে প্রথম অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন কাউন্সিল নির্বাচন সম্পর্কে প্রতিবেদন নিলয় কুমার সরকার
৪৯ প্রথম অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন নির্বাচন সম্পর্কে প্রতিবেদন

ফয়সাল

 

৫০-৫৩ প্রথম অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন নির্বাচন সম্পর্কে প্রতিবেদন

মুহাইমিনুল হক ওয়াফি

 

৫৪-৫৫ প্রথম অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন নির্বাচন সম্পর্কে প্রতিবেদন রুবাইদ মেহেদী অনিক
56-60 প্রথম অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন নির্বাচন সম্পর্কে প্রতিবেদন

নীতেশ বড়ুয়া

 

৬১ প্রথম অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন নির্বাচন সম্পর্কে প্রতিবেদন নাজমুস সাদাত নিলয়
৬২-৭১ শহীদ দিবস উদযাপন সম্পর্কে সরকারি প্রতিবেদন হাসান শিপলু
৭২-৭৬ বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রশ্নে সরকারি গোপন প্রতিবেদন অভিজিৎ সরকার
৭৭-৮৪ শাসন তান্ত্রিক কমিশন এর রিপোর্ট নিলয় কুমার সরকার
৮৫-৯৩ শাসন তান্ত্রিক কমিশন এর রিপোর্ট আবেদ হোসাইন
৯৪-১০০ শাসন তান্ত্রিক কমিশন এর রিপোর্ট অপূর্ব
১০১-১০৯ শাসন তান্ত্রিক কমিশন এর রিপোর্ট তানজিলুর রহমান
১১০ শাসন তান্ত্রিক কমিশন এর রিপোর্ট তানজিলুর রহমান
১১১-১১৯ শাসন তান্ত্রিক কমিশন এর রিপোর্ট কাফি রশীদ
১২০-১২২ শাসন তান্ত্রিক কমিশন এর রিপোর্ট অভিজিৎ সরকার
১২৩-১২৭ শাসন তান্ত্রিক কমিশন এর রিপোর্ট সুজয় বড়ুয়া
১২৮-১২৯ পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে প্রতিবেদন জ্বিন কফিল
১৩০-১৩১ দুই প্রদেশের জন্য দুই অর্থনীতির সুপারিশ পল্লব দাস
১৩২-১৩৩ নিরাপত্তা আইনে সোহরাওয়ার্দী গ্রেপ্তার কায়সার ইকবাল
১৩৪ সোহরাওয়ার্দী গ্রেপ্তারে ছাত্র সমাজের প্রতিবাদ, প্রতিবাদ নিয়ে সরকারি প্রেস নোট জ্বিন কফিল
১৩৫-১৩৭ ছাত্র রাজনীতি ও আন্দোলন মোকাবেলার পরামর্শ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এর প্রতিবেদন নিলয় কুমার সরকার
১৩৮-১৪১ সোহরাওয়ার্দী গ্রেপ্তারের আগে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অবস্তার প্রতিবেদন

সাকু চৌধুরী

 

১৪২-১৪৬ আইউব কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তান থেকে ৩০ টি নাম চেয়ে পাঠানোর প্রেক্ষিতে চিঠি তরিকুল ইসলাম সৈকত
১৪৭-১৪৯ আইউব কর্তৃক গভর্নর আজম খানের পদত্যাগ পত্র গ্রহণ। আলী রেজা পিয়াল
১৫০-১৫৬ আউইবের অভিযোগের জবাবে গভর্নর আজম খানের চিঠি

নীতেশ বড়ুয়া

 

১৫৭ সামরিক শাসনের অবসান সুমিত ব্যানার্জী
১৫৮-১৬০ ১৯৬২ সালের শাসনতন্ত্র সম্পর্কে প্রকাশিত সরকারি পুস্তিকা সুমিত ব্যানার্জী
১৬১-১৬৫ ১৯৬২ সালের শাসনতন্ত্র সম্পর্কে প্রকাশিত সরকারি পুস্তিকা নিলয় কুমার সরকার
১৬৬-১৬৭ ১৯৬২ সালের শাসনতন্ত্র সম্পর্কে প্রকাশিত সরকারি পুস্তিকা ফকরুজ্জামান সায়েম
১৬৮-১৭২ ১৯৬২ সালের শাসনতন্ত্র সম্পর্কে প্রকাশিত সরকারি পুস্তিকা অপরাজিতা নীল
১৭৩-১৭৭ নয় নেতার বিবৃতি ,শাসনতন্ত্র অকেজো ,নতুন শাসনতন্ত্রের দাবি। রাজীব চৌধুরী
১৭৮-১৮২ ১৯৬২ সনের রাজনৈতিক দলবিধি তন্ময় দেব
১৮৩-১৮৬ শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বাতিলের দাবিতে সারা প্রদেশে হরতাল পালিত। জাহিদ মাসুম
১৮৭ হরতালে নির্যাতন এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে ১০ জন রাজনৈতিক নেতার বিবৃতি কিবরিয়া দূর্লভ
১৮৮ ছাত্র সমাজের আহবানে ৩ দিনের জন্য সারা প্রদেশে শোক দিবস কিবরিয়া দূর্লভ
১৮৯ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রতি সমর্থন কিবরিয়া দূর্লভ
১৯০ সবার আগে গনতন্ত্র, সোহরাওয়ার্দীর ঘোষণা কিবরিয়া দূর্লভ
১৯১ সবার আগে গনতন্ত্র, সোহরাওয়ার্দীর ঘোষণা কিবরিয়া দূর্লভ
১৯২-১৯৫ ২ প্রদেশের বৈষম্য নিয়ে ডঃ এম এস হুদার অভিমত আলবাব ইয়াফেজ ফাতমি
১৯৬-১৯৮ ফ্রান্সাইজ কমিশনের রিপোর্ট তানজিলুর রহমান
১৯৯-২০৩ ফ্রান্সাইজ কমিশনের রিপোর্ট তানজিলুর রহমান
২০৪-২০৭ ফ্রান্সাইজ কমিশনের রিপোর্ট নুরুল ইসলাম বিপ্লব
২০৮-২১৩ ফ্রান্সাইজ কমিশনের রিপোর্ট

নীতেশ বড়ুয়া

 

২১৪-২১৬ ফ্রান্সাইজ কমিশনের রিপোর্ট নিলয় কুমার সরকার
২১৭-২১৯ সামরিক শাসনোত্তর প্রথম শহীদ দিবসে ছাত্র সমাজের বক্তব্য

নাহিদ মুহাম্মদ

 

২২০ প্রেস এন্ড পাবলিকেশন অর্ডিন্যান্স অভিজিৎ সরকার
২২১-২২৩ সাংবাদিকের হরতাল অভিজিৎ সরকার
২২৪ ১৭ই সেপ্টেম্বর “শিক্ষাদিবস”পালনকরুন ইকফা নিশিতা
২২৫ ঢাকার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি ইকফা নিশিতা
২২৬-২২৭ সার্বজনীন ভোটাধিকার আদায়ের জন্য জনগণের প্রতি পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান নেতৃবৃন্দের আবেদন ইকফা নিশিতা
২২৮-২২৯ প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে আইয়ুবের বিরুদ্ধে দলসমূহ কর্তৃক মিস ফাতেমা জিন্নাহ্ মনোনীত ইকফা নিশিতা
২৩০-২৩৫ জনাব আইয়ুব খাঁর জবাবে হাজী মোহাম্মদ দানেশ এ, কে, এম সাইফুল্লাহ শিহান
২৩৬-২৪০ জনাব আইয়ুব খাঁর জবাবে হাজী মোহাম্মদ দানেশ আজিজুল ইসলাম
২৪১ জনাব আইয়ুব খাঁর জবাবে হাজী মোহাম্মদ দানেশ মেহেদী হাসান মুন
২৪২ অপপ্রচারের জবাবে নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যদের প্রতি শেখ মুজিবুর রহমান

শামীম মেহেদী

 

২৪৩-২৪৫ মিস ফাতেমা জিন্নাহকে ভোটদানের জন্য কৃষক-জনতার প্রতি মাওলানা ভাসানীর আবেদন

শামীম মেহেদী

 

২৪৬-২৪৮ গণতন্ত্রের প্রতীক মিস ফাতেমা জিন্নাহকে নির্বাচিত করুন লিয়ন আকিক
২৪৯-২৫৪ ‘রাষ্ট্রপ্রধানপদেমহিলা নির্বাচন জায়েজ- দশজন আলেমের বিবৃতি অয়ন
২৫৫ নির্বাচনোপলক্ষে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের সরকারী ব্যবস্থা সম্পর্কে ঘোষণা অয়ন
২৫৬ নির্বাচনোপলক্ষে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের সরকারী ব্যবস্থা সম্পর্কে ঘোষণা ফকরুজ্জামান সায়েম
২৫৭-২৬১ ন্যাপের ১৪ দফা ফকরুজ্জামান সায়েম
২৬২-২৬৬ ন্যাপের ১৪ দফা কামরুন্নাহার ডানা
২৬৭-২৭০ ৬-দফা কর্মসূচী জিসান ফেরদৌস রহমান
২৭১-২৭৪ ৬-দফা কর্মসূচী হৃদয় ফারহান
২৭৫-২৭৬ ৬-দফা কর্মসূচী নীলাঞ্জনা অদিতি
২৭৭ ৭ই জুনের হরতালঃ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে ১০ জন নিহতঃ সরকারী প্রেসনোট নীলাঞ্জনা অদিতি
২৭৮-২৮২ গণহত্যার প্রতিবাদে ও স্বায়ত্ত শাসনের দাবীতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ফারহান নাশিদ রাখী
২৮৩ পুলিশের গুলিবর্ষণ সংক্রান্ত মুলতবি প্রস্তাব বাতিলের বিরোধী দলের জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয়ই পরিষদ কক্ষ বর্জন ফারহান নাশিদ রাখী
২৮৪-২৮৫ দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশনা বাতিল পল্লব দাস
২৮৬-২৮৭ আইয়ুব খানের বিবৃতি মাশফিকুল হক হিমেল
২৮৮ রবীন্দ্রসঙ্গীত বর্জনের বিরোধিতা মাশফিকুল হক হিমেল
২৮৯ রবীন্দ্রসঙ্গীত বর্জনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাওলানা ভাসানীর বিবৃতি মাশফিকুল হক হিমেল
২৯০ হামুদুর রহমান কর্তৃক আরবি হরফে বাংলা ও উর্দু লেখার সুপারিশ মাশফিকুল হক হিমেল
২৯১-২৯৫ ৮ দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের আহ্বান আরণ্যক নীলকন্ঠ
২৯৬-২৯৯ ৮ দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের আহ্বান মিঠুন কুমার সেন
৩০০-৩০৩ ন্যাপের বিশেষ অধিবেশনে মাওলানা ভাসানী কর্তৃক আন্দোলনের কর্মসূচী পেশ বিপুল সরকার
৩০৪-৩০৬ রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী গ্রেফতার ফারজানা আক্তার মুনিয়া
৩০৭ সরকারী তথ্য বিবরণীর অভিযোগঃ শেখ মুজিব আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম হোতা ফারজানা আক্তার মুনিয়া
   ৩০৮-৩১৬ সার্জেন্ট জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জশিট

নীতেশ বড়ুয়া

 

৩১৭-৩২০ সার্জেন্ট জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জশিট কিবরিয়া দূর্লভ
৩২১-৩২৯ সার্জেন্ট জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জশিট নুরুল ইসলাম বিপ্লব
৩৩০-৩৩৪ সার্জেন্ট জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জশিট অভিজিৎ সরকার
৩৩৫-৩৩৭ সার্জেন্ট জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জশিট নিলয় কুমার সরকার
৩৩৮-৩৫৭ সার্জেন্ট জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জশিট রেবেকা খানম
৩৫৯-৩৬৩ সার্জেন্ট জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জশিট জাহিদ মাসুম
৩৬৪-৩৬৮ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে শেখ মুজিবের জবানবন্দি সোহেল
৩৬৯-৩৭১

পাকিস্তান লেখক সংঘের উদ্যোগে পাঁচদিনব্যাপী মহাকবি স্মরণোৎসব

 

তন্ময় বিশ্বাস
৩৭২-৩৭৪ বাংলা বর্ণমালা ও বানান সংস্কার প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বক্তব্য

তন্ময় বিশ্বাস

 

৩৭৫-৩৭৬ বর্ণমালা সংস্কারের প্রতিবাদে ৪২ জন বুদ্ধিজীবীর বিবৃতি সাজেদুর রহমান সুমন
৩৭৭ বাংলা ভাষা বর্জনের প্রতিবাদে সাধারণ ছাত্র জমায়েত সাজেদুর রহমান সুমন
৩৭৮-৩৭৯ বাংলা ভাষার ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিল সমীপে হাসান হাফিজুর রহমানের খোলা চিঠি সাজেদুর রহমান সুমন
৩৮০-৩৮১ স্বাধীনতার আহ্বান সম্বলিত শ্রমিক আন্দোলনের থিসিস আবীর

 

৩৮২-৩৮৪

স্বাধীনতার আহ্বান সম্বলিত শ্রমিক আন্দোলনের থিসিস আবীর
৩৮৫-৩৮৯ স্বাধীনতার আহ্বান সম্বলিত শ্রমিক আন্দোলনের থিসিস রাজদীপ দত্ত
৩৯০-৩৯৬ স্বাধীনতার আহ্বান সম্বলিত শ্রমিক আন্দোলনের থিসিস

নীতেশ বড়ুয়া

 

৩৯৭ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মিছিল ও সভা সোহেল
৩৯৮ ভাসানী কর্তৃক গন আন্দোলনের ডাক আবেদ হোসাইন
৩৯৯-৪০০ গণ-আন্দোলনের প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানঃ বিক্ষোভ করে সরকারকে টলানো যাবে না। সোহেল
৪০১-৪০২ বিরোধী দলসমূহের কারণে আহ্বানে ঢাকায় সাধারণ ধর্মঘট সোহেল
৪০৩ আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সাত ছাত্রনেতার যুক্ত বিবৃতি

নীতেশ বড়ুয়া

 

৪০৪-৪০৫ আটটি বিরোধী দলের উদ্যোগে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম কমিটি (ড্যাক) গঠিত- আন্দোলনের আহ্বান

নীতেশ বড়ুয়া

 

৪০৬-৪০৭ চিন্তা ও মোট প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং আন্দোলনের সমর্থনে বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়

নীতেশ বড়ুয়া

 

৪০৮ আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে মাওলানা ভাসানীঃ “প্রয়োজনেখাজনাবন্ধকরাহবে” মোঃ আল্লামা ফয়সাল
৪০৯-৪১২ ১১ দফার দাবীতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান মোঃ আল্লামা ফয়সাল
৪১৩-৪১৪ বিক্ষোভকালে ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ

নীতেশ বড়ুয়া

 

৪১৫-৪১৭ ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষঃ লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ

নীতেশ বড়ুয়া

 

৪১৮ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভায় ছাত্রদের ওপর হামলায় নিন্দা জ্ঞাপন আহমেদ স্বজন
৪১৯-৪২০ আসাদুজ্জামানের মৃত্যুতে ছাত্রদের শোকসভা ও মিছিল আহমেদ স্বজন
৪২১ প্রদেশের সর্বত্র ছাত্র ধর্মঘট ও মিছিল আহমেদ স্বজন
৪২২-৪২৩ ১১-দফার ভিত্তিতে ছাত্র গণ-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার শপথ আহমেদ স্বজন
৪২৪-৪২৫ ঢাকায় কৃষ্ণ দিবস আঞ্জুমান আরা
৪২৬-৪২৮ ২৫ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘটনাবলীর সংক্ষিপ্তসার আঞ্জুমান আরা
৪২৯- মাওলানা ভাসানী কর্তৃক আইয়ুব খান প্রস্তাবিত গোল টেবিল বৈঠকের এবং ১১ দফা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান বিপুল সরকার
৪৩০-৪৩২ পল্টনের জনসমুদ্রে গৃহীত ছাত্রসমাজের প্রস্তাবাবলী বিপুল সরকার
৪৩৩ আগরতলা মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হকের মৃত্যু বিপুল সরকার
৪৩৪ পল্টনের জনসভায় মাওলানা ভাসানীর চরমপত্র মিঠুন কুমার সেন
৪৩৫ জনগণের দাবীতে ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসকে সরকারী ছুটি হিসেবে ঘোষণা মিঠুন কুমার সেন
৪৩৬-৪৩৭ রাজশাহীতে গুলি ও সান্ধ্য আইনঃ ডাঃ শামসুজ্জোহাসহ ৬ জন হতাহত মিঠুন কুমার সেন
৪৩৮ তথাকথিত আগরতলা মামলা প্রত্যাহৃতঃ মুজিবসহ সকল অভিযুক্তদের মুক্তিলাভ মিঠুন কুমার সেন
৪৩৯-৪৪১ রেসকোর্সের সংবর্ধনা সভার মুজিব কর্তৃক জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব দাবী নীলাঞ্জনা অদিতি
৪৪২ রেসকোর্সের সম্বর্ধনা সভায় শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’উপাধিএবং১১দফাবাস্তবায়নেরপদক্ষেপগ্রহণেরজন্যমুজিবেরপ্রতিআহ্বান নীলাঞ্জনা অদিতি
৪৪৩-৪৪৮ গোলটেবিল বৈঠকে শেখ মুজিবর রহমানের বক্তব্য আলবাব ইয়াফেজ ফাতমি
৪৪৯- প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান কর্তৃক জনগণের সার্বভৌমত্ব স্বীকারঃ বয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন ও পার্লামেন্টারি শাসন পুনঃপ্রবর্তনের সিদ্ধান্ত সুষমা মণ্ডল
৪৫০ পদত্যাগ করে আইয়ুব কর্তৃক জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য অনুরোধসহ লিখিত চিঠি। সুষমা মণ্ডল
৪৫১-৪৫৪ কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটির স্বাধীন পূর্ব বাংলার কর্মসূচী সুষমা মণ্ডল
৪৫৫-৪৬০ কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটির স্বাধীন পূর্ব বাংলার কর্মসূচী

নীতেশ বড়ুয়া

 

৪৬১-৪৬৪ কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটির স্বাধীন পূর্ব বাংলার

নাহিদ মুহাম্মদ

 

৪৬৫-৪৬৭ জনসংখ্যার ভিত্তিতে সার্বজনীন প্রত্যক্ষ ভোটাধিকার ও সার্বভৌম পার্লামেন্টের আহ্বান নীলাঞ্জনা অদিতি
৪৬৮-৪৬৯ ইয়াহিয়া সরকারের শিক্ষানীতি ও বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনের সমালোচনা করে ছাত্রসমাজের বক্তব্য নীলাঞ্জনা অদিতি
৪৭০-৪৭৪ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগঃ নীতি ও কর্মসূচী আদিত্য আনোয়ার
৪৭৫-৪৭৭ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগঃ নীতি ও কর্মসূচী

অথৈ ইসলাম

 

৪৭৮-৪৮০ বৈষম্য সম্পর্কে পিয়ারসন কমিশন রিপোর্ট নত মুখে (ফরহাদ)
৪৮১-৪৮২

সৈয়দা অনন্যা রহমান

 

৪৮৩-৪৮৭ গনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইয়াহিয়া খানের ঘোষণা নিলয় কুমার সরকার
৪৮৮-৪৯১ ইয়াহিয়া খানের ভাষণ সম্পর্কে ছাত্রসমাজের বক্তব্য রাফি শামস
৪৯২ পূর্ব পাকিস্তানকে বাংলাদেশ নামকরণের পক্ষে বক্তব্য বিদ্যুদ্বিকাশ মজুমদার অপু
৪৯৩-৪৯৫ পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক স্বাধীন পূর্ব বাংলা প্রতিষ্ঠায় ১১-দফা কর্মসূচী বিদ্যুদ্বিকাশ মজুমদার অপু
৪৯৬ প্রেস অর্ডিন্যান্স সম্পর্কে লেখক স্বাধিকার সংরক্ষণ কমিটির বক্তব্য বিদ্যুদ্বিকাশ মজুমদার অপু
৪৯৭ ছাত্র ও শ্রমিক নেতাদের হয়রানি বিদ্যুদ্বিকাশ মজুমদার অপু
৪৯৮-৫০৩ ইয়াহিয়া খান কর্তৃক ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা ঘোষণা পল্লব দাস
৫০৪ লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন কমিটি গঠন

সৈয়দা অনন্যা রহমান

 

৫০৫-৫১০ আইনগত কাঠামো আদেশ

সাকু চৌধুরী

 

৫১১-৫১২ আইনগত কাঠামো আদেশ খন্দকার আবদুল্লাহ
৫১৩-৫১৮ আইনগত কাঠামো আদেশ          ইফফা-ই-ফারিয়া
৫১৯-৫২৩ আইনগত কাঠামো আদেশ তানজিম বিন ফারুক
৫২৪ আইনগত কাঠামো সংশোধনের আহ্বানঃ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিবৃতি জিকু আশরাফ
৫২৫-৫২৬ আইনগত কাঠামো আদেশের প্রতিবাদ এবং ৬ ও ১১-দফা প্রতিষ্ঠার দাবী দিবস জিকু আশরাফ
৫২৭-৫২৯ আইনগত কাঠামো আদেশের প্রতিবাদ ও সার্বভৌম পার্লামেন্টের দাবী রাফি শামস
৫৩০-৫৩১ বন্দী মুক্তি ও দাবী দিসব রাফি শামস
৫৩২-৫৩৪ আসন্ন নির্বাচন হবে স্বায়ত্ত শাসনের প্রশ্নে   গণভোট , শেখ মুজিবরের ভাষণ নাজমুল হাসান পিয়াস
৫৩৫-৫৩৬ ছাত্রলীগ আহূত জরুরী সভার প্রস্তাবাবলী
৫৩৭-৫৪৩ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া জ্বিন কফিল
৫৪৪-৫৪৫ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া কর্তৃক নির্বাচনের তারিখ পেছানো তাসাউফ এ বাকি বিল্লাহ
৫৪৬-৫৪৭ ১৭ই সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস পালন করার আহ্বান

দীপংকর ঘোষ দ্বীপ

 

 

৫৪৮ শিক্ষা দিবসে ছাত্রলীগের সভার প্রস্তাবাবলী

দীপংকর ঘোষ দ্বীপ

 

 

৫৪৯-৫৫০ শিক্ষা দিবসে ছাত্রলীগের সভার প্রস্তাবাবলী

নিয়াজ মেহেদী

 

৫৫১-৫৫২ পূর্ব পাকিস্তানের দাবির সমর্থনে সম্পাদকীয় শিহাব শারার মুকিত
৫৫৩ জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে পূর্ব বাংলা বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন

নিয়াজ মেহেদী

 

 

৫৫৪-৫৫৫

সৈয়দ সীমান্ত

 

৫৫৬-৫৫৭ নির্বাচনের মাধ্যমে দাবি আদায় না হলে আবার আন্দোলনের ঘোষণা মুজিবের অনন্যা ফারজানা
৫৫৮-৫৬১ শেখ মুজিবর রহমানের নির্বাচনী ভাষণ কিবরিয়া দূর্লভ
৫৬২-৫৬৬ মাওলানা ভাসানীর নির্বাচনী ভাষণ মেহেদী হাসান মুন
৫৬৭-৫৭১ আন্তঃ প্রাদেশিক বৈষম্যের উপর অধ্যাপক রেহমান সোবহানের বক্তব্য তানজিলুর রহমান
৫৭২-৫৭৬ আঞ্চলিক শাসনের উপর ডঃ মোজাফফর আহমেদ চৌধুরীর বক্তব্য আবেদ হোসাইন
৫৭৭-৫৭৮ জলোচ্ছ্বাস কবলিতদের প্রতি উদাসীনতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট এর কাছে ১১ জন নেতার তারবার্তা আদিত্য আনোয়ার
৫৭৯-৫৮০ নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে শেখ মুজিব নত মুখে (ফরহাদ)
৫৮১-৫৮৩ নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণায় ইয়াহিয়া খান নত মুখে (ফরহাদ)
৫৮৪-৫৮৬ জলোচ্ছ্বাসের পর কেন্দ্রের ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্টের প্রতি মাওলানা ভাসানীর আহ্বান আদিত্য আনোয়ার
৫৮৭-৫৮৯ শেখ মুজিবুর রহমানের নির্বাচনী আবেদন আবীর
৫৯০-৫৯১ মাওলানা ভাসানী কর্তৃক স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান ঘোষণা আবীর
৫৯২ নির্বাচনের ফলাফল অপরাজিতা নীল
৫৯৩-৫৯৪ ‘জনগণেরসুস্পষ্টরায়সত্ত্বেওনির্বাচিতপ্রতিনিধিদেরনিকটপ্রকৃতশাসনক্ষমতাহস্তান্তরিতহওয়ার সম্ভাবনা নেই’ রাফি শামস
৫৯৫-৫৯৬ বিরোধী দলের আসনে না বসার ঘোষণা ভুট্টোর

সাকু চৌধুরী

 

৫৯৭ ভুট্টোর ঘোষণার জবাবে আওয়ামী লীগের বক্তব্য

সাকু চৌধুরী

 

৫৯৮-৬০২ জাতীয় মুজাহিদ সংঘ কর্তৃক প্রকাশিত “স্বাধীনপূর্বপাকিস্তানেররূপরেখা” রাফি শামস
৬০৩ জাতীয় মুজাহিদ সংঘ কর্তৃক প্রকাশিত “স্বাধীনপূর্বপাকিস্তানেররূপরেখা”

সৈয়দ সীমান্ত

 

 

৬০৪- জাতীয় মুজাহিদ সংঘ কর্তৃক প্রকাশিত “স্বাধীনপূর্বপাকিস্তানেররূপরেখা”

আলামিন সরকার

 

৬০৫-৬১১ জাতীয় মুজাহিদ সংঘ কর্তৃক প্রকাশিত “স্বাধীনপূর্বপাকিস্তানেররূপরেখা”

সমীরণ বর্মন 

আইডি নাই, পিচ্চি ছেলে 😛

৬১২-৬১৩ রেসকোর্স ময়দানে গণপ্রতিনিধিদের শপথ

তাবাসসুম শিফু

 

৬১৪-৬১৭ ৬ দফা ও ১১ দফার প্রশ্নে কোন আপোষ হবেনা, শেখ মুজিবের ঘোষণা

নিলয় কুমার সরকার

 

৬১৮-৬২০ স্বাধীন পূর্ব বাংলা কায়েমের আহ্বান জানিয়ে পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলন

আলামিন সরকার

 

 

৬২১ স্বাধীন পূর্ব বাংলা কায়েমের আহ্বান জানিয়ে পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলন

সজীব সাহা

 

৬২২-৬২৩ শহীদ আসাদ দিবস পালনোপক্ষে স্বাধীন পূর্ব বাংলা কায়েমের আহ্বান

সজীব সাহা

 

৬২৪-৬২৬ আওয়ামী লীগের সাথে তিন দিনের আলোচনা শেষে ভুট্টোর বক্তব্য। তাসাউফ এ বাকি বিল্লাহ
৬২৭-৬২৮ হাইজ্যাক বিমান ধ্বংসের প্রেক্ষিতে শেখ মুজিবর রহমানের ঘোষণা।

চন্দ্র শেখর

 

৬২৯-৬৩০ জাতীয় পরিষদের আহবানে বিলম্বঃ-সমালোচনায় শেখ মুজিবর

চন্দ্র শেখর

 

৬৩১-৬৩২ ইয়াহিয়ার ঘোষণা ঃ- জাতীয় সংসদের অধিবেশন ৩ মার্চ

চন্দ্র শেখর

 

৬৩৩-৬৩৪ শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দলের রাজনৈতিক ঘোষণা ফারহাত শায়েরী
৬৩৫-৬৪০ পাকিস্তান পিপলস পার্টির অধিবেশনে না যোগদানের ঘোষণা।

আদনান আরসালান

 

৬৪১-৬৪২ জাতীয় পরিষদে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে নুরুল আমিন সহ উভয় অংশের নেতৃবৃন্দ

আরিফ রেজা

 

৬৪৩-৬৪৪ ৬ দফা ভিত্তিক শাসনতন্ত্রের বিপক্ষে ভুট্টো।

আরিফ রেজা

 

৬৪৫ বাংলার মানুষের আন্দোলন কে কোন শক্তি থামাতে পারবেনা, ঘোষণা শেখ মুজিবের।

আরিফ রেজা

 

৬৪৬-৬৪৮ স্বাধীন পূর্ববাংলা প্রতিষ্ঠার আহ্বানে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন আবু সালেহ মো. মুসা
৬৪৯-৬৫১ স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার আহ্বানে বাংলা ছাত্রলীগ আবু সালেহ মো. মুসা
৬৫২-৬৫৪ শাসনতন্ত্র সম্পর্কে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ১৪ দফা দাবী মিঠুন কুমার সেন
৬৫৫ প্রাদেশিক গভর্নর ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার বিশেষ বৈঠক মিঠুন কুমার সেন
৬৫৬-৬৫৭ তৎকালীন রাজনৈতিক অবস্থার উপর পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির প্রস্তাব মিঠুন কুমার সেন
৬৫৮-৬৬১ ৬ দফা চাপিয়ে দেয়া হবেনাঃ- শেখ মুজিব

শেখ ইমরান

 

৬৬২-৬৬৩ ইয়াহিয়া কর্তৃক জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত।

হাসান তারেক ইমাম

 

৬৬৪-৬৬৫ অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে দেশব্যাপী ধর্মঘটের ঘোষণা শেখ মুজিবের।

হাসান তারেক ইমাম

 

৬৬৬-৬৬৭ শেখ মুজিবুর রহমানকে সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলন সোহেল
৬৬৮-৬৭০ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ সোহেল
৬৭১-৬৭৩ ঢাকায় গুলি চালানোর পরিপ্রেক্ষিতে শেখ মুজিবর রহমানের প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আজম তাবরেজ

 

৬৭৪-৬৭৭ ঢাকায় জনসভায় ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান শেখ মুজিবুরের।

দিবস কান্তি

 

৬৭৮-৬৮২ ভুট্টোর নিন্দায় পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

তানজিলুর রহমান

 

৬৮৩-৬৮৪ ভুট্টোর নিন্দায় পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

নাহিদ মুহাম্মদ

 

৬৮৫-৬৮৬ ব্যাংক ও সরকারী অফিসের প্রতি শেখ মুজিবররহমানের নির্দেশ।

নাহিদ মুহাম্মদ

 

৬৮৭-৬৯০ সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফেরতঃ দেশব্যাপী আন্দোলন।

মেহেদী হাসান মুন

 

৬৯১-৬৯২ প্রদেশব্যাপী আন্দোলনের প্রতিবেদন
৬৯৩-৬৯৫

সংহতি বিরোধী তৎফরতার উপর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের বক্তব্য।

 

রুবাইদ মেহেদী অনিক
৬৯৬-৬৯৭ ‘আপোষেরবাণীআগুনেজ্বালিয়েদাও’- লেখকশিল্পীদের আহ্বান সুষমা মণ্ডল
৬৯৮ টিক্কা খান কে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিয়োগ। ফকরুজ্জামান সায়েম
৬৯৯ কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটি কর্তৃক স্বাধীন বাংলাদেশ স্থাপনের উদ্দেশ্যে গেরিলা যুদ্ধের আহ্বান

নীতেশ বড়ুয়া

 

৭০০-৭০২ পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রের জন্য ১৭ দফা প্রস্তাব খোন্দকার আবদুল্লাহ
৭০৩-৭০৫ রেসকোর্স ময়দানে প্রদত্ত শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ খোন্দকার আবদুল্লাহ
৭০৬-৭০৭ মুজিব কর্তৃক দশ দফার ঘোষণা। ফকরুজ্জামান সায়েম
৭০৮-৭০৯ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আহ্বানে ফরওয়ার্ড স্টুডেন্টস ব্লক ফকরুজ্জামান সায়েম
৭১০ গেরিলা যুদ্ধ করার নিয়ম সহ একটি বেনামি লিফলেট।

ফকরুজ্জামান সায়েম

 

৭১১ স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম গঠনের আহ্বান

সজীব সাহা

৭১২-৭১৪ স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান

সজীব সাহা

 

৭১৫-৭১৬ মুক্তি সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বানে মাওলানা ভাসানী

নাহিদ মুহাম্মদ

 

৭১৭ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরই সংকট মুক্তির একমাত্র পথ- একটি সম্পাদকীয় অভিমত

নাহিদ মুহাম্মদ

 

৭১৮-৭১৯ অসহযোগ আন্দোলন ত্যাগ করে গেরিলা লড়াইয়ে আহ্বান জানিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী)

নাহিদ মুহাম্মদ

 

৭২০ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে লেঃ জেঃ টিক্কা খানের শপথ গ্রহণ সংক্রান্ত খবর

নাহিদ মুহাম্মদ

 

৭২১-৭২৩ ‘শেখ মুজিবের সঙ্গে এক হয়ে সর্বাত্মক সংগ্রাম করব’- পল্টনেরজনসভায়মাওলানাভাসানী সাজেদুর রহমান সুমন
৭২৪-৭২৫ মাওলানা ভাসানীর ১৪ দফা কর্মসূচী ঘোষণা সাজেদুর রহমান সুমন
৭২৬-৭২৭

সরকারী ও আধা সরকারী সংস্থার প্রতি আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে তাজউদ্দীনের নির্দেশ।

 

সাকু চৌধুরী

 

৭২৮ অবিলম্বে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়ে একটি সম্পাদকীয় নীলাঞ্জনা অদিতি
৭২৯-৭৩০

ভুট্টোর সমালোচনায় ঢাকার সংবাদ পত্র।

 

আরিফ রেজা

 

৭৩১-৭৩৩ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নির্দেশাবলী।

আরিফ রেজা

 

৭৩৪-৭৩৫ স্বাধীন পূর্ব বাংলা কায়েমের সংগ্রামের আহ্বান নীলাঞ্জনা অদিতি
৭৩৬-৭৩৭ আওয়মী লীগের প্রতি জাতীয় পরিষদের সংখ্যা লঘিষ্ঠ দল গুলোর সমর্থন।

আজম তাবরেজ

 

৭৩৮ দুই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ভুট্টো নীলাঞ্জনা অদিতি
৭৩৯-৭৪৩ সংখ্যালঘিষ্ঠ দলসমূহ কর্তৃক ভুট্টোর ভূমিকার সমালোচনা সাজেদুর রহমান সুমন
৭৪৪-৭৪৬ সংখ্যালঘিষ্ঠ দলসমূহ কর্তৃক ভুট্টোর ভূমিকার সমালোচনা

নীতেশ বড়ুয়া

 

৭৪৭-৭৪৮

সংখ্যা গরিষ্ঠ ভিত্তিক সরকার পাকিস্তানের জন্য প্রযোজ্য নয়, ভুট্টোর ঘোষণা।

 

অপরাজিতা নীল

 

৭৪৯-৭৫৩

সংখ্যা লঘিষ্ঠ দল কর্তৃক ভুট্টোর সমালোচনা।

 

রুবাইদ মেহেদী অনিক

 

৭৫৪-৭৫৫ মুজিব- ইয়াহিয়া বৈঠকের উপর ঢাকার সংবাদপত্রের প্রতিবেদন।

বোরহান উদ্দিন শামীম

 

৭৫৬-৭৫৭ ইয়াহিয়া-মুজিবের আপোষের কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না বলে মাওলানা ভাসানীর ঘোষণা

নীতেশ বড়ুয়া

 

৭৫৮-৭৫৯ অসহযোগ আন্দোলনের ১৬ দিন রাফি শামস
৭৬০-৭৬২ আন্দোলন চলবেঃ ইয়াহিয়ার সাথে প্রথম দিনের আলোচনার পর শেখ মুজিবের ঘোষণা রাফি শামস
৭৬৩-৭৬৪

শেখ মুজিব কর্তৃক সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান।

 

পল্লব দাস

 

৭৬৫-৭৬৬ মুজিব ইয়াহিয়া আলোচনার ওপর সংবাদপত্রের প্রতিবেদন আদিত্য আনোয়ার
৭৬৭-৭৬৮ জয়দেবপুরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার প্রতিরোধের সংবাদ আদিত্য আনোয়ার
৭৬৯-৭৭০ মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক সংকট নিরসনের পথে এগুচ্ছে আদিত্য আনোয়ার
৭৭১ ‘সবঠিকহয়েযাবে’- প্রেসিডেন্টইয়াহিয়ারসাথেআলোচনারপরভুট্টোরমন্তব্য আবীর
৭৭২-৭৭৩ প্রতিরোধ দিবস পালন আবীর
৭৭৪

২৫ শে মার্চের জাতীয় অধিবেশন আবার স্থগিত করলেন ইয়াহিয়া খান।

 

পল্লব দাস

 

৭৭৫-৭৭৬ মুজিব ও ভুট্টোর সাথে ইয়াহিয়ার বৈঠক আবীর
৭৭৭ ক্ষমতা হস্তান্তরে কোন আইনগত বাঁধা নেই বলে এ কে ব্রোহির অভিমত

রুবাইদ মেহেদী অনিক

 

৭৭৮ লেখক সংগ্রাম শিবিরের কবিতা পাঠের আসর মিঠুন কুমার সেন
৭৭৯

স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা জায়গায় উড়তে দেখার উপর সংবাদপত্রের প্রতিবেদন।

 

পল্লব দাস

 

৭৮০ “বাংলারপতাকাজনতাসবখানেইউড়িয়েদিয়েছে” মিঠুন কুমার সেন
৭৮১

আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে বলে ভুট্টোর ঘোষণা।

 

রুবাইদ মেহেদী অনিক

 

৭৮২-৭৮৩ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার হুশিয়ারি শেখ মুজিবের।

রুবাইদ মেহেদী অনিক

 

৭৮৪-৭৮৫

সারাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উস্কানি মূলক আচরণের উপর রিপোর্ট।

 

রুবাইদ মেহেদী অনিক

 

৭৮৬ ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাবার জন্য শেখ মুজিবের আহ্বান

তানজিম বিন ফারুক

 

৭৮৭ শেখ মুজিব কর্তৃক ২৭ তারিখে বাংলাদেশে হরতালের আহ্বান

তানজিম বিন ফারুক

 

৭৮৮-৭৯২ ঢাকার গণহত্যার ওপর সায়মন ড্রিং এর প্রতিবেদন

তানজিম বিন ফারুক

 

৭৯৩-৭৯৫ আওয়ামী লিগ সংবিধান কমিটি কর্তৃক ৬ দফার ভিত্তিতে প্রণীত পাকিস্তানের খসড়া শাসনতন্ত্র (অংশ)

তানজিম বিন ফারুক

 

৭৯৬-৮০২ আওয়ামী লিগ সংবিধান কমিটি কর্তৃক ৬ দফার ভিত্তিতে প্রণীত পাকিস্তানের খসড়া শাসনতন্ত্র (অংশ)

অমিতাভ বড়ুয়া

 

৮০৩ আওয়ামী লিগ সংবিধান কমিটি কর্তৃক ৬ দফার ভিত্তিতে প্রণীত পাকিস্তানের খসড়া শাসনতন্ত্র (অংশ)

নীতেশ বড়ুয়া

 

৮০৪-৮০৮ আওয়ামী লিগ সংবিধান কমিটি কর্তৃক ৬ দফার ভিত্তিতে প্রণীত পাকিস্তানের খসড়া শাসনতন্ত্র (অংশ)

কিবরিয়া দূর্লভ

 

৮০৯-৮১২ ইত্তেফাক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন কর্তৃক মোসাফির ছদ্মনামে লিখিত রাজনৈতিক মঞ্চ শীর্ষক একটি উপ-সম্পাদকীয় নীলাঞ্জনা অদিতি
৮১৩-৮১৪ ইত্তেফাক পত্রিকার ‘মিঠে-কড়া’শীর্ষকআরওএকটিউপ-সম্পাদকীয় আদিত্য আনোয়ার
৮১৫ অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান সম্বলিত ঢাকার বিভিন্ন দৈনিক ‘আরসময়নাই’শিরোনামেপ্রকাশিতযৌথসম্পাদকীয় আদিত্য আনোয়ার
৮১৬ অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান সম্বলিত ঢাকার বিভিন্ন দৈনিক ‘আরসময়নাই’শিরোনামেপ্রকাশিতযৌথসম্পাদকীয়

নীতেশ বড়ুয়া

 

৮১৭-৮২২ ঢাকায় প্রকাশিত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বাংলাদেশের অসহযোগ আন্দোলনের চিত্র

নীতেশ বড়ুয়া

 

৮২৩-৮২৮ ঢাকায় বিভিন্ন দল ও সংগঠনের অসহযোগ আন্দোলনকালীন কর্মসূচী মিঠুন কুমার সেন
৮২৯-৮৩৩ ঢাকায় বিভিন্ন দল ও সংগঠনের অসহযোগ আন্দোলনকালীন কর্মসূচী নীলাঞ্জনা অদিতি
৮৩৪ মার্চ’৭১- এরঅনুষ্ঠিতইয়াহিয়া-মুজিববৈঠকসম্পর্কেএকটিপ্রতিবেদন

শামীম মেহেদী

 

৮৩৫-৮৪০ ইয়াহিয়া-মুজিব বৈঠকের উপর একটি প্রতিবেদন।

নিলয় কুমার সরকার

 

৮৪১-৮৪৪ ইয়াহিয়া-মুজিব বৈঠকের উপর একটি প্রতিবেদন।

সাকু চৌধুরী

 

 

.

 

 

 

 

 

 

 

<2.001.001>

শিরোনাম সূত্র তারিখ
আইয়ুব খান কর্তৃক সামরিক আইন ঘোষণা সরকারী ৭ অক্টোবর, ১৯৫৮

 

সামরিক আইন ঘোষণা

[পাকিস্তান সরকারের বিজ্ঞপ্তি নং ৯৭৭/৫৮, তারিখ ৭ই অক্টোবর, ১৯৫৮ সাল। গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যা, ১৫ই অক্টোবর, ১৯৫৮ ]

 

১। যেহেতু আমি জাতীয় প্রয়োজনের তাগিদে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সীমানার অভ্যন্তরে এক্তিয়ার প্রয়োগ করা অপরিহার্য বিবেচনা করছি, সেহেতু আমি, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক, এতদ্বারা নিম্নোক্ত নোটিশ প্রদান করছি।

 

২। সম্ভাব্য সুবিধাজনক পন্থায় সামরিক আইনের হুকুমনামা ও রেগুলেশন প্রকাশ করা হবে। উল্লিখিত রেগুলেশন ও হুকুমনামা লংঘন করলে যে কোনও ব্যক্তি সামরিক আইন অনুসারে এসব রেগুলেশন বর্ণিতদন্ড ভোগের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

 

৩। সাধারণ আইন অনুসারে নির্ধারিত অপরাধের জন্য উল্লেখিত রেগুলেশন সমুহ বিশেষ দন্ডের বিধান করা যেতে পারে।

 

৪। উল্লেখিত রেগুলেশন ও হুকুমনামা লংঘনের অপরাধ এবং সধারণ আইন অনুসারে নির্ধারিত অপরাধের বিচার করার ও শাস্তি প্রদান করার জন্য উল্লিখিত রেগুলেশনের মাধ্যমে বিশেষ আদালত নিয়োগ করা যেতে পারে।

 

 

 

 

মুহাম্মদ আইয়ুব খান, এইচ.পি., এইচ.জে.

জেনারেল,

সর্বাধিনায়ক ও পাকিস্তনের সর্বোচ্চ

সামরিক আইন প্রশাসক।

 

 

<2.2.002>

 

আটকেরকারণজানিয়েমাওলানাভাসানীকেপাকিস্তানসরকারেরচিঠি।

 

সূত্র : ৯৬৭/৫৭-ডিএস (পি)

করাচী, ১০ইঅক্টোবর, ১৯৫৮

 

প্রতি

আব্দুলহামিদখানভাসানী

পিতা : হাজীশরাফতআলীখান

 

আটকেরকারণ

নির্ভরযোগ্যতথ্যেরভিত্তিতেপাকিস্তানসরকারএমর্মেঅবহিতআছেযে, আপনিপাকিস্তানেরঅভ্যন্তরীনওআন্তর্জাতিকনিরাপত্তায়বিঘ্নঘটায়এমনকাজকর্মেলিপ্ত।আপনারবিভিন্নধ্বংসাত্মক এবং নাশকতামুলক বক্তব্যওকর্মকান্ডদ্বারা কিছুদেশেরনিকটপাকিস্তানকেএকটিবৈরীরাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেছেন, যাসম্পূর্ণঅসত্য, যেখানেআপনি সম্পুর্ন অবগত যে সকলদেশেরসাথেবন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্করাখাইহচ্ছেপাকিস্তানেরবৈদেশিকনীতি।জনগণের বিভিন্ন অংশেরমধ্যেহিংসাছড়িয়েপাকিস্তানেরঐক্যওসংহতিবিনষ্টকরতেপারেএমনকর্মকান্ডেওআপনিলিপ্ত।এবংএমনকর্মকান্ডএগিয়েনেয়ারজন্যআপনিপাকিস্তানবিরোধীশক্তিওসংগঠনহতেসাহায্য-সহযোগীতাওগ্রহণকরছেন।পাকিস্তারসরকারএইমর্মেআশ্বস্তযে, আপনারবিগত এবং অদ্যাবধি অব্যাহত কর্মকান্ডপাকিস্তানেরআভ্যন্তরীণনিরাপত্তারওআন্তর্জাতিকনীতিরজন্যক্ষতিকর, সেহেতুপাকিস্তাননিরাপত্তাআইন১৯৫২মোতাবেকআটকেরনির্দেশদেওয়াহলো।উক্তআইনের৬নংধারাঅনুযায়ী প্রদত্ত অধিকার মোতাবেকআপনাকেঅবহিতকরাযাচ্ছেযে, আপনি চাইলে আটকেরবিরুদ্ধেলিখিতবক্তব্যপেশকরতেপারবেন।

স্বাক্ষরিত: হামিদউদ্দিনআহমেদ

পাকিস্তানসরকারেরযুগ্মসচিব

<2.03.003>

রাজনৈতিকনেতৃবৃন্দগ্রেফতার।

পাকিস্তানঅবজারভার

১৩অক্টোবর, ১৯৫৮

 

প্রাক্তনমন্ত্রী৪জন, প্রাক্তনসংসদসদস্য৩জনএবং৩জনকর্মকর্তাগ্রেফতার।

দুর্নীতিরঅভিযোগ

নিরাপত্তাআইনেভাসানীআটক

পূর্বপাকিস্তানেরদূর্নিতিদমনব্যুরোরবিবারসকালেসাবেকমন্ত্রীজনাবআবুলমনসুরআহমেদ, জনাবমোহাম্মদআব্দুলখালেক, শেখমুজিবুররহমানএবংজনাবহামিদুলহকচৌধুরী-কেগ্রেফতারকরাহয়।খবরএ.পি.পি.

আয়েরসাথেসংগতিবিহীনসম্পত্তিঅর্জনেরদায়েতাদেরঅভিযুক্তকরাহয়।

মাওলানাআব্দুলহামিদখানভাসানীকেগতকালসকালেময়মনসিংহজেলারমির্জাপুরহতেপাকিস্তাননিরাপত্তাআইনেগ্রেফতারেরপরতাকেঢাকাকেন্দ্রীয়কারাগারেপাঠানোহয়।

পূর্বপাকিস্তানদূর্নিতিদমনআইন, ১৯৫৭ও১৯৫৮এর৭২নংঅধ্যাদেশঅনুযায়ীনুরুদ্দিনআহমেদ, সাবেকএমপিওব্যবস্থাপনাপরিচালকগ্রীনএন্ডহোয়াইটলি:, আজগরআলীশাহ, সি.এস.পি, ইন্ডাস্ট্রিয়ালডেভেলপমেন্টকমিশনারএবংসাবেকসচিব,বাণিজ্য, শ্রমও শিল্পঅধিদপ্তর, পূর্বপাকিস্তান, জনাবআমিনুলইসলামসি.এস.পি, আন্ডারসেক্রেটারী, বাণিজ্য, শ্রমও শিল্পঅধিদপ্তরএবংজনাবএম. এ. জব্বার, প্রধানপ্রকৌশলীকমিউনিকেশনওবিল্ডিং, কেগ্রেফতারকরাহয়।

একইআইনেআব্দুলহামিদচৌধুরীসাবেকসংসদসদস্যকেওগ্রেফতারকরাহয়।

দুর্নীতিদমনআইনেরআওতায়গ্রেফতারকৃতদেরজনাবই. কবির, এসডিও, সদর (দক্ষিণ) এরসম্মুখেপেশকরাহলেতিনিজামিননামঞ্জুরকরেন।

পরবর্তীতেগতকালসন্ধ্যায়জনাবকোরবানআলী, সাবেকএম.পিকেগ্রেফতারকরাহয়।তাকেআজসকালেজিজ্ঞাসাবাদেরজন্যআদালতেহাজিরকরাহবে।

এ.পি.পি।

<2.04.004>

বোর্ডঅবন্যাশনালরিকনষ্ট্রাকশননিযুক্তষ্টাডীগ্রুপকর্তৃকপাকিস্তানেরজাতীয়সংহতি :

 

সূত্র : সরকারী

তারিখ : ৩রাডিসেম্বর, ১৯৫৮

 

গোপনীয়

বোর্ডঅবন্যাশনালরিকনষ্ট্রাকশননিযুক্তষ্টাডীগ্রুপের রিপোর্ট

ডি.আই.বিকর্তৃকপ্রণীতবিস্তারিত নোটের আলোকে১৭টিপয়েন্টের ভিত্তিতে স্টাডিগ্রুপটি পরিস্থিতির সার্বিক বিশ্লেষণ করে।তারাএইমর্মে দ্রুতইউপণীতহয়যে, কিছু গুরুত্বপুর্ণ সমস্যার কারনে জনগণের কল্যাণ বিঘ্নিত হচ্ছে যেগুলো স্বীকার করে নিয়ে মোকাবেলা না করলে শুধুমাত্রপ্রচার-প্রচারণা দিয়ে মতামত গ্রহণেরসুষ্ঠপরিবেশতৈরী হবে না।প্রচারেরমাধ্যমেসরকারেরকার্যক্রমওসদিচ্ছাজনগণকেশুধুঅবহিতকরাযাবেকিন্তুতাআদতেসাফল্যবয়েআনবেনা।স্টাডিগ্রুপটিআরোমতামতদেয়যে, বিপ্লববলতে যা বোঝায় এমন একটা কিছু কাম্যইছিল যেখানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে ন্যাশনাল গাইডেন্স এর জন্য লক্ষ্য নির্ধারন এবং ন্যাশনাল রিকন্সট্রাকশানের প্রধান প্রধান কাজের পরিধি নির্ণয়ের পাশাপাশি সেগুলো রক্ষার উপায় নির্ধারন করা যাতে লক্ষ্য সুনির্ধারিত রেখে তা অর্জনের জন্য দীর্ঘকালীন প্রচেষ্টা চালিয়ে নেওয়া যায়।

 

স্টাডিগ্রুপটি তাদের প্রথম তিনটি বৈঠকে শুধুমাত্র এসব লক্ষ্য, করণীয় এবং কর্মপন্থা নিয়েই আলোচনা করে।জাতীয়পুর্নগঠনবোর্ডেরসাথেআলোচনার পরতারানিন্মোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ প্রদান করে।

ন্যাশনালগাইডেন্সেরপ্রধানলক্ষ্য :

 

৪. নিম্নলিখিতবিষয়সমূহন্যাশনালগাইডেন্সেরমুললক্ষ্যহওয়াউচিত

ক) জাতিহিসেবেপাকিস্তানের একতার বুনন শক্ত করা এবং জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি উন্নত করা।

খ)পাকিস্তানেরজনগণকেআলোকিত এবং বাস্তবিক চিন্তা চেতনায়বিকশিতকরা এবং তাদের নৈতিকওনাগরিক মুল্যবোধ সমৃদ্ধ করা।

গ)জনগণকেবিপ্লবের সংজ্ঞা, এর আদর্শওঅর্জনেরব্যাপারেঅবহিতকরাএবংগঠনমুলক কাজেজাতিকেউদ্বুদ্ধ করা।

ঘ)আকাশকুসুমকল্পনানাকরেবাস্তবভিত্তিক প্রত্যাশা করা এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারনে যতটুকু পাওয়া যায় তা স্বীকার করায় আশ্বস্ত করা।

ঙ) সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া এবং ট্যাটু প্রদর্শনের মত পদক্ষেপ নিয়ে জনমনকে সুস্থ এবং গঠনমূলক খাতে পরিচালিত করা।

চ) বহিরাগত এবং আভ্যন্তরীনভাবে আগত শত্রুতামুলক কার্যকলাপ, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা এবং প্রভাবকে কার্যকরভাবে প্রতিহত করা।

 

<2.04.005>

জাতীয়পুনর্গঠনেরজন্যপ্রস্তাবিতপদক্ষেপসমূহ

 

৫. জাতীয়পুর্নগঠনেরজন্যকরণীয়কার্যসমূহ নিন্মরূপ :

(ক) একটিসৎওদক্ষপ্রশাসনেরজন্যরাষ্ট্রযন্ত্রঢেলেসাজানো।

(খ) নোংরামিমুক্ত, যৌক্তিক এবংসৎব্যবসাপদ্ধতি নিশ্চিত করা।

(গ) স্থিতিশীল এবং শক্তিশালীঅর্থনৈতিকব্যবস্থাগড়েতোলাওমুদ্রাস্ফীতিনিয়ন্ত্রণ করা।

(ঘ) সরল ও পরিমিত ব্যয়েরজীবনযাত্রাগড়েতোলা।

(ঙ)জনগণেরইচ্ছারপ্রতিফলনঘটানোর জন্য জনগণের সুপ্রস্তাব সমূহ আলোচনা করা এবং প্রচলিত কৌশলসমূহ পুনঃ পুনঃ মুল্যায়ন করা।

(চ) পূর্বপাকিস্তানেরবিশেষবিশেষসমস্যাসমাধানেরজন্যসর্বাত্মকপ্রচেষ্টাওদুইঅংশেরমধ্যেসমঝোতাসৃষ্টিকরা।

(ছ) জাতীয়সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিকউন্নয়নেরজন্যদেশেরবিভিন্নঅংশেরসংস্কৃতিককর্মকান্ডেরসম্মিলন এবং জাতীয় সংস্কৃতি উন্নয়নে সহায়তা করা।

(জ) বিরাজমান বাধাসমুহ মোকাবেলা করে পাকিস্তানের নারীদের জাতীয় জীবনে তাদের যথাযথ ভুমিকা পালনে সক্ষম করা।

(ঝ) পাকিস্তানে বিভিন্ন সংখ্যালঘুসম্প্রদায়েরমধ্যেবিরাজমানসমস্যাসমূহসমাধান করা।

(ঞ) বৈদেশিকসাহায্যেবিশেষকরে, ভারত, আফগানিস্তান, রাশিয়া, ইউ এ আরপ্রভৃতিদ্বারাদেশেরমধ্যেসংঘটিতসন্ত্রাসীকর্মকান্ড প্রতিহত করারব্যাপারেএকটিসুনির্দিষ্টনীতিমালাপ্রনয়ণ এবং সে অনুযায়ী কাজ শুরু করা।

(চ) একটিসুস্থ জাতীয়তাবোধ এবং পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্যপূর্ণ জাতিগঠনেরজন্যজাতিগত, প্রদেশগতবিভেদওসাম্প্রদায়িকতারমুলোৎপাটন।

(ছ) উদ্বাস্তুসমস্যারআশু, ন্যায্য এবং চূড়ান্তসমাধান করা।

(জ) উপযুক্তশ্রমনীতিপ্রনয়ন ও বাস্তবায়ন করা।

(ঝ) কাশ্মীরওখালেরপানিবন্টনবিরোধের ন্যায্যসমাধান।

 

 

<2.04.006>

(ঞ) একিভুতপাকিস্তানেরনিরাপত্তাওউন্নয়নেরজন্যজনসমর্থনপুষ্টপররাষ্ট্রনীতির গুরুত্ব অনুধাবন এবং প্রচার করা।

 

৬. উপরেক্তকার্যসম্পাদনেরজন্যপ্রয়োজনীয়পদক্ষেপসমূহ নিন্মরুপ:

 

(ক) ভূমিসংস্কার।

(খ) গ্রামীণজীবনযাত্রাওঅর্থনীতিরপুনর্বাসন।

(গ) উৎপাদক এবং ভোক্তা হিসেবে একজন সাধারন মানুষের জন্য মৌলিক চাহিদার প্রবিধান করা যেমন অবকাঠামো ও অন্যান্য প্রয়োজনসহ খাদ্য, বাসস্থানওচিকিৎসারমতোমৌলিকঅধিকারবাস্তবায়ন।

(ঘ) দেশেরচাহিদামোতাবেকশিক্ষাব্যবস্থারপুনর্গঠন।

(ঙ) বিচারব্যবস্থারসংস্কার।

(চ) দেশেরপ্রচারসম্পদেরপুনর্গঠন শক্তি বৃদ্ধিকরণ।

(ছ) পরিবহণএবং জন উপযোগমুলক সেবাসমুহ যৌক্তিকীকরণ এবং জাতীয়করণ।

(জ) নির্বাচিতপণ্যেরাষ্ট্রীয়বানিজ্য।

(ঝ) খাদ্যেস্বয়সম্পুর্ণতাঅর্জনেকৃষিখাতেসঠিকপরিকল্পনাগ্রহণওবাস্তবায়ন।

(ঞ) পরিবর্তিতঅবস্থাওঅর্থনীতিরজন্যকমিশননিয়োগওপুনর্গঠন।

(ট) করাচীহতেকোনউপযুক্তস্থানেরাজধানীস্থানান্তর।

(ঠ) জনবিষ্ফোরণথামাতেপরিবারপরিকল্পনাপ্রনয়ন।

(ড) ন্যাশনালগাইডেন্সওরিকনস্ট্রাকশনেরউদ্দেশ্যবাস্তবায়নেরজন্যএকটিসংস্থারপ্রতিষ্ঠারপ্রয়োজন।

 

উপরোক্ততালিকাভুক্তসকলপ্রস্তাবনাইস্ব-ব্যাখ্যাকৃত এবংতাদীর্ঘায়িতনা করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।তালিকারমধ্যেঅল্পকিছুপ্রস্তাবনান্যাশনালগাইডেন্সএরসাথেসম্পর্কিতযাদ্রুতবাস্তবায়নকরা প্রয়োজন সেসব এখানে আলোচনা করা হবে ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<2.04.007>
জাতীয় সংহতি

জাতীয় নেতৃত্বের সবচেয়ে জরুরী উদ্দেশ্য হল পাকিস্তানকে সুসংবদ্ধ রাষ্ট্রে পরিনত করা। এটাই দেশের জন্য সবথেকে বড় সমস্যা। শিক্ষিত সংঘএসব সমস্যার পিছনে অনেক সময় ব্যয় করে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেনঃ

(ক) জাতীয় সংহতি সম্পর্কিত সমস্যা পাকিস্তানের নিজস্ব নয়। বেশিরভাগ দেশই তার ইতিহাসের কোন না কোন পর্যায়ে এর সম্মুখীন হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে বেশ কিছু সুসংবদ্ধ রাষ্ট্র (যেমন কানাডা) একে একটা শৃংখলার ভিতরে নিয়ে এসেছে। এই ব্যাপারে পাকিস্তানের বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে যেমন পুর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ভৌগলিক অবস্থান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের উর্দুভাষী বিশাল জনগোষ্ঠি। এছাড়া কিছু নির্দিষ্ট ইতিবাচক দিকও আছে এবং গত ১১ বছরে বেশ কয়েকটি বিষয়ে উন্নতি সাধিত হয়েছে।

বর্তমান অবস্থা ভাল থেকে অনেক দূরে এবং সংবিধান ও অন্যান্য বিতর্কিত বিষয়গুলো আবার চালু হবার পরে দক্ষ হাতে পরিচালিত না হলে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হবে এবং পাকিস্তানকে একটি সুসংবদ্ধ রাষ্ট্রে পরিনত করার জন্য বড় ধরণের উদ্যোগ নিতে হবে।বিষয়গুলো আংশিকভাবে রাজনৈতিক তবে সংঘের মতে সমস্যা মোকাবিলা করার সুচিন্তিত ও বিস্তৃত পদক্ষেপ না নেয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত সীমিত সাফল্য অর্জিত হয়েছে। নিয়মানুযায়ী সমস্যা মোকাবিলা ও সমাধানের সুপরিকল্পিত ও টেকসই কোন পন্থা বের করা ছাড়া অনেক ফাকা বুলি আওড়ানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এই সংঘ, তারা পাকিস্তান সরকারের অধীনস্থ এমন কোন সংস্থার সাথে পরিচিত না যারা এই বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে, প্রত্যেকটা পদক্ষেপ হিসেব করে নেয় যেটা অন্যান্য দেশ যেমন আমেরিকা, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মত দ্বিভাষিক বা ত্রিভাষিক রাষ্ট্রে অসামঞ্জস্যপুর্ন নানা উপাদানকে একত্রিত করে সমন্বয়পুর্ণ সমষ্টিতে রুপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়েছিল।

খ) সংঘটি মনে করে পাকিস্তানকে সুসংবদ্ধ রাষ্ট্রে পরিনত করতে সরকারের সকল স্তরে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকা দরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের তিনটি মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা এবং তথ্য ও যোগাযোগ এর প্রধান দায়িত্ব গুলোর একটি হিসেবে এটি থাকা উচিত এবং তাদের ইহা অর্জনের জন্য সুবিন্যস্ত ও কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

গ) সংঘটি আরও সুপারিশ করেছে অনতিবিলম্বে কানাডীয় নাগরিকত্ব বিভাগেরমত একটি সংস্থা তৈরি করতে যাদের কাজ ছিল “কানাডার জাতিগত, ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত ভাবে আলাদা গোষ্ঠীগুলোকে একত্রিত করে একটি সংহতিপুর্ণ কানাডা রাষ্ট্র তৈরি করা”। এই সংস্থা মনস্তাত্বিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও অন্যান্য সমস্যা গুলো নিয়ে কাজ করবে যেগুলো পাকিস্তানে সংহতি আনয়নে সাহায্য করবে। অঞ্চলভিত্তিক সংস্কৃতি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গোষ্ঠীর আচার ব্যবহার এবং আন্তঃগোষ্ঠী ও এলাকাভিত্তিক সমস্যা ও তার সমাধানের উপায় নিয়ে কাজ করবে। মনোবিজ্ঞান সহ অন্যান্য সকল ক্ষেত্রেই অত্যন্ত সাবধানতার সাথে বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করতে হবে এবং তাদের সিদ্ধান্তই পরবর্তিতে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কাজের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সংঘটি মনে করে নব্যসংঘটিত পুনর্গঠন ব্যুরোতাদের কাজের ব্যাপারে বিশ্বস্ত হবে এবং চলমান মাধ্যমগুলোকে প্রাপ্ত ফলাফল বাস্তবায়নের কাজে ব্যবহার করবে।

 

2.04.008>

ঘ) জাতীয় সংহতি চারিত্রিকভাবে আংশিক মনস্তাত্বিক এবং আবেগ সংক্রান্ত তবে এটা আন্তঃনির্ভরশীলতা ও অর্থনীতির পূরকে উন্নীত হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ এর জন্য যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে।

 

সংস্কৃতি বিষয়ক

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রশ্নের সাথে জাতীয় সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জড়িত। এটি সূক্ষ্ম ও জটিল বিষয় যা নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতা, উদার মানসিকতা এবং বিচারবুদ্ধি নিয়ে আগানো উচিত। একটা বিষয় হল, আমাদের সমাজে এরকম গোঁড়া ও ধর্মান্ধ মানুষের অভাব নেই যারা কোন না কোন অজুহাতে সকল সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেই বাধা দিতে চায়। এছাড়াও জাতীয় সংস্কৃতির বিবর্তনের নামে স্থানীয় সংস্কৃতিকে নিরুৎসাহিত করা ও জনগণের নিজস্ব মত প্রকাশের প্রথাগত ধারা এড়িয়ে যাওয়া হতে পারে। এই দুই ধরণের প্রলোভনই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এড়িয়ে যেতে হবে। মুক্তির মানে হওয়া উচিত আত্মার সন্তুষ্টি, হতাশা নয়। এছাড়াও পাকিস্তান এমন কিছু এলাকা নিয়ে গঠিত যাদের সাথে দেশ ভাগের সময় যাদের সাথে শুধু বস্তুগত অমিল ছিল তা নয়, তারা ছিল অপেক্ষাকৃত অপরিচিত এবং তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতিনীতির ব্যাপারে তেমন অনুসন্ধান করা হয় নি। অতএব, যদি ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও ইতিহাস সমান গুরুত্ব না পায় তাহলে ঐসকল অঞ্চলের মানবিক দিকগুলো অজানাই থেকে যাবে। প্রত্যকটা গোষ্ঠী সম্পর্কে অনুসন্ধান এবং ধারণা না থাকলে জাতীয় ঐক্য সম্ভব নয়। সুতরাং বিভিন্ন অঞ্চলের চিরাচরিত সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং উদার মানসিকতা, শ্রদ্ধা ও বিচারবুদ্ধির সাথে অঞ্চলভিত্তিক অমিলগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে জাতীয় সংস্কৃতির উন্নয়নে সহায়তার দায়িত্ব পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার এড়িয়ে যেতে পারবে না। এই দায়িত্ব এখন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, কেননা আঞ্চলিক সংস্কৃতির অতীতের তথ্যাবলি বেশিরভাগ সময়েই অমুসলিম দ্বারা করানো হয়েছিল, যাঁরা [পাকিস্তানের] বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্কৃতিকে একসূত্রে সম্মেলনকারী ইসলামী এবং অন্যান্য সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলোকে নির্ণয় এবং মূল্যায়ন করার জন্য খুব একটা প্রস্তুত ছিলেন না, এমনকি এ ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে উদার মানসিকতা থাকার পরেও।এ সমস্যা আরও বেড়ে যাচ্ছে, কেননা কিছু কিছু এলাকায় বৈদেশিক সরকার এবং সংস্থা, যেমন পশ্চিম পাকিস্তানের পশতুভাষী অঞ্চলে আফগানিস্তান রাষ্ট্র এবং পূর্ব পাকিস্তান অঞ্চলে কলকাতার সংস্থাসমূহ, নানাভাবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যা জাতির জন্য সমস্যা সৃষ্টি করবে।

এমতাবস্থায়, সীমান্তের বাইরে থেকে উস্কানি ও সহায়তা পেয়ে অথবা ব্যতীত, পাকিস্তানের অখণ্ডতা বিনষ্ট করতে উদ্যত শক্তিসমূহকে প্রতিহত না করাটা হবে পাকিস্তান সরকারের দায়িত্বে চরম ব্যর্থতা। সরকার যেসব ব্যাপারে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে সেগুলো আগেই বলা হয়েছে। শিক্ষা, তথ্য ও প্রচার মন্ত্রনালয়কে তাদের দায়িত্ব উপলব্ধি করতে হবে এবং প্রত্যেকটা পদক্ষেপে সফল হবার জন্য সতর্ক ভাবে এগুতে হবে। তাদের উচিত পাকিস্তানের সকল অঞ্চলে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সহযোগিতা করা এবং ঐতিহ্যগত ও আঞ্চলিক সংস্কৃতির প্রসারে কাজ করা। অবশ্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রবণতা নিয়ে অনুসন্ধান করা এবং সেই প্রবণতাগুলোকে আবিস্কার ও প্রতিপালন করার ব্যাপারে তাদেরকে দায়বদ্ধ হতে হবে যেটা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় সংস্কৃতি গঠনে অবদান রাখবে।

 

<2.4.009>

এজন্য যা যা দরকার-

১। জাতীয় দৃষ্টিকোন থেকে ইতিহাস নতুন করে সাজানো

২। দেশীয় সাহিত্য ও লোকগীতি সংগ্রহ করা

৩। স্থানীয় হস্ত ও কারুশিল্পকে উৎসাহ প্রদান করা

৪। জাতীয়ভাবে গান, নাচ ও নাটক প্রচার করা

দলটি খেয়াল করেছে নাচ শুধু দেশের অল্প কিছু হিন্দু প্রধান ও ভারতীয় প্রভাবিত এলাকায় পরিবেশিত হয় এবং অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠনে ভারতীয় কূটনৈতিক কাজের সাথে জড়িত লোকজনের আগমন ঘটে ও নানা ধরণের সাহায্য আসে। বৈদেশিক মিশনের এসব কাজ আলাদা ব্যাপার হলেও যেহেতু সাংস্কৃতিক আদর্শের সাথে জড়িত তাই এর সমাধান পাকিস্তানি স্কুল অব ড্যান্সিং এর স্থাপনের মাধ্যমেই সম্ভব।প্রয়াত বুলবুল চৌধুরি এটা নিয়ে কাজ করছিলেন, কিন্তু তার নামধারী একাডেমিও এই কাজের ধারা অব্যাহত রাখেনি। পাকিস্তানে নাচের প্রসারের জন্য দ্রুত ও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

*                 *                 *                 *                 *                 *                 *

পূর্ব পাকিস্তান

পূর্ব পাকিস্তানের বিশেষ সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের নেয়া পদক্ষেপ গুলো নিয়ে দলটি সন্তুষ্ট নয়। বাণিজ্যিকভাবে এর সমাধান খুজে না পেলে পাকিস্তানের ঐক্য হুমকির মুখে পরবে। দলটি সমস্যাগুলো নিয়ে গবেষণার জন্য অনেক সময় ব্যয় করেছে এবং ঢাকা সফর করে বেশ কয়েকজন প্রতিনিধির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা দেখেছেন পূর্ব পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবী ও বেশ কিছু কর্মকর্তাসহ সাধারণ জনগণের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার থেকে ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে না। পশ্চিম পাকিস্তানের জনগন ও তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও ভুল ধারণা রয়েছে। যদিও অতীতে কিছু ভুল হয়েছে এবং অনেক কিছুই এখনও বাকি, তারপরেও দলটি মনে করেনা কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠী (প্রধানত রাজনীতিবিদ, সরকারী কর্মচারি এবং ব্যবসায়ী) এই অবস্থাকে উসকে দিয়েছিল।সকল ব্যর্থতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে অভিযুক্ত করা এখন রীতি হয়ে গিয়েছে। ক্ষমতাসীন সহ অন্যান্য রাজনীতিবিদরা এই অবস্থার জন্য দায়ী। অনেক সময় পেড়িয়ে গেলেও সুচিন্তিত উপায়ে এখনও সমাধান সম্ভব। কিন্তু ঢিমেতালে আগালে পারিস্থিতি আরও খারাপ হবে এবং তখন সমাধান খুজে পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পরবে।

পূর্ব পাকিস্তানে মনস্তত্বিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমস্যাসহ অনেক সমস্যা থাকলেও দলটির মতে প্রধান দুইটি সমস্যা হল মনস্তত্বিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা। কমপক্ষে দুই শতাব্দী ধরে এই অঞ্চলটি এতই নিগৃহীত হয়েছে যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় উন্নতি খুবই কম এবং জীবনযাত্রার মান খুব খারাপ যা জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

 

<2.004.010>

বেকারত্বের হার খুবই বেশী, বিশেষ করে শিক্ষিতদের মধ্যে, এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কম খরচে শিক্ষার সুযোগের পাশাপাশি শিল্পোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত বৃদ্ধির অভাবের কারণে এই অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। “দল”টির মতে অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য বড় ধরণের পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থনৈতিক খাতে পূর্ব পাকিস্তানের সকল বাস্তব দুর্দশা প্রশমিত করতে হবে। সাধারণ জনগণের উন্নতি এবং তাঁরা যে হতাশাজনক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা প্রশমনের জন্য সকল ধরণের কৌশল যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করতে হবে। এই কাজে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে যাতে কয়েক মাসের মধ্যেই জনগণ নতুন সরকারের কর্মশক্তি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে পারে। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঠিক করে দেয়া এই “দলের” কাজ নয়। এরা যা সুপারিশ করতে পারে তা হল, এমন সব পরিকল্পনাকেই গুরুত্ব দেয়া উচিৎ যেগুলো সাধারণ জনগণের অধিকাংশেরই উপকারে আসার নিশ্চয়তা দেবে, যেগুলো কম সময়ে ও কম কারিগরি জ্ঞানের সাহায্যেও বাস্তবায়নযোগ্য হবে। এমন অনেক অভিনব পন্থার কথা আমরা শুনেছি যার পিছনে অতীতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞদের মতে লাভ খুবই সামান্যই এসেছে। অন্যদিকে, জনসাধারণের আশু প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঋণসুবিধা, যা তাদেরকে কার্যকরী পুঁজির জোগান দেবে; দরকার কৃষি এবং কুটিরশিল্পের উন্নয়নের পদক্ষেপ, যা তাদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয়, যেটির অনেক সুযোগ রয়েছে, অথচ এগুলোর প্রতি যথেষ্ট দৃষ্টি দেয়া হয় নি। এসব ক্ষেত্রের জন্য উপযোগী পরিকল্পনাগুলোকে অধিক গুরুত্ব দেয়া উচিৎ।

দলটি অর্থনৈতিক সমস্যার দিকে বাড়তি মনোযোগ দেয়ার কথা বললেও, একই সাথে দলটি এটাও অনুভব করে যে পূর্ব পাকিস্তানের সমস্যা অনেকটাই মনস্তাত্ত্বিকও।একারণে প্রত্যেকটা সমস্যার অর্থনৈতিক দিকগুলি মোকাবিলা করার সাথে মনস্তাত্বিক বিষয়গুলির প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। জনপ্রচারণার প্রচেষ্টা আরও বাড়াতে হবে। সরকারের কর্মসূচি এবং সফলতাসমূহ, সরকারের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিবন্ধকতাসমূহ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি, গোপন উদ্দেশ্যে গোলমাল সৃষ্টিকারী এবং ঘৃণামূলক উস্কানিদাতা ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচন করে কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

প্রশাসনিক খাতে প্রচুর সময়-সুযোগের অপচয় হয়েছে, যেটি পূরণ করতে হবে, প্রশাসনকে আরও দক্ষ করে তুলতে হবে।দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত ও নিজ কর্তব্যে সচেতন সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ অনেক বড় কিছু অর্জন করতে সক্ষম। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি তো করেই না, বরং আরও কঠিন করে তোলে। প্রাদেশিক উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো, যেসব আগেই তালিকাভুক্ত হয়েছে, সেসবের মধ্যে অনেকগুলোই কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য ছাড়াই প্রাদেশিক সরকার নিজস্ব উদ্যোগে বেসামরিক সাহায্যে বাস্তবায়ন করতে পারত।

পুরাতন সংবিধানের অনুবিধি অনুযায়ী জাতীয় সংসদের কমপক্ষে দুইটি অধিবেশন পূর্ব পাকিস্তানে হবার ব্যবস্থা ছিল। রাষ্ট্রপতির মন্ত্রিসভা অন্তত ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পূর্বপাকিস্তানে বৈঠক করলে, এটা [পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের] আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ও কুচক্রী মহলকে নিষ্ক্রিয় করতে অনেক সাহায্য করবে। তাছাড়াও জনমনে এমন একটা ধারণা রয়েছে, যেসব মন্ত্রীদের নিবাস পশ্চিম পাকিস্তানে তাঁরা তাদের নিজ নিজ প্রদেশের ভেতরেই তাঁদের কাজকর্ম সীমিত রাখবেন। একই কথা বলা যায় কেন্দ্রীয় সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও। রাষ্ট্রের দুই অংশের দিকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

মূখ্য সচিবের মতে পাকিস্তানের বেসামরিক সার্ভিসের (CSP) মত একই ভাবে পাকিস্তানের পুলিশ সার্ভিসকেও কেন্দ্রীভূত করা উচিত। এটা প্রশাসনিক কার্যাবলীর প্রমিতকরণে ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

 

<2.004.011>

 

কিছু সত্যিকার সমস্যা থাকলেও প্রস্তাবটি ও তার প্রায়োগিক ক্ষেত্র নিয়ে ভালভাবে ভাবা উচিত। জুতসই ভাবে এর প্রয়োগ জাতীয় সংশক্তি বাড়াবে এবং দলটি অতিসত্বর উপযুক্ত উপায়ে প্রস্তাবের বাস্তবায়নের পক্ষে জোর দিয়েছে।

সিএসপি অফিসারদের আন্তঃবিভাগীয় বদলির পদক্ষেপটা নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পনামত কাজ করেনি। যদি শর্তাবলি আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হত এবং বাসস্থান, আসবাব ইত্যাদি উপায়ে যথাযথ সাহায্য প্রদান করা হত তাহলে বাধাটা অনেকাংশেই কম হত। হয়ত সামরিক বাহিনী কোন উদাহরণ সৃষ্টি করবে।

পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা সচিব ও জনপ্রশাসন বিভাগের পরিচালকের সাথে দলটির একটি ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। আলোচনার প্রেক্ষিতে তারা জানতে পেরেছে পূর্ব পাকিস্তানে প্রাথমিক শিক্ষার উপরে অনেক গুরুত্ব দেয়া হলেও মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যপারে সেরকম কিছুই করা হয়নি। প্রায় ১৪০ হাইস্কুলের মধ্যে মাত্র ৩৭টি সরকার পরিচালনা করে এবং অন্যান্যগুলোর জন্য খুব কমই ব্যয় করে। আমাদের মতে এই ঝোঁকটা পুরোটাই ভুল। প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যাটি এতই বড় যে বিশাল অংকের আর্থিক বিনিয়োগ ছাড়া কেন্দ্রীয় বা প্রাদেশিক সরকার কারো পক্ষেই এর সমস্যা করা সম্ভব না, এবং গুরুত্বপুর্ন ও ফলপ্রসু কাজের দিকে মনোযোগ দেয়াই বেশী প্রয়োজন। দলটি মনে করে প্রদেশে শিক্ষা, প্রশাসন ও ব্যবসার মান তখনই বাড়বে যখন মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসা, শিল্প, জীবিকা, সরকারী চাকুরি প্রভৃতি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব সৃষ্টি করা যাবে। দলটি পর্যাপ্ত সরকারী বিদ্যালয় চালু করার সুপারিশ করে। একই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাদেশিক সদর দফতরকে ব্যস্ত শহরের ঝামেলা থেকে দূরে মানানসই কোথাও সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব পুনরায় সক্রিয় ও যত দ্রুত সম্ভব বাস্তাবায়ন করতে হবে।

দলটিকে জানানো হয়েছিল যে কিছু ভারতীয় এবং অন্যান্য যারা পাকিস্তানের অধিবাসী হলেও তাদের পরিবার ও মন সবকিছুই পশ্চিম বাংলায়, তারা বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর একটা বিরাট অংশ পরিচালনা করে, কিন্তু এটা এখন চিন্তার বিষয় এবং ধ্বংসের কারণ হতে পারে। ডিপিআই কর্মচারি ছাঁটাইএর ইঙ্গিত করেছিল। এটা একটি ন্যায়সঙ্গত প্রস্তাব কিন্তু সেরকম কিছু হবে না,কারণযেপ্রতিষ্ঠানযুবকদের গড়ে তুলছে, জনগণের মতের উপরে প্রভাব ফেলছে এবং যেটা কোন না কোন ভাবে সরকার থেকে সাহায্য পাচ্ছে, সেখানে পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্যে গাফেল এরকম কাউকে কোন গুরুত্বপুর্ন পদে থাকতে দেয়া হবে না। এটা শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এমন না, যেকোনো সরকারী সংস্থা বা সাংস্কৃতিক দলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

বুদ্ধিজীবী ও লেখকদের হতাশার অন্যতম কারণ হচ্ছে তাদের কাজ বা লেখা প্রকাশের কোন ধরণের সুযোগ সুবিধা নেই এবং তারা সরকার থেকে কোন ধরণের সাহায্য পাচ্ছেন না। পূর্ব পাকিস্তানের প্রকাশনা ব্যবস্থা এতই দুর্বল যে এখনও পশ্চিম বাংলার বইগুলো বাজারে আধিপত্য ধরে রেখেছে। সরকারের উচিত সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের প্রচার ও বই সহ অন্যান্য প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণ করা।

 

 

 

 

 

 

<2.004.012>

 

পূর্বপাকিস্তানেপ্রচারব্যবস্থাজোরদারকরাউচিত ছিল, এবং তথ্যওসম্প্রচারমন্ত্রণালয়ের দ্বারা ঐক্য তহবিল পরিচালিত হওয়া উচিত ছিল।

জাতীয় নির্দেশিকা ও পুনর্গঠনের উদ্দেশ্য

জাতীয় নির্দেশিকা ও পুনর্গঠনের জন্য অনেকগুলো মাধ্যম আছে, কিন্তু জনমত প্রভাবিত করতে যেসব সংস্থা কাজ করে থাকে তাদের মধ্যে শিক্ষা এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রধান।
সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নীতি নির্দেশিকা দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি, তবে তাঁর সার্বিক বিবেচনায়, জাতীয় নির্দেশিকা ও পুনর্গঠনের নীতি এবং কৌশলের দায়িত্ব জাতীয় পুনর্গঠন বোর্ডের। শুধুমাত্র কিছু বিশেষ উপাদানের জন্যই নব-প্রতিষ্ঠিত পুনর্গঠন ব্যুরো একটি প্রয়োজনীয় সংস্থা নয়, বরং বোর্ডের সামনে সামগ্রিক অবস্থা এবং প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্যও বটে।
এই ব্যবস্থাগুলো সার্বিক দিক নির্দেশনা ও গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বলে মনে হলেও জাতীয় পুনর্গঠন বোর্ডের নীতি বাস্তবায়নের জন্য কৌশলগত যেসব দিক রয়েছে সেগুলো জোরদার করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যেসব দিকগুলো জোরদার করতে হবে সেগুলো এই রিপোর্টে নির্দেশ করা হয়েছে। দেশে প্রচার জোরদারের লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ও প্রস্তাবনা তৈরি করেছে, এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে তাদের তুলে ধরছে।
১৯৫৮ সালের ৩ ডিসেম্বর গ্রুপটির মাধ্যমে এই রিপোর্টটি অনুমোদিত হয়।

 

 

<2.005.013>

 

গোপন

ডি.ও. নং 325-S9 (L) / 59

অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী,
পাকিস্তান সরকার,
করাচি, ২১ মে, ১৯৫৯

প্রিয়জনাবজাকিরহোসেন,

আপনিপূর্বপাকিস্তানেরপরিস্থিতিসংক্রান্তসংযুক্তপ্রতিবেদনটিদেখতেআগ্রহীহতেপারেন।

২. এটা সাধারণত মানুষের মনোবল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে আনবে এবং প্রতিকূল প্রচারণার বিরোধিতায় সহায়তা করবে, যা অন্তত আংশিকভাবে এর জন্য দায়ী। এটা মানুষের সাথে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে প্রশাসনের জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যাপারকে সামনে আনবে যাতে ৭ অক্টোবরের সশস্ত্র বাহিনী দিবসের জন্য স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যম তৈরি হয়।

৩. যেখানে আমি নিশ্চিত যে, উপরোক্ত অবস্থার প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণে আপনার ব্যক্তিগত মনোযোগ আকৃষ্ট হবে, আমি আপনাকে সুপারিশ করবো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপর প্রভাব সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ছোট এবং সহজেই প্রতিকারযোগ্য বিষয়গুলো বিবেচনায় আনতে এবং তাদের মধ্যে অবিলম্বে উন্নয়ন করতে। উদাহরণস্বরূপ, পৌরশাসনসংক্রান্ত সেবার তাৎক্ষণিক উন্নয়নে প্রভাবিত করে, জনগণের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি করে, এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার দ্রুত প্রতিকারের মধ্যে দিয়ে এটা সম্ভব। অতঃপর পল্লী সহায়তার মত উপরোক্ত ক্ষেত্রগুলোকে এবং প্রদেশের মানুষের পারস্পারিক সহযোগিতা ও আত্মনির্ভরশীলতার মাধ্যমে যা কিছু অর্জিত হয়েছেতাদেরকে উপযুক্ত প্রচারের মাধ্যমে সাফল্যমন্ডিত করা যেতে পারে।

৪. আশা করি অদূর ভবিষ্যতে আপনাকে দেখতে পাবো।

আপনার অনুগত
এস./-কে.এম. শেখ
লে. কর্নেল

ধন্যবাদান্তে
জাকির হোসেন, ইএসকিউআর.,
গভর্নর, পূর্ব পাকিস্তান,
ঢাকা।

 

<2.005.014>

 

পূর্বপাকিস্তানেরসরকারিচাকুরীজীবীদেরমনোবলদৃশ্যতবেশকম।জ্যেষ্ঠকর্মকর্তা, বিশেষকরেযারানোটিশপেয়েছেন, তাদেরমতামতপ্রকাশকরতেশোনাযায়যে-মার্শালল’বেসামরিকপ্রশাসনেহস্তক্ষেপকরছেএবংবেসামরিক প্রশাসনকে মুক্ত করে মার্শালল’প্রত্যাহারকরাউচিত।বেসামরিক ব্যাপারগুলোতে সামরিক কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ বা উপদেশকে তারা ক্ষতিকর মনে করেন।

২. মানুষেরদৈনন্দিনজীবনকেপ্রভাবিতকরেএমনবিষয়গুলোরসুস্থিরউন্নয়নেরকোনচিহ্ননেই।পৌরশাসনসংক্রান্তসেবারঅবনতিহয়েছে।প্রশাসন ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগ অকার্যকর। এটা হতে পারে কোন প্রতিষ্ঠানের ছোট এবং সহজেই প্রতিকারযোগ্য উপাদানগুলোর ব্যাপারে মন্তব্য নেয়ার অভাবে যা মানুষের মনোবলকে প্রভাবিত করে।

৩. উচ্চপদস্থকর্মচারীদের মতে রাজনৈতিকদলগুলোরসহায়তাছাড়াপূর্বপাকিস্তানেরমতএকটিজায়গায়মানুষেরমনোবলবজায়রাখাকঠিনছিল।দৃশ্যতরাজনীতিবিদগণএইদৃষ্টিকোণবুঝতেসক্ষমহয়েছিলেন।এছাড়াওবিতর্কচলছেযেপশ্চিমপাকিস্তানেরক্ষেত্রেসামরিকবাহিনীবেসামরিকপ্রশাসনেরদায়িত্বনিতেওসফলভাবে চালাতে পারলেও তা পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সম্ভব না, এবং এ কারণেই পূর্ব পাকিস্তানে বেসামরিক প্রশাসনের আরও বেশি স্বাধীনতা থাকা দরকার।সরকারওসশস্ত্রবাহিনীরসাথেপূর্বপাকিস্তানেরজনগণকেসম্পৃক্তকরাএবংসরকারযতটুকুসম্ভবসবইকরেবলেমানুষকেবিশ্বাসকরানোঅপরিহার্য, বিশেষ করে ৭ অক্টোবর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সিদ্ধান্ত বিবেচনায়।যদি সেদিনমানুষেরদ্বারাস্বতঃস্ফূর্তভাবেযথাযথউদ্যমপ্রকাশিতনাহয়, এটাসরকারেরউপরঅনাস্থাজ্ঞাপনেনীরবভোটহিসেবেআখ্যায়িতহবে, যারবিধ্বংসীউপাদানএবংবিরূপবৈদেশিক প্রচারমাধ্যম দ্বারাসম্পূর্ণরূপেনিষ্পেষিতহবে।

৪. পূর্ব পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থা ও উত্তেজনা তৈরিতে অবশ্যই প্রতিকূল শক্তিগুলো কাজ করে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। রাজনৈতিক নেতারা ব্যক্তিগত সভায় কথা বলেন ও রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। বিধ্বংসীশক্তিগুলোতাদেরস্বাভাবিকআচরণহিসেবেইবিরূপমতামতওঅপপ্রচারছড়াচ্ছে।প্রসঙ্গক্রমে, মার্শাল “পররাষ্ট্র নীতি” নিয়ে যে অনুচ্ছেদটি লিখেছেন, সেখানে হাতে হাতে প্রচারিত নতুন কর্ম ত্যাগীদের বিরুদ্ধে মতাদর্শ লালনের ব্যাপারে বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষাবলম্বনে এবং বিরূপ প্রচারণা মোকাবেলায় কিছু কার্যকলাপ আছে বলেই এসব ঘটছে। বিরূপ প্রচারণা মোকাবেলা কার্যকর হবে না যদিনা তারা জনগণের দৈনন্দিন উন্নতির প্রকৃত প্রমাণের উপর ভিত্তি করে হয়।

৫. বরিশাল শহরে আশ্বিনী কুমার হল নামে একটি হল আছে, আশ্বিনী কুমার এইজেলারএকজনমহানসমাজসেবকছিলেন এবং তিনিপ্রায়৬০বা৭০বছরআগেসমাজেরনৈতিকপুনর্জন্মেযথেষ্টপ্রভাবখাটিয়েছিলেন।তাঁকেএকজনহিন্দুহিসেবেনয়বরংএকজনমহানসমাজনেতাহিসেবেসম্মানেরস্থানেরাখাহয়।বর্তমানজেলাম্যাজিস্ট্রেটহলটিকেআইয়ুবহলনামেনামান্তরকরলেউপযুক্তহয়বলেচিন্তাকরেছিলেন।এটাকরাটাভুলবলেএকজনস্থানীয়হিন্দুজেলাম্যাজিস্ট্রেটেরকাছেবলেনএবংএকটিপুরনোপ্রতিষ্ঠানকেনামান্তরনাকরেজেলাম্যাজিস্ট্রেটকেউপদেশদেনঅন্যকিছুকরতেযদিতিনিআসলেইপ্রেসিডেন্টেরনামেকোনোসরকারিপ্রতিষ্ঠানেরনামচানএবংএইধরনেরনতুনপ্রতিষ্ঠানেরজন্যকাজকরতেওতহবিলবাড়াতেচান।উল্লেখ্য যে ঐ ভদ্রলোকের উপর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রেগে যান, এবং নাশকতামূলককার্যক্রমেঅভিযুক্তপুলিশরিপোর্টেরভিত্তিতেতাকেনিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগগুলোপ্রাদেশিকসরকারেরনিকটকরাহয়েছেকিন্তুভদ্রলোকএখনওনিরাপত্তাজনিতকারণেআটকআছেন।

 

 

 

 

<2.005.15>

যা অভিযোগ করা হয়েছে তা যদি সত্য হয় তাহলে একটি জেলার দায়িত্বে থাকার মত প্রয়োজনীয় দৃষ্টিভঙ্গি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেই। এটা সত্যিই দুঃখের বিষয় যে এমন একটি ব্যাপারকে প্রাদেশিক সরকারের নজরে আনার পরও প্রশাসন প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়।

৬. ভিআইপিদের ব্যক্তিগত প্রচারের জন্য অভিযোগ শোনা যায়। ব্যক্তিগত প্রচারণা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে এমনকি সরকারের সুনামে পর্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের মন্ত্রীদের ঘন ঘন গ্রামের বাড়ি পরিদর্শনের ব্যাপারে অভিযোগ করা হয়েছে, যা বিরূপ প্রচারণার জন্য সজ্জিত উপকরণ।

৭. পীড়াদায়ক পটভূমির বিরুদ্ধে, জাতিকে গঠন করার জন্য কিছু করার ব্যাপারে ছোট উপাদানগুলোর (বামপন্থী দল গুলো নয় বরং অবশ্যই পাকিস্তানপন্থী এবং ডানপন্থী দলগুলো) মাঝে বিবেচনাযোগ্য উদ্যম লক্ষ্য করা যায়। এইউদ্যমকেধারণ করতেকোনচেষ্টাইকরাহচ্ছেনা।একে দ্রুত ধারন না করা গেলে এই উপাদানগুলো নিরুৎসাহিত হবে এবং এইউপযুক্ত উদ্যম প্রকাশের অভাবে নিজেই নিস্তেজ হয়ে যাবে।

<2.006.016>

শিরোনাম সূত্র তারিখ
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার অযোগ্যতা সম্পর্কিত আদেশ ঘোষিত সরকারী

৬ই আগষ্ট,

১৯৫৮

 

 

পাকিস্তানি বিশেষ গেজেট,

কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রকাশিত।

 

——————————–

 

 

৭ই আগষ্ট, শুক্রবার, ১৯৫৯, করাচী

পাকিস্তান সরকার

আইন মন্ত্রণালয়

রাষ্ট্রপতির আদেশ নং১৩, ১৯৫৯

 

মনোনয়নপরিষদ (অযোগ্যতা) আদেশ১৯৫৯

 

১৯৫৮ সালের অক্টোবর মাসের সপ্তম দিনেরঘোষনা-পত্র অনুসারে এবং তৎকর্তৃক সক্রিয় সব ক্ষমতাবলে,রাষ্ট্রপতি সন্তুষ্টচিত্তে নিম্নলিখিত আদেশ ঘোষনা করেনঃ

 

১। সংক্ষিপ্ত পদবী, পুংখানুপুংখতা এবং পরিচয়- (১) এই আদেশ মনোনয়ন-পরিষদ (অযোগ্যতা) আদেশ- ১৯৫৯ নামে অভিহিত হবে।

 

(২) এটা সমগ্র পাকিস্তানজুড়েএবং পাকিস্তানের সকল নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য,সরকারের সেবায় না হলে যেকোন জায়গার নাগরিকদের জন্যে হতে পারে।

 

(৩) এটা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং ১৯৬০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে, পরবর্তীতে তা রহিত হবে।

 

২। বর্ণনা- এই আদেশে, যদি না কোন কিছু বিষয় অথবা প্রসঙ্গের পরিপন্থী থাকে-

 

(ক) “যথাযথ সরকার” অর্থাৎ, ধারা (৪) এর অনুচ্ছেদ (৪) এর অধীনে রাষ্ট্রপতির নামে বা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত ট্রাইব্যুনালের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং সরকারের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য ক্ষেত্রে;

 

(খ) ” মনোনয়ন-পরিষদ ” মানে কোনো সমাবেশ, বোর্ড, কমিটি বা অনুরূপ অন্যাঙ্গ, যেকোন নামে অভিহিত হোক না কেন, প্রতিষ্ঠিত বাকোন আইনের দ্বারা অথবা অধীনে প্রতিষ্ঠিত হবে যা নির্বাচিত সদস্যদের সম্পূর্ণ বা আংশিক নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয় এবং আইনসভা,পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা কমিটি, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, জেলা বোর্ড, চিহ্নিত এলাকা ভিত্তিক কমিটি, শহর ভিত্তিক কমিটি, স্যানিটারি কমিটিকে সংযুক্ত করে বা অন্য যে কোন স্থানীয় সংস্থা বা নির্বাচনী কলেজআইনসভার নিকট নির্বাচনের জন্য গঠিত হয়।

 

 

 

 

 

<2.006.017>

(গ) “অপরাধ” আগস্ট, ১৯৪৭-এর চতুর্দশতম দিনের পরের আচরণকে বোঝায়, এবং কোন নাশকতামূলক কার্যকলাপসহ, কোন মতবাদ প্রচার বা এমন কোন কিছু করা যা রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভূমিকা রাখে, ঘুষ, দুর্নীতি বা দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার জন্যে একটি সাধারণ এবং ধারাবাহিক খ্যাতি, দালালি, পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি, ইচ্ছাকৃত অপশাসন, ইচ্ছাকৃত অপপ্রয়োগের বা সরকারী অর্থ বা সরকারি চাঁদা দ্বারা বা অন্যথায় সংগৃহীত অর্থ এবং যে কোন ধরণের ক্ষমতা বা পদের দ্বারা অন্য যেসব অপব্যবহার, এবং এ জন্যে কোন প্রচেষ্টা, অথবা, এ ধরণের অপরাধমূলক উৎসাহ প্রদান করা;

(ঘ) “বিবাদী” মানে সে ব্যক্তি যাকে আর্টিকেল ৬ এর ধারা (১) অনুযায়ী প্রসঙ্গত উল্লেখ করা হয়েছে, এবং

(ঙ) “ট্রাইব্যুনাল” মানে আর্টিকেল ৩-এর অধীনে নিযুক্ত একটি ট্রাইব্যুনাল।

৩. ট্রাইব্যুনালের নিয়োগ – (১) রাষ্ট্রপতি, পশ্চিম পাকিস্তানের গভর্নর এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এই অর্ডারের উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে, প্রজ্ঞাপন দ্বারা অফিসিয়াল গেজেটের মাধ্যমে, এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল নিয়োগ করতে পারবে।

(২) এরকমপ্রতিটি ট্রাইব্যুনালের তিনজন সদস্য থাকবে, যাদের মধ্যে একজনকে প্রিজাইডিং সদস্যের নিকট অবহিত করা হবে এই মর্মে যেঃ

প্রিজাইডিং সদস্য এমন একজন ব্যক্তি হবেন যিনি সুপ্রিম কোর্ট, ফেডারেল কোর্ট বা হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে আছেন বা ছিলেন, বা জেলা ও দায়রা জজ; যিনি হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাবার যোগ্যতা অর্জন করেন বা করেছিলেন।

 

(৩) উপরোল্লিখিত নিযুক্ত ট্রাইব্যুনালস যথাক্রমে কেন্দ্রীয় (নির্বাচনী সংস্থার অযোগ্যতা) ট্রাইব্যুনাল, পশ্চিম পাকিস্তানের (নির্বাচনী সংস্থার অযোগ্যতা) ট্রাইব্যুনাল ও পূর্ব পাকিস্তানের (নির্বাচনী সংস্থার অযোগ্যতা) ট্রাইব্যুনাল নামে পরিচিত হবে।

৪. ট্রাইবুনাল কার্যাবলীঃ- (১) ধারা (৪) এ বিবৃতির ব্যতিরেকে, কেন্দ্রীয় (নির্বাচনী সংস্থার অযোগ্যতা) ট্রাইব্যুনাল; যেসব অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত ও মামলার রিপোর্ট পেশ করবে –

(ক) যে ব্যক্তি কোনো অফিস, পোস্ট বা অবস্থান, নির্বাচনী সংস্থার অধীনেসদস্যপদ সহ বা এরূপ প্রতিষ্ঠানের কাজের বিষয়ে যোগাযোগ রয়েছে, অথবা, ফেডারেশনের সাথে; এবং

(খ) যেসব ব্যক্তি সাধারণত অপরাধ সংঘটনের সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজধানীর বাসিন্দা ছিল, বা এর পরের যে কোন সময়ে।

(২) ধারা (৪) এ বিবৃতির ব্যতিরেকে, পশ্চিম পাকিস্তানের (নির্বাচনী সংস্থার অযোগ্যতা) ট্রাইব্যুনাল যেসব অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত ও মামলার রিপোর্ট পেশ করবে-

(ক) যে ব্যক্তি, অক্টোবর, ১৯৫৫ এর চতুর্দশতম দিনের পরে, কোনো অফিস, পোস্ট বা অবস্থান ধরে রেখেছিল, নির্বাচনী সংস্থার অধীনেসদস্যপদ সহ বা পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাদেশিক কর্মকান্ডে যুক্ত অবস্থায়, বা এর আগের দিন, যে কোন প্রাদেশিক কাজে যুক্ত অবস্থায়, ক্ষমতাসীন প্রদেশ অথবা অন্যান্য এলাকায়, উল্লেখিত প্রদেশের মধ্যে সেদিন যারা অন্তর্ভুক্ত ছিল; এবং

<2.006.018>

(খ) যেসব ব্যক্তি সাধারণত অপরাধ সংঘটনের সময়অথবা এরপরে যে কোনসময়ে সদ্যগঠিত প্রদেশ যা পশ্চিম পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলের বাসিন্দা।

(৩) ধারা (৪) এ বিবৃতির ব্যতিরেকে, পূর্ব পাকিস্তানের (নির্বাচনী সংস্থার অযোগ্যতা) ট্রাইব্যুনাল যেসব অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত ও মামলার রিপোর্ট পেশ করবে-

(ক) যেসব ব্যক্তি কোনো অফিস, পোস্ট বা অবস্থান, নির্বাচনী সংস্থার অধীনেসদস্যপদ সহ বা পূর্ব পাকিস্তানের বা পূর্ব বাংলার প্রদেশে বা প্রদেশের কোন কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে; এবং

(খ) যেসব ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনের সময় পূর্বোক্ত প্রদেশের সাধারণ বাসিন্দা বা এর পরে যে কোন সময়ে।

(৪) যেখানে, (১), (২) এবং (৩) বিধান অনুসারে, তদন্ত এবং প্রতিবেদন, কোন ব্যক্তির পক্ষে একাধিক ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গঠন করা যেতে পারে, তার বাসস্থানের কারনে, অথবা একাধিক অফিস, পোষ্ট বা অবস্থানে থাকার অভিযোগে, তারপরে এই অর্ডারের সাথে কোনরকম সম্পর্ক ব্যতিরেকে, রাষ্ট্রপতি, যে কোন ট্রাইব্যুনালের রেফারেন্স সাপেক্ষে, বা অন্যথায়, ঐ ট্রাইব্যুনালের নাম উল্লেখে যেটি উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সকল তদন্ত ও প্রতিবেদন পেশ করেছে।

(৫) নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিষিদ্ধকরণঃ– (১) তথাপি এই ধারায় বা অন্য কোন আইনে অন্তর্ভুক্ত, এক ব্যক্তি ৩১শে ডিসেম্বর, ১৯৬৬-এর দিন পর্যন্ত, যে কোন নির্বাচনী সংস্থার সদস্য বা সদস্যপদ লাভে প্রার্থী হয়ে থাকলে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। –

 

(ক) যদি তিনি সরকারি চাকুরি বা সরকারি বিধিবদ্ধ কর্পোরেশন থেকে অদক্ষতা ব্যতীত অন্য কোন অভিযোগে বরখাস্ত, অপসারণ অথবা জোরপূর্বক কর্মচ্যুত করা হলে; অথবা

(খ) যদি তার বিরুদ্ধে কখনো সিকিউরিটি অব পাকিস্তান অ্যাক্ট, ১৯৫২ এর ৩নং ধারার(১৯৫২ এর ৩৫তম) অধীনে কোন আদেশ, অথবা প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অনুরূপ যে কোন ধরণের আইনের আদেশের অধীনে, অথবা বহির্বিশ্বের বিষয়াবলী, অথবা পাকিস্তানের বা এর কোন অংশের নিরাপত্তা, অথবা জনগণের রক্ষণাবেক্ষণে অত্যাবশ্যকীয় মালামাল সরবরাহ ও সংরক্ষণ অথবা জনশৃংখলা রক্ষায় অপরিহার্য বিষয়ক কোন অভিযোগ থাকে; অথবা

(গ) যদি তিনি ফেডারেল কোর্ট, হাইকোর্ট বা পাবলিক এন্ড রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিসের(নিষিদ্ধ) ধারা, ১৯৪৯ এর অধীনে একটি ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হন ; অথবা

(ঘ) যদি তিনি কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে থাকেন এবং দন্ডিত একটি মেয়াদে

দুই বছরের বেশি সময়ের জন্য বা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারাদণ্ড পেয়ে থাকেন।

 

৬. ট্রাইব্যুনালের রেফারেন্সঃ- (১) একটি ট্রাইব্যুনাল নির্দিষ্ট কর্মকর্তা, কমিটি বা উপযুক্ত সরকারের কর্তৃপক্ষের সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এ উদ্দেশ্যে নিযুক্ত অফিসারের লিখিত রেফারেন্স ব্যতিরেকে কোন অপরাধের তদন্তে অগ্রসর হবে না।

<2.006.019>

(২) ধারা (১) এর অধীনে একটি রেফারেন্সের প্রাপ্তি সাপেক্ষে, ট্রাইব্যুনাল রেফারেন্সে উল্লেখকৃত অভিযোগ ও এর সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র নিরীক্ষণ করবে, এবং

(ক) যদি, উক্ত নিরীক্ষণের ফলে, যদি প্রতীয়মান হয় যে কোন অভিযোগ উপস্থাপন করা যাচ্ছে না, তাহলে রেফারেন্স সহ যথাযথ সরকারের কাছে এই মতামত প্রেরণ করতে হবে, এবং,

(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, এই আইনের অধীনে,বিবাদীকে কেন একটি সুপারিশ করা হবে না শীর্ষক কারন দর্শাও নোটিশ জারি করা হবে।

(৩) উপ-ধারা (ক) এর কোন কিছুই ধারা (২) ছাড়া কোনো পরবর্তী রেফারেন্স বহন করবে না

ট্রাইব্যুনাল।

৭. জনজীবন, ইত্যাদি থেকে অবসর গ্রহণ করার প্রস্তাবঃ – (১) একটি নোটিশ আর্টিকেল ৬ এর উপ-ধারা (খ) এর ধারা (২) থেকে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, বিবাদীর নিকট একটি প্রস্তাব থাকবে যে, যদি সে চায়, তাহলে সে জনজীবন থেকে ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৬ পর্যন্ত অবসর গ্রহণ করতে পারবে।

(২) যদি বিবাদী তার বিরুদ্ধে তদন্তে আনীত অভিযোগ ধারা (১) এর অধীনে প্রস্তাব গ্রহণ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গ্রহণ অবিলম্বে বন্ধ করা হবে এবং তিনি ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৬ পর্যন্ত অযোগ্য বিবেচিত হবেন, সদস্য বা কোন নিবার্চক মন্ডলীর সদস্যপ্রার্থী হিসেবে।

৮. ট্রাইব্যুনাল ইত্যাদি দ্বারা তদন্ত. – (১) যদি বিবাদী আর্টিকেল ৭ এর ধারা (১) এর অধীনে আনীত প্রস্তাব গ্রহণ না করেন, ট্রাইব্যুনাল তাহলে, তদন্তের সাথে সম্পর্কিত আরও রেকর্ড এবং যাচাই বাছাই শেষে এবং বিবাদীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে, তার তথ্যের রেকর্ড এবং যথাযথ সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ, এবং যদি বিবাদী দোষী সাব্যস্ত হন, ট্রাইব্যুনাল তাহলে যথাযথ সরকারকে বিবাদী কর্তৃক অপরাধ সংগঠনের ফলে কোন ক্ষতি হয়ে থাকলে তার ক্ষতিপূরণ, বা বিবাদী কর্তৃক কোন ভাল কাজের মাধ্যমে পূরণ করার ব্যাপারে সুপারিশ করতে পারবে।

(২) যদি বিবাদী দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে যথাযথ সরকার একত্রিশে ডিসেম্বর, ১৯৬৬ পর্যন্ত বিবাদী একজন সদস্য অথবা কোন নির্বাচনী মন্ডলীর সদস্যপদ গ্রহণে অযোগ্য বিবেচিত হওয়ার জন্যে একটি আদেশ পাশ করবে এবং বিবাদী কর্তৃক অপরাধ সংগঠনের ফলে কোন ক্ষতি হয়ে থাকলে তার ক্ষতিপূরণ, বা বিবাদী কর্তৃক কোন ভাল কাজের মাধ্যমে পূরণ করার ব্যাপারে আদেশ উপরন্তু প্রয়োগ করতে পারবে।

৯. ট্রাইব্যুনাল এর ক্ষমতাঃ– যখন দেওয়ানি কার্যপ্রণালী, ১৯০৮ (১৯০৮ এর অ্যাক্ট ৫) এর অধীন একটি মামলা পরিচালনা করবে তখন একটি ট্রাইব্যুনালের একটি দেওয়ানী আদালতের সমপরিমান ক্ষমতা থাকবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো সাপেক্ষে, –

(ক) তলব করা এবং কোন ব্যক্তির হাজিরা বলবৎ করা এবং শপথের মাধ্যমে তাকে অনুসন্ধান করা;

(খ) কোনো দলিলের উদঘাটন এবং প্রণয়ন প্রয়োজনে;

(গ) হলফনামায় প্রমাণ গ্রহণ; এবং

(ঘ) কোন সাক্ষী ও দাখিলকৃত দলিলপত্র পরীক্ষার জন্য কমিশন জারি।

 

 

 

 

<2.006.020>

১০. ট্রাইব্যুনালের আরও ক্ষমতাঃ– (১) পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে ট্রাইব্যুনাল যে কোন ব্যক্তিকে হাজির হতে বাধ্য করার ক্ষমতা থাকবে, কোনো বিশেষাধিকার যা কোন আইনের অধীনে ঐ ব্যক্তির দাবি সাপেক্ষে আপাততঃ বলববৎ জন্য কোন তথ্যের সরবরাহে ট্রাইব্যুনাল তার সুবিবেচনা করতে পারবে।

(২) একটি ট্রাইব্যুনাল, লিখিত আদেশ দ্বারা, কোনো গেজেটেড পুলিশ অফিসারকে নির্দেশ দিতে পারবে, যে কোনো ভবনে বা স্থানে প্রবেশ, যেখানে বিশ্বাসযোগ্য সূত্রমতে অ্যাকাউন্টের কোনো বই বা অন্যান্য কাগজপত্র (তারা অ্যাকাউন্টের সাথে বা না আছে কিনা) যা এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত যেটি আগেই পাওয়া যেতে পারে, এবং আদেশক্রমে তাকে এই ধরনের বই বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিতে পারে বা দলিল বা এর কোন কপি বা এর কোন অংশ নিতে, এবং এর বিধান, সেকশন ১০২ এবং ১০৩, ফৌজদারী কার্যবিধির, ১৮৯৮ (১৮৯৮ এর অ্যাক্ট ৫) অনুসারে,

এমন অফিসারতার কার্যধারার ক্ষেত্রে বা এমতাবস্থায় প্রযোজ্য হতে পারে।

(৩) একটি ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব অবমাননার শাস্তি বিধানে একটি হাইকোর্টের সমান ক্ষমতা থাকবে।

(৪) একটি ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য, পাকিস্তান দণ্ডবিধির একাদশ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বিধানের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে (১৮৬০ এর ৪৫ নং আইন), একটি বৈধ বিচারকার্য বলে গণ্য হবে, এতদসংক্রান্ত যেসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে সে হিসাবে।

(৫) একটি ট্রাইব্যুনালের একটি দেওয়ানী আদালতের সমান ক্ষমতা থাকবে যেটি সিভিল কার্যপ্রণালী. ১৯০৮ (১৯০৮ সালের ৫ নং আইন), এর অধীনে কোনো জনসাধারণের দাবির প্রেক্ষিতে কোন পাবলিক রেকর্ড বা কোন আদালত বা অফিস থেকে উহার কপির সাপেক্ষে একটি মামলা পরিচালনা করতে পারবে।

১১. ট্রাইব্যুনালের কার্যপ্রণালীঃ– (১) এই আদেশের বিধান এবং এর অধীনে প্রণীত বিধি বলবৎ ছাড়া অন্য যে কোন আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, একটি ট্রাইব্যুনাল সর্বথা তার বিচারকার্য পরিচালনা এবং তার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করার ক্ষমতা থাকবে, যেখানে এটি মানানসই হবে বলে মনে করে।

(৩) উপরি-উক্ত ধারার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করে, ট্রাইব্যুনাল তার বিচক্ষণতায় কোন সাক্ষী পরীক্ষা বা তার কোনো নথি তলব করতে অস্বীকার করতে পারে।

(৪) যখনই কোনো বিবাদী ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হবেন তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হবেন এবং নিজেইশুধুমাত্র এবং কোন বন্ধু বা উপদেষ্টা বা উকিল তাকে বিচারকার্যের সময় সাহায্য করবে না।

১২. আইন প্রণয়নের ক্ষমতাঃ– কেন্দ্রীয় সরকার, প্রজ্ঞাপন দ্বারা সরকারী গেজেটে, এই অর্ডারের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে আইন প্রণয়ন করতে পারবে।

১৩. বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাঃএই অর্ডারের অধীনে আনীত যে কোন বিধানের কোন নিয়ম, এবং কোন অর্ডার, কার্যকারিতা, তথ্য, রিপোর্ট বা একটি ট্রাইব্যুনালের সুপারিশ, এবং প্রেসিডেন্ট বা গভর্ণর কর্তৃক কোন আদেশ জারি অথবা ধারণা করা যে জারি করা হয়েছে, এসব কিছুই যে কোন আদালতে প্রশ্নাতীত থাকবে।

১৪. বকেয়া অর্থ ভূমি রাজস্ব হিসাবে আদায়যোগ্যঃ- আর্টিকেল ৮ এর অধীনে আদায়যোগ্য কোন অর্থ এবং যথাযথভাবে প্রদান না করা হলে তা ভূমি রাজস্ব বকেয়া হিসাবে আদায়যোগ্য হবে।

 

 

<2.006.021>

১৫. এই অর্ডার এর বিধান সহ এবং অন্যান্য আইনের মর্যাদাহানি ব্যতিরেকে শর্তঃ- এই অর্ডারের বিধান সহ এবং অন্যান্য আইনের মর্যাদাহানি ব্যতিরেকে অন্য যে কোন আইন এই সময়ের মধ্যে বলবৎ থাকবে এবং এই অর্ডার অন্য যে কোন আইনের আওতায় কোন ব্যক্তিকে আইনের অধীনে বিচারে এবং শাস্তির ক্ষেত্রে বাধা প্রদান বা পক্ষপাত প্রদর্শন করবে না।

 

মোহাম্মদ আইয়ুব খান, এইচপি, এইচজে.

জেনারেল,

প্রেসিডেন্ট।

——————-

 

করাচী,                                                                 মুজিবুর রহমান খান

৬ই আগস্ট, ১৯৫৯।                                                           যুগ্ম-সচিব।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<2.007.022>

শিরোনাম সূত্র তারিখ

এবডো অন্তর্ভূক্তকরণ সংক্রান্ত

সরকারী চিঠি

সরকারী

৩-৫ সেপ্টেম্বর,

১৯৫৯

 

 

গোপনীয়

 

পূর্ব পাকিস্তান সরকার

মহাপরিচালক এর কার্যালয়, দুর্নীতি দমন পূর্ব পাকিস্তান, ঢাকাব্যুরো

 

প্রেরক,

 

এস.এ. চৌধুরী, ইএসকিউআর, পি.এস.পি.,

মহা-পরিচালক, দুর্নীতি দমন, ইস্ট পাকিস্থান, ঢাকা ব্যুরো।

 

প্রতি,

এ. কিউ. আনসারী, ইএসকিউআর.,

পূর্ব পাকিস্তান সরকারের অতিরিক্ত সচিব.

দুর্নীতি দমন বিভাগ, ঢাকা।

 

তারিখঃ ৩রা/৪ঠা সেপ্টেম্বর, ১৯৫৯।

 

বিষয়ঃ- .বি.ডি..য়ের অধীনে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ব্যক্তিদের তালিকা।

 

সম্প্রতি করাচিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সভাপতিত্বে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, ই.বি.ডি.ও.য়ের অধীনে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নিম্নবর্ণিত পূর্ব পাকিস্থানের ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করা হয়।

 

আমার তালিকায় থাকা ১৯ জন ব্যক্তির মধ্যে ১৮ জন যারা অযোগ্য বলে বিবেচিত তাদের নিম্নে চিহ্নিত করা হলোঃ

 

ক্রমিক নং        নাম               দপ্তর             অযোগ্যতার ভিত্তি          সূত্র- আই.বি. তালিকায়

(১)           (২)               (৩)                     (৪)                                   (৫)

 

১। জনাব আতাউর রহমান খান     সাবেক মুখ্যমন্ত্রী   স্বেচ্ছাচারী অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি    ক্রমিক-৪

২। জনাব আবু হুসেইন সরকার     সাবেক মুখ্যমন্ত্রী   স্বেচ্ছাচারী অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি    ক্রমিক-৬

 

 

 

 

 

 

 

 

<2.007.023>

 

 

 

(১)           (২)                  (৩)                   (৪)                                          (৫)

 

৩। জনাব ইউসুফ আলি চৌধুরী    সাবেক মন্ত্রী     রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও দুর্নীতিক্রমিক- ৭

৪। জনাব মোহাম্মদ মনসুর আলী    সাবেক মন্ত্রী       দুর্নীতি                                    ‘খ’ তালিকার ক্রমিক -১

৫। জনাব মশিউর রহমান          সাবেক মন্ত্রী       অ-ব্যবস্থাপনা ও জনগণের অর্থ অপসারণ

৬। জনাব কফিলউদ্দীন চৌধুরী     সাবেক মন্ত্রী       দুর্নীতি ও অসদাচরণ                         ‘গ’ তালিকার ক্রমিক -১

৭। জনাব মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ বিশ্বাস সাবেক মন্ত্রী         দুর্নীতি                              ‘খ’ তালিকার ক্রমিক -১

৮। জনাব মোহাম্মদন-নবী চৌধুরী  সাবেক মন্ত্রী       দুর্নীতি                              ক্রমিক- ১০

(ব্যবসায়ী)

৯। জনাব আব্দুল হাকিম           সাবেক স্পিকার   স্বজনপ্রীতি ও অসদাচরণ            ক্রমিক- ৫

ই.পি. পরিষদ

১০। জনাব এ. হামিদ চৌধুরী                সাবেক এম.পি.এ.         দুর্নীতি

১১। জনাব মোসেলম আলী মোল্লা    সাবেক এম.পি.এ.         দুর্নীতি

১২। জনাব এম. কোরবান আলী     সাবেক এম.পি.এ.         দুর্নীতি

১৩। জনাব নুরুদ্দীন আহমেদ                সাবেক মন্ত্রী       দুর্নীতি

(ব্যবসায়ী)

১৪। জনাব আব্দুল মতিন           সাবেক এম.পি.এ. দুর্নীতি

১৫। জনাব ফজলুল করিম                   সাবেক এম.পি.এ. দুর্নীতি                              ‘খ’ তালিকার ক্রমিক -১২

১৬। জনাব আব্দুস সালাম মুক্তার    সাবেক এম.পি.এ. দুর্নীতি

১৭। জনাব ওয়াহিদুজ্জামান                   সাবেক এম.পি. ইচ্ছাকৃত জগণের অর্থের অপব্যবহার

(ব্যবসায়ী)

১৮। জনাব দেওয়ান মহিউদ্দীন               সাবেক এম.পি.   দুর্নীতি

(ব্যবসায়ী)

নিম্নে বর্ণিত আই.বি. ‘খ’ তালিকার ব্যক্তিরাও পুনর্নীরিক্ষিতঃ-

১৯। জনাব সৈয়দ আজিজুল হক    সাবেক এম.পি.                                       ক্রমিক নং. ৩

২০। জনাব ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত               সাবেক এম.পি.এ.                                     ’’     ’’   ১৪

যশোর

২১। জনাব প্রয়াস চন্দ্র লাহিড়ী               সাবেক এম.পি.                                       ’’     ’’   ১৫

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<2.007.024>

 

(১)           (২)                  (৩)                   (৪)                                          (৫)

 

২২। জনাব সুরেশ চন্দ্র দাস গুপ্ত    সাবেক এম.পি.এ. বগুড়া                              ’’     ’’   ১৬

২৩। জনাব ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত                 সাবেক মন্ত্রী                                           ’’     ’’   ১৭

২৪। জনাব বিজয় চন্দ্র রয়                  সাবেক এম.পি.এ.                                     ’’     ’’   ১৮          ২৫। জনাব বসন্ত কুমার দাস           সাবেক মন্ত্রী                                           ক্র.নং.১৯ এবং সেই

সাথে এসপিই তালিকার

২৬। জনাব ত্রৈলক্ষ চক্রবর্তী                 সাবেক মন্ত্রী                                           ক্র.নং.২০

২৭। জনাব অধ্যক্ষ মুজাফফর আহমেদ       সাবেক এম.পি.এ.                                     ক্র.নং.২৭

(ত্রিপুরা)                                                      এবং ‘গ’ এর ১৮

 

নিম্নলিখিত এম.পি. এবং এম.পি.এ. যারা ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের পরে দল বদল করেছিল তাদের সবাইকে ই.বি.ডি.ও.য়ের অধীনে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুনর্নিরীক্ষিত করা হলো (আই.বি. তালিকা ‘গ’ দেখুন):-

 

২৮। জনাবা বেগম আনোয়ারা খাতুন সাবেক এম.পি.এ., ঢাকা                              ক্র.নং. ৪- তালিকা ‘গ’

২৯। জনাব ইয়ার মোহাম্মদ খান    সাবেক এম.পি.এ., ঢাকা                              ’’ ’’   ৬

৩০। জনাব আলমাস আলী          সাবেক এম.পি.এ., ঢাকা                              ’’ ’’   ৭

৩১। জনাবা রেজিয়া বানু            সাবেক এম.পি.এ., বাকেরগঞ্জ                                  ’’ ’’   ৯

৩২। জনাব মৌলানা আলতাফ               সাবেক এম.পি.এ., ময়মনসিং                                  ’’ ’’   ১৪

৩৩। জনাব মোহাম্মদ তোহা                 সাবেক এম.পি.এ., নোয়াখালী                                   ’’ ’’   ১৭

৩৪। জনাব শামসুল হক            সাবেক এম.পি.এ., রাজশাহী                                   ’’ ’’   ২১

৩৫। জনাব লতিফ হুসেইন                  সাবেক এম.পি.এ., রাজশাহী                                    ’’ ’’   ২২

৩৬। জনাব আতাউর রহমান মুক্তার সাবেক এম.পি.এ., রাজশাহী                                    ’’ ’’   ২৪

৩৭। জনাব আবুল হুসেইন মিয়া    সাবেক এম.পি.এ., রংপুর                             ’’ ’’   ২৫

মনিরুদ্দিনের (মৃত) সন্তান

৩৮। জনাব আজিজুর রহমান খন্দকার       সাবেক এম.পি.এ., রংপুর                             ’’ ’’   ২৮

৩৯। জনাব আকবর হুসেইন খান   সাবেক এম.পি.এ., বগুড়া                             ’’ ’’   ৩১

খন্দকার

৪০। জনাব আকবর হুসেইন আখন্দ সাবেক এম.পি.,বগুড়া                                 ’’ ’’   ৩২

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<2.007.025>

 

নিম্নলিখিত ব্যক্তিরাও বিবেচনাধীন থাকবে যদি নিরাপদ বন্দী হিসেবে অযোগ্য হয় অন্যথায় তাদেরকে ই.বি.ডি.ও.য়ের অধীনে মোকাবিলা করা হবেঃ-

 

৪১। জনাবা সেলিনা বানু            সাবেক এম.পি.এ., পাবনা                             ক্র.নং.২১, তালিকা ‘খ’

৪২। জনাব দবিরদ্দীন আহমেদ               সাবেক এম.পি.এ., রংপুর                             ক্র.নং.২২, তালিকা ‘খ’

৪৩। জনাব সৈয়দ আলতাফ হোসেন         সাবেক এম.পি.এ., কুষ্টিয়া                             ক্র.নং.২৩, তালিকা ‘খ’

 

 

এসডি/ মহাপরিচালক

দুর্নীতি দমন বিভাগ, ইস্ট পাকিস্থান,

ঢাকা ব্যুরো।

 

গোপনীয়

 

                                                                 মহা-পরিচালকের কার্যালয়,

দুর্নীতি দমন ব্যুরো,

পূর্ব পাকিস্তান,ঢাকা,

৪ঠা সেপ্টেম্বর, ১৯৫৯।

মেমো.নং…………….এবি……………

অনুলিপি পাঠানো হলোঃ

(১) কে.এ.হক, ইএসকিউআর.,পি.এস.পি.,

মহাপরিচালক, দুর্নীতি দমন ব্যুরো, ইস্ট পাকিস্থান।

 

(২) এ.কে.এম. হাফিজুর, ইএসকিউআর., পি.এস.পি., জে.পি., এসকিউএ

মহাপরিদর্শক-পুলিশ, ইস্ট পাকিস্থান।

 

(৩) এ. এম. এ.কবীর, ইএসকিউআর.,পি.এস.পি.,

সহকারী-মহাপরিদর্শক-পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা, ইস্ট পাকিস্তান,

ঢাকা-তথ্যের জন্য।

 

 

এসডি/ মহাপরিচালক

দুর্নীতি দমন বিভাগ, ইস্ট পাকিস্থান,

ঢাকা ব্যুরো।

 

 

 

 

 

<2.007.026>

 

গোপনীয়

 

পূর্ব পাকিস্তান সরকার

মহা-পরিচালক এর কার্যালয়

দুর্নীতি দমন ব্যুরো

পূর্ব পাকিস্তান

 

ডি.ও. নং.৪.এ. বি.(ই)                                                                             ৫ই সেপ্টেম্বর, ঢাকা।

 

প্রিয় কবির,

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সভাপতিত্বেকরাচিতেঅনুষ্ঠিত সম্মেলনে ই.বি.ডি.ও.য়ের অধীনে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চিহ্নিত ব্যক্তিদের তালিকা আমার তত্ত্বাবধানে গোপনীয়তা নং- ৩. এ.বি. (ই), তারিখ- ৪-৯-৫৯, আপনার কাছে পাঠানো হলো। তালিকার ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু লোক ই.বি.ডি.ও.য়ের ধারা ৫ এর অধীনে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। আপনার প্রতি অনুরোধ, এদের কেউ অযোগ্য হিসেবে বিবেচ্য হলে অনুগ্রহ করে তাদের তথ্যগুলো যত্নের সাথে সুক্ষভাবে যাচাই বাছাই করুন।

 

২। ইহা নির্ধারণ করা হয়েছে যে ই.বি.ডি.ও.য়ের অধীনে পদক্ষেপ গ্রহণে তাদের বিরুদ্ধেই অগ্রসর হবে যেসব ‘বড় মাছ’দের বিরুদ্ধে সঙ্গতিপূর্ণ অসদাচরণের দৃষ্টান্ত আছে এবং যারা প্রাদেশিক রাজনৈতিক জীবনে ‘যথেষ্ট বড় উৎপাত’ হতে পারে। সম্মেলনে আমাদের প্রতিনিধি দল সুনির্দিষ্টভাবেই দেখিয়ে দিয়েছে যে আমাদের জমা দেওয়া তালিকা সম্পূর্ণ ছিলো না। এতে সেসব লোকের নাম অন্তর্ভুক্ত আছে যাদের তথ্য-উপকরণ ছিল সহজলভ্য। অতএব আমাদের অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে হবে যাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের ভাল দৃষ্টান্ত আছে। এইটি চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তগুলোর ভিত্তিতে করা যায় এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের জমা করা যেতে পারে।

 

 

৩। আমি খুব কৃতজ্ঞ হবো যদি আপনার অফিসের আয়ত্বাধীনে যত্নের সাথে দৃষ্টান্তগুলো প্রমাণ লিপি আকারে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিচালনার জন্য প্রক্রিয়াধীন করা হয় এবং মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব নিয়ে গঠিত ই.বি.ডি.ও.য়ের ৬ ধারার অধীনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার জন্য তা যেন আমার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

৪। উচ্চ আদালতে নেতৃত্বে দুইটি ট্রাইব্যুনাল শুনানি এবং এই প্রাদেশিক মামলার নিষ্পত্তির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।যেমন, আমরা অবিলম্বেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার জন্য অন্তত কিছু ঘটনার উপকরণ নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছি।

 

৫। নিম্নলিখিত পূর্ব পাকিস্থানের ব্যক্তিদেরকে কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত দৃষ্টান্তগুলো এস.পি.ই. দ্বারা প্রক্রিয়াধীন করা হবে এবং জমা করা হবে। আপনি যদি তাদের বিরুদ্ধে কোন উদাহরণ/দৃষ্টান্ত পেয়ে থাকেন তবে অনুগ্রহ করে তা পুলিশ-মহাপরিদর্শক, এস.পি.ই.ও করাচীঃ

(১) আব্দুল আলীম

(২) আব্দুল ওয়াহাব খান

(৩) দিলদার আহমেদ

(৪) ফজলুর রহমান এবং

(৫) এইচ.এস. সোহরওয়ার্দী।

 

 

 

 

<2.007.027>

 

৬। (ক) পশ্চিম পাকিস্থানের জন্য ধারা ৫ এর অধীনে স্বয়ংক্রিয় অযোগ্যতা সংক্রান্ত একটি নোট আইজিপি, এসপিই অফিসে প্রস্তুত করা হয়েছে। এই চিঠির একটি অনুলিপি গৃহীত হয়েছে এবং একই সাথে তা আপনার পর্যবেক্ষণের জন্য সংযুক্ত করা হলো।

 

(খ) করাচীতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে জনাব কে.এ. হক উল্লেখ করেন যে, পূর্ব পাকিস্তানেপুলিশ পূর্ব পাকিস্তানের জন-নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতারের ক্ষমতা রাখে এবং গ্রেফতারের ৩০ দিনের মধ্যে সরকারী আটকাদেশ গৃহীত হয়।১৯৫৪ সালে ৯২ ‘এ’শাসন পদ্ধতিতেযখন অনেক বেশী পরিমাণে গ্রেপ্তার হয়েছে, জরুরী ভিত্তিতেও পুলিশগ্রেপ্তারকৃতদের ৩০ দিনের আটকাদেশের জন্য তদন্ত শেষ করতে পারেনি এবং উপাত্ত জমা করতে পারেনি। তাই তিনি প্রস্তাব করেন ই.বি.ডি.ও.য়ের ৫(খ) ধারার অধীনে শুধুমাত্র তাদেরকেই অযোগ্য হিসেবে দাঁড় করানো হবে যাদেরকে আটকাদেশের ভিত্তিতে সরবরাহ করা হয়েছে। জনাব হক এই বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য একটি নোট জমা দিবেন।

(গ) ই.বি.ডি.ও.য়ের ৫(ঘ) ধারার অধীনে অযোগ্যতা বিষয়ে, করাচি সম্মেলনে সাধারণত এই মত ছিল যে পার্টিশনের পূর্বে এই তদন্তের বিষয় নিষ্পত্তিকৃত প্রসংগে উল্লেখ নাও করা হতে পারে, কেননা এইটি কিছু ‘স্বাধীনতা যোদ্ধাদের’প্রভাবিত করতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত জারি করা হবে।

(ঘ) সম্মেলনে আমি প্রস্তাব করি যে যদি কোন নির্বাচিত সদস্য প্রার্থীকে তার আবেদন/মনোয়নপত্রে এই মর্মে সাক্ষ্য দেয় যে ই.বি.ডি.ও.য়ের অধীনে সে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না তবে সমস্যার বাস্তবিক সমাধান হবে এবং এই প্রস্তাব গৃহীত হয়।

 

আমি আশা করছি, পূর্বোল্লিখিত বক্তব্যগুলো ই.বি.ডি.ও.য়েরঅধীনে তদন্ত মামলার প্রস্তুতির জন্য আপনার সহায়ক হবে।

 

আপনার অনুগত

এস. এ. চৌধুরী

এ. এম. এ. কবির, ইএসকিউআর, পি.এস.পি.,

ডি.আই.জি.-পুলিশ,

গোয়েন্দা বিভাগ, ঢাকা।

 

গোপনীয়

 

মহা-পরিচালকের কার্যালয়.

দুর্নীতি দমন ব্যুরো,

ইস্ট পাকিস্তান।

লিপি. নম্বরঃ৪এ.বি. (ই) / ৩                                                            ৫ই সেপ্টেম্বর, ১৯৫৯, ঢাকা।

 

তথ্যের জন্য অনুলিপি পাঠানো হলোঃ

(১) এ.কিউ.আনসারী, ইএসকিউআর, অতিরিক্ত সচিব-ইস্ট পাকিস্তান সরকার

এ.সি. বিভাগ, ঢাকা।

(২) কে.এ. হক, ইএসকিউআর, পি.এস.পি., পরিচালক, জাতীয় পুনর্গঠন ব্যুরো,

পূর্ব পাকিস্তান, ঢাকা, এবং

(৩) এ.কে.এম. হাফিজুর, ইএসকিউআর., পি.এস.পি., জে.পি., এসকিউএ

মহাপরিদর্শক-পুলিশ, ইস্ট পাকিস্তান, ঢাকা।

 

 

এসডি/ মহাপরিচালক

দুর্নীতি দমন বিভাগ, ইস্ট পাকিস্তান,

ঢাকা ব্যুরো।

 

<2.008.028>

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
প্রেসিডেন্ট কর্তৃক ‘লেজিস্টেটিভ পাওয়ার্স অর্ডার’ ঘোষণা পাকিস্থান অবজার্ভার ২৪শে সেপ্টেম্বর, ১৯৫৯

 

লেজিস্টেটিভ পাওয়ার্স অর্ডার (১৯৫৯), সংশোধিতঃ

অন্যান্য বিষয় ছাড়াও কেন্দ্রে সংরক্ষিতদের বিষয়াদি সংযুক্তি তালিকার আওতাধীন।

 

২৩শে সেপ্টেম্বর, করাচী – রাষ্ট্রপতি আজ লেজিস্টেটিভ পাওয়ার্স অর্ডার, ১৯৫৯ সংশোধিত করে আদেশ জারি করেন, যা একইসাথে কেন্দ্র ও প্রদেশের বাইরের সকল ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নে ক্ষমতা দানে প্রভাব ফেলবে; যেগুলি বিশেষ করে ১৯৫৬ সালের সংবিধানের অধীনে কেন্দ্রে সংরক্ষিত।

এই অর্ডার এমনভাবে হয়েছে যে প্রদেশে বিদ্যমান কোন আইন প্রভাবিত হবে না যদি না তা ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর হতে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারিকৃত আইনের সাথে নিতান্তই কোন ভাবে বিরোধের ক্ষেত্রে এবং তখন তা শুধুমাত্র ততোটাই বিরোধপূর্ণ।

এই অর্ডারের অধিকতর ফলস্বরূপ যদি বিরোধ নিষ্পত্তির প্রয়োজন হয় তবে প্রচলিত পদ্ধতিতে মীমাংসিত করার জন্য কোন আনুষাঙ্গিক চক্রের অবলম্বনে বিরোধ মীমাংস করা যেতে পারে।

 

এই অর্ডারের অধিকতর ফলস্বরূপ যদি বিরোধ নিষ্পত্তির প্রয়োজন হয় তবে প্রচলিত পদ্ধতিতে মীমাংসিত করার জন্য কোন আনুষাঙ্গিক চক্রের অবলম্বনে বিরোধ মীমাংস করা যেতে পারে।

রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ নং ১৭, ১৯৫৯ নিম্নরূপঃ

রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ নং ১৭, ১৯৫৯ করাচী, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ১৯৫৯

       লেজিস্টেটিভ পাওয়ার্স অর্ডার (১৯৫৯), সংশোধিত, ঘোষণানুসারে ———- ১৯৫৮ সালের অক্টোবর মাসের সপ্তম দিনে এবং এতদুদ্দেশ্যে তাকে করা সক্রিয় সব ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি সন্তুষ্ট চিত্তে নিম্নলিখিত আদেশ তৈরী এবং জারী করেনঃ-

       ১। এই অধ্যাদেশকে লেজিস্টেটিভ পাওয়ার্স অর্ডার (১৯৫৯), সংশোধিত, না অভিহিত করা যেতে পারে।

২। ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

লেজিস্টেটিভ পাওয়ার্স অর্ডার (১৯৫৯), সংশোধিত, এর মধ্যে, নিম্নলিখিত নতুন অনুচ্ছেদটি সবসময় অধ্যাদেশের অংশ হিসেবে গঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, যথাঃ-

“৪। (১) বিধান প্রয়োগের মধ্যে ১৯৫৮ সালের অধ্যাদেশ আইনের (ক্রমান্বয়ে কার্যকর) ২য় ধারার দফা (I), ৪র্থ ধারার দফা (১) এবং ৫ম ধারার দফা (১)।

(A )বিষয়গুলো পঞ্চম তফসিলের প্রাদেশিক তালিকায় লিপিবদ্ধ সহ যে কোন পরিস্থিতিতে আনুষাঙ্গিক তালিকা হিসেবে সেই তফসিলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং

(B ) সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়নের ক্ষমতায় পঞ্চম তফসীলের কোন ধরণের তালিকায় কোন বিষয় লিপিবদ্ধ না হলে, কর আরোপের কোন আইন সহ এমনতরো তালিকায় উল্লেখ করা না হলে তা অনুষঙ্গী তালিকার সাপেক্ষে লিপিবদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা হিসেবে গণ্য হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<2.008.029>

 

আর আইন প্রণয়নে ফেডারেশন এবং প্রদেশের ক্ষমতা নিয়ামানুযায়ী হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং ফেডারেশন ও প্রদেশের নির্বাহী কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা সেই অনুযায়ী বর্ধিত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।“

 

৩। (১) প্রদেশের পরবর্তী পদানুবর্তী দফার বিধানাবলীর সাপেক্ষে এই আদেশের কিছুই প্রাদেশিক আইন বা এর অংশের বৈধতা ক্ষুন্ন করে না, অতএব যেইদিন এই আদেশ বলবৎ হবে সেইদিনই তা কার্যকরী হবে।

 

(২) প্রাদেশিক আইন বা এর অংশে এই আদেশ কার্যকরের সময় যদি ১৯৫৮ সালের অক্টোবরের সপ্তম দিন হতে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইনের বিধানাবলীর কারণে বেমানান বলে বিবেচিত হয় তবে তা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধতা হিসেবে অকার্যকর বলে বর্ধিত করা হবে। -এ.পি.পি .

 

 

 

——————————

 

 

 

 

 

 

 

<2.009.030>

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
‘মৌলিক গণতন্ত্র আইন’ ঘোষিত পাকিস্থান অবজার্ভার ২৭শে অক্টোবর, ১৯৫৯

 

মৌলিক গণতন্ত্র আদেশের জারি

কাউন্সিল পোলএর জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার

পাঁচ স্তর এর প্রাথমিক ধারনা ব্যাখ্যা.

 

২৬শে অক্টোবর, করাচী – “মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ. ১৯৫৯” আজ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি করা হয় “পাকিস্তান ব্যাপী মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সংবিধান প্রদান করতে এবং একত্রীকরণও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত কতিপয় আইন সংশোধন করতে।”

প্রথম প্রবন্ধ (সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন) এবং প্রবন্ধ III (সংজ্ঞাসমূহ) তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকারি হয়ে উঠা এবং আদেশের অবশিষ্ট বিধান বলবৎ হয় “সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত, এমন সমস্ত এলাকায় যে কোন দিনে সরকার পারে।”

এই আদেশ সমগ্র পাকিস্থানে প্রযোজ্য কিন্তু “কোন স্থানীয় এলাকার পরিস্থিতি এমন যে আদেশের কোন বিধান তৎপ্রতি উপযুক্ত নয় তবে সরকার সেই বিধানের কার্যকলাপ হতে স্থানীয় এলাকার বা এর কোন অংশ গ্রহণ করতে পারে” ব্যতিক্রম হিসেবে এমতাবস্থা জারি থাকলে সরকার সেই বিষয় নিয়ন্ত্রণের জন্য বাদ দেওয়ার বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।

এই আদেশ মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সংবিধান প্রদানের জন্য প্রাদেশিক উন্নয়ন উপদেষ্টা কাউন্সিল হতে বিন্যস্ত করা হয়। এই আদেশে অবস্থিত ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামাঞ্চলে), (নগরের জন্য) নগর কমিটি এবং পৌর এলাকার জন্য ইউনিয়ন কমিটি যাতে নির্বাচন প্রাপ্তবস্কদের ভোটাধিকারে অনুষ্ঠিত হবে।

একটি ইউনিয়ন পরিষদের (গ্রামাঞ্চলে) এর নিযুক্ত মোট সদস্য সংখ্যা “এর নির্বাচিত মোট সদস্য সংখ্যার অর্ধেকের বেশি হইবে না” এবং কোন আধিকারিক কোন ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন কমিটি বা টাউন কমিটির সদস্য হতে পারবে না।

পৌর সংস্থা বা করাচিস্থ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, ঢাকা এবং লাহোরের বিচারব্যবস্থায় ইউনিয়ন বা নগর কমিটিতে নির্বাচিত এবং নিযুক্ত সদস্য সংখ্যা ছাড়া এর কাঠামো সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে। করাচি, ঢাকা এবং লাহোরে নির্বাচিত এবং নিযুক্ত সদস্য সংখ্যা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে।

 

গ্রাম পুলিশ বাহিনী

সরকার সেই সব গ্রামাঞ্চলে যখন তৃতীয় তফসিলে উল্লেখিত দায়িত্ব পালনের জন্য গ্রাম কোতোয়াল হতে বিভিন্ন সময়ে প্রজ্ঞাপিত হয়েছে সেখানে গ্রাম পুলিশ বাহিনী প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং গ্রাম কোতোয়াল এর প্রধান হিসেবে ক্ষমতার মাধ্যমে “ম্যাজিস্ট্রেট হতে কোন আদেশ ছাড়া এবং পরোয়ানা ছাড়াই” আমলযোগ্য অপরাধে যে কোন ব্যক্তিকেই গ্রেফতারে অগ্রসর হতে পারে।

 

<2.009.031>

 

যেখানে জেলা প্রশাসনের প্রধান এ বিষয়ে দৃঢ় নিশ্চিত যে জননিরাপত্তায় গ্রামের প্রতিরক্ষা নিরাপদ করতে বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে, এই আদেশের মাধ্যমে, তিনি প্রয়োজনে ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে সক্ষম সকল বা যে কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির কোন মেয়াদের জন্য টহলের দায়িত্বে নিয়োজিত হবেন বলে আদেশে উল্লেখ করতে পারেন।

 

দ্বিতীয় স্তর

 

মৌলিক গণতন্ত্রে দ্বিতীয় স্তর হচ্ছে পূর্ব পাকিস্থানের জন্য থানা কাউন্সিল এবং পশ্চিম পাকিস্থানের জন্য তেহসিল কাউন্সিল। এরা তাঁদের বিচারব্যবস্থায় ইউনিয়ন কাউন্সিল এবং নগর ও ইউনিয়ন কমিটির সকল কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন করবেন। থানা কাউন্সিল তাঁদের দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের নিকট দায়বদ্ধ থাকবেন।

 

থানা কাউন্সিল সেইসব প্রতিনিধিত্বকারী সদস্যদের দ্বারা যারা সরকারী এবং মনোনীত বেসরকারী (নিযুক্ত) সদস্য গঠিত হবে যা কমিশনার কর্তৃক নির্ধারিত হবে। থানা কাউন্সিলের সদস্য পদাধিকারবলে (প্রতিনিধি) ইউনিয়ন পরিষদ এবং ইউনিয়ন ও নগর কমিটির চেয়ারম্যান হবেন। কাউন্সিলের সরকারী এবং মনোনীত মোট সদস্য সংখ্যা এর প্রতিনিধিত্বকারী সদস্যদের মোট সংখ্যার অর্ধেকের বেশী হতে পারবে না। উপঃআঞ্চলিক অফিসার, পদাধিকারবলে সদস্য এর চেয়ারম্যান হবেন।

 

তৃতীয় স্তর

 

তৃতীয় স্তর হবে জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের পদাধিকারবলে (সরকারী) সদস্য থানা বা তেহ্‌সিল পরিষদের এবং পৌর সংস্থার চেয়ারম্যান ও জেলার মধ্যে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং তৎপ্রকার বিভাগের প্রতিনিধিরা সরকার কর্তৃক উল্লিখিত হবে ও বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। জেলা পরিষদের নিযুক্ত বেসরকারী সদস্যদের মোট সংখ্যা কিছুতেই তার মোট সরকারী সদস্য সংখ্যার চাইতে কম হবে না এবং অন্তত এর অর্ধেক ইউনিয়ন কাউন্সিল এবং নগর ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোর চেয়ারম্যানদের মধ্য হতে মনোনীত হতে হবে। জেলার কালেক্টর পদাধিকারবলে সদস্য ও চেয়ারম্যানও হবেন

 

চতুর্থ স্তর

 

চতুর্থ স্তরে বিভাগীয় কাউন্সিল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (মৌলিক গনতন্ত্রে কালেক্টদের নতুন ক্ষমতার মধ্যে) এবং তৎপ্রকার সরকারী বিভাগের ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের এবং পৌর সংস্থার প্রতিনিধি দ্বারা গঠিত হবে যারা সরকার কর্তৃক মনোনীত পদাধিকারবলে বিভাগীয় কাউন্সিলের সদস্য হতে পারে পারে। বিভাগীয় পরিষদের নিযুক্ত বেসরকারী সদস্যদের মোট সংখ্যা কিছুতেই তার মোট সরকারী সদস্য সংখ্যার চাইতে কম হবে না এবং বিভাগে নিযুক্ত সদস্যদের অন্তত অর্ধেক ইউনিয়ন কাউন্সিল এবং নগর কমিটি ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোর চেয়ারম্যানদের মধ্য হতে মনোনীত হতে হবে।বিভাগীয় কমিশনার পদাধিকার বলে পরিষদের একজন সদস্য এবং এর চেয়ারম্যান হবেন।

 

উপদেষ্টা পরিষদ

 

এরপর দুইটি প্রাদেশিক উন্নয়ন উপদেষ্টা কাউন্সিল থাকবে। এদের প্রত্যেকটি সেইসব সরকারী সদস্য এবং নিযুক্ত সদস্য দ্বারা গঠিত হবে যা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত হতে পারে।

 

 

 

 

<2.009.032>

 

নিযুক্ত বেসরকারী সদস্যদের মোট সংখ্যা কিছুতেই সরকারী সদস্যদের মোট সংখ্যার চাইতে কম হতে পারবে না।

 

এইসব কাউন্সিল ও কমিটির কার্যালয় পাঁচ বছরের জন্য হবে সেইদিন হতে যেদিন থেকে সংশ্লিষ্ট কমিটি বা কাউন্সিল কার্যালয় শুরু হবে।

 

ইউনিয়ন পরিষদ বা শহর বা ইউনিয়নের নির্বাচণের উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন বা শহরকে ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যা কমিশনার বা ক্ষেত্রমতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী প্রার্থীদের বয়স জানুয়ারির প্রথম দিনে হতে ২৫ বছরের কম হতে পারবে না। ইআই৩ডিও বা সমরূপ আইনের অধীনে নির্বাচিত সংস্থা হতে ব্যক্তির সদস্যতা এই নির্বাচণের প্রার্থীতা হতে বাতিল হবে যদিও তারা তাঁদের ভোট প্রদান করতে পারবেন।

 

যেইসব সদস্যের জনগণকে সেবার প্রদানের ক্ষমতা আছে তাদের ইউনিয়ন পরিষদ এবং ইউনিয়ন ও শহর কমিটিতে নিয়োগ করা যাবে।

 

সংখ্যালঘু ও নারী এবং কৃষি, শিল্প ও সম্প্রদায়ের উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে বিশেষ বিবেচনায় ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ইউনিয়ন এবং নগর কমিটিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।

 

 

<2.010.033-034>

শিরোনাম

পূর্ববাংলালিবারশনফ্রন্টসংক্রান্ততথ্যএবংপ্রদেশেরতৎকালীনরাজনৈতিকতৎপরতারউপরসরকারীগোপনপ্রতিবেদন।

 

সূত্র : সরকারী

 

তারিখ : ১৯৫৯

 

[একটিনামআলীআছাদ।সেআজআমাদেরধ্রুবতারা।তারদিকেচেয়েআমাদেরপথচলতেহবে।চলবোআমরাকাফেলাকেপথদেখিয়ে।গন্তব্যস্থলেপৌছাতেহবেযেকোনমূল্যে।আলীআছাদ (ওরফেকালোখোকা) ছিলসংগ্রামেরমূর্তপ্রতীক।১৯৪৮সালথেকেসেছাত্রলীগেযোগদানকরেএবংবাংলাভাষাআন্দোলনেসক্রিয়অংশগ্রহণকরেজামালপুরমহকুমায়ঘুরেঘুরেবিরাটআন্দোলনগড়েতোলে।আন্দোলনব্যাপকআকারধারণকরায়প্রতিক্রিয়াশীলমুসলিমলীগসরকারতাকে১৯৫২সনেগ্রেফতারকরেএবংবিনাবিচারেময়মনসিংহকারাগারেআটকেরাখে।এরপরযতগুলিআন্দোলনহয়প্রত্যেকটিতেসেপুরোধারেছিল।জামালপুরপ্রতিনিধিদেরপক্ষথেকেসেই১৯৫৬সনেকাগমারীসম্মেলনেমরহুমপ্রধানমন্ত্রীশহীদসোহরাাওয়ার্দীবাংলাদেশপ্যারিটিমানারকথাবললেপ্রথমসোচ্চারকন্ঠেপ্রতিবাদকরেসে।আলীআছাদজামালপুরআওয়ামীলীগেরসাংগাঠনিকসম্পাদকছিল।যখনআওয়ামীলীগকরতেসাবইভয়পেতোতখনসেবলিষ্ঠকন্ঠেসারামহকুমাতথাদেশময়আওয়ামীলীগেরবাণীছড়িয়েছে।]

 

পূর্ববাংলালিাবরেশনফ্রান্ট, ১৯৫৮*

আঃআমান

 

১৯৫৮সনেজেনারেলআইয়ুবখানগণতন্ত্রকেহ্যাকরেবন্দুকেরভয়দেখিয়েপাকিস্তানেরশাসনতন্ত্রভেঙ্গেডিক্টেটরহন।ডিক্টেটরহয়েইউনিসারাদেশেসামরিকআইনজারিকরেনএবংদেশপ্রেমিকদেরকারাগারেনিক্ষেনকরেন।তম্মধ্যেমওলানাভাসানীওশেখমুজিবুররহমানেরনামউল্লেখযেগ্য।দেশেতখননীরবনিশ্চুপঅবস্থা।কারোটুশব্দকরারউপায়নেই।এইসময়েবিপ্লবীবীরআলীআছাদঢাকাগিয়েতরুণদেরসঙ্গেপরামর্শকরেচলোএলাজামালপুরে।এইঅসীমসাহসীতরুণেরদলএকটিবিপ্লবীদলগঠনকরেন, তারনামইহলো ‘পূর্ববাংলালিবারেশনফ্রন্ট’।আলীআছাদতারপ্রতিষ্ঠাতাসদস্য।ঐতিহাসিকজামালপুরেইদলেরগোপনসেলস্থাপনকরাহয়।ধীরেধীরেদলেরসদস্যসংখ্যাবাড়তেলাগলো।তখনআলীআছাদএকদলতরুনকেসঙ্গেনিয়েচলেযানপ্রতিবেশীরাষ্ট্রভারতেউচ্চতরট্রেনিংনিতে।প্রথমেপশ্চিমবাংলাসরকারতাদেরকেরপ্রবেশকরতেদিয়েছিল।পরেযখনতারাকাজশুরুকরেতখনহঠাৎকরেসরকারগুপ্তচরআখ্যাদিয়েকারাগারেআবদ্ধকরে।পরেএখানহতেআইয়ুবসরকারযেতারউপরেগ্রেপ্তারীপরোয়ানাওহুলিয়াজারিকরেছিলতাপাঠানোহয়।এইসকলকাজগপত্রদেখেপশ্চিমবাংলাসরকারতাদেরজেলহতেছেড়েদেয়।সেখানেবসেতরুণবিপ্লবীরাঅন্যান্যদেশেরকুটনৈতিকমিশনগুলোকেপূর্ববাংলায়যেকিউৎপীড়নশুরুহয়েছেতাজানায়এবংতাদেরসপক্ষেসহানুভুতিকামনাকরে।

 

অতঃপরতারাগারোপাহাড়েরসীমান্তদিয়েপ্রথমেশ্রীবর্দ্দীথানারপাখীমারাগ্রামেএসেপৌছায়।সেখানেএকসদস্যেরবাদীতেতারাআস্তানাগাড়ে।হঠাৎকরেসামরিকজান্তারগুপ্তচরবাহিনীতাদেরকেঅবরোধকরতেচেষ্টাকরে।কিন্তুপলকেতারাচলেযেতেসমর্থহয়।বাড়ীওয়ালাসদস্যমিঃআশরাফহুসেনকেপুলিশসন্দেেহেরবশবর্তীহয়েজিজ্ঞাসাবাদেরজন্যময়মনসিংহনিয়েগেলো।পরেতোকেছেড়েদেওয়াহয়েছিল।

 

অনেকদিনপরপুলিশময়মনসিংহেরআব্দুররহমানসিদ্দিকওআ. এম. সাইদকেপ্রেপ্তারকরলো।কিন্তুকোনতথ্যনাপাওয়ারদরুনশেষেনিরাপত্তাআইনেতাদেরআটকিয়েরাখে।

 

আলীআছাদতখনসম্পূর্ণভাবেক্ষেতমজুরেরবেশধরেসারাপূর্ববাংলাঘূরেসামরিকজান্তারবিরুদ্ধেপ্রচারপত্রবিলিকরওবিপ্লবীসংগঠনগড়েতুলেছিল।তখনসেদিবারাত্রিকাজকরতো।দাড়ি-গোফএরুপভাবেরাখলোযে, কেউআরতাকেআলীআছাদবলেচিনতেপারেনাই।আইয়ুবখানকর্তৃকসামরিকআইনউঠিয়েরাজনৈতিকদলআবারপুরুজ্জীবিতকরাহলেশেখমুজিবুররহমানসাহেবপার্টিরকাজেময়মনসিংহসদেরআসেন।আমরাতখনআলীআছাদেরকথাতাকেজানালাম।মুজিবভাইআলীআছাদকেপ্রকাশ্যেবেরহয়েকাজকরারকথাবলেদিয়েছিল।আমরাএসংবাদবন্ধুআলীআছাদকেজানালামকিন্তুসেপ্রকাশ্যেবেরহলোনা।সেবললোযেরক্তস্বাক্ষরেশপথনিয়েছিদেশকেমুক্তকরবোকিন্তুবেঈমানিকরতেপারবোনা।সেতখনছদ্মবেশেসহানুভুতিশীলসারাভারতেঘুরেঘুরেসামরিকজান্তারবিরুদ্ধেসাহায্যকুড়াচ্ছিল।একদিনআসামহতেতারলেখাপত্রপেলাম।তারখোজেঁআসামেলোকপাঠালামকিন্তুসেখানেতাকেপাওয়াগেলনা।লোকএসেবললোযে, সেতখনদিল্লীরপথেপাড়িজমিয়েছে।এরপরহতেসেনিরুদ্দেশ।কথাছিলযেভারতেসুবিধেনাকরতেপারলেসেচলেযাবেসমাজতান্ত্রিকদেশচীনঅথবারাশিয়াতেসাহায্যেরজন্য।আমরাআশাকরেছিলামযেফিরেআসবেকিন্তুসেআরফিরেএলোনা।কোনদিনহয়তোআরআসবেনা।সেহারিয়েগেছে।তারবীরত্বত্যাগ, তিতিক্ষাইআমাদেরপাথেয়।ধ্রুবতারারমতসেআমাদরেচোখেরসমানেজ্বলছে।তাকেঅনুভবকরাযায়, কিন্তুধরাছোয়াযানা।দেশস্বাধীনহয়েছে।সমাজতন্ত্রেরপথেএগিয়েচলেছেকিন্তুহােয়েগেছেএকটিসৈনিক।আমরাঅশ্রুভারাক্রান্ত্হৃদয়েতাকেস্মরণকরবো- সেনিজেরজীবনবিলিয়েদিয়েছেস্বাধীনতারজন্য। (অসমাপ্ত)

 

* পূর্ববাংলালিবারেশনফ্রন্টসম্পর্কিতএইনিবন্ধটিবাংলাদেশস্বাধীনহবারপরজামালপুরেরএকটিসংকলনেপ্রকাশিতহয়।পরবর্তীকালেআরকোনসংখ্যাবেরহয়নি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<2.010.035>

ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখতে হবে এবং সম্মেলন শেষে অবিলম্বে স্যার মুনির হোসেন, উপ সচিবমন্ত্রিপরিষদএর কাছে ফেরত দিতে হবে।

 

গোপনীয়

পাকিস্থান সরকার

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

গভর্নর সম্মেলনে দ্রষ্টব্য

 

বিষয়ঃ পূর্ব পাকিস্থানে পোস্টার প্রচারাভিযান।

 

লক্ষনীয় যে, বিভিন্ন সময়ে পূর্ব পাকিস্থানে সামরিক আইন শাসনের উৎখাতের সমর্থনে, তার নেতাদের হত্যা, স্বশাসিত এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তার নিজের সেনাবাহিনী, বিমান ও নৌবাহিনী, পশ্চিম পাকিস্থানের সাথে সম্পর্কচ্ছেদে পোস্টার, লিফলেট এবং অন্যান্য বিষয়গুলো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষনা পরবর্তী সহিংসতা ও যুদ্ধোত্তর আর্তনাদ অবলম্বনে স্বাভাবিকভাবেই গুরুতর সন্দেহ ও ভয় বাড়িয়ে দিয়েছে।এই ভয়কে আরো যা বাড়িয়ে দিচ্ছে তা হচ্ছে এই কার্যকলাপ অপসারণের কোন পথ নেই এবং আরো শক্তিশালী ভাষায় নতুন নতুন সব স্লোগান ক্রমান্বয়ে নতুন নতুন লিফেলেট আবিষ্কার হচ্ছে।তিক্ত এবং শক্তিশালী ভাষা হচ্ছে এইসব পোস্তারের মর্মার্থ এবং এটা যদি সত্যিই তাঁদের অর্থাৎ জনগণের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন করে বা এর আংশিকও যদি হয়, তবে তা তাঁদের অমঙ্গলজনক ও শয়তানি মনোকামনাকে প্রকাশ করছে। এই গবেষণার উদ্দেশ্য তাঁদের বাস্তব শক্তির শক্তির মূল্যায়ন করা এবং যে বিপদ বিদ্যমান তা বিশ্লেষণ করা।

 

অশুভ পোস্টার

 

গবেষণায় অগ্রসরের পূর্বে এটা উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে, এমনকি স্বাভাবিক এবং সুস্থ সমাজ ও দেশেও সরকারের এবং শাসক শ্রেনী সমালোচনা করা হয় এবং এর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়, আইন ভঙ্গ হয় এবং নৈরাশ্যজনক পন্ডিতেরা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বেগজনক সংবাদ তৈরী করে থাকেন। এইসব স্বল্প গুরুত্ববহ যদি এর সমস্ত ভুল এবং পার্থক্যগুলো সামাজিক শৃংখলার সাথে স্বাভাবিকভাবে গৃহীত হয় এবং যার একটিও যা বিদ্বেষপূর্ণ এবং অবশ্যম্ভাবী নয়, অতএব, তা নির্মুল করা হবে এবং অন্য পদ্ধতি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে। শাসনের বিরুদ্ধে পোস্টারগুলো এবং এর নেতাদের পশ্চিম পাকিস্থানে এবং সহিংস উদ্বেগজনক পরিস্থতি ঘটানোর মাধ্যমে শাসন হতে উৎখাত করার দুইটি ষড়যন্ত্র খুঁজে পাওয়া গিয়েছে এবং মার্শাল ল’য়ের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।তা সত্ত্বেও, তারা সাধারণ্যে খুব কম প্রভাব তৈরী করতে পেরেছে এবং তা অতো গুরুত্বও বহন করেনি, অন্যদিকে তাদেরকে পৃথক পৃথক ভাবে ক্ষমতাচ্ছন্নদের তামাশা ও বোকার কাজ বলে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্থানে, এই হামলাটি সরকারের প্রতি বা স্বতন্ত্ব বা এইরূপ নীতির বিরুদ্ধে ছিল। পাকিস্থান আক্রমণের ধারণা কোন পোস্টার বা ষড়যন্ত্রেই ছিল না। পূর্ব পাকিস্থানে, পোস্টারগুলো আপোষহীন এবং মৌলিকভাবে ভিন্ন কিছু ধারণার প্রতিফলন করেঃ তারা পাকিস্থানভিত্তিক ধারণাটি বাদ দিয়ে দেয়। তারা পশ্চিম পাকিস্থান হতে সম্পূর্ণ আলাদা একটি স্বাধীন পূর্ব পাকিস্থানের আবেদন তৈরী করে। যিনি পাকিস্থানের আদর্শে বিশ্বাসী এবং তার কাছে এই ধারণাটি ঘৃণ্যতম, অন্যথায়,ভীত যে মুসলিম জাতি হিসেবে টিকে থাকা কঠিন হবে।হিন্দু আক্রমণে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্থান যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে তেমনই হবে পশ্চিম পাকিস্থান এবং

 

<2.010.036>

 

কোন পক্ষেরই এভাবে টিকে থাকা সহজ হবে না বলে বুঝতে পারবে। এইজন্যই পূর্ব পাকিস্থানে স্বাধীনতা এবং পরম স্বায়ত্তশাসনের আর্তনাদ ভয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং এইসব বিপথে চালিত পৃথক ভন্ডদের কাজ হিসেবে দূরে সরিয়ে আড়াল করা যাবে না। যাই হোক না এইসব প্রচার পত্র এর লেখকের বা বিশাল সংখ্যক জনতার মানসিকতাকে প্রতিফলিত করে, এতে একটি বিষয় খুবই পরিষ্কার যে যেইসব লোক এইগুলো লিখে তারা পাকিস্থানকে ধ্বংস করতে চায়। পূর্ব পাকিস্থানীদের স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতার সাথে প্রাদেশিক পর্যায়ে প্রায় সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিষেবাগুলো প্রাদেশিকীকরণ এবং শিল্প ও বাণিজ্যে স্বাধীন ভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবী নতুন নয়। প্রতিটি প্রাদেশিক নির্বাচনের আগে এই ধরনের দাবী জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচীগুলোর মধ্যে এইসব দাবী স্পষ্টরূপে প্রকাশিত হয়েছিল। মূলত, একটি দলের সাফ্যল্যের ব্যাপ্তি তা তাঁদের প্রস্তাবনারগুলোর উপর নির্ভরশীল ছিল। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ধারণা ক্রমান্বয়ে পরিবর্ধনে ছিল কিন্তু যাই হোক, কেন্দ্রের সাথে এর যোগাযোগ ক্ষীণ ছিল যা একজন ব্যক্তি বা দলের ধারণাপ্রসূত। পূর্ব পাকিস্থান পাকিস্থানের অবিচ্ছেদ্য ও অপরিহার্য অংশ হিসেবে এগুতে পারতো। বর্তমানে প্রথমবারের মতো, সেই ১৯৪৭ সাল হতে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্থানের দাবীসহ পশ্চিম পাকিস্থানের কোন সাথে কোন সংযোগ ছাড়াই প্রকাশ্যে তৈরী করা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ছোট্ট একটি দল ছিল যারা এমনকি ১৯৪৭ সালেও স্বাধীন, অবিচ্ছিন্ন বাংলার পক্ষ নিয়েছিল। জনাব সোহ্‌রাওয়ার্দী এই ধারণার একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন এবং এর পরিণাম হিসেবে শেষপর্যন্ত পাকিস্থানের প্রথম গণপরিষদ থেকে কায়েদ-ই আযম দ্বারাই নির্বাসিত হয়েছিলেন। পাকিস্থানের অনুকূলে মতামত সেই সময় এতোই শক্তিশালী ছিল যে জনাব সোহ্‌রাওয়ার্দী কলকাতায় আশ্রয় নিতে বাদ্য হয়েছিলেন। জনাব ফজলুল হকের আনুগত্য পাকিস্থানের প্রতি ছিল,সেই সময় তাকেও সন্দেহ করা হতো (সীমান্তের উভয় পক্ষে দীর্ঘকালীন বসবাসে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জের ধরে) এবং সম্ভবত, বামপন্থী হিসেবে, তিনি স্বাধীন অবিভক্ত বাংলার পক্ষে ভোট দিতেন। এই রকম মানুষও ছিল, যাইহোক, অল্প এবং বিরল এবং তারা তাঁদের মতবাদ সাবর্জনীন করতে সাহস পাননি। আজ, সম্পূর্ণ স্বাধীনতার সমর্থনে পোস্টারগুলো বৃহৎ পর্যায়ে দায়মুক্তিসহ সম্প্রচারিত হচ্ছে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় যা তারা জাগিয়ে তুলেছিল বিস্ময়করভাবে তা পশ্চিম পাকিস্থানে একেবারেই কম, অন্যদিকে, আজকের দিনেও পাকিস্থানকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার কোন আলাপ সহিংস অনুভূতি ও আবেগের উদ্রেক করে। এক রাতের জন্য হলেও যদি অনুমান করা হয় যে পাকিস্থানকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার চিন্তা পূর্ব পাকিস্থানেও কি একই রকমের অনুভূতির উদ্রেক করে না যা এক সময় করেছিল? এই উদাসীনতার সম্মুখে, প্রতিরোধকারীদের শক্তি কি তবে বেপরোয়াভাবে আত্মবিশ্বাসী এবং আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠেনি এবং একটি কঠিন আঘাত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি?

 

III-দিল্লীর বিরুদ্ধে পশ্চিম বাংলায় ক্রমবর্ধমান

 

পোস্টারের প্রভাবের প্রকৃত মূল্যায়ন দুই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির সম্পর্কে হওয়া উচিত। বর্তমানে পূর্ব পাকিস্থান ও পশ্চিম বাংলা উভয়ের মধ্যে, এমন একটি অনুভূতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে রাওয়ালপিন্ডি এবং দিল্লীর কেন্দ্রীয় সরকার অসহানুভূতিশীল, বিমাতাসুলভ এবং শত্রুভাবাপন্ন এবং এই দুই প্রদেশের সম্পৃক্ততার দরুণ জনগণের আশা ও আকাঙ্খাগুলো চরম ভোগান্তিতে।এই অনুভূতি মোটামুটি ব্যাপকভাবে এবং আরো অনেক বেশী করে পশ্চিম বাংলায় উচ্চারিত হচ্ছে, যেখানে জনাব নেহরু, কংগ্রেস হাই কমান্ড এবং ভারত সরকারের বিরুদ্ধে আরো বৃহৎ বৈরীতা বিদ্যমান। কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে পশ্চিম বাংলার মানুষের মেজাজ বিরূপ, অসন্তোষজনক এবং হতাশাজনক। আসামে দাঙ্গা নিঃস্ব উদ্বাস্তুদের দ্বারা কলকাতাকে আরো প্রতিবাদী করে তোলে এবং অস্বস্তিকে আরো বাড়িয়ে তোলে। পশ্চিম বঙ্গীয়রা আগস্টের শেষে স্বাধীনতা উদযাপনে অংশ নিতে অস্বীকার করার মাধ্যমে তাঁদের ক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং তারা অসমীয় যারা তাঁদের বাংলা বাংলা স্বদেশবাসীদের ধ্বংস করতে এমনতরো কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান না নেওয়ায় নেহরু এবং কংগ্রেস হাই কমান্ডকে দোষারোপ করে। পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ করে কলকাতা রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। প্রশাসন দূর্বল এবং অকার্যকর এবং কংগ্রেস হাই কমান্ড পর্যন্ত একজন বাঙ্গালীকে ভারতের প্রধানমন্তী বা রাষ্ট্রপতি করার ধারণা নিয়ে হৃদ্যতার অভিনয়

 

 

<2.010.037>

 

করে যাচ্ছিল এবং অন্যান্য আরো সুযোগ সুবিধা প্রদান করার কথা বলছিল কিন্তু বৈরিতা ও সন্দেহ অপ্রতিহতভাবেই ক্রমবর্ধিত হচ্ছিল। পূর্ব পাকিস্থানে সংবিধান বাতিলের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্থানের মন্ত্রীদের, এমপিদের কর্মী এবং এদের সাথে একই শিবিরের অনুসারী এবং সেই সকল ব্যক্তিদের যারা তাঁদের সমর্থন পুষ্ট এবং সরকারী ক্ষমতা সবই করাচীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডিতে থাকা পাঞ্জাবী এবং পাঠানদের শাসনের সমার্থক হয়ে ওঠে মার্শাল ল’। যদিও দুর্নীতির চর্চা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, রাজনৈতিক অত্যাচার শেষ হয়েছে এবং অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে, অশান্তি সৃষ্টিকারীরা এবং নাশকতামূলক গ্রুপগুলো এই বিশ্বাস করতে উৎসাহিত করা অব্যাহত রেখেছে যে পূর্ব পাকিস্থানীরা তাঁদের তৎকালীন পদ ও ক্ষমতা নিয়ে প্রতারিত হয়েছে। এমনিভাবে সীমান্তের উভয় পক্ষ, এইরকম মনে করে যে জনতার প্রতি জুলুম একইভাবে প্রকাশ্য হয়েছে এবং এভাবেই চাপ সৃষ্টিকারী দল দ্বারা তা একাগ্রতার সাথে গড়ে তোলা হচ্ছে।কলকাতায় শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেরই ক্ষোভ এবং অভিযোগগুলো প্রকাশ ও প্রচার করা হচ্ছে কিন্তু সংবাদপত্রে পূর্ব পাকিস্থানের কথিত ক্ষোভগুলোর জন্যেও বিশেষ স্থান উৎসর্গিত হচ্ছে।’দ্য হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড, কোলকাতা, তাঁদের পত্রিকায় ‘পাকিস্থান এক্স-রেয়ড’ শিরোনামে বিশেষ কলাম প্রচার করে যেখানে পূর্ব পাকিস্থানের ক্ষোভগুলো প্রচারিত হয়।

 

পশ্চিমবঙ্গে পুনর্মিলনের সমর্থনে পোস্টার

 

দ্বিতীয় অগ্রগতিটি হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে দুই বাংলার পুনর্মিলনের সমর্থনে পোস্টার বের করা হচ্ছে এবং তা ক্রমান্বয়ে বাড়ছেই। এখানে অবশ্যই একটি পার্থক্য আছে এবং তা হচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গের পোষ্টারগুলো সাধারণত একটি যুক্তবঙ্গীয় যা বৃহৎ স্বশাসিত ক্ষমতার সাথে ভারতের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে যদিও চরমপন্থীরা একটি স্বাধীন বাংলার পুনর্মিলনকে সমর্থন করছে তৎস্বত্তেও পূর্ব পাকিস্থানে তা সংখ্যায় অনেক কম, অন্যদিকে প্রধান দাবী হচ্ছে পূর্ব পাকিস্থান স্বাধীন হউক এবং আলাদা হউক।আবার চরমপন্থীদের মনে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্থান পশ্চিমবঙ্গের সাথে একত্রিত করা উচিত মনে করা ছাড়া অন্য কোন প্রস্তাবনা নেই। গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি যাই হোক না কেন তা হচ্ছে যে সীমান্তের দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য যা পোষ্টার দ্বারা প্রতিফলিত হচ্ছে এবং ক্রমানয়ের তা সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে।পশ্চিমবঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য আন্দোলন সঞ্জীব চৌধুরী দ্বারা সংগঠিত হচ্ছে ( কুখ্যাত নেপাল-নাগ-পূর্ব পাকিস্থানে আত্মগোপনকারী কম্যুনিস্টের শ্বশুর), যিনি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একজন উকিল।তিনি এমন একটি জায়গায় কাজ করেন যা ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস নামে পরিচিত।মূল পরিকল্পনা ছিল শান্তিপূর্ণ উপায়ে পুনর্মিলনে প্রভাব তৈরী করা। পরবর্তীতে, এমনকি ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস পর্যন্ত আক্রমনাত্মক উপায়ের প্রচার শুরু করে এবং সহিংসতা অবলম্বনের বিশেষ পরামর্শও দেওয়া হয়।জনসাধারণ্যে পূর্ব পাকিস্থানের সীমান্ত চক্রান্তের প্রতি কৌতুহল বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয় এবং নভেম্বরের শেষে খুলনা জেলার সীমান্তেও একই রকম চক্রান্ত তৈরী করা হয়।

 

পূর্ব পাকিস্থানে পোস্টারগুলো সংঘবদ্ধ দল দ্বারা নয়

 

পূর্ব পাকিস্থানে প্রচারপত্রজনিত কাজগুলো কি পশ্চিমবঙ্গ হতে অনুপ্রেরণার ফসল নাকি তদ্বিপরীত তার উত্তর অবশ্যই অনুমিত কাজের বিষয় হিসেবে থাকবে।পুর্ববর্তী যেসব পোষ্টার পূর্ব পাকিস্থানে দেখা গিয়েছিল, আদতে, এদের একটার সাথে অন্যটার সামান্য সংজ্ঞাগত মিল আছে এবং এদের মধ্য নুন্যতম তিনটির ভাব ও লিখিত আবির্ভাব হয় একেবারে স্থানীয় নিরেট অনুপ্রেরণায়। ইস্ট পাকিস্থান লিবারেশন পার্টির নামের অধীনে এইসব প্রচারপত্রের বিলিবন্টনের জন্য দায়ী একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যদিও তিনি কলকাতা ভ্রমণ করেছিলেন এবং সেখানে কিছু মানুষের সাথে দেখাও করেছেন, তার বক্তব্য হচ্ছে এইসব পোষ্টার

 

<2.010.038>

 

আওয়ামিলীগের একজন প্রাক্তন মন্ত্রীর,একজন অধ্যাপকের এবং অন্যান্য কিছু স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের অনুরোধে প্রস্তুত করা হয়।যে চিঠি নিজস্ব সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং নৌ বাহিনী সহ স্বাধীন পূর্ব পাকিস্থানের জন্য অজুহাত তৈরী করছিলো, যার মধ্যে যেইসব ব্যক্তি শীর্ষ পদের অধিকারী ছিলো তাঁদের তালিকাভুক্ত করা হয় এবং যার অনুলিপি ইউএসএ,ইউকে এবং ইউএসএসআর কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিলপ্রতীয়মান যে এই কৃতকর্মটি পূর্ব পাকিস্থানের একজন অসন্তুষ্ট বৈমানিক পেশোয়ারে প্রকাশ করে। সাম্প্রতিক কালে ঢাকাতে সচিবালয়ের বাইরে তৃতীয় গুচ্ছের পোষ্টার ঝোলানো হয়, যাতে ডি-ডে নামে নামাঙ্কিত আছে এবং শাসকদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ বিদ্রোহের পক্ষপাতীত্ব করছিলো, যা সচিবালয়েরই কিছু কর্মচারী দ্বারা লিখিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটা, তাই যে সময় পশ্চিমবঙ্গের সকল কার্যকলাপ এক কেন্দ্রিভূত এবং সংগঠিত, তখন পূর্ব পাকিস্থানে এটি, যে কোন পর্যায়েই, একক ব্যক্তির কাজ ছিল, সম্ভবত, যাদের একের সাথে অপরের কোন যোগাযোগও ছিলো না। যেহেতু পোস্টারগুলোর বহিঃপ্রকাশ ব্যাপকভাবে পরিচিতি পেয়েছে, তাই এটা অসম্ভব নয় যে নিকট ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপগুলোর একে অন্যের সাথে যোগাযোগের এবং কার্যকলাপগুলো আরো নিয়মানুগভাবে করার প্রবণতা তৈরী হতে পারে। অবশ্য, এটাও অসম্ভব নয় যে সীমান্তের দুই প্রান্তে যে সব দল কাজ করছে তারা অনেক আগেই হাত মিলিয়েছে এবং একই রকম কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যেমন সহজাত উপাদানগুলো লাইনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং তেমনই পুলিশের কাছেও আছে, দূর্ভাগ্যবশত, তারা কোন দল বা ব্যক্তিকে সুস্পষ্টভাবে দায়ী করে একটি মামলা করার মতোও কিছুই জোগাড় করতে পারেনি যাতে আমরা এইরূপ আরো কর্মকান্ডের বৃদ্ধির জন্য অবশ্যই প্রস্তুত হতে পারি।হতাশা এবং নৈরাশ্যজনক অনুভূতি সাথে সীমান্তের দুই পাশেই বিদ্বেষমূলক একটি গোষ্ঠী তৈরীর ধারণা চতুরতার সাথেই ছড়িয়ে যাচ্ছে।

 

পোস্টারগুলো সমালোচিত দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্দেশিত

 

সেইসব পোস্টারগুলোতে স্লোগান এবং আকর্ষক শব্দ থাকে, তা অবশ্যই সাধারণের মনকে বিষিয়ে তুলেছে এবং ঘৃণা ও সন্দেহের প্রচ্ছন্ন অনুভূতিকে জাগিয়ে তুলছে। তারা সমালোচিত দলগুলোতে দৃষ্টিপাত করে। পূর্ব পাকিস্থান লিবারেশন পার্টির পোস্টারগুলো লাল তারকা সম্বলিত অত্যন্ত আকর্ষণীয় নকশার ছিল এবং পোস্টারগুলো বিভিন্ন জেলার সচিব এবং বার এসোসিয়েশনের সদস্য, সাংবাদিক ও ছাত্রদের ঠিকানায় ছিল। এসবের বিষয়বস্ত ছিল আঞ্চলিক উগ্র জাতীয়তাবাদ নিয়ে আলোড়িত করা এবং গভীরভাবে চিন্তার করার। এই অভিন্ন দুর্ভাগ্যের জন্য বলির পাঁঠা হিসেবে প্রস্তাবিত হয়। অতএব, যদি না চিহ্নিত হয়, এই প্রকারের পোষ্টারগুলো অতি অবশ্যই প্রচুর সংখ্যক সহজ এবং ভাল মানসিকতার জনতার চিন্তাভাবনাকে বিষদভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এবং প্রভাবিত করতে পারে। বড় আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ছোট করেই, যদি না যে আইন তাঁদের দুষ্কর্মের চেষ্টাকে মোকাবেলা করতে পারে এবং ব্যর্থ করতে না পারে, তবে তা পাকিস্থানের বিরুদ্ধে জনগণের মনকে ক্রমাগতই কলুষিত করবে এবং বিষিয়ে যাবে।

 

ভারতের ভূমিকা

 

এই মর্মে বিশ্বাস করার কারণ আছে যে, এই কার্যকলাপ ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট এবং পাকিস্থান হতে পূর্ব পাকিস্থানকে বিচ্ছিন্ন করা যা ইদানীংকালে সরকারের উচ্চ পর্যায় হতে বাস্তবায়িত হয়নি। একটা পর্যায়ে ভারত ভাষানী, মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য অনেককেই সমর্থন করেছে ও উতসাহীও করেছে। কিন্তু বর্তমানে, ভারতের নিজেদেরই অসংখ্য সমস্যা আছে এবং সে আঞ্চলিকতাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধের হার এড়াতে লড়াই করে যাচ্ছে। বাংলায় ভারতের কর্তৃত্ব দূর্বল এবং সে যদি কোন সমস্যার উদ্ঘাটনে প্ররোচিত করেও থাকে, তবে সেই কৌশল তার নিজের কাছেই ফিরে আসবে এবং নিজের যন্ত্রণা বাড়াবে। যুক্তবঙ্গ তার নিজের প্রচুর পরিমানে বৈদেশিক মুদ্রার উৎস এবং অত্যন্ত উর্বর মাটির কারণে স্বয়ং ভারত ফেডারেশনের কার্যব্যবস্থাকেই উৎখাত করতে পারে অথবা এমন দাবী করে বসতে পারে যা কিনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা এবং তিব্বতের সাথে দৃশ্যমান নৈকট্যলাভকারী অংশগুলোতে

 

<2.010.039>

 

চীনাপন্থী কমিউনিস্টদের উপস্থিতি আপাতত ভারতকে ঠেকিয়ে রাখছে। সরকারের নীচু স্তরে অবশ্য ইতোমধ্যেই এই কার্যকলাপ সক্রিয়ে হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি, এই বিশ্বাসের প্রমাণস্বরূপ, করাচিস্থ ভারতীয় হাই কমিশনারের অফিসে পূর্ব ও পাকিস্থানের মধ্যকার ভিন্নতার বিষয়ে প্রচারপত্রের বিশালাকার স্থুপ পাওয়া যাওয়ার মতো তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। ভারতীয় গোয়ান্দা, করাচি ও ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনের স্টাফদের কেউই নিষ্কলঙ্ক নয়। এইদিকে উচ্চপর্যায়ে, ভারতীয়রা এটাও চিন্তাভাবনা করতে পারে যে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়াই সবকিছু সন্তোষজনকভাবে চলছে এবং আপাতত, এই বিষয়ে সর্বসম্মুখে তাঁদের পদক্ষেপ না নিলেও চলবে।

 

যে বিষয়গুলো প্রতিরোধ গড়ায় যোগান দিবে

 

পূর্ব পাকিস্থানে আমাদের এখন সেই আইন প্রয়োগকারী শক্তি হতে হবে যা তাঁদের বিচ্ছিন্নতার সাথে জড়িত ও অন্যান্য নাশকতামূলক প্রবণতাকে স্বাভাবিক ভাবে বাঁধা প্রদান করবে। এই আইন প্রয়োগকারী শক্তি হয়তো বা প্রশাসনিকভাবে, বুদ্ধিজীবিদের নিয়ে, মধ্যবিত্তদের নিয়ে এবং সেইসব দল যারা রক্ষণশীল, যাদের অধিকাংশই দৃঢ়ভাবে পাকিস্থানের মতাদর্শী তাঁদেরকে বর্ণিত করতে পারে।অর্থনৈতিক উন্নতি অতিরঞ্জিত বিষয় এবং তা যদি কোন উল্লেখযোগ্য পরিমাণেও অর্জন সম্ভবপর হয়, তবুও তা পরিবর্তণের দাবীতে আটকে থাকতে পারে না। বিপ্লব বা পরিবর্তণ “অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর সমাজে, ব্যাপক অর্থনৈতিকভাবে দুর্বিপাকগ্রস্থ বা বিষন্নতা মধ্যে চলতে থাকা সমাজে ঘটে না”, কিন্তু দেশের ক্ষেত্রে “ সেই সমাজে যা অর্থনৈতিকভাবে প্রগতিশীল”। বস্তুত, এটা আরো সরলীকরণ করা নিরাপদ যে যত বেশী সমৃদ্ধ কৃষক সম্প্রদায়, ততো বেশী অসন্তুষ্টতা চলে আসে। অন্যান্য কারণে রাজনৈতিক আদেশ বা সিস্টেমের মধ্যে তীব্র পরিবর্তন হয়।

 

পুনর্জাগরণের ধারণাগুলো যা পাকিস্থানের দাবীতে চালিত করে

 

ভারতের মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক স্বদেশের চাহিদা বিগত প্রজন্মের যা হিন্দুদের ছল-চাতুরী, তুচ্ছতা ও স্বৈরশাসনের দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে চাপা ছিল। সেই প্রজন্মের নারী ও পুরুষ পুনঃ স্মরণ করে যে হিন্দুরা কিভাবে সুস্পষ্টভাবেই যেসব প্রতারণাগুলো চর্চা করতো এবং জানতো যে যদি মুসলমানেরা আবারো যদি হিন্দুদের মামুলি করুণার সম্মুখীন হয়ে তবে কি বিপদ হতে পারে। পার্টিশনের পরে যে নতুন প্রজন্ম বড় হয়েছে তারা এইসব সম্মান ভুলে গিয়েছে এবং হিন্দুদের প্রতি আরো উদারমনস্ক এবং মুসলিম ও হিন্দের মাঝে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক পুনঃ প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপের প্রতি সহানুভূতিশীল। বয়স্কদের অধিকাংশই যে কোন মূল্যেই পাকিস্থানের পাশেই থাকবে। অবশ্য এই প্রজন্মের, আংশিকভাবে বার্ধক্যজনিত জড়তা এবং আংশিকভাবে উদাসীনতা ভিতরে তাঁদের দাবী-পূর্ণ কন্ঠ অতোটা শক্তিশালী নয়। যে মুসলীম লীগ পাকিস্থানের দাবীর ধারণা দিয়েছে এবং মুসলমানদের একই প্লাটফর্মে নিয়ে এসেছে, দুঃখজনকভাবে তা লুপ্ত এবং এর নেতাদেরকে বিদ্বেষপূর্ণভাবেই নেওয়া হয়েছে। পূর্ব পাকিস্থানে মুসলিম লীগ, যা পাকিস্থানকে একত্রিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে দাঁড়িয়েছিল, খুব তাড়াতাড়ি তাকে ধ্বংস করা হয় এবং এর জায়গা দখল নিয়েছে স্লোগানভিত্তিক যুদ্ধপ্রিয় লোক ও উগ্র জাতীয়তাবাদীদের দল এবং আবেগে পরিপূর্ণরা। যদি স্বাধীন পূর্ব পাকিস্থান সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয় তবে যে আদর্শ ও বিশ্বাসে পুরনো প্রজন্ম পাশে ছিল, তাঁদের অবশ্যই পুনরুত্থিত হতে হবে।

 

শাসক শ্রেণী

 

” সামরিক গুণাবলী, প্রতিষ্ঠিত চিন্তা ও আচরণ সমূহের প্রতি সম্মান এবং আপোষের ইচ্ছে ও প্রয়োজনবোধে, উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে,সম্ভবত,

<2.010.040>

 

কঠোরতার সাথে প্রায় যথাযোগ্য পর্যাপ্ত মিশ্রণ হচ্ছে সফল শাসক শ্রেণীর গুণাবলী-গুণাবলীগুলো পরিষ্কারভাবেই পুনিক যুদ্ধকালীন রোমান এবং ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ইংরেজের অর্জিত গুণাবলী। ” বিদ্রোহী মৌলবাদী হচ্ছে যাদের নিজেদের এবং তাদের অবস্থানের উপর বিশ্বাসের অভাব বা যারা ধরে নেয় তাদের অন্যায়ের ক্ষমতা আছে বা যারা পরিমার্জনের ভান করতে লাগলেন এবং সাংস্কৃতিক অনুগ্রহ যা সুস্পষ্টরূপে শাসক শ্রেণীর কার্য সম্পাদনে অযোগ্য হয়। আমি স্বাভাবিকভাবেই মন্তব্য প্রদানে বিরত থাকছি কিন্তু এইসব শর্ত কতটুকু পূর্ণ হচ্ছে তা বিবেচনা করার ভার পাঠকদের উপর ছেড়ে দিলাম। সামরিক আইন তুলে নেওয়ার পর পূর্ব পাকিস্থানে রাজনৈতিক কার্যকলাপ রধ করতে বাধ্য করা হয় এবং কঠোর বিচারের জন্য প্রশাসনিক ক্ষমতাকে আনা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার সামর্থ্য ও আচরণকে পরীক্ষা করা উচিত এবং প্রয়োজনে পুনর্বিন্যাসও করা হবে। এই অংশে কিছু কর্মকর্তার অপরাধ প্রবণতার প্রতিবেদন পাওয়া গিয়েছে এবং সেই মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

 

বুদ্ধিজীবিদের অবাধ্যতা

 

যে সমাজ বিশাল পরিবর্তনের জন্য তৈরী হয়, বুদ্ধিজীবিদের সেখানে পরিত্যক্ত হওয়া শুরু হয়। পূর্ব পাকিস্থানে যে কোন প্রকারের, বিশালতার কোন প্রমাণ নেই। ১৯৪৭ সাল হতেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ধারাবাহিকভাবে শাসনের জোরালো প্রভাব আছে। মুসলিম লীগ পাকিস্থানের দাবীতে ছাত্রদের ব্যবহার করেছে এবং পরবর্তীতে ছাত্ররা এতোই ক্ষমতাধর হয়ে উঠে যে সরকারকে এমনভাবে ব্যবহার করে যা তাদের হাতের দাবার গুটি হয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথেষ্ট সংকীর্ণ এবং আঞ্চলিক পক্ষপাতিত্বকারী বুদ্ধিজীবিদের ছোট্ট একটি দল আছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের অধ্যাপক ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পদক্ষেপের রেকর্ড গৌরবময় করা হতে অনেক দূরে আছে এবং এতে কোন সন্দেহ নেই যে ছাত্রদের বিদ্বেষপূর্ণ চিন্তাধারা এই দলের দ্বারাই প্রভাবিত। যদিও কিছু বুদ্ধিজীবিকে বর্জন করা হয়েছে তবে অধিকাংশই এখনো সরকারের সাথে আছে। অতএব, সহানুভূতিশীল বুদ্ধিজীবিদের উন্নত করা এবং যেসব বিদ্রোহী বুদ্ধিজীবি আছেন তাদের পরিবর্তন করার দিকে লক্ষা স্থির করাই এখন প্রচেষ্টা হওয়া উচিত। ন্যাশনাল রিকনসট্রাকশন ব্যুরো এতদুদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। পুর্বের অনুচ্ছেদে উল্লেখিত পুনরিজ্জীবিত প্রবীণদের দলকে বুদ্ধিজীবিদ শ্রেণীতে পরিণত করা আরো দৃঢ় হতে হবে।

 

মধ্যবিত্ত শ্রেণী

 

সমাজের মধ্যে শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণী হচ্ছে এর স্থায়িত্বের প্রতিশ্রুতি। অতীতে, দুঃখজনকভাবে ক্ষমতা ধন-সম্পদের অধিকার প্রজন্ম হতে প্রজন্মান্তরে হিন্দুদের উপরেই ন্যস্ত ছিল, মুসলিমদের নিয়ে শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উপস্থিতি ছিলোই না। নতুন অর্থনৈতিক ও সেবার সুযোগ উন্মোচন করে দিয়েছে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুতই। তবে পশ্চিম পাকিস্থানে তা অতোটা রক্ষণশীল নয়। পরবর্তী প্রজন্মের বধ্যবিত্তের রক্ষণশীলতার প্রতি ঝোঁক থাকবে এবং অতঃপর তা হঠকারী ও অপরিমাণদর্শী প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং মন্দবোধের পরিবর্তণ নিয়ে আসাতে প্রভাব প্রয়োগের চেষ্টা করবে। মধ্যবিত্ত শ্রেণি যা এখন গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে তাকে অবশ্যই যে কোন মূল্যে সাহায্য ও শক্তিশালী করতে হবে। এই শ্রেণীর অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনবোধে গণ কল্যানের উপর জোর কমিয়ে দিতে হবে। পশ্চিম পাকিস্থানে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে অনেক কলঙ্কিত সামন্ততান্ত্রিক যে সমাজ, যার অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়ার দিকে ঝুঁকছে, তা এর স্থায়িত্বের জন্য দায়ী হবে।

 

পুলিশের পক্ষ হতে আরো সক্রিয়তা দরকার ছিল

 

কর্তৃপক্ষের, আমি দুঃখের সাথে বলছি যে, পোষ্টার প্রচারণার দিকে এদের উদাসীনতা ছিল। যদি, এর পিছনে যারা ছিল, লেখক ও সংগঠনগুলোর সন্ধানে প্রতিটি উদ্যোগের দরকার ছিল।

 

 

<2.010.041>

 

যদি কোন কর্মচারী এবং অন্যান্য সংস্থার কমই ছিল, তাহলে বিশেষভাবে মনোনীত কর্মচারীর নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল। অপরাধীদের সন্ধান ও তাদের তালিকা আনার ব্যর্থতা তাদের ও অন্যান্যদের তাদের কার্যক্রম চালানোর প্রতি একরকমের আমন্ত্রণ ছিল। এই কার্যকলাপের কতটুকু ব্যক্তির, দলীয় অনুপ্রেরণার অথবা বাইরে থেকে পরিচালিত ছিল কিনা তা গোয়েন্দা সংস্থার খুঁজে পাওয়া উচিত ছিল। কমিউনিস্টদের ভূমিকা ও সমর্থনের ব্যাপ্তি এবং ভারতীয়দের কৌশল এ সবই অবশ্যই খুঁজে পাওয়া উচিত ছিল। এছাড়াও আরো যা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন ছিল, তা হচ্ছে বিক্ষুব্ধ হওয়ার উপাদানের সম্ভাবনায় যারা মনে করে যে, তাদের উপর জুলুম করা হচ্ছে এবং সীমান্তের ওপারে একই রকম উপাদানসহ অভিন্ন ফ্রন্ট পরিত্যাগের মাধ্যমে তাদের পরিত্রাণ নিহিত রয়েছে।লোকেরা অবশ্যই তাদের ভবিষ্যৎ ও কুশল পাকিস্থানের সাথে সংযুক্ত বলে প্রভাবিত হয়েছে এবং পরিশেষে, পূর্ব পাকিস্থানিদের ভয় ও আশঙ্কা কাল্পনিক ও মানসিক হিসাবে অতি অবশ্যই বাতিল করা যাবে না।পাকিস্থানের ভৌগলিক অবস্থান এবং এই বিষয়টি সত্য যে কেন্দ্রীয় সরকারের সীলমোহর, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সদর দফতর পশ্চিম পাকিস্থানে, যদিও উচ্চতর পদে পূর্ব পাকিস্থানীদের ঘাটতি রয়েছে (এর জন্যে তারা পশ্চিম পাকিস্থানের দোষ দিতে পারবে না), সরকারের অধীনে প্রেসিডেন্সিয়াল ফর্ম যার ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্থানে কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতার জন্য যে অবিশ্বাস তাদের হয়েছে, তা পূর্ব পাকিস্থানীদের পার্থক্যকে জোরালো করে তুলতে এবং সন্দেহপ্রবণ করে তুলতে ভূমিকা রাখছে। আমার কোন সন্দেহ নেই যে, যদি সরকারের অবস্থান রাওয়ালপিন্ডি না হয়ে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত হতো তবে পশ্চিম পাকিস্থানীদের মানসিক অবস্থান একই রকম হতো না। এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, ভারতের আঞ্চলিক উগ্রতা দেশের একাত্মতা ও সংহতিকে ধ্বংস করার খেলায় মেতে উঠেছে। প্রাদেশিকতা পাকিস্থানেও বিদ্যমান এবং মনে হচ্ছে তা বর্তমানে ইন্দো-পাকিস্থান উপমহাদেশের আলোচ্য বিষয় হয়ে গিয়েছে। ভারতীয়রা এটা সমাধানের একটা উপায় প্রস্তাব করেছে যা হচ্ছে ভবিষ্যতে পুলিশে এবং উচ্চ আদালতের কর্মীবৃন্দ প্রদেশ হতে দুই তৃতীয়াংশের বেশী থাকতে পারবে না এবং বাকিদেরকে বাইরে থেকে আনা হবে। কেনই’বা পাকিস্থানেও এমন করা যায় না? রেল সংযোগ পূর্ব পাকিস্থানের সাথে বিচ্ছিন্নতাকে ভাঙতে সাহায্য করতে পারে এবং তাহলে ঢাকা অমৃতসর থেকে মাদ্রাসের চাইতেও লাহোরের কাছাকাছি হয়ে যাবে।

পরিশেষে, আমি আবারো বলছি যে পোস্টারগুলো অমঙ্গলজনক এবং পূর্ব পাকিস্থানে চরমপন্থীদের মানসিকতা রাষ্ট হিসেবে পাকিস্থানের প্রতি আস্থায় ধাক্কা দিয়েছে। পশ্চিম বঙ্গে অগ্রগতি সেই প্রদেশের জনতার ভারতের বিরুদ্ধে স্মৃতিকাতর ও তিক্ত করে তোলার কারণ যা শুভ ছিল না এবং সেই সাথে একটি অভিন্ন ফ্রন্ট গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও হতে পারে। ধারণা করা যাচ্ছে যে, যখন মার্শাল ল তুলে নেওয়া হবে তখন ক্রোধ আর বৈরিতা বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত ভেঙ্গে পড়বে। পশ্চিম পাকিস্থানের নির্বাহী ব্যবসায়ীরা পূর্ব পাকিস্থানে কাজ করার ব্যাপারে অস্বস্তি প্রকাশ প্রকাশ করেছে। তাদের ভয় অতিরঞ্জিত হতে পারে, কিন্তু আসল যে বিষয় তা হচ্ছে বর্তমানে পূর্ব পাকিস্থানে পোষ্টার প্রচারাভিযান অবশ্যই পশ্চিম পাকিস্থানকে দূর্বল করে তুলবে।

 

<2.010.042>

 

গোপনীয়

 

১ম খন্ড

 

বিষয়ঃ পূর্ব পাকিস্থানে জ্বালাতনকারী এবং লিফলেটের প্রচারাভিযান।

 

       পূর্ব পাকিস্থানে একজন ব্যক্তির ও দলের মতামত প্রকাশের উপায় হিসেবে পোষ্টার ও লিফলেট গ্রহণ করা হয় যা সাধারণত বেনামী হয়। এইটি এই প্রদেশের অনেকটাই ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য। ১৯৫৭ সালে একাই প্রায় ৬০০ পোষ্টার এবং লিফলেট বিলি করা হয়। এই রকমের কার্যকলাপে সাধারণত স্বতন্ত্র সদস্য বা ন্যাপের সদস্যদের এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরোধী অন্যান্য দল লিপ্ত হয়। এগুলোর একটি মৌলিক বিষয় হচ্ছে স্লোগানে তাই থাকে যা দেশের পররাষ্ট্র নীতি, সামরিক চুক্তির বিরুদ্ধে, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবী, নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের দাম কমানো, ইত্যাদি। যদিও সংসদীয় শাসনামলে জনগণের মতামত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা ছিল, কিন্তু এইসব পোষ্টার এবং লিফলেটের কোনটাই কোনদিন পূর্ব পাকিস্থানের স্বাধীনতা বা পশ্চিমবঙ্গের সাথে একাত্মতা নিয়ে ছিল না।এটাই দেখিয়ে দেয় যে কোন রাজনৈতিক দল বা এদের সমর্থকেরাই সবসময় পাকিস্থানের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া বা অধঃপতনের ইচ্ছা পোষণ করতো।

 

২। মার্শাল ল চলাকালীন, ৪৪টি পোষ্টার এবং লিফলেটের খবর পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি ছিল আভ্যন্তরীণ এবং বাই ১১টি বাহ্যিক। এই ১১টি লিফলেট বাহির হতে পাওয়া গিয়েছে যা সঞ্জীব চৌধুরী, জেনারেল সেক্রেটারী, ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস হতে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনের জন্য পাঠিয়েছিলেন। এইসব লিফলেটেই পাকিস্থান ও ভারতের পুনঃমিলনের বিষয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল। এই ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস একটি পুরনো সংগঠন এবং এর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সরকারী পর্যায়ে প্রতিবাদ ১৯৫৭ সালেই করা হয়েছিল। এই আন্দোলন খুব সম্ভবত সমসাময়িক প্রকাশনা- স্বাধীনতাকালীন সময় (১৯৪৭-৪৮) এর পিঠ-পিছেই চিহ্নিত হয় যখন ‘সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে যার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন কলকাতা বার-এট-ল’য়ের জে.পি. মিত্র যা পাকিস্থান এবং ভারতের পুনঃমিলনের উদ্দেশ্যের মতো হুবহু এক। পূর্ব পাকিস্থানে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন পার্টির জন্য ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের প্রভাব একেবারেই শূন্য। কিছু মানুষ, যাদের উদ্দেশ্যে কোলকাতা হতেই লিফলেট পাঠানো হয়েছিলো, তারাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজপথগুলো হস্তান্তর করেছিল।

 

৩। ৩৩টি আভ্যন্তরীণ পোষ্টার এবং লিফলেটের ৩টি পূর্ব পাকিস্থান লিবারেশন পার্টি (ইবিএলপি) দ্বারা, ১২টি জন সংঘ দ্বারা এবং বাকিগুলো অন্যান্য উৎস হতে প্রচার করা হয়েছিলো। ইবিপিএলপি ধরেই রেখেছিল যে পূর্ব পাকিস্থানের জনগণ একটি পৃথক জাতি এবং এদের লক্ষ্য ছিল এই প্রদেশকে সম্পূর্ণরুপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।এই দল কোন প্রকার সংগঠনের মর্যাদা অর্জন করেনি এবং শুধুমাত্র ৫ থেকে ৬ জন ছিল এই দলের পিছনে। য়ার্ল্ড কংগ্রেস এই ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনে জন্য, এই দলের কাগজপত্রগুলো যারা পেয়েছে তারা কি পেয়েছে তাও স্থানীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে এর পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হস্তান্তর করে দেয়। এই দলটি পাকিস্থান ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মতো ধ্বংসাত্বক দল দ্বারাও সমর্থিত হয়নি যা এই আন্দোলনে উভয় পক্ষের অন্তর্ভূক্ত শ্রমিকদের মাঝে ফাটল ধরাবে। এভাবেই ইবিএলপি জনগণ বা ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক দলগুলোর উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ইবিএলপি নামের সংগঠনটিকে খুব দ্রুত সময়েই চিহ্নিত করা হয়, এদের দুইজনকে নিরাপত্তাজনিত বন্দী করা হয় এবং অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হয় যার ফলস্বরূপ ১৯৬০ সালের জুলাই হতে এই দলের কোন প্রকার কার্যক্রম ছিলো না।

 

 

 

 

 

 

<2.010.043>

 

৪। জন সংঘ ১৬টি বিষয়ে দাবী নিয়ে এগিয়ে আসে যার মধ্যে ফেডারেল গভর্নমেন্টের সংসদীয় রূপ নিয়ে স্বায়ত্বশাসিত প্রদেশ, সকল বিষয়ে সাম্যতা, নিরাপত্তাজনিত বন্দীদের মুক্তি সহ অন্যান্য বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত ছিল। এই সংঘ এই প্রকারের হুমকি দেয় যে যদি তাদের দাবিদাওয়াগুলো ১-৯-১৯৬০ হতে ছয় মাসের মধ্যে মেনে না নেওয়া হয় তবে পশ্চিম পাকিস্থান হতে পূর্ব পাকিস্থানকে স্বাধীন করার জন্য ১৪-৪-১৯৬০ হতে সশস্ত্র বিপ্লবের আশ্রয় নিতে হবে। এই সংঘ দ্বারা প্রচারিত সকল লিফলেটের খসড়া করা এবং লেখা হয়েছিলো সেই একই ধারায় যা সম্ভবত শুধুমাত্র অল্প কিছু লোকের এই আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ততাকে নির্দেশ করে। এই দলের কার্যক্রম এখন পর্যন্ত গুটি কয়েক মানুষের গোপনে চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সাধারণ্যে যারা এই আন্দোলন সম্পর্কে অবগত নয় তাদের মাঝে কোন প্রকারের প্রতিক্রিয়া নেই। তাদের মধ্যে কিছু লোক যারা চিঠি পেয়েছিলো, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। সংঘটি প্রায় ছয় মাস বয়েসী এবং কিছু তথ্য যা ইতোমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে তা নিয়ে সতর্কতার সাথে কাজ করা হচ্ছে।

 

৫। অন্যান্য পোষ্টার ও লিফলেটগুলোর দুটি ঘটনা- একটি কুমিল্লায় এবং অন্যটি নোয়াখালী জেলায় যা ব্যক্তি শত্রুতার পরিণাম ছিল। এই লিফলেটগুলোর রচয়িতারা, মার্শাল লয়ের বিধানের অধীনে হত্যা মামলায় তাদের শত্রুদের ফাঁসাতে চেয়েছিল এবং এই ধরণের অনিষ্টকারী কার্যকলাপের জন্যে তাদেরকে যথাযথ আইনসংগতভাবেই বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে। আরো হয়রানি চিহ্নিত হয়েছে যা চতুর্থ শ্রেণীর বিপথগামী কর্মচারীদের অন্তর্বর্তীকালীন অব্যাহতি, বেতনবৃদ্ধি ইত্যাদির চাওয়াকে অবলম্বন করে করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে গত অন্তর্বর্তীকালীন অব্যাহতি শুধুমাত্র পশ্চিম পাকিস্থানের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দেওয়া দেওয়া হয়েছিলো যা এই শাখার একই শ্রেণীর কর্মচারীদের মাঝে বেশ কিছুটা অপমান ও হতাশা সৃষ্টি করে।

পোস্টারের ভাষা পরিমার্জিত নয় এবং এ থেকেই বোঝা যায় যে এটা কোন শিক্ষিত ব্যক্তির দ্বারা উদ্ভাবিত নয়। এর রচয়িতাকে সনাক্ত করতে অত্যন্ত শক্তিশালী অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

 

৬। বেশীরভাগ পোষ্টার এবং লিফলেট ঢাকা হতেই উদ্ভূত। বগুড়া শহরে ৪টি পোস্টার চিহ্নিত হয়েছে। কিছু ছাত্র দ্বারা এসব লেখা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে যারা শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিরোধীতাকারী। হয়রানিমূলক দু”টি ঘটনায় যেখানে কিছু ব্যক্তি অধুনালুপ্ত ন্যাপের সাথে একাত্মতাকারী বলে চিহ্নিত হয়েছে। এর একটি ভোলায় (বরিশাল জেলার অন্তর্গত) সংগঠিত হয়েছে, দুষ্কৃতিকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অন্যটি সিলেটে হয়েছিলো এবং তা তদন্তাধীন আছে।

 

৭। এটা লক্ষ্য করা যায় যে সকল প্রকারের পোস্টারিং মার্শাল লয়ের সময় হতেই যা নীতিভ্রংশ ব্যক্তির ছিল এবং কোন সুসংগঠিত দল তাদের পিছনে কাজ করছিল না। উদাহরণ হিসেবে উদ্বৃত করতে ঢাকার হায়াত খানকে উল্লেখ করা যেতে পারে। ১৯৬০ সালের মার্চ মাসে যখন লোকেরা ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনে ব্যস্ত ছিল সে তখন একাই বেশ কিছু পোস্টার লিখে ফেলে এবং এর কিছু ঢাকা শহরেই লাগিয়ে দেয়। তাকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করা হয়। তাকে দোষী সাব্যস্ত করার মধ্যে এই ঘটনার শেষ হয়।

 

৮। পোস্টারিং এবং লিফলেটের প্রচার রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি নয় যেহেতু তা কোন সুসংগঠিত দল হতে উদ্ভুত হয়নি। খুব বেশী হলে এটাকে ছোট বিন্দুর মতো ছিদ্র বলা যেতে পারে যা কিনা আসছে কিছু ধান্ধাবাজ ও বিপথগামীদের থেকে যারা নিজেদের বৈ অন্য কাউকে প্রতিনিধিত্ব করে না। প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনী নিজেদের পায়ের নীচে ঘাস জন্মাতে দেওয়ার জন্যেও অনুমতি দেওয়া হয়নি। ডাকের মাধ্যমে পাঠানো লিফলেট এবং পোস্টারগুলোতে দ্রুতই হস্তক্ষেপ করা হয় এবং জনসাধারণ্যে যেসব পোস্টার লাগানো হয়েছিলো তা সাথে সাথেই তুলে নেওয়া হয় এবং এসবের রচয়িতাদের সন্ধানে অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। সুতরাং আপামর জনতার মনকে প্রভাবিত করার মতো কোন সুযোগই তাদের নেই।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<2.010.044>

গোপনীয়

উপরোক্ত তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ থেকে এটা স্পষ্ট যে এসব পোস্টারগুলো এমনকি পূর্ব পাকিস্তানের সামান্যতম অংশের জনগণের মানসিকতাকেও প্রতিনিধিত্ব করে না। এদের মধ্যে কয়েকটি পোস্টার পশ্চিম বাংলার কিছু কট্টর হিন্দুদের ক্রমাগত প্রচেষ্টাকে প্রতিনিধিত্ত্ব করে যারা এখনো পাকিস্তানের সাথে সহজে [সমস্যা] মিটমাট করতে পারছে না কিন্তু বিগত দশকজুড়ে পূর্ব পাকিস্তানে কোন রকমের সমর্থন তৈরী করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যান্য কাজগুলো সেইসব ব্যক্তিদের যারা নিজেদের ছাড়া অন্য কারও প্রতিনিধিত্ব করে না। সুতরাং এসব [প্রচারণা] ‘অশুভ’ কিংবা ‘কুলক্ষণে ভরপুর’ এমন কিছু নয়। এসব পোস্টারে পূর্ব পাকিস্তানে আসন্ন ঝামেলার যেসব আশংকাজনক ভবিষ্যৎবাণী প্রকাশ করা হয়েছে যেগুলো, এমনকি কয়েক মাস কেটে যাবার পরেও, কোন নিপীড়নের মাপকাঠি ছাড়াই আগে থেকেই করা বিপদের ভবিষ্যৎবাণীবদ্ধ বিপদ ঠেকাতে কোন দমন-পীড়নমূলক ব্যবস্থা নেয়া ছাড়াই,সত্য প্রমাণিত হবার কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। যে কোন স্বনামধন্য প্রশাসনেরই দায়িত্ব আশেপাশে যা ঘটছে তা সম্পর্কে অবহিত থাকা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অখন্ডতা নিশ্চিত করা। তবে, এই গুরুভার পালনের আবশ্যিক দায়িত্ব হিসেবে প্রশাসনের বিস্তৃত দূরদর্শিতা,সত্য থেকে মিথ্যার আবরণ সরিয়ে ফেলার সামর্থ্য, অতুলনীয় মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে হবে, যাতে রাষ্ট্রের কোথাও ঘটে যাওয়া কোন ক্ষুদ্র ও অর্থহীন ঘটনায় নিজের জন্য যেন সমস্যা তৈরী হয়, অল্পতেই যাতে প্রশাসন কেঁপে না ওঠে। বর্তমান শাসনব্যবস্থা ছোটখাটো বিষয়ের পাঁকে আটকে গেলে, আতংকিত হয়ে ভুল পদক্ষেপ নিলে শত্রুদেরই সবচেয়ে বেশি সুবিধা হবে, কেননা এসব কারণে জনমনে সৃষ্ট বিরক্তি-অস্বস্তিকে তারা নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক প্রচারিত কাগজে এসব পোস্টারের গুরুত্ব সম্পর্কে বাস্তবতাবিবর্জিত দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে, যা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে সঠিক প্রমাণিত হয় নি। কাগজে প্রকাশিত মতামত এবং সুপারিশসমূহ মৌলিকভাবে ভুল প্রস্তাবনা থেকে উদ্ভুত।এই গবেষণাপত্রে উত্থাপিত প্রধান বিষয়গুলো নিমরূপে উল্লেখ করা যেতে পারে :

(a) পোস্টারে উল্লিখিত পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার প্রস্তাবের “বিস্ময়জনকভাবে মৃদু” প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, যা থেকে মনে হয়, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের কাছে এ প্রস্তাবটি সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য।

(b) পূর্ব পাকিস্তানিরা বর্তমান শাসন ও কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর অসন্তুষ্ট, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা দিল্লীর ওপর অসন্তুষ্ট, সুতরাং এ দু’প্রদেশ ধীরে ধীরে একত্রিত হয়ে ভারতীয় গণপ্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরস্থ অথবা বহিঃস্থ অখণ্ড বঙ্গ গঠন করবে।

(c) সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হলেই “বাঁধভাঙ্গা ক্রোধ এবংবৈরিতা” ছড়িয়ে পড়বে।

(d) পূর্ব পাকিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের আনুগত্য পরখ করা উচিত এবং সেই হিসেবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

(e) নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অগ্রগতির স্বার্থে, পূর্ব এবং পশ্চিম উভয় পাকিস্তানেই প্রয়োজনে ব্যাপক হারে জনকল্যাণের উপর জোর দেওয়া কমিয়ে আনতে হবে।

৩) এইসব কিছু বিবেচনা করার আগে পূর্ব পাকিস্তানিদের মনোভাবের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলোর কয়েকটি এবং তাদের ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত পটভূমি উল্লেখ করা সুবিধাজনক হতে পারে। পূর্ব পাকিস্তানের পটভূমি ছাড়া এর [বর্তমান] অবস্থা সঠিকভাবে বোঝা যাবে না।

 

<2.010.045>

(ক) পূর্বপাকিস্তানবেশিরভাগসময়ব্রিটিশওহিন্দুদেরদ্বারানির্যাতিতহয়েছে।কিন্তুতারাকখনোই তাদের কাছে নিজেদের সমর্পণ করেনি পলাশী যুদ্ধের পর থেকে। তারা অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়েছিল তবে মানসিকভাবে নয় । তাদের ইসলাম ভক্তি প্রবল ছিল । গত শতাব্দীতে মুসলিমদের এই প্রবল ইসলামভক্তিই পাকিস্তানের উত্তর অঞ্চলের মানুষদের উদ্বুদ্ধ করেছিল শিখ ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধ্যে লড়াই করতে ।

(খ) ব্রিটিশ ও হিন্দুদের সাথে তাদের বিরোধিতা এতটাই প্রবল ছিল যে “কাফের” দের ভাষা শেখা থেকে নিজেদের বিরত রেখে বেশ বেকায়দা অবস্থায় পড়ে গিয়েছিল। ভাষা এক হওয়া সত্ত্বেও পৃথক সত্ত্বা সৃষ্টিকল্পে তারা কখনোই হিন্দুদের সাথে এক কাতারে পরিচিত হতে চায় নি সেটা ছোটোখাটো যেকোনো বিষয় যেমন পোশাকের ক্ষেত্রেও হোক।

(গ) পূর্ব পাকিস্তানিরা কখনোই মৃদুস্বরেও কিছু বলে নি যখন পাকিস্তানের স্বাধীনতা চাওয়া হচ্ছিল । সে কারনে বাঙালি মুসলিমদের আদর্শ রাজনৈতিক নেতা জনাব ফজলুল হক খান তাদের ঘৃণা ও অবজ্ঞার পাত্র হয়ে উঠেছিঃলেন । জনাব সোহরাওয়ারদি ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং ১৯৪৬ সালের আগস্ট মাসে সংঘটিত কলকাতা দাঙ্গায় মুসলমানদের জীবন বাচাতে তার অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি । তিনি যখন সার্বভৌম বাংলায় জয়ী হলেন তখন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ এমন ভাব করছিল যেন কিছুই হয়নি । তখন উভয় রাজনৈতিক নেতাকে পূর্ব পাকিস্তানে পুনর্বাসন করা বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়ল পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে ।

(৪) ঠিক এমন প্রেক্ষাপটে পূর্ব পাকিস্তানিরা কখনো ধারণাও করেনি যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হিন্দুদের সাথে তাদের হাত মেলাতে হবে । তারা দেখিয়েছে সেটা বরাবরই যখন তাদের এমন কিছু করা উচিত ছিল । মাওলানা ভাসানি ছিলেন ১৯৫৪ সালের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা এবং তার সম্মেলনে সাধারণত সহস্রাধিক লোকের সমাগম ঘটে । এ সময় পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ চরমে।তখন সম্মেলনে মাওলানা ভাসানি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সদব্যবহার করা হচ্ছেনা । এমন চলতে থাকলে পূর্ব পাকিস্তানের হয়তো পাকিস্তানকে বিদায় বলে দিতে বাধ্য হবে । সে সময় মাওলানা ভাসানিও তার জনপ্রিয়তা হারান । এর চেয়ে ভালো তর্কাতীত প্রকাশ কি হয় আর পূর্ব পাকিস্তানের অখন্ড পাকিস্তানের প্রতি থাকা মানসিকতার?

(৫) পূর্ব পাকিস্তানের জন্য সবচাইতে দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তানের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা মনে করতেন যে, পূর্ব পাকিস্তানিদের পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতি আন্তরিকতার অভাব আছে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে মুক্তির চাহিদায়। পূর্ব পাকিস্তানের লোকজন তাদের এ মনোভাব বুঝতে পারতনা । তারা কেবল একটাই ব্যাখ্যা পাচ্ছে যে এই মানুষগুলো তাদেরকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে এবং এর সাথে পাকিস্তানের উন্নয়নের জন্য প্রশাসনিক কাজে তাদেরকে নিযুক্ত হতে দিচ্ছে না । তারা ভাবত হয়ত কিছু লোক দুই পক্ষ থেকেই পাকিস্তানের মাঝে ভাঙনের চেষ্টা চালাচ্ছে । পূর্ব পাকিস্তানের লোকজন কলকাতার হিন্দু সংস্কৃতি গ্রহন করে পাকিস্তানের সংস্কৃতি থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে । অন্যদিকে তারা পশ্চিম পাকিস্তান কে বলছে, পূর্ব পাকিস্তান তোমাদের থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে তাই তাদের উন্নয়নের তেমন কোন প্রয়োজন নেই ।

(৬) এটা ঠিকই দেখা যাচ্ছিল যে রাষ্ট্রদ্রোহী পোস্টারের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল খুবই ক্ষীণ ।তর্কের খাতিরে বলাই যায় যে কোন প্রতিক্রিয়া ছিলই না বলতে গেলে। যদি কোন প্রতিক্রিয়া দেখানো হতো তাহলে সেটাই বরং বিস্ময়কর হতো.

 

 

 

 

<2.010.046>

এই পোস্টারগুলো জনগণ দেখার আগেই ছিঁড়ে ফেলা হত । প্রতিক্রিয়া তখনই দেখা দিত যখন মানুষজন মনে করত যে যা ছড়ানো হচ্ছে তা আসলেই বাস্তবায়িত হবে । যেমনটা হয়েছিল মাওলানা ভাসানির ভাষনের সময় । পাকিস্তানের লোকজন যদি বুদ্ধিমান হতো তাহলে এমন পোস্টার থেকে কি প্রকাশ পেয়েছে সেটা তারা বুঝতে পারতো এবং উপেক্ষা করতো । যদিও ভেতরে ভেতরে তারা অখুশি হত । ধর্ষণের মত ঘটনায় তারা আহত হত কিন্তু সেটা প্রকাশ করত না । বরং তারা আশা করত সেই অপরাধিকে আইনগতভাবে শাস্তি দেয়া হবে ।

(৭) উপরোক্ত ঘটনা থেকে বুঝা যায় পূর্ব পাকিস্তানের লোকেরা কখনোই পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের সাথে হাত মেলাবেনা যদি না তাদের উপর বল প্রয়োগ করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানিরা আবেগ ও বস্তুগত চিন্তা দ্বারা পরিচালিত ছিল । তারা এতটুকু বোঝার মতো চালাক ছিল যে শত দুঃখ-দুর্দশা সত্ত্বেও পাকিস্তানে তাদের বৃহৎ অংশ আছে যেটা পাকিস্তানের বাইরে গেলে তারা হারাবে। তাদের দুর্দশা যদিও আগের তুলনায় এখন অনেক তীব্র। তাদের তৎকালীন সরকার বা নেতাদের বিরুদ্ধে তাদের কোন অভিযোগ ছিলনা । কারণ তারা জানতো যে তারা যথেষ্ট পরিমাণ চেষ্টা করেছে ন্যায্যতা পাবার জন্য । তাদের অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কারণ তারা আলাদা হয়ে পড়েছিল । তাদের অভিযোগ ছিল কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ব পাকিস্তানিদের সাথে ন্যায়বিচার করেনি কারন সরকারি প্রায় সব বিভাগে পশ্চিম পাকিস্তানিরা নিযুক্ত ছিল । তারা চাচ্ছিল বিভিন্ন দপ্তর কিছু পরিমান পূর্ব পাকিস্তানিরাও নিয়ন্ত্রন করবে ।

(৮) এটি বর্ণিত আছে যে- ‘একবার যদি মার্শাল ল’ স্থগিত করা হয় তাহলে সারা দেশে দাঙ্গা হাঙ্গামা ছড়িয়ে পড়বে’ । প্রশ্ন হচ্ছে এই অশান্তি অরাজকতা কি খালি পূর্ব পাকিস্তানে থাকবে নাকি পুরো পাকিস্তানেই ছড়িয়ে পড়বে?
পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতারা ও তাদের সমর্থকেরা, কূটনৈতিক কালো বাজারি, উভয় অংকের বিভিন্ন জিনিসপাতি এবং সমাজতান্ত্রিক দলগুলো বর্তমান শাসনব্যবস্থায় খুব সমস্যায় অতিবাহিত করছে । তারা মার্শাল ল’ এর কারনে চুপ রয়েছে । মার্শাল ল’ উঠিয়ে নিলে তারা ব্যাপকহারে অরাজকতা শুরু করবে । আর বেশিরভাগ সংবাদপত্র গুলোই এদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত । তাই এই ক্ষোভ এবং বিদ্রোহ পূর্ব পাকিস্তানের মাঝেই আবদ্ধিত থাকার কথা । এটা একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটা সমাধানে ত্যাগ স্বীকার করা ছাড়া কোন উপায় নাই । এটি খুবই জরুরী বিষয় ।

(৯) পূর্ব পাকিস্তানের উচ্চ পদমর্যাদার অফিসারদের কিছু সময়ের জন্য নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে । বেশকয়েকবার এই আশ্রয় প্রদান করা হয়েছে এবং অবাঞ্ছিতদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এই কাজের জন্য কোন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি । যখন পূর্ব পাকিস্তানের অফিসারদের ও সাধারন মানুষের আনুগত্যের উপর অভিযোগ তোলা হল, তখন তারা খুবই ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে । দুর্ভাগ্যবশত তারা জানতো কেন্দ্রীয় সরকারের কারণেই এমনটা হচ্ছে । যেহেতু তারা তাদের কর্মক্ষেত্রকে মুল্য দিত তাই তাদের প্রতিক্রিয়া দেখানোর কোন কারণ ছিলনা । তাই তাদেরকে পিছু হটতে হয়েছিল । তারা তেমন প্রতিক্রিয়া দেখাত না এবং কোন পদক্ষেপ নিতে ভয় পেত । একজন সরকারি কর্মচারীর মুল্য খুবই কম যদিনা সে নির্ভয়ে কাজ করতে পারে এবং তার কর্মক্ষেত্রের প্রতি আন্তরিকটা দেখাতে পারে । এই অবিবেচিত সন্দেহের কারনে জাতি ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ।

<2.010.047>

যত দ্রুত এই সন্দেহ দূর করা যায় তা এই জাতির জন্য ততই মঙ্গলজনক ।

(১০) শেষ বিষয়টি হচ্ছে – জনসাধারণের উন্নয়ন বাদ দিয়ে নতুন মধ্যবিত্তদের দেখাশোনা করা এবং এই মধ্যবিত্তদের ভরন – পোষণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল ।পণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য নিম্ন আয়ের মানুষদের খুবই সমস্যার মুখমুখি হতে হয়েছে । জনসাধারণের উন্নয়নের জন্য পরিপূর্ণ মনোযোগ দেয়া হয়নি তবে এই উচ্চমূল্যের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল । কিন্তু এই প্রস্তাবটি সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার সাথে মিলে যায় । যে ইসলামিক শাসনতন্ত্রের প্রতি আমাদের আনুগত্য ছিল, তার বিপক্ষে চলে যায় । যদি তা বাস্তবায়ন করা হয় তা সরকারের জন্য খুবই সমস্যার সৃষ্টি করবে । যেকোনো ক্ষেত্রেই এটি কপটচারিতা হবে যখন তারা জনগনের নামে, গণতান্ত্রিক ও ইসলামি শাসনতন্ত্রে দেশ পরিচালনা করতে চাইবে এবং তার সাথে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করবে কেবল এই জন্য কারণ তাদের সরকারের ক্ষতি করার ক্ষমতা নেই।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<2.011.048>

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
মৌলিক গণতন্ত্রের ভিত্তিতে প্রথম অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন কাউন্সিল নির্বাচন সম্পর্কে প্রতিবেদন সরকারি ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬০

 

মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেদন

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, টাউন কমিটি, ৪ স্তরীয় মৌলিক গণতন্ত্রের বেস ২৬ ডিসেম্বর ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ, যা ১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট এবং সরকার কর্তৃক প্রতিশ্রুত চতুর্থ অধ্যায়ের অধীনে ঘোষিত হয়েছে। যদিও অধিকাংশ ওয়ার্ডে আগেই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে তারপরও নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার ঘোষনা এসেছে ১ ফেব্রুয়ারিতে।

 

নির্বাচন বিধিমালা:

আবহ এবং নির্বাচনের রুলস প্রাদেশিক সরকার কর্তৃক প্রণীত হয় যা জনসাধারণের কাছ থেকে অভূতপূর্ব আগ্রহ এবং প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। ১০৫০ ব্যক্তির জন্য একজন করে নির্বাচিত হইবেন, এই হারে আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ জন্য এই নিয়ম প্রদান করা হয় যাতে ইউনিয়ন এবং টাউন কমিটির আকার এবং   প্রকৃতি দক্ষ প্রশাসনের জন্য উপযুক্ত হয়।

নির্বাচন পদ্ধতি হিসাবে এই নিয়মগুলো ছিল:

১) নির্বাচন রোলস আইন ১৯৫৭ এর অধীন প্রস্তুতকৃত ভোটার তালিকা অনুমোদিত ভোটার তালিকা ছিল,

২) ব্যালটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে,

৩) যেখানেই প্রশাসনিকভাবে সম্ভব সিঙ্গেল সদস্য ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে ,

৪) পুরুষ ও নারীদের আলাদাভাবে ভোট দিতে হবে,

৫) ব্যালট বাক্স প্রার্থীদের দ্বারা সরবরাহ করা হয়।

৬) ভোট অবিলম্বে পোলের শেষে দৈনন্দিন গণনা করা হয়েছিল এবং এর ফলাফল সেখানে এবং তখনই ঘোষণা করা হয়।

৭) নির্বাচন বিধিমালা এছাড়াও নির্বাচিত এবং নিযুক্ত সদস্যদের নাম বিজ্ঞপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য বিধি জারি করে।

৮) কমিশনার ও সংগ্রাহক নির্বাচন পিটিশন নিষ্পত্তি করার ক্ষমতার সঙ্গে বিনিয়োগ করা হয়। এই বেঙ্গল ভিলেজ স্বয়ং সরকার আইন ১৯১৯ অনুযায়ী বিগত অনুশীলনের সঙ্গে সাদৃশ্য ছিল।

ইউনিয়ন ও শহরের ঘোষণা:

প্রদেশের গ্রামাঞ্চলকে ৪০৫৬টি ইউনিয়নে বিভক্ত করা হয়েছে। ৫৬টি পৌরসভার ২৮টিকে টাউন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৮টি পৌরসভার ১৮৩টিকে আরবান ইউনিয়নে বিভক্ত করা হয়েছে।

 

<2.011.049>

 

ইউনিয়নগুলোরসংখ্যাওসীমানাঅনুসারেপরিবর্তনকরাহয়েছিলযাতেপ্রতি১০৫০০জানের জন্যএকটিস্থানীয়কাউন্সিলগঠনকরাযায়।বিশেষত,অল্পসময়েএলাকাগুলোএকেকটিসম্ভাবনাময়এবংপ্রশাসনিকসম্পদহয়েউঠেপুরোদমে।এছাড়া,বিভাগছিল৪০০০০।এইকাউন্সিলগুলোরমধ্যেমৌজাগুলোও অন্তর্ভুক্তছিলযাপাকিস্তানেরহস্তগতহয়১৫জানুয়ারি১৯৫৯সালে।প্রশাসনিকসদস্যদেরজন্যঐএলাকাগুলোয়মানুষজননির্বাচনেঅংশগ্রহনকরতেপারতনা।কেননা১৯৫৭ কিংবা১৯৫৯সালেতাদেরজন্যকোনোনির্বাচনীতালিকাতৈরিহয়নি।সাধারণভাবেএইইউনিয়নকাউন্সিলগুলোগঠিতহয়েছিল৩টিউদ্দেশ্যে –
১) প্রতিটিউপজেলারঅধীনেকতগুলোইউনিয়নগঠনকরারজন্য।
২) ১০৫০০জনসংখ্যারসুষমবন্টনেরজন্য।
৩) প্রতিটিইউনিয়নেরসীমানানির্ধারনেরজন্য।নতুনছোটছোটইউনিয়নেজনসংখ্যাবন্টনএবংবড়বড়ইউনিয়নগুলোতে

সুষমজনসংখ্যাবন্টনেরফলেঐঅন্চলেরমানুষদেরনির্বাচনেসম্পৃক্তকরাহয়েছিল।মূলতগ্রামবাংলারস্বায়ত্বশাসিতসরকারেরঅধীনে৩,৫৮৩টিইউনিয়নছিল।এছাড়াপনেরটিজেলায়কিছুপঞ্চায়েতিইউনিয়নওছিল।এছাড়াসিলেটওচট্রগ্রামেরপার্বত্যঅঞ্চলেপ্রায়১০০০চৌকিদারীঅঞ্চলছিল।অবশ্যনতুনএলাকাগুলোরপ্রত্যেকপ্রার্থীদেরভোটারদেরসাথেব্যক্তিগতভাবেপরিচিতহওয়ারযথেষ্টসুযোগছিলনা।ভোটসংরক্ষনেরজন্যঅন্যতমএকটিকারণছিলএইঅন্তরঙ্গতাবাসম্পৃক্ততা।নভেম্বরমাসেরশেষেরদিকেরআগেইইউনিয়নকমিটি, শহরএবংইউনিয়নএরসীমানানির্ধারণআরনির্বাচনীয়ভূমিকারবিভক্তিউল্লেখযোগ্যভাবেক্ষতিগ্রস্তহয়েছিল।

ওয়ার্ড গুলোরসংখ্যানিম্নরূপ:
১) এককসদস্যবিশষ্টওয়ার্ড – ১৬৬৮৯
২) দুইসদস্যবিশিষ্টওয়ার্ড -৫৭৬৫
৩) তিনসদস্যবিশিষ্টওয়ার্ড – ৩০৪৯
৪) বহুসদস্যবিশিষ্টওয়ার্ড[তিনসদস্যেরঅধিক] – ৫০৯

এখানেদুটিজেলারনামবিশেষভাকেউল্লেখকরাযেতেপারে।
সিলেটওচট্রগ্রামেরপার্বত্যঅন্চলযেখানেকোনোইউনিয়নবোর্ডছিলনা। এইপ্রদেশেরঅন্যান্যজেলারমতসিলেটেকোনোইউনিয়নগোপনভান্ডারছিলনা।প্রতিএকটিসিটে১০৫০০জন এইনীতিরউপরভিত্তিকরেপ্রতিটিগ্রাম্যইউনিয়নে২৮৬০টিনির্বাচনীয়সিটবরাদ্দকরাহয়। এইনির্ধারণীরমধ্যেচাবাগানগুলোওঅন্তর্ভুক্তছিল।

সত্যিকারভাবেইউনিয়নেরসীমানানির্ধারণ,উপরোক্তমানঅনুযায়ীচৌকিদারীবলয়েরঅনূরূপযতদূরকরাসম্ভবকরাহয়েছিল। চট্রগ্রামপার্বত্যঅঞ্চল,একমাত্রজেলাছিলযেখানেসবচেয়েবেশিঅমুসলিম  (উপজাতিওবৌদ্ধ) জনগনবসবাসকরত। সেখানেওসমাননীতিরভিত্তিতেসিটবরাদ্দকরাহয়এবংএরসংখ্যাছিল ২৭০। মৌলিকগনতন্ত্রেরউদ্দেশ্য,৩লক্ষজনগনেরএইপুরোজেলাটিকেতিনটিমহকুমারআওতায়৩১টিইউনিয়নেবিভক্তকরাহয়যারপ্রত্যেকটিকেথানাহিসেবেঘোষনাকরাহয়।

 

<2.011.050>

 

সরকারেরকাছেএকটিএককওয়ার্ডআকািঙ্ক্ষতছিল।জাতীয়নির্বাচনেরজন্যঅনুমোদিতনির্বাচনীতালিকাপ্রস্তুতছিলকিন্তুতাজাতীয়নির্বাচনেরজন্যপ্রস্তুতছিলনা।বিশেষকরেএইস্বল্পসময়েরমধ্যেতানিষ্পত্তিকরা।কিছুকিছুক্ষেত্রেএকাধিকসদস্যবিশিষ্টওয়ার্ডএবংইউনিয়নসমূহেরএকটিতালিকাসংযুক্তিকরাহল।

মনোনয়নপত্রওতাদেরতথ্য-উপাত্তঃ

নিম্নলিখিতপরিখ্যানআমাদেরলক্ষ্যনীয়বৈশিষ্ঠদেখায়ঃ

(ক) দায়েরকৃতমনোনয়নপত্রেরসংখ্যা-৮৭১৯০

(খ) মনোনয়নপ্রত্যাহার-৬০৪০

(গ) প্রত্যাখ্যাতমনোনয়নপত্র-৬০৪০

রিটার্নিংকর্মকর্তাদেরপ্রতিনির্দেশনাছিল, যেনভিত্তিহীনযুক্তিতেমনোনয়নপত্রপ্রত্যাখ্যাননাকরাহয়।

মনোনয়নপত্রপ্রত্যাখ্যানেরকারনগুলোছিলঃ

(ক) মৌলিকগনতন্ত্রেরধারারদ্বীতিয়সূচীর (Pan II) বর্নিতযেকোনধরনেরঅযোগ্যতাপ্রার্থীরমাঝেবিদ্যমানথাকলে।

(খ) মনোনয়নপ্রার্থী, প্রস্তাবকবাসমর্থকদ্বারাদ্বাক্ষরিতনাহয়েথাকলে।

(গ) যদিপ্রার্থীপ্রস্তাবকবাসমর্থকেরস্বাক্ষরযদিপ্রশ্নবিদ্ধ/ চ্যালেঞ্জেরসম্মুখীনহয়এবংতাআসলসত্যপ্রমানেব্যার্থহয়।

(ঘ) প্রার্থীরবয়স২৫বছরেরনিচেহলে।

(ঙ) প্রার্থীরনামইউনিয়নেরভোটারতালিকায়অনুপস্থিতথাকলে।

(চ) মনোনয়নপত্রেরঘোষনায়প্রার্থীরস্বাক্ষরনাথাকলে।

(ছ) প্রার্থীরাকোনশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেশিক্ষকহিসেবেনিয়োজিতথাকলে।

প্রতিদ্বন্দীতাবিহীনমোট৭০৮৩জনপ্রার্থীনির্বাচিতহয়েছিল।মোট১৪টিআসনেকোনমনোনয়নদায়েরহয়নি।যারমাঝে১০টিবগুড়ায়, ৩টিরাজশাহীএবংএকটিখুলনায়অবস্থিত।

 

প্রচারপ্রচারণা :

মৌলিকগণতন্ত্রপুরনোপ্রাতিষ্ঠানিকভিত্তিহতেএকটিকৌনিকদূরত্বেপৌছেগিয়েছিলো।একটিবিশালপ্রচারপ্রচারণারপ্রয়োজনছিলোজনগণকেসন্তুষ্টকরারজন্য।এইপ্রদেশেরমানুষযেনমৌলিকগণতন্ত্রেপ্রতিষ্ঠিতইউনিয়নওজেলাবোর্ডগ্রহণনাকরেসেইপ্রচেষ্টাকরাহয়েছিলো।২রাসেপ্টেম্বরপ্রেসিডেন্টেরপক্ষথেকেঢাকারেডিওস্টেশনহতেমৌলিকগণতন্ত্রসম্পর্কিতসকলপ্রকারজনপ্রচারণাবন্ধকরাহয়।পুনর্গঠনব্যুরোকর্তৃককয়েকটিনিবন্ধনজারিকরাহয়প্রেসগুলাতে।যাবাংলাওইংরেজিউভয়ভাষায়দৈনিকপত্রিকাগুলোতেপ্রকাশিতহয়েছিলো।

 

 

 

 

 

<2.011.051>

 

১৯৬৫ সালের নভেম্বরে,মৌলিকগনতন্ত্রের উপর ৫০০০০ পোস্টার বের করা হয়েছিল এবং প্রদেশটির সর্বত্র বিলিকরা হয়েছিল। ৪টি বিশেষ পুস্তিকা সবজায়গায় বিলানো হয়েছিল যে গুলো মৌলিকগনতন্ত্রের উপর লিখা গান ছিল।বিশেষিত বাঙালি লেখকরা গান গুলোর কথা ও সুরসম্প্রদান করেছিলেন।আরো ৯টি পুথিকায় বিশেষত রাজনীতিবিদ লেখকদদের দ্বারামৌলিক গনতন্ত্রের প্রধান বিষয় গুলোর উপর লেখা ছিল এবং এটিও সর্বত্র ছড়িয়েদেয়া হয়।
মৌলিক গনতন্ত্রের উপর জোরদার প্রচারনা চালানোর জন্য ৪৩টি রেডিও সেটকে বিভিন্নজেলা থেকে একক ভাবে স্থাপন করা হয়।প্রায় মৌলিক গনতন্ত্রের উপর অনুচ্ছেদপত্রিকায় ছাপানো হতো।পাশাপাশি,জনমতামত এবং সরকার যেএই বিষয়ের উপর বিভিন্নজেলায় প্রচারকার্য চালাচ্ছে তাও পত্রিকায় ছাপানো হতো।
১৯৫৯ সালের ডিসেম্বরে রংপুর,রাজশাহী,বগুড়া,যশোর,ময়মনসিংহ,কুষ্টিয়া,চট্রগ্রামপার্বত্যঅন্চল ও নোয়াখালিতে জেলা মোবাইল একক দ্বারা ১৬ এমএম সাজসজ্জা বিশিষ্টপ্রোজেক্টর দেয়া হয়েছিল মৌলিক গনতন্ত্রের উপর ছবি বানানোর জন্য।অন্যান্যজেলায় এই প্রোজেক্টর এর সরবারহ করা হয় ৩৫ এমএম।
ঢাকা এবং চট্রগ্রামে দুটি বাংলা নাচক নামানুসারে “গ্রামের মায়া” ও “শঙ্খ” লেখে স্টেজে প্রদর্শন করা হয়।
দুটি পুস্তিকায় মৌলিক গনতন্ত্রের অাদেশ ও নিরবিচ্ছিন্ন নীতিমালা বাংলায় লিখে প্রদান করা হয়।
একটি বিজ্ঞাপন পত্রে প্রার্থীদের জন্য মৌলিক গনতন্ত্র বিষয়ক নির্দেশনা প্রধান করা হয়।
প্রচারকার্যেরউপাদান গুলো প্রদেশীয় ও কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা ১২০৮৩৩৭ সংখ্যায় প্রদানকরা হয় ও বিলানো হয়। পাশাপাশি বেশিরভাগ প্রেসে ২০২ এর মাঝে মৌলিক গনতন্ত্রবিষয়ক তথ্য বের করে।
একাধিকসংখ্যক বিখ্যাত গান কম্পোজ করা হয়েছিল মৌলিক গনতন্ত্রের উপর এবং অতিবিখ্যাত শিল্পীদের দিয়ে সুর করা হয় এবং গায়কদের শিখানো হয় যারা পরে বিভিন্নজেলায় ঘুরে গান গেয়েছিল।
প্রচারকার্য অায়োজন ও গঠন করতে পূর্নগঠন দলটি অভাবনীয় ভূমিকা পালন করেছিল।

 

প্রশাসনিক ব্যবস্থাঃনির্বাচনের আবহ সৃষ্টির জন্য ইউনিটগুলো দুই বা তিনটি থানায় পরিমন্ডল নিয়ে গঠিত ছিলো। পরিধিভুক্ত অফিসাররা ছিলো গেজেটেড।সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল ব্যতীত অন্যান্য স্থানে যেখানে রিটার্নিং অফিসার অনুপস্থিত ছিলো সেখানে নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো। ঢাকা ও চট্টগ্রামে নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো।অনেক জায়গায় উপ রেজিস্ট্রার, খাদ্য পরিদর্শক, উপ বিভাগীয় বিদ্যালয় পরিদর্শকগণ, কো-অপারেটিভ সোসাইটির পরিদর্শকগণ এবং ত্রাণ কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো।

 

 

 

<2.011.052>

গেজেটবিহীনসরকারিকর্মকর্তাযেমন:রাষ্ট্রীয়অধিগ্রহণসার্কেলপরিদর্শকগণ, স্কুলেরউপ-পরিদর্শকগণ,কো-অপারেটিভসোসাইটিরসহকারীপরিদর্শক, আনসারেরসহকারীএডজুট্যান্টইত্যাদিতাদেরকেপ্রিজাইডিংঅফিসারহিসেবেনিয়োগকরাহয়।তহশিলদারএবংরাষ্ট্রীয়অধিগ্রহণসরকারীতহশিলদার, প্রাথমিকস্কুলশিক্ষক, ইউনিয়নকৃষিঅ্যাসিস্ট্যান্টএবংকয়েকজনকালেক্টরেট কেরানীওসাবডিভিশনালঅফিসারসহকারীদেরপ্রিজাইডিংঅফিসারএবংপোলিংঅফিসারহিসেবেনিয়োগকরাহয়েছে।

প্রতিটিকেন্দ্রেপুলিশেরদুইজনকনস্টেবলওতিনজনআনসারকেনিয়োগকরাহয়েছিলআইনশৃঙ্খলারক্ষাওকেন্দ্রপরিচালনারজন্য।উপ-পরিদর্শকওসহকারীউপ-পরিদর্শকইউনিয়নপরিদর্শনকরতেনউর্ধ্বতনকর্মকর্তাদেরতত্ত্বাবধানেরজন্য।

ভোটকেন্দ্রেপ্রশাসনিকব্যবস্থামাধ্যমতৈরীকরাহয়বিভিন্নইউনিয়নবোর্ড, বেশিরভাগইউনিয়নেরভারপ্রাপ্তকৃষিসহকারীকর্মকর্তাএবংতহশিলদারদেরমাধ্যমে।অতিরিক্ত দাপ্তরিককাজেরজন্যজেলাসদরদপ্তরথেকেউপ-বিভাগীয়কর্মকর্তাদের এবং সেকেন্ড অফিসারদেরনিয়োজিতকরাহয়েছিল।সার্ভারপ্রক্রিয়াকরণওনোটিশবহনইত্যাদিরজন্যকিছুক্ষেত্রেখন্ডকালীনলোকনিয়োগকরাহয়েছিল।কিছুকিছুক্ষেত্রেগ্রাম্যলোকদেরওব্যবহারকরাহয়েছিল।

নারীভোটারদেরজন্যপ্রতিটিওয়ার্ডেএকটিভোটকেন্দ্রএবংআলাদাব্যাবস্থাগ্রহণকরাহয়েছিল।শহরাঞ্চলেমহিলাপ্রিসাইডিংঅফিসারএবংপোলিংঅফিসারনিয়োগকরাহলেওগ্রামাঞ্চলেএইবিশেষসুযোগদেওয়াসম্ভবহয়নি।

স্বল্প সময়ে বিশাল পরিসরে অভূতপূর্ব এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৪০০০০সদস্যনির্বাচনেরজন্যনির্বাচনটিযুগপৎ১৫০০০ভোটকেন্দ্রেঅনুষ্ঠিতহয়।

নিচেরপরিসংখ্যানটিএইকাজেরমাত্রাতুলেধরে:

ক) মোটভোটকেন্দ্রেরসংখ্যা১৫৮২১

খ) মোটভোটেরবুথসংখ্যা২৮৯০৯

গ)মোটরিটার্নিংওসহকারীরিটার্নিংঅফিসার৪০০প্রায়

ঘ)মোটপ্রিসাইডিংঅফিসার১৬০০০

ঙ)মোটসহকারীপ্রিসাইডিংঅফিসারওপোলিংঅফিসার৫০০০০

চ)মোটপুলিশকনস্টেবল, চৌকিদারএবংআনসারদেরনিযুক্তিরসংখ্যা৮০০০০

২০-২৫টিইউনিয়নেপ্রতিজনরিটার্নিংঅফিসারপ্রায়৩০০জনসদস্যনির্বাচিত করেন এবংএইকাজতাঁরাকরেনকোনরকমত্রাণবাঅন্যান্যসাহায্যছাড়াই।

ত্রাণসাহায্য না পাঠানোর কারণে, কর্মকর্তাদের কোন কোন ক্ষেত্রে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ রেখে ঘড়ির কাঁটা ধরে শ্রমসাধ্য এ কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।

এছাড়াওনির্বাচনী ক্রমনির্বাচনেবিশেষঅসুবিধারসম্মুখীনহতেহয়েছিল।জাতীয়সংসদনির্বাচনেরজন্যপ্রস্তুতকৃতএইতালিকাহালনাগাদকরাছিলনাএবংনামওভোটারদেরবয়সসংক্রান্তবিশালআকারেরভুলছিল।

 

<2.011.053>

প্রত্যেক গ্রাম, মৌজা বা সড়কের নাম থেকে নামানুক্রমিক ক্রমনম্বরগুলো মৌলিক গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য ব্যবহার করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণযোগ্য আকারের চেয়ে বেশি জনবহুল গ্রাম বা মৌজা, এরকম কয়েকটি স্থানে বিশাল সমস্যা তৈরি হল। বিশেষ করেআমাদের দৃষ্টিতে, এত অল্প সময়ে ক্রমনম্বরগুলোকে ভেঙ্গে সুবিধা জনক আকারে গড়াসব কয়টি স্থানে সম্ভব ছিল না। পাশাপাশি, এ কাজে প্রচুর খরচ ও পরিশ্রম হচ্ছিল।তাই সরকারের একসদস্যবিশিষ্ট ওয়ার্ড চাওয়া সত্বেও অনেক জায়গায় দুই,তিন অথবা আরো বেশিসদস্যবিশিষ্ট ওয়ার্ড তৈরি করতে হয়েছিল।কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি ওয়ার্ডে ১৬এর চেয়ে বেশি সদস্য ছিল।

নদীতীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় গ্রাম বা গ্রামের কিয়দংশ বন্যায় ভেসে গিয়েছিল, ১৯৫১ সালের আদমশুমারির পর নতুন কিছু এলাকা গঠন করা হয়েছিল এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচনী ক্রমে অন্তর্ভুক্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আসন বণ্টন করা হয়েছিল।কিন্তু বণ্টিত আসনগুলোতে প্রকৃতপক্ষে আদমশুমারির ফলাফল বা ভোটার তালিকারপ্রতিফলন ঘটেনি।

বেশ কিছু নির্দেশনা, বিশেষ করে প্রার্থীদের অযোগ্যতা বিষয়ক নির্দেশনা পৌঁছতে দেরি হওয়ায় প্রশাসনিক কিছু জটিলতার সৃষ্টি হয়।যথাসময়েইবিডিও কর্তৃক অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা না পাওয়ায়, চুড়ান্ত পর্যায়ে বেশ কিছুমনোনয়ন পত্র বাতিল করতে হয়।

ভোট নেয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে প্রার্থীগণ কর্তৃক ব্যালট বাক্স সরবরাহ করার বাধ্যবাধকতা কয়েকটি স্থানে অশিক্ষিতপ্রার্থীদের জন্য কিছু জটিলতা তৈরি করে।

মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতির উপর রাজনৈতিক প্রভাব এবং এর আওতায় প্রথম নির্বাচন:

শুরুতে কমিউনিস্টরা এবং আওয়ামী লীগ ও অধুনালুপ্ত ন্যাপের অনেক বিশিষ্ট নেতা মিলেনির্বাচনটি বয়কট করতে চেয়েছিল।তারা এমন একটি গুজব ছড়ায় যে মৌলিক গণতন্ত্র বর্তমান শাসনের পক্ষে সমর্থন আদায়ের একটি ছদ্মবেশী কৌশল এবং এতে [জনপ্রতিনিধিদের ওপর] নির্ধারিত ক্ষমতাসমূহের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই।সরকার কর্তৃক মনোনয়ন এবং ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ চরমভাবে সমালোচিত হয়।

শুরুরদিকে এ ধারণাটির ব্যাপারে [জনসাধারণের] অজ্ঞতা এবং ঔদাসীন্য বিরাজ করছিল।রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি এবং ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডের সীমানা দেরিতে চূড়ান্তকরণের কারণে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক সমস্যাগুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে আগ্রহী প্রার্থীদের সংখ্যা কমে গিয়েছিল।একটি বৃহৎ পরিসরের জনসংযোগকরার ফলে নির্বাচনে জনগণের তীক্ষ্ণ মনোযোগ নিশ্চিত হয়। নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরজনগনের আস্থা শুরুতে অল্প হলেও পরে দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে। জনগনের মতামতের পরিবর্তনদেখে, নতুন নিয়মের নিন্দুক এবং সমালোচকরা তাদের কৌশলপরিবর্তন করল এবং সিদ্ধান্ত নিল সেসব প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার বা সেসব প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার, যাঁরা তাদের মত অনুযায়ী পরবর্তীতে, যারা তাদের কথায় প্রভাবিত হবেন বা মগজ ধোলাইয়ের শিকার হবেন। তাদেরমনোভাবে যে সত্যের অপলাপ ছিল তা তাদের অসুবিধাজনক অবস্থার ফেলে দেয়কারণ নিজেদেরকে সংগঠিত ও সন্নিবেশিত করার যথেষ্ট সময় তাদের কাছে ছিলনা। ২৯৬জন বামপন্থী নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এ সংখ্যা খুবই কম; এ ব্যর্থতাবামপন্থীনেতাদের মনোভাবের ভিন্নতার কারণে, সুযোগের সদ্ব্যবহারের এবং মুক্ত প্রচারণার অভাবে ঘটিত।

নির্বাচনের জনগনের অবাধ অংশগ্রহন এবং যার ফলে ব্যাপকহারে ভোট পড়ে নিম্নলিখিত কারণে, পাশাপাশি আরও কিছু কারণ ছিল:

 

 

<2.011.054>

 

 

(খ) নতুন ইউনিয়ন কাউন্সিলগুলোর বৃহত্তর ক্ষমতা এবং সে অনুযায়ী আরো অধিক মানুষের সেই ক্ষমতা ও তার সুফল ভাগ করে নেবার ইচ্ছা

(গ) এই প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে একমাত্র নির্বাচিত সংস্থা হওয়ায় জনগণের গণতান্ত্রিক আকাংখা তীব্রতর হয়েছিল।

(ঘ) সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধসমূহ তুমুল প্রতিযোগীতা তৈরিতে একটা বড় ভূমিকা পালন করে।

(ঙ) জনগোষ্ঠীর যে অংশটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা নিগ্রহের ভয়ে নিষ্ক্রিয় বা নিরপেক্ষ থাকতো, তারাও তখনকার শান্ত পরিস্থিতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছিলো।

(চ) ভোটকেন্দ্রগুলো কাছাকাছি হওয়ায় এবং নারী-উত্যক্তকারীদের দমন করায় প্রচুর সংখ্যক নারীভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

নির্বাচনে বিভিন্ন দলের ভূমিকাঃ

 

সংখ্যালঘুঃ “দ্য হিন্দু মহাসভা” এই নির্বাচনে একটি সংগঠিত দল হিসেবে অংশ নেয় এবং হিন্দু আধ্যুষ্যিত এলাকাগুলোর পাশাপাশি যে সমস্ত স্থানে হিন্দু ভোট ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে সে সব এলাকায়ও প্রার্থী ঘোষণা করে। কংগ্রেস এই নির্বাচনে দলগতভাবে কোন প্রার্থী ঘোষণা করে নি। কিন্তু, তারা অন্যান্য হিন্দু প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছে অথবা বিলুপ্ত ন্যাপ এবং অন্যান্য বিভিন্ন বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সাথে মিলিতভাবে নীরবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। বিগত ইউনিয়ন বোর্ড নির্বাচনের তুলনায় এবারে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এবং প্রতিদ্বন্দ্বীতার পরে, উভয়ক্ষেত্রেই নির্বাচিত হিন্দু প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিলো। এটা হয়েছিলো মূলত দুইটি কারণেঃ

 

ক) বহু সদস্য বিশিষ্ট ওয়ার্ডগুলোতে তারা একজন মাত্র প্রার্থী ঘোষণা করে এবং সকলে তাকেই ভোট দেয়। সাধারণতঃ হিন্দু প্রার্থীদের মধ্যে কোন প্রতিযোগীতা হয় নি এবং তারা অপরাপর মুসলিম প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোটে সুসংহতি বজায় রেখেছিলো।

 

খ) যে সমস্ত এলাকায় ভোটের সংখ্যাসাম্য বিরাজ করছিলো, সেখানে তারা ডানপন্থীদের ছাড়া   অন্যান্য প্রার্থীদেরকে সমর্থন দিয়েছিলো। (এই প্রদেশে হিন্দুদের মনোভাব বরাবরই এরকম ছিলো। মুসলমানদের মধ্যে তারা বামপন্থী ও অন্যান্য বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীকে সমর্থন দিতো। )

 

কম্যুনিস্টঃ কম্যুনিষ্টরা তাদের সুপরিচিত সদস্যদের প্রার্থী ঘোষণা করে নি। কিছুক্ষেত্রে তারা পরিচিতি নেই এমন দলীয় সমর্থকদের প্রার্থী ঘোষনা করে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডানপন্থীদের সাথে কোন অতীত সম্পর্ক নেই এমন প্রার্থীদের সমর্থন দেয়। এধরণের প্রার্থীরা হিন্দুদের সমর্থনও পেয়েছিলো, যদিও তা সম্পুর্ন ভিন্ন কারণে।

 

ন্যাপঃ ন্যাপ শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনে অংশ নেবার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তারা কম্যুনিস্ট এবং হিন্দু, উভয় দলের সাথেই হাত মেলায় যেহেতু তারা মানানসই ছিলো। যদিও তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী দিতে পারেনি, তবু, কম্যুনিস্টদের মতই তারা তুলনামুলক ভাবে কম-অগ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছিলো।

 

ন্যাপ এবং কম্যুনিস্ট উভয় দলেরই ইউনিয়ন কাউন্সিলগুলোতে নিজেদের জায়গা তৈরি করার পিছনে উদ্দেশ্য ছিলো এমন একটা গ্রুপ তৈরি করা, কাউন্সিল কাজ শুরু করার পর যাদের সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। সম্ভবত তারা এজন্যে কাউন্সিলে তহবিলের অপর্যাপ্ততা এবং সত্যিকার অর্থে ক্ষমতার অনুপস্থিতির দিকে আঙুল তোলার পরিকল্পনা করেছিলো।

তারা তীব্র ও তীক্ষ্ণ সমালোচনার দৃশ্যপটটি প্রদেশের উন্নয়ন খাতে লুপ্ত আইনসভা বা ইউনিয়ন কাউন্সিল হতে তহবিল না পাওয়ার দিকে ঘুরিয়ে দিত।

<2.011.055>

আওয়ামী লীগ- নিষ্প্রাণ আওয়ামীলীগ নির্বাচনে কোন কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে নি। ইতোমধ্যেই তারা নিন্দিত হয়েছে এবং কোন ভাবেই আর নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারবে না। আওয়ামীলীগের বামপন্থী গ্রুপ ন্যাপ অথবা কম্যুনিজমের সাথে একাত্নতা ঘোষণা করেছে। আওয়ামীলীগের কিছু প্রভাবশালী নেতা অবশ্য নির্বাচনে লড়েছেন।

 

কে এস পি- কে এস পি বরাবরই একটা শিথিল এবং ঢিলা দল। দল ভেঙ্গে যাওয়ায় এটি মোটামুটি দমে গেছে। নিষ্প্রাণ কেএসপির অধিকাংশ নেতা যারা আসলে মুসলিম লীগের ছিল, সম্ভবত তাদের নিজেদের স্বরূপ চিনতে পেরেছেন এবং নির্বাচনে লীগ ঘেষা প্রার্থীদের সমর্থণ দিয়েছেন।

 

মুসলিম লীগ- নিষ্প্রাণ মুসলিম লীগ গোড়া গণতন্ত্রের ধারণাকে সমর্থণ করেছিলেন। যেহেতু তাদের কোন শক্তিশালী পার্টি সংগঠন ছিল না, এমনকি দল শিথিলিকরণের সময়ও, সেহেতু নির্বাচনে তাদের খুব বেশী প্রভাব ছিল না। অন্যদিকে গ্রাম এলাকার লোকজন যারা কিছু বছর আগে মুসলিম লীগের আদর্শের প্রতি সমর্থণ দিয়েছিল, তারা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই মুসলিম লীগ ঘেষা প্রার্থীদের নির্বাচিত করেছে।

 

নিজাম-ই-ইসলাম- প্রাক্তন নিজাম ই ইসলামও গোড়া গণতন্ত্রের ধারণাকে সমর্থণ দিয়েছিল, যদিও কাউন্সিলে পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্যাণ্ডিডেট নির্বাচনে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

 

যে ধরনের মানুষ নির্বাচিত হয়েছেন:

৪০ শতাংশ নির্বাচিত সদস্য হচ্ছেন পুরনো ইউনিয়ন বোর্ডে যেমনটা নির্বাচিত হত তেমন। অন্যরা, অপেক্ষাকৃত উত্তম এবং অধিক শিক্ষিত। ৩ শতাংশেরও কম নির্বাচিত প্রতিনিধি অশিক্ষিত। অন্যদের মধ্যে অধিকাংশই আণ্ডার মেট্রিকুলেট এবং কিছু উচ্চ শিক্ষিত।

 

সবচেয়ে বড় গ্রুপটা কৃষিবিদদের। তাদের পরেই আছে ছোটখাট ব্যবসা বাণিজ্যের লোকজন। অতীতে এই ধরনের লোক খুব কমই নির্বাচিত হত।

 

খুব অল্প সংখ্যক আইনের এবং অন্য পেশার লোক নির্বাচিত হয়েছেন, বিশেষত, শহর এলাকায়।

 

সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, ইউনিয়ন বোর্ডে যেমনটা নির্বাচিত হত এবার ইউনিয়ন কাউন্সিলে নির্বাচিতরা অধিক যোগ্য। ঢাকার ইউনিয়ন কাউন্সিলে নির্বাচিত কিছু প্রার্থী অতি উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন; একজন রিটায়ার্ড ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, একজন রিটায়ার্ড মেডিকেল কলেজ প্রিন্সিপাল, এবং একজন রিটায়ার্ড জাজ।

 

যাহোক, ইউনিয়ন কমিটির লোকজন কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া আগের মিউনিসিপ্যালিটির নির্বাচিত প্রতিনিধিদের চেয়ে নিম্নমানের। এর কারন হচ্ছে, ইউনিয়ন কমিটির কাজ এবং ক্ষমতা কার্যত নেই বললেই চলে, এবং যেটুকু আছে তা অতি ঝাপসা এবং অস্পষ্ট। একমাত্র আকর্ষণ হচ্ছে, ইউনিয়ন কমিটির সদস্যদের মধ্যে মাত্র একজন চেয়ারম্যান হবেন এবং তিনি মিউনিসিপ্যাল বোর্ডের এক্স অফিসিও সদস্য হবেন।

<2.011.056>

পৌরসভার সদস্য। এই চেয়ারম্যান নির্বাচনে গড়পড়তায় দশজনের মধ্যে একজনের প্রত্যাশা ছিল, যদিও অনেকেই এই কমিটিতে প্রতিযোগীতার আগ্রহই বোধ করেনি।

 

সিলেট এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে আগে যেখানে ১১০টি ইউনিয়ন বোর্ড ছিল, সেখানের সাধারণ প্রবণতা ছিল গ্রাম প্রধান ও মোড়লদের উপেক্ষা করা। প্রত্যাশার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয়দের আনুগত্য অতিক্রম করার মতো উপজাতিয়দের বন্ধন তেমন দৃঢ় ছিলনা। মোড়ল ও নেতাদের প্রভাব কমে যাওয়াটা লক্ষ্য করার মতো ছিল।

 

(গোপনীয়)

 

পাকিস্তানে প্রাথমিকগণতান্ত্রিক নির্বাচনে তথ্য প্রকাশের জন্য প্রশ্নসমূহের উত্তর-রেফা. লেটার নং- ৫০-১৯(৫)/৫৯-রেস.(-Ref. letter No. 50-19(5)/59-Res.), ১লা জানুয়ারী, ১৯৬০ তারিখে ব্যুরো অফ ন্যাশনাল রিকন্সট্রাকশন, করাচি হতে ব্যুরো অফ ন্যাশনাল রিকন্সট্রাকশন, ঢাকা’কে।

 

১। জেলাসমূহের নামঃ                                         পূর্ব পাকিস্তানের সকল ১৭টি জেলা।

২। জাতীয় সংসদের আসনবিন্যাস এবং মনোনয়নঃ

ক) মোট আসন সংখ্যাঃ                                         ৪০,০০০টি

খ) জেলাসমূহের দাখিল করা

মোট মনোনয়নপত্রের মোট সংখ্যাঃ                              ৮৭,১৯০টি

গ) সঙ্গত কারণে জেলাসমূহের

প্রত্যাখ্যাত মনোয়নপত্রের মোট সংখ্যাঃ                         ২,২৭৪টি (মূলত অনিয়ম ও অযোগ্যতার জন্যবাতিল)

ঘ) জেলাসমূহে প্রতিযোগীতায় থাকা মোট আসন সংখ্যাঃ                  ৩২,৯১৭টি

৩) প্রার্থীঃ

ক) গড় বয়সঃ                                                 ৩৫ হতে ৪০ এর মধ্যে

খ) শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ                                          মাধ্যমিক এবং আরো উচ্চতর   ৪,২৯৮ জন

নিম্ন মাধ্যমিক              ৩৪,৮১৪ জন

অশিক্ষিত                           ৮৮৮ জন

গ) পেশাগত ও আর্থিক অবস্থাঃ                                 মুলতঃ কৃষিবিদ ও ব্যবসায়ী আর সাথে অবসরপ্রাপ্ত

গুটিকয়েক সরকারী কর্মচারী। প্রাক্তন চাকুরীজীবী এবং

বৈধভাবে চিকিৎসার সাথে জড়িত। নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে শিক্ষিত শতাংশের উচ্চহারের সূচক দেখায় কৃষিবিদ; যারা ফিরে মূলতঃ মধ্যবিত্ত কৃষিজীবি পরিবার থেকে।

 

 

 

<2.011.057>

 

কৃষিবিদ-                                    ৩২,৯৮৬ জন

ব্যবসায়ী-                           ৫,৮১০ জন

ঠিকাদার-                           ৪৩৪ জন

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারি-       ২৫৭ জন

আইনজীবি-                         ২৯৮ জন

প্রাক্তন চাকুরিজীবি-                      ২১৫ জন

রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট-   ২,৮০০ জন

 

ঘ) সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে

তাদের পূর্বের কার্যক্রমঃ                                        অনুমান করা হয় যেনির্বাচিত সদস্যদেরপ্রায় ৭.৫ শতাংশ

বিপ্লবেরআগে থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কিছু

সংশ্লিষ্টতা ছিল; প্রায় ৪০ শতাংশ সদস্যরা নির্বাচিত হয় যারা

পুরনো ইউনিয়ন বোর্ডে নির্বাচিত হওয়ায় অভ্যস্ত ছিল। তাদের অধিংকাশই গ্রামাঞ্চলের সামাজিক বা অন্যান্য কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিল।

 

ঙ) নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা যে পদ্ধতি অবলম্বন করেঃ                 নিজেদের সামাজিক কার্যক্রম এবং প্রচারণা ও উল্লেখযোগ্য

বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে প্রতিটি ভোটারের দরজায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিতি।

যদিও প্রার্থীদের দ্বারা ভোটভিক্ষার জন্য কিছু জায়গায় জনসভা আয়োজিত হয়, মোটের উপর ভোটারদের দ্বারে দ্বারে তদবির করা পর্যন্তই ছিল প্রার্থী ও সমর্থকেরা সীমাবদ্ধ।

 

চ) নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীরা তাদের কি ধরনের

আহ্বান তৈরি করেছিল?                                        ব্যক্তিগত আহ্বানের ভিত্তিতে ভোটারদের জনসেবা

প্রদান করা, ন্যায়পরায়ণতা এবং পরিষেবার জন্য স্বক্ষমতা,

যা প্রার্থীর নিজেদের জন্যে বলে দাবী করেছে।

 

ছ) তারা কি কোন প্রকার কর্মসূচীকে

সামনে রেখেছিল?                                              না। দলগুলির নিষেধাজ্ঞা জারি সহ, কর্মসূচী ভিত্তিক নির্বাচন খুব

সম্ভবত অপ্রাসঙ্গিক ছিল।

 

জ) তারা কি ভোটারদের আস্থার যোগ্যতায় নিজেদের

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণরূপে জানিয়েছিল?                    হ্যাঁ, আহ্বান বেশীরভাগই স্বতন্ত্র ছিল এবং কোন প্রকারের

কর্মসূচীর ঘোষণা ছিলনা। [৩(ছ) কলাম দেখুন]।

 

৪) নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাবঃ

 

ক) জনতা কি এগিয়ে এসেছিল, হ্যাঁ।এর জন্য বিভিন্ন কারণ রয়েছে,প্রচুর পরিমান ভোটের দৃষ্টান্ত স্থাপনে?যদি

 

<2.011.058>

 

তাই হয়, এর জন্য কোন বিষয়গুলো দায়ী?                      i)ছোট ছোট নির্বাচনী এলাকা এবং ভোটকেন্দ্রগুলো

নৈকট্যতা

ii)নতুন ইউনিয়ন পরিষদের বৃহত্তর ক্ষমতা এবং বিপুল সংখ্যক জনতার বহুল আকাংখিত ক্ষমতা বণ্টন ও এর ফলাফল

iii) ব্যক্তি নির্বাচনের জন্য শুধুমাত্র এই বিধানগুলিই ছিল বর্তমান, এতে জনতার সহজাত গণতান্ত্রিক আবেগ জোরালো হয়ে ওঠে।

iv)সামাজিক ও পারিবারিক দ্বন্দ্বও প্রতিযোগীতায় উৎসাহী হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

v)রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা নিপীড়নের ভয়ে যে জনগোষ্ঠী সাধারণত নিষ্ক্রিয় ও নিরপেক্ষ থাকতো তারাও বিদ্যমান শান্ত পরিবেশে ভোটাধিকারের চর্চা করতে পারে।

vi)বিপুল সংখ্যক নারী ভোটার ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়েছিল নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো কাছাকাছি হওয়ায় এবং নারী অবমাননাগুলো নিষ্ক্রিয় করতে।

 

 

খ) এইটি কি রাজনৈতিক সচেতনতার জন্য ছিল?-             হ্যাঁ।

 

গ) যদি তাই হয়, এই রাজনৈতিক সচেতনতায়

কিসের অবদান ছিল?                                          একটি নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত এই প্রদেশের জনগণ তাদের

রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে কম-বেশী সবাই সচেতন ছিল।

তাদের এই সচেতনতা আরো জেগে উঠে ‘ব্যুরো অফ ন্যাশনাল রিকন্সট্রাকশন’ দ্বারা পরিকল্পিত ও কার্যকরী প্রচারণা কার্যক্রম চালু রাখার মাধ্যমে যাতে প্রথম ‘মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রকল্প’র কর্মকর্তা ও নেতৃস্থানীয়দের অকর্মকর্তাদের সহায়তায় এর গুরুত্ব, ভাবগাম্ভীর্যতা, মর্যাদা ও প্রভাব বিস্তার করে।

 

ঘ) এইটি কি বিভাগীয় বা দলগত অধিকারের জন্য ছিল?-       বিভাগীয় বা দলগত অধিকার নিয়ে তাঁদের নেতারা খুবই সামান্য সুযোগ দেখেছিল।কিছু গোপন দল তাদের নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে যে কোন স্থানে পৌঁছে দিতে সচেষ্ট ছিল, যদিও তাদের সাফল্য সীমিত ছিল।তাদের অংশগ্রহণ ও সাফল্যের সীমা উপযুক্ত সংস্থার তদন্তাধীন।

 

 

<2.011.059>

 

যতদূর দেখা যায়, অধিংকাশ আসনের প্রতিযোগীতা ছিল

স্বতন্ত্র ধারায় যেখানে বিভাগীয় বা দলগত অধিকারের কোন স্থানই ছিলো না।

 

ঘ) যদি তাই হয়, তবে দলগত বা বিভাগীয়

অধিকারের জন্য কারণগুলো কি কি ছিল?-                     সর্বশেষ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো,

সাথে গোপন দলীয় সংগঠনগুলো শুধুমাত্র দলীয় উদ্দেশ্যে পরিচালিত হওয়ার অবস্থানে ছিল। যে কোন রকমের বিরোধী সংগঠনের প্রতিদ্বন্দ্বী দল বা সাংগঠনিক অনুপস্থিতিতে তারা অনুমান করে নেয় যে তাদের জয়ের সম্ভাবনা আছে। এদের দলীয় স্বার্থ মূলতঃ দলীয় ভাবাদর্শ ও তাৎক্ষনিক উদ্দেশ্যগুলো বিস্তারের ইচ্ছাতেই পরিচালিত হয়। যেমন, নির্বাচন সংক্রান্ত দৃঢ় অবস্থান অর্জন যদি ইউনিয়ন পরিষদনির্বাচনী কলেজগুলোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সক্রিয়এবং ভবিষ্যত সংবিধানের অধীনে সংসদ সদস্য হয়ে। (রাজনৈতিক প্রভাব অনুচ্ছেদএবংএইপ্রতিবেদনের সাথেসংযুক্তনোটে ‘সংখ্যালঘুদের ভূমিকা’ দেখা যেতে পারে।)

 

৫) নির্বাচনের জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাঃ

 

ক) প্রতিটি কেন্দ্রে গড় কতজন ভোটারদের জন্য

খাদ্যাদি সরবরাহ করা প্রয়োজন ছিল?                          গড়ে ৫৩০ জন।

 

খ) এই উদ্দেশ্যে ব্যবস্থাপনা কি যথোপযুক্ত ছিল?

যদি না হয়ে থাকে, এই সম্পর্কিত ভুল ও দায়ভারঃ             ব্যবস্থাপনা যথোপযুক্ত ছিল, নির্বাচনের আয়োজন সুশৃংখল

ছিল এবং অভিযোগ ও অনুরোধ এসেছে খুবই কম। চারিদিকে সহযোগীতা ও মঙ্গলকামনার সুবাতাস বিদ্যমান ছিল। (প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার অনুচ্ছেদটি এই প্রতিবেদনের সাথে সংযুক্ত নোটে দেখা যেতে পারে।)

 

গ) ভাল অথবা ভুল ব্যবস্থাপনাগুলো ভোটের

উপর কিরূপ প্রভাব বিস্তার করেছে?                            নিকট অতীতের যেকোন নির্বাচনের চাইতেও তূলনামূলকভাবে

অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যেই বিশাল পরিমাণ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়ে যায়। এছাড়াও প্রায় সমস্ত কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল সূর্যাস্তের পূর্বেই ঘোষিত হয়।

 

ঘ) প্রতি নির্বাচনী এলাকার গড় আয়তন কত ছিল?             ১.২৫ বর্গমাইল।

 

ঙ) এইটি কি ছোট নির্বাচনী এলাকা বলেই সম্ভবপর

হয়েছে; যদি তাই হয়, বিদ্যমানভোটারতালিকা

কিসের ভিত্তিতে?                                              নির্বাচিত আসনের এলাকা আরো কমিয়ে আনা দুরূহ ছিল।

সর্বত্রই বিদ্যমান ভোটার তালিকাতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অল্পই বহু-সদস্যবিশিষ্ট

<2.011.060>

 

নির্বাচনী আসন ছিল কিন্তু একক ভোটের মাধ্যমে আলাদা করা দুস্কর ছিল। যতদূর সম্ভব, বেশির ভাগ নির্বাচনী আসনই একক সদস্যের ছিল।

 

৬) নির্বাচনের ফলাফলঃ                                        (বিস্তারিত হুবহু মুদ্রিত সংযুক্তিতে দেখুন)

 

ক) নির্বাচিত ব্যক্তিদের ধরণ।                                 সাধারণত, যে সকল লোক ইউনিয়ন পরিষদ/কমিটির জন্য

নির্বাচিত হয়েছে তারা হয়তো তাদের গ্রহণযোগ্য চারিত্রিক গুণাবলীর জন্য, কিন্তু এইসব ক্ষেত্রে কিছু লোকও এসেছে যারা আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহজনক চরিত্রের।

(এছাড়াও বিস্তারিত জানার জন্য “নির্বাচিত ব্যক্তিদের ধরণ” শিরোনামের অনুচ্ছেদটি অনুগ্রহ করে দেখুন)

 

খ) শিক্ষাগত যোগ্যতা।                                         (৩ নং অনুচ্ছেদটি দেখুন)। নির্বাচিতদের মধ্যে প্রায় ৯৭.৮%

শিক্ষিত। প্রায় ১০.৮% সদস্য মাধ্যমিক বা মাধ্যমিকের চাইতেও উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার, নির্বাচিত নিরক্ষর সদস্য মাত্র ২.২%।

 

গ) পেশাগত ও আর্থিক অবস্থান।                               অধিকাংশই মধ্যবিত্ত কৃষিবিদ। অল্প কিছু অবসরপ্রাপ্ত

সরকারী কমর্চারী, প্রাক্তন চাকুরীজীবি, আইনজীবি, চিকিৎসা পেশাজীবি এবং ব্যবসায়ী। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া নির্বাচিত সদস্যদের প্রায় সবার আর্থিক অবস্থান মধ্য ও নিম্ন-আয়ের দল।

 

ঘ) সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কার্যক্রম।          অধিকাংশই স্থানীয় সমাজকর্মী এবং অল্প সংখ্যক আছে যারা

আগে থেকেই রাজনৈতিক কর্মজীবন আছে।

 

ঙ) সফল প্রার্থী বা প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনের জন্য

পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী।                                         সাধারণ মানুষের সেবার আবেদন/আহ্বান ছাড়া কোন

সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী ছিল না।

 

চ) কতগুলো আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থেকে যায়

এবং আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দিতাহীনতার

কারণগুলো কি কি?                                            বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মোট আসন সংখ্যা ছিল৭,০৮৩টি;

আর কারণগুলো হচ্ছে প্রত্যাখ্যান, মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং আপস-রফা।

 

 

 

 

  1. i) এর কারণ কি প্রার্থীর অভিভূতকারী জনপ্রিয়তা? প্রধানত প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও প্রভাব বিস্তার বিনাপ্রতিদ্বন্দিতার

কারণ। কিছু জায়গায় শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি থাকায়

মনোনয়নপত্র বাতিল, কিছু জায়গায় পুরুষদের আর্থিক

সংস্থানের অপ্রাচুর্যতা এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নির্বাচন

ব্যহত করে।

 

<2.011.061>

 

II.এটাকিতাদেরপ্রতিদ্বন্দতাপূর্ণনির্বাচনেঅনাগ্রহেরকারনেই?

->আগ্রহ কম থাকার কারনে প্রতিদ্বন্ধীতাহীন নির্বাচনের উদাহরন কমই আছে।

III. এটাকিতাদেরমনোনয়নপত্রজমাদেওয়ারআগেরবাপরেরকোনকারসাজীর কারনেই?

->না।

  1. যেসকলআসনেকেউপ্রতিদ্বন্দিতাকরারজন্যএগিয়েআসেনিএবংতারকারণঃ

১৪বগুড়াজেলারদশটি , রাজশাহীজেলারতিনটিএবংখুলনাজেলারএকটিআসনেকেউপ্রতিদ্বন্দিতাকরেনি।বগুড়ারএকটিআসনেসাতজনসদস্যনির্বাচনকরতেব্যর্থহয়েছিল, যারঅধিকাংশইছিলরেলওয়েকর্মচারীওরিফিউজিঅর্থাৎতাদেরভোটাধিকারছিলনা।আরোএকটিআসনে৩জনসদস্যনির্বাচিতহয়নিনির্বাচনীসীমানানিয়েকিছুবিতর্কথাকারকারনে।রাজশাহীজেলার৩টিএবংখুলনাজেলারএকটিআসনেনির্বাচননাহবারকারনএখনোরিপোর্টকরাহয়নি।

৭। ভোটারদেরগড়শতাংশওভোটগণনারহারঃ

  1. a) প্রতিটিনির্বাচনীএলাকায়গড়ভোট – ৫৩০টি।

b)ভোটগণনাহয়েছে – সর্বমোট- ১১৭৯০৯২৭টি

পুরুষ – ৭৬৫৮৮৮১টি

মহিলা – ৪১৩২০৪৬টি

c)তুলনামূলকভোটপরিসংখ্যান ( পুরুষ / মহিলা )আগেরপৌরসভা /গণপরিষদনির্বাচনঅনুযায়ী

ঃপুরুষ৫০শতাংশ

মহিলা২০শতাংশ

g)সবজেলায়ভোটগ্ণনারশতাংশ ( মৌলিকগণতন্ত্র ) -পুরুষ -৬৭শতাংশ

মহিলা – ৪২শতাংশ (গড়ে)

৮।অন্যকোনবিশেষবৈশিষ্ট্যযাস্থানীয়কর্তৃপক্ষউল্ল্রখকরতেচায়ঃভোটারদেরএকটিবড়সংখ্যাতাদেরভোটাধিকারপ্রয়োগেউপস্থিতছিলেন।শান্তিওশৃঙ্খলারসাথেভোটপ্রদানকরেছেনএবংকোথাওবাহ্যিকঘটনারজন্যঅনুযোগআসেনি।যদিওমাঝেউপরমহলথেকেজেলাম্যাজিস্ট্রেটেরঘনঘনমতপরিবর্তনকরারকারনেমাঝেমাঝেসমস্যারসম্মুখীনহতেহয়েছে।

<2.012.062>

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
শহীদ দিবস উদযাপন সম্পর্কে সরকারী প্রতিবেদন সরকারী ২৫ ফেব্রুয়ারী, ১৯৬০

 

প্রেরকঃজাফর ইকবাল, (EsQ., Csp,)জরুর

ডেপুটি ডিরেক্টর।

 

গভমেন্ট অব পাকিস্তান

ব্যুরো অব ন্যাশনাল রিকন্সট্রাকশন

পাকিস্তান সচিবালয়. নং.,

ওল্ড ফ্ররেস্ট অফিস বিল্ডিং,জেইল রোড।

নং: ৭০৪/৬১ডিপিইউয়াই,রাওয়ালপিন্ডি, তারিখ: ২১শে ফেব্রুয়ারী,১৯৬১।

প্রিয় জনাব আহমেদ,

ডি.বি.আর.শহীদ দিবসের(২১শে ফেব্রুয়ারী)উপর একটি রিপোর্ট আশা করছে,আপনি দয়া করে আপনার মতামত সহ রিপোর্টটি অতি শীঘ্রই প্রেরণ করুন।

 

আন্তরিকতার সহিত।

আপনারই,

জাফর ইকবাল

এ এম এস আহমেদ, (EsQ., Psp.),

ডিরেক্টর,

ব্যুরো অব ন্যাশনাল রিকন্সট্রাকশন

গভমেন্ট অব ইস্ট পাকিস্তান

ঢাকা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<2.012.063>

 

 

গোপনীয়/জরুরী

ব্যুরো অব ন্যাশনাল রিকন্সট্রাকশন

   পূর্ব পাকিস্তান,ঢাকা

ডি.. নং. ১২৫ডি.বি.এন.আর.                                       ১লা মার্চ,১৯৬১

প্রিয় জাফর ইকবাল,

আমি শহীদ দিবস পর্যবেক্ষণের উপর একটি রিপোর্ট সংযুক্ত করছি।পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রদের উপর শহীদ দিবস ভাব এবং আবেগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করেছে।ধ্যান ধারণা উপস্থাপনের মাধ্যমে বামপন্থীরা সবসময়ই এই আবেগকে কাজে লাগিয়েছে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য,যা আপাতদৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য।ছাত্রদের নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে একটি বিবাদে জড়ানোই এই বছরের শহীদ দিবসে তাদের লক্ষ্য ছিল।এটি করতে তারা যদি সফল হয়ে থাকে তবে তারা এই অবস্থাকে বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধের শুরু হিসেবে কাজে লাগাতো।আমি ধরে নিলাম তাদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে।শহীদ দিবস উদযাপন ছিল শান্তিপূর্ণ,শৃংখল এবং পরিপাটি,তাছাড়াও মাত্রাতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মত অপ্রয়োজনীয় বাড়াবাড়ি না করে ছাত্রদের দিবসটি পালন করতে দেয়া ছিল সরকারের বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত।

২. সংযুক্ত রিপোর্ট থেকে লক্ষ করা যাবে যে,বামপন্থীরা যদিও পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসন এবং সংসদীয় সরকারের দাবী জানিয়েছিল তারপরও এই বিষয়গুলো কোন পর্যায়েই উত্তাপিত হয়নি।

৩. ২১শে ফেব্রুয়ারি উদযাপনের আগে যে আবেগ প্রজ্বলিত হয় তা খুবই তাড়াতাড়ি দমে যায়। এ বছরও এমনটিই হয়েছে। ২১শে ফেব্রুয়ারী উদযাপনে সুদূর প্রসারী কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়নি।

৪. যে দুষ্টচক্র ছাত্রছাত্রীদের প্ররোচিত করছে তারা পরিচিত এবং সরকার গুটিকয়েক এই চক্রের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়ার বিবেচনা করছে। তাদের সংখ্যা অর্ধডজন খানেক

 

 

<2.012.064>

 

 

গোপনীয়

ইন্টিলিজেন্স ব্রাঞ্চ, ইস্ট পাকিস্তান

                                                          লালবাগ,ঢাকা.

২৩শে ফেব্রুয়ারী,১৯৬১.

নং. ৩৫৮২

প্রাপক,

এ.কিউ. আনসারী, EsQ.,

সচিব ,গভমেন্ট অব পাকিস্তান,

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, ঢাকা।

বিষয়:২১শে ফেব্রুয়ারী,১৯৬১ শহীদ দিবস উদযাপন।

১. বিগত বছরের ন্যায়,বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একত্রিতভাবে শহীদ দিবস উদযাপন করেছে।

যথারীতি ঢাকায় ব্যপকভাবে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। এখানে কিছু বয়স্ক লোকও সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছে।

২. পুর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি ১২ই জানুয়ারী ১৯৬১-তে একটি বাংলা পরিপত্র জারি করে যেখানে তাদের দলের কর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়,শহীদ দিবস উদযাপনে নিম্নবর্ণিত দাবীগুলো উত্তাপনে:

(১) পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসন।

(২) সংসদীয় গণতন্ত্র।

(৩) দাপ্তরিক ভাষা বাংলা করা।

(৪) ২১শে ফেব্রুয়ারী ছুটিরদিন ঘোষণা করা

(৫) শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা।

আরো প্রস্তাব করা হয়,যদি জনগণকে সংহত করে একত্রিত ভাবে দিনটি উদযাপনের চেষ্টা করা যায়,তবে এটি হবে সরকারের বিরুদ্ধে একটি সফল “প্রতিরোধ দিবস”

ঢাকা জেলার সাংগঠনিক কমিটির পক্ষ থেকেও শিক্ষার্থীদের দ্বারা সরকারের সামনে উত্তাপনের জন্য একটি পরিপত্র জারি করা হয় যাতে নিম্নবর্ণিত দাবীগুলো ছিল:

(১) ২১শে ফেব্রুয়ারী সরকারী ছুটিরদিন ঘোষণা।

(২) শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ শেষ করা।

(৩) পূর্ব পাকিস্তানের সকল দাপ্তরিক কাজে এবং উচ্চ শিক্ষায় বাংলা ভাষাকেইযাতে মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

৩. উল্লেখ্য যে,১-১-৬১ তারিখের নারায়ণগঞ্জ শহরের ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি একটি গোপন মিটিংয়ে দিবসটি জনগণ এবং তরুণদের সহযোগীতায় যথার্থভাবে উদযাপন করার এবং শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের উপর ছেড়ে না দেয়ারসিদ্ধান্ত নিয়েছিল

<2.012.065>

৪. ঢাকার তরুণলীগ কর্মীরাও ২৭-১-৬১ তারিখে একটি গোপন মিটিং করে।তারা সিদ্ধান্ত নেয় দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করার এবং ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা শহীদ মিনার সাজানোর উদ্যোগ নেয়। এছাড়াও স্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকাগুলোকে ক্রোড়পত্র ছাপানোর আহবান জানায়।

৫. পত্রিকাগুলো সেই অনুযায়ী রাজি হল কিন্তু তারা কোন প্রকার ক্রোড়পত্র ছাপাতে অস্বীকৃতি জানাল।যদিও দৈনিক ইত্তেফাক এবং সংবাদ,সম্পাদকীয় পাতায় লিখল।সংবাদ পত্রিকাটি অসম্পূর্ণ শহীদ মিনারে ছবিও ছাপানো হল।সেদিনের জন্য পাকিস্তান অবজারভার,ইত্তেফাক এবং সংবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অফিস বন্ধ করে দেয় কিন্তু পরবর্তী দিন পত্রিকা ছাপানোর ব্যবস্থা করে রাখে।

৬.যেহেতু পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (ইপিএসইউ),ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন(ডাকসু) এবং অন্যান্য হলের উপর কতৃত্বকারী অবস্থানেছিল সেহেতু তাদের সমর্থকগণ শহীদ দিবস উদযাপনের প্রস্তুতিতে তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখে।

৭. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইপিএসইউ কর্মীরা ১লা ফেব্রুয়ারী ১৯৬১-এ একটি গোপন মিটিংয়ে কর্মসূচীর খসড়া সিদ্ধান্ত নেয়।সভায় সিদ্ধান্ত হয় ডাকসুর সহ-সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যান্য হলের ইউনিয়ন এবং ঢাকার অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদলসহ সবাইকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে,লিফ্লেট,পোস্টার ছাপাতে,প্রভাত ফেরী বের করতে,শহীদের কবরে পূষ্পর্ঘ্য অর্পণ করতে,শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে এবং জ্ঞানার্জনে বাংলা ভাষাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে এবং বিকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে একটি মিটিং আহ্বান করা হবে।

৮.তদনুযায়ী ৮ই ফেব্রুয়ারী,১৯৬১ তে ডাকসুর সহ-সভাপতি,জাহান আরা আক্তার(ইপিএসইউ)এর নেতৃত্বে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হয় ডাকসু অফিসে।মিটিংয়ে ডানপন্থী গ্রুপের কিছু প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।এনএসএফ,এসএফ এবং ইপিএসএল এর প্রতিনিধি থাকলেও বেশিরভাগই ছিল ইপিএসইউর।মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়,শান্তিপূর্ণভাবে শহীদ দিবস উদযাপনের,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ভিপি এবং জিএস এর স্বাক্ষরসহ পত্রিকায় বিবৃতি জারি করা,দিবসটি উদযাপনে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো,২১শে ফেব্রুয়ারী সরকারী ছুটি ঘোষণা করার জন্য,শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করা এবং জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এবং দাপ্তরিক কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে সরকারকে তাড়া দেয়া।।

ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে প্রভাতফেরীতে অংশগ্রহণ করা,শহীদদের কবর পরিদর্শন করা এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পূষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা সহ অনুষ্ঠানের একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচী নেয়া হয়।যা পরবর্তী দিন(৯-২-৬১) পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

লিফলেটের মাধ্যমে বিস্তরভাবে প্রচারণা চালানো হয়।জগন্নাথ কলেজে,কার্জন হল,বিশ্ববিদ্যালয় গেইটে এবং ঢাকা হল মিলনায়তনের কাছে বাংলায় কিছু বেনামী পোস্টার পাওয়া যায়,যাতে যথার্থভাবে শহীদ দিবস পালনের আহ্বান করা হয়।রমনা এলাকার ন্যাশনাল ব্যাংক বিল্ডিং এর পাশে শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়।

৯. দিবসটির সফলতার জন্য,শিক্ষার্থীরা ২১শে ফেব্রুয়ারী প্রভাতফেরীতে তাদের নিজ নিজ হল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জড়ো হয়।তারা ভাষা আন্দোলনের শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে পূষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে।

 

 

<2.012.066>

সলিমুল্লাহ হল,ইকবাল হল,আবদুর রহমান হল এবং জগন্নাত কলেজ প্রাঙ্গনে কাল পতাকা উত্তলন করা হয়।

শিক্ষার্থীরা খালি পায়ে এবং ব্যাজ পড়ে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আজিমপুর কবরস্থানে স্লোগান দিতে থাকে। কাগজের ব্যাজগুলোতে লেখা ছিল “শহীদ স্মৃতি অমর হউক” এবং “একুশে ফেব্রুরায়ী জিন্দাবাদ” অথবা শুধু কাপড়ের তৈরি ছিল সেগুলো।

যাত্রাপথে,প্রভাতফেরী তারা গেয়েছিল এবং নিম্নবর্তী স্লোগানগুলো দিয়েছিল:

১.“একুশে ফেব্রুরায়ী জিন্দাবাদ”

২.“শহীদ স্মৃতি অমর হউক”

৩.“রোমান হরফে বাংলা লেখা চলবেনা”

৪.“শহীদ মিনার সম্পুর্ণ কর”

৫.“ছাত্র জনতা এক হও”

৬.“২১শে ফেব্রুয়ারী সরকারী ছুটি ঘোষণা কর”

৭.“ধোঁকাবাজী চলবেনা”

১০. আজিমপুর কবরস্থানে পৌঁছানোর পর তারা,১৯৫২-তে পুলিশের গুলিতে নিহত বরকত এবং সালামের কবরে পূষ্পর্ঘ্য অর্পণ করে।

নিচের লেখাটি বাঁশের মাথায় লাল কাগজে লিখে তাদের মধ্য থেকে কিছু লোক কবরে রেখে যায়ঃ

“হে আমার দেশ,বন্যার মত,প্রচন্ড অভিজ্ঞতার পলিমাটিকে সরিয়ে এনে একটি চেতনাকে উর্বর করেছি-এখানে আমাদের মৃত্যু ও জীবন সমাধি”

“আমার ভাষা বাংলা,আমি বাঙ্গালী এই মহান বার্তা নিয়ে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়েছিল বঙ্গ জননীর সেই প্রিয় সন্তান।”

 

<2.012.067>

“মৃত্যুকে যারা তুচ্ছ করেছে ভাষা বাঁচার তরে,আজিকে স্মরিও তারে”

১১. কবরস্থান থেকে দুই লাইনে ভাগ হয়ে একশ মেয়ে সহ প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী ৭.৪৫ মিনিটে স্লোগান দিতে দিতে শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।একটি কালো ব্যানারে বাংলা তাদের দাবীগুলো লেখা ছিল।“২১শে ফেব্রুয়ারীকে ছুটির দিন ঘোষণা করা,শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করা এবং জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহার করা”র মত দাবীগুলো লেখা ব্যানারে লেখা ছিল।অন্য একটি ব্যানারে লেখা ছিল,“শহীদ স্মৃতি অমর হউক।”প্রথমটি জগন্নাথ কলেজের এবং দ্বিতীয়টি ঢাকা হলের শিক্ষার্থীরা বহন করছিল।

১২. ধীরে ধীরে শোভাযাত্রাটি পিলখানা রোড়,ফুলার রোড,নীলক্ষেত রোড,ময়মনসিংহ রোড,আবদুল গণি রোড,ওল্ড গভঃ হাউস রোড,সেক্রেটারিয়েট রোড(মেডিকেল কলেজের আগে) ধরে এগিয়ে ১০টার দিকে মেডিকেল কলেজের গিয়ে শেষ হয়। তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পূষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে এবং সেখানে জড়ো হয়।

ভবিষ্যতে দিবসটি উদযাপন করতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়ে,বক্তব্য দেন ইপিএসইউ’র ঢাকা হলের সাধারণ সম্পাদক তাহেরুদ্দিন ঠাকুর।পুলিশের গুলিতে নিহত বরকতের পিতামাতার পাঠানো একটি চিঠি পড়ে শোনান এ কে এম জিয়াউদ্দিন(ইপিএসইউ)।তারপর ডাকসুর সহসভাপতি জাহান আরা আক্তার নিম্নের রেজুলেশনটি পড়ে শোনানঃ

১. শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করা।

২. ২১শে ফেব্রুয়ারী সরকারী ছুটি ঘোষণা।

৩.   বাংলা ভাষার উন্নতি বিধানে বাংলা একাডেমি যাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে,সে আহ্বান করা হয়।

১০টা ১৫ মিনিট থেকে শোভাযাত্রাকারীরা স্থান ত্যাগ করতে শুরু করে।

১৩. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ফুল দিয়ে সজ্জিত ছিল।মিনারের উপর একটি বড় কাল পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং ফুলগুলো একটি বড় কাপড়ের টুকরো দিয়ে ঢাকা ছিল।শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করার দাবী জানিয়ে কেন্দ্রস্থলে একটি লাল পোস্টার টাঙ্গানো হয়।দিবসটি উদযাপন এবং এর তাৎপর্য নিয়ে মিনারের পাদদেশে হাতে লেখা নিন্মোক্ত নিবন্ধসমূহঝুলছিল –

১. চতুষ্কোণ,ঢাকা হল ইউনিয়ন।

২. শিখা,ফজলুল হক মুসলিম হল ইউনিয়ন।

 

 

 

 

 

 

 

<2.012.068>

৩. পদক্ষেপ,ঢাকা মেডিকেল কলেজ ইউনিয়ন

৪. রাক্তা আক্তার,সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ইউনিয়ন।

১৪. দিবসটি উদযাপনে নেতৃত্ব দেন নিম্নবর্ণিত শিক্ষার্থীরাঃ

১। বদরুল হক(ইপিএসইউ), ইকবাল হল,

২। মওদূদ আহমেদ (পিএসএফ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,

৩। তাহেরুদ্দিন ঠাকুর (ইপিএসইউ),সাধারণ স্মপাদক,ঢাকা হল ইউনিয়ন

৪।দ্বিরেন্দ্রনাথ হালদার (ইপিএসইউ-কর্মী),সহসভাপতি,জগন্নাথ হল ইউনিয়ন,

৫।এ কে এম জিয়াউদ্দিন (ইপিএসইউ),ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,

৬।অমূল্য কুমার রায় (ইপিএসইউ-কর্মী),সাধারণ স্মপাদক,ডাকসু,

৭।বেগম জাহান আরা আক্তার (ইপিএসইউ-কর্মী),সহসভাপতি,ডাকসু,

৮।এ জেড এনায়েতউল্লাহ খান (ইপিএসইউ)

৯।আবদুল লতিফ মল্লিক,মেডিকেল কলেজ

১০।জাহাঙ্গীর খালিদ (ইপিএসইউ-কর্মী),সহসভাপতি,ঢাকা মেডিকেল কলেজ ইউনিয়ন,

১১।আমিনুল ইসলাম (ইপিএসইউ),প্রাক্তন সহসভাপতি,ডাকসু

১২। আশরাফ উদ্দিন মাকবুল (ইপিএসইউ), প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক,ডাকসু,

১৩।এ এন এম শহীদ ওরফে শহীদ সিং (ইপিএসইউ),সহসভাপতি,ঢাকা হল।

দিবসটি উদযাপনে এ আর ইউসুফ(এন এস এফ)-কেও দেখা যায়।

১৫. এছাড়াও শোভাযাত্রায় যারা এসেছিল তাদের মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী এবং লোকজন আলাদা ভাবে শহীদ মিনারে ফুল দেয়।(১)কাজী জহিরুল হক সন্তান সহ(C.P.-Security Prisoner)(২) কে এম ইলিয়াস (C.P.)(৩)ডাঃ এ করিম (Y.L./N.A.P.)(৪)আব্দুর রহমান (EPSU)(৪)মিজানুর রহমান (Y.L.)(৬)আবদুর রশীদ (Y.L.) (৭) শামসুল আরেফিন(ইপিএসইউ), (৮) শাহ আজিজুর রহমান (ইপিএসইউ), (৯) আলাউদ্দিন আল আজাদ,অধ্যাপক,জগন্নাথ কলেজ,ঢাকা এবং (১০) আনোয়ার জাহিদ (Y.L.) সহ অনেকেই তাদের মধ্যে ছিলেন।

১৬. বাংলা একাডেমী,কার্জন হল,সলিমুল্লাহ মুসলিম হল,ফজলুল হক মুসলিম হল,জগন্নাথ হল সহ আরো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিকালে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১৭. বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে বাংলা একডেমী প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা হয় এবং একডেমীর পরিচালক ডাঃ সৈয়দ আলী আহসান এর সভাপতিত্বে ৩.৩০-৫.০০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলে।উক্ত সভায় সাহিত্যে আগ্রহী প্রায় ৬০ জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তৃতা করেন।

 

<2.012.069>

উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিকদের মধ্যে আছেন,ডঃ মোঃ শহিদুল্লাহ,প্রফেসর মুনির চৌধুরী,প্রফেসর আশরাফ সিদ্দিকী,প্রফেসর হাসান জামান(টি.এম),প্রফেসর আবুল কাসেম এবং রওশন আরা বেগম।জীবনের বিনিময়ে পাওয়া বাংলা ভাষার পরিপূর্ণতার জন্য সভাপতি সহ সকলেই এই ভাষার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির কথা বলনে।

১৮. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সবসময় বড় আলোচনা সভাটি হয় কার্জন হলে।উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাঃ কাজী মোতাহের হোসাইন।উপাচার্যও সভায় উপস্থিত ছিলেন।পূর্ব পাকিস্থানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জনাব আতাউর রহমান খান(আ.লীগ) এবং পুর্ব পাকিস্তানের প্রাক্তন মন্ত্রী,জনাব মাহমুদ আলী(আ.লীগ), সহ প্রাক্তন কিছু রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

জগন্নাথ কলেজের প্রফেসর অজিত গুহ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালইয়ের প্রক্টরবৃন্দ-প্রফেসর মোফজ্জল হায়দার চৌধুরী,প্রফেসর আনিসুজ্জামান,ডাঃ জি.সি. দেব এবং জনাব নুরুল মোমেন বক্তৃতা রাখেন।তারা সকলে দিনটির তাৎপর্য নিয়ে কথা বলেন এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন ভাষার উন্নয়নে কঠোর পরিশ্রম করতে।নিম্নের রেজুলেশনগুলো পাশ করা হয়ঃ

১। তাড়াতাড়ি শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ শেষ করা।

২। ২১শে ফেব্রুয়ারী সরকারী ছুটি ঘোষণা।

৩। দাপ্তরিক এবং জাতীয় জীবনে বাংলা ভাষার ব্যবহার করা।

৪। বাংলা ভাষার প্রচারে বাংলা একাডেমীকে সচল করা।

৫। রপমান লিপি এবং অন্য কোন ভাষা বাংলাতে ব্যবহার সহ্য না করা।

৬। পুলিশের গুলিতে নিহতদের কবরে সরকারী খরচে পোক্কা নির্মাণ করা।

কাজী মোতাহের হোসাইন রেজুলেশনে ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে ডাকসু কর্মকর্তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন কিন্তু উপস্থিতির হাত উত্তোলনের মাধ্যমে রেজুলেশন পাশ হয়।

বাংলা গানের মাধ্যমে ভাষা এবং দিবসটির প্রশংসা করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আলোচনা সভার সমাপ্ত হয়।

১৯. এস এম হলের সভায় সভাপতিত্ব করেন হল প্রোভোস্ট ডাঃ এম হক এবং এফ এইচ হল ও জগন্নাথ হল সমূহের হল ইউনিয়ন সহসভাপতি নিজ নিজ হলের সভায় সভাপতিত্ব করেন।একই ধারায় এই সভাগুলোতেও বক্তৃতা রাখা হয় এবং কার্জন হলে যে রেজুলেশন গ্রহণ করা হয় তা এখানেও পাশ হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ লেকচার গ্যালারীতে হওয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক সংবাদের সহকারী সম্পাদক রনেশ দাস গুপ্ত (C.P./Security Prisoner)।তথ্যটি যাচাই করা হয়েছে।

২০. বিকালে কিছু শিক্ষার্থী মোমবাতি দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আলোকিত করে।

 

<2.012.070>

 

২১. কাল পতাকা উত্তোলন,শোভাযাত্রা করা,স্লোগান দেয়া এবং শহীদ মিনারে সভা করার সিদ্ধান্ত,৮-২-৬১ তে করা অনুষ্ঠানের কর্মসূচীতে ছিলোনা,যা ৮ম অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে।

এই বছরের দেয়া স্লোগানগুলো প্রায়ই গত বছরের ন্যায়।গতবছরও একটি শোভাযাত্রা করা হয়েছিল।কিন্তু কবরস্থান এবং শহীদ মিনারের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ ছিল।এই বছর এটি আরো বড় পরিসরে ছিল এবং সচিবালয়ের কাছে সংরক্ষিত এলাকাতেও তারা প্যারেড করে যায়।

২২. শোভাযাত্রা এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সভা এম.এল.-এর নির্দেশনার লঙ্ঘন করছে কিনা তা জানতে চেয়ে ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ডিআইইবি,পাবলিক প্রসিকিউটরের সাথে আলোচনা করেন।তার মতামতের একটি কপি সংযুক্ত করা হল।তবে তা তেমন কাজের না।

২৩. পূর্ব পাকিস্তান সরকার ৬ই ফেব্রুয়ারী,১৯৬১-তে মেমো নং. ১১১(১৭)-পোল/এস(১)-এ দিনটির জন্য একটি কর্মপন্থা ঠিক করে দেয়।যদিও সক্রিয় কোন ধ্বংসাত্মক ব্যক্তি বা রাজনীতিবিদের খবর পাওয়া যায়নি।শোভাযাত্রা এবং শহীদ মিনারের সভায় অগ্রগণ্য ভূমিকা পালনকারী শিক্ষার্থীদের উপাচার্য দ্বারা নোটিশ দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদেক্ষেপ নেয়ার হুশিয়ারী করতে আমি পরামর্শ করছি।

যদিও বাইরের কোন ব্যক্তিকে শোভাযাত্রা এবং শহীদ মিনারের সভায় নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়নি,তবুও আমরা যাচাই করে দেখছি।যদি এমন কাউকে পাওয়া যায়,তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(এ.এস.এ. কবির)

ডেপুটি ইন্সপেক্টর-জেনারেল অব পুলিশ

ইস্ট পাকিস্তান,ঢাকা

 

পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত

বিষয়টি নিয়ে পাবলিক প্রসিকিটরের মতামত ডিআইবি ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি এবং আনুষাঙ্গিক কিছু কাগজ পেয়েছি।

ভবিষ্যতের কিছু উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কিছু শিক্ষার্থী দ্বারা রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতায় ২১শে ফেব্রুয়ারী উদযাপিত হয়।বর্তমান সরকার রাজনৈতিক দলের উপর ইতিমধ্যেই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।গতকাল(২১শে ফেব্রুয়ারী) শিক্ষার্থীরা যে শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেয়।আমার মনে হয় এর সাথে কোন রাজনৈতিক দলের যোগসাজেশ নেই।শোভাযাত্রায় অংশ নেয়াদের যদি কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য না থাকে এবং এটি যদি মৃত আত্মার প্রতি সমবেদনার তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ হয়ে থাকে,তাহলে শোভাযাত্রাকে কোন ভাবেই রাজনৈতিক বলা যাবেনা।যদি তাদের রাজনৈতিক উদ্দশ্য থাকে,তাহলে অবশ্যই এটি রাজনৈতিক এবং এটি এম.এন.আর নং ৫৫এ.-এর মধ্যে পড়ে।

 

<2.012.071>

পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী শহীদ মিনারে যে সভা হয় তাতে কোন সভাপতি ছিলনা,কিন্তু সেখানে জনবহুল একটি জায়গায় ছাত্রছাত্রী এবং জনগণের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সভাটি যেহেতু অননুমোদিত এবং যা এম.এম.আর নং. ৫৫এ. বিধানের লঙ্ঘন করে।

লিফলেট সম্পর্কে,এটি শহীদ দিবস উদযাপনের বিস্তারিত কর্মসূচী নিয়ে ছাপান।এতে তাদের দাবীর কিছু প্রতিকার ছিল যা তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

স্বাক্ষরিত/মোঃ আবদুল আলিম

পি.পি.ঢাকা

২২-২-৬১

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<2.013.072-76>

২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬১ তারিখের পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন

প্রথম ভাগ

রাজনৈতিক

১) ঢাকায়সফরকালেরাষ্ট্রপতিগভর্নরহাউজেদু’দলনাগরিকেরসাথেঅনানুষ্ঠানিকবৈঠককরেছেন

২) এবছর২১ফেব্রুয়ারিতেশহীদদিবসউদযাপনছিল আরো দ্বিধাহীন।শহীদদিবসেঢাকায়অনুষ্ঠিতমিছিলটিছিলপ্রায়একমাইললম্বা।কয়েকটিবিবরণীথেকেউদ্ধৃতকরাহলো:

“এবারেমূলবিষয়বস্তুছিলপাকিস্তানেররাষ্ট্রভাষাহিসেবেবাংলাকেআরোইতিবাচকভাবেতুলেধরারব্যাপারেজনতারদাবিরপ্রতিপ্রত্যক্ষসমর্থনএবংরোমানলিপিচালুকরারপ্রস্তাবনারসরাসরিপ্রত্যাখ্যান।”

“দাবিসমূহেরমধ্যেএকটিছিলসরকারযাতেস্মৃতিস্তম্ভতৈরিসমাপ্তকরে।এতেব্যর্থতালজ্জ্বাজনকএবংজাতিগতব্যর্থতারচিহ্নহিসেবেবিবেচিতহবেবলেওদাবিতেউল্লেখকরাহয়।”

“জাতীয় ঐক্য ও সংযুক্তির ধুয়া তুলে বাংলার নামে নতুন ভাষা তৈরি বা রোমান লিপি চালু করার প্রচেষ্টাকে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ হিসেবে অভিহিত হয়েছে।”

রোমান লিপি চালুর প্রস্তাবনায় জনগণের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ভাষা সম্পর্কিত সকল প্রশ্নে স্থানীয়দের সংবেদনশীল অনুভূতির পরিপ্রেক্ষিতে, এ ব্যাপারটি আরো পরীক্ষানিরীক্ষার অবকাশ রাখে, এবং বাংলা একাডেমিতে অনুসন্ধানের জন্য এটি একটি বিষয় হতে পারে। এ ব্যাপারে আলোচনাসমূহ একাডেমিক পর্যায়ে নিতে হবে। যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে এ প্রস্তাবটি নিরীক্ষা করে কার্যকর একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন, সংবাদ মাধ্যমে রোমান লিপি চালু করার পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনাকে উৎসাহিত করা, শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই রোমান লিপির সাথে পরিচিত এ ব্যাপারটির ওপর জোর দেয়া। ইংরেজি ভাষার আন্তর্জাতিক গুরুত্বের ভিত্তিতে প্রাথমিক শিক্ষায়, উদাহরণস্বরুপ দ্বিতীয় শ্রেণীতে, ইংরেজির সাথে বাচ্চাদের পরিচিত করা একটি ধাপ হিসেবে হয়তো বিবেচনা করা যেতে পারে, যাতে করে যেসব শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার বেশি অর্জন করবে না তারা যাতে রোমান লিপির ওপর কাজ চালানোর মতো জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং পরবর্তীতে রোমান লিপি চালু হলে যাতে তাদের নতুন করে সেটি শিখতে না হয়।

৩) জনগণের মনে উচ্চ দ্রব্যমূল্য এবং প্রশাসনের কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনগনের মতামত অনেকটা এরকম যে দুটো প্রশ্নেই সরকারের আরো বেশি মনোযোগ দেয়া দরকার। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয়া এবং বিকেন্দ্রীকরণের জন্য প্রশাসনিক কমিশনের সুপারিশসমূহ যাতে সর্বতোভাবে প্রয়োগ করা হয় সেটা নিশ্চিত করা – এ দু’টি ব্যাপারে সমর্থন রয়েছে।

৪) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঠেকাতে অক্ষমতার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছে সংবাদমাধ্যম । অনেক সংবাদ প্রতিবেদন এবং সম্পাদকীয় মতামতের আবেগী ভঙ্গি বেশ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে শরণার্থী জনগোষ্ঠীর মধ্যে। ফলাফলস্বরূপ যশোর, খুলনা, রাজশাহী এবং রংপুরে কিছু ঘটনা ঘটেছে। সংবাদমাধ্যমে ঘটনাগুলোকে খুব বেশি প্রাধান্য দেয়া হয় নি এবং অবস্থা খুব দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

এ ঘটনার সাথেকরাচি থেকে প্রকাশিত জং এবং ডন ইত্যাদি পত্রিকার সম্পর্ক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

৫) ভবিষ্যতে সংবিধান কীরূপ হবে সে ব্যাপারে জল্পনা কল্পনা অব্যাহত রয়েছে। এটা মোটামুটি মেনে নেয়া হয়েছে যে ভবিষ্যৎ সংবিধান হবে রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রিক। যে সব ব্যাপারে এখনো আলোচনা চলছে সেগুলো হলো:

  1. i) ইউনিয়ন কাউন্সিলগুলো ইলেকটোরাল কলেজ গঠন করবে কি না
  2. ii) সাধারণ নির্বাচন কীরকম হবে

iii) নির্বাচিত সদস্যরা কীরূপ ভূমিকা পালন করবেন

iv)প্রাদেশিক সরকারের গঠনপ্রণালী এবং প্রাদেশিক উপদেষ্টা সংস্থাসমূহের ভবিষ্যৎ

এ বছরের শেষ দিকে নির্বাচন হবে — এ মর্মে শিক্ষামন্ত্রী জনাব হাবিবুর রহমানের নয়াদিল্লীতে দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব জাকির হুসাইন এ বছরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেটিতে প্রকাশ, সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার জন্য বেঁধে দেয়া সময়টুকু সংবিধান প্রণয়নের জন্য খুব বেশি কম হয়ে যায় কি না এ মর্মে রাষ্ট্রপতিকে মন্তব্য করতে চাপ দেয়া হলে তিনি বলেছেন, “আমরা তৈরি হলে [নির্বাচন] হবে, নয়তো আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।”

৬) কঙ্গোতে গৃহযুদ্ধ প্রতিরোধ এবং সংসদীয় সরকারকে পুনর্স্থাপনে জাতিসংঘের সৈন্যদলকে অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা প্রদান করা হবে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সর্বসাধারণের মতামত, এ সিদ্ধান্ত আরো আগেই নেয়া হলে পরিস্থিতির অবনতি হতো না।

৭) কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে মেনে নিতে চীনের অস্বীকারজ্ঞাপনকে স্বাগত জানানো হয়েছে, কারণ এ অমীমাংসিত সমস্যায় এটি নতুন করে গুরুত্বারোপ করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে এ ঘটনাটি বিরাট একটি ধাক্কা হয়ে এসেছে।

দ্বিতীয় ভাগ

অর্থনৈতিক

১) বাজার বিনিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেয়ার পরবর্তীতে মূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে এখনও মতামত প্রদান চলছে। পাকিস্তান অবজারভার লিখেছে, “যেমনটা আশা করা হয়েছিল, নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়ার পর দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে যাবার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় যেমন ধারণা করা হচ্ছে, ভোক্তাদের ভোগান্তি আরো বাড়বে। বর্তমানের উর্ধ্বগতি হয়তো ক্ষণস্থায়ী হবে না, কারণ একই রকম নিশ্চয়তা অনেকবারই দেয়া হয়েছিল কিন্তু কখনো সে কথার দাম দেয়া হয় নি এবং সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ঈদের কেনাকাটা শীঘ্রই শুরু হবে; এই সময়ে দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়া এবং পরবর্তীতে দ্রব্যমূল্যের ওপর প্রতিক্রিয়া বেশ ভাবনার উদ্রেক করে। বাজারের বর্তমান অবস্থার সঠিক হিসাব নেয়া হয় নি, সিদ্ধান্তটিও সঠিক সময়ে নেয়া হয়নি।” মর্নিং নিউজ লিখেছে, “মাছ-মাংস-শাকসবজি এবং ফলমূলের দাম অনেক বেড়ে গেছে, যা সর্বকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি – বাজারকে কোন বিশেষ মহল নিজেদের স্বার্থে পরিচালিত করছে এমন ধারণা অনিবার্য।” ইত্তেফাক সাম্প্রতিক বিনিয়ন্ত্রণের, যার ফলে দ্রব্যমূল্যের দাম বর্তমানে বেড়ে গেছে বলে ইত্তেফাকের মতামত, সেটির সিদ্ধান্তের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আজাদীর বিবেচনায়, সকল ভোগ্যপণ্যের দামের বৃদ্ধি বিনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যের দাম বেড়ে যাবারই ফল।

সি আই শীট, আয়রন রড ইত্যাদি আমদানি পণ্যের দাম বাড়ানোর যথেষ্ট সমালোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, এ ধরনের দ্রব্য আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে “সাশ্রয়ী মূল্যের” কথা বলাটা নিরর্থক। এর ফলে শুধু লাইসেন্সভাগ্যসম্পন্ন আমদানিকারকদেরই লাভ বাড়ে, সরকার বা ভোক্তাদের কোন সুবিধা হয় না। সর্বসাধারণের মত এই যে, অসন্তোষজনক শিল্পসম্প্রসারণ ও অসন্তোষজনক চাহিদার এরকম অবস্থায় দ্রব্যমূল্যের বিনিয়ন্ত্রিকরণের সিদ্ধান্ত ভুল সময়েই নেয়া হয়েছে। পোশাক ইত্যাদির দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে মাছ, ডিম, মুরগি, মাংস, শাকসবজি ইত্যাদির বিক্রেতারাও পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করেছে।

২) অ্যাগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স করপোরেশন এবং অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাঙ্ক অব পাকিস্তানকে অ্যাগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক অব পাকিস্তান দিয়ে প্রতিস্থাপন করাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে যে এর ফলে উপরি ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়বে এবং প্রশাসনিক ব্যয় কমবে। মনে করা হয় যে কোম্পানির উপস্থিতির কারণে অভাবগ্রস্ত চাষীদের ব্যাঙ্ক থেকে লোন পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। কৃষি উন্নয়ন ব্যাঙ্কের পক্ষে অনুসন্ধান করে স্বল্পকালীন ঋণ দেয়ার কোন উপায় বের করা সম্ভব হতে পারে বিভিন্ন ভূমিখণ্ডের বর্তমান মালিকানার ভিত্তিতে, এমনকি যৌথ মালিকানায় ভূমির দলিল থাকলেও।

প্রতিবেদনেএও জানা গেছে যে ঋণ নেয়ার বর্তমান ব্যবস্থায় গ্রামীণ এলাকায় সুদের অত্যধিক হারের সমস্যা সমাধান হয় নি। সুদ ব্যবসার রীতি এবং সুদের বর্তমান হারের ওপর অনুসন্ধান এখনো করা হয় নি। গ্রামীণ অঞ্চলে দায়গ্রস্ততার বিস্তার কৃষিশুমারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল কিন্তু সুদের হার নিয়ে অনুসন্ধান করা হয় নি।

৩) সমবায় কৃষির ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির উল্লেখ সংবাদমাধ্যমে এসেছে। স্থানীয় অবস্থার দিকে বিশেষ নজর রেখে এ প্রসঙ্গে দেশের দুটো পক্ষেই নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। যেহেতু বিস্তারিত কিছুই এখনও আসে নি, তাই নির্দিষ্ট কোন মত এ ক্ষেত্রে এখনও পাওয়া যায় নি।

তৃতীয় ভাগ

প্রশাসনিক

১) ১৫-২-১৯৬১ তারিখে শৈতনলে(Shaitnal) লঞ্চ দুর্ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে বড় করে এসেছে।

 

সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধান, ভুক্তভোগী পরিবারদের ক্ষতিপূরণ, সংঘর্ষের পর ডুবন্ত লঞ্চটির সাহায্যে এগিয়ে না এসে পালিয়ে যাওয়া লঞ্চের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া, পূর্ব পাকিস্তানের নদীপথে যান চলাচলের ওপর আরো কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ স্থাপন এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত অনুভূতি এ উক্তিটিতে ফুটে উঠেছে, “বর্তমানের প্রচণ্ড প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায়, পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল দিনকে দিন জীবন নিয়ে জুয়াখেলা হয়ে উঠেছে, মৃত্যুকে হাতে নিয়ে চলতে গিয়ে জনগণকে অনেক বেশিই মূল্য দিতে হচ্ছে।” IWTA এর এখনো এ অবস্থা নিরাময়ের কোন ক্ষমতা নেই, কারণ নৌযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান, নাবিকদের লাইসেন্স প্রদান, রুট এবং যাত্রীবহন ক্ষমতা ইত্যাদি নির্ধারণ সরকারের এখতিয়ারে। এমন প্রস্তাবনা করা হয়েছে যে, সময়সূচী এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা পালন বাধ্যতামূলক করার জন্য দরকারী আইনি ক্ষমতা থাকা উচিৎ একটিমাত্র এজেন্সির হাতে। আরও লঞ্চ প্রয়োজন, যার জন্য যাত্রীচলাচলের পরিমাণ মুল্যায়ন করা উচিৎ।

চতুর্থ ভাগ

ব্যুরোর কাজের মূল্যায়ন

১) পূর্ব পাকিস্তানে চারুকলার উন্নয়নের এবং এর আংশিক বাস্তবায়ন চলতি অর্থবছরে সম্পন্ন করার বিস্তারিত পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এবং অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ পরিকল্পনাতে তিনটি অংশ রয়েছে, ক) নৃত্য, কন্ঠসংগীত, যন্ত্রসংগীত, নাট্যকলার জন্য চারটি বিভাগসম্পন্ন চারুকলা একাডেমী গঠন, খ) জাতীয় নাট্যমঞ্চ গঠন এবং গ) আর্ট কাউন্সিল পুনর্গঠন এবং চারুকলার উন্নয়ন। এর সাথে সংযোগ রেখে আমরা আর্ট গ্যালারির ওপর আরেকটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করছি যেটি উক্ত প্রদেশে চারুকলার উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার অংশ হবে।

২) যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবস উদযাপন উপলক্ষে সকল জেলার ডেপুটি কমিশনারদেরকে স্থানীয় প্রতিভাবান শিল্পী ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সহায়তায় নিজ নিজ জেলা সদরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে অনুরোধ করা হয়েছে। ঢাকা নগরে বুলবুল ললিতকলা একাডেমি ও জাগো আর্ট সেন্টারকে এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

৩) “বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক উপায়ে জাতীয় বিষয়াবলীতে আগ্রহ জাগিয়ে তোলার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে”, আমরা প্রদেশের অন্তত ৮৮ টি ভিন্ন ভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনকে জাতীয় পুনর্গঠন এবং চারিত্রিক আদর্শের সাথে সম্পর্কযুক্ত বিষয়ের ওপর সেমিনার আয়োজন করারআহ্বান জানিয়েছি, “যাতে করে হতাশার পরিবর্তে তাঁদের মধ্যে জাতীয় উন্নয়ন উদ্যোগে একাত্মতা এবং অবদান রাখার বোধ জাগ্রত হয়”। এসব সেমিনার আয়োজনের ব্যয় বহনের উদ্দেশ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে আমরা অর্থও প্রেরণ করেছি।

আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত সম্মেলনগুলোর কার্যবিবরণী পাচ্ছি। ২৬-২-১৯৬১ তারিখে ঢাকাস্থ ইসলামিক একাডেমি কার্জন হলে “আধুনিক বিশ্বে ইসলামিক জীবনপন্থা” বিষয়ে একটি সম্মেলনগুলোর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষকবৃন্দ যোগদান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং আরবি বিভাগের একজন প্রভাষক অনুষ্ঠানে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ পাঠ করেন।দিনাজপুরে নওরোজ সাহিত্য মজলিসের পৃষ্ঠপোষকতায় “ইসলামী সংস্কৃতির মর্মার্থ” শিরোনামে ১৪-২-১৯৬১ তারিখে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বুদ্ধিজীবী এবং শিক্ষাবিদগণ অংশগ্রহণ করেন।ঢাকাস্থ APWA ২৪-২-১৯৬১ তারিখে “জাতীয় পুনর্গঠনে নারীর ভূমিকা” শিরোনামে সেমিনার আয়োজন করে। নগরীর নেতৃস্থানীয় ভদ্রমহোদয়াগণ এতে অংশগ্রহণ করেন। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় অনুরূপ সম্মেলন আয়োজিত হয়েছে এবং হচ্ছে।

৪) আন্তর্জাতিক প্রেস ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে লাহোরে ফেব্রুয়ারি ২৬ থেকে মার্চ ৪, ১৯৬১ ব্যাপী আয়োজিত সেমিনারে যোগদানের উদ্দেশ্যে পূর্ব পাকিস্তানের ছয়জন সাংবাদিক পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়েছেন।

৫) কুমিল্লায় অবস্থিত পাকিস্তান গ্রাম উন্নয়ন একাডেমিতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণদানের সাথে সমন্বয় রেখে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ বিষয়ে একগুচ্ছ প্রবন্ধ প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমাদের নির্বাচিত লেখকদের মধ্য থেকে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত একজনের কাছ থেকে উক্ত বিষয়ে কয়েকটি প্রবন্ধের একটি সেট আমরা পেয়েছি।

৬) আমাদের জাতির মহানায়কদের ওপর নাটক রচনার উদ্দেশ্যে, “পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ”, “বিবি আজিজান”, “আলাউদ্দিন হুসেইন শাহ”, “জাতীয় পুনর্গঠন এবং চারিত্রিক আদর্শের লক্ষ্যে পরিবর্তনশীল আধুনিক সমাজ” ইত্যাদি বিষয়বস্তুর ওপর লেখালেখি করার জন্য প্রদেশের চারজন বিশিষ্ট লেখককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

৭) দেশের দু’প্রান্তের লোকজনের মধ্যে উন্নততর মতৈক্য গঠনের লক্ষ্যে আমরা চিহ্নিত বেশ কিছু বাংলা বই উর্দুতে ভাষান্তর ও প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি। এর সূত্র ধরে বাছাইকৃত বইগুলো হচ্ছে, ক) নজরুল ইসলাম রচিত ইসলামী সংগীত এবং কবিতা (প্রায় ৩০ টি), খ) জনাব মাহবুবুল আলম রচিত “মোমেনের জবানবন্দি”, ৩) জনাব আবুল ফজল রচিত “মাটির পৃথিবী”।

 

 

 

<2.014.077>

উদ্ধৃতাংশ ২৯এপ্রিল ১৯৬১ সালের সাংবিধানিক কমিশনের প্রতিবেদন

অধ্যায় ১

মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকারের ব্যর্থতার কারন

ব্যর্থতা কি ছিল?

৮. এই অধ্যায়ে প্রথমে অনুমান করে নেয়া হচ্ছে যে সরকারের সংসদীয় প্যাটার্ন পাকিস্তানে ব্যর্থ হয়েছে। এর অর্থ এটি দেশে ঠিকমত কাজ করেনি এবং এটি নয়, যা ভুলভাবে বোঝা হয়েছে যে ব্যবস্থাটি নিজে থেকে ব্যর্থ। প্রতিষ্ঠান নিজে কাজ করে না, এটি তা-ই হয় যা এটিকে বানানো হয়। অনেকের মতামত অনুযায়ী,   ১৯৫৬ সালের শুরুতে পর্যন্ত ধৃষ্টতা শুদ্ধিকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়, যার ভিত্তি ছিল ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে যা জোরপূর্বক পাকিস্তান দ্বারা গৃহীত ছিল এবং যখন একটি নতুন সংবিধান প্রণীত হয়, শুধুমাত্র তার পরিবর্তিত বিধানাবলী কার্যকর হয়, পাকিস্তানে কোন প্রকৃত সংসদীয় সরকার ছিল না এবং তাই, তার ব্যর্থতার প্রশ্নই উঠে না। একটি খুব ছোট গ্রুপ (১৫ জন) দাবি করেছিল যে, মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার এই দেশে একটি সাফল্য ছিল।

৯. আমরা মনে করি, শেষোক্ত দুটি মতামতই গ্রহনযোগ্য নয়। বলবৎ সরকারের ধরন, স্বাধীনতার আগে, সম্পূর্ণ সংসদীয় ছিল না যেমন প্রদেশে গভর্নর পরিষেবার ও অন্য কিছু বিষয়ে নির্দিষ্ট বিভাগে ব্যাপারে বিবেচনামূলক ক্ষমতা ছিল, এবং কেন্দ্রে গভর্নর জেনারেল ছিলেন সর্বশক্তিমান এবং কেন্দ্রীয় আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়, কিন্তু যখন উপমহাদেশ দুই স্ব শাসক সরকারে বিভক্ত ছিল, ইণ্ডিয়া অ্যাক্ট ১৯৩৫ (যা সংবিধান আইন হিসেবে ইহাতে উল্লেখ করা হয়) পাকিস্তান সরকারে গ্রহন করা হয় যা নিঃসন্দেহে সংসদীয় ছিল। যেমন কায়েদ-ই-আজমের জন্য গভর্নর-জেনারেল হওয়া এবং গণপরিষদের সভাপতি হওয়া একই ব্যাপার ছিল, এটা আমাদের একজন যিনি লাহোর হাইকোর্টের একজন বিচারক ব্যক্তিগতভাবে জানতেন যখন তিনি আইন গ্রহণের কাজ করতে নিযুক্ত ছিলেন, যে কায়েদের কাছে পরিষদের সভাপতি হওয়া ছিল শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে পরিষদের পদ ধারন। কথিত আছে যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টফোলিও ধারন করতেন, কিন্তু তিনি যে মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছের বিরুদ্ধে করেছিলেন তা মনে করার কোন কারণ নেই। যদি তার মন্ত্রিপরিষদ সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে, এটা স্বাভাবিক ছিল তাদেরকে পথ প্রদর্শন করা, বিশেষ করে যখন বিশেষ পরিস্থিতিতে তাই খুবই দরকারি ছিল। কিথ, তার “ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার সিস্টেম” এ, পয়েন্ট আউট করেছেন যে সার্বভৌম নয়, সাংবিধানিক চর্চার মাধ্যমে, একটি নিছক আনুষ্ঠানিক প্রধানের ভূমিকা পালন করবে এবং সব প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করবে বলে আশা করা হয়, অন্যদিকে তাকে ০১১ এনটাইটেলমেন্টসহ সব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে অবশ্যই অবগত রাখা হবে এবং মন্ত্রীদের সতর্ক বিবেচনার চাপ দিতে বাধ্য করার জন্য তার মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে কিন্তু তারা অবশেষে যে পরামর্শ তার উপর ন্যাস্ত হবে।

 

 

 

 

<2.014.078>

 

তাই হচ্ছে. যদি মন্ত্রীরা সার্বভৌম মতামত গ্রহণ, সিস্টেম সংসদীয় হবে না। মন্ত্রিপরিষদ দ্বারা প্রতিনিধিত্বকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ইচ্ছাই ব্যাপার এবং যদি এটা তাদের ইচ্ছা থাকে যে তাদের রাষ্ট্র প্রধান দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত, আমরা একটি সংসদীয় অনুশীলনের বিরোধিতা দেখতে ব্যর্থ হচ্ছি। কায়েদ প্রভাবশালী অবস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি শক্তি স্তম্ভ ছিল এবং এটা আমাদের বড় দুর্ভাগ ছিল যে আমরা তার সাহায্য আর আমরা স্বাধীন হওয়ার পর এক বছরের বেশি পাই নি। তাহার পরে, ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে সম্পূর্ণভাবে চলে যায়। সংবিধানের আইনে কোন নির্দিষ্ট বিধান ছিল না যে মন্ত্রীদের দ্বারা প্রদত্ত পরামর্শ অনুযায়ী গভর্নর- জেনারেল ও গভর্নররা চলতে বাধ্য, কিন্তু গৃহীত অবস্থান অনুযায়ী সে পরামর্শ তাদের উপর বাধ্যকর ছিল। এই ট্রাইব্যুনাল ১৯৪৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়, যা সিন্ধুর প্রথম মুখ্যমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করে. যার কুশাসনও, অসদাচরণ ও দুর্নীতিতে সাহায্য ও পরামর্শর জন্য বরখাস্ত করা হয়, সংবিধানের আইনের ধারা ৯ এবং ১৫ অনুযায়ী, মন্ত্রী পরিষদের পরামর্শ গভর্নর জেনারেল এবং গভর্নর যথাক্রমে কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক বিষয়ক কাজে মেনে চলবেন। উক্ত আইনে বর্ণিত গভর্নর পদ পরীক্ষা করার পর দেখা গেছে যে তার মন্ত্রীদের পদ ব্রিটিশ সংবিধানের অধীনে ব্রিটিশ সার্বভৌমের অনুরূপ ছিল। প্রয়াত সংবিধানে,সংবিধান আচরণের প্রধান অংশে যতটা প্রেসিডেন্ট ও গভর্নরের সাথে মন্ত্রীদের সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা ছিল, এর সাথে একটি বিশেষ প্রোভিশন যোগ করা হয় যেখানে পরামর্শ ছিল মন্ত্রীদের প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রীদের মেনে চলার ব্যাপারে। আইনসভা এই সংবিধানের অধীন নির্বাচিত হয়েছিল যার অস্তিত্ব সামনে আসেনি কিন্তু সেটি নিজে সরকারের প্যাটার্ন পরিবর্তন করেনি। সুতরাং, এটা সঠিক না যে পাকিস্তানে বলবৎ সরকার ব্যবস্থা, পর্যালোচনার অধীনে সময়কালে, সংসদীয় ছিল না। এই প্যাটার্ন আমাদের দ্বারা সফলভাবে কাজ পারে নি এমনকি ১৯৫৩ সাল থেকে এ যুগের রাজনৈতিক ইতিহাসের পড়ন থেকে এটি আরো স্পষ্ট হয়।

ব্যর্থতার কারণের দৃশ্যগুলি

১০. সফলভাবে মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার কাজ করার ধরন এবং কারণ, ব্যর্থতার উপর বিভিন্ন মতামতকে বিস্তৃতভাবে নিম্নরূপ গ্রুপকৃত করা যেতে পারে:

(১) সঠিক নির্বাচন এবং প্রয়াত সংবিধানের অপূর্ণতার অভাব

(২) রাষ্ট্রের প্রধান দ্বারা মন্ত্রণালয় ও রাজনৈতিক দল, এবং কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক প্রদেশে সরকারি কার্যকলাপে অযাচিত হস্তক্ষেপ।

(৩) নেতৃত্বের অভাবে সুপরিচালিত ও সুশৃঙ্খল দলের অভাব, রাজনীতিবিদদের চারিত্রিক দক্ষতার অভাব এবং প্রশাসনে তাদের অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ।

 

উপসংহার এবং কারণ

১১. আমাদের মতে, উপরোক্ত ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ প্রথম দু’টি দলের তুলনায় মতামত শেষোক্ত দলের মতামতে আরও পাওয়া যাবে।

 

<2.014.079>

 

এই উপসংহারের কারণগুলো আলোচনার পূর্বে, আমরা একটা বিষয় নিশ্চিত করতে চাই যে আমরা বিপ্লবের সময়কালের সাবেক প্রেসিডেন্ট অথবা তার উত্তরসূরি অথবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছি না, কিন্তু অন্যদিকে আমাদের প্রচেষ্টা হল সেই সকল বিষয়কে বিবেচনায় আনা যার ভিত্তিতে পাকিস্তানে স্থিতিশীল এবং একই সাথে গণতান্ত্রিক সরকারের একটি রূপরেখা তৈরিতে পথ খুজে পাওয়া। আমরা, অতএব, শুধুমাত্র এই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের কিছু ঘটনা পর্যালোচনার সময়কালে উল্লেখ করব।

১২. সঠিক নির্বাচনের অভাব যা কারণগুলির একটি বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি সঠিক বলতে সরাসরি বোঝানো হয়, প্রথম সাংবিধানিক পরিষদ পরোক্ষ ভাবে নির্বাচিত হয়েছিল কারণ ইহার উদ্দেশ্য ছিল সংবিধান প্রণয়ন। অক্টোবর ১৯৫৪ পর্যন্ত ইহা অফিসিয়ালি চলমান ছিল এবং এর পরবর্তী পরিষদও পরোক্ষ ভাবে নির্বাচিত হয়, কিন্তু সেই নির্বাচন প্রাদেশিক নির্বাচনের পরে হয়েছিল এবং নতুন পরিষদের জটিলতা থেকে এটা পরিষ্কার যে এখানে নতুন উপাদান রয়েছে। তবে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ভোট হয়, যা প্রদেশে ভাল প্রতিনিধিদের আনতে পারে নি। এটা বলা যাবে না যে প্রাদেশিক নির্বাচন সঠিক ভাবে হয় নি। পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৫৪ সালের নির্বাচন সন্দেহাতীতভাবে সঠিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল কিন্তু এর ফলাফল ছিল যে দলগুলোর অবস্থা খারাপ হতে থাকে, যেমন একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের পরিবর্তে অনেক ছোট ছোট দল ছিল এবং একটি পর্যায়ে পৌঁছে ছিল যখন হিন্দু সংখ্যালঘু ব্লক ভারসাম্য রাখতে পারত। পশ্চিম পাকিস্তানেও সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মধ্যে দ্বন্ধ ছিল, এবং সরকার গঠন পর্যন্ত এটি শক্ত ছিল। প্রয়াত সংবিধান, যেখানে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ভুলত্রুটিকে, সফল ভাবে কাজে বাধা দিতে পারে এমনটি আমরা দেখতে পাই নি। যেট এখানে বলা হয়েছে সেটিই এখানে প্রশ্ন যে, ইলেক্টোরেট কি একসাথে হবে নাকি পৃথকভাবে হবে এটি গত সংবিধানের ফেলে রাখা প্রশ্ন ছিল যা করেছিল সংসদ প্রাদেশিক আইনসভার পরামর্শ ক্রমে। কিন্তু এটি নিশ্চিত যে পরিষদ মনস্থির করতে পারেনি এবং আমরা মনে করি না নির্বাচন দেরি করানো তাদের উদ্দেশ্য ছিল। তবে, যেমন ইতিমধ্যে উল্লিখিত, এমনকি যদিও সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, আমরা মনে করি না সঠিক ধরনের নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটেছে।

১৩. রাষ্ট্রের শীর্ষ দ্বারা হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত রেফারেন্স, স্পষ্টত সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তার পূর্বসুরী। বলা যাবে না যে তারা হস্তক্ষেপ করেনি, বা তারা আমাদের রাজনৈতিক মাঠের বিভ্রান্তির জন্য দায়ী ছিল না, অথবা তারা ব্যক্তিগত বা প্রাদেশিক, বিবেচ্য বিষয় থেকে মুক্ত ছিল। কিন্তু ইতিহাস দেখায় যে ক্ষমতা জনগণের প্রতিনিধিদের রাষ্ট্র প্রধান থেকে কার্যকরভাবে হস্তান্তর হয় তখনই শুধুমাত্র যখন পরেরটির সুশৃঙ্খল হয়ে এবং একসঙ্গে দাঁড়িয়ে স্বৈরাচার বিরোধিতা। যতক্ষণ না যে পর্যায়ে পৌঁছে ছিল, রাষ্ট্র প্রধান সবসময় হস্তক্ষেপ করতে পারে। আমাদের রাষ্ট্রের প্রধানদের দ্বারা হস্তক্ষেপকে মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকারের ব্যর্থতার বাস্তব কারণ হিসেবে গ্রহণ না করা তাদের প্রতি সাফাই নয়। ইতিমধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে বা রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত অধিষ্ঠিত করতে পারিনি। আমরা উল্লেখ করতে চাই রাষ্ট্রের এই প্রধানদের দ্বারা হস্তক্ষেপ সম্ভব হতো না যদি ক্ষমতাযসীন দলগুলোর মধ্যে শৃঙ্খলা ও সংহতি থাকত। এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট হবে যে কারো সম্পর্কে হস্তক্ষেপের দৃষ্টান্ত যা আমাদের মনোযোগ আকৃষ্ট হয়েছে।

 

<2.014.080>

১৪/ উদাহরণস্বরূপ ১৯৫৩ সালের এপ্রিলে আগেই আমাদের আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

এক উদাহরণস্বরূপ আগেই আমাদের আকস্মিক বরখাস্ত করা হয়, একজন প্রধানমন্ত্রী যিনি শুধু কোন অসুবিধা ছাড়াই মাধ্যমে তার বাজেট পেয়েছেন ১৯৫৩ সালের এপ্রিলে এবং পাঞ্জাব ব্যাঘাতের পর, মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে তার ক্ষমতার জোরে তার মনোনীত প্রার্থী পাঞ্জাব পরিষদের মুসলিম লীগের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। সমালোচনার প্রধান কারণ ছিল যে গভর্নর জেনারেল একটি প্রধানমন্ত্রী, যারা এই ধরনের শক্তিশালী জনসমর্থন ছিল তাকে খারিজ করেন যা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার এর নিয়মাবলীর বিরুদ্ধে ছিল। এই ইশতেহারে বরখাস্তের জন্য কারণ দেওয়া হয়, কিন্তু এটা বৈধ বা নয় নির্ধারণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। আমাদের উদ্বেগের কারণ হল গভর্নর জেনারেল প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করে অত্যন্ত ঝুকি নিয়েছেন, কারণ তার উপর হাউসের আস্থা ছিল এবং আমরা মনে করি যে, তিনি তা করতে সাহস করতেন না যদি না তিনি ক্ষমতায় থাকা পার্টির কিছু সদস্যদের   সমর্থন না পেতেন। তার এই ধরনের সমর্থন ছিল এটি বোঝা গিয়েছে কারণ বিদায়ী মন্ত্রীসভার ছয়জন সদস্য নতুন মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত হয় এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ হল, তিনি ব্যাক্তি পছন্দ থেকে ওয়াশিংটনের পাকিস্তানী রাষ্ট্রদূতকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন যিনি ১৯৪৮ সাল থেকে ফরেন সার্ভিসে দেশের বাইরে; এবং যে দল বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বরখাস্ত সমর্থন করেছিল তার নেতা হিসেবে নতুন প্রধানমন্ত্রী গ্রহন করে। রাজনীতিবিদদের যারা কমিশনের সামনে হাজির হয়েছিল, যখন এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তারা ব্যাখ্যা করেছেন যে এটা দেশের বৃহত্তর স্বার্থ যে এই মুসলিম লীগ গভর্নর জেনারেলের সাথে একমত পোষণ করেছিল। এটা ইঙ্গিত ছিল সামরিক বাহিনীর একটি হুমকি ছিল। এই ব্যাখ্যা কমই বিশ্বাসযোগ্য কারণ যখন আরো একটি গুরুতর পদক্ষেপ ১৯৫৪ সালে গৃহীত হয়, যথা-. গণপরিষদ ভেঙে ফেলা হয়, এর সভাপতি তখন আদালতে বিষয়টি নিতে পারতেন, প্রকৃতপক্ষে সিন্ধুর চিফ কোর্ট তার পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছে । আমাদের মতে, গভর্নর জেনারেল গণপরিষদে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের করতে সক্ষম ছিলেন কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্টিতে সংহতির অভাব ছিল। তিনি কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করার আগে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা উচিত ছিল, পার্টি তার নেতা হিসাবে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করলে গভর্নর জেনারেল একটি খুব বিশ্রী অবস্থানে পড়তেন।

 

১৫/ ক্ষমতাসীন দলের সংহতির অভাবের আরেকটি উদাহরণ হল সংবিধান আইন সংশোধন, নিয়োগ ও মন্ত্রীদের বরখাস্ত ব্যাপারে গভর্নর-জেনারেল ক্ষমতা হ্রাস , সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পরিষদে চলতে থাকে। এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে হঠাৎ, এবং এই ধরনের অসাধারণ গতির সঙ্গে, এটি একটি ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে কিছু চতুর্থাংশে চিহ্নিত করা হয়েছিল। আমাদের সামনে তথ্য থেকে এটা স্পষ্ট যে আপত্তি বিরোধীদের নেতা করেছিল, এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর পর্যাপ্ত নোটিশ দেওয়া উচিত যা স্টিয়ারিং কমিটিতে নেয়া সত্ত্বেও, পরিষদের সভাপতি স্বাভাবিক নোটিশ সঙ্গে প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে “তিনদিন প্রয়োজনীয়” নিয়মের অধীনে। সংশোধনীর নোটিশ, যা শুধুমাত্র পূর্ববর্তী সন্ধ্যায় সংশোধন করা হয়েছে সদস্যদের ঘরে রাতে খুব দেরীতে পৌঁছেছে বলে মনে করা হয়। পরিষদের কার্যবিবরণী থেকে প্রতীয়মান হয় যে কোনো গুরুতর বিতর্ক ছাড়াই সম্পন্ন হয়। এই সংশোধনীর প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র।

<2.014.081>

 

কিছু আইন পরিবর্তন স্বাগত জানায় কারণ এটি একজন প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক বরখাস্ত এবং একজন বহিরাগতের অফিসে নিয়োগদানের রোধ করতে পারে, অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যে এই পদক্ষেপ তৎকালীন গভর্নর জেনারেলকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল এবংনীতির উপর ভিত্তি করে নয়, এটা শুধুমাত্র গভর্নর জেনারেলের প্রতি কিন্তু গভর্নরদের প্রতি নয় এবং একটি চ্যাপ্টার মাত্র যখন নতুন সংবিধানের খসড়া পাস হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। যাইহোক, যে পদ্ধতিতে সংশোধনী করা হয়েছে এবং কার্যকর করা হয়েছে পরিষ্কারভাবে দেখায় যে, যারা উদ্যোগী তাদের নিজের দলের বাকিদের মনোভাব সম্পর্কে নিশ্চিত নয়।

 

১৬/ গণপরিষদ ভেঙে দেয়া প্রসঙ্গে, কোন সন্দেহ নেই, ফেডারেল কোর্টের একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তে হয় যেখানে রেফারেন্স দেয়া হয়েছিল যে, গভর্নর জেনারেল কর্তৃক ঘটনা, তার কর্ম আইনি ছিল এবং সমর্থনযোগ্য, কিন্তু যে উপসংহার ভাবনাটি হলো যে রেফারেন্স হিসেবে কথিত তথ্য সঠিক বলে ধরে নেয়া হয়। তবে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র এপ্রিল ১৯৫৫ সালে দেওয়া হয়। বিলোপের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বিস্ময়কর এবং এখনো দলগুলোর দ্বারা কোনো সংগঠিত বিরোধিতা হয়েছে বলে মনে হয় না। অন্যদিকে, মুসলিম লীগের কিছু সদস্য সিন্ধু ও পাঞ্জাবে রেজুলেশন পাস করে যা গভর্নর জেনারেলের কর্মকে অনুমোদন করে যা মুসলিম লীগ ছাড়া অন্য দলগুলো স্বাগত জানায়।

১৭/ নতুন গণপরিষদ জুলাই ১৯৫৫ সালে নির্বাচিত হওয়ার পরে, সেখানে রাষ্ট্র প্রধান পদে পরিবর্তন আসে এবং নতুন গভর্নর-জেনারেল প্রয়াত সংবিধানের সাথে ক্ষমতায় আসে, তিনি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হন, এটা আমাদের সামনে বিবৃত হয় যে তিনি অসঙ্গতভাবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হস্তক্ষেপ করেন। তার বিরুদ্ধে সমালোচনা আরোপিত হয় যে তিনি একজন নেতা যিনি পার্টিতে যোগদান করতে প্রস্তুত ছিল না, মুসলিম লীগকে, যা পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশগুলোতে একীকরণ সময় একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ছিল, বাধ্য করেন। এক ইউনিট পরিষদের গঠনের পূর্বে -যে ধাপটি ছিল সম্পূর্ণরূপে সংসদীয় অনুশীলনের বিপরীত,   তাকে ইন্টিগ্রেটেড প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হতে কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা বিজ্ঞাপিত করা হয় । স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়, পার্টির তাকে নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা উচিত পরে পরিষদের গঠনের পরে। এটা মনে হচ্ছে যে মুসলিম লীগ দলের কিছু সদস্য কথিত নেতাকে সমর্থন করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, কিন্তু, যখন পরিষদ গঠন করা হয়, এই সমর্থন সামগ্রিকভাবে দল থেকে আসে নি। এর ফলে নেতা রিপাবলিকান পার্টি গঠন করে যেখানে মূলত মুসলিম লীগ দলের যেসব সদস্য কোন নীতির কারণে নয় কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে দল ত্যাগ করে তারা পার্টির সদস্য ছিল।

১৮/ কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে মুসলিম লীগের আচরণের প্রতি উল্লেখ করা যায় যারা গণপরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে একটি বিপর্যয়কর পরাজয়ের ভুক্তভোগী হয়। গভর্নরের শাসন জারি, শীঘ্রই যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার দায়িত্ব গ্রহণ করে, এসব কিছু ইঙ্গিত দেয় কেন্দ্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের পক্ষ থেকে অন্য কোন দল পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের অফিসের দায়িত্ব নিবে সে ব্যাপারে অনিচ্ছা ছিল। এই হস্তক্ষেপের আরও রেফারেন্স বর্তমানে তৈরি করা হবে। এছাড়াও পশ্চিম পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দৃষ্টান্ত ছিল, এক ইউনিট মধ্যে ইন্টিগ্রেশন আগে ও পরে দুইটাই, কিন্তু ঐ ঘটনা মোকাবেলা করার প্রয়োজন আছে তা আমাদের মনে হয় না। উল্লেখিত ধরনের হস্তক্ষেপ দেখায় যে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের সংবিধান বিষয়ে কাজ করার থেকে তাদের নিজস্ব অবস্থান বজায় রাখার ব্যাপারে বেশি উদ্বিগ্ন ছিল।

<2.014.082>

 

১৯/ স্যার উইনস্টন চার্চিল ‘নিম্নরূপে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব বর্ণিত করেছেন:

“একজন সংসদ সদস্যর প্রথম দায়িত্ব গ্রেট ব্রিটেন এর সম্মান ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় কি করতে হয় তা তিনি তাঁর বিশ্বস্ত মনে এবং নিরপেক্ষ রায়ে ঠিক করা। তাঁর দ্বিতীয় দায়িত্ব তার নির্বাচকমণ্ডলীর প্রতি, যাদের তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন কিন্তু ডেলিগেট নন। এই বিষয়ের উপর বার্ক এর বিখ্যাত ঘোষণা খুবই পরিচিত। এটা শুধুমাত্র তৃতীয় স্থান যেখানে পার্টি সংগঠন বা প্রোগ্রাম থাকবে। এই তিনটি আনুগত্য পালন করা উচিত, কিন্তু গণতন্ত্রের কোনো সুস্থ উদ্ভাসের অধীনে দাড়াতে হলে এর ক্রম কিয়ে কোন সন্দেহ নাই।”

পাকিস্তানে আইনসভার সদস্যদের গড়ে, কয়েকটি সম্মানজনক ব্যতিক্রম ছাড়া, তারা এই দায়িত্বগুলোকে বাধ্যকর হিসেবে কাউকে বিবেচনা করেনা। অন্যদিকে, প্রধানত তাদের স্বতন্ত্র আগ্রহের তারা বেশি মনোযোগি ছিল। .এমনকি পাকিস্তানের প্রথম বছরের মধ্যে, যখন নতুন দেশ গড়ে তোলার জন্য জনগণের উদ্দীপনা সর্বোচ্চ ছিল, ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এই অবস্থা সাবেক পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে আরো স্পষ্ট ছিল, যেখানে পরিবর্তন এমনকি প্রাথমিক পর্যায়ে একই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সংঘটিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো, কিন্তু এমনকি সেখানে ১৯৪৯ সালের শেষ নাগাদ মন্ত্রীদের একজন পদত্যাগ করেন, এবং ব্যভিচার, প্রকাশ্যে কুশাসন ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার জন্য একটি ট্রাইবুনালনিযুক্ত করা, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্যও লিপিবদ্ধ করা হয়। এর আগে, ১৯৪৮ সালে, সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরূপ অভিযোগের জন্য বরখাস্ত করা হয়, প্রায় অর্ধেক যা একটি ট্রাইব্যুনাল দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়। সিন্ধুর অন্যান্য দুই মন্ত্রীরা, পাবলিক এবং প্রতিনিধি অফিসার্স অযোগ্যতা আইনের অধীনে যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়,তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ইস্ট বেঙ্গল পুলিশ কমিটি ১৯৫৩ সালের তার প্রতিবেদনে, একটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে; এটা দাঙ্গা ও চুরির মামলায় জুড়ে আসা ছিল, একজন মন্ত্রী দ্বারা পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অযথা হস্তক্ষেপ। মন্ত্রী যিনি হস্তক্ষেপ করেন তিনি আইন শৃঙ্খলা দায়িত্বে ছিল না এবং এখনো তিনি পুলিশ ও সচিবালয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পাঠান এবং এসি অভিযুক্তরা জামিন মঞ্জুরের জন্য শেষ পর্যন্ত জামিন বকেয়া মুক্তি পায় কারণ মন্ত্রী তাদের ব্যাপারে আগ্রহ দেখান। একথাও ঠিক যে, অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ছিল। ১৯৪৮ সালে মুসলিম লীগ দল, যারা পাকিস্তানে ক্ষমতায় ছিল, পূর্ব পাকিস্তানে একটি উপনির্বাচনে হেরে যায়। তারপর ৩৪ টির মত সীট খালি থাকার পরও কোন উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি যদিও দলটি ক্ষুতায় ছিল (১৯৫৪ এর শুরুতেই এই অসুস্থতা শরু হয়)। এসব আসনের শূন্য রাখা পরিষ্কারভাবে আশঙ্কার জন্য যে দল উপ-নির্বাচনে হারাবে। একটি দল নিজেকে ক্ষমতায় রাখার জন্য নিয়মাবলী এবং প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের নীতি লঙ্ঘনের একটি উদাহরণ ছিল এটি।

 

২০/ পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসন, মুসলিম লীগের মন্ত্রণালয়ের সময়ে, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের ফলে আসা অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলো সার্বিকভাবে অসন্তোষজনক ছিল না। নির্বাচনে বিভিন্ন দলগুলোর ইউনাইটেড ফ্রন্ট ছিল, যাদের লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র মুসলিম লীগকে ক্ষমতার বাইরে রাখা। তারা প্রথমে সাফল্য পায় কিন্তু যেহেতু ইউনাইটেড ফ্রন্ট কোন শক্ত ভিত্তির উপর ছিল না, সাফল্যের পর পরই তাদের অনৈক্য শুরু হয়।

 

 

 

 

 

 

<2.014.083>

 

ক্ষমতায় যাওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার, যা তখনও একটি মুসলিম লীগ সরকার ছিল গভর্নরের শাসন জারি করে। যে ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল সেটি হল মুখ্যমন্ত্রী (যুক্তফ্রন্ট নেতা) একটি বক্তৃতা করেছিলেন কলকাতায়, যা বিশ্বাসঘাতকতার মধ্যে পড়ে। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার যে, যখন গভর্নরের শাসন প্রত্যাহার করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কথিত ভদ্রলোককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যিনি তাকে আগে দেশদ্রোহী ব্র্যান্ডিং দ্বারা বরখাস্ত করেছিলেন, তার দলের একজন সদস্যকে মনোনীত করেছিলেন প্রদেশে সরকার গঠন করার জন্য, যদিও হাউসে তার দল বৃহত্তম দল ছিল না। ততদিনে যুক্তফ্রন্ট ভেঙে গেছে এবং ফলে বিভিন্ন পক্ষের   একক দল, অন্যান্য দলের সঙ্গে একটি মন্ত্রণালয় গঠন করতে পারে এরকম জোট ছাড়া বৃহৎ ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহত্তম পার্টিকে অফিসে নিতে বলা হবে বলে আশা করা যেত কিন্তু যে পথ অনুসরণ করা হয় নি, দৃশ্যত কারণ এটা কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে যায় না। পরবর্তীকালে পার্টি তার বাজেট পেতে ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু কেন্দ্র বৃহত্তম দলের নেতাকে যে অন্যদের সঙ্গে বিরোধী গঠন করেছিলেন ক্ষমতায় আসার জন্য, তাকে ডাকার পরিবর্তে, বাজেট সার্টিফিকেশন জন্য গভর্নরের শাসন জারি করে। পরে এই ঘটনার পর একই প্রিয় দল আবার অফিসে আসে কিন্তু এটা সার্টিফিকেশন (তিন মাস হচ্ছে) এর সময়সীমার পরেও স্থায়ী হয় না এবং পদত্যাগ করতে হয়। সমাধান ছিল মুসলিম দলগুলোকে একসঙ্গে আনয়ন, যাতে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করা যেতে পারে, কিন্তু দলগুলোর তাদের পার্থক্য একত্রীকরণ করতে চায়নি যেমন কেউই সুবিধাজনক তার অবস্থান ছেড়ে দিতে ইচ্ছুক ছিল না। যদি এই প্রতিনিধিদের অন্তরে দেশের স্বার্থ থাকত তারা তাদের পার্থক্য নিরসন করত এবং যাতে বিভক্ত থাকত না যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভারসাম্য রাখতে পারত, এপশ্চিম পাকিস্তানে রিপাবলিকান দল সৃষ্টি কোনো নীতির উপর না কিন্তু শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ছিল। এছাড়া, ১৯৫৭ সালে, পরাজয়ের থেকে রিপাবলিকান পার্টিকে বাচাতে গভর্নরের শাসন করতে জারি করা হয়। এটা প্রত্যাহার করা হয় শুধুমাত্র যখন রিপাবলিকান নিরাপদে পুনর্বহাল হতে পারে। এই দৃষ্টান্ত পরিষ্কারভাবে স্থাপন যা আমরা ইতিমধ্যে পরিলক্ষিত করেছি যথা- আইনসভার সদস্য, কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া, দেশের সেবা চেতনায় উদ্বুদ্ধ না হয়ে শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে মনোযোগী ছিল। মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার হিসাবে, এক্সিকিউটিভ হেড, অর্থাত্ প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সমর্থনের উপর নির্ভর করতেন, তারা সংখ্যাগুরুদের সন্তুষ্ট রাখতেন এবং যে উদ্দেশ্যে প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করতেন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের হস্তক্ষেপ তাদের ব্যক্তিগত সুবিধা জন্যও ছিল।

২১/………

২২/……….

২৩/গণপরিষদ, যা গত সংবিধান পাস করে সেখানেকোন পার্টি ছিল না যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ, যদিও প্রত্যেক দেশপ্রেমিক পাকিস্তানীর জন্য সময় এসেছে বিভিন্ন স্বার্থ একীভূত করে একসাথে কাজ করে নতুন সংবিধান সফলভাবে প্রণয়ন করতে। প্রাদেশিকতা ও ব্যক্তিগত সুবিধা রাজনীতিবিদ এত শক্ত করে ধরে রেখেছে যে তারা দেশের প্রতি কর্তব্যগুলো ভুলে গিয়েছে, এর ফলে, এমনকি সংবিধান ইচ্ছায় সক্রিয় পাস করা সত্ত্বেও, পার্টি গ্রুপের অস্তিত্ব অব্যাহত ছিল এবং শুধুমাত্র জোট মন্ত্রণালয়ের তৈরি হতেপারত। সংবিধান পাশ হওয়ার পর আশা করা হয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রী যিনি পরিচালনায় দক্ষ , বেশ কিছু সময়ের জন্য অফিস চালাতে পারবেন কিন্তু ছয় মাস না যেতেই তিনি পদত্যাগ করেন।

 

 

<2.014.084>

 

তার ব্যাখ্যা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তার দল মুসলিম লীগের নেতৃত্বের একটি অংশ, তার জন্য সমস্যা তৈরি করতে প্রতিজ্ঞ ছিল এবং তিনি এটি সম্মানের সাথে বিবেচনা করেছিলেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন সেইসাথে মুসলিম লীগের সদস্যপদ ত্যাগ করবেন, যদিও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য, অন্য দলগুলোর সদস্যরা সহ, তাকে সমর্থন করার জন্য প্রস্তুত ছিল। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তিনি যার নেতা ছিলেন তার উপর না থেকে হাউস বিভাগের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। তিনি কোনরকমে এক বছর টিকে ছিলেন কারণ তার দল ব্যাতীত অন্য দলের সদস্যরা যাদের উপর তিনি নির্ভরপশীল ছিলেন, তারা তাকে ত্যাগ করে। রাষ্ট্র বিষয়ক এই দায় সাবেক প্রেসিডেন্ট এর উপর ছিল, কিন্তু, আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি, যে কেউ একটি বিভেদ তৈরি করতে পারে, যদি না পার্টি যা দ্বারা বিভক্ত তা নিজেই অরক্ষিত এবং দেশের প্রকৃত স্বার্থ অন্তরে না থাকে। এই অস্থিরতার বিরূপতা শুধুমাত্র প্রশাসন নয় বরং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে।

২৪/ মতামতের খুব ছোট শতাংশ (২.২%) মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার ব্যর্থতার জন্য সার্ভিসকে দায়ী করেছে। অভিযোগ অবশ্য বেশ সাধারণ ছিল। এটা খুবই সম্ভব যে এই সমালোচনার ভিত্তি ছিল যে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তার পূর্বসূরি উভয় স্থায়ী সার্ভিসের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ছিলেন, এবং আসলে, কিছু মতামত এসেছিল যে স্থায়ী সার্ভিস সদস্যদের অবসরের পাঁচ বছরের মধ্যে যে কোন পদে নির্বাচনের জন্য বিরত রাখা উচিত ছিল। অন্য দিকে, এটা অভিপ্রেত ছিল যে অফিসার যারা দৃঢ়ভাবে কুশাসনও, অসদাচরণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাড়াতে পারত এমনকি পদত্যাগ করার হুমকি দিতে পারত, তারা তা করেনি, কিন্তু এটি নিজেকে কমই অভিযোগ করতে পারে যে সার্ভিস মন্ত্রীদের কাজের জন্য দায়ী ছিল। এমনকি উন্নত দেশে, কর্মকর্তাদের এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা খুব অল্প হয়, সিনিয়র অফিসারদের জন্য শেষ পর্যায়ে পরিবার ও অঙ্গীকার নিয়ে তাদের পেশা পরিবর্তন সহজ নয়। সংসদীয় সরকারের ব্যর্থতার কারো ও প্রকৃতি বিষয়ে একজন সরকারের ডেলিগেট বলেন,”সরকারি কর্মীরা মন্ত্রনালয়ের সমর্থকদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় কখনো সুবিধাপ্রাপ্ত হয়, যা সার্ভিসের জন্য নৈতিকভাবে ক্ষতিকর।” অবশ্যই কর্মকর্তারা মন্ত্রীদের আদেশে স্বার্থসিদ্ধির জন্য কাজ করেছে, কিন্তু এটা বলা যাবে না যে কর্মকর্তারা এই সিস্টেমকে ব্যর্থ করে দিয়েছে, কারণ এই ধরনের অসাধু কর্মকর্তারা সকল ধরনের সরকারের ব্যর্থতার জন্য দায়ী থাকে। অতএব, মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার ব্যর্থতার অবদান রাখার হিসেবে সার্ভিসগুলোকে সাধারণভাবে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না.

২৫/ অতএব আমরা পর্যবেক্ষণ করে উপসংহার হিসাবে বলতে পারি পাকিস্তানের মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকারের ব্যর্থতার বাস্তব কারণগুলো প্রধানত নেতৃত্বের অভাবের ফলে সুপরিচালিত ও সুশৃঙ্খল দলের অভাব, রাজনীতিবিদ ও তাদের অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ ফলে সৃষ্ট প্রশাসনের চরিত্রের সাধারণ গুণাবলীর অভাব ছিল।

 

 

<2.014.085>

 

অধ্যায়ঃ তিন

সরকার কাঠামোঃ রাষ্ট্রপতি-কেন্দ্রিক অথবা সংসদীয়

প্রকাশিত মতামত বিশ্লেষণ

৩৪. এই অধ্যায়ে আমরা সরকারের যে কাঠামো নিয়ে উদ্বিগ্ন, মাত্র ২১.৩% মতামত সংসদীয় কাঠামোর পক্ষে যেখানে ২৯.৩% মতামত এই কাঠামোর বস্তুগত পরিবর্তিত রূপ চায়। ৪৭.৪০% মতামত রাষ্ট্রপতি-কেন্দ্রিক সরকার কাঠামোর পক্ষে এবং বাকি ২% মত খেলাফতের মত একনায়কতন্ত্র পক্ষে। তাদের অধিকাংশই আরো বলে যে খিলাফত যদি চর্চা না করা যায় তবে রাষ্ট্রপতি-কেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা তারা চায়। এটা লক্ষণীয় যে যারা বিশুদ্ধ সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চায় তারা তাদের বক্তব্যে স্বীকার করেছে যে, এই ব্যবস্থার সফল কার্য পরিচালনার জন্য সুসংগঠিত এবং অত্যন্ত সুশৃঙ্খল দলের প্রয়োজন এবং পাকিস্তানে এই ধরণের দলের আবির্ভাব হতে অনেক সময় নিবে। তারা আরো স্বীকার করেছে যে সরকারে স্থীতিশীলতার নিশ্চিত করণ শুধুমাত্র এই ধরণের দলের দ্বারাই সম্ভব, কিন্তু তারা আশাবাদী যে যদি নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তবে সঠিক ধরণের প্রতিনিধিরা ফিরবে। কিছু মতামত অনুসারে আমরা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় খুবই অভ্যস্ত এবং রাষ্ট্রপতি-কেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা আমাদের কাছে অদ্ভুত আগন্তুকের মত, তাই এই সরকার ব্যবস্থাকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রূপান্তরই অপেক্ষাকৃত নিরাপদ পথ। আমাদের কাছে উপস্থাপিত কিছু বক্তব্যে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে রাষ্ট্রপতি-কেন্দ্রিক সরকার কাঠামো অচলাবস্থার সৃষ্টি করবে, যদি এটি লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মত একনায়ক্তন্ত্রে ধসে না যায়। সংসদীয় সরকার কাঠামোর পক্ষের কিছু মত বিশ্লেষণ আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে ভারতে এই ধরণের সরকার কাঠামোর সন্তোষজনক সাফল্যে তারা প্রভাবিত এবং তাই এখানে এই সরকার কাঠামোর সফল না হওয়ার কোন অবকাশ নাই।

৩৫. যারা সংসদীয় সরকার কাঠামোর পরিবর্তন করতে চায়, বিশুদ্ধ সংসদীয় সরকার কাঠামোর পক্ষের লোকদের সাথে রাষ্ট্রপতি-কেন্দ্রিক সরকার কাঠামো সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি ভাগের সময় তারা স্বীকার করেন যে, বিপ্লবের কারণে সঠিক ধরণের দলের অস্তিত্ব নাই এবং তাদের আবির্ভাব অনেক সময় নিবে, কিন্তু তারা আশা প্রকাশ করেন যে তাদের প্রস্তাবিত পরিবর্তনসমূহ করা হয় তাহলে এই কাঠামো সফল ভাবে কাজ করবে। তাদের প্রধান প্রস্তাবটি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি আলোচনার সময় দেখা যায় যে এটি কার্যকর নয়। সংবিধানে নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দলের সংখ্যা ও সম্মিলনের স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ, সাংবিধানিকভাবে প্রশাসনের উপর মন্ত্রীদের হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করণ, মন্ত্রীদের অসদাচরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন জারি করণ এবং পরিশেষে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জরুরী অবস্থা ও নির্বাচনের কয়েক মাস পূর্বে প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ।

৩৬. যারা রাষ্ট্রপতি-কেন্দ্রিক কাঠামোর পক্ষে তারা বিশ্বাস করে যে সংসদীয় কাঠামো একবার ব্যর্থ হয়েছে এবং যতক্ষন পর্যন্ত না সুশৃংখল দল আসবে তত দিন সফল হবে না, তাদের মতে সুশৃংখল দলে আসতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। তাদের মধ্যে অনেকে মাত্র এক যুগের জন্য রাষ্ট্রপতি-কেন্দ্রিক কাঠামোর সুপারিশ করেছে এবং তারা পরামর্শ দেয় যে প্রতি দশ বছরে এটির সংশোধনের জন্য সংবিধানে বিধান তৈরি করা উচিত। বাকি ব্যক্তিরা বিশ্বাস করে যে সংসদীয় কাঠামো আমাদের সাথে খাপ খায় না কেননা ইসলামী দেশগুলোর ইতিহাস বিশেষণ করলে দেখা যায় যে সবসময় কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় একজন মাত্র ব্যক্তি বিরাজ করত। এই সূত্রে এটা বলা হয় যে, যেই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান ও তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী থাকে সেই ব্যবস্থা তাদের ব্যক্তিত্বের দ্বন্ধে শেষ হতে বাধ্য। এই মতে অনুসারে কিছু মতামত তাদের উপস্থাপিত বক্তব্যে এই দুই কাঠামোর মিশ্রণের পরামর্শ দেয় কিন্তু ক্ষমতার ভারসাম্য উপস্থিত থাকলেই এই পরামর্শগুলো সুবিধামত বিবেচনা করা যাবে ।

 

<2.014.086>

 

সংসদীয় কাঠামোর উপযুক্ততা আলোচনা

৩৭. আমাদের মতে, বিশুদ্ধ হোক বা প্রস্তাবিত পরিবর্তিত রূপ হোক সংসদীয় কাঠামো গ্রহণ করে আমরা বিশাল ঝুঁকি নিচ্ছি, আমরা মনে করি বর্তমান পর্যায়ে এত বড় ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা আমাদের নাই।

৩৮…..

৩৯. এটা বলা ঠিক নয় যে আমরা ব্রিটিশ সংসদীয় কাঠামোতে অনেক দিন ধরে অভ্যস্ত কেননা ভারত শাসন আইন, ১৯৩৫, জারি হওয়ার পূর্বে সরকার ব্যবস্থা আপেক্ষিক ভাবে রাষ্ট্রপতি-কেন্দ্রিক ছিল।একটি নির্দিষ্ট পরিমান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত দায়িত্ব সন্দেহাতীত ভাবে ১৯১৯ সূচনা করা হয় যা দ্বৈতশাসন নামে পরিচিত, সকল বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের চেয়ে সচিবালয়ের মতামতকেই গ্রহণ করা হত (?)। ভারত শাসন আইন, ১৯৩৫, যখন ১৯৩৭ সালে কার্যকর হয় তখন প্রাদেশিক ক্ষেত্রসমূহ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে আনা হয় তবুও রাষ্ট্রীয় সেবার সচিবালয়সমূহ মন্ত্রীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরেই থাকে। প্রাদেশিক সরকারকে এই সেবাগুলোতে বিশেষ ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রদান করা হয় কেন্দ্রে যেগুলোতে ভাইসরয় সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। স্বাধীনতা অর্জনের পরই সংসদীয় সরকার কাঠামোর প্রচলন হয় এবং এ কাঠামো কিভাবে কার্যকর হয়নি সে সম্পর্কে প্রথম অধ্যায়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। আমাদের মতে এটা বলা নিরর্থক যে আমরা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় এতটাই অভ্যস্ত যে এই কাঠামোর তাৎক্ষণিক ফলাফল পূর্বের মত হবে জেনেও আমাদেরকে ধৈর্য ধরে এ কাঠামো অবিরত রাখতে হবে।

৪০. ভারতে এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে এই প্রভাব থেকে যদি বলা হয় যে এখানেও সফল হওয়া উচিত তবে স্বশাসন সম্পর্কে স্যার আইভর জেনিংসের উদ্ধৃতি প্রদান করা ছাড়া উপায় থাকেন,

“ ব্রিটিশ সংবিধান ভারতে সক্ষম ও ঠিক ভাবেই খাপ খাইয়ে নেওয়ার অন্যতম কারন হল ভারতীয় রাজনীতি প্রভাবিত হয় ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস দ্বারা যে দল মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরুর দল হওয়ার কারণে প্রভুত সম্মান পায়। আরও সম্মানজনক হল এটি সেই দল যেই দল ভারতকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় অনেক ভারতীয় নেতা কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য হয় এবং তাদের রাজনৈতিক দর্শনের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এটি মানব জাতির চিরন্তন বৈশিষ্ট যে তারা সে সংগঠনটির আনুগত্য বোধ করবে যেটি আত্ম উৎসর্গ করেছে, যে দল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অন্যের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে সম্মান অর্জন করেছে তার নয়। ১৯৪৭ সালের পর থেকে অসংখ্য ব্যক্তি ও ক্ষমতার দ্বন্ধ থাকার পরেও কংগ্রেস সঙ্ঘকে প্রভাবান্বিত করে ও রাষ্ট্রে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই পর্যায়ে শক্তিশালী বিরোধীদলের উপস্থিতি কম অপ্রাসঙ্গিক, কংগ্রেসের ভাঙ্গন ও দূর্ণীতিগ্রস্থতার কারণে যদিও ভারত বিপদে পড়তে পারে কারণ সরকার গঠন করার মত বিরোধী দল সেখানে নাই।

 

 

 

 

<2.014.087>

“পাকিস্তান যদি ভারতের মত তারাতারি সংবিধান প্রণয়ন করতে চায় তবে তাকেও ভারতের মত একই পথ অনুসরণ করতে হবে। তার নেতাদের জন্য এটা আরো বেশি কঠিন কাজ। এটি শুধু মাত্র তিনটি সম্পূর্ণ প্রদেশ যেমন, সিন্ধু, বালুচিস্তান ও নর্থ-ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এটির আরও ছিল রাজধানী সহ পাঞ্জাবের বিশাল অংশ, লাহোর, পূর্ব বাংলা যাতে আছে অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা। এমনকি এটির প্রাদেশিক রাজধানীও ছিলনা। করাচি এবং ঢাকায় সম্পূর্ণ নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। এমনকি পেশোয়ার, লাহোর, হায়দ্রাবাদেও একই ব্যবস্থা করতে হবে। যাহোক, অনেক সরকারী চাকুরে হিন্দু ছিল যারা দেশ ভাগের পরপরই ভারতে চলে গেছে। নতুন কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক প্রশাসন মিশ্রিত স্থানীয় ও উপমহাদেশের বিভিন্ন অংশের উদ্বাস্তুদের সম্মিলনে তৈরি করতে হবে। আরও কঠিন বিষয় হল যখন এই সংগঠনগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন বিভিন্ন শহর ও নতুন ভারতীয় সীমান্তে দাঙ্গা আরম্ভ হয়। পুলিশ ছিল অসংগঠিত এবং কোন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ছিলনা, দেশ ভাগের পূর্বে নীতিগত কারণে সেনাবাহিনী তৈরি করা হয়েছিল জাতিগুলোর মিশ্রণে যেন সংস্থিত থাকে যেমন রাওয়ালপিন্ডিতে যে ব্যাটালিয়ন ছিল তাতে থাকতে পারত মুসলিম, ডোগরা, শিখ সেনা দল।”

“প্রথম তাকে একটি সংগঠন দখল করতে হয়েছে এবং বছরের শেষ দিকে জিন্নাহ মারা যায় মুসলিম লীগে যার প্রভাব ছিল কংগ্রেসে নেহরুর চেয়েও বেশি। মুসলিম লীগে তার সক্ষমতার কেউ ছিল না, তবুও লিয়াকত আলি খান ১৯৫১ সালে মারা যাওয়ার পূর্বে দলটিকে সচল রেখেছিলেন। তাত্বিকভাবে মুসলিম লীগ প্রভাব বজায় রেখে ছিল, ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নেতার অভাব ও নিম্ন স্তরের লোকদের কলহের কারণে মার্চে পূর্ব বাংলার নির্বাচনে শুধু ছায়া হয়েই ছিল। ১৯৫৪ সালে দলটি কার্যকরী ভাবে মুছে যায়, ১৯৫৫ সালে দ্বিতীয় সাংবিধানিক সংসদে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জনের পূর্বেই এটি মিশে যায়। ব্রিটেনের মত এই দেশে দুটি শক্তিশালী দল ছিলনা, ছিলনা ভারতের মত একটি শক্তিশালী দল ও বিভিন্ন ছোট ছোট বিরোধী দল, কিন্তু ছিল কিছু সংখ্যক ছোট প্রতিদ্বন্দ্বী দল।”

৪১. স্যার আইভরের মতে দেশে নেতৃত্বের অভাব ছিল যার প্রধান কারণ হল অতীতে বিভিন্ন প্রতিকুল পরিবেশের শিকল আমাদের প্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ১৮৫৭ সালের পর মুসলমানেরা অনেক কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে, কেননা তত্কালীন সরকার মনে করেছিল মুসলমানদেরকে নির্মমভাবে দমিয়ে না রাখলে আরেকটি বিদ্রোহ হবে। এই নীতি মুসলমানদের পতন সম্পূর্ণ করা যা শুরু হয়েছে মুঘল শাসন অবসানের পরপরই। যতদিন ফারসি আদালতের ভাষা ছিল ততদিন মুসলমানেরা দাপ্তরিক উচ্চপদে ছিল। যখন ইংরেজি ভাষার প্রচলন হয় তখন মুসলমানেরা লোকসানের স্বীকার হয়, কেননা তারা সে বিদেশি ভাষা শিখতে উত্সুক ছিলনা যে ভাষার লোকেরা তাদের চূর্ণ করেছে। এসময় হিন্দুরা শিক্ষা ও বাণিজ্যে এগিয়ে যায়। সময়ের পরিক্রমায় ভারতীয়দের জন্য উন্মুক্ত প্রশাসনিক ও পেশাগত সর্বোচ্চ পদগুলোতে তারা অধিষ্ঠিত হয়। যদিও শিক্ষা হিন্দুদের নির্ধারিত বর্ণের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল তবুও তারা অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করে, এসময় স্বশাসনের ধারণা জনপ্রিয়তা পায় এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গতি লাভ করে। মুসলমানেরা স্বাধীনতা পাবার আকুলতা থাকা সত্বেও এ আন্দোলনে যোগ দেয়নি কারণ তারা হিন্দুদের প্রভাব বিস্তারের ভয়ে ভীত ছিল। পরবর্তী কালেএই ধারণা সত্য প্রমাণিত হয় হিন্দুরা মুসলমানদের সাথে সম-আচরণ করতে ব্যর্থ হয়।

<2.014.088>

কায়েদে আজম, যে নিজে তীব্র কংগ্রেসম্যান ছিল সে বুঝতে পারে যে মুসলমানেরা কংগ্রেসের হাতে নিরাপদ নয় যদিও দলটি দাবী করে যে তারা পুরোপুরি অসাম্প্রদায়িক। যার ফলস্বরূপ মুসলমানেরা স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেয়নি যেভাবে কংগ্রেসের অনুসারীরা দিয়েছিল। স্বাধীনতা অর্জনের নিয়মিত প্রচেষ্টার কারণে দলটি নিজেদের সংগঠিত করে এবং নেতৃত্ব ও দলগত শৃংখলা অর্জনের অভিজ্ঞতা লাভ করে। মাত্র ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগ কায়েদে আজমের নেতৃত্বে সামনের সারিতে আসে। কোন গুরুত্বপূর্ণ নেতার উত্থানে এটি খুবই কম সময়। যখন পাকিস্তান সৃষ্টি হয় তখন যথেষ্ট রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি ছিলনা। যদি কায়েদে আজম কয়েক বছর বেচে থাকত, কমপক্ষে কায়েদে মিল্লাত যে তার দ্বারা প্রশিক্ষিত হয়েছিল তাকে যদি ছিনিয়ে না নেওয়া হত তবে আজকে আমাদের অবস্থান আরও ভাল থাকত। সফল সংসদীয় কাঠামোর জন্য শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজন যারা বিকল্প সরকার গঠন করতে পারে। স্যার আইভরি জেনিংস বলেছেন যে মুসলিম লীগের মত কংগ্রেসও যখন অবস্থান হারায় তখন ভারত প্রতিকুল অবস্থার সম্মুখীন হয়। কংগ্রেস থাকার ফলেও সব কিছু ভাল হয়না এমন অভিমত প্রকাশ করেন লোকসভার স্পিকার। ২রা জানুয়ারি, ১৯৬১ সালে স্টেটসম্যান পত্রিকার রিপোর্টে প্রকাশিত তার বক্তব্যে এমনটিই বুঝা যায়,

“যদিও আমরা কম সময়ে আরামদায়কভাবে স্থিত হয়েছে, স্বাধীনতা অর্জনের পর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ আমাদের দেশে খুব ভাল ভাবেই চলছে, যেটি আমাদের গণতান্ত্রিক সংবিধান দিয়েছে, তথাপি সকল রাজ্যের বিষয় সমূহ যেমন হওয়া উচিত বা যেমন প্রত্যাশা করা হয় তেমন নয়।”

“ক্ষমতা অর্জন বা পুনরায় অর্জনের জন্য ব্যক্তি বা দলের সমর্থন পরিচালিত হওয়ার কারণে সরকার পরিবর্তন হলে লোকজন অচিরেই অসুস্থ হয়ে পড়বে। ক্ষমতার লড়াই যদি নিত্যই চলতে থাকে তবে জনগন ঐ সরকার থেকে কিছুই পাবে না। দলাদলির কারণে পুরো ক্ষমতাসীন দল কলঙ্কিত হবে।”

“একমাত্র প্রতিকার হল যে নেতা নির্বাচিত হয় তার কার্যে বাধা দেয়া যাবেনা যতদিন পর্যন্ত তার দল সংখ্যা গরিষ্ঠতা ধরে রাখে যদি না সে কোন স্থুল ভুল করে।”

“অন্যথায় তার প্রতিপক্ষ যে দলের নেতৃত্ব অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে নিজের জন্য সমর্থন প্রাপ্তির চেষ্টা চালাবে এবং সফল প্রার্থীকে ছুড়ে ফেলার চেষ্টা করবে এবং এই ভয়ঙ্কর চক্র চলতেই থাকবে।”

৪২. পার্লামেন্টারিয়ানদের দ্বিতীয় দল যারা পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে, তা ইতিমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে প্রশ্নপত্রের ২ নম্বর প্রশ্নের বিপরীতে তাদের অভিমত, তারা পরামর্শ দিয়েছেন যেসব কারণে পার্লামেন্টারি কাঠামো ব্যর্থ হয়েছে সেগুলো প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের মতে পরিবর্তনগুলো নিম্নোক্ত ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ

 

 

<2.014.089>

(ক) দলেরসংখ্যায়বিধিনিষেধআরোপওনিবন্ধনেশর্তাবলীরমাধ্যমেতাদেরকেনিয়ন্ত্রণকরা।

(খ) পদত্যাগ ও পুনরায় নির্বাচন করতে বাধ্যবাধকতা আরোপের মাধ্যমে দলগুলোর জোট পরিবর্তনে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা।

(গ) সংবিধানে যুক্ত রাজ্যে উপগমনের বিধি আনায়ন করা উচিত।

(ঘ) রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রীগণ কর্তৃক প্রাত্যহিক প্রশাসনে হস্তক্ষেপ সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধকরণ এবং তাদের অসদাচরণের জন্য শাস্তি প্রদানে কঠোর আইন প্রণয়ন করা।

(ঙ) জরুরী অবস্থা ও নির্বাচনের পূর্বের কয়েক মাস যখন সে ক্ষমতা গ্রহণ করবে সেসময় বাদে রাষ্ট্রপতি কর্তৃকও হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধকরণের বিধান করা।

এসব পরিবর্তনের মধ্যে কিছু পরিবর্তন পার্লামেন্টারি সরকার কাঠামোকে নব রূপ দিবে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব কিছুই আমাদের আকাঙ্ক্ষিত ফল তথা সরকারে স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনের দৃঢ়তা প্রদান করবে না।

৪৩. দৃশ্যত দুই দলীয় ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করেই দলের সংখ্যা সীমাবদ্ধকরনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন হল কোন নীতির উপর ভিত্তি করে এই নিষেধ আরোপ করা যেতে পারে? এই দুই দল যারা স্বীকৃত হবে তাদেরকে কিভাবে নির্ধারিত করে হবে? যদি বলা হয় দুটি দলের বেশি হবে না কিন্তু অনেকগুলো দল যদি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে তবে কিসের উপর ভিত্তি করে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা দুইটি দলকে পছন্দ করবে এবং বাকিদের বাতিল করবে? আমেরিকা ও ইংল্যান্ডে দলের সংখ্যা নিয়ে কোন সীমাবদ্ধতা নাই, কিন্তু ইলেক্টোরেটরা এটিকে মূলত ইংল্যান্ডে কনজার্ভেটিভ ও লেবার পার্টি এবং আমেরিকায় রিপাব্লিকান ও ডেমোক্রেট হিসেবে ভাগ করে নেয়। দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শুধু মাত্র দলের সদস্য সংখ্যা, অর্থায়ন ও হিসাব-নিকাশ এবং নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কিন্তু এটি তার সমর্থনের স্থীতিশীলতা নিশ্চিত করেনা। একটি দল সংগঠন ও নীতি ইত্যাদি বিষয়ে নিবন্ধন কর্মকর্তাকে সন্তুষ্ট করতে পারে এবং তারপরও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দলের সদস্যরা কোন নীতি ছাড়াই শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থে তাদের নেতার উপর সমর্থন প্রত্যাহার করতে পারে।

৪৪. দল সম্মিলনে বিধিনিষেধের জন্য, যে ব্যক্তি তার দলের নেতার উপর অসন্তুষ্ট, যদি সরাসরি অন্য দলে যেতে প্রতিরুদ্ধ হয় সে সহজেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুপস্থিত থেকে এই বিধিনিষেধকে বোকা বানাতে পারে। অতীতে শুধু ব্যক্তিরাই বিরোধী দলে যোগ দেয়নি, দলগুলোও বিভক্ত হয়েছে। উদাহরণ স্বরুপ পাঞ্জাব প্রদেশে ১৯৪৯ সালে মুসলিম লীগের কতিপয় সদস্য তৎকালীন বরখাস্তকৃত মুখ্যমন্ত্রীসহ জিন্নাহ মুসলিম লীগ নামে নতুন একটি দল গঠন করে। একই ভাবে পূর্ব পাকিস্তানে যখন গভর্নরের শাসন তুলে নেওয়া হয় তখন সেখানকার সবচেয়ে বড়দল আওয়ামী লীগ সঙ্কটে পড়ে কারণ এ দলের কিছু সদস্য ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি নামে নতুন দল গঠন করে। এখন, দলগুলোর এরকম বিভক্তি যদি আইন দ্বারা নিষিদ্ধ করা হয় তবে আইনসভার একজন সদস্য দল সম্মিলনের স্বাধীনতা হারাবে, যা একজন সংসদ সদস্যের ভারমুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় যা প্রথম অধ্যায়ে ইতিমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে। একজন সদস্য ন্যায়ভাবেই বোধ করতে পারে যে সংখ্যা গরিষ্ঠ দল কর্তৃক গ্রহণকৃত নীতি ক্ষতিকর, তারা দল ত্যাগ করবে এমন ঘোষণা গ্রহণকৃত নীতি প্রতিরোধে আকাঙ্ক্ষিত প্রভাব পরবে। কিন্তু যদি প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় তবে, একজন সাধারণ সদস্য সে যত দৃঢ় ভাবেই তার দলের নীতির বিরুদ্ধে থাকুক না কেন তার আসন ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করার সম্ভাবনা কম।

 

<2.014.090>

 

৪৫. ইংল্যান্ডে নিরীক্ষিত বিধিসমূহ সংবিধানে আনায়নের প্রস্তাব প্রসঙ্গে, প্রথম যে জিনিসটি নির্দেশিত হয় তা হল বিধিসমূহ হল রেওয়াজ ও পারস্পরিক সমঝোতা যেমন লর্ড ব্রাইস বলেছেন, “কোন লেখক এগুলো গঠন করতে পারে না।” দ্বিতীয়ত, বিধি কোন নজির নয় যা সবসময় অনুসরণ করা হয়, যেমন কেইথ[1] তার ‘ব্রিটিশ ক্যাবিনেট সিস্টেম’ এ উল্লেখ করেছেন,

“এটা ভিন্ন হতে পারে, কারন এটি সংবিধানের উন্নতির সাথে আর সঙ্গতি রাখে না, যখন নতুন রেওয়াজ তৈরি হবে তখন সেটাই অনুসরণ করা হবে যদি না পরিস্থিতি পাল্টে যায়।”

যেগুলো পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তন হয় সেগুলো সংবিধানের বিধি হিসেবে অধিগ্রহণ সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ১৯৩২ সালে, যখন ইংল্যান্ডে জোট সরকার ছিল তখন ক্যাবিনেটের সদস্যরা একমত হয় যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রস্তাবের বিপরীতে ভোট দিতে পারবে যা সরকারি প্রস্তাব হয়। এই ‘ভিন্নমত প্রকাশের চুক্তি’ পরিষ্কারভাবেই যৌথ দায়িত্বের নিয়ম থেকে ভিন্ন, কিন্তু স্যার আইভরি জেনিংসের মতে এটি ব্যতিক্রম এবং যেখানে শর্তসমূহ একই সেখানে প্রয়োগ করা যাবে। এই ঐক্যমত ইংল্যান্ডে অসাংবিধানিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। পরবর্তি সংবিধানে, ৩৭(৫) অনুচ্ছেদে ক্যাবিনেটের যৌথ দায়িত্বের ইংরেজ বিধিটি সাংবিধানিক বিধি হিসেবে অধিগ্রহণ করা হয়, কিন্তু সংবিধানটি কার্যকর হওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা ‘এক গোষ্ঠী’ প্রশ্নের উপর জনগনের সামনে বক্তব্য রাখতে শুরু করে যা নির্দেশ করে যে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির উপর একমত নয়। এই ঘটনা ইঙ্গিত করে যে, সংবিধানে বিশেষ পরিস্থিতিতে উদ্ভূত রেওয়াজকে অধিগ্রহণ করা কতটা অবিবেচনাপ্রসূত, এই রেওয়াজ পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথেই পাল্টে যায়। এই সমস্যাসমূহ বাদে, আমরা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছি যে, কিভাবে নির্দিষ্ট পরিচিত বিধি সংবিধানে অধিগ্রহণের মাধ্যমে সরকারের স্থিতি নিশ্চিত করা হয়, যখন, আমরা উপরে যা বলেছি, পার্লামেন্টারি কাঠামো ঠিক ভাবে পরিচালিত হওয়ার জন্য আমাদের আইন-সভায় ঐ ধরণের নেতৃত্ব ও সদস্য নেই। যতক্ষণ না আইন-সভার সদস্যদের মাঝে রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ তৈরি হয় এবং মন্ত্রণালয়ে নিজের উদ্দেশ্য সাধনে রাজনৈতিক চাপ প্রদান বাদ দেওয়া হয়, এমনকি সংবিধানের নির্দিষ্ট বিধান উপেক্ষিত হয়।

৪৬. প্রাত্যহিক প্রশাসনে মন্ত্রীদের হস্তক্ষেপ সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধকরণ সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, যেমন মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের পরিস্থিতি উদ্ভূত হয়, প্রশাসনিক বর্ণনা প্রদান করতে হয়। ইংল্যান্ডে এই ধরনের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই এবং নীতির প্রশ্ন না ওঠা পর্যন্ত কোন মন্ত্রীই প্রাত্যহিক প্রশাসনে হস্তক্ষেপের চিন্তা করেনা।

 

 

<2.014. 991>

সাধারণত, প্রশাসনিক বর্ণনা জনসেবা ও বিশেষজ্ঞদের হাতে থাকে। যদি কোন প্রশ্ন সৃষ্টি হয়, তবে বিষয়টি মন্ত্রীর হাতে অর্পণ করা হয় যাকে বিভিন্ন কর্মসূচী ও তার ফলাফল সম্পর্কে তার দপ্তর ও বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেয়। তাই এটি মন্ত্রী ও আইন-সভার সদস্যদের উপর নির্ভর করে, কখন ও কোন মাত্রায় সেখানে হস্তক্ষেপ করা উচিত। ইংল্যান্ডে সাধারণ সংসদ সদস্য যেখানে নীতির প্রশ্ন না আসে সেখানে মন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে বলার চিন্তা করবে না, যদি কেউ করে তবে তাকে অসন্তুষ্ট রাখার কারণে মন্ত্রীর অবস্থানের পরিবর্তন হবে না, কারণ অন্য সদস্যরা মন্ত্রীর সাথেই আছে। কিন্তু এখানে এটি ভিন্ন হতে পারে। উপরন্তু, যখন মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠে তখন সুক্ষ্ম একটি প্রশ্ন উত্থাপিত তা হল কখন কর্মপন্থা শুরু হয় এবং তার প্রয়োগ শুরু হয়। অতীতে কুশাসন, অসদাচরণ, দুর্নীতির অভিযোগে মন্ত্রীদের বিচার পরিচালনা করা ট্রাইব্যুনালের অভিজ্ঞতা এটি। রাজনৈতিক সমর্থকদের সন্তুষ্ট রাখার জন্য বদলী, পদোন্নয়ন ইত্যাদি প্রশাসনিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার ঝোঁক মন্ত্রীদের। আইনসভার সাধারন সদস্য যারা নিয়োগ, বদলী ইত্যাদিতে আনুকূল্য হিসেবে মন্ত্রীদের হস্তক্ষেপ চায় তাদের জন্য এটি কম আরামদায়ক হবে যদি বলা হয় যে এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আছে। যে মন্ত্রী এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করবে তাকেই সে সমর্থন দিবে, তথাপি যদি মন্ত্রীরা হস্তক্ষেপে অস্বীকৃতি জানায় অথবা যদি এসব অনুরোধে বশ্যতা স্বীকার করে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ করে তবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে।

৪৭. অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, ক্ষমতাসীন দল যাকে সরিয়ে দিতে চায় তার বিরুদ্ধে মন্ত্রীদের অসদাচরণ ও দুর্নীতির জন্য শাস্তির বিধানটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গভর্নর জেনারেলের পূর্ববর্তী অনুমতি প্রয়োজনে তৈরি হয়েছে, কারণ প্রত্যেক নাগরিককে প্রবেশের অধিকার প্রদান করা প্রশাসনের ইচ্ছা নয়!!!! যাহোক এই ধরণের বিধান শুধু মাত্র যে মন্ত্রী দুর্নীতি করেছে তার জন্য প্রতিবন্ধক হতে পারে, অবস্থান ধরে রাখার জন্য যে কুশাসন ও হস্তক্ষেপ করেছে তার জন্য নয়। উপরন্তু, হস্তক্ষেপকারী মন্ত্রী নথিতে কোন প্রমাণ না রেখেই তার প্রভাব বিস্তারের জন্য অনেক পথ খোঁজে পাবে।

৪৮. পার্লামেন্টারি সরকার কাঠামোতে রাষ্ট্র প্রধান বিষয়ক প্রস্তাব এখন বিবেচনায় আছে। একটা প্রস্তাব হল, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করে সংবিধানে একটি নির্দিষ্ট বিধান থাকা উচিত। এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা দেশ ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য কল্যাণকর নাও হতে পারে, যদি সংসদের সংখ্যা গরিষ্ঠ দল জাতির আস্থা হারায় এবং যদি রাষ্ট্রপ্রধান হস্তক্ষেপ না করতে পারে তবে ইলেক্টোরেটদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেখানে কতিপয় ব্যক্তিদের শাসন থাকবে। ডাইসি (Dicey) এর মতে, সার্বভৌম ইংল্যান্ড সংসদে সংখ্যা গরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও যদি কোন মন্ত্রণালয় জনগনের আস্থা হারায় তবে তাকে ভেঙ্গে দিতে পারে। যাহোক, কোন রাষ্ট্রপ্রধানই তীব্রভাবে সাংবিধানিক বিধান উপেক্ষা করবে না, কারণ এটি তাকে অভিশংসনের মুখোমুখি করবে, কিন্তু সে অবস্থানে আছে তা দখল করা তার পক্ষে সবসময়ই সম্ভব হতে পারে। যদি সে পর্দার পেছনে হস্তক্ষেপে খুব ঝোঁকে যায়। পরবর্তী সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর অভিযোগ উঠে যে প্রজাতন্ত্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি এসব কর্ম ক্ষমা করে দিচ্ছেন এবং আমরা বলতে পারি না যে এসব অভিযোগের ভিত্তি নেই। এই ব্যাপারে আরেকটি প্রস্তাব করা হয়েছে তা হল, নির্বাচনের দ্বারা আইনসভার সদস্যদের মেয়াদ শেষ হবার তিনমাস পূর্বে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পুরো প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ।

 

<2.014.00922>

স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য এই প্রস্তাবটি এসেছে একজন তীব্র পার্লামেন্টারিয়ানের কাছ থেকে, এটি বুঝায় যে প্রধানমন্ত্রী যিনি চার বছর ধরে দপ্তরে আছেন তাকে বিশ্বাস করা যায় না এবং শুধু নির্বাচনী কাজ সৎ ভাবে করতে পারবেন না। যদি তাই হয়, তবে একজন কিভাবে তার উপর নির্ভর করে যে শাসনকালের প্রাথমিক পর্যায়ে যখন তার অবস্থান হুমকির মুখে পড়ে তখন তিনি সৎ ভাবে কাজ করবেন। যদি তার শাসন কালের শেষ পর্যায়ে তার পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার ইচ্ছা জাগে বা তার দলকে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ প্রদান করেন তবে তা তাকে সৎ পথ থেকে বিচ্যুত করবে, কিছুই তাকে আটকাতে পারবে না, এমনকি শাসনকালের প্রাথমিক পর্যায়েও তিনি অসৎ কাজ করবেন যখন তার অবস্থান হুমকির সম্মুখীন হবে। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পুরো প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের সময় প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে যে প্রস্তাব অনুসারে তাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন আইনসভা থাকবে না। এখন একটি প্রশ্ন উঠে যে, পুরো প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি যদি তার নির্ধারিত তিনমাস সময়ের পরেও একক শাসক হিসেবে ক্ষমতায় থাকতে চায় তখন কি করতে হবে? নিঃসন্দেহে সেই একই তীব্র পার্লামেন্টারিয়ান প্রস্তাব দেন যে, এই ধরণের দৈবঘটনা এড়াতে, সংবিধানে এই বিধান রাখতে হবে যে রাষ্ট্রপতি এক মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না এবং মেয়াদ শেষে তিনি যথার্থ পেনশনের বদলে সক্রিয় জীবন থেকে অবসর নেবেন। আমরা মনে করি, একজন মানুষের পক্ষে শুধু চার-পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় থেকে সক্রিয় জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া কঠিন। এই সূত্রে, প্রেসিডেনশিয়ালিস্টদের প্রকাশিত মতামত বিবেচনায় নেওয়া যায় যে, আমাদের দেশে যদি দুজন প্রধান থাকেন, একজন সাংবিধানিক প্রধান ও অন্যজন নির্বাহী প্রধান তবে তাদের মাঝে বিরোধ হতে বাধ্য। আমাদের মতে এই দর্শনে বিবেচনা যোগ্য প্রভাব রয়েছে। কার্যকর সংসদীয় সরকার কাঠামোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বস্তু হল নিরপেক্ষ সরকার প্রধান, যে নিজেকে দলীয় রাজনীতি থেকে ঊর্ধ্বে রাখবে, কিন্তু নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান কদাচিৎ নিজেকে নির্লিপ্ত রাখে। ইংল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধান উত্তরাধিকার সূত্রে স্বাধীন হবে না নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হবে এই প্রশ্নে সুপরিচিত লেবার নেতা হার্বার্ট মরিসন[2]তার ‘গভর্নমেন্ট এন্ড পার্লামেন্ট’ এ উল্লেখ করেছেন,

“জনপ্রিয় নির্বাচন সরকার ও সংসদের বিনিময়ে রাষ্ট্রপতিকে অতিরিক্ত কর্তৃত্ব প্রদান করবে। যেকোন ক্ষেত্রে সেখানে বিরোধের সকল সম্ভাবনা থাকবে এবং ১৯৫৩ সালে ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মত দলীয় বিবাদ দেখা যেতে পারে।”

এটা লক্ষণীয় যে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি কাঠামো ইউরোপের রাজতান্ত্রিক দেশসমূহে ভাল কাজ করেছে, যেখানে ইউরোপের প্রজাতান্ত্রিক যেসব দেশ এটি গ্রহণ করা হয়েছে সেখানে এটি পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়েছে। একজন সাংবিধানিক রাজা নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকা পালনের প্রশিক্ষণ দেয়, যতদূর সম্ভব তার অবস্থান ও সুবিধাসমূহ ষড়যন্ত্রের ঊর্ধ্বে থাকে কারণ সেই সর্বপ্রধান (ফার্স্ট সিটিজেন) এবং তার এই অবস্থান অপরিবর্তিত থাকে যতদিন না সে পদত্যাগ করে অথবা মৃত্যু বরণ করে। একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান অবশ্যই জনগনের আস্থা অনুযায়ী নির্দেশ দিবে, যদি সে বলিষ্ঠ ব্যক্তি হয় এবং একজন প্রধানমন্ত্রী যার অবশ্যই একই পরিমান জনগনের আস্থা থাকে ও বলিষ্ঠ ব্যক্তি হয় তবে বিশেষ করে আমাদের দেশের মত দেশে যেখানে রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ পুরোপুরি তৈরি হয়নি সেখানে তাদের মাঝে সংঘর্ষ হতে বাধ্য। আমাদের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস যতই সংক্ষিপ্ত হোক এটিই সমর্থন করে। যতদিন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও গভর্নর জেনারেলে উভয়ের মধ্যে একজন দুর্বল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিল ততদিন বাস্তবিক ভাবে প্রশাসন প্রধান হিসেবে একজন ব্যক্তি ছিল।

 

<2.014.093>

 

 

অতএব, আমাদের কাছে এটি মনে হচ্ছে যে, আমাদের একটি সরকারীতন্ত্র থাকা উচিৎ যেখানে,শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি সকল বিষয়ের উর্ধ্বেথেকে, একটি কার্যকর শাসন যা একটি স্বাধীন আইনসভা সদস্যদের দ্বারা প্রয়োগ করে। যাইহোক, তারা এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা উচিৎ হবে না যাতে তাদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এ ধরণেররাষ্ট্রপতি সরকার গঠন ব্যাবস্থা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া যায়, যা সফল হয়েছে। এই ব্যাবস্থার অধীনে, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি নির্বাহী ক্ষমতা প্রাপ্ত,যা তিনি স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে পারেন। অন্যদিকে, এই আইনসভা, সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতির অনধীন ও তারপ্রশাসনের সমালোচনার স্বাধীনতা রাখে। এতে রাষ্ট্রপতি থেকে একটি আহ্বানপত্রের জন্য অপেক্ষা না করেই তাদের নিজস্ব প্রোগ্রাম, নিয়ম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জড়ো করতে পারেএবং উর্ধ্বতন প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত আইন বিষয়ে সাক্ষাৎ এবং চুক্তিপত্র অনুমোদন করতে হবে। আইনসভার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যদের রাষ্ট্রপতির এই ভেটো অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা আছে। এটি আমেরিকায় চলা ব্যাবস্থার সামান্য সীমারেখা।

এই ব্যাবস্থা আমাদের সাথে সম্পূর্ণরূপে মানানসই, অথবা, এটিকে সামান্য পরিবর্তন করতে হবে। এই পর্যায়ে এটি বলা যায় যে, যে ধরণের পরিবর্তনই আমরা ঘটাই না কেন, আমরা পারবো না। যদি আমরা গণতান্ত্রিক সরকার ধরণ চাই, আইনসভাকে অকার্যকর করতে হবে। এটি যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে থেকে এর ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগের উপর প্রশাসনকে প্রভাবিত না করে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এটি একটি যুক্তিসম্মত প্রশ্ন যে, সাধারণ রাজনীতিবিদেরা অদূর ভবিষ্যতে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না করলে এই ব্যাবস্থা কতটা কাজে দেবে। উত্তর হল, এইযে একবারআইনসভার সদস্যপদকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা নেয়া বন্ধ হলে, এমন ব্যক্তিবর্গ নির্বাচনে দাঁড়াবে যারা বুঝতে সক্ষম হবে, এবং বিধানসভার দ্বায়িত্ব পালনে আগ্রহী পক্ষান্তরে যারা অতীতের মতো নির্বাচনকে তাদের লাভের জন্য বিনিয়োগ হিসেবে ধরে তারা দাঁড়াবে না। এটা অবশ্যই, লক্ষণীয় যে,রাষ্ট্রপতি গঠনতন্ত্রেও, যে আইনসভারএকজন সদস্যরও প্রশাসনেরপ্রভাব আছে; উদাহরণ স্বরূপ,আমেরিকাযুক্তরাষ্ট্রে সেনেটার এর হোয়াইট হাউস এর প্রভাব চালিত থাকার দৃষ্টান্ত বিরল নয়। কিন্তু এই সিস্টেমেরএবংসংসদীয় গঠনতন্ত্রের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য এই যে,যেখানে শাসক তার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের, ক্রমাগত দৈনন্দিন সমর্থনের উপর নির্ভরশীল। সেখানে রাষ্ট্রপতি গঠনতন্ত্রে রাষ্ট্রপতি যিনি জনগণের প্রতিনিধি,কর্মক্ষেত্রে এই ধারাবাহিকতার জন্য আইনসভা উপর নির্ভরশীল নয়। যদি আইনসভা তার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তাকে নতুনভাবে তৈরি করতে হবে,যদি তিনি অচলাবস্থা এড়াতে চান। কিন্তু একটি প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান যতই শক্তিশালী হোক, যদি কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে এবং যদি তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক রাতারাতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়, তাকে পরদিন সহজেই কর্মক্ষেত্র হতে কোন বিচার ছাড়াইসরিয়ে দেয়া যাবে।

 

<2.014.094>

 

এটা ছিলো তার দলের সঠিক পথ হতে বিচ্যুত হওয়া অধিকাংশ মন্ত্রীদের সন্তুষ্ট রাখার জন্য বাধ্য করা। আমরা মনে করি যে, বেশিরভাগ মন্ত্রীরাই যারা অফিসে পর্যালোচনার অধীনে থাকে, তারা সঠিক পথেই থাকতো, যদি না তারা দলের সমর্থকদের উপর এতটা নির্ভরশীল না হতো। এছাড়াও, রাষ্ট্রপতি শাসিত গঠনতন্ত্রে, দক্ষ লোকদের মধ্য হতে প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়,সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নয়। যেখানে প্রধানমন্ত্রীসংসদীয় গঠনতন্ত্রের অধীনে একজনমেধাবী মানুষ নাও হতে পারে, না পারে মেধা অনুযায়ী মন্ত্রীদের নির্ণয় করতে। এখানে নির্ণয়ের ক্ষেত্রেদল থেকে তিনি কিছুটা সমর্থন পান। কিন্তু এটা উপেক্ষা করা উচিত নয় যে, রাষ্ট্রপতি গঠনতন্ত্রের অধীনে রাষ্ট্রপতি আইনসভা সদস্যদের উপেক্ষা করতে পারে না। অন্যদিকে, তার হাউসে কাজের জন্য প্রয়োজন বোধে সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যেআইন,বিশেষত ক্ষণস্থায়ীউপযোজন বিল অর্জনের জন্য যথেষ্ট প্রভাব থাকতে হবে।প্রকৃতপক্ষে, তিনিএকটি দলের নেতা হবেন এবং তিনিতার সাথে মানুষের অন্য প্রতিনিধিদের বহন করতে হবে। সে একইসাথে রাষ্ট্র প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী উভয়ই। অতএব, একটি ভারী দায়িত্ব, তার উপর ন্যাস্ত। ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট*
তার প্রথম নির্বাচনের আগে উল্লেখ করেছেন:
“প্রেসিডেন্সিনা নিছক একটি প্রশাসনিক অফিস নয়। যে অন্ততএটা …… ..এটিপ্রাক মাত্রাতিরিক্তভাবে নৈতিক নেতৃত্বের একটি স্থান। আমাদের সব মহান রাষ্ট্রপতি ছিল সেই সময়ের নেতাদের যখন জাতির জীবনে নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ধারনা করা ছিলনেতৃত্ব, সতর্কতা এবং পরিবর্তন সংবেদনশীল ছাড়া ব্যাখ্যা করা, আমরা সব হয়অথবা আমাদের পথ হারাতে হবে।

অতএব, এটারাষ্ট্রপতি শাসিত অধীনে রাষ্ট্রপতিরজনমতে সাড়া দিয়ে তাদের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয়। আমরা মনে করি, এইসব ভারী দ্বায়িত্বমুক্ত করা যাবেকেবলপ্রেসিডেন্টযখনসাহস ও নম্রতার সঙ্গে সক্ষম হয়। যতদূর প্রশাসন যায়, তিনিই সরকার ও তার মন্ত্রীদের কাজের জন্য দায়ী।এটা তার দায়িত্ব যেসব মন্ত্রীরা,অতীতে মন্ত্রী করেনি,তারা বিস্তারিতপ্রশাসনিকনীতিগুরুত্ব দেবারপরিবর্তে নিজেদের হারান, যা তাদের প্রধান ডোমেইন। প্রেসিডেন্ট এর কাঁধের উপর যে পরিমাণ সংশ্লিষ্ট দ্বায়িত্ব অবস্থিত তা বিবেচনা করিয়া, আমরা একজন সহ-সভাপতি থাকা উচিৎ বলে মনে করি, যে নির্দিষ্ট কর্তব্য পালন করেতাকে সাহায্য করবে। অতএব, আমরা, মনে করি যে সেখানে একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকা উচিৎ যার কাছে প্রেসিডেন্ট কিছুদায়িত্ব অর্পণ করতে পারেন।

50.রাষ্ট্রপতি শাসিত অধীনে, আইনসভা, যে ভূমিকা পালন করতে হবে তা হলো, তহবিল নিয়ন্ত্রণ করা, দেশের জন্য আইন জারিও প্রশাসনের সমালোচনাকরতে পারা যা কম গুরুত্ব নয়। আইনসভা সদস্যদের দায়িত্ববোধ নিয়ে এই দায়িত্ব পালন করা উচিত।আমাদের সংসদ সদস্যদের আগেইরাষ্ট্রপতি এবং আইনসভার মধ্যেপ্রেসিডেন্ট পদ্ধতির অধীনে উদ্ভূত অচলাবস্থা চাপ নিয়ন্ত্রণ এর উপর অনেক পরীক্ষা করা হয়েছে। তারাসংসদীয়অধীনে সরকারের অস্থিরতার চেয়ে বেশী বিপর্যয়মূলক সম্ভাবনা চিহ্নিত করে।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি সংক্রান্তরাবেশ আশাবাদী ছিল যে, একটি সিস্টেমের মাধ্যমেব্যালেন্স চেক এবং মসৃণ সরকার সম্ভব হবে। যেমনঅধ্যায় ডিলিং এ ভারসাম্য দেখা যাবেএটা উপযুক্ত বিধান করে যথাসম্ভব অচলাবস্থা এড়াতে সক্ষম।

<2.014.095>

 

৫১. এটি সংসদ সদস্যদের দ্বারা বিবৃত হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি শাসিতস্বৈরশাসন এর বৃহত্তর ধারণাইঅধোগামীর জন্য দায়ী। যেহেতুএর অধীনে রাষ্ট্রপতি হিসাবে তাঁর শাসনামলে, মেয়াদ শেষ করার আগে রাষ্ট্রপতি শাসিত অভিশংসন ছাড়া অপসারণযোগ্য নয়, আর একটি একনায়ক হয়ে সরকারের একটি শান্ত পরিবর্তনের জন্যতার অধিক সম্ভাবনা আছে যা সংসদীয়অধীনেসুবিধা নিতে পারবেন বলে বলা হয়ে থাকে।এই সিস্টেমের অধীনে, রাষ্ট্রপতি শুধু অভিশংসন দ্বারা সরানো হতে পারে এবং তার সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। অতএব, যদি,তিনিএকনায়কের ভূমিকা পালন করতে চায়, তাহলে, দেশের আইনসভার ইচ্ছার পাশাপাশি জনমতসম্পূর্ণ উপেক্ষা করে, তার সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থন থাকতে হবে, এবং একবার যদি তিনি এ সমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হন, তবেসরকারের সংসদীয় বা রাষ্ট্রপতিযে কোন ফর্মই হোক, তিনি একজন স্বৈরশাসক হয়ে যাবেন। আদপে, বেসামরিক সরকার বরখাস্ত করা হয়,এবং বর্তমান শাসন একটি সংসদীয় রাষ্ট্রপতি দ্বারা ইনস্টলসরকার; এবং হস্তক্ষেপ প্রেরিত, এছাড়াও সংসদীয় অধীনে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তার বিরুদ্ধেপূর্বসুরী স্বেচ্ছাচারি হচ্ছে অভিযোগসঞ্চালিত হয়।
৫২. ইতিমধ্যেউল্লেখিত, সংসদ সদস্য হিসাবে রাষ্ট্রপতি শাসনের বিরোধিতা করতে গিয়েতাদের যুক্তি, লাতিন আমেরিকার প্রজাতন্ত্রগুলি রাষ্ট্রপতি শাসিতসমর্থনেসহজেই একটি স্বৈরশাসনের মধ্যে ধ্বসা, কিন্তুঐ দেশগুলোর অবস্থা আমাদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। লর্ড ব্রাইস,তার “আধুনিক গণতন্ত্র” বইয়ে যখনএই প্রজাতন্ত্রগুলির মোকাবেলার লক্ষ্য করেন তা নিম্নরূপ: –
“এই স্প্যানিশ উপনিবেশের অধিবাসীরারাজনৈতিক প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা ছাড়াই কঠোরভাবে স্বাধীন সমালোচনাকারীহিসেবে তাদের কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানেকোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান ছিলো না এবং খুব কম সংখ্যক স্থানীয়প্রতিষ্ঠান ছিলো, যার মাধ্যমে তারাকিভাবে তাদের নিজস্ব পরিচালনাবিষয়ক শিখতে পারে।

ইংল্যান্ড যেভাবে উত্তর আমেরিকান কলোনীদের কোনো শহরে মিটিং, কোনো পৌর পরিষদের কোন গির্জা প্রতিষ্ঠানেরযা পরবর্তীতেএকটি অংশ হতে দিয়েছিলেন সেভাবে স্পেনতাদের দেয়নি। সংযোগ রক্ষাকারী ব্যক্তিমিশুক বন্ডএকসঙ্গেকরতেতার মাস্টার দ্বারা ভূমিদাস নিয়ন্ত্রণ ছাড়াঅস্তিত্ব ছিল না। যে সমাজের অনেকগুলো অঞ্চল ছিল যা মধ্যযুগীয় ইউরোপেছিল তা থেকেকমই উন্নত,এমনকিউপজাতীয় সম্প্রদায়েরঅনেক কম কোনো সামন্ত প্রতিষ্ঠান ভোগদখল করে যেমন যেগুলো উন্নত ইউরোপীয় সাম্রাজ্যেগুলোর বাইরে।
যাই হোক না কেন, আসলে, সদ্য নতুন সংবিধানে সাধারণরাজনৈতিক কর্মের জন্যকোন ভিত্তি ছিলোনা,যা ছিলকয়েকটি ঔপনিবেশিক ভাল-শিক্ষিত নেতাদের মিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মডেল খসড়া করেযুক্তরাষ্ট্ররিপাবলিকান নামক এই নতুন পরিস্থিতিতে বাস্তব কিছু করার।
বিদ্রোহী ঔপনিবেশিকদেরদীর্ঘ যুদ্ধরীতি ছিল যা অবশ্যই, স্পেন এরজরাজীর্ণ সম্পদছেড়ে দিয়েছিল, যতক্ষণ হতাশা ত্যাগ করে এই সব দেশের সামরিক অভ্যাস, সৈনিক নেতা করেছিল,অধিবাসীরদের বলপূর্বক শাসন করায়অভ্যস্ত ছিল।কেউই আইন মাননা চিন্তা করেনি, তাই কাগজে ছাড়া কোন আইন ছিলো না। শুধুমাত্র জোর এবং বল গণনা করা হয়েছিলো। সংবিধানে দেওয়া ছিলনির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান এবং নির্বাচিত বিধানসভার, এবং আইন আদালত, কিন্তু, তা ছিলো এমন প্রতিষ্ঠান যা আইনি অধিকার ছাড়া এটা জোরদার করা এবং বশ্যতা অভ্যাস অর্থেআইনত কর্তৃপক্ষ গঠন।”

 

<2.014.096>

 

 

এটা অবশ্যই বলা যাবে না যে লাতিন আমেরিকার প্রজাতন্ত্রগুলির অবস্থা হিসাবে পাকিস্তানের অবস্থা একই।

এই উপমহাদেশে, গ্রেট ব্রিটেন এর সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে ক্ষমতা গ্রহণের পর স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং আইনের শাসন প্রবর্তন করা হয়েছে। পৌরসভা এবং ইউনিয়ন বোর্ড অস্তিত্বে আসে এবং বেসামরিক প্রশাসন সামরিক থেকে সম্পূর্ণরূপে পৃথক রাখা হয়েছিল, অতএব, সামরিক শাসন এই দেশে বসানো হয় নি।

অন্যদিকে, এক অন্যতম প্রতিষ্ঠানের জন্য সশস্ত্র বাহিনী সহ মানুষের সর্বদা শ্রদ্ধাবোধ ছিল। এই কারনে, উপর্যুক্ত রাষ্ট্রের সাথে আমাদের অবস্থান তুলনা করা ঠিক নয়,যে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা চালু করা হয় এমন একটি সময়ে হয় যখন কোন সম্মান ছিল না আইন-শৃঙ্খলার প্রতি।

যদি ব্রিটিশরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে খমতা গ্রহনের পর আইনের শাসন ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিয়ম চালু না করত,সম্ভবত, এ উপমহাদেশেও সামরিক শাসন গড়ে উঠতে পারত।

এই দেশে সশস্ত্র বাহিনীতে শুরু থেকেই একটি গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষপাতী ছিল।

এটা বর্তমান প্রেসিডেন্ট দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে, একাধিক অনুষ্ঠানে, তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধানদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন ক্ষমতা গ্রহন করতে এবং এখনও তিনি জোর দেন, এবং যখন তিনি ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা গ্রহন করেন,তিনি পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার পর জনপ্রিয় সরকার পুনঃস্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দেন। এবং এই কমিশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন কিনা তা দেখার জন্য।

এটি উৎসাহব্যঞ্জক যে এটা নিয়ে কমিশনের সামনে যে মতামত সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিনিধি স্থাপন করে তা সরকার গঠনের পক্ষে।

 

সাবধানবানী

৫৩.যাইহোক, আমরা একটি সতর্কতার বাণী শুনাতে চাই।আমাদের সুপারিশ এই যে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার গৃহীত হতে পারে মানে এই নয় যে এটি কোনো সাংবিধানিক ভাঙ্গন এড়িয়ে যাবে, যা ভবিষ্যতে একটি বোকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে।

আমরা ঐ ধরনের সরকারের সুপারিশ করছি কারণ স্বাধীনতার পরবর্তী বিগত কয়েকবছরের অভিজ্ঞতার

দ্বারা আমাদের মনে হয় যে বর্তমান ব্যবস্থায় এই সরকার গঠন করা নিরাপদ।আমরা অবশ্যই ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ নয় কিন্তু ভবিষ্যতে সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস আমরা সরকারি ব্যবস্থায় বিভিন্ন নীতিনির্ধারণ না করা পর্যন্ত এই সরকার গঠনে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিবে।

তা মোকাবেলা করার জন্য প্রথম প্রয়োজন সরকারের ব্যবস্থা ঐকিক বা যুক্তরাষ্ট্রীয় হবে কিনা এবং আইনসভা এককক্ষযুক্ত বা দ্বিকক্ষ হওয়া উচিত তা নির্ধারণ করা।

 

 

 

 

 

 

 

<2.014.097>

৫৫.প্রশ্নাবলীর মধ্যে, ফেডারেল এবং আপাতদৃষ্টিতে ফেডারেলের মধ্যে পার্থক্য নির্দিষ্ট ছিলনা কিন্তু মতামতের প্রবণতা পরিষ্কারভাবে দেখায় যেফেডারেল ছিল গৃহীত ধরনের সমতুল্য। এবং আমাদের পুরবে যারা মতামত দিয়েছিলেন তাদের মতামতও আদর্শ ছিল।

 

বিভিন্ন মতামতের উপর একটি বিশ্লেষণে, আমাদের দ্বারা নথিভুক্ত ব্যাখ্যায় ওপ্রশ্নাবলীর উত্তর উভয়ে, আমরা পেলাম যে একটি কেন্দ্রের সঙ্গে ফেডারেল ধরনের সরকারের পক্ষেই অধিকতরও মতামত।

মতামত সারনিতে আমরা পেলাম যে ৬৫.৫% ফেডারেল পক্ষে ছিল এবং ঐকিক ধরনের ৩৪.৫%।

ফেডারেশনের ইউনিট বিবেচনা করে , ৮৮.৪%চেয়েছিল উভয় ভাগ আগের মতোই থাকুক, ৮.৬% চেয়েছিল একটি ভাগ ভেঙ্গে যাক, ২.৩% চেয়েছিল উভয় ভাগই ভেঙ্গে যাক এবং ৭% চেয়েছিল যে পূর্ব পাকিস্তান ভেঙ্গে যাক কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তান আগের মতোই রাখা উচিত।

ক্ষমতা বণ্টন বিবেচনা করে,যেটি নির্দেশনা দেয় কঠোর বা দুর্বল ফেডারেশন গঠনের, তার মতামত ছিল নিম্নরূপঃ

পরবর্তী সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা বণ্টন ছিল৫৩.৫% দ্বারা অনমোদিত; ৮% ছিল কেন্দ্রকে আগের তুলনায় অধিক বিষয় দেবার জন্য, ৩.২%, ছিল অবশিষ্ট ক্ষমতা কেন্দ্রকে দেবার জন্য, ১.২% প্রদেশের ক্ষমতা উঠিয়ে কেন্দ্রিকভাবে ক্ষমতাবান চেয়েছিলেন।

এইভাবে ৬১.৫% ছিল পূর্বের সংবিধানের চেয়েও শক্তিশালী একটি সরকারের পক্ষে,৩৮.৫% প্রদেশে স্বশাসিত করা উচিত বলে মনে করেন,যখন কেন্দ্রের ক্ষমতা প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও মুদ্রায় সীমাবদ্ধ হচ্ছে। আমাদের আগে এই পরীক্ষার সাক্ষীদের মতে, শুধুমাত্র 23 জন এই দুর্বল কেন্দ্রের পক্ষে ছিল যারা ছিলপশ্চিম পাকিস্তান থেকে ১৮ জন এবং পূর্ব পাকিস্তান থেকে এবং ৫। এই বিষয়ের বাকি মতামতের জবাবে পূর্ব পাকিস্তানে ১,৩৫৭ মোট নম্বর থেকে জবাব দেওয়া হয়েছে ৭৬৫ এবং পশ্চিম পাকিস্তানে ৯৭৪ থেকে জবাব দেওয়া হয়েছে ১৯৪।

 

 

 

 

 

 

<2.014.098>

৫৭. ঐকিক ফর্মের বিরুদ্ধে হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রীয় ফর্মের অনুযায়ী মতামত প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের একটি ঐকিক ফর্মসাধ্য হয় যদি দেশটি এক অখন্ড এলাকায় হয়। পাকিস্তানের দুই অংশের ভৌগলিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রীয় ফর্মকে অনিবার্য করে তোলে, অন্যথায়, পূর্ব অংশের লোকদের প্রশাসনিক অসুবিধা নিশ্চিত হয়ে পড়বে, তাদের বর্তমান অনুভূতি তাদের একটি উপনিবেশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যেহেতু রাজধানী পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থিত। প্রশাসন সম্পর্কে, বিকেন্দ্রীকরণের একটি উচ্চ ডিগ্রী প্রয়োজন এবং যদি কোন প্রাদেশিক আইনসভা না থাকে,প্রশাসনের সমালোচনা করার ক্ষমতার মাধ্যমে, কর্মকর্তারা স্বৈরাচারী হয়ে পড়বে। একটি সংসদের জন্য সমগ্র দেশের জন্য বিশেষ করে জরুরীসময়ে আইন প্রণয়ন করা কঠিন হবে। যে পদ্ধতিতে অতীতে পূর্ব পাকিস্তানের উন্নয়নপরিচালিত হয়েছেকেন্দ্রে প্রদেশের আস্থা নাড়িয়ে দিয়েছেএবং অবিশ্বাস ও সন্দেহের সাথে তত্ত্বাবধান করাটা অত্যন্ত অজ্ঞের মতো হবে।
সমস্যা আলোচনা
৫৮. আমাদের মনে হচ্ছে, আমাদের তদন্ত বিষয়ে নিয়ে কোন অংশ নেই যা সরকারের ঐকিক বা যুক্তরাষ্ট্রীয় ফর্ম কোনটি হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্কের সৃষ্টি করে। দৃশ্যত এর কারণে৯৫৯টি জবাব দেওয়া হয়েছে একটি খুব দুর্বল কেন্দ্রের পক্ষে চরম দৃশ্য গ্রহণ করে,আমাদের তদন্তেরসময় যখন প্রশ্নের বিভিন্ন দিক সাক্ষীদের সঙ্গেসম্পূর্ণরূপে আলোচনা হয়েছিল, শুধুমাত্র ২৩টি সে পর্যবেক্ষণের পক্ষ নিয়েছিলো। একটি ঐকিক ফর্মের সরকার বনামশেষ সংবিধানের যুক্তরাষ্ট্রীয় বিভিন্নতা এই প্রধান প্রশ্ন মোকাবেলার পরসংখ্যালঘুদের দৃষ্টি বিবেচনা করাটা সুবিধাজনক হবে।

৫৯.এটা গোড়াতেইনির্দিষ্ট ঘটনার জন্য প্রয়োজন যা প্রধান সমস্যার পটভূমি গঠন করে। ১৯৫৭ সালের পরে, যখনইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে ব্রিটিশ সার্বভৌম থেকে গ্রহণ করে, সরকারি একটি ঐকিক ফর্ম ব্রিটিশভারতে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে,১৯১৯ সালে সংস্কারের চালু হয়,প্রদেশগুলোকে নির্দিষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছেএবং, খুব শীঘ্রই, প্রদেশগুলোর জন্য আরও ক্ষমতার চাহিদাএ বিক্ষোভের সাধারণ প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যা শেষ পর্যন্ত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে। একটিসংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের যদিও, যখন ভারতেরভবিষ্যত সংবিধানউল্লেখ করে, একটি ঐক্যসাধন করে শক্তিশালী কেন্দ্রীয়সরকার পক্ষে নিজেই প্রকাশ করেছে, এখনো এর অবিলম্বে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের উদ্দেশ্যছিল স্বাধীনতার প্রতিপ্রথম বাস্তব পদক্ষেপ। মুসলিম সম্প্রদায়ের সবাই প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনবরাবর ছিলযাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় দ্বারা আধিপত্য এড়ানো যায়। এইভাবেরাজনৈতিক কার্যকলাপপ্রদেশকে কেন্দ্র করে তাদেরপ্রাদেশিক বিষয়গুলোকে পরিচালনা করার সব ক্ষমতা পাবার, কিন্তু এই লক্ষ্য, যদিও ভারত শাসন আইন পৌঁছে যায়নি, ১৯৩৫ সালে, নির্দিষ্ট বিষয়ে ছাড়া প্রদেশে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করেছে। তখনঅবিভক্ত ভারতেরবাইরে স্বায়ত্ত শাসন কার্যোদ্ধার, সিস্টেম আবির্ভূতসরকারের একটি সুদৃঢ় কেন্দ্রের সঙ্গে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় বিভিন্নতা এখনও ছিল।পূর্ব পাকিস্তানের মানুষপাকিস্তানের কৃতিত্বের জন্য মনপ্রাণ কাজ করেছেন, নিজেদের হিন্দু আধিপত্য থেকে মুক্ত করে,কায়েদ-ই-আজমকেঅনুসরণ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলতাদের সদ্য জেতা স্বাধীনতাকে শক্তিশালীকরণের জন্য।

<2.014.099>

তা স্বত্তেওদেশের এক হাজারের বেশী মাইল দ্বারা পৃথক দুটি ভাগে ভাগ করা হচ্ছে, যার রাজধানীপশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থিত সঙ্গে বিদেশী অঞ্চল, একাকীত্বের একটা অনুভূতির প্রমাণ বহুলাংশেই ছিলযখনপাকিস্তান হওয়ার পর কায়েদ-ই-আজম প্রথমবারের জন্য ঢাকা সফর করেন। পূর্ব পাকিস্তানে তার থাকাকালিন সময়ে, মানুষজাতির জনককে দেখতে অভ্যন্তরীণ জায়গায় দূরবর্তী অঞ্চল থেকে এসেছেন। তাদের উদ্দেশে কায়েদ-ই-আজম অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, পাকিস্তানেরবাকি অংশ থেকেবিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে পূর্ববাংলার এর অনুভূতি উল্লেখএবং বলেন:

“আমিএখানে শুধু এক সপ্তাহ বা দশ দিনের জন্য এসেছি, কিন্তুরাষ্ট্র প্রধান হিসাবে আমার কর্তব্য পালনের জন্য কয়েক দিন বা সপ্তাহের জন্য আমার এখানে আসতে হবে এবং একইভাবে পাকিস্তানেরমন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে।”

এগুলো ছিলো একজন রাষ্ট্রনায়ক এর কথা, এবং তিনি অনেক দিন বেঁচে ছিলেন, তিনি শুধুমাত্র তাদের বাস্তবায়িত করেন নি, কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের মানুষেরহৃদয়েরবর্তমানঅনুভূতির মধ্যে এ ধরনের পরিবর্তন আনা এনে, তা তাদের প্রদেশ হিসেবে গণ্য করা হয় যেএকটি উপনিবেশ তা সৃষ্টি হতো না। এটা দুঃখজনক, যে তাঁর মৃত্যুর পর, তার প্রস্তাবআর সময়সীমার জন্য পূর্ব পাকিস্তানের রাজ্য বা মন্ত্রীদেরহেড,কার্যকরছিল না।“রাষ্ট্র প্রধান এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের” পরিদর্শন ছিলশুধুমাত্র স্বল্প সময়সীমার জন্যএবং এমনকি কোন সময়ই সেখানে কেন্দ্রীয় কোনো মন্ত্রী পুরো একটি মাস থাকেনি। এটা গুরুতরবিবেচনার বিষয় যে প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যায়ক্রমে অন্তত কয়েক সপ্তাহের জন্য টানাঢাকায় থাকাউচিত নয়, এবং এটি, মন্ত্রীদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে একটি বা দুটি ব্যবস্থা করা উচিত, একইভাবে,বছরের কিছু সময় অন্তত সেখানে থাকা উচিতযখন প্রেসিডেন্ট, বা সহ-সভাপতি থাকে না। কেন্দ্রীয়প্রশাসনের একটি অংশপ্রদেশে কাজ করার পরামর্শ লক্ষণীয়, তাই পশ্চিম পাকিস্তানেরাজধানীতেঅবস্থিতমানুষেরা নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে করবে না। আমরাবুঝতে পারি ঢাকায় একটা সম্পুরক রাজধানী স্থাপনের প্রস্তাব আছে কিন্তু আমরা জানি না আমাদের সামনে, কোন নির্দিষ্ট প্রকল্প নেই এবং এ ধরণের রাজধানীর উপর কতটুকু প্রভাব পড়বে। আমরাসুপারিশ করি যে, সেখানে একটি কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট ধারা থাকা উচিৎ, বিশেষত যারা ঢাকায় সংস্থিত জাতি গঠনের মোকাবেলারকার্যক্রম, যাতে করে প্রশাসনে বিলম্ব এড়ানো যেতে পারে।আমরা নিজেদেরএকটি প্রকল্প তৈরির উত্থাপন করি না কিন্তু আমরা মনে করিযে, যদিএই ক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ গৃহীত হয়এবং এর ফলে, সবসময় প্রদেশের মানুষের জন্য উপলব্ধ হয়, এটি জনগণের মন একটি সুস্থ প্রভাব থাকবে এবং বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি সরানোর জন্যএকটি দীর্ঘ পথ যেতে হবে।সংসদ অধিবেশন সম্পর্কে, আমরা ৫০(১) শেষ সংবিধান যার অধীনে নিবন্ধ অবলম্বন করবেপ্রতি বছর অন্তত একটি অধিবেশন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। আমরাকমিশনের এক সদস্যর থেকে বুঝতে বুঝতে পারি যে, চট্টগ্রামে একটি সামুদ্রিকএকাডেমীপ্রতিষ্ঠার জন্য একটি প্রকল্পপূর্বে অনুমোদিত হয়েছে,যাএখন দেওয়া হচ্ছে। যদি তাই হয়, তাহলে আমরা সরকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে সুপারিশ করবো।

৬০. যাইহোক, তবে পশ্চিমা দেশে রাজধানীর অবস্থান আসলেপূর্ব প্রদেশ হতে অনেক দূরে, এবং দুই অংশের মধ্যে শিল্পায়নের ব্যাপারে, দিনের রাজনীতিবিদদের দ্বারা শোষিত হয়,এবং নির্দিষ্ট অমুসলিম উপাদান দ্বারা বৈষম্য ঘটে। পরবর্তীতে এটি পাকিস্তানের ব্যাপারে নিজেদের মিটমাট করতে ব্যর্থ হয়, পূর্ব পাকিস্তানের লোকদের মাঝে, যেছাপ তৈরি করে, এর ফলেতাদেরপ্রদেশের কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা অবহেলার কারণে সংখ্যার হিসেবে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করার ক্ষমতার শ্রেষ্ঠত্ব সত্ত্বেও,উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য অংশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিলো।

<2.014.100>

 

এ ধরনের প্রচারণারসাফল্যের সঙ্গে দেখা হয়, যেহেতু মানুষ, একটি শর্তের বাইরে এসে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে শুনলো এবং দেখলো যে, পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে শিল্প ক্ষেত্রের অগ্রগতি তাদের নিজস্ব প্রদেশের চেয়ে অনেক বেশী ছিল। ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত বাংলার সরকার পূর্ববাংলার শিল্পায়ননীতি করেনি বলে মনে হয়। এটা লক্ষণীয় যে, এর প্রধান পাট উৎপাদন এর এলাকা, আলী জুট মিলস, স্বাধীনতার সময়কলকাতা ও তার চারপাশে ছিলো। অন্য দিকে,পাঞ্জাবে,শিল্প উন্নয়ন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক অমুসলিমদের, ছিল যারাবিভাগেরসময় ভারতে চলে যান এবং উদ্বাস্তুদের দ্বারা সম্পত্তিগুলো দখল হয়, একইভাবে স্থানীয় ব্যক্তিরা শিল্প কাজ যোগ দেয়। ফলে, পশ্চিম পাকিস্তানের আগে থেকেই থাকা শিল্প কারখানাগুলোর অগ্রগতি পূর্বের চেয়েঅনেক দ্রুত ছিল যেখান তারাই প্রথম শুরু করে। আসলে শিল্পায়নের কাজ পশ্চিমে, পূর্বের চেয়ে আরো দ্রুত ভাবে পরিচালনা করতে পারে, কারণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বড় পরিমাণে পশ্চিম অংশে বরাদ্দ ছিল।আমাদের আগে পাওয়া তথ্য হতে এটা দেখা যায় যে, 1948-49 এবং 1949-50 সালে যদিও পশ্চিমে ১৩ কোটির বিপরীতে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ টাকাবরাদ্দ দেয়া হয়েছে, পশ্চিম পাকিস্তান তাদের বরাদ্দকৃত পরিমাণের বাইরে প্রায় ১১ কোটি টাকা খরচ ব্যবহার করে।১৯৫০-৫১, ১৯৫১-৫২ এবং ১৯৫২-৫৩ সালে,পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণরূপে তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যবহার, কিন্তু এর মধ্যে ১৯৫৩-৫৪, ১৯৫৪-৫৫ এবং ১৯৫৫-৫৬ সালে সরকারের বা পূর্ব পাকিস্তানদ্বারাআসলে যে পরিমাণআকৃষ্ট করা হয়েছিল,বরাদ্দকৃত পরিমণের মাত্র ৫০% পর্যন্ত এসেছিলো।১৯৫৬-৫৭ সালে যখনঅনুমোদিত পরিমাণ ছিল ২০ কোটি ৬৯ লক্ষ, মাত্র ৮ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা দেয়া হয়।১৯৫৭-৫৮ সালে, এটা একটু বেশী ছিল। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, ১৯৪৯-৫৮ এবং ১৯৫০-৫১ সালের জন্য বাজেটেএই বরাদ্দের ব্যাপারে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কোন বাস্তব অভিযোগ ছিল না। অন্য দিকে, ১৯৫১-৫২সালের বাজেটের ব্যাপারে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আর্থিক অসুবিধা পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তার কথা স্বীকার করেন,কিন্তু পরবর্তী বছর বক্তৃতায় একটি অতৃপ্ততার ছাপ ছিলো।
৬১. পূর্ব পাকিস্তানে এটি অনুভূত হয় যে, কেন্দ্র আর্থিক অনুমোদন প্রকল্প বিলম্বিত করছে যাতে প্রদেশে বরাদ্দ সম্পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়। অন্য দিকে, সরকারী দৃষ্টিকোণ হলো, সেখানে কোন সন্দেহ ছাড়াই, কেন্দ্রেরদ্বারা বিলম্ব হয়, কিন্তু এর জন্য প্রধান কারণ প্রদেশ বরাদ্দকৃত অর্থ পুরোপুরিভাবে ব্যবহার করতে না পারায়

প্রকল্প তৈরিতে প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে অবিলম্বে ঐ প্রকল্প বিবেচনা করা হয়নি, যাতে তারা বা তাদের দল, আগ্রহী ছিল না। এই সূত্রে, এটা চিহ্নিত করা হয় যে, অতীতেউত্তরবঙ্গের উন্নয়ন তাই চরমভাবে অবহেলিত ছিল যে দল ক্ষমতায় ছিলো, সে অঞ্চলের মানুষ দাবি করে যে, পূর্ব পাকিস্তানের একটি পৃথক গভর্নর এর সাথে পৃথক প্রদেশ তৈরি করা উচিত।এটা ব্যাখ্যা করা হয় যে, কেন্দ্রীয়সরকারের কাছে জমাকৃত প্রকল্পটি অভিজ্ঞ কর্মকর্তার অভাবে ছিল ত্রুটিপূর্ণ, স্বাভাবিকভাবেই অনুমোদনে বিলম্ব হয় যেহেতু কেন্দ্র সমবায় সমন্বয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ব্যয় করে পারে না যতক্ষণ তারা প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রত্যয়ন না করে।

<2.014.101>

 

৬২. সাধারণ মানুষের সাথে প্রত্যক্ষ আলোচনায় পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় যে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ এ ব্যাপারে সম্পুর্ণ রূপে অবগত ছিল এবং যথেষ্ট অসন্তুষ্টও ছিল। শুরুতে এসব অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত অর্থে সত্য কোনটি তা উদঘাটন করা উচিত বলে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সে পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হল।কারণ এ পর্যায়ে এসে এ ধরনের একটি তদন্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। জনসাধারণের মনের গহীনে যে বিদ্বেষ জন্ম নিয়েছে, তা একমাত্র দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দুরীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমেই মেটানো সম্ভব। অতীতের ঘটনাবলির কারণ অনুসন্ধান কোন সুফল বয়ে আনবেনা। উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের লক্ষ্যে প্রনীত দ্বিতীয় পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনায় পুর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে উন্নয়ন কল্পে সুনির্দিষ্ট খাতসমূহ নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের স্বপক্ষে জানানো হয় যে তহবিল হস্তান্তরের জন্য একটি প্রকল্প ইতিমধ্যে গৃহীত হয়েছে যা ব্যয় অনুমোদনের গতি তরান্বিত করবে।পশ্চিম পাকিস্তানের কিছু কিছু অংশে এমন একটি বিশ্বাস দানা বাঁধা শুরু করেছে যে পূর্ব পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে।প্রকৃতপক্ষে এ বিশ্বাস ভিত্তিহীন। কারণ পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মুসলমান সম্প্রদায় স্বভাবতঃ পুনরায় স্বাধীনতা-পূর্ব দুর্দশাগ্রস্থ অবস্থায় পতিত হতে চাইবেনা।একইভাবে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকেও এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করতে হবে যে পশ্চিম পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলার জনসাধারণের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় তৎপর। দুর্ভাগ্যক্রমে পূর্ববর্তী বছরগুলোতে পাকিস্তানের কিছু কর্মকর্তাদের অদূরদর্শীতার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের মাঝে এ ধরণের ভূল উপলব্ধি তৈরি হয়, যাতে বিচ্ছিনতাকামী কয়েকটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে ইন্ধন যোগাচ্ছে। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের পারস্পারিক আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে উভয় পক্ষের ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী স্তরের মধ্যেকার উপর্যুপরি সফর একটি ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।

৬৩. এসব পরিকল্পনা সফল হতে যথেষ্ট সময় প্রয়োজন। যতদিন উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হয়, ততদিন পর্যন্ত বর্তমান অবস্থা উপেক্ষা করা যাবেনা। কতিপয় ব্যক্তিবর্গ যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার তুলনায় কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁদের মতে এ ধরনের যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাদেশিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একমাত্র কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে দুই প্রদেশের মধ্যেকার এ বিদ্বেষ দুরীভূত করা যেতে পারে বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেন। তবে এ ব্যাপারে আমরা সহমত প্রকাশে। কোন সংবিধান রচনার সময় অবশ্যই দুটি বিষয় বিবেচনাধীন রাখা উচিত। প্রথমতঃ গৃহীত পরিকল্পনা অবশ্যই কার্যকর হতে হবে। দ্বিতীয়তঃ যাদের উদ্দেশ্যে এ পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে তাঁরা তা বাস্তবায়নে আগ্রহী হবেন।একটি কার্যকর সংবিধান প্রস্তুতকল্পে এ দুটি বৈশিষ্ট্য অপরিহার্য।তাই আমাদের সুচিন্তিত অভিমত এই যে প্রচলিত প্রাদেশিক ভাবধারার বাইরে গিয়ে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার প্রচলন পুর্ব পাকিস্থানের মুসলিম জনসাধারণকে চরমপন্থী মতাদর্শে চালিত করবে।

পূর্ব পাকিস্তানের এক অভিজ্ঞ নেতার মতে, “কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার সফলতার পূর্বশর্ত হল কেন্দ্রীয় সরকারের উপর জনগণের অবিশ্বাস প্রশমিত করে বিশ্বাস স্থাপন করা। যতদিন তা সম্ভবপর না হচ্ছে, সে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থাই উপযুক্ত শাসনব্যবস্থা বলে প্রতীয়মান হয়।”

তিনি বিলম্বিত সংবিধান অনুযায়ী দুই প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বন্টনের স্বপক্ষে মত দেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায় ৬৫.৫ শতাংশ জনগণ যুক্তরাষ্টীয় শাসনব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছেন।সংখ্যাগরিষ্ঠ এ মতামত উপেক্ষা করে দেশে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার প্রচলন একটি অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত বলে প্রমাণিত হতে পারে।

<2.014.102>

 

৬৪. কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা প্রচলিত হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বৈরাচারী মনোভাব দমনের স্বার্থে প্রাদেশিক শাসনতন্ত্র ছাড়াই ব্যাপক পরিমাণে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা পক্ষীয় সহ সরকার দলীয় ব্যক্তিবর্গের নিকট এ ব্যাপারে আলোকপাত করা হলে মৌলিক শাসনব্যবস্থার অধিনস্থ গভর্নর কাউন্সিলের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। মূলতঃ কর্মকর্তাদের উপর আনিত অভিযোগ সরকারের দৃষ্টিগোচর করার লক্ষ্যে গভর্নর কাউন্সিল গঠন করা হয়। কিন্তু এ কাউন্সিলের কার্যাবলির ব্যাপ্তি প্রদেশের জনগণের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য যথেষ্ট ছিলনা। কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভার সংখ্যা মাত্র একটি। ফলে প্রতিনিধিরা সমগ্র পাকিস্তানের আইন প্রনয়ন সংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পাদনের পর প্রশাসনিক বিষয়াবলিতে নজর বিধানের জন্য যথেষ্ট সময় পাবেন না। পশ্চিম পাকিস্তান চারটি প্রাক্তন প্রদেশ নিয়ে গঠিত। এ চারটি প্রদেশ একীভূত করে পশ্চিম পাকিস্তান গঠনের সময় প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা প্রচলনের ফলে পশ্চিম পাকিস্তান পুনরায় চারটি প্রদেশে বিভক্ত হলে প্রাদেশিক জাতীয়তাবাদ শাসনকার্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাদেশিক সংহতি বজায় রেখে ব্যাপক পরিমাণে বিকেন্দ্রীকরণই একমাত্র সমাধান।কিন্তু উক্ত বিকেন্দ্রীকরণের ফলে কার্যনির্বাহীদের ক্ষমতার অবাধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রাদেশিক শাসনতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য যা কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থায় সম্ভবপর নয়।

৬৫. কেন্দ্রীয় আইনসভার মাধ্যমে সমগ্র দেশের আইন-কানুন প্রনয়ন ও রক্ষা করা দুঃসাধ্য প্রায়। তাই প্রাদেশিক বিষয়াবলি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করার পরামর্শ দেওয়া যায়। এছাড়াও বিলম্বিত সংবিধানের আলোকে রেললাইন ও কারখানাসমুহ কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন রেখে অন্যান্য দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের উপর ন্যস্ত করা যেতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারই হবে সকল চুড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। উপরন্তু, প্রাদেশিক শাসনতন্ত্রের পরিবর্তে আইনসভার স্বীয় স্বীয় প্রাদেশিক প্রতিনিধিবর্গের প্রতিনিধিত্বে একটি প্রাদেশিক কমিটি গঠিত হবে যা প্রাদেশিক শাসনতন্ত্রের বিকল্প হিসাবে প্রাদেশিক দফতর থেকে শাসনকার্য পরিচালনা করবে এবং উক্ত কমিটি দ্বারা প্রণীত সমগ্র প্রাদেশিক আইন গভর্নরের পরিবর্তে রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে কার্যকর হবে। এর ফলে শাসনব্যবস্থা কেন্দ্রীয় শাসনতন্ত্রের আদলে পরিচালিত হলেও যথেষ্ট সময় ও অপচয় হ্রাস পাবে। একই সাথে প্রাদেশিক মন্ত্রণালয় পরিচালনার স্বার্থে শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে প্রাদেশিক মন্ত্রী নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন।

<2.014.103>

 

৬৬. এই শাসনব্যবস্থার সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় তা সার্বজনীনভাবে গ্রহনযোগ্য নয়। এরূপ শাসনব্যবস্থা দেশের শাসনকার্যে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, অধিকন্তু জনসাধারণের মধ্যেকার প্রাদেশিক জাতীয়তাবাদ প্রবল করে তুলবে। দেশের প্রতিটি সমস্যা অবশ্যই জাতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা উচিত। এটি যেকোন দেশের সার্বিক সাফল্যের মূলমন্ত্র। সুতরাং কেন্দ্রীয় আইনসভার সকল সদস্যদের মাঝে যে কোন স্থানীয়, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করার রীতি প্রচলিত করতে হবে। যদি উভয় প্রাদেশিক আইনসভা বছরের অধিকাংশ সময় কেবল নিজেদের প্রাদেশিক সমস্যাবলি নিরসনে ব্যাপৃত থাকে, তবে নিখিল পাকিস্তান কেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদ কখনই আশার আলো দেখবেনা। আঞ্চলিক কমিটি গঠিত হলে এসব কমিটির সদস্যরা প্রাদেশিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকল বিষয়াদি বিবেচনা ও পরিচলন করবে। এ ছাড়াও এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানারূপ জটিলতা দেখা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যদি আঞ্চলিক কমিটি কোন আইন প্রনয়ন বা বাতিল করে এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকার একই বা সমজাতীয় অন্য কোন ব্যাপারে ভিন্ন মত প্রকাশ করে, তবে আঞ্চলিক কমিটি তাঁদের গৃহীত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে অসম্মতি জ্ঞাপন করতে পারে।এ ব্যাপারে সরকারী প্রতিনিধিবর্গের নিকট আলোকপাত করা হলে কমিশনকে জানানো হয় যে প্রাদেশিক আইনসভা/ আঞ্চলিক কমিটি নিরঙ্কুশ ভাবে কোন আইন প্রনয়ন বা বাতিল করতে পারবেনা, তবে কমিটি নিরঙ্কুশভাবে কোন আইন প্রনয়ন বা বাতিল করলে কেন্দ্রীয় সরকার তাতে কোন হস্তক্ষেপ করবেনা। এ ব্যাপারটি বোধগম্য নয়। কারণ, কোন আইন প্রণীত হলে তা অবশ্যই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে হতে হবে। সেক্ষেত্রে দুই প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যদের সম্মিলনে গঠিত কেন্দ্রীয় আইনসভায় ইতোমধ্যেই প্রণীত আইনের স্বপক্ষে সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিদ্যমান থাকবে। ফলে সংখ্যালঘিষ্ট সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে প্রণীত আইন বাতিলকরণে বা বাতিলকৃত আইন বহাল রাখা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের সকল সিদ্ধান্ত অবশ্যই সমগ্র পাকিস্তানের কল্যাণার্থে গৃহীত হবে। কিন্তু আলোচ্য শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় আইনসভা প্রাদেশিক আইনসভা অপেক্ষা কম ক্ষমতার অধিকারী হওয়ায় প্রাদেশিক আইনসভা কতৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে অক্ষম।

৬৭. পৃথক পৃথক প্রাদেশিক শাসনতন্ত্র কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনাকে পক্ষপাতদুষ্ট করে তুলবে। সাধারণতঃ প্রাদেশিক কমিটি গঠিত হলে সময় ও অপচয় কমানো সম্ভব বলে ধারণা করা হত। পুংখানুপুংখ নিরীক্ষায় দেখা গেছে, গনতান্ত্রিক সরকারের গঠনকাঠামো স্বৈরশাসন অপেক্ষা ব্যয়বহুল। প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত হলে আদৌ সময় বা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবেনা। কারণ এক্ষেত্রে সকল সদস্যই কেন্দ্রীয় বা প্রাদেশিক আইনসভার কাজে সর্বদা নিয়োজিত থাকবে। ফলে উভয় ক্ষেত্রেই তাঁদের উপযুক্ত সম্মানী প্রদান করতে হবে। তবে কেবল ব্যয়ের ভিত্তিতে বিচার করে শাসনব্যবস্থার পর্যালোচনা করা সম্ভব নয়।প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থার মূল অন্তরায় হল কেন্দ্রীয় আইনসভার সদস্যদের প্রবল প্রাদেশিক জাতীয়তাবোধ।

<2.014.104>

 

বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয় প্রদেশে নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করা প্রয়োজন। নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জাতীয় উন্নয়ন বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রাদেশিক সাধারণ বিষয়াবলির পরিপ্রেক্ষিতে একটি কেন্দ্রীয় সমাবেশ খুবই জরুরি বলে অনুভূত হয়। তবে পৃথক কোন প্রাদেশিক প্রশাসন না থাকলে কেন্দ্রীয় সমাবেশটি প্রাদেশিক সমাবেশে রুপান্তরিত হতে পারে । সেক্ষেত্রে সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা জাতীয় সমস্যাবলি নিজেদের প্রাদেশিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করবে, ফলে গৃহীত সিদ্ধান্ত পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাংসদীয় সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন ঘটলে প্রাদেশিক সরকারের ভিত্তি শক্ত হবে এবং যে প্রদেশের সদস্যরা সঙ্গসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করবে তারাই প্রশাসনিক নিয়ম নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে।দৃষ্টান্ত স্বরুপ বলা যায়, প্রাদেশিক সরকারের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ মেয়াদে পূর্ব পাকিস্তান নিজেদের প্রশাসনিক কার্যাবলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু আমাদের প্রস্তাবিত শাসনব্যবস্থায় উভয় প্রদেশে গভর্নর প্রদেশের জনগণ কতৃক নির্বাচিত না হয়ে রাষ্ট্রপতি কতৃক নির্বাচিত হবেন এবং সরাসরি তাঁর প্রতিনিধিত্ব করবেন।ফলে প্রস্তাবিত এ শাসনব্যবস্থার অধীনে জাতীয় আইন প্রনয়ন এবং সম্পাদন- উভয় ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় সরকারের পুর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। এছাড়াও প্রাদেশিক মন্ত্রী মনোনয়ন এবং প্রাদেশিক আইন প্রনয়ন সংক্রান্ত ব্যাপারগুলি রোধন ও সমন্বয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যামে নির্ধারণ করা সম্ভব।

৬৮. সুতরাং আমাদের সুপারিশ এই যে, ব্রিটিশ শাসনের অনুরূপ কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন না করে ভারতীয় ও কানাডীয় শাসনতন্ত্রের অনুকরণে পাকিস্তানের শাসনকাঠামো চিত্রায়ন করা উচিত। এছাড়াও পশ্চিম পাকিস্তানকে চারটি আলাদা প্রদেশে বিভক্ত করার বিপক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমত গঠিত হওয়ায় বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সমগ্র পাকিস্তান কেবল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান- এ দুটি প্রদেশে বিভক্ত রাখার পরামর্শ দেওয়া হল।

 

কেন্দ্রীয় সীমিত ক্ষমতায়নের স্বপক্ষে সংখ্যালঘু মতপ্রকাশ

 

৬৯. প্রস্তাবিত শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্রের হাতে প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক সম্পর্ক ও মুদ্রানীতি ন্যস্ত থাকবে এবং প্রাদেশিক সরকার অন্যান্য ক্ষমতার অধিকারী হবে। পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে, ৪১.১% ব্যক্তিবর্গ এ মত প্রকাশ করেন। আবার যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা সমর্থনকারী কেবল ১০ শতাংশ ব্যক্তি কেন্দ্রের এহেন ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে মত দেন। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব সার্বোভৌম প্রাদেশিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটায়।

 

<2.014.105>

 

লাহোর প্রস্তাবে বর্ণিত পূর্ব পাকিস্তান সমগ্র পশ্চিম বঙ্গ ও আসাম মিলিয়ে গঠিত হয়েছিল। উক্ত প্রকল্পিত প্রদেশে পর্যাপ্ত কল-কারখানা ও অর্থনৈতিক সম্পদের উপস্থিতি প্রদেশটিকে স্বায়ত্তশাসনের উপযোগী করে তুলেছিল। কিন্তু পূর্ব বাংলা ও পাঞ্জাব মিলিত হয়ে পাকিস্তান গঠিত হবে এ ধরনের কোন সম্ভাবনা সে সময় বিদ্যমান ছিলনা। অবিভক্ত ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের বিভক্তি রোধে পরবর্তীতে প্রদেশসমুহের এরূপ ভাগবিন্যাস করা হয়। লাহোর প্রস্তাব পাশ করার সময় এ বিভাজনের সম্ভাবনা অনুমিত হয়নি। অন্যথায় মুসলিম লীগ কখনই পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসন জারি করতো না। কারণ পর্যাপ্ত শিল্পায়ন ব্যতীত কোন প্রদেশের পক্ষেই সার্বোভৌমত্ব অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই বর্তমান অবস্থায় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান প্রাদেশিক উন্নয়নসহ অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলি একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিষদ ব্যতীত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারবে কিনা তা বিবেচনা না করে প্রস্তাব বাস্তবায়ন করার চেষ্টা অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত বলে পরিগণিত হয়।

৭০. কঠোর যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্রেও কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা বর্ধনের প্রতি ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইজারল্যান্ড প্রভৃতি দেশে উক্ত প্রবৃতি লক্ষ্যনীয়। কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ক্ষমতার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীভুত ক্ষমতা ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে বৈদেশিক ঋণ ও অর্থ সহায়তায় বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা কেবল প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক সম্পর্ক ও মুদ্রানীতিতে সীমিত থাকলে এসকল প্রকল্প কখনই বাস্তবায়িত হতোনা। কেননা প্রদেশ কখনই এককভাবে বহিঃরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারেনা। সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সমগ্র পাকিস্তানকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতাবলি সীমিত রেখে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন পাকিস্তানের জন্য কোন সুফল বয়ে আনবেনা। মূলত কেন্দ্রের ক্ষমতা সীমিতকরণের বিষয়টি পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্দেহ দ্বারা প্রভাবিত এবং প্রতারণাপূর্ণ ও অবিরাম অপপ্রচারের মাধ্যমে ব্যাপৃত করা হয়েছে যা সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানের জন্য একটি বিধ্বংসী সিদ্ধান্ত ব্যতীত অন্য কিছু নয়। উক্ত চিন্তাধারা মূলত যুক্তিহীন ও আবেগপ্রসূত। পূর্ব পাকিস্তানের বসবাসরত একটি গোষ্ঠী মনে করেন, কেন্দ্রীয় সরকার পূর্বে বিভিন্ন প্রয়োজনে সহায়তা প্রদান করলেও বর্তমানে প্রদেশের সেসব সহায়তার কোন দরকার নেই এবং স্বয়ং সম্পুর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে তার আত্ম নির্ভরশীল হওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে বর্তমানে পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রের সহায়তা ছাড়াই অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে সক্ষম। আমাদের বিশ্বাস এ মন্তব্য আবেগ ও সন্দেহ দ্বারা প্রশ্নবিদ্ধ, যদিও এ বিষয়ে বাস্তবানুগ, যৌক্তিক ও নিরপেক্ষ মতামত বাঞ্জনীয়। কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বাঙ্গীণ সহায়তা ব্যতীত পুর্ব বা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

<2.014.106>

 

বৈদেশিকসহায়তাআনয়নেরপাশাপাশিকেন্দ্রীয়সরকারপ্রাদেশিকসম্পদকেসামগ্রিকভাবেদেশের জন্য কল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করতে পারে।মধ্যে সাম্প্রতিক বেশকিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায় ভারতের বিভিন্নপ্রদেশের মধ্যে এমন সব ভিন্নতা রয়েছে যা পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে তুলনায় অনেক বেশী গুরুতর।তারপরও ভারতে এমন সংবিধান বলবত রয়েছে যা কেন্দ্রের নিকট তুলনামুলকভাবে অনেক বেশী ক্ষমতা ন্যস্ত করে। ১৯৪৬ সালে যখন গণপরিষদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, তখন সমগ্রে ভারতীয় উপমহাদেশকে সীমিত কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসম্পন্ন কয়েকটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু যখন উপমহাদেশ বিভাজনের ঘোষণা আসলো, তখন ভারত একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার সম্বলিত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ কেন্দ্রীয় সরকারের একাগ্র প্রচেষ্টা ও সামগ্রিকভাবে দেশের ব্যবহার্য সম্পদের উপর পুর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভবপর নয়। কেবল প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র নীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সীমাবদ্ধ রাখলে তা অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

 

সরকারী প্রতিনিধিবর্গের সুপারিশ

 

৭১. সাংবিধানিক ক্ষমতার সাথে কেন্দ্রীয় ক্ষমতার অসঙ্গগতিপূর্ণ সংযোগ পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণের মনে হিংসা-বিদ্বেষ আরও তীব্রতর করে তুলবে। সরকারী প্রতিনিধিদের এ প্রস্তাবনা একটি হটকারী ও ঝুঁকিপূর্ণ সিধান্ত।সুতরাং নিতান্তই আবশ্যকতা ব্যতীত প্রদেশের প্রতিটি ব্যাপারে কেন্দ্রের ক্ষমতা প্রয়োগ অপ্রয়োজনীয়। প্রাদেশিক ক্ষমতার আওতাধীন কোন ব্যাপারে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত প্রদানের বাধ্যবাধকতা দেখা দিলে তা অবশ্যই জাতীয় সংসদে দুই প্রাদেশিক পরিষদেরউপস্থিত সদস্যদের মাঝে পৃথকভাবে সংঘটিত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে হতে হবে। উক্ত গৃহীত সিদ্ধান্তের মেয়াদকাল হবে শুধুমাত্র এক বছর। গৃহিত সিদ্ধান্ত বলবত রাখতে হলে পুনরায় তা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। যেক্ষেত্রে প্রদেশকে নির্দিষ্ট ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের নিজস্ব ক্ষমতা সীমিত রাখা উচিত নয়। কিন্তু তারমানে এই নয় যে পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার নেতিবাচক দিক সম্পর্কে পূর্বেই আলোকপাত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মনে প্রাদেশিক বিষয়াবলির নিরীক্ষে তাদের পরাধীনতার সন্দেহ উদ্রেককারী যে কোন শাসনব্যবস্থা অবলম্বন ও প্রবর্তনের সিদ্দান্ত অত্যন্ত অবিবেচনাপূর্ণ হবে। অতএব, আমাদের সুপারিশ মতে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার অধীনে ক্ষমতা তিনটি ভাগে বিভক্ত করা উচিত।

১। শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ক্ষমতার আওতাধীন বিষয়াবলি।

২। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের আলোচনা সাপেক্ষে নির্ণয়যোগ্য বিষয়াবলি।

৩। শুধুমাত্রে প্রাদেশিক ক্ষমতার আওতাধীন বিষয়াবলি।

এছাড়াও জাতীয় সংসদে দুই প্রাদেশিক পরিষদেরউপস্থিত সদস্যদের মাঝে পৃথকভাবে সংঘটিত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে যে কোন প্রাদেশিক আওতাধীন বিষয়াবলি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহন, আইন প্রনয়ন বা বাতিল করা যেতে পারে যা কেবল পরবর্তী বছরের জন্য বলবত থাকবে।

<2.014.107>

 

একই সাথে বিলম্বিত সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কতৃক জরুরি অবস্থা ঘোষিত হলে প্রাদেশিক সকল ব্যাপারে জাতীয় পরিষদের তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা জারি রাখার সুপারিশ করা হল। উপরন্তু বিলম্বিত সংবিধানে বর্ণিত ধারামতে, প্রাদেশিক কোন বিষয়ে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদ ভিন্ন মত পোষণ করলে জাতীয় পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্ত জয়ী হবে এবং প্রাদেশিক পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্তে যে অসামঞ্জস্যতা বিদ্যমান তা অকার্যকর বলে ঘোষিত হবে। প্রাদেশিক পরিষদের আওতামুক্ত সকল বিষয় যা বর্তমান এবং ভবিষ্যতে উত্থাপিত হবে তা কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার আওতাধীন হবে। উপরোক্ত নীতিমালাসমূহ প্রণীত হলে কেন্দ্রীয় সরকার একটি শক্তিশালী ভিত্তি পাবে এবং পাকিস্তানের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হবে।

ক্ষমতা বিভাজন

৭২. সরকারী প্রতিনিধিবর্গের সাথে একমত প্রকাশ করে বলা যায় যে রেললাইন সহ অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়া উচিত, কারণ একটি রাষ্ট্রের যোগাযোগ মাধ্যম সমুহ এর প্রতিরক্ষার সাথে অতপ্রতভাবে জড়িত। বিলম্বিত সংবিধানে রেলবিভাগ কেন প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হল সে বিষয়টি বোধগম্য নয়। তবে বিলম্বিত সংবিধানে এরকম একটি বিধি সংযোজন করা হয় যে, রেলবিভাগ প্রদেশের আওতাধীন না হওয়া পর্যন্ত তা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এবং সংঘবিধিতে যাহাই বলা হউক না কেন, কেন্দ্রীয় সরকার রেলসংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে একচেটিয়া ক্ষমতা ধারণ করবে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনার সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত হওয়াই রেলবিভাগকে কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন রাখার পরামর্শ দেওয়া হল।

৭৩. শিল্প কারখানাসমুহকে সম্পুর্ণরূপে প্রাদেশিক নিয়ন্ত্রণের আওতামুক্ত রাখার স্বপক্ষে সরকারী প্রতিনিধিবর্গের মতামতের প্রেক্ষিতে দ্বিমত প্রকাশের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।এক্ষেত্রে ভারতীয় সংবিধানের ইউনিয়ন আইনের ৫২ নং ধারা অনুসরণ করা যেতে পারে।

৫২ নং ধারায় বর্ণিত রয়েছে, “সংসদ নিজের আইনবলে ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রিত সকল শিল্পকে জনস্বার্থে ব্যবহারের উপযোগী পন্থায় পরিচালন করার নির্দেশ দেয়।”

বিলম্বিত সংবিধানের বর্ণনা অনুযায়ী কারখানা সমূহ একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের বদলে প্রাদেশিক সরকারের আওতাধীন থাকলে তা রাষ্ট্রের শিল্পায়নে ইতিবাচক বলে প্রমাণিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের আওতাধীন শিল্পকারখানাসমুহ কেবল প্রতিরক্ষার সাথে সম্পর্কিত, কিন্তু সেখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়নি। সংবিধানে এমন ধারার উপস্থিতি পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে শিল্পায়ন সংক্রান্ত বিতর্কের সৃষ্টি করবে। ভারতীয় সংবিধানের ইউনিয়ন আইনের ৭ নং ধারা এক্ষেত্রে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে।

ইউনিয়ন আইনের ৭ নং ধারা মতে, “ কেন্দ্রীয় সরকার কেবল এবং কেবলমাত্র যুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক শিল্পসমূহ নিয়ন্ত্রণ করবে।”

 

<2.014.108>

 

একই সাথে বিলম্বিত সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কতৃক জরুরি অবস্থা ঘোষিত হলে প্রাদেশিক সকল ব্যাপারে জাতীয় পরিষদের তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা জারি রাখার সুপারিশ করা হল। উপরন্তু বিলম্বিত সংবিধানে বর্ণিত ধারামতে, প্রাদেশিক কোন বিষয়ে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদ ভিন্ন মত পোষণ করলে জাতীয় পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্ত জয়ী হবে এবং প্রাদেশিক পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্তে যে অসামঞ্জস্যতা বিদ্যমান তা অকার্যকর বলে ঘোষিত হবে। প্রাদেশিক পরিষদের আওতামুক্ত সকল বিষয় যা বর্তমান এবং ভবিষ্যতে উত্থাপিত হবে তা কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার আওতাধীন হবে। উপরোক্ত নীতিমালাসমূহ প্রণীত হলে কেন্দ্রীয় সরকার একটি শক্তিশালী ভিত্তি পাবে এবং পাকিস্তানের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হবে।

ক্ষমতা বিভাজন

৭২. সরকারী প্রতিনিধিবর্গের সাথে একমত প্রকাশ করে বলা যায় যে রেললাইন সহ অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়া উচিত, কারণ একটি রাষ্ট্রের যোগাযোগ মাধ্যম সমুহ এর প্রতিরক্ষার সাথে অতপ্রতভাবে জড়িত। বিলম্বিত সংবিধানে রেলবিভাগ কেন প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হল সে বিষয়টি বোধগম্য নয়। তবে বিলম্বিত সংবিধানে এরকম একটি বিধি সংযোজন করা হয় যে, রেলবিভাগ প্রদেশের আওতাধীন না হওয়া পর্যন্ত তা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এবং সংঘবিধিতে যাহাই বলা হউক না কেন, কেন্দ্রীয় সরকার রেলসংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে একচেটিয়া ক্ষমতা ধারণ করবে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনার সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত হওয়াই রেলবিভাগকে কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন রাখার পরামর্শ দেওয়া হল।

৭৩. শিল্প কারখানাসমুহকে সম্পুর্ণরূপে প্রাদেশিক নিয়ন্ত্রণের আওতামুক্ত রাখার স্বপক্ষে সরকারী প্রতিনিধিবর্গের মতামতের প্রেক্ষিতে দ্বিমত প্রকাশের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।এক্ষেত্রে ভারতীয় সংবিধানের ইউনিয়ন আইনের ৫২ নং ধারা অনুসরণ করা যেতে পারে।

৫২ নং ধারায় বর্ণিত রয়েছে, “সংসদ নিজের আইনবলে ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রিত সকল শিল্পকে জনস্বার্থে ব্যবহারের উপযোগী পন্থায় পরিচালন করার নির্দেশ দেয়।”

বিলম্বিত সংবিধানের বর্ণনা অনুযায়ী কারখানা সমূহ একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের বদলে প্রাদেশিক সরকারের আওতাধীন থাকলে তা রাষ্ট্রের শিল্পায়নে ইতিবাচক বলে প্রমাণিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের আওতাধীন শিল্পকারখানাসমুহ কেবল প্রতিরক্ষার সাথে সম্পর্কিত, কিন্তু সেখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়নি। সংবিধানে এমন ধারার উপস্থিতি পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে শিল্পায়ন সংক্রান্ত বিতর্কের সৃষ্টি করবে। ভারতীয় সংবিধানের ইউনিয়ন আইনের ৭ নং ধারা এক্ষেত্রে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে।

ইউনিয়ন আইনের ৭ নং ধারা মতে, “ কেন্দ্রীয় সরকার কেবল এবং কেবলমাত্র যুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক শিল্পসমূহ নিয়ন্ত্রণ করবে।”

 

 

<2.014.109>

 

সুতরাং সংবিধানের প্রাদেশিক নীতিমালা থেকে ৭ নং ধারা অপসারণ করে তা কেন্দ্রীয়-প্রাদেশিক সহাবস্থান নীতিমালায় সংযোজন করা হল। এছাড়াও প্রাদেশিক নীতিমালার ৬৪ ও ৬৯ নং ধারা তথা যাকাত, ওয়াকফ ও মসজিদ সংক্রান্ত নীতিমালা অপসারণ করে সহাবস্থান নীতিমালায় সংযোজন করা হল।

৭৪. উপরোক্ত আলোচনার আলোকে সংবিধান নীতিমালা সংক্রান্ত তালিকা তিনটি সংশোধন করে ভবিষ্যৎ সংবিধান প্রনয়ন করার পরামর্শ দেওয়া হল। এছাড়াও পূর্ববর্তী সংবিধানে কতিপয় পৃথক ও পারস্পারিক সম্পর্কহীন বিষয়াবলি একত্রে সংযোজন করে সংবিধান রচনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব অসংগতি দূর করে সংবিধান সংস্করণ বা নতুন সংবিধান রচনা করার সুপারিশ জানানো হল।

 

 

 

 

 

 

 

 

<2.014.110>

 

পঞ্চম অধ্যায়

আইনসভা- এককক্ষ বিশিষ্ট নাকি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট

­৭৫। আমাদের মতে যুক্ত রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থাতে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার থাকা আবশ্যক। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার এক কক্ষ বিশিষ্ট হবে্ নাকি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ৭৪.১% মতামত এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠোনের পক্ষে এবং ২৫.২% মতামত রেয়েছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার পক্ষে, এবং মাত্র ৭% মতামত উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠনের পক্ষে মত প্রদান করে।এককক্ষ বিশিষ্ট আইন সভার পক্ষে প্রকাশিত মতামত সংশোধিত সংবিধান দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। যার ফলে পরবর্তীতে ৪৬% জনমত দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার পক্ষে, ৪৯% জনমত এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার পক্ষে এবং ১৯% জনমত উপদেষ্টা কাউন্সিলের পক্ষে যায়। তবে উপদেষ্টা কাউন্সিল আইনসভার মতো উপযোগী নয় কারণ এতে প্রকৃত ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়না। আইনসভা এককক্ষ বিশিষ্ট হওয়া উচিত নাকি দ্বি কক্ষ বিশিষ্ট হওয়া উচিত সে ব্যাপারে লর্ড ব্রাইস আইনসভার দুটি ত্রুটি চিহ্নিত করে বলেন,

ক) এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা সমগ্র রাষ্ট্রের তুলনায় স্বল্প পরিমাণে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ধারণ করে।

খ) এ আইনসভা একটি মাত্র রাজনৈতিক দলের সংখ্যা গরিষ্ঠতায় গঠিত হয়।

তাঁর মতে আইনসভার এসব ত্রুটি সমাধানের খুব স্বল্প পরিমাণ সুযোগ বিদ্যমান থাকায় সমাধানের একমাত্র উপায় হল জাতীয় পরিষদ। বেশ কিছু কারণে (যাহা পরবর্তীতে এ অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে) কোনো রাজনৈতিক দল ব্যতীত প্রতিনিধিত্ব মূলক সরকার গঠন করা সম্ভব না। উপরে উল্লিখিত ত্রুটি গুলো প্রায় সব দেশের আইনসভায় বিদ্যমাণ। মূলত জনমত আইনসভার ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধনে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখে যা পাকিস্তানে অবর্তমান। এমতাবস্থায় একটি Upper Chamber এর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয় যা আইনসভার হটকারি সিদ্ধান্ত গুলোকে বাধা প্রদান করবে এবং সেই সাথে Lower House এর উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সহায়তা করবে। অফিশিয়াল প্রতিনিধিরা তাদের প্রথম সম্মেলনে এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন। আমাদের সুপারিশ অনুযায়ী এক্ষেত্রে পৃথক একটি House গঠন করা বাঞ্জনীয়। এছাড়াও প্রতিনিদধিগণ একটি Upper House গঠনের পক্ষে রায় দেন যেখানে সদস্যবৃন্দ আইন, চিকিৎসা, বানিজ্য প্রভৃতি বিভিন্ন পেশাদারী ব্যক্তিত্বের মধ্যে থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।

 

 

 

<2.014.111>

 

 

কিন্তু দ্বিতীয় অধ্যায়ের উপসংহার হিসেবে আমরা লক্ষ্য করেছি, অতীতে গড়পড়তা রাজনীতিবিদদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের যে অভাব, তা ছিল সমাজের গড়পড়তা মানুষেরই প্রতিফলন, তারা শিক্ষিত হোন অথবা রাজনীতি সচেতনই হোন না কেন। আমাদের মতামত হচ্ছে বিভিন্ন পেশার মানুষের চাহিদার ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরিষদ ঝুকিপূর্ণ হবে, কারণ সেটি হবে বিভিন্ন স্বার্থের মধ্যে দ্বন্দ্ব উস্কে দেয়ার সামিল।নিন্ম কক্ষে বিস্তারিত আলোচিত কোনো বিষয় উচ্চকক্ষে গিয়ে সংকীর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচিত হয়ে ফলাফল উল্টে যেতে পারে। আমরা আশঙ্কা করছি যে একটি কর্মকান্ডমূলক প্রতিনিধিত্ব পদ্বতি সংসদকে আইন প্রণয়নের কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং একটি বিতর্কের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে, এবং বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা এর দক্ষতা কমিয়ে আনবে। এবং শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন স্তরের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত প্রতিনিধিত্ব ভাগ করে দেয়ার প্রায়োগিক বাধা তো আছেই। অতএব আমরা কর্মকান্ডমূলক প্রতিনিধিত্বের ধারণা থেকে সরে আসলেও এখনও বিশ্বাস করি যে উচ্চকক্ষ থাকা প্রয়োজন।

৭৬। উচ্চকক্ষের বিরুদ্ধে প্রধান যে আপত্তি, সেটি ছিল এটি আইন প্রণয়নে বিলম্ব ঘটাবে এবং জনপ্রয়িতা লাভে দুই কক্ষের সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকবে। প্রথম আপত্তি প্রসঙ্গে বলতে হয় ইতিমধ্যে দেখানো হয়েছে নিম্নকক্ষের ঘাটতি অথবা ত্রুটি পুষিয়ে নেয়ার জন্য উচ্চকক্ষের নজরদারি কেন প্রয়োজন। দ্বিতীয় আপত্তির ব্যাপারে বলতে হয়, দুই কক্ষের সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ থাকতে পারত যদি দুই কক্ষের সদস্যবৃন্দ একই স্বার্থের ভিত্তিতে নির্বাচিত হত, কিন্তু আমাদের প্রস্তাবনা হচ্ছে উচ্চকক্ষের গঠনপ্রণালী হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি গঠিত হবে পরিণত বয়সের মেধাবী ও গুণী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে। একটি কক্ষ যার সদস্যবৃন্দ বয়স ও অভিজ্ঞতায় পরিণত এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বমহিমায় উজ্জ্বল, যারা গড়পড়তা রাজনীতিবিদদের মতন রাজনৈতিক স্রোতে গা ভাসাবেন না, সেই কক্ষ জনমত তৈরিতে একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। এই শ্রেণির মানুষ, যারা স্বাভাবিকভাবেই জাতির কাছে নির্লিপ্ত হিসেবে পরিচিত, তাদের প্রকাশিত মতামত জনমনে ও নিম্নকক্ষে নিশ্চিতভাবেই বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে। হার্বার্ট মরিসন* তার ‘সরকার ও সংসদ’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, হাউজ অফ লর্ডস গুরুত্ব কিংবা উপযোগিতা প্রশ্নে বর্জিত হয় না। তিনি এই হাউজের সক্রিয় সদস্যদের উল্লেখ করেছেন, যাদের ব্যপক দক্ষতা ও সরকারী খাতে অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে তিনি লক্ষ্য করেছেন।

“আমি বলব না যে লর্ডসের বিতর্ক কমন্সের বিতর্কের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু লর্ডসের বিতর্কের নিজস্ব একটি চরিত্র ও গুরুত্ব রয়েছে এবং জনমত ও সরকারের নীতি তাদের প্রভাব ছাড়া হয় না।”

আমরা অবশ্যই আশা করি না আমাদের কক্ষে রাতারাতি অথবা অদূর ভবিষ্যতে হাউজ অফ লর্ডসের সদস্যদের মতন বিশিষ্ট লোকদের নিয়ে আসতে পারব, কিন্তু আমরা বেশ আত্মবিশ্বাসী যে আমরা ছোট হলেও একটি কক্ষ পেতে পারব যার সদস্যবৃন্দ হবে পরিক্ষিত মেধার, সন্দেহাতীত সততার, পরিণত সিদ্ধান্তের এবং অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ। অতএব আমরা সুপারিশ করছি একটি উচ্চকক্ষের যেটি পরিচিত হবে সিনেট নামে এবং এটির ৪৮ জন সদস্য থাকবেন- ৪০ জন নির্বাচিত হবেন ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে, সমতার ভিত্তিতে কেন্দ্র ও দুইটি প্রদেশের নিম্নকক্ষের অংশগ্রহণ থাকবে। উদাহরণস্বরূপ, প্রত্যেক প্রদেশ থেকে ২০ জন করে, মেধাবী ব্যক্তিত্বদের মধ্যে থেকে, যাদের বয়স পঞ্চাশ এবং তদোর্দ্ধ, কোনো বিধানসভার সদস্য নন, এবং বাকি ৮ জন নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি দ্বারা।

 

 

 

 

 

 

<2.014.112>

 

এখানে নির্বাচনের জন্য কোনো তদবির চলবে না, তদবির করেছেন এমন কাউকে পাওয়া গেলে অযোগ্য বলে বিবেচ্য হবেন। সিনেট নিম্নলিখিত বিভাগগুলি থেকে নির্বাচিত হবে-

ক। সাবেক রাষ্ট্রপতি, গভর্নর, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রী;
খ। সুপ্রীম কোর্ট ও হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক;
গ। কোন স্বীকৃত পেশার কমপক্ষে ১৫ বছর স্থায়ী সদস্য;
ঘ। অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা, যাদের পদমর্যাদা সচিব বা কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের বিভাগপ্রধানের নিচে নয়;
ঙ। শিক্ষা ও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান আছে এমন ব্যক্তি; এবং
চ। সমাজকল্যাণে অবদান রেখেছেন এমন বিশিষ্ট নাগরিক।

উল্লেখিত শ্রেণির কোন সদস্য নির্বাচনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না- যদি তিনি যেকোনো আইনের অধীন কোনো পদে নির্বাচনের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হন অথবা সরকারী কর্মচারী হিসেবে পদচ্যুত হন। প্রত্যেক শ্রেণি থেকে কমপক্ষে দুইজন প্রতিনিধি থাকবেন এবং (ঙ) ও (চ) এই দুইটি বিভাগ থেকে একত্রে দশজনের বেশি থাকবেন না। কেন্দ্রীয় নিম্নকক্ষ এই নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বিধি প্রনয়ণ করবে। মনোনয়নের জন্য রাষ্ট্রপতির পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে, তার মানে তিনি উপরোল্লেখিত শ্রেণিগুলোর মধ্য থেকে মনোনয়ন প্রদানে বাধ্য থাকবেন না তবে বয়সসীমা যেন পঞ্চাশ অথবা তদোর্দ্ধ হয় তা মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন, এবং অযোগ্যতার ক্ষেত্রে উপরোল্লেখিত বিষয়গুলি বিবেচ্য হবে। এই কক্ষের গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা মনে করি এর মেয়াদ রাষ্ট্রপতি ও কেন্দ্রীয় নিম্নকক্ষ যেটি “লোকসভা” নামে পরিচিত হবে, তার মেয়াদের চেয়ে বেশি হওয়া উচিৎ। অতএব আমরা সিনেটের জন্য ছয় বছর মেয়াদ নির্ধারণ করে দিচ্ছি এবং রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, লোকসভা ও প্রাদেশিক আইনসভা যেটি পরিচিত হবে “পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের আইনসভা” নামে, প্রত্যেকটির জন্য চার বছর মেয়াদ নির্ধারণ করছি। সিনেট নির্বাচনের জন্য প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের নাম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লোকসভার স্পীকারের কাছে উত্থাপন করতে হবে, যিনি একটি ছোট কমিটি গঠন করবেন ঐ কক্ষের এবং দুই সংসদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যারা প্রস্তাবিত ব্যক্তি মনোনয়নের জন্য যোগ্য কিনা খতিয়ে দেখবেন।

 

সিনেটের ক্ষমতা

৭৭। বিবেচ্য পরের প্রশ্নটি হল, সিনেটকে কোন ধরণের বিধানিক ক্ষমতা দেয়া উচিৎ। এটি কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের মতন শক্তিশালী হতে হবে, নাকি এই বিধানিক ক্ষমতাটি ইংল্যান্ডের হাউজ অফ লর্ডসের ক্ষমতার অনুরূপ হবে? ইংল্যান্ডের হাউজ অফ লর্ডসকে অনুসরণ করা উচিৎ হবে বলে আমরা মনে করি না। এই ক্ষেত্রে আমরা এটাও মনে করি না যে আমাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধরণ অনুসরণ করা উচিৎ, যতটুকু বিধানিক ক্ষমতা জড়িত, কারণ সেখানকার সিনেটে প্রত্যেকটি রাষ্ট্রকে সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করে, এবং প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে এটিকে লোকসভার সমান ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আমাদের এই ধরণের প্রতিনিধিত্ব সম্ভবত থাকতে পারেনা যেহেতু আমাদের ফেডারেশনে ইউনিট মাত্র দুইটি। উপরন্তু, এই কক্ষটি থাকার উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ আসন থেকে নির্বাচিত নিম্নকক্ষের উপর পরিমিত প্রভাব রাখা, এবং এই কক্ষের গঠনতন্ত্র পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত করে এর উদ্দেশ্য উপদেষ্টা হওয়া।

 

<2.014.113>

 

এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা মনে করি সিনেটকে হাউজ অফ লর্ডসের চেয়ে কম-বেশি বিধানিক ক্ষমতা দেয়া যথাযথ। আমরা এই সংগঠনটিকে আরও কিছু যথাযথ ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাব করছি, এখানে আমরা শুধু বিধানিক ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করব। এই ক্ষমতাগুলো বিবেচনায় এনে অর্থসংক্রান্ত বিল ও অন্যান্য বিধানিক ক্ষমতার মধ্যে একটি স্বতন্ত্র্য পার্থক্য তৈরি করতে হবে। আমাদের মতামত হল অর্থসংক্রান্ত বিলগুলো লোকসভায় পরিচালিত হবে এবং সিনেটের অধিকার থাকবে বিলগুলো পর্যালোচনা করার এবং রশিদ প্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে মতামত ব্যক্ত করার। যদি সিনেট সেটি করতে ব্যর্থ হয় অথবা লোকসভার সাথে একমত পোষণ করে তাহলে অনুমোদনের জন্য বিলটি রাষ্ট্রপতির কাছে নিয়ে যেতে হবে। সংশোধনীর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পরিবর্তন সহ বিলটি লোকসভায় ফেরত পাঠাতে হবে, এরপর যথাযথ পরিবর্তন করে অথবা না করেই বিলটি পুনরায় রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হবে। অন্যান্য বিধানিক প্রক্রিয়া বিবেচনার ক্ষেত্রে, আমরা মনে করি বিলসমূহযেকোনোকক্ষেউত্থাপিত হতে পারে। লোকসভায় প্রণীত একটি বিলের ক্ষেত্রে সেটি যদি সিনেটে গৃহীত হয় তাহলে সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে। যদি সিনেটে বিলটি প্রত্যাখ্যাত হয় অথবা সংশোধিত হয় তাহলে সেটি লোকসভায় পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠাতে হবে। ঐক্যমত্যের ক্ষেত্রে সিনেট যেই বিলটি প্রত্যাখ্যান করেছে সেটি লোকসভা বাতিল করবে অথবা প্রস্তাবিত সংশোধনী সহ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে, কিন্তু অনৈক্যের ক্ষেত্রে লোকসভা বিলটি তাদের পরবর্তী সভায় পুনর্বিবেচনা করবে এবং সেটিকে পুনরায় সিনেটে পাঠাতে হবে না। সিনেট প্রণীত কোনো আইনের ক্ষেত্রে সেটি যদি লোকসভায় প্রত্যাখ্যাত হয় তাহলে দুই কক্ষ যৌথ অধিবেশনের মাধ্যমে সেটি নিষ্পত্তি করবে। অপরপক্ষে, যদি লোকসভা এমনভাবে সংশোধন করে, এটি এমনভাবে দেখতে হবে যে এটি ঐ কক্ষে সংশোধিত আকারে গ্রহণ করা হয়েছিল, এবং লোকসভায় প্রবর্তিত বিলসমূহের জন্যও একই নির্দেশ অনুসরণ করতে হবে। যেসব বিলে রাষ্ট্রপতি ভেটো দেবেন সেসব আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে শুধুমাত্র যদি সেটি সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।

৭৮। রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, গভর্নর, মন্ত্রী (কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক) এবং প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষেত্রে আমরা এই পদ্ধতি সুপারিশ করছি- অভিশংসনের রেজুল্যুশন কমপক্ষে লোকসভার এক-চতুর্থাংশ সদস্য স্বাক্ষরিত হতে হবে এবং চৌদ্দদিনের নোটিস দিতে হবে, এবং যদি রেজুল্যুশনটি সেই কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হয় তাহলে অভিযোগের বিচার সিনেট কর্তৃক অনুষ্ঠিত হবে সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দ্বারা রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, গভর্নর, মন্ত্রীদের (কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক) ক্ষেত্রে এবং উপরাষ্ট্রপতির দ্বারা অন্যসব ক্ষেত্রে। সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের দ্বারা দোষী সাব্যস্ত হলে অভিশংসিত ব্যক্তিকে পদত্যাগ করতে হবে। এইসব ক্ষমতা ছাড়াও, সিনেটের রাষ্ট্রপতি প্রণীত নিয়োগসমূহের অনুমোদন ক্ষমতা থাকবে, যার বিস্তারিত উল্লেখ পরবর্তী অধ্যায়ে সন্নিবিষ্ট হবে। এছাড়াও সিনেট লোকসভার সাথে যুদ্ধ ও যৌথ চুক্তি অনুসমর্থনে যৌথ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবে।

 

লোকসভা

৭৯। লোকসভা বিষয়ে ৫৮.৭৭ শতাংশ মত জনসংখ্যার ভিত্তিতে এবং ৪১.২৩ শতাংশ মত সমতার ভিত্তিতে।

<2.014.114>

 

গণপরিষদে তর্ক-বিতর্কের পর সমতা-নীতি’র ধারণাটি গ্রহণ করা হয়েছিল, এবং আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে পৃথক সরকার ব্যবস্থা বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকরী নয়, এই ব্যাপারে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত আমলে নিতে পারছি না। সুতরাং আমরা প্রস্তাব করছি লোকসভা নির্বাচিত হবে সমতার ভিত্তিতে এবং সেটি যেন শক্তিশালী হয় সেজন্য এর সদস্য সংখ্যা ২০০ হওয়া উচিৎ। এই কক্ষের সদস্যদের যোগ্যতার প্রশ্নে ৪২.৫% মতামত এসেছে তাদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে সাধারণ সাক্ষরতার চেয়ে বেশী এবং ৩৩.৫% মতামত এসেছে পূর্বের সংবিধান অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতার যেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা অন্তর্ভূক্ত ছিলনা।বয়সের ক্ষেত্রে ১২.৫ শতাংশ মনে করেন কমপক্ষে ৩০ হওয়া উচিৎ। ৬ শতাংশ মনে করেন স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন হওয়া উচিৎ, যেখানে ১.৯ শতাংশ চেয়েছেনন্যূনতমসম্পদশালী এবং ৩.৬ শতাংশ মনে করেন খোদাভীরু হওয়া উচিৎ। শেষোক্ত যোগ্যতাটি গ্রহণ করা অসম্ভব, কারন এমন কোনো উপায় নেই যা দ্বারা আমরা নির্ধারণ করতে পারব প্রার্থী খোদাভীরু কিনা। বয়সের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৩০ বছর বয়সী হওয়ার পরামর্শটি আমরা গ্রহণ করছি,কারন পেশাদার রাজনীতিবিদদের যতসম্ভববাদদেয়াপ্রয়োজন; আমরা মনে করি এই বয়সসীমায় আমাদের অনেকসদস্য যারা ইতিমধ্যে কোনো পেশা বেঁছে নিয়েছেন অথবা স্থায়ী হয়েছেন এবং যারা জীবিকার জন্য রাজনীতির উপর নির্ভর নন। অন্যান্য যোগ্যতাগুলো যদি গ্রহণ করা হয় তাহলে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে কক্ষের কার্যবিবরণী সম্পর্কে যেন প্রত্যেক সদস্য জ্ঞাত থাকেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পত্তির যোগ্যতাটি কোনো কাজে আসবে না। ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কাম্য হতে পারে, তবে অধিকাংশ সংবিধানে গৃহীত নীতি হল সংসদসদস্যনির্বাচনেরজন্যপ্রত্যেক ব্যক্তির ভোটের অধিকারপ্রয়োজনীয়। সুতরাং আমরা লোকসভা অথবা প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য ন্যূনতম সম্পত্তি অথবা ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা সুপারিশ করছি না। তবে আমাদের যুগ্ন সদস্যপদ নিষিদ্ধ করা উচিৎ, একই ব্যক্তি একইসাথে একাধিক কক্ষের সদস্য হতে পারবে না,হোক কেন্দ্রীয় অথবা প্রাদেশিক।

 

প্রাদেশিক আইন পরিষদ

৮০। এখন আইন পরিষদ (প্রাদেশিক)সংগঠনেরক্ষেত্রে তাদের শক্তিমত্তা এবং এর সদস্যদের যোগ্যতা বিবেচনা অবশিষ্ট রয়েছে। অধিকাংশের মতামত হল প্রাদেশিক আইন পরিষদ হবে এক কক্ষ বিশিষ্ট এবং আমরাও এইরকম ধারণা পোষণ করি। আমরা মনে করি না প্রদেশে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে অথবা রাখা সম্ভব। সামর্থের কথা বিবেচনা করে আমরা মনে করি প্রত্যেক পরিষদে ১০০ টি আসন থাকবে, যাদের মধ্যে ৩ টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। অনুরূপভাবে লোকসভায় ৬ টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে কিন্তু আমরা সিনেটে এইধরনের আসন সংরক্ষণের পক্ষপাতী নই। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন তাদেরকে সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণকে বাঁধাগ্রস্ত করবে না, কিন্তু আমরা মনে করি তাদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই কারণে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের মতামত গ্রহণ করেছি। আমাদের মতে আইন পরিষদের সদস্যদের যোগ্যতা লোকসভার সদস্যদের যোগ্যতার অনুরূপ হতে হবে।

৮১। পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল যে একীভূতকরণের সময় সংসদের আসনগুলোয় বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যাপ্ত অংশগ্রহণ থাকবে।

<2.014.115>

 

উদাহরণস্বরূপ, প্রাদেশিক আইন পরিষদের একটি শক্তিশালী দিক হিসেবে বরাদ্দকৃত ৩১০ টি আসনের মধ্যে ১০ টি নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং বাকী ৩০০ টি আসন নিম্নোক্তভাবে বণ্টন করা হবে-

১। পূর্বতন পাঞ্জাব ……………………………………………………………. ১২০ টি এবং ৪ টি নারীদের জন্য আসন
২। পূর্বতন সিন্ধু ………………………………………………………………. ৫৬ টি
৩। পূর্বতন এন ডব্লিউ এফ পি ……………………………………………….. ৪৩ টি
৪। পূর্বতন বেলুচিস্তান এবং সংযুক্ত প্রদেশ ………………………………….. ১১ টি
৫। পূর্বতন বাহাওয়ালপুর প্রদেশ …………………………………………….. ২২ টি
৬। পূর্বতন খায়েরপুর প্রদেশ ………………………………………………… ৪ টি
৭। ফেডারেল রাজধানী ……………………………………………………… ১৪ টি
৮। বিশেষ অঞ্চল (সোয়াত সহ) ……………………………………………. ৩০টি

উল্লেখ করা হয়েছিল এই ব্যবস্থা দশ বছর পর্যন্ত চলমান থাকবে। এই সময় অতিবাহিত হওয়ার পর স্পষ্টত; বিভিন্ন স্বার্থের সমন্বয় ঘটবে এবং এরপর আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব ভিত্তিক আসন বণ্টনের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে আসবে। পূর্ববর্তী অধ্যায়ে আমরা ইতিমধ্যে বলেছি যে এক ইউনিট পদ্ধতি চালিয়ে যাওয়া উচিৎ এবং অধিকাংশের মতামতই এইরূপ। যদি, একীভূতপ্রদেশ চালিয়ে যেতে হয়, এটা যুক্তিসঙ্গত হবে যেই উদ্দেশে এই প্রসঙ্গটি এসেছে সেই উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে চালিয়ে যওয়া। তাই তারা উপরোল্লেখিত আসন বরাদ্দে হস্তক্ষেপ করবে না, এবং আমরা বিবেচনা করছি এই ব্যবস্থা নতুন সংবিধান বাস্তবায়নের তারিখ হতে সাত বছর পর্যন্ত চলবে।

৮২। এই পরিকল্পটি উপজাতীয় অঞ্চল ও প্রদেশগুলোকে কিছু আসন দেবে যদিও এই অঞ্চলগুলো করারোপণের আওতাভুক্ত নয়। অধিকাংশের মতামত এই অঞ্চলগুলোর পক্ষে, যেভাবে আছে সেভাবেই থাকুক। উপজাতীয় অঞ্চল প্রসঙ্গে ৮৩.২৬ শতাংশ মনে তাদের পৃথক রাখার পক্ষে, অন্যদিকে ১৫.৬ শতাংশ চান এই অঞ্চলগুলোকে একীভূত করা হোক এবং ১.১৪ শতাংশ মনে করেন ধীরে ধীরে একীভূত করা হোক। প্রদেশ প্রসঙ্গে ৫৮.৮২ শতাংশ চান যেভাবে আছে সেভাবেই থাকুক, অন্যদিকে ৪১.১৮ শতাংশ অবিলম্বে একীভূত চান। আমরা উপজাতীয় অঞ্চলগুলোতে গিয়েছি এবং একটি প্রদেশ, সোয়াত পরিদর্শন করেছি। উপজাতীয় অঞ্চল ও প্রদেশগুলোকে পৃথক রাখার পক্ষে অধিকাংশের যে মতামত, আমরা সেটি গ্রহণ করছি। আমরা উপজাতীয় অঞ্চলগুলোকে ধীরে ধীরে একীভূত করার পক্ষপাতী। তারা আশা করে, একীভূতকরণের পূর্বে তাদের শিক্ষার ব্যাপারে সাহায্য করা উচিৎ এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিসাধন প্রয়োজন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা কর প্রদান করুক না করুক প্রাদেশিক পরিষদে তাদের অংশগ্রহণ দরকারী, এতে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন হবে। রাজ্য প্রসঙ্গেও তাদের প্রতিনিধিত্ব অব্যাহত থাকা উচিত। আমরা যেহেতু প্রদেশের জন্য মাত্র ১০০ টি আসনসুপারিশ করেছি, ফলে আনুপাতিক হারে উপজাতীয় অঞ্চল ও রাজ্যসমূহ সহ বিভিন্ন অঞ্চলে আসন সংখ্যা হ্রাস পাবে।

<2.014.116>

 

জেনারেল

৮৩। সিনেট, লোকসভা ও আইন পরিষদগুলো এই অর্থে নির্বাহী স্বাধীন হবে যে তাদের নিজস্ব কার্যক্রমের জন্য কার্যপ্রণালী ও কার্যনীতি থাকবে; কিন্তু তাদের অথবা তাদের নিযুক্ত কমিটির কোনো মন্ত্রী অথবা কর্মকর্তাকে তলব অথবা জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষমতা থাকবে না। তারা তথ্যের জন্য ডাকতে পারবে এবং তা দেয়া নির্বাহীগণের দায়িত্ব। জরুরী পরিস্থিতিতে এই সাংবিধানিক কতৃপক্ষ সমূহ রাষ্ট্রপতি অথবা গভর্নর কর্তৃক ডাকা বিশেষ অধিবেশনে যোগদান করতে বাধ্য থাকবেন। এই কক্ষের নির্বাচন প্রসঙ্গে অথবা সংযোগ রয়েছে এমন যেকোন বিষয়ে সন্দেহ এবং বিরোধ দেখা দিলে আপাতত নির্বাচন সংক্রান্ত আইনের আওতায় মোকাবিলা করা হবে।

 

 

 

<2.014.117>

 

অধ্যায় ৭
নির্বাচকমণ্ডলী
ভিন্ন মত

১০৩।…

১০৪। আইন পরিষদের নির্বাচন প্রসঙ্গে বিভিন্ন মতামত সার্বজনীন ভোটাধিকারের পক্ষে ছিল, মূলত যা ছিল পূর্বের সংবিধানের একটি বিধি দ্বারা প্রভাবিত। সরকারী প্রতিনিধিদলের অবশ্য মত ছিল যে সার্বজনীন ভোটে রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি ও আইন পরিষদের সদস্যদের সরাসরি নির্বাচিত করতে দেশ প্রস্তুত ছিল না। তারা মৌলিক গণতন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচন পদ্ধতির প্রবর্তন করেন, যেটি প্রকারান্তে সার্বজনীন নির্বাচনের দ্বারা নির্বাচিত হত। তাদের যুক্তি ছিল যে একজন গড়পড়তা প্রাপ্তবয়স্ক নিরক্ষর ব্যক্তি তার গ্রামের অথবা শহরের বাইরে বসবাসকারী প্রার্থীদের মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম, এবং মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা হয়েছিল নির্বাচিত প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনের সময় ডাকা হতে পারে। তাই তারা সুপারিশ করেছিল মৌলিক গণতন্ত্রে নির্বাচিত প্রার্থীরা রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনের জন্য ইলেক্টোরাল কলেজ গঠন করবে। রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত ছিল নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে মৌলিক গণতন্ত্রের মতন অথবা অন্য কোনো মাধ্যমেঅপ্রত্যক্ষ নির্বাচনে, পূর্বে সংবিধানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেই রকম বলা হয়েছিল। বিভিন্ন উপযুক্ত কারণে আমাদের বিবেচিত মতামত এইরকম ছিল যে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি যেই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থেকে গুরুদায়িত্ব পালন করেন, সেই পদ থেকে জনগণের আস্থায় আধিপত্য করা উচিৎ এবং সেই আস্থা শুধুমাত্র সরাসরি নির্বাচন থেকেই আসা উচিৎ।

 

ভোটাধিকার : সার্বজনীন অথবা নিয়ন্ত্রিত

১০৫। আমরা প্রথমে সার্বজনীন ভোটাধিকার প্রসঙ্গে আলোচনা করব। তত্ত্বসমুহের একটি হল, নিজের নিন্দনীয় অথবা অনধিকার কারণে অযোগ্য বিবেচিত না হলে ভোটাধিকার প্রত্যেক নাগরিকের প্রাকৃতিক ও জন্মগত অধিকার; অন্যদিকে আরেকটি মত হল ভোটাধিকার জন্মগত অধিকার নয় বরং শুধুমাত্র রাষ্ট্র কর্তৃক সেসমস্ত মানুষের প্রতি প্রদত্ত অধিকার যারা জনগণের কল্যাণের জন্য সে অধিকারকে সর্বোত্তম ব্যবহার করতে পারবে বলে মনে করা হয় এবং প্রাকৃতিক অধিকারও নয় কারণ রাষ্ট্রের যে কোনো নাগরিক সে অধিকার পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। পরের মতটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সকল লেখকদের দ্বারা গৃহীত হয়েছে এবং আমরা এর সাথে একমত। এটা সত্য যে, প্রথমোক্ত মত অনুযায়ীও, একজন ভোটারের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া এটা ইঙ্গিত করে যে কয়েকজন প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে ভোট দেয়ার মতন পরিপক্বতা তার আছে। এই কোণ থেকে এটা বলা যায় যে ভোটদান স্বাধীনতার মতন জন্মগত অধিকার নয়। এটা, ঠিক ভাবে বলতে গেলে ভোট হল একটি অফিস বা কার্য, যা সবার জন্য নয় বরং তাদের জন্য যারা এর বাধ্যবোধকতা পালনে সক্ষম। সার্বজনীন ভোটাধিকারের পক্ষের লোকজন অবশ্য মনে করেন কতিপয় মুক্ত ব্যক্তি মানুষকে বিচারের ক্ষেত্রে শিক্ষিত ব্যক্তিদের চেয়েও যথেষ্ট বিচক্ষণ। এটা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সত্য হতে পারে কিন্তু গড়ে আমাদের মনে হয় বিভিন্ন প্রার্থীর পরিচয় সম্পর্কে একজনশিক্ষিত ব্যক্তিকেজানতে দেয়াটাই নিরাপদ, যেহেতু বর্তমানে প্রার্থীরা সামনাসামনি সভার চেয়ে প্রেসের মাধ্যমেই ভোটারদের নিকট পৌঁছুতে পারে।

 

 

 

<2.014.118>

 

এখানে যদি ইংল্যান্ড ও আমেরিকার মতন দুইটি সুসংজ্ঞায়িত দলের সমন্বয়ে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ব্যবস্থা থাকতো তাহলে তাদের সহজাত কূটনীতির উপর গ্রাম ও শহরের মানুষ ভরসা করতে পারত, কারণ সেক্ষেত্রে দলগত ঐতিহ্য থাকত এবং পরিবারের সাথে কোনো একটি দলের সাথে সম্পর্ক থাকতো যা তাকে পথপ্রদর্শন করতো। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পরিবার রয়েছে যাদের সাথে রিপাবলিকান অথবা ডেমোক্রেট পার্টির সুসম্পর্ক আছে, এবং স্বভাবতই একজন গড়পড়তা ভোটার সেই দলকেই সমর্থন করবে যা তার বাবা করতো, যেহেতু সে ছোটবেলা থেকেই সেই দল সম্পর্কে শুনে আসছে। প্রত্যেক এলাকায় প্রধান দলগুলোর পক্ষে এই ধরনের পরিবার রয়েছে যা কিনা নিরক্ষর ভোটারদের প্রভাবিত করে, কিন্তু পাকিস্তানে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার পূর্ণ ক্ষমতায় এসেছে মাত্র ১৯৪৭ সালের পর এবং যদি আগের পর্যায় বিবেচনা করা হয় তাহলে ব্যপক পরিসরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল শুধুমাত্র ১৯৩৭ সালে। এই সময়কাল ঐতিহ্য গড়ে ওঠার জন্য খুব সংক্ষিপ্ত। এই পরিস্থিতিতে যারা লিখতে ও পড়তে পারে না, বিভিন্ন প্রার্থীদের যোগ্যতা সম্পর্কে জানাশুনার জন্য তাগিদবোধ তাদের মধ্যে নেই, শুধুমাত্র স্থানীয় ব্যাপারস্যাপারে বিচক্ষণতার কারণে তার উপর নির্ভর করা যায় না।

১০৬। ……

সাম্প্রতিক শুমারি অনুযায়ী আমাদের দেশে স্বাক্ষরতার হার মাত্র ১৫, এবং ইংল্যান্ডের সাথে তুলনা করলে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যম অত্যন্ত অপর্যাপ্ত। এখানে সংবাদপত্রের নিয়মিত পাঠকের সংখ্যা অত্যন্ত কম, এবং নির্বাচনের সময় জনগণের আগ্রহ বিবেচনা প্রসঙ্গে পুর্ব পাকিস্তানের সরকারের পরিসংখ্যান বলে যে বিগত নির্বাচনে এই প্রদেশের সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ৩৭.২ শতাংশ ভোট পড়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানে এইরকম কোনো পরিসংখ্যান নেই কিন্তু এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই যে সেই প্রদেশে নির্বাচনে আরও বেশি ভোট পড়েছিল।

১০৭। আমাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল, যেহেতু পূর্বের সংবিধান এই দেশের জনগণকে সার্বজনীন ভোটাধিকার দেয়, সেহেতু এই অধিকার তুলে নেয়া অপরিণামদর্শী হবে, বিশেষ করে যখন প্রাদেশিক নির্বাচন হয়েছে মাত্র একবার। কিন্তু আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে ঐ নির্বাচনগুলো এটা ইঙ্গিত করে যে এই ধরনের ভোটাধিকার আমাদের জন্য পরিপক্ব নয়। পূর্ব পাকিস্তানের ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকারের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রথম অধ্যায়ে আমরা লক্ষ্য করেছি যে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ সরকারের পরাজয়ের পূর্বের প্রশাসন পরবর্তী প্রশাসনের চেয়ে ভাল ছিল। ১৯৪৭ সালের আগস্ট থেকে ১৯৫৪ সালের শুরু পর্যন্ত ঐ প্রদেশে সরকারের স্থিতাবস্থা বজায় ছিল। কোনো সন্দেহ নেই যে ক্ষমতাসীন দল সেই প্রদেশে জনমতের তোয়াক্কা করেনি এবং তারউপর উপনির্বাচন অনুষ্ঠানে গড়িমসি করেছিল যদিও আসনশুন্যতা বেড়েই চলছিল এবং শেষ পর্যন্ত তা গিয়ে দাঁড়ায় ৩৫ এ, কিন্তু এসবের জন্য তাদের বিপর্যয়কর পরাজয়ের কথা ছিল না। আমাদের কাছে থাকা তথ্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে এই পরাজয়ের পেছনে ছিল আবেগতাড়না, মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, জনগণের মনে সৃষ্ট অসংযত ও কল্পনাপ্রসূত অপপ্রচার। এসবের স্বাক্ষী হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলীম লীগ মন্ত্রীসভার একজন মন্ত্রী, যিনি বিবৃতি দিয়েছেন, একটি অপপ্রচার ছিল যে সরকার একটি গাছের উপর তিন ধরনের করারোপ করেছেন, শিকড়ের উপর, কাণ্ডের উপর এবং পাতার উপর।

 

<2.014.119>

 

এই নির্বাচনগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার আমাদের সামনে নিম্নোক্ত বিবৃতি দিয়েছেন-

“নির্বাচন পদ্ধতি অবাধ ও নিরপেক্ষ ছিল কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা যেই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা ছিল নির্বাচন যেভাবে হওয়া উচিৎ তার সম্পূর্ণ বিপরীত। যেসুচী উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেটি এমনকি প্রথম দর্শনেও বাস্তবায়নে অসম্ভব ছিল এবং উত্তেজনা বিরাজমান ছিল । ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছিল। নির্বাচনে যা ঘটেছিল তা বিবেচনা করে আমি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অথবা সংসদ নির্বাচন কোনোটিতেই প্রাপ্তবয়স্কের সার্বজনীন ভোটাধিকারের পক্ষে নই। মুসলিম লীগ সরকারের অজনপ্রিয়তার পেছনে মূল কারণ ছিল উন্নয়নের ব্যাপারে তাদের সর্ব-পাকিস্তান নীতি। জনগণকে পথভ্রষ্ট করা হয়েছিল। মুসলিম লীগ সেই প্রদেশের ব্যাপারে আগ্রহী নয় এইধরনের ভুল প্রচলিত ছিল। প্রাপ্তবয়স্কদের সার্বজনীন ভোটাধিকারে প্রার্থী বেঁছে নেয়ার ক্ষেত্রে তাদেরকে সহজে বিভ্রান্ত করার ভয় ছিল, ইশতেহার বুঝে নয় বরং অপপ্রচারের ফলে তাদের মানসিক অবস্থা পরিবর্তনের ফলে।”

এটি ভুল বা অতিরঞ্জিত মনে করার কোনো কারণ আমাদের নেই।

১০৮। সার্বজনীন ভোটাধিকারের পক্ষে আরেকটি যুক্তি হল যদি এটা না দেয়া হয় তাহলে পূর্ব পাকিস্তানে ক্ষোভ সৃষ্টিতে সক্রিয় কমিউনিস্টরা এই অসন্তোষকে কাজে লাগাবে; কিন্তু আমরা মনে করি যদি সার্বজনীন ভোটাধিকার দেয়া হয় তাহলে কমিউনিস্ট অথবা পাকিস্তান পরিপন্থী অন্য কোনো দল জনগণের অজ্ঞতাকে আমাদের বিপক্ষে খুব সহজে কাজে লাগাতে সক্ষম হবে। সুতরাং অতীতে প্রত্যেক প্রদেশে একবার করে যে সার্বজনীন ভোটাধিকার ছিল তা আমাদের ভবিষ্যত সংশোধনের জন্য নিরস্ত করতে পারবে না। প্রকাশিত বক্তব্যে এমন কোন সীমাবদ্ধ ভোটাধিকারের প্রভাব নেই বহির্বিশ্ব যাদের প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করবে। শুরুতেই উল্লেখ করেছি আমাদের এমন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে যা আমাদের প্রতিভাদের মূল্যায়ন করবে, অন্য কোনো দেশের সন্তুষ্টি নয়। যদি বাইরের মতামত বিবেচনায় আনা হয় তাহলে পরোক্ষ নির্বাচন প্রগতিবিরোধী হিসেবে গণ্য করা হবে। সার্বজনীন শিক্ষা ও সার্বজনীন ভোটাধিকার আছে এমন দেশের বর্তমান প্রজন্ম খুব কমই উপলব্ধি করতে পারবে ব্যপক নিরক্ষরতার হারের দেশে সার্বজনীন ভোটাধিকার আসলে কেমন হতে পারে। ইতিমধ্যে সরকারী প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে সরকারের মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে, দেশের জনগণ সার্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে শুধুমাত্র স্থানীয় প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে সক্ষম। বিগত দিনে যেসব ভোটারের উপস্থিতির নিন্ম হার পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত করে যে যদি সার্বজনীন ভোটাধিকার মঞ্জুর করা না হয় তাহলে একজন গড়পড়তা ব্যক্তি হতাশা বোধ থেকে নির্বাচনে আগ্রহী হবেন না ফলে, সার্বজনীন ভোটাধিকারের সমর্থকদের মতে, যেটা পাকিস্তান পরিপন্থী দলগুলো কাজে লাগাবে। তাই আমরা মনে করি আমরা একটি মারাত্মক ঝুঁকি নিতে যাচ্ছি রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, লোকসভা ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে, আমরা আমাদের জনগণের ব্যপক নিরক্ষতার মাঝে সার্বজনীন ভোটাধিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যাচ্ছি যাদের আবেগ অতি সহজেই উদ্দীপ্ত হয়। আমাদের মতামত হচ্ছে ভোটাধিকারের ব্যপ্তি হওয়া উচিৎ ইংল্যান্ডের মতন, শিক্ষার প্রসারের সাথে সাথে এবং আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি সাপেক্ষে ভোটাধিকার পাকিস্তানের শুধুমাত্র নিম্নোক্ত নাগরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া উচিৎ-

 

 

<2.014.120-121>

 

ক) যাঁরা সাক্ষরতার একটি আদর্শ অর্জন করেছেন, যার ফলে তাঁরা প্রার্থীদের ব্যাপারে প্রকাশিত ব্যাপারগুলো পড়তে এবং বুঝতে পারেন, যাতে করে তাঁদের নিজ নিজ মেধা অনুসারে তাঁরা তাঁদের মতামত গঠন করতে পারেন, অথবা
খ) যাঁরা পর্যাপ্ত সম্পত্তির অধিকারী, অথবা দেশে যাঁদের অর্থলগ্নী করা রয়েছে, যার ফলে তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন প্রার্থীদের পূর্বপুরুষ, যোগ্যতার ব্যাপারে অবগত হবার তীব্র ইচ্ছা জাগতে পারে, যাতে করে তাঁরা সার্থক প্রতিনিধি বাছাই করতে পারেন।

নির্বাচন: প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ

১০৯) দ্বিতীয় প্রশ্নের ব্যাপারে বলা যায়, যে মূল ভিত্তির ওপর পরোক্ষ নির্বাচনকে সমর্থন দেয়া যায়, সেটি হলো, সকলের ভোট প্রয়োগের ফলে যে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ ঘটেতীক্ষ্ণতর দায়িত্ববোধসম্পন্ন লোকজনদের মধ্যে চূড়ান্ত পছন্দ সীমিত রেখে তা এটি কিছু পরিমাণে কমিয়ে দেয়। এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো, ভোটাররা স্বভাবসুলভভাবে নিজেদেরই সরাসরি নির্বাচন করার অধিকার থাকার বদলে প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকারসম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে নির্বাচন করার অধিকার নিয়ে সন্তুষ্ট হবে না। খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের, যেমন রাষ্ট্রপতিপ্রধান সরকারব্যবস্থার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধান, অথবা তাঁর ডেপুটি নির্বাচনের ব্যাপারে এ ধরণের অসন্তুষ্টি প্রকটতর হবে বলেই আমাদের ধারণা। ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট, যাঁর উদ্ধৃতি অধ্যায় তিনে এরই মধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী:
রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব “শুধুই প্রশাসনিক পদবী নয়”, বরং “সবার আগে এই পদবী হচ্ছে [রাষ্ট্রের] নীতিগত নেতার স্থান”…

একই অধ্যায়ে আমরা আমাদের দেশে রাষ্ট্রপতিপ্রধান সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির ওপর কী ধরণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হবে সেটাও উল্লেখ করেছি। যেমনটি হার্বার্ট মরিসন তুলে ধরেন, তিনি হচ্ছেন একইসঙ্গে রাষ্ট্রের প্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং পার্টির নেতা। যে ধরণের বিশাল দায়িত্ব তাঁকে পালন করতে হবে, সেটি থেকে তাঁকে কিছুটা ভারমুক্তি দেয়ার ব্যাপারেও আমরা উল্লেখ করেছি। আমাদের মনে হয়, রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর ডেপুটির যতদূর পর্যন্ত সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা বিবেচনায় রেখেই, আমরা যে ধরণের সরকারব্যবস্থা প্রস্তাব করছি, তার অধীনে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন প্রত্যক্ষ হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। যখন আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চালু করছি যেখানে কেবল একজন ব্যক্তিই সকল দায়িত্বের কেন্দ্রে থাকবেন, এবং সে ব্যক্তি জনসাধারণকে প্রভাবিত করবে এমন প্রশাসনের সাথে সরাসরি যুক্ত প্রধান কর্মকর্তা হবেন, সে ব্যক্তির জনগণের আস্থাভাজন হওয়াটা প্রয়োজনীয়, এবং সে আস্থা কেবলমাত্র প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই আসতে পারে। যেহেতু উপ-রাষ্ট্রপতি পদাধিকার এবং মর্যাদায় রাষ্ট্রপতির ঠিক পরেই, এবং সময়ে সময়ে তাঁকেও রাষ্ট্রপতির হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাঁরও প্রত্যক্ষভাবেই নির্বাচিত হওয়া উচিত বলে আমাদের মনে হয়, এবং আইন প্রণয়নকারী সংস্থার সদস্য নির্বাচনের ব্যাপারেও আমরা একই মত পোষণ করি। আইন প্রণয়নকারী সংস্থার সদস্যদের কী ধরণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয় তা আমরা তৃতীয় অধ্যায়ে তুলে ধরেছি। তাছাড়াও, রাষ্ট্রের প্রধান এবং আইন প্রণয়নকারী সংস্থার মধ্যে দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা কমিয়ে আনার উপায় হিসেবে, উভয়ই একই সময়ে একই নির্বাচকমণ্ডলীর দ্বারা নির্বাচিত হওয়াটা কাম্য। সুতরাং, আমাদের বিবেচনায়, রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, লোকসভা এবং প্রাদেশিক বিধানসভার সদস্যরা সকলেই প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত হওয়া উচিৎ।

 

<2.014.121>

 

মৌলিক গণতন্ত্র

১১০) প্রস্তাবনা অনুসারে মৌলিক গণতন্ত্র থাকা উচিৎ ইলেকটোরাল কলেজের অধীনে, পাশাপাশি নির্বাচন প্রত্যক্ষ হওয়া উচিৎ বলে আমাদের যে উপসংহার, সব মিলিয়ে আমরা নিম্নোক্ত সমস্যার উপস্থিতি অনুভব করছি। এ ব্যবস্থার অধীনে, যে নীতি অনু্যায়ী রাষ্ট্রপ্রধান এবং আইন প্রণয়নকারী সংস্থার সদস্যদের নির্বাচনের অধিকার থেকে একজন সাধারণ পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিকে বিরত রাখা হয়, সেটি হলো, তার পক্ষে বিভিন্ন প্রার্থীদের মধ্যে, যাঁরা তার এলাকার বাইরে বাস করেন (যাঁদের আওতা এ ব্যবস্থাধীনেএলাকাভিত্তিতে এবং এলাকার বাসিন্দাসংখ্যা অনুযায়ী সীমাবদ্ধ করা হয়েছে) পার্থক্য করা সম্ভব হয় না। এ দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে যে কারণটি দেয়া হয়, তা হলো, একজন সাধারণ পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি কেবলমাত্র সে সব ব্যক্তিদের মধ্যেই [এক বা একাধিকজনকে] নির্বাচন করতে সক্ষম, যাদের কাছাকাছি সে বাস করে, কারণ ধরে নেয়া যেতে পারে যে সে সেই ব্যক্তিদের ব্যক্তিগতভাবে চেনে, অথবা তার প্রতিনিধিত্ব করার ব্যাপারে সেই ব্যক্তিদের সক্ষমতার ব্যাপারে সে ব্যক্তিগতভাবে অবগত হতে পারে। অবশ্য মৌলিক গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচনে দাঁড়ানো প্রার্থীদের কোন শিক্ষাগত বা অন্যান্য যোগ্যতার সীমা রাখা হয় নি। সেজন্য, এসব ছোট ছোট নির্বাচনী এলাকার যে কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি, যিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসীর আস্থা অর্জন করতে পারেন, তিনি নির্বাচিত হবেন। এ ধরনের ক্ষেত্রে, আমরা এটা বুঝতে পারি না – একজন ব্যক্তি, যিনি উক্ত এলাকার একজন সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কের চেয়ে বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন নাও হতে পারেন, শুধুমাত্র সেই এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আস্থাভাজন হওয়ার কারণেই কীভাবে রাষ্ট্রপতি পদ, উপরাষ্ট্রপতি পদ, আইন প্রণয়নকারী সংস্থার সদস্যপদ – এসব পদে প্রার্থীদের ব্যাপারে বিচার বিবেচনায় যোগ্য হতে পারেন। একজন ব্যক্তি নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় প্রয়োজন বিবেচনায় কার্যক্ষম হতে পারেন, কিন্তু তাঁকে যারা নির্বাচন করেছে, তিনি তাদের মতোই রাষ্ট্রপতি এবং সংসদ সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে অক্ষম হয়ে থাকতে পারেন।এর মধ্যেই বলা হয়েছে, পরোক্ষ নির্বাচনের সুবিধা এই যে, এটি সর্বশেষ পছন্দের অধিকার সীমিত সংখ্যক নির্বাচিত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে সর্বজনীন ভোটাধিকারের ফলে উদ্ভুত অজ্ঞতাপূর্ণ ফলাফল আসার সম্ভাবনাকে দূর করে। এটি ধরে নেয় যে সকলের ভোটাভুটির মাধ্যমে যে নির্বাচকমণ্ডলী তৈরি হবে, তাঁরা এমন যোগ্যতাসম্পন্ন হবেন যে, একজন গড়পড়তা পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির অজ্ঞতাসম্ভূত মতামত দেয়ার সম্ভাবনাকে সাফল্যের সাথে দূর করা যাবে। কিন্তু এ আদর্শ একজন গড়পড়তা মৌলিক গণতন্ত্রীর পক্ষে অর্জন করা সম্ভব, এমনটা বলা সম্ভব নয়। মৌলিক গণতন্ত্রের অধীনে প্রার্থীদের ওপর কোনরকম উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা চাপিয়ে দেয়া কার্যকর নয়, কারণ এ পরিকল্পনার অধীনে নির্বাচনী এলাকাগুলো অনিবার্যভাবে খুবই সীমাবদ্ধ হতে হবে, ফলে অনেক নির্বাচনী এলাকা থেকেই ন্যুনতম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন এবং নির্বাচনে প্রার্থিতার উপযোগী কোন ব্যক্তিকে আমরা নাও পেতে পারি। যদি অন্য নির্বাচনী এলাকা থেকে ব্যক্তিদের প্রার্থিতার সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে এ পরিকল্পনার প্রধান যে নীতি, একজন গড়পড়তা প্রাপ্তবয়স্ক নির্বাচক কেবল তাদের মধ্যে থেকেই নির্বাচন করতে সক্ষম, যাদের সাথে সে চলাফেরা করে অথবা যাদের সাথে তার পরিচিত হওয়ার ব্যাপারে আশা করা যায়, সেটি লঙ্ঘিত হবে। কিন্তু আবার, একজন গড়পড়তা পূর্ণবয়স্ক, যে রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি এবং সংসদসদস্য নির্বাচনের অনুপযোগী, সে স্বভাবসুলভভাবেই নিজের স্থানীয় প্রয়োজনের দেখাশোনা করার জন্য একজন প্রতিনিধি নির্বাচন করা নিয়েই বেশি সচেষ্ট থাকবে, এভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যে রাষ্ট্রপতি এবং সংসদ সদস্যদেরও নির্বাচন করতে হবে, এটা তাঁর মূখ্য বিবেচনায় থাকবে না। মৌলিক গণতন্ত্রের অধীনস্থ নির্বাচককে এটা জানানো যে তাদের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতি এবং সংসদ নির্বাচনও করতে পারে, এ সাধারণ তথ্যটিও তার মধ্যে সাধারণত অতটা আগ্রহের জন্ম দেবে না, কারণ সে নিজে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, দ্বিতীয়ত, সে নিজেও বাস্তবিকই এবং এ পরিকল্পনার পূর্বানুমান অনুযায়ী মূখ্যত শুধুই তার স্থানীয় ঘটনাবলী নিয়েই আগ্রহী থাকবে। যদিও আমরা যেমনটা উপরে উল্লেখ করেছি, একজন রাষ্ট্রপতি দেশ পরিচালনায় কী ধরণের ভূমিকা পালন করে থাকেন তা নিরীক্ষাপূর্বক প্রত্যক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা আমাদের মূখ্য বিবেচনায় রয়েছে। যেহেতু তিনিই সরকার এবং দুঃখ-দুর্দশার সমাধান ও সমস্যার প্রতিকারের আশায় জনগণ স্বাভাবিকভাবেই তাঁর দিকেই তাকিয়ে থাকবে, তাঁর উপর সে জন্য জনগণের আস্থা থাকা উচিৎ, এবং যেমনটা আমরা ইতোমধ্যেই বলেছি, এ আস্থা কেবলমাত্র ইতোমধ্যে প্রদর্শিত কারণে সীমাবদ্ধ ভোটাধিকারের প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেইআসতে পারে

<2.014.122>

 

১১১) মৌলিক গণতন্ত্র পরিকল্পনাটি অবশ্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং খুবই উপকারী, যতক্ষণ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার এর সাথে সম্পৃক্ত থাকে। যাঁরা মৌলিক গণতন্ত্রের ইলেকটোরাল কলেজ গঠন করার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধাচারণে আপাতদৃষ্টিতে আরো জোর আরোপ করতে, এ পরিকল্পনার গুরুত্ব খর্ব করেছিলেন এই বলে, মৌলিক গণতন্ত্র স্থানীয় স্বশাসিত সরকারের পথে প্রাথমিক ধাপ মাত্র। তাঁদের পক্ষ থেকে একটা ঝোঁক ছিল “পরিকল্পনাটি পূর্ব পাকিস্তানের পুরাতন ইউনিয়ন বোর্ড ব্যবস্থার তুলনায় ভালো নয়” এরকম উদ্দেশ্যহীন মন্তব্যের দ্বারা এ পরিকল্পনাকে পাশে ঠেলে দেয়ার। আমাদের মতে, মৌলিক গণতন্ত্র পরিকল্পনাটি প্রাক্তন ইউনিয়ন বোর্ডের তুলনায় স্থানীয় সরকারের আরো উন্নত ব্যবস্থা। এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য বেশ মৌলিক। উদাহরণস্বরুপ, পূর্ব পাকিস্তানের ইউনিয়ন বোর্ড, যদিও তাদের বেশ কয়েকটি দায়িত্ব ছিল, তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল মূলত গ্রাম্য পুলিশের সাথে। সেসব বোর্ডের সদস্যদের কখনো প্রশিক্ষণ দেয়া হতো না, এমনকি সরকারের সাংগঠনিক ব্যবস্থার সাথেও তাদের খুব বেশি ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল না। তাদের আর্থিক উৎসও ছিল খুবই সীমাবদ্ধ। কিন্তু মৌলিক গণতন্ত্র পরিকল্পনাধীনে, উন্নয়ন এবং উন্নয়নবহির্ভূত উভয় রকম কর্মকাণ্ডেই বেসরকারী সদস্য এবং সরকারের বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় থাকবে। আমাদের মতে, সর্বসাধারণ জনগণকে সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিজস্ব দরকারগুলোর ব্যবস্থাপনা করার কলাকৌশল শেখাতে এ ব্যবস্থা বিশাল সুবিধা বয়ে আনবে। আমরা “স্থানীয় সরকার” শিরোনামে এ পরিকল্পনাটিকে সংবিধানে যোগ করতাম, যদি এমন না হতো যে, পরিকল্পনাটির কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সাথে সাথে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তনের কারণে সংবিধানে সংশোধনী আনার প্রয়োজন পড়বে। এ কারণে আমরা এটিকে কেবলই একটি অস্তিত্বশীল আইন হিসেবেই গণ্য করবো। অবশ্য সাম্প্রতিক অধ্যাদেশ অনুসারে আমরা মৌলিক গণতন্ত্রের ওপর বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা ন্যস্ত করাকে অনুমোদন করছি, এমনভাবে যেন আমাদেরকে বোঝা না হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, এ ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করছে কর্মকর্তারা কতটুকু সহযোগিতা করেন তার ওপর। আমরা মৌলিক গণতন্ত্রের অধীনস্থ কয়েকজন সদস্যের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম, সেগুলোর কয়েকটির রেকর্ডও আমরা খতিয়ে দেখেছি, এবং আমাদের মত এই যে, চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা যাদের সাথে আমরা কথা বলেছি, তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের ব্যাপারে বেশ উৎসাহী, কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সেসব কর্মকর্তাদের, যাঁদের তাদের সাথে কাজ করার কথা ছিল, তাঁদের কাছ থেকে সত্যিকারের সহযোগিতা না পায় তাহলে এ পরিকল্পনা সফল হওয়া সম্ভব নয়…

নির্বাচকমণ্ডলী: যৌথ বা গোত্রভিত্তিক

১১২) …

১১৩) এ বিষয়ের ওপর মতামতগুলো অনুসারে, ৫৫.১% ব্যক্তি যৌথ নির্বাচকমণ্ডলীর পক্ষে, যেখানে সংখ্যালঘুর জন্য কোন সংরক্ষিত আসন থাকবে না, অন্যদিকে ১.৩% ব্যক্তি তফসিলভুক্ত গোত্রের জন্য সংরক্ষিত আসনের পক্ষে, ১.৬% ব্যক্তি সকল সংখ্যালঘুর জন্য সংরক্ষিত আসনের পক্ষে; অন্যদিকে গোত্রভিত্তিক নির্বাচকমণ্ডলীর পক্ষে ৪০.২%; ৪% তফসিলভুক্ত গোত্রের জন্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাযুক্ত গোত্রভিত্তিক নির্বাচকমণ্ডলীর পক্ষে; ২% পূর্ব পাকিস্তানে যৌথ নির্বাচকমণ্ডলী এবং পশ্চিম পাকিস্তানে গোত্রভিত্তিক নির্বাচকমণ্ডলীর পক্ষে, অন্যদিকে ৭% অমুসলিমদের ভোটাধিকার দেয়ার বিপক্ষে। সর্বশেষ মতামতটি আমরা কোনরকম দ্বিধা ছাড়াই বর্জন করতে পারি, কারণ এটি একটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতে গঠিত।
(পৃষ্ঠা ১২২ সমাপ্ত)

 

<2.014.123-127>

 

যারা এই ধারণা পোষণ করছেন, তারা অমুসলিমদের কথা ভাবছিলেন যারা অতীতে মুসলমানদের কর্তৃক বিজিত হয়েছিল এবং যাদের মিলিটারি সার্ভিস থেকে অব্যহতি দিয়ে এক বিশেষ ধরণের করারোপ করা হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে চুক্তিনুসারে এরকম কোন বিভাজন করা হয়নি। ইসলামের আরেকটি মূলনীতি হল, যখন কোন ব্যাক্তি অন্য কারো সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে হয়, তখন সে ব্যাক্তিকে ঐ চুক্তির সকল শর্ত মেনে চলতে হবে, অপর ব্যক্তি যে ধর্মেরই মানুষ হোক না কেনো। পাকিস্তানও এই নীতিতে অটুট আছে। অনেকে মতামত পোষণ করেন,অমুসলিমদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। ইসলামে, ইসলামের শত্রুদেরও সুযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও অনেকে এধরণের মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। তাই আমাদের এ বিষয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা উচিত।

১১৪) এটা অস্বীকার করা যায় না যে পাকিস্তান ইসলাম ভাবাদর্শের ভিত্তিতে গঠিত, এর সাথে কারোও দ্বিমত থাকা উচিত নয় যে, পাকিস্তানের দু অংশের মধ্যে বিদ্যমান প্রধান বন্ধনই হল এটি। এটি কোন ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থা হতে পারে না, কারণ ইসলাম একজন মুসলমানের সকল দিককে নিয়ন্ত্রণ করে এমনকি রাজনীতিকে তার আওতা বহির্ভূত থাকতে দেয় না। এই কথাগুলো ধর্মনিরেপক্ষ সংবিধান বিশিষ্ট দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যে মুহূর্ত থেকে বলা হচ্ছে, পাকিস্তান ভাবাদর্শ সম্পন্ন তখন থেকে পাকিস্তান আর ধর্মনিরপেক্ষ নয়।বৃহৎ দৃষ্টিভঙ্গিততে ঈশ্বরতন্ত্র হল, ঈশ্বরের নামে কোন যাজক/পুরোহিত দ্বারা রাজ্য পরিচালনা করা। কিন্তু ইসলামে কোন যাজকসম্প্রদায় নেই এবং আমরা শুধুমাত্র সরকারের প্রতিনিধি মাত্র।তাই, আমরা শুধুমাত্র এই অর্থে ঈশ্বরতান্ত্রিক যে, আমদের সকল আস্থা ও বিশ্বাস ঈশ্বরের হাতে সমর্পিত। এই বিষয়ে পাকিস্তানের কোন অমুসলিম সন্দেহ প্রকাশ করবে না। যারা সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিতে সমাজে একটি শ্রেনী তৈরি করতে আগ্রহী ইসলামের বিরুদ্ধে রচিত মিথ্যাচার বিশ্বাস করে তাঁদের ভীত হওয়া উচিত নয়। কিছু অতি উৎসাহী মুসলমান যে উগ্রবাদী ও কাল্পনিক বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে মনে হতে পারে, অমুসলমানরা একটি ইসলাম ভাবাপন্ন দেশে চরম দুর্দশায় আছেন। অথচ ইসলামের মূলভিত্তি পবিত্র কোরানে সকল ধরনের মানুষের অধিকারের কথা উল্লেখ করা আছে। তবে এটি সন্দেহাতীত যে, যারা পাকিস্তানের প্রতি অনুগত এবং যারা অনুগত নয়, তাদের মধ্যে বিভাজন করা হচ্ছে। তবে দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় আছে। ইতিহাস যখন পৃথিবীর অন্য সময় বা অন্য ইসলামপ্রধান দেশে অমুসলিমদের উপর ঘটা বিভিন্ন দৃষ্টান্ত নিয়ে হাজির হতে পারে। এটা সত্যি যে, পূর্বে মুসলিম রাজ্যে অমুসলিমরা নানা হামলার শিকার হয়েছিল, কিন্তু সেগুলোর বেশিরভাগই রাজনৈতিক কারণে হয়েছিল। কিন্তু যেসব মানুষ মুসলিম শাসকদের প্রতি অনুগত ছিল না তাদের চেয়ে অমুসলিমদের প্রতি মুসলমান শাসকেরা অনেক বেশি সহনশীল ছিল। পাকিস্তানের সংখ্যালঘুরা যথেষ্ট ভালোই আছে, এখানে তাদের অধিকার ও স্বাধীনতায় কোনরূপ হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। ক্যান্টওয়েল স্মিথ “ইসলাম ইন মডার্ন হিস্ট্রি” বইয়ে উল্লেখ করেছেন- কোন দেশে সংখ্যালঘু বা ক্ষমতার বাইরের শক্তি কতটুকু সুযোগ সুবিধা পাবে, সেটা নির্ভর করে ক্ষমতাসীন শক্তির আদর্শের উপর। শুধুমাত্র সংবিধানে কিছু অধিকার সংযুক্ত করে কিংবা একটি দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে ঘোষণা করে, সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ করার নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। পাকিস্তানের কোন সংখ্যালঘু, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর জুলুমের স্বীকার হয়েছেন,এরকম কোন অভিযোগ করতে পারবে না। সংখ্যালঘুরা নিরাপদ বা অনিরাপদ যাই বোধ করুক না কেনো, সেটা নির্ভর করে সংখ্যালঘু মানুষের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির উপর। পাকিস্তানের কোন অমুসলিম মানুষ, দৃঢ়ভাবে দাবি করতে পারবে না যে, পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেণীর মানুষ তাদের প্রতি বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করেনি।

১১৫) সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ করা আমাদের কর্তব্য হয়ে পড়েছে। আমাদের যুক্ত থাকা উচিত নাকি আলাদা হওয়া উচিত এই বিষয়ে তাদের মতামতকে বিবেচনায় রাখা দরকার। অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন- বিশেষত যে দেশের বেশিরভাগ মানুষই ধর্মভীরু এমন একটি দেশের সংখ্যালঘুরা পৃথক ইলেক্টরেটের দাবি জানাবেন; পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিসেবে থাকাকালীন সময়ে, যেমনটা আমরা করেছিলাম। যেহেতু ন্যাশনাল এসেম্বলি সর্বশেষ সংবিধান অনুযায়ী কাজ করছে, ১৯৫৬ সালের শেষ দিকে এসে তাদের দাবি একবার মেনে নেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পুরো দেশেই যৌথ নির্বাচকমণ্ডলী গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, এর প্রধান কারণ হল পশ্চিম পাকিস্তানের উঁচুবর্ণের হিন্দুরা যৌথ নির্বাচকমণ্ডলীর পক্ষে ছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রীও তাঁদের অসন্তুষ্ট করতে চাননি। এর সাথে এটাও বিবেচনা করে হয়েছিল যে,পাকিস্তানের দুই অংশে দুই ধরণের নির্বাচকমণ্ডলী থাকা মোটেও সমীচীন নয়। ১৯৫৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল, তাতে মনে হয়- পূর্ব পাকিস্তানের সকল হিন্দুরা যুক্ত নির্বাচকমণ্ডলী এর পক্ষে, কিন্তু পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জি. ডব্লিউ. চৌধুরী পরিচালিত “পূর্ব পাকিস্তানের সাংবিধানিক পুনঃগঠন” এই শিরোনামে যে জরিপ চালানো হয়েছে তাতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, ১৯৫২ সালেই নিচু বর্ণের হিন্দুরা, উঁচু বর্ণের হিন্দুদের চেয়ে পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর দাবি করেছিলঃ

“পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পূর্বে কায়েদে আযম জিন্নাহ বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে, নিচু বর্ণের হিন্দুরা তখন যে পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর দাবি জানিয়ে আসছিল, সে বিষয়ে তাঁর সমর্থন জানিয়েছিলেন। পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের মধ্যে এই নিচুবর্ণের হিন্দুরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, তারা ভেবেছিল পাকিস্তানের সাংবিধানিক পরিষদ তাদের দাবিকে প্রাধান্য দিবে। বিষয়টি আলোচনায় আসে ১৯৫২ সালে, যখন পূর্ব বাংলা নির্বাচন বাকি ছিল এবং দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল যে- ১৯৩৫ এর ধারার মূল বিধান পরিবর্তন করা হোক এবং নিচু বর্ণের হিন্দুরা পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর দাবি করে আসছিল,তাদের সে দাবি মেনে নেওয়া হোক।কিন্তু তাদের এই দাবি স্বাভাবিকভাবেই সাংবিধানিক পরিষদ এ থাকা হিন্দুদের প্রবল বিরোধের মুখে পড়েছিল, কারণ তারা এই দাবিটিকে নিচুবর্ণের হিন্দুদের উপর তাদের কতৃত্ব বজায় রাখার প্রধান অন্তরায় মনে করেছিল। তারা দাবিটিকে হিন্দু সমাজকে বিভক্ত করার চক্রান্ত হিসেবে অবহিত করা শুরু করেছিলেন ।এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পূর্ব বাংলার ষোলটি জেলার মধ্যে দশটি জেলাতে উঁচুবর্ণের হিন্দুর চেয়ে নিন্মবর্ণের হিন্দুর সংখ্যাই বেশি। তা সত্ত্বেও পূর্ব বাংলার সাংবিধানিক পরিষদ এবং রাষ্ট্রীয় আইনপরিষদে নিচু বর্ণের মানুষের প্রতিনিধির সংখ্যা নগণ্য। ১৯৩৫ এর ধারা অনুসারে গঠিত যৌথ নির্বাচকমণ্ডলীর ফলাফলই ছিল এটা। যৌথ নির্বাচকমণ্ডলী পদ্ধতিতে খুব অল্প সংখ্যক নিচুবর্ণের হিন্দুই নির্বাচিত হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারত। ভারতের নতুন নির্বাচন ব্যবস্থায়, ডা: আম্বেদকার বা তাঁর চেয়ে মানে মর্যাদায় ছোট কোন ব্যক্তি পরাজিত হবেন না। কেউ যদি নিজেকে সাংবিধানিক পরিষদ যেখানে উঁচু বর্ণের হিন্দুরা সরব, এর আলোচনায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে; তার মনে হবে সকল হিন্দুরাই যৌথ নির্বাচকমণ্ডলী এর পক্ষে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। পূর্ব বাংলার নিচুবর্ণের হিন্দুরা নিজেদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর দাবি জানিয়ে সাংবিধানিক পরিষদের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের প্রতিনিধি ও স্মারকলিপি পাঠিয়েছে। তারা পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় চায়।”

নিচুবর্ণের হিন্দুদের অবিসংবাদিত নেতা ড. আম্বেদকার এর পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় এর পাশাপাশি হিন্দু সমাজে বিদ্যমান জাতপ্রথা ধারা বিবেচনায় আমরা বলতে পারি ১৯৫২ সালের পর থেকে পূর্ব বাংলার হিন্দু সমাজে তেমন কোন সামাজিক পরিবর্তন আসেনি, এবং এই বিষয়ে নিচুবর্ণের হিন্দুদের মত যে পাল্টেছে সেটা ভাবার কোন কারণ নেই।

এই বিষয়ে জনাব ডি. এন. বারোরি নামের তাঁদেরই আরেক নেতা, যে কিনা একইসাথে এই পরিষদের সদস্য। তিনি মত প্রকাশ করেন তার সমাজের ৯০ শতাংশ মানুষ এখনো পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর পক্ষে, বাকি ১০ শতাংশ মানুষ যৌথ নির্বাচকমণ্ডলী চায়,যদিও ধারণা করা যায় কংগ্রেসের চাপে প্রভাবান্বিত হয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।সর্বশেষ আদমশুমারি অনুসারে দেখা যায় যে, এই নিচুবর্ণের হিন্দুরাই পূর্ব পাকিস্তানের অমুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ, হিন্দু সমাজে বিদ্যমান জাতপ্রথার কারণে সৃষ্ট তাঁদের কিছু সামাজিক অক্ষমতা বিবেচনায় আমরা মনে করি তাঁদের দাবিটি যথার্থ, তাঁদের পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী থাকা উচিত এবং যৌথ নির্বাচকমণ্ডলী কে সমর্থন করে হাউজে তাঁদের প্রতিনিধির সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া উচিত নয়। পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী যৌথ নির্বাচকমণ্ডলীর চায় বলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন,তা সঠিক নয়। যেহেতু বিষয়টি উচ্চমাত্রার নাগরিক ইস্যু এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সাথে নিজেদের যুক্ত করার তীব্র ইচ্ছার কারণে, এক্ষেত্রে আরো বলা হয়েছিল যে, এরকম হওয়ার কারন হল,পূর্বে যখন অবিভক্ত ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর জন্য আবেদন করেছিল, তখন ভারতের হিন্দু জনগোষ্ঠী তাঁদের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছিল। পরিষদের হিন্দু সদস্যরা এ ধরণের কোন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত হবে না বলেই মনে করেছিলেন। যদিও নিজেদের একটি জাতিতে পরিণত করার যে প্রস্তাব তাঁরা দিয়েছে,এতে তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে,কারণ এতে হাউজে তাঁদের প্রতিনিধির সংখ্যা কমে যাবে।আমাদের মনে হয়, স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে অবিভক্ত ভারতের মুসলমানেরা যে দাবি করেছিল, সেটাকে অগ্রাহ্য করার কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের থামতে হয়েছিল। অন্যথায়, সমাজের এ শ্রেণীর সংখ্যালঘুদের মনোভাব বোঝা কঠিন। সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধির পক্ষ থেকে যৌথ নির্বাচকমণ্ডলীর স্বপক্ষে যে বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে- সেটা কংগ্রেসের মতাদর্শকে ধারণ করে বলে আমরা মনে করি। এক্ষেত্রে এটি তাৎপর্যপূর্ণ – যখন মুসলিম লীগের নেতারা যখন ইংগিত করল যে-সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক নেতা একাকি পাকিস্তানে অবস্থান করছে অথচ তাঁদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ভারতে অবস্থান করছে ফলস্বরূপ বোঝা যায় তাঁরা পাকিস্তানের ধারণার বিষয়ে একমত নন। একজন উচুঁ বর্ণের হিন্দু সদস্য বসনিয়া কুমার দাস যখন যৌথ নির্বাচকমণ্ডলী দাবি উত্থাপন করেছিলেন তখন তিনি এই ব্যাপারে অগ্রহণযোগ্য ব্যাখা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তাঁরা তাঁদের সন্তানকে ভারতে রেখে এসেছেন কারণ- পাকিস্তানে তাঁর সন্তানদের চাকুরী পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। “পার্লামেন্টারী ডিবেটস” এর ২০১ পৃষ্ঠা হতে ১৯৫৬ সালের ১০ই অক্টোবরের তাঁর বক্তব্যনুসারে

“……………..যে সকল মেধাবী তরূন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হচ্ছে, পূর্ব বাংলায় নিজেদের ক্যারিয়ার গঠনে কোন পথের সন্ধান পাচ্ছে না। তারা এখানেও কোন চাকুরী পাচ্ছে না। তাঁদের কি এখানে থাকা উচিত, পথে পথে ঘুরে, বিপ্লবী পরিচয়ে ধরা পড়ে জেলে জীবন অতিবাহিত করা উচিত? স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা অন্য কোথাও চলে যাচ্ছে। সারা পৃথিবীর দুয়ার তাঁদের জন্য উন্মুক্ত, যদি চাকুরী পাওয়ার জন্য কোন নাগরিককে দেশের বাইরে যেতে হয়- তবে সেক্ষেত্রে তার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে।” মানুষ এসব কথা শুনেপাকিস্তান স্বাভাবিকভাবে এমনই কিনাজিজ্ঞেস করবে কারণ এসব শুনে মনে হচ্ছে একটি দেশ তার নাগরিকদের চাকুরি দিতে শুধু অক্ষমই নয় অনিচ্ছুক ও,সেখানে দেশটি কিভাবে এক জাতিতে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখে। অন্যদিকে, যদি তিনি বিচক্ষণ হয়ে থাকলে (তার এই গুণ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই) তিনি যে অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন সে অবস্থায় পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর বিষয়ে তার আগ্রহী হওয়া প্রয়োজন কারণ সংখ্যালঘুদের মধ্যে এমন অনেক প্রতিনিধি আছে,যারা পরিষদে দাঁড়িয়ে ঐসব মেধাবী তরুণদের কথা তুলে ধরতে পারবেন,যে তরুনরা পাকিস্তানকে সাহায্য করতে আগ্রহী তবে তারা এখনো কর্মহীন অবস্থায় আছে। কিন্তু অপরদিকে সমস্যা হল, এতে কমিউনিস্ট খেতাব পেয়ে কারাবরণ করার সম্ভাবনা আছে। অতএব ব্যাপারটি এরকম দাঁড়ালো যে, এইসব মেধাবী তরুনরা পাকিস্তানের জন্য কাজ করতে অনাগ্রহী।আমরা হিন্দু সমাজের মানুষের অবস্থা বুঝতে পেরেছি, তারা যোগ্যতা অর্জন করে পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত বৃত্তি নিয়ে ভারতে চলে যাচ্ছে।

এটা নির্দেশ করছে, এসব তরূনদের আমরা আমাদের দেশের চাকুরীক্ষেত্রে পাচ্ছি না, এটার অর্থ এই না যে, তাঁরা এই চাকুরীর জন্য অযোগ্য। তাঁরা এরকম করছে কারণ তাঁরা এই দেশকে সেবা প্রদান করতে অনিচ্ছুক। তাঁরা এখানে সুখী নয়, যেটা ইংগিত করছে- তাঁরা এখনো পাকিস্তান ধারণার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। সর্বশেষ সংবিধান রহিত করার পর পরই – বর্তমান শাসকশ্রেণী যখন আয়কর ফাঁকি এবং আন্তর্জাতিক স্থানান্তর চুক্তি অমান্য করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছিল, তখন ঢাকা হাইকোর্টের এক হিন্দু বিচারক পশ্চিমবঙ্গে বেড়াতে গিয়ে দেশে ফিরতে পারে নি এবং ফলস্বরূপ তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। আরেকজন হিন্দু সিএসপি অফিসার, পশ্চিম পাকিস্তানে বদলী হয়েছিলেন, তিনি দেশত্যাগ করেছিলেন এবং ভারতে স্থায়ী হয়েছিলেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এসব মানুষ যতক্ষণ মনে করবে- তাঁদের পরিবার পাকিস্তানে সুখী হতে পারবে না, ততক্ষণ আমাদের ভালো ও খারাপ দিক থাকা সত্তেওএকটিমাত্র নির্বাচকমন্ডলী মেনে নিয়ে তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সাথে একীভূত হতে চাইবে- এ কথা ভাবা উচিত নয়।প্রথম অধ্যায়ে আমরা যেমনটা উল্লেখ করেছি- পূর্ব পাকিস্তানের রাজ্য সরকার কিভাবে আইনসভার হিন্দু সদস্যদের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। চোরাচালান এর বিরুদ্ধে চলা “রুদ্ধদ্বার অপারেশন” এতোটাই সফল ছিল যে, এক মাসের মধ্যে এক কোটি রূপির ও বেশিমূল্যের জিনিস জব্দ করতে সমর্থ হয়েছিল, কিন্তু আইনসভার ঐ হিন্দু সদস্যদের বিরোধীতার কারণে এই অভিযান বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। এই বিষয়টি ঐ শ্রেনীর মানুষ-( যাদের প্রতি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধাশীল ছিলেন) এর প্রকৃত নাগরিকাধিকার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এই অবস্থায়, যৌথ নির্বাচকমণ্ডলীর দাবিটি পাকিস্থানের কল্যাণ কামনার চেয়ে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। কয়েকজন সাক্ষী, যখন এই বিষয়ে কথা বলছিল, তখন তারা বলেছিল যে- পাকিস্তানে যে উঁচু বর্ণের হিন্দুরা আছে, তাঁদের বেশিরভাগই, তাঁদের পরিবারকে পশ্চিমবঙ্গে রেখে এসেছে। ভারতের সে অংশের প্রভাবে, তাঁদের দাবিও প্রভাবিত হচ্ছে। তাঁরা পাকিস্তানের নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। শুধুমাত্র,কয়েকজন মানুষের মতামতের ভিত্তিতে, আমাদের কোন সিদ্ধান্তে আসা উচিত নয়। এসেম্বলির বিতর্কে, যৌথ নির্বাচকমণ্ডলী দাবির পেছনে যে যুক্তিসমূহ তুলে ধরা হয়েছে, তার মধ্যে একটি হল- পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিমপ্রধান দেশেও যৌথ নির্বাচকমণ্ডলী বিদ্যমান। তবে এইখানে একটি বিষয় হয়তো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, একজন সরকারদলীয় প্রতিনিধি, একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ঐ সমস্ত দেশকে একটি বার্তা দিয়ে দিতে পারে। সংখ্যালঘুরা যারা এইখানে শতাব্দীকাল ধরে এই দেশের নাগরিক হিসেবে বসবাস করে আসছে- তাদের বাইরের কোন কোন নির্দেশনার প্রয়োজন নেই। তাঁরা এইখানে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তাঁদের পরিবার নিয়ে বাস করব আসছে এবং তাঁদের তরূণ প্রজন্ম দেশের সেবা করে আসছে। কিন্তু পাকিস্তানের উঁচু বর্ণের হিন্দুদের উদ্দেশ্য ভিন্ন এবং আমরা নিশ্চিত যে তাঁরা পা