বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড (অনুবাদসহ)

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড (অনুবাদসহ)

 

 

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ

দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

মুজিবনগর : প্রশাসন

 

 

 

 

 

 

 

অ্যাটেনশন!

 

পরবর্তী পেজগুলোতে যাওয়ার আগে কিছু কথা জেনে রাখুনঃ

 

ডকুমেন্টটি যতদূর সম্ভব ইন্টার‌্যাক্টিভ করা চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ এই ডকুমেন্টের ভেতরেই অসংখ্য ইন্টারনাল লিংক দেয়া হয়েছে। আপনি সেখানে ক্লিক করে করে উইকিপিডিয়ার মতো এই ডকুমেন্টের বিভিন্ন স্থানে সহজেই পরিভ্রমণ করতে পারবেন। যেমন প্রতি পৃষ্ঠার নিচে নীল বর্ণে সূচিপত্র লেখা শব্দটিতে কি – বোর্ডের Ctrl চেপে ধরে ক্লিক করলে আপনি সরাসরি এই ডকুমেন্টের সূচিপত্রে চলে যেতে পারবেন।

 

তারপর দলিল প্রসঙ্গঃ মুজিবনগর-প্রশাসন শিরোনামে কিছু লেখা আছে। এটি যুদ্ধদলিলের ৩য় খণ্ড থেকে সরাসরি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এখানে আপনারা জানতে পারবেন যে এই ডকুমেন্টে আসলে কী কী আছে।

তারপর সূচিপত্র। এখান থেকেই মূল দলিল শুরু। সূচিপত্রটি সরাসরি দলিলপত্র থেকে নেয়া হয়েছে। সূচিপত্রে লেখা পেজ নাম্বারগুলো যুদ্ধদলিলের মূল সংকলনটির পেজ নাম্বারগুলোকে রিপ্রেজেন্ট করে।

 

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ:দলিলপত্রে মোট ১৫ টি খণ্ড আছেঃ

প্রথম খন্ড : পটভূমি (১৯০৫-১৯৫৮)

দ্বিতীয় খন্ড : পটভূমি (১৯৫৮-১৯৭১)

তৃতীয় খন্ড : মুজিবনগর : প্রশাসন

চতুর্থ খন্ড : মুজিবনগর : প্রবাসী বাঙালিদের তৎপরতা

পঞ্চম খন্ড : মুজিবনগর : বেতারমাধ্যম

ষষ্ঠ খন্ড : মুজিবনগর : গণমাধ্যম

সপ্তম খন্ড : পাকিস্তানী দলিলপত্র: সরকারী ও বেসরকারী

অষ্টম খন্ড : গণহত্যা, শরনার্থী শিবির ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা

নবম খন্ড : সশস্ত্র সংগ্রাম (১)

দশম খন্ড : সশস্ত্র সংগ্রাম (২)

একাদশ খন্ড : সশস্ত্র সংগ্রাম (৩)

দ্বাদশ খন্ড : বিদেশী প্রতিক্রিয়া : ভারত

ত্রয়োদশ খন্ড : বিদেশী প্রতিক্রিয়া : জাতিসংঘ ও বিভিন্ন রাষ্ট্র

চতুর্দশ খন্ড : বিশ্বজনমত

পঞ্চদশ খন্ড : সাক্ষাৎকার

 

এটি তৃতীয় খণ্ডের অর্থাৎ মুজিবনগর প্রশাসন সংক্রান্ত দলিলের ইউনিকোড ভার্শন। এই খণ্ডে প্রায় ৭০ পৃষ্ঠা বাংলা দলিলের পাশাপাশি ৮৫০ পৃষ্ঠা ইংরেজি দলিলও রয়েছে। আপনাদের জন্য আমরা সেগুলো অনুবাদ করে দিয়েছি।

 

এই ডকুমেন্টে প্রতিটি দলিলের শুরুতে একটা কোড দেয়া আছে।

<খণ্ড নম্বর, দলিল নম্বর, পেজ নম্বর>

অর্থাৎ <৩,২১৬,৬২৭> এর অর্থ আলোচ্য দলিলটি মূল সংকলনের ৩য় খণ্ডের ২১৬ নং দলিল, যা ৬২৭ নং পৃষ্ঠায় মুদ্রিত আছে। দলিল নম্বর বলতে সূচিপত্রে উল্লিখিত নম্বরকে বুঝানো হচ্ছে। আপনারা বুঝার সুবিধার্থে দলিলের পিডিএফ কপির একটি ছবি দেখে নিনঃ

 

 

এই ফাইলটি আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলে সংরক্ষিত করা থাকলে ভবিষ্যতে আপনি মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত যে বিতর্কিত কোন ইস্যু সম্পর্কে অত্যন্ত সহজে দলিলপত্রের রেফারেন্স দেখাতে পারবেন। আপনার নিজের এলাকার ঘটনাবলি জানতে পারবেন। কোনদিন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্ট্যাটাস বা অন্যকিছু লিখতে ইচ্ছা হলে এখান থেকে সরাসরি কপি করে সহজেই লিখতে পারবেন।

 

মনে করুন, ২৬ শে মার্চ উপলক্ষে আপনি কোন ম্যাগাজিনে একটি লেখা দিবেন। এই ফাইলে তখন ২৬ শে মার্চ লিখে সার্চ দিলেই ৪র্থ খণ্ডের সেই সংক্রান্ত সকল দলিল পেয়ে যাবেন। ফলে রেফারেন্স নিয়ে লিখতে আপনার খুবই সুবিধা হবে। কারণ আমাদের মূল উদ্দেশ্য একটাই। আমরা যেন সঠিক ইতিহাস চর্চা করে বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্ম হয়ে উঠি। এটা আমাদের নিজেদের জন্যেই অত্যন্ত প্রয়োজন। যে জাতি নিজের জন্মের ইতিহাস জানে না, সে জাতির চেয়ে দুর্বল সত্ত্বা পৃথিবীতে আর কিছু নেই।

 

মনে করুন, আপনি নিজের এলাকা নিয়ে জানতে চান। তবে নিজের এলাকার নাম লিখে এই ডকুমেন্টে সার্চ করুন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি মিরপুর এলাকার হলে Ctrl+F চেপে “মিরপুর” লিখে সার্চ করুন। ৩য় খণ্ডের মিরপুর নিয়ে সকল দলিল আপনার সামনে চলে আসবে। দেশকে জানার প্রথম শর্তই হলো নিজের এলাকাকে জানা।

 

আপনি চাইলে নিজের সুবিধামতো ডকুমেন্টটিকে সহজেই কয়েক ভাগে কপি করে ভাগ করে আলাদা আলাদা ডকুমেন্ট তৈরি করতে পারেন। মনে করুন, আপনি স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে জানতে আগ্রহী। তখন ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ লিখে সার্চ করে প্রাপ্ত সকল দলিলে স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত অংশ কপি করে আলাদা ফাইল তৈরি করুন। পড়তে, বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতে অনেক সুবিধা হবে।

 

মনোযোগ দিয়ে সারসংক্ষেপটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এবার বিস্তারিত।

 

 

 

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

দলিল প্রসঙ্গঃ মুজিবনগর-প্রশাসন

মুজিবনগর সরকারের দলিলপত্র সংগ্রহ করা অত্যন্ত দুরহ কাজ ছিল, কারণ এসব দলিল সংরক্ষণের জন্য কোন মহাফেজখানা সৃষ্টি করা হয় নি। একই সাথে সরকারী দলিল-দস্তাবেজ ঢাকায় আনায়নের দায়িত্বও কোন একক প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার ওপর অর্পণ করা হয় নি। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি বিচ্ছিন্নভাবে এসব দলিলপত্র নিয়ে আসেন এবং সব দলিল সংগ্রহের কেন্দ্রীয় দায়িত্ব কারও হাতে না থাকায় অনেক দলিলপত্র নষ্ট হয়ে যায়। অতএব, সংগ্রহের ব্যাপারে আমাদের প্রধানভাবে নির্ভর করতে হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংগৃহীত তথ্যাদি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নিজস্ব সংগ্রহের উপর। বলাবাহুল্য, এর উপর ভিত্তি করেই সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।

 

১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ সরকার-এর আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা হয়। কিন্তু এর পূর্বেকার স্বাধীনতার ঘোষণাসমূহ এবং বিভিন্ন আবেদনগুলিও গ্রন্থে সংযোজিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের ভাষণগুলি যথাসম্ভব সংযোজিত হয়েছে।

 

মুজিবনগর সরকারের মূল যে কয়েকটি বিভাগ ছিল, যথা- অর্থ, স্বরাষ্ট্র, সাধারণ প্রশাসন, তথ্য ও প্রচার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং কেবিনেট মন্ত্রণালয়- এসবের বিভিন্ন দলিলপত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এ খণ্ডে। সমস্ত মন্ত্রণালয়ের আনুপাতিকভাবে সমসংখ্যক দলিলপত্র না পাওয়াতে দলিল সন্নিবেশের ক্ষেত্রে হয়তো কিছু কিছু ফাঁক বা ঘাটতি থেকে গেছে এবং তথ্য- স্বল্পতার অনিবার্য পরিস্থিতিতেও যাতে একটি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনারত একটি জাতীয় সরকারের পূর্ণ অবয়ব ফুটে ওঠে, দলিল সন্নিবেশকালে আমরা সে চেষ্টার ক্রুটি করি নি।

 

মুজিবনগর সরকারের শাখা-দপ্তরসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আঞ্চলিক প্রশাসনিক জোনসমূহ, যার অধীনে বিভিন্ন এলাকা পরিচালিত হত। এইসব জোনের অধীনে শরণার্থী শিবির এবং যুব ক্যাম্প উভয়ই পরিচালিত হত। মুজিবনগর সরকারের বিভিন্ন জোনগুলির মাধ্যমে জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা হত। এই জন্য জোন প্রশাসনের দলিলের জন্য একটি আলাদা বিভাজন করতে হয়েছে।

 

যুব ত্রাণ এবং যুব অভ্যর্থনা শিবিরগুলি থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের রিক্রুট করা হত। অতএব, কীভাবে এই কাজ সম্পন্ন করা হত উপস্থাপিত দলিল থেকে এ বিষয়ের একটি চিত্র পাওয়া যাবে। মুজিবনগর সরকারের বিজয়ের পর কী ধরণের রাষ্ট্র- কাঠামো প্রতিষ্ঠার চিন্তা ছিল তার পরিচয় পাওয়া যাবে পরিকল্পনা বোর্ডের দলিলের মধ্যে। তাছাড়া বিভিন্ন দলিলে বিশেষ করে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের দলিলপত্রসমূহে এই চিত্র আরও বিশদভাবে ফুটে উঠবে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দলিলদমূহ একত্র করে একটি আলাদা বিভাজন করা হয়েছে এইজন্য যে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক অংশ। এই অংশে দলিলপত্রের সঙ্গে কিছু কিছু প্রচারমূলক তথ্যাদিও সংযোজিত করা হয়েছে, যথা- ‘বাংলাদেশ এ ওয়ার্ল্ড কমেন্ট্রি’ (পৃষ্ঠা ৭৯৬) এবং ‘দ্য কেস ফর বাংলাদেশ’ (সেপ্টেম্বর ১৯৭১, পৃষ্ঠা ৮২৯)

 

সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অন্যান্য দেশের মধ্যে যে চিঠিপত্র বিনিময় হয়েছে, সেসবও এখানে সংযোজিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম ডাকটিকিট সংক্রান্ত দলিলপত্র নিয়ে একটি পরিশিষ্ট প্রকাশ করা হয়েছে।

 

এ খণ্ড সন্নিবেশকালে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংগৃহীত হয়, যেগুলোতে দুর্ভাগ্যবশত কোন তারিখ ছিল না। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সরকার কর্তৃক প্রকাশিত স্বাধীনতা যুদ্ধ লিফলেট (পৃষ্ঠা ৩২২ থেকে ৩৩৪) ছাড়া অন্যান্য সরকারী দলিলেও অন্তর্ভুক্ত। যথা ‘যুব প্রশিক্ষণ কর্মসূচী ও সিলেবাস’ (৩৩৫ পৃষ্ঠা), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান (পৃষ্ঠা ৮৯২) ও অন্যান্য। এগুলো যথাসম্ভব একত্র করে বিভিন্ন বিভাজনে প্রকাশ করা গেল। এখানে একটি দলিলের (১৩৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য) সন্নিবেশগত ত্রুটি রয়ে গেছে যা উল্লেখ না করলেই নয়। এটি সেপ্টেম্বর মাসের না হয়ে ডিসেম্বর মাসের দলিল হিসেবে বিবেচ্য।

 

-হাসান হাফিজুর রহমান

সম্পাদক।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

সূচিপত্র

ক্রমিক নং বিষয় পৃষ্ঠা

অনুবাদকের নাম ও

অনুবাদ করা পৃষ্ঠা নং

প্রথম অধ্যায়

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বেসামরিক প্রশাসন

০১ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রচারিত স্বাধীনতার ঘোষণা অতপরঃ সাবেরি(১-২)
০২ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান কতৃক স্বাধীনতার ঘোষনা ‘’
০৩ পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের গণহত্যা রোধে এগিয়ে আসার জন্য জাতিসংঘ ও বৃহৎ               শক্তিবর্গের প্রতি মেজর জিয়ার আহবান ইয়াসির আরেফিন (৩-৪)
০৪ স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ‘’
০৫ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আইন বলবৎকরণ আদেশ জারি                                                                           ফাইরোজ মালিহা অপরুপা (৬)
০৬ বাংলাদেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ-এর ভাষণ                                                          
০৭ বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভা গঠন                                                                                                         ১৩ আবীর এম.আহম্মেদ (১৩-১৪)
০৮ জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ ১৫ ‘’
০৯ জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশাবলী ১৬
১০ অস্থায়ী সরকার কর্তৃক মুক্তিবাহিনীর পুর্নগঠনঃ কর্নেল ওসমানীকে সর্বাধিনায়ক পদে নিয়োগ ১৯ সুচয়ন চাকমা কিংশুক (১৯-২৩)
১১ বাংলাদেশ সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর তাজউদ্দীন আহমদ-এর ভাষণ ২১ ইকবার মাহমুদ অনিক (২৪)
১২ কলিকাতাস্থ পাকিস্তানী ডেপুটি হাইকমিশনারের বাংলাদেশের পক্ষাবলম্বন ৩০ মোহাম্মদ তামিম (২৫-৩০)
১৩

বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বহির্বিশ্ব ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের বিশেষ          

প্রতিনিধি নিয়োগ।

৩৩ ইলিয়াস কমল (৩১-৩৩)
১৪ অস্ত্র সাহায্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের আবেদন ৩৪ কাজী ফারজানা(৩৩-৩৪)
১৫

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টার একটা            

প্রতিবেদন

৩৫

আবীর এম.আহম্মেদ (৩৫-৩৬) আনোয়ার হাসান (৩৭)

কিশোর পলাশ ইমন (৩৮)

কাজী ফারজানা (৩৯)

১৬ বাংলাদেশবাসীর প্রতি সরকারের ৭-দফা নির্দেশাবলি ৪০
১৭ প্রধানমন্ত্রীর ১৮-দফা নির্দেশাবলী ৪২ পুনম শিকদার ( ৪২-৪৩)
১৮ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে একটি সাক্ষাৎকারের বিবরণ ৪৪ জয়া কুন্ডু (৪৪-৪৫)
১৯ নয়াদিল্লীতে প্রেরিত হতে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রীর সাথে একটি সাক্ষাৎকার ৪৬
২০ স্বাধীন বাংলা বেতার হতে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রীর সাথে একটি সাক্ষাৎকার ৪৭ তৌহিদুর রহিম সোহাগ ( ৪৭-৪৯)
২১ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের বক্তৃতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য ৪৮ ‘’
২২ “পাকিস্তানের কাঠামোতে আপোসের প্রশ্নই উঠতে পারেনা”-প্রধানমন্ত্রী ৫০ আবীর এম.আহম্মেদ (৫০-৫৫)
২৩ অল ইন্ডিয়া রেডিও প্রচারিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার ৫১ ‘’
২৪

রাজনৈতিক সমাধানের প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম কর্তৃক ৬ই জুন পেশকৃত                      

চার দফা প্রস্তাব

৫৩ ‘’
২৫

শেখ মুজিবের নিরাপত্তার জন্য বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রবর্গের কাছে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন                      

আহমদের আবেদন।

৫৫ ‘’
২৬ বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের রিপোর্ট                                                                 ৫৬

পুনম শিকদার (৫৬-৫৭)

ইকবাল মাহমুদ অনিক (৫৮-৫৯)

২৭ বিভিন্ন এলাকায় প্রবাসী, সরকারী চাকুরীতে বাংলাদেশবাসীর বেতন সংক্রান্ত চিঠি ৬০ পুনম শিকদার ( ৬০-৬১)
২৮ বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সভার কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্ত ৬২ আফসানা আজমী (৬২-৬৩)
২৯ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির বেতন ভাষণ ৬৪ শুভ সরকার (৬৪-৬৫)
৩০ যুব শিবিরে প্রদত্ত বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি ভাষণ ৬৫ মুবতাসিম মাহবুব অয়ন (৬৬-৬৭)

 

 

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

ক্রমিক নং বিষয় পৃষ্ঠা অনুবাদকের নাম
৩১

সামরিক বিজয়ই সমস্যার একমাত্র সমাধান-প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ঘোষণা, ১৪ই                  

জুলাই

৬৮ রাকেশ বিশ্বাস (৬৮-৬৯)
৩২ বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সভার কার্যকাবিবরণী ও সিদ্ধান্ত ৬৯ ‘’
৩৩

বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক বিধিমালা ও বাজেট বিবরনী-প্রচার, প্রকাশনা,                      

তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের ৬ মাসের খসড়া বাজেট

৭০

বদরুন নাহার লুনা (৭০)

বিপ্লব মুমিন ঝিনুক টিপু (৭১-৭৩)

আফরিন মোহনা (৭৪-৭৫)

কাজী ফারজানা (৭৬-৭৮)

মোস্তাফিজুর রহমান প্রান্ত (৭৯-৮০)

রিদোয়ান ফরহান (৮১)

তাওসিফ তান (৮২)

রুবায়েত সমীরণ (৮৩)

৩৪ বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক জোন প্রতিষ্ঠার বিজ্ঞপ্তি ৮৪

রুবায়েত সমীরণ (৮৪-৮৫)

স্যামুয়েল বিপ্লব (৮৬-৮৮)

৩৫ যুব ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের প্রধান কর্তৃক পশ্চিম জোনের ক্যাম্প প্রধান নিয়োগ ৮৯ জয়া কুন্ডু ( ৮৯-৯১)
৩৬ বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সভার কার্যবিবরনী ও সিদ্ধান্ত ৯০ ‘’
৩৭ বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সভার কার্যবিবরনী ও সিদ্ধান্ত ৯১ ‘’
৩৮ বাংলাদেশ সরকারের   সচিবদের নিয়মিত সাপ্তাহিক সভা সংক্রান্ত সার্কুলার ৯২ কাজী ফারজানা ( ৯২-৯৪)
৩৯ কেবিনেট সচিব কর্তৃক বাংলাদেশে দখলীকৃত এলাকা হতে আনীত অর্থ ও সম্পদের সদ্ধ্যবহার সম্পর্কে কমিশন নিয়োগের নির্দেশ ৯৩ ‘’
৪০ বাংলাদেশ সরকারের সাধারণ প্রশাসন বিভাগের একটি নিয়োগপত্র                                                         ৯৪ ‘’
৪১                                 প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রশাসনিক নির্দেশ ৯৫ আদীল মাহমুদ (৯৫-৯৭)
৪২ আন্তঃবিভাগীয় সচিবদের সভার কার্যবিবরণী ৯৬ ‘’
৪৩ প্রচার বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত পরিষদ সদস্যের প্রচার সংক্রান্ত আন্তঃবিভাগীয় একটি চিঠি ৯৮ কাজী ফারজানা (৯৮-৯৯)
৪৪ ত্রাণ ও পুনর্বাসিন মন্ত্রী প্রদত্ত বিদেশে রাষ্ট্রীয় কাজে প্রেরিত পরিষদ সদস্যের একটি পরিচয়পত্র ৯৯ ‘’
৪৫ জোনাল কাউন্সিল এবং যুব ক্যাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে কেবিনেট সচিবের একটি চিঠি ১০০ আফরিন মোহনা (১০০)
৪৬ জোনাল এডমিনস্ট্রেটিভ কাউন্সিল গঠনের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহূত সভার বিজ্ঞপ্তি ১০২

আফরিন মোহনা (১০১-১০২)

ইয়াসির আরেফিন (১০৩-১০৪)

শেখ মিনহাজ হোসেন (১০৫)

রাইয়ান তাজিন (১০৬-১০৮)

৪৭ বীরত্ব খেতাব প্রদান স্কীম অনুমোদন সংক্রান্ত একটি চিঠি ১০৭ ‘’
৪৮ যুব ক্যাম্পে ত্রৈমাসিক ব্য্যবরাদ্দের হিসাব ১০৮

‘’

প্রিয়ন্ত রহমান (১০৯)

নাজমুস সাকিব (১১০-১১২)

পিয়ান মুগ্ধ নবী (১১১)

৪৯ বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিবের নিয়োগপত্র ১১৩ ইফতেখার স্বাদ (১১৩-১১৪)
৫০ রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশাবলী ১১৫ রেহমান মুস্তাফিজ (১১৫-১১৬)
৫১ দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণ ১১৬

‘’

কাজী ফারজানা (১১৭)

বলরাম রায় (১১৮)

৫২ বাংলাদেশের পত্রিকা প্রকাশনা সম্পর্কে একটি সরকারী চিঠি ১১৯ দ্বিপায়ন অর্নব (১১৯)
৫৩ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক কৃষিসচিব নিয়োগ ১২০ নাজমুস সাকিব ( ১২০)
৫৪ প্রচার ও প্রপাগন্ডার সমন্বয় সম্পর্কে প্রতিরক্ষা সচিবের একটি সাক্ষাৎকার ১২১ নওশিন শেখ ( ১২১-২২)
৫৫ অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের কর্মসূচী ১২২ ‘’

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

ক্রমিক নং বিষয় পৃষ্ঠা অনুবাদকের নাম
৫৬

বাংলাদেশের পাঁচটি রাজনৈতিক দল সমবায়ে ৮ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠন সংক্রান্ত তথ্য-৯        

সেপটম্বর

১২৩ পুনম শিকদার ( ১২৩-২৮)
৫৭ মুক্তাঙ্গনে সরকারী কর্মচারীদের কাজে লাগানো সম্পর্কিত নির্দেশ ১২৪ ‘’
৫৮

ভারতে জহীর রায়হান পরিচালিত একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদশনের প্রতিবাদে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির          

কাছে লিখিত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিচালক ফজলুল হকের চিঠি

১২৫ ‘’
৫৯ মৎসচাষের প্রয়োজনে লীজ সংক্রান্ত একটি চিঠি ১২৭ ‘’
৬০ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সচিব নিয়োগ ১২৯ শুভ সরকার (১২৯-১৩১)
৬১ রাজস্ব আদায় সম্পর্কে অর্থ সচিবের একটি মেমো ১৩০ ‘’
৬২ স্বরাষত্রমন্ত্রী কর্তৃক পূর্বাঞ্চলীর লিবারশন জোনের প্রধানকে অর্থবিষয়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ ১৩১ ‘’
৬৩ আন্তঃসচিব সভার সিদ্ধান্তের অংশবিশেষ ১৩২ ইয়াসির আরেফিন (১৩২ -৩৪)
৬৪ বাংলাদেশ ডিফেন্স লীগের মুখপাত্র বাংলাদেশ নিউজ লেটার প্রকাশনার প্রাক্কালে প্রেরিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবাণী ১৩৩ ‘’
৬৫ মুক্তিবাহিনীর প্রচার সম্পর্কে প্রতিরক্ষা সচিবের একটি চিঠি ১৩৪ ‘’
৬৬ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চারটি নূতন প্রশাসনিক জোন প্রতিষ্ঠার নির্দেশ ১৩৫ শেখ মিনহাজ হোসেন (১৩৫-৩৭)
৬৭ জোন প্রশাসনের অর্থব্যবস্থা সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি ১৩৬ ‘’
৬৮ জনগণের প্রতি সরকাররের নির্দেশাবলী ১৩৮
৬৯ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট সম্পর্কে মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত অংশ ১৩৯ রায়ান রন (১৩৯-৪৩)
৭০ স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ বিভাগের সচিবদের বিভিন্ন এলাকা সফর শ্বষে প্রদত্ত রিপর্ট ১৪০

‘’

তাসনিন তানিম চৌধুরি (১৪৪)

৭১ আন্তঃবিভাগীয় সচিবদের সভার কার্যবিবরণী ১৪৫ ‘’
৭২ স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরী প্রয়োজনের ওপর প্রস্তুতকৃত সরকারী প্রতিবেদন ১৪৬

আল আমিন সরকার (১৪৬)

তাসনিন তানিম চৌধুরি (১৪৭-৪৮)

৭৩ মুক্ত এলাকায় বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ সম্পর্কে পরিকল্পনা তৈরী করার জন্য পরিকল্পনা সেলে লিখিত চিঠি ও পরিকল্পনা সেলের উত্তর ১৪৯ আবীর এম.আহম্মেদ (১৪৯-১৫৩)
৭৪ যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের বক্তৃতা ১৫১ ‘’
৭৫ কেবিনেট ডিভিশন কর্তৃক প্রচারিত একটি আন্তঃবিভাগীয় সার্কুলার ১৫৩ ‘’
৭৬ আন্তঃবিভাগীয় সচিবদের সভার কার্যবিবরণী ১৫৪ রায়ান রন (১৫৪-১৫৮)
৭৭ মুক্তিযুদ্ধে প্রকৌশলীদের ভূমিকা সম্পর্কে প্রেরিত একটি রিপোর্ট ১৫৫ ‘’
৭৮ বেতারে নীতিনির্ধারণী বক্তব্য প্রচারের উপর বিধিনিষেধ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ১৫৭ ‘’
৭৯ যুব ক্যাম্পের জন্য ওষধ সরবরাহের হিসাব ১৫৮

‘’

নাজমুস সাকিব (১৫৯-৬০)

৮০ বিভিন্ন যুব শিবিরে অবস্থানকারী শীতবরস্ত্র সরবরাহ করার জন্য রাষ্টপতির আদেশ ১৬১ রাকেশ বিশ্বাস (১৬১-৬২)
৮১ বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্তের অংশবিশেষ ১৬২

‘’

 

৮২ স্বাধীন বাংলা বেতার কর্মী কর্তৃক আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্পর্কে প্রতিরক্ষা সচিবকে লিখিত একটি চিঠি ১৬৩ মোহাম্মদ তামিম (১৬৩-৬৪)
৮৩ স্বাস্থ্য বিভিগের একটি নিয়োগ সম্পর্কে স্বাস্থ্য সচিবের সিদ্ধান্ত ১৬৫ পীয়ান মুগ্ধ নবী (১৬৫-৬৬)
৮৪ আহত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পুনবার্সন সম্পর্কিত মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত ১৬৬ ‘’
৮৫ তথ্য সচিব হিসাবে আনওয়ারুল হক খানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ১৬৭ নাজমুস সাকিব (১৬৭-৬৯)
৮৬ বিভিন্ন সেক্টরে প্রয়োজনীয় ঔষধের তালিকা প্রেরণ সম্পর্কে স্বাস্থ্য সচিবের একটি চিঠি ১৬৮ ‘’
৮৭ প্রতিরক্ষা স্বাস্থ্য বাজেট সম্পর্কিত মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত ১৬৯ ‘’
৮৮ জোনাল স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিয়োগ সংক্রান্ত মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত ১৭০ নাজমুল হক (১৭০-৭১)
৮৯ তথ্য সচিব কর্তৃক লিখিত প্রশাসনিক সমন্বয় সম্পর্কিত একটি চিঠি ১৭১
৯০ তথ্য সচিব কর্তৃক প্রতিরক্ষা সচিবকে লিখিত একটি চিঠি ১৭২ শুভ সরকার (১৭২-৭৩)

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

ক্রমিক নং বিষয় পৃষ্ঠা অনুবাদকের নাম
৯১ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মের অগ্রগতি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন ১৭৩

 

মোস্থাফিজুর রহমান প্রান্ত

(১৭৪-৭৫)

তাওসিফ ফান (১৭৮-৮০)

ইলিয়াস কমল (১৭৯)

 

৯২ উপজাতীয় কর্মচারীদের নিয়োগ সম্পর্কে প্রতিরক্ষা সচিবকে লিখিত কেবিনেট সচিবের চিঠি ১৮১ প্রীয়ন্ত রহমান (১৮১-৮২)
৯৩ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিয়োজিত কয়েকজন কর্মকর্তার তালিকা ১৮২ ‘’
৯৪

প্রতিরক্ষা মেডিকেল কর্মসূচীর অধীনে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ব্যপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে              

আলোচনার রিপোর্ট  

১৮৩
৯৫ যুদ্ধরত সৈনিকদের ভাতা সম্পর্কে মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত ১৮৪
৯৬ প্রতিরক্ষা বিভাগের পত্র বিনিময় ও প্রকাশনা সংক্রান্ত রিপোর্ট                                                               ১৮৫ রায়ান রন (১৮৫-৮৭)
৯৭ মুক্তিফৌজের জন্য বিশ্রামাগার মিশন ও ঔষধ সংগ্রহ সংক্রান্ত একটি চিঠি ১৮৬
৯৮ বাংলাদেশ সরকারের পুলিশ কর্মচারীদের বিভিন্ন জোনাল কাউন্সিলে নিয়োগের বিজ্ঞপতি ১৮৭ ইকবাল মাহমুদ অনিক (১৮৯-৯০)
৯৯

প্রতিরক্ষা সচিব কতৃক পংগু সৈনিকদের আশ্রয় নিবাস প্রতিষ্ঠার জন্য জোনাল কাউন্সিলের প্রতি          

নির্দেশ

১৯০ ‘’
১০০ শীতবস্ত্র কেনার জন্য সরকার কর্তৃক কর্মচারীদের আগাম প্রদানের বিজ্ঞপ্তি ১৯১ বলরাম রায় (১৯১)
১০১

জোনাল কাউন্সিল এবং সংসদ সদস্যদের ভ্রমণ ও অন্যান্য ভাতা সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের                  

নির্দেশাবলী

১৯২ ইকবাল মাহমুদ অনিক(১৯২)
১০২ যুব অভ্যর্থনা শিবির পরিচালনার নির্দেশাবলী ১৯৩

জয়া কুন্ডু (১৯৩)

বলরাম রায় (১৯৪)

বদরুন নাহার লুনা (১৯৫-৯৬)

১০৩

বাংলাদেশ সরকার ও মন্ত্রী পরিষদের ব্যবহারের জন্য যানবাহন সঙ্গগ্রহঃ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের      

জন্য প্রদত্ত কেনিনেট সচিবের একটি প্রতিবেদন

১৯৭

আফরিন মোহনা (১৯৭-৯৮)

আবীর এম.আহমেদ (১৯৯-২০০)

১০৪ শীতবস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণ সম্পর্কে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি পত্র ২০৩ আবীর এম.আহমেদ (২০১-০৫)
১০৫ বাংলাদেশ সরকারের প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ২০৪ ‘’
১০৬ বিদেশে প্রস্থানকারীদের ছাড়পত্র সম্পর্কে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি ২০৫ ‘’
১০৭

বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চলসমূহের বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে মন্ত্রী পরিষদ সভার                      

কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্ত

২০৬ পুনম শিকদার (২০৬-১০)
১০৮ প্রতিরক্ষা সচিব কর্তৃক তথ্য সচিবকে প্রদত্ত রাজাকারদের প্রতি সরকারী নীতি ব্যাখ্যা ২০৮ ‘’
১০৯

ভারত সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে মুক্তিফৌজের জন্য ত্রাণ ও চিকিৎসা সাহায্য                  

সংক্রান্ত আলোচনা রিপোর্ট

২০৯ ‘’
১১০ বাংলাদেশ সরকারের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যয় বরাদ্দের হিসাব চিঠি ২১১
১১১ চিকিৎসা ব্যবস্থা ও ঔষধ সরবরাহ সম্পর্কে স্বাস্থ্য দফতরের কতিপয় চিঠি ২১৩ সুকন্যা সুখী (২১৩-১৫)
১১২ বাংলাদেশ সরকারের পাকিস্তানের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতায় বিরোধিতা সংক্রান্ত সংবাদ ২১৭
১১৩

পরিকল্পনা সেল কর্তৃক ‘কমিউনিত উন্নয়ন প্রকল্প’ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রেরিত                          

প্রতিবেদন

২১৯

পিয়ান মুগ্ধ নবী (২১৭-১৯)

কিশোর পলাশ ইমন (২১৯-২২)

রায়ান রন (২২২, ২৩১-৩৩)

নওশিন শেখ (২২৩-২৪)

রাকেশ বিশ্বাস (২২৫-২৭)

তানজিম রহমান

(২২৯-৩০, ২৩৪)

রায়ান রন (২৩১-৩৩)

১১৪ বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক জোনের প্রধান এবং জোনাল অফিসারদের তালিকা ২৩৫

তানজিম রহমান (২৩৫-৩৬)

রায়ান রন (২৩৭)

১১৫ বিভিন্ন সেন্টারে রণসংবাদিক নিয়োগের নির্দেশ ২৩৮ রায়ান রন (২৩৮-৩৯)
১১৬ দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণ ২৩৯

‘’

আলী রেজা পিয়াল (২৪০)

১১৭ শহীদের পরিবারকে অর্থ সাহায্যদান এবং পংগু ভাতা সম্পর্কে প্রতিরক্ষা দপ্তরের দলিল ২৪১

আলী রেজা পিয়াল

(২৪১, ২৪৩, ২৪৫)

পিয়ান মুগ্ধ নবী (২৪২,২৪৪)

১১৮

মুক্তাঞ্চলসমূহে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আন্তঃবিভাগীয় সচিবদের কাছে স্বরাষ্ট্র            

সচিবদের চিঠি

২৪৬ বদরুন নাহার লুনা (২৪৬-৫০)
১১৯

মুক্তাঞ্চলে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আন্তঃবিভাগীয় সচিবদের নিয়ে একটি সাব-              

কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের বিজ্ঞপ্তি

২৪৭ ‘’
১২০

যোদ্ধাদের শীতকালীন বস্ত্র কেনার জন্য অর্থ চেয়ে প্রতিরক্ষা সচিব কর্তৃক অর্থ সচিবকে লিখিত          

চিঠি

২৪৮ ‘’
১২১ জোনাল কাউন্সিল এবং সেক্টরে সুষ্ঠু অর্থনৈতিক লেনদেন সম্পর্কে প্রতিরক্ষা সচিবের একটি নোট ২৪৯ ‘’
১২২ পুলিশ বাহিনীর ইউনিফর্ম নির্বাচন সংক্রান্ত একটি চিঠি ২৫০

‘’

 

১২৩ নার্সদের নিয়গ এবং বেতন সংক্রান্ত একটি সরকারী চিঠি ২৫১

তৌহিদুর রহমান সোহাগ

(২৫১-৫২, ২৫৫,)

১২৪

তথ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বিদেশী সাংবাদিকদের সংগে যোগাযোগ সম্পর্কে তথ্য সচিব কর্তৃক          

প্রতিরক্ষা সচিবকে লিখিত একটি চিঠি

২৫২

‘’

রায়ান রন (২৫৩-৫৪)

তৌহিদুর রহমান সোহাগ (২৫৫)

 

১২৫ রণক্ষেত্রে মুক্তিবাহিনীর ভূমিকার প্রচার সম্পর্কে তথ্য সচিবের একটি চিঠি ২৫৬ শুভ সরকার (২৫৬-২৬০)
১২৬ রণক্ষেত্রে সংবাদদাতা নিয়োগ সম্পর্কে প্রতিরক্ষা সচিবের একটি চিঠি ২৫৭ ‘’
১২৭ বাংলাদেশ সরকারের দপ্তরসমূহ এবং উর্ধবতন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা সম্পর্কে কেবিনেট সচিবের একটি চিঠি ২৫৮ ‘’
১২৮ মুক্তাঞ্চলে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে মন্ত্রী পরিষদ সভার ও কার্যবিবরণি ও সিদ্ধান্ত ২৬০ ‘’
১২৯

পঙ্গু যোদ্ধাদের জন্য স্বাস্থ্যনিবাস প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জোনাল কাউন্সিলে        

প্রেরিত একটি চিঠি

২৬৩ জয়া কুন্ডু (২৬১-৬৫)
১৩০ মুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পর্কে উপ-পরিষদের বৈঠক সংক্রান্ত চিঠি ২৬৪ ‘’
১৩১ বিদেশে গমেনেচ্ছু বাংলাদেশীদের ছাড়পত্র সম্পর্কে প্রতিরক্ষা সচিব কর্তৃক স্বরাষ্ট্র সচিবকে লিখিত একটি চিঠি ২৬৬

শেখ মিনহাজ হোসেন

(২৬৬-৬৯)

১৩২ মুক্ত এলাকায় বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার অনুরোধ জানিয়ে প্রতিরক্ষা সচিবের একটি চিঠি ২৬৭ ‘’
১৩৩

বৈদেশিক বাণিজ্য মিশন কর্তৃক প্রত্যন্ত সীমান্ত ও মুক্ত এলাকায় অবস্থিত ধন-সম্পত্তির সংরক্ষণ        

ও ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রতিবেদন

২৬৮

‘’

ইকবাল মাহামুদ অনিক (২৭১-৭২)

পুনম শিকদার (২৭৩-৭৫)

গাউসুল হীরা ( ২৭৬)

নাফি হাসান (২৭৭-৭৮)

আবির এম.আহম্মেদ (২৭৯-৮০)

জয়া করিম (২৮১-৮৩)

কিশোর ইমন পলাশ (২৮৩-৮৫)

১৩৪ মুক্ত এলাকায় অবস্থিত দেশের সম্পদ সংরক্ষণ সম্পর্কে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির নির্দেশ ২৮৪ ‘’
১৩৫ বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী মহাসচিব নিয়োগ সম্পর্কে মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত ২৮৫ ‘’
১৩৬ জাতির উদ্দেশ্যে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাষণ ২৮৬
১৩৭ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মালিকাহীন সম্পত্তি সংরক্ষণ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশাবলী ২৯১

ইকবাল মাহমুদ অনিক

(২৯১-৯৩)

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

ক্রমিক নং বিষয় পৃষ্ঠা অনুবাদকের নাম
১৩৮ জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের ভাষণ   ২৯২

‘’

ইয়াসির আরেফিন (২৯৪)

১৩৯ মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের কার্যবিবরণীর অংশ ২৯৫ ইয়াসির আরেফিন অনিক (২৯৫)
১৪০

দখলীকৃত বাংলাদেশে কর্মরত সরকারী কর্মচারীদের প্রতি বাং;আদেশ সরকারের নীতিমালা              

প্রচারের জন্য তথ্য সচিবকে লিখিত কেবিনেট সচিবের একটি চিঠি

২৯৬ ইলিয়াস কমল (২৯৬-৯৭)
১৪১ বাংলাদেশ সরকারের পুলিশ ডিরেক্টর জেনারেলের অধীন কর্মকর্তাদের তালিকা ২৯৮ জয়া খান (২৯৮-৩০০)
১৪২ বাংলাদেশে বিদেশী কর্মকর্তা নিয়োগ সম্পর্কে মন্ত্রী পরিষদ সভার কার্যবিবরণী ৩০০ ‘’
১৪৩ দখলদার বাহিনীর বিচার সম্পর্কে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের কার্যবিবরণী ৩০১

আবীর এম.আহম্মেদ (৩০১-০২)

মোহাম্মদ তামিম (৩০৩)

১৪৪ বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে মন্ত্রী পরিষদের সভার কার্যবিবরণী ৩০৪ মোহাম্মদ তামিম (৩০৪-০৮)
১৪৫ ভারতীয় প্রশাসনের আলোচনা সম্পর্কিত অস্থায়ী মহাসচিবের সার্কুলার ৩০৭ ‘’
১৪৬ মন্ত্রী পরিষদের অনুষ্ঠিতব্য একটি সভার বিজ্ঞপ্তি ৩০৮ ‘’
১৪৭ জেলা প্রশাসকদের আশু কর্তব্য সম্পর্কিত সংস্থাপন বিভাগীয় সচিবের চিঠি ৩০৯

এ.এন.সাইদ (৩০৯-১০)

মোহাম্মদ তামিম (৩১১-১৩)

১৪৮ জাতির উদ্দেশ্যে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাষণ ৩১৩ ‘’
১৪৯ যশোরের ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক সাধারণ প্রশাসন বিভাগের সচিবের কাছে প্রদত্ত বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার রিপোর্ট                               ৩১৫
১৫০ জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণ ৩১৬
১৫১ প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের ঘটনাবলীর ব্যাখ্যা (লিফলেট)                               ৩১৯ তানজিম রহমান (২১৯-২১)
১৫২ “বাংলার বাণী” –একটি লিফলেট ৩২২
১৫৩ সংগ্রামী জনগণের প্রতি উদাত্ত আহবান ৩২৩
১৫৪ মোনাফেকদের ক্ষমা নেই ৩২৫
১৫৫ মুক্তাঞ্চলের জনগণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশাবলী ৩২৮
১৫৬ বাংলার গণদুশমনরা হুশিয়ার” ৩২৯
১৫৭ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধরত পুলিশদের প্রতি স্বরাষ্ট্র দফতর ৩৩০
১৫৮ দেশবাসীর প্রতি বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রীর বেতার ভাষণ ৩৩২
১৫৯ “যুব প্রশিক্ষণ”-কর্মসূচী ও সিলেবাস ৩৩৫

জয়া করিম (৩৩৫-৩৬)

শুভ সরকার (৩৩৭-৩৯)

তাসরিক মোহাম্মদ শিকদার (৩৪০-৪২)

সানজানা এস পায়েল (৩৪৩)

আবীর এম.আহম্মেদ (৩৪৪)

সুচয়ন চাকমা কিংশুক (৩৪৫-৪৯)

পিয়ান মুগ্ধ নবী (৩৫০-৫১,৩৫৪)

ইয়াসির আরাফাত (৩৫২-৫৩)

 

১৬০ যুব শিবির প্রণোদনা কোর্স সম্পর্কিত দলিল ৩৫৮ সজীব বর্মন (৩৫৮-৫৯)

 

 

 

 

 

 

 

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

ক্রমিক নং বিষয় পৃষ্ঠা অনুবাদকের নাম
১৬১ যুব শিবিরঃ একটি নির্দেশিকা ৩৬০

সজীব বর্মন (৩৬০-৬২)

আইরিন নীলা (৩৬৩-৬৪)

ইকবাল মাহমুদ অনিক

(৩৬৫-৬৭)

সাইদ হক (৩৬৮)

পিয়ান মুগ্ধ নবী

(৩৬৯-৭১, ৩৭৬-৭৭)

মোহাম্মদ তামিম (৩৭২)

মাইমুর নুর আমীন (৩৭৩-৭৪)

ইয়াসির আরেফিন (৩৭৮-৮০)

১৬২ যুব শিবিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে নির্দেশ ৩৮১ দীপ আজাদ (৩৮১-৮২)
১৬৩ বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ বিভাগের কর্মকান্ডের উপর একটি প্রতিবেদন ৩৮৩ প্রিয়ন্ত রহমান (৩৮৩-৮৫)
১৬৪ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকুরীরত কর্মচারদের তালিকা ৩৮৬ ইয়াসির আরেফিন (৩৮৬-৮৭)
১৬৫ তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের কর্মরত ব্যক্তিদের তালিকা ৩৮৯

কাজী ফারজানা (৩৮৮-৯০)

নাজমুল হক (৩৯১-৯৪)

নওশিন শেখ (৩৯৫-৯৭)

বিদ্যুদ্বিকাশ-মজুমদার-অপু (৩৯৮)

পরিশিষ্ট-কঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের

স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন ও কমিউনিটি উন্নয়ন প্রকল্প

১৬৬ বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন ৩৯৯

নিয়ান মুগ্ধ নবী (৩৯৯)

বিদ্যুদ্বিকাশ-মজুমদার-অপু (৪০০)

বদরুন নাহার লুনা (৪০১)

রহমান সোহাগ (৪০২)

১৬৭ কমিউনিট উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা ৪০৩ শুভ সরকার ( ৪০৩-৪০৭)
১৬৮ গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানসমূহের সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রশিক্ষণ সিলেবাস ৪০৮

আদীল মাহমুদ (৪০৮-৪১০)

আবীর এম.আহম্মেদ (৪১৩-১৪)

১৬৯ কমিউনিট উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ৪১৫ পিয়ান মুগ্ধ নবী (৪১৫-১৭)
১৭০ কমিউনিটি উন্নয়নের ‘রওমারী’ প্রকল্প সভার কার্যবিবরণী ৪১৭

‘’

ফারহাদ রাকিব (৪১৮-৪১৯)

১৭১ রওমারী প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবকদের সভার কার্যবিবরণী ৪২০ ফরহাদ রাকিব (৪২০-২২)
১৭২ রওমারী প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর রিপোর্ট ৪২২

‘’

জয়া করিম (৪২৩-২৭)

মাইমুর নুর আমীন চৌধুরি

(৪২৮-৩২)

১৭৩ রওমারী প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবকদের সভার কার্যবিবরণী ৪২৯ ‘’
১৭৪ রওমারী প্রকল্পের ব্যয়বরাদ্দের খতিয়ান ৪৩১ ‘’
১৭৫ রওমারী প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর রিপোর্ট                                                           ৪৩৩ আবু তামিম ( ৪৩৩-৩৫)

 

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

ক্রমিক নং বিষয় পৃষ্ঠা অনুবাদকের নাম
পরিশিষ্ট-খঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারঃ শাসন ব্যবস্থা ও পুনর্গঠন
১৭৬ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শাসনব্যবস্থা ও তার পূর্নগঠনের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ৪৩৫

‘’

রিমি দাশ (৪৩৬-৩৮)

দ্বীপ আজাদ (৪৩৯-৪৪০)

রায়ান রন (৪৪১-৪২)

কাজী ফারজানা (৪৪৩-৪৫)

তাসরিক মোহাম্মদ (৪৪৬)

মোহাম্মদ তামিম (৪৪৭-৪৮)

তাইফুর রহমান (৪৪৯-৫১)

রহমান সোহাগ (৪৫২)

বদরুন নাহার লুনা (৪৫৩)

 

সুদিপ্ত কুমার ধর (৪৫৫)

নওশিন শেখ (৪৫৬)

ফরহাদ রাকিব (৪৫৭-৫৯)

নাসির বিন আজাদ (৪৬০-৬২)

ইন্দ্রানী (৪৬৩-৬৫)

এন.এন.সাইদ (৪৬৬)

তাওসিফ তান (৪৬৭)

শুভ সরকার (৪৬৮, ৪৭৩, )

পারভেজ শাহনেয়াজ (৪৬৯)

ইকবাল মাহমুদ অনিক

(৪৭৪-৭৫, ৪৯৩-৪৯৫, ৫০৬-০৮)

ইয়াসির আরেফিন (৪৭৬-৪৭৭)

নাজমুস সাকিব (৪৭৮-৭৯)

মোহাম্মদ তামিম ( ৪৯০-৪৯২)

তাঞ্জিম রহমান (৪৯৭)

মালিহা তাবাসসুম (৪৯৯-৫০০)

পিয়ান মুগ্ধ নবী ( ৫০১-০৩)

আরাফাত আহম্মেদ (৫০৯)

এ.এন.এ সাইদ (৫১০-১২)

সৈকত জয়ধর (৫১৩-১৭)

রহমান সোহাগ (৫১৮-২০)

আলী রেজা পিয়াল (৫২১-২৫)

ইসতিয়াক রাজু (৫২৬-২৯)

রিয়াজ উদ্দিন রাজু (৫৩০-৩৪)

সৈকত জয়ধর (৫৩৫-৩৬)

মোহাম্মদ তামিম (৫৩৬)

ফরহাদ রাকিব (৫৩৭-৩৯)

আদিল মাহমুদ (৫৪০-৪২)

নাসির বিন আজাদ (৫৪৩-৪৪)

শাহেদ জামান (৫৪৫-৪৯)

বদরুন নাহার লুনা (৫৫০-৫৫৪)

দ্বিতীয় অধ্যায়

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

মুক্তিসংগ্রাম পরিষদঃ পুর্বাঞ্চলীয় জোন

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

ক্রমিক নং বিষয় পৃষ্ঠা অনুবাদকের নাম
১৭৭ আঞ্চলিক উপদেষ্টা কমিটির নিয়োগপ্ত্রঃ সৈনিকদের আশ্রয়ের ব্যবস্থার জন্য একটি চিঠি ৫৫৫ বদরুন নাহার লুনা (৫৫৫-৫৬)
১৭৮

লিবারেশন কাউন্সিল, পুর্বাঞ্চলীয় জোনের আওতাধীন যুব শিবিরের কর্মীদের তালিকা ও                    

আনুষংগিক তথ্য

৫৫৬

‘’

নুরুল নাহার জুই (৫৫৩,৫৫৭)

১৭৯ মুক্তিফৌজ আন্তর্ভূক্তিকরণ সম্পর্কে সেনাবাহিনীর সাথে যুব শিবিরের যোগাযোগ                             ৫৫৯ অনুপম হাসান পুর্নম (৫৫৮-৬১)
১৮০ যুব ত্রাণ শিবির সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন ৫৬০

‘’

শাহ জালাল (৫৬২-৬৪)

পুজা পলি (৫৬৫,৬৯)

মরিয়ম সুলতানা সেতু(৫৬৬-৬৭)

মুহাম্মদ ইমরান খান ইমন (৫৬৮)

১৮১ পূর্বাঞ্চলীয় জোনের উচ্চশক্তিসম্পন্ন পরিষদ সভার কার্যববিরণী ৫৬৬

‘’

আলী রেজা পিয়াল (৫৭০-৭১)

১৮২ পূর্বাঞ্চলীয় জোনের আওতাধীন   বেলোনিয়ার রাজনৈতিক উচ্চ পরিষদ গঠন সংক্রান্ত চিঠি ৫৭২ রাকেশ বিশ্বাস (৫৭২-৭৩)
১৮৩ যুব ত্রাণ শিবির সম্পর্কে আরেকটি প্রতিবেদন ৫৭৩

‘’

রায়ান রন (৫৭৫-৭৭)

১৮৪ পূর্বাঞ্চলীয় জোনের আওয়াধীন যুব শিবির পরিচালনা সংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণী ৫৭৬ ‘’
১৮৫ পূর্বাঞ্চলীয় লিবারেশন জোনে জোন প্রশাসন বাস্তবায়ন স্কীম (বাজেট) সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লিখিত জোন কর্মকর্তার চিঠি ৫৭৭

‘’

কিশোর পলাশ ইমন

(৫৭৮-৭৯, ৫৮৩-৮৪)

আশরাফ আহম্মেদ (৫৮০)

তাওসিফ তান (৫৮১)

নাসির বিন আজাদ (৫৮৫)

১৮৬ ভিত্তি ফৌজ প্রতিষ্ঠি সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন ৫৮৬

নাসির বিন আজাদ ( ৫৮৬)

জয়া কুন্ডু (৫৮৭-৮৮)

১৮৭ যুব প্রশিক্ষণ সমণ্বয় উপ-প্রধান হিসেবে প্রফেসর দেবব্রত দত্তগুপ্তের নিয়োগপত্র ৫৮৯ জয়া কুন্ডু (৫৮৯)
১৮৮ রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ সমণ্বয় উপ-প্রধান হিসেবে প্রফেসর শফি কাদেরীর নিয়োগপত্র ৫৯০ ইফতেখার স্বাদ (৫৯০-৯১)
১৮৯ বক্সনগর যুব শিবিত্র প্রবেশকারীদের দৈনিক হিসাব ৫৯১ ‘’
১৯০ শিবির ত্যাগকারী সম্পর্কে একটি বিজ্ঞপ্তি ৫৯২

এসকে শাহারিয়ার হিমেল

(৫৯২-৯৩)

১৯১ শিবির তালিকা ৫৯৩ ‘’
১৯২ শিবির প্রশিক্ষকদের তালিকা ৫৯৪ শুভ সরকার (৫৯৪-৯৫)
১৯৩ যুব ত্রাণ শিবিরে মাটিভেটর নিয়োগ সম্পর্কিত চিঠি                                                                           ৫৯৭ শ্রাবনী আরেফিন ( ৫৯৬-৯৭)
১৯৪ অর্থনৈতিক উপ-পরিষদ গঠন সম্পর্কিত চিঠি ৫৯৮ রুবায়েত সমীরণ (৫৯৮-৯৯)
১৯৫ যুব শিবির পরিচালক জনাব খালেদ মাহমুদ আলীর রিক্রুটমেন্ট প্রধান হিসেবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তির সম্পর্কে একটি বিজ্ঞপ্তি ৫৯৯ ‘’
১৯৬ ত্রাণ শিবির থেকে মুক্তিফৌজে ভর্তিকরণ সম্পর্কিত একটি চিঠি ৬০০

 

শুভ সরকার (৬০১-০৫)

১৯৭ মুক্তিফৌজ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সম্পর্কিত একটা চিঠি ৬০২ ‘’
১৯৮ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহের প্রয়োজনীয় খরচাদির মঞ্জুরী সংক্রান্ত যুব শিবির পরিচালকের একটি বিজ্ঞপ্তি       ৬০৩ ‘’
১৯৯

যুব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও সমস্যাদি পর্যালোচনার জন্য আহূত একটি সভার        

বিজ্ঞপ্তি

৬০৪ ‘’
২০০ মুক্তিফৌজ রিক্রুমেন্টের ব্যাপারে নিয়ম রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত যুব শিবির মটিভেটর প্রধানের চিঠি ৬০৫ ‘’
২০১ যুব প্রশিক্ষণ অগ্রগতি উপদেষ্টা কমিটি গঠিতঃ যুব শিবির পরিচালকের একটি বিজ্ঞপ্তি ৬০৬ কিশোর পলাশ ইমন (৬০৬-১০)
২০২ শিবির কর্মকর্তাদের বেতন সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি ৬০৭

‘’

হৈমন্তি হিমি (৬১১-১২)

শওকত আরা (৬১৪-১৬)

শাহা জালাল (৬১৭-১৯)

আশরাফ আহম্মেদ (৬২২)

২০৩ যুব শিবিরে নতুন যুবক ভর্তি সম্পর্কে চিঠি ৬০৮
২০৪ শিবিরে ব্যয় সম্পর্কিত প্রকল্প সংযোগকারীর একটি চিঠি ৬০৯
২০৫ যুব শিবিরে অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ভর্তি না করার জন্য শিবির পরিচালকের একটি বিজ্ঞপ্তি ৬১২
২০৬ যুব শিবিরে প্রেরিত বিভিন্ন সামগ্রীর হিসাব ৬১৩
২০৭ যুব শিবিরে বসবাসকারীদের প্রতি কতিপয় নির্দেশ ৬১৫
২০৮ যুব শিবির পর্যালোচনা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত ৬১৬
২০৯ যুব শিবিরের সুষ্ঠু পরিচালনা সম্পর্কে কর্মকর্তাদের কয়েকটি পরামর্শ ৬১৭
২১০ ক্যাম্পের সাংকেতিক নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে লেখা চিঠি ৬১৯
২১১ যুবশিবির, এলাকা ও শিবির প্রধানের একটি তালিকা ৬২০
২১২ রিক্রটমেন্টের ক্ষমতাপ্রাপ্ত জনাব খালেদ মাহমুদ আলীর দলকে সহযোগিতা দানের জন্য যুব শিবির পরিচালকের একটি বিজ্ঞপ্তি ৬২২
২১৩ যুব শিবির পরিচালক, প্রশিক্ষণ সমন্বয় কর্মকর্তার কাছে প্রেরিত যুব শিবির রিক্রটমেন্ট প্রধানের একটি চিঠি ৬২৩ এসকে শাহারিয়ার হিমেল (৬২৩)
২১৪ যুব শিবিরে নবাগতদের ভর্তির ব্যাপারে শিবির পরিচালকের কয়েকটি জরুরী নির্দেশ ৬২৪ নাফি হাসান জাহিদ (৬২৪-২৫)
২১৫ পূর্বাঞ্চলীর শিবিরের তালিকা ৬২৫ ‘’
২১৬ যুব শিবির পরিচালনা ও তার কার্যক্রম সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন ৬২৭

সোহাগ রহমান (৬২৬-২৮)

সুনন্দা তোড়া (৬২৯-৩১)

 

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

ক্রমিক নং বিষয় পৃষ্ঠা অনুবাদকের নাম
২১৭ যুব শিবিরের সুষ্ঠু পরিচালনা সম্পর্কে কর্মকর্তাদের কয়েকটি পরামর্শ ৬৩২

সাফানুর সিফাত(৬৩২-৩৪)

নুরুন নাহার জুই (৬৩৫-৩৭)

রিমি দাস (৬৩৮-৪০)

তাসিফ তানিম চৌধুরি ( ৬৪১)

 

 

তৃতীয় অধ্যায়

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আঞ্চলিক প্রশাসন

২১৮ দক্ষিণ-পূর্ব জোন-১ এর অনুষ্ঠিতব্য সভার আলোচ্য বিষয় ৬৪৫

তাসিফ তানিম চৌধুরি

(৬৪৫-৪৬)

২১৯ দক্ষিণ-পূর্ব জোন-১ এর অনুষ্ঠিত সভার প্রস্তাবাবলীর অংশবিশেষ ৬৪৬ ‘’
২২০ মুক্তিফৌজে ভর্তি সংক্রান্ত সমস্য নিয়ে লিখিত ষ্টাফ প্রধান কর্তৃক দক্ষিণ-পূর্ব জোনে লিখিত চিঠি ৬৪৭ ফরহাদ রাকিব (৬৪৭-৫১)
২২১ জোনের কর্মকর্তা নিয়োগের নিয়মকানুন সংক্রান্ত চিঠি ৬৪৮ ‘’
২২২ যুব শিবিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে চীফ অব ষ্টাফ কর্তৃক লিখিত চিঠি ৬৪৯ ‘’
২২৩ যুব শিবির পরিচালনা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের নির্দেশ ৬৫০

‘’

শিমুল চৌধুরি (৬৫২-৫৪)

২২৪ যুব শিবির উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্তসমূহ ৬৫৫
২২৫ পলো ক্যাম্প হইতে তিনটি যুবকের পলায়ন সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি ৬৫৬ তানিয়া এস খান (৬৫৬-৫৮)
২২৬ ভিত্তি ফৌজে নিযুক্তিকরণ সম্পর্কে মেজর মিত্রের কাছে লিকিত যুব শিবির পরিচালকদের একটি চিঠি ৬৫৭ ‘’
২২৭ যুব শিবির পরিচালনা সংক্রান্ত জোন প্রধানের বিজ্ঞপ্তি ৬৫৮

ফারজানা আক্তার মুনিয়া

(৬৫৮-৬০)

২২৮ জোনের কর্মচারীদের কাজের তালিকা ৬৫৯ ‘’
২২৯ জোনের অর্থ উপ-পরিষদ প্রধানের যুব শিবির সফর সংক্রান্ত চিঠি ৬৬১ সাফানুর সিফাত (৬৬১-৬৩)
২৩০ যুব শিবিরে নতুন করে যুবক অন্তর্ভুক্তকরণ করার আদেশ ৬৬২ ‘’
২৩১ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবাকারীদেরকে (নাসিং বয়) কর্মস্থল নিয়োগের জন্য যুব শিবির পরিচালকের একটি চিঠি ৬৬৩ ‘’
২৩২ যুব শিবিরের খরচের হিসাব অডিট করার আদেশ ৬৬৪
২৩৩ জোনের কর্মচারীদের বেতনের হিসাবঃ নভেম্বর, ১৯৭১ ৬৬৫
২৩৪ দক্ষিণ-পূর্ব জোন-১ এর প্রশাসনিক কাউন্সিলের সভার কার্যবিবরণী ৬৬৬ সাফানুর সিফাত (৬৬৬-৬৮)
২৩৫ জোনের প্রশাসনিক সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে শিবিরের দায়িত্ব গণপরিষদ সদস্য কর্তৃক সহকারী প্রধানের হাতে ন্যস্ত করার আদেশ ৬৬৯ ফারহানা শারমিন (৬৬৯-৭১)
২৩৬ যুব অভ্যর্থনা শিবিরের খাদ্য ভাতা বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি ৬৭০ ‘’
২৩৭ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহবান জানিয়ে জোনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার তারবার্তা ৬৭১ ‘’
২৩৮ দক্ষিণ-পূর্ব জোনে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠাকল্পে অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণী ৬৭২ হাসনাত আমীন (৬৭২-৭৪)
২৩৯ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিজ্ঞপ্তি জানিয়ে জোনের রাজনৈতিক বিষয় প্রধানের চিঠি ৬৭৫

রাইয়ান অদিতি (৬৭৫)

 

২৪০ প্রত্যাগত শরণার্থীদের জন্য অভ্যর্থনা শিবির খোলা সংক্রান্ত কয়েকটি চিঠি ৬৭৭ নুরুন নাহার জুই (৬৭৭-৬৭৯)
২৪১ পূর্ব জোন কাউন্সিল অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাবাবলীর অংশ ৬৮১
২৪২ পূর্ব জোন যুব শিবির উপদেষ্টা পরিষদের সভার কার্যবিবরণী ৬৮৩ পিয়ান মুগ্ধ নবী (৬৮৩-৮৭)
২৪৩ গণপরিষদ সদস্য দ্বারা গঠিত উত্তর-পূর্ব জোন-১ এর প্রথম সভার কার্যবিবরণী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক চিঠি ৬৮৫

‘’

এমডি মইনুল ইসলাম

(৬৮৬-৮৭)

হাসান মাহামুদ টিপু (৬৮৮-৯০)

২৪৪ উত্তর-পূর্ব জোন-২ এর আওতাধীন যুব শরণার্থী ও মুক্তিফৌজ শিবিরের মাসিক ব্যয় বরাদের হিসাব ৬৮৯

‘’

রফিকুন্নবি যিহাদ (৬৯১-৯৩)

নির্ঝরে স্বপ্নভঙ্গ (৬৯৪)

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

ক্রমিক নং বিষয় পৃষ্ঠা অনুবাদকের নাম
২৪৫ ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস সংশ্লিষ্ট দলিলাদি প্রেরণ সম্পর্কে নর্থ জোন প্রশাসক কর্তৃক কেবিনেট সচিবের কাছে লিখিত চিঠি ৬৯৫ নির্ঝরে স্বপ্নভঙ (৬৯৫-৬৯৬)
২৪৬ উত্তর-পূর্ব জোন এম-এন-এ ও এম-পি-এদের তালিকাঃ তাদের এলাকা ও ভারতস্থ ডাক ঠিকানা ৬৯৬

‘’

নাফি হাসান জাহিদ (৬৯৭)

২৪৭ পশ্চিম জোন কাউন্সিল সভার কার্যবিবরণী ৬৯৮

নাফি হাসান জাহিদ (৬৯৮-৭০০)

নিঝুম চৌধুরি (৭০১-০৬)

কাজী ইসরাত জাহান তন্নি

(৭০৬-০৭)

আবু নাদিফ (৭১১-১৩)

২৪৮ পশ্চিম জোন-১ প্রশাসনিক কাউন্সিলের সভার কার্যবিবরণী ৭১৪
২৪৯ সীমান্ত এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন ৭১৭ শুভ সরকার (৭১৭-১৯)
২৫০ পশ্চিম জোন-২ এর আওতাধীন মুক্ত এলাকার প্রশাসনিক কাঠামো ৭১৯

‘’

আবু নাদিফ (৭১৭-২০)

জান্নাত আরা জোতি (৭২১)

২৫১ দক্ষিণ-পশ্চিম জোন প্রশাসনিক কাউন্সিলের গঠনতন্ত্র রচনার জন্য এম-এন-এ ও এম-পি-এদের সভার কার্যবিবরণী ৭২২ সম্পা সরকার (৭২২-৭২৭)
২৫২ দক্ষিণ-পশ্চিম জোন প্রশাসনিক কাউন্সিলের গঠনতন্ত্র রচনার জন্য এম-এন-এ ও এম-পি-এদের সভার কার্যবিবরণী ৭২৪ ‘’
২৫৩ দক্ষিণ-পশ্চিম জোন প্রশাসনিক কাউন্সিলের গঠনতন্ত্র রচনার জন্য এম-এন-এ ও এম-পি-এদের সভার কার্যবিবরণী ৭২৬ ‘’
২৫৪ দক্ষিণ-পশ্চিম জোন প্রশাসনিক কাউন্সিল রিলিফ সাব-কমিটির সভার কার্যবিবরণী ৭২৯
২৫৫ দক্ষিণ-পশ্চিম জোন প্রশাসনিক কাউন্সিলের পাবলিসিটি সাব-কমিটির সভার কার্যবিবরণী ৭৩০
২৫৬ দক্ষিণ পশ্চিম জোন প্রশাসনিক কাউন্সিলের ফাইন্যান্স সাব কমিটির সভার কার্যবিবরণী ৭৩১ সাদ্দাম হোসেন বকুল (৭৩১-৩৫)
২৫৭ দক্ষিণ পশ্চিম জোন প্রশাসনিক কাউন্সিলের স্বাস্থ্য সাব কমিটির সভার কার্যবিবরণী ৭৩২ ‘’
২৫৮ দক্ষিণ পশ্চিম জোন প্রশাসনিক কাউন্সিলের শিক্ষা সাব কমিটির সভার কার্যবিবরণী ৭৩৩ ‘’
২৫৯ দক্ষিণ পশ্চিম জোন ১ এলাকার পাক্ষিক রিপোর্ট ৭৩৪ ‘’
২৬০ দক্ষিণ পশ্চিম জোন ১ প্রশাসনিক কাউন্সিলের সভার কার্যবিবরণী ৭৩৫ ‘’
২৬১ দক্ষিণ পশ্চিম জোন ২ এর কাউন্সিলে সভার প্রস্তাবলীর অংশ ৭৩৭ সাফানুর সিফাত (৭৩৬-৪০)
২৬২ দক্ষিণ পশ্চিম জোন ১ জোনাল কাইন্সিল সদস্যদের ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা প্রদানের নিয়মাবলী সম্পর্কে সরকারের প্রশাসন বিভাগীয় সচিবকে লিখিত জোন কর্মকর্তার চিঠি ৭৩৮ ‘’
২৬৩ বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ভারতীয় রাষ্ট্রপতিরর কাছে লিখিত পত্র ৭৪১ শওকত আরা (৭৪১-৪৩)
২৬৪ দিল্লীতে বাংলাদেশ তথ্য কেন্দ্র স্থাপন সম্পর্কে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে লিখিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর চিঠি ৭৪৫ নিগার সুলতানা (৭৪৫-৪৬)
২৬৫ পররাষ্ট্র মন্ত্রী কর্তৃক বাংলাদেশের পক্ষে আনুগত্য প্রকাশকারীদের উদ্দেশ্যে লিখিত চিঠি ৭৪৬ ‘’
২৬৬ বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের গণহত্যায় সাহায্য না করার আবেদন। ৭৪৭ পিয়ান মুগ্ধ নবী (৭৪৭-৪৮)
২৬৭ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইসলামী সম্মেলন প্রদত্ত টেলিগ্রাম ৭৪৯ অর্পন ভট্টাচার্য
২৬৮ বাংলাদেশ স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমি সম্পর্কে বাংলাদেশ মিশনের প্রেস এটচির সাংবাদিক সম্মেলন ৭৫০

‘’

ফরহাদ রাকিব (৭৫১-৫২)

সামিয়া সুলতানা (৭৫৩)

২৬৯ দিল্লীতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের উপর আন্তর্জাতিক সেমিনার সংক্রান্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কার্যসূচী ৭৫৪ সাফানুর সিফাত (৭৫৪-৫৫)
২৭০ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্বিশ্ব প্রচার সম্পর্কিত একটি চিঠি ৭৫৬

আব্দুর রহমান সৌরভ

(৭৫৬-৭৬০)

২৭১ কলিকাতাস্থ বাংলাদেশ মিশন প্রধান ও কর্মীদের পাকিস্তানে প্রত্যাবর্তনের অস্বীকৃতি ১৮ জুলাই। ৭৫৯ ‘’
২৭২ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কতৃক বৈধ সরকারি প্রতিনিধিত্বকরণ সম্পর্কে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ৭৬০ ‘’
২৭৩ দিল্লীতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সেমিনার সম্পর্কিত পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সভার কার্যবিবরণী ৭৬১

তাসনিয়া লুবনা (৭৬১-৬২)

ইমরান রোকোন (৭৬৩-৬৬)

২৭৪ জাতিসংঘ কর্তৃক পর্যবেক্ষক মোতায়েন সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রেস বিজ্ঞপ্তি ৭৬৪ ‘’
২৭৫ ইয়াহিয়ার নির্বাচন সম্পর্কিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ৭৬৬ ‘’
২৭৬ মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বৈদেমিক সাহায্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার ৭৬৭ শওকত আরা (৭৬৭-৬৯)
২৭৭ পাকিস্তান কর্তৃক প্রকাশিত শ্বেতপত্রের প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ৭৬৮ ‘’
২৭৮ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক শেখ মুজিবের বিচার সম্পর্কিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি ৭৭০ রিমি দাস (৭৭০-৭২)
২৭৯ আন্তর্জাতিক আইন সংস্থার অবদান সম্পর্কে একটি গোপন প্রতিবেদন ৭৭১ ‘’

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

ক্রমিক নং বিষয় পৃষ্ঠা অনুবাদকের নাম
২৮০ পাকিস্তানের মিশনসমুহে কর্মরত কূটনীতিবিদদের বাংলাদেশের পক্ষাবলম্বন সংক্রান্ত তথ্যাদি ২-২১ আগষ্ট। ৭৭৩ মালিহা তাবাসসুম (৭৭৩-৭৫)
২৮১ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসাবে ডঃ মালিকের নিয়োগ সম্পর্কিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রেস বিজ্ঞপ্তি ৭৭৫

‘’

অর্পন ভট্টাচার্য (৭৭৬)

২৮২ বাংলাদেশ সরকার ও জাতসংঘের মধ্যে বিনিময়কৃত চিঠি ও আনুষঙ্গিক তথ্য। ৭৭৭

আম্বির এম.আহমেদ(৭৭৭)

অর্পন ভট্টাচার্য (৭৭৮-৭৮৫)

২৮৩ নয়াদিল্লীস্থ বাংলাদেশ মিশন প্রধানের বক্তব্য-৮ই সেপ্টেম্বর                           ৭৮০ ‘’
২৮৪ বাংলাদেশ সরকারের ভারতস্থ হাইকমিশনার কর্তিক স্বপক্ষ ত্যাগের কারন ব্যাখা ৭৮১ ‘’
২৮৫ বর্হিবিশ্ব প্রচার ভিভাগের একটি সভার কার্যবিবরনী                                                   ৭৮৩ ‘’
২৮৬ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রচার সংক্রান্ত সভার কার্যবিবরনী                                                ৭৮৬ শম্পা সরকার (৭৮৬-৮৭)
২৮৭ ভারতস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার কর্তিক একটি চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে প্রদত্ত বক্তব্য ৭৮৮ ফরহাদ রাকিব (৭৮৮-৯০)
২৮৮ পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বাঙালী কর্মচারীর স্বপক্ষ ত্যাগের পরপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি ৭৯০ ‘’
২৮৯ বাংলাদেশ সংক্রান্ত প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ডঃ এ, আর, মল্লিক-এর ভাষন ১৮ সেপ্টেম্বর   ৭৯১ হাসনাত আমীন (৭৯১-৯৩)
২৯০ জাতিসংঘ প্রেরিত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সম্পর্কে প্রেস বিজ্ঞপ্তি ৭৯২ ‘’
২৯১ পূর্ন স্বাধীনতা আমাদের লক্ষ্য ৭৯৩ ‘’
২৯২ “বাংলাদেশ-কনটেম্পর‍্যারী ইভেন্টস এন্ড ডকুমেন্টস” পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কর্তৃক প্রকাশিত গ্রন্থ এবং তার উপর প্রদত্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তি ৭৯৪ ফারহান শারমিন(৭৯৪-৯৬)
২৯৩ বাংলাদেশ ঘটনাবলীর উপর বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়াঃ বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র দফতর প্রকাশিত একটি পুস্তিকা ৭৯৬

‘’

অতঃপর সাবেরি (৭৯৭-৯৮)

সাফানুর সিফাত (৭৯৯-৮০০)

দিপ্ত আকাশ রায়(৮০১, ৮০৪-০৫)

ওমর ফারুক নাইম (৮০১-০২)

 

এসকে শাহারিয়ার হিমেল

(৮০৬-০৭)

মনিরুল ইসলাম মনি (৮১০-১১)

শিমুল চৌধুরি (৮১২-১৩)

তাসনিয়া লুবনা (৮১৪-১৫)

২৯৪ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর পররাষ্ট্র মন্ত্রানালয়ের জয় প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন ৮১৭

 

আবু মোহাম্মদ ফয়সাল

(৮১৮-১৯)

লামিহা মোহাসিন(৮২০)

ফরহাদ রাকিব (৮২১-২৩)

সাদ্দাম হোসেন বকুল (৮২৪-২৬)

২৯৫ পাকিস্তানের মিশনসমুহের কুটনীতিবদিদের বাংলাদেশ পক্ষাবরম্বনে আরও সংবাদ- ১৩ সেপ্টেম্বর-১ অক্টোবর ৮২৬

‘’

নির্ঝরে স্বপ্নভঙ্গ (৮২৭-২৮)

২৯৬ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের একটি প্রতিবেদন ৮২৯

নুরুন নাহার জুই (৮২৯-৩০)

নিঝুম চৌধুরি (৮৩১-৩৩)

২৯৭ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রস্তুতকৃত একট প্রতিবেদন ৮৩২ ‘’
২৯৮ আন্তর্জাতিক প্রচার সম্পর্কিত একটি অফিস নোট ৮৩৪ রিমি দাস (৮৩৪-৩৬)
২৯৯ বাংলাদেশের সপক্ষে আনুগত্য প্রকাশের আরো ঘটনা অক্টোবরে ৩-৭,১৯৭১ ৮৩৫ ‘’
৩০০ শীতবস্ত্র সংগ্রহ সম্পর্কে একটি আন্তর্জাতিক আবেদন ৮৩৬ ‘’
৩০১ ইয়াহিয়ার বক্তৃতার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র ৮৩৭

কাজী ইসরাত জাহান তন্বী

(৮৩৭-৩৯)

৩০২ নিউইয়র্কের পরিস্থিতি অবহিত করে পররাষ্ট্র সচিবকে লিখিত একটি চিঠি ৮৩৯ ‘’
৩০৩ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত চিঠি                                                                                         ৮৪০ তাসনিয়া লুবনা (৮৪০-৪১)
৩০৪ জাতিসংঘ প্রেরিত বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সম্পর্কে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ৮৪২ রাজিব কুন্ডু (৮৪২-৪৫)

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

ক্রমিক নং বিষয় পৃষ্ঠা অনুবাদকের নাম
৩০৫ ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৮৪৩ ‘’
৩০৬ জাতিসংঘ ও বাংলাদেশঃ একটি প্রতিবেদন ৮৪৫ ‘’
৩০৭ পররাষ্ট্র সচিব কর্তৃক ঘোরাশাল সার কারখানা এলাকায় মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা সম্পর্কে প্রতিরক্ষা সচিবকে লিখিত চিঠি ৮৪৬ নিঝুম চৌধুরি ((৮৪৬-৪৮)
৩০৮ বাংলাদেশের কূটনীতিকে পাকিস্তান দূতাবাস থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিবের হস্তক্ষেপ কামনা ৮৪৮ ‘’
৩০৯ বাংলাদেশের স্বপক্ষে দূতাবাস কর্মীদের আনুগত্য প্রকাশের আরও ঘটনা-নভেম্বর ২-৮ ৮৫০

 

সুদিপ্ত কুমার ধর (৮৫১-৫৩)

৩১০ পাকিস্তান দুতাবাসে বাংলাদেশী কর্মচারীকে আটক সংক্রান্ত সংবাদ ৮৫২ ‘’
৩১১ জনাব মওদুদ আহমেদ ( বহির্বিশ্ব প্রচার বিভাগ) কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে লিখিত চিঠি                                                                     ৮৫৩ ‘’
৩১২ বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত প্রতিনিধির একট তালিকা                                                                                                 ৮৫৫ অর্পন ভট্টাচার্য (৮৫৪-৮৫৪-৫৭)
৩১৩ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে লিখিত চিঠি ৮৫৮

তাসরিফ তানিম চৌধুরি (৮৫৮)

ইলিয়াস কমল (৮৬১-৬২)

৩১৪ আন্তর্জাতিক প্রচার সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন ৮৬২ ‘’
৩১৫ মুক্তিবাহিনীর সাফল্য সম্পর্কে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ৮৬৩ ফারহানা শারমিন (৮৬৩-৬৫)
৩১৬ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে লিখিত চিঠি ৮৬৪ ‘’
৩১৭ ভারতীয় স্বীকৃতি দানের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রেস বিজ্ঞপ্তি ৮৬৬ জান্নাত আরা জোতি (৮৬৬)
৩১৮ ১৬ই ডিসেম্বরে জাতির উদ্দেশে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষণ ৮৬৭
৩১৯ বুদাপেষ্টে অনুষ্ঠিত বিশ্বশান্তি সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি জনাব এম, এ, সামাদের বক্তৃতা ৮৭২

সামিয়া সুলতানা (৮৭২-৭৪)

 

তাসনিয়া লুবনা (৮৮০-৮১)

জয় সাহা মোহন (৮৮২)

৩২০ পররাষ্ট্র দপ্তরের জন্য প্রস্তুতকৃত পাকিস্তান সরকারের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে কয়েকটি মূল্যায়ন ৮৮৩

সাফানুর সিফাত (৮৮৩-৮৫)

সালাউদ্দিন ফেরদৌস (৮৮৭-৯১)

৩২১ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ সম্পর্কে একটি খতিয়ান ৮৯২ রায়্যান রন (৮৯২-৯৬)
৩২২ বিদেশে অবস্থানরত বাঙালীদের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের আবেদন ৮৯৪ ‘’
৩২৩ বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী কূটনীতিকদের নামের একটি তালিকা ৮৯৭

রায়ান রন (৮৯৭-৮৯৯)

সুদিপ্ত কুমার ধর (৯০০)

৩২৪ বাংলাদেশ সরকারের জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের সদস্য কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানের আবেদন ৯০১

 

সাফানুর সিফাত (৯০৭-৯০৮)

৩২৫ “বাংলাদেশ” উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ৯০৯

অর্পন ভট্টাচার্য (৯০৯)

দেবজানী মদাক (৯১০-১২)

৩২৬ ভারতস্থ বাংলাদেশ মিশন প্রধান কর্তৃক বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে পাঠানো টেলিগ্রাম ৯১২ ‘’
৩২৭ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক সাহায্য সামগ্রীর অপব্যবহার সম্পর্কিত টেলিগ্রাম ৯১৩

হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ

( ৯১৩-১৪)

৩২৮ বহির্বিশ্ব প্রচার বিভাগের সম্প্রসারণ সম্পর্কে একটি সরকারী পরিকল্পনা ৯১৪ ‘’
৩২৯ বিদেশী প্রতিনিধিদলের সাথে যোগাযোগ ও প্রচার সম্প্রসারণের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরনী ৯১৭

 

সৈকত জয়ধর ( ৯১৮-২০)

৩৩০ বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিতব্য ডাকটিকিটের হার জানিয়ে বিদেশে লিখিত একটি চিঠি ৯১৯ ‘’
৩৩১ বাংলাদেশ সরকারের যশোর পোষ্টমাস্টার কর্তৃক বিদেশে লিখিত একটি চিঠি ৯২১
৩৩২ বাংলাদেশ সরকারের প্রথম ডাকটিটিক প্রকাশের সংবাদ ৯২২
৩৩৩ ডাকটিকিট প্রচার সম্পর্কে বৃটিশ এম-পি জন ষ্টোনহাউস-এর চিঠি ৯২৪

নিঝুম চৌধুরি (৯২৪-২৬)

অভিক হাসান ( ৯২৭)

৩৩৪ নির্ঘন্ট ৯২৯

 

 

 

 

 

 

<003.001.001>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রচারিত স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশ সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বহির্বিশ্ব প্রচার বিভাগ কতৃক প্রকাশিত পুস্তিকা- “বংগবন্ধু স্পিকস” ২৬ মার্চ, ১৯৭১

 

 

স্বাধীনতার ঘোষনা

 

হতে পারে এটা আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগন কে আহ্বান করছি, আপনারা যে যেখানে আছেন এবং যার যা আছে তা দিয়ে শেষ পর্যন্ত দখলদার বাহিনীদের প্রতিহত করুন। দেশের মাটি হতে পাকিস্তানের শেষ দখলদার সৈন্যের বিদায় এবং বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়া পর্যন্ত আপনাদের এক হয়ে থাকতে হবে।

 

 

[ ২৫ মার্চ, মধ্যরাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চ ১৯৭১, প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনার সংগঠিত বার্তাটি এক্স-ইপিআর ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে চট্টগ্রামে প্রেরন করেন। ]

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.002.002>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান কতৃক স্বাধীনতার ঘোষনা*

স্বাধীন বাংলা বেতার প্রচারিত অনুষ্ঠানমালার টেপরেকর্ড, ২৭ মার্চ, ১৯৭১ ; দি স্টেটসম্যান,

দিল্লী, ২৭ মার্চ, ১৯৭১

২৭ মার্চ, ১৯৭১

 

স্বাধীনতার ঘোষনা

 

 

মেজর জিয়া, বাংলাদেশের প্রাদেশিক সৈন্যদলের কমান্ডার-ইন-চীফ, শেখ মুজিবুর রহমানের হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা করলেন।

 

একই সঙ্গে আমি ঘোষনা করছি, শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা ইতিমধ্যেই একটি সার্বভেৌম ও বৈধ সরকার গঠন করেছি, যা সব নিয়ম এবং সংবিধান অনুযায়ী চলতে অঙ্গিকারবদ্ধ।।

 

এই নতুন গণতান্ত্রিক সরকার আর্ন্তজাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জোট-নিরপেক্ষতায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সব জাতির সাথে বন্ধুত্ব রাখবে এবং শান্তিরক্ষার জন্য সংগ্রাম করবে।

 

আমি সব সরকারের কাছে আবেদন করছি বাংলাদেশে নৃশংস গনহত্যার বিরুদ্ধে জনমত ঘটন করতে।

 

শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশের সার্বভৌম বৈধ সরকার এবং বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক দেশের কাছে স্বীকৃতি দাবী করছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.003.003>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের গণহত্যা রোধে এগিয়ে আসার জন্য জাতিসংঘ ও বৃহৎ শক্তিবর্গের প্রতি মেজর জিয়ার আহবান শব্দসৈনিক”- শহীদুল ইসলাম সম্পাদিত (১৯৭২)। বেতার বাংলা, বিজয় দিবস সংখ্যা ১৯৭৮ ৩০ মার্চ, ১৯৭১

 

হইতে                                                                    মেজর                                                                 জিয়া

ঘোষণাঃ

পাঞ্জাবীরা চিটাগাং শহরে স্বাধীন বাংলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দমনের জন্য ৩য় কমান্ডো ব্যাটালিয়নকে কাজে লাগিয়েছিল। কিন্তু তাদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে এবং অনেককে হত্যাও করা হয়েছে।

 

পাঞ্জাবীরা বেসামরিক আবাসস্থল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসের জন্য এফ-৮৬ এয়ারক্রাফটের যথেচ্ছ ব্যবহার করেছে। তারা নৃশংসভাবে বেসামরিক জনগণ, নারী, পুরুষ এবং শিশুদেরকে হত্যা করেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত…..শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলেই হাজার হাজার সোমরিক বাঙালি হত্যা করা হয়েছে।

 

স্বাধীন বাংলার মুক্তি বাহিনী পাঞ্জাবীদের এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পিছু হঠতে বাধ্য করছে।

বর্তমানে পাঞ্জাবীরা ২ ব্রিগেড সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী ব্যবহার করছে। প্রকৃত অর্থে এটি একটি যৌথ অভিযান।

 

আমি জাতিসংঘ ও অন্যান্য শক্তিশালী রাষ্ট্রকে আবারও অনুরোধ করছি হস্তক্ষেপ করতে এবং সরাসরি আমাদের সাহায্য করতে। দেরি মানেই আরও লাখ লাখ মানুষের মৃত্য।

 

 

স্বাক্ষর

মেজর জিয়াউর রহমান

৩১/৩/৭১

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

*স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রচারের জন্য জাতিসংঘ ও বৃহৎ শক্তিবর্গের প্রতি মেজর জিয়ার স্বহস্ত লিখিত আবেদনপত্রের অনুলিপি হতে। উল্লেখ্য যে, মূল কপিতে সাক্ষর প্রদানকালে তিনি ভুলক্রমে ৩০শে মার্চের স্থলে ৩১ মার্চ লিখেছিলেন।

 

 

 

 

 

<003.004.004>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাংলাদেশ সরকার ১০ এপ্রিল, ১৯৭১

 

 

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র

                                                                                     মুজিবনগর, বাংলাদেশ

তারিখ ১০ এপ্রিল, ১৯৭১

 

যেহেতু ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়েছিল,

এবং

যেহেতু এই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৬৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিল,

এবং

যেহেতু জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ তারিখে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধিবেশন আহ্বান করেন,

এবং

যেহেতু তিনি এই অধিবেশন স্বেচ্ছায় এবং বেআইনীভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন,

এবং

যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করার পরিবর্তে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পারষ্পরিক আলোচনাকালে অন্যায় ভাবে এবং প্রতারণা করে যুদ্ধ ঘোষণা করে,

এবং

যেহেতু উল্লেখিত প্রতারণামূলক কাজের জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ ঢাকায় স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান,

এবং

যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বর্বর ও নৃশংস যুদ্ধ পরিচালনা করেছে এবং এখনও বাংলাদেশের বেসামরিক ও নিরস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন গণহত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে,

এবং

যেহেতু পাকিস্তান সরকার অন্যায় যুদ্ধ ও গণহত্যা এবং নানাভাবে নৃশংস অত্যাচার চালিয়ে বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিদের একত্রিত হয়ে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব করে তুলেছে,

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.004.005>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

এবং

যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের কার্যকরি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে,

 

আমরা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ যে ক্ষমতা দিয়েছেন, সে মোতাবেক, তাদের সর্বোচ্চ চাওয়া দ্রষ্টব্য যে আমাদের সংগঠিত করে একটি শাসনণতন্ত্র গঠন করা। সমাবেশ করে পারষ্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে

 

বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা গঠন করছি এবং আগেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা নিশ্চিত করছি, এবং

 

এতদ্বারা আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন, এবং

 

রাষ্ট্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন,

 

ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতাসহ সর্বপ্রকার প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতার অধিকারী থাকবেন,

 

প্রয়োজন মনে করলে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী নিয়োগের ক্ষমতা রাখবেন,

 

কর ধার্য করা ও অর্থব্যয়ের ক্ষমতা থাকবে,

 

বাংলাদেশের জনসাধারণের জন্য আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতারও তিনি অধিকারী হবেন।

 

আমরা, বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, কোনো কারণে যদি রাষ্ট্রপ্রধান না থাকেন অথবা যদি রাষ্ট্রপ্রধান কাজে যোগদান করতে না পারেন অথবা যে কোনো কারণেই তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে যদি অক্ষম হন, তবে রাষ্ট্রপ্রধানের সকল ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পালন করবেন।

 

আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, বিশ্বের একটি জাতি হিসাবে এবং জাতিসংঘের সনদ মোতাবেক আমাদের উপর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তেছে তা যথাযথভাবে আমরা পালন করবো।

 

আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমাদের এই স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

 

আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমাদের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য আমরা অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলীকে যথাযথভাবে রাষ্ট্রপ্রধান ও উপ-রাষ্ট্রপ্রধানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য দায়িত্ব অর্পণ ও নিযুক্ত করলাম।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.005.006>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ

আস্থায়ী রাষ্ট্রপতি কতৃক আইন

বলবৎকরন আদেশ জারী

বাংলাদেশ সরকার, পররাষ্ট্র মন্তনালয়ের বহির্বিশ্ব প্রচার বিভাগ কতৃক প্রকাশিত পুস্তিকা বাংলাদেশঃ কন্টেম্পরারি ইভেন্ট এ্যান্ড ডকুমেন্টস ১০ এপ্রিল ১৯৭১

 

 

আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ

মুজিবনগর,

তারিখ ১০ এপ্রিল ১৯৭১

 

আমি, বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে এ আদেশ জারি করছি যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একইভাবে চালু থাকবে, তবে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য করা যাবে। এই রাষ্ট্র গঠন বাংলাদেশের জনসাধারণের ইচ্ছায় হয়েছে। এক্ষণে, সকল সরকারি, সামরিক, বেসামরিক, বিচার বিভাগীয় এবং কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী যারা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেছেন, তারা এতদিন পর্যন্ত নিয়োগবিধির আওতায় যে শর্তে কাজে বহাল ছিলেন, সেই একই শর্তে তারা চাকুরিতে বহাল থাকবেন। বাংলাদেশের সীমানায় অবস্থিত সকল জেলা জজ এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সকল কূটনৈতিক প্রতিনিধি যারা অন্যত্র অবস্থান করছেন, তারা সকল সরকারি কর্মচারীকে স্ব স্ব এলাকায় আনুগত্যের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন।

 

এই আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়েছে বলে গণ্য করতে হবে।

 

স্বাক্ষর:- সৈয়দ নজরুল ইসলাম

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.006.007>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

                   শিরোনাম                      সূত্র                      তারিখ

বাংলাদেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

তাজউদ্দীন আহমেদের ভাষণ

           বাংলাদেশ সরকার,

গণসংযোগ বিভাগ

                   ১১, এপ্রিল, ১৯৭১

 

বাংলাদেশবাসীর উদ্দেশে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে

প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন আহমদের বেতার ভাষণ

(স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হ’তে ১১-৪-৭১ তারিখে প্রচারিত)

 

স্বাধীন বাংলাদেশের বীর ভাইবোনেরা,

বাংলদেশের সাড়ে সাত কোটি মুক্তিপাগল গণমানসের নেতা বজ্ঞবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে আমি আপনাদেরকে আমার সংগ্রামী অভিনন্দন জানাচ্ছি আমরা শ্রদ্ধাভিরে স্মরণ করছি তাঁদের যাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে গিয়ে তাঁদের মূল্যবান জীবন আহূতি দিয়েছেন যতদিন বাংলার আকাশে চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা রইবে, যতদিন বাংলার মাটিতে মানুষ থাকবে ততদিন মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামের বীর শহীদদের অমর স্মৃতি বাঙালীর মানসপটে চির অম্লান থাকবে।

 

২৫শে মার্চ মাঝরাতে ইয়াহিয়া খান তার রক্তলোলুপ সাঁজোয়া বাহিনীকে বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর লেলিয়ে দিয়ে যে নরহত্যাযজ্ঞের শুরু করেন তা প্রতিরোধ করবার আহবান জানিয়ে আমাদের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন। আপনারা সব কালের সব দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী মানুষের সাথে আজ একাত্ম। পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার দস্যুবাহিনীর বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ আপনারা গড়ে তুলেছেন তা এমন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে যে, পৃথিবীর সমস্ত স্বাধীনতাকামী মানুষের কাছে আপনাদের এ অভূতপূর্ব সংগ্রাম সর্বকালের প্রেরণার উৎস হয়ে রইল। প্রত্যেক দিনের সংগ্রামের দিনপঞ্জী আমাদের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করছে, বিশ্বের কাছে আমাদের গৌরব বৃদ্ধি করছে।

 

আপনাদের অদম্য সাহস ও মনোবল যা দিয়ে আপনারা রুখে দাঁড়িয়েছেন ইয়াহিয়ার ভাড়াটে দস্যুদের বিরুদ্ধে, তার মধ্যে দিয়ে আপনারা এইটেই প্রমাণ করেছেন যে, যুদ্ধক্ষেত্রাস্তীর্ণ ধবংসাবশেষের মধ্য দিয়ে ধূলি-কাদা আর রক্তের ছাপ মুছে এক নতুন বাঙালী জাতি জন্ম নিল। পৃথিবীর কাছে আমরা ছিলাম এক শান্তিপ্রিয় মানুষ। বন্ধুবাৎসল্যে, মায়া ও হাসি-কান্নায়, গান, সংস্কৃতি আর সৌন্দর্যের ছায়ায় গড়ে ওঠা আমরা ছিলাম পল্লী-বাংলার মানুষ। পৃথিবী ভাবত, আমরাও ভাবতাম যুদ্ধ ও রণঢংকা আমাদের থেকে অনেক দূরে। কিন্তু আজ?

 

আমাদের মানবিক মূল্যবোধ ও আদর্শের পতাকা সমুন্নত রেখে আমরা আবার প্রমাণ করেছি যে আমরা তীতুমীর-সূর্য্যসেনদের বংশধর স্বাধীনতার জন্যে যেমন আমরা জীবন দিতে পারি, তেমনি আমাদের দেশ থেকে বিদেশী শত্রুসেনাদের চিরতরে হটিয়ে দিতেও আমরা সক্ষম। আমাদের অদম্য সাহস ও মনোবলের কাছে শত্রু যত প্রবল পরাক্রম হোক না কেন, পরাজয় বরণ করতে বাধ্য। আমরা যদি প্রথম আঘাত প্রতিহত করতে ব্যর্থ হতাম তাহলে নতুন স্বাধীন প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হয়ত কিছুদিনের জন্য হলেও পিছিয়ে যেত। আপনারা শত্রুসেনাদের ট্যাঙ্ক ও বোমারু বিমানের মোকাবিলা করেছেন এবং আপনাদের যার হাতে যে অস্ত্র ছিল তাই নিয়েই রুখে দাঁড়িয়েছেন এবং তাদেরকে পিছু হটে গিয়ে নি শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে। বাংলাদেশে

 

 

 

 

 

 

 

<003.006.008>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

আজ স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ মুক্ত। বৈদেশিক সাংবাদিকরা আজ স্বাধীন বাংলাদেশের যে কোন জায়গায় বিনা বাধায় ঘুরে বেড়াতে পারেন এবং আপনাদের এ বিজয়ের কথা তাঁরা বাইরে জগৎকে জানাচ্ছেন।

আজ প্রতিরোধ আন্দোলনের কথা গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গেছে। হাজার হাজার মানুষ আজকের এই স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়েছেন। বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ই, পি, আর-এর বীর বাঙালী যোদ্ধারা এই স্বাধীনতা সংগ্রামের যে যুদ্ধ তার পুরোভাগে রয়েছেন এবং তাদেরকে কেন্দ্র করে পুলিশ, আনসার, মোজাহিদ, আওয়ামীলীগ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী, ছাত্র, শ্রমিক ও অন্যান্য হাজার হাজার সংগ্রামী মানুষ এই যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে এদেরকে সমর কৌশলে পারদর্শী করা হয়েছে ও শত্রুদের কাছে থেকে ছিনিয়ে নেয়া অস্ত্র ও গোলা-বারুদ দিয়ে বাংলার এ মুক্তিবাহিনীকে শত্রুদের মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সাগরপারের বাঙালী ভাইয়েরা যে যেখানে আছেন আমাদেরকে অস্ত্র ও অন্যান্য সাযায্য পাঠাচ্ছেন।

সিলেট ও কুমিল্লা অঞ্চলে বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর খালেদ মোশাররফকে আমরা সমর পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছি। খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিবাহিনী অসীম সাহস ও কৃতিত্বের সাথে শত্রুর সংগে মোকাবেলা করেছেন এবং শত্রুসেনাদেরকে সিলেট ও কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্টের ছাউনিতে ফিরে যেতে বাধ্য করেছেন। আমাদের মুক্তিবাহিনী শীঘ্রই শত্রুকে নিঃশেষ করে দেবার সংকল্প গ্রহন করেছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মেজর সফিউল্লার উপর। ময়মনসিংহ ও টাংগাইল এলাকা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করে আমাদের মুক্তিবাহিনী ঢাকার দিকে অগ্রসর হবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পূর্বাঞ্চলের এই তিনজন বীর সমর পরিচালক ইতিমধ্যে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন এবং একযোগে ঢাকা রওনা হবার পূর্বেই পূর্বাঞ্চলের শত্রুদের ছোট ছোট শিবিরগুলোকে সমূলে নিপাত করবার পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন।

চট্টগ্রাম ও নোয়াখলী অঞ্চলের সমর পরিচালনার ভার পড়েছে মেজর জিয়াউর রহমানের ওপর। নৌ, স্থল ও বিমান বাহিনীর আক্রমণের মুখে চট্টগ্রাম শহরে যে প্রতিরোধসমূহ গড়ে উঠেছে এবং আমাদের মুক্তিবাহিনী ও বীর চট্রলের ভাই-বোনেরা যে সাহসিকতার সাথে শত্রুর মোকাবেলা করেছেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এই প্রতিরোধ স্ট্যালিনগ্রাডের পাশে স্থান পাবে। এই সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিরোধের জন্য চট্টগ্রাম আজও শত্রুর কবলমুক্ত রয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের কিছু অংশ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সম্পূর্ণ নোয়াখালী জেলাকে “মুক্ত এলাকা” বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ ও টাংগাইল অঞ্চলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মেজর সফিউল্লার উপর। ময়মনসিংহ ও টাংগাইল এলাকা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করে আমাদের মুক্তিবাহিনী ঢাকার দিকে অগ্রসর হবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পূর্বাঞ্চলের এই তিনজন বীর সমর পরিচালক ইতিমধ্যে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন এবং একযোগে ঢাকা রওনা হবার পূর্বেই পূর্বঞ্চাওলের শত্রুদের ছোট ছোট শিবিগুলোকে সমূলে নিপাত করবার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে ই,পি আর এর বীর সেনানী মেজর ওসমানের ওপর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কুষ্টিয়া ও যশোহর জেলার। কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক বিজয়ের পর আমাদের মুক্তিবাহিনী সমস্ত এলাকা থেকে শত্রুবাহিনীকে বিতাড়িত করেছে এবং শত্রুসেনা এখন যশোহর ক্যান্টনম্যান্ট ও খুলনা শহরের একাংশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। মেজর জলিলের ওপর ভার দেয়া হয়েছে ফরিদপুর-খুলনা-বরিশাল-পটুয়াখালীর।

উত্তরবংগে আমাদের মুক্তিবাহিনী মেজর আহমদের নেতৃত্বে রাজশাহীকে শত্রুর কবল থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করেছেন। মেজর নজরুল হক সৈয়দপুরে ও মেজর নেয়াজেশ রংপুরে শত্রুবাহিনীকে সম্পূর্ন অবরোধ করে বিব্রত করে তুলেছেন। দিনাজপুর, পাবনা ও বগুড়া জেলাকে সম্পূর্ন মুক্ত করা হয়েছে। রংপুর ও সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা ছাড়া জেলার বাকি অংশ এখন মুক্ত।

স্বাধীনতা সংগ্রামে আমাদের এ অভূতপূর্ব সাফল্য ভবিস্যতে আরও নতুন সাফল্যের দিশারী। প্রতিদিন আমাদের মুক্তিবাহিনীর শক্তি বেড়ে চলেছে। একদিকে যেমন হাজার হাজার মানুষ মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে, তেমনি শত্রুর আত্মসমর্পণের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। আর এই সংগে আমাদের নিয়ন্ত্রণে আসছে শত্রুর কেটে নেয়া হাতিয়ার। এই প্রথমিক বিজয়ের সাথে সাথে মেজর জিয়াউর রহমান একটি পরিচালনা কেন্দ্র গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকে আপনারা শুনতে পান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কন্ঠস্বর। এখানেই প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়।

 

 

 

 

 

 

 

<003.006.009>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

আপাততঃ আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান কার্যালয় স্থাপিত হয়েছে দক্ষিন- পশ্চিম অঞ্চলের মুক্ত এলাকায়। পূর্বাঞ্চলের সরকারী কাজ পরিচালনার জন্যে সিলেট-কুমিল্লা এলাকায় বাংলাদেশ সরকারের আর একটি কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।

আমরা এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংবাদপত্রের প্রতিনিধি, কুটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের আমন্ত্রন জানাচ্ছি, তাঁরা যেন স্বচক্ষে এবং সরেজমিনে দেখে যান যে স্বাধীন বাংলাদেশ আজ সত্যে পরিণত হয়েছে। সাথে সাথে আমরা সমস্ত বন্ধুরাষ্ট্র ও পৃথিবীর সমস্ত সহানুভূতিশীল ও মুক্তিকামী মানুষের কাছে ও ‘রেডক্রস’ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে সাহায্যের আহ্বান জানাচ্ছি। যাঁরা আমাদের সাহায্য করতে ইচ্ছুক অথচ বর্বর ইসলামাবাদ শক্তি যাঁদের এই মানবিক কাজটুকু করবার বিরুদ্ধে নিষেধ উঁচিয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁরা এখন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন।

আমরা যদিও বিদেশ পাঠানো ত্রানসামাগ্রীর জন্যে কৃতজ্ঞ; কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, আজকের দিনে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ত্রাণের বাণী বয়ে আনতে পারে উপযুক্ত এবং পর্যাপ্ত হাতিয়ার, যা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ হানাদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে এবং রক্ষা করতে পারে তাঁর ও তাঁর প্রিয় পরিজনের জান, মাল আর সম্ভ্রম।

বৃহৎ শক্তিবর্গের অস্ত্রাগারে আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত জেনারেল ইয়াহিয়ার হানাদার বাহিনী আজ আমাদের শান্তিপ্রিয় ও নিরস্ত্র বাঙালীর কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেয়ার এক পৈশাচিক উন্মত্ততায় মত্ত। আমরা সেইসব বৃহৎ শক্তিবর্গের কাছে মানবতার নামে আবেদন জানাচ্ছি, যেন এই হত্যাকারীদের হাতে আর অস্ত্র সরবরাহ করা না হয়। এ সমস্ত অস্ত্র দেয়া হয়েছিল বিদেশী শত্রুর আক্রমন থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্যে-বাংলার নিষ্পাপ শিশুদেরকে ও নিরাপরাধ নরনারীকে নির্বিচারে হত্যা করার জন্যে নিশ্চয়ই এ অস্ত্র তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়নি। বাংলাদেশের কৃষক-শ্রমিকের মাথায় ঘাম পায়ে ফেলে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে যে অস্ত্র কেনা হয়েছে এবং যাদের টাকায় ইয়াহিয়া খানের এই দস্যুবাহিনী পুষ্ট, আজ তাদেরকেই নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। আমরা অস্ত্র সরবরাহকারী শক্তিবর্গের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে, যে অস্ত্র তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়ছে সে অস্ত্র দিয়ে সাড়ে সাত কোটি বাঙালীকে স্তব্ধ করে দেয়ার প্রয়াস বন্ধ করতে হবে।

পৃথিবীর জনমতকে উপেক্ষা করে আজও ইয়াহিয়ার ভাড়াটে দস্যুরা বাংলাদেশের বুকে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা সমসত দেশের কাছে অস্ত্র সাহায্য চাচ্ছি এবং যাঁরা জাতীয় জীবনে স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ মূল্য দিয়ে এসেছেন ও নিজেদের দেশেও হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তাঁরা আমাদের এ ডাকে সাড়া না দিয়ে পারবেন না, এ বিশ্বাস আমরা রাখি।

বিদেশী বন্ধুরাষ্ট্রসমূহের কাছে যে অস্ত্র সাহায্য আমরা চাইছি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে- একটি স্বাধীন দেশের মানুষ আর একটি স্বাধীন দেশের মানুষের কাছে। এই সাহায্য আমরা চাই শর্তহীনভাবে এবং আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি তাঁদের শুভেচ্ছা ও সহানুভূতির প্রতিক হিসেবে- হানাদারদের রুখে দাঁড়াবার এবং আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে, যে অধিকার মানবজাতির শাশ্বত অধিকার। বহু বছরের সংগ্রাম, ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন বাংলাদেশের পত্তন করেছি। স্বাধীনতার জন্যে যে মূল্য আমরা দিয়েছি তা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের উপরাষ্ট্র হবার জন্যে নয়। পৃথিবীর বুকে স্বাধীন ও সার্বভৌম একটি শান্তিকামী দেশ হিসেবে রাষ্ট্রপরিবারগোষ্ঠীতে উপযুক্ত স্থান আমাদের প্রাপ্য। এ অধিকার বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্মগত অধিকার।

আমাদের বাঙালী ভাইয়েরা, আপনারা পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে থাকুন না কেন, আজকে মাতৃভূমির এই দুর্দিনে সকল প্রকার সাহায্য নিয়ে আপনাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে অস্ত্র কিনে আমাদের মুক্ত এলাকায় পাঠিয়ে দিন, যাতে করে আমাদের মুক্তিবাহিনীর সৈনিকরা অতি সত্ত্বর সে অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে তার মাতৃভূমিকে রক্ষা করবার কাজে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.006.010>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

ইতিমধ্যেই আমাদের বাংলাদেশের ঘরে ঘরে প্রত্যেকেই নিজেদের হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছেন। যাঁদের হাতে আজও আমরা আধুনিক অস্ত্র তুলে দিতে পারিনি তাঁদেরকে আহবান জানাচ্ছি, যার হাতে য আছে তাই নিয়ে লড়াইয়ে অংশ নিন। আমাদের স্থির বিশ্বাস যে, শীঘ্রই আপনাদের হাতে আমরা আধুনিক অস্ত্র তুলে দিতে পারব। ইতিমধ্যে প্রত্যেক আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের ট্রেনিং নেবার জন্য নিকতবর্তী সংগ্রাম পরিষদের সংগে যোগাযোগ করুন। যাঁদের হাতে আধুনিক অস্ত্র নেই তাঁদেরও জনযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং ক্ষমতা রয়েছে। শত্রুর ছত্রী ও গুপ্তবাহিনীকে অকেজো করে দেবার কাজে আপনি সক্রিয় অংশ গ্রহণ করতে পারেন। সম্মুখসমরে কাজ না করতে পারলেও আপনি রাস্তা কেটে, পুল উড়িয়ে দিয়ে এবং আরো নানাভাবে আপনার উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে শত্রুকে হয়রান ও কাবু করতে পারেন। নদীপথে শত্রু যাতে না আসতে পারে তার সম্ভাব্য সমস্ত ব্যবস্থা আপনাকেই গ্রহণ করতে হবে ও সবদিকে কড়া দৃষ্টি রাখতে হবে। নদীপথে সমস্ত ফেরী, লঞ্চ ও ফ্ল্যাট অকেজো করতে দিতে হবে। এ সমস্ত দায়িত্ব পালন করার জন্যে স্থানীয় সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ছোট ছোট দলে সংগঠিত হতে হবে। এর জন্যে আপনার এলাকার সমরপরিচালকের সাথে সংগ্রাম পরিদষদেরর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে এবং তাঁর আদেশ ও নির্দেশাবলী মেনে চলতে হবে।

যুদ্ধে অংশ নেয়া ছাড়াই বাংলাদেশকে সব দিকে দিয়ে বাঁচিয়ে রাখবার দায়িত্বকেও অবহেলা করলে চলবে না। শাসনকার্যে অভিজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট বাঙালী অফিসারদের মধ্যে যাঁরা এখনও আমাদের সাথে যোগ দিতে পারেননি, তাঁরা যে যেখানে থাকুন না কেন, আমরা তাঁদের মুক্ত এলাকায় চলে আসতে আহবান জানাচ্ছি। অনুরুপভাবে আমরা আহবান জানাচ্ছি সমস্ত বুদ্ধিজীবী, টেকনিশিয়ান, ইঞ্জিনিয়ার, সংবাদপত্রসেবী, বেতারশিল্পী, গায়ক ও চারুশিল্পীদের-তাঁরা যেন অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। আমাদের সামনে বহুবিধ কাজ, তার জন্যে বহু পারদর্শীর প্রয়োজন এবং আপনারা প্রত্যেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার সুযোগ পাবেন। আমরা বিশেষ করে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে বাংলাদেশের এই সংঘবন্ধ জনযুদ্ধে সামিল হতে আহবান জানাচ্ছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে সাড়ে সাত কোটি মানুষের এই ঐতিহাসিক প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা আন্দোলনকে চিরচারিত রাজনৈতিক গন্ডীর ঊর্ধ্বে রাখবার জন্যে আমরা আবেদন জানাচ্ছি।

হানাদার শত্রুবাহিনীর সাথে কোন প্রকার সহযোগিতা করা বা সংশ্রব রাখা চলবে না। বাংলাদেশে আজ কোন মীরজাফরের স্থান নেই। যদি কেউ হঠাৎ করে নেতা সেজে শত্রুসৈন্যের ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক গোর থেকে গাত্রোথান করতে চায়, যাদেরকে গত সাধারন নির্বাচনে বাংলার মানুষ ঘৃণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তারা যদি এই সুযোগে বাংলাদেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়, তবে বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিবে। তারা সাড়ে সাত কোটি বাংলাদেশবাসীর রোষবহ্নিতে জ্বলে খাক হয়ে যবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমাদের দেশের উপর একটা যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হতে বাধ্য। হয়ত কোথাও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ঘাটতি দেখা যেতে পারে।

আমাদের উচিত হবে যতদূর সম্ভব ব্যয় সংকোচ করা এবং জিনিসপত্র কম ব্যবহার করা। দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের কাছে বিশেষ অনুরোধ তাঁরা যেন মজুতদারী ও কালোবাজারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং জিনিসপত্রের দাম যাতে সাধারণ লোকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে না যায় তার দিকে দৃষ্টি রাখেন।

এ যুদ্ধে যে আমদের জয় অবশ্যম্ভাবী তাতে সন্দেহের কারণ নেই। আপনারা ইতিমধ্যে সাহস ও ত্যাগের বিনিময়ে যে বিজয় অর্জন করেছেন শত্রুপক্ষ আজকে তা স্পষ্টই বুঝতে পেরেছে। তারা ভেবেছিল যে, আধুনিক সমরসজ্জায় এবং কামানের গর্জনের নীচে স্তব্ধ করে দেবে বাঙালীর ভবিষ্যৎ আশা-ভরসা আর চোখ রাঙিয়ে ভয় দেখিয়ে বাঙালীকে তারা বুটের নীচে নিষ্পেষন করবে। কিন্তু তাদের সে আশা আজ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। আমরা তাদের মারমুখি আক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে আছি এবং তাঁদেরকে যে প্রতিনিয়ত হটিয়ে দিচ্ছি এতে

 

 

 

 

 

 

 

<003.006.011>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গেছে। তাদের খাদ্য সরবরাহের সকল পথ আজ বন্ধ- ঢাকার সাথে আজ তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। উড়োজাহাজ থেকে খাবার ফেলে এদেরকে ইয়াহিয়া খান আর বেশী দিন টিকিয়ে রাখতে পারবে না। ওদের জ্বলানী সরবরাহের লাইন আমাদের মুক্তিবাহিনী বন্ধ করে দিয়েছে। ইয়াহিয়ার উড়োজাহাজ আর বেশী দিন বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে না। বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি উত্তাল জনসমূদ্রের মাঝখানে ওরা আজকে বিছিন্ন দ্বীপের মত। বাংলাদেশের আকাশে শীঘ্রই ঝড়ের মাতন শুরু হচ্ছে। ওরা জানে ওরা হানাদার। ওরা জানে ওদের বিরুদ্ধে প্রথিবীর সমস্ত মানুষের ভ্রূকুটি ও ঘৃণা। ওরা ভীত, ওরা সন্ত্রস্ত মৃত্যু ওদের সামনে পরাজয়ের পরোয়ানা নিয়ে হাজির। তাই ওরা উন্মাদের মত ধ্বংস লীলায় মেতে উঠেছে।

পৃথিবী আজ সজাগ হয়েছে। পৃথিবীর এই অষ্টম বৃহৎ রাষ্ট্র বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্বের মানুষ, যেখানে ওরা এ ধবংসের খেলায় মেতে উঠছে। বিশ্বের মানুষ আজ আর ইসলামাবাদ সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মিথ্যা যুক্তি আর অজুহাত স্বীকার নিতে রাজি নয়। যে সমস্ত সাংবাদিক বাংলাদেশের এই যুদ্ধের ভয়াবহতা ও নৃশংসতা থেকে অব্যাহিতি পেয়েছেন তারা ইয়াহিয়ার এই অন্যায় ও অমানবিক যুদ্ধ আর ধবংসলীলার বিরুদ্ধে নিন্দা জানাচ্ছেন। অপরপক্ষে যে সমস্ত সাংবাদিক আমাদের মুক্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে তাঁরা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের মানুষের এই বীর প্রতিরোধ যুদ্ধের খবর- আর বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ইয়াহিয়া সরকারের ধ্বংস ও তান্ডবলীলার চাক্ষুস প্রমাণ।

ইতিমধ্যে সোভিয়েত রাশিয়া এবং ভারতবর্ষ এই নির্বিচার গনহত্যার বিরুদ্ধে তাঁদের হুশিয়ারী উচ্চারন করেছে এবং সোভিয়েত রাশিয়া অবিলম্বে এই হত্যাযজ্ঞ ও নিপীড়ন বন্ধ করবার আহবান জানিয়েছেন। গ্রেট ব্রিটেনও বাংলাদেশের এ অবস্থা সম্পর্কে সজাগ হয়ে উঠেছে। যে সমস্ত পাকিস্তানী বিমান মৃত্যুর সরঞ্জাম নিয়ে ঢাকা আসার পথে জ্বালানী সংগ্রহ করছিল তাদেরকে জ্বালানী সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র সিংহল ও ব্রক্ষ্মদেশ।

যদিও কোন কোন দেশ বাংলাদেশের ঘটনাবলীকে পাকিস্তানের আভ্যন্তরীন ব্যাপার বলে অভিহিত করেছেন, তবু একথা এখন দিবানলোকের মত সত্য হয়ে গেছে যে সাড়ে সাত কোটি মানুষেকে পিষে মারার চেষ্টা, তাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করে দেবার ষড়যন্ত্র একটি আন্তর্জাতিক ব্যাপারে পরিগণিত হয়েছে এবং এই সমস্যা আজ পৃথিবীর সমস্ত মানুষের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে। বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে আমরা বিদেশে অবস্থানরত বাঙালী ভাইদের বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টি ও পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ কর‍তে অনুরোধ জানিয়েছি। পৃথিবীর বিভিন্ন রাজধানীতে আমরা আমাদের প্রতিনিধি পাঠাচ্ছি এবং বিদেশের সমস্ত রাষ্ট্রের কাছে কূটনৈতিক স্বীকৃতি ও আমাদের স্বাধীনতা ও আত্মরক্ষার সংগ্রামে সাহায্য ও সহানুভূতি চেয়ে পাঠাচ্ছি।

আমাদের সে সমস্ত ভাইবোন শত্রুকবলিত শহরগুলোতে মৃত্যু ও অসম্মানের নাগপাশে আবদ্ধ, আদিম নৃশংসতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে সাহস ও বিশ্বাসের সাথে মুক্তির পথ চেয়ে আছেন তাঁদেরকে আমরা এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারি না। যাঁরা আমাদের সংগ্রামে শরিক হতে চান তাঁদের জন্যে রইল আমাদের আমন্ত্রণ যাঁদের পক্ষে নেহাৎই মুক্ত এলাকায় আসা সম্ভব নয় তাঁদেরকে আমরা আশ্বাস এবং প্রেরণা দিচ্ছি বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের পক্ষ থেকে, শহীদ ভাইবোনদের বিদেহী আত্মার পক্ষ থেকে। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। ইনশাআল্লাহ্, জয় আমাদের সুনিশ্চিত।

আমাদের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আমাদের স্থিরবিশ্বাস; কারন প্রতিদিনই আমাদের শক্তি বৃদ্ধি হচ্ছে এবং আমাদের এ সংগ্রাম পৃথিবীর স্বীকৃতি পাচ্ছে। কিন্তু আমাদের মুক্তিবাহিনীর হাতে শেষ পরাজয় মেনে নেয়ার আগে শত্রুরা আরও অনেক রক্তক্ষয় আর ধবংসলীলা সৃষ্টি করবে। তাই পুরাতন পূর্ব পাকিস্তানের ধবংসাবশেষের ওপর নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবার সংকল্পে আমাদের সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। আমাদের এই পবিত্র দায়িত্ব পালনে এক মুহূর্তের জন্যেও ভুলে গেলে চলবে না যে এ যুদ্ধ গনযুদ্ধ এবং এর সত্যিকার অর্থে এ কথাই বলতে   হয় যে এ যুদ্ধ বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের যুদ্ধ। খেটে খাওয়া সাধারন কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত, ছাত্র-

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.006.012>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

জনতা তাঁদের সাহস, তাঁদের দেশপ্রেম, তাঁদের বিশ্বাস স্বাধীন বাংলাদেশের চিন্তায় তাঁদের নিমগ্নপ্রাণ, তাঁদের আত্মহূতি, তাঁদের ত্যাগ ও তিতিক্ষায় জন্ম নিল এই নতুন স্বাধীন বাংলাদেশ। সাড়ে সাত কোটি মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফলপ্রসূ হইয়ে উঠুক আমাদের স্বাধীনতার সম্পদ। বাংলাদেশের নিরন্ন দুঃখী মানুষের জন্যে রচিত হোক এক নতুন পৃথিবী, যেখানে মানুষ মানুষকে শোষন করবে না। আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক ক্ষুধা, রোগ, বেকারত্ব আর অজ্ঞানতার অভিশাপ থেকে মুক্তি। এই পবিত্র দায়িত্বে নিয়োজিত হোক সাড়ে সাত কোটি বীর বাঙ্গালী ভাইবোনের সম্মিলিত মনোবল ও অসীম শক্তি। যারা আজ রক্ত দিয়ে উর্বর করছে বাংলার মাটি, যেখানে উৎকর্ষিত হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন মানুষ, তাঁদের রক্ত আর ঘামে ভেজা মাটি থেকে গড়ে উঠুক নতুন গনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা; গণমানসের কল্যাণে সাম্য আর সুবিচারের ভিত্তিপ্রস্তরে লেখা হোক “জয় বাংলা”, “জয় স্বাধীন বাংলাদেশ”।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.007.013>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীসভা গঠন দি টাইমস অফ ইন্ডিয়া –নয়াদিল্লী ১৩ এপ্রিল, ১৯৭১

 

বাংলাদেশের যুদ্ধকালীন মন্ত্রীপরিষদ প্রধান মুজিব

১৩ এপ্রিল , ১৯৭১ এর সংবাদ প্রতিবেদন

 

আজ বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ছয়-সদস্য বিশিষ্ট যুদ্ধকালীন মন্ত্রীপরিষদ গঠিত হয়েছে যখন তার স্বাধীনতা বাহিনীর ঘাঁটিতে পশ্চিম পাকিস্তানীরা সর্বাত্নক আক্রমণ শুরু করেছে ।

 

বাংলাদেশের কোনো এক স্থানে আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ঘোষণা করেছেন যে, নজরূল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং দলীয় সাধারণ সম্পাদক, জনাব তাজউদ্দীন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত সরকার স্বাধীনতা যুদ্ধের দিকনির্দেশনা ও সমন্বয় করবে ।

 

২৫ মার্চে যখন সামরিক বাহিনী শেখকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে পূর্ববাংলার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, শেখ মুজিবুর রহমান কতৃক বাংলাদেশকে সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র দাবী করাকে আজকের ঘোষণা আনুষ্ঠানিক রূপ দিলো ।

 

ঘোষণা অনুসারে সরকারের পররাষ্ট্র সচিব জনাব খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

 

সরকারের অন্যান্য সদস্যরা হলেন ক্যাপটেন মনসুর আলি এবং জনাব এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

 

গনপরিষদ সদস্য এবং শীর্ষ আওয়ামীলীগ নেতাদের এক সভায় দীর্ঘ আলোচনার পরে এই সরকার গঠিত হল ।

 

বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জনাব তাজউদ্দীন আহমদ বিগত মাসের বিফল সাংবিধানিক আলোচনা চলাকালে উপদেষ্টা-পর্যায়ের বৈঠকে আওয়ামী লীগ দল এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন .;

 

তিনি এবং জনাব কামরুজ্জামান, উভয়ই আওয়ামী লীগ এর সাধারন সম্পাদক ছিলেন ।

 

একইসাথে জনাব কামরুজ্জামান গণ পরিষদে আওয়ামী লীগ দলের সম্পাদক ছিলেন ।

 

জনাব খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গন পরিষদের এর স্পিকার পদে আওয়ামী লীগ মনোনয়নপ্রাপ্ত বলে ধারনা করা হয়েছিল যা পরবর্তীতে হয়নি।

 

পাবনার জনাব মনসুর আলী ছিলেন প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ দলের নেতা।

 

সদ্য প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সরকার গঠনের ঘোষণা সম্প্রচার করা হয় এবং প্রেসিডেন্ট রহমান এর প্রেস উপদেষ্টা তা নিশ্চিত করেছেন ।

 

বেতারে বলা হয় নবগঠিত সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথগ্রহন আগামীকাল সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.007.014>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

মুক্ত অঞ্চল চুয়াডাঙ্গা হবে স্বাধীন বাংলা সরকারের সদর দপ্তর।

 

বেতারে বলা হয় মন্ত্রী পরিষদ পরবর্তীতে পরিবর্ধিত হবে ।

 

আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের ভিত্তি হবে সমষ্টিগত দায়িত্ববোধ নীতি।

 

জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ এর মন্ত্রীসভার সহকর্মীদের কার্যভার আগামীকাল ঘোষিত হবে আশা করা যায় ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.008.015>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

                 শিরোনাম                      সূত্র                তারিখ
জনসাধারণের প্রতি বাংলাদেশ             সরকারের নির্দেশ বাংলাদেশে সরকার, প্রচার দপ্তর        ১৩ এপ্রিল, ১৯৭১

 

 

জনসাধারণের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ

নবগঠিত বাংলাদেশ সরকার জনগণের প্রতি এই নির্দেশগুলি জারী করেছেনঃ

১। চিকিৎসা ও সেবা-শুশ্রুষার জন্যে আহত ব্যক্তিদের ডাক্তার বা কবিরাজের কাছে নিয়ে যান।

 

২। মুক্তিসংগ্রামের বিশ্বাসঘাতকের শাস্তি দিন।

 

৩। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে জেনে নিন কী করা উচিত।

 

৪। তরুণরা সকলে ট্রেনিং-এর জন্যে নিকটতম মুক্তিফৌজ দপ্তরে চলে আসুন-সেখানেই তাঁরা নির্দেশ পাবেন।

 

৫। প্রত্যেক গ্রাম-প্রধান আশপাশের গ্রাম বা গ্রামগুলির প্রধানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলুন এবং সমস্ত খবরাখবর সম্বন্ধে পরস্পরকে ওয়াকিবহাল রাখুন।

 

৬। মুক্ত অঞ্চলগুলির সরকারী কর্মচারীরা আওয়ামী লীগের স্থানীয় সদর দপ্তর থেকে নির্দেশ নিন।

 

৭। নদী-পরিবহন ব্যবস্থার সমস্ত কর্মচারী বাংলাদেশের সরকারের নির্দেশ মেনে চলুন ও রেডিও-পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রচারিত নির্দেশ উপেক্ষা করুন। ঢাকায় নদী-পরিবহনকর্মীরা দখলদার জঙ্গী-বাহিনীর নির্দেশ অমান্য করায় বাংলাদেশ সরকারের তাঁদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।

 

৮। নিজের এলাকার মুক্তিফৌজ কম্যান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী অসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমস্ত নিয়ম মেনে চলুন।

 

৯। আপনার এলাকায় সন্দেহভাজন লোক ঘোরফেরা করছে। তাদের সম্বন্ধে সাবধান থাকুন এবং তেমন কোনও লোকের খোঁজ পেলেই নিকটতম মুক্তিফৌজ কেন্দ্রে খবর দিন।

 

 

 

———————-

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.009.016>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

                 শিরোনাম                      সূত্র                    তারিখ
জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের           নির্দেশাবলী বাংলাদেশ সরকার, প্রচার দপ্তর            ১৪ এপ্রিল, ১৯৭১

 

আল্লাহু আকবর

স্বাধীন বাংলার সংগ্রামী জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের

নির্দেশাবলী

 

দেশবাসী ভাইবোনেরা,

 

হানাদার পাকিস্তানী পশুশক্তিকে বাংলাদেশের পবিত্র মাটি থেকে হটিয়ে দেবার ও বাঙ্গালীকে শোষণমুক্ত করে একটি নতুন সুখী-সমৃদ্ধ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলবার দীপ্ত শপথ ও ব্রত নিয়ে বাঙ্গালীর প্রানপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ও নেতৃত্বে গত ১২ই এপ্রিল রাত্রে বাংলাদেশ বেতার থেকে বাংলাদেশ সরকার ঘোষনা করা হয়েছে। এই ঘোষনা পর থেকে মুক্তি সংগ্রাম ঠিক পূর্বের মতই এক সুস্পষ্ট গতিতে চলছে। প্রতিটি বাঙ্গালী আজ নিজ নিজ ঘরে প্রতিরোধের গূর্গ গড়ে তুলে সংকল্পকে দৃঢ় থেকে আরও দৃঢ়তর করে তুলছে। মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্বাসঘাতক জঙ্গী পশু সরকারকে বিনাশ করে বিশ্বের দরবারের আজ মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে বলে-বাঙ্গালীর যুদ্ধ আজ আরও তীব্রতর; বিশ্বাস আজ অটুট; প্রতিটি বাঙ্গালী আজ সংগ্রাম থেকে অবিচ্ছিন্ন।

 

বাঙ্গালীর আশা-আকাঙ্কার প্রতিফলনে এ সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হয়েছে স্বাধীন বাংলার মহানায়ক বাঙ্গালীর প্রিয় বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর তাঁর সহকারী রয়েছেন ত্যাগী ও শ্রদ্ধেয় নেতৃবৃন্দ।

 

সৈয়দ নজরুল ইসলাম,উপ-রাষ্ট্রপতি পদে নর্বাচিত। জনাব তাজউদ্দিন আহমদ প্রাধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করবেন এবং দেশরক্ষা দপ্তরের দায়িত্বও অতিরিক্তভাবে তাঁর উপর ন্যস্ত। খোন্দকার মোশতাক আহমদ পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত। স্বাধীন বাংলা সরকারের মন্ত্রী পরিষদে আর যারা রয়েছেন তাঁরা হলেন জনাব মনসুর আলী, জনাব এ, এইচ, এম, কামরুজ্জামান।

 

জনযুদ্ধের আশু সাফল্য অর্জনের উদ্দেশ্যে সরকারের সম্প্রতি কতগুলো নির্দেশাবলী জারী করেছেন।

 

পাকিস্তানী শোষকগোষ্ঠী ও তাদের ভাড়াটিয়া হানাদার সৈন্যবাহিনী আজ বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি লোকের উপর নগ্ন, পৈশাচিক বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বাঙ্গালীর অপরাধ তারা তারা অবিচারের অবসান চেয়েছে, বাঙ্গালীর অপরাধ তারা তাদের মা-বাপ, ভাইবোন, সন্তান-সন্ততিদের জন্যে অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-চিকিৎসার দাবী জানিয়েছে, বাঙ্গালীর তারা মানুষের মর্যদা নিয়ে মাথা তুলে বাঁচতে চেয়েছে। বাঙ্গালীর অপরাধ আল্লাহতালার সৃষ্ট এ পৃথিবীতে, আল্লাহর নির্দেশমত সম্মানের সাথে শান্তিতে সুখে বাস করতে চেয়েছে। বাঙ্গালীর অপরাধ মহান স্রষ্টার নির্দেশমত অন্যায়, অবিচার, শোষন ও নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে এক সুন্দর ও সুখী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলবার সংকল্প ঘোষনাকরেছে।

 

মানবতার বিরুদ্ধে হানাদার বাহিনী দানবীয়ে শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাদের সহায় আধুনিক মারণাস্ত্র আর আমাদের সহায় পর করুণাময় সর্বশক্তমান আল্লাহতালার সাহায্য, বাংলাদেশের জনসাধারনের অটুট মনোবল, মুক্তিলাভের দৃঢ় সংকল্প, শত্রুসংহারের অবিচল প্রতিজ্ঞা।

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.009.017>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

বাংলাদেশের এ সংগ্রামে দল, মত, শ্রেনী ধর্ম নেই। বাংলার মাটি, পানি, আলো, বাতাসে লালিতপালিত মানুষের আজ একমাত্র পরিচয় আমরা বাঙ্গালী। তাই বাংলার ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-শ্রমিক, ধনিক-বণিক, নারী-পুরুষ সকলকেই মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে সহায়তা করতে হবে, মুক্তি সৈনিকের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে। বাংলার মাটি থেকে শত্রুকে উৎখাত করার জন্যে প্রত্যেককেই এগিয়ে যেতে হবে।

 

নির্দেশাবলী

 

১। প্রতি শহর/গ্রাম/মহল্লায় এক-একজন অধিনায়ক নির্বাচিত করে সমাজ জীবনে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে; আরও ঐক্যবন্ধ শক্তিতে শত্রুর সাথে অসহযোগ প্রতিরোধ সংঘাতের দুর্বার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

২। নিজ নিজ এলাকার খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির চাহিদার হিসাব রাখতে হবে আর চাহিদা মেটবার জন্যে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়াবার আর সংগ্রহ করবার চেষ্টা করতে হবে।

৩। কালোবাজারি, মুনাফাখোরি, চুরি, ডাকাতি ইত্যাদি সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে। আদেশ অমান্য করলে শাস্তিদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

৪। দৈনন্দিন জীবনের সংযম ও কৃচ্ছ্রতা চালিয়ে যেতে হবে। সর্বপ্রকার বিলাসিতা ত্যাগ করে জাতির বৃহত্তর কল্যাণে পারস্পরিক মমত্ববোধ ভ্রাতৃত্বের হাতকে দৃঢ়তর করতে হবে। আত্মশক্তির উপর বিশ্বাস রেখে আত্মনির্ভিরশীল বলিষ্ঠ সয়ামজ গড়ে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

৫। শ্ত্রুকে চিনতে হবে। অবাঙ্গালী সামরিক বেসামরিক শত্রু তো আছেই। তারা কবেশী চিহ্নিত। মারাত্মক হলো ঘরের শত্রু। ধর্মের দোহাই দিয়ে, অখন্ডতার বুলি আওড়িয়ে কালোবাজারি মজুতদারীর বেশে শত্রুর চর সরলপ্রাণ বাঙ্গালীর আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। এরা দোস্ত হিসেবে মনে ঠাই পেতে চায়। একবার ওদের খপ্পরে পড়লে আর নিস্তার পাওয়া যাবে না। এ ধরনের লোককে চিনে রাখতে হবে। বিশ্বাসঘাতকতার পথ ছেড়ে দেয়ার জন্যে তাদের বলতে হবে। তবুও যদি তাদের শুভবুদ্ধির উদয় না হয় তখন উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে তাদের নাম-ঠিকানা জানিয়ে দিতে হবে এবং কর্তৃপক্ষ দেশদ্রোহীর নির্ধারিত শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করবেন।

৬। গ্রামে গ্রামে রক্ষীবাহিনীড় গড়ে তুলতে হবে। মুক্তিবাহিনীর নিকটতম শিক্ষণশিবিরে রক্ষীবাহিনীর স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দানের ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রামের শাস্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা ছাড়াও এরে প্রয়োজনে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে প্রতিরোধ সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেছেন।

৭। গ্রাম/শহর অথবা মহল্লার নেতারা নিজেদের মধ্যে নির্বচন করে গ্রাম-গ্রামান্তরে যোগাযোগ ও পণ্য বিনিময় ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা রক্ষার জন্যে প্রচেষ্টা চালাবেন। এর উপরের স্তরের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থাকবে প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত সদস্যদের হাতে।

৮। বাংলাদেশের সকল মুক্ত এলাকায় সরকারী, আধাসরকারী, বে-সামরিক কর্মচারীরা স্তরে স্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশে কাজ করবেন। শত্রু কবলিত এলাকায় জনপ্রতিনিধিরাই ব্যক্তিবিশেষে অবস্থানুযায়ী ব্যবস্থা করবেন।

৯। সকল সামরিক, আধা সামরিক, কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত বাঙ্গালী কর্মচারী অনতিবিলম্বে নিকটতম মুক্তিসেনা শিবিরে যোগ দেবেন এবং কোন অবস্থাতেই শত্রুর সহযোগিতা করবেন না।

১০। যোগাযোগ ব্যবস্থার বিশেষভাবে নৌ-চলাচল সংস্থার কর্মচারীরা কোন অবস্থাতেই শত্রুর সাথে সহযোগিতা করবেন না এবং যতদূর সম্ভব যানবাহনাদি নিয়ে মুক্ত এলাকায় চলে আসবেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.009.018>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

গুজবে কান দিবেন না। গুজব রটাবেন না। নিজের উপর বিশ্বাস হারেবন না। মনে রাখবেন আপনার এ সংগ্রাম ন্যায়ের সংগ্রাম, সত্যের সংগ্রাম। পশ্চিম পাকিস্তানী দুশমন বাঙ্গালী মুসলমান নারী-পুরষ, বালক-বালিকা কাওকে হত্যা করতে, বাড়ীঘর লুট করতে, জ্বালিয়ে দিতে, এতটুকু দ্বিধা করেনি। মসজিদের মিনারে আজান প্রদানকারী মুয়াজ্জেন, মসজিদে-গৃহে নামাজরত মুসল্লী, দরগাহ মাজারে আশ্রয়প্রার্থী হানাদারদের গুলী থেকে বাঁচেনি। এ সংগ্রাম আমাদের বাঁচার সংগ্রাম। সর্বশক্তিমান আল্লাহত’লার উপর বিশ্বাস রেখে ন্যায়ের সংগ্রামে অবিচল থাকুন।

 

 

স্মরণ করুনঃ আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন

“অতীতের চাইতে ভবিষ্যৎ নিশ্চয়ই সুখকর”

বিশ্বাস রাখুনঃ

“আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিকটবর্তী”।

 

 

 

জয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব!

জয় বাংলা!

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.010.019>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
অস্থায়ী সরকার কতৃক মুক্তিবাহিনীর পুনর্গঠন : কর্নেল ওসমানীকে সর্বাধিনায়ক পদে নিয়োগ এশিয়ান রেকর্ডার- মে, ১৪-২০, ১৯৭১ ১৪ এপ্রিল, ১৯৭১

 

মুক্তিবাহিনী পুনর্গঠন :

 

১৪ এপ্রিলে নবগঠিত “অস্থায়ী” সরকার একটি পুরোদস্তুর সক্রিয় ঘাঁটি, অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী স্থাপন ও সুনির্দিষ্টভাবে স্বাধীন অঞ্চলগুলোর জন্য অধিনায়ক নির্ধারণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেনাবানীকে একটি সংগঠিত শক্তিতে রূপান্তরিত করার কার্যক্রম শুরু করে।

 

পূর্ব বাংলার এই উত্তপ্ত সময়কালের বেশ আগেই সক্রিয় চাকরি থেকে অবসর নেওয়া বেঙ্গল রেজিমেন্টের কর্ণেল ওসমানিকে ‘মুক্তিফৌজ’-এর সাধারণ কর্মকর্তা সর্বাধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

 

প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ আঞ্চলিক অধিনায়কদের নাম ঘোষনা করেন। এরা হলেন : সিলেট-কুমিল্লায় মেজর খালেদ মুশারাফ; চট্টগ্রাম-নোয়াখালীতে মেজর জিয়াউর রহমান; ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইলে মেজর সফিউল্লা; এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে মেজর এম. এ. ওসমান।

Besides the interim capital located in the western zone, a regional unit had been

set in the Sylhet-Comilla zone with full administrative authority for the eastern

region.

 

পশ্চিমাঞ্চলে অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী ছাড়াও সিলেট-কুমিল্লা অঞ্চলে আরেকটি আঞ্চলিক ইউনিট স্থাপন করা হয় পূর্বাঞ্চলে পূর্ণ প্রশাসনিক কতৃত্বসহ।

 

তিনি বলেন সিলেট-কুমিল্লা অঞ্চলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর খালেদ মুশারাফ পাকবাহিনীকে সিলেট ও কুমিল্লার সেনানিবাসে হটিয়ে দেন।

 

চট্টগ্রাম-নোয়াখালী সেক্টরে মেজর জিয়াউর রহমানের অধীনে মুক্তিবাহিনী পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে ছিল যারা চট্টগ্রামের কিছু ছোট্ট পরিসরে শত্রুদেরকে কোণঠাসা করে রাখে।

 

পুরো ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল শত্রুমুক্ত করার পর মেজর সফিউল্লা সম্পূর্ণ প্রস্তত ছিলেন ঢাকার দিকে অগ্রসর হতে।

 

জনাব আহমেদ বলেন, মেজর ওসমান দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন এবং খুলনা, কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর, বরিশাল ও পটুয়াখালির অনেকটা এলাকা শত্রুমুক্ত করেছেন। শত্রুপক্ষ যশোর সেনানিবাস ও খুলনা শহরে অংশবিশেষে অবরূদ্ধ ছিল।

 

উত্তরবঙ্গে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্* ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের একটি যৌথবাহিনী রংপুর ও সৈয়দপুরের শত্রুদের গতি অবরোধ করে রাখে।

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ঘোষিত :

 

ইপিআর, আনসার আর মুজাহিদদের দলসহ দশ হাজার জনতার ভীড়ে তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়ে এপ্রিলের ১৭ তারিখে মুজিবনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষিত হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ, যা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার দ্বারা পরিচালিত হবে।

 

 

 

 

 

 

 

<003.010.020>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা দেন যে সরকারের আদেশাধিকার বহাল থাকবে অঞ্চলটির ৯০ শতাংশ জায়গায়, ব্যতিক্রম কেবলমাত্র সেনাবাহিনীর অধীনে থাকা সেনানিবাস ও কিছু প্রশাসনিক সদর দপ্তর। প্রায় ৫০ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক কার্যপ্রক্রিয়াটি দেখেন ও লিপিবদ্ধ করেন।

 

ঘোষণাটিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি উল্লেখ করা হয়, তবে ব্যাখ্যায় বলা হয়, যদি রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান “অনুপস্থিত থাকেন, কিংবা কার্য চালাতে না পারেন, অথবা অক্ষম থাকেন”, তাহলে জনাব ইসলাম রাষ্ট্রপতির দায়িত্বগুলো সম্পাদন করবেন।

 

নতুন একটি সংবিধান গঠনের আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র শক্তির প্রধান ও আইনপ্রণয়নের একমাত্র ক্ষমতাধারী হিসেবে বহাল থাকবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও তার সহকর্মীদেরকে নিয়োগ দেবেন, কর আদায় ও ব্যয়ের অনুমোদন প্রদান, এবং শাসনতান্ত্রিক সংসদ আহবান কিংবা স্থগিত করবেন।

 

ঘোষণাটিতে এই পদক্ষেপটির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হয় এবং নিশ্চিত করা হয় যে এটা গত নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত জনগণের দাবির ভিত্তিতেই করা হচ্ছে। এই নতুন রাষ্ট্র ও “জাতির” লক্ষ্য হবে মানুষের মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা। জনাব ইসলাম বলেন, এটা শান্তিপূর্ণভাবে অর্জনের জন্য রাষ্ট্রটির সাড়ে সাত কোটি মানুষ গত ২৩ বছর ধরে প্রচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু তাদেরকে হতাশ করেছে সামন্ততান্ত্রিক স্পৃহা আর সামরিক জান্তা।

 

তিনি বলেন, তাদের বর্তমান লড়াইটি বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ও একই সঙ্গে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যও এবং “জয় আমাদের হবেই, আজ হোক, অথবা কাল, অথবা পরশু।”

 

মানুষের মুক্তি, মর্যাদারক্ষা ও মূল্যবোধ এবং তার সাথে গণতন্ত্রের স্বার্থে তিনি বিদেশী সাংবাদিকদের এই বার্তাটি নিজ নিজ দেশে পোঁছে দিতে জোরালো আহবান করেন যে বিশ্বের সকল ক্ষুদ্র ও বৃহৎ রাষ্টের উচিত, বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকান দেশগুলোর উচিত, তার সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া ,এবং “এমন কিছু করা যা বাংলাদেশের মানুষের দুর্দশা লাঘবে ইতিবাচক হবে”।

 

তিনি আরো এক ধাপ এগিয়ে বলেন, অতীতে পাকিস্তান অন্যান্য দেশ থেকে অস্ত্র এনে সংরক্ষণ করে রেখেছে প্রধানত দেশটির প্রতিরক্ষার জন্য এবং তা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নিয়োজিত মানুষের কঠোর পরিশ্রমের বিচারে চড়া দাম দিয়ে। এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক যে এই অস্ত্রগুলো এখন ব্যহার করা হচ্ছে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের উপর।

 

তিনি এই দেশগুলোকে নতুন অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতেই শধু আহবান জানাননি , বরং এই মারাত্মক অস্ত্রগুলো যেন বাংলাদেশের মানুষের ওপর আর ব্যবহার না করা হয়, সেটা নিশ্চিত করতে জোরালো অনুরোধ জানান।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.011.021>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশ সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ- এর ভাষন বাংলাদেশ সরকার, প্রচার দপ্তর ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

                                                                     প্রকাশনায়               

 

জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী

১৭ই এপ্রিল, ১৯৭১

 

বিশ্বের জনগণের প্রতি

 

বাংলাদেশ আছে এক যুদ্ধে। পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তির লড়াই করে আত্মনির্ধারণ সুরক্ষিত করা ছাড়া তার সামনে আর কোন পথই খোলা নেই।

 

পাকিস্তান সরকারের বাংলাদেশে গণহত্যার যুদ্ধকে ঢাকতে মরিয়া হয়ে সত্যকে বিকৃত করার সুস্পষ্ট প্রচেষ্টার প্রেক্ষিতে বিশ্বকে সেই সকল পরিস্থিতির কথা জানানো আবশ্যক, যেগুলো বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় জনগণকে তাদের ন্যায্য আকাঙ্ক্ষাগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য সংসদীয় রাজনীতির স্থলে সশস্ত্র লড়াইকে বেছে নিতে পরিচালিত করেছে।

 

পাকিস্তানের অখণ্ডতা সংরক্ষণের সর্বশেষ সম্ভবপর সমাধান হিসেবে পাকিস্তানে বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসনের জন্য আওয়ামী লীগ যথাসাধ্য আন্তরিকতার সাথে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে। ছয় দফার প্রসঙ্গ নিয়ে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে লড়াই করে আওয়ামী লীগ ৩১৩ আসনের মধ্যে বাংলাদেশে ১৬৯টি আসনের ১৬৭টিই জিতে নেয়। দলটির নির্বাচনী বিজয় এতোটাই সুনির্ধারক ছিল যে জনগণের শতকরা ৮০ শতাংশ ভোটই দলটি জিতে নেয়। বিজয়ের এই সুস্পষ্ট ধরণই দলটিকে জাতীয় পরিষদে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতায় স্থান করে দেয়।

 

নির্বাচনোত্তর কালটি ছিল একটি প্রত্যাশার যুগ, কেননা সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এর আগে কখনো জনগণ এ রকম স্পষ্ট রূপে তাদের কণ্ঠ প্রকাশ করে নি। উভয় পন্থীদের মধ্যেই ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়েছিল যে ছয় দফার উপর ভিত্তি করে একটি কার্যক্ষম সংবিধান গঠন করা যাবে। সিন্ধু ও পাঞ্জাবের প্রধান দল হিসেবে আবির্ভূত পাকিস্তান পিপল’স পার্টি (পিপিপি) ছয় দফার প্রসঙ্গটি তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় উত্থাপন করা এড়িয়ে যায় এবং এটি প্রতিহত করার জন্য তাদের নির্বাচকমণ্ডলীর কাছে কোনো বাধ্যবাধকতা তাদের একেবারেই ছিল না। বেলুচিস্তানের প্রভাবশালী দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ছয় দফার প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। এনডব্লিএফপিতে ন্যাপ, প্রাদেশিক পরিষদে প্রভাবশালী এই দলটিও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে সর্বোচ্চ স্বায়ত্তশাসনে বিশ্বাসী ছিল। প্রতিক্রিয়াশীল দলগুলোর পরাজয়কে চিহ্নিত করা এই নির্বাচনের গতিপথটি তাই পাকিস্তানের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার সব বার্তাই দিয়েছিল।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.010.022>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

জাতীয় পরিষদ আহবানের পূর্বে রাজনৈতিক প্রাঙ্গণের প্রধান দলগুলোর মধ্যে আলাপ হওয়ার আশা ছিল। তবে, যদিও পরিষদে যাওয়ার পূর্বে আওয়ামী লীগ তার সাংবিধানিক অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য ও অন্য দলগুলোর বিকল্প প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইচ্ছুক ছিল, দলটি বিশ্বাস করতো যে সংবিধান নিয়ে বিতর্ক হওয়া এবং কোন গোপন বৈঠকের বদলে পরিষদে তার চুড়ান্তরূপ পাওয়াটাই প্রকৃত গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি। এই লক্ষ্যে একটি প্রারম্ভিক পরিষদ আহবান করা নিয়ে দলটি জোরালো দাবি করে। এই অধিবেশনটির প্রতীক্ষায় আওয়ামী লীগ ছয় দফার ভিত্তিতে একটি খসড়া সংবিধান প্রস্তুত করতে দিনরাত কাজ করে এবং এরকম একটি সংবিধান রচনা ও কার্যকর করার সকল নিহিতফলগুলো যাচাই করে দেখে।

 

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রথম বড় পরিসরে আলোচনা হয় জেনারেল ইয়াহিয়া এবং শেখ মুজিবর রহমানের মধ্যে, মধ্য জানুয়ারিতে। এই বৈঠকে জেনারেল ইয়াহিয়া আওয়ামী লীগের কর্মসূচির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার ব্যাপ্তি অনুসন্ধান করে দেখেন এবং নিশ্চিত হন যে তারা এর নিহিতফলগুলো নিয়ে সম্পূর্ণ সচেতন ছিল। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ইয়াহিয়া সংবিধানের ব্যাপারে তার নিজের ধারণাগুলো পরিষ্কার করে খুলে বলেন নি। তিনি ছয় দফায় তীব্র আপত্তিকর কিছু না পাওয়ার আভাস দেন, কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের পিপিপির সাথে একটি বোঝাপড়ায় আসার আবশ্যকতার উপর জোরারোপ করেন।

 

পরের দফার আলোচনা চলে ঢাকায় পিপিপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ২৭ জানুয়ারি, ১৯৭১ থেকে যেখানে জনাব ভুট্টো ও তার দল আওয়ামী লীগের সাথে কয়েকটি বৈঠকে সংবিধান নিয়ে আলোচনা করে।

 

ইয়াহিয়া যেমনটি করেছিলেন, জনাব ভুট্টোও তেমনি সংবিধানের প্রকৃতি সম্পর্কে তার নিজের কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দেন নি। তিনি ও তার উপদেষ্টারা প্রধানত আগ্রহী ছিলেন ছয় দফার নিহিতফলগুলো সম্পর্কে আলোচনায়। যেহেতু তাদের সাড়া ছিল মূলত নেতিবাচক ও তাদের নিজেদের কোন প্রস্তুত বিবরণীসংক্ষেপ ছিল না, তাদের আলাপগুলোর এমন কোন প্রগাঢ় মীমাংসালাপে উন্নীত হওয়া সম্ভব হয় নি যেখানে দুই দলের মধ্যকার ফারাকের সেতুবন্ধন করার প্রচেষ্টা চালানো যেতো। এটা স্পষ্ট ছিল যে তখন পর্যন্ত জনাব ভুট্টোর নিজের এমন কোন আনুষ্ঠানিক অবস্থান ছিল না যেখান থেকে মীমাংসালাপ করা যেতো।

 

এটা পরিষ্কার করা আবশ্যক যে যখন পিপিপি ঢাকা ত্যাগ করে, তখন তাদের পক্ষ থেকে এমন কোন নির্দেশনা দেয়া হয় নি যে আওয়ামী লীগের সাথে তারা একটি নিশ্চলাবস্থানে পৌঁছেছে। বরং তারা নিশ্চয়তা দেয় যে সব দরজা খোলা আছে এবং পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে কয়েক দফা আলাপের পরে পিপিপি হয় আওয়ামী লীগের সাথে আরেকটি বা আরো কয়েকটি দফায় সারপূর্ণ আলাপে বসবে, অথবা সাক্ষাৎ করবে জাতীয় পরিষদে যার কমিটিগুলো সংবিধানের উপর বিস্তারিত আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ রেখেছে।

 

জনাব ভুট্টোর জাতীয় পরিষদ বর্জন করার ঘোষণা সেই কারণে এসেছিল পুরোপুরি বিস্ময় হিসেবে। এটা অপ্রত্যাশিত ছিল, কেননা ইতিমধ্যেই জনাব ভুট্টো একবার রাষ্ট্রপতির অনুকুলানুগ্রহ পেয়েছেন যখন তিনি শেখ মুজিবের ১৫ই ফেব্রুয়ারিতে একটি প্রারম্ভিক অধিবেশনের অনুরোধকে প্রত্যাখ্যান করেন, এবং তা জনাব ভুট্টোর মনোনয়ন মতো ৩রা মার্চে নির্ধারণ করেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.010.023>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

পরিষদ বর্জনের সিদ্ধান্তের পরে জনাব ভুট্টো পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য দলগুলোর পরিষদে অংশগ্রহণ থেকে প্রতিহত করার জন্য ভীতিপ্রদর্শনের পথ বেছে নেন। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইয়াহিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী লেফট্যানেন্ট জেনারেল উমর ভুট্টোর হাতকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ব্যক্তিগতভাবে বহু পশ্চিমা শাখার নেতাকে পরিষদে অংশগ্রহণ না করতে চাপ দনে বলে প্রমাণ আছে। জনাব ভুট্টো ও লে. জে. উমরের চাপকৌশলের এই প্রদর্শনী সত্ত্বেও পিপিপি ও কাইয়্যুম মুসলিম লীগ (কিউএমএল) ব্যতীত পশ্চিম পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সকল সদস্য ৩রা মার্চের অধিবেশনের জন্য পূর্ব পাকিস্তানে যাওয়ার আসন সংরক্ষিত করেন।

 

কিউএমএলে অভ্যন্তরেই অর্ধেক সদস্য তাদের ভ্রমণাসন সংরক্ষিত করেন, আর পিপিপির অভ্যন্তরে অনেক সদস্যই ঢাকায় আসতে চাওয়ায় বিদ্রোহের লক্ষণ দেখা যায়। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এই যৌথ সংগঠনের ভাঙনের মুখোমুখি হয়ে জেনারেল ইয়াহিয়া ১লা মার্চে অধিবেশন, কোন নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য নয়, বরং অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করে, জনাব ভুট্টোকে বাধিতকরেন। তার উপর, তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এডমিরা এস এম আহসানকে বরখাস্ত করেন যাকে ইয়াহিয়া প্রশাসনের অন্যতম মধ্যপন্থী হিসেবে বিশ্বাস করা হতো। বাঙালী সদস্যপূর্ণ মন্ত্রীপরিষদকেও অব্যাহতি দেয়া হয় যাতে সকল ক্ষমতা পশ্চিমা শাখা সামরিক জান্তার হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে।

 

এ সকল পরিস্থিতিতে ইয়াহিয়ার পদক্ষেপকে জনাব ভুট্টোর সাথে মিলে ছলনা মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছাকে ব্যর্থ প্রমাণ করার প্রচেষ্টা ছাড়া আর কোন ভাবে দেখা যায় না। জাতীয় পরিষদ ছিল একমাত্র ফোরাম যেখানে বাংলাদেশ তার কণ্ঠ দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করতে পারতো, এবং এটাকে ব্যর্থ করে পরিস্কার ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে পাকিস্তানে সংসদই প্রকৃত ক্ষমতার উৎস নয়।

 

এই স্থগিতকরণের প্রতিক্রিয়া ছিল অনিবার্য ও স্বতঃস্ফূর্ত এবং দেশ জুড়ে মানুষ রাস্তায় নামে স্বেচ্ছাচারী এই কাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ জানান দিতে। জনগণ নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করে ইয়াহিয়া আসলে কখনোই ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চান নি এবং তিনি সংসদীয় রাজনীতি নিয়ে উপহাস করছিলেন। জনগণের উপলব্ধি করতে পারে যে বাংলাদেশের অধিকার কখনোই পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে থেকে বাস্তবায়িত করা যাবে না, যার মধ্যে ইয়াহিয়া এতো নির্লজ্জভাবে এমন একটি অধিবেশন আহবানকে ব্যর্থ করতে পারে যা কিনা তার নিজের বিধানপত্রে ঘোষিত হয়েছে, এবং জনগণ শেখ মুজিবর রহমানকে আহবান জানায় যে অবশ্যই পূর্ণ স্বাধীনতার পথে যেতে হবে।

 

শেখ মুজিব তারপরও একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে থাকেন। ৩ মার্চের অসহযোগের কার্যক্রমের উত্তরে তিনি দখলদারদের দলকে হুঁশে আনার প্রচেষ্টার অস্ত্র হিসেবে বেছে নেন শান্তিপূর্ণ মুখোমুখিতাকে। ২ ও ৩ মার্চে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে এক হাজারেরও বেশী মানুষকে হতাহত করার মুখোমুখিতায় এটি স্বয়ং ছিল একটি বিশাল পদক্ষেপ।

 

অসহযোগ আন্দোলনের গতিপথ এখন একটি ইতিহাসের অংশ। বাংলাদেশে ১লা থেকে ২৫শে মার্চের মধ্যে যেমনটি দেখা গেছে, মুক্তির লড়াইয়ের ধারাপথে অসহযোগ কখনোই তার সীমা পর্যন্ত এভাবে টেনে নেয়া হয় নি। অসহযোগ ছিল সার্বিক। উচ্চ আদালতের কোন বিচারককেই নতুন গভর্নর লে. জে. টিক্কা খানের কার্যালয়ে শপথ বাক্য পাঠের জন্য খুঁজে পাওয়া যায় নি। পুলিশ ও পাকিস্তান জনসাধারণ সেবাসহ সমগ্র বেসামরিক প্রশাসন কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে অস্বীকার করে। জনগণ সেনাবাহিনীতে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এমনকি প্রতিরক্ষা স্থাপনার বেসামরিক চাকুরেরাও এই বর্জন কর্মসূচিতে যোগ দেয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.010.024>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

অসহোযোগ আন্দোলনে কাজকর্ম থেমেছিল না। বেসামরিক প্রশাসন এবং পুলিশ তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমানকে সমর্থন দিয়েছিল এবং তার আদেশ পালন করছিল।

 

এই অবস্থায় আওয়ামীলীগ আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠন না করেও অর্থনীতি ও প্রশাসন চালাতে বাধ্য হয়েছিল যখন কিনা অসহযোগ আন্দোলন চলছে। এই কাজে তাদের কেবল মাত্র জনগণ নয়, প্রশাসন এবং ব্যাবসায়ী মহলের আকুন্ঠ সমর্থন ছিল। আওয়ামী লীগের কাছে তারা তাদের অধীনস্ততা স্বিকার করেছে এবং তাদের সকল সমস্যা সমাধানের একচ্ছত্র কতৃপক্ষ হিসেবে তাকে মেনে নিয়েছিল।

 

বাংলাদেশে আচমকাই উদ্ভূত এরকম রাজনৈতিক দায়িত্ব শূন্যতার অদ্ভূত সময়েও অর্থনীতি এবং প্রশাসন ঠিকই চলছিল । স্বীকৃত কোনো কতৃপক্ষ না থাকলেও আওয়ামীলীগের স্বেচ্ছাসেবীরা পুলিশের সাথে একত্র হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখতে সক্ষম হয়েছে যেটি মনে হচ্ছিলো স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও ভালো।

 

আওয়ামীলীগের সমর্থনে এমন প্রতিবাদ এবং এই ঐতিহাসিক অসহোযগ আন্দোলনের মুখে , জেনারেল ইয়াহিয়া তার কৌশল পরিবর্তন করলেন বলে মনে হল। ৬ মার্চ মনে হয়েছিল সে তখনও সংষর্ষকে উসকে দিতে অনড়, যখন তিনি তার তীব্র প্রতিক্রিয়ামূলক ভাষনে সকল সকল কিছুর জন্য কেবল আওয়ামীলীগকেই দোষ দিলেন এবং এমন সংকট তৈরির মূল কারিগর ভুট্রোকে কিছু বললেন না। মনে হয়েছিল, সে চাচ্ছে ৭ তারিখ স্বাধীনতার ঘোষনা হোক । ঢাকার সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল আন্দোলন ধ্বংসের জন্য এবং জান্তার মধ্যে আরও কঠোর মনোভাব দেখানোর জন্য লেঃ জেনারেল ইয়াকুবকে সরিয়ে উড়িয়ে আনা হয়েছিল লেঃ জেনারেল টিক্কা খানকে।

 

যাই হোক না কেন, শেখ মুজিব, স্বাধীনতার পক্ষে এত বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্যেও রাজনৈতিক মিমাংসাকে বেছে নিলেন। জাতীয় পরিষদে যোগ দেওয়ার জন্য ৪ দফা প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে কেবল মানুষের ভাবনাকেই তিনি সংবরণ করেননি, ইয়াহিয়া যাতে রাজনৈতিক সমঝোতায় আসতে পারে, সেই রাস্তাও খোলা রেখেছিলেন।

 

এটা এখন পরিস্কার যে ইয়াহিয়া এবং তার জেনারেলদের কখনোই পাকিস্তানের রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের নূন্যতম ইচ্ছা ছিল না, বরং কেবল উদ্দেশ্য ছিল কালোক্ষেপনের মাধ্যমে যাতে বাংলাদেশে আরও সমরসজ্জা করা যায়। ইয়াহিয়ার ঢাকা পরিদর্শন ছিল কেবল মাত্র গন হত্যার পরিকল্পনা না বুঝতে দেয়া ।এটা এখন পরিস্কার যে এমন সংকটের সময় এই আকস্মিক পরিকল্পনা ,সংকট শুরুর আগে বেশ ভালোভাবেই শুরু হয়েছিল।

 

সীমান্ত রক্ষার জন্য. রংপুরে যে ট্যাংক পাঠানো হয়েছিল, পয়লা মার্চের কিছু আগে সেগুলোকে ঢাকা ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। পয়লা মার্চ থেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারে সাথে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যাবসায়ীদের পরিবারদেরও পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠানো শুরু হয়েছিল।

 

পয়লা মার্চের পর থেকে সমরসজ্জা দ্রুততর করা হয় এবং ২৫ মার্চ পর্যন্ত সংলাপের পুরো সময়টা জুড়ে চলতেই থাকে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেসামরিক পোশাকে পিআ-ইএর বাণিজ্যিক বিমানে করে সিলন হয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। সি-১৩০ এ করে দূর্গের জন্য অস্ত্র এবং সৈনিকদের আনুসাংগিক জিনিস ঢাকাতে নিয়ে আসছিল। সহ ১-২৫ মার্চের মধ্যে আনুমানিক এক ডিভিশনের মতো সৈন্য, প্রয়োজনীয় জিনিস বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বিমান বন্দর সম্পূর্নভাবে বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রনে রাখা হয়েছিল এবং ভারী কামান এবং মেশিনগান দিয়ে কঠোরভাবে ঘিরে রাখা হয়েছিল হয়েছিল এবং যাত্রীদের চলাফেরা কঠোরভাবে নজরদারী করা হচ্ছিলো।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.010.025>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

 

যাত্রী থাকাকালীন সময়ে মেশিনগান চলাচলকারী জাল কঠোরভাবে তত্ত্বাবধান করা হয়। নাশকতা ও হত্যার চোরাগোপ্তা অভিযানের জন্য একটি কমান্ডো গ্রুপকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশের মূল কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হয় এবং সম্ভবত ২৫ মার্চের আগেই ঢাকা ও সৈয়দপুরে বাঙালিদের হামলা দু’দিনে স্থানীয় এবং অ স্থানীয়দের সংঘর্ষ ঘটানোর জন্য দায়ী ছিল, তাই সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য একটি কভার প্রদান জরুরি ছিলো। ইয়াহিয়া এই ছলচাতুরি কৌশলের অংশ হিসেবে মুজিবের সাথে তার আলোচনা সবচেয়ে মৈত্রীসূচক ভঙ্গি অবলম্বন করেন। ১৬ ই মার্চ থেকে শুরু হওয়া আলোচনায় পূর্বে কি ঘটেছিল এবং এর একটি রাজনৈতিক মীমাংসার জন্য তার আন্তরিক ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শেখ মুজিবের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আওয়ামী লীগের ৪ দফা প্রস্তাব নিয়ে জান্তার অবস্থানকে ইতিবাচক করতে অনুরোধ করা হয়েছিলো। তার ইঙ্গিতে কোন গুরুতর আপত্তি ছিল যে এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধানের নিজস্ব উপদেষ্টা কতৃক চার পয়েন্টে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। মৌলিক পয়েন্ট যেসব চুক্তিতে পৌছানো হয়: (১) সামরিক আইন উদ্ধরণ এবং একটি প্রেসিডেন্সিয়াল ঘোষণার দ্বারা একটি বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। (২) সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই দলের জন্য প্রদেশগুলোতে ক্ষমতা হস্তান্তর (৩) ইয়াহিয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা (৪) হাউসের এক যৌথ অধিবেশনে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রস্তুতিমূলক থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্যদের পৃথক অধিবেশনে সংবিধান চূড়ান্ত করা. এখন ইয়াহিয়া ও ভুট্টো পরিষদের উভয়েই পৃথক অধিবেশনে প্রস্তাব দ্বারা মিটমাট নেভানোর বিপরীতে ইয়াহিয়া দ্বারা সুপারিশ করেন জনাব ভুট্টো . তিনি থাকাকালীন ৬-দফার যে একটি টেকসই প্রতিচিত্র বাংলাদেশ ও তার সেন্টারে ওয়েস্ট উইং প্রয়োগে এ গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করবে যা সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারিক সুবিধা প্রদান করবে। ওয়েস্ট উইংকে এমএনএ এর ছয় দফা সংবিধান প্রেক্ষাপটে এবং এক-ইউনিট ভেঙে একটি নতুন প্যাটার্নে একসাথে কাজ করার অনুমতি দিতে হবে। নীতিগতভাবে এই চুক্তি শেখ মুজিব ও ইয়াহিয়া মধ্যে একমতে পৌছে করা হয়েছে যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বাংলাদেশ সামনা-সামনি সেন্টারের ক্ষমতা সংজ্ঞায়িত একমাত্র প্রশ্ন ছিলো। এখানে সবাই যৌথভাবে একমত হয়েছিলেন যে ক্ষমতার বন্টন যথাসম্ভব জাতীয় পরিষদের অনুমোদিত চূড়ান্ত সংবিধানের ‘ছয় দফা’ উপর ভিত্তি করে করা উচিত হবে। অন্তর্বর্তী ব্যাবস্থাপক এবং প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড জনাব এম এম আহমেদ এই অংশের বাইরে কাজ করার জন্য বিশেষভাবে নিযুক্ত ছিল। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাদের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তায় এটা স্পষ্ট যে প্রদত্ত রাজনৈতিক মতৈক্যে পৌছাতে কোন অনতিক্রম্য সমস্যা ছিল এমনকি অন্তর্বর্তী সময়ের মধ্যে ছয় দফার কিছু আউট সংস্করণে কাজ করার জন্যও। আওয়ামী লীগের খসড়া যা তিনি পরামর্শ হিসেবে উপস্থাপিত তিনটি সংশোধনীর চূড়ান্ত তালিকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সরকার ও আওয়ামী লীগের অবস্থানের মধ্যে ফাঁক আর নীতির সুনির্দিষ্ট এবং অন্যতম কিন্তু এর উপর নিছক রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.010.026>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

প্রস্তাবের শব্দসমষ্টি। আওয়ামী লীগ ২৪মার্চের অধিবেশনে ভাষাগত কয়েকটি ছোটখাট পরিবর্তনের সঙ্গে সংশোধনী গ্রহন করে এবং যখন অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান চূড়ান্ত করা হবে তখন

একটি চূড়ান্ত খসড়া সেশন নম্বর হোল্ডিংয়ে

ইয়াহইয়া এবং মুজিবের উপদেষ্টাদের মধ্যে প্রতিরোধের কিছুই ছিল না। এটা স্পষ্ট করতে হবে যে তারা যে একটি চূড়ান্ত অবস্থানে ছিল সেটি এখন কোন পর্যায়ে আছে এবং আলোচনার কোন ভাঙ্গন জেনারেল ইয়াহিয়া বা তার দল দ্বারা সেটা করা যায়নি। ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য আইনি কভার প্রশ্ন ছিলো ইয়াহিয়া গণহত্যা ঢাকতে নিছক তার আরেকটি বিলম্বিত জালিয়াতি। তিনি এবং তার দল একমত হয়েছে যে, ১৯৪৭ ক্ষমতার ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স আইনের প্রাধান্য এবং সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ঘোষণার দ্বারা সঙ্গতিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্থানান্তরিত করা যেতে পারে। লক্ষ করুন যে, পরবর্তীকালে জনাব ভুট্টো উত্থাপিত এবং জেনারেল ইয়াহিয়া সমর্থিত করার কোন শাসন ব্যাবস্থা কিভাবে আইনি কভার হবে যেখানে এটি শেখ মুজিব ও ইয়াহিয়া মধ্যে বিতর্কের উৎস ছিল না। এতে সামান্যতম সন্দেহ নেই যে ইয়াহিয়া ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, জাতীয় পরিষদের সভায় ক্ষমতা হস্তান্তর অপরিহার্য ছিল, আওয়ামী লীগ এমন একটি ছোটখাট বৈধ কৌশলের উপর আলোচনা ভেঙে দিতো না। সর্বোপরি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে এটি যেমন একটি সভা তাই একটি পৃথক অধিবেশনে বসার জন্য সিদ্ধান্ত তার গ্রহণযোগ্যতা থেকে ভয়ের কোন কারণ নেই যদিওপার্টির জন্য একটি মৌলিক স্ট্যান্ড চেয়ে জনাব ভুট্টোর সাথে বরং মিটমাট করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রতিবাদী পক্ষের মধ্যে নীতিগতভাবে চুক্তিতে যে একমত হয়েছেন তা ২৫শে মার্চ জনাব ভুট্টোর নিজের প্রেস কনফারেন্স দ্বারা উপলব্ধ করা হয়। জেনারেল ইয়াহিয়া এবং জনাব ভুট্টোর মধ্যে পৃথক অধিবেশনে

পাস নির্দিষ্ট ছিলো না কিন্তু এটা প্রমাণ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলাপ সম্পর্কে পিপিপি অবশ্যই ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচার ছড়িয়েছে যারা বলেছিল শেখ মুজিব লোকদেখার জন্যই নির্ধারিত ছিলেন এবং দৈনিক তার চাহিদা বেড়ে উঠছিল। আওয়ামী লীগ দল এবং জেনারেল ইয়াহিয়ার উপদেষ্টাদের মধ্যে সভায় এইসব সন্দেহের সামান্যতম ইঙ্গিত উত্থাপিত হয়েছিলো তা বলাই বাহুল্য এবং যেখানে সহৃদয়তা এবং আশাবাদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। যতক্ষণ না সুষ্ঠু ব্যাবস্থাপনার আশা উত্থাপিত হচ্ছে, আকস্মিকভাবে গোলাবারুদের জাহাজ এম ভি সোয়াত খালাস করার সিদ্ধান্ত দ্বারা উপলব্ধ করা হয় সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যের মধ্যে আরো অশুভ লক্ষণ আছে। প্রস্তুতিমূলক এই সিদ্ধান্ত ছিলো ব্রিগেডিয়ার মজুমদারের। একজন বাঙালি অফিসার, চট্টগ্রামে গ্যারিসন কমান্ডিং থেকে হঠাৎ তার কমান্ড সরানো এবং একটি পশ্চিম পাকিস্তানীকে তার সাথে প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। ২৪ এর রাতে তিনি সশস্ত্র পাহারার অধীনে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয় এবং সম্ভবত মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিলো। নতুন কমান্ড নোটিশ অধীনে একটি সিদ্ধান্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছিল, সেনা বন্দর শ্রমিকের অসহযোগিতার মুখে গত ১৭ দিনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের নোঙর ফেলা জাহাজ সত্ত্বেও এম ভি সোয়াত থেকে মাল খালাস করা সিদ্ধান্ত বাতিল ছিলো। এটি ছিলো একটি পুর্বনির্ধারিত বিরক্তি যা অবিলম্বে চট্টগ্রামের রাস্তায় ১০০০০০ মানুষকে আনে এবং নিজেদের পথ পরিস্কার করতে আর্মি ব্যাপক অগ্নিসংযোগ করেছিল। বিষয়টি আওয়ামী লীগের দ্বারা উত্থাপিত হয়েছিল, . জেনারেল পীরজাদা কেন আলোচনা থাকাকালীন এসবের অনুমতি দেয়া হয়েছিল সেই হিসাব এখনও চলছে। তিনি জেনারেল ইয়াহিয়ার কাছে এটি পাস করার জন্য একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকায় পরবর্তীতে এর কোন উত্তর দিলেন না। ২৪শে মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মধ্যে সর্বশেষ বৈঠক হয় যেখানে জনাব এম এম আহমেদ চূড়ান্ত সংশোধনী গৃহীত করেন , একটি কল

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.010.027>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

 

সর্বশেষ অধিবেশনের জন্য জেনারেল পীরজাদার থেকে একটি কল আসতে পারে যেখানে খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার একটা সম্ভাবনা ছিলো। এমন কোনো কল বাস্তবে রূপায়িত হয়নি এবং এর পরিবর্তে এটি জানা গেছে যে জনাব এম এম আহমেদ, যিনি আলোচনার কেন্দ্রীয় ছিল, হঠাৎ করে আওয়ামী লীগ দলকে কোনো সতর্কবাণী দেওয়া ছাড়াই 25এ সকালে করাচি ছেড়ে চলে গেছে।১১ টার মধ্যেই ২৫ এর সব প্রস্তুতি প্রস্তুত ছিল এবং সেনা সদস্যরা শহরের মধ্যে তাদের পজিশন নিতে লাগল। বিশ্বাসঘাতকতার অনুপম একটি আইন সমসাময়িক ইতিহাসের পুরবনিরধারিত গণহত্যার একটি প্রোগ্রাম ২৫ এর মার্চ মধ্যরাতেআওয়ামী লীগকে কোন প্রকার আলটিমেটাম ছাড়াই ইয়াহিয়া দ্বারা ঢাকার শান্তিপূর্ণ এবং অসন্দিগ্ধচরিত্র জনসংখ্যার উপর কার্যকর হয় হয়, কোন কারফিউ আদেশ জারি করা হয় নি যখনএমনকি মেশিনগান , কামান এবং ট্যাংক উপর কামান, মৃত্যু ও ধ্বংসের তাদের রাজত্ব কায়েম করে তখনো না। সময় অনুযায়ী লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রথম সামরিক আইন ঘোষণা কোনো প্রতিরোধের প্রস্তাব ছাড়াই পরদিন সকালে কিছু ৫০০০০ মানুষ, তাদের অধিকাংশই সম্প্রচার করা হয়, এবং অনেক নারী ও শিশু, জবাই করা হয়েছিলো। ঢাকা দাবানল ডাই শহরের সবচেয়ে কোণ সঙ্গে একটি নরক থেকে পরিণত হয়েছিল. বাসিন্দা যারা আগুন সামরিক দ্বারা শুরু করে তাদের বাড়ী-ঘর থেকে আটকানো ছিল , মেশিন-গুলি ছিল যেমন তারা অগ্নিতে অব্যাহতি দৌড়ে. যতক্ষণ পুলিশ, ইপিআর এবং সশস্ত্র স্বেচ্ছাসেবকদের একটি বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন প্রধান ‘ক্ষতিগ্রস্তরা দুর্বল নির্দোষ এবং অসন্দিগ্ধচরিত্র, যারা তাদের হাজার হাজার এ-রেণ্ডম নিহত হয়েছ। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির আদেশ, যা আমরা খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার বিবরণ সরাসরি অ্যাকাউন্ট কম্পাইল করা হয়। স্কেল ও কর্মের বর্বরতা সভ্য বিশ্বের কিছু ছাড়িয়ে গেছে. ইয়াহিয়া নিজেকে সব বাঙালির ওপর গণহত্যা কমিট একটি খোলা লাইসেন্স সঙ্গে রাখার পাকিস্তান আর্মি, পরে 25 মার্চ রাতে ঢাকা ত্যাগ করেন. বর্বরতার এই আইনের জন্য তাঁর নিজের আত্মপক্ষ সমর্থন 8 রাত দশটা পর্যন্ত আসন্ন ছিল না পরের দিন যখন বিশ্বের এই হলোকস্ট জন্য তার প্রথম ব্যাখ্যা দেওয়া হয়. বিবৃতিতে স্ববিরোধী এবং ইতিবাচক লাইন মেশানো ছিল. বিশ্বাসঘাতক ও আসামীর, যাদের সঙ্গে, মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সমঝোতা ছিল করা যেমন একটি অংশ তাঁর ব্র্যান্ডিং; বাংলাদেশের পরিস্থিতি বা আলোচনার অবশ্যই কোন সম্পর্ক বিঁধ। জাতীয় পরিষদে “আওয়ামী লীগ যা বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন এবং আসন সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনুষ্ঠিত নিষিদ্ধ পর জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে তাঁর ওয়াদার ৭৫ লক্ষ বাঙালিকে অবাধে ভয়েস রেকর্ড বিদ্রুপ ছিল. দ্য বিবৃতির অসূক্ষ্মতা স্পষ্ট প্রমাণ যে ইয়াহিয়া পারেন যুক্তিবিজ্ঞান বা নৈতিকতা পিছনে আশ্রয় গ্রহণে আর আগ্রহী ছিলেন এবং বাংলাদেশের জনগণের পেষ তার বিড জঙ্গলের আইন রূপে ফিরিয়ে ছিল। পাকিস্তান এখন মৃত এবং একটি পর্বত নিচে চাপা লাশ. শত শত এবং হাজার হাজার মানুষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা হত্যা পশ্চিম পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে একটি দুর্ভেদ্য বাধা হিসেবে কাজ করবে। প্রাক পরিকল্পিত গণহত্যা ইয়াহিয়া অবশ্যই জানা উচিত যে, সে পাকিস্তানের কবর খনন করা হয়েছিল অবলম্বী দ্বারা. পরবর্তী মানুষের উপর তার লাইসেন্সকৃত খুনীদের দ্বারা তার নির্দেশে সংঘটিত গণহত্যার একটি জাতির ঐক্য সংরক্ষণ করার জন্য ডিজাইন করা হয় নি. তারা বর্ণবাদী ঘৃণা ও ধর্ষকাম মানবতার এমনকি উপাদানের বর্জিত কাজ ছিল তাদের পেশাগত সৈনিকদের আদেশ লঙ্ঘন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.010.028>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

সামরিক সম্মানের কোডকে দেখা যায়, শিকারী পশু হিসেবে, যারা হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও বিনাশের এক বেলেল্লাপনাকে প্রশ্রয় দিয়েছিলো এবং মানবসভ্যতার ইতিহাসে অতুলনীয় ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড চালিয়য়েছিলো। এসব কাজ ইঙ্গিত করে যে, দুই দেশের ধারণা ইতিমধ্যে গভীরভাবে ইয়াহিয়া ও তার সহযোগীদের মনে গভীর ভাবেই গেথে গিয়েছিল, যারা তাদের নিজের দেশের মানুষের উপর এরূপ নৃশংসতা চালাতে কুন্ঠিত হয় না। ইয়াহিয়ার গণহত্যার উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ছিলো না। এটা শুধুমাত্র পাকিস্তানের দুঃখজনক ইতিহাসে শেষ অঙ্ক হিসেবে কাজ করে যা ইয়াহিয়া বাংলাদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে লিখতে চেয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিলো গণহত্যা এবং ঝলসিত পৃথিবী যাতে , তার সৈন্যরা বিতাড়িত বা প্যারিশভুক্ত না হয়। এই সময় তিনি চেয়েছিলেন, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বুদ্ধিজীবি সমাজ এবং প্রশাসনকে ডুবাতে, ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন আমাদের শিল্প ও প্রকাশ্য সুযোগ-সুবিধাকে, সবশেষে তিনি আশা করেছিলেন, আমাদের শহর ধূলিসাৎ করতে। ইতিমধ্যে তার দখলদার বাহিনীর এই উদ্দেশ্যের দিকে সারগর্ভ অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশকে 50 বছর আগেই সেইসব মানুষদের জন্য পশ্চিম পাকিস্তানের বিভাজিকা উপহার হিসেব স্থাপন করা হয়েছিলো, যারা তাদের নিজের সুবিধার জন্য তেইশ বছর ধরে শোষিত হয়েছে। এটি হলো সেই মহাক্ষমতার তাৎপর্য যেই ক্ষমতা Belsen এবং Auschwitz দিন থেকে গণহত্যার এই বৃহত্তম একক আইন উপেক্ষা করে আসছে। যদি তারা মনে করে তারা পাকিস্তানের ঐক্য সংরক্ষণ করছে , তারা এটা ভুলে যেতে পারেন কারণ পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইয়াহিয়ার নিজের কোন বিভ্রম ছিলো না। তাদেরককে উপলব্ধি করতে হবে যে ইয়াহিয়ার হাতেই পাকিস্তানের মৃত্যু ঘটেছিলো-এবং স্বাধীন বাংলাদেশ একটি বাস্তবতা যা টিকে আছে ৭৫ লক্ষ বাঙালির অবিনশ্বর ইচ্ছা এবং সাহসিকতার জোরে যারা প্রতিনিয়ত তাদের রক্ত দিয়ে এই নতুন জাতিসত্তার শিকড়ের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। পৃথিবীর কোন শক্তিই এই নতুন জাতিকে চ্যুত করতে পারবে না এবং তাড়াতাড়ি হোক বা দেরীতে, বড় এবং ছোট উভয় পরাশক্তিকেই বিশ্বভ্রাতৃত্বের দরুন এটিকে গ্রহণ করতে হবে। সৈন্যদের বন্দী করা এবং তাদেরকে ফেরত পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে আনার জন্য ইয়াহিয়া উপর বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর পূর্ণ চাপ দেওয়া যতটা না রাজনীতির স্বার্থে তার চেয়ে বড় মানবিকতায়। আমরা USSR ও ভারত এবং সমগ্র বিশ্বের স্বাধীনচেতা মানুষদের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ যারা আমাদের এই সংগ্রামে জোরালো সমর্থন দিয়েছেন : সেই সাথে স্বাগত জানাই গনচীন, আমেিরকা, ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বাধীনতা পক্ষের শক্তিকে। নিজ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রত্যেকেই নিজশ্ব উপায় চর্চা করে, পশ্চিম পাকিস্তানে তখন এই চর্চাটাই চলছিল ; ইয়াহিয়া আর একদিনের জন্যও বাংলাদেশের বিপক্ষে আগ্রাসন যুদ্ধে টিকে থাকতে পারছিলো না। বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ হতে চলেছে। এর একমাত্র লক্ষ্য ছিলো যুদ্ধবিদ্ধস্ত জাতি থেকে ইয়াহিয়ার হানাদার বাহিনীর পিছনে থেকে একটি নতুন জাতি পুনর্নির্মাণের। এটি একটি বিস্ময়কর টাস্ক হবে কারণ আমরা ইতিমধ্যে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলির একটি। কিন্তু আমাদের কাছে এখন একটি কারণ এবং এমন লোক আছে যারা প্রতিরোধের কঠিনীভূত হয়েছে, যারা তাদের জাতির জন্য তাদের রক্ত দিয়ে একটি মহাকাব্যিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছে যা সংঘটিত হয়েছিলো একটি আধুনিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিরস্ত্র মানুষের দ্বারা। এই ধরনের একটি জাতি তার জাতিসত্তার ভিত সুরক্ষিত করার কাজের মধ্যে ভুল করতে পারেন না।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.010.029>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

 

 

 

 

আমাদের টিকে থাকার সংগ্রামে আমরা সব মানুষের বন্ধুত্ব চাই ক্ষমতায় বড় এবং ছোট সবার। আমরা কোন সংযোজন বা চুক্তি যোগদানের জন্য উচ্চাভিলাষী না, কিন্তু কেউ স্বেচ্ছায় আমাদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ না করে শুভেচ্ছার মনোভাবে সহায়তা দিতে চাইলে তা নেয়া হবে। আমরা এ পর্যন্ত অত্যন্ত দীর্ঘ লড়াই করেছি আমাদের আত্মবিশ্বাসের সাথে যাতে যে কেউ আমাদেরকে আদর্শ ভেবে নিতে পারে।

 

 

এখন আমরাবিশ্বের সব দেশগুলির কাছে আমাদের জাতিসত্তার জন্য সংগ্রামে বস্তুগত ও নৈতিক উভয় ধরণের স্বীকৃতি ও সহায়তার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। প্রতিদিনের দেরিতেসহস্র জীবন হারিয়ে যায় এবং বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ধ্বংস করা হয়। মানবতার স্বার্থে এক্ষুনি পদক্ষেপ গ্রহণ করণ এবং আমারা আজীবন বন্ধুত্ব প্রদর্শন করবো

 

 

 

এখন আমরা এটা পৃথিবীর সামনে বাংলাদেশের মানুষের ‘কেস’ হিসাবে উপস্থাপন করি। কোনো জাতি জাতিসত্ত্বার জন্য এমন অধিকার আদায় করেনি, কোনো মানুষ অধিকার আদায়ে এমন যুদ্ধ করেনি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.011.030>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

 

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
কলকাতাস্থ পাকিস্তানি ডেপুটি হাইকমিশনারের বাংলাদেশের পদাম্বলন এশিয়ান রেকর্ডার- জুন ১১-১৭,১৯৭১ ১৮ এপ্রিল ১৯৭১

 

 

বাংলাদেশে পাকিস্তানি কূটনীতিক ট্র্যান্সফার আনুগত্য: কলকাতায় পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার জনাব এম হোসেন আলী, 18 এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিকট তার আনুগত্য প্রকাশ করেন। তার পাঁচজন কর্মকর্তাসহ কর্মীদের 70 জন বাঙালী সদস্য, বাংলাদেশ সরকারকে সাহায্য করার আকাঙ্খা প্রকাশ করেছিলেন। জনাব হোসেন আলী 30 জন অন্যান্য কর্মচারী, বেশিরভাগ সুপার কেরানী ও কর্মীদের জুনিয়র সদস্যদের বরখাস্ত করেন যারা পশ্চিম পাকিস্তানীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ছিলো। তার এ পদক্ষেপ ছিলো বিদেশে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মিশন। তার কর্মীদের বাঙালী সদস্যদের কতৃক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে, জনাব আলী তার মিশন শীর্ষে পাকিস্তানের পতাকা প্রতিস্থাপন করে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানে তার কর্মীদের কয়েকজন সিনিয়র সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত “আমার নিজের” ছিল; তিনি খুশি ছিলেন যে তার কর্মীদের কয়েকজন বাঙালী সদস্যরা তাঁকে সমর্থন করেছিল। তিনি বলেন: “বর্তমানে পাকিস্তানের সরকারের প্রতিনিধিত্ব অব্যাহত রাখা অসম্ভব কারণ এটি বাংলাদেশে বাঙালিদের উপর চালানো একটি ইচ্ছাকৃত গণহত্যার সব প্রমাণ দ্বারা সীমাবদ্ধ হয়ে আছে ” তিনি 1600-শব্দের একটি বিবৃতি প্রদান করেন, যেখানে বর্ননা করেন কিভাবে পাকিস্তানি সরকার বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের সুস্পষ্ট রায়কে কিভাবে বিদ্রুপ করেছিলো এবং “পরিকল্পিতভাবে বাঙালি জাতিকে পরিকল্পিতভাবে দমন করার প্রয়াসে” জড়িত ছিলো। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের অন্যান্য মন্ত্রীবর্গ, যারা কাল যোগাযোগ রক্ষা করতেন, “সবচেয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে” তাঁকে ও তার বাংলা কর্মীদের যারা সরকারের প্রথম বৈদেশিক মিশন হিসেবে কাজ করেছিলেন, তাদেরকে স্বাগত জানান। তিনি বিগত কয়েক দিন ধরেই মিশনের কিছু বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন গোপন বৈঠক ছিলেন , “আমাকে সতর্ক থাকতে হতো”, তিনি বলেন, “অন্তত আমাদের সিদ্ধান্ত সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পূর্বেই যেন ফাঁস না হয়ে যায়”. ‘কলকাতায় একটি ব্যাংক সূত্র জানায়, একটি সিটি ব্যাংক কতৃক পাকিস্তানের ডেপুটি হাই কমিশনের ক্রেডিটের সমগ্র টাকা 17 এপ্রিল প্রত্যাহার করা হয়। এতে মিশনের সব সিনিয়র সদস্যদের অনুমোদন ছিল। এক সূত্র জানায়, ডেপুটি হাই কমিশনের আনুগত্য পরিবর্তন করার সিদ্ধান্তটি বিগত কয়েক দিন ধরে ইসলামাবাদ থেকে প্রেরণকৃত কয়েকটি টেলিগ্রামের বার্তা থেকে অনুসৃত ছিলো, এতে ছিলো মিশনের তথ্য বিভাগের উচ্ছেদের পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের তথ্য, তাৎক্ষণিকভাবে রাওয়ালপিন্ডিতে তথ্য বিভাগের কর্মচারীদের পুনরাহ্বান এবং এতে কর্মীদের কয়েকজন বাঙালি সদস্যদের অবিলম্বে স্থানান্তর হওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে বলা হয়েছিল।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.011.031>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

পাকিস্তানের সতর্কবার্তা :

 

২২ ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশনকে পাকিস্তানের ‘অবৈধ দখলদারিদের’ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ‘তার ফল ভালো হবে না’ বলে ভারতকে হুমকি দেয় পাকিস্তান।

এর আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ কে রায় পাকিস্তানের হাই কমিশনার সাজ্জাদ হায়দারকে বলেছিলেন এটা পাকিস্তানের অন্তর্গত বিষয়ে ভারত আইনবিরোধী কোনও কাজে হস্তক্ষেপ করবে না।

এপ্রিল মাসের ২৩ তারিখে কলকাতায় পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে মেহেদী মাসুদকে নিয়োগ দেয়ায় কোনও প্রকার উস্কানি ছাড়াই মন্ত্রণালয়ে বিক্ষোভ করলেন।

হায়দার সাহেব এ কে রায় এর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করলো এমন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া গেলো। যার মাধ্যমে জানা গেলো কলকাতার লোকাল অফিস ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি করতে পারেনি, না হলে গতকালের এই বিচ্ছিরি ঘটনাটির অবকাশ হতো না।

ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনও রাষ্ট্রবিরোধী (পাকিস্তান) কোনও কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেনি। বরং পাকিস্তান এর একটি আইনি সমাধান চাইতে পারে, ভাতরের পক্ষ থেকে এমন পরামর্শ দেয়া হয়। পাকিস্তান যদি পররাষ্ট্রনৈতিক নিময়কানুন না মানেন, তবে এর জন্য সরকারি

ভারতীয়দের পরামর্শ অনুযায়ী পাকিস্তানের আইনগতভাবে একটা ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বিবৃতি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর অধিনে কূটনৈতিক যে নিয়মকানুনগুলো আছে তাতে বিদেশী মিশনগুলো আদালতে যেতে পারবে না। তাতে কূটনৈতিক সীমা লংঘন হয়।

পরবর্তিতে একজন মূখপাত্র জানান, হায়দার সাহেবের এই আচরণ গণমাধ্যমের সাথে ভুল আচরণ কূটনৈতিক অসৌজন্যতা। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো ‘তার ফল ভালো হবে না’ মর্মে পাকিস্তান কি বুঝাতে চাইলো, তখন তিনি উত্তরে বলেন, এক হাতে তালি বাজে না। ভারতও একই সাথে অবমাননাকর হুমকি দিয়েছে।

 

আরও দুই কূটনৈতিকের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাশা :

 

এপ্রিল মাসের ২০ তারিখে পূর্ব বাংলার দুই পাকিস্তানি হাই কমিশনের কূটনৈতিক নয়া দিল্লীতে রাজনৈতিক আশ্রয় চায় এবং তা দ্রুত তা পাশ হয়ে যায়।

রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া কূটনৈতিকেরা হলেন যুগ্ম সচিব কে এম সাহাবুদ্দিন (৩০) এবং সহকারী প্রেস এটাসে আরনজাদুল হক (৩৩) সিদ্ধান্ত নিলেন পাকিস্তানি আর্মিদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষদের ওপর যে ধ্বংসযজ্ঞ চলছে এ বিষয়ে ইসলামাবাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে দেবেন। তারাহুরার মধ্য দিয়েই মাঝরাত্রে সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন তারা। সেই সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় সাংবাদিকদের সাথে বিদেশী সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলো।

সাহাবুদ্দিন সাহেব ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দিয়ে কিছুদিন নেপালে কাজ করেন। ১৯৬৭-র জানুয়ারি থেকেই নয়া দিল্লীতে কাজ করছিলেন তিনি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.011.032>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র – তৃতীয় খণ্ড

 

 

 

 

আরনজাদুল হক ঢাকায় পাকিস্তান রেডিওতে আঞ্চলিক প্রোগ্রাম পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৬৬ সালে তিনি এই পদে যোগ দেন এবং তখন থেকেই নয়া দিল্লীতে কাজ করছিলেন।

 

সাহাবুদ্দিন সাহেব তার দুই মেয়ে এবং স্ত্রী সহ এবং আরনজাদুল হক একাই (তিনি অবিবাহিত ছিলেন) রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, বাংলাদেশের মানুষদের ওপর ইসলামাবাদ ইতিহাসের জঘন্যতম নির্যাতন চালাচ্ছে। নিরপরাধ, নিরস্ত্র মানুষদের হত্যা করছে। এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে শুরু করেছে বিশ্ব।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, তারা একটি ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারি সেনাবাহিনী পরিচালিত সরকারের হয়ে আর কাজ করবে না। এখন থেকে তারা সাতে সাত কোটি বাংলাদেশীদের জন্য দ্বৈর্থহীনভাবে কাজ করে যাবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তারাই প্রথম পাকিস্তানি কূটনৈতিক হিসেবে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলো।

পশ্চিমবঙ্গে থাকা যেসব বাঙ্গালি কূটনৈতিকদের তাদের কর্মস্থল থেকে বদলীর নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদেরকে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে এক সপ্তাহ আগেই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের খবরে রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গে তখন তিনজন বাঙ্গালি কর্মকর্তাসহ ১৪জন কূটনৈতিক পাকিস্তান হাই কমিশনে কাজ করতেন। তাদের মাঝে ২জনকে ভারতে বদলি করা হয়েছিলো।

 

 

———

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.013.033>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

 

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বিচারপতী আবু সায়ীদ চৌধুরীকে বহির্বিশ্ব ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ বাংলাদেশ সরকার,অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ২১ এপ্রিল, ১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

২১ এপ্রিল,১৯৭১

প্রেরক

বিচারপতি জনাব আবু সায়ীদ চৌধুরী

উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

জনাব,

স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজতাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বিচারপতি জনাব আবু সায়ীদ চৌধুরীকে নিয়োগ করা হলো যেন সে বৈদেশিক বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ ,জাতিসংঘ ও অন্যান্য বিভিন্ন সংস্থার সাথে বৈদেশিক কূটনৈতিক মিশন গুলোতে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

যথাসময়ে নির্দেশিত কাজের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বিশেষ ভাবে তাকে নিয়োগ করা যেতে পারে।

(সৈয়দ নজরুল ইসলাম)

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি

খন্দকার মোশতাক আহমেদ

পররাষ্ট্র মন্ত্রী

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ঢাকা হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জনাব জিউসুক চৌধুরী সেনাবাহিনীর ক্র্যাক ডাউনের সময় যুক্ত্রারাজ্যে ছিলেন এবং তিনি সেখান ত্থেকেই বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তার আনুগত্যের ঘোষণা দেন।

 

 

 

 

 

<003.014.034>

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
অস্ত্র সাহায্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের আবেদন টাইমস অব ইন্ডিয়া ২১ এপ্রিল,১৯৭১

 

অস্ত্রের জন্য তাজউদ্দীনের আবেদন

২৮ এপ্রিল,১৯৭১ তাজউদ্দীন আহমদের আবেদনের প্রেস রিপোর্ট

 

কোহিমা,এপ্রিলের ২৮ তারিখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন আহমদ প্রতিবেশী রাষ্ট্র গুলোর প্রতি আবেদন জানান অবিলম্বে বাংলাদেশ কে স্বীকৃতি দিয়ে নিঃশর্তে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করতে যেন সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুরতা থেকে সদ্য জন্ম নেয়া দেশটি মুক্ত হতে পারে।

 

বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন “ যারা আমাদের শোষোণ করে আমাদের টাকায় অস্ত্র কিনে আমাদের দেশের মানুষ কে হত্যা করছে ’’ সেই হানাদার বাহিনীকে তিনি দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।

 

তিনি আরো বলেন পশ্চিম পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর থেকে রংপুর,দিনাজপুর,ফরিদপুর,বগুরা এবং ময়মনসিংহ (ক্যান্টনমন্টের এলাকা ছাড়া)মুক্ত করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই বাকি অঞ্চল গুলোও বাংলাদেশে সরকারের অধীনে চলে আসবে।

 

তাজউদ্দীন আহমদ স্বদেশবাসীর উদ্দেশ্যে আরো বলেন যে লাখো বাঙালির অনুচ্চারিত আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দেয়ার সময় এসেছে।

 

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন সে সকল অগণিত মুক্তিযোদ্ধা যারা স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছে তাদের প্রত্যেকের নাম ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

 

তিনি বিদেশে অবস্থানরত সকল বাঙালির কাছে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য সম্ভাব্য সকল ধরণের সাহায্যের জন্য আবেদন করেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.015.035>

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টার একটি প্রতিবেদন             বাংলাদেশ সরকার

১০ মে, ১৯৭১

 

 

বাংলাদেশঃ অবস্থা ও সুযোগ

– রেহমান সোবহান

বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা

মে ১০ ১৯৭১

 

প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে , বৃহৎ শক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নীরবতা ও নিস্কৃয়তা বুঝতে পারা কস্টসাধ্য। আদর্শবাদী হিশেবে যখন ২,০০,০০০ বাঙালীর পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের বিশ্বের মনযোগী হওয়া উচিত, এটা দুঃখজনক যে তাদের রাজনৈতিক বিবেচনা এতোটাই বিকারগ্রস্ত যে তাঁরা প্রতিক্রিয়া জানানো থেকে বিরত থাকছে।

 

আমরা এখন একটি জনপ্রিয় নির্বাচিত দল এবং একে ধরে রাখা রাজনৈতিক শক্তিকে ধ্বংস করতে সামরিক জান্তার একটা চক্রান্ত দেখতে পাচ্ছি, যাদের নিজের অবস্থানই নড়োবড়ে। যখন অধিকাংশ বিপ্লবী নেতাদের অবস্থান এখনো পরিস্কার নয়, এ বিষয়ে কোনো দ্বিধা নেই যে শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছেন । ১৬৯ এর মাঝে ১৬৭ আসন এবং ৮০ শতাংশ ভোটে নির্বাচনে জয়লাভ তাদের প্রশ্নাতীত কর্তৃত্বের প্রমান দেয় । তাঁরা প্রতিনিধিত্ব করছে ৭.৫ কোটি মানুষকে কিংবা ৫৫ শতাংশকে যা এক সময় পাকিস্তান গঠন করেছিলো । বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলার অধিকার নিয়ে ইয়াহিয়া ও তার জান্তাকে বৈধতা দেওয়া ৭.৫ কোটি বাঙালীকে অবমূল্যায়ন করে যারা বিশ্বের অষ্টম বৃহৎ জনগোষ্ঠী । গণতান্ত্রিক নীতির প্রতিজ্ঞা করার নামে এটা শুধু প্রহসনই নয় , এতে কোনো রাজনৈতিক প্রজ্ঞাও নেই ।

 

এখন পাকিস্তান সরকার মরিয়া হয়ে পুরো বিশ্বকে একথা বোঝাতে চাইছে যে বাংলাদেশ পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রনে আছে । তারা বলছে যে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো তাদের নিয়ন্ত্রনে আছে এবং বিদ্রোহ দমন করা হয়েছে । প্রমানস্বরূপ তাঁরা বলছে যে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তাদের ঢাকার সভিবালয়ে তাদের অফিসেই পাওয়া যাবে ।

 

সেখানে তারা এটা বলছে না যে এখনো সচিবালয়ে কোনো কাজই চলছে না কারন আর্মির নির্বিচার হত্যায় আতংকিত হয়ে অধিকাংশ অধঃস্তন কর্মচারি এখনো পর্যন্ত ঢাকার বাইরে অবস্থান করছে । আর্মিরা যে দোকানপাটগুলো জ্বালিয়ে দেয়নি সেগুলোর মাত্র ৫০ শতাংশ খোলা রয়েছে এবং সেগুলোও আর্মিদের লুটপাট এর স্বীকার হবার আশংকায় ভীতকম্পমান অবস্থায় চলছে । ঢাকায় এপ্রিলের শেষ পর্যন্তও রাতে কারফিউ জারি ছিলো এবং সূর্য ডোবার পরে রাস্তা রাস্তাগুলো মূলত জনশুন্য থাকে। একসপ্তাহ আগেই আর্মিকে ঢাকার অদূরের গ্রামগুলোতে ‘দুষ্কৃতিকারী’ অপসারন করতে মর্টার হামলা চালাতে হয়েছে। ২৭ এপ্রিল আর্মিকে মার্শাল ল অর্ডার ১৪৮ জারি করতে হয়েছে, যাতে সরকারি স্থাপনায় সবধরনের নাশকতার জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান করা হয়েছে এবং বলা হয়েছেঃ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.015.036>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

“সকল কিংবা যেকোনো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা কিংবা এলাকারসমূহের অধিবাসিরা শাশ্তিমূলক ব্যবস্থার জন্য সম্মিলিতভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন ।”

 

এটা শুধুমাত্রই প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং আর্মির প্রতিক্রিয়ার কাগুজে প্রমান দেয় যা সম্পর্কে ঢাকার বাইরে গিয়েছে এমন যে কেউই জানে।

 

তাঁরা বুঝতে পারবে সিলেট, যেখানে চা বাগানের ভেতরের বনাঞ্চলগুলো প্রাকৃতিক ঢাল হিশেবে কাজ করে, এখনো পর্যন্ত অপরিচিত এবং বেঙ্গল রেজিমেন্টের নিয়ন্ত্রনাধীন । চিটাগাং পার্বত্য অঞ্চল এখনো একটি ফোর্স দখল করে রেখেছে । সমগ্র বাংলাদেশেই সশস্ত্র বাঙালী গ্রামাঞ্চলগুলোতে সরে পড়ছে এবং এবং আর্মি ইউনিটগুলোর ওপর গেরিলা হামলা চালাচ্ছে। সামনে এর মাত্রা ও তীব্রতা আরও বাড়বে এবং এই ধরনের যুদ্ধ কৌশল প্রতিরোধ করতে আরও পারদর্শীতা, অতিরিক্ত রসদ যোগান ও অস্ত্রের প্রয়োজন যা পাক আর্মির কাছ থেকে বিপুল পরিমানে কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং মৌসুমী বর্ষা তাদের পন্য সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যাকে আরও অনিশ্চিত করে দিয়েছে । সেখানে আরও দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার সামর্থ্য আছে এবং পাক আর্মির চালিয়ে যাওয়া যুদ্ধে বাছবিচারহীন গতিপ্রকৃতি জনগনের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও দৃঢ় করেছে। আর্টিলারির সীমারেখার মাঝের সমস্ত গ্রামকে ধ্বংস করে এবং সে স্থানগুলোকে ‘উন্মুক্ত গোলাবর্ষন এলাকা’ বলে ঘোষণা দিয়ে তাঁরা পাকিস্তান আর্মিকে ঘৃনার বস্তু এবং সাড়ে ৭কোটি বাঙালির নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকীতে পরিনত করেছে , যারা এই হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ কিংবা প্রতিরোধে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

 

তীব্র আতংক এখন পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের জন্য খুব সামান্যই কাজে এসেছে । তাঁরা যে শহরগুলো নিয়ন্ত্রন করছে সেগুলো পরিত্যাক্ত , জনশুন্য , অর্থনৈতিক কার্যকলাপশূন্য এবং প্রশাসনিক কাঠামোহীন । জনসংখ্যার বড়জোর ১০ শতাংশ মানুষ সেখানে রয়ে গিয়েছে , তা হলে প্রশাসন, যারা মূলত শহরগুলো মুক্ত করার সময় প্রতিরোধের সাথে কাজ করেছিলো , সেখানেই থেকে যাবার কোনো সুযোগ নিচ্ছে না । তার অর্থ এই যে প্রদেশজুড়ে আর্মিদের নিয়ন্ত্রন থাকলেও বাস্তবে সাড়ে ৭ কোটি মানুষের বড়জোর এককোটি মানুষ তাদের তাদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রনে আছে । আর্মি মূল সড়কগুলোর সংযোগস্থল দখলে রেখেছে এবং সড়ক ব্যবস্থার কাঠামোর উপর ভিত্তি করে সক্রিয় আছে, ফলে তাঁরা ভারিঅস্ত্রসজ্জিত মোটর কনভয়গুলো এক শহর থেকে আরেক শহরে স্থানান্তর করতে পারছে ।

 

দেশজুড়ে এমন অসার নিয়ন্ত্রনের কারনে অর্থনৈতিক জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে । এমনকি ঢাকা , চট্টগ্রাম , খুলনার যে সকল ইন্ডাস্ট্রিগুলো ইচ্ছে করেই ধ্বংস করা হয়নি সেগুলোও ধুঁকে ধুঁকে চলছে কারন আর্মিদের পুনরায় হামলার আশংকায় শ্রমিকদের অধিকাংশই এখনো গ্রামে রয়ে গেছে । যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং বাজার ব্যবস্থা ব্যহত হওয়ায় রপ্তানি বন্ধ রয়েছে । পাট ও অন্যান্য পন্যদ্রব্য বাজারজাত করার সাথে জড়িত অনেক গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি, এবং আমদানিকারক, পশ্চিম পাকিস্তানি কিংবা হিন্দু । তারা পালিয়ে গেছে কিংবা খুন হয়েছেন , তাই অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আমদানি কিংবা রপতানি খুব কমই হবে বলে আশা করা যায় । বন্দর শ্রমিকেরা অব্যাহতভাবে অনুপস্থিত থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর নিশ্চল হয়ে আছে যা সমস্যার প্রকোপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে ।

 

বাংলাদেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়াটা ইয়াহিয়া সরকারের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ন নয় । যুক্তরাষ্ট্র অর্থসাহায্যের সাবরজেট কিংবা চাইনিজ মিগ ব্যবহার করে চালানো জ্বালাও-পোড়াও নীতিতে ধ্বংস হয়েছে শস্যভান্ডার , চা বাগান এবং … গুদাম [ব্রাহ্মনবাড়িয়া] যা আর্মির ভয়ভীতি প্রদর্শনের অস্ত্র হিশেবে দূর্ভিক্ষ এবং অর্থনৈতিক মন্দার দিকে নির্দেশ করছে ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.015.037>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

 

 

 

আপাতত বেশি দুর্ভাবনার হলো, দেশের বৈদিশিক মুদ্রার আয়ের ৫০ শতাংশের আনুষঙ্গিক ক্ষতি, যেটি বাংলাদেশ থেকে আসত পাটজাত পণ্যের মাধ্যমে। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির ৮০ শতাংশ মুক্ত বৈদিশিক বিনিময় কাজে লাগানো হতো পশ্চিম পাকিস্তানে। পশ্চিম থেকে রপ্তানি বাড়িয়ে এটির আশু বিকল্প বের করা সম্ভব নয়, বিশেষ করে বৈদিশিক বিনিময় ঘাটতির কারণে এখানকার শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদন যখন ইতিমধ্যেই ৪০ শাতংশ কমে গেছে। পাকিস্তান সরকার এই প্রান্তিকে চাপ দিচ্ছে ঋণসেবার সম্ভাব্যতা পুনর্গঠন করতে, যেটি করতে জুনের শেষ নাগাদ সমস্ত পাওনাদারদের পরিশোধ করতে হবে প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড। সর্বোপরি, এসবের বাইরেও পাকিস্তানের প্রয়োজন নতুন নতুন সাহায্যের প্রতিশ্রুতি, বিভিন্ন পণ্যদ্রব্য আমদানি করে যাতে রুগ্ন শিল্পকে তাজা করা যায় এবং উন্নতির গতি ধরে রাখা যায়। বাংলাদেশের রপ্তান বন্ধের কারণে যখন বৈদিশিতক বিনিময় ভীষণ ভাবে কমে গেছে, নিজেদের বিনিময় বেশি ধরে রাখা প্রয়োজন। স্বাভাবিক সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানের রপ্তানির চেয়ে আমদানি দ্বিগুণ কিন্তু এখন বাংলাদেশের যুদ্ধে টিকে থাকতে তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। ফরাসী অস্ত্র সরবাহকদের ঋন পরিশোধের মূলতুবির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং ইনটেরালিয়া, ৩০ মিরেজ ফাইটারের মতো আরও ভালো অস্ত্রের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সরবাহের সত্যিকার বা প্রত্যাশিত মজুদের জন্য উন্মুক্ত অস্ত্র বাজারে নগদ বৈদিশিক বিনিময়ের প্রয়োজন হবে। মি. এম.এম আহমেদের সফর তাই বিশেষভঅবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বব্যাংক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দাতাদের কাছে পাকিস্তানের প্রত্যাশা এই অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে উদ্ধার করা এবং কার্যত বাংলাদেশে সামরিক অভিযানে সম্মতি দেওয়া। এই সাহায্য বাংলাদেশ দুর্ভিক্ষ দূর করায় এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠায় ব্যবহৃত হবে বলে কোনো ধরণের কথা হলে সেটি ইচ্ছাকৃতভাবেই ভুল প্রচার। সরকারের আদেশ তার সীমার বাইরে সম্প্রসারিত হয় না এবং পরিকল্পিত সাহায্যের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়নের দক্ষতার ঘাটতিও আছে। পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পাঠানো সাহায্যগুলি হয়ত পশ্চিমে পাঠিয়ে হয়ত দখলদার সেনাবাহিনীর খাদ্যের জোগান দেওয়া হবে, অথব রাজনৈতিক দমন ও পৃষ্ঠপোষণার সহায়ক হিসেবে কাজে লাগানো হবে। এটির প্রেক্ষিতেই কোনো সাহায্য দাতার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের কোনো প্রশ্ন নেই। পাকিস্তানী প্রশাসনের আহবানে সাড়া দিলে আদতে তারা কোনো মানবিক কাজ তে করবেই না, বরং সামরিক অভিযানকেই স্বীকৃতি দেবে। ঋণসেবার সম্ভাব্যতা পুনর্গঠনের পাকিস্তানের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে এবং প্রক্রিয়াধীনসহ সাহায্যসহ আরও সব ধরণের সাহায্যের প্রতিশ্রুতিকে স্থগিত করে এই সামরিক অভিযানের পুরো মূল্য সরকারকে চুকাতে বাধ্য করা যেতে পারে। গোটা বিশ্বকে বুঝতে হবে যে, ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ও ১৯৬৮ সালে আয়ূব সরকারের পতনের পর যেমন ছিল, সাহায্য দেওয়ার ব্যপারটি কখনোই আর ‘যথারীতি কারবার’ চেহারায় ফিরবে না। হোক ঋন-ঘাটতি তা অন্য কোনো রূপে, পাকিস্তানকে সরলমতি বলে ফুটিয়ে তোলে, এই ধরণের যে কোনো চাতুরির বিরুদ্ধে এভাবেই অবস্থান নিতে হবে দাতাদের। নাম না জানা ২ লাখ নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের খুনিরা সরলমতির অর্থই জানে না। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মূল্য ইতিমধ্যেই পশ্চিম পাকিস্তানকে দিতে হয়েছে নিশ্চিত বাজার হারিয়ে। পশ্চিম পাকিস্তানের রপ্তানির ৪০ শতাংশ যেত যেখানে, সেই বাংলাদেশে এখন কোনো ক্রেতা নেই, আয় বা বাজারজাতের কাঠানো নেই।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.015.038>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

 

পাকিস্তান তাদের মোট রপ্তানির ৪০% বাংলাদেশে পাঠাই। শিল্প বাণিজ্য যা তাদের পণ্য বিশ্বের মূল্যের চেয়ে ১০০% উপরে তাদের পণ্য বিক্রি করতো তা ধ্বংশের মুখোমুখি হওয়াতে পশ্চিম পাকিস্তান অর্থনৈতিক মন্দার হুমকিতে পড়ে। ৫০% মূল্য মূদ্রাস্ফিতিও আশংকা করা হচ্ছে আগামী তিন মাসের মধ্যে শিল্পের ইনপুট ও আউটপুট পতনের কারণে। কড়কড়ে বৈদেশিক মূদ্রা আয় প্রাধান্য পাবে বিনামূল্যে আমদানি, ৪৭ টি আইটেমের আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ এবং নগদ অথবা বোনাস উভয় আমদানি লাইসেন্স প্রাপ্ত হবে। বস্তুত সব আমদানি বোনাসের মাধ্যমে এবং একটি আংশিক অবমূল্যায়ন ইতিমধ্যে ধার্য করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দেশকে চাপে ফেলে যা দাতা দেশগুলো কর্তৃক দেয়া হয়ে থাকে।

 

কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাপ ব্যবহৃত হতে পারে রাজনৈতিক আলোচনার বিকল্প হিসেবে সামরিক পদক্ষেপ সমাপ্তির উপরই এর উদ্দেশ্য পরিষ্কার ভাবে নিহিত। এখানে আলোচনা একমাত্র নেতা ও বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে পারে। এগিয়ে যাওয়া প্রত্যাখ্যাত রাজনৈতিক হ্যাকার যা সাম্প্রতিক নির্বাচনে তাদের জন্য খোঁড়া রাজনৈতিক কবর হতে পুনরুত্থিত করেনা তা সরকারকে শুধুমাত্র উপহাসের পাত্র করে- যা বস্তুত কোন নিরাপদ সমঝোতা দেয় না।

 

আজ রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনে আওয়ামীলীগের হাতে তাদের রাজনৈতিক অবকাঠামো অক্ষত এবং সুরক্ষিত মুজিবের জন্য, যার শারীরিক উপস্থিতি বাংলাদেশ সরকারের আচার। সমগ্র পার্টি অনুক্রমে গঠিত মন্ত্রীপরিষদ, যা এপ্রিল ১৭, ১৯৭১ এ বিশ্বে নিজেকে উপস্থাপন করেছে। বেসামরিক প্রশাসনের যারা আর্মির বন্দুক পরিসীমা অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির শক্তি তাদের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকার গ্রামাঞ্চলে একটি আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক অবকাঠামো এবং কমান্ড লাইন স্থাপন করার চেষ্টা করছে। কাজটি ভীষণ কঠিন কারণ হলো- যৌক্তিক সমস্যার নতুনত্ব ও মহাত্ম।

 

কিন্তু একটা সময় পর এটি গেরিলা যুদ্ধকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো প্রদান করবে- যেটা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হচ্ছে এবং অনির্দিষ্ট কালের জন্য টেকসই হতে পারে।

 

 

 

এই বিশ্বাসে বিশ্বকে প্রতারিত করা উচিৎ নয় যে, তারা অলস বসে থাকতে পারে তাদের মতামতে বিরত থাকতে পারে। যুদ্ধ যতই দীর্ঘায়িত হতে থাকছে ততই বর্তমান নেতৃত্ব এবং নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ক্ষুন্ন হচ্ছে। আজ এখনও নেতৃত্ব মধ্যপন্থিদের হাতে, যারা বাংলাদেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করার জন্য নিরোধীতা প্রতিরোধের কৌশল হিসেবে মূল সেতু ও অত্যাবশ্যক অর্থনৈতিক স্থাপনা উড়িয়ে দিতে ব্যাপক উদ্ভগ্ন এখনও। আর্মি সন্ত্রাসী, দীর্ঘায়িত চরমপন্থা বাধ্য করবে বিদ্যমান সামাজিক জীব হিসেবে একটি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে। দীর্ঘায়িত যুদ্ধের কারণে সামাজিক পরিণতি নিয়ে ইতিহাস অনেক শিক্ষা দেয় যা, উপলদ্ধিতে রাখা এক্ষেত্রে প্রয়োজন।

 

 

 

এরপরও পদক্ষেপহীনতা হতে পারে মানবজীবনের মূল্য দেয়া। পশ্চিম পাকিস্তানের আর্মি স্বয়ং লক্ষ ক্ষেত্রে বাঙালী জীবনের মূল্য নিতে পারে। যুদ্ধে পশ্চিমভাগে বাঙ্গালী ও পূর্বভাগে অবাঙ্গালীদের মধ্যে প্রতিহিংসামূলক সাম্প্রদায়িক হত্যাকান্ডের মাধ্যমে আর্মিদের দ্বারা যুদ্ধ সমাপ্ত হওয়ার পূর্বে আরো এক লক্ষ মৃত্যু যোগ করবে- যা দাঁড়াবে ২ লক্ষের উপরে। আমরা যদি দূর্ভিক্ষে মৃতর সংখ্যা যোগ করি তবে এটা হবে সম্ভবত ঐতিহাসিক মানব মৃত্যুর ঘটনা।

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.015.039>

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

 

 

পরাশক্তি দ্বন্দ্বের প্রতিযোগিতায় প্রদেশটির মুক্ত থাকার কথা কেউ আশা ও করেনি।ভারত ও চীন উভয়ই বাংলাদেশকে ঘিরে রয়েছে এবং তারা নিষ্কৃয় দর্শকের মতো সীমান্তে ঘটে যাওয়া গৃহযুদ্ধের দাবানল দেখতে পারেনা।ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ ধাপে আরো একটি বিধ্বংসী অগ্নিকান্ডের সাক্ষী হয়ে থাকা কদাচিৎ পরাশক্তির স্বার্থের মধ্যে পড়ে; তাও এমন একটি ভূখন্ডের যারা প্রতিজ্ঞা করেছে এ পর্যন্ত দেখতে পাওয়া সকল আয়তনের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার।

 

দেশটির জন্মলগ্নে আন্তর্জাতিক সংকট দেখা দিতে পারে।রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য দেশে এখনো নেতৃত্ব প্রদানকারী দল রয়েছে।একটি শান্তিপূর্ণ উপায়ে দেশ বিভাজনের বন্দোবস্ত করা আবশ্যক।গণহত্যার দ্বারা পরিষ্কার ভাবে ইয়াহিয়ার যুদ্ধের নির্দেশ পাওয়া যায় এবং সে ধরে নেয় পাকিস্থান মৃত এবং সে জাতির জন্য মানবতা প্রকাশের কোনো লক্ষণই ছিলোনা।আকস্মিক এই যুদ্ধের ফলে সমগ্র বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ক্ষয়ক্ষতির পুরণ অচিন্তনীয়।যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ এই জাতিকে ভবিষ্যতে টিকে থাকার জন্য দরিদ্রতা,অনাহার ও রোগ বালাই থেকে মুক্ত হবার জন্য বাস্তব্যতা নিরীক্ষণের মাধ্যমে একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কর্মসূচী নিতে হবে।এধরনের কোনো কর্মসূচী যার দ্বারা যুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে বিশ্ববাসীর বিবেক কে জাগ্রত করতে পারে।পর্যাপ্ত পরিমাণের আন্তর্জাতিক সাহায্যের দ্বারা ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করে ভবিষ্যতে গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অবকাঠামো তৈরী করতে পারবে।

 

 

————-

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.016.040>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

                   শিরোনাম                                  সূত্র                      তারিখ
বাংলাদেশবাসীর প্রতি সরকারের ৭-         দফা নির্দেশাবলী বাংলাদেশ সরকার, প্রচার দপ্তর                  মে, ১৯৭১

 

স্বাধীন বাংলাদেশবাসীর প্রতি-

 

আজ দু’মাস যাবৎ সাড়ে সাত কোটি বাঙালী স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত। বাঙালির বীরত্ব, সংকল্প এবং ত্যাগ বিশ্বের মুক্তিকামী সকল জাতিকে চমৎকৃত করেছে। বাঙালী প্রমাণ করেছে সে এক বীর জাতি। আমাদের শত্রু পরাক্রমশালী এত কোনো সন্দেহ নাই। তাদের কাছে আছে সর্বাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ। কিন্তু বাঙালীর স্বাধীনতার অনির্বাণ দীপ নেভানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। রক্তক্ষয় ছাড়া স্বাধীনতা আসে না। আমরা রক্ত দিয়েছি, দিচ্ছি এবং দেবো আজ সারা বিশ্বের জনমত আমাদের সপক্ষে, কেননা আমাদের সংগ্রাম ন্যায় ও সত্যের। জয় আমাদেরও অনিবার্য এবং আসন্ন। কোনো অবস্থাতেই তাই আমাদের মনোবল হারলে চলবে না। আমাদের মুক্তিফৌজ অবিশ্রান্তভাবে লড়ে চলেছেন দখলদার বাহিনীর সাথে। প্রতিদিন শত শত শত্রুসেনা নিহত হচ্ছে। আড়াই হাজার মাইল দূর থেকে ইয়াহিয়ারশাহীর পক্ষে এ যুদ্ধ বেশীদিন চালানো সম্ভব নয়। জয় আমাদের অবশ্যম্ভাবী। এই পরিপ্রেক্ষিতে সারা বাঙালী জাতির প্রতি স্বাধীন বাংলা সরকারের তরফ থেকে নিম্নলিখিত নির্দেশাবলী জারী করা হচ্ছে।

(ক) দখলদার বাহিনী এবং তথাকথিত পাক সরকারের সাথে কোনো প্রকার সহযোগিতা করা চলবে না। বাঙালী জাতির আনুগত্য শুধুমাত্র স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারই দাবী করেন। কোনো প্রকার খাজানা, কর এবং সরকারী শুল্ক ইত্যাদি পাক সরকারকে দেওয়া চলবে না।

(খ) আঠারো থেকে ত্রিশ বছর বয়স্ক সকল বাঙালী যুবক অবিলম্বে তাঁদের নিকটস্থ মুক্তিফৌজদের অধিনায়ক অথবা তাঁর প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করবেন।

(গ) সারা বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমিতেও পাট চাষ করা চলবে না। বিকল্পে আউস ধান চাষ করতে হবে।

(ঘ) গণধিকৃত দালালদের চিহ্নিত করা নিঃশেষ করতে হবে। আমাদের সংগ্রাম বিরোধী গোয়েন্দাদের নির্মূল করা প্রতিটি বাঙালীর পবিত্র কর্তব্য বলে বিবেচিত হবে।

(ঙ) কোন অবস্থাতেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুন্ন করা চলবে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য দাঙ্গাবাজদের চিহ্নিত করে তাঁদের নির্মূল করতে হবে।

(চ) মুক্তিফৌজদের সাথে সর্বপ্রকার সহযোগিতা আমাদের আশু মুক্তির একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এটা স্মরণ রেখে তাঁদের সাথে কাঁধের কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। পক্ষান্তরে, দখলদার পাক বাহিনীর চলার প্রতিটি পদক্ষেপে সৃষ্টি করতে হবে দুর্লংঘ্য প্রতিবন্ধক। ছলে বলে নস্যাৎ করতে হবে তাদের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।

(ছ) স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাসমূহের এবং সরকারী, আধা সরকারী ও বেসরকারী সকল কর্মচারীদের শত প্রলোভন সত্ত্বেও পাক সরকারের অধীনে কাজে যোগ দেওয়া চলবে না। অনতিবিলম্বেই তাঁদের স্বাধীন বাংলা সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে মুক্তি সংগ্রামের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

অতি শিগগিরই স্বাধীন বাংলার মুদ্রা ও ডাকটিকেট চালু হচ্ছে। বিশ্বের সব জায়গা থেকে আমরা অস্ত্রশস্ত্র এবং ত্রাণ সহ সর্বপ্রকার সাহায্য পাচ্ছি। প্রতিটি বাঙালী সরকারী কর্মচারী বাংলাদেশের প্রতি তাঁদের আনুগত্য ঘোষনা করেছেন এবং মুক্ত এলাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার অতিশীঘ্রই বিশ্বের

 

 

 

 

 

 

<003.016.041>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের স্বীকৃতি লাভ করতে চলেছেন। দুর্বার গতিতে আজ সারা বাঙালী জাতি বিজয়ের পথে চলমান। কোনো বাধা কোনো বিঘ্নই আর তার গতি রোধ করতে পারবে না। যেহেতু আমরা নিঃশেষে প্রাণ দান করতে শিখেছি অতএব আমাদের ক্ষয় নেই, ক্ষয় নেই।

 

“জয় বাংলা”

 

স্বাধীন বাংলা সরকারের

প্রচার দপ্তর থেকে প্রচারিত।

 

 

 

 

————

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.017.042>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সুত্র তারিখ
প্রধানমন্ত্রীর ১৮-দফা নির্দেশাবলী। দি স্ট্যাটসম্যান, নয়াদিল্লী। ১৪ মে, ১৯৭১

 

 

জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ কর্তৃক লিখিত ১৮ দফা নির্দেশাবলি, মে ১৪,১৯৭১

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ কর্তৃক জারিকৃত স্বাধীনতা সংগ্রামের বিস্তারিত জন সম্পৃক্ততার জন্য ১৮দফা নির্দেশাবলী।

 

তিনি জনগণকে বলেছেন যে, গুজব না শুনতে এবং “জনগণের চুড়ান্ত বিজয়” সম্পর্কে নিঃসন্দেহ থাকতে।

 

তিনি বলেন: “জনসাধারণকে মনে রাখতে হবে যুদ্ধক্ষেত্রে সম্মুখে এগিয়ে যাওয়া ও অপসৃত হওয়া সমান গুরুত্ববাহী। একটি ক্ষেত্র হতে মুক্তিবাহিনীর পশ্চাদপসরণ সাধারণের মনে যেন এই ছাপ না ফেলে যে আমরা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ছেড়ে দিয়েছি।

 

এই সংগ্রামে, জনসাধারণ দল-মত, ধর্ম বা শ্রেণী-গোত্রে বিভক্ত নয়। “আমরা বাঙ্গালী হিসেবে একতাবদ্ধ হয়েছি, এবং আমাদের শত্রুরাও আমাদের সেই দৃষ্টিতেই দেখে। যখন তারা আমাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়, মানুষের ওপর গুলি চালায় বা শহর ধ্বংস করে, আমরা বাঙ্গালী বলেই তারা আক্রমণ করে, আমাদের ধর্ম অথবা রাজনীতি নিয়ে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

 

শত্রুর সঙ্গে কোন বাঙ্গালী কর্মচারী সহযোগী হবেন না; সকল পদবীর কর্মচারীরা বাংলাদেশ সরকারের সঞ্চালনা অনুযায়ী চলবেন। শত্রু দখলকৃত অঞ্চল সমূহে, তারা জনপ্রিয় প্রতিনিধির নির্দেশনায় কাজ করবে এবং পারিপার্শ্বিকতা নির্ভর ছদ্মরূপ ব্যাবহার করবেন।

 

তাদের দায়িত্ব সমূহ

 

জনাব আহমেদ বলেন: “সরকারী ও আধাসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীগণ যারা অন্যজায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন তারা তাদের পদে কর্মরত হিসেবে ধরে নেয়া হবে এবং তাদের প্রতি এই আশাবাদ রাখেন যে তারা বাংলাদেশ সরকার এবং মুক্তিফৌজ কে তাদের সাধ্যানুযায়ী সহযোগীতা করবেন।

 

সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ ও সৈনিকগণ, তারা চাকরীরত বা অবসরে যেভাবেই থাকুন, তারা অবশ্যই নিকটস্থ মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে দায়িত্বে যোগ দিবেন এবং “কোন পরিস্থিতিতেই” নিজেকে শত্রুর দ্বারা অপব্যবহৃত হতে দিতে পারবে না নিজেদের “না শত্রুর প্রতি সহযোগীতা করবেন”।

 

নির্দেশাবলীতে বলছে, “শুধুমাত্র বাংলাদেশ সরকার ব্যতীত অন্য কারো করাদি, খাজনাদি এবং শুল্কাদি গ্রহণ করার অধিকার নেই। এটা অবশ্যই স্মরণে রাখতে হবে যে একটি পয়সাও শত্রু দ্বারা গ্রহীত হলে তা ব্যবহৃত হবে আপনাদের এবং আপনাদের সন্তানাদিকে হত্যার জন্য। অতএব যে কোন ব্যক্তি শত্রুপক্ষকে কর পরিশোধ করলে বা এই ব্যাপারে সাহায্য করলে তাদের বাংলাদেশ সরকার এর কাছে জাতীয় শত্রু হিসেবে গণ্য হবে এবং তার যথাযোগ্য শাস্তি পাবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.017.043>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার কার্যরত কর্মচারীরা “শত্রু সঙ্গে সমবায় করা উচিত নয়, প্রথম সুযোগেই তারা তাদের পরিবহন নিয়ে শত্রুর দখলকৃত এলাকা খালি করে সরে পরা উচিত”। সঠিক মনোযোগ দেয়া উচিত জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পণ্য চাহিদা পুরনের এবং এ ব্যাপারে উৎপাদনন বারাতে মানুষকে দ্বিগুণ উৎসাহিত করা উচিত।” “সাধারণের স্মরণে রাখতে হবে যে, খাদ্য বা পণ্য আমদানি নির্ভর ব্যবস্থা আত্মঘাতী হয়।” বেশী জোর দিতে হবে খামার উৎপাদিত পণ্যের উপর, নির্ভর থাকা উচিত” স্থানীয়ভাবে উপলব্ধ পণ্য ও কুটির শিল্পের উৎপাদনে।” . লক্ষণীয়

নির্দেশনায় বলা হয় যে, “আমাদের জাতীয় সংকটে, আমাদের এক নম্বর শত্রু যারা কালোবাজারী, মুনাফাবাজ, মজুতদার ও চোরাকারবারী করে। তাদের নজরদারিতে রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা উচিত তাদেরকে।” এতে আরো বলা হয়েছে: আমাদের আরো সতর্ক হতে হবে অন্য ধরনের অসামাজিক, সাধারণ অপরাধী যারা বিশ্বাসঘাত করেছে। যেহেতু তারা আমাদের চরম শত্রু তাই তাদের চিহ্নিত করতে হবে। একটি ঐক্যবদ্ধ দেশে তারা সাধারণ মানুষকে ধর্মের নামে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছে। তারা সত্যিকার অর্থেই পশ্চিম পাকিস্তানের কায়েমী স্বার্থ রক্ষার দালাল।

এদিকে, বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করেছে যে, সাবেক জাতীয় পরিষদের সব সদস্যগণ এখন থেকে সংসদ সদস্য বা এম.পি. নামে পরিচিত হবেন এবং সাবেক প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত সদস্যগণকে বিধায়ক বা এম.এল.এ. বলা হবে। আওয়ামী লীগ এর দলীয় সাপ্তাহিক জয়বাংলা হতে প্রকাশিত নির্দেশিকায়, এম.পি.-দের ও এম.এল.এ.দের তাদের নিজ নিজ এলাকায় থাকার এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে সাহায্য করার জন্য তাদের নির্দেশ দিয়েছে। “যদি এটা পালন করা একেবারে অসম্ভব এমন একটি নির্বাচনী এলাকা হয়, তাহলে তিনি নিকটতম মুক্তিবাহিনী ইউনিটে তার কার্যক্ষেত্র স্থানান্তর করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা তদারক করা উচিত”, মর্মে দলীয় নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। . সাংসদ ও বিধায়কদের যারা সীমান্তের ওপারে ভারত চলে গেছে তাদের অবিলম্বে দলীয় নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা উচিত, আওয়ামী লীগ হাই কমান্ড আদেশ জারী করেছে যারা তরুণ বা মধ্যবয়সী এবং, ভারতে আশ্রয় নিয়েছে অবিলম্বে নিজেদের সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য তালিকাভুক্ত করতে হবে।

“যারা তাদের জীবন বাঁচাতে সীমান্ত ওপারে উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে সবসময় এটা মনে রাখা উচিত যে, এটি একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা মাত্র। তারা চিরস্থায়ী আবাসের জন্য ভারতে যায় নাই।” . মুজিবনগর হতে পিটিআই আরো যোগ করে: জনাব এ.এইচ.এম.কামরুজ্জামান, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী গতকাল “সমস্ত উপলব্ধ সম্পদের সুষ্ঠু বন্টন” নিশ্চিত করা জন্য একটি লিয়াজোঁ অফিস এর প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।

 

[দ্য স্টেটসম্যান নিউ দিল্লি ১৫ মে, ১৯৭১]

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.018.044>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সুত্র তারিখ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথীকটি সাক্ষাৎকারের বিবরন হিন্দুস্থান টাইমস, নয়াদিলী ২০ মে, ১৯৭১

 

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ এ এইচ এম কামরুজ্জামান এর সাক্ষাৎকার বিবরণী

২০ মে, ১৯৭১

 

” দুর্দান্ত প্রচেষ্টার পরেও পাকিস্তান মিলিটারির গুপ্তসভা বাংলাদেশে তাদের অধীনস্থ এলাকাগুলোর ন্যায়সভা পুনস্থাপনে ব্যর্থ হয় এবং তারা কখনো একাজে সক্ষম হবেও না।” – এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ এ এইচ এম কামরুজ্জামান এ কথা U.N.O. কে জানান।

” বাংলাদেশের প্রাক্তন সিভিল সার্ভেন্টরা সশস্ত্রবাহিনী কে সমর্থন না করার পণ নেয়। সেনা কার্যকলাপকে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বসবাস অধিকারের বিরুদ্ধাচারণ হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে।”

 

তিনি জিজ্ঞেস করেন, যদি পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের স্বাভাবিক অবস্থা দাবি করে, তবে কেন আন্তর্জাতিক সংস্থা আর তাদের অংশবিশেষ হতে বাংলাদেশকে বাদ রাখা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের প্রকৃত পরিস্থিতি বর্হিবিশ্ব থেকে লুকানোর জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মিথ্যা গল্প সাজানো শুরু করে। “তারা জানত, বাংলাদেশে যদি কোন নিরপেক্ষ সংস্থা অনুমোদন করা হয়, তবে তাদের মিথ্যা প্রচারণা আর সাজানো নকশা উন্মোচিত হয়ে যাবে।”

 

পাকিস্তানি প্রজ্ঞাপনের (propaganda) প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন,জাতিগত আর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রশমিত করার জন্যে সেনাবাহিনীকে মধ্যস্থতা করতে হয়েছিল; এই মুক্তিযুদ্ধ কোন ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল না।

 

” আমাদের সংগ্রাম ইসলামের বিরুদ্ধে নয়। ইসলামের নীতি আর শিক্ষাকে অবশ্যই সংরক্ষণ করা হবে। অন্য ধর্মেরও নীতি আর শিক্ষাকে প্রতিপালন করা হবে। আমরা শোষণবঞ্চিত একটি রাষ্ট্র কল্পনা করি। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি সমমাত্রিক আর শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে নারী – পুরুষে ভেদাভেদ থাকবে না, যেখানে মানুষ জাতি- ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে বিবেচিত হবে। ”

 

” যারা বাংলাদেশকে তাদের মাতৃভূমি হিসেবে স্বীকার করে এবং মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত থাকবে, তারা আমাদের ভাই। আর যারা স্বদেশদ্রোহীর ভূমিকা পালন করবে, তারা যে ধর্মেরই হোক না কেন, আমাদের শত্রু, বাংলাদেশের শত্রু। তারা জনতার আদালতের আসামী (tried by)।”

 

তিনি বলেন, ” পাকিস্তানিদের সমস্যার একমাত্র সমাধান হল তাদের সৈন্যবাহিনী অপসারণ করে ক্ষমতা বাংলাদেশের জনতার কাছে হস্তান্তর করা। রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক মানদণ্ডের বিচারে বাংলাদেশের বাঙ্গালীরা কখনোই পশ্চিম পাকিস্তানিদের সাথে একটি জাতি গঠন করতে পারত না। ”

 

ইতিহাসে পাকিস্তানি সৈন্যদলের এহেন নৃশংসতার আর কোন সাদৃশ্য মেলেনি। “আমাদের নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা করা হয়, নারীসমাজের শালীনতার চূড়ান্ত অবমাননা করা হয়েছিল, ঘর-বাড়ি সব ধ্বংস করে ফেলেছিল। ”

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.018.045>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

পাকিস্তানি   সশস্ত্রবাহিনীর পরিকল্পনা ছিল,   বাঙ্গালীদের তাদের নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করা, যেন   তারা বাংলাদেশ পাকিস্তান রাষ্ট্রের অংশবিশেষ, এই মিথ্যাকাহিনী বহাল রাখতে সক্ষম হয়।

 

বাংলাদেশের মানুষ বীরত্বপূর্ণভাবে তাদের এই প্রচেষ্টা প্রত্যাহত করেছিল এবং প্রত্যাহত করতে থাকে।

 

আওয়ামী লীগের ইস্তেহারের বর্ণনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন শুধুমাত্র জনতাভিত্তিক-ই নয়, বরং সকল দুর্নীতি আর আমলাতন্ত্রের উর্ধে থাকবে বলে ঘোষিত হয়।

 

 

 

———————————-

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.019.046>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
নয়াদিল্লীতে প্রেরিত বাংলাদেশের     সংসদীয় দল সম্পর্কিত সংবাদ জয় বাংলা, ২ জুন। ১৯৭১ ২ মে, ১৯৭১

 

নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশ পার্লামেন্টারী দল

 

 

তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি বাংলাদেশ পার্লামেন্টারী প্রতিনিধিদল গম ২৫শে মে নয়াদিল্লীর উদ্দেশে মুজিবনগর ত্যাগ করেছেন। নয়াদিল্লীতে তাঁরা ভারতীয় পার্লামেন্টের বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দের সাথে উত্তর দেশের সাধারণ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করবেন।

 

আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা ও প্রদেশিক পরিষদ সদস্য মিঃ ফণীভূষন মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত উক্ত প্রতিনিধি দলের অপর সদস্যদ্বয় হচ্ছেন আওয়ামী লীগের মহিলা শাখার সাধারণ সম্পাদিকা ও জাতীয় পরিষদ সদস্যা বেগম সরোয়ার মোর্শেদ এবং প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

 

প্রতিনিধি দলটি ভারতের কতিপয় অঙ্গ রাজ্যের রাজধানী সফর করবেন এবং সেসব স্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে মিলিত হবেন।

 

সপ্তাহব্যাপী সফর শেষে তাঁরা মুজিবনগর প্রত্যাবর্তন করবেন এবং বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে সফর সম্পর্কে এক রিপোর্ট পেশ করবেন।

 

 

 

 

 

————————-

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.020.047>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সুত্র তারিখ
স্বাধীন বাংলা বেতার হতে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রীর সাথে একটি সাক্ষাৎকার দি হিন্দুস্থান টাইমস ২৯ মে, ১৯৭১

 

 

স্বাধীন বাংলা কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত জনাব তাজউদ্দিন আহমেদের সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদন

মে ২৯, ১৯৭১

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, যে তিনি বুঝতে ব্যার্থ হয়েছেন যে, কিভাবে বিশ্বের গণতান্ত্রিক সরকারগুলো পাকিস্তানের স্বৈরতান্ত্রিক শাসন সমর্থন করতে পারে যা কিনা বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খার বিপর্যয়কর ছিল। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত :

 

জনাব আহমেদ, একটি সাক্ষাত্কারে একটি বিদেশী সংবাদদাতাকে জানান, “আমরা পাকিস্তানের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন এবং যে শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

 

জনাব আহমেদ, “আমরা এই দিক সব শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টা করেছেন কিন্তু ইয়াহিয়ার আর্মি, সবচেয়ে নির্লজ্জভাবে বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। তখন বাংলাদেশের ৭৫ মিলিয়ন গণতান্ত্রিক বাঙালিদের জন্য স্বাধীনতা ঘোষণা করার কোন বিকল্প ছিল না.

 

এদিকে, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ ইস্যুতে আলোচনার বন্দোবস্ত করেছিলো।

 

তিনি রেডিও উদ্ধৃতি দিয়ে আওয়ামী লীগ সহ অঙ্গসংগঠন বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ আজ সেখানে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।

 

এই রাজনৈতিকদল গুলা মন্তব্য করেছিলো, বিষয়টি একটি নিষ্পত্তির জন্য ইয়াহিয়া খানের একজন দূত দ্বারা প্রস্তাব করেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র।

 

(হিন্দুস্থান টাইমস, নয়াদিল্লী- ২৯মে ,১৯৭১)

 

 

—————————————

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.021.048>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সুত্র তারিখ
পাকিস্থানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের বক্তৃতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য প্যট্রিয়ট ৩০ মে, ১৯৭১

 

ইয়াহিয়ার বিবৃতি, বাংলাদেশের মন্ত্রী জনাব এইচ এম কামরুজ্জামানের মন্তব্য, 30 মে, 1971 সা

 

30 মে, (UNI, PTI.) পাকিস্তান; বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী A.H.M. কামরুজ্জামান বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের কথা কখনও বিশ্বাস করা যাবে না, তিনি বাংলাদেশের কোথাও কোথাও গণহত্যার আশ্রয় নিয়েছে তারপর আবার আমাদের আলোচনা সময় আমাদের চাহিদা গ্রহণের কথা বলেছেন।

 

জেনারেল ইয়াহিয়া খান এমনকি 25th মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তার চুক্তি রেডিওর মাধ্যমে ঘোষণা করার অঙ্গীকার করে তার পরিবর্তে তিনি বাংলা জাতি নিশ্চিহ্ন করার জন্যে তার সৈন্যদের আদেশ।

 

করাচিতে জনাব কামারুজ্জামান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের মন্তব্য বিবৃতি জানায় যে তিনি এখনও বেসামরিক শাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অভিপ্রেত।আমাদের বাংলাদেশের একটি স্বাভাবিক মানুষের কাছে জেনারাল ইয়াহিয়া খানের নাম অর্থ: এটি একটি রক্তপিপাসু অনুষ্ণশোণিত খুনী, বিশ্ব ইতিহাসের পাকিস্তানের disintegrator সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বাসঘাতক “.যেমন তার কথা, মিষ্টি বা যুক্তিসঙ্গত যাই হোক কিন্তু কখনো বাংলাদেশের জনগণ তাকে গ্রহণ করা হবে না তারা যুদ্ধ অব্যাহত দ্বারা সঠিকভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া দেখাবেন ।

 

এটা অসম্ভব যে বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানিদের সঙ্গে একটি সাধারণ ছাদের নিচে বসবাস করতে পারবেন-কারন যারা আমাদের নিরপরাধ শিশু ও মানুষদের হত্যা করেছে, আমাদের নারীদের ধর্ষণ ও আমাদের জাতীয়তাকে নিঃচ্ছিন্ন করেছে।তাই কিভাবে আমরা জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নকশা পূরন করবো যেখানে তার পোষা গুন্ডার দল দ্বারা বাংলা জাতি বিনাশ হয়।

 

LIE NAILED

 

জনাব কামারুজ্জামান বলেন,”একত্রে বাস ভিত্তিতে নিছক ভ্রাতৃভাবে একটি পারস্পরিক সম্মতি থাকা উচিত নয় বরং একে অপরের জন্য অন্তর্নিহিত এবং স্পষ্ট সম্মান বোধ করা উচিত। কিন্তু এখন আর এর অস্তিত্ব নেই। “

 

জেনারেল ইয়াহিয়া খানের বিবৃতিতে উল্লেখ আছে যে আওয়ামী লীগ বিধায়কদের নবনির্বাচিত কিছু সদস্য আছে যারা কিনা তাদের নীতি ও কর্ম দ্বারা অযোগ্য।জনাব কামারুজ্জামান বলেন, ‘পাকিস্তানি শাসকদের আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্যদের কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করার কোন অধিকার নেই যারা জনসংখ্যার তুলনায় ৯৮ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।

 

ক্ষমতা-মাতাল পাকিস্তানি প্রতারক যাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য কোন সম্মান নেই তাদের এই সদস্যদের কর্তৃত্বের ওপর বিচার করারও কোন অধিকার নেই।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.021.049>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

“আওয়ামী লীগ কথা ভঙ্গ করতো না। আওয়ামী লীগের ভিতর যুদ্ধের ভাব ছিল না, আর না ছিল যুদ্ধের প্রস্তুতি।

 

“এখন আমাদের উপর যে যুদ্ধ নিবদ্ধ হয়েছে, আমাদের সে যুদ্ধ অব্যাহত করতে হবে,

পাকিস্তানিদের আমাদের পুণ্যভূমি থেকে সরিয়ে ফেলা পর্যন্ত।

 

“ঐ জাতিগুলো যারা শান্তি ও গণতান্ত্রিক নীতি ও মূল্যবোধের অনুশীলন করে তাদের গণতান্ত্রিক শক্তিকে রক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত যখন হানাদার বাহিনীর হাতে বাংলাদেশ ধ্বংশের সম্মুখীন।

তারা সত্যিই মহান যারা নিপীড়িত ও দুর্ভাগাদেরপাশে দাঁড়িছিলেন ”

 

শহীদেরা প্রশংসিত

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে,বাংলাদেশ সরকার ঐ পরিবারগুলির দায়িত্ব গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যারা তাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতার সংগ্রামের জন্যে নিহত, গুরুতর আহত এবং অক্ষম হয়েছে ।

 

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সম্প্রচার অনুযায়ী,জনাব কামারুজ্জামান এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন এবং গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শহীদদের প্রতি এবং প্রশংসা করেছিলেন মুক্তি বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ ক্রিয়াকলাপকে।

 

মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল একটা প্রঙ্গাপন মুক্তি পায়,বলা আছে যে, ওই সাহসী সৈন্য ও অফিসারগন, যারা এই ধরনের দৃষ্টান্তমূলক সাহস দেখিয়ে স্থায়ী অনুপ্রেরণা উৎস্য হয়েছিল বাংলার সরকারের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য।

 

ব্রডকাস্ট বলেন, সরকার প্রশংসা করে এই বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধেঅংশ নেয়া সকল যোদ্ধাদের প্রশংসা করে এবং সকল প্রতিবন্ধী,অক্ষম সৈন্য এবং শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের জন্যেসরকার পদক্ষেপ নেবে

 

বাঙ্গালী বরখাস্ত

 

আরেকটি ব্রডকাস্ট প্রকাশ করে যে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা “বাংলাদেশের এলাকা দখল করে নিয়ে” বাঙালিদের সরকারি চাকরি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের থেকে নিয়মানুগ বর্জন শুরু করেছে।

 

একটি সম্প্রচার বলেন, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ১৮০০ কর্মচারীর, ১১০০ কর্মচারী বাঙালি-যাদের সবাইকে ছাটাই করা হয়েছিল।

 

ব্রডকাস্ট বলেন, ইতিমধ্যে ৬০০ বাঙালি কর্মচারীকে আরেকটি জায়গায় বরখাস্তের নোটিশ দিয়ে দেয়া হয়।যাদের এপ্রিল মাসের জন্য বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছিল, তাদের আবার মার্চ জন্য বেতন দেয়া হয়নি যখন আওয়ামী লীগের ডাকে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়েছিল।

 

সেনা কর্তৃপক্ষ অন্তরালে একটি কমিটি গঠন করে, বাংলাদেশের পাকিস্তান অধিকৃত এলাকা থেকে সরকারি সব বাঙালি কর্মকারীদের নিয়মানুগ বর্জন চালিয়ে যাওয়ার জন্যে।

 

(পেটট্রিয়ট, নয়াদিল্লি ৩১ মে)

 

 

 

 

 

 

 

<003.022.050>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
“পাকিস্তানের কাঠামোতে আপোসের কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না”-প্রধানমন্ত্রী জয় বাংলা ২ জুন, ১৯৭১

 

পাকিস্তানের কাঠামোতে কোন আপোসের প্রশ্নই উঠতে পারে না

-তাজুদ্দিন

 

“বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ । পাকিস্তানের কাঠামোতে কোন রকম আপোস- মীমাংসার প্রশ্ন উঠতে পারে না ।”

 

গত রবিবার মুজিব নগর “জয় বাংলা” প্রতিনিধির সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজুদ্দীন এ ঘোষণা করেন । বহির্বিশ্বে বিভিন্ন মহলে বাংলাদেশ সমস্যার ‘রাজনৈতিক সমাধান’ সম্পর্কে যেসব কথা-বার্তা উঠেছে তৎসম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জনাব তাজুদ্দীন উপরোক্ত ঘোষণা করেন ।

 

জনাব তাজুদ্দীন আরও বলেন , ‘যে-কোন মূল্যের বিনিময়ে বাংলাদেশের জনগন তাদের পৃথক সত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষা করবে।’

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন , ‘বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর হাতে নিশ্চিহ্ন হওয়ার আগেই যদি তথাকথিত পাকিস্তানের সামরিক জান্তা তাদের খুনী সৈন্যবাহিনীকে বাংলাদেশের মাটি থেকে সরিয়ে নেন , তবে সেটাই হবে তাদের পক্ষে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।’

 

 

————

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.023.051>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
অল ইন্ডিয়া রেডিও প্রচারিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার দি টাইমস অফ ইন্ডিয়া ৩ জুন, ১৯৭১

 

যেকোনো মুল্যে স্বাধীনতাঃ
তাজুদ্দীন

এএইচ ইন্ডিয়া রেডিওকে দেওয়া জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ এর সাক্ষাৎকার এর ওপর প্রতিবেদন

জুন ১৯৭১

 

আজ মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রধনামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ বলেছেন যে বাংলাদেশ সার্বভৌম ও স্বাধী রাষ্ট্রএবং জনগন যেকোনো মূল্যে এর স্বতন্ত্র ও স্বাধীন সত্বাকে রক্ষা করবে ।

 

অল ইন্ডিয়া রেডিওতে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে, জনাব আহমেদ পুনরায় বলেন সবার জন্য বন্ধুত্ব নীতিতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। , যদিও, প্রতিবেশিকিছু রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শক্তি আমাদের এই দুরাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

“এছাড়া মাত্র দু’মাস বয়সী একটি রাষ্ট্রের জন্য শক্ত একটি পররাষ্ট্র নীতি দাঁড় করানো সম্ভব না”, এক প্রশ্নের উত্তরে জনাব তাজুদ্দীন এ কথা বলেন । তিনি আরও বলেন , ‘আশাপ্রদ উন্নতি হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে এখনি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে, ঢাকায় যদি কোনো সাজানো সরকার‌ গঠনের চেষ্টা করা হয় তা অবশ্যই নস্যাৎ করা হবে কারন “বাংলাদেশের জনগন, যারা তাদের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত ও রক্ষা করার জন্য লড়ে যাচ্ছে, তাঁরা খুনী ও দেশদখলকারীদের কোনো জোটকে প্রশ্রয় দেবে না” ।

পাকিস্তান সরকার দাবী করে যে শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তিনি সেনাবাহিনির সাথে সহযোগিতার জন্য জনগনকে আহবান জানিয়েছেন – এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে জনাব আহমেদ জানানঃ “ আমরা জানিনা পাকিস্তান সরকার ঠিক কোন স্থানে শেখ সাহেবকে আটকাবস্থায় রেখেছে । কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনীরর সাথে জনগনকে সহযোগিতা করার যে আহবান সম্পর্কে করা দাবীকে তীব্র ঘৃনার সাথে প্রত্যাখ্যান করা উচিত । এই দাবি অযৌক্তিক” ।

 

জনাব আহমেদ বলেন তার সরকার একটি রাজনৈতিক নিষ্পত্তিতে মধ্যস্ততার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ করেছে । “আমরা প্রত্যেকের জন্য এটা সুস্পষ্ট করতে চাই পাকিস্তানের কাঠামোতে থেকে সমঝোতার কোনো সুযোগই নেই । বাংলাদেশ সার্বভৌম ও স্বাধীন এবং আমরা যেকোনো মূল্যে এর পৃথক ও মুক্ত অস্তিত্বকে রক্ষা করবো।”

 

 

বৃহৎ শক্তিদের নীরবতা

 

বৃহৎ শক্তি , বিশেষত ইউএসএ, যুক্তরাজ্য এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন এর নীরবতা এবং দ্বিধা প্রসঙ্গে তার সরকারের অভিমত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে জনাব তাজউদ্দিন বলেন, আমাদের বর্তমান দূরবস্থা নিয়ে বৃহৎশক্তিগুলোর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া থাকা সত্বেও “সবার জন্য বন্ধুত্ব”- নীতিতেই আমাদের পররাস্ট্র নীতি পরিচালিত হবে ।

 

 

 

 

 

 

<003.023.052>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

তিনি বলেন, তার সরকার কর্তৃক বিদেশে প্রেরিত প্রতিনিধিদের কাজ এসব এলাকায় অনুকূল সুপারিশ তৈরি এবং বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠন এর ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখছে ।

তার সরকারের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে জনাব তাজুদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের সুবৃহৎ গ্রামাঞ্চলগুলোর সাথে সরকার কখনোই যোগাযোগ হারায়নি এবং দখলকৃত শহর ও নগরগুলোর সাথে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে । আমরা একটি প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড় করিয়েছি নিয়ন্ত্রনে থাকা এলাকাগুলোর জন্য এবং একইসাথে শত্রুমুক্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত সকল অভিযানের জন্য একটি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ব্যবস্থা ।

 

বাংলাদেশে বামপন্থীদের কার্যক্রমের প্রতিবেদন সম্পর্কে প্রশন করা হলে জনাব তাজউদ্দিন বলেন , বাংলাদেশে প্রশ্নে বামশক্তিদের সমস্যা সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই । মাত্রই একটি জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য বাংলাদেশের সমস্ত মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আর একই সাথে রাজনৈতিক মতবাদ নির্বিশেষে সব মানুষ এবং সমস্ত দেশপ্রেমিক সত্বা বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে একসাথে জেগে উঠেছে ।

 

তিনি আরও বলেন , “সংগ্রামী জনতা এবং বাংলাদেশ সরকারের জন্য ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মাওলানা ভাসানী এবং ও অন্যান্য দেশপ্রেমিক নেতা এবং সকলেই তাদের সর্বাত্নক সমর্থন জানিয়েছেন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দাবী করেছেন ।”

 

(দ্যা টাইমস অফ ইন্ডিয়া, নয়াদিল্লী-জুন ৩, ১৯৭১)

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.024.053>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

                                       শিরোনাম                সূত্র            তারিখ
রাজনৈতিক সমাধানের প্রশ্নে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজররুল ইসলাম কর্তৃক ৬ই জুনে পেশকৃত চার দফা প্রস্তাব            জয় বাংলা      ১৮ জুন, ১৯৭১

 

 

বাংলার মানুষ আর কোন গোঁজামিলের সামধান গ্রহণ করবে না

-সৈয়দ নজরুল ইসলাম

 

গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলাম গত ৬ই জুন সংগ্রামী বাঙ্গালী জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত এক বেতার ভাষণে বলে, গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আটক সকল গণ-প্রতিনিধিদের অবিলম্বে মুক্তিদান, বাংলাদেশের মাটি থেকে হানাদারবাহিনী ফিরিয়ে নেয়া, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদান এবং পশ্চিম পাকিস্তানী শোষকশ্রেনী কর্তৃক এ যাবৎ বাংলাদেশ থেকে অপহৃত ধনসম্পদ ও গত আড়াই মাসের লড়াইয়ে হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের যে ক্ষতি সাধন করেছে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে তা নির্ণয় করে লুন্ঠিত ধন প্রত্যর্পণ ও পূর্ণ ক্ষতিপূড়ণের দ্বারাই কেবল রাজনৈতিক সমাধান আসতে পারে অন্যথায় রাজনৈতিক সমাধানের কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না।

 

তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় রাজনৈতিক সমাধান বা আপোস মীমাংসা সম্পর্কে যে জল্পনাকল্পনা চলছে সে সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ কোন গোঁজামিলের সমাধান গ্রহন করবে না।

 

আমাদের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান বলিষ্ঠ কণ্ঠে ঘোষণা করেন, বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনদিন সাম্প্রদায়িকতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। এদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে সকল বাঙালী হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খৃষ্টান একসাথে লড়েছেন- বুকের তপ্ত লহু ঢেলে দিয়ে বাংলার মাটি সিক্ত করে তারা এটাই প্রমাণ করেছেন যে, এদেশের প্রতিটি প্রাণ এক্যবদ্ধ, অভিন্ন।

 

স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ভাষণে তিনি বলেন, স্বাধীনতার সংগ্রামে হিন্দু কৃষক জীবন দিয়েছেন, প্রাণ দিয়েছেন মুসলমান কৃষক। মসজিদ পুড়েছে হানাদার দস্যুদের হাতে, পুড়েছে মন্দির গীর্জা আর বৌদ্ধ বিহার বিধ্বস্ত হয়েছে। বর্ব পাক-সেনারা হত্যা করেছে ডঃ গোবিন্দ দেব, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, জ্যোতির্ময় গুহু ঠাকুরতা ও ফজলুর রহমানকে। আমরা একসঙ্গে লড়েছি, একই সাথে জয়ী হবো। এবং জয়ী আমরা হবই।

 

সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, হানাদার দস্যু ইয়াহিউয়ার বর্বর সৈনিকদের নির্মম অত্যাচার কৃষক-মজদুর, ছাত্র, শিক্ষক, মধ্যবিত্ত আর অসংখ্য মানুষ বাংলার শ্যামল মাটির বুক ছেড়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, শত্রুহননের পর মুক্ত স্বদেশে ফিরে আমরা তাঁদের আপন ভিটেমাটিতে প্রতিষ্ঠিত করবই।

 

মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের প্রশংসা করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সীমত সামর্থ্যের জন্য আপনাদের প্রয়োজন সর্বক্ক্রেত্রে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না বিভিন্ন রণাঙ্গনে আপনারা যে উসীম অটল

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.024.054>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

মনোবলের পরিচয় দিচ্ছেন, তাঁর জন্যে আজ সারা বাঙালী জাতি গর্বিত দেশমাতৃকার বীর সন্তান আপনারা। এ সংগ্রামে আপনাদের যেসব সাথী শহীদ হয়েছেন, যারা পঙ্গু হয়েছেন তাঁদের পরিবারবর্গের রক্ষণাবেক্ষণের পুরো দায়িত্ব আমার সরকার ইতিপূর্বেই গ্রহণ করেছেন।

 

তিনি বলেন, মুক্তিবাহিনীর বীর সৈনিকেরা আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন।

 

 

————

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.025.055>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

 

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
শেখ মুজিবের নিরাপত্তার জন্য বিশ্বের শক্তিশালি রাষ্ট্রবর্গের কাছে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এর আবেদন এশিয়ান রেকর্ডার , আগষ্ট ৬-১২ , ১৯৭১ ১৩ জুন, ১৯৭১

 

শেখ মুজিবুর রহমানের নিরাপত্তা

বিশ্বশক্তির কাছে জনাব তাজউদ্দীন আহমেদের আবেদনঃ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ ১৩ জুন বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানিয়েছেন “বাংলাদেশের জনগনের অবিসংবাদিত নেতা” শেখ মুজিবুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং মুক্তির জন্য ।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে এক সম্প্রচারে জাতির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ঢাকায় শেখ মুজিব তাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে চক্রান্ত করেছিলেন- প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের এমন অভিযোগ “এতোটাই অপরিনত যে রীতিমত হাস্যকর”।

বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিশ্বের সকল রাষ্ট্রকে আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “শুধুমাত্র এই সরকারই আমাদের দেশে বৈধ পরিচয় বহন করে এইজন্য যে এটি এদেশের জনগনের মুক্ত মতপ্রকাশের উপর প্রতিষ্ঠিত । আমাদের জনগন পশ্চিম পাকিস্তান ভিত্তিক ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা সম্পূর্নরূপে অস্বীকার করেছে এবং এখন তাদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তাঁরা যুদ্ধ করছে।”

“আমাদের সংগ্রামের প্রশ্নে যারা কোনো পক্ষই নেননি কিংবা এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত আছে অথবা সরাসরি এর বিরোধিতা করেছেন, আমি তাদেরকে নিশ্চয়তা দিতে চাই যে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে এবং এদেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষের দৃঢ়সংকল্প তার সেই স্থান ধরে রাখবে । মানবসম্প্রদায়ের এতো বিরাট অংশকে উপেক্ষা করা কি রাষ্ট্রগুলোর জন্য যৌক্তিক ?” তিনি প্রশ্ন করেন ।

এক বিশেষ বার্তায় মুসলিম এবং আরব দেশগুলোর জন্য, যারা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে গনহত্যার ব্যাপারে কোনো নিন্দা জানায়নি, তিনি বলেনঃ “তাদের পক্ষে এটা মর্মান্তিক ভুল হবে যদি তারা ভেবে নেয় ইয়াহিয়ার সামরিক দল ইসলামিক অধিকার রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের নীরবতা তাই ঔপনিবেশিকতা এবং বর্বরতাকে সমর্থন করছে। ইসলামাবাদকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়াটা স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে তাদের অবস্থান বোঝায় ।”

তিনি বলেন , ১১ সপ্তাহ যাবৎ মুক্তিযুদ্ধ চলছে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার মনে হতাশার সৃষ্টি করেছে । পশ্চিম পাকিস্তান আর্মির অবিশ্বাস্য পরিমান ক্ষয়ক্ষতিই গেরিলা আক্রমনের সাফল্যের সাক্ষ্য দিচ্ছে । ব্যাপক সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের জমজ-নীতি স্বাধীনতার স্বপ্নপূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জাতির মনোবল ভাঙতে সফল হয়নি । অপরদিকে হানাদার শত্রুরা নিরাশায় অগোছালো অবস্থায় আছে ।

জনগন সহযোগিতা করতে প্রত্যাখ্যান করায় যে অর্থনৈতিক সংকটের তৈরী হয়েছে তা সামরিক জান্তা বৈদেশিক সহায়তা ছাড়া নিরসন করতে পারবে না । এটি এখন ১০০ ও ৫০০ রূপীর কাগুজে নোটের মূল্যহ্রাসে পরিনত হয়েছে । এটা শুধুমাত্রঅর্থনৈতিক দিক থেকে তাদের মরিয়া অবস্থার প্রমানই নয় , একই সাথে ইসলামাবাদে তাদের অর্থভান্ডার পূর্ণ করার জন্য জনগনকে তাদের নায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার নির্লজ্জ চেষ্টা ।

তাদের বীরোচিত প্রতিরোধের জন্য বাংলাদেশের জনগনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন , তাদের সংগ্রামের এই নতুন পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা আরও সুসংগঠিত এবং তাদের পদগুলো নতুন সৈন্য দিয়ে ভরে উঠছে ।

—————
 

<003.026.056>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম। সুত্র তারিখ
বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের রিপোর্ট বাংলাদেশ সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬-১৫ জুন, ১৯৭১

 

 

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানাব .এইচ.এম. কামারুজ্জামান সাহেবের উত্তরবঙ্গ সফরের রিপোর্ট: হতে ১৫ জুন .

 

মাননীয় মন্ত্রী মুরশিদাবাদ, মালদা, দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি ও কোচবিহার জেলায় সফরে গেলেন, সঙ্গে জনাব প্রসুন মজুমদার মুক্তিবাহিনীর সহায়ক সমিতি, জনাব খালেক আহমেদ আই.জি. বাংলাদেশ, জনাব আব্দুর রউফ চৌধুরী, এম.পি.এ. (কুষ্টিয়া) অনুষঙ্গী হিসেবে সফরে ছিলেন, প্রতিটি জেলায় যথোপযোগী সংগঠন গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং বিভিন্ন ট্রানজিট প্রশিক্ষণ ক্যাম্পও পরিদর্শন করতে, ক্যাম্পগুলোর বিভিন্ন সমস্যা সচক্ষে দেখবেন এবং ভিন্ন ভিন্ন এম.পি.এ. ও এম.এন.এ.দের নির্দিষ্ট কার্যক্ষেত্রের দায়িত্ব বণ্টন করবেন।

 

মুরশিদাবাদ: ৬ষ্ঠ৭ম, ১৫তম। .

 

ডি.এম., এস.পি. এবং স্থানীয় এম.পি.এ.-দের এবং এম.এন.এ.-দের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। বহরমপুর থেকে প্রায় ৩০মাইল শেখপুরা পরিদর্শন। সেখানে অবস্থিত দুটি ক্যাম্প পরস্পর ৬ মাইল দূরত্বে রয়েছে, উপস্থিত জনবল যথাক্রমে ৮৮+৮১ জন। মো: হাদী হলেন সূর্যসেন ভারতী শিবিরের ভারপ্রাপ্ত আর তিতুমীর বি.এস. এর ভারপ্রাপ্ত ডাঃ আলাউদ্দিন, সম্প্রতি উভয়েই ২০০জন পাঠিয়েছেন উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্যে যার ভিতর ১০ জন শারীরিক পরীক্ষায় প্রত্যাখ্যান হয়ে ফেরৎ এসেছে। আবাসন সমস্যা গুরুতর, এজন্য আরও সৈন্য নিয়োগ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। খাদ্য ব্যবস্থা কিন্তু অপ্রতুল হলেও এটি বিস্ময়কর যে এটা নিয়ে ছেলেদের মধ্যে কোন অসন্তোষ নেই। বেশীরভাগ ছাত্রের বয়স ১৬ হতে ২১ বছর। অস্ত্রের অভাবের অভিযোগটি সার্বজনীন। সর্বাধিক ছেলেদের কোন জুতা ও ইউনিফর্ম ছিল না এমনকি গার্ড অব অনার দেবার সময়ও। . জেলার রাজনৈতিক সমন্নয়ক নির্বাচিত করা হয়: জনাব আব্দুস সালামকে। . ফিরতি পথে, ১৫.৬.৭১ তারিখ লালগোলার অপারেশন ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। জনবল ২৫০জন, বেশিরভাগ ইপিআর, ১০ জন M, ১৫ জন A, কমান্ডো ৩১ জন, বিস্ফোরকে ৫০ জন, ৪৯ জন প্রশিক্ষণ এর জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ক্যাম্পটি বেশ ভালো, এর সাথে রয়েছেন ক্যাপ্টেন রশিদ দাপ্তরিক এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন। ডিএম, জনাব অশোক চট্টোপাধ্যায় অবহিত করেন যে ইয়ুথ ক্যাম্প ভবনের কাজ জুনের শেষ নাগাদ শেষ হবে। কাজ ইতিমধ্যে দ্রুত এগোচ্ছে। মালদহ: ৭ম ৮ম, ১৩। সার্কিট হাউজে কর্মী ও নেতাদের সাক্ষাত। জনাব হাফিজ উদ্দিন, এম.এন.এ. হচ্ছেন রাজনৈতিক সমন্বয়ক। মেহেদীপুর ক্যাম্প ডাঃ মায়নুদ্দিন এম.পি.এ.এর অধীনে, আদমপুর জনাব — (হাসনু) এর অধীনে এই সব হচ্ছে অপারেশন ক্যাম্প। এনায়েতপুর ক্যাম্প ডাঃ মেজবাউল হক এম.পি.এ. এর অধীনে। সবল ছাড়া কোন দূর্বল প্রশিক্ষণার্থীর যেনো না হয়, মন্ত্রী ফেরার পথে তাদের পরিদর্শনের সময় নিয়োগক্ষেত্রে যাতে তারা তাকে ভাল ফলাফল দেখাতে পারে। . এ. হান্নান চৌধুরী, পূর্ব দিনাজপুরের জেলা জজ মালদা শহরে অবস্থান করে এবং ভাল কাজ করছেন। মন্ত্রী তাকে কলকাতায় নিতে চাইছিলেন, কলকাতার সরকারী বিচারিক কাজের জন্য সে প্রস্তাবের উত্তরে জানান তিনি যেখানে আছেন সেখানেই থাকতে চান।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.026.057>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

১৩.৬.৭১. তারিখ ফেরববার পথে, এনায়েতপুর পরিদর্শন করেন। জনবল ১১০, এম-৩জন, এ-১জন, ইপিআর-১জন এবং বাকি সবাই ছাত্র। এপর্যন্ত ১১১জন প্রশিক্ষণার্থী পাঠিয়েছে। আবাসন ২০০জনের হয়তো ২৫০জন পর্যন্ত বাড়ানো যায়। ডি.এম. সয়াম্ভূ দে আর বি.ডি.ও. খুব সক্রিয়। . মেহেদীপুর অপারেশন ইউনিট (১৬১জন)-৮০জন ইপিআর, ১৯জন প্রশিক্ষিত সি., বাকিরা এ. ও এম.। আবাসন ভাল। বিএসএফ থেকে রেশনের ব্যবস্থা। . সম্প্রতি শুরু করা আদমপুর ইউনিট সীমান্তবর্তী এলাকায় (৪২জন) রয়েছে। সীমান্তের অপর প্রান্তে: ভোলাহাট। . উপরে দুই জেলায় স্থানীয় সংগ্রাম সহায়ক সমিতি অত্যন্ত সহযোগিতা পূর্ণ। .

 

জলপাইগুড়ি, ৯.৭.৭১

 

শিলিগুড়িতে ৮ম রাত কাটানোর পর মন্ত্রী মহোদয় সীমান্ত অতিক্রম করে ১০০বর্গ মাইল মুক্তাঞ্চলের মধ্যে যেখানে তেঁতুলিয়া ক্যাম্প অবস্থিত সেখানে যান। ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম ও সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন নজরুল। জনবল ২৯২জন, এদের ভিতর কয়েকজন A এবং M বাকিরা ইপিআর এর। মুক্তিবাহিনীর এই সদস্যদের পরিবারদের জন্য আবাসন নির্মাণের কাজ মুক্তাঞ্চলের সীমান্তে শুরু হয়েছে। রেশন স্থানীয় BDM SS দ্বারা সরবরাহকৃত হচ্ছে। ১০০০ রিক্রুটের জন্য আরেকটি ক্যাম্প সীমান্তে নির্মিত হচ্ছে যার রেশন সরবরাহ শিলিগুড়ি BDMSSS. দ্বারা ব্যবস্থা করা হবে। ইপিআর ক্যাম্পের রিক্রুটমেন্ট এর জন্য অবশ্যই আমাদের কাছে জমা হবে। . একই দিনে আমরা তেঁতুলিয়া হতে ফুলবাড়ীতে যাত্রা করা হয় যেখানে নেতা-কর্মীদের এক সভায় ডাকা হয়েছে। উপরন্তু জনাব এস ইসলাম এর দায়িত্ব জনাব মাসরাফ হোসেইন, এম.এন.এ. কে দেওয়া হয়েছিল সমন্নয়ক (শিলিগুড়ি) হিসেবে এবং জনাব কামরুদ্দীন মুখতার এম.পি.এ. কে জলপাইগুড়িতে ছাত্রলীগের নেতা রউফ সাহায্য করতে অনুরোধ করা হয়েছে। . যেহেতু কিছু মানুষের খতমের সম্পর্কে বিতর্ক ছিল, তাদের গুপ্তচর বলে মনে করা হয়, অত:পর এটা নির্দেশ দেয়া হয় যে এম.পি.এ. এবং এম.এন.এ.-দের পরিষদ দ্বারা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে প্রস্তুত একটি তালিকা করে ব্যবস্থা নিতে। আমরা জলপাইগুড়ি শহরে গেলাম কিন্তু বৃষ্টি আমাদের চলাচল আটকে দিলো। .

 

কুচবিহার, ৯.৬.৭১

 

দেওয়ানগঞ্জ শিবির পরিদর্শন করা হয়। প্রায় ১০০ জন ছাত্র খোলা আকাশে তাঁবুর মধ্যে থাকে, নিকটতম নির্মাণাধীন এলাকা ৬মাইল দূরত্বে, খাদ্য সঙ্কট প্রকট, চাপাচাপি করে থাকবার ব্যবস্থা, কিন্তু এসব সত্বেও শিক্ষার্থীদের নৈতিক মনোবল খুব প্রখর। . ১০.৬.৭১ তারিখ, কোচবিহার শহরে অবস্থিত সংখ্যায় প্রায় ২১০জন জনবলের একটা গুদামঘর যার বায়ু চলাচলের অবস্থা খারাপ এমন একটি ক্যাম্প পরিদর্শন কারা হয়। স্থানীয় সংগ্রাম সহায়ক সমিতির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেনা কারন BDMSSS এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় স্বীকৃতি দেয়নাই। এ উৎস হতে কোনপ্রকার সাহায্য নেই, থাকার ব্যবস্থা অমানবিক, খাদ্য সংকট প্রকট, যথেষ্ট খালী জায়গা রয়েছে। ক্যাম্প ভারপ্রাপ্তঃ . এক সংগঠন সেখানে লিবারেশন কাউন্সিল নামে চলছে। তাদের রাজনৈতিক সমন্নয়ক মতিউর রহমান।. কোচবিহার ব্যবসায়ী সমিতি ও সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছে।. ৮ থেকে ১১ তারিখ আমাদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী অরুন মৈত্র আমাদের সঙ্গে ছিলেন। . পরবর্তী পরিদর্শন করলাম সাহেবগঞ্জ অপারেটিং ইউনিট, জনবল ৮০০জন, আমরা পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস কর্মী শ্রী রাজেন চট্টোপাধ্যায় এর সাথে সমস্যাদি নিয়ে আলোচনা করলাম। তিনি অন্যায্য সীমান্ত-বানিজ্যের সংবাদ দিলেন। তিনি এছাড়াও সংবাদ দিলেন যে ৬জন ছেলেকে শক্তি প্রদর্শন করে বাধ্য করা হয়েছে কোচবিহার টাউন ক্যাম্প ছেড়ে সীমান্তের ওপার চলে যেতে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.026.058>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

সাহিবগঞ্জের ভিতরে বি এস এফ এর ভারপ্রাপ্ত মেজর নাজেশ মাত্র ৫০০ জনের পচা রেশন সরবরাহ করেছেন।এইগুলো দিয়ে ৮০০ জন এর খাবার চাহিদা নির্বাহ করা অত্যন্ত কষ্টকর।সশস্ত্র বাহিনীর টাকা জমা রাখার জন্য প্রত্যেক ইউনিটে একটি করে বাংলাদেশ ব্যাংক খোলার জন্য মেজর পরামর্শ দিয়েছেন।তাদের একজন চিকিৎসকও প্রয়োজন।একজন চিকিৎসক সহকারী ইতিমধ্যেই সেখানে আছেন তাকে নিয়োগ দেয়া উচিত। প্রয়োজনীয় দ্রব্যের তালিকা জমা দেয়া হয়েছিল।

১০-৬-৭১ মাড়ওয়ারির গুড্ডিতে রাত্রীকালীন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল,এটি বাংলাদেশীদের কাছে এখন কারিয়ালা নামে পরিচিত।বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন এলাকার নেতৃবৃন্দ যথারীতি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক দলের নেতারা মন্ত্রীর সাথে আলাদা ভাবে কাল সকালে সাক্ষাৎ করবেন।১১ তারিখ রাত শিলিগুরিতে থাকা হবে।

দিনাজপুর, ১২জুন-১৩জুন

ইসলামপুর ১২ তারিখে আমরা যে ক্যাম্পটি পরিদর্শন করেছিলাম সেটি একটি বিভিন্ন বাহিনী-ছাত্রদের সমন্বয়ে তৈরি একটি ক্যাম্প।এ.এম. ই পি আর-১০০ এবং এস-১০০।. Camp in Charge Fazlul Mia finds his authority questioned by the BSF-EPR clique. সে ক্যাম্প এলাকায় থাকতে ভয় পাচ্ছে। প্রশিক্ষনার্থীরা তাদের গরু চড়াতে হয় বলে অভিযোগ করেছে। রান্নাঘর ক্যাম্প থেকে আধামাইল দূরে অবস্থিত।. Money inflow from across the border reported . কিন্তু সেখানে তাদের লোকবল ৫০০ এর বেশি বাড়ানোর বিধান রয়েছে।

একই দিনে রায়গঞ্জ (মালোনি) পরিদর্শন করা হয়েছিল, যেখানে ১ মাইল দূরত্বে দুটি ক্যাম্প আছে।আজিজুর রহমান দুটি ক্যাম্পেরই দায়িত্বে আছেন যার অপারেশন ক্যাম্প এর জন্য এম ৫৪, ই পি আর ৬১ এবং টি এস ১০ বন্দোবস্ত করা হয়েছে এবং অন্যটির জন্য এস ১২৫ যেটি অধিকাইংশই হিন্দু কলেজ ছাত্র (৬০%) দ্বারা ছোট একটি স্থানে গঠন করা হয়েছে।

১৩-৬-৭১ তারিখে আমরা কুরমাইল ক্যাম্প পরিদর্শন করেছিলাম যেটি সম্ভবত আমাদের দেখা সেরা ক্যাম্প।এর যোদ্ধা সংখ্যা ৭০০ জন।এর মধ্যে প্রায় ৪০০ জন গার্ড অফ অর্নারে অংশ নিয়েছিল এবং প্রচন্ড বৃষ্টিতে ভিজেও তারা মন্ত্রী উৎসাহ মূলক ভাষন শুনেছিল।ইতিমধ্যেই ১০০০ জনকে তাদের প্রশিক্ষনের জন্য পাঠানো হয়েছে।(২২৮+৩০০+৪০০)।প্রশিক্ষক ই পি আর।তাদের কোন রেশনে ছিল না অন্য জায়গা থেকে চাল এনেছিল।অপারেশন এখান থেকে পরিচালিত হচ্ছে।রাইফেল ৭-৮ শত।ক্যাপ্টেন বিস্ফোরক প্রশিক্ষক।একই সাথে প্রধান প্রশিক্ষক।ক্যাম্পের দায়িত্ব প্রাপ্ত অধ্যাপক আবু সাইদ অত্যন্ত কার্যকর ভুমিকা রাখছেন।

কুরমাইল হতে ৭ মাইল দূরে বাঙ্গালীপুর অবস্থিত।এখানে আমরা দেখেছিলাম ১৪৩,৭৩ জন কাইগঞ্জ সেনা ক্যাম্প থেকে যোগদান করছে।আরো ৮৯ জন শীঘ্রই ফিরে আসবে।তাদের কাছে ৪ টি গ্রেনেড,১৬ টি রাইফেল এবং ৩ টি স্টেন গান আছে।মোঃ জ্বলিল ক্যাম্পের দায়ীত্বে।তারা তাদের চাহিদাপত্র জমা দিয়েছিল।

 

উল্লেখিত ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন এর অভিজ্ঞতা থেকে একটি মোটামুটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে। যেখানে বাহিনী এবং ছাত্রদের আলাদা করে রাখা হয়েছে সেখান থেকে ভালো একটি ফলাফল দেখা যাচ্ছে।
নিম্নোক্ত পরামর্শগুলো পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার আলোকে দেয়া হয়েছে

 

১- ই পি আর , বি এস এফ এবং ছাত্রদের ক্যাম্পগুলো আলাদা করে রাখা উচিত।

২- দ্রুততর সময়ের মধ্যে একটি ইউনিফর্ম এবং ভালো রেশন প্রশিক্ষনার্থিদের দেয়া উচিত।

৩-কুচবিহার নিয়ে বিডিএমএসএস সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।ঐ জেলার বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে দ্রুত কার্যকর ব্যাবস্থা নেয়ার আহব্বান করা হচ্ছে।

পশ্চিম বঙ্গে অবস্থিত ট্রানজিট প্রশিক্ষন ক্যাম্প নিয়ে প্রতিবেদন

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পরিচালনা ইউনিট সহ ট্রানজিট ক্যাম্পের মোট সংখ্যা ৪০ এর বেশি হবে না। এর মধ্যে বেশিরভাগের সেনা সংখ্যা

 

<003.026.059>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

২০০,যদিও এর কোন কোনটিতে আবাসস্থল এর অপ্রতুলতা, রেশনের সহজলভ্যতার উপর বিধিনিষেধ আরোপের কারনে সেনা সংখ্যা অনেক কম আছে।প্রশিক্ষনার্থী সহ যাদের উচ্চতর প্রশিক্ষনের জন্য পাঠানো হয়েছে এর সংখ্যা অনেক বেশি হবে, এর মধ্যে একটি ক্যাম্পে ১৭০০ এর বেশি আছে ( কুরমাইল,দিনাজপুর) এই মুহুর্তে প্রাপ্ত মোট প্রশিক্ষনার্থীর সংখ্যা হবে প্রায় ১০০০০ কাছাকাছি বা ১০০০০।

আমাদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা থেকে(আই.ই প্রসুন মজুমদারের উত্তর বংগের প্রতিবেদন,আমাদের এবং আর.কারলেকারস ২৪ পরগনার অভিজ্ঞতা এবং আমিনুল ইসলাম এর সাথে আমাদের নদীয়া যাবার অভিজ্ঞতা)এটা প্রমানিত যে প্রশিক্ষন ক্যাম্পগুলো রয়েছে তাতে কোন কার্যকর প্রশিক্ষন বা আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। In the name of screening the Awami League M.P.A. and M.N.A.s indulge in many vices, fully over the students and if caught at it try to back each other।সেখানে বনগাও সেক্টরের তলিখোলা ক্যাম্প থেকে ৭৫ জন ছেলে বহিস্কার,অথবা কুচবিহার শহরের ক্যাম্প থেকে ৬ জন ছেলে বহিস্কারের কোন যথাযথ প্রতিবেদন নেই।উপরন্তু নদীয়াতে অবস্থিত প্রগতিশীল আওয়ামীলীগ,ছাত্রলীগ এবং ন্যাপের কর্মীদের আলাদা ক্যাম্পগুলোতে হুমকির খবর রয়েছে।

এখন পর্যন্ত রেশনের মান খুব ধীরগতিতে উন্নিত হচ্ছে, সে তুলনায় বিডিএমএসএস কতৃক অতিরিক্ত টাকা দেয়ার ঘটনা রয়েছে,যা ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তির কাছে সঞ্চিত রয়েছে।তারা শুধু জনপ্রতি জমাখরচের হিসেব প্রদান করে,নানা কারনে তারা ক্যাম্পে থাকেন না এবং এদের সাক্ষাৎ পাওয়া খুব কঠিন বিষয় যে কারনে বেশিরভাগ দিনই ক্যাম্পের চলতি দায়িত্বে থাকা নেতার শিফট ব্যাবস্থা চালু করতে হয়।যখন তারা,তাদের বন্ধু অথবা আমরা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাই আমরা চা এবং বিস্কুট দ্বারা আপ্যায়িত হই যা এই টাকা থেকেই আসে।ইউনিফর্ম উন্নতমানের রেশন এর অপরিহার্যতা,আলাদা আবাসস্থল এবং ক্যাম্পে আগত দর্শনার্থীদের নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে এখন গুরুত্বপূর্ন বিষয়।

ক্যাম্পে খাবার নেবার সময় বেশিরভাগ নেতা তাদের থালা পরিস্কার করেন না,তারা যে কোন ধরনের হাতের কাজ করতে অস্বিকৃতি জানান, রিলিফের মালামাল এবং তাদের নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে।ছেলেদের কেবল তাদের দ্বারা সকল কাজ করতে বাধ্যই করান হয় না, তাদের দিয়ে সমস্ত সীমন্ত জুড়ে গরু চড়ানোর মত উদ্ভট কাজও করান হয়।যথোপযুক্ত প্রাথমিক রাজনৈতিক জ্ঞান এবং ক্যাম্পে থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করার মত গভীর অনুধাবনযোগ্য বিবৃতির অভাব রয়েছে।

এই কঠিন সময়ে কেউ ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছে না।এত বাধা বিপত্তির মধ্যেও যে সকল লোক সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল এবং ভুলগুলো বুঝতে পেরেছিল তাদের এইগুলো নিয়ে আলোচনা করার আগ্রহকে আবদ্ধ করা হয়েছে।. Instances of harm done by strong attachment to a locality or sentimental attachment to places are very commonly heard nevertheless .তাদের এই ধরনের মনোভাব উপেক্ষা করে যুদ্ধ করার মানসিকতা বাহিনীর মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন।২০ শতাংশ বা তার বেশি হিন্দু নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন যদি তারা ফিরে যায়।. This means recruitment of Scheduled castes and NAP students since militant Hindus belong to one or the other সব জায়গাতেই বি এস এফ এবং ই পি আর কে ছাত্রদের থেকে আলাদা করে রাখা উচিত। বি এস এফ কে সড়ানোর পরামর্শ অনেক জায়গা থেকে এসেছেঃসম্প্রতি মুর্শিদাবাদ থেকে সড়ানোর বিষয়টি বেশ ভালো হয়েছিল।দিনাজপুরে মধ্যে ইসলামপুর (ঠাকুবাড়ি) ক্যাম্পের কাছে ক্যাপ্টেন সুভাষ এর বিষয় এ ধরনের একটি ঘটনা।

 

————-

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.027.060>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বিভিন্ন এলাকায় প্রবাসী, সরকারী চাকুরিরত, বাংলাদেশের বেতন সংক্রান্ত চিঠি বাংলাদেশ সরকার, অর্থদফতর ১৮ জুন, ১৯৭১

 

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থ বিভাগ

 

নথি. নং.                                                                                                              তারিখ – ১৮জুন, ১৯৭১

 

প্রতি,

আঞ্চলিক প্রশাসক,

বিষয়: বেতন ভাতা এবং এককালীন অনুদান প্রদান ।

 

এটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে সব বিভাগের শিক্ষকদের এককালীন ৫০/= (পঞ্চাশ) রুপী অনুদান প্রদান করা হবে। তাদের নিজ নিজ প্রতিটি আঞ্চলিক সদর দফতর হতে, যথাঃ কৃষ্ণনগর, বালুরঘাট, কুচবিহার এবং আগরতলা। আঞ্চলিক প্রশাসকরা তাই তাদের আওতাভুক্ত এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষকগণের সাথে থাকা জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে, প্রতিটি জীবনবৃত্তান্তের জন্য নথি তৈরি করবেন এবং প্রতিটি জীবনবৃত্তান্ত ও রসিদ বিভাগীয় সাধারণ প্রশাসন কার্যালয়ে পাঠাবেন। এই নথি প্রাপ্তির উপর কিছু শিক্ষক প্রতিনিধিদের আঞ্চলিক সদর দফতর যেতে হবে এবং এই কার্যালয় হতে তাদের যোগ্যতানুযায়ী বেতন পরিশোধিত হবে।

 

সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বেতন প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আঞ্চলিক প্রশাসকগণ পুলিশ সদস্য, ডাক্তার এবং সব বিভাগের শিক্ষকদের ছাড়া অন্য কর্মকর্তাদের তাদের জীবনবৃত্তান্তে দেওয়া বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী নিজ নিজ আওতাভুক্ত অঞ্চলের মধ্যে বসবাসকারীদের নথি প্রস্তুত করবে কার্যালয়ে থাকা জীবন বৃত্তান্তনুযায়ী, তাদের দুইটি শ্রেণীতে ভাগ করে অর্থ বিভাগ, আঞ্চলিক প্রশাসক দ্বারা যাদের কর্মস্থল কার্যকরভাবে নির্ধারিত হয়েছে এবং যাদের কর্মস্থল এখনো নির্ধারিত হয়নি। নিম্নলিখিত হারে মন্ত্রীপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বেতন ধার্য করেছে অর্থ বিভাগঃ-

 

(১) যাদের কর্মস্থল কার্যকরভাবে নির্ধারিত সেসব কর্মকর্তাদের জন্য :

 

(ক) ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বেতনের ৭৫% হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০০/= রুপী বেতন বাবদ প্রতি মাসে পরিশোধিত হবে।

(খ) ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বেতনের ৮০% হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০০/= রুপী বেতন বাবদ প্রতি মাসে পরিশোধিত হবে।

(গ) ৩য় শ্রেণীর এবং ৪র্থ শ্রেণীর কর্মকর্তারা পূর্ণ বেতন পাবে সর্বোচ্চ ১০০/= রুপী প্রতি মাসে পরিশোধিত হবে।

 

(২) যাদের কর্মস্থল অনির্ধারিত সেসব কর্মকর্তাদের জন্য:-

 

ক) ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বেতনের ৩৭% হিসেবে সর্বোচ্চ ২৫০/= রুপী বেতন বাবদ প্রতি মাসে পরিশোধিত হবে।

(খ) ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বেতনে ৪০% হিসেবে সর্বোচ্চ ২০০/= রুপী বেতন বাবদ প্রতি মাসে পরিশোধিত হবে। .

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.027.061>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

(গ) ৩য় শ্রেণীর ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বেতনের ৫০% হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫০/= রুপী প্রতি মাসে পরিশোধিত হবে। . অতএব, আপনাকে নথি প্রস্তুত করতে অনুরোধ করা যাচ্ছে,

(১) নির্ধারিত আপনার আওতাভুক্ত এলাকায় দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য।

(ক) আপনার আওতাভুক্ত এলাকায় জীবনবৃত্তান্তনুযায়ী জুন মাস ১৯৭১সাল হইতে অবস্থানকারি কর্মকর্তা, যাদের কার্য অনির্ধারিত রয়েছে তাদেরও নথি প্রস্তুত করতে বলা যাচ্ছে।

 

আপনাকে আরো অনুরোধ করা হচ্ছে যে, সকল বিভাগের শিক্ষকদের আনুপাতিক হারে ৫০/= রুপী এককালীন অনুদান হিসেবে জীবনবৃত্তান্ত প্রতি নথি প্রস্তুত করে একই বিভাগে পাঠাতে, যাতে যতো শীঘ্র সম্ভব এখান থেকে ব্যবস্থা নেয়া যায় ।

স্বাক্ষর/…কে. এ. জামান সচিব

অর্থ বিভাগ তারিখ

১৮.৬.৭১

প্রতিলিপি প্রেরনঃ     (১) সচিব, সাধারণ প্রশাসন বিভাগঃ তথ্য ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য,

(২) ও.এস.ডিঃ পুলিশ সদস্যদের নথিভুক্ত করতে অনুরোধ সহকারে,

(৩) সচিব, কারিগরি পর্ষদঃ তথ্য ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য,

(৪) সদস্য, স্বাস্থ্য সেবাখাতঃ তথ্যের জন্য। .

 

স্বাক্ষর/……কে.এ.জামান

সচিব

অর্থ বিভাগ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.028.062>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ সভার কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার,কেবিনেট ডিভিশন ২২,২৩ ও ২৪ জুন,৭১

 

গোপনীয়

মন্ত্রীসভার মিনিট এবং সিদ্ধান্তের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ২২/০৬/৭১ তারিখে সকাল ১০ টায়

 

মন্ত্রীসভার সকল সদস্যগণ এবং সি-ইন-সি উপস্থিত ছিলেন।মন্ত্রীপরিষদ নিম্নলিখিত সমস্যাসমূহ উল্লেখ করেছিলেনঃ

১। বেসরকারী সশস্ত্র কর্মীদের দ্বারা নিজস্ব শত্রু মোকাবেলা করার প্রচেষ্টা করা।

২। বিভিন্ন বিভাগের দ্বারা পরস্পরবিরোধী আদেশ ইস্যু যা ছিল মন্ত্রীপরিষদ সিদ্ধান্ত পরিপন্থী এবং প্রতিরক্ষা স্বার্থসংশ্লিষ্ট অবমাননাকর;

৩। জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালনে, বিশেষ করে নির্বাচন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পালনে ব্যর্থ এবং প্রশিক্ষণার্থীর স্ক্রীনিং যা প্রশিক্ষণার্থীদের অনুপ্রবেশ দ্বারা অনুমতি’ এবং প্রশিক্ষণার্থীর স্ক্রিনিং যা শত্রু দ্বারা প্রশিক্ষণার্থীরা ‘পদমর্যাদার অনুপ্রবেশের অনুমতি এজেন্ট;

৪। যুব শিবির সংস্থার কো-অর্ডিনেশন এবং সমস্যার উদ্ভূত ব্যক্তিগত এবং বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা যেমন শিবির সংগঠিত করতে।

মন্ত্রীপরিষদ যুব শিবির প্রকল্প অনুমোদন করেছেন।

 

মন্ত্রীপরিষদ আবার দেখা করেছেন বিকেল ৬টায়।

 

কোন আলোচনা সংগঠিত হয়নি।

মন্ত্রীপরিষদ সচিব।

 

সি-ইন-সি প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রীবর্গ ও এডিসি পাস করার জন্য কপি করুন।

 

মন্ত্রীপরিষদ সচিব।

 

 

গোপনীয়

 

মিনিট এবং মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্ত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ২৩/০৬/৭১ এর সকাল ১০টার দিকে।

 

মন্ত্রীপরিষদ উপস্থাপনের আগে যুব ক্যাম্প স্কিম প্রকল্প হাতে নেয়।প্রকল্পটি নির্দিষ্ট পরিবর্তন করে অনুমোদন করা হয়।

 

মন্ত্রীপরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে জাতীয় ও প্রাদেশিক সদস্যদের সমাহারগুলি তাদের আন্দোলন এবং ক্ষুদে খরচের জন্য ৫০.০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে যা ১/৫/৭১ থেকে কার্যকর।

 

 

মন্ত্রীপরিষদ সচিব।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.028.063>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

অনুলিপি

প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রীদের AU PSs থেকে,

ADC থেকে সি-ইন-সি,

মহাপরিচালক,যুব ক্যাম্প।

 

মন্ত্রীপরিষদ সচিব।

 

গোপনীয়

 

মন্ত্রী সভার মিনিটস ANI)সিদ্ধান্ত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ২৪/০৬/৭১ এর সকাল ১০ টার দিকে।

 

মন্ত্রীপরিষদ জোনাল প্রশাসন বোর্ডের সামনে প্রকল্পটি তুলে ধরার আগে আলোচনা করেন।নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো সম্মানের সহিত স্কিমে নেয়া হয়েছেঃ

 

১। জোনাল প্রশাসনিক স্থাপনার অনুমোদন দেওয়া হয়;

২। নির্বাচিত জোন বসবাসকারী প্রতিনিধিদের প্রতিটি জোনের একটি জোনাল প্রশাসনিক পরিষদ গঠিত হবে।

৩। জোনাল প্রশাসনিক কাউন্সিলের মন্ত্রীপরিষদ নীতি নির্দেশনা সব বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে; এবং,

৪। কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে তাদের সদস্যদের মধ্যে একজন নির্বাচিত হবে এবং জোনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এর সদস্য-সচিব হিসেবে কাজ করবে।

এছাড়াও মন্ত্রীপরিষদ নিম্নলিখিত সদস্যদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির যুদ্ধ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেনঃ

১। সৈয়দ নজরুল ইসলাম,অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।

২। জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ, পি.এম.

৩। খন্দকার মোশতাক আহমেদ,পররাষ্ট্র মন্ত্রী

৪। জনাব পানি মজুমদার, এম.পি.এ

৫। জনাব এম.আর. সিদ্দিকী, এম.এন.এ

মন্ত্রীপরিষদ সচিব।

প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রীদের সব PSs কপি করুন।

 

জনাব পানি মজুমদার,এম.পি.এ

জনাব এম.আর. সিদ্দিকী,এম.এন.এ

 

মন্ত্রীপরিষদ সচিব।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.029.064>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির বেতার ভাষন দি স্টেটস্ম্যান- নয়াদিল্লী ৩০ জুন, ১৯৭১

 

 

ইয়াহিয়া রণক্ষেত্রে জবাব পাবে

সৈয়দ নজরুল ইসলাম,বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির বেতারবার্তা

৩০ জুন, ১৯৭১

 

পিটিআই রিপোর্ট করেছে, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেছেন যে মুক্তিযোদ্ধারা ইয়াহিয়া খানের উদ্ধত বেতার বার্তার যথোপযুক্ত জবাব রণক্ষেত্রেই দিবে। রেডিও বাংলাদেশের অনুসারে,ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এক বিবৃতিতে বলেছেন যে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির বক্তব্য গম্ভীরভাবে বিবেচনা করার যোগ্যতা রাখে না। প্রায় সাড়ে সাত কোটি মুক্তিযোদ্ধা তার “ঘৃণা ও বিতৃষ্ণা” ভরা বক্তব্য শুনেছে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেছেন:”আমরা বর্তমানে একটি মুক্তিযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে অবস্থান করছি। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা আমাদের ভূমি হতে প্রত্যেক বিদেশী সৈন্যদের নিশ্চিহ্ন না করবো ততক্ষণ আমরা বিশ্রাম করবো না”।

 

নিষ্ঠুর রসিকতা

 

কূটনীতিজ্ঞ ব্যক্তির বিশেষ প্রতিনিধি অনুসারে, বাংলাদেশের ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি(ওয়ালী-মুজাফ্ফর দ্বারা চালিত) বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি জনগণের উপর রচনা করা রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানের শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনাকে নিষ্ঠুর রসিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছে”।

 

(কূটনীতিজ্ঞ ব্যক্তি, নয়া দিল্লী- ২ জুলাই,১৯৭১)

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.030.065>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
যুবশিবির প্রদত্ত বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি ভাষন বাংলাদেশ সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় জুলাই ১৯৭১

 

প্রিয় তরুণ ভাইগণ, আজ তোমাদের দেখে আমি গর্বিত এবং আনন্দিত। আমি জানি তোমাদের অভিভাবকদের অনেকে তাদের শেষ সহায় আলিঙ্গন করে তোমাদের উচ্চতর শিক্ষা প্রদানের জন্য চেষ্টা করছিল,যাতে তোমরা তোমাদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ভবিষ্যতে তাদের তাদের অবলম্বন হতে পারো। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের দরুন নিজের মাতৃভূমির সম্মান রক্ষার দায়িত্ব তোমাদের উপর এসেছে।মাতৃভুমির গরিমা সমুন্নত রাখতে স্কুল এবং কলেজ ত্যাগ করে অস্ত্র হাতে নিতে তোমরা বাধ্য হয়েছ। আমাদের প্রিয় মা বোনদের উপর আরোপিত ইয়াহিয়ার পাঞ্জাব সেনাদের অনির্বচনীয় লজ্জা এবং অত্যাচার হতে রক্ষার্থে আমাদের দায়িত্ব নেওয়া উচিত।

এ মর্মে, ,আমি আমার তরুণ ছাত্র বন্ধু যারা বর্তমানে পরীক্ষার মতো তুলনামুলক সামান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অংশগ্রহণপ্রত্যাহারের আহবান জানাচ্ছি। আমার শিক্ষার্থী বন্ধুরা জানতো যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থা নিতে যথেষ্ট সম্মত হয়েছেন। আমি এটা জেনে গর্বিত যে,আমাদের কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন নিয়ে আমার কাছে অবতীর্ণ হয়নি, অপরদিকে তাদের সকলে অভিন্ন অনুরোধ নিয়ে এসেছিল যাতে আমাদের দেশের এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে যত দ্রুত সম্ভব তাদের আধুনিক সামরিক প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত করা হোক। আমাদের নিরপরাধ ভাই এবং বোনেরা যে অবর্ণনীয় পাশবিকতার শিকার হয়েছেন, যার ফলস্বরূপ দশ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাশ,অগণিত মা-বোনদের সম্ভ্রম ইত্যাদি, পাশবিকতার প্রতিরোধ হিসেবে তোমাদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞসংকল্পের দ্বারা এমনভাবে প্রতিরোধ করছ,যা পাঞ্জাবী সেনা দ্বারা কখনও প্রতিহত করা সম্ভব হবে না। আমরা জানি যে কতটা কষ্ট এবং অসুবিধার মধ্য দিয়ে তোমরা সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছ। তোমরাও জানো আমাদের সম্পদ কতটা সীমিত; কিন্তু যাই হোক না কেন, যতটুকু অর্থ আমরা সংগ্রহ করতে পারি,তার সম্পূর্ণটাই তোমাদের জন্য ব্যয় হবে। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত। কারণ আমরা জানি যে তোমরাই দেশকে মুক্ত করবে এবং লক্ষাধিক বাস্তুচ্যুত উদ্বাস্তুদের সম্মানের সাথে তাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে,এই উপায়ে সীমান্ত জুড়ে আশ্রয়প্রার্থী অগণিত মানুষের জন্য আমরা সর্বোচ্চটাই করতে থাকবো,এবং বর্ধিত আতিথেয়তায় প্রচন্ডভাবে ভারাক্রান্ত দেশটিকেও সাহায্য করবো। আমরা ভারতের জনগণের উপর কৃতজ্ঞ, ভারত সরকার আমাদের যেভাবে সাহায্য করেছে তা নজিরবিহীন।তাদের সরকারের সক্রিয় সহানুভূতি আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.030.066>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

তবুও আমাদের মনে রাখতে হবে, ৬ বা ৭ মিলিয়ন শরণার্থীর ভার বহন একটি দেশের জন্য কতটা কঠিন। অনেকের কাছে এমনও মনে হতে পারে যে, হয়তো এ যুদ্ধের জন্যে অনেকাংশে আমরাও দায়ী। কিন্তু আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, এরজন্য আমরা বিন্দুমাত্র দায়ী নই। ইয়াহিয়া খানের বিশ্বাসঘাতকতাই আমাদের ওপর এ যুদ্ধ নিয়ে এসেছে। আমাদের ৬-দফা দাবির ভিত্তিতে, ২৪শে মার্চের এক সভায় আমরা এক প্রকার সমঝোতায় পৌঁছুই; ইয়াহিয়া তাতে সইও করেছিলেন। ২৫শে মার্চ রাতে তিনি তা প্রচার করবেন এরূপ সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছিলো। ২৫শে মার্চ, হঠাৎ করেই স্পেশাল বিমানে তিনি করাচি চলে যান আর এই দিকে রাতের আঁধারে আমাদের সাধারণ ছাত্র, পুলিশ, ই.পি.আর, বস্তিবাসিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে খানসেনারা। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নিকৃষ্টতম বিশ্বাসঘাতকতার আর কোন উদাহরণ নেই।ইয়াহিয়া একজন বিশ্বাসঘাতক। বাঙালী যেন আর কখনো মাথা উঁচু করে দাড়াতে না পারে,সেটা নিশ্চিত করাই ছিলো এ অমানবিক বর্বরোচিত আক্রমণের উদ্দেশ্য। ভায়েরা,! এই নরখাদকদের বিশ্বাসঘাতকতার কথা সর্বদা মনে রাখবেন। ১৬-৩০ বছর বয়সী কোন যুবককে তারা বাঁচতে দেবে না, এবং এ বয়সী মেয়েরাও তাদের লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি এখনো তারা সহস্র নগ্ন যবতীদের সীমান্তে প্রেরণ করছে। আমাদের এ ভয়াবহ পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে হবে।স্বাধীন বাঙালী জাতি হিসেবে গর্বভরে আমাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা কখনো উপহার হিসেবে আসে না, তা অর্জন করে নিতে হয়। আমরা যদি মনে করি, অন্য কেউ আমাদের স্বাধীনতা এনে দেবে, তবে তা হবে প্রচন্ড বোকামী। স্বাধীনতার এ যুদ্ধ আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। অনেকেই হয়তো সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে, তবে এ যুদ্ধ আমার তোমারই লড়তে হবে।

 

আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আমাদের জয়লাভ সম্পর্কে কারো যদি বিন্দুমাত্র কোন দ্বিধা থাকে, তবে আমি তাকে বলছি একথা মাথায় রাখতে, এ যুদ্ধে সাড়ে ৭ কোটি বাঙালী তোমার সাথে আছে। বিশাল পৃথিবীতে বাঙালীর অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াই এর প্রতিটি সৈনিক, প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার নাম ইতিহাসের পাতায় সোনার হরফে লেখা থাকবে। আমাদের চোখের সামনে তা রক্ত দিয়ে লিখে দিয়েছে ছোট্ট ভিয়েতনাম। সে আজ আর তুচ্ছ নয়, অসীম ক্ষমতার দাপটে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের সবচেয়ে সংকটময় সময় তারই আঘাতে। ভিয়েতনামের জয় সুনিশ্চিত; আমাদের ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম ঘটবে না। আপনারা নিশ্চয়ই আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে জানেন। প্রবল বাধা- বিপত্তির মাঝেও তারা তাদের প্রবাসি সরকারের অধীনে এক শক্তিশালী মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলে এবং সাম্রাজ্যবাদ থেকে নিজ মাতৃভূমিকে মুক্ত করে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ১৯৪৭ এ আমরা যে ভুল করেছিলাম, তা শুধরবার জন্য এ যুদ্ধ লড়তেই হবে। আমাদের প্রথম ও প্রধান পরিচয় আমরা বাঙালী। ধর্ম আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। ধর্ম দিয়ে কখনোই কোন জাতিকে মাপা যায় না। দেশ পরিচালনায়ও ধর্মের অবদান খুব সামান্যই। কোন দেশের পরিচয় গড়ে ওঠে তার ভৌগলিক অবস্থান, তার ভাষা, সংস্কৃতি ৬৭ আর পারিপার্শ্বিক রাষ্ট্রসমূহের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে। এরপরেই আসে ধর্ম, ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে। আমরা সকল ধর্মের সমান অধিকারে বিশ্বাসী। ঠিক যেমনি একজন মুসলিমের মসজিদে যাবার অধিকার আছে, তেমনি একজন হিন্দুর মন্দিরে যাবার, খ্রিষ্টানের চার্চে যাবার অধিকার আছে। একইভাবে, প্রত্যেকেরই তার নিজ নিজ ধর্ম- কর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। জাত্যবর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক একই অধিকার ভোগ করবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.031.067>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

আমরা পাকিস্তানকে দু’ভাগে ভাগ করতে চাইনি, কিন্তু পাঞ্জাবী শাসকেরা আমাদেরকে তাদের কলোনিতে পরিণত করতে চাইলো, আমাদের স্বাতন্ত্র্য মুছে দিতে চাইলো এবং এসবই বর্তমান পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটিয়েছে। আপনারা শপথ নিয়েছেন এর সমাপ্তি ঘটাবার। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা অতি শীঘ্রই পাকিস্তানী বাহিনীকে আমাদের মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করতে পারবো এবং দেশকে স্বাধীন করবো। আমাদের এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেখানে কোন নির্যাতন থাকবে না, থাকবে না ধনী-গরিবের ভেদাভেদ, বড়- ছোটর বৈষম্য, বরং থাকবে কেবল এক জাতি, মানুষ। আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি হবে সমাজতন্ত্র। সবশেষে, সরকারের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের অবগত করতে চাই যে, দেশের ভবিষ্যত সেনাবাহিনীর আপনারাই হবেন ভিত্তি। যারা এ যুদ্ধে অসাধারণ নৈপূণ্য প্রদর্শন করবে, নিজেদের সর্বোত্তম যোদ্ধা হিসেবে প্রমাণ করতে পারবে , তারাই ভবিষ্যত সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেবে। নেতৃত্ব যেনতেনভাবে পাওয়া যায় না। এটিও অর্জন করে নিতে হয়। সুতরাং, যারা নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করতে পারবে, নেতৃত্ব তারাই পাবে। যদি আমরা কেবল দর্শক হয়ে পড়ি, যদি আমরা নেতারা আপনাদের কষ্টে কষ্ট না লাই, আপনাদের ব্যথায় ব্যাথিত না হই, যদি আমরা আরাম আর নেতৃত্বের স্বপ্নে বিভোর হই, তবে অবশ্যই আপনারা আমাদের সরিয়ে দেবেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম ভুক্তি নেবে, তাদের পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব সরকার নেবে। শহীদ এবং মুক্তিযুদ্ধে স্থায়ীভাবে পঙ্গু ব্যাক্তিবর্গের পরিবারের নিরাপত্তা আর সামগ্রিক দায়দায়িত্বও সরকার গ্রহণ করবে। আমরা আরোও সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, যুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননার ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যে আমাদের কর্মসূচিসমূহ সুশৃঙখল ও নিয়মিত হয়ে উঠেছে। তথাপি, প্রশিক্ষণকালীন সময়ে স্বেচ্ছায় আপনারা যে কষ্ট ও ত্যাগ স্বিকার করেছেন, তা লাঘব করবার চেষ্টায় আমরা আমাদের যৎসামান্য রেশনকে যতটুকু সম্ভব পূর্ণাঙ্গ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন করার চেষ্টা করবো। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, আপনারাই আমাদের প্রধান বাহিনী এবং সর্বশেষ শক্তি।

জয় বাংলা

আ.হ.ম.কামরুজ্জামান

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.031.068>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
সামরিক বিজয়ই স্মস্যার একমাত্র সমাধান, প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমদের ঘোষনা, ১৫ ই জুলাই এশিয়ান রেকর্ডার সেপ্টেম্বর ৩-৯, ১৯৭১ ১৫ জুলাই, ১৯৭১

 

সামরিক বিজয়ই সমস্যার একমাত্র সমাধানঃ ১৯৭১ সালের ১৫ই জুলাই তারিখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ঘোষণা করেন যে, “সামরিক বিজয়ই সমস্যার একমাত্র সমাধান।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রচারিত ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা দ্য পিপল এ বলা হয় যে, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের আওয়ামীলীগের সদস্যবৃন্দ এক সভায় চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক যুদ্ধের শপথ গ্রহণ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয় যে, বাংলাদেশের কোন এক স্থানে অনুষ্ঠিত ঐ সভায় জাতীয় পরিষদের ১১০জন ও প্রাদেশিক পরিষদের ২০০জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

 

শপথে বলা হয় যে, শুধু স্থলেই নয়, প্রয়োজনে আকাশ ও জলপথেও শত্রুদের ব্যতিব্যস্ত রাখা হবে ও বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতাকে সুুরক্ষিত করতে শত্রুকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করা হবে।

 

বিমান ও নৌবাহিনীর সংযোজনের তাৎপর্য বিচারে মুক্তিফৌজের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিবাহিনী রাখার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ইতোমধ্যে মুক্তিফৌজের সদস্য সংখ্যা এক লক্ষ বিশ হাজার (১,২০,০০০) ছাড়িয়ে গিয়েছে যার মধ্যে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস ও আঞ্চলিক পুলিশবাহিনীর সদস্য চল্লিশ হাজার এবং স্বেচ্ছাসেবক আশি হাজার।

 

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিপুল সংখ্যক বাঙালি কর্মকর্তা পাকিস্তান আর্মি ত্যাগ করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিফৌজকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

 

মুক্তিফৌজ নিয়ন্ত্রণাধীন পূর্ব বাংলার কিছু অঞ্চলে ব্যাপক সফর থেকে ফিরে এসএসপি নেতা সদাশিব বাগাইতকার ২৮জুলাই তারিখে ভারতের পুনায় মুক্তিফৌজের শক্তি ও সক্ষমতার এই খসড়া হিসাব তুলে ধরেন।

 

বাগাইতকারের ভাষ্য অনুযায়ী এই বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক যোদ্ধারা আসলে ছাত্র, যুবশ্রমিক ও কৃষক। হাতিয়ার ও কৌশল ব্যবহার করে এদেরকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে বিশেষত গেরিলাযুদ্ধ করার জন্য।

 

তিনি আরো জানান যে, স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য মুক্তিফৌজের ২৪টি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালু রয়েছে।

 

 

——————–

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.032.069>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেরশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সভার কার্যবিবরনী ও সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার, কেবিনেট ডিভিশন ১৭, ১৮ জুলাই, ১৯৭১

 

মন্ত্রিপরিষদ সভার কার্যবিবরণী সিদ্ধান্ত

১৭.০৭.১৯৭১ বিকাল ৫:৩০ ঘটিকা

 

মন্ত্রিসভার সকল সদস্য ও কমান্ডার ইন চিফ (সিইনসি) সভায় উপস্থিত ছিলেন ।

 

সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, এখন থেকে প্রতি সোম ও শুক্রবারে মন্ত্রীসভার বৈঠক নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবারের বৈঠকে মূলত প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

 

১০জুলাই থেকে ১৫জুলাই পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডারদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সভার সূত্রের ভিত্তিতে কমান্ডার ইন চিফ যে প্রতিবেদনে উপস্থাপন করেন, সেটার উপর মন্ত্রীসভা সুচিন্তিত মতামত প্রদান করেন।

 

সরকারের প্রচারণা সংক্রান্ত বিষয়গুলি বিশেযভাবে আলোচিত হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বেতার, সংবাদপত্র, সরকারি বিলিপত্র, চলচিত্রের মত সচিত্র প্রচারনা এবং লেখালেখির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

আঞ্চলিক প্রশাসনিক কাঠামোকে পর্যালোচনা করা হয় এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, ৫টি জোনের পরিবর্তে ৮টি জোনে প্রশাসনিক কাঠামোকে পুনর্বিন্যাস করা হবে এবং পূর্বাঞ্চলীয় জোনকে নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী ভাগ করার সুযোগ দেওয়া হবে ।

 

আরো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, গণপরিবহনের জন্য সরকার যদি ব্যক্তি মালিকানাধীন যানবাহন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ঐসকল যানবাহনের মালিকদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।

ট্রেড এন্ড কমার্স প্রমোশন বোর্ড স্থাপনের প্রকল্প সভায় অনুমোদিত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

অনুলিপিঃ রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীগণের সকল ব্যক্তিগত সচিব।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

মন্ত্রীপরিষদ সভার কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্ত

১৮.০৭.১৯৭১

 

নিম্নবর্ণিত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হলঃ

১/ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়াদি দেখাশুনার বিশেষ দায়িত্ব পালনের জন্য অধ্যাপক রেহমান সোবহানকে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। ওয়াশিংটন সদরদপ্তরে জনাব এম. আর. সিদ্দিকী, এম. এন. এ. কে দূত হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

মন্ত্রীপরিষদ সচিব

অনুলিপিঃ

রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীদের সকল ব্যক্তিগত সচিব।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান

জনাব এম. আর. সিদ্দিকী, এম. এন. এ.

মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

 

—————————

 

 

 

 

<003.033.070>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক বিধিমালা ও বাজেট বিবরণী – প্রচার, প্রকাশনা, তথ্য ও বেতার মন্তনালয়ের ৬ মাসের খসড়া বাজেট বাংলাদেশ সরকার, অর্থ মন্ত্রনালয় ১৪ জুলাই, ১৯৭১

 

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

অর্থ মন্ত্রনালয়

তাং- ১৯ ই জুলাই ১৯৭১ ইং

 

স্বারক নং – অর্থ / ২৯(১২)

 

বরাবর     ১, মাননীয় রাষ্টপতির ব্যক্তিগত সচিব

২, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব

৩, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগীয় সচিব

৪, সাধারন প্রশাসন বিভাগীয় সচিব

৫, অর্থ বিভাগীয় সচিব

৬, বৈদেশীক নীতিবিভাগীয় সচিব

৭, স্বরাষ্ট নীতি বিভাগীয় সচিব

৮, শিক্ষা বিভাগীয় সচিব

৯, ত্রাণ কমিশনার সচিব

১০, পরিচালক যুব ক্যাম্প

১১, সমস্ত বিভাগীয় প্রশাসন

১২, তথ্য ও জনসংযোগ সচিব

আপনাদের সুবিধার্তে শর্তপূর্ণ অর্থিক ব্যয়ের নিয়ামবলী এখানে সংযুক্ত করা হল।

(কে.এ জামান)

অর্থ সচিব

 

শর্তপূর্ণ আর্থিক নিয়ামাবলী

১) অগ্রীম বাজেট মন্ত্রী পরিষদ কর্তৃক ও মাননীয় রাষ্ট্রপতি দ্বারা অনুমদিত হতে হবে।

২) মাননীয় রাষ্ট্রপতির অনুমতি প্রাপ্ত মন্ত্রী সভা দ্বারা গৃহিত বাজেটে নতুন করে কোন ব্যয় সংযুক্ত করা যাবে না।

৩) পাশকৃত বাজেটর মুল ব্যয়গুলি বন্টনের সময় পূর্বের মন্ত্রী সভা দ্বারা গৃহিত কোন সম্পূরক বাজেটকে অতিক্রম করতে পারবে না।

৪) (ক) প্রত্যেক মুল ব্যয়গুল উপমূলে বন্টন করতে পারবে

(খ) পূর্বের অনুমদিত ছাড়া মন্ত্রী সভায় গৃহিত অনুমদিত বিষয়ের এক উপমূল থেকে অন্য উপমূলে পুনরায় উপযুক্ত বলে প্রদান করা যাবে না।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.033.071>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

গ) যেখানে ব্লক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, উত্তোলনকারী ও নির্বাহী কর্মকর্তা উপ-প্রধানের নিকট বিস্তারিত হিসাব জমা দিবেন।

 

৫। বিভাগীয় প্রধান/ চেয়ারম্যান, জোনাল কাউন্সিল এবং নির্বাহী মণ্ডলী হবেন উত্তোলনকারী ও নির্বাহী কর্মকর্তা।

৬। ফান্ড মাসিক হারে প্রদেয় হবে এবং মাসিক ব্যয়ের বিবৃতি অর্থ বিভাগে জমা না দিলে কোন ফান্ড প্রদেয় হবেনা। বৈদেশিক মিশনের ক্ষেত্রে বিস্তারিত বিবৃতি ধর্তব্য নয়।

৭। ক) ফান্ড উত্তোলনের পূর্বেই বিল উত্থাপন করতে হবে।

খ) ফান্ড ব্যবহারের অনতিবিলম্বে ভাউচার জমা দিতে হবে।

গ) অব্যয়িত অর্থ পরবর্তী মাসের প্রথম সপ্তাহে জ্ঞাপন করতে হবে।

ঘ) পরিদর্শনের জন্য রিসিপ্ট ও ব্যয় সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।

৮। ক) উত্তোলনকারী ও নির্বাহী কর্মকর্তাগণ যথাযথ হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।

খ) উত্তোলনকারী ও নির্বাহী কর্মকর্তাগণকে সাহায্যের জন্য হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন অর্থ বিভাগ।

৯। যথাযথ অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণে সব বিভাগ ও এজেন্সির সমস্ত হিসাব নিরীক্ষণে অর্থ বিভাগ নিরীক্ষক নিয়োগ করবেন।

১০। ক) কেন্দ্রীয় সচিবালয়ে অর্থ শাখার হিসাবরক্ষক কর্মকর্তার নিকট সমস্ত বিল উত্থাপন করা হবে।

খ) সমস্ত বিভাগ ও এজেন্সির জন্য কেন্দ্রীয় সচিবালয়ে একজন কেন্দ্রীয় প্রদান কর্মকর্তা থাকবে। সেখানে সব বিভাগের বিল উত্থাপন করা হবে এবং কেন্দ্রীয় প্রদান অফিস থেকে সব অর্থ প্রদান করা হবে।

গ) বাংলাদেশ সরকারের সমস্ত ফান্ড সরকারের নামে বা ক্যাবিনেট অনুমোদিত ব্যক্তির নামে ব্যাংকে রাখা হবে অথবা কেন্দ্রীয় ট্রেজারিতে অবস্থিত ভল্টে সংরক্ষিত থাকবে। সরকার নির্ধারিত ট্রেজারি বিধিতে সমস্ত হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। সরকার অনুমোদিত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ ফান্ড সামলাতে বা পরিচালনা করতে পারবে না।

 

এসডি/(কে, এ, জামান)

অর্থসচিব

 

 

বাজেটের ব্যাখ্যামূলক টীকা

 

অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের বাজেট প্রস্তুত করতে হচ্ছে। আমরা একটি স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্যস্থ বিরাজ করছি। পশ্চিম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.033.072>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের জনগনের জীবন ও সম্পদের ভায়াবহ ক্ষতি সাধন করেছে। জনগনের অর্থনৈতিক জীবন সম্পূর্ণরূপে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং দেশ আজ তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে। দুর্ভিক্ষ আসন্ন। আমাদের প্রথম এবং প্রধান কাজ হচ্ছে যত শীঘ্র সম্ভব দেশকে স্বাধীন করা। সেইসাথে, আমাদেরকে দুর্ভিক্ষ তাড়াতে বন্ধুবৎসল দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক এজেন্সিদের তালিকা তৈরি করে জানাতে হবে (Simultaneously, we should initiate action to enlist the of friendly countries and international agencies to ward off the imminent famine)

 

আমরদের এখন স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য দরকারি, অপরিহার্য ব্যয় মেটাতে বাজেট তৈরি করতে হচ্ছে। যেটা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুদ্ধ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করবে। বাজেট জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর,১৯৭১- এই তিন মাস সময়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই আশায় এটা করা হয়েছে যে আমরা এই সময়ের মধ্যেই দেশকে স্বাধীন করতে পারব। অধিকাংশ সংগঠন সম্প্রতি স্থাপিত হয়েছে অথবা স্থাপিত হচ্ছে বিধায় বাজেট বরাদ্দ তৈরি করা হয়েছে কোন বাস্তব (নিরীক্ষা) ব্যতিরেকে। গত তিন মাসে আমরা বিশেষ বরাদ্দের ভিত্তিতে কিছু ব্যয় করেছি। অনেক বিভাগকে আমরা ৩০ জুনের মধ্যে তাদের বাজেট বরাদ্দ পাঠাতে অনুরোধ করলেও তারা পাঠায়নি। ফলে,আমরা বাজেট নির্ধারণে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। হতে পারে বিভাগগুলো এখনও কাঠামো ভিত্তিক গঠন ও নীতিনির্ধারণ ঠিক করে উঠতে পারেনি তাই আমরা যে করেই হোক সেইসব বিভাগের জন্য ব্লক সরবরাহ বিধান রেখেছি। তাদের ব্যয় সংঘটন ব্লক সরবরাহ বিধানেও যে করেই হোক বরাদ্দ হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের নীতিনির্ধারণী পরিকল্পনা এবং কাঠামো ভিত্তিক গঠন পাঠিয়ে দেয় সেগুলোকে আমাদের পরীক্ষণ ও সম্মতিতে যথাযথ ন্যায়সঙ্গতভাবে অধিগত করব। আমাদের রাজস্ব উৎস সীমিত এবং অপ্রতুল এবং সেই প্রেক্ষিতেই আমরা চেষ্টা করেছি অধিক্ষিপ্ত ব্যয়কে সর্বনিম্ন রাখতে। তাই বলে এতে এটা বুঝায় না যে প্রয়োজনের সময়ে আমরা উৎস গুলো সহজলভ্য(mobilize) করতে পারব না। আমরা ইতোমধ্যেই প্রবাসী বাঙালি এবং বন্ধুবৎসল দেশগুলো থেকে খুব ভাল প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আমরা আমাদের দেশকে স্বাধীনের মূল লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় উৎসগুলো সহজলভ্য করে তুলতে পারব। যে করেই হোক, আমরা সরকারের বর্তমান উৎসের অবস্থান কেবিনেটকে অবগত রাখব। আমরা সক্ষম হয়েছি ৳১১,২২,৮০,৩৭৮.০০ পরিমাণ জোগাড়(mobilize) করতে যা আনা হয়েছে বিভিন্ন ট্রেজারি এবং বাংলাদেশী ব্যাংক থেকে। এটা যে করেই হোক, কিছুটা সময় নিয়েছে আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কিছু কারনে। ফলাফল স্বরূপ আমরা ৪০% থেকে ৫০% ক্ষতিতে আছি মুদ্রারহিতকরণের কারনে। আমাদের এখনও আরও দুইটি জায়গা থেকে প্রায় ৳২,০০,০০০,০০(দুই কোটি) পরিমাণ ফান্ড পেতে হবে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত পরিমাণের মধ্যে আমরা রূপান্তরের জন্য জোগাড় করেছি ৳৪,২৩,৩৮,৭৫০.০০। আমরা আরও চেষ্টা করছি বিভিন্ন জায়গার মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আসা কিছু পণ্যদ্রব্য যেমন পাট, সার, চা, চাল ইত্যাদি বিক্রি করে কিছু ফান্ড জোগাড় করতে। এতে ভারত সরকারের কার্যকরী সাহায্য ও সহযোগিতা লাগবে এবং আমাদের এম,এন,এ, এবং এম,পি,এ, দেরও। এখন পর্যন্ত বিক্রয়রত পাটের মধ্যে আমরা পেয়েছি প্রায় ৳১,০০,০০০.০০(১লক্ষ)। আমরা আশা করছি অন্যান্য পণ্যদ্রব্যের বিক্রি থেকে আরও কয়েক লক্ষ আসবে। ৳২,১৫,৬৪,০৫১.৭৫ অধিক্ষিপ্ত ব্যয়ের বাজেট তৈরি করা হয়েছে তিন মাসের জন্য।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.033.073>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

এটাকে এক বছর পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে অনুমান করে সর্বমোট অর্থনৈতিক দায় হবে ৳৮,৬২,৪৮,২০৪.০০। এটার বিপরীতে আমরা প্রাপ্তি অধিক্ষেপ করেছি ৳৭,৭৪,১৮,৯৯৮.০০। তবে,এতে ঘাটতি হবে ৳৮৮,২৯,২০৬.০০।

 

আমরা একটি জরুরী অবস্থা পার করছি। তাই আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য করা সিকি পরিমাণ কোন প্রচেষ্টাকে অন্ধের মত বাঁধাধরা নিয়মকানুন এবং খুঁটিনাটি কার্যপ্রণালী অনুসরণ করে দমন করতে মনস্থ করি নি কিন্তু একই সময়ে আমরা চেষ্টা করব প্রাপ্তি ও ব্যায়ের যথাযথ হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ করতে ন্যূনতম অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে।যেহেতু আমাদের উৎস সীমিত, আমরা চেষ্টা করব সর্বোচ্চ ফলাফল লাভে যথাসম্ভব সর্বোত্তম পন্থায় সেগুলো সদব্যাবহার করতে।

 

এক নজরে বাজেট

প্রাপ্তি ও ব্যয়ের সারসংক্ষেপ

 

প্রাপ্তি

হিসাব নং ১

(নিজস্ব উৎস)

(ক) পাকিস্তানি মুদ্রাঃ

ইতোমধ্যে প্রাপ্ত                             ৳১১,২২,৮০,৩৭৮.০০

প্রত্যাশিত৳                                              ২,০০,০০,০০০.০০                   ৳১৩,২২,৮০,৩৭৮.০০

৫০% এর কম

(মুদ্রারহিতকরনের                            ৳৬,৬১,৪০,১৮৯.০০

কারনে ক্ষতি)                                             ৳৪,২৩,৩৮,৭৫০.০০                         ৳১০,৮৪,৭৮,৯৩৯.০০

কম রূপান্তরিত                                                                                ৳ ২,৩৮,০১,৪৩৯.০০

 

(খ) ভারতীয় মুদ্রা

(রূপান্তরিত)

হিসাব নং ২                                       ৩,২৬,১২,৫৫৮.০০ টাকা

 

(লেনদেন হিসাব)

১। পাট,

চা, সার, চাল ইত্যাদি বিক্রি  ৳১০,০০,০০০.০০

হিসাব নং

৩ ৳ ৫০,০৫,০০১.০০

(সরকারী অনুদান ও অনুদান)                ৳২,০০,০০,০০০.০০              ৳৬,৩৬,১৭,৫৫৯.০০

১। ইতোমধ্যে প্রাপ্ত

প্রত্যাশিত

 

ব্যয়

১। রাষ্ট্রপতির দপ্তর                          ৳৫২,৩১৬.০০

২। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীবর্গ                      ৳৩৮,৪০০.০০

 

 

 

 

 

 

 

<003.033.074>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

 

৩. মন্ত্রীপরিষদ বিভাজন –                                                      ৬৫,৬৫০.০০ টাকা

৪. সাধারণ প্রশাসন মন্ত্রণালয় –                                     ৩,৬৯,৪০০.৭৫ টাকা

৫. প্রশাসনিক অঞ্চল –                                                            ৫,২২,৫৮৩.০০ টাকা

(উপ অঞ্চল সহ) –                                                               ৪৩,৭০২.০০ টাকা

৬. আর্থিক ব্যাবস্থাপনা মন্ত্রণালয় –                                    ২,১৩,০০০.০০ টাকা

৭. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় –                                                 ১০,০৯,৭৫০.০০ টাকা

৮. ত্রাণ মন্ত্রণালয় –                                                   ৩,০০,০০০.০০ টাকা

৯. শিক্ষা মন্ত্রণালয় –                                                  ১,৫০,০০০.০০ টাকা

১০. তথ্য ও প্রচার –                                                           ৬,০০,০০০.০০ টাকা

(সম্প্রচার সহ)

১১. বৈদেশিক সম্পর্ক –                                                         ২,৫০,০০০.০০ টাকা

১২. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় –                                                          ৩,২০,২৫০.০০ টাকা

১৩. আইন এবং সংসদীয় ব্যাপার –                                           ৬,৯৭,০০০.০০ টাকা

১৪. অনিশ্চিত ঘটনা –                                                     ১,৩৭,০০,০০০.০০ টাকা

১৫. যুব শিবির –                                                             ১০,০০,০০০.০০ টাকা

১৬. প্রতিরক্ষা –                                                            ১,৯৩,৩২,০৫১.৭৫ টাকা

মোট (তিন মাসের জন্য)

এক বছরের মোট আনুমানিক ব্যয় –                          ৭,৭৩,২৮,২০৭.০০ টাকা

 

তিন মাসের একীকৃত বাজেটের অনুমান জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর,১৯৭১

পরিকল্পনা- ১

 

রাষ্ট্রপতির সচিবালয়                                                   তিন মাসের জন্য জুলাই থেকে ডিসেম্বর, ১৯৭১

১. বেতন এবং ভাতা                                                   – ২১,৮১৬.০০ টাকা

২. রাষ্ট্রপতির বাসা ভাড়া                                              – ৩,০০০.০০ টাকা

(@ ১০০০x৩)

৩. রাষ্ট্রপতির T.A.D.A ইত্যাদি                                    – ৩,০০০.০০ টাকা

(@ ১.০০০x৩)

৪. রাষ্ট্রপতির ব্যয়নিয়ন্ত্রক ভাতা               – ১,৫০০.০০ টাকা

(@ ৫০০x৩)

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.033.075>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

৫. দৈনিক সংবাদপত্র, সাময়িক পত্র                                    – ৩,০০০.০০ টাকা

ক্রয় করা এবং যানবাহনের মেরামত ও

রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি সাপেক্ষ ব্যয়

(@ ১,০০০x৩)

৬. চুক্তি বা সন্ধির খসড়া সংক্রান্ত                                     – ১০.০০০.০০ টাকা (ব্যাপার)

বিশেষ ব্যক্তিবর্গের

জন্য বিনোদন ইত্যাদি

৭. রাষ্ট্রপতির বিচক্ষণতার নিকট                                      – ৫,০০.০০ টাকা

ন্যস্ত অর্থ

৮. জরুরি প্রয়োজনের জন্য সংরক্ষিত                                  – ৫,০০.০০ টাকা

 

_____________________

মোট.                                                                            ৫২,৩১৬.০০ টাকা

 

পরিকল্পনা

 

ক. প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীঃ

১. বেতন ও ভাতা                                                     – ১৫,৩০০.০০ টাকা

২. মন্ত্রীদের বাসা ভাড়া                                                 – ৫,১০০.০০ টাকা

৩. মন্ত্রীদের T.A.                                                     – ৯,০০০.০০ টাকা

৪. মন্ত্রীদের ব্যয়নিয়ন্ত্রক ভাতা                 ৪,০০০.০০ টাকা

৫. মন্ত্রীদের বিচক্ষণতার উপর ন্যস্ত

তহবিল                ৫,০০০.০০ টাকা

______________________

মোট                                                                    – ৩৮,৪০০.০০ টাকা

 

খ. মন্ত্রিসভা বিভাজন                                      – ২০,৪০০.০০ টাকা

১. বেতন ও ভাতা                                                     – ১২,৭০০.০০ টাকা

২. বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা                                       – ৫,০০০.০০ টাকা

বহন ইত্যাদি

৩. যানবাহনের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ                    ১,০৫০.০০ টাকা

৪. টেলিফোন ও বিদ্যুৎ                                               – ৬,০০০.০০ টাকা

৫. বিবিধ                                                              – ১২,০০০.০০ টাকা

৬. জরুরি প্রয়োজনের জন্য সংরক্ষিত                       – ৩,০০০.০০ টাকা

৭. স্টেশনারি                                                           –             ১,৫০০.০০ টাকা

৮. P&T                                                                         – ৩,০০০.০০ টাকা

৯. ট্রাঙ্ক কল                                                           – ৬৫,৬৫০.০০ টাকা

______________________

মোট                                                                             – ১,০৪,০৫০.০০ টাকা

 

 

 

 

 

 

 

<003.033.076>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

তফসিল-৫

সাধারণ প্রশাসন বিভাগঃ

১)বেতন ও ভাতা                                          —                                 ৩৩,৬০০.৭৫/=

২)ডাক মাসুল ও টেলিগ্রাম                                  —                                ৩,৮০০.০০/=

৩)যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত                      —                    ৫,০০০.০০/=

৪)মনিহারি দ্রব্যাদি                                         —                                 ৬,০০০.০০/=

৫)যাতায়াত খরচ                                          —                                 ৪,৫০০.০০/=

৬)বিবিধ সম্ভাব্য খরচ                                     —                     ১,৫০০.০০/=

৭)৫টি মুদ্রলিখন যন্ত্র ক্রয়                                  —                     ১৫,০০০.০০/=

৮)সরকারী করমচারীদের

জীবনভাতা(ব্লক বিধান)                                   —                                 ৩,০০,০০০.০০/=

———————————-

মোট                                                                                          ৩৬৯৪০০০.৭৫/=৩৬৯৪০০০.৭৫/=

 

খ)প্রশাসনিক অঞ্চল(সহকারী অফিস সহ):

১) বেতন ও ভাতা                                                                 ৪,০৯,০৯৮.০০/=

২)মনিহারি দ্রব্যাদি                                                                 ১,৫০০.০০/=

৩)ডাকমাসুল ও টেলিযোগাযোগ                                        ৪,৫০০.০০/=

৪)আঞ্চলিক অফিসের বাড়ি ভাড়া                                      ৬,০০০.০০/=

৫)যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত খরচ              ৫,০০০.০০/=

৬)যাতায়াত খরচ                                                                 ৭,৫০০.০০/=

৭)সামনের মাসের নিয়োগের জন্য সঞ্চিত                   ১০,০০০.০০/=

৮)উত্তর অঞ্চলের এপ্রিল ও মে মাসের বকেয়া              ৩,৯৮৫.০০/=

৯)সাহকারী আঞ্চলিক অফিস                                          ৭৫,০০০.০০/=

————————————

মোট                                                             ৫,২২,৫৮৩.০০=     ,২২.৫৮৩.০০/=

মোট (ক এবং খ)…                                           ৮,৯১,৯৮৩.৭৫/=

 

 

তফসিল-৪

অর্থনৈতিক বিভাগঃ

 

১)বেতন ও ভাতা                                                                  ১৮,৭০২.০০/=

২)আকস্মিক খরচ                                                                  ১৫,০০০.০০/=

৩)জরুরি প্রয়োজনের জন্য সঞ্চয়                                       ১০,০০০.০০/=

মোট                                                             ৪৩,৭০২.০০/=

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.033.077>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

তফসিল-৫

স্বাস্থ্য বিভাগঃ

১। বেতন ও ভাতা                                                               ১৮,০০০.০০

২। সংস্থাপন ও আকস্মিক ঘটনা                                      ৭,৫০০.০০

৩। যোগাযোগ খরচ                                                              ৩,০০০.০০

৪। বাড়ি ভাড়া                                                                                ৪,৫০০.০০

৫। অস্তিত্ব ভাতা                                                                  ,৮০,০০০.০০

মোট                                                       ২,১৩,০০০.০০

 

তফসিল-৬

ত্রাণ বিভাগঃ

১। বেতন ও ভাতা                                                               ৯,৭৫০.০০

২। ত্রাণ অপারেশন জন্য ব্লক বিধান                                  ১০,০০,০০০.০০

মোট                                           ১০,০৯,৭৫০.০০

 

তফসিল-৭ (ব্লক বিধান)

১। শিক্ষা বিভাগ                                                                 ৩,০০,০০০.০০

২। তথ্য ও প্রকাশনা                                                              ১,৫০,০০০.০০

৩। বৈদেশিকনীতি                                                                ৬,০০,০০০.০০

৪। দেশীয়ব্যাপার                                                                 ২,৫০,০০০.০০

৫। প্রতিরক্ষা                                                                     ১০,০০,০০০.০০

মোট                                                       ২৩,০০,০০০.০০

 

তফসিল-৮

আইন ও সংসদ বিষয়কঃ

১। MNAs&MPAs এর বেতন

(২০০*৪৫০*৩)                                                                  ২,৭০,০০০.০০

২। জোনাল এর সাপেক্ষে প্রশাসনিক

কাউন্সিলেরব্যয় (৫ জোন)                                                         ৫০,২৫০.০০

মোট                               ৩,২০,২৫০.০০

 

তফসিল-৯

 

পরবর্তী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের

নিয়োগের বিধানঃ

১। বেতন ও ভাতা (ব্লকবিধান)                                      ৫,৫৫,০০০.০০

২। অন্যান্য খরচ                                                                 ,৪২,০০০.০০

মোট                                           ৬,৯৭,০০০.০০

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.033.078>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

 

তফসিল ১০

 

যুব ক্যাম্পঃ

১। খরচ (প্রতিদিন জনপ্রতি ২ টাকা হারে ৭৫

ক্যাম্পে ১০০০ যুবকের ৩ মাসের ব্যয়)                                            ১,৩৫,০০,০০০.০০

২। বেতন ও ভাতা (ব্লকবিধান)                                                  ১,০০,০০০.০০

৩। বিবিধ                                                                                               ,০০,০০০.০০

মোট                                                     ১,৩৭,০০,০০০.০০

 

জুলাই- সেপ্টেম্বর , ১৯৭১ একত্রীকৃত বাজেট

তফসিল ১                        ৫২,৩১৬.০০

২                                   ১,০৪,০৫০.০০

৩                                  ৮,৯১,৯৩৩.৭৫

৪                                  ৪৩,৭০২.০০

৫                                  ২,১৩,০০০.০০

৬                                  ১০,০৯,৭৫০.০০

৭                                   ২৩,০০,০০০.০০

৮                                  ৩,২০,২৫০.০০

৯                                  ৬,৯৭,০০০.০০

১০                                 ,৩৭,০০,০০০.০০

মোট                                ২,১৩,৩২,০৫১.৭৫

(দুই কোটি তের লক্ষ বত্রিশ হাজার একান্ন রুপি পঁচাত্তর পয়সা)

 

 

সংযোজনী

জুলাইসেপ্টেম্বর , ১৯৭১সূচি১বিস্তারিত বাজেট

ক)

১। রাষ্ট্রপতির (স্থানাপন্ন)বেতন                           ২,০০০.০০x৩                                 ৬,০০০.০০

২। রাষ্ট্রপতির পি.এস. এর বেতন                         ৫০০.০০x৩                                   ১,৫০০.০০

৩। এ.ডি.সি.                                                                     ৫০০.০০x৩                                  ১,৫০০.০০

৪। স্টাফ অফিসার (৩)                                            ৫০০.০০x৩x৩                                ৪,৫০০.০০

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.033.079>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

৫. সহকারী স্টাফ অফিসার                                                     ৪০০x৩ = ১২০০.০০ রুপি

৬. তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী (৭)                                                 ১৮৭২x৩ = ৫৬১৬.০০ রুপি

৭. পঞ্চম শ্রেণীর কর্মচারী (৩)                                      ৫০০x৩ = ১৫০০.০০ রুপি

 

মোট =                    ২১৮১৬.০০ রুপি

 

(বি)১. রাষ্ট্রপতির বাড়ি ভাড়া                                                                  ১০০০x৩ = ৩০০০.০০ রুপি

২. রাষ্ট্রপতির ভ্রমণ ভাতা এবং মহার্ঘ ভাতা ইত্যাদি   ১০০০x৩ = ৩০০০.০০ রুপি

৩. রাষ্ট্রপতির সম্পূরক ভাতা                                                  ৫০০x৩ = ১৫০০.০০ রুপি

৪. যানবাহন কেনার শর্তসাপেক্ষ খরচ ইত্যাদি                                  ১০০০x৩ = ৩০০০.০০ রুপি

৫. ভিআইপিদের প্রোটোকল এবং আতিথেয়তা ইত্যাদি                           = ১০০০০.০০ রুপি

৬. Amount placed at the discretion president           =                                     ৫০০০.০০ রুপি

৭. জরুরী কাজের জন্য সংরক্ষণ                                                          = ৫০০০.০০ রুপি

————————————————–

=      ৩০৫০০.০০ রুপি

————————————————–

সর্বমোট     ৫২৩১৬.০০ রুপি

 

সংযোজনী

(এ) ১৯৭১ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর এর বিস্তারিত বাজেট – তফসিল ২

১. প্রধানমন্ত্রীর বেতন                                                                       ১৫০০x৩ = ৪৫০০.০০ রুপি

২. মন্ত্রীর বেতন                                                                                  ১২০০x৩x৩ = ১০৮০০.০০ রুপি

৩. প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ভাড়া                                                               ৫০০x৩ = ১৫০০.০০ রুপি

৪. মন্ত্রীদের বাড়ি ভাড়া                                                               ৪০০x৩x৩ = ৩৬০০.০০ রুপি

৫. মন্ত্রীদের ভ্রমণ ভাতা                                                                ৩০০০x৩ = ৯০০০.০০ রুপি

৬. প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের সম্পূরক ভাতা                                                   ৪০০০.০০ রুপি

৭. Fund placed at the discretion of Prime Minister & Other Ministers ৫০০০.০০ রুপি

———————————————————

৩৮৪০০.০০ রুপি

 

(বি) মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ

১. দুইজন প্রথম শ্রেণী অফিসারের বেতন                                     ৫০০x৪x৩ = ৬০০০.০০ রুপি

—————————————————————————————————————————————

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.033.080>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

২. আমাদের দ্বিতীয় শ্রেণী অফিসারের বেতন                             ৫০০x৩x৩ = ৬০০০.০০ রুপি

৩. চারজন তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারীর বেতন                                       ২৫০x৪x৩ = ৩০০০.০০ রুপি

৪. আটজন আজ্ঞাবাহকের বেতন (প্রতি মন্ত্রীর দুইজন করে)       ১০০x৮x৩ = ২৪০০.০০ রুপি

৫. দুইজন অফিস চাপরাসির বেতন                                                           ১০০x২x৩ = ৬০০.০০ রুপি

৬. চারজন গাড়ি চালকের বেতন (প্রতি মন্ত্রীর একজন করে)           ২০০x৪x৩ = ২৪০০.০০ রুপি

 

সর্বমোট ২০৪০০.০০ রুপি

(সি) শর্তসাপেক্ষ খরচ

১. বাড়ি ভাড়া এবং ভাতা                                                                                             ১২৭০০.০০ রুপি

২. যানবাহন মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণ                              ২০০০x৩ = ৬০০০.০০ রুপি

৩. টেলিফোন এবং বিদ্যুৎ                                                                     ৩৫০x৩ = ১০৫০.০০ রুপি

৪. বিবিধ                                                                                                ২০০০x৩ = ৬০০০.০০ রুপি

৫. ষ্টেশনারী                                                                                    ১০০০x৩ = ৩০০০.০০ রুপি

৬. পিএন্ডটি                                                                                               ৫০০x৩ = ১৫০০.০০ রুপি

৭. ট্র্যাঙ্ক কল                                                                                  ১০০০x৩ = ৩০০০.০০ রুপি

৮. জরুরী কাজের জন্য সংরক্ষণ                                                                                 ৩০০০.০০ রুপি

১২০০০.০০ রুপি

———————

৪৫২৫০.০০ রুপি

—————————————————————-

সর্বমোট এ+বি+সি                 = ১০৪০৫০.০০     রুপি

সংযোজনী

১৯৭১ সালের জুলাইসেপ্টেম্বর এর বিস্তারিত বাজেটতফসিল

 

(এ) সাধারণ প্রশাসনিক বিভাগ

১. প্রথম শ্রেণী অফিসারের বেতন (১০)                   ৪৮০৭.৫০x৩ = ১৪৪২২.০০ রুপি

২. তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারীর বেতন (১৮)                               ৪৭২৮.০৮x৩ = ১৪১৮৮.২৫ রুপি

৩. চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীর বেতন (১৩)                    ১৬৬৪.০০x৩ = ৪৯৯২.০০ রুপি

—————————————–

= ৩৩৬০০.২৫ রুপি

(বি) শর্তসাপেক্ষ খরচ

১. ডাকমাশুল এবং টেলিগ্রাম                                                                                  ৩৮০০.০০ রুপি

২. ষ্টেশনারী                                                                                    ২০০০x৩ = ৬০০০.০০ রুপি

৩. বিবিধ এবং যানবাহন মেরামত                                                                   ৫০০০.০০ রুপি

৪. ভ্রমণ খরচ                                                                                 ১৫০০x৩ = ৪৫০০.০০ রুপি

৫. বিবিধ শর্তসাপেক্ষ খরচ                                                        ৫০০x৩ = ১৫০০.০০ রুপি

৬. পাঁচটা টাইপরাইটার কেনার বিধান                                            ৫০০০x৩ = ১৫০০০.০০ রুপি

৭. সরকারী কর্মচারীদের অস্তিত্ব ভাতা (ব্লক বিধান)                                                      ৩০০০০০.০০ রুপি

————————————————————

= ৩৩৬৮০০.০০ রুপি

——————————————————

সর্বমোট = ৩৬৯৪০০.০০ রুপি

 

 

 

<003.033.081>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

সংযোজনী

১. কেন্দ্রীয় এলাকা

ক) প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বেতন                      ৯৫০৮ X ৩=রুপি     ২৮,৫২৪.০০

খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বেতন                      ৫৩৭৫ X ৩=রুপি       ১৫,৯৭৫.০০

গ) তৃতীয় শ্রেণীর চাকুরেজীবিদের বেতন                               ১০৪৮৩ X ৩=রুপি     ৩১,৪৪৯.০০

ঘ) চতুর্থ শ্রেণীর চাকুরেজীবিদের বেতন                                ১৯৩ X ৩=রুপি                ৫৭৯.০০

২. উত্তর এলাকা

ক) প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বেতন                      ৮৭০০ X ৩=রুপি              ২৫,১৩০.০০

খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বেতন                      ৫০০০ X ৩=রুপি              ১৫,০০০.০০

গ) তৃতীয় শ্রেণীর চাকুরেজীবিদের বেতন                               ৪৬৫৭ X ৩=রুপি            ১৩,৯৭১.০০

ঘ) চতুর্থ শ্রেণীর চাকুরেজীবিদের বেতন                               ১৫০০ X ৩=রুপি              ৪,৫০০.০০

৩. দক্ষিণ পশ্চিম এলাকা                                                                                             ১,০৫,০০০.০০

৪. পূর্বাঞ্চল এলাকা                                                                                         ৬৯,০০০.০০                                                                                                                                                                     ৬৯০০০.০০

৫. উত্তর পূর্ব এলাকা

৬. নিয়োগের জন্যে বরাদ্দ                                                         ১০০০০ X ৩=রুপি            ৩০,০০০.০

৪,০৯,০৯৮.০০

 

শর্তসূচক ব্যয়

১. স্টেশনারী                                                                                  ৫০০ X ৩=রূপি                 ১,৫০০.০০

২.পি এন্ড টি                                                                      ১,৫০০ X ৩=রুপি           ৪,৫০০.০০

৩.আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ঘর ভাড়া           ২,০০০ X ৩=রুপি          ৬,০০০.০০

৪. গাড়ির সারাই ও ভরণপোষণ                                                                           ৫,০০০.০০

৫. ভ্রমণ খরচ                                                                    ২,৫০০ X ৩= রুপি        ৭,৫০০.০০

৬. জরুরী মূহুর্তের জন্যে সংরক্ষিত                                                                                    ১০,০০০.০০

৭.উত্তরাঞ্চলের ১৯৭১ সনের এপ্রিল ও মে মাসের বকেয়া                                                               ৩৯৮৫.০০

৮. উপ-অঞ্চল কর্মকর্তারা                                             ২৫,০০০ X ৩=রুপি      ৭৫,০০০.০০

রুপি=               ১,১৩,৪৮৫.০০

সর্বমোট= ৫,২২,৫৮৩.০০

সংযোজনী

উপ-অঞ্চল কর্মকর্তা

১. উপ-অঞ্চল পরিচালকদের বেতন                                                                                   ৫০০.০০

২. উর্ধ্বতন পরিচালকদের বেতন                                                                                                 ৪০০.০০

৩. স্টেনোগ্রাফারের বেতন                                                                                            ২৫০.০০

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.033.082>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

৮/ পরিবহন                                                                                                                     ৩০০.০০

৯/ অফিস ভাড়া                                                                                                     ২০০.০০

১০টি সাব জোনাল অফিসের জন্য তিনটি                         ২৫০০.০০

(প্রতি জোনে দুইটি করে)

তিন মাসের খরচ হবে :

২৫০০x১০x৩ রুপি                                            ৭৫০০০.০০ রুপি

 

 

পরিশিষ্টVI

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

১/ কর্মচারীদের বেতন

@ প্রতিমাসে ৬০০০.০০ রুপি x ৩                                                                                  ১৮০০০.০০

(মেডিক্যাল, প্যারামেডিকেল ও নন মেডিকেল কর্মচারী বুঝানো হয়েছে)

২/ স্থাপনা ও আকস্মিক ঘটনাবলী ভাতা

@ প্রতিমাসে ২৫০০.০০ রুপি x ৩                                                                       ৭৫০০.০০

৩/ পরিবহন ও যানবাহন রক্ষনাবেক্ষন খরচ                                                     ৩০০০.০০

@ ১০০০

৪/ অফিস ও মেডিকেল স্টোরের জন্য গোডাউন ভাড়া বাবদ

৪৫০০.০০

@ ১৫০০.০০ x ৩

 

৫/ বিভিন্ন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (মেডিক্যাল, প্যারামেডিকেল ও

নন মেডিকেল কর্মচারী) সরকারি কর্মচারীদের জন্য সরকারি

নিয়ম অনুযায়ী ভরণপোষণ ভাতা ও বেতন

৩০০ লোকের জন্য জনপ্রতি ২০০ রুপি করে মোট ৩০০.০০x২০০

=   ৬০,০০০.০০ x ৩           ১,৮০,০০০.০০

( খরচ বাঁচানোর জন্য তিনজন স্টাফ কে প্রতিনিধি

করে অন্যত্র পাঠানোর প্রয়াস করা হয়েছিল। তবে তারা

ফেরত আসলে তাদের দায় আবার সংস্থার উপরেই বর্তাবে।

তাই বাজেটের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি শর্ত আরোপকরা উচিত)

মোট ২,১৩,০০০.০০

 

পরিশিষ্টVII

ত্রান অধিদপ্তর .

১/ রিলিফ কমিশনারের বেতন                                                              ৫০০x৩ = ১,৫০০

২/ ডেপুটি রিলিফ কমিশনারের বেতন                                                          ৫০০ x ৩= ১,৫০০

৩/ স্টাফ অফিসারের বেতন                                                                  ৫০০x৩ = ১,৫০০

৪/ দুইজন এসিস্ট্যান্টের বেতন                                                                            ৩০০x২x৩ = ১,৮০০

৫/ একজন একাউন্টেন্টের বেতন                                                               ৩০০ x ৩ = ৯০০

৬/ স্টেনোর বেতন                                                                                         ৩০০x৩ = ৯০০

৭/ টাইপিস্টের বেতন                                                                                      ২৫০x৩ = ৭৫০

 

 

 

 

<003.033.083>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

 

৮। দুই এম এল এস এস এর জন্য খরচ                                                   ১৫০ C ৩ = রুপি ৯০০

৯। রিলিফ অফিসের জন্য ব্লক বিধান 10,000.00 C                                         রুপি ৩০০০০০০

…………………………………

মোট= রুপি ৩০,০৯,৭৫০

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

প্রেস , প্রচার ও তথ্য সম্প্রচার দপ্তর

 

১। বেতন                                                                                                                         রুপি ১৭, ৭৭০

টেপ @ 20 প্রতি মাসে

 

২। রুপি @ ৭৫/- প্রতি মাসে                                                                                             রুপি ১৫০০

৩। সংবাদপত্র বিল                                                                                                             রুপি ১০০

৪। ক্যাজুয়াল শিল্পী অন্তর্ভুক্ত না                                                                                                 রুপি ১০০০

৫। আসবাবপত্র ভাড়া                                                                                                       রুপি ২৫০

৬। যন্ত্র ক্রয়                                                                                                                 রুপি ১,৫০০

৭। স্টেশনারি                                                                                                                       রুপি ৩০০

৮। রক্ষণাবেক্ষণ/ জীপ                                                                                                   রুপি ১,৫০০

৯। বিবিধ ও জরুরী রিজার্ভ যেমন থার্ড ট্রান্সমিশন                                                                       রুপি ৩৫০০০ প্রতি মাসে

বাড়ি ভাড়া, ড্রামা উৎপাদন,সম্প্রচার ঘন্টা বৃদ্ধি এবং

অন্য কোন খরচ

ছয় মাসের ব্যয়ের টাকা রুপি ৩৫০০০ C ৬                                                                 রুপি ২,১০,০০০

( রুপিতে দুই লাখ দশ হাজার শুধুমাত্র)

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.034.084>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক জোন প্রতিষ্ঠার বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয় ২৭ জুলাই, ১৯৭১

 

সাধারণ প্রশাসন দপ্তর

মেমো . নং গ                                                                                                                       / তারিখ ……… ..১৯৭১

 

ক্রম

 

১। মন্ত্রিপরিষদ সিদ্ধান্ত অনুসারে, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রধান কার্যলয় ও প্রশাসনিক এখতিয়ারের সহিত নিম্নবর্নিত প্রশাসনিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

 

)দক্ষিণপূর্ব জোন ()     এইচ কিউ ঃ সাবরুম         ক। চট্টগ্রাম

খ। পার্বত্য চট্টগ্রাম

গ। ফেনী সাব ডিভিশন, নোয়াখালী জেলা

 

)দক্ষিণপূর্ব জোন ( ) এইচ কিউ ঃ আগরতলা       ক।ঢাকা

                                                                                               খ। কুমিল্লা

গ। নোয়াখালী জেলা, ফেনী সাব ডিভিশন ব্যাতিত

 

)ইস্ট জোন               এইচ কিউ ঃ ধর্মতলা                 ক। হবিগঞ্জ

খ। মৌলভীবাজার সাব ডিভিশন সিলেট জেলা

 

)উত্তরপূর্ব জোন () এইচ কিউ ঃ দাওকি             ক। সদর ও সুনামগঞ্জ সাব ডিভিশন সিলেট জেলা

 

)উত্তরপূর্ব জোন ( ) এইচ কিউ ঃ টুরা                 ক। ময়মনসিংহ

খ। টাঙ্গাইল

 

)নর্থ জোনের             এইচ কিউ ঃ কোচবিহার                     ক। রংপুর

 

)ওয়েস্ট জোন         এইচ কিউ ঃ বালুরঘাট                             ক। দিনাজপুর

খ। বগুড়া

গ। রাজশাহী

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.034.085>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

)দক্ষিণপশ্চিম জোন     এইচ কিউ ঃ কৃষ্ণনগর     ক। পাবনা

খ। কুষ্টিয়া

গ। ফরিদপুর

ঘ। যশোর

 

)সাউথ জোন             এইচ কিউ ঃ বারাসাত                  ক। বরিশাল

খ। পটুয়াখালী

গ। খুলনা

বিঃদ্রঃ:

( 1) উপরল্লিখত জোনাল বিভাগ তৈরি করা হয়েছে মূলত জোনাল হেডকোয়াটারের নিকট অবস্থিত জোনের অন্তর্ভুক্ত জেলার বেশিরভাগ মানুষের উপস্থিতির উপরে ভিত্তি করে।

( 2 ) এটা মনে রাখা যেতে পারে যে, কোনো বিশেষ জেলার মানুষদের এমন কোনো জোনে পাওয়া যেতে পারে, যে জোনে সেই বিশেষ জেলা অন্তর্ভুক্ত নয়। সেক্ষেত্রে তাঁরা যে বিশেষ জোনে সাময়িকভাবে অন্তর্গত হবেন।

 

  1. জোনাল প্রশাসনিক পরিষদ :

প্রতিটি জোনে একটি জোনাল প্রশাসনিক পরিষদ স্থাপন করা হবে ।

 

জোনাল প্রশাসনিক পরিষদের গঠনতন্ত্র

 

( ক) জোনের সকল এম এন এ গণ ও এম পি এ গণ জোনাল প্রশাসনিক পরিষদের সদস্য হবেন

 

সাধারনত একজন এম এন এ অথবা এম পি এ তার নিজ জেলা যে জোনে অন্তর্ভুক্ত সেই জোনের অন্তর্ভুক্ত হবেন এই লক্ষে যে, তিনি তার নির্বাচনী এলাকার সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে নিজ নির্বাচনী এলাকার স্বাধীনতা সংগ্রামে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করবেন।

তবে , একজন এম এন এ অথবা এম পি এ তার নিজ জেলা যে জোনে অন্তর্ভুক্ত নয় সেই জোনেও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন যদি তা পূর্ববর্তি অনুচ্ছেদে বর্ণিত লক্ষ্য অর্জনে অধিক সহায়ক হয়। এটি একজন এম এন এ অথবা এম পি এ এর সুবিধা এবং বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধানের উপরে নির্ভরশিল।

কোনো এম এন এ এবং এম পি এ একাধিক জোনের জোনাল প্রশাসনিক পরিষদের সদস্য হতে পারবেন না।

 

(খ ) প্রতিটি জোনাল কাউন্সিল নিজেদের সদস্যদের মধ্য থেকে জোনাল প্রশাসনিক কাউন্সিলের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত একজন চেয়ারম্যান নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।

 

(গ) পরিষদের সদস্য – সচিব জোনাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা হবেন ।

 

(ঘ) প্রশাসনিক কাউন্সিলের দায়িত্ব পালনের জন্য একটি জোনাল সচিবালয় থাকতে হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.034.086>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদের কার্যাবলী :

১) মন্ত্রিসভা, প্রশাসন ও রাজনৈতিক উপদেষ্ঠা মন্ডলি ও মন্ত্রি পরিষদের দ্বারা যে সব নিয়ম নীতি বিবৃত হবে তার চর্চা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

২) আঞ্চলিক পরিষদ জনগনের সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবে এবং তাদরে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে যে দেশের সরকার তাদের সাথে আছে।

৩) আঞ্চলিক পরিষদ ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বাংলাদেশ সরকারের পাশে থেকে আঞ্চলিক প্রশাসন ও অন্যান্য আঞ্চলিক সংগঠন এক সাথে সম্মন্বয় করবে এবং বাংলাদেশ সরকার কতৃক সকল ত্রাণ কার্যক্রম ব্যবস্থা পর্যাবেক্ষণ করা হবে।

৪) আঞ্চলিক পরিষদ ত্রাণ কার্যক্রমের উপর দৃষ্টি রাখবে এবং ভুল-ত্রুটি সংশোধন করবেন।

৫) আঞ্চলিক পরিষদ যুব উন্নয়নে আইনগত ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

৬) আঞ্চলিক পরিষদ স্থানীয় সেক্টর কমান্ডারদের সাথে সহযোগিতা বজায় রাখবে।

৭) আঞ্চলিক পরিষদ তার সীমানার মধ্য প্রশাসনিক সরঞ্জাম স্থাপনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

৮) সদস্যদরে সাথে পরিষদ মাসে অন্তত ১ বার সাক্ষাত করবে। সম্পাদক ও সদস্যগন চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে আলোচনার কার্যাবলী তুলে ধরবেন। আলোচনার অন্তত ৫ দিন আগে বিজ্ঞপ্তি প্রদান করতে হবে। গুরুত্ব বিষয় অন্তভুক্ত করার জন্য বিবিধ বিষয় সদস্যদ আলোচনা সভায় তাদরে প্রস্তাব পাঠাতে পারবে।

 

 

৪) আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদের উপ-কমিটি:

ক) আঞ্চলিক পরিষদের সাধারন ভাবে নিচের উপ-কমিটি সমূহ গঠন করবে তাদের কার্যক্রম অপসারণ সহযোগী করার জন্য।

১) অর্থনৈকিত উপ-কমিটি

২) ত্রাণ উপ-কমিটি

৩) সাস্থ্য উপ-কমিটি

৪) প্রচার উপ-কমিটি

৫) শিক্ষা উপ-কমিটি

মন্ত্রিসভা কতৃক প্রতিষ্ঠিত কোন প্রস্তাবরে ভিত্তিতে যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে যে কোন উপ-কমিটি গঠন করতে পারেন।

খ) প্রতিটি উপ-কমিটিতে সর্বনিম্ন ৩ এবং সর্বোচ্চ ৭ জন আঞ্চলিক সদস্য দ্বারা গঠিত হবে।

গ) উপ-কমিটির মধ্য থেকে একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.034.087>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

ঘ) আঞ্চলিক অফিসার উপ-কমিটির পক্ষ থেকে সদস্য সচিবদের নিকট বিভিন্ন বিভাকে উপস্থাপন করবে।

৫) আঞ্চলিক প্রশসনিক কর্মকর্তা:

ক) প্রতিটি প্রশাসনিক অঞ্চল একজন আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা দ্বারা নাম করন করা হবে।

খ) আঞ্চলিক প্রশসনিক কর্মকর্তা সরকারের দ্বারা নিয়োগ প্রাপ্ত হবে।

গ) আঞ্চলিক প্রশসনিক কর্মকর্তা যিনি পদাধিকার বলে আঞ্চলিক প্রশসনিক সংসদের সদস্য সচিব তিনি সবার কার্য বিবরণী সংরক্ষণ করবেন।

ঘ) আঞ্চলিক প্রশসনিক কর্মকর্তা সকলের কাজ সম্মন্বয় করবেন এবং তার আঞ্চলিক কর্মকর্তা নিকট দায়ি থাকবেন।

ঙ) আঞ্চলিক প্রশসনিক কর্মকর্তা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কবলের সাথে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বজায় রাখবে এবং তাদের কাজে সহযোগিতা করবেন।

চ) তিনি সকল নীতি বাস্তবায়নে নির্বাহির কাছে আঞ্চলিক প্রশসনের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।

৬) আঞ্চলিক কর্মকর্তা:

ক) প্রতিটি অঞ্চলে থাকতে হবে-

১) একজন সাস্থ্য কর্মকর্তা

২) একজন শিক্ষা কর্মকর্তা

৩) একজন ত্রাণ কর্মকর্তা

৪) একজন প্রকৌশলী

৫) একজন পুলিশ অফিসার

৬) একজন তথ্য কর্মকর্তা

৭) একজন হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা

খ) আঞ্চলিক কর্মকর্তা সরকারের দায়িত্ব প্রাপ্ত বিভাগ কতৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন এবং কাজে নিজেকে সংযুক্ত রাখবেন।

৭) অর্থসংক্রান্ত:

ক) অর্থসংক্রান্ত বিষয় প্রতিটি অঞ্চলের উপ-কমিটি দ্বারা পরিচালিত হবে।

খ) অর্থসংক্রান্ত উপ-কমিটি ৫ জন সদস্য বিশিষ্ট হবে। আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান, আঞ্চলিক প্রশসনিক কর্মকর্তা এবং অর্থসংক্রান্ত উপ-কমিটি একজন পদাধিকার বলে বাকি ৩ জন অর্থসংক্রান্ত উপ-কমিটি সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবে।

গ) অর্থসংক্রান্ত প্রতিটি উপ-কমিটি সদস্যদের ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে এবং তহবিল একটি ব্যাংক এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.034.088>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

চেক আঞ্চলিক প্রশসনিক কর্মকর্তা দ্বারা ইস্যু করা হবে এবং আঞ্চলিক প্রশসনিক সদস্যদের চেয়ারম্যান দ্বারা স্বাক্ষরিত হবে অথাব তার অনুপস্থিতিতে অর্থসংক্রান্ত কমিটির যে কোন সদস্য দ্বারা প্রতি স্বাক্ষরিত হবে।

ঘ) প্রতিটি খরচ নির্বাহি বিভাগ কতৃক সরকার প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহ করবে। নিদিষ্টি বন্টনের ভিত্তিতে সরকারি অনুমোদন দ্বারা কোন ব্যয় নির্বাহ করা হবে না।

ঙ) আঞ্চলিক হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা কতৃক সরকারের অর্থ সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী যথাযত ভাবে নিয়ন্ত্রন করবেন।

চ) অর্থসংক্রান্ত বিভগ কতৃক নিয়োগ প্রাপ্ত ১ জন হিসাব রক্ষক মাসে ১ বার হিসাব পত্র নিরীক্ষা করবেন ও পরীক্ষা হিসাব বিবরনী অর্থ বিভাগের নিকট প্রেরণ করবেন এবং তা মন্ত্রিসভায় স্থানান্তর করতে হবে।

এস/ডি তাজউদ্দীন আহমদ

প্রধানমন্ত্রী

মেমো নং.                                                                                                      তারখি :- ২৭/০৭/১৯৭১

 

অনুলিপি প্রদান:

1) M.N.A & P.A (All)

2) Head of Bangladesh Mission, Calcutta.

3) Secretaries (All)

4) Inspector General of Police.

5) Relief Commissioner.

6) Director General, Health Services.

7) Officer-On-Special Duty, Law & Parliamentary Affairs.

8) Chief Engineer.

9) Zonal Administrative Officers (All)

10) Private Secretaries (AH)

11) A.D.C to Commander-in-Chief.

 

(K.Ahmed)

Dy. Secretary.

General Administration Department.

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.035.089>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
যুব ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের প্রধান কতৃক পশ্চিম জোনের ক্যাম্পপ্রধান নিয়োগ বাংলাদেশ সরকার, যুব ক্যাম্প নিয়ন্ত্রন বোর্ড ২৮ জুলাই, ১৯৭১

 

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

নিয়ন্ত্রণাধীন , যুব ক্যাম্পের

অনুক্রম সমূহ

 

পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ, জনাব এম. বখতিউল্লাহকে যুব-ক্যাম্প পশ্চিম সেক্টর জোন-১ এর পরিচালক নিযুক্ত করা হয়।

এই নির্দেশ ২৮ জুলাই, ১৯৭১ থেকে বলবৎ করা হবে। এই নিযুক্তি জনস্বার্থে তৈরী করা হয়।

তিনি তার অফিসের ঠিকানা সংক্রান্ত এবং অন্যান্য জরুরী নির্দেশনা যুব শিবির, সদর পরিচালক থেকে গ্রহণ করবেন।

– (মোঃ ইউসুফ আলী)

সভাপতি,

নিয়ন্ত্রণ বোর্ড, যুব ক্যাম্প

২৮/০৭/৭১

স্মারকলিপি, No. Est./BD/YC/5(22)

খণ্ড (copy) থেকেঃ-

 

(১) জনাব এম বখতিউল্লাহকে তথ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে যুবশিবির, পশ্চিম সেক্টর (জোন-১) এর পরিচালক নিযুক্ত করা হয়

(২) কমান্ডার ইন চিফ, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

(৩) বাংলাদেশ মিশনের প্রধান।

(৪) সম্পাদক/ অর্থ-বিভাগ / জাতীয় (home) বিভাগ / বৈদেশিক বিষয় / নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, যুব ক্যাম্প / জি.এ. বিভাগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

(৫) প্রশাসক, পূর্ব জোন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ আগরতলা সরকার

(৬) বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত কার্যালয়, প্রকৌশলী দপ্তর / গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পুলিশ শাসন।

(৭) ত্রাণ কমিশনার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

(৮) সাধারণ পরিচালক, স্বাস্থ্য সেবা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

(৯) সাধারণ সম্পাদক হতে রাষ্ট্রপতি / প্রধানমন্ত্রী / পররাষ্ট্রমন্ত্রী / স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / অর্থমন্ত্রী।

– (মোঃ ইউসুফ আলী)

সভাপতি,

নিয়ন্ত্রণ বোর্ড, যুব ক্যাম্প।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.036.090>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ

বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সভার

কার্যবিবরনী ও সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সরকার,

কেবিনেট ডিভিশন

২৯ জুলাই, ১৯৭১

 

মন্ত্রীসভা সাক্ষাৎকার এ মিনিট(minutes) এবং সিদ্ধান্তসমূহঃ ২৯.০৭.৭১ তারিখে

 

মন্ত্রীসভা সিদ্ধান্ত নিল যে, কোন ভাতা চালু রাখা যাবে না অথবা, সরকার এবং স্বশাসিত সংস্থা , শিক্ষক, এবং অন্যান্য বিভাগের কর্মচারীদের পেনশন প্রদান করা হবে।

স্বাধীন জোনগুলোতে প্রশাসনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হল। এ ধরনের একটি প্রশাসন চালানোর ক্ষেত্রে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হবে, সেগুলো পরীক্ষা করা হবে এবং বিশিষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে। সদস্য সম্পাদক জনাব বড়ুয়ার সাথে জনাব এ. হান্নান , জনাব জে. জি. ভৌমিক এবং জনাব এস. বড়ুয়ার সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়; বাংলাদেশ অর্থ এবং অন্যান্য খাত হতে হিসাব জমা রাখার প্রসঙ্গে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়।

মন্ত্রীসভা আরও সিদ্ধান্ত নিল যে, বর্তমান সীমানা এবং বাইরের কেরানিবর্গের জন্য অফিসের বন্দোবস্ত করা হবে।

বর্তমান ভবনের সীমানার কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যে, এগুলো অন্য কোথাও স্থাপন করা হবে।

সম্প্রচারে জড়িত মানুষদের বিশেষ কাজের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যে, তাদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জায়গার বন্দোবস্ত করা হবে।

– মন্ত্রীসভার সচিব

সকল ব্যক্তিগত সম্পাদক হতে সভাপতি এবং মন্ত্রীবর্গের কাছে অনুলিপি।

– মন্ত্রীসভার সচিব

গোপনীয়ঃ

২৯.০৭.৭১- এ মন্ত্রীসভা বৈঠকে মিনিট (minutes) সিদ্ধান্তসমূহঃ

মন্ত্রীসভার সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রফেসর ইউসুফ আলীকে এ বৈঠকে বিশেষভাবে আমন্ত্রিত করা হয়।

প্রফেঃ ইউসুফ আলী কর্তৃক উত্থাপিত ত্রাণ এবং পুনর্বাসন এবং যুবশিবির রিপোর্টটি মন্ত্রীসভা কর্তৃক বিবেচিত হয়।

সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যে, যুবশিবিরের তরুণদের প্রশিক্ষিত করার জন্যে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা চালু করা হবে। মেধার ভিত্তিতে কিছু শিবির বন্ধ করে দেওয়া হবে, বাকী শিবিরগুলো সঠিকভাবে চালিত হবে।

ত্রাণ প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যে, সামরিক সংযোগ অফিস থেকে কোন ত্রাণ প্রদান করা হবে না এবং ত্রাণ বন্টন কর্তৃপক্ষকে আঞ্চলিক কাউন্সিলের কাছে অর্পণ করতে হবে যারা মেধার ভিত্তিতে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।

আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যে, স্বেচ্ছাপ্রকল্পে একটি যুদ্ধের শব সেবার প্রস্তাবনাটি মন্ত্রীসভার অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হবে।

– মন্ত্রীসভার সম্পাদক

সকল ব্যক্তিগত সম্পাদক হতে সভাপতি, মন্ত্রীবর্গ এবং প্রফেঃ ইউসুফ আলীর কাছে অনুলিপি।

– মন্ত্রীসভার সম্পাদক

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.037.091>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ

বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সভার

কার্যবিবরনী ও সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সরকার কেবিনেট ডিভিশন ৯ আগষ্ট, ১৯৭১

 

 

(১) যুবক্যাম্প – অভ্যর্থনা শিবির – বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রতিপালিত হবে।

(২) আঞ্চলিক প্রশাসন এবং আঞ্চলিক পরিষদ (council) ।

(৩) প্রশিক্ষণক্যাম্প এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গেরিলা সমস্যাবলী।

(৪) মনস্তাত্ত্বিক (psy) যুদ্ধবিগ্রহ কক্ষ। (warfare cell)

(৫)

(৬) প্রতিরক্ষা বিষয়ক সচিব/ সেক্রেটারি (secy)

(৭) স্থানসংকুলান- এখানে প্রতিরক্ষার কেন্দ্রীয় দপ্তর(H.Q.) স্থাপিত হবে। মন্ত্রীসভা এখানে কাজ করবে। কোন সাক্ষাৎকার করা যাবে না। সচিবালয় অন্য একটি জায়গায় স্থাপিত হবে।

 

৯.০৮.৭১- এ মন্ত্রীসভা বৈঠকে মিনিট (minutes) সিদ্ধান্তসমূহঃ

মন্ত্রীসভা সিদ্ধান্ত নিল যে, যুবকদের জন্যে অভ্যর্থনা শিবিরগুলো বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রতিপালিত হবে।

আর কোন কালক্ষেপণ না করে আঞ্চলিক প্রশাসন এবং আঞ্চলিক পরিষদ স্থাপিত হবে।

প্রশিক্ষণক্যাম্প গুলো এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের সমস্যাবলী মন্ত্রীসভা কর্তৃক বিশেষভাবে বিবেচিত হবে। একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধবিগ্রহ কক্ষ। (warfare cell) স্থাপনার বিষয়টি অতিসত্বর প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হবে। তথ্য এবং সম্প্রচার ক্ষেত্রের সমস্যাবলীও টুকে রাখা হবে।

জনাব এ সামাদ, সিলেটের প্রাক্তন ডি. সি. -কে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্পাদক নিযুক্ত করা হবে বলে সিধান্ত নেওয়া হল।

বর্তমান কেন্দ্রীয় দপ্তরে সম্মুখীন সমস্যাবলী বিশেষভাবে নোট করা হবে এবং সিধান্ত নেওয়া হল যে, বর্তমান সীমানাটুকু শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্থাপনে ব্যবহৃত হবে। বর্তমান স্থানেও (site) মন্ত্রীসভা কাজ করবে তবে সেখানে কোন সাক্ষাৎকার অনুমোদিত হবে না। সচিবালয় প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত গৃহীত হল যে, সচিবের কার্যালয় নিবাসিত করতে একটি আলাদা ভবনের ব্যাবস্থা করা হবে।

– মন্ত্রীসভার সম্পাদক

সকল ব্যক্তিগত সম্পাদক হতে সভাপতি এবং মন্ত্রীবর্গের কাছে অনুলিপি।

– মন্ত্রীসভার সম্পাদক

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.038.092>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশ সরকারের সচিবদের নিয়মিত সাপ্তাহিক সভা সংক্রান্ত সার্কুলার বাংলাদেশ সরকার কেবিনেট ডিভিশন ১৩ আগষ্ট, ১৯৭১

 

গোপনীয়

১৩ আগষ্ট,১৯৭১

এটা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সকল সচিব গণ আন্তঃবিভাগীয় আলাপ আলোচনার জন্য সপ্তাহে একদিন মিলিত হবে।প্রধাণমন্ত্রী নিজে এই সভার সভাপতিত্ব করবেন।প্রতি সোমবার সকাল ৯ টায় এই সভা সম্পাদনের জন্য পরামর্শ জানাচ্ছি।

(এইচ.টি ইমাম)

মন্ত্রিপরিষদ সচিব

নং. ১৯(৭)-কেবি.তারিখ-১৩.৮.৭১

প্রাপকঃ

১)পররাষ্ট্র সচিব

২)প্রতিরক্ষা সচিব

৩)অর্থ সচিব

৪)জি এ সচিব

৫)স্বরাষ্ট্র সচিব

৬)স্বাস্থ্য সচিব

৭)প্রধাণমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.039.093>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
কেবিনেট সচিব কর্তৃক বাংলাদেশে দখলীকৃত এলাকা হতে আনীত অর্থ ও সম্পদের সদ্ব্যবহার সম্পর্কে কমিশন নিয়োগের নির্দেশ বাংলাদেশ সরকার, কেবিনেট ডিভিশন ১৬ আগষ্ট, ১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ

তারিখঃ ১৬ আগষ্ট,১৯৭১

দখলীকৃত এলাকা হতে মুদ্রা ও অন্যান্য সম্পদ আনয়ন এবং আনীত সম্পদের সদ্ব্যবহারের পরামর্শ চেয়ে সরকার কর্তৃক কয়েকজন লোকের সমষ্টিতে একটি দল নিয়োগ করা হয়েছে

কমিশন যাদের নিয়ে গঠিত হবেঃ

১) জনাব এ হান্নান চৌধুরী                       সভাপতি

 

২)জনাব জে জি ভৌমিক                         সদস্য

৩)জনাব এস বড়ুয়া                             সদস্য সচিব

 

কমিশনের শর্তাবলী সমূহ নিম্নরূপঃ

ক)নিরাপদ এলাকায় সকল সম্পদ হস্তাহন্তের যাবতীয় সমস্যা সম্পর্কে তদন্ত করতে হবে।

খ)দখলীকৃত এলাকা হতে আনীত মোট মুদ্রা ও সকল সম্পদের বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করতে হবে।

গ)বিররণকৃত সকল সম্পদ ও যাবতীয় অর্থ সরকারের নিকট হস্তান্তর করতে হবে।

এবং

ঘ)দখলীকৃত এলাকা হতে স্থানান্তরিত সকল সম্পদ ,নগদ অর্থ সম্পর্কে জনগনকে জবাবদিহিতা করতে হবে।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কমিশন তাদের প্রতিবেদনটি কেবিনেটের কাছে জমা দিবে।

এসডি/- এইচ.টি. ইমাম

মন্ত্রীপরিষদ সচিব

রশিদ নং-১৩৫(২৫)/কেবিঃতারিখঃ১৬-৯-৭১

মালদার জেলাপ্রশাসক বিচারক সচিব জনাব হান্নান চৌধুরী কে প্রতিলিপি প্রে্রণ করা হোক।

(এইচ.টি. ইমাম)

মন্ত্রীপরিষদ সচিব

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.040.094>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশ সরকারের সাধারণ প্রশাসন বিভাগের একটি নিয়োগপত্র

বাংলাদেশ সরকার

সাধারণ প্রশাসন বিভাগ

২১ আগষ্ট, ১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের

সাধারণ প্রশাসন দপ্তর

নং-জিএ/১১০৫                                       তারিখ- ২১ আগষ্ট,১৯৭১

 

নির্দেশ

 

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক জনাব সনৎ কুমার সাহা কে অধ্যাপনার পাশাপাশি পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অর্থনীতিবিদ হিসেবে নিযুক্ত করা হলো।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাঙ্গালাদেশ সরকারের পক্ষ হতে

এসডি/-(এম.নুরুল কাদের)

সচিব, জি.এ অধিদপ্তর

রশিদ নং- জিএ/১১০৫ (১০) তারিখঃ ২১-৮-৭১

 

প্রতিলিপি প্রদান

১)প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনাব সনৎ কুমার সাহা কে যাবতীয় তথ্য প্রেরণ করা হোক।কেবিনেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে ৫০০.০০ টাকা তার মাসিক বেয়ন ধার্য করা হয়েছে।

২)সচিব

৩)সচিব, পরিকল্পনা অধিদপ্তর

৪)সহকারী সচিব,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

(এম.নুরুল কাদের)

সচিব

সাধারণ প্রশাসন বিভাগ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.041.095>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রাশসনিক নির্দেশ

বাংলাদেশ সরকার,

কেবিনেট ডিভিশন

২১ শে অগাষ্ট, ১৯৭১

 

মেমো নং ৩১(৬) কেবিঃ                           অগাষ্ট ২১,১৯৭১

,মন্ত্রি পরিষদ সচিবের ১৬ ও ১৭ তারিখের নোট দ্বয়ের (মেমো নং ২১ (৬) কেবিঃ, ১৬ ও ১৭ ই অগাষ্ট) পরিপেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর আদেশ সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য পূনরায় ব্যাক্ত করা হল।

সকল সচিবঃ

(এইচ টি ইমাম

মন্ত্রী পরিষদ সচিব)

 

প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনামা

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দায়িত্ব থাকবে যেসব সমস্যা মন্ত্রী পরিষদ সচিবালয়ের সিদ্ধান্তের প্রয়োযন সেগুলি চিহ্নিত করা। কোন সমস্যা মন্ত্রী পরিষদ সচিবালয়ে আলোচিত হবে কেবলমাত্র তখনই যখন সংশিষ্ট মন্ত্রী তার বিবেচনা অনুযায়ী চেষ্টা করা সত্ত্বেও নীতি নির্ধারনী সিদ্ধান্তের প্রয়োযন অনুভূত হবে। তাই কোন বিষয় মন্ত্রী পরিষদ সচিবালয়ের উত্থাপনের জন্য সংশিষ্ট মন্ত্রীর অনুমোদন লাগবে। যে কোন ফাইল মন্ত্রী পরিষদে সমস্যা চিহ্নিত করনের জন্য পাঠানোর প্রবনতা পরিহার করতে হবে।

স্বাঃ তাঃ আহমেদ

১৬/৮/৭১

গোপনীয়ঃ                                                                                                               অতি জরুরী

১৩/৮/১৯৭১

মন্ত্রী পরিষদের পরবর্তি বৈঠকের তারিখ ১৬/৮/৭১ এ নির্ধারন করা হল। সকলকে বৈঠকের কার্যবিবরনী ১৪ তারিখ সন্ধ্যার মধ্যে অনুগ্রহ পূর্বক জমা দেবার জন্য আহবান জানানো হল।

(এইচ টি ইমাম

মন্ত্রী পরিষদ সচিব)

নং ১৮(৬)-কেবিঃ তাঃ ১৩/৮/৭১

প্রতি,       ১। সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

২। সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়।

৩। সচিব, অর্থ মন্ত্রনালয়।

৪। সচিব, জি, এ।

৫। সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

৬। সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়।

 

<003.042.096>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
আন্তঃবিভাগীয় সচিবদের কার্যবিবরনী

বাংলাদেশ সরকার

কেবিনেট ডিভিশন

২৩শে অগাষ্ট, ১৯৭১

 

প্রধানমন্ত্রীর আদেশক্রমে, সচিব মহোদয়গনের আন্তঃবিভাগীয় আলোচনা ও সমন্বয় সভা প্রতি সোমবার সকাল ৯-০০টায় (বাতিলের নোটিস না জারী হলে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী নিজে এসব সভায় সভাপতিত্ব করবেন, সকল সচিব মহোদয়কে অনুগ্রহ পূর্বক এই সভার যথাযথ গুরুত্ব বিবেচনা সহকারে তাদের এপয়নমেন্ট নির্ধারন করার আহবান জানানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আরো আশা প্রকাশ করেন যে প্রতিটি বিভাগ এই সভায় তাদের ওপর ন্যাস্ত দায়িত্বের অগ্রগতি সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করবেন।

(এইচ টি ইমাম

মন্ত্রী পরিষদ সচিব)

 

নং…কেবিঃ তাং অগাষ্ট ১৯, ১৯৭১

 

প্রতি,

সকল সচিব

ব্যাক্তিগত সচিব, প্রধানমন্ত্রী

ব্যাক্তিগত সচিব, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি

২৩শে অগাষ্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পরিষদ সচিবালয়ের সংক্ষিপ্ত কার্যবিবরনী সিদ্ধান্ত সমূহ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্বে নিম্ন বর্নিত সচিবগন অংশগ্রহন করেন।

১। সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

২। সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়।

৩। সচিব, অর্থ মন্ত্রনালয়।

৪। সচিব, জি, এ।

৫। সচিব, মন্ত্রী পরিষদ।

মাননীয় পরাষ্ট্র সচিব তার মন্ত্রনালয়ের গত কয়েক সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ন কার্যবিবরনী ব্যাখ্যা করেন। তিনি নিম্নলিখিত বিষয় সমূহ পেশ করেনঃ

১। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে কার্যরত পাকিস্তান মিশন সমূহের ২২ জন অফিসার ও ৮০ জন সদস্য স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করেছে।

২। পাকিস্তান পররাষ্ট্র বিভাগের নুতন প্রজন্ম(বাংগালী) আমাদের বাংলাদেশী চেতনায় আগের তূলনায় বেশী আকর্ষিত হচ্ছে।

৩। বিভিন্ন দেশের পাকিস্তান মিশন থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মচারী পাকিস্তান পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশ সরকারের আনুগত্য প্রকাশ করায় পাকিস্তানী উচ্চ পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে তারা কূটনৈতিক মিশন সমূহে নানান পরিবর্তন আনছে।

 

<003.042.097>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

৪। ইরান সরকার গভীরভাবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষালম্বন করছে।

৫। শ্রীলংকায় পাঠানো আমাদের প্রতিনিধি দলের অগ্রগতি বেশ সন্তোষহজনক। আফগানিস্তান ও নেপালেও ২/১ দিনের ভেতর প্রতিনিধি দল প্রেরন করা হবে।

পরাষ্ট্র সচিব জাপান, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন, থাইল্যান্ড, সিংগাপুরে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে ক্রমবর্ধমান জনমত বর্ননা করেন।

প্রধানমন্ত্রী সভার কার্যববিরনীতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি পূনরায় সচিবগনের আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় সভার গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আরো আশাবাদ ব্যাক্ত করেন যে লিখিত বিবরনী সভার পূর্বেই সব বিভাগ নিজেদের ভেতর আদান প্রদান করবে এবং জমা দেবে।

প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ব্যাখ্যা করেন এবং পরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এ বিষয়ে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি বিবেচনায় রেখে তাদের পূর্নাংগ রিপোর্ট পেশ করবে বলে আশা প্রকাশ করেনঃ

১। পাকিস্তানে কার্যরত বিভিধ শক্তি।

২। পাকিস্তানের (পশ্চীম) বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং তাতে বিভিন্ন ক্ষুদ্র দলের ভূমিকা।

৩। খান ওয়ালী খানের সাম্প্রতিক বক্তব্য।

৪। মাহমুদুল হক উসমানী, কবি আয়াজ, জিএম সৈয়দদের গ্রেফতার।

৫। বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রকাশ্যে বিচার দাবী করে এয়ার মার্শাল আজগর খানের আহবান।

৬। ভূট্টোর ওপর বর্তমান সংকটের সম্পূর্ন দায় চাপিয়ে আইউব খুরোর বক্তব্য।

৭। সাধারন নির্বাচনে ভূট্টোকে জয়যুক্ত করার ব্যাপারে সেনাবাহিনীর আশ্বাস প্রদান (সেনানিবাস এলাকায় তার ভাষন)।

৮। দক্ষিনপন্থী রাজনৈতিক দল সমূহের উত্থানের সম্ভাবনা।

৯। ইয়াহিয়ার বর্তমান সংকট সমূহ।

সভায় নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত সমূহ গৃহীত হয়ঃ

১। সকল বিভাগের সচিবগন নিজ নিজ বিভাগের কার্যকলাপের রিপোর্ট প্রস্তুত করবেন এবং মন্ত্রী পরিষদ সচিবের কাছে পাঠাবেন (রবিরারে ভেতর, যাতে করে সোমবার সকালের সভায় সেগুলি উত্থাপন করা যায়)।

২। সচিবগন মন্ত্রী পরিষদ সচিবের কাছে আন্তঃবিভাগীয় সিদ্ধান্ত এবং সমন্বয়ের জন্য প্রস্তুত রিপোর্টও রবিবারের মধ্যে পাঠাবেন।

৩। সভা প্রতি সোমবার সকাল ৯-০০ টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

(এইচ টি ইমাম

মন্ত্রী পরিষদ সচিব)

 

 

 

 

 

<003.043.098>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ

প্রচার বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত পরিষদ

সদস্যের প্রচার সংক্রান্ত আন্তঃ বিভাগীয় একটি চিঠি

বাংলাদেশ সরকার

তথ্য ও বিচার বিভাগ

২৩ আগষ্ট, ১৯৭১

 

তথ্য, প্রচার ও বেতার দফতর

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

মুজিবনগর

জয় বাংলা

 

গোপনীয়

জনাব,

ইহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অন্যান্য বিভাগের সাথে সঠিক সহযোগীতার অভাবে তথ্য ও প্রচার বিভাগ সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে।

এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয় হবে যদি অনুগ্রহ করে নিয়োজিত বিভাগীয় প্রধানদের তথ্য ও প্রচার বিভাগের প্রধানের সহিত বিবৃতি,বিলিপত্র,প্রেস রিলিজ সহ অন্যান্য সকল সহযোগীতা ও সংযোগ স্থাপনের নির্দেশ দানে আপনার আজ্ঞা হয়।

আপনার বিশ্বস্ত

(আব্দুল মান্নান)

এম.এন.এ ইনচার্জ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.044.099>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র : তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী প্রদত্ত বিদেশে রাষ্ট্রীয় কাজে প্রেরিত পরিষদ সদস্যের একটি পরিচয়পত্র বাংলাদেশ সরকার,ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ ২৩ আগষ্ট, ১৯৭১

 

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলি, ত্রাণ পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়

মুজিবনগর,

আগষ্ট ২৩,

১৯৭১

 

এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সদস্য এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কেন্দ্রীয় ত্রান ও পুনর্বাসন কমিটির সদস্য জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী এমপিএ কে বাংলাদেশ সরকারের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্র,ইউরোপ এবং দূরপ্রাচ্যের দেশ সমূহে প্রেরণ করা হচ্ছে ।

দয়া করে তাকে সম্ভাব্য সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়া হোক যেন সে তার দায়িত্ব পালন,সেখানে তার অবস্থান এবং ভারত হয়ে মুজিবনগরে ফিরে আসতে পারেন।

 

(এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান)

স্বরাষ্ট্র,ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.045.100>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
জোনাল কাউন্সিল এবং যুব ক্যাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে কেবিনেট সচিবের একটি চিঠি বাংলাদেশ সরকার, কেবিনেট ডিভিশন ২৩ আগস্ট, ১৯৭১

 

অনুগ্রহপূর্বক ২০/৭/৭১ তারিখের আমার অফিস থেকে পেটেন্ট অনুমোদন এবং হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে প্রচারিত আদেশের একটি মুখবন্ধ অনুলিপি সংগ্রহ করুন। আমি আশা করি এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত (আদেশের অনুলিপি ২৮/৭/৭১ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। )

(এইচ. টি. ইমাম)

মন্ত্রিপরিষদ সচিব

২৩/৮/৭১

No.37(3)/Cab                                                                                                                         তারিখ: ২৩/৮/৭১

 

বরাবর,

১/ অর্থমন্ত্রী

২/ অর্থসচিব

৩/ প্রতিরক্ষা সচিব

 

আমি জানতে পেরেছি যে, আঞ্চলিক প্রশাসন ও যুব ক্যাম্পের অধিদপ্তরের হিসাব একসঙ্গে চালু হয়েছে। আমি আগেই খুব পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছিলাম যে এই দুই সংস্থার বাজেট আলাদা। অর্থমন্ত্রী আঞ্চলিক প্রশাসনের বাজেট হিসেবে ২,৪২,১২১.০০ রুপি বরাদ্দ রেখেছেন। যুব ক্যাম্পের ব্যয় হিসেবে তিনি ১০,০০,০০০.০০ রুপি বরাদ্দ রেখেছেন। এই দুই খাতের হিসাব স্বতন্ত্রভাবে আলাদা রাখা হয়েছে। জনাব এ. কে. চৌধুরী আঞ্চলিক প্রশাসনের সকল হিসাব জনাব পি. সি. ভৌমিকের কাছে হস্তান্তর করবেন যিনি আঞ্চলিক প্রশাসনের হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। আঞ্চলিক প্রশাসনের সম্পর্কযুক্ত সকল হিসাবের ব্যাপারে জনাব ভৌমিক দায়িত্বশীল থাকবেন। তিনি সরাসরি ডেপুটি সেক্রেটারি (প্রশাসন) এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন। হিসাবগুলো সঠিক ও সংরক্ষিতভাবে আছে, এটা প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করবেন। ডি. এস. নিয়ন্ত্রিত ভাবে ক্যাশবুক পরীক্ষা করবেন। জনাব এ. কে. চৌধুরী যুবক্যাম্প সম্পর্কিত ব্যয়ের হিসাব বজায় রাখবেন। আমি ইতোমধ্যে সরকারের কাছে C.A. পদের অনুমোদন ও তার নিয়োগের জন্য প্রস্তাব জমা দিয়েছি। এটি না হওয়া পর্যন্ত তিনি অস্থায়ীভিত্তিতে কাজ করবেন।

 

১. আনুমানিক বার্ষিক ব্যয় আঞ্চলিক অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট – ২,০৮,৪৭৫.০০

(ইতোমধ্যেই অর্থমন্ত্রী দ্বারা অনুমোদনকৃত)                                               রুপি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.045.101>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

২. আঞ্চলিক প্রশাসনের জন্য সম্পূরক বাজেট (আইন অনুমোদিত/উৎসে অনুমোদিত)                                -৩৩,৬৪৬.০০ টাকা

৩. আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পদসমূহের জন্য সম্পূরক বাজেট                                         -৫১,০০০.০০ টাকা

৪. উপ-আঞ্চলিক অফিসের বাজেট                                                                                     -২,৪০,০০০.০০ টাকা

৫. ভ্রমন ভাতা এবং মহার্ঘভাতার জন্য বাজেট                                                                         -১৭,০০০.০০ টাকা

৬. MNA এবং MPA দের ভাতার জন্য বাজেট                                                                    -৩,০০,০০০.০০ টাকা

*MNA= Member of National Assembly (জাতীয় পরিষদের সদস্য) *MPA= Member of Provincial Assembly (প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য)

৭. আঞ্চলিক পরিষদের জন্য বাজেট                                                                                    -৪০,২০০.০০ টাকা

৮. যুব শিবিরের পরিচালকের দপ্তরের জন্য বাজেট (প্রধান কার্যালয়)                                                 -৬৫,২০০.০০ টাকা

৯. অগ্রীম ভাতার জন্য বাজেট -মূল টাকা

১০. পরিবহন পরিচালকের দপ্তরের জন্য বাজেট                                                                       -১,৪৪,৪০০.০০ টাকা

১১. আন্তঃ নিরাপত্তা পরিকল্পনার জন্য বাজেট                                                              -১,৪৪,৪০০.০০০ টাকা

 

উপরোল্লিখিত বাজেটগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র ১ এবং ২ নাম্বারটি আঞ্চলিক অফিসের সম্মানে/সার্থে অনুমোদিত হয়। অন্যান্য আয়ব্যায় সংক্রান্ত হিসাবের সাথে হওয়া জরূরী ব্যায়সমূহ অর্থমন্ত্রীর দ্বারা অনুমোদনে বাধ্য থাকে। যখন ব্যয় হয় তখন আমরা তিনটি বিশদ নীতি অনুসরন করি-

 

১. আঞ্চলিক প্রশাসনের অনুমোদিত বাজেট কঠোরভাবে নেতৃত্ব অনুযায়ী অনুসরন করা হবে।

২. যুব শিবিরের বাজেট এর স্ব-কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী অনুসরন করা হবে।

৩. মুক্তিবাহিনীর সাথে জড়িত অবশ্যম্ভাবী ও জরূরী ব্যায়সমূহ প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের খরচ বৃদ্ধির মাধ্যমে হতে পারে। এই ব্যায়সমূহের মধ্যে কিছু বিষয় যেমন মুক্তিবাহিনীর যাতায়ত খরচ, হাসপাতাল খরচ যেমন রক্তবৃদ্ধি, ডায়েট ইত্যাদি, মৃতদেহ কবর দেয়া, শহীদদের বিধবা স্ত্রীদের সহায়তা ইত্যাদি, এইসব খরচ, হয় চীফ অব স্টাফ অথবা উনার অনুমোদিত কোন অফিসার কর্তৃক প্রত্যায়িত হতে হবে। যখন এই খরচগুলো হয় তখন আমরা এই নীতি দ্বারা পরিচালিত হই যে, আমাদের সব প্রচেষ্টা প্রতিরক্ষা কেন্দ্রীক হবে এবং মুক্তিবাহিনীর সাথে যুক্ত সব খরচকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে। এর আগে এক মিটিংয়ে আঞ্চলিক পরিষদ ২০০০০০ রুপি মুক্তিবাহিনীর অংশ হিসেবে রাখার একটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। সেই সাথে আমি পূর্বাঞ্চলীয় মুক্তিবাহিনীর জন্য ২০০০০০ রুপি ৩ মাসের জন্য রাখার বিধান করতে সরকারিভাবে চেষ্টা করি।

এস.ডি/- এইচ.টি. ইমাম

সচিব

পুর্বাঞ্চল

২৮.০৭.৭১

———————–

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.046.102>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
জোনাল এডমিনিষ্ট্রেটিভ কাউন্সিল গঠনের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র মন্তী আহৃত সভার বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ২৫ আগস্ট, ১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলদেশ সরকার

স্বরাষ্ট্র ও আন্তঃমন্ত্রনালয়

নোটিশ

১. আঞ্চলিক প্রশাসন পরিষদের সংবিধানের জন্য MNA ও MPA দের একটি মিটিং ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর স্ব স্ব আঞ্চলিক পরিষদের সদর দপ্তরে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

২. উপস্থিত MPA/MNA দের মধ্য হতে একজন সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য বাছাইকৃত হবেন।

৩. আঞ্চলিক প্রশাসন অফিসের প্রাক্তন সদস্য সচিব সভার সারসংক্ষেপ লিখবেন এবং সভার শেষে যত দ্রুত সম্ভব (২৪ ঘন্টার মধ্যে) মন্ত্রিসভায় যোগাযোগ করবেন।

৪. সভার ভেন্যু জানতে সকল MNA এবং MPA দের স্ব স্ব আঞ্চলিক প্রশাসন অফিসার ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

(এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান )

মন্ত্রী স্বরাষ্ট্র ও আন্তঃমন্ত্রণালয়

২৫ আগস্ট ১৯৭১

 

স্মারকলিপি নং- HM/43 (400)

কপি ফরোয়ার্ড করা হয়েছে :-

১) জনাব আব্দুল হামিদ এম. এন. এ

২) আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা তথ্য এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য                                                                        অঞ্চল

(এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান )

মন্ত্রী স্বরাষ্ট্র ও আন্তঃমন্ত্রণালয়

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

সাধারন প্রশাসন বিভাগ

আদেশ

১. মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের গতি বৃদ্ধি করার মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার জন্য এইই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, প্রত্যেকের জন্য আলাদা সদর দপ্তর ও আইনগত সীমা ঠিক করে প্রশাসনিক অঞ্চল ভাগ করা হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.046.103>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

১) দক্ষিণ-পুর্ব অঞ্চল (১)         এইচ.কিউ. সাবরুম                i) চট্টগ্রাম

  1. ii) পার্বত্য চটগ্রাম

iii) ফেনী মহকুমা,

 

২) দক্ষিন-পূর্ব অঞ্চল (২) এইচ.কিউ. আগরতলা          নোয়াখালী জেলা

  1. i) ঢাকা

Ii) কুমিল্লা

iii) নোয়াখালী জেলা (ফেণি মহকুমা বাদে)

 

৩) পূর্ব অঞ্চল             এইচ.কিউ. ধর্মনগর            i)হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার মহকুমা

ও সিলেট জেলা

 

 

৪) উত্তর-পূর্ব অঞ্চল (১)          এইচ.কিউ. ডকি       i) সদর ও সুনামগঞ্জ মহকুমা, সিলেট জেলা

 

৫) উত্তর-পূর্ব অঞ্চল (২)          এইচ.কিউ. তুরা                   i) ময়মনসিংহ

  1. ii) টাঙ্গাইল

৬) উত্তর অঞ্চল                               এইচ.কিউ. চকবিহার              i) রংপুর

 

৭) পশ্চিম অঞ্চল                               এইচ.কিউ. বালুরঘাট              i) দিনাজপুর

  1. ii) বগুড়া

iii) রাজশাহী

 

৮) দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চল                      এইচ.কিউ. কৃষ্ণনগর            i) পাবনা

  1. ii) কুষ্টিয়া

iii) ফরিদপুর

  1. iv) যশোর

৯) দক্ষিন অঞ্চল                              এইচ.কিউ. বারাসাত               i) বরিশাল

  1. ii) পটুয়াখালী

iii) খুলনা

 

 

বি.দ্রঃ      ১) জোনাল ডিভিশন তৈরির ক্ষেত্রে জোনাল ডিভিশনের সাথে উল্লেখিত অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ নিকটস্থ জোনাল

হেডকোয়ার্টারস এ আসার ভিত্তিতে উপরোক্ত অঞ্চলগুলো ভাগ করা হয়েছে।

২) আরও মাথায় রাখতে হবে যে এক জেলার মানুষ নিজেদের এলাকা যে অঞ্চলে আছে, সে অঞ্চল বাদে অন্য অঞ্চলেও পরতে

পারেন। এ সকল ক্ষেত্রে তারা যেখানে আছেন, সে অঞ্চলের বলে গণ্য হবেন

২. আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদ

 

প্রতি অঞ্চলে একটি করে আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদ গঠন করা হবে।

আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদের সংবিধানঃ

ক) সকল অঞ্চলের এম.এন. এস এবং এম. পি. আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদের সদস্য হবেন।

 

  1. i) এম.এন. এস এবং এম.পি সকল তাদের অঞ্চল যে জেলায় পরেছে তাতে অবস্থান করবেন যাতে যথাসংখ্যক জনগণের

 

 

<003.046.104>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় যারা তাদের নির্বাচকমন্ডলীতে অবস্থা করছেন এবং নির্বাচকমন্ডলীর মাঝে যারা স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।

 

  1. ii) নির্বাচকমন্ডলী নিজের অঞ্চলের না হওয়া সত্ত্বেও যদি মনে হয়ে যে কোন অঞ্চলে থাকলে আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হবো, এই সিদ্ধান্ত এম.এন.এস অথবা এম. পি দের সুবিধা এবং সুবিবেচনার উপর ছেড়ে দেওয়া হলো।

 

iii)কোন এম.এন.এস বা এম.পি. এস এক আঞ্চলিক পরিষদের বেশি পরিষদের সদস্য হতে পারবেন না।

(খ) প্রতিটি আঞ্চলিক পরিষদের প্রধান পদে থাকবেন একজন করে চেয়ারম্যান যিনি আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদের সদস্যদের মথ্যে থেকে নির্বাচিত হবেন।

(গ)আঞ্চলিক প্রশাসনিক অফিসার পরিষদের সদস্য সচিব হবেন।

(ঘ) প্রশাসনিক পরিষদের কাজ ছেড়ে দেওয়ার জন্য আঞ্চলিক সচিব থাকবেন

 

৩. আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদের কাজঃ

(ক) মন্ত্রিসভার নির্দেশিত নীতি বাস্তবায়ন এবং উপদেশ ও রাজনৈতিক ক্ষমতা আঞ্চলিক পরিষদকে নিশ্চিত করতে হবে।

(খ) আঞ্চলিক অফিসকে সাধারণ জনগণের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং তাদের বাংলাদেশ সরকারের উপস্থিতি

অনুভব করাতে হবে।

(গ) আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদকে স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার সহায়তায় উদ্বাস্তুদের মাঝে ত্রাণ বিতরণে

অংশগ্রহণ করতে হবে। তারা বাংলাদেশ সরকারের ত্রান বিতরন কর্মসূচি আয়োজন, পর্যবেক্ষন এবং বিতরণে সহায়তা করবে।

(ঘ) আঞ্চলিক পরিষদ উদ্বাস্তু শিবিরে নজর রাখবে এবং বহিরাগতদের সরিয়ে দেবে।

(ঙ) পরিষদ ইয়ুথ ক্যাম্পে লজিস্টিক এবং প্রসাশনিক সহায়তা দেবে।

(চ) আঞ্চলিক পরিষদ সেক্টর কমান্ডারদের সাথে যোগাযোগ রাখবে এবং সহায়তা নিশ্চিত করবে।

(ছ) আঞ্চলিক পরিষদ স্বাধীন এলাকাসমূহে প্রশাসনিক যন্ত্রপাতি বসাতে সহায়তা করবে।

(জ) পরিষদের সদস্যরা প্রতি মাসে অন্তত একবার একে অপরের সাথে দেখা করবে। সদস্য সচিব চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ

করে কর্মসূচি ঠিক করবেন। পরবর্তীতে সভার অন্তত ৫ দিন আগে সদস্য সচিব বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন। সদস্যদের প্রস্তাবিত

প্রস্তাবসমূহের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবসমূহ বিবিধ বিষয়ের অধীনে সভায় প্রথমে আলোচনা করা হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.046.105>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

৪। আঞ্চলিক প্রশাসনিক কাউন্সিলের উপকমিটিসমূহঃ

(ক) আঞ্চলিক কাউন্সিল তার কাজকর্ম সহজতরভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত উপ-কমিটিগুলো সাধারণভাবে গঠন করবে।

(ক) অর্থ উপ-কমিটি

(খ) ত্রাণ উপ-কমিটি

(গ) স্বাস্থ্য উপ-কমিটি

(ঘ) প্রচারণা উপ-কমিটি

(ঙ) শিক্ষা উপ-কমিটি

কাউন্সিল চাইলে, তৎসত্ত্বেও, যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে কোন উপ-কমিটি গঠন করতে পারে যেটি মন্ত্রিসভার সংস্থাপন শাখার অনুমোদনের উপর নির্ভর করে।

(খ) প্রত্যেক উপ-কমিটি আঞ্চলিক প্রশাসনিক কাউন্সিলের সর্বনিম্ন ৩ এবং সর্বোচ্চ ৭ সদস্যের মাধ্যমে গঠিত হবে।

(গ) উপ-কমিটির সদস্যরা তাদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি (চেয়ারম্যান) নির্বাচন করবেন।

(ঘ) বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিত্বকারী আঞ্চলিক কর্মকর্তা অনুরূপ উপ-কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন।

৫। আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তাঃ

(ক) প্রত্যেক অঞ্চলের প্রশাসনিক বিন্যাসে একজন আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রধানরূপে থাকবেন।

(খ) আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা সরকারের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন

(গ) আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যিনি পদাধিকার বলে আঞ্চলিক প্রশাসনিক কাউন্সিলের সদস্য সচিব, তিনি কাউন্সিল সভার মিনিটস লিপিবদ্ধ রাখবেন।

(ঘ) আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সকল আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মধ্যে, যারা জবাবদিহিতার আওতায় পড়েন, তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবেন।

(ঙ) আঞ্চলিক কর্মকর্তারা তাদের স্থানীয় প্রতিরূপদের সাথে ঘনিষ্ঠ মৈত্রী স্থাপন করবেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা এবং সহায়তা করবেন।

(চ) আঞ্চলিক প্রশাসনিক কাউন্সিলের সকল নীতি গ্রহণ করে তা কার্যকর করার জন্য তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবেন।

৬। আঞ্চলিক কর্মকর্তারাঃ

(ক) প্রত্যেক অঞ্চলে থাকবেঃ

১) একজন আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

২) একজন আঞ্চলিক শিক্ষা কর্মকর্তা

৩) একজন আঞ্চলিক ত্রাণ কর্মকর্তা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.046.106>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

৪। একজন আঞ্চলিক ইঞ্জিনিয়ার

৫। একজন আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তা

৬। একজন আঞ্চলিক তথ্য কর্মকর্তা

৭। একজন আঞ্চলিক হিসাব কর্মকর্তা

খ) আঞ্চলিক কর্মকর্তারা সরকারের নির্দিষ্ট বিভাগ কর্তৃক নিয়োগকৃত হবে, এবং বিভিন্ন অঞ্চলে কাজে নিয়োজিত হবে।

অর্থঃ

ক) অর্থ বিষয়ক সবকিছু প্রত্যেক অঞ্চলের আঞ্চলিক অর্থ উপ কমিটি কতৃক পরিচালিত হবে।

খ) অর্থ উপ কমিটি ৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। আঞ্চলিক প্রশাসনিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা অন্যদের উপ- কমিটির পদাধিকারবলে সদস্য এবং বাকি তিন সদস্য তার সদস্যদের মধ্যে থেকে কাউন্সিল দ্বারা নির্বাচিত হতে থাকবে।

গ) ফান্ড একটি ব্যাংক একাউন্ট কতৃক পরিচালিত হবে। জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট অর্থ উপ-কমিটির সব সদস্যদের নামে খোলা হবে এবং একই নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে:

চেক আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা দ্বারা জারি করা হবে এবং অর্থ উপ-কমিটির চেয়ারম্যান বা তাহার অনুপস্থিতিতে অন্যান্য সদস্যদের কোন একজন দ্বারা প্রতিস্বাক্ষরিত হতে হবে ।

ঘ) মাসিক ভিত্তিতে মূল ব্যয় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তহবিল সরকার দ্বারা প্রকাশ করা হবে। সরকারের অনুমোদন ছাড়া কখনই ব্যয় মূল ব্যয়কে ছাড়িয়ে যাবে না।

ঙ) আঞ্চলিক হিসাব কর্মকর্তা সরকারের সাধারণ আর্থিক বিধি অনুযায়ী যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করবেন।

চ) হিসাব অন্তত একবার অর্থ বিভাগ কর্তৃক নিযুক্ত নিরীক্ষক কতৃক নিরীক্ষিত হবে। হিসাবের একটি পাক্ষিক বিবৃতি অর্থ বিভাগের নিকট প্রেরণ করতে হবে মন্ত্রিসভায় স্থাপন করার জন্য

 

 

এস.ডি/- তাজুদ্দিন আহমেদ

প্রধানমন্ত্রী

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.047.107>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

       শিরোনাম                সূত্র            তারিখ
     বীরত্ব খেতাবপ্রাপ্ত স্কীম অনুমোদন সংক্রান্ত একটি চিঠি বাংলাদেশ সরকার ক্যাবিনেট     ডিভিশন ২৮ আগস্ট। ১৯৭১

 

মে’তে ১৬.৯.১৯৭১ অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মন্ত্রিপরিষদ বীরত্বের পুরস্কার স্কীম সি -ইন-সি দ্বারা জমা অনুমোদন করা হয়েছে। এখন যে প্রাসঙ্গিক মন্ত্রিপরিষদ সিদ্ধান্ত প্রচারিত হচ্ছে , প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা বীরত্বের পুরস্কার প্রকল্প নিজেই মন্ত্রিপরিষদ মিনিট এবং সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

আমি সি -ইন-সি এর জন্য কল্যাণকামী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বীরত্বসূচক পুরস্কার স্কীম পাঠাতে অনুরোধ জানাচ্ছি।

এইচ.টি ইমাম

মন্ত্রিপরিষদ সচিব

২৮.৮.১৯৭১

 

গোপনীয়                                                                                                                               তারিখ ২৮.৮.১৯৭১

মেমো নং ৫৪৪/ ক্যাব

প্রতিরক্ষা সচিবকে অনুলিপি প্রেরণ করুন

 

এইচ.টি ইমাম

মন্ত্রিপরিষদ সচিব

২৮.৮.১৯৭১

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.048.108>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

 

         শিরোনাম              সূত্র    তারিখ
যুব ক্যাম্পে ত্রৈমাসিক ব্যয়     বরাদ্দের হিসাব বাংলাদেশ সরকার যুব ক্যাম্প প্রধান কার্যালয় ১লা সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

তিন মাসের জন্য যুব ক্যাম্পের পরিচালকের দপ্তর এর জন্য বাজেট এর হিসাব

০১.০৯.১৯৭১ হতে অগ্রসার

(ক) আবর্তক :

১) ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বেতন:                                                 রূপি ৯০০০.০০

৬ জন পরিচালক @ রূপি ৫০০ x ৬ x ৩                                     রূপি ১৯৫০০.০০

১৩ জন ডেপুটি পরিচালক @ রূপি ৫০০ x ১৩ x ৩

২) ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বেতন:                                               রূপি ১৬৮০০.০০

১৪ জন স্টাফ কর্মকর্তা @ রূপি ৪০০ x ১৪ x ৩

৩) ৩য় শ্রেণীর স্টাফদের বেতন:                                                             রূপি ২৭০০০.০০

৩০ জন ৩য় শ্রেণীর স্টাফ @ রূপি ৩০০ x ৩০ x ৩

৪) ৪র্থ শ্রেণীর স্টাফদের বেতন:                                                   রূপি ৯০০০.০০

২০ জন ৪র্থ শ্রেণীর স্টাফ @ রূপি ১৫০ x ২০ x ৩

 

রূপি ৮১৩০০.০০

খ) টি.এ ও ডি.এ (এল.এস)                                                                            রূপি ৮২০০০.০০

গ) স্টেশনারি @ রূপি ৫০০০ পিএম x ৩                                                     রূপি ১৫০০০.০০

ঘ) দৈবঘটনা @রূপি ২০০০ পিএম x ৩                                                               রূপি ৬০০০.০০

 

মোট                                                                              রূপি ১৮৪৩০০.০০

 

 

ঙ) অনাবর্তক                                                                                 রূপি ২০০০০.০০

১) ফার্নিচার                                                                       রূপি ৫২০০০.০০

২) ২০ পদের লেখক                                                               রূপি ৩০০০.০০

৩) অফিস ফিটিং                                                                 রূপি ৩০০০.০০

৪) সাইক্লোস্টাইল মেশিন                                                           রূপি ৭৮০০০.০০

 

চ) অফিসের আবাসনের জন্য

হে/কো @ ২০০০ পিএম x ৩                                                  রূপি ৬০০০.০০

আবাসিক আবাসন                                                                           রূপি ১৬৫০০.০০

 

রূপি ২২৫০০.০০

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.048.109>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

ছ) পরিবহণ খরচঃ

১) ৮ নম্বর জিপের খরচ @ প্রতিটা ২৫০০০ x ৮                  রূপি ২০০০০.০০

২) রক্ষণাবেক্ষণ খরচ রূপি ২০ পিএম x ১০ x ৩                     রূপি ৬০০.০০

৩) পি.ও.এলখরচ ১০ নম্বরের জন্য

রূপি ৫০০ x ১০ x ৩                                                                রূপি ১৫০০০.০০

৪) মি. ব্যয়                                                                    রূপি ১২৫১০.০০

সর্বমোট আবর্তক এবং অ আবর্তক ব্যয়                     রূপি ৫১২৯১০.০০

 

স্বাক্ষরিত/-

এস.আর. মির্জা

পরিচালক. হেডকোয়ার্টার, ইয়ুথ ক্যাম্প

 

সচিবের দপ্তর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ৩ মাসের প্রাক্কলিত বাজেট

(কার্যকরণের তারিখ- ১.৯.৭১)

 

১.৯.৭১ থেকে ৩১.১১.৭১ পর্যন্ত ৩ মাস সময়কালের জন্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইয়ুথ ক্যাম্পের খরচ সহ সর্বমোট ৫,৮৬,৩৭০ রুপি প্রাক্কলিত ব্যয় বিবেচনা করা হয়েছে।

এই বাজেটের একটি অংশ (অংশ-১) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অন্য অংশটি(অংশ-২) ইয়ুথ ক্যাম্পের খরচ হিসেবে বিবেচ্য।

 

উল্লেখিত সময়কালের জন্য অংশের ভিত্তিতে সর্বমোট আবর্তক এবং অনাবর্তক খরচের পরিমাণ নিম্নরুপঃ

 

মন্ত্রণালয় বাবদ (অংশ) আবর্তক ৩৩,৩০০ রুপি
অনাবর্তক ৪০,১৬০ রুপি
মোট ৭৩,৪৬০ রুপি
ইয়ুথ ক্যাম্প (অংশ) আবর্তক ১,৮৪,৩০০ রুপি
অনাবর্তক ৩,২৮,৬১০ রুপি
মোট ৫,১২,৯১০ রুপি
মুখ্য খরচ (অংশ)
১) প্রশাসনিক খরচ ২৮,৫০০ রুপি
২) অফিস সরঞ্জাম এবং ষ্টেশনারী ১৮,৮৬০ রুপি
৩) অন্যান্য সম্ভাব্য খরচাদি ২৬,১০০ রুপি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.048.110>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

  1. আইটেম: খরচা মাসের জন্য। তিন মাসের খরচা পরিশিষ্ট ৩ ———————————————————————- 1. দৈনিক সংবাদপত্র (বাংলা ও ইংরেজি) Rs 200. Rs. 600 সাপ্তাহিক কাগজপত্র & জার্নাল (ভারতীয় ও বিদেশী). ত্রৈমাসিক ও মাসিক জার্নাল ইত্যাদির সাবস্ক্রিপশন চার্জ 2. প্রচারপত্র মুদ্রণ, প্রোপাগান্ডা জন্য. Rs 200. . Rs 6000 উদ্দেশ্য 3. অন্যান্য সাপেক্ষ ব্যয় Rs 6500. Rs 19500 ________________________________________________ Rs. 26100 পরিশিষ্ট- (সিরিয়াল নম্বর-পোস্টের নাম-নাম্বার-পে-এক মাসের জন্য পে-তিন মাসের জন্য পে-মন্তব্য) ১-সম্পাদক-১ ২-Dy. সম্পাদক-২ ৩-অধীনস্থ সম্পাদক-৩ ৪-প্রচার অধ্যাপক-১ ৫-স্টাফ অফিসার-৪ ৬-শ্রুতিলেখক-৩ ৭-হিসাবরক্ষক-১ ৮-অফিস সহকারী.-৩ ৯-পিয়ন-৪ ১০-অফিসার দের ভ্রমন ভাতা টাকা.2000/ পে Rs .500.00 রুপি Rs 500/00 Rs 500/00 Rs 400/00। ( পে) Rs 350/00 Rs 300/00 Rs 250/00 Rs 300/00 Rs 150/00) – এক মাসের জন্য পে Rs 500/00 Rs 1,000 / 00 Rs 1500/00 RS 400/00 Rs 1,400 / 00। (এক মাসের জন্য) Rs 900/00 Rs 250/00 Rs 900/00 Rs 600/00 Rs 2,000 / 00) তিন মাসের জন্য পে Rs 1,500 / 00 Rs3000/00 . Rs4,500 / 00 Rs1,200 / 00 (পে, তিন পাসের জন্য) Rs4,2 00/00 Rs2,700 / 00 Rs750/00 Rs2,700 / 00 Rs 1.8 00/00) 6,000 / – 28,350 / 00 28.500 / 00

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.048.111>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

১) নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, যুব শিবির

২) চেয়ারম্যান/সচিব

৩) পরিচালক, প্রধান কার্যালয়, যুব শিবির                 স্টাফ অফিসার ১জন প্রশাসন, ১জন অর্থ, ৬জন মাঠকর্মী

৪) পরিচালক, পশ্চিম/দক্ষিণ জোন-১                         (মালদা, পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং কুচবিহার)

(২৪ পরগনা, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদ)

৫) পরিচালক, পশ্চিম/দক্ষিণ জোন-২                         (আসাম-মেঘালয়)

৬) পরিচালক, উওর/দক্ষিণ                                     (ত্রিপুরা)

৭) পরিচালক, পূর্ব/ দক্ষিণ-১                                     (ত্রিপুরা)

৮) পরিচালক, ই/এস-২                                       (প্রধান কার্যালয়,, যুব শিবির পরিচালকের অধীন)

৯) পরিচালক (প্রধান কার্যালয়,) প্রশিক্ষন                       ঐ

১০) পরিচালক (প্রধান কার্যালয়,) সরবরাহ                     ঐ

১১) পরিচালক, ২৪ পরগনা                                        ঐ

১২) পরিচালক, নদীয়া                                          পশ্চিম/দক্ষিণ জোন-২ পরিচালকের অধীন

১৩) পরিচালক, মুর্শিদাবাদ                                       ঐ

১৪) পরিচালক, মালদা                                              ঐ

১৫) পরিচালক, পশ্চিম দিনাজপুর                           পশ্চিম/দক্ষিণ পরিচালকের অধীন

১৬) পরিচালক, কুচবিহার                                           ঐ

১৭) পরিচালক,কেএইচ ও জে হিলস                             ঐ

১৮) পরিচালক, গারো পাহাড়                               উত্তরাঞ্চল পরিচালকের অধীন

১৯) পরিচালক, করিমগঞ্জ                                            ঐ

২০) পরিচালক, আগরতলা                                    পূর্বাঞ্চল-১ ও ২ পরিচালকের অধীন

২১) পরিচালক, সাব্রুম                                           ঐ

 

 

এসডি/- এস.আর. মির্জা, পরিচালক।

প্রধান কার্যালয়,, যুব শিবির

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.048.112>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

একত্রীকৃত বাজেট, যুব ক্যাম্প অধিদপ্তর,সময়কাল ৩ মাস। ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ থেকে রিকারিং (Recurring) A Rs 81300/00 B Rs 8200/00 C Rs 15000/00 D Rs 6000/00 মোট- Rs 184300/00 নট রিকারিং (Not Recurring) E Rs 78000/00 F Rs 22000/00 G Rs 215600/00 H Rs 12510/00 ————————- Rs 3,28,610 / 00 মোট রিকারিং এবং নন রিকারিং খরচ Rs 5.12.910 রুপিতে পাঁচ লাখ বারো হাজার ন’শো দশ ুমাত্র. স্বাঃ / – এস আর মির্জা পরিচালক, H/ Q- s. ইয়ুথ ক্যাম্প

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.049.113>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিবের নিয়োগ পত্র বাংলাদেশ সরকার , কেবিনেট বিভাগ ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

মুজিবনগর

মেমো নং   তারিখঃ. ৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

ক্রম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে , জনাব আব্দুল খালেককে সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হিসেবে কাজ করার জন্য নিযুক্ত করা হল। আদেশটি তাত্ক্ষণিক ভাবে কার্যকর হবে.

উক্ত নিয়োগ জনসেবার স্বার্থে করা হয়েছে.

সৈয়দ তাজউদ্দীন আহমদ,

প্রধানমন্ত্রী.

৪.৯.১৯৭১.

মেমো নং                                                                                               তারিখঃ. ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

প্রতিলিপি (১) জনাব আবদুল খালেক ইন্সপেক্টর জেনারেল, পুলিশ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বরাবর, তথ্য ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি ইন্সপেক্টর জেনারেল হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী সংগঠিত করার দায়িত্ব অব্যাহত রাখবেন.

মেমো নং গ /

প্রতিলিপি: –

সৈয়দ তাজউদ্দীন আহমদ,

প্রধানমন্ত্রী.

৪.৯.১৯৭১.

তারিখঃ. ৬ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

প্রতিলিপি বরাবর: –

১. জনাব আবদুল খালেক ইন্সপেক্টর জেনারেল, পুলিশ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, তথ্য ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

জ্ঞাতার্থে প্রতিলিপি বরাবর : –

২. মাহবুবুল আলম, সচিব, পররাষ্ট্র.

৩. জনাব উ সামাদ, সচিব, প্রতিরক্ষা.

  1. জনাব কে.এ. জামান, সচিব, অর্থ বিভাগ.
  2. জনাব এইচ.টি. ইমাম, সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ.

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.049.114>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

  1. ডঃ টি। হোসেন, সচিব, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ বিভাগ.
  2. জনাব এমদাদ আলী, প্রধান প্রকৌশলী.
  3. জনাব জে.জি. ভৌমিক, ত্রাণ কমিশনার.
  4. জনাব এস.আর. মির্জা, পরিচালক, এইচ.কিউ., ইয়ুথ ক্যাম্প.
  5. জনাব শিলাব্রত বড়ুয়া ও.এস.ডি., আইন ও সংসদ বিষয়ক.
  6. জনাব এস.এ. সামাদ, জোনাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাউথ ইস্ট জোন.
  7. জনাব কে.আর. আহমেদ, জোনাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাউথ ইস্ট জোন.
  8. ডঃ কে.এ. হাসান, জোনাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ইস্ট জোন.
  9. জনাব এস. এইচ. চৌধুরী, জোনাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নর্থ ইস্ট জোন.
  10. জনাব লুৎফর রহমান, জোনাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ইস্ট জোন -১.
  11. জনাব ফয়েজ ঊদ্দিন আহমেদ, জোনাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নর্থ জোনের.
  12. জনাব এ. কাশেম, জোনাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ওয়েস্ট জোন.
  13. জনাব শামসুল হক, জোনাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা, দক্ষিণ পশ্চিম জোন.
  14. জনাব এ. মোমিন, জোনাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাউথ জোন.
  15. জনাব কাজী লুৎফুল হক, রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সচিব.
  16. ডঃ ফারুক আজিজ, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব.
  17. জনাব সাদাত হোসেন, অর্থমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব.
  18. জনাব কামাল সিদ্দিকী, পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব.
  19. জনাব বি.বি. বিশ্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব.
  20. সংস্থাপন শাখা, জি.এ. বিভাগ

(এইচ.টি. ইমাম)

সচিব,

সাধারণ প্রশাসন বিভাগ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.050.115>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশাবলী বাংলাদেশ সরকার , অর্থ মন্ত্রনালয় ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তারিখঃ ৪/০৯/১৯৭১

 

আদেশ

 

অতঃপর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, সর্বনিম্ন ২০ রুপির সকল সর্বশেষ প্রাপ্ত ভাউচারের উপর রাজস্ব স্ট্যাম্প সংযুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত মূল্যের তালিকা নিম্নে লিখিত হইল

 

রাজস্ব স্ট্যাম্প

১ লেনদেন রুপি ২০/- থেকে ৪৯.৯৯                                                                   রুপি ০.৫০

২ লেনদেন রুপি ৫০/- থেকে ৯৯.৯৯                                                                   রুপি ১.০০

৩ লেনদেন রুপি ১০০/- এবং এর উপর                                                               রুপি ১.০০

প্রত্যেক ১০০ রুপির জন্য এবং উহার ভগ্নাংশ।

 

সংযুক্ত রাজস্ব স্ট্যাম্পের দায়িত্ব থাকবে গ্রহণকারীর উপর, এবং সেইই সকল খরচের দায়ভার বহন করবে।।

 

যখন রাজস্ব স্ট্যাম্প সরকার দ্বারা সরবরাহ করা হবে তখন এই রাজস্ব পরিশোধ কর্মকর্তা দ্বারা নগদ টাকায় নিতে হবে যে কিনা এই লেনদেনের বিষয়গুলো অনুমোদন করবে তার সাক্ষরের মাধ্যমে।

 

সেই সাথে পরিশোধ কর্মকর্তার দায়িত্ব হবে সংযুক্ত স্ট্যাম্প থেকে সংগ্রহীত আয়ের হিসাব রক্ষণ করা। প্রত্যেক মাসের শেষে সে অর্থ সম্পাদককে অবহিত করে এই সকল প্রাপ্ত অর্থ বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে জমা দিবে। এই আদেশ বাস্তবায়িত হবে আজ ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ দিনের শুরু থেকে। সম্পাদক, অর্থ মন্ত্রণালয় দয়া করে বৈদেশিক কর্মকর্তাসহ সকল দায়িত্ববান কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে অবহিত করবে, এবং সকল অনিয়ম এড়ানো নিশ্চিত করবে।

 

এসডি/-এম. মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.051.116>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
দেশবাশির প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের ভাষন বাংলাদেশ সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কাযার্‍লয় ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের ভাষণ

 

প্রিয় দেশবাসী এবং আমার সহকর্মীগন, শেষবার যখন আমি আপনাদের সামনে এসেছিলাম তারপর থেকে অনেক কিছুই ঘটে গেছে এই পৃথিবীতে। বাংলাদেশের জনগন যারা একটা প্রাণঘাতী যুদ্ধে জড়িয়ে আছে পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে তাদের জন্য একটা অসামান্য অর্জন হল এই যে সামরিক জান্তার পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থিত ক্ষমতার ঘাটি টালামাটাল করে দেওয়া এবং বাংলাদেশে তাদের কিছু নিরাপত্তা ক্ষেত্রের উপর থেকে নিয়ন্ত্রন হারানো। আমাদের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের অস্বীকৃতি, ভূমি ও সমুদ্রে আমাদের গেরিলাদের চমকপ্রদ দক্ষতা প্রদর্শন, দিনে দিনে বৃদ্ধি পাওয়া শক্তি এবং প্রতিরোধ করার ক্ষমতার প্রবলতা হানাদারদের পরাজয়ের দিন খুব নিকটে নিয়ে আসছে। আমি গুরুত্ব আরোপ করতে চাই ধৈর্য ও সংযমের শক্তির উপর – দুইটা জিনিজ আমাদের এমুহূর্তে বর্তমান অবস্থায় খুব বেশি প্রয়োজনীয়, আর তা হল পুরোপুরি ভাবে শত্রু নির্মূল করা এবং যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দেশের পুনঃগঠন করা। পৃথিবীতে ক্ষমতার ভারসাম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যাচ্ছে। তার প্রমান পাওয়া যায় ইন্দো- সোভিয়েত চুক্তির মাধ্যমে শত্রুদের যে চেষ্টা ছিল তা সফল না হওয়ার মাধ্যমে। বাঙালিরা নিঃসন্দেহে তাদের শক্তির উপর নির্ভর করে যা তারা তাদের অবিস্মরণীয় সংগ্রামের দিনগুলোতে আবিষ্কার করেছে, আর সেখানে আত্মতৃপ্তি আছে কারন এটা এসেছে জনগনের সমর্থন থেকে যেখানে একসময় শুধুই সাবধানতা ছিল। কিছু সরকার তাদের অনৈতিক কাজগুলো অব্যাহত রেখেছে, যদিও জনগণ আমাদের সাথে তাদের দ্ব্যর্থহীন একাত্মতা প্রকাশ করেছে। আমরা শুধু আশা করতে পারি তাদের কাজকর্মের ফাঁকফোকর গুলো শীঘ্রই পরিসমাপ্ত হবে। নিঃসন্দেহে যে পাকিস্তানী আর্মির নীতিমালাই হল পুর্ব পাকিস্তানীদের ধ্বংস ডেকে আনা তারা এদের ত্রান সরবরাহ করবে তা বিশ্বাস করার মত মানুষ কেউ ই নাই পৃথিবীতে। একইসাথে জাতিসংঘও পর্যন্ত বাঙ্গালীদের জন্য অন্য জাতির পাঠানো ত্রানকে খোদ পাকিস্তান সরকারের মাধ্যমেই দখলকৃত এলাকাসমূহে পানিপথে বিতরনকে সঠিক বলে মনে করছে, যেটা আসলে তাদেরই হেলিকপ্টার, জাহাজ আর যানবাহনে করে নেওয়া হবে যা আসলে আরো বেশি দমন পীড়নের পথ সুগম করে দেবে। জাতিসংঘের পীড়িতদের সাহায্যের জন্য গঠিত ত্রাণ বিতরন দলের কাছে ত্রানসামগ্রীর সাথে যোগাযোগের জন্য উন্নততর যন্ত্র থাকবে যা আদতে সন্দেহাতীতভাবেই পাকিস্তানী সৈন্যদলকেই সাহায্য করবে বেশি। এইসমস্ত কার্যক্রম আসলে এই মানবিক মিশনকেই গভীরভাবে বিপদগ্রস্ত করছে। জাতিসংঘের মহাসচিব যদি এই অঞ্চলে জাতিসংঘের সম্মান রক্ষা করতে সত্যিই আগ্রহী হয় তাহলে অবিলম্বে বাংলাদেশে এই প্রহসনের ত্রান কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিক। আমাদের শত্রু স্পষ্টতই বর্বর তা ই নয় বরং তারা ছলনাপূর্ন এবং ছদ্মবেশী। আমাদের জনগনের যে মূল দাবী পূর্ন স্বাধীনতা তা থেকে দিকভ্রান্ত করতে তারা সময়ে সময়ে আপোষের ফর্মূলা উপস্থাপন করেছে যা আসলে কপটতাপূর্ণ। যদি আমাদের শত্রুরা আপোষ চায় তারমানে তারা দূর্বল হয়ে পড়েছে অথবা তারা আমাদের জন্য পরাজয় বরণের ফাঁদ পাতছে। জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের অধিবেশনের শেষ দিকে এসে সামরিক জান্তা তাদের আশ্রয় হিসাবে বাংলাদেশে প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দেওয়ার কথা বলে যা আসলে এড়ানোরই কৌশল। জেনারেল ইয়াহিয়ার বদলে তার ঘৃনিত দালাল জনবিচ্ছিন্ন টিক্কা খানকে অসামরিকভাবে জাতিসংঘে উপস্থাপন মূলত ছিল বাঙ্গালীদের নিন্দিত করার পাশাপাশি সেই এড়ানোর কৌশলমাত্রই যার উদ্দেশ্য আসলে বাংলাদেশে চলা সামরিক শাসন, গনহত্যা আর দমন পীড়নকে লুকনো।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.051.117>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শত্রুরা একটি আপোষ করতে চায় কারণ হয় তারা দুর্বল অথবা তারা আমাদের জন্য একটি ফাঁদ পেতেছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের সতর্ক থাকা উচিৎ। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সামরিক জান্তা বাংলাদেশের বেসামরিক লোকদের ভাল করতে চায় এই দেখিয়ে একটি প্রতারণা পূর্ণ কৌশল করে। জেনারেল ইয়াহিয়ার স্থলে ঘৃণিত টিক্কা খানকে আনা, বাঙ্গালীদের দুর্নাম করা, জাতিসংঘে পাকিস্তান কে তুলে ধরা এসব কিছুই ছিল সেই একই প্রতারণাপূর্ণ কৌশলের অংশ যার দ্বারা সামরিক আইনের নির্মম সত্য, গণহত্যা এবং বাংলাদেশী জনগণের ইচ্ছাকে লুকানো হচ্ছিল। জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের কিছু সদস্যকে পদচ্যুত করে ইয়াহিয়া কাকে খুশি করতে চাচ্ছিল? অথচ অন্য সদস্যরা যথাস্থানে বহাল ছিল। অথচ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতার উৎস জনগন এবং তারা অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখলকারী দের অধীন নয় এবং নিজস্ব সমর্থক তৈরীর কৌশলের অধীনও নয়। এম এন এ এবং এম পি এ রা তাদের গত জুলাই এর আলোচনায় তাদের শপথ পূণরাবৃত্তি করে যে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত কষ্ট সহ্য করবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত করবে না। তাদের সহায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হলেও তারা শপথ থেকে বিচ্যুত হবেনা। বিশ্বের একটি অংশ বাঙ্গালীদের উপর চালানো গণহত্যা, সামরিক আদালতের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর উপর চালানো গোপন বিচার ও কারারোধ, এটর্নি দের মনোভাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। বঙ্গবন্ধুর ট্রায়াল নিয়ে কথা বলতে গেলে বিশ্বকে আমি মনে করিয়ে দিতে চাই যে তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি ৭ কোটি মানুষের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যে মানুষরা তাকে ভালোবাসে এবং ক্ষমতায় দেখতে চায়। বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নে এতদিন সব সরকারই অন্তরায় ছিল। এই পর্যন্ত একটি নিষ্ঠুর চক্রের দৃষ্টিহীন দাম্ভিকতা এর উপর সামান্যই প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু আমি জনগণকে আস্বস্ত করতে চাই যে লোক দেখানো বিচারের মাধ্যমে যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করছে তারাও শাস্তির সম্মুখীন হবে। এর মাঝে আমি ইসলামাবাদের সকল প্রভাবশালী জায়গায় শেখ মুজিবের নিরাপদ মুক্তির ব্যাপারে আবেদন করেছি। সম্প্রতি বাংলাদেশি কূটনৈতিক দ্বারা পাকিস্তান হতে বাংলাদেশে ক্ষমতা হস্তান্তের একটি বিরাট পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দেখা গেছে যে স্বীকৃতি পাওয়া মুক্তিযুদ্ধের একটি দ্রুততম এবং বিজয়ী উপসংহার। বাংলাদেশের জনগণ যারা দখলদারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল যারা অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্ট সহ্য করেছে তারা অন্ততপক্ষে যারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এর কথা যারা বলে তাদের কাছে এরচে ভাল কিছু প্রাপ্য। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের সাথে বন্যা নতুন করে আরেকটি দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.051.118>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

দুঃখের জল, যা আমাদের বিস্তীর্ণ অঞ্চল গ্রাস করেছে, শোষণের বিদ্রূপকারী নীতি যা বাংলাদেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ জন্য প্রদান অবহেলিত একটি অভিযোগ আছে. এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের সমস্যা কেবল বাঙালিদের নিজেদের ভাগ্য ভার গ্রহণ করে সমাধান করা যেতে পারে. পরিমাপের হিউম্যান মান স্কেল এবং আজ বাঙালির অন্তর্বেদনা গভীরতা আগে ভাঙ্গিয়া, কিন্তু আমি বাংলা আত্মার স্থিতিস্থাপকতা বিশ্বাস করে, এবং নিশ্চিত যে এটা ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও যুদ্ধের উপর বিজয় লাভ হবে মনে. পরিশেষে, আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যার সাহস, আত্নত্যাগ, এবং কৃতিত্বের অস্ত্র সকল ক্ষমতার গর্ব এবং একটি মহান ভবিষ্যতের জন্য আশা নিয়ে জাতি পূরণ করুন. বাংলাদেশের জনগণ বর্তমান সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাদের সংহতি সুসংহত করেছে. এই সংহতি শক্তি তাদের স্থায়ী উৎস হউক

 

 

 

জয় বাংলা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.052.119>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশের পত্রিকা প্রকাশনা সম্পর্কে একটি সরকারি চিঠি বাংলাদেশ সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

 

মেমো নংঃ এইচডি/৪৪/৩                                                                                          সেপ্টেম্বর ৬, ১৯৭১

 

প্রেরকঃ                 এম.কে চৌধুরী

সহকারী সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

 

প্রাপকঃ                জনাব খাজা আহমেদ, এমপিএ

প্রযত্নে উপ-আঞ্চলিক প্রশাসক, বেলোনিয়া জোন

 

‘আমার দেশ’ নামের একটি সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা প্রকাশ করার অনুমতি চেয়ে আপনার করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আপনাকে জানানো যাচ্ছে, সরকার এখনো এটির অনুমতি দেয়া বা এর কার্যপ্রণালী কি হবে, সেটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়নি। এগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, আপাতত উক্ত পত্রিকাটি আপনাকে প্রদত্ত ঠিকানা থেকে প্রকাশ করার অনুমতি দেয়া হলো।

 

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপারে জানিয়ে দেয়া হবে। প্রকাশনার একটি করে কপি আপনি মন্ত্রণালয়ে (প্রেস ও প্রকাশনা বিভাগ) এবং সার্কাস এভিনিউ, কলকাতাতে অবস্থিত অতিরিক্ত প্রকাশনা বিভাগে নিয়মিত পাঠাবেন। এটির আরো একটি কপি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠাতে হবে।

 

 

(এম.কে চৌধুরী)

 

চিঠির অনুলিপি’র প্রাপকঃ

১) অতিরিক্ত প্রকাশনা বিভাগ, ৯ সার্কাস এভিনিউ, কলকাতা।

২) সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

(এম.কে চৌধুরী)

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.053.120>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
প্রধানমন্ত্রী কতৃক সচিব নিয়োগ বাংলাদেশ সরকার, সাধারন প্রশাসন বিভাগ ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

গনপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার-

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর

 

মেমো নং                                                                                                              ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

আদেশ

 

পরবর্তি নির্দেশনার আগ পর্যন্ত জনাব নুরুদ্দিনকে গন প্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকারের কৃষি অধিদপ্তরের সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হলো। নিয়োগটি জনস্বার্থ বিবেচনায় রেখে করা হলো। নির্দেশনাটি অবিলম্বে বলবৎ হইবে।

স্বাক্ষর- তাজুদ্দিন আহমেদ

প্রধানমন্ত্রী

 

মেমো নং ——                                                                                                     ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

প্রদত্ত কপি: জনাব নুরুদ্দিন আহমেদের কার্য প্রয়োজনে ও জ্ঞাতার্থে- তিনি মাসিক Rs 500 (পাঁচশত রুপি) বেতন প্রাপ্ত হবেন।

 

স্বাক্ষর – তাজুদ্দিন আহমেদ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.054.121>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
প্রচার ও প্রপাগান্ডা সমন্বয় সম্পর্কে প্রতিরক্ষা সচিবের একটি নির্দেশনা বাংলাদেশ সরকার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

 

 

হতে-                                                 প্রতিরক্ষা সচিব,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

প্রতি-

১। জনাব এ.মান্নান এমএনএ

২। জনাব তাহের উদ্দিন ঠাকুর এমএনএ (বহিঃ প্রকাশনা বিভাগের ইনচার্জ)

৩। জনাব এম আর আখতার -পরিচালক তথ্য ও প্রকাশনা

৪। জনাব কামরুল হাসান- পরিচালক শিল্প ও চিত্রকলা বিভাগ

৫। জনাব আঃ জব্বার- পরিচালক চলচ্চিত্র বিভাগ

বিষয়ঃ প্রচার এবং প্রোপাগান্ডা সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকার

১। প্রচার এবং প্রোপাগান্ডার ব্যাপারে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া উচিত।

যাতে করে যুদ্ধের সামগ্রিক কর্মকান্ডকে সহযোগিতা করা যায়।

২। নিম্নলিখিত নির্দেশিকা গুলো মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হলঃ

(ক) মুক্তিবাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি করা।

(খ) জনগনের মনোবল বৃদ্ধি করা।

(গ) শত্রু শিবিরের মনোবল হ্রাস করা।

(ঘ) পশ্চিম পাকিস্তানের জনগনের মনোবল হ্রাস করা সেই সাথে তাদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি করা।

(ঙ) বেতার এবং সংবাদে শত্রু শিবিরের প্রোপাগান্ডার ব্যাপারে পালটা প্রতিবাদ করা।

(চ) শত্রু শিবিরের প্রোপাগান্ডার ব্যাপারে পালটা ব্যবস্থা নেয়া।

(ছ) বাংলাদেশের সত্যিকারের অবস্থা বহির্বিশ্বে জানানো।

৩। পরবর্তি নির্দেশনা পরবর্তিতে জানানো হবে।

প্রতিরক্ষা সচিব,সেপ্টেম্বর ৭১

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.055.122>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সুত্র তারিখ
অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের কর্মসুচি বাংলাদেশ সরকার, মন্ত্রীসভা পরিষদ ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

 

মন্ত্রিপরিষদের পরবর্তি সভা অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ বিকেল ৫:৩০ (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড সময়)। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির অফিসে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।

সভার সময়সূচী                                                     মাধ্যম                                                        বাস্তবায়নে

বিষয়

১। পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রানালয়ের সচিব।       পররাষ্ট্র /প্রতিরক্ষা মন্ত্রানালয়                         সচিব

২। সদ্য বিদেশ ফেরত প্রতিনিধিদলের প্রধানদের প্রতিবেদন         স্বরাষ্ট্র মন্ত্রানালয়।                      সচিব

৩। মুক্তিবাহিনীর কল্যানের মহাপরিচালকের অধিদপ্তর

৪। বিবিধ

এইচ.টি ঈমাম

মন্ত্রিপরিষদ সচিব

৭/০৯/১৯৭১

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.056.123>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সুত্র তারিখ
বাংলাদেশের পাঁচটি রাজনৈতিক দল সমন্বয়ে ৮ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠন সংক্রান্ত তথ্য-৯ সেপ্টেম্বর . . এশিয়ান রেকর্ডার অক্টোবর ১-৭, ১৯৭১ . . ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ . .

 

 

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ পর্ষদ গঠিত হয়েছে: স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনা করার জন্য ৯ সেপ্টেম্বর পাঁচটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছিলো একটি গণতান্ত্রিক পর্ষদ। মুক্তিবাহিনীকে দিকনির্দেশনা প্রদান করতে এবং বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ দান করতে পরামর্শক হিসেবে আট সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয়েছে। দল সমূহের নেতৃবর্গের দুই-দিনের সভা শেষে ঘোষণা করা হয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধ-পর্ষদ, সে সভাটি পরিচালিত হয়েছিলো প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ কর্তৃক। যে সকল দল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ-পর্ষদ গঠিত হয়েছিলো, সে দল সমূহ ছিলো:- আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী গ্রুপ), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর গ্রুপ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস। বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র জানান, যে কমিটির গঠনটি অবশ্যই নিশ্চিত করবে “বাংলাদেশের ঔপনিবেশিক এবং সাম্রাজ্যবাদী শোষকদের” বিনাশে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করে সকল সম্প্রদায়ের জনগনের মধ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদানের। এতে আরো যোগকরা হয় যে:- “কমিটির গঠনের দ্বারা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, আওয়ামীলীগ এবং শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আস্থাবান মুক্তিকামী জনসাধারণের মধ্যে একতার প্রতিফলন ঘটানো। সভায় বাংলাদেশ সরকারকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য ভারত সহ বিশ্বের সকল দেশের প্রতি আহবান জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়াও সভায় যুদ্ধোপকরণাদি আকারে অস্ত্রশস্ত্র প্রদান করে মুক্তিবাহিনী ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি “সক্রিয় সহযোগিতা” প্রদান করতে তাদের প্রতি আকুল-আবেদনও জানানো হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.057.124>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সুত্র তারিখ
মুক্তাঙ্গনে সরকারী কর্মচারিদের কাজে লাগানো সম্পর্কিত নির্দেশ বাংলাদেশ সরকার, অর্থ মন্ত্রণালয় ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থমন্ত্রণালয় . .

স্মারক নং..                                                                                               …………..সেপ্টেম্বর ৯, ১৯৭১ . .

প্রেরক:-    এম. কে. চৌধুরী

উপ-সম্পাদক

প্রাপক:-    জনাব আবুল কাশেম খান

আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা

পশ্চিম অঞ্চল।

বিষয়:- তেঁতুলিয়ার বর্তমান চাকুরীরত কর্মচারীগণ এবং উদ্ধারকৃত অঞ্চল সমূহ কাজে লাগানো।

 

মহকুমা কর্মকর্তা (উন্নয়ন) তেঁতুলিয়া এর অধীনে চাকুরীরত কর্মচারীদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে। প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত কর্মকর্তা তেঁতুলিয়া অঞ্চলে তার কর্মচারীগণের সাথে কাজ করে আসছেন। তিনি দাবী করেছেন যে আলোচ্য এলাকাটি একটি মুক্তাঞ্চল। আরো জানা যায় যে, তিনি আওতাভুক্ত আঞ্চলিক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তার পরিকল্পনা বা নির্দেশনা ব্যতীতই কাজ করে আসছেন। . গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জি.এ. বিভাগ মুক্তাঞ্চল গুলোর প্রশাসনিক নীতিমালা প্রণয়ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন, যা হবে সকল মুক্তাঞ্চল সমূহের জন্য একটি মান সম্পন্ন প্রশাসনিক নীতিমালা। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ব্যবসা-বানিজ্য, অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক শর্তসাপেক্ষে অনুমোদিত রৌমারীর প্রশাসনিক নীতিমালাটি। জি.এ. বিভাগ কর্তৃক এইসব প্রতিষ্ঠান একত্রীকরণ করা হচ্ছে। যাতে করে সকল মুক্তাঞ্চলের জন্য একটি মানসম্পন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান প্রবর্তন করা যায়। . অত্ররূপ প্রস্তাবনা এবং অনুমোদন সমূহের চুড়ান্তকরণ অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে বিধায় তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাদি গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে, যাতে করে তেঁতুলিয়ার মহকুমা কর্মকর্তা (উন্নয়ন), তেঁতুলিয়ার আওতাভুক্ত আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তার নির্দেশে এবং প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় তাদের দাবীকৃত মুক্তাঞ্চলগুলোতে মহকুমা কর্মকর্তা(উন্নয়ন) তার কার্যাবলী সম্পন্ন করতে পারেন। খাজনা, স্থলশুল্ক ইত্যাদি সংগ্রহের জন্য তিনি তাহার কর্মচারীদেরকেও ব্যবহার করতে পারবেন। এই বিষয়ে আমরা উল্লেখ করতে পারি যে, ভারতে রপ্তানি হিসেবে বাংলাদেশে উৎপাদিত অন্যান্য পণ্যসমূহ এবং পাটের উপর অবশ্যই কর-সমূহ ধার্য করতে হবে। পাট এবং তামাকে মণ প্রতি ২/= রূপী রপ্তানি কর আরোপ করতে হবে। অন্যান্য সকল পণ্যের উপর কর সমূহ আরোপণ তদানীন্তন পূর্ব-পাকিস্তানের অনুসৃত বিধিবিধান অনুযায়ী হবে। অন্যান্য সকল প্রকারের কর সমূহের বেলায়ও একইরূপ মূল্যাদি এবং কর ধার্যকরন নীতিসমূহ অনুসরন করতে হবে। . বিষয়টি অতীব জরুরী বিষয় হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে এবং তদ্বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাদি গ্রহন করা হয়েছে মর্মে অত্র দপ্তরকে জানানো যেতে পারে। .

 

(এম.কে.চৌধুরী)

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.058.125>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সুত্র তারিখ
ভারতে জহির রায়হান পরিচালিত একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালক জনাব ফজলুল হক–এর চিঠি

বাংলাদেশ সরকার

রাষ্ট্রপতির দফতর

১০ সেপ্টেম্বর ১৯৭১

 

জয় বাংলা                                                                                                            বাংলাদেশ সরকার

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ।

 

নথি নং পিএস/এসইসি/III/১১০, তারিখ ১০ ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

বরাবর,

প্রধানমন্ত্রী,

বাংলাদেশ সরকার.

 

বিষয়: জনাব ফজলুল হক এর পত্র, জনাব জহির রায়হান প্রযোজিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী সংক্রান্ত.

 

অনুগ্রহ করে জনাব ফজলুল হক বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক এর পত্র গ্রহণ করবেন। ব্যাখ্যামূলক পত্রটি। জনাব ফজলুল হক কর্তৃক আরোপিত অভিযোগ সমূহে আপনি দৃষ্টিপাত করবেন এবং বিষয় যাচাই করে আমাদের স্বদেশের জন্য কল্যাণকামী সিদ্ধান্ত নিতে আমি আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি। এই প্রেক্ষিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক যথাসময়ে আমার সমীপে পাঠাতে অনুরোধ করা হলো।

 

(সৈয়দ নজরুল ইসলাম)

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি.

 

সংযুক্তি: পত্রের অনুলিপি (১টি)

………………………………………………………..

জনাব,

একটি গুরুতর ব্যাপারের অবতারণা করছি, আমার বিশ্বাস এটি জাতীয় ক্ষেত্রেও অতীব গুরুত্বপূর্ণ, জনাব জহির রায়হান পরিচালিত একটি প্রামাণ্যচিত্র যা আজ একটি বেসরকারি প্রেক্ষাগৃহের প্রদর্শনীতে দেখেছি সে প্রসঙ্গ আপনার সম্মানে পেশ করছি। . এই প্রামাণ্যচিত্রটির অর্থায়ন করেছে পূর্বভারতীয় চলচিত্র সংস্থা এবং প্রযোজিত করেছে স্বাধীনবাংলা বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী পরিষদের সাহায্য সমন্বয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলাকুশলী সমিতি। এই প্রামাণ্যচিত্রটি ভারত সরকারের কাছে বিক্রি করা হবে ভারতের আভ্যন্তরীণ ও অন্যান্য বহিঃদেশ সমূহে প্রদর্শনীর জন্য। . তথ্যচিত্রটির প্রারাম্ভে ভ. ই. লেনিনের ছবি ও বাণীর সাথে ভারতে শরণার্থী আর আমাদের মুক্তিবাহিনীর ট্রেনিং ক্যাম্পের সামান্য অংশ দেখানো ছাড়া আর কিছু নেই। কিন্তু আমার মতে গুরুতর বিপত্তির বিষয় হচ্ছে যে, এতে একটিও বাণী বা ছবির উল্লেখ নেই আমাদের .

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.058.126>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

প্রাণপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বা আওয়ামী লীগ এর কিংবা, ছয় দফার। . আমার বিশ্বাস যে যদি এই ছবিটি ভারতে বা বিদেশে দেখানো হয়, দর্শকদের বিশ্বাস জন্মাবে যে আমাদের স্বাধীনতা অন্য কিছুর নির্দেশ দ্বারা পরিচালিত এবং ৬দফায় নয় যা আমরা বিশ্বাস করি। . এই চলচ্চিত্রটি যদি কোনো ভারতীয় পরিচালক দ্বারা প্রযোজিত হতো আমরা আমাদের মতামত দিতাম না, কিন্তু যখন এটা বাংলাদেশের পরিচালক দ্বারা তৈরি তখন আর আমাদের চুপকরে বসে থাকার সুযোগ নেই। . আমি ব্যক্তিগতভাবে , এই চলচ্চিত্রটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি এবং আমি অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে আপনার মাধ্যমে অনুরোধ করছি ভারত সরকারের দ্বারা সাধারণ জনগণের কাছে যাতে এই চলচ্চিত্র প্রদর্শনী থামানো হয়। . যদি তা না করা হয় , আমি একাই, একটি আন্দোলন শুরু করার জন্য প্রস্তুত আছি। . গভীরতম শুভেচ্ছা জানিয়ে,

 

স্বাঃ / ফজলুল হক

বাংলাদেশ এর চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালক .

C/o, মি. বিনয় রয় , ১১৪/এ , পার্ক স্ট্রীট,

কলকাতা ১৭ . .

 

রাষ্ট্রপতি ,

বাংলাদেশ সরকার

মুজিবনগর

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.059.127>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সুত্র তারিখ
মৎস্য চাষের প্রয়োজনে ইজারা সংক্রান্ত একটি চিঠি বাংলাদেশ সরকার অর্থ মন্ত্রণালয় ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

অর্থ মন্ত্রণালয়

 

নথি নং. এইচ. ডি./৫১(১), ১১সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ .

 

প্রেরক:     এম কে চৌধুরী,

উপ-সচিব.

 

বরাবর:    সচিব,

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়,

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে সরকার . .

 

এতদ্বারা প্রেরিত একটি চুক্তিপত্র দয়া করে গ্রহণ করবেন, যা বাংলাদেশ সরকার এবং জনাব নিজাম উদ্দিন আহমেদ, পিতা: হাজী মোবারক হোসেন এবং জনাব আফসার আলী বিশ্বাস, পিতা: হাজী গুলজার হোসেন, গ্রাম: গোদাগাড়ী, পি এস: গোদাগাড়ী, জেলা: রাজশাহী, বর্তমানে অস্থায়ী বসবাস গ্রাম: লালগোলা, পিএস: লালগোলা, জেলা: মুরশিদাবাদ, প.বঙ্গ। চুক্তিটি একটি নির্ঝঞ্ঝাট সাক্ষ্য। ২। সংশ্লিষ্ট সেক্টর কমান্ডার কে চুক্তিপত্রের বিষয়ে অবগত করার অনুরোধ করা হচ্ছে, যাতে চুক্তিতে উল্লেখিত ইজারাদার চুক্তির উল্লেখিত সময় নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে পারেন। . ৩। এই সেক্টর কমান্ডার/কমান্ডার্সদের প্রতি পাঠানো প্রস্তুতকৃত চিঠির একটি প্রতিলিপি স্বারক এবং সংরক্ষণের জন্য আমাদের কাছে রাখা যেতে পারে। . সংযুক্তি: (১) একটি চুক্তিপত্র. . (২) চুক্তিতে উল্লেখিত মৎস্য খামারের স্কেচ মানচিত্র .

(এম কে চৌধুরী) .

******************************

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

মুজিবনগর

 

ইহা একটি চুক্তিপত্র যাহা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

এবং

এম নিজামউদ্দিন আহমেদ, পিতা: হাজী মোবারক হোসেন, জনাব আফসার আলী বিশ্বাস, পিতা: হাজী গুলজার হোসেন, গ্রাম: গোদাগাড়ী, পি.এস: গোদাগাড়ী, জেলা: রাজশাহী, বর্তমান সাময়িক নিবাস গ্রাম: লালগোলা, পিএস: লালগোলা, জেলা: মুরশিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, এই চুক্তির মধ্যে যথাক্রমে প্রথম পক্ষ ও দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.059.128>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

যেহেতু ২য় পক্ষ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার কর্তৃক সত্যায়িত সংযুক্ত মানচিত্রভুক্ত মৎস খামারটি যথাযথভাবে উল্লিখিত নামে যথাযথভাবে ইজারা নিতে সম্মত, এবং যেহেতু ২য় পক্ষ আপসের মাধ্যমে উল্লেখিত একই মৎস্য খামার ইজারা দিতে ইচ্ছুক, দুই পক্ষের মতৈক্যের দ্বারা এই দলিল নিম্নলিখিত শর্তে স্বাক্ষরিত হয়। .

 

(১) ২য় পক্ষ যথাযথভাবে সত্যায়িত সংযোজনী উল্লিখিত এলাকা ব্যতীত অন্যান্য এলাকায় মৎস্য অধিকার থাকবে না। .

 

(২) ২য় পক্ষ নগদ ১,০০০/০০ (রুপীতে এক হাজার) রুপী শুধুমাত্র ১ম পক্ষকে পরিশোধ করবে এই দলিল স্বাক্ষরের সময়। অবশিষ্ট ১,০০০/০০(রুপীতে এক হাজার) এই দলিল স্বাক্ষরের এক মাসের মধ্যে ১ম পক্ষকে ২য় পক্ষ দ্বারা প্রদান করতে হবে। .

 

(৩) যদি কোন কারণে ১ম পক্ষ ২য় পক্ষকে অবশিষ্ট বকেয়া ১,০০০/০০ (রুপীতে এক হাজার) রুপী এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, ১ম পক্ষ অন্য যে কোন পক্ষের সাথে একটা উপযুক্ত চুক্তি করে মৎস্য খামার ইজারা দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে। .

 

(৪) উভয় পক্ষের দ্বারা স্বাক্ষরিত চুক্তির এই দলিল স্বাক্ষরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য বহাল থাকবে।

 

(৫) ২য় পক্ষের মৎস্য খামার ইজারা নেবার কারণে কোনো ক্ষতি বা অন্যকোন কারণ সৃষ্ট ক্ষতির জন্য ১ম পক্ষ দায়ী নয়। . এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় আজ ১০সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ সন, মুজিবনগর। . .

 

স্বাঃ/                                                                                                                   স্বাঃ/-

কে. এ. জামান অর্থসচিব,                                                                                 নিজামউদ্দিন আহমেদ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার . .

সাক্ষীগণঃ- ১ম সাক্ষীর স্বাক্ষরঃ এম.কে. চৌধুরী, ডি.এস. (স্বরাষ্ট্র) .                                                ২য় সাক্ষীর স্বাক্ষরঃ

২. বি. গুপ্ত. গোপনীয় সহকারী, মৎস্য সচিব।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.060.129>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সচিব নিয়োগ

বাংলাদেশ সরকার,

সাধারন প্রশাসন বিভাগ

১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

সাধারণ প্রশাসন বিভাগ

মুজিবনগর

স্মারকলিপি…………,১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

আদেশ

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন ডেপুটি সেক্রেটারি জনাব আনোয়ারুল হক খানকে যথাযথ উপাধি নির্ধারিত হওয়া পর্যন্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অধীনে সরকারের সেক্রেটারি পদমর্যাদার বিশেষ দায়িত্বে কর্ম সম্পাদনের জন্য নিযুক্ত করা হল। পরবর্তী আদেশদান পর্যন্ত তার সেবা অর্থ বিভাগের নিয়ন্ত্রণে ন্যস্ত করা হলো।

জনসেবার স্বার্থে উক্ত নিয়োগদান করা হলো।

উক্ত আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

স্বাক্ষর-তাজউদ্দীন আহমেদ

প্রধানমন্ত্রী

১৩.৯.১৯৭১

স্মারকলিপি নং.সাপ্র/…………,১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

অনুলিপি

১. জনাব আনোয়ারুল হক খান।

২. জনাব এম. আলম, পররাষ্ট্র সচিব।

৩. জনাব এ. সামাদ, প্রতিরক্ষা সচিব।

৪. জনাব কে. এ. জামান, অর্থ সচিব।

৫. জনাব এইচ. টি. ইমাম, মন্ত্রীপরিষদ সচিব।

৬. ড. টি. হোসাইন, স্বাস্থ্য সচিব।

৭. জনাব এমদাদ আলী, প্রধান প্রকৌশলী।

৮. জনাব জে. জি. ভৌমিক, ত্রাণ কমিশনার।

৯. জনাব এড. আর. মির্জা, পরিচালক, ইয়ুথ ক্যাম্প (আই-আই/কিউ)।

১০. জনাব শিলাব্রত বড়ুয়া, ও. এস. ডি./আইন ও সংসদ বিষয়ক।

১১. কাজী লুৎফুল হক, ব্যক্তিগত সচিব হতে রাষ্ট্রপতি।

১২. ড. ফারুক হোসাইন, ব্যক্তিগত সচিব হতে প্রধানমন্ত্রী।

১৩. জনাব সাদাৎ হোসাইন, ব্যক্তিগত সচিব হতে অর্থমন্ত্রী।

১৪. জনাব কামাল সিদ্দিক, ব্যক্তিগত সচিব হতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

১৫. জনাব বি. বি. বিশ্বাস,ব্যক্তিগত সচিব হতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

১৬. সাধারণ প্রশাসন বিভাগের স্থাপনা শাখা।

 

ইহা উক্ত বিভাগের স্মারকলিপি নং. সাপ্র/১২৬৫ তাং ৭.৯.৭১ এর অধীনে পূর্ববর্তী সরকারের আদেশ ইস্যু হতে পরিবর্তিত।

(এইচ.টি.ইমাম)

সচিব (সা. প্র. বিভাগ)

 

 

 

 

 

<003.061.130>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
রাজস্ব আদায় সম্পর্কে অর্থ সচিবের একটি মেমো

বাংলাদেশ সরকার

অর্থ মন্ত্রণালয়

১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

অর্থ, ব্যবসা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

স্মারকলিপি নং……………, তারিখ ১৩.৯.৭১

 

নিম্নস্বাক্ষরিত ইচ্ছাগুলো যে রাজস্ব আদায় পরিকল্পনা সঠিকভাবে ও তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়িত করতে হবে। উক্ত উদ্দেশ্যে নিম্নলিখিত কর্মকর্তাগণকে তাদের নামের বিপরীতে উল্লেখিত বিভিন্ন জোনে নিয়োজিত করা হলো।

তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ধার্য রাজস্ব আদায় পরিকল্পনার সাধারণ নির্দেশাবলী এবং খাজনা ও শুল্কের হারের অনুলিপি ইহার সাথে সংযুক্ত করা হলো।

 

কর্মকর্তাদের নাম।                                                                 কর্মক্ষেত্র

১. জনাব মো. মতিউর রহমান,                                      কোচবিহার, তুরা এবং দেভকি জোনের অধীনে সমগ্র বিমুক্ত এলাকা।

স্টাফ অফিসার,

অর্থ বিভাগ।

২. জনাব সামসুদ্দিন হায়দার,                                        বারাসাত, কৃষ্ণনগর, এবং বালুরঘাট জোনের অধীনে সমগ্র বিমুক্ত এলাকা।

করারোপণ কর্মকর্তা,

অর্থ বিভাগ।

৩. জনাব মো. ইদ্রিস আলী,                                          সাবরাম,ধর্মনগর, এবং আগরতলা জোনের অধীনে সমগ্র বিমুক্ত এলাকা।

স্টাফ অফিসার,

ব্যবসা-বাণিজ্য।

(কে. এ. জামান

সচিব

অর্থবিভাগ

স্মারকলিপি নং. ব্যব/২/৭১/১৮৩ (৭) তারিখ ১৩.৯.৭১

 

অনুলিপি প্রাপক: – (১) সচিব, সাধারণ প্রশাসন বিভাগ।

(২) অর্থসচিব হতে অর্থমন্ত্রী।

(৩) জনাব মো. মতিউর রহমান, স্টাফ অফিসার, অর্থ।

(৪) জনাব সামসুদ্দিন হায়দার, করারোপণ কর্মকর্তা, অর্থ।

(৫) জনাব মো. ইদ্রিস আলী, স্টাফ অফিসার, ব্যবসা-বাণিজ্য।

(৬) কোষাগার কর্মকর্তা, অর্থ।

(৭) জোনাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

– তথ্য এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য।

 

(কে. এ. জামান)

সচিব

অর্থবিভাগ

 

 

 

 

 

 

 

<003.062.131>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কতৃক পূর্বাঞ্চল লিবারেশন জোনের প্রধানকে অর্থ বিষয়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ

বাংলাদেশ সরকার

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়

১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

স্মারকলিপি নং ৬৩৯ তারিখ ১১.৯.৭১

জনাব জহুর আহমেদ চৌধুরী,এমপিএ,

চেয়ারম্যান,

স্বাধীনতা পরিষদ, পূর্বাঞ্চলীয় জোন

অভ্যর্থনা এবং অধিষ্ঠিত শিবিরের বিষয়াদি এবং আর্থিক ব্যয় তদারক করার জন্য অনুগ্রহ করে ৫ থেকে ৭ সদস্যের পরিষদ নিযুক্ত করুন। পরিচালকগণের আর্থিক বিষয়ে কোনো দায়িত্ব থাকবে না। রদবদল করা পর্যন্ত উক্ত উপ-পরিষদের এখতিয়ার জোন ১,২,৩ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। প্রত্যেক জোন থেকে অন্তত একজন সদস্য থাকবে। পরিষদের একজন চেয়ারম্যান থাকবে। এটি অবিলম্বে করা হবে।

 

স্বাক্ষর- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩.৯.৭১

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.063.132>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
অর্থঃসচিব সভার সিদ্ধান্তের অংশবিশেষ বাংলাদেশ সরকার, কেবিনেট ডিভিশন ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

তারিখ ১৪/৯/৭১

পি.ইউ.ডি ২৩’শে আগস্ট, ১৯৭১ এ অনুষ্ঠিত সচিবদের মিটিং এর লিখিতি নথি জমা দিয়েছে।

 

(ক) মিটিং এ গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি বিভাগকে তাদের সাপ্তাহিক কাজের প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে শনিবারের মধ্যে জমা দিতে হবে। আগামি শনিবার থেকে সচিবের পরামর্শে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

 

(খ) উল্লেখিত মিটিং প্রতি সোমবার সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রীর কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

 

আন্ডার সেক্রেটারি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.064.133>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
বাংলাদেশ ডিফেন্স লীগের মুখপত্রবাংলাদেশ নিউজ লেটার প্রকাশনারপ্রাক্কালেপ্রেরিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীরশুভেচ্ছাবানী

বাংলাদেশ সরকার

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

জয় বাংলা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

মুজিবনগর

সেপ্টেম্বর ১৪, ১৯৭১

 

বাংলাদেশের জনগন আজ স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং মানবিক মূল্যবোধের জন্য লড়াই করছে। তারা লড়াই করছে নির্দয় শত্রুর সাথে যারা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত, এক সামরিক জান্তার সাথে যাদের কোন অধিকার নেই তাদের ভাগ্য নির্ধারণের এবং একদল শোষকের সাথে যারা কিনা বাংলাদেশে রক্তপাত ঘটিয়েছে। বাংলার মাটিতে যখন এ সংগ্রাম চলছে, বিদেশে থাকা তার সন্তানরা তখন জনমত গঠন করে এবং তহবিল গঠন করার মাধ্যমে স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশগ্রহন করছে।

 

আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধের শুরু থেকে, বাংলাদেশ ডিফেন্স লীগ যুক্তরাষ্ট্রে প্রশংসনীয় কাজ করে যাচ্ছে। এর একাংশ, “দ্যা বাংলাদেশ নিউজ লেটার”, বিদেশে থাকা আমাদের বন্ধু এবং স্বদেশবাসীর জন্য তথ্যের এক বিশ্বস্ত উৎস। আমি লীগের সদস্যদের এই বলে আশ্বস্ত করতে চাই যে, মুক্তিযোদ্ধারা আপনাদের কাজের বাপক প্রশংসা করেছেন।

 

সকল কাজের জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।

 

(তাজউদ্দীন আহমদ)

প্রধানমন্ত্রী,

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.065.134>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

       শিরোনাম                সূত্র            তারিখ

মুক্তিবাহিনীর প্রচার সম্পর্কে প্রতিরক্ষা

সচিবের একটি চিঠি

বাংলাদেশ সরকার

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রানালয়

১৬/৯/৭১

আমি মনে করি যুদ্ধরত মুক্তি বাহিনীর ছবি বা পূর্ব পাকিস্তানের বন্দি সেনাদের ছবি সংবলিত ছোট পুস্তিকা/প্রচারপত্র ইত্যাদি বাংলাদেশে অবস্থিত মানুষের উদ্যম এবং আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বৃদ্ধি করবে। প্রেস এবং প্রচার বিভাগকে সবিনিয়ে অনুরোধ করবো এমন উপকরণ তৈরির লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। এমন প্রচারপত্র যদি এর মধ্যে তৈরি হয়ে থাকে, তবে তার অনুলিপি যেন আমাদের দেওয়া হয়।

 

জনাব এ. মান্নান, এম.এন.এ                                                                                                   (এ.সামাদ),

২১/এ, বালু হাক্কাক লেন,                                                                                                        নিরাপত্তা সচিব

পার্ক সার্কাস, ক্যাল-১৭.

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.066.135>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
প্রধানমন্ত্রী কতৃক চারটি নতুন প্রশাসনিক জোন প্রতিষ্ঠার নির্দেশ

বাংলাদেশ সরকার

সাধারন প্রশাসন বিভাগ

১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

প্রধানমন্ত্রীর সচিব

মুজিবনগর

 

অর্ডার

আঞ্চলিক পরিষদের কাজের সুষম সুবিধার্থে, অর্ডারটি নীত হয়েছে, জি. ও. নং গ/৮১০ (৩৪৫), তাং ২৭.৭.৭১, আংশিক পরিমার্জিত। পশ্চিম অঞ্চল এবং দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চল ভেঙে দিয়ে হেড কোয়ার্টার এবং আইনগত অধিকার সহ আরো দুইটি প্রশাসনিক অঞ্চল স্থাপন করা হবে যেমনটা নিচে উল্লেখিত :-

১. পশ্চিম অঞ্চল – ১                                   হেড কো. বালুরঘাট                                       (ক) দিনাজপুর
(খ) বগুড়া
২. পশ্চিম অঞ্চল – ২                                                         হেড কো. মাইদ আঃ                                               (ক) রাজশাহী
৩. দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল – ১                                                 হেড কো. কৃষ্ণনগর                                                 (ক) পাবনা

(খ) কুষ্টিয়া
৩. দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল – ২                                                 হেড কো. বনগাঁ                                                       (ক) যশোর

(খ) ফরিদপুর

এই অর্ডার অনতিবিলম্বে কার্যকরভাবে বলবৎ হতে হবে।

স্বাক্ষর/- তাজউদ্দীন আহমেদ

প্রধানমন্ত্রী

স্মারকলিপি নং. গ/১৩৬৬ (৫০০),                                                               তাং ১৮ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১

ডিস্ট্রিবিউশন : –

১. এম.এন.এ এবং এম.পি.এ (সকল):

২. বাংলাদেশ মিশন প্রধান, কলকাতা।

৩. সচিব (সকল):

৪. পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল:

৫. ত্রাণ কমিশনার:

৬. বিশেষ দায়িত্ব, আইন এবং সংসদীয় কার্যক্রমের অফিসার:

৭. আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সকল):

৮. প্রধান প্রকৌশলী:

৯. ব্যক্তিগত সচিব (সকল):

১০. এ.ডি.সি হতে কমন্ডার-ইন-চার্জ

 

(কে. আহমেদ)

ডেপুটি সচিব

প্রধান প্রশাসনিক বিভাগ

 

 

<003.067.136>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
জোন প্রশাসনের অর্থ ব্যবস্থা সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রনালয় এর একটি চিঠি

বাংলাদেশ সরকার

অর্থ মন্ত্রনালয়

১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থ মন্ত্রণালয়

 

মেমো নং… ……………১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

প্রেরক :    এম কে চৌধুরী

উপসচিব

অর্থ মন্ত্রণালয়

 

প্রাপক:     সকল আঞ্চলিক প্রশাসন অফিসার

 

মেমো নং Fin/2/71/183/(7) তাং:১৩/৯/৭১

 

এর প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।উক্ত মেমোতে উল্লেখিত অফিসার দের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে নিয়োজিত করা হয়েছে যা নিম্নে তাদের নামের বিপরীতে উল্লিখিত।

 

অফিসারদের নাম                                                                 অপারেশন অঞ্চল

১.জনাম মো: মতিউর রহমান                                                    অর্থ বিভাগ কুচবিহার এর অন্তর্গত

স্টাফ অফিসার                                                                   সকল স্বাধীন এলাকা,তুরা এবং ডওকি জোন

 

২.জনাব সামসুদ্দিন হায়দার,কর অফিসার,                                      অর্থ বিভাগ বারাসাত এর অন্তর্গত

সকল স্বাধীন এলাকা,কৃষ্ণনগর এবং বালুরঘাট জোন।

৩.জনাব মো ইদ্রিস আলী,স্টাফ অফিসার, ব্যবসা এবং বাণিজ্য                 সাব্রাম অন্তর্গত সকল স্বাধীন এলাকা,

ধর্মনগর এবং আগরতলা জোন।

 

যেহেতু সাধারণ প্রশাসন বিভাগ স্বাধীন অঞ্চল গুলোর প্রশাসন এর জন্য আদর্শ গঠন চূড়ান্ত করেনি,কর এবং কর সংগ্রহ সম্পর্কিত আনুষ্ঠানিক নিয়মকানুন তাই সরবরাহ করা যাচ্ছেনা।বাংলাদেশ হতে ভারতে রপ্তানিকৃত পাটসহ সকল পণ্যের জন্য কর সংগ্রহ করা হবে।পাট এবং তামাক এর প্রতি মণ এর জন্য রপ্তানি কর ২ রুপি। পাঠের মূল্য এবং তার উপর কর এর অনুপাত বিবেচনায়,মাছের মত পচনশীল পণ্যের জন্য প্রতি মণ মাছ এর উপর কর হবে ৬ রুপি।অন্য সকল পণ্যের জন্য সাবেক পূর্ব পাকিস্তান এর অনুরূপ কর ধার্জ হবে।

 

আরও দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে যে,স্বাধীন এলাকাসমূহে বিদ্যমান সায়রাত মহলগুলো যেমন মাছের ঘের,হাট,বাজার ইত্যাদি সম্ভব হলে নিলামের মাধ্যমে লিজ দেয়া হবে অথবা মধ্যস্থতার মাধ্যমে বোঝাপড়া করা হবে,যদি নিলাম সম্ভবপর না হয়।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ হতে লিজ এর আনুষ্ঠানিক চুক্তির একটি করে কপি অর্থসচিব কে প্রেরণ করা হবে যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রাপ্ত হন এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম হন।এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ্য,গোদাগারী, পশ্চিম অঞ্চলের স্বাধীন এলাকাজুড়ে মৎস্য ঘের যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা জনিত কারণে ইতিমধ্যে লিজ দেয়া হয়েছে এখানে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সদরদপ্তর হতে ।

 

 

 

 

 

 

 

<003.068.137>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

এটি সুনির্দিষ্টভাবে পশ্চিম অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রশাসন অফিসার এর জ্ঞাতার্থে প্রেরিত। যদি এই অঞ্চলের মৎস্য ঘের হতে নিলামে মৎস্য রপ্তানি করা হয়,তবে উপরে উল্লেখিত হারে যথাবিহিত মাশুল পরিশোধ করতে হবে।

 

(এম. কে. চৌধুরী)

মেমো নং… ………… সেপ্টেম্বর ১৮,১৯৭১

 

কপি প্রেরণ করা হয়েছে-

১.সচিব, সাধারণ প্রশাসন বিভাগ,অনুরোধ করা হচ্ছে যে,আমাদের

মেমো নং অর্থ/১৪/৭১/১৭২/১/(৫) তাং-৯/৯/৭১ অনুসারে অতিসত্বর

প্রশাসনিক কাঠামো চূড়ান্তকরণে যেন আন্তরিক পদক্ষেপ নেয়া হয়।

২.সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জ্ঞাতার্থে

৩.সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

৪.আই জি,পুলিশ

৫.পি এস,অর্থ মন্ত্রণালয়

৬.ট্রেজারি অফিসার,অর্থ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.068.138>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
জনগনের প্রতি সরকারের নির্দেশাবলী বাংলাদেশ সরকার, প্রচার বিভাগ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক বিশেষ পর্যায়ে এসে গেছি আমরা। কার্যতঃ ভারতও আমাদের পরিপূর্ণ স্বীকৃতি দিয়ে ফেলেছে ৪ঠা ডিসেম্বরের এক বেতার প্রচারের মাধ্যমে। আকাশবাণী থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের অত্যাধিক বাড়াবাড়ি পরিপ্রেক্ষিতে ভারত যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে; তবে তার কাজ হবে বাংলাদেশে বাঙালীদের উপর গত ৮ মাস ধরে অকথ্য নির্যাতনকারী নরপশু পাক-বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করানো, তথা বাংলাদেশের সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়া-ভারতের নিজস্ব স্বার্থে লরাই চালিয়ে যাওয়া নয়।

এ এক বিরাট সংবাদ। বুঝতে হবে আমাদের বিজয়ের সর্বশেষ পর্যায় এটাই। আর সেই জন্যেই এতদিনের সংগ্রামী বাঞালীকে এবারে যেতে হবে আরও কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে। বিশ্বমানবতার শত্রু সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা একদিকে এ ক’মাস ধরে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে সাহায্য করে এসেছে বর্বর ইয়াহিয়ার জঙ্গীশাহীকে এবং নেহায়েত দায়ে পড়া ভাবে ভারতে আশ্রিত এক কোটি মানুষের জন্য পাঠিয়েছে নামমাত্র সাহায্যদ্রব্য, কিন্তু একবারও বাংলার মানুষ আজ কেন বিদেশে শরণার্থী হ’ল?- এ বিষয়টি প্রতিয়াক্রে এগিয়ে আসেনি! আর যখন আমরা আমাদের চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করতে চলেছি, আমেরিকা এসেছে শান্তির বুলি নিয়ে। নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন করেছে অবিলম্বে যেন পাক-ভারত যুদ্ধ বন্ধ হইয়ে যায়। আমাদের প্রশ্ন, এটা কি আদৌ পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ? এ যুদ্ধ স্বাধীনতাকামী বাঙালীদের বিরুদ্ধে অত্যাচারী উপনিবেশবাদী পাকিস্তানের। কাজেই ভারতের এ থেকে সড়ে দাঁড়ানোর কোনই মানে হয় না। অবশ্য আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন আমেরিকার এ ধৃষ্টতাকে নাকচ করে দিয়েছে জাতিসংঘের দরবারে। মুনাফেক মার্কিনী দস্যু, যার হাত ভিয়েতনামী মা ও শিশুদের তাজা রক্তে ভেজা, সে চায় আজ নিরপত্তা পরিষদের মধ্যাস্থতা।

দেশবাসীগণ, আপনারা এ চক্রান্তের কখনও বিভ্রান্ত হবেন না। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী চক্রের তাঁবেদার ও পাঞ্জাবী ধনিকদের অস্ত্রধারী-পেয়াদা ইয়াহিয়ার জমজ আইয়ুবের সময়ে পাকিস্তান থেকে আরও একবার হামলা হয়েছিল শান্তিপ্রিয় ভারতের উপর; এবং দেশে জারী হয়েছিলো জরুরী আইন, দেশরক্ষা বিধি প্রভৃতি কালাকানুন- সবই জনসাধারণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্যে। এবারও ইসলামের নামে সেই পুরানো ধুয়া তোলা হচ্ছে। এসব অপ্রচার থেকে সদা সতর্ক থাকুন। এ ছাড়াও রয়েছে তথাকথিত সমাজবাদী গণ-চীন। যখন গ্রাম বাংলার পথেঘাটে লক্ষ লক্ষ নিরীহ জনতা অসহায় শিকার হয়েছে পাক-দস্যুদের অত্যাচারের, তখন চীন বলেছে এটা নিতান্ত পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সম্প্রতি সে আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের বিরুদ্ধেও প্রচারণা শুরু করেছে। কিন্তু আমরা ভুলে যাইনি ১৯৬২ সালের চীনই আকস্মিকভাবে আক্রমণ করেছিল ভারতকে; এবং মাত্র গত বছরও সে সোভিয়েত ইউনিয়নের সীমান্তে শুরু করেছিল ধ্বংসাত্মক অভিযান। অতএব চীন সম্পর্কেও সাবধান থাকুন; বস্তুতঃ সে আমেরিকারই দোসর।

জনগণের প্রতি নির্দেশাবলীঃ

১। গুজবের কান দেবেন না; গুজব রটনাকারীকে ধরিয়ে দিন।

২। মুক্তিযুদ্ধের পরিকল্পনার কথা গোপন রাখুন।

৩। পাক-বাহিনীর গতিবিধির খবর মুক্তিবাহিনীকে জানিয়ে দিন।

৪। শত্রুর সরবরাহ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে দিন।

৫। বিমান আক্রমণের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন।

৬। মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বতোভাবে সাহায্য করুন।

-মনে রাখবেন, শত্রুর প্রতিটি বুলেট আপনার পয়সার কেনা। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে ব্যয়িত আপনার প্রতিটি পয়সা স্বাধীনতাকে এগয়ে নিয়ে আসছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

বাংলাদেশ গণসাধারণতন্ত্র সরকারের আঞ্চলিক প্রচার দফতর কর্তক প্রকাশিত ও প্রচারিত

 

 

 

<003.069.139>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের বাজেট সম্পর্কে মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্তের অংশ

বাংলাদেশ সরকার

কেবিনেট ডিভিশন

২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

গোপনীয়

২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীপরিষদের সভার কার্যবিবরণির উল্লেখযোগ্য অংশ

*                                              *                                              *                                              *

আলোচ্য সূচি নং: ০৬… প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট

*                                              *                                              *                                              *

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট নিয়ে আলোচনার সময়,
আমাদের যুদ্ধরত সশস্ত্র বাহিনী ও যুব শিবিরের শিক্ষানবিসদের শীতবস্ত্রের তীব্র সঙ্কটের ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচিত হয়েছে। মন্ত্রীপরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, যুদ্ধরত সশস্ত্র বাহিনী ও যুবশিবিরের শিক্ষানবিসদের প্রয়োজন মোতাবেক কম্বলসহ শীত বস্ত্র সংগ্রহের একটি চাহিদা পত্র তৈরি করবেন প্রতিরক্ষা সচিব।

এসডি/

ভারপ্রা্প্ত প্রেসিডেন্ট

মেমোনং……                                                                       তারিখ: ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

প্রতি, সচিব, প্রতিরক্ষা                                                             (এইচ. টি. ইমাম)

মন্ত্রীপরিষদ সচিব

২৭.০৯.১৯৭১

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.070.140>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

শিরোণাম সূত্র তারিখ

স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ বিভাগের সচিবের বিভিন্ন এলাকা সফর শেষে প্রদত্ত রিপোর্ট

 

বাংলাদেশ সরকার

স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ বিভাগ

 

২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

 

 

মুজিবনগর

২০.০৯.১৯৭১

৮ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখে ড. টিহোসাইন, সচিব, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ বিভাগ-এর সাম্প্রতিক সফরের প্রতিবেদন

৮. ৯. ১৯৭১ : ভোর ৫টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দমদম বিমন বন্দরে অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল

৯. ৯. ১৯৭১ : আগরতলা পৌঁছানো

সেক্টর ২ সদর দপ্তরে মেলাঘর হাসপাতাল পরিদর্শন

১০. ৯. ১৯৭১ : উদয়পুরের কাছে যুবশিবিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সঙ্গ দেওয়া।

ত্রিপুরার মুখ্য মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতকার

১১. ৯. ১৯৭১ : সেক্টর ৩ সদর দপ্তর মান তলায় গমণ। সেক্টর ১ সদর দপ্তর হরিয়ানায় গমণ। সেখানেই রাত্রিযাপন।

১২. ৯. ১৯৭১ : বেলোনিয়া ও রিশি মুখে গমণ।রাত১টায়আগরতলঅফিরেআসা।

১৩. ৯. ১৯৭১ : আগরতলায় স্থানীয় কতৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাত। আগরতলা হাসপাতাল পরিদর্শন।

১৪. ৯. ১৯৭১ : করিমগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা ও পৌঁছানো

১৫. ৯. ১৯৭১ : বেরাপুঞ্জিতে সদর দপ্তর পরিদর্শনের চেষ্টা করা, কিন্তু পাক বাহিনীর তীব্র গোলাবর্ষনের কারণে পারা যায়নি। মুকিতলসাব-সেক্টরেগমণ। করিমগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগী পরিদর্শন ও মুক্তিবাহিনী হাসপাতাল পরিদর্শন।

১৬. ৯. ১৯৭১ : শিলচর প্রস্তুতকরা যুবশিবির ও মাশিমপুর সামরিক হাসপাতাল সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া। সেক্টর কমাণ্ডার কর্ণেল দত্তের সঙ্গে সমস্যা নিয়ে আলোচনা।

১৭. ৯. ১৯৭১ : শিলং পৌঁছানো। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনা

১৮. ৯. ১৯৭১ : বালাতে গমণএবং গৌহাটিতে ফেরা

১৯. ৯. ১৯৭১ : সদর দপ্তরে ফেরা

বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবেদন সংযুক্ত আছে।

(ড. টিহোসাইন)

সচিব

স্বাস্থ্যওজনকল্যাণবিভাগ

অনুলিপি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সি-ইন-সি, জেনারেল অ্যাফেয়ার্স, মন্ত্রীপরিষদ ও প্রতিরক্ষাসচিব।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<003.070.141>

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ তৃতীয় খন্ড

 

আশু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

১. চোট পাওয়া রোগীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা।

 

নিম্নলিখিত এলাকাগুলোতে অনতিবিলম্বে অ্যাম্বুলেনেসর ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে:

ক. সেক্টর নং ০১ : হরিয়ানা, শ্রীনগর, রিশিমুখ ও বেলোনিয়ায় একটি করে, মোট : ০৪টি

খ. সেক্টর নং ০২ : রাজগঞ্জ, নিদায়া, সালদানন্দি ও মন্দাভাগে একটি করেল, মোট : ০৪টি

গ. সেক্টর নং ০৩ : সদর দপ্তর-সিমনায় একটি অথবা ছেবরিতে নতুন জায়গায় একটি, মোট : অন্তত ২টি

ঘ. সেক্টর নং ০৪ : কামালপুর, কৈলাশ শহর, ধর্মনগর, বড়পুঞ্জি, মুকতিল, জালালপুর এবং করিমগঞ্জে একটি করে মোট: ০৭টি। (কিছু পরিবহন) মশিমপুরে সেক্টর কমান্ডারদের কাছে হস্তান্তরের জন্য তৈরি। সেসব দ্রুত সারিয়ে ৪ নং সেক্টরের কমান্ডারের কাছে হস্তান্তরের জন্য বলা হলো

ঙ. সেক্টর নং ০৫: শিলং, বালাত, ডাওকি, শিলা ও বাসারায় একটি করে মোট: ০৫টি

চ. সেক্টর নং ০৬ : (আগে পরিদর্শন করা হয়েছে) পাটগ্রাম, তেঁতুলিয়া ও সাহেবগঞ্জে একটি করে মোট: ০৩টি

 

২. ঔষধ

দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, আমার সবশেষ পরিদর্শনর পর সদর দপ্তর থেকে ঔষধ প্রেরণ ছয় সপ্তাহ বিলম্বিত হয়েছে এবং ঔষধের চরম সঙ্কটের কারণে সব জায়গাতেই দুভোর্গ পোহাতে হয়েছে। আমার প্রচেষ্টার ফলেই বিভিন্ন সূত্র থেকে উপহার হিসেবে ঔষধ সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে এবং প্রায় ৬০ হাজার রূপী মূল্যের ঔষধ সংগ্রহ করেছি আমি। সেসব এখন বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও ১ লাখ রূপীর বেশি মূল্যের ঔষধ দ্রুত কিনে তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো প্রয়োজন। আমি নানা জায়গায় চেষ্টা করেছি কিন্তু বেশির ভাগ দাতারা নানান ছুতোয় ফাঁকি দিয়েছে।

সবচেয়ে বাজে ব্যাপার, বাংলাদেশ রেড ক্রসের মতো আমাদেরই কিছু সংগঠন আমাদের সহযোগিতা করছে না, অথচ মুক্তিবাহিনীর নামে ঠিকই ঔষধ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

 

আমি প্রবলভাবে মনে করি, আমাদের সব এজেন্সর উচিত প্রাপ্য সব উপহার সমবন্টনের জন্য সদর দপ্তরে পাঠানো উচিত।

জরুরী প্রয়োজনীয় ঔষধ স্থানীয় ভাবে কেনার জন্য অনতিবিলম্বে প্রতিটি সেক্টর কমান্ডারকে অন্তত এক হাজার রূপি করে দেওয়া উচিত। আগরতলা, করিমগঞ্জ ও শিলংয়ে আশু প্রয়োজন মেটানোর জন্য ৫ হাজার রূপীর বেশি মূল্যের