বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র – ৪র্থ খণ্ড (অনুবাদসহ)

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র – ৪র্থ খণ্ড (অনুবাদসহ)

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ

দলিলপত্র : চতুর্থ খণ্ড

মুজিবনগর: প্রবাসী বাঙালিদের তৎপরতা

 

 

অ্যাটেনশন!

পরবর্তী পেজগুলোতে যাওয়ার আগে কিছু কথা জেনে রাখুনঃ

ডকুমেন্টটি যতদূর সম্ভব ইন্টার‌্যাক্টিভ করা চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ এই ডকুমেন্টের ভেতরেই অসংখ্য ইন্টারনাল লিংক দেয়া হয়েছে। আপনি সেখানে ক্লিক করে করে উইকিপিডিয়ার মতো এই ডকুমেন্টের বিভিন্ন স্থানে সহজেই পরিভ্রমণ করতে পারবেন। যেমন প্রতি পৃষ্ঠার নিচে নীল বর্ণে সূচিপত্র লেখা শব্দটিতে কি – বোর্ডের Ctrl চেপে ধরে ক্লিক করলে আপনি সরাসরি এই ডকুমেন্টের সূচিপত্রে চলে যেতে পারবেন।

তারপর দলিল প্রসঙ্গঃ মুজিবনগর: প্রবাসী বাঙালিদের তৎপরতা শিরোনামে কিছু লেখা আছে। এটি যুদ্ধদলিলের ৪র্থ খণ্ড থেকে সরাসরি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এখানে আপনারা জানতে পারবেন যে এই ডকুমেন্টে আসলে কী কী আছে।

তারপর সূচিপত্র এখান থেকেই মূল দলিল শুরু। সূচিপত্রটি সরাসরি দলিলপত্র থেকে নেয়া হয়েছে। সূচিপত্রে লেখা পেজ নাম্বারগুলো যুদ্ধদলিলের মূল সংকলনটির পেজ নাম্বারগুলোকে রিপ্রেজেন্ট করে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ:দলিলপত্রে মোট ১৫ টি খণ্ড আছেঃ

প্রথম খন্ড : পটভূমি (১৯০৫-১৯৫৮)
দ্বিতীয় খন্ড : পটভূমি (১৯৫৮-১৯৭১)
তৃতীয় খন্ড : মুজিবনগর : প্রশাসন
চতুর্থ খন্ড : মুজিবনগর : প্রবাসী বাঙালিদের তৎপরতা
পঞ্চম খন্ড : মুজিবনগর : বেতারমাধ্যম
ষষ্ঠ খন্ড : মুজিবনগর : গণমাধ্যম
সপ্তম খন্ড : পাকিস্তানী দলিলপত্র: সরকারী ও বেসরকারী
অষ্টম খন্ড : গণহত্যা, শরনার্থী শিবির ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা
নবম খন্ড : সশস্ত্র সংগ্রাম (১)
দশম খন্ড : সশস্ত্র সংগ্রাম (২)
একাদশ খন্ড : সশস্ত্র সংগ্রাম (৩)
দ্বাদশ খন্ড : বিদেশী প্রতিক্রিয়া : ভারত
ত্রয়োদশ খন্ড : বিদেশী প্রতিক্রিয়া : জাতিসংঘ ও বিভিন্ন রাষ্ট্র
চতুর্দশ খন্ড : বিশ্বজনমত
পঞ্চদশ খন্ড : সাক্ষাৎকার

এটি অর্থ খণ্ডের অর্থাৎ মুজিবনগরঃ প্রবাসী বাঙালিদের তৎপরতা সংক্রান্ত দলিলের ইউনিকোড ভার্শন। এই খণ্ডে প্রায় ১৫০ পৃষ্ঠা বাংলা দলিলের পাশাপাশি ৫৫০ পৃষ্ঠা ইংরেজি দলিলও রয়েছে। আপনাদের জন্য আমরা সেগুলো অনুবাদ করে দিয়েছি।

৯) এই ডকুমেন্টে প্রতিটি দলিলের শুরুতে একটা কোড দেয়া আছে।

<খণ্ড নম্বর, দলিল নম্বর, পেজ নম্বর>

অর্থাৎ <৪,৬,১১> এর অর্থ আলোচ্য দলিলটি মূল সংকলনের ৪র্থ খণ্ডের ৬ নং দলিল, যা ১১ নং পৃষ্ঠায় মুদ্রিত আছে। দলিল নম্বর বলতে সূচিপত্রে উল্লিখিত নম্বরকে বুঝানো হচ্ছে। আপনারা বুঝার সুবিধার্থে দলিলের হার্ড কপির একটি ছবি দেখে নিন। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের সমর্থনে ও স্বীকৃতির দাবিতে সারা বৃটেনে সভা ও শোভাযাত্রার আহ্বান সংক্রান্ত দলিলের পৃষ্ঠার ঊর্দ্ধাংশঃ

দলিলে বানান সহ বেশ কিছু ভুল আমরা খুঁজে পেয়েছি। সেগুলোকে হলুদ মার্ক করা হয়েছে।

তারপরও কোন ভুল চোখে পড়লে সাথে সাথে আমাদের জানাবেন।

মনে করুন, ২৬ শে মার্চ উপলক্ষে আপনি কোন ম্যাগাজিনে একটি লেখা দিবেন। এই ফাইলে তখন ২৬ শে মার্চ লিখে সার্চ দিলেই ৪র্থ খণ্ডের সেই সংক্রান্ত সকল দলিল পেয়ে যাবেন। ফলে রেফারেন্স নিয়ে লিখতে আপনার খুবই সুবিধা হবে। কারণ আমাদের মূল উদ্দেশ্য একটাই। আমরা যেন সঠিক ইতিহাস চর্চা করে বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্ম হয়ে উঠি। এটা আমাদের নিজেদের জন্যেই অত্যন্ত প্রয়োজন। যে জাতি নিজের জন্মের ইতিহাস জানে না, সে জাতির চেয়ে দুর্বল সত্ত্বা পৃথিবীতে আর কিছু নেই।

মনে করুন, আপনি নিজের এলাকা নিয়ে জানতে চান। তবে নিজের এলাকার নাম লিখে এই ডকুমেন্টে সার্চ করুন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি মিরপুর এলাকার হলে Ctrl+F চেপে “মিরপুর” লিখে সার্চ করুন। ৪র্থ খণ্ডের মিরপুর নিয়ে সকল দলিল আপনার সামনে চলে আসবে। দেশকে জানার প্রথম শর্তই হলো নিজের এলাকাকে জানা।

আপনি চাইলে নিজের সুবিধামতো ডকুমেন্টটিকে সহজেই কয়েক ভাগে কপি করে ভাগ করে আলাদা আলাদা ডকুমেন্ট তৈরি করতে পারেন। মনে করুন, আপনি স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে জানতে আগ্রহী। তখন ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ লিখে সার্চ করে প্রাপ্ত সকল দলিলে স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত অংশ কপি করে আলাদা ফাইল তৈরি করুন। পড়তে, বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতে অনেক সুবিধা হবে।

 

মনোযোগ দিয়ে সারসংক্ষেপটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এবার বিস্তারিত।

 

 

 

 

 

 

দলিল প্রসঙ্গঃ মুজিবনগর: প্রবাসী বাঙালিদের তৎপরতা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাঙালিরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সফল করার উদ্দেশ্যে মুজিবনগরে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের অধীনে যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, সে-সম্পর্কিত দলিলপত্র এই খণ্ডে সন্নিবেশিত হয়েছে। ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (পৃষ্ঠা ২-৩) এবং ইস্ট পাকিস্তান লীগ অফ আমেরিকা (পৃঃ ২৩০-২৩২) সহ বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে প্রবাসী বাঙালীরা বিশেষ করে বৃটেনে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতার লক্ষ্যে আগে থেকেই তৎপরতা চালাচ্ছিলেন; ১৯৭১সনের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগরে বাংলাদেশের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তারা সরকারের নেতৃত্বে এই আন্দোলনকে পরচালিত করেন।

বৃটেনে প্রবাসী বাঙালীদের দ্বারা গঠিত ‘এ্যাকশন কমিটি ফর দ্য পিপলস্‌ অব বাংলাদেশ’ স্বাধীনতা সংগ্রামকে সহায়তার উদ্দেশ্যে বিভিন্নমুখী তৎপরতা চালিয়েছিলেন। বৃটেনের বিভিন্ন শহরে মিছিল ও গণসমাবেশ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের সপক্ষে জনমত গঠনের পদক্ষেপ নেয়া হয়। লন্ডনের এমনই একটি সমাবেশ বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর ভাষণ এখানে সন্নিবেশ করা হয়েছে (পৃঃ ৬১৩-৬১৭)। বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধানদের প্রতি (পৃঃ ৪৩-৪৫, ১৭৩-১৭৪,), বৃটেনের পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতি (পৃঃ ১৮-২২), বৃটিশ কনজারভেটিভ (পৃঃ ৩৫-৩৯) ও লিবারেল (পৃ ৬৬০-৬৬১) দলসমূহের প্রতি এবং মার্কিন সিনেটর (পৃঃ ১৬-১৭) ও কংগ্রেস সদস্যদের প্রতি (পৃঃ ২৪৭-২৪৮) চিঠি ও আবেদন প্রেরণের মাধ্যমে এ্যাকশন কমিটি বাংলাদেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি পাশ্চাত্য- নেতৃবৃন্দের সমর্থন লাভের পদক্ষেপ নিয়েছিলো। পাকিস্তানে বন্দী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমানের বিচারের বিরুদ্ধেও তারা আন্দোলন করেছিলেন (পৃঃ ১০-১২, ৯০, ৯৬)। বৃটিশ এবং ওলন্দাজ পারলামেন্ট সদস্য ও মার্কিন সিনেটরদের ভারত সফরের ব্যবস্থা করে এ্যাকশন কমিটি স্বাধীনতা আন্দোলনকে পৃথিবীর কাছে পরিচিত করানোর প্রচেষ্ট নিয়েছিলো।

মাঝে মাঝে বুলেটিন, পত্রিকা ও পুস্তিকা প্রকাশের মাধ্যমেও এ্যাকশন কমিটি বৃটেনসহ পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সপক্ষে জনমত গঠনের প্রচেষ্টা নিয়েছে (পৃঃ ৬১-৬৪, ৮২-৮৫,২০০-২০৪, ২১৩-২২০)। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও আন্দোলনকে জোরদার করা হয় (পৃঃ ৬৪৪-৬৪৯)। এছাড়া প্রবাসী বাঙালীদের নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গঠনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই লক্ষ্যে বৃটেনে গঠিত ‘বাংলাদেশ গণসংস্কৃতি সংসদের’ পক্ষে ডঃ এনামুল হক কর্তৃক বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর কাছে পেশকৃত স্মারকলিপিটি এ খন্ডে মুদ্রিত হয়েছে (পৃঃ ৬৫৪-৬৫৭)।

বৃটেনে বাঙ্গালী ছাত্র সমাজের তৎপরতা ছিল উল্লেখযোগ্য। এ্যাকশন কমিটির সঙ্গে একযোগে বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদও পত্রিকা প্রকাশ, সমাবেশ ও সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গেছে (পৃঃ ১৭৬-১৮৪)। বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের স্কটল্যান্ড ও বৃটেনের জনগণ, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ ও সেগুলোর উপার্যগণের প্রতি প্রচারপত্র ও আবেদন প্রেরণের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামকে জোরদার করেছিলো (পৃঃ ১৩-১৫, ২৩-২৪)।

এ্যাকশন কমিটির তৎপরতার অপর একটি দিক ছিলো চাঁদা সংগ্রহ। ‘বাংলাদেশ ফান্ড’-এর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ মুক্তিযোদ্ধা ও সরকারের বিভিন্ন কাজে ব্যয়িত হয়েছিলো। এর আয় ও ব্যয়ের হিসাব সংবলিত রিপোর্টি মুদ্রিত হয়েছে এই খন্ডের শেষাংশে। এ ছাড়া সন্নিবেশিত বিভিন্ন দলিলপত্রের মধ্য দিয়ে এ্যাকশন কমিটি ও পরবর্তীকালে গঠিত এ্যাকশন কমিটিসমূহের স্টিয়ারিং কমিটি এবং অন্যান্য সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাঙালীরা বাংলাদেশ লীগ অফ আমেরিকা ও বাংলাদেশ ডিফেন্স লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে চিঠি, প্রচারপত্র ও পুস্তিকা প্রকাশ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে জোরদার করেছেন। (পৃঃ ২২৩-২২৬, ৩০৯-৩১৯)। ‘শিখা’, ‘বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ পত্র’সহ বিভিন্ন পত্রিকা ও বুলেটিন বাংলাদেশ আন্দোলনের স্বপক্ষে জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলো (পৃঃ ২৪১-২৪২, ২৬০-২৬৩, ২৭৩-২৭৮, ২৮৩-২৮৯, ২৯৮-৩০১)। বাংলাদেশের পক্ষে যোগদানকারী পাকিস্তানের সাবেক কূটনীতিকদের ভূমিকা সম্পর্কিত দলিলও এই খণ্ডে সন্নিবেশিত হয়েছে।

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ কানাডা ছিলো কানাডার প্রবাসী বাঙালীদের সংগঠন। ‘স্ফুলিঙ্গ’ ও ‘বাংলাদেশ’সহ পত্র-পত্রিকা প্রকাশনার মাধ্যমে তারাও অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন (পৃঃ ৩২৫, ৩৩৪-৩৩৭)।

ইন্দোনেশিয়ায় প্রবাসী বাঙালীদের আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিলো গোপনে। প্রধানত পাকিস্তানী দূতাবাসে কর্মরত বাঙালীরা ‘আমরা’ নামক একটি গোপন সংগঠনের মাধ্যমে এই আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন। নিরাপত্তার প্রয়োজনে সংগঠনের কর্মকর্তারা ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন (পৃঃ ৩৭৩-৩৭৪)। ‘আমরা’-এর তৎপরতা সম্পর্কে জানা যাবে এই গ্রন্থে মুদ্রিত বিভিন্ন দলিলপত্রের মধ্য দিয়ে (পৃঃ ৩৫৪-৩৫৫)। বাংলাদেশের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে ‘আমরা’ প্রচারিত প্রতিবেদনও এই খন্ডে সন্নিবেশিত হয়েছে(পৃঃ ৩৮৯-৪০৩)।

প্রবাসী বাঙালীদের তৎপরতা ছাড়াও বাংলাদেশেরর নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনসমূহের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন বিভিন্ন দলিলপত্রও এই খন্ডে সন্নিবেশিত হয়েছে। এগুলির মধ্যে আছে রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি মওলানা ভাসানীর আবেদন (পৃঃ ৪২৩-৪২৮), সংসদ সদস্যদের সমাবেশে অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাষণ (পৃঃ ৪৭৬-৪৮৩), মুজিবনগর সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ সংক্রান্ত তথ্য (পৃঃ ৫১৩-৫১৫), জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম সমন্বয় কমিটির ঘোষণা (পৃঃ ৪৫৬-৪৬০), মওলানা ভাসানীর বিবৃতি (পৃঃ ৪৪২-৪৪৫, ৪৫২-৪৫৫, ৪৫৭-৪৬২) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (পৃঃ ৫০৫-৫০৭), বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (পৃঃ ৫২৯-৫৩৬), পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (পৃঃ ৪৬৪-৪৬৬), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর পৃঃ ৪০৫), কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ (পৃঃ ৪৬৭-৪৬৯, ৪৭০-৪৭২), ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টার (পৃঃ ৫৫৯-৫৬৩) সহ বিভিন্ন সংগঠনের ঘোষণা, বিবৃতি ও কর্মসূচি। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অবস্থা সম্পর্কে মুদ্রিত হয়েছে একটি বিশেষ প্রতিবেদন (পৃঃ ৫৭৫-৫৮৮)।

ভারত প্রবাসী বাংলাদেশ সংস্থা (পৃঃ ৪৭০-৪৭২, ৪৮৪-৪৮৫, ৫০৩-৫০৪, ৫৫২-৫৫৪) এবং বাংলাদেশে শিক্ষক সমিতির (পৃঃ ৪৭৪, ৫১০, ৫৬৭-৫৭৩) স্মারকলিপি ও বিবৃতি তাঁদের ভূমিকাকে তুলে ধরেছে।

পরিশেষে উল্লেখ্য যে অনেক দেশে বাঙালীদের আন্দোলন সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের বাইরে রয়ে গেছে। ভাষা সমস্যার কারণেও কিছু দলিল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। যে ক’টি দেশে প্রবাসী বাঙ্গালীদের আন্দোলন সংক্রান্ত দলিল্পত্র প্রকাশিত হয়েছে, সেসব দেশেরও সমুদয় দলিল সংগ্রহ করা সম্ভব হয় নি। বিলম্বে সংগৃহীত হবার ফলে গ্রন্থের শেষে একটি সংযোজন অধ্যায় সন্নিবেশ করা হয়েছে।

 

হাসান হাফিজুর রহমান

সম্পাদক

 

 

____________________

 

 

 

 

 

 

 

সূচিপত্র

(সূচিপত্রের পৃষ্ঠাগুলো মূল দলিলের পৃষ্ঠা নম্বর অনুযায়ী লিখিত)

দলিল নং পেজ নং দলিলের নাম কম্পাইলার/অনুবাদক
বৃটেনে গঠিত ‘ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট’ কর্তৃক স্বাধীনতা সংগ্রামের আহবান নাজিয়া বিনতে রউফ
ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের মুখপাত্র ‘বিদ্রোহী বাংলা’-র প্রকাশিত তথ্যাবলী সমীরণ কুমার বর্মন
বাংলাদেশে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে এবং স্বাধীনতার আহবানে শপথ সভার প্রচারপত্র সমীরণ কুমার বর্মন
স্বাধীন বাংলা স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর বুলেটিন সমীরণ কুমার বর্মন
১০ বৃটিশ এমপি কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থন এবং সাহায্যের আশ্বাস সমীরণ কুমার বর্মন
১১ স্বাধীন বাংলাদেশের সমর্থনে ও স্বীকৃতির দাবীতে সারা বৃটেনে সভা ও শোভাযাত্রার আহবান সমীরণ কুমার বর্মন
১২ শেখ মুজিবুর রহমান এর গ্রেফতারের খবর এবং কমন্স সভার সদস্যগণ কর্তৃক পাকিস্তানের যুদ্ধ বিরতির আহবান সম্পর্কিত তথ্য মুশররাত আলম মৌ
১৩ বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন এবং গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী নিধনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েবৃটিশ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সদস্যদের প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের বিবৃতি মুশররাত আলম মৌ
১৪ বাংলাদেশে গণত্যার প্রতিবাদ ও স্বাধীনতার প্রতি সমর্থনের জন্য চার্চসমুহের প্রতি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, স্কটল্যান্ড সভাপতির আহ্বান মুশররাত আলম মৌ
১০ ১৫ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থনের জন্য বৃটিশ জনগণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, স্কটল্যান্ডের আহ্বান মুশররাত আলম মৌ
১১ ১৬ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনরক্ষার প্রচেষ্টা চালানোর জন্য মার্কিন সিনেটরদের প্রতি ব্রিটেন-বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের আহ্বান মুশররাত আলম মৌ
১২ ১৮ বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধের প্রচেষ্টা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থন দানের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতি বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের আহ্বান মুশররাত আলম মৌ
১৩ ২১ লন্ডনে ট্রাফালগার স্কয়ারে বাংলাদেশের সমর্থনে জনসভা অনুষ্ঠানের অনুমতি চেয়ে আবেদন মুশররাত আলম মৌ
১৪ ২২ বাংলাদেশের সমর্থনে সভা ও মিছিলের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের অ্যাকশন কমিটির প্রচার পত্র সমীরণ কুমার বর্মন
১৫ ২৩ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের জন্যে বিশ্বের সকল উপাচার্যের প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের আবেদন কাজী সাদিকা নূর
১৬ ২৫ বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের জবাব কাজী সাদিকা নূর
১৭ ২৭

বাংলার বুদ্ধিজীবী ও গণহত্যার প্রতিবাদে ও স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন করার জন্যে ব্রিটেনের ছাত্র-শিক্ষকদের প্রতি বাংলাদেশ শিক্ষক সম্প্রদায়ের আহ্বান

 

 

কাজী সাদিকা নূর
১৮ ২৮ বৃটেনে প্রবাসী বাঙালিদের কেন্দ্রীয় সংগঠন অ্যাকশন কমিটি ফর দি পিপলস রিপাবলিক অফ বাংলাদেশ ইন ইউ-কে এর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব সমীরণ কুমার বর্মন
১৯ ২৯ বাংলাদেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে পৃথিবীর বিভিন্ন মহলের অভিমতের সংকলন নাজনীন আক্তার দুহিতা, নওশীন তাসনিম
২০ ৩৫ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সংগ্রামের সমর্থন দানের জন্য রাজনৈতিক দলসমূহের প্রতি বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটির আহবান

নওশীন তাসনিম

 

২১ ৩৭ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন দানের জন্য সারা বিশ্বের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকামী জনগণের প্রতি আহবান দিব্য কান্তি দত্ত
২২ ৩৯ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সমর্থনে এগিয়ে আসার জন্য ন্ন্রিটিশ জনগণের প্রতি আহবান দিব্য কান্তি দত্ত
২৩ ৪১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে সংক্ষেপে প্রতিবেদন দিব্য কান্তি দত্ত
২৪ ৪৩ বাংলাদেশে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গণহত্যা বন্ধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থন দানের জন্য বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটির আবেদন মুশাররাত আলম মৌ
২৫ ৪৫ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন দান এবং পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও অত্যাচার বন্ধের জন্য প্রভাব খাটানোর আবেদন জানিয়ে গণচীনের চেয়ারম্যানের প্রতি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটির চিঠি মুশাররাত আলম মৌ
২৬ ৪৬ গৃহযুদ্ধ বা আভ্যন্তরীণ গোলযোগ নয়, বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছেন – বিরোধী প্রচারণার জবাবে বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটি শিপ্রা কর্মকার
২৭ ৪৮ পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক সাহায্যের বিরুদ্ধে এ্যাকশন কমিটির বক্তব্য কাজী সাদিকা নূর
২৮ ৪৯ বাংলাদেশকে স্বীকৃতিও সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটির আবেদন সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক
২৯ ৫১ স্বাধীনতা সংগ্রামে এগিয়ে আহবান সংবলিত প্রচারপত্র সমীরন কুমার বর্মন
৩০ ৫২ বাংলাদেশ এখন সহস্র মাইলাই-এর অবস্থায়: স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থনের আবেদন উম্মে তৈয়বা নিশাত
৩১ ৫৩ ইয়াহিয়া খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সমর্থনে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান উম্মে তৈয়বা নিশাত
৩২ ৫৪ বাংলাদেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিটিশ পত্রিকার ভুল প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিইয়েশন, স্কটল্যান্ডের বক্তব্য উম্মে তৈয়বা নিশাত
৩৩ ৫৫ “বাংলাদেশ ফাইটস ফর ফ্রিডম”-বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন শিরোনামহীন-১
৩৪ ৬১ “ফ্যাক্ট শীট-৯”-দেশবিদেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে প্রতিবেদন সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক
৩৫ ৬৪ “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের প্রচারপত্র সমীরণ কুমার বর্মন
৩৬ ৬৫ জনাব এ, সামাদ এমএন-র প্রতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর চিঠি তানভীর আহমেদ রিশাত
৩৭ ৬৬ বৃটেনে প্রবাসী জনাব এম, এ রাজ্জাক চৌধুরীর প্রতি কোলকাতাস্থ বাংলাদেশ মিশনের জনাব আনোয়ারুল করিম চৌধুরীর চিঠি তানভীর আহমেদ রিশাত
৩৮ ৬৮ বাংলাদেশের সমর্থনে ১৯শে জুন হাইড পার্কে অনুষ্ঠিতব্য জনসভা ও গণমিছিলের প্রচারপত্র সমীরণ কুমার বর্মন
৩৯ ৬৯ এ্যাকশন কমিটি কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যের প্রস্তাবের জবাবে বাংলাদেশ থেকে ক্যাপ্টেন এন হুদার চিঠি দিব্য কান্তি দত্ত
৪০ ৭০ বাংলাদেশ সম্পর্কে ‘এইড বাংলাদেশ কমিটি, ইউরোপ’- এর প্রতিবেদন দিব্য কান্তি দত্ত
৪১ ৭৫ বৃটেনে অ্যাকশন কমিটিসমূহের ঐক্যবদ্ধ তৎপরতা চালানোর প্রচেষ্টা সম্পর্কে প্রতিবেদন ইফতি
৪২ ৮০ পাকিস্তানকে সহায়তা বন্ধের জন্য বাঙালি শ্রমিক নেতাদের আহ্বান ইফতি
৪৩ ৮২ পাকিস্তানে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইয়াহিয়া খানের সর্বশেষ প্রচেষ্টা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন ইফতি
৪৪ ৮৬ স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে গ্রুপ ক্যাপ্টেন তাওয়ারের প্রতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর চিঠি আফসানা আশা
৪৫ ৮৭ ৩১শে জুলাই বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের সমর্থন সভায় যোগদানের কথা জানিয়ে বৃটিশ এমপি-র চিঠি আফসানা আশা
৪৬ ৮৮ ৩১শে জুলাই-এর সভায় যোগদানের অক্ষমতা জানিয়ে জন স্টোনহাউজ, এমপি-র চিঠি আফসানা আশা
৪৭ ৮৯ অচিরে লন্ডনে বাংলাদেশ মিশন প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়ে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর চিঠি আফসানা আশা
৪৮ ৯০ শেখ মুজিবুর রহমানের বিচারের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটির প্রচারপত্র আফসানা আশা
৪৯ ৯১ এ্যাকশন কমিটি কর্তৃক জাহাজ ক্রয়ের ব্যাপারে একটি বৃটিশ কোম্পানীর সাথে পত্র যোগাযোগ আফসানা আশা
৫০ ৯৪ ১৯৭১ সনের ৬ ও ১২ আগস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিত এ্যাকশন কমিটির সভায় প্রস্তাবপত্র নাবিলা ইয়াসিন তারিন
৫১ ৯৬ ১১ই আগস্ট প্রতিরোধ দিবস পালনের আহবান সমীরণ কুমার বর্মন
৫২ ৯৭ বিচারপ্রতি আবু সাঈদ চৌধুরীর প্রতি মাসিক “ভেঞ্চার” সম্পাদক জর্জ কানিংহাম এম,পি’র চিঠি মুহসীন
৫৩ ৯৮ ১৬ই আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য কনভেনশনের কমিটির সভার বিজ্ঞপ্তি মুহসীন
৫৪ ৯৯ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের গোপন বিচার বন্ধের জন্য সোচ্চার আহ্বান সম্বলিত বিজ্ঞাপন মুহসীন
৫৫ ১০১ ব্রিটেনে বাংলাদেশ আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো রচনার লক্ষে প্রস্তাবিত একটি খসড়া গঠনতন্ত্র মুহসীন
৫৬ ১০৪ ২০শে আগস্ট অনুষ্ঠতব্য কনভেনশন কমিটির সভার বিজ্ঞপ্তি তানভীর আহমেদ রিশাত
৫৭ ১০৫ স্বাধীনতা সংগ্রামে অর্থনৈতিক সাহায্য প্রদানের সুব্যবস্থার লক্ষ্যে ন্যাশনাল ওয়েস্টমিনস্টার ব্যাংকে নতুন হিসাব খোলার বিজ্ঞপ্তি তানভীর আহমেদ রিশাত
৫৮ ১০৬ ২০শে আগস্ট অনুষ্ঠিত কনভেনশন সাব-কমিটির সভার আলোচ্যসুচি ও কার্যবিবরণী নাবিলা ইলিয়াস তারিন
৫৯ ১০৯ ২৪শে আগস্ট অনুষ্ঠিত কনভেনশন কমিটির সভার কারযবিবরণী ও প্রস্তাবসমূহ সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক
৬০ ১১০ ৩০শে আগস্ট অনুষ্ঠিত কনভেনশন কমিটির সভার প্রস্তাবসমূহ সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক
৬১ ১১২ স্টিয়ারিং কমিটির ব্যাংক একাউন্ট খোলার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আহ্বায়কের প্রতি বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সম্পাদকের চিঠি সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক
৬২ ১১৩ বৃটেনে প্রবাসী বাঙ্গালীদের আন্দোলন ও সংগঠন সম্পর্কে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বক্তব্য জিহাদ
৬৩ ১১৫ ৩রা সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কনভেনশন কমিটির সভার প্রস্তাবসমূহ আফসানা আহমেদ রিয়া
৬৪ ১১৬ আসন্ন কভেনশনে সরাসরি প্রতিনিধিত্ব চেয়ে ষ্টিয়ারিং কমিটিকে লেখা আইলিংটন কমিটি সম্পাদকের চিঠি তন্দ্রা বিশ্বাস
৬৫ ১১৭ সাউথল বাংলাদেশ সংগ্রাম পরিষদের সভার প্রস্তাব ও গঠিত কমিটির বিবরণ তন্দ্রা বিশ্বাস
৬৬ ১১৯ বাংলাদেশ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সরকার এবং জাতিসংঘে চাপ সৃষ্টির আহবান সংক্রান্ত বিভিন্ন লবির কাছে লিখিত চিঠি তন্দ্রা বিশ্বাস
৬৭ ১২১ বাংলাদেশ তহবিলের সাহায্যার্থে প্রদর্শিত চ্যারিটি শো-র বিজ্ঞপ্তি তন্দ্রা বিশ্বাস
৬৮ ১২২ কনভেনশানে সরাসরি প্রতিনিধিত্বের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ রিলিফ কমিটির সম্পাদকের চিঠি ইফতি
৬৯ ১২৩ আসন্ন কনভেনশন সম্পর্কে নর্থ এ্যান্ড নর্থ-ওয়েস্ট লন্ডন শাখা এ্যাকশন কমিটির সভাপতি কর্তৃক বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে লেখা চিঠি ইফতি
৭০ ১২৫ ওলন্দাজ এম.পি-দের ভারত সফরের ব্যাপারে ল্যাংকাশায়াস্থ বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশনের তৎপরতা ইফতি
৭১ ১২৬ ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কনভেনশন সভার কার্যবিবরণী ও প্রস্তাবসমূহ ইফতি
৭২ ১২৮ বাংলাদেশ গণ-সংস্কৃতি সংসদের সভার বিজ্ঞপ্তি ইফতি
৭৩ ১২৯ বিচারপতি চৌধুরীর প্রতিবৃটিশ লেবার পার্টির চিঠি ইফতি
৭৪ ১৩০ নেদারল্যান্ডের দৈনিক ‘DE TIJD’-এ প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিস্থিতির উপর নিবন্ধের অনুবাদ সংবলিত ‘ফ্যাকট শীট-১৮’ ইফতি
৭৫ ১৩৩ মুক্তিযুদ্ধের ছয় মাসঃ বাংলাদেশের অব্যাহত স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর একটি সমীক্ষা ইফতি
৭৬ ১৩৫ ১লা অক্টোবর অনুষ্ঠিত কনভেনশন কমিটির সভার প্রস্তাবসমূহ ইফতি
৭৭ ১৩৬ সংগৃহীত চাঁদার হিসাবসহ রশিদ বই ফেরতদানের জন্য স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়কের আহ্বান ইফতি
৭৮ ১৩৭ বে’সওয়াটার শাখা এ্যাকশান কমিটির ২রা অক্টোবরের সভার প্রস্তাবাবলী ইফতি
৭৯ ১৩৮ বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে প্রচারিত রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর বিবৃতি ইফতি
৮০ ১৩৯ কনভেনশন উপলক্ষে সকল আঞ্চলিক এ্যাকশন কমিটিকে অবিলম্বে প্রতিনিধি নির্বাচন ও তা কনভেনশন কমিটিকে জানানোর জন্য আহ্বায়কের বিজ্ঞপ্তি মাহীন বারী
৮১ ১৪০ লন্ডনে ১১ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত কনভেনশন প্রশ্নে ভিন্নমতালম্বীদের সভার প্রস্তাবাবলী মাহীন বারী
৮২ ১৪২ লন্ডনে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিক কমিটি গঠন সম্পর্কে প্রচারপত্র সমীরণ কুমার বর্মন
৮৩ ১৪৫ বাংলাদেশ প্রশ্নে বৃটিশ লেবার পার্টির সিদ্ধান্ত জানিয়ে মিঃ আয়ান মিকার্ডো এম,পি-র চিঠি তন্দ্রা বিশ্বাস
৮৪ ১৪৮ কনভেনশন সম্পর্কে ভিন্ন মতাবলম্বীদের বক্তব্য সম্বলিত চিঠি তন্দ্রা বিশ্বাস
৮৫ ১৫০ কনভেনশনের জন্য নির্ধারিত দুজন প্রতিনিধির নামসহ কিডারমিনষ্টার শাখার সভাপতির চিঠি তন্দ্রা বিশ্বাস
৮৬ ১৫১ কনভেনশন সম্পর্কে ভিন্ন মতাম্বলীদের পক্ষে আহ্ববায়কের প্রতি চিঠি নিগার সুলতানা
৮৭ ১৫২ কনভেনশন সম্পর্কে ভিন্ন বক্তব্য জানিয়ে নিউটন শাখা এ্যাকশন কমিটির সম্পাদকের চিঠি নিগার সুলতানা
৮৮ ১৫৪ বাংলাদেশ আন্দোলন সমর্থনকারী জনৈক বৃটিশ নাগরিকের প্রতি এ্যাকশন কমিটির আহ্বায়কের চিঠি নিগার সুলতানা
৮৯ ১৫৫ ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনারের প্রতি স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়কের চিঠি আদিতি আদৃতা সৃষ্টি
৯০ ১৫৭ ‘থার্ড ওয়ার্নড ফার্স্ট’-এর উদ্যোগে আয়োজিত সভায় বাংলাদেশ সম্পর্কে বক্তব্য রাখার অনুরোধ সম্বলিত এ্যাকশন কমিটির আহ্বায়কের প্রতি চিঠি নাবিলা ইলিয়াস তারিন
৯১ ১৫৮ ২২ শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত কনভেনশন কমিটির সভার সিদ্ধান্তসমূহ নাবিলা ইলিয়াস তারিন
৯২ ১৫৯ অনুষ্ঠিতব্য কনভেনশনের জন্য মিডল্যান্ড অঞ্চলের কমিটিসমূহের প্রতিনিধিদের সংখ্যা ও নামসহ লিখিত চিঠি তন্দ্রা বিশ্বাস
৯৩ ১৬১ কনভেনশনের জন্য মনোনীত বিভিন্ন কমিটির ও তাদের প্রতিনিধিদের তালিকাসহ সভাপতি ও সম্পাদকের চিঠি তন্দ্রা বিশ্বাস
৯৪ ১৬৪ কনভেনশন সম্পর্কে ভিন্ন মতালম্বীদের পক্ষে স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়কের প্রতি চিঠি জয়
৯৫ ১৬৫ বাংলাদেশ সমর্থনে গঠিত ‘বাংলাদেশ ফ্রিডম মুভমেন্ট ওভারসীজ’-এর তিনটি প্রচারপত্র ওমর বিন কিবরিয়া
৯৬ ১৬৯ বাংলাদেশ গণহত্যার বিরুদ্ধে “ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ” আয়োজিত একটি জনসভায় গৃহীত প্রস্তাব ওমর বিন কিবরিয়া
৯৭ ১৭০ বাংলাদেশে গনহত্যা বন্ধ ও বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দানের ইস্যুতে ট্রাফলগার স্কোয়ারে অনুষ্ঠিতব্য একটি জনসভার পোস্টার

তানভীর আহমেদ রিশাত

 

৯৮ ১৭১ বাংলাদেশ স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়কের কাছে লিখিত বৃটিশ পরিবেশ নিয়ন্ত্রন বিভাগের একটি চিঠি

তানভীর আহমেদ রিশাত

 

৯৯ ১৭৩ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটির স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়কের একটি চিঠি মুহসীন
১০০ ১৭৫ বাংলাদেশের বিশেষ প্রতিনিধি আবু সাঈদ চৌধুরির কাছে লিখিত নর্দাম্পটন অ্যাকশন কমিটির সম্পাদকের একটি চিঠি মুহসীন
১০১ ১৭৬ বৃটেনে বাংলাদেশের ছাত্রদের প্রথম জাতীয় সম্মেলনের একটি প্রচার পুস্তিকা অভি সরকার
১০২ ১৮৫ ইন্দিরা গান্ধীর লন্ডন সফর উপলক্ষে বাংলাদেশের স্বীকৃতির দাবীতে ৩০ অক্টোবর আয়োজিত একটি গনমিছিলের প্রচারপত্র জিহাদ
১০৩ ১৮৬ ৩০শে অক্টোবর হাইড পার্কের জনসমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচী রাফসান আহমেদ
১০৪ ১৮৭ বাংলাদেশ মিশন প্রধানের কাছে লিখিত ‘ইউনাইটেড এ্যাকশন-বাংলাদেশের’ পক্ষে কয়েকজন সদস্যের চিঠি রাফসান আহমেদ
১০৫ ১৮৮ সুরাইয়া খানমের কাছে বৃটিশ এম-পি জোয়ান হল- এর পক্ষে লিখিত একটি চিঠি রাফসান আহমেদ
১০৬ ১৮৯ স্টিয়ারিং কমিটির সেক্রেটারীর কাছে লিখিত ‘ওল্ডহ্যাম বাংলাদেশ সোসাইটি’র পক্ষে সৈয়দ বশীর আহমদের চিঠি

সমীরণ কুমার বর্মণ

 

১০৭ ১৯০ অস্ত্র ক্রয়ের উদ্দেশ্যে চাঁদা সংগ্রহের আহবান সম্বলিত কর্নেল ওসমানীর চিঠি মাহিন বারী
১০৮ ১৯১ বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের দাবীতে হাইডপার্কে একটি জনসভার প্রেস বিজ্ঞপ্তি মাহিন বারী
১০৯ ১৯২ বাংলাদেশ কনভেনশন কমিটির আহ্বায়কের কাছে লিখিত সাউথ ইংল্যান্ড রিজিওনাল কমিটির জয়েন্ট কনভেনর-এর চিঠি মাহিন বারী
১১০ ১৯৪ লন্ডনের ন্যাশনাল ওয়েস্টমিনস্টার ব্যাংক ম্যানেজারকে লিখিত বাংলাদেশ ফান্ড একাউনটেন্ট জেনারেল এর চিঠি মাহিন বারী
১১১ ১৯৫ হাইডপার্কে বাংলাদেশ ষ্টিয়ারিং কমিটি আয়োজিত স্বীকৃতি মিছিলের পরিচয়পত্র ও পোষ্টার

সমীরণ কুমার বর্মণ

 

১১২ ১৯৬ বাংলাদেশে যুদ্ধরত মুক্তিবাহিনীর সাহায্যের জন্য প্রবাসী বাঙালীদের কাছে প্রচারিত একটি আবেদনপত্র

সমীরণ কুমার বর্মণ

 

১১৩ ১৯৭ “বাংলাদেশ স্টিয়ারিং কমিটি” প্রচারিত একটি বিজ্ঞপ্তি

সমীরণ কুমার বর্মণ

 

১১৪ ১৯৯ বাংলাদেশ প্রশ্নে বৃটিশ লেবার পার্টির অভিমত জানিয়ে লিখিত মিঃ হ্যারল্ড উইলসন এমপি-র একটি চিঠি দিব্য কান্তি দও
১১৫ ২০০ জেনোসাইড ইন বাংলাদেশ’ বাংলাদেশে হত্যাযজ্ঞের উপর একটি প্রচার পুস্তিকা দিব্য কান্তি দও
১১৬ ২০৫ “দি এ্যাকশন কমিটি ফর দা পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ ইন দা ইউনাইটেড কিংডম” এর গঠনতন্ত্র স্বর্না, বিশাল
১১৭ ২০৭ বাংলাদেশকে সমর্থন দানের আহবান সম্বলিত একটি পুস্তিকা মুশাররাত আলম মৌ
১১৮ ২১১ বাংলাদেশের পক্ষে আন্দোলন কারী অ্যাকশন বাংলাদেশ কমিটি,ইউরোপের সমর্থক ও সহযোগী ব্যক্তি ও দলসমুহের তালিকা মুশাররাত আলম মৌ
১১৯ ২১৩ “বাংলাদেশ কেন”? পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্যের একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ মাহীন বারী
১২০ ২২৩ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাস কবলিত পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তান সরকারের নিদারুন অবহেলা জানিয়ে   জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে লিখিত চিঠি ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি
১২১ ২২৪ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাস কবলিত পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তান সরকারের নিদারুন অবহেলা জানিয়ে   পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের কাছে লিখিত চিঠি ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি
১২২ ২২৫ নির্বাচনে বিজয়লাভের জন্যে শেখ মুজিব ও তার দলকে অভিনন্দন ও পরামর্শ দিয়ে লিখিত চিঠি সজীব কুমার সাহা
১২৩ ২২৭ অভিনন্দনের জবাবে শেখ মুজিব কতৃক আমেরিকাস্থ পাকিস্তান লীগের সভাপতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন সজীব কুমার সাহা
১২৪ ২২৮ ইয়াহিয়া খানকে প্রতিশ্রুতি অস্ত্র সাহায্য না দেয়ায় আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনজণের উদ্দেশ্যে প্রচারিত চিঠি সজীব কুমার সাহা
১২৫ ২৩০ আমেরিকাস্থ ইস্ট পাকিস্তান লীগের জরুরি সভায় গৃহীত সিন্ধান্ত সমূহ শিপ্রা কর্মকার
১২৬ ২৩২ “বাংলাদেশ”-আমেরিকাস্থ ইস্ট পাকিস্তান লীগের মুখপাত্র সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক
১২৭ ২৩৪ “বাংলাদেশ ডিফেন্স লীগ”-এর বক্তব্য সম্বলিত প্রচারপত্র সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক
১২৮ ২৩৫ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংরক্ষণের মাধ্যমে সাহায্যের আবেদন সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক
১২৯ ২৩৭ প্রবাসী সকল বাঙালী ও প্রতিবেশীদের প্রতি আমেরিকান্থ ইষ্ট পাকিস্তান লীগের বক্তব্য নিগার সুলতানা
১৩০ ২৩৯ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও নেতৃবৃন্দের প্রতি আমেরিকান্থ ইস্ট পাকিস্তান লীগের সভাপতির আবেদন নিগার সুলতানা
১৩১ ২৪১ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও জনগনের প্রতি বাংলাদেশের জনগনের আবেদন ওমর বিন কিবরিয়া
১৩২ ২৪৩ আমেরিকাস্থ ইস্ট পাকিস্তান লীগের সভাপতির প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পত্র ওমর বিন কিবরিয়া
১৩৩ ২৪৪ প্রবাসী বাঙালীদের প্রতি আমেরিকাস্থ ইস্ট পাকিস্তান লীগের বক্তব্য ওমর বিন কিবরিয়া
১৩৪ ২৪৭ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের প্রতি বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার আবেদন দিব্য কান্তি দত্ত
১৩৫ ২৪৯ প্রবাসী বাঙালীদের প্রতি আমেরিকাস্থ ইস্ট পাকিস্তান লীগ সভাপতির বক্তব্য দিব্য কান্তি দত্ত
১৩৬ ২৫১ প্রবাসী বাঙালীদের প্রতি আমেরিকাস্থ ইস্ট পাকিস্তান লীগের সম্পাদকের বক্তব্য দিব্য কান্তি দত্ত
১৩৭ ২৫২ আমেরিকাস্থ বাংলাদেশ লীগের সদস্যভুক্তির ফরম দিব্য কান্তি দত্ত
১৩৮ ২৫৩ আমেরিকার প্রবাসী বাঙালীদের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগীতার আহবান সমীরণ কুমার বর্মন
১৩৯ ২৫৫ বাংলাদেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন ওমর বিন কিবরিয়া
১৪০ ২৫৬ বাংলাদেশে গণহত্যার প্রতিবাদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন দানের জন্য আবেদন ওমর বিন কিবরিয়া
১৪১ ২৫৭ ক্যালিফোর্নিয়ায় আমেরিকান লীগ অব বাংলাদেশের তৎপরতা সম্পর্কে প্রতিবেদন ওমর বিন কিবরিয়া
১৪২ ২৬০ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার আহবান সমীরণ কুমার বর্মন
১৪৩ ২৬৪ আমেরিকায় বাংলাদেশের দুটো মিশন খোলা সম্পর্কে জনাব রেহমান সোবহান ও বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর পরামর্শ সম্পর্কে অবহিত করে লেখা চিঠি তন্দ্রা বিশ্বাস
১৪৪ ২৬৫ ইস্ট পাকিস্তান লীগ অফ আমেরিকার বার্ষিক সাধারন সভার বিজ্ঞপ্তি তন্দ্রা বিশ্বাস
১৪৫ ২৬৭ মিড ওয়েস্ট বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের কলাম্বাসে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ তন্দ্রা বিশ্বাস
১৪৬ ২৬৯ আমেরিকায় প্রবাসী বাঙালিদের জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংবাদের প্রতিবেদন মুশাররাত আলম মৌ
১৪৭ ২৭৩ ওয়েস্ট কোস্টে বসবাসকারী বাঙালী দের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগিতা ও তৎপরতার উপর প্রতিবেদন আরিফ রায়হান, সজীব কুমার সাহা, মোঃ মোসাব্বিরুল হক
১৪৮ ২৭৯ নিউইয়র্কে বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার সাধারণ সভার বিজ্ঞপ্তি ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি
১৪৯ ২৮০ বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার গ্রেটার ওয়াশিংটন ডি সি শাখার সাধারণ সভার বিজ্ঞপ্তি ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি
১৫০ ২৮১ বাংলাদেশের সংগ্রামের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশের বিজ্ঞপ্তিসহ মার্কিন জনগণের প্রতি সাহায্যের আবেদন ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি
১৫১ ২৮৩ নিউইয়র্কে সমাবেশসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাঙালিদের তৎপরতার ওপর প্রতিবেদন অভি সরকার, জয়ন্ত সেন আবীর
১৫২ ২৯০ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাঙালিদের তৎপরতা সংক্রান্ত তথ্য মুশাররাত আলম মৌ
১৫৩ ২৯৪ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ সমর্থক ডঃ ও মিসেস গ্রিনোর প্রতি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির ধন্যবাদ পত্র মুশাররাত আলম মৌ
১৫৪ ২৯৫ বাংলাদেশের ঘটনায় ইন্ডিয়ানা মিডওয়েষ্টার্ন কম্যুনিটির উদ্বেগ ও তৎপরতা সম্পর্কে প্রতিবেদন মুশাররাত আলম মৌ
১৫৫ ২৯৮ স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন দিকের সংবাদসহ প্রকাশিত ‘শিখা’ জয়ন্ত সেন আবীর
১৫৬ ৩০২ শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার প্রসঙ্গে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাঙালিদের লিখিত চিঠি সুদীপ্ত কুমার সাহা, মাহিয়া হাসান মীম
১৫৭ ৩০৫ বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকা কর্তৃক আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রচারপত্র মাহিয়া হাসান মীম
১৫৮ ৩০৬ বাংলাদেশের সংগ্রামে মার্কিন জংগণের ভূমিকা সম্পর্কে বিশেষ প্রতিবেদন নওশীন তাসনিম
১৫৯ ৩০৮ বাংলাদেশের সংগ্রামে সাহায্যের আবেদন নিঝুম চৌধুরী
১৬০ ৩০৯ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন। সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক, আল-জাবির মোহাম্মদ,কাজী সাদিকা নূর
১৬১ ৩২৩ বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা (টরেন্টো) এর কর্মতৎপরতা সৎক্রান্ত তথ্য নাজিয়া বিনতে রউফ
১৬২ ৩২৪ বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা প্রকাশিত মুখপাত্র ‘বাংলাদেশ’ –এর দুটি খবর নাজিয়া বিনতে রউফ
১৬৩ ৩২৫ বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব কুইবেক-এর তৎপরতা সংক্রান্ত তথ্য নাজিয়া বিনতে রউফ
১৬৪ ৩২৬ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব কানাডার সাধারণ সম্পাদকের চিঠি মাহীন বারী
১৬৫ ৩২৭ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব কানাডার মুখপাত্র “বাংলাদেশ” এর সম্পাদকীয় এবং সমিতির কর্ম তৎপরতা সংক্রান্ত আরও তথ্য মাহীন বারী , ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি
১৬৬ ৩২৯ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব কুইবেক-এর মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি
১৬৭ ৩৩০ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া কর্মকর্তার প্রতিবেদন ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি
১৬৮ ৩৩২ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব বৃটিশ কলম্বিয়া কর্মকর্তার কাছে লিখিত মার্কিন সিনেটরদের চিঠি নাজিয়া বিনতে রউফ
১৬৯ ৩৩৪ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব কানাডার মুখপত্র ‘বাংলাদেশ’-এর সম্পাদকীয়, এসোসিয়েশনের কর্মতৎপরতা ও প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি নাজিয়া বিনতে রউফ
১৭০ ৩৩৮ বৃটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীনের কাছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের কর্মকর্তার পত্র শিরোনামহীন-১
১৭১ ৩৩৯ ভ্যাঙ্কুভাবে প্রবাসী বাঙালী ও ফ্রেজার গ্রুপ প্রকাশিত ‘বায়াস’ পত্রিকার একটি আবেদন সাফানুর সিফাত
১৭২ ৩৪০ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব বৃটিশ কলম্বিয়ার একটি প্রতিবেদন সাফানুর সিফাত
১৭৩ ৩৪৩ পচিশে মার্চের হত্যাযজ্ঞে ইন্দোনিশিয়া সরকার ও জনগণের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া এবং প্রচার অভিযান সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে লেখা চিঠি ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি
১৭৪ ৩৪৭ আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক ব্রিগেডের প্রাক্তন প্রধান কর্তৃক বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধ করার ইচ্ছা প্রকাশ ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি
১৭৫ ৩৪৮ প্রবাসী বাঙালীদের সংগঠন ‘আমরা’গোষ্ঠী কর্তৃক বাংলাদেশ সরকারকে প্রেরিত ইন্দোনেশীয় প্রচার মাধ্যমের প্রতিক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত বিবরণী জয়ন্ত সেন আবীর
১৭৬ ৩৫২ পাকিস্তান দূতাবাসের বাঙ্গালী কর্মচারীর কলকাতা গমন সক্রান্ত চিঠি সজীব কুমার সাহা, জেসিকা গুলশান তোড়া
১৭৭ ৩৫৪ প্রবাসী বাঙালিদের তৎপরতার উপর ভিত্তি করে “আমরা” গোষ্ঠী কর্তৃক প্রেরিত একটি প্রতিবেদন মুশাররাত আলম মৌ
১৭৮ ৩৫৬ পরিস্থতি সম্পর্কে   ইন্দোনেশিয় পত্রিকার মূল্যায়ন স্বজন বনিক
১৭৯ ৩৫৮ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইন্দনেশিয়ায় অবস্থানরত বেসরকারি বাঙালীদেরকর্তব্যসম্পর্কে লিখিত চিঠি স্বজন বনিক
১৮০ ৩৫৯ “আমরা”গোষ্ঠীর প্রচার তৎপরতা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন স্বজন বনিক
১৮১ ৩৬০ বাংলাদেশ আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী কর্মীর কাছে লিখিত বংলাদেশ সরকারের প্রশংসাপত্র জেসিকা গুলশান তোড়া
১৮২ ৩৬১ “আমরা” গোষ্ঠীর সাথে প্রচার ব্যবস্থা জোরদার করা সম্পর্কে লিখিত বাংলাদেশ সরকারের চিঠি মুশাররাত আলম মৌ
১৮৩ ৩৬২ “আমরা” গোষ্ঠী ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিনিময়কৃত প্রচার ও বিভিন্ন বিষয়ে লিখিত কয়েকটি চিঠি মুশাররাত আলম মৌ
১৮৪ ৩৬৫ ইন্দোনেশিয়ার জনমত সম্পর্কে ‘আমরা’ গোষ্ঠী কর্তৃক প্রেরিত প্রতিবেদন মুশাররাত আলম মৌ
১৮৫ ৩৬৬ পত্রপত্রিকার মাধ্যমে প্রচার অভিযান চালানো সংক্রান্ত ‘আমরা’ গোষ্ঠী কর্তৃক বাংলাদেশ সরকারকে প্রেরিত প্রতিবেদন মুশাররাত আলম মৌ
১৮৬ ৩৬৯ বাংলাদেশ সরকারকে আন্দোলনের অগ্রগতি ও সমস্যা সম্পর্কে লিখিত “আমরা” গোষ্ঠীর চিঠি খন্ডকার কাফি আহমেদ
১৮৭ ৩৭১ বাংলাদেশের সরকারের পক্ষে ইন্দোনেশীয় জনগণের তৎপরতা সম্পর্কে লিখিত প্রতিবেদন ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি
১৮৮ ৩৭৩ ‘আমরা’ গোষ্ঠী কর্তৃক সাংকেতিক নাম ব্যবহার এবং আন্দোলনের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে লিখিত চিঠি ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি
১৮৯ ৩৭৫ ‘আমরা’ গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং অর্থনৈতিক অবস্থা জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে লিখিত চিঠি কাজী ইসরাত জাহান তন্বী
১৯০ ৩৭৮ ‘আমরা’ গোষ্ঠী কর্তৃক প্রচারিত একটি প্রতিবেদন জয়ন্ত সেন আবীর
১৯১ ৩৮০ প্রচার মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষে মতবাদ গড়ে তোলার সাফল্যের সংবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি জয়ন্ত সেন আবীর, সাবরিনা
১৯২ ৩৮২ ইন্দোনেশিয়ায় জনগণের মতামতের উপর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নাজিয়া বিনতে রউফ
১৯৩ ৩৮৪ ‘আমরা’গোষ্ঠী কর্তৃক প্রচারিত দুটি প্রতিবেদন নাজিয়া বিনতে রউফ, সাদ্দিউন ফাহাদ জয়, নুরুন নাহার জুঁই
১৯৪ ৩৮৯ ‘আমরা’ গোষ্ঠী কর্তৃক প্রেরিত বিভিন্ন ইন্দোনেশিয় প্রচার মাধ্যমে প্রচারের জন্য লিখিত বাঙ্গলাদেশ সম্পর্কিত একটি দলিল সুদীপ্ত কুমার সাহা, নুরুন নাহার জুঁই, শিরোনামহীন-১, মাহীন বারী, মুশাররাত আলম মৌ
১৯৫ ৪০৪ আমরা গোষ্ঠীর সদস্যদের সাংকেতিক নাম ব্যবহার সংক্রান্ত চিঠি সাদিয়া
১৯৬ ৪০৬ বাংলাদেশ সরকার কতৃর্ক “আমরা” গোষ্ঠীর সদস্যদের প্রচারকার্য সম্পর্কে লিখিত চিঠি আফসানা আহমেদ রিয়া
১৯৭ ৪০৮ “আমরা” গোষ্ঠীর ভূমিকার উপর লিখিত প্রতিবেদন ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি
১৯৮ ৪১৪ বাংলাদেশ সরকার কতৃর্ক মুক্তিবাহিনীর স্যফল্য প্রচার করার উদ্দেশে “আমরা” গোষ্ঠীকে প্রেরিত বিভিন্ন তথ্য উম্মে তৈয়বা নিশাত
১৯৯ ৪১৫ বিজয়োত্তরকালে বাংলাদেশ সরকার কতৃর্ক “আমরা” গোষ্ঠীকে লিখিত চিঠি সাফায়েত জামিল
২০০ ৪১৯ স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার আহবান জেসিকা গুলশান তোড়া
২০১ ৪২২ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে অধ্যাপক মোজাফফার আহমেদের বিবৃতি অনুরাধা চৌধুরী
২০২ ৪২৩ বাংলাদেশ স্বাধীনতা সংগ্রামে সাহায্যের জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে মাওলানা ভাসানির আবেদন অনুরাধা চৌধুরী, সাবরিনা, খন্দকার কাফি আহমেদ
২০৩ ৪২৯ সমমনা দলসমূহের উদ্দেশ্যে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির আহ্বান মুহসীন, নাজিয়া বিনতে রউফ, ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি, সুজন, ইমরান, হাসান লতিফ
২০৪ ৪৪২ পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি মওলানা ভাসানীর আবেদন জিহাদ
২০৫ ৪৪৬ বিশ্বের আন্তর্জাতিক যুব ও ছাত্র সংগঠনের প্রতি স্বাধীনতা আন্দোলনের সমর্থন চেয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের আবেদন মাহীন বারী, মুশররাত আলম মৌ
২০৬ ৪৫০ জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য মওলানা ভাসানীর প্রস্তাব মাহীন বারী
২০৭ ৪৫১ মুজিবনগরে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের মুক্তিসংগ্রাম পরিষদ গঠন মাহীন বারী
২০৮ ৪৫২ উদ্ভুত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মাওলানা ভাসানীর প্রেস বিজ্ঞপ্তি আইনুল ইসলাম বিশাল
২০৯ ৪৫৬ বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম সমন্বয় কমিটির ঘোষণা জিহাদ
২১০ ৪৬১ বাংলাদেশের সমস্যার রাজনৈতিক নিষ্পত্তির বিরোধিতা করে মওলানা ভাসানির প্রেস বিজ্ঞপ্তি নন্দন দেব
২১১ ৪৬৩ মওলানা ভাসানির সাংবাদিক সাক্ষাৎকারের বিবরণ নন্দন দেব
২১২ ৪৬৪ মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি তুলি
২১৩ ৪৬৭ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য শাজাহান সিরাজের বক্তৃতা তুলি, জিহাদ
২১৪ ৪৭০ পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের প্রবাসী বুদ্ধিজীবীগণ কতৃক যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টারী প্রতিনিধিদলের কাছে প্রদত্ত স্মারকলিপি সাদ্দিউন ফাহাদ জয়, নন্দন দেব
২১৫ ৪৭৩ পাকিস্তানের সাথে আপোষের বিরোধিতা করে মাওলানা ভাসানী নন্দন দেব
২১৬ ৪৭৪ বিশ্বের বিদ্যোৎসাহী সমাজের কাছে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য সাহায্য প্রাত্থনা করে বাংলাদেশের শিক্ষক সমিতির আবেদন আইনুল ইসলাম বিশাল
২১৭ ৪৭৫ বাংলাদেশ বুদ্ধিজীবী মুক্তিসংগ্রাম পরিষদের পক্ষে জহির রায়হানের একটি আবেদন সায়ান
২১৮ ৪৭৬ সংসদ সদস্যদের সমাবেশে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাষণ জিহাদ
২১৯ ৪৮৪ পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশের প্রবাসী বুদ্ধিজীবিগণ কর্তৃক কানাডীয় পার্লামেন্টারী প্রতিনিধিদলের কাছে প্রদত্ত স্মারকলিপি ইব্রাহীম
২২০ ৪৮৬ বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি কর্তৃক কানাডীয় পার্লামেন্টারী প্রতিনিধিদলের কাছে প্রদত্ত স্মারকলিপি শিপ্রা কর্মকার
২২১ ৪৮৭ জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদের যৌথ সভার উপর লিখিত আওয়ামী লীগের মুখপাত্রের সম্পাদকীয় জেসিকা গুলশান তোড়া
২২২ ৪৯০ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর বক্তৃতা আইনুল ইসলাম বিশাল
২২৩ ৪৯৩ দিল্লীতে আয়োজিত বাংলাদেশ প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সেমিনার উপলক্ষে বাংলাদেশ মিশনে অনুষ্ঠিত সভার বিবরণী মাহীন বারী
২২৪ ৪৯৬ জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যগণ কতৃক স্বাধীনতা চালিয়ে যাবার সংকল্প ঘোষণা ইমরান
২২৫ ৪৯৮ বাংলাদেশের মুক্তি প্রশ্নে অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ-২৫ জুলাই নাবিলা ইলিয়াস তারিন
২২৬ ৪৯৯ “সার্বভৌম বাংলাদেশ একমাত্র লক্ষ্য”-মাওলানা ভাসানী শিপ্রা কর্মকার
২২৭ ৫০০ শ্রমিক লিগের পক্ষ থেকে বিশ্বের শ্রমিক সমাজের কাছে সাহায্যের আবেদন শিপ্রা কর্মকার, শিরোনামহীন-১
২২৮ ৫০৩ বাংলাদেশ শরণার্থী বুদ্ধিজীবীদের পক্ষ থেকে সিনেটর কেনেডিকে প্রদত্ত স্মারকপত্র শিরোনামহীন-১
২২৯ ৫০৫ রাজনীতি ও রণকৌশলগত খসড়া দলিলের সংক্ষিপ্ত সার রায়হান রানা
২৩০ ৫০৮ বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তি সমন্বয় কমিটির নিজস্ব ভূমিকা ব্যাখা করে প্রদত্ত বিবৃতি রায়হান রানা
২৩১ ৫১০ বাংলাদেশের গণহত্যায় পাকিস্তানকে সহায়তা না করার জন্য মার্কিন সরকারের প্রতি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির আবেদন সজীব কুমার সাহা
২৩২ ৫১১ মার্কিন প্রসাশনের সামালোচনা করে বাংলদেশ শিক্ষক সমিতির বিবৃতি সজীব কুমার সাহা
২৩৩ ৫১৩ আওয়ামী লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ ও কংগ্রেস সমবায়ে সংযুক্ত কমিটি গঠন রায়হান রানা
২৩৪ ৫১৫ সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির উপর আওয়ামী লীগের সাপ্তাহিক মুখপত্রের সম্পাদকীয় রায়হান রানা
২৩৫ ৫১৬ শিক্ষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য শাজাহান সিরাজের ভাষণ রায়হান রানা
২৩৬ ৫১৯ উপদেষ্টা কমিটির উপর লিখিত সরকারের কাছে প্রদত্ত একটি প্রতিবেদন শওকত ইসলাম রিপন
২৩৭ ৫২১ স্বাধীনতা যুদ্ধে আপোষের বিরোধিতা করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির বিবৃতি কাজী সাদিকা নূর
২৩৮ ৫২২ বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির শিক্ষা ও সমাজসেবা বিভাগের একটি চিঠি আল-জাবির মোহাম্মদ
২৩৯ ৫২৩ “বাংলাদেশের পূর্ণ স্বাধীনতাই সমস্যা একমাত্র সমাধান”- আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির ঘোষণা কাজী সাদিকা নূর
২৪০ ৫২৪ মুক্তিসংগ্রামে ছাত্র ও যুব সম্প্রদায়কে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ বিজ্ঞপ্তি মাহীন বারী
২৪১ ৫২৬ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দীকির বক্তব্য জিহাদ
২৪২ ৫২৯ বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি কর্তৃক উপস্থিত রাস্ট্রীয় রূপরেখা ও কর্মসূচী জিহাদ
২৪৩ ৫৩৭ বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কর্তব্য সম্পর্কে পার্টি সার্কুলার জিহাদ
২৪৪ ৫৪২ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল্যায়ন রাফিয়া, নিঝুম চৌধুরী, নাবিলা ইলিয়াস তারিন, খন্দকার কাফি আহমেদ
২৪৫ ৫৫২ বাংলাদেশের অবস্থা ব্যাখ্যা করে বিশ্ব বুদ্ধিজীবি মহলের প্রতি বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবি মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের আবেদন পল্লব দাস
২৪৬ ৫৫৫ বাংলাদেশ বুদ্ধিজীবি মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের বিবৃতি নিঝুম চৌধুরী
২৪৭ ৫৫৭ ভারতে আগত বাংলাদেশবাসী যুদ্ধকালীন দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে একটি প্রচারপত্র কাজী সাদিকা নূর
২৪৮ ৫৫৯ বাংলাদেশ স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থনের জন্যে বিশ্বের শ্রমিক সংগঠনসমূহের প্রতি বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টার নাজিয়া বিনতে রউফ
২৪৯ ৫৬৪ জাতীয় মুক্তিফ্রন্টের কর্মসূচী কাজী সাদিকা নূর
২৫০ ৫৬৭ বাংলাদেশের পরিস্থিতির উপর বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি প্রতিবেদন নওশীন তাসনিম, সজীব কুমার সাহা, সাদ্দিউন জয়
২৫১ ৫৭৪ বিদেশে সাহায্য চেয়ে অজয় রায়ের চিঠি আল-জাবির মোহাম্মদ
২৫২ ৫৭৫ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অবস্থা এবং ভুমিকা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন দিব্য কান্তি দত্ত, আল-জাবির মোহাম্মদ,নিঝুম চৌধুরী
২৫৩ ৫৮৯

বাংলাদেশের নিম্নপদস্থ পুলিশ কর্মচারী

সহায়ক সংস্থার একটি আবেদন

কাজী সাদিকা নূর
২৫৪ ৫৯১

সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির প্রতি বাংলাদেশের

বুদ্ধিজীবী,শিক্ষক,চলচিত্র ও কুশলী ,ক্রীড়াবিদদের আবেদন

আবরার ফাহিম চৌধুরী
২৫৫ ৫৯৩ বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি বাংলাদেশ আর্কাইভস কমিটি সংক্রান্ত তথ্য নওশীন তাসনিম
২৫৬ ৫৯৪ বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষা সম্পর্কিত আলোচনা সভাসমূহের কার্যবিবরণী নওশীন তাসনিম
২৫৭ ৫৯৭ বাংলাদেশকে সমর্থন এবং স্বীকৃতির জন্য সরকারকে রাজি করানোর অনুরোধ জানিয়ে বৃটিশ জনগণের প্রতি আহ্বান নিগার সুলতানা
২৫৮ ৫৯৮ পাকিস্তান ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিতে টাকা না রাখার জন্য প্রবাসী বাঙালিদের প্রতি আহবান কাজী সাদিকা নূর
২৫৯ ৫৯৯ ব্রাডফোর্ডের বাংলাদেশ সংগ্রাম পরিষদের ২৫শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত সভার প্রস্তাবাবলী কাজী সাদিকা নূর
২৬০ ৬০০ স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে রচিত বাংলাদেশের কবিগান কাজী সাদিকা নূর
২৬১ ৬০৬ লন্ডনে গঠিত   বাংলাদেশ গণ-সংস্কৃতি সংসদের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী সম্পর্কে প্রতিবেদন নাবিলা ইলিয়াস তারিন
২৬২ ৬০৭ বৃটেনে গঠিত   বাংলাদেশ গণ-সংস্কৃতি সংসদ প্রচারিত স্বাধীনতা সংগ্রামের গান(বাংলা ও ইংরেজী) নাবিলা ইলিয়াস তারিন, কাজী সাদিকা নূর
২৬৩ ৬০৯ বৃটেনে গঠিত   বাংলাদেশ গণ-সংস্কৃতি সংসদের কর্মকর্তাদের নামের তালিকা নাবিলা ইলিয়াস তারিন
২৬৪ ৬১০ লন্ডনে বাংলাদেশ মিশন প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে নীতিগত সম্মতি জানিয়ে মুজিবনগর থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সহযোগীর চিঠি শওকত ইসলাম রিপন
২৬৫ ৬১১ লন্ডনের হাইডপার্কের সমাবেশে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর ভাষণের বিবরণী শওকত ইসলাম রিপন
২৬৬ ৬১৩ লন্ডনের হাইডপার্কের সমাবেশে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর ভাষণের বিবরণী আল-জাবির মোহাম্মদ, খন্দকার কাফি আহমেদ
২৬৭ ৬১৮ আন্দোলনের কতিপয় দিক সম্পর্কে মুজিবনগর সরকারের বহিবিশ্ব প্রচার বিভাগের মওদুদ আহমেদের প্রতি স্টিয়ারিং কমিটির আহবায়কের চিঠি অনুরাধা চৌধুরী
২৬৮ ৬১৯ স্টিয়ারিং কমিটির প্রতি একটি কনভেনশন কমিটি গঠনের আহবান সম্পর্কিত প্রবাসী নেতৃবৃন্দের বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ অনুরাধা চৌধুরী
২৬৯ ৬২০ লন্ডনে আয়োজিত বাংলাদেশের স্বীকৃতি মিছিলের কর্মসূচী-পুস্তিকা নন্দন দেব
২৭০ ৬২৪ বৃটেনে পাকিস্তান হাই কমিশনের বাঙ্গালী কূটনীতিক মহিউদ্দিন আহমেদের বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য জ্ঞাপনোপলক্ষে আয়োজিত সভার বিজ্ঞপ্তি নাজিয়া বিনতে রউফ
২৭১ ৬২৫ ট্রাফালগা স্কোয়ারে প্রদত্ত ১লা আগস্টের ভাষণ সম্বলিত পুস্তিকা প্রকাশের ব্যাপারে আবু সাইদ চৌধূরীকে লিখিত চিঠি নাজিয়া বিনতে রউফ
২৭২ ৬২৬ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বিচারের বিরুদ্ধে বৃটেনের পত্রপত্রিকায় প্রতিবাদ প্রকাশনার আহবান নাজিয়া বিনতে রউফ
২৭৩ ৬২৭ দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ড অঞ্চলের পক্ষে কনভেনশনের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রতিক্রিয়া সম্বলিত একটি চিঠি নাজিয়া বিনতে রউফ
২৭৪ ৬২৮ লন্ডনস্থ মুকুল এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘জয় বাংলা’র প্রচারপত্র নাজিয়া বিনতে রউফ
২৭৫ ৬২৯ লন্ডনে আয়োজিত বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কর্মী সম্মেলনের বিজ্ঞপ্তি আফসানা আহমেদ রিয়া
২৭৬ ৬৩১ বাংলাদেশ গণ-সংস্কৃতি সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রতিবেদন সজীব কুমার সাহা
২৭৭ ৬৩৩ লন্ডনে ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ গণ-সংস্কৃতি সংসদ আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রচারপত্র জেসিকা গুলশান তোড়া
২৭৮ ৬৩৪ জাতিসংঘে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব করার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক যাত্রার বার্তাসহ বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরির প্রতি মুজিবনগর থেকে প্রেরিত টেলিগ্রাম আল-জাবির মোহাম্মদ
২৭৯ ৬৩৫ মুক্তিযুদ্ধের ছয়মাস উপলক্ষে লন্ডনের সাপ্তাহিক ‘জনমত’ এর আবেদন জেসিকা গুলশান তোড়া
২৮০ ৬৩৬ ব্রিটেনের এনফিল্ড এ্যাকশন কমিটির পক্ষে চাঁদা আদায়ের রশিদ বই সংক্রান্ত অভিযোগসহ বাংলাদেশ ফান্ডের ট্রাস্টি জন স্টোনহাউস এমপি-কে লিখিত চিঠি নিগার সুলতানা
২৮১ ৬৩৮ ম্যানচেস্টারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার আমন্ত্রণ জানিয়ে বাঙ্গলাদেশ গণ-সাংস্কৃতিক সংসদের প্রতি চিঠি নিগার সুলতানা
২৮২ ৬৩৯ মৌলভীবাজার এ্যাসোসিয়েশন নাম দিয়ে কতিপয় ব্যাক্তির ক্ষতিকর কার্যকলাপের প্রতিবাদ জানিয়ে বৃটেন প্রবাসী মৌলভীবাজারের অধিবাসীদের চিঠি সজীব কুমার সাহা
২৮৩ ৬৪০ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন এবং “বাংলাদেশ রিলিফ ফান্ডে” চাঁদা প্রদানের জন্য ছাত্র সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার আবেদন জানিয়ে বৃটেনের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উদ্দেশ্যে লিখিত চিঠি পুজা পলি
২৮৪ ৬৪৪ যুদ্ধকালে বৃটেনের বিভিন্ন শহরে মঞ্চায়িত নৃত্যনাট্য “অস্ত্র হাতে তুলে নাও” এর পান্ডুলিপি জিহাদ
২৮৫ ৬৫০ ১৬ অক্টোবর ম্যাঞ্চেস্টারে অনুষ্ঠিতব্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পোষ্টার রায়হান রানা
২৮৬ ৬৫১ প্রেরিত চাঁদার রসিদ চেয়ে লিবিয়া থেকে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে লেখা চিঠি রায়হান রানা
২৮৭ ৬৫২ দক্ষিণ ইংল্যান্ড ও আঞ্চলিক এ্যাকশন কমিটির সম্পর্কে মতানৈক্যের প্রশ্নে আয়োজিত সভায় উপস্থিতির জন্য কনভেনশন কমিটির আহবায়কের বিজ্ঞপ্তি আরেফিন
২৮৮ ৬৫৩ ওল্ডহ্যামে গঠিত বাংলাদেশ ইয়ুথ লীগের সংগৃহীত অর্থ সদ্ব্যবহারের উপদেশ কামনা করে স্টিয়ারিং কমিটিকে চিঠি কাজী সাদিকা নূর
২৮৯ ৬৫৪ প্রবাসে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব সংবলিত বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর কাছে গণ-সংস্কৃত সংসদের পক্ষে পেশকৃত গোপন প্রতিবেদন আরিফ রায়হান
২৯০ ৬৫৮ ঈদের ফেতরাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যান্য সাহায্যের জন্য বাংলাদেশ মহিলা সমিতির আবেদন জেসিকা গুলশান তোড়া
২৯১ ৬৬০ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সমর্থন ও সহযোগিতার আহবান জানিয়ে ব্রিটেনের লিবারেল পার্টির ১৯৭১ সালের কনফারেন্সে আগত প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে প্রচারিত আবেদন সাদ্দিউন ফাহাদ জয়
২৯২ ৬৬২ বৃটেনে গঠিত বাংলাদেশ গণ-সংস্কৃতি সংসদের সভাপতি ড. এনামুল হকের চিঠিপত্র ও যোগাযোগ জয়ন্ত সেন আবীর, রায়হান রানা, শওকত ইসলাম রিপন
২৯৩ ৬৭৪ ইংল্যান্ডে গঠিত বাংলাদেশ তহবিল ও একশন কমিটিসমূহের স্টীয়ারিং কমিটির আয় ব্যয়ের হিসাব শওকত ইসলাম রিপন, নাবিলা ইলিয়াস তারিন, নওশীন তাসনিম
২৯৪ ৬৯৪ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আবুল এইচ. সাদউদ্দিনের চিঠিপত্র শিরোনামহীন-১
২৯৫ ৬৯৯ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাঙ্গালীদের প্রচারিত ‘টু এ্যাপিলস’ শিরোনামহীন-১
২৯৬ ৭০১ পাকিস্তানের ওয়াশিংটন দূতাবাসে বাঙ্গালি কূটনীতিকের প্রতি অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদলিপি শিরোনামহীন-১
২৯৭ ৭০২ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে বাঙ্গালী কূটনীতিক এ.এম. মুহিতের স্মারকলিপি নাজিয়া বিনতে রউফ
২৯৮ ৭০৬ পাকিস্তানের সরকারী চাকুরী ত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য জ্ঞাপনের কারণ সংবলিত বাঙলি কূটনীতিক এ. এম. এ. মুহিতের বিবৃতি সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক
২৯৯ ৭০৮ পাক সামরিক জান্তার অধীন গভর্নর মালিকের নিকট জনাব মুহিতের চিঠি সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক
৩০০

 

 

বৃটেনে প্রবাসী বাংগালীদের তৎপরতা

 

<৪, ১, ২-৩>

শিরোনাম সূত্র তারিখ
১। বৃটেনে গঠিত ‘ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট’ কর্তৃক স্বাধীনতা সংগ্রামের আহবান ‘ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট নিউজ’ নভেম্বর ১৯৭০

 

এম এ ভূঁইয়া কর্তৃক প্রকাশিত। আহ্বায়ক এবং ডেপুটি আহ্বায়ক এম আহমেদ

অনুলিপি বিভাগ কর্তৃক পরিবেশিত , ১২৯ সোহো হিল, ব্রামিংহাম ১৯

 

ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট নিউজ

২৯ শে নভেম্বর ১৯৭০, রবিবার দুপুর ২:০০ ঘটিকায় ডিগব্যাথসিভিক হলে ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আয়োজিত সভায় মিডল্যান্ড থেকে আনুমানিক দুই হাজার বাঙালী অংশগ্রহণ করেন।

প্রাক্তন ছাত্রনেতা জনাব তারিক আলি সভায় বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, “ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ সমগ্র এশিয়ার জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে”। তিনি আরও বলেন, ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনামলে একটি কথা প্রচলিত ছিল যে, “বাঙালী আজকে যা চিন্তা করতে পারে, ইন্ডিয়ার মাথায় সেটা আসে তার পরদিন”।

সভার আহ্বায়ক, জনাব আজিজুল হক ভূঁইয়া অবিলম্বে পূর্ব-পাকিস্তানের পূর্ণ স্বাধীনতার ডাক দেন; নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তসমূহ কোনরূপ ভিন্নমত ব্যতীত সভায় গৃহীত হয়।

ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের এই সভায়ঃ

১. ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া ও তার সামরিক সরকারের ঔদাসীন্য ও ইচ্ছাকৃত অদক্ষতা প্রদর্শন এবং মৃতের সংখ্যা যথাসাধ্য কমিয়ে দেখানোর চেষ্টার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়। এমতাবস্থায়, দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে ১০০,০০০ মানুষের মৃত্যুর জন্য আমরা রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানকে সরাসরি দায়ী বলে মানি। পাকিস্তান সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতো তবে এই মানুষগুলোকে বাঁচানো যেত। তাই আমরা অবিলম্বে ইয়াহিয়ার পদত্যাগ দাবী করছি।

২.সাম্প্রতিক সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড়ের পরিপ্রেক্ষিতে সক্রিয়ভাবে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম তদারকি করার জন্য এবং ত্রাণ কার্যক্রম যেন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর একার দায়িত্বে ছেড়ে না দেয়া হয় সেটা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস, রেডক্রিসেন্টও চীন, রাশিয়া থেকে অনুরূপ সংস্থাসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে আন্তর্জাতিক কমিটি গঠন করতে হবে। কারণ পাকিস্তানী বাহিনী মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয় ও বাঙালীর তাদের উপর কোন ভরসা নেই।

৩. বন্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ও ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদির বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা (যেমন, স্থান খালি করা, দ্রুত সতর্কতা, আশ্রয়ের ব্যবস্থা) গ্রহণ করার জন্য বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রসমূহের সাথে সমঝোতায় আসতে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কয়েক বছর আগে চীন সরকার এরকম কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করার শর্ত-বিহীন প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়।

৪. ঢাকা বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণা করতে হবে যেন জরুরী সংকটময় অবস্থায় এটি আরও দক্ষতার সাথে ব্যবহার করা যায়।

৫. সভায় পশ্চিম পাকিস্তানের পুঁজিবাদী সরকারের চালানো শোষণ – নিপীড়নের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। বিগত ২৩ বছর যাবৎ বিশ্বাসঘাতকতার শিকার সাড়ে সাত কোটি বাঙালী নিজেদের রক্ষাকর্তা হিসেবে ১১০০ মাইল দূরের কোন সরকারের উপর আর নির্ভর করতে রাজী নয়। এই সরকার যারা বাঙালীকে নিরাপদে রাখতে পারে না, এমনকি নিরাপদে রাখতে চায়ও না, এই দুর্যোগের সময় তাদের মুখোশ ভালমতোই খুলে গেছে। তাই বাঙালী তাদের স্বাধীনতার চূড়ান্ত দাবী ঘোষণা করছে।

“পূর্ব-পাকিস্তান জিন্দাবাদ”

 

ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট

ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট হল পূর্ব-পাকিস্তানের ছাত্র ও শ্রমজীবী জনতা দ্বারা গঠিত একটি বিপ্লবী সংগঠন যাদের একটিই আদর্শ আর সেটা হল পশ্চিম-পাকিস্তানের পুঁজিবাদ অধীনস্থ সরকারের নির্মম শোষণ ও আধিপত্যের হাত থেকে পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণকে মুক্ত করা। একইরকমভাবে তারা মনে করে যে পশ্চিম-পাকিস্তানের সাধারণ জনগণও একই পুঁজিবাদী শ্রেণী দ্বারা শোষিত হচ্ছে এবং তাদের মুক্তির ডাক তাদের ভিতর থেকেই আসতে হবে।

তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে পূর্ব-পাকিস্তান হবে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন দেশ যার থাকবে জনতার সরকার এবং পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণের চাহিদার সাথে খাপ খাওয়ানো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। দেশের কৃষি ও শিল্প ব্যবস্থা এমনভাবে উন্নত করতে হবে যেন দেশের সকল সম্পদ দেশের জনগণের জীবনযাত্রার সামগ্রিক অগ্রগতির কাজে ব্যবহার করা যায়। কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণী সম্পূর্ণরূপে স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবে। শাসক শ্রেণীর যেকোনো বৈষম্যের বিরুদ্ধে ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়াই করবে।

ফ্রন্ট বিশ্বাস করে যে পূর্ব-পাকিস্তানের সাথে অনেকদিন ধরে ধর্মের নামে বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে। নিজেদের স্বার্থ নিজেরা দেখভাল করতে পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণ যথেষ্ট-মাত্রায় সক্ষম। পশ্চিম-পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক সরকারের আধিপত্য থেকে এই দেশকে মুক্ত করতে সাড়ে সাত কোটি বাঙালী আজ সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ।

সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর স্বপ্নের স্বাধীন পূর্ব-বাংলা গঠনে ফ্রন্টের সাথে আছে আশীর্বাদ ও সমর্থন। প্রতিটি বাঙালীর অন্তরে লুকিয়ে আছে স্বাধীন পূর্ব-বাংলার স্বপ্ন।

পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণকে ঔপনিবেশিক আধিপত্য ও পুঁজিবাদী শোষণের হাত থেকে মুক্ত করতে ফ্রন্ট তার স্বাধীনতার সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। স্বাধীন পূর্ব-পাকিস্তান দীর্ঘজীবী হোক।

 

পূর্বপাকিস্তান জিন্দাবাদ

<৪,২,৪-৭>

শিরোনাম সূত্র তারিখ
২। ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের মুখপাত্র ‘বিদ্রোহী বাংলা’-র প্রকাশিত তথ্যাবলী ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট ২১ মার্চ, ১৯৭১

 

বিদ্রোহী বাংলা

বিদ্রোহী বাংলা: পাক্ষিক পত্রিকা: ৩য় সংখ্যা: বার্মিংহামরবিবার, ২১ মার্চ, ১৯৭১

আটজন বাঙ্গালী সৈন্যের নির্মম মৃত্যু

চট্টগ্রাম ৮ই মার্চডেইলি টেলিগ্রাফে প্রচারিত আটজন বাঙ্গালী সৈন্যকেফায়ারিং স্কোয়াডকর্তৃক গুলি করিয়া হত্যা করা হয়। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিলের উপর গুলি চালাইতে বলা হইলে ৮জন অল্প-বয়স্ক অফিসার গুলি চালাইতে অস্বীকার করে। তাহারা বলে যে নিরস্ত্র জনসাধারণের উপর গুলি চালান সৈনিকের কাজ নয়। তাদের কাজ বৈদেশিক আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করা। উক্ত প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ সামরিক কর্মকর্তা তাদেরকে প্রকাশ্য ময়দানে গুলি করিয়া মারার হুমকি দেয় এবং অনতিবিলম্বে পাঞ্জাবী ফায়ারিং স্কোয়াডের সৈন্যগণ তাদের গুলি করে হত্যা করে। পৃথিবীর ইতিহাসে এ ধরনের নজির আর কোথাও দেখা যায় না। এই শহীদ সেনানীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা ছাড়া বাঙ্গালিদের আর কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়।

পাকিস্তানি ব্যাংকগুলির দুষ্কৃতি

পুঁজিপতি শোষকদের সবচেয়ে মারাত্মক শোষণ-যন্ত্র হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তানি ব্যাংকগুলি। ইদানিং পূর্ব পাকিস্তানের উপর অত্যাচার, হয়রানী ও হত্যার প্রতিবাদে ও আমানত খেয়ানতের ভয়ে বাঙালীগণ তাদের নিজের জমা ব্যাঙ্ক থেকে তুলতে গেলে পশ্চিম পাকিস্তানি তথা পাঞ্জাবিগণ (উচ্চ এবংনিম্নপদস্থসমবায়ে) তাদের সঙ্গে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যভাবে ব্যবহার করে এবং রীতিমত বিদ্বেষভাব প্রদর্শন করে শুধু তাই নয়, যাও অল্পসংখ্যক (নিম্নপদস্থ) বাঙালী কর্মচারী সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানেকাজ করে তাদেরকে পরোক্ষভাবে নাজেহাল করে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে।

এক্ষেত্রে সকল বাঙালিরই উচিত এই সমস্ত কুখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা এবং তাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে অসহযোগ করা। সবচেয়ে মজার বিষয় এই যে এর মধ্যে দু’-একজন বাঙালি তাঁবেদার এখনও সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। মীরজাফর এখনও জন্ম নিচ্ছে। সাবধান, এদের কথায় যেন ভুল করবেন না।

আর কত দিন?

গত ১৬ই মার্চ ঢাকা থেকে প্রাপ্ত খবরে প্রকাশ, “ইয়াহিয়া-মুজিব” আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে কোন প্রকার সমঝোতায় এখনও পৌঁছতে পারেননি। ইয়াহিয়ার সঙ্গে আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে আসার পথে সাংবাদিকগণ “জয় বাংলা” ধ্বনি করিয়া শেখ মুজিবকে সংবর্ধনা জানায়। কিন্তু শেখ মুজিবকে তাতে খুব প্রফুল্ল দেখায়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি শুধু “আমাকে এখন জিজ্ঞেস করবেন না” বলে গাড়িতে উঠে পড়েন। গাড়ি চলতে শুরু করলে বাঙালি সাংবাদিকগণ ঘন ঘন “জয় বাংলা” ধ্বনি করিয়া শেখ মুজিবকে বিদায় সংবর্ধনাজ্ঞাপন করেন। সেনাবাহিনীর জনৈক উচ্চপদস্থ কর্মচারী জয় বাংলা ধ্বনি করিয়া ১০ বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডের ভয় দেখান। কিন্তু সাংবাদিকগণ তাতে মোটেই কর্ণপাত করেননি। দু’দিন আগেই হোক আর পরেই হোক জোড়াতালির পাকিস্তান আর কয়দিন।

আপোষ না সংগ্রাম (সম্পাদকীয়)

পূর্ব বাংলার জনসাধারণের এই অসহযোগ আন্দোলন নিয়ে এসেছে এক গণবিপ্লবের জয়জয়কার। এ গণবিপ্লব শুধু বাংলাদেশ আর পাকিস্তানই নয়, ভারত এবং দুরপ্রাচ্যে গণবিপ্লবের এক নতুন অধ্যায় খুলে ধরেছে।

মার্শাল এবং মিলিটারি নির্যাতন সত্ত্বেও বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলন যে গতিতে এগিয়ে চলেছে তাকে রোধ করা পাকিস্তানি পুঁজিপতি কেন সারা পৃথিবীর সাম্রাজ্যবাদীরা মিলেও রোধ করতে পারবে না।

গত ২৩ বছরের শোষণ নির্যাতন এবং বিড়ম্বনা আজ যতটা নগ্ন হয়ে পড়েছে তা বাঙালি কোনদিন কোনক্রমেই ক্ষমতা করতে পারবে না। তাই বাংলা মায়ের যোগ্য সন্তানেরা অকাতরে ঢেলে দিয়েছে তাদের তাজা কাঁচা তরুণ লাল রক্ত। তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে রূপায়িত করার জন্য বাংলার আনাচে-কানাচে আজ ধ্বনিত হচ্ছে “জয় বাংলা” বজ্রনিনাদ। বাংলার কিশোরেরা প্রস্তুত হচ্ছে মিলিটারিদের সঙ্গে লড়াই করারজন্য।তীর ধনু আর বাঁশের লাঠি নিয়ে বেরিয়ে পড়ার জন্য সার সার কাতারবন্দি হয়ে আছেনব বাংলার নতুন ক্ষুদিরাম আর তোরাব আশরাফ। কৃষাণ তৈরী হচ্ছে লাঙল রেখে, শ্রমিক আসছে কারখানা ছেড়ে, ছাত্রেরা বেরিয়ে এসেছে বিদ্যালয় থেকে। এরা সম্মিলিতভাবে আজ আওয়াজ তুলছে জুলুমের বিরুদ্ধে। এই শ্রেণিযুদ্ধে সাধারণের জয় অনিবার্য।

শোষক শ্রেণী বুঝতে পারছে তাদের পরাজয়ের কাল-কুক্ষণ থেকে দূরে নয়। আজ আমাদের এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপকে বানচাল করার জন্য আপোষের বায়না নিয়ে হাজির হয়েছে কুচক্রী “ইয়াহিয়া”। এক্ষেত্রে আপোষ করা হবে বিপ্লবের এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং তরুণদের আত্মবলির অপমৃত্যু। তাই আজ আমাদের কর্তব্য অচল-অটলভাবে আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও আপামর জনসাধারণের শ্রেণীশত্রুদের নিঃশেষ ও নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে বিপ্লবী সংগ্রাম। সংগ্রামই মুক্তির একমাত্র পথ। “মুক্তির একই নাম-সংগ্রাম”।

 

________________________

সবুজ বাংলা লাল হলো

আজিজ আল মোজাহিদ

 

মার্চ মাসের ৩ তারিখ বুধবার জাতীয় পরিষদের সম্মেলন শুরু হবার কথা। ১২ বছরের মিলিটারি শাসনের অবসান, উৎপীড়ন ও শোষণ শেষ হবে। জনসাধারণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভার নেবে জাতীয় বিভিন্নমুখী সমস্যা সমাধানের। গণতান্ত্রিক নিয়মে নির্ধারিত হবে দেশের ভবিষ্যৎ।

হঠাৎ করে পশ্চিম পাকিস্তানি নেতা ভুট্টো সাহেব ঘোষণা করলেন, তিনি অসহযোগ করবেন জাতীয় পরিষদের প্রথম বৈঠকে। কারণ ইসলামী ভ্রাতৃত্বের নামে কায়েমী স্বার্থবাদী শোষণ বোধ হয় আর সম্ভব হয়ে উঠবে না।

তাই ইয়াহিয়াকে তিনি কানে কানে বুঝালেন। বাঙালিরা এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ। নিয়মতান্ত্রিক ভিত্তিতে এগুতে গেলে বাঙালির জয় হবে সুনিশ্চিত। বাঙালিরা ২৩ বছর থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে তাদের ন্যায্য দাবীদাওয়া এবং পাওনা থেকে।

তাই এবার তাদের পাওনা আদায় করবে কড়ায়-গন্ডায়।

শেখ মুজিব তার ছ’দফা ভিত্তিক দাবী আদায় না করে ছাড়বেন না। তাতে পাঞ্জাব রাজের শোষণনীতি ব্যাহত হয়ে পড়বে। ধসে পড়বে ঔপনিবেশিক শোষণের পথ, বন্ধ হয়ে যাবে পশ্চিম পাকিস্তানের দালান, ইমারত রাস্তাঘাট ও ড্যাম নির্মাণের কাজ।তাই যেমন করেই হোক বাংলাকে তার দাবী থেকে হঠাতে হবে বন্দুক দেখিয়ে। আর বন্দুকের বাহক পাঞ্জাবী মিলিটারির সাহায্যেচলতে থাকবে অবাধ শোষণ। ইয়াহিয়া খান ভাবলেন কথা মন্দ নয়। নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে দিয়ে যে ভুল করা হয়েছে তাকে শোধরাতে হলে এই একমাত্র পথ।

নির্বাচনের পূর্বে যে মনোভাব নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ দিয়েছিলেন, তা আর হয়ে উঠে নি। আশা ছিল মৌদুদী সাহেবকে দিয়ে ইসলামের দোহাই দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হবেন। তাদের পাক্কা ২৩ বছরের অভিজ্ঞতা, বাংলার মানুষের মুখ বন্ধ রাখার একমাত্র উপায় ইসলাম। তা এবারে আর হয়ে ওঠেনি। মৌদুদীর “ইসলাম ডুবে গেল” কথার অর্থ যে কি, বাংলার জনসাধারণ তা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বুঝে নিয়েছে। ফল হলো সম্পূর্ণ উল্টো। জয়ী হলো বাংলার ছ’দফা। ছাই পড়লো বুর্জোয়া মিলিটারিগোষ্ঠী ও শোষণকারী পুঁজিপতিদের মুখে।

হেন অবস্থায় কি করা যায়? ‘পাঞ্জাব রাজ’ যে ডুবে যায়!তাই হুট করে বুদ্ধি নিলেন বন্দুক হাতে নেওয়ার। বন্দুক দেখলে বাঙালি হয়তো আর এগুবে না।

তাই বিমান ভর্তি করে আমদানি করা হলো পাঞ্জাবি মিলিটারি। পূর্ব বাংলার পথে-ঘাটে, শহরে-বন্দরে বেরিয়ে পড়ে খুনী রক্তপিপাসু নরঘাতকের দল। নারী-শিশু-পুরুষ নির্বিশেষে চালিয়ে গেল আমেরিকান বুলেট। হাজার হাজার বাঙালি রুখে দাঁড়ালো মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে। সবুজ বাংলার শান্তিপ্রিয় সন্তানরা এবার বিপ্লবী হুংকারে বেরিয়ে এল রাজপথে। বিপ্লবীদের রক্তে লাল হয়ে গেল বাংলার মাটি। সবুজ বাংলা লাল হলো মিলিটারির গুলিতে। এ লালের লেলিহান রক্তিম আভায় লাল হয়ে উঠবে শুধু বাংলা নয়, সমগ্র দুরপ্রাচ্য।তা প্রতিরোধ করার চেষ্টায় ধ্বংস হয়ে যায় শোষণকারী পুঁজিপতি আর তাদের পদলেহী মানবতার শত্রু বুর্জোয়া শয়তানের দল।

হত্যার প্রতিবাদে

 

গত ৫ই মার্চ শুক্রবার পূর্ব পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের সদস্যগণ পূর্ব পাকিস্তানে মিলিটারি নির্যাতন ও নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে লন্ডনস্থিত পাকিস্তান হাই কমিশন ভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। হাই কমিশনের দেওয়ালে দেওয়ালে “জয় বাংলা” “স্বাধীন বাংলা” ইত্যাদি শ্লোগান লাল কালিতে লিখে দেন।

ফ্রন্টের সদস্যদের সঙ্গে লন্ডনের কিছুসংখ্যক ছাত্র যোগদান করেন। বিক্ষোভকারীগণ পথচারীদের হাতে তাদের স্মারকলিপি প্রদান করেন। তারপর বিদেশী সংবাদপত্রের সংবাদদাতাদের উপস্থিতিতে ও BBC Television camera-এর সামনে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা এবং ইয়াহিয়া খানের ছবি জ্বালিয়ে এই কথা ঘোষণা করেন যে,বাঙালিদের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানিদের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না এবং স্বাধীনতা অর্জন না করা পর্যন্ত কোনমতেই তারা সংগ্রাম থেকে পিছপা হবে না।

লন্ডনে বাঙালিদের বিক্ষোভ

বাংলাদেশে ইদানিং অবিচার, অত্যাচার এবং নরহত্যার যে যজ্ঞ শুরু করা হয় তার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেট ব্রিটেইন-এ বসবাসকারী বাঙালিগণ লন্ডনে এক বিরাট বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন। এই মিছিল ৭ই মার্চ রবিবার অনুষ্ঠিত হয়।

ধর্ম, দল বা রাজনৈতিক মতামত নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর বাঙালি দশ ঘটিকা হতে GREAT BRITAIN-এর সকল প্রান্ত থেকে দলে দলে কোচ, ভ্যান, কার এবং রেলযোগ লন্ডনের হাইড পার্ক কর্নারে সমবেত হয় ও পার্কে পৌঁছবার সঙ্গে সঙ্গে জনতা “স্বাধীন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” “জয় বাংলা” “খুনী ইয়াহিয়ার মুণ্ডু চাই” ইত্যাদি ধ্বনি তুলে পশ্চিম লন্ডনের এই প্রান্তকে প্রকম্পিত করে তোলেন।

বিভিন্ন বক্তা বক্তৃতা করার পর জনতা পরম শৃঙ্খলার সঙ্গে পার্ক লেইন রাজপথ ধরে পাকিস্তান হাই কমিশন অভিমুখে যাত্রা করেন।

এই সময় রাস্তার সমস্ত যানবাহন বন্ধ হয়ে যায় এবং পুলিশের তত্ত্বাবধানে শ্লোগান দিতে দিতে হাই কমিশন অফিস প্রাঙ্গণে সমবেত হন।

ইতিমধ্যে দুরভিসন্ধিমূলক মনোভাব নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানি হাই কমিশনার আগে থেকে পুলিশ ডেকে বাধার সৃষ্টি করেন এবং হাই কমিশন ভবনের প্রবেশের দুই পাশের প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেন। ফলে জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পরে ‘হাই কমিশনার মহারাজ’ পুলিশ বেষ্টনি থেকে জনতাকে কিছু বলার চেষ্টা করেন।

ক্ষিপ্ত জনতা হাই কমিশনারকে ব্যানারে কাগজ এবং দন্ড ইত্যাদি নিক্ষেপ করে তার এই দুরভিসন্ধি দুষ্কর্মের প্রতিবাদ করেন। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ফলে জনাকয়েক বাঙালি আহত হন এবং একজনকে হাসপাতালে পাঠাতে হয়।

Metropolitan Police সূত্রে জানা যায় যে, ইংল্যান্ডের ইতিহাসে অশ্বেতাঙ্গদের এত বড় বিক্ষোভ মিছিল এই প্রথম।

আনুমানিক দশ হাজারের অধিক বাঙালি এই মিছিলে অংশগ্রহণ করে এই কথা আবার প্রমাণ করে দিলেন যে সুদুর পাঁচ হাজার মাইলের ব্যবধানেও জননী জন্মভূমি বাংলাদেশের ডাকে বাঙালিরা বিপুলভাবে সাড়া দিয়েছে। _______________________________________________________________

বিদ্রোহী বাংলা। পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা ফ্রন্ট কর্তৃক,৭১ রাইট স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত।বার্মিংহাম-১০, টেলিফোনঃ ০২১-৭৭২-৮৩২৭ এবং ০২১-৭৭২-৭২৪৮ : সম্পাদক সেলিম আহমাদ, এ.ইসমাইল এবং দিপু।

 

 

 

<৪,৩,৮>

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৩। বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে এবং স্বাধীনতার আহ্বানে শপথ সভার প্রচারপত্র। ‘জয় বাংলা’ বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটি। ২৮ মার্চ, ১৯৭১

 

জয় বাংলা

শপথ সভা,২৮শে মার্চ রবিবার,

স্মলহিথ পার্ক,বার্মিংহাম,বেলা ২ ঘটিকা

 

স্বাধীন বাংলাদেশের উপর বর্বর হামলা চালাচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তানি মিলিটারি। নরঘাতক রক্তপিপাসু পশ্চিম পাকিস্তানি সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের নবঘোষিত স্বাধীন সোনার বাংলাদেশকে ধ্বংস করার হীন ষড়যন্ত্রে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

তাদের আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য এসেছে বাংলার নর-নারী আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা; রক্তগঙ্গা বয়ে যাচ্ছে প্রতিটি শহর, বন্দর এবং গ্রামে। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষ কামান, বন্দুক আর বোমার সামনে প্রাণ দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। “বাংলাদেশ” আর তার সাড়ে সাত কোটি লোককে বাঁচাতে হলে চাই অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ- আর তার জন্য চাই আপনার সাহায্য। আসুন শপথ সভায় যোগ দিয়ে আমাদের এই জীবন-মরণ সংগ্রামকে সার্থক করে তুলি। আসুন, এই সভাতে দলে দলে যোগ দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বাংলার এই স্বাধীনতা আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তুলুন।

আহ্বায়ক

বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটি

 

জয় বাংলা!!

____________________________

<৪, ৫, ৯>

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৪। স্বাধীন বাংলা স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর বুলেটিন বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটি ৩ এপ্রিল, ১৯৭১

 

স্বাধীন বাংলা

সংক্ষিপ্ত সংবাদ

(রোজ মঙ্গলবার ৩রা এপ্রিল ১৯৭১ সন)

৬টি শহর মুক্তিসেনার হস্তগত

সর্বশেষ সংবাদে জানা গেছে যে সিলেট, ময়মনসিংহ, যশোর, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা মুক্তি বাহিনী নরঘাতক ইয়াহিয়ার সেনাবাহিনীকে তাড়িয়ে দিয়ে নিজের আয়ত্তে এনেছে।

যশোরে আমাদের মুক্তিসেনা শত্রুদের একটি বিমানধ্বংসী কামান ও ১০০ মেশিনগান দখল করে নিয়েছে। মুক্তিসেনার আক্রমণে শত্রুপক্ষ যশোর থেকে ৪ মাইল দূরে আশ্রয় নিয়েছে। খবরে আরও জানা গেছে যে কুমিল্লা প্রায় মুক্তিসেনার হস্তগত। সেখানে প্রায় ৩০০ পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্য ও ৫০০ মুক্তিযোদ্ধা মারা গিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সিলেটে ১০০ ছাত্রের মৃত্যু

রক্তপিপাসু পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্যরা একটি ছাত্রাবাসের উপর রাত্রি অন্ধকারে গুলিবর্ষণ করে ১০০ ছাত্রকে নির্মমভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করে।

পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র কর্তৃক পাকিস্তানের নিন্দা

রাশিয়া, জাপান, জাম্বিয়া ও কেনিয়া বাংলায় এ নৃশংস হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা করেন। সিনেটর কেনেডি মার্কিন সরকারকে অনুরোধ করেছেন যেন পাকিস্তানে সামরিক ও বেসামরিক সর্ব প্রকার সাহায্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

শত্রুসৈন্যদের খাদ্য সংকট

বাংলাদেশে খুনী ইয়াহিয়ার সেনাবাহিনী এক বিরাট খাদ্য সংকটেরসম্মুখীন বলে জানা গেছে। কোন বাঙালি তাদের খাদ্য সরবরাহ করছে না।

একটি আবেদন

বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটির RADIO MONITOR SERVICE থেকে প্রাপ্ত আবেদন হুবহু প্রকাশ করেছিঃ “বাংলার মুক্তিযোদ্ধারা আপ্রাণ যুদ্ধ করে যাচ্ছে।

পৃথিবীর সকল জাতির কাছ থেকে বিশেষ করে প্রবাসী বাঙ্গালীদের কাছে আমার আবেদন- অস্ত্রশস্ত্র, খাদ্যসামগ্রী ও সাহায্য পাঠাও”।

শেষ সংবাদ

১) জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল উ থান্ট পাকিস্তান থেকে সমস্ত জাতিসংঘের কর্মচারী অপসারণের আদেশ দিয়েছেন এবং পাকিস্তানে যে ১১টি উন্নত পরিকল্পনায় জাতিসংঘের সাহায্য ছিল তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

২) বাংলাদেশে ১২টি শহরের উপর ভীষণভাবে বোমাবর্ষণ করেছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে। তাতে হতাহতের সংখ্যা ১ লক্ষের অধিক হবে বলে অনুমান করা হয়।

 

প্রচার দফতর, বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটি।

৫২ ওয়ার্ড সওয়ার্থ রোড, স্মলহিথ বার্মিংহাম।

 

<৪,৫,১০>

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৫। বৃটিশ এমপি কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থন এবং সাহায্যের আশ্বাস ইস্ট পাকিস্তান এসোসিয়েশন এ আর খানের প্রতি বৃটিশ এমপি-র চিঠি ৩ এপ্রিল,১৯৭১

 

লোকসভা

লন্ডন, এস ডব্লিউ আই

ফ্র্যাংকজুড এমপি

৩রাএপ্রিল ১৯৭১

জনাব খান

আপনি এবং আপনার বন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাসমূহ সম্পর্কে আমার কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করায় আমি খুবই খুশি হয়েছি। আমিও আপনাদের উদ্বেগের ভাগীদার।কোনোরকম দ্বিধা না করে যেকোনো সময় আমাকে সাহায্যের কথা জানাবেন এবং তার জন্য আমি আপনাদের চিঠির অপেক্ষায় থাকব।

আপনার অনুগত

এস/ডি

আশা করি আপনাদের সমাবেশ সফল হয়েছে।

জনাব খান

পূর্ব পাকিস্তান এসোসিয়েশন

৬ ব্রিটানিয়া রোড

পোর্টসমাউথ।

 

 

 

 

<৪,৬,১১>

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৬।স্বাধীন বাংলাদেশের সমর্থনে ও স্বীকৃতির দাবীতে সারা বৃটেনে সভা ও শোভাযাত্রার আহবান

বাংলাদেশে ছাত্র সংগ্রাম

পরিষদের প্রচার পত্র

৩ এপ্রিল, ১৯৭১

 

স্বাধীন বাংলাদেশের সমর্থনে

এবং

স্বাধীন বাংলার স্বীকৃতির দাবীতে

বৃটেনের সকল শহর, বন্দর ও নগরে আগামী ৪ঠা এপ্রিল রবিবার

সভা ও শোভাযাত্রা করুন

লন্ডনে আগামী ৪ঠা এপ্রিল রবিবার বেলা দেড়টায় হাইড পার্ক স্পিকার্স কর্নারে দলে দলে জমায়েত হউন। আপনার দেশের স্বীকৃতির দাবীর জন্য বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলুনঃ আমার দেশ তোমার দেশ- বাংলাদেশ বাংলাদেশ। শোভাযাত্রা করে বৃটিশ সরকার এবং বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে গিয়ে স্বাধীন বাংলার স্বীকৃতির দাবী জানান।

 

বাংলাদেশ ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে ৩৬ গ্যামেজেস বিল্ডিং, ১২০ হবোর্ন ইসি-১ থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত। টেলিফোনঃ ০১-৪০৫-৫৯১৬/৭

_______________________

<৪,৭,১২>

শিরোনাম সুত্র তারিখ
৭। শেখ মুজিবুর রহমান এর গ্রেফতারের খবর এবং কমন্স সভার সদস্যগণ কর্তৃক পাকিস্তানের যুদ্ধ বিরতির আহবান সম্পর্কিত তথ্য জনাব এ আর খানের প্রতি ব্রিটিশ এমপি-র চিঠি ৬ এপ্রিল, ১৯৭১

 

 

এমপি ফ্রাঙ্কজুডের পক্ষ থেকে

৬ এপ্রিল, ১৯৭১

 

 

জনাব খান,

গত সপ্তাহে আপনি আমার সাথে দেখা করতে এসেছিলেন, এতে আমি আনন্দিত এবং আপনার পাঠানো ৫ এপ্রিলের চিঠিটি, যেটি আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি, সেটির জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আজ আমি আপনাকে লিখছি।

 

আপনি জেনে হয়ত খুশি হবেন যে, ইতিমধ্যে পাকিস্তান হাইকমিশনের একটি চিঠি তদন্তাধীন আছে এবং তিনি লিখেছেন:

 

“কিছুদিন আগে শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং বর্তমানে তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় আসা প্রতিবেদনগুলো এই পরিস্থিতির বিপরীত এবং অসত্য”।

 

এছাড়াও গতকাল সকালে হাউস অফ কমন্সে বিপুল সংখ্যক স্বাক্ষরসহ একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল এবং সরকারের প্রতি আমার আহ্বান ছিল পাকিস্তানে একটি অস্ত্র বিরতি সংঘঠিত করার।

 

বিনীত

এস ডি/-

 

জনাব এম এ রাজ্জাক খান

৬ ব্রিটানিয়া রোড

সাউথসি

পোর্টসমাউথ

 

 

 

 

 

 

 

_________________________

<৪,৮,১৩>

শিরোনাম সুত্র তারিখ
৮। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন এবং গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী নিধনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েবৃটিশ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সদস্যদের প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের বিবৃতি বাংলাদেশের এ্যাসোসিয়েশন স্কটল্যান্ড প্রকাশিত প্রচারপত্র ৪ এপ্রিল, ১৯৭১

 

 

ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সদস্যদের প্রতি একটি নিবেদন

 

প্রিয় সহযোগীবৃন্দ,

প্রতিটি দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে আরও অসংখ্য নাম আমাদের সেইসব সহযোগীদের নামের তালিকায় যোগ হচ্ছে যারা বাংলাদেশ (প্রাক্তনপুর্ব পাকিস্তান) এ পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক গনহত্যার শিকার। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রত্যক্ষ প্রতিবেদনসমূহে নিম্নলিখিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বৃন্দের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে: বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইন্নাস আলি, ইন্সটিটিউট অফ পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট মেডিসিনের পরিচালক অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, দর্শন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জিসি দেব, ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এস মুর্শেদ, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডঃ এ শরীফ, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জনাব এ রাজ্জাক, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষক ডঃ জে ঠাকুরদা, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জনাব এ ভট্টাচার্য, গণিত বিভাগের প্রভাষক জনাব এস আলি। তাছাড়া আরও হাজার খানেক ছাত্র এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

সন্দেহের অবকাশ নেই যে, এই ঘটনা একটি বড় শোকাবহ ঘটনার অংশ মাত্র যার পূর্ণ রূপ এখনও উন্মোচিত হওয়ার অপেক্ষায়।

বুদ্ধিজিবীদের মেরে ফেলার জন্য এই সংগঠিত রাজনৈতিক এই হত্যাকাণ্ডের গুরুত্ব ও ধরণ বিবেচনায় এনে আমরা দেশে আমাদের সহযোগীদের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ জানানোর অবশ্য প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।

বিনীত

স্কটল্যান্ডে উচ্চশিক্ষারত ঢাকা, চট্টগ্রাম

ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট

কলেজসমূহের সদস্যকর্মীবৃন্দ

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন

স্কটল্যান্ড

১৫ এল্ডনস্ট্রীট

গ্লাসগো, সি৩

১৪.৪.১৯৭১

 

<৪,৯,১৪>

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৯। বাংলাদেশে গণত্যার প্রতিবাদ ও স্বাধীনতার প্রতি সমর্থনের জন্য চার্চসমুহের প্রতি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, স্কটল্যান্ড সভাপতির আহ্বান প্রচারপত্র

এপ্রিল,

১৯৭১

 

 

চার্চসমুহের প্রতি নিবেদন

 

বাংলাদেশ ( প্রাক্তন পূর্ব পাকিস্তান) থেকে প্রেরিত সকল প্রত্যক্ষ প্রতিবেদন স্বনামে নিশ্চিত করেছে যে, পরিস্থিতি সেখানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হাজার হাজার মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাদের হাতে নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ অনাহারে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। পূর্ব পাকিস্তানে ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত সহায়তার জন্য বৃটিশ ত্রাণ সমন্বয়ক ইয়ান ম্যাকডোনাল্ডের মতে,

 

 

“পনের লাখ মানুষ বর্তমানে অনাহারে রয়েছে (অথবা বলা যায় যে, তারা সপ্তাহ খানেকের মধ্যে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়বে যদিনা বাহিরের দেশ থেকে সাহায্য তাদের কাছে না পৌঁছায়)। এরাহল সেই সম্পূর্ণ নিঃস্ব মানুষরা, যারা গত বছরের ঘূর্ণিঝড় থেকে বেঁচে ফিরেছিল এবং যারা সম্পূর্ণভাবে বাহিরের ত্রাণের উপর নির্ভরশীল যখন দেশের বাকি অংশের শস্য নষ্ট হয়ে যায়, আরও ত্রিশ লাখ মানুষ এই দুর্দশাপুর্ণ অবস্থার মুখে পড়বে। তারাও সম্পূর্ণ রূপে বাহিরের ত্রাণের উপর নির্ভর করতে শুরু করবে এবং এই ত্রাণ তাদের কাছে পৌছাতে ব্যর্থ হলে তারাও কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়বে.”……… (দ্য পিস নিউজ, এপ্রিল ২৩, ১৯৭১)

 

পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের এই পরিস্থিতি সমাধানের জন্য কোন উদ্দেশ্য নেই। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতিও দেয়া হয়নি। পাকিস্তান সরকার কি অনাহারের মাধ্যমে নতি স্বীকার করানোর চেষ্টা করছে? সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ সে কথাই বলছে।

 

সুতরাং, আমাদের সবার জন্য একমাত্র সমাধান হল একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ উদ্যোগ স্থাপন করা যা পাকিস্তানি সরকার আপত্তি করবে না বা করার সাহস করবে না। কোন সন্দেহ নেই যে, আপনাদের তত্ত্বাবধানে চালিত ত্রাণ সংস্থা সবার আগে এগিয়ে এসে এই পরিস্থিতিকে প্রতিহত করবে। কিন্তু সময় ক্ষেপণ করলে অনেক বেশি দেরি হয়ে যাবে।

 

আমরা আশাবাদী যে, আপনাদের সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যের একটি তড়িৎ প্রচেষ্টা বাংলাদেশের জনগণকে ভয়াবহতা ও মৃত্যু থেকে বাঁচাতে সক্ষম হবে।

 

১৫ এল্ডনস্ট্রীট

 

গ্লাসগো,সি ৩

টেলিফোনঃ ০৪১-৩৩-৬৫৭৯

 

সভাপতি

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন

স্কটল্যান্ড

<৪,১০,১৫>

শিরোনাম সুত্র তারিখ
১০। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থনের জন্য বৃটিশ জনগণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, স্কটল্যান্ডের আহ্বান প্রচারপত্র ১৬ এপ্রিল, ১৯৭১

 

বৃটিশ জনগণের প্রতি একটি নিবেদন

আপনারা জেনে থাকবেন যে, ১৯৪৭ সালে সাবেক বৃটিশ ইন্ডিয়ার সময়কালে পাকিস্তান হাজার মাইলের ব্যবধানে দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল যেটি সম্ভব হয়েছিল ১৯৪০ সালে গৃহীত লাহোর প্রস্তাব দ্বারা, যেখানে বলা হয়েছিল,“…… যেসব এলাকায় মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, যেমন ভারতের উত্তর-পশ্চিমাংশ ও পূর্বাংশ, সেসব একত্রিত হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করবে যেখানে সংগঠনকারী একক গুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম”।

১২ কোটি পাকিস্তানীর মধ্যে সাড়ে সাত কোটি মানুষ পূর্ব পাকিস্তানের, যারা শুরু থেকেই বেসামরিক বা সামরিক পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের কর্তৃক সকল প্রকার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে যাতে সরকার পূর্ব পাকিস্তানে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শোষণ বজায় রাখতে পারে।

শেখ মুজিব, যিনি গত ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে উদিত হয়েছিলেন, তাকে পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কর্তৃক সরকার গঠন করতে দেয়া হয়নি যেহেতু মুজিবের পাকিস্তানের ভাবাদর্শের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ৬ দফা কর্মসূচিরউদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি শোষণের অবসান ঘটানো। সাড়ে সাত কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত কে সম্মান জানানোর পরিবর্তে বর্বর সামরিক জান্তা বাংলায় বন্দুক,ট্যাংক, কামান ও যুদ্ধবিমান পাঠাল হাজার হাজার শিশু, নারী ও পুরুষকেতাদের বাড়িতে,রোগীদের হাসপাতালে ও ছাত্রদের তাদের ছাত্রাবাসে হত্যা করার জন্য।

বাংলায় এখন যে গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে সেটি মানবতা ও মানবজীবনের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং এই গণতন্ত্রের আসন থেকেআমরা আপনাদের কাছে নিবেদন করছি বাংলাদেশের মানুষদের গণতান্ত্রিক উপায়ে জীবনযাপন করার জন্য তাদের এই সংগ্রামে সমর্থন প্রদান করার।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন

স্কটল্যান্ড

<৪,১১,১৬-১৭>

অনুবাদকঃ মুশররাত আলম মৌ

শিরোনাম সুত্র তারিখ
১১। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনরক্ষার প্রচেষ্টা চালানোর জন্য মার্কিন সিনেটরদের প্রতি ব্রিটেন-বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের আহ্বান বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের সভাপতির চিঠি ১৬ এপ্রিল, ১৯৭১

 

বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট

১০, লিচেস্টারগ্রোভ

লিডস ৭

যুক্তরাজ্য

১৬ এপ্রিল, ১৯৭১

মাননীয় সিনেটর,

যুক্ত্ররাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশ (প্রাক্তনপূর্ব পাকিস্তান)-এর পরিস্থিতির প্রতি যে উদ্বেগ জানিয়েছে তা আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সংগে জানাচ্ছি যে, পশ্চিম পাকিস্তানি বর্বরেরা আমাদের নিরাপরাধ ও নিরস্ত্র জনসাধারণের বিরুদ্ধে আপনাদের সরবরাহকৃত কামান ও বিমান ব্যবহার করছে। আমরা সবসময়ই যুক্ত্ররাষ্ট্রকে মুক্তি ও গণতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে বিবেচনা করে এসেছি, কিন্তু আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই পর্যন্ত আপনাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সহযোগিতার পরিমাণ বিবেচনা করে আমরা কিছুটা হতাশ।

তা সত্ত্বেও, এ ধরণের পরিস্থিতিতে যেসব কূটনৈতিক সমস্যার উদ্ভব হয়, তা আমরা উপলব্ধি করতে পারছি। কিন্তু এটাও আমরা জানাতে চাই যে, বাংলাদেশের উত্থান শুধু কষ্টসাধ্যই নয়, ব্যতিক্রমীও ছিল। আমরা ধারণা করছি আপনারা জানেন যে, পাকিস্তান আন্দোলনের ভিত্তি ছিল ১৯৪০ সালে উত্থাপিত লাহোর প্রস্তাব যেখানে বলা হয়েছে,

“অখণ্ড ভারত মুসলিম লিগের এই অধিবেশনের নির্ণীত ও বিবেচিত সিদ্ধান্ত অনুসারে কোন সাংবিধানিক পরিকল্পনা এই দেশে কাজ করবে না বা মুসলিম লীগের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষন না পর্যন্ত এটি নিম্নলিখিত কিছু মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিতহয় যেমন ভৌগোলিকভাবে সংলগ্ন এলাকাগুলোকে সীমানা নির্ধারণ করে প্রদেশ অনুসারে গঠন করা উচিৎ প্রয়োজন অনুসারে এলাকাভিত্তিক পুনঃসমন্বয়ের মাধ্যমে। যে সকল অঞ্চল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, যেমন ভারতের উত্তর-পশ্চিমাংশ ও পুর্বাংশ, তাদেরকে একত্র করে স্বাধীন রাজ্য গঠন করা উচিৎ যেখানে গঠনকারী এককগুলো হবে সার্বভৌম এবং স্বায়ত্তশাসিত।

ব্রিটিশ ভারত বিভাগের পরবর্তী সময়ে পশ্চিম পাকিস্তান খেয়ালমাফিকধারণা করে নিয়েছিল যে, লাহোর প্রস্তাবে দুই রাজ্যের সংস্থান একটি মুদ্রণজনিত ভুল এবং বাংলাদেশের উপর ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছিল। যাইহোক, আমরা ধারণা করে নিয়েছিলাম যে, এই বিষয়টি গণতান্ত্রিকভাবে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু বিগত ২৩ বছর ধরে পাঞ্জাবিরা সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে এবং যখন আমরা সর্বোপরি একটি সাধারণ নির্বাচনের জন্য জোর দিয়েছিলাম তখনই তারা তাদের আসল কদর্য রূপটি প্রকাশ করল। এখন এটি পরিষ্কার যে, এই পশ্চিমা অভিজাতরা স্পষ্টতই আসল ইংরেজদের চেয়ে নিজেরা অধিকতর ইংরেজ। তারা কখনই গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক সরকারের সংখ্যা গরিষ্ঠতার অধিকারকে বিশ্বাস করেনি (সংযুক্তি ‘ক’ দেখুন)।

অতএব, আগের রূপেই পাকিস্তানের অস্তিত্বের ব্যাপারে কোনরূপভ্রান্তি থাকা ঠিক হবে না। লাহোর প্রস্তাব দুইটি প্রদেশের পরিকল্পনা করেছিল; পাকিস্তানের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি বাঙালিদের উপর পাঞ্জাবি গণহত্যার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে এবং সেই সমস্ত মানুষদের কাছ থেকে গণতান্ত্রিক নিয়মকানুন আশা করার সম্ভাবনাও নেই যারা জন্মগত, প্রথাগত ভাবে সামন্তবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক ভাবে বেড়ে উঠেছে।

আমাদের নিবেদন থাকবে এটি উপলব্ধি করার যে, ইয়াহিয়ার চেয়ে মুজিবের বাংলাদেশের অনেক বেশি বৈধতা আছে (সংযুক্তি ‘খ’ দেখুন)।এবং বাংলাদেশকে অতিসত্বর একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করারও।

আমরা আমৃত্যু ইয়াহিয়ার বর্বর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ে যাব। আমরা জানি বিজয় আমাদের হবেই। আমরা আত্ববিশ্বাসী যে, আজ হোক বা কাল,এক সময় না এক সময় আমরা আপনাদের সরকারের সমর্থন পাবই। কিন্তু আমরা শংকিত যে, আমাদের আত্মসংকল্পের তোড়জোড় ইয়াহিয়াকে পাগল করে দিয়েছে। সে এখন আমাদের জনগণের উপর বোমা বর্ষন করছে,গ্রামগঞ্জ আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে এবং আমাদেরকে দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর হুমকি দিচ্ছে। আপনাদের সময়োচিত সমর্থনই পারে আমাদের হাজার জনগণকে রক্ষা করতে এবং আমাদেরকে সেই দেশ গড়ার মুল্যবান সময়টুকু দিতে পারে, যার ভিত্তি হবে আমাদের সযত্নে লালিত মূল্যবোধগুলোঃ গণতন্ত্র, সমানাধিকার ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা।

অনুমতি প্রদান করুন আমাদের আশু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এই নিবেদনের সমর্থনে ব্রিটিশ প্রেসের পক্ষ থেকে কিছু সম্পাদকীয় মন্তব্য আপনাদের কাছে উদ্ধৃত করার জন্য (সংযুক্তি গ, ঘ, ঙ, চ দেখুন)। আমরা বিশ্বাস করি সাড়ে সাত কোটি বাঙালির কণ্ঠআপনাদের হৃদয় স্পর্শ করবে এবং ধ্বংসের আগেই আমরা আপনাদের সমর্থন পাব।

যদিওবাএত শীঘ্রই বাংলাদেশের এই স্বীকৃতিকে কূটনৈতিকভাবে আপনাদের কাছে দুরূহ মনে হয়, তবুও অন্ততপক্ষে এইটুকু নিশ্চিত করবেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যাতে হত্যার শিকার না হন এবং অনুগ্রহ করে ইয়াহিয়া খানকে চাপ প্রয়োগ করুন আওয়ামী লীগের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতায় আসতে, যাতে জনগণের রায় আছে। অনুগ্রহ করে আরও নিশ্চিত করুন যেন অতিসত্বর পশ্চিম পাকিস্তানে সকল প্রকার সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য পাঠানো বন্ধ হয় এবং বাংলাদেশে ত্রাণসামগ্রী প্রেরিত হয়।

আপনার অনুগত                                                             এম এম হক                                                                                                 বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের পক্ষ থেকে

<৪,১২,১৮-২০>

অনুবাদকঃ মুশররাত আলম মৌ

শিরোনাম সুত্র        তারিখ
১২। বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধের প্রচেষ্টা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থন দানের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতি বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের আহ্বান বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের সভাপতির চিঠি ১৬ এপ্রিল, ১৯৭১

 

সম্মানিত সংসদ সদস্য,

বাংলাদেশে (প্রাক্তন পূর্ব পাকিস্তান) পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের নজিরবিহীন গণহত্যা চালানোর ঘটনায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ও জনগণ যে স্বতস্ফুর্ত নিন্দা জ্ঞাপন করেছে, তা আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করছি। পুরো ঘটনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, এই ঘটনা পুর্ব পরিকল্পিত ও তা নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সরকার এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, এতে আমরা কৃতজ্ঞ এবং আমরা এই সুযোগকে আমাদের মত প্রকাশ করার উপায় হিসেবে নিয়ে প্রয়োজনীয় এবং যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাই –

(ক) অতিসত্বর নিরস্ত্র এবং বেসামরিক জনগণকে হত্যার অবসান,

(খ) অতিসত্বর আক্রান্ত জনগণের এবং আসন্ন দুর্ভিক্ষকে প্রতিরোধের জন্য ত্রাণ সরবরাহের ব্যবস্থা করা,

(গ) সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি,

বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিয়াফ্রার থেকে ভিন্ন

(i) ২৩ মার্চ, ১৯৪০ এর ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবই ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি। এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে,

“অখণ্ড ভারত মুসলিম লিগের এই অধিবেশনের নির্ণীত ও বিবেচিত সিদ্ধান্ত অনুসারে কোন সাংবিধানিক পরিকল্পনা এই দেশে কাজ করবে না বা মুসলিম লীগের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষন না পর্যন্ত এটি নিম্নলিখিত কিছু মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত না হয়, যেমন ভৌগোলিকভাবে পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহকে সীমানা নির্ধারন করে প্রদেশ অনুসারে গঠন করা উচিৎ প্রয়োজন অনুসারে এলাকাভিত্তিক পুনঃসমন্বয়ের মাধ্যমে। যে সমস্ত অঞ্চল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, যেমন ভারতের উত্তর-পশ্চিমাংশ ও পুর্বাংশ, তাদেরকে একত্র করে স্বাধীন রাজ্য গঠন করা উচিৎ, যেখানে গঠনকারী এককগুলো হবে সার্বভৌম এবং স্বায়ত্তশাসিত।

লাহোর প্রস্তাব অখণ্ড ভারত মুসলিম লীগের সাধারণ দল কর্তৃক পাস করা হয়েছিল। এই প্রস্তাব সাংবিধানিকভাবে সংশোধিত হয়নি। প্রস্তাবিত পাকিস্তানের পক্ষে নির্বাচনী পরিষদের নব নির্বাচিত সদস্যদের একটি পৃথক সভায়, জনাব জিন্নাহ কর্তৃক বিধিবহির্ভূতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, “স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ” একটি মুদ্রণজনিত ভুল এবং বাংলা মুসলিম লীগের সম্পাদক জনাব আব্দুল হাকিমের প্রতিবাদ সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত বাংলার উপর চাপিয়ে দেয়া হয়।

(ii) যাই হোক, আশা করা হয়েছিল যে, পুরনো এই বিষয়টির গতিবিধি সম্পর্কে নির্বাচনী পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবে এবং এই বিষয়ে জনগণের মতামত নির্ধারণের জন্য একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আপনাদের জানা আছে বলে আমরা ধারণা করছি যে, পাঞ্জাবনিয়ন্ত্রিত সামরিক ও বেসামরিক আমলা তন্ত্র এই দেশে বিগত ২৩ বছরে কোন মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেয়নি (প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ১৯৫৯ সালে, কিন্তু ১৯৫৮ সালে সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করে)।

(iii) সামরিক সরকার শেষ পর্যন্ত ১৯৭০-৭১ সালে সাধারণ নির্বাচন করতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশ থেকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সাধারণ পরিষদের সদস্যদের অধিকার ছিল পাকিস্তান আন্দোলনের মূল ভিত্তি লাহোর প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করে দেশ কে একটি সংবিধান প্রদান করার। এই গণতান্ত্রিক বৈঠককে গ্রহণ করার পরিবর্তে বাংলাদেশের জনগনের গণতান্ত্রিক অধিকারকে গলা টিপে হত্যা করার জন্য পাঞ্জাবনিয়ন্ত্রিত সামরিক সরকার গণহত্যায় নিয়োজিত হল।

বাংলাদেশ এবং পশ্চিম পাকিস্তানদুটি ভিন্ন মানবসভ্যতা

(i) পশ্চিম পাকিস্তানি জনগণ নিজেদের আর্য বংশোদ্ভূত দাবি করে নিজেদের জাতিগতভাবে শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং বাংলাদেশের জনগণকে জাতিগত ও সাংস্কৃতিকভাবে নিকৃষ্টতর জীব হিসেবে বিবেচনা করে উপেক্ষা করে। সাবেক রাষ্ট্রপতি আইয়ূব খান পুর্ব পাকিস্তানিদের ব্যাপারে যা লিখেছেন সেখান থেকে এই বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা যায়। তার মতে, পুর্ব পাকিস্তানিরা কখনো প্রকৃত স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্বের স্বাদ পায় নি, তাদের মধ্যে আছে পদদলিত জাতির প্রশমন এবং তারা এখনও এই সদ্যোপ্রাপ্ত স্বাধীনতার সাথে মানসিকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে সমর্থ হতে পারে নি। (আইয়ূব খান, ফ্রেন্ডস নট মাস্টার্স, ১৯৬৭,পৃ-১৮৭)

সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার প্রতি সংখ্যালঘু পশ্চিম পাকিস্তানিদের এই আচরণ শুরু থেকেই এমন ছিল। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ক) বাঙালি মুসলিমরা ১২০১ সাল থেকে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত দিল্লির মুসলিম শাসকদের থেকে অনেকটাই স্বাধীনভাবে বাংলা ও আসাম, বিহার ও উড়িষ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ শাসন করেছেন।

খ) মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোর মধ্যে বাঙালি মুসলিমরা ছিলেন প্রথম যারা ব্রিটিশ ভারতে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করেছিলেন।

গ) বাঙালি মুসলিমরা পাকিস্তান আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যখন পাঞ্জাবিরা শিখদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল এবং তাদের ঈষদুষ্ণ সমর্থন ছিল এই আন্দোলনে এবং সীমান্তে স্বাধীনতার পরেও কংগ্রেসের পতাকা উড্ডয়ন করা হয়েছিল।

(ii) যাই হোক, এটি কোন আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, পশ্চিম পাকিস্তানিরা পুর্ব পাকিস্তানিদের সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণ করে। পুরো এলাকা মূলত কিছু জমিদারদের মালিকানাধীন এবং তারা শুধু সেখানকার জমিই নয়, অধিবাসীদেরও মালিক (সিন্ধু এলাকায় ৮০ শতাংশ জমি সামন্তবাদি জমিদারদের অধীনস্থ; পাঞ্জাব ও সিন্ধু এলাকায় এই অনুপাত ৫০ শতাংশ)। তাদের মূল্যবোধ স্বাভাবিকভাবেই সামন্তবাদী এবং তাদের সমাজ কিছু সামন্তবাদী নিয়মাবলি দ্বারাই সমর্থিত (পাঞ্জাবে বর্ণপ্রথা ও সীমান্তের গোষ্ঠীগত রীতিনীতি)। পশ্চিম পাকিস্তানে গণতন্ত্র মূল্যহীন যেহেতু সেখানে ভোট নিয়ন্ত্রিত হয় জমিদারদের এবং ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা (ভুট্টো নিজে একজন বড় জমিদার এবং পাঞ্জাবে তিনি তার অধিকাংশ ভোট পেয়েছিলেন পাঞ্জাবি জমিদারদের সাথে আপোষ-আলোচনার মাধ্যমে। পাগারোর পীর একাই প্রায় চল্লিশ লক্ষ ভোট নিয়ন্ত্রণ করেন।

অপরপক্ষে, বাংলাদেশের জনগণ গণতান্ত্রিক এবং সাম্যবাদী। তাদের কোন জাতি বা গোষ্ঠীগত অন্তর্ভূক্তি নেই। সকল জমি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন থাকায় কোন সামন্তবাদি জমিদারের অস্তিত্ব নেই। বাঙালি মুসলিমরা সংখ্যালঘুদের প্রতি সহনশীল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা এই সহনশীলতা বুঝতে অক্ষম (পাঞ্জাবে ভারতভাগের সময় লক্ষ লক্ষ সংখ্যালঘু নিহত হয়েছিল)। তারা এই সহনশীলতাকে ভারতঘেঁষা হিসেবে ব্যাখ্যা করে। বাস্তবে, গণতন্ত্র, সমানাধিকার ও ধর্মীয় সহনশীলতার আদর্শের প্রতি অনেক বেশিগুণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বাঙালিরা সভ্যতার একটি ভিন্ন স্তরে অবস্থান করছে।

পশ্চিম পাকিস্তানিদের সামন্তবাদি মূল্যবোধ তাদের প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়। পশ্চিম পকিস্তান কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ছাড়াই অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত। বাংলায় স্থানীয় সরকারের ঐতিহ্য বেশ শক্তিশালী এবং প্রশাসন অপেক্ষাকৃত বিকেন্দ্রীভূত। পশ্চিম পাকিস্তান তাদের সামন্তবাদি জমিদারদের দ্বারা খুন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং এমনকি মহিলাদের অপহরণসহকারে নিয়ন্ত্রিত (হামজা আলভী ফর ভিলেজ পলিটিক্স ইন ওয়েস্ট পাকিস্তান ইন সাউথ এশিয়ান রিভিউ, জানুয়ারি, ১৯৭১)। অথচ বাঙালি গণতন্ত্র দখল করে আছে এক অদ্বিতীয় স্থান। এমন হাজারও ধরনের উদাহরণ অসংখ্যবার দেখানো যেতে পারে।

৩। বাংলাদেশে গণহত্যা

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বাংলাদেশে নিরস্ত্র ও নির্দোষ মানুষদের উপর পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের অমানবিক গণহত্যার উপর অনেক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত হওয়ার বিষয় এই যে, বিংশ শতাব্দীতেও মানুষ এতটা অসভ্য হতে পারে। যাই হোক, আমরা বাংলাদেশের জনগণ, যারা পশ্চিম পাকিস্তানিদের সাথে বিগত ২৩ বছর ধরে আছি, তারা মোটেও বিস্মিত নই। পশ্চিম পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ, বিশেষত পাঞ্জাবিরা নিজেদের রাজপুত গোত্রের বলে দাবি করে। এটি বলা যাবে না যে, আর্য বংশোদ্ভূত রাজপুতেরা কোন রকম বিতর্কের উর্দ্ধে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যে, অধিকাংশ পাঞ্জাবি মুসলমান রাজপুত হান বা সিথিয়ান যোদ্ধাদের সজাত যারা বৌদ্ধ সভ্যতা ধ্বংসের জন্য ব্রাহ্মণদের সহায়তা করেছিল এবং পুরষ্কার হিসেবে দ্বিজাতিদের পদমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল (বিস্তারিত তথ্যের জন্য দেখুন, জে এম উইকিলি, পাঞ্জাবি মুসলমান, দ্য বুক হাউস, লাহোর, পশ্চিম পাকিস্তান)। বর্তমানে বাংলাদেশে যা ঘটছে, তা হল এক প্রকার “হান আক্রমণ”, যা এবারে বাঙালিদেরকে সমূলে ধ্বংস করার জন্য বদ্ধপরিকর, যেমনটি তারা করেছিল পূর্বে বৌদ্ধদের সাথে এবং পশ্চিমে শিখদের সাথে।

অতএব, আপনাদের কাছে আমাদের নিবেদন রইল এই পরিস্থিতির তাৎপর্য উপলব্ধি করার। আমাদের পরিস্থিতি বিয়াফ্রার পরিস্থিতির মত নয়, লাহোর প্রস্তাব যেকোন ভবিষ্যৎ মীমাংসার মুল ভিত্তি হওয়া উচিৎ যেমনটি ছিল পাকিস্তান আন্দোলনের মূলভিত্তি হিসেবে এবং সেটি এখনও পর্যন্ত অবিসংবাদিত। পশ্চিম পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ একটি রাষ্ট্র হতে পারে না, কারণ তাদের সভ্যতা, মূল্যবোধ, আশা-আকাঙ্ক্ষা সবই ভিন্ন। আমরা বাংলায় হান বংশোদ্ভূত বর্বরদের আক্রমণের শিকার হয়েছি, আপাতভাবে ইয়াহিয়া বা ভুট্টোর কূটনীতি এই নগ্ন সত্যকে ধামাচাপা দিতে পারবে না, বৌদ্ধদের মত আমরাও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি; বর্বরেরা আমাদের ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। আমরা নিদারুণভাবে সকল সভ্য দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের প্রতি আমাদেরকে সাহায্য করার আবেদন করেছি, কারণ ব্রিটিশ জনগণ শুধুমাত্র গণতন্ত্রের ধারকই নয়, তারা আমাদের মুক্তি সংগ্রামের স্বরূপ সম্পর্কে শুরু থেকেই অবহিত। যেহেতু আমাদের সকল বুদ্ধিজীবী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পাঞ্জাবি বেনিয়াদের হাতে নিহত হয়েছেন, আমরা আশংকা করছি যে, আমরা আমাদের পরিস্থিতিকে সফলভাবে বিশ্বদরবারে উপস্থাপনে সক্ষম নাও হতে পারি। সুতরাং, আপানাদের নিকট আমাদের পরিস্থিতির বিবরণ জাতিসংঘে আরেকটিবার পেশ করার নিবেদন করছি।

আপনার বিশ্বস্ত                                                                                     এম মোজাম্মেল হক                                                                                        সভাপতি                                                                                     বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট                                                                                   ১০, লিচেস্টার গ্রোভ                                                                                                লিডস-৭

 

<৪,১৩,২১>

অনুবাদকঃ মুশররাত আলম মৌ

শিরোনাম সুত্র তারিখ
১৩। লন্ডনে ট্রাফালগার স্কয়ারে বাংলাদেশের সমর্থনে জনসভা অনুষ্ঠানের অনুমতি চেয়ে আবেদন বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটির সম্পাদকের চিঠি ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১

 

সচিব                                                   জনাব এম এ এইচ ভূঁইয়া

পরিবেশ মন্ত্রণালয় সচিব

বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি

৫২, ওয়ার্ডসয়ার্থ রোড

স্মল হিথ

বার্মিংহাম– ১০

টেলিঃ ০২১-৭৭৩-১৪৫৬

জনাবা,

এতদ্বারা বাংলাদেশ সমর্থকদের জন্য ট্রাফালগার স্কয়ারে রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১ দুপুর ২ ঘটিকা থেকে ৪ ঘটিকা পর্যন্ত জনসভা আয়োজনের নিমিত্তে আপনার অনুমতি প্রার্থনা করছি। আমরা সম্প্রচারমূলক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে ইচ্ছুক। আমরা কেবলমাত্র হাতে ধরার ব্যানারসমূহ রাখার প্রস্তাব করছি। আমরা প্রচারপত্র বিলি করতে চাই।

আমরা দু’টি গাড়ি পার্ক করতে চাই। সভায় মূলত বক্তৃতা প্রদান করা হবে।

আপনার বিশ্বস্ত

জনাব এম এ এইচ ভূঁইয়া

সচিব

বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটির পক্ষ থেকে

<৪,১৪,২২>

অনুবাদকঃ সমীরণ কুমার বর্মন

শিরোনাম সূত্র তারিখ
১৪। বাংলাদেশের সমর্থনে সভা ও মিছিলের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের অ্যাকশন কমিটির প্রচার পত্র অ্যাকশন কমটির প্রচার পত্র ১৭ এপ্রিল,১৯৭১

 

বাংলাদেশ সমর্থনে সভা ও মিছিল

ট্রাফালগার স্কোয়ার, লন্ডন

তাং ১৮ই এপ্রিল, রবিবার

সময়ঃ বেলা ২ঘটিকা

 

কার্যসূচী

বেলা ২ ঘটিকায় ট্রাফালগার স্কোয়ারে একত্রিত হওয়ার পর বেলা সাড়ে তিন ঘটিকা পর্যন্ত সভার কার্য চলিবে। তৎপর পাশাপাশি ৫ জন করে লাইন ধরতে হবে এবং প্রতি সারির মাঝখানে ১ ফুট ব্যবধান রাখিয়া অগ্রসর হইতে হইবে। এই ধরণের ১২টি লাইনের পরে আবার তিন ফুটের ব্যবধান থাকিবে। প্রতি ১২ লাইনের জন্য একজন মার্শাল থাকিবে।

মিছিল ট্রাফালগার স্কোয়ার হইতে শুরু হইয়া ডানকান্‌ স্ট্রীট, ল্যাঞ্চাস্টার প্লেস, ওয়াটারলুস ব্রিজ, পার্লিয়ামেন্ট স্ট্রিট, হোয়াইট হল, হর্স গার্ড এভিনিউ হইয়া ভিক্টোরিয়া এমব্যাংকমেন্ট পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার পর টেম্পল প্লেনে আসিয়া শেষ হইবে। পরে প্রত্যেকে স্ব স্ব কোচে প্রত্যাবর্তন করিবেন।

বিঃ দ্রঃ মিছিল হোয়াইট হলের নিকট আসার পর ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট আট সদস্য বিশিষ্ট “ডেলিগেশন” বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে স্মারকলিপি প্রদান করিবেন।

বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি

কর্তৃক প্রকাশিত।

৫৫নং ওয়ার্ড ওয়ার্থ রোড,

বার্মিংহাম।

______________________

 

<৪,১৫,২৩-২৪>

অনুবাদকঃ কাজী সাদিকা নূর

শিরোনাম সূত্র তারিখ
১৫। বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের জন্যে বিশ্বের সকল উপাচার্যের প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের আবেদন

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন স্কটল্যান্ডের প্রকাশিত প্রচারপত্র

 

১৯ এপ্রিল, ১৯৭১

 

উপাচার্যবৃন্দের প্রতি একটি নিবেদন

বাংলাদেশের (প্রাক্তন পূর্ব পাকিস্তান) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং ছাত্ররা পাকিস্তান আর্মি কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার শিকার হয়েছে। নিচে আমরা “সানডে টেলিগ্রাফ” (১৮ই এপ্রিল, ১৯৭১) -এ প্রকাশিত সংবাদ পুনঃউত্থাপন করছি, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জনাব এ এস চৌধুরির তাঁর ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া ঘটনাসমূহের ব্যাপারে বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। নিঃসন্দেহে উপাচার্য হিসেবে আপনাদেরও একইরকম অনুভূতি হবে এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা আপনাদের কাছে আবেদন করছি রাজনৈতিকভাবে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে, যার লক্ষ্য হচ্ছে বাংলার সকল বুদ্ধিজীবীদেরকে হত্যা করা।

ছাত্রদের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য

(দি সানডে টেলিগ্রাফ ১৮ই এপ্রিল, ১৯৭১)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গত তিন সপ্তাহেরও কিছু বেশি সময় ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ট্যাংক তাঁর ক্যাম্পাসে আঘাত হানা এবং তাঁর ছাত্রদেরকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করার ভয়ংকর ঘটনাটি উপলব্ধি করতে পারার আগ পর্যন্ত এটি তেমন উল্লেখযোগ্য কোন ঘটনা ছিল না।

আবু সায়েদ চৌধুরি পূর্ব পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত ঢাকা হাই কোর্টেরও একজন জ্যেষ্ঠ বিচারক। তিনি বলেন, “অবশ্যই আমার এখন পূর্ব পাকিস্তান বলা উচিত”। এখানে তাঁর অবস্থানকালে তিনি শুধুমাত্র তাঁর ব্রিটিশ উকিল এবং প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধুদের সাথে তাঁর প্রাক্তন বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বলেছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি মান্দ্রেককে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকারটি দেন।

বিচারপতি জনাব চৌধুরি জেনেভায় মানবাধিকার কমিশনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদানের জন্য ১৮ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা ছাড়েন। তিনি দুর্ভাগ্য স্বীকার করে বলেন, “আমরা জাম্বিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আত্মসংকল্প নিয়ে কথা বলেছি। এখন দেখছি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন থেকে মুক্তি অর্জন ও স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যে অত্যাচার সহ্য করছে তা মানব ইতিহাসে অতুলনীয়।”

তিনি সাথে তাঁর পরিবারকেও নিয়ে এসেছিলেন। “এমন নয় যে আমি জানতাম এরকম কিছু ঘটবে। এখানে আমাদের জিসিই পড়ুয়া ছেলেকে আমার স্ত্রী দেখতে চেয়েছিল, তাই সাথে করে আমাদের ছোট দুই সন্তানও এসেছে।”

মানবাধিকার কমিশন তাঁদের আলোচনা শেষ করে এবং অন্য দিকে পূর্ব পাকিস্তানে ট্যাংক নিয়ে আক্রমণ শুরু হয়। চৌধুরি হিথরোতে পৌঁছনো মাত্র এ সম্পর্কে জানতে পারেন কিন্তু চার দিন আগেই সাইমন ড্রিং দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফে প্রকাশ করেন যে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে এবং তাঁর ছাত্র-শিক্ষকদেরকে হত্যা করা হয়েছে।

“সেই মুহূর্তে আমি স্তব্ধ হয়ে যাই এবং আমার এখানে ব্যাথা অনুভব করি”। তিনি তাঁর বুকে স্পর্শ করেন। “এরপর যখন নিশ্চয়তা আসে, তখন শ্বাসরুদ্ধকর একটি পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তৎক্ষণাৎ আমি শিশুর মত কান্নায় ভেঙে পরি। আমি আমার স্ত্রীকে জানাই এবং সেও ফুঁপিয়ে ওঠে”।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়, এখানে ছ’শ প্রাতিষ্ঠানিক কর্মচারী এবং দশ হাজার ছাত্র আছে। তিনি বলেন, তাদের মাঝে পাঁচ হাজারেরও কম সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং তাঁর মতে তারা সবাই শান্তিপূর্ণভাবেই এতে অংশগ্রহণ করে। বাকিদের মধ্যে বেশিরভাগই “গ্রামের দরিদ্র ছেলেপেলে” যারা বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় হলে থাকে এবং তারাই ২৫ মার্চ রাতে সেনাবাহিনীর ঘুমন্ত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

যে পাঁচশ জন ছাত্রীর জন্য ১ মার্চ যে হল খোলার কথা ছিল তাদের ভাগ্যে কী লেখা আছে সেকথাও বিচারপতি জনাব চৌধুরি জানেন না। “আমি অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়েছিলাম এবং কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলাম আমার ফিরে আসার অপেক্ষায় উদ্বোধনের দিন যেন কোনভাবেই পেছানো না হয়। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে থাকার জায়গার বড্ড অভাব ছিল। কিন্তু জাতীয় সমাবেশ মূলতবী করায় ঢাকার জীবন পুরোপুরি থেমে যায়”।

যদিও তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের করণীয় সম্পর্কে এবং তিনি এই সপ্তাহে নিজের প্রস্তাব একদল রক্ষণশীল পশ্চাৎপন্থীদের সামনে রাখবেন। তাঁর যুক্তি অত্যন্ত কঠোর।

“অবিভক্ত পাকিস্তানের আদর্শ অবলম্বন করা এখন মরীচিকার পেছনে ছোটার মতই। এখানে দুইটি বিকল্প রাস্তা আছে। প্রথমত, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে তার আর্মি প্রত্যাহার করতে রাজি করানো, শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্ত করে দেয়া এবং তাকে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য একটি নতুন সংবিধান গঠন করার অনুমতি প্রদান করা। দ্বিতীয়ত, প্রেসিডেন্টকে শেখ মুজিবসহ অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের মেরে ফেলার অনুমতি দেয়া, এবং এর ফলে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার রাজত্ব চলতে থাকবে। এই পরিস্থিতিকে কোনভাবেই অভ্যন্তরীণ ঘটনা হিসাবে দেখা যাবে না, যেখানে জনগণের ওপর গত দুই সপ্তাহ ধরে গোলাবর্ষণ হচ্ছে”।

তিনি একইভাবে এও নিশ্চিত যে, ততদিন পর্যন্ত তিনি ঢাকায় ফিরতে পারবেন না, যতদিন না পর্যন্ত সরকার বদলাচ্ছে। একজন বিচারক হিসাবে এটি অসম্ভব। “এই মুহূর্তে কীভাবে উচ্চ আদালতে কেউ সরকারের আদেশ নাকচ করে আবেদন নিয়ে যেতে পারে? এখন কোন আইন নেই। সরকার এখন জোরের”।

একজন উপাচার্যের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। “আমার ছাত্রদেরকে যখন হত্যা করা হয়, তখন আমার মুখ দেখানোর মতন অবস্থা ছিল না। দেখুন, আমার ছাত্ররা আমায় ভালবাসৎ এবং আমিও আমার ছাত্রদেরকে ভালবাসতাম। যদি আমি তাদের প্রতি অবিচারের কোন সুরাহা আমি করতে না পারি, তাহলে ফিরে গিয়ে আমি মুখ দেখাব কী করে?”

এবং ব্রিটিশ সাংবাদিকদেরকে এতকিছু বলার পরেও তিনি সমর্থন পেতে ব্যর্থ হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,

রাজশাহী, চট্টগ্রাম এবং সংশ্লিষ্ট কলেজসমূহের কর্মচারীবৃন্দ

যারা উচ্চ শিক্ষার জন্য বর্তমানে স্কটল্যান্ডে আছেন

বাংলাদেশ অ্যসোসিয়েশান

স্কটল্যান্ড

১৫ এল্ডন স্ট্রিট

গ্লাসগো সি৩

১৯/৪/১৯৭১

 

<৪,১৬,২৫>

অনুবাদকঃ কাজী সাদিকা নূর

শিরোনাম সূত্র তারিখ
১৬। বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের জবাব জনাব এ, আর, খানের প্রতি ব্রিটিশ এমপির চিঠি। ২২ এপ্রিল, ১৯৭১

 

এমপি ফ্র্যাংক জুডের পক্ষ থেকে

২২ এপ্রিল, ১৯৭১

জনাব খান,

আমি আপনার এবং অন্যদের দ্বারা স্বাক্ষরিত চিঠি ফরেইন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অ্যাফেয়ার্সের রাষ্ট্রসচিবের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি এবং তার উত্তর এইখানে সংযুক্ত করে দিয়েছি।

আশংকা করছি যে, এর মাধ্যমে ঘটনাটি সঠিকভাবে প্রকাশ পায় নি, কিন্তু আপনি নিশ্চিত থাকেন যে, আমার সহকর্মীরা এবং আমি এই বিষয়ে নজর রাখছি।

আপনার একান্ত অনুগত

এস ডি/

জনাব এম এ রাজ্জাক খান

৬ ব্রিটানিয়া রোড, সাউথসি

পোর্টসমাউথ পি০৫ ১এস এন

____________________________

ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস

লন্ডন এস ডাব্লিউ ১

১৯ এপ্রিল, ১৯৭১

উপমন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত

জনাব ফ্র্যাংক,

এলেক ডগলাস হোমকে আপনি গত ৬ এপ্রিল, আপনার কয়েকজন সংগঠক কর্তৃক স্বাক্ষরিত পূর্ব পাকিস্তান বিষয়ক যে চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন, তিনি সেটির উত্তর দিতে আমাকে অনুরোধ করেছেন। আপনি জানেন যে, প্রতিমন্ত্রী গত ৫ এপ্রিল পাকিস্তানের অবস্থা নিয়ে হাউসে বক্তব্য পেশ করেছেন। আমি সেটির একটি প্রতিলিপি এইখানে সংযুক্ত করে দিয়েছি, যা আপনি জনাব রাজ্জাককে পাঠিয়ে দিতে পারেন।

আপনার সংগঠকদের তোলা কিছু প্রশ্নে আমি কেবলমাত্র নিম্নোক্ত বক্তব্যগুলোই প্রকাশ করতে পারি। পূর্ব পাকিস্তানে যে দ্বন্দ্ব চলছে তা অবশ্যই পাকিস্তান সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সুতরাং, ব্রিটিশ সরকারের এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা কিংবা জাতিসংঘকে অনুরোধ করা উচিত হবে না। উপরন্তু, আমার মনে হয় আমরা পাকিস্তান সরকার ও রেড ক্রস সোসাইটির আন্তর্জাতিক লিগের সম্পর্কের মধ্যে হস্তক্ষেপ করতে পারি না, কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের দুর্দশা দূর করার ক্ষেত্রে তাদের মানবিক প্রচেষ্টায় কোন বাঁধা দেয়া হলে ব্রিটিশ সরকার তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত।

বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে কোন রকম সম্ভাবনা নেই এবং ব্রিটিশ সরকার ইসলামাবাদে পাকিস্তান সরকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

আমি আপনার সংগঠকদের চিঠি ফেরত পাঠাচ্ছি।

একান্ত

অ্যান্থনি রয়্যাল

ফ্র্যাঙ্ক জুড, আইনিজীবী-সংসদ সদস্য

হউস অফ কমনস

লন্ডন, এস ডব্লিউ১

<৪,১৭,২৭>

অনুবাদকঃ কাজী সাদিকা নূর

শিরোনাম সূত্র তারিখ
১৭। বাংলার বুদ্ধিজীবী ও গণহত্যার প্রতিবাদে ও স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন করার জন্যে ব্রিটেনের ছাত্র-শিক্ষকদের প্রতি বাংলাদেশ শিক্ষক সম্প্রদায়ের আহ্বান

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশান, ডান্ডি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি

 

২৩ এপ্রিল, ১৯৭১

 

যুক্তরাজ্যের শিক্ষক এবং ছাত্রদের প্রতি একটি নিবেদন

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন,

২০, সাউথ জর্জ স্ট্রিট

(২য় তলা), ডান্ডি

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় এ দেশের বুদ্ধিজীবীদেরকে নিঃশেষ করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ (প্রাক্তন পূর্ব পাকিস্তান) -এর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, তাঁদের পরিবার-পরিজন এবং শিক্ষার্থীদেরকে হত্যার বিষয়ে আমরা আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।টাইমস’(লন্ডন, ৩০ মার্চ, ১৯৭১) পত্রিকায় বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পুড়তে থাকা লাশ এখনও তাদের বিছানায় পড়ে আছেএকটি গণকবরকে তড়িঘড়ি করে ঢেকে ফেলা হয়েছে”…একই পাশবিক ঘটনাকে ডেইলি টেলিগ্রাফ’(মার্চ ৩০, ১৯৭১)-এ প্রকাশ করে: বিস্ময়াভিভূত অবস্থায় আকস্মিকভাবে প্রায় ২০০ ছাত্রকে হত্যা করা হয় ইকবাল হলে… তারা ভবনে হানা দেয় এবং মেশিন গান দিয়ে কক্ষে গুলি বর্ষণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ইন্নাস আলি এবং ড: কামাল হোসেনসহ ঐ ঘটনার শিকার দুর্ভাগ্যবানদের কথা টাইমস’ (লন্ডন, ০২ এপ্রিল, ১৯৭১) পত্রিকার সেসব প্রতিবেদনসমূহে প্রকাশ করা হয়। গার্ডিয়ানএ ব্রিটিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী লেখা হয় কীভাবে হানাদার বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বাসভবনে ৯ জন প্রফেসর, তাঁদের পরিবার এবং ২১ জন ছাত্রকে হত্যা করা হয়

আমাদের সাথে একাত্ম হয়ে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রকাশ করার জন্য আমরা আপনাদের কাছে আবেদন জানাই।

ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীবৃন্দ

এবং সংশ্লিষ্ট কলেজের শিক্ষকবৃন্দ যারা স্কটল্যান্ডে শিক্ষারত আছেন

 

<৪,১৮,২৮>

অনুবাদকঃ সমীরণ কুমার বর্মন

শিরোনাম সূত্র তারিখ
১৮। বৃটেনে প্রবাসী বাঙালিদের কেন্দ্রীয় সংগঠন অ্যাকশন কমিটি ফর দি পিপলস রিপাবলিক অফ বাংলাদেশ ইন ইউ-কে এর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব কভেন্ট্রিতে অনুষ্ঠিত বাঙালিদের সভার প্রস্তাবাবলী ২৪ এপ্রিল,১৯৭১

 

পুনঃসিদ্ধান্তসমূহ

অত্র ২৪ এপ্রিল কভেন্ট্রি- তে অনুষ্ঠিত মহতী সভায় গৃহীত প্রস্তাবাবলী:

(১) গ্রেট বৃটেনে কেন্দ্রীয়ভাবে এ সভায় একটি সমিতি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, এবং এই সমিতির নামকরণ হল “Action Committee For the People’s Republic of Bangladesh in U.K.”

(২) অতি অল্প সময়ের নোটিসে সম্মিলিত হওয়ার জন্য পাঁচজন সদস্যবিশিষ্ট একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হল এবং ঐ কমিটির নাম হবে Steering Committee of the Action Committee এবং উক্ত কমিটিকে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সর্ব ক্ষমতার সম্পূর্ণ অধিকার দেওয়া হল।

(৩) এই সভায় আর এক প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত করা হয়েছে যে এই-কে প্রয়োজনবোধে আরও সদস্য বাড়াবার ক্ষমতা দেওয়া হল।

(৪) এই কমিটির পাঁচজন সদস্যের নাম হল:

. জনাব আজিজুল হক ভূঁইয়া

২ জনাব কবীর চৌধুরী

৩. জনাব মনোয়ার হোসেন

৪. জনাব এস কে আব্দুল মান্নান

৫. জনাব সামসুর রহমান

(৫) এই পাঁচজনের প্রথম সভার অধিবেশন উক্ত সভার সভানেত্রী বিলকিস বানুর আহ্বানে অনুষ্ঠিত হবে এবং ঐ সভায় একজন আহ্বায়ক নিযুক্ত করা হবে।

(৬) বর্তমানে গ্রেট বৃটেনে যত কমিটি আছে সে সকল কমিটি এই কমিটির শাখা সমিতি রূপে কাজ করবে।

 

<,১৯,২৯৩৪>

অনুবাদকঃ নাজনীন আক্তার দুহিতা, নওশীন তাসনিম

শিরোনাম সূত্র তারিখ
১৯। বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে পৃথিবীর বিভিন্ন মহলের অভিমতের সংকলন বাংলাদেশের রিলিফ ফান্ড কমিটির প্রকাশনা ও প্রচার বিভাগের সংকলন এপ্রিল, ১৯৭১

 

বিচারপতি এ এস চৌধুরির নিকট উপস্থাপিত

বাংলাদেশের জন্য সংগ্রাম বিশ্বমতামত

যদি রক্ত হয়ে থাকে মানুষের স্বাধীনতার অধিকারের মূল্য, তবে বাংলাদেশ তা অতিরিক্তই দিয়ে ফেলেছে। কিন্তু যদি বা তাদের আন্দোলন কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধ্বংস হয়েও যায়, তবে তা মুক্তিযুদ্ধের সাময়িক পরাজয় মাত্র, যা শেষ পর্যন্ত বাঙালির রাষ্ট্রসত্ত্বা হিসেবে স্বীকৃত হবে এবং তা খণ্ডন করা কঠিন হতে পারে, কিন্তু সেটি সবার জন্য সুবিধাজনক নয়। আর এই মুহূর্তে বিবেচিত হতে পারে আমরা এবং অন্যান্য দেশগুলো “জাতির আত্মসংকল্পের অধিকার” – এই চমৎকার শব্দগুলো দিয়ে ঠিক কী বুঝি, যা জাতিসংঘের সনদের মধ্যে সমস্বরে উচ্চারিত হওয়া শব্দের মত মনে হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তান কখনোই একটি ‘বিচ্ছিন্নতাকামী* রাষ্ট্র হতে পারে না যেমনটি আগে ছিল (বায়াফ্রার মত)। সাড়ে সাত কোটি পূর্ব পাকিস্তানি মনে করে সাড়ে চার কোটি পশ্চিমার মত তাদেরও জাতীয় সংসদে ‘প্রতিনিধিত্ব’ রয়েছে।

———– এই সত্যটুকু মেনে নেওয়ার আগ পর্যন্ত ঠিক কতটুকু মানবীয় দুর্দশা ভোগ করতে হবে?

-নিউ স্টেটসম্যান, ১৬/৪/৭১।

পাকিস্তান সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ব পাকিস্তানকে নিছক অস্ত্রের জোরে দাবিয়ে রাখতে পারেনা।

  • হাউজ অব লর্ডসে লর্ড গ্ল্যাডুইন।

পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের প্রতি বৃটেনের বিশেষ কর্তব্য রয়েছে।

-হাউজ অব লর্ডসে লর্ড উইনি-জোনস।

অত্র এলাকায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হওয়া উচিত বলে কমনওয়েলথের মত প্রকাশ করা উচিত।

-লর্ড ব্রকওয়ে, হাউজ অব লর্ডস।

সাম্প্রতিককালে অভূতপূর্ব এই ভোটের পর জনগণকে গণতন্ত্রে প্রাপ্য সম্মানটুকু তাদেরকে দেয়া উচিত।

-ডি হিলে, ছায়া পররাষ্ট্র সচিব।

মধ্যস্থতা আকারে স্যার অ্যালেকের কমনওয়েলথের মাধ্যমে একটি উদ্যোগ নেয়া উচিত।

-জেরেমি থর্প, উদারপন্থী নেতা।

বায়াফ্রা থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক বেশি ভিন্ন। কমনওয়েলথের উচিৎ এর ভাল দিকগুলোকে গ্রহণ করা। আপোষের সম্ভাবনা একেবারেই কম।

-এম স্টুয়ার্ট, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব।

গত সপ্তাহের ঘটনাগুলোর পর থেকে ব্যাপক একটি ধারণা ছিল যে, পাকিস্তান কখনোই এক দেশ হতে পারবে না। এটাকে কমনওয়েলথভুক্ত একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে ভাবাটাই ভুল ছিল – ব্রিটেনের এখানে প্রভাব ছিল এবং সেটিকে যুদ্ধবিরতির কাজেই লাগানো উচিত।

-ব্রুস ডগলাস-ম্যান, এমপি।

দু’টি অংশের মধ্যে একটি স্পষ্ট অর্থনৈতিক বিভেদ রয়েছে। এই বিভেদ দূর করার জন্য বিশ্বব্যাংক ও পাকিস্তানের মিলিত প্রচেষ্টায় ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে।

-বি আর ব্রেইন, এমপি।

পূর্বের বেশিরভাগ দরিদ্র, জনবহুল, অবহেলিত বাঙালি শক্তিশালী পশ্চিমা শাসকদের সামরিক ঐতিহ্যের কাছে আর কোন শোষণ ও অবহেলা সহ্য করবে না।

-সম্পাদক, ডেইলি টেলিগ্রাফ,৩/৩/৭১।

বাঙালিদের সংখ্যাগরিষ্ঠের সর্বশক্তি দিয়ে প্রণীত এমন সংবিধানে যদি রাষ্ট্রপতি (পাকিস্তানের) অনুমোদন দিতে রাজি না হয়, তবে শেখের পশ্চিমাংশ পাকিস্তানের বাকি অংশ থেকে আলাদা হয়ে গেছে বলে ঘোষণা করা ছাড়া সম্ভবত আর কোন পথ থাকবে না এবং দু’টি প্রদেশের চিরকালের জন্য আলাদা হয়ে যাবে।

-পিটার হ্যাজেলহার্স্ট, সানডে টাইমস, ৭/৩/৭১।

পূর্বাংশের ওপর রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়ার ক্ষমতা পুনর্বহালের তাৎক্ষণিক কার্যকর প্রভাব যাই হোক না কেন, পূর্বাংশ ইতোমধ্যে মানসিকভাবে পৃথক হয়েই গেছে।

-ডেভিড হল্ডেন, সানডে টাইমস, ২৮/৩/৭১।

 

জোর করে কোন ঐক্য নয়: কিন্তু পাকিস্তানের ঐক্য বজায় রাখা বা পুনরুদ্ধার করা যাবে না, সেনাবাহিনী কর্তৃক……… আর ঐক্য যদি সম্ভব না হয়, তবুও শান্তিপূর্ণভাবে পাকিস্তানকে ভেঙে দু’টি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রে পরিণত করাই হবে সবার শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য।

-সম্পাদক, দ্যা অবজারভার, ২৮/৩/৭১।

সামরিক সরকার “এক পাকিস্তান”-এর নামে বিশাল এক জনগোষ্ঠীর উপর নিষ্ঠুর আক্রমণ চালিয়ে এক পাকিস্তান যে কখনো সম্ভব নয়, সেটাই নিশ্চিত করেছে।

-মার্টিন অ্যাডেনি, গার্ডিয়ান, ২৯/৩/৭১।

কিন্তু হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে কখনও একতা আসতে পারে না; আর নিরীহ মানুষের জীবনের মূল্য দিয়েতো একতা নয়ই। বছরের পর বছর ধরে সমস্ত বাঙালি সংশয়ের জ্যান্ত প্রমাণ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান আজ কেবল এক দখলকৃত ও শোষিত অঞ্চল হিসেবে টিকে রয়েছে। ওরা, যারা আমেরিকার মত পাকিস্তানি সেনাদের পুষে রেখেছে, তাদের নিজ নিজ অস্ত্রসম্ভারের ব্যবহার সম্পর্কে উপলব্ধি করা উচিত। ওরা, চীন ও শ্রীলংকার মত যারা তাদের সেনাবাহিনীকে পশ্চিম থেকে আসার অনুমতি দেয়, তাদেরকে সেই বাহিনীর কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে উপলব্ধি করতে হবে। ওরা, ব্রিটেনের মত যারা এলাকায় নিজেদের প্রভাব ধরে রাখে, তাদেরকে তা প্রকাশ্যে এবং বলপূর্বক ব্যবহার করতে হবে।

-সম্পাদক, গার্ডিয়ান, ৩/৪/৭১।

৭০,০০০ সদস্যের একটি সেনাবাহিনী কোন কালেই সাড়ে সাত কোটি জনতাকে দাবিয়ে রাখতে পারবেনা। পাকিস্তান যে মোটামুটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিকভাবে ভোট দিয়েছিল, শেখ মুজিব ও তাঁর দল যে সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানিদের আদেশপত্র ধারণ করে, পশ্চিমা শাসক জান্তা ও তাদের বুনো পদাতিক সৈন্যরা যে “জাতীয় ঐক্য”-এর স্বার্থে সেই আদেশপত্র ছিঁড়ে ফেলেছে, তা অবশ্যই চিরকালের জন্য শেষ – পরিস্থিতির এই সারমর্ম ভুলে যাওয়া আসলে খুবই সহজ। বর্বরতা দিয়ে দু’টি দেশকে এক করা যায় না।

-সম্পাদক, গার্ডিয়ান, ৩/৪/৭১।

 

শেখ মুজিব ভারতীয়দের সহমর্মিতা পেয়েছেন, কারণ তিনি ভারতের লালিত মূল্যবোধকে ধারণ করতেন – গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র। আমিও তাঁর জনগণের সমর্থন পেয়েছিলাম, নির্বাচনের ফলাফল এবং অন্যান্য উন্নয়ন সংঘটিত হবার পর একজন মানুষকে তা তারা দেখিয়েছে। শেষেমেশ বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক রায়কে গুঁড়িয়ে দিতে ট্যাংকগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছিল।

-ইন্দিরা গান্ধী, ভারতীয় এমপি।

অনর্থক হত্যা, উন্মত্ব নিষ্ঠুরতা। প্রাপ্ত প্রমাণাদি থেকে যে কেউ বুঝতে পারবে যে, লক্ষ্য (ইয়াহিয়ার) ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া, যাতে তারা আর কোনো প্রতিরোধ আন্দোলনের জন্য কার্যকর নেতৃত্ব প্রদান করতে না পারে।

-সম্পাদক, টাইমস, ৩/৪/৭১।

সোভিয়েত ইউনিয়ন বাঙ্গালি নেতা, শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রেফতার ও নিপীড়ন সম্পর্কে অবগত, যিনি পূর্ব পাকিস্তানের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের বিশ্বাসযোগ্য সমর্থন পেয়েছিলেন। বলপ্রয়োগ কেবল সমস্যাকে গুরুতর করতে পারে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর নিপীড়ন এবং রক্তপাত বন্ধ করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।

-রাষ্ট্রপতি পোজোর্নি, রাশিয়া।

পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাগুলোতে ভারত নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকতে পারেনি। বাংলাদেশে যা কিছু ঘটছে তা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি কিছু। এটি এমন একটি বিষয়, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে যাচ্ছে।

-ইন্দিরা গান্ধী, ভারতীয় এমপি।

 

জেনেভার কূটনৈতিক সূত্রগুলো ভেবেছিল যে, পাকিস্তান সরকার রেডক্রসকে পাকিস্তান থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল ঠিক যে কারণে, সেই একই কারণে সংবাদপত্রের কর্মীদেরকেও তাড়িয়ে দিয়েছিল – সেখানে কোন আন্তর্জাতিক সাক্ষী বা পর্যবেক্ষক না রাখার উদ্দেশ্যে।

-প্যাট্রিক কিটলি, গার্ডিয়ান, ৬/৪/৭১।

পাকিস্তান নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসন, উচ্ছৃঙ্খল ধ্বংসযজ্ঞ, এবং নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পুরুষ হত্যা চালিয়ে যাবার অনুমতি কি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে পেতে পারে?

-স্বরণ সিং, পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ভারত।

কিন্তু পাকিস্তান থেকে বাঙালিদের বিচ্ছিন্নতা এখন এমনভাবে সম্পন্ন হয়েছে যে শেষ পর্যন্ত তারা জয়ী হবে বলে মনে হয় না।

-মার্টিন উলাকট, গার্ডিয়ান, ৭/৪/৭১।

পূর্ব পাকিস্তানে যা ঘটছে, তা একটি অনর্থক সামরিক আগ্রাসন। বহির্বিশ্ব এবং কমনওয়েলথ অফিস এখনও বিশ্বাস করে যে, পূর্ব পাকিস্তানের ঝরে পড়া রক্তের চেয়ে তাদের বিদেশি সরকারের কূটনৈতিক স্বীকৃতিটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে (ইয়াহিয়া) যা করেছেন বা করছেন তা হল পূর্ব পাকিস্তানি এবং তাদের নির্বাচিত নেতাকে নিপীড়নের জন্য তার সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা। নতুবা আপাত দৃষ্টিতে আপোষ আলোচনা ভেঙে গেছে। জনগণ ভোটের মাধ্যমে শেখ মুজিবকে সেই ক্ষমতা দিয়েছিল, তা তিনি পান সেটি ইয়াহিয়া চাননি। সুতরাং রাষ্ট্রপতি বন্দুকের আশ্রয় নিলেন। সেনাবাহিনী প্রেরণের মাধ্যমে তিনি নিজেকে কেবল গণতান্ত্রিক অধিকারের ব্যাপারে উদাসীনই নন, বরং একজন বেপরোয়া শাসক হিসেবেও প্রমাণ করলেন। পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপটি ছিল একটি পূর্ব-পরিকল্পিত কাজ। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বন্দ্বসমূহের চেয়েও এটি খারাপ ও ক্ষতিকর দিকে মোড় নিতে পারত।

-সম্পাদক, গার্ডিয়ান, ৬/৪/৭১।

কিন্তু পরিস্থিতির গুরুত্ব এখন পূর্ণরূপে বিদ্যমান। অব্যাহতভাবে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার অভাবে পূর্ব পাকিস্তানে ভয়াবহ কিছু ঘটছে বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট পোজোর্নি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের কাছে নিয়ন্ত্রণ ও আপোষের বিষয়ে যে ধরণের আবেদন জানিয়েছেন, তার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেতে পারত যদি তা সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা পরিষদ থেকে করা হত।

-সম্পাদক, অবজারভার, ১১/৯/৭১।

পাকিস্তানের গৃহযুদ্ধে পূর্বের মানুষদের পশ্চিমা সৈন্যদের বর্বরতা সমগ্র বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে এবং এটি আর্ত মানবতার আঙিনায় রাশিয়ান ও চাইনিজদের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বকে আরও উদ্বেগজনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছিল। পাকিস্তানের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসে দেখা যায় যে, এর একমাত্র বিকল্প ছিল যুক্তরাষ্ট্রীয় কায়দায় পূর্বের স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

-সম্পাদক, ডেইলি টেলিগ্রাফ, ১২/৪/৭১।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের বর্তমান শাসক সামরিক জান্তা যেকোন মূল্যে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর কর্তৃত্ব বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর।

-ক্লেয়ার হলিংসওয়ার্থ ডেইলি টেলিগ্রাফ, ১৩/৪/৭১।

এটি স্পষ্ট যে, সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী জনাব কোসিজিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস গান্ধীকে জানিয়েছেন যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন দিল্লীকে সমর্থন দেবে যদি ভারত বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারকে স্বীকৃতি দেয়।

-পিটার হ্যাজেলহার্স্ট, টাইমস, ১৩/৪/৭১।

পূর্ব বাংলার পরিস্থিতিকে আর কোনভাবেই ‘অভ্যন্তরীণ’ ব্যাপার বলে বিবেচনা করা যাচ্ছিল না। নিশ্চিতভাবেই এটি এখন আর এমন কোন ঘটনা নয়, ওখানে কী ঘটছে তা আমরা জানব না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে, পাকিস্তানে অস্ত্রের চালান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক সাহায্য দেয়ার ব্যাপারটিও আলোচনা-পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।

-কেনেথ কিটিং, ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, ১৫/৪/৭১।

তিন সপ্তাহ ধরে যত্রতত্র রক্তপাত ঘটানোর পর পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা এখন কোন অবস্থানে আছে? বরং তারা আরও বাড়ছে। তারা এমন করছে যেন, মাথা কেটে ফেললেই বাঙালিদের জাতীয়তাবাদকে শেষ করে দেয়া যাবে; তারা আসলে বিশ্ব মতামত ভুলে গিয়ে নিজেদেরকে উল্টোটাই প্রমাণ করছে। এ কথা বারবারই বলা যায় যে, বাংলাদেশের ঘটনাটি কোন দ্বিতীয় বায়াফ্রা নয়। এটি মূলত একটি সহজ বিষয়: স্বাধীনতা, নৈতিকতা ও মানবতার।

-সম্পাদক, গার্ডিয়ান, ৪/৪/৭১।

 

সময় হয়েছিল অনেক আগেই, পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনায় জনসম্মুখে ব্রিটিশ সরকারের অসন্তোষ প্রকাশের বিষয়টির যতটা জোরালোভাবে করা উচিত ছিল, তার অনেক দেরি হয়ে গেছে। আরও প্রথাগত ও নিজস্ব, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইয়াহিয়া খানকে তার কর্মপন্থা কতখানি বিপজ্জনক আর ভুল, তা জানিয়ে দেয়া উচিত। প্রয়োজনে পাকিস্তানে বিদেশী সাহায্য সরবরাহকারীদের কার্যক্রমও বিবেচনা করতে হবে – এমনকি যদি তা পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের নিজেদের অনির্বাচিত সামরিক শাসকদের বোকামির জন্য ভোগান্তি তৈরি করার মত অবিচার করেও হয়।

-সম্পাদক, সানডে টাইমস, ১৮/৪/৭১।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান নিঃসন্দেহে একটি ক্রমবর্ধমান কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন।

-দি ইকোনমিস্ট, ১০/৪/৭১।

হিটলারের পর পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাই ছিল পৃথিবীর সবচাইতে নির্মম ও নিষ্ঠুর ঘটনা।

-লর্ড ব্রকওয়ে, ১৭/৪/৭১।

ঔপনিবেশিক স্বাধীনতা আন্দোলন কনফারেন্সে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতির জন্য একটি রেজুলেশন পাশ করা হয়েছিল। লন্ডনেও শ্রম এমপি ব্রুস ডগ্লাসম্যান কর্তৃক ‘পূর্ব পাকিস্তানের ন্যায়বিচার’ পুনরুদ্ধারের জন্য একটি কমিটি প্রত্যাবর্তন করা হয়।                                                       -গার্ডিয়ান, ১৯.৪.৭১।

 

আমরা এটাই বুঝতে পারছিলাম না যে, এরকম একটি ধারার শাসনকে যুক্তরাষ্ট্র কেন সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিলো।

-পূর্ব পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় সফরকারী, ১৯/৪/৭১।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার সম্প্রতি ভুক্তভোগীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং আশা করেছেন যে পূর্ব পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ঘটনার জন্য সৃষ্ট ভোগান্তি অচিরেই লাঘব হয়ে যাবে।

-চার্লস ব্রে, যুক্তরাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্ট, নিউজউইক।

ভারতের পক্ষে চুপ করে থাকা সঠিকও নয় এবং সম্ভবও নয় (বাংলার করুণ অবস্থা নিয়ে)।

-মিসেস ইন্দিরা গান্ধী, প্রধানমন্ত্রী, ভারত।

সাড়ে সাত কোটি পূর্ব পাকিস্তানিকে দাবিয়ে রাখতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী চরমভাবে ব্যর্থ হবে, এই তীব্র বিশ্বাস থেকেই বেশিরভাগ বিদেশি সরকার রয়ে-সয়ে থাকার নীতি অবলম্বন করে আছে।

-নিউজউইক, ১৯/৪/৭১।

পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক শাসকগণ যারা দুই পাকিস্তানকেই শাসন করেছে, তারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পূর্ব পাকিস্তানকে অবহেলা করেছে এবং পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাইবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

-স্পেক্টেটর, ১৭/৪/৭১।

কেন্দ্রীয় সরকার না দিলেও পশ্চিমবঙ্গের আমরা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছি।

-বি এস নাহার, মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ।

প্রদর্শনের জন্য হলেও, পূর্ব পাকিস্তানি নাগরিকদের ওপর মেশিনগানের ভারী গোলাবর্ষণ একই সংগে বর্বর ও নৃশংস।

  • নিউজউইক, ২৬/৪/৭১।

জাতীয়তাবাদী হোক বা না হোক, শিক্ষার্থী, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার এবং নেতৃত্ব দান করার মত যে কাউকেই ইসলামাবাদের নির্দেশে সৈন্যরা শেষ করে দিয়েছে।

  • নিউজউইক, ২৬/৪/৭১।

পূর্ব পাকিস্তানের উপর পাকিস্তান সরকারের ক্ষমতা ধরে রাখার স্পষ্ট সংকল্প থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতির সঠিক পর্যবেক্ষণে বোধ হচ্ছিলো বাঙালিরা শেষমেশ স্বাধীনতা অর্জন করবেই।

-টাইম, ২৬/৪/৭১।

আমরা অত্যন্ত কঠিন এই পরিস্থিতির একটি রাজনৈতিক সমাধান চাই।

-অ্যাডওয়ার্ড হিথ, প্রধানমন্ত্রী, যুক্তরাজ্য, ২৪/৪/৭১।

পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা প্রতিবেদনগুলোগুলো এতটাই ভয়াবহ যে কমনওয়েলথের সদস্যদের কাছ থেকে কিছু মন্তব্য আহ্বান করা হয়েছে।

-স্টিল, হাউজ অফ কমনস, ২০/৪/৭১।

এশিয়া, জাতিসংঘ এবং এই দেশ থেকে বহির্বিশ্বের কাছে পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা জানিয়ে রিপোর্ট করার জন্য একজন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের দরকার।

-হ্যারল্ড উইলসন, হাউজ অফ কমনস, ২০/৪/৭১।

পূর্ব পাকিস্তানের বিপর্যয়ের জন্য ব্রিটেনে এই গ্রীষ্মে পাকিস্তান ক্রিকেটের সফর ইস্তফা দেয়ার জন্য তিরিশ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য কমনস প্রস্তাবনায় স্বাক্ষর প্রদান করেন। এমপি বারনেসের প্রতিশ্রুতিতে এই প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়।

-টেলিগ্রাফ, ২১/৪/৭১।

পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিদিনই মাই লাইয়ের মত ঘটনা ঘটে যাচ্ছিলো। ব্রিটিশ সরকারের পাকিস্তানে অর্থনৈতিক সাহায্য পাঠানো বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

-ব্রুস ডগলাসম্যান, এমপি, ২৩/৪/৭১।

আর আলম, মুদ্রণ ও প্রচার ইউনিট, বাংলাদেশ ত্রাণ তহবিল কমিটি কর্তৃক সংকলিত

 

<৪,২০,৩৫-৩৬>

অনুবাদকঃ নওশীন তাসনিম

শিরোনাম সূত্র তারিখ
২০। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সংগ্রামের প্রতি সমর্থন দানের জন্য ব্রিটেনের রাজনৈতিক দলসমূহের প্রতি বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটির আহ্বান। এ্যাকশন কমিটির প্রচারপত্র এপ্রিল, ১৯৭১

 

বাংলাদেশের পক্ষে আওয়াজ তুলুন

১৯৭১ এর কঞ্জার্ভেটিভ ও ইউনিওনিস্ট পার্টির সম্মেলনের বার্ষিক সভার প্রতিনিধিদের কাছে একটি নিবেদন

 

সুপ্রিয় প্রতিনিধি,

আপনি নিশ্চয়ই পশ্চিম পাকিস্তানের নির্বোধ ও ফ্যাসিবাদি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের নিরস্ত্র ও সহজ-সরল মানুষদের ওপর চালানো পৃথিবীর সবচাইতে ভয়ংকর মানবিক দুর্যোগটি সম্পর্কে জেনে থাকবেন। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এবং টেলিভিশন থেকে আপনি হয়ত তা জেনে থাকবেন। তা সত্ত্বেও, আমাদের জনগণের ওপর যে গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণ চালানো হয়েছে এবং আজও পর্যন্ত হচ্ছে, সেই দুর্যোগের গভীরতা ও মাত্রা, যা আমরা প্রত্যক্ষ করছি, তা বেশিরভাগ মানুষের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। নিরাপরাধ মানুষের ওপর এমন নৃশংস অন্যায় মেনে নেয়ার কারণে সৃষ্ট মানবীয় অপরাধবোধ ও সভ্যজগতের নিন্দা থেকেই কি নীরবতা থেকে জেগে উঠতে এত সময় লাগছে?

হাজারে একশ মানুষ হত্যা, লক্ষ লক্ষ বাড়ি পুড়িয়ে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়া এবং অগণিত হাজার হাজার মা-বোনকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে। প্রায় নব্বুই লাখ মানুষ দেশ ছাড়া হয়েছে, যারা এখন শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনাহার এবং দুর্ভিক্ষে ইতোমধ্যে এক কোটি সতের লাখ মানুষ মৃত্যুর শিকার হয়েছে। পাকিস্তান নামের এক ভূখণ্ডে কেবলমাত্র গণতন্ত্র আদায়ের মত সাধারণ একটি বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষকে দিতে হয়েছে জীবনের বিনিময়ে এক ভয়ানক মূল্য। এটি নিছক আমাদের আঘাতপ্রাপ্ত জীবন কিংবা মর্যাদার প্রশ্ন নয়, এটি হল স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন, যা বিচারাধীন রয়েছে। হাজারে দশজন যুবক কেবলমাত্র জনগণকে রক্ষার দায়েই নয়, বরং এসব নীতি ও মানবিক মূল্যবোধের উপলব্ধি থেকেই অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে।

দলের একজন সদস্য হিসেবে, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং ন্যায়বিচারের নীতির গর্বিত পৃষ্ঠপোষক হিসেবে, আমরা আপনাদেরকে এই আহ্বান জানাই,

(১) ইসলামাবাদের ফ্যাসিবাদী শাসকদের প্রতি শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সাধনের জন্য নিন্দাজ্ঞাপন করুন।

(২) বাংলাদেশের অবিসংবাদিত ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

(৩) বাংলাদেশ থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে অপসারণের দাবি জানান।

(৪) মাননীয় সরকারের কাছে পাকিস্তানে মানবিক সাহায্য ব্যতীত সকল প্রকার অর্থনৈতিক সাহায্য, যা বাংলাদেশে সামরিক নৃশংসতাকে উস্কে দিতে পারে, তা পাঠানো বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান; এবং

(৫) মাননীয় সরকারের কাছে পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানে সম্মতি জানানোর অনুরোধ করুন।

­­­­­­­­­­­­­­­­­­­­গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এ্যাকশন কমিটির পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক প্রকাশিত। ১১, গোরিং স্ট্রিট, লন্ডন ই.সি., টেলিফোন২৮৩ ৫৫২৬ এবং ২৮৩ ৩৬২৩

 

<৪,২১,৩৭>

অনুবাদকঃ দিব্য কান্তি দত্ত

শিরোনাম সূত্র তারিখ
২১।বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন দানের জন্য সারাবিশ্বের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকামী জনগণের প্রতি আহ্বান। ‘পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রণ্ট অব বাংলাদেশ’- প্রচার পত্র এপ্রিল, ১৯৭১

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন করুন

 

পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) এর সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি “সারাবিশ্বের সকল গণতন্ত্র, শান্তি এবং স্বাধীনতাকামী শক্তি এবং একইসাথে সাম্যবাদীদের  বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে তাদের সমর্থন প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছে”।

কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের বিবৃতির মাধ্যমে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’-এর আইনসিদ্ধভাবে গঠিত একমাত্র সরকার হিসেবে দেয়া ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে, কারণ এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত।

“আমাদের দল বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং সাম্যবাদী সরকারকে বাংলাদেশের নব্য গঠিত সরকারকে স্বীকৃতি প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছে এবং সেই সাথে ক্ষমতায় থাকা প্রতিক্রিয়াশীল ফ্যাসিবাদী পাকিস্তানি সামরিক জান্তার এই পাশবিক আগ্রাসনকে প্রতিহত করার জন্য সকল সম্ভাব্য সাহায্যের আকুতি জানাচ্ছে”।

“সকল নব্য গঠিত সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন, তারা যেন সৈন্যদল, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যম সংস্থাগুলোকে একত্র করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যাতে করে আগ্রাসকদের বিরুদ্ধে একটি বিশদ এবং শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা যায়”।

 

ইউনিয়নের আবেদন

পার্টিতে আরও বলা হয় যে, “আমরা বেলুচিস্তান, পাঠানল্যান্ড, সিন্ধু এবং পাঞ্জাবের জনগণ এবং গণতান্ত্রিক শক্তির কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গণতন্ত্র ও অধিকার রক্ষার জন্য তাদের সংগ্রামকে অকুণ্ঠ সমর্থন যোগানোর আহ্বান জানাচ্ছি”।

কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্যানুযায়ী, ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশের কোথাও তারা দেখা করেছে বলে জানা গেছে।

 

প্রধান ছয়টি সমিতির অধীনে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টার নতুন সরকারের সাহায্যের জন্য কর্মী এবং কৃষকদের একটি জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।

 

ট্রেড ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে বলে, “আমরা বিশ্বের সকল ট্রেড ইউনিয়ন ও সংস্থাকে বাংলাদেশের সংগ্রামী জনগণ এবং সরকারকে সম্ভাব্য সকল সাহায্য করার জন্য আবেদন জানাই”।

 

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বাংলাদেশের আরেকটি জায়গা থেকে টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বীকৃতির স্বার্থে পরামর্শ আহ্বান করেছে এবং ০১১ এ যোগাযোগ করে সম্ভাব্য সকল সাহায্য প্রেরণের আহ্বান জানিয়েছে।

ইয়াহিয়াকে থামাও

 

ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টির জাতীয় সভায় বিশ্বের সরকারগুলোর কাছে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ইয়াহিয়া খানের যুদ্ধ বন্ধ করানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

দলটি ভারতীয় সরকারের প্রতি বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহসহ সবধরণের সাহায্য প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

 

সভায় এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টি বিশ্বের সকল সরকারের প্রতি বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি সবধরণের সাহায্য প্রদানে জন্য আহ্বান জানিয়েছে”।

 

১৫ মে-কে বাংলাদেশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং দলটি বাংলাদেশের জন্য র‍্যালি ও অর্থসংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে।

-মর্নিং স্টার নিউজ সার্ভিস।

________________________________________________________________________________

বাংলাদেশ পিপল’স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট কর্তৃক প্রকাশিত

 

<৪,২২,৩৯>

অনুবাদকঃ দিব্য কান্তি দত্ত

শিরোনাম সূত্র তারিখ
২২। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সমর্থনে এগিয়ে আসার জন্য বৃটিশ জনগণের প্রতি আহ্বান ‘বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন স্কটল্যান্ড’- এর প্রচারপত্র এপ্রিল, ১৯৭১

 

লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্ম এবং মৃত্যুসবার জন্যই সমস্যা

পাকিস্তানের অখন্ডতার নামে:

  • বাংলাদেশ (প্রাক্তন পূর্ব পাকিস্তান) এর জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে।
  • বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি জনতার প্রতিনিধি ‘আওয়ামী লীগ’-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দলের নেতাকে দেশের শত্রু ঘোষণা করা হয়েছে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং শিক্ষকদেরকে মেরে ফেলা হয়েছে, ছাত্রাবাসগুলোতে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারা হয়েছে।
  • হাসপাতাল, মন্দির এবং গির্জায় আগুন লাগানো হয়েছে।
  • পাদুয়ার ফাদার মারিও ভেরোনিজের মত পাদ্রীকে গুলি করে মারা হয়েছে।

 

  • বিএমএস মিশন স্টেশন ভয়ানক এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে:

বিএমএস এর ধর্মপ্রচারক আলফ্রেড লুইস বলেন, “যখন ‘রেডিও পাকিস্তান’ প্রচার করছিল যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে এগোচ্ছে, তখনও আমাদের মাথার ওপর দিয়ে বুলেট উড়ে যেত। শিক্ষক এবং কর্মচারীদের তিনটি মিশন হাউজ নিয়ে গড়ে ওঠা আমাদের কমপ্লেক্স তখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল”।

(ব্যাপ্টিস্ট টাইমস, ২৯ এপ্রিল, ১৯৭১)

  • পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যরা লক্ষ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা করেছে এবং প্রায় ৩,০০০,০০০ মানুষকে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
  • পশ্চিম পাকিস্তানি সরকার দেশটিকে দুর্ভিক্ষে নিমজ্জিত করতে চাইছে।

পাশবিকতা আড়াল করার জন্য:

  • আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদেরকে বিতাড়িত করা হয়।
  • আন্তর্জাতিক রেডক্রস-কে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।
  • বহির্বিশ্বের কাছে গণহত্যার সাফাই গাইতে এবং মূল ঘটনাকে আড়াল করতে পাকিস্তান সরকার আষাঢ়ে গল্পসমূহকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ফন্দি আঁটল।

!     !     !     !

প্রত্যক্ষদর্শীরা চুপ থাকবেননা

 

আওয়াজ তুলুন:

  • যতক্ষণ পর্যন্ত শাসকেরা বাংলাদেশ (পূর্ব বাংলা) থেকে তাদের সৈন্যদল অপসারণ না করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানে সব ধরণের সাহায্য দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষ-কবলিত এলাকাগুলোতে আন্তর্জাতিক ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিন।

শীর্ষ পত্রপত্রিকায় নিবন্ধ এবং চিঠি লিখুন

  • আপনার আন্তরিক সমর্থন প্রকাশ করুন এবং বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে লাখো মানুষকে বাঁচাতে আপনাদের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করুন।

__________________________________________________________________________

 

বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন স্কটল্যান্ড

১৫ এলডন, সেইন্ট গ্লাসগো সি ৩। টেলিফোন: ০৪১-৩৩৯-৬৫৭৯

 

<৪,২৩,৪১>

অনুবাদকঃ দিব্য কান্তি দত্ত

শিরোনাম সূত্র তারিখ
২৩। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন স্কটল্যান্ড’ এর প্রচারপত্র এপ্রিল, ১৯৭১

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন করুন

পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক বাংলাদেশকে শোষণের ২৪ বছর

 

বাংলাদেশ                  পশ্চিম পাকিস্তান

জনসংখ্যা            ৭.৫ কোটি                 ৫.৫ কোটি

মাথাপিছু আয়         ১৫ ইউরো                 ৪৫ ইউরো

বৈদেশিক রপ্তানি আয়    ৬০%                     ৪০%

বাজেট বরাদ্দ         ৩০%                     ৭০%

চাকুরীক্ষেত্র           ২০%                     ৮০%

পাকিস্তান সেনাবাহিনী    ১০%                     ৯০%

বৈদেশিক সাহায্য বণ্টন   ২০%                     ৮০%

__________________________________________________________

!     !     !     !     !     !     !     !     !     !

 

বাংলাদেশ জাতীয় রাজধানী, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর সদর দফতর, কেন্দ্রীয় সরকারী অফিস, ব্যাংক এবং ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রধান কার্যালয়- পশ্চিম পাকিস্তানে যা ভারতের প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার অঞ্চল দ্বারা বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন।

 

ডিসেম্বর ১৯৭০: প্রথম সাধারণ নির্বাচন          জ়াতীয় সংসদ আসন

আওয়ামী লীগ দল (শেখ মুজিব)                    ১৬৭

পাকিস্তান পিপল’স পার্টি (ভূট্টো)                    ৮১

অন্যান্য দল                                  ৬৫

______

মোট                                       ৩১৩

২ মার্চ, ১৯৭১: পশ্চিম পাকিস্তানি নেতাদের সাথে আঁতাত করে পাকিস্তানি রাষ্ট্রপতি জেনারেল ইয়াহিয়া খান জাতীয় সংসদের অধিবেশন বাতিল করে দেন।

 

১৫২৪ মার্চ, ১৯৭১: মুজিবের সাথে ইয়াহিয়া এবং ভূট্টোর রাজনৈতিক আলোচনা চলাকালীন স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবি দমন করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

২৫ মার্চ, ১৯৭১: বর্বর পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যরা:

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসগুলোতে মধ্যরাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ওপরে গোলাবর্ষণ করে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে মেরে ফেলে।
  • পত্রিকা অফিস এবং হাসপাতালগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
  • নিরস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে ট্যাঙ্ক এবং মেশিনগান ব্যবহার করে এবং রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো ধ্বংস করে দেয়।
  • সেইরাতে ঢাকায় ৭,০০০ মানুষকে হত্যা করে।

২৬ মার্চ, ১৯৭১:

  • সাড়ে সাত কোটি জনতার প্রতিনিধিত্ব করা ‘আওয়ামী লীগ’-কে নিষিদ্ধ করা হয়। এই দলের প্রধান এবং ‘নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী’-কে ইয়াহিয়া খান এক মাস আগে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে প্রচার করে।
  • ইতিহাসে প্রথমবারের মত অধিকাংশ প্রদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
  • পাশবিকতাকে আড়াল করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের বিতাড়িত করে।
  • বুদ্ধিজীবি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদেরকে (কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই কমপক্ষে ৫০ জন শিক্ষককে তাঁদের পরিবারের সামনে হত্যা করা হয়) হত্যা করা হচ্ছে প্রায় সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে দাবিয়ে রাখার জন্য।

২৭ মার্চ, ১৯৭১:

  • ‘আন্তর্জাতিক রেডক্রস’-কে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।
  • পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যরা বোমাবাজি, গোলাবর্ষণ এবং বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি সুকৌশলে নিষ্পাপ জনগণকে হত্যা করার কাজ অব্যাহত রাখল।
  • পাকিস্তান সরকার দেশটিকে দুর্ভিক্ষে নিমজ্জিত করতে চাইছে।

 

“পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আনুমানিক ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল।”

 

বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন স্কটল্যান্ড

১৫ এলডন, সেইন্ট গ্লাসগো সি ৩। টেলিফোন: ০৪১-৩৩৯-৬৫৭৯

 

<৪,২৪,৪৩>

অনুবাদকঃ মুশররাত আলম মৌ

শিরোনাম সূত্র তারিখ
২৪। বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা বন্ধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থন দানের জন্য বিশ্বের রাষ্ট্র প্রধানদের প্রতি লন্ডনস্থিত বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটির আবেদন বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটির চিঠি এপ্রিল, ১৯৭১

 

বিশ্বের সকল রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি:

জনাব,

ঢাকা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশে যে গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে তা এত সবার এতটাই জানা যে নতুন করে আর কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ছাত্রদের অগ্নিদগ্ধ লাশ, আবদ্ধ আবাসিক এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ, নিরস্ত্র ব্যক্তিদেরকে গুলি বর্ষণ করে হত্যা, এসবই হল পুর্বপরিকল্পিত হত্যার প্রমাণ যা গণহত্যারই সমতুল্য।

মেশিনগান, ট্যাংক, বেয়োনেট, অস্ত্রশস্ত্র, বিমান এবং পশিম পাকিস্তানি সৈন্যদের মধ্যে তীব্রভাবে সৃষ্ট জাতিবিদ্বেষ ব্যবহার করা হচ্ছে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখার জন্য, যে ইচ্ছা স্বতস্ফুর্ত ভাবে ব্যক্ত হয়েছিল ১৯৭০ সালে, প্রথম সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে। ইয়াহিয়া খানের ১১ দিনের আলোচনার সময় নেয়া আজ প্রমাণিত হয়েছে সময় ক্ষেপণ ও আকস্মিক আক্রমণের প্রস্তুতির ষড়যন্ত্র রূপে। আলোচনা সেই সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত চলেছিল। দেড়টার মধ্যে পুরো শহরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল। এই আক্রমণের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য এবং ব্যাপকতা গণহত্যার রীতিনীতি প্রয়োগকে প্ররোচিত করে (অনুচ্ছেদ ১-৪)।

লাহোর প্রস্তাব (১৯৪০) এর উপর ভিত্তি করে পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল, যেটি যুক্তরাষ্ট্রীয় এককসমুহের স্বাধীন ও সার্বভৌম মর্যাদা নিশ্চিত করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকল্পনাকে পরিত্যাগ করে একটি অবিচ্ছিন্ন কাঠামো গঠন করা হয়েছিল। পাকিস্তান গঠনের চিন্তা তাই আজ অতিক্রান্ত।

পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশ বাঙালিরা শেখ মুজিবুর রহমানের কর্তব্যরত সরকারের প্রতি প্রকাশ্যে শতভাগ সমর্থন দানের মাধ্যমে অনুমোদন স্বীকার করে নিয়েছিল, যখন ২ মে মুজিবুর রহমান জাতীয় পরিষদে পুর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি করেছিলেন। সদস্যরা ঘোষিত ইতিবাচক আদেশপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এটি মুজিবুর রহমানের কর্তব্যরত সরকারের বিধিসম্মত ভিত্তি প্রদান করে। মার্চের ২৫ তারিখে স্বাধীনতার ঘোষণা পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে হানাদার বাহিনীতে পরিণত করে।

জীবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পেয়েও মুক্তিবাহিনী বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। চারটি সেনানিবাস এলাকাতেই লড়াই চলছে। বাংলাদেশের জনগণ এই অটল অক্ষয় সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে হানাদার বাহিনীর শেষ সদস্যটিও বেঁচে থাকা পর্যন্ত।

আমরা সকল সরকারের কাছে আবেদন করছি যেন অবিলম্বে জাতিসংঘের বেসামরিক ও রাজনৈতিক অধিকার ১৯৬৬ এর নিয়মপত্রের অনুচ্ছেদ ১(১) অনুযায়ী গণপ্রজাতন্রী বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

আমরা সকল অস্ত্র সরবরাহকারী দেশের কাছে আবেদন জানাই যেন স্বাধীন বাংলাদেশের নিরস্ত্র নিরাপরাধ বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে তাদের অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহারের উপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে উপায়ে তাদের নৈতিক দায়িত্ব পালন করা হয়।

আমরা সকল মানুষের কাছে আবেদন জানাই তাদের সমর্থনকে আরও শক্তিশালী করার জন্য এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য এবং নিয়মানুগভাবে বাঙালি জাতির বিনাশে সমাপ্তি টানার জন্য।

যুক্তরাজ্যে গণপ্রজাতন্রী বাংলাদেশের পক্ষে বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটি, লন্ডন

৫৮ বেরউইক ষ্ট্রীট, ডব্লিউ ১।

টেলিফোনঃ ৪৩৭৭১১১

<৪,২৫,৪৫>

অনুবাদকঃ মুশাররাত আলম মৌ

শিরোনাম সূত্র তারিখ
২৫। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থনদান এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও অত্যাচার বন্ধের জন্য প্রভাব খাটানোর আবেদন জানিয়ে গণচীনের চেয়ারম্যানের প্রতি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটির চিঠি বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটির চিঠি এপ্রিল, ১৯৭১

 

৫৮ বেরুইক স্ট্রিট                                                                           লন্ডন ডব্লিউ টি                                                                 টেলিফোনঃ ৪৩৭ ৭১১১

চেয়ারম্যান

গণপ্রজাতন্ত্রী চিন

চার্জ দ্য’অ্যাফেয়ার এর মাধ্যমে

৪৯ পোর্টল্যান্ড প্লেস, লন্ডন ডব্লিউ ১

মাননীয়,

সাড়ে সাত কোটি বাঙালি তাদের আত্মমর্যাদার অধিকার চর্চার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ এক সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে।

আপনি হয়ত জেনে থাকবেন যে, এই গণহত্যা বাঙালিদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর পুর্বপরিকল্পিত সুচতুর এক ধ্বংসযজ্ঞ। আপনি জানেন যে, বাংলাদেশ তার জন্মলগ্ন থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের পুঁজিবাদী চক্র কর্তৃক অর্থনৈতিক শোষণের শিকার হয়ে আসছে। বাংলাদেশ সম্পর্কিত অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে পাকিস্তান সাম্রাজ্যবাদী উপাদানের প্রকাশ ঘটিয়েছে। গত বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পৃথিবীতে সাম্রাজ্যবাদ নতুন ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে অন্তর্বর্তী-গৌণ সহকর্মীদের আমন্ত্রনের মাধ্যমে, যাতে এটি শোষণের নতুন নতুন পন্থা সৃষ্টি করতে পারে। একটি সুচিন্তিত নীতি হিসেবে, সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির একটি সঙ্গতিপুর্ণ অংশ এসমস্ত গৌণ সহকর্মীদের কাছে রপ্তানি করে শুধুমাত্র তাদের পরিচিত সাম্রাজ্যবাদী খেলার ছদ্মবেশে আমন্ত্রণের মাধ্যমে পুনঃরপ্তানিকৃত হতে পারে। একই নীতির অংশ হিসেবে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব এদের বাংলাদেশের প্রতি বরাদ্দকৃত পুঁজি শোষণের পরিবর্তে পশ্চিম পাকিস্তানি পুঁজিবাদীদের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব পুঁজিবাদী কাঠামোর অভ্যন্তরে অন্তর্বর্তী সত্ত্বা হিসেবে কাজ করার এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রশিক্ষণের পুর্বে পুঁজিবাদী ভূমিকা হস্তগত করার।

যদিও বাংলাদেশের বর্তমান সংগ্রাম ভোটবাক্স আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়েছিল, বর্তমানে যেটি জনগণের যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। মুক্তির সংগ্রাম ইতোমধ্যে গ্রামের দিকগুলোতেও শুরু হয়ে গিয়েছে এবং প্রথম শ্রেণীর গেরিলা কলাকৌশল অবলম্বনের চিহ্ন প্রদর্শন করছে।

বিশ্বব্যাপী চায়নার জনগণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সংহতি প্রদর্শন করেছে। আপনারা ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বাস্ক জাতীয়তাবাদী সংগ্রামকে সমর্থন দিয়েছেন। কোরিয়ান যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধে আপনাদের ভূমিকা এবং ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ আজ ও আগামীর মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ে সদা জাগ্রত থাকবে।

আমরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করার আবেদন জানাই। আমরা আপনাদের নিকট আবেদন জানাই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য, যাতে অবিলম্বে এই গণহত্যার সমাপ্তি ঘটে, যেটি এখনও পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানি পুঁজিবাদী গোষ্ঠীর ভাড়াটে সৈন্যরা চালিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষে                                                                             এ্যাকশন কমিটি, লন্ডন।

 

 

<৪,২৬,৪৬>

অনুবাদকঃ শিপ্রা কর্মকার

শিরোনাম সূত্র তারিখ
২৬। গৃহযুদ্ধ বা আভ্যন্তরীণ গোলযোগ নয়, বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছেন – বিরোধী প্রচারণার জবাবে বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটি বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটির প্রচারপত্র এপ্রিল, ১৯৭১

 

বাংলাদেশ: গৃহযুদ্ধঅভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব?

২৫শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করা হয়। ঐ দিন কোন সংবিধান ছিল না। তাই, সাংবিধানিক বিধান লঙ্ঘন করার প্রশ্নই উঠে না।

নিজস্ব সংবিধানের অভাবে, ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের সময়, পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য গৃহীত আইনগত ভিত্তি নিয়ে পাকিস্তান সম্পূর্নভাবে ফিরে আসে! এই প্রস্তাব চুক্তি, “সার্বভৌম ও স্বাধীন” বাংলাদেশের জন্য এক অন্যতম উপাদান।

জাতীয় সমাবেশের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ অসহযোগ আান্দোলন শুরু করেন। সেদিন থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণার আগ পর্যন্ত ইয়াহিয়ার সামরিক আইন জারি থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তার আদেশপত্রই জনগণের শতভাগ প্রতিক্রিয়াসহকারে বলবৎ ছিল। এই আদেশপত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, মুদ্রা ও ডাকসংক্রান্ত বিধানসমূহ অন্তর্ভূক্ত ছিল। ইয়াহিয়া সরকার, অন্য কোন সামরিক সরকারের মতই কার্যত বিধানের জন্য স্বীকৃতিলাভ করে। এই কার্যত বিধানের মূল ভিত্তি বাংলাদেশ বিষয়ে ২ মার্চ ইয়াহিয়া সরকারের পক্ষে স্থগিত করা হয় স্বাধীনতা ঘোষণার আগ পর্যন্ত মুজিবুর রহমানের কার্যকর নীতির সূচনা ও চালু রাখার সুবিধার্থে। এই ঘোষনা ১) শেখ মুজিবের কার্যত বিধানের ক্ষমতার ওপর নিয়ম জারি করে, ২) এটি পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বিদেশি হানাদার বাহিনীতে পরিণত করে। যে সময়ের কথাই বলা হয়ে থাকুক না কেন, একবার বাংলাদেশ আইনগতভাবে স্বাধীন হয়ে যাওয়া মাত্রই পরবর্তী কার্যত বিধানের তথাকথিত কার্যকর কোন নিয়ন্ত্রণই ইয়াহিয়াকে অনুমোদন দেবে না। ইয়াহিয়া সরকার এই প্রশ্নাতীত তর্কের ক্ষমতার বিষয়ে সচেতন এবং স্বাধীনতা ঘোষণার আধ ঘন্টা আগেই তিনি গ্রেফতার হয়েছেন বলে গুজব ছড়ান।

রিপোর্টে বলা আছে যে, বাংলাদেশে ইয়াহিয়া খানের ১ লক্ষ শক্তিশালী সৈন্যর মধ্যে একজনও বাঙালি নয়। পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৫৬% বাঙালি। বাংলাদেশের সামরিক কর্মকর্তারা হয় কেউ গ্রেফতার নয় কেউ মুক্তিবাহিনীতে যোগদান করেছে। সুতরাং বাংলাদেশে ইয়াহিয়ার সেনাবাহিনী কোন যুক্তরাষ্ট্রীয় সেনা নয়, যার ফলে তার বিধানও যুক্তরাষ্ট্রীয় নয়।

গৃহযুদ্ধ শব্দটির অর্থ হল একই দেশে একই জাতীয়তার দু’ট প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের মধ্যে উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিত দ্বন্দ্ব। যেহেতু বাঙ্গালী একটি স্বতন্ত্র জাতি এবং ইয়াহিয়ার পক্ষে তাদের সশস্ত্র অংশগ্রহণ নেই, সেহেতু বাংলাদেশের ঘটনাটিকে গৃহযুদ্ধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা বা উদাহরণ হিসেবে দেখানো যায় না।

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা মানতেই হবে।

২১(৩) ধারায় বর্ণিত, “মানুষের ইচ্ছাই সরকারের ক্ষমতার ভিত্তি হবে; এটি সাময়িক এবং প্রকৃত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে। বাংলাদেশের মানুষের এই ইচ্ছা সর্বসম্মতভাবে ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রকাশ পায় এবং মার্চের ২ থেকে ২৫ তারিখ সময়ে পূনঃনির্ধারিত হয়। বাংলাদেশে গনহত্যার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল গণতন্ত্র।

বাংলাদেশের এই ঘটনাগুলো কোন গৃহযুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নয়। এটা চরিতার্থ করতে হয় এবং মাও সে তুং এর এই নীতিবাক্য অারও তাজা ও অধিকতর সাক্ষ্যযোগ করতে হয় যে রাজনৈতিক ক্ষমতা বন্ধুকের নালী দিয়ে বের হয়। সেভাবে বলতে গেলে সত্য অস্বীকার করে মাও সে তুং এর বাণীকে আরও নতুন করে উপস্থাপন করে বলতে হয় যে, বন্দুকের নলই সকল ক্ষমতার উৎস।

<৪,২৭,৪৮>

অনুবাদকঃ কাজী সাদিকা নূর

শিরোনাম সূত্র তারিখ
২৭। পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক সাহায্যের বিরুদ্ধে অ্যাকশন কমিটির বক্তব্য বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটির প্রচারপত্র এপ্রিল, ১৯৭১

অর্থনৈতিক সাহায্য না বুলেট?

বাংলাদেশে নতুন মাত্রার গণহত্যার ভয়ংকর সব গল্পের বর্ণনা দিয়ে শতশত চিঠির পাহাড় জমছে প্রতিদিন। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে এবং বোমাবর্ষণ চলছে। গ্রামবাসীদেরকে সাধারণত সারবদ্ধ করে দাঁড় করিয়ে গুলি করা হয়। পশ্চিম পাকিস্তানি সেনারা ঘরে ঘরে তল্লাসি চালাচ্ছে এবং ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী ছেলেদেরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ছেলেগুলো আর ঘরে ফেরে না। সেনাদের কাছে এদেরকে হেফাজতে রাখার মত খাবার কিংবা থাকার ব্যবস্থা – কিছুই থাকে না। তারা বরং এরচেয়ে সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করেছে: হত্যা।

নদীর পাড়ের প্রত্যন্ত জেলার মানুষদেরকে হত্যা করার জন্য সেনারা মেশিনগানসহ ৪০০টি স্পিডবোট ব্যবহার করছে। ত্রাণকার্যের জন্য এসব স্পিডবোটগুলোকে বিদেশি রাষ্ট্র ভাড়া করেছিল। ইয়াহিয়ার লোকেরা সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াচ্ছে আরও কিছু বোট সংগ্রহের জন্য।

পশ্চিম পাকিস্তানের কোষাগারে ২৫ শে মার্চ ৯৩ মিলিয়ন পাউন্ড ছিল। আজ তার কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই পুরো অর্থ খরচ হয়েছে গণহত্যার কাজে, যা অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য খরচ করার কথা ছিল। বাংলাদেশে ইয়াহিয়ার সেনাদের প্রতিদিনের খরচ ১০ লাখ টাকা।

ইয়াহিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্যার এলেকের সাথে দেখা করেন এবং আরও অর্থনৈতিক সহায়তা চান। এই সহায়তা খুব সম্ভবত সামরিক কাজেই ব্যয় করা হবে। এবং এরপর আবারো এই সহায়তা যা অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য বরাদ্দ থাকার কথা তা সামরিক কাজে ব্যয় করে পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনীতিকে সক্ষম করে তুলবে।

এই সহায়তা আসছে আপনার টাকা থেকে, আপনারা যারা নিয়মিত কর প্রদান করছেন। আপনারা কি চান আপনাদের টাকা বুলেটে পরিণত হয়ে নিরাপরাধ এবং নিরস্ত্র মানুষদের হত্যার কাজে ব্যয় হোক? আপনারা কি চান এই গণহত্যার অংশীদার হতে?

জেগে উঠুন আমাদের পক্ষে কথা বলুন এমপি

<৪,২৮,৪৯-৫০>

অনুবাদকঃ সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক

শিরোনাম সূত্র তারিখ
২৮। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি ও সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটির আবেদন অ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র        এপ্রিল, ১৯৭১

 

বাংলাদেশকে স্বীকৃতি ও সমর্থন দিন

আমরা বাংলাদেশের জনগণ, যারা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছি, জনগণ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে, বিশ্বব্যাপী সরকার এবং জনগণের কাছে আবেদন করছি যেন তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি ও সমর্থন দেয়া হয়।

আমরা শুধুমাত্র মুক্তি স্বাধীনতার জন্যই নয় বরং আমাদের অস্তিত্বের জন্যও যুদ্ধ করছি এবং আমাদের স্বাধীনতার লড়াইয়ে আপনাদের সাহায্য কামনা করছি

২৩ বছর আগে যখন পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়, উভয় প্রদেশে স্বায়ত্বশাসন বজায় রাখা পূর্বক, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণ লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি সঙ্ঘ গড়ে তোলে।

বিশ্বাস ও ভ্রাতৃতবোধের চেতনায় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ‘পাকিস্তানের জন্য যুদ্ধ’ করেছিল, কিন্তু বিনিময়ে তারা চরম বিস্ময়ে পেয়েছে কেবল অমানবিক নির্যাতন আর লাগামহীন শোষণ। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের মুনাফা এবং সম্পদের যোগান দিতে গিয়ে ২৩ বছর ধরে আমরা দারিদ্রের সাথে লড়াই করে যাচ্ছি।

বিগত ১২ বছর ধরে সেনাবাহিনী এবং তাদের সমর্থকগণ আমাদের জোর করে দমিয়ে রেখেছে, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে এবং আমাদের নেতাদেরকে জেলে আটকে রেখেছে

গতবছর পাকিস্তানের প্রথম সাধারন প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ প্রথমবারের ভোটে অংশ নিয়েছিলো, যার মাঝে ৯৮% ভোট ছিল মুক্তির পক্ষে, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের হাত থেকে মুক্তির। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদের ৭০% আসনে জয়লাভ করেছিল!!

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারকে উৎখাত করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গণতান্ত্রিক সকল নীতি বিসর্জন দিয়ে বাংলাদেশের উপর সশস্ত্র আক্রমণ চালায়। তাদের আধুনিক এবং উৎকৃষ্ট যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা হত্যা করে আমাদের শিক্ষক-ছাত্র-ডাক্তার-আইনজীবী এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের। ট্যাংক-কামান-মেশিন গান ব্যবহার করে তারা হত্যা করে হাজার হাজার নিরাপরাধ ও নিরস্ত্র নারী, পুরুষ ও শিশুদেরকে।

রক্তই যদি হয় স্বাধীনতার মূল্য তবে বাংলাদেশের আত্মত্যাগ বর্ণনাতীত!!!

যদি কোন মানুষ কিংবা সরকার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে থাকে, তাহলে মুক্তিকামী, লড়াকু বাংলাদেশিদের সাথে সংহতি প্রকাশের এটাই সুযোগ!!

যদি সত্যিকার অর্থেই জাতিসংঘ মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে থাকে, তাহলে “সকল মানুষের আত্মমর্যাদা অধিকার” চুক্তিটি বাস্তবায়িত করার এটাই সময়।

 

বিশ্বের সকল মানুষের কাছে, আমরা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলছি যে, শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত কিংবা সকল বিদেশি হানাদারদেরকে বিতাড়নের আগ পর্যন্ত আমাদের জনগণ লড়াই করে যাবে

১৯৪০ সালের পূর্বে যুক্তরাজ্য যখন অন্ধকার যুগ পার করছিল, আমরা আপনাদের পাশে থাকতে কার্পণ্য বোধ করিনি- এখন আমাদেরকে ফিরিয়ে দেবেন না!!

কন্ঠে ঝংকার তুলন, যাতে বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পারে যে, তারা অসহায় কিংবা একলা নয়!!!

বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটি

৫২, ওয়ার্ডসওরথ রোড,

স্মল হিথ,

বিরমিংহাম ১০

০২১-৭৭৩১৪৫৬

 

<৪,২৯,৫১>

অনুবাদকঃ সমীরন কুমার বর্মন

শিরোনাম সূত্র তারিখ
২৯। স্বাধীনতা সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান সম্বলিত প্রচারপত্র

বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন,

ল্যাংকাশায়ারের দলিলপত্র

এপ্রিল*, ১৯৭১

 

বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন (ল্যাংকাশায়ার ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)

প্রধান উপদেষ্টাঃ মিঃ নজির উদ্দিন।                                          টেলিফোনঃ

সভাপতিঃ মিঃ এ মতিন।                                           ০১৬ ২৭৩ ৬৭৯৪

বাংলার সন্তান,

আমদের গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে কৌশলে বানচাল করে পশ্চিম পাকিস্তানি সাম্রাজ্যবাদী ইয়াহিয়া সরকার আজ বাংলাদেশের অস্তিত্বকে পৃথিবীর বুক থেকে বিলীন করে দেবার জন্য অমানুষিক রক্তক্ষয়ী নির্যাতন ও নিষ্ঠুর আঘাত করে বাংলার মাটিকে রক্তাক্ত করে তুলেছে। ঘৃণ্য পৈশাচিক শক্তির মহড়া দেখিয়ে ইয়াহিয়া বাহিনী নির্দয়ভাবে বাংলার নিরস্ত্র নিরীহ নরনারীদের হত্যা করে চলেছে। বাংলাদেশের আওয়াজকে চিরদিনের মত স্তব্ধ করে দেবার জন্য এই হিংস্র সাম্রাজ্যবাদী বাহিনী দেশের সমস্ত রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, ছাত্র-শিক্ষক বুদ্ধিজীবী সকলকে একাধারে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে।

আজি মহা পরীক্ষা জাতির। পবিত্র জন্মভূমিকে রক্ষা করার জন্য বাংলার নির্ভীক সন্তানরা আজ মহাশত্রুর সাথে সংগ্রামে লিপ্ত। বাংলার সন্তান যে যেখানে আছেন মায়ের বুকের এই রক্তের ধারা প্রতিটি বঙ্গসন্তানকে আজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করেছে। সর্ব সামর্থ্য দিয়ে আজ প্রমাণ করতে হবে – বাংলাদেশ আমি তোমার সন্তান। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আমি তোমার স্বাধীনতা, তোমার মর্যাদা রক্ষা করব।

বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যের জন্য ও দুর্গত জনসাধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সর্বপ্রকার সাহায্য দানের জন্য, আন্তর্জাতিক বিশ্বের রাজনৈতিক দরবারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবিকে জোরদার করে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যের সর্বত্র বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়েছে। আজ দেশের মা-বোনদের স্মরণ করে মিলিতভাবে এগিয়ে আসুন। আপনার সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করুন পবিত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

‘কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যৎ

এ তুফান ভারী দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পাড়’।

-কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন, ল্যাংকাশায়ার কর্তৃক পরিচালিত। সর্ব প্রকার অনুসন্ধানের জন্য যোগাযোগ করুনঃ মনজিল রেস্টুরেন্ট, স্টকপোট রোড, ম্যানচেস্টার।

 

<৪,৩০,৫২>

অনুবাদকঃ উম্মে তৈয়বা নিশাত

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৩০। বাংলাদেশ এখন সহস্র মাইলাই-এর অবস্থায়: স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থনের আবেদন লন্ডন এ্যাকশন কমিটির প্রচারপত্র এপ্রিল, ১৯৭১

 

বাংলাদেশ – সহস্র মাই-লাই এর দেশ

দক্ষিণ ভিয়েতনামের এক মাই-লাই সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

“কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিদিনই মাই-লাই ঘটছে”, রয়টার পত্রিকায় একজন ব্রিটিশ এমপির পর্যবেক্ষণ।

নারী-পুরুষদেরকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে তাদের মেশিন গান চালানো হচ্ছে। ছোট শিশুদেরকেও বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে, যাতে অনাথ শিশুগুলো পাকিস্তান বিদ্বেষ নিয়ে বেড়ে না উঠতে পারে। দিনের পর দিন শহর আর গ্রামগুলোকে ধূলোয় মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে।

বন্ধুরা, আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি আপনারা যেভাবে সাইক্লোন আক্রান্ত বাংলাদেশিদের জন্য বিশ্ববাসীর কাছ থেকে সাহায্য সংগ্রহ করেছেন, যখন বাংলাদেশের অর্জিত বৈদেশিক আয়ে সমৃদ্ধ পাকিস্তান সরকার ছিল সহানুভূতিহীন ও দ্বিধাপূর্ণ।

আপনারা কি আরেকটিবার প্রমাণ করে দিতে পারেন না যে হাজারো প্রাণের ক্ষয় আর লাখো মানুষের দুর্দশায় আপনারা চুপ করে থাকতে পারেন না?

যত বড় শক্তিই হোক না কেন, তা বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম জাতিকে চিরদিন দমিয়ে রাখতে পারবেনা।

কিন্তু মানবতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের জন্য আপনাদের ভালবাসা রুখে দিতে পারে এই বর্তমান ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড এবং মানুষের অসহনীয় দূর্ভোগ। তাই নতুন এই পাকিস্তানি হিটলারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠুন আপনাদের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর নিয়ে।

অত্যাচারী ও বর্ণবাদী পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামরিকভাবে বর্জন করার জন্য আপনাদের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করুন।

জানতে চান বিদেশি সাংবাদিকদের এবং এমনকি রেডক্রসের দলগুলোকে কেন বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবেনা।

আপনাদের সরকারকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের আহ্বান জানান।

<৪,৩১,৫৩>

অনুবাদকঃ উম্মে তৈয়বা নিশাত

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৩১। ইয়াহিয়া খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সমর্থনে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান লন্ডনস্থ বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটির প্রচারপত্র ৫ মে, ১৯৭১

 

আজকের বাংলাদেশ!

বাংলাদেশের ভেতরে কী ঘটছে তা জানার কোন উপায় নেই বহির্বিশ্বের। ইয়াহিয়ার সামরিক সরকার দেশ থেকে সকল বিদেশি সাংবাদিকদের অপসারণ করেছে এবং দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি কূটনীতিবিদদের সঙ্গ অবরোধ করে দিয়েছে এবং বিশ্ববাসীর সঙ্গে সকল ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। রেডক্রসের সহযোগিতা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং সংগঠনের সদস্যদেরকে করাচি বিমানবন্দর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সকল স্থানীয় খবরের প্রতিবেদনসমূহ সেন্সর করা হচ্ছে এবং পত্রিকা মালিকদেরকে অস্ত্রের মুখে সেনাবাহিনীর পক্ষে প্রতিবেদন লিখার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে। সংক্ষেপে, পঞ্চান্ন হাজার বর্গ মাইলের বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে বিশাল এক কেন্দ্রীয় বন্দীশিবিরে, যেখানে নিরস্ত্র ও নিরীহ পুরুষ, মহিলা এবং শিশুদেরকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, শহর এবং গ্রামগুলোতে বোমা মেরে পুড়িয়ে ও ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে।

সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান আল্লাহর নামে যে সকল বর্বরতা চালাচ্ছে, তা হানদের ইতিহাসকেও হার মানায়, আর এটা হচ্ছে বাঙালিরা ঈশ্বরবিহীন নয় বলে নয়, তারা ইয়াহিয়ার কাছে ন্যায়বিচার চেয়েছিল বলে। পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যালঘু মানুষের শিল্পসামরিক গোষ্ঠী কর্তৃক বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু মানুষদের শোষণ বন্ধ করতে চেয়েছিল তারা। তারা চেয়েছিল যেন ইয়াহিয়া ১৯৭০ এর ডিসেম্বরের নির্বাচনের পূর্বে তার দেয়া প্রতিজ্ঞা অনুসারে শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেয়, যার দল আওয়ামি লীগ গত নির্বাচনে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিল। কিন্তু ইয়াহিয়া বাংলাদেশের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে প্রস্তুত ছিলেন না, যা কখনই পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ঘটেনি। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকশ্রেণির মতে, বাঙালিদের জন্ম হয়েছে শাসিত হবার জন্য, সমতার ভিত্তিতে শাসন করার জন্য নয়।

এদিকে, পাকিস্তানের আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য ইয়াহিয়া হঠাৎ করেই একতরফাভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রয়োজনীয় সমাবেশ স্থগিত করে একটি রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করে। ইয়াহিয়া নিজের তৈরি সংকটের সমাধান করার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর বিশিষ্ট অনুসারীদেরকে গ্রেফতার করান, তার ৮০ হাজার সৈন্যকে বাংলাদেশে হানা দিয়ে রাজনীতিবিদ, অধ্যাপক, ছাত্রছাত্রী, আইনজীবী এবং নারী ও শিশুসহ সকল নিরস্ত্র নাগরিককে হত্যা ও বিকলাঙ্গ করে দেয়ার নির্দেশ দেন।

এ ধরণের মধ্যযুগীয় বর্বরতা সংঘটনের দ্বারা ইয়াহিয়া বিশ্ববিবেককে অসম্মান জানায় এবং জাতির সভ্য সম্প্রদায়ের সাথে আলোচনায় বসার নিজ অধিকার নষ্ট করে। এখনই সময় বিবেকনিষ্ঠ গর্জে ওঠার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধের জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করার।

বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক

 

ওয়ার্কাস প্রেস

বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ১৯৭১।

 

<৪,৩২,৫৪>

অনুবাদকঃ উম্মে তৈয়বা নিশাত

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৩২। বাংলাদেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিটিশ পত্রিকার ভুল প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিইয়েশন, স্কটল্যান্ডের বক্তব্য প্রচারপত্র ৬ মে, ১৯৭১

 

ইয়াহিয়াকে সাহায্যের জন্য সাংবাদিকদের ষড়যন্ত্র

“দি সানডে টাইমস” গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তান থেকে একটি বিস্ময়কর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এটি সাম্প্রতিক যুদ্ধকালীন সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যকার এযাবৎকালের একটি অপ্রকাশিত বিদ্রোহের বিস্তারিত প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়: ১০ দিন একসাথে থাকার পর পূর্ব পাকিস্তানের বিস্তারিত খবর পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যকার একটি ব্যাপক ও প্রায় সফল বিদ্রোহ এবং হাজার হাজার অবাঙালি নারী, পুরুষ ও শিশুদের পাশবিক হত্যাকাণ্ডের খবর উন্মোচন করেছে।

এটা ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্রুত প্রতক্রিয়া, কঠিন শৃঙ্খলা এবং সঠিক নেতৃত্ব, যা সেনাবাহিনীকে   বিদ্রোহীদের কাছ থেকে সেই বৃহষ্পতি ও শুক্রবারে রক্ষা করেছিল।

এটি একটি কৌতুহলোদ্দীপক ঘটনা, কিন্তু বাংলাদেশে অবাঙালিদেরকে হত্যা করার প্রতিবেদনগুলো সম্পূর্ণ   ভুল ছিল। প্রতিবেদনটির লেখক হলেন অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস, যিনি করাচীর “মর্নিং নিউজ” পত্রিকার   সম্পাদক, যেটি সরকার পক্ষের পত্রিকা, যা আসলে সরকারের কাছ থেকে ভর্তূকি গ্রহণ করত। “দি সানডে টাইমস” নিজেদের প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণরূপে পক্ষপাতহীন ও বস্তুনিষ্ঠ দাবি করে এসব উল্লেখ করা থেকে সতর্কভাবে দূরে ছিল। কিন্তু যখন “দি সানডে টাইমস” পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলো, তখন তা এন ম্যাডিংটনের নতুন শ্রমবিষয়ক এমপি জনাব ব্রুস ডগলাস- ম্যানকে একটি শীতল   অভ্যর্থনা জানিয়েছিল। তিনি সবেমাত্র বাংলাদেশ সফর থেকে ফিরেছিলেন এবং “দি সানডে টাইমস”-কে সেই   অবস্থার বিবৃতি প্রদান করেছেন। লর্ড থমসনের অনুসারীগণ বিবৃতিটি বর্জন করে।

১৪ মে বাংলাদেশের সংগ্রামের ওপর মি. ডগলাস-ম্যানের জরুরি প্রস্তাবনা সংসদে উপস্থাপিত হবে। আশা করা হচ্ছে যে, পরিস্থিতি লুকানোর জন্য সাংবাদিকদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।

ওয়ার্কস প্রেস, বৃহস্পতিবার, ৬ই মে,১৯৭১

বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন, স্কটল্যান্ড

১.৫ এলডেন স্ট্রীট

গ্লাসসো সি ৩

<৪,৩৩,৫৫-৬০>

অনুবাদকঃ শিরোনামহীন-১

শিরোনাম সূত্র তারিখ

৩৩। “বাংলাদেশ ফাইটস ফর ফ্রিডম”-বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন

 

বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটি প্রকাশিত পুস্তিকা ৮মে, ১৯৭১

 

বাংলাদেশ ফাইটস ফর ফ্রিডম

প্রকাশনায় – বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি, যুক্তরাজ্য

৬৮এ স্ট্রেথাম হাই রোড, লন্ডন, এসডব্লিউ ১৬

ফোন – ০১-৭৬৯-৪৬৯০

ভূমিকা

এই পুস্তিকা খুব সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের ওপর চালানো রাজনৈতিক দমন ও অর্থনৈতিক শোষণ সম্পর্কে ধারণা দেবে।

১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে শুরু হওয়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক নজিরবিহীন গণহত্যার কারণে ধর্মীয় সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে এক হওয়া দু’টি অংশ আজ সম্পূর্ণ পৃথক।

এই গণহত্যা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, এই অর্থনৈতিক শোষণ ও রাজনৈতিক দমন বন্ধ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করা। বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি জনতা আজ সেই সংগ্রামে রত।

এ. এস. চৌধুরী

উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিচারক, হাই কোর্ট ঢাকা

৮ মে, ১৯৭১

 

বাংলাদেশ ফাইটস ফর ফ্রিডম

১৯৪৭ সালে মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভেতর পাকিস্তানের জন্ম হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের ভেতরে থেকেই পাকিস্তানের দু’টি অংশেরর উৎপত্তি এবং শুরু থেকেই এর ইতিহাস ছিল প্রাদেশিক অসন্তোষ দ্বারা ত্রুটিপূর্ণ।

“সেকেন্ড ফ্লাড অভ ইস্ট পাকিস্তান” শিরোনামে দ্য সানডে টাইমস, লন্ডনে বলা হয়েছে: “পাকিস্তানের বর্তমান অশান্তি মূলত ব্রিটিশ ভারত পৃথকীকরণ প্রক্রিয়ার একটি যৌক্তিক সমাপ্তি, যা ২৫ বছর আগেই শুরু হয়েছিল। সম্পূর্ণ পৃথক এবং বিশেষ করে একটি মুসলিম রাষ্ট্র তৈরির ওপর জোর দিয়ে মরহুম জনাব জিন্নাহ ও তার মুসমিল লিগের সহকর্মীরা শুধুমাত্র মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে হু’টি জাতির জন্ম দিয়েছিলেন, যা ছিল সংস্কৃতি, ভাষা এবং হাজার হাজার মাইল শত্রুতাপূর্ণ ভারতীয় এলাকা দ্বারা সম্পূর্ণ আলাদা”।

সম্প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মার্কিন প্রফেসর, এডওয়ার্ড এস. মেসন বলেছেন, “পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা অনিবার্য। একটি অবিভক্ত পাকিস্তান কাঠামোর ভেতরে থেকে অর্থনৈতিক স্বায়ত্ত্বশাসনের নিমিত্তে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা অনিবার্যভাবেই পূর্ব পাকিস্তানি জনগণকে গণহারে হত্যার মাধ্যমে এমন একটি আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে, যা আজ না হোক কাল একটি স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্ম দেবে – “বাংলাদেশ” এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র”। সংক্ষেপে পত্রিকাটি মূলত পাকিস্তানের ইতিহাসকেই তুলে ধরে ও সাংস্কৃতিক, ভাষাগত এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করে এবং দু’টি পক্ষের অর্থনীতি ও রাজনীতিই আসলে বর্তমান সংঘর্ষের প্রধান কারণ বলে বিবেচনা করে।

পাকিস্তান মূলত ধর্মীয় মনোভাবের ওপর ভিত্তি করেই গঠিত হয়েছিল এবং গঠনের পর সেই মনোভাবকে জিইয়ে রাখার চেষ্টাই করা হচ্ছিল। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে এক হাজার মাইল ভারতীয় অঞ্চল ছড়িয়ে রয়েছে। উভয়েই মুসলিম হলেও এরা অনেকটা পর্তুগাল আর পোল্যান্ডের মতই। ১৯৪৯ সালেই রিচার্ড সিমন্ডস তাঁর “দ্য মেকিং অভ পাকিস্তান’ বইতে তাঁর পর্যবেক্ষণ লিখে গিয়েছিলেন, “পাকিস্তানের ভেতরে পূর্ব বাংলার অঞ্চলটিতেই নীরিক্ষা করা সবথেকে কম সহজ, অথচ এর ভবিষ্যত নির্ধারণ করাটাই সবচেয়ে কঠিন”। “পশ্চিম হল খুব শুষ্ক একটি জায়গা, যেখানে চওড়া চোয়াল, পাগড়ি আর ঢোলা পায়জামাওয়ালা লম্বা পুরুষদের প্রধান চলাচলের বাহন হল উট, আর পূর্বাঞ্চলে বর্ষাকালে গ্রাম থেকে গ্রামে আর বাড়ি থেকে বাড়িতে ছোটখাটো, উজ্জ্বল রঙের চেক লুঙ্গিপরা পুরুষেরা চলাফেরা করে নৌকায়। পশ্চিম পাকিস্তান মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সংযুক্ত আর পূর্ব পাকিস্তান অনিবার্যভাবেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্তর্গত”। বাঙালিদের ভাষা, পোশাকআশাক, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনধারণ প্রণালি পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আলাদা এবং ইকোনমিস্ট অভ লন্ডনের পর্যবেক্ষণটিই এক্ষেত্রে অনেকখানি সঠিক – “পূর্ব পাকিস্তান কথা বলে বাংলায়, উর্দু থেকে তা আলাদা হওয়া ছাড়াও এখানকার অধিবাসীরা এই উপমহাদেশের সবচাইতে স্পষ্টভাষী, সবচাইতে রাজনীতিসচেতন এবং চিররসবোধসম্পন্ন মানুষদের দলের অন্তর্ভূক্ত”।

অতএব, এই বিষয়গুলোর ভিত্তিতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, পাকিস্তানের দুই অংশ, পূর্ব আর পশ্চিম মূলত জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে গঠিত হয়নি, বরং ধর্মীয় মনোভাবের ভিত্তিতে হয়েছে। পাকিস্তানের জন্ম থেকেই পশ্চিম পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী ভেবেছিল যে, যতদিন পর্যন্ত মানুষকে এই মনোভাবের প্রতি সোচ্চার রাখা সম্ভব হবে, ততদিন পর্যন্ত বাঙালিকে শোষণ করার একটি ভালো সুযোগ পাওয়া যাবে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে শোষণ ও স্বৈরাচারী নিয়ম-শৃংখলার বীজ বুনে দিয়ে গিয়েছিলেন তথাকথিত জাতির জনক জনাব জিন্নাহ। জনাব জিন্নাহ হয়েছিলেন প্রথম গভর্নর জেনারেল এবং একই সাথে পরবর্তীতে রাষ্ট্রের অন্যান্য উচ্চ পদসমূহেরও দায়িত্বে ছিলেন– ক্ষমতায় থাকা মুসলিম লিগ পার্টির সভাপতিত্ব এবং সমবায়ী পরিষদের সভাপতিত্ব। যেকোন উপায়েই হোক, একটি গণতান্ত্রিক দেশের ইতিহাসে এ এক নজিরবিহীন ঘটনা। “রোমান পরিবারে ২০ শতকের দিকে পিতারা নিজেদের কর্তৃত্ব নিশ্চিত করতে পরিবারে অসন্তোষ তৈরিতেও পিছপা হতেন না, তেমনি পাকিস্তানেও অনিবার্যভাবেই একটি বিশৃংখলা তৈরির পাঁয়তারা চলছিল এবং এই অগণতান্ত্রিক কার্যক্রমের কারণে আরও অনেক অগণতান্ত্রিক বিষয়াদির সূচনা হওয়া ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার”। তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন, জনগণে মতামত ছাড়াই নিজের ইচ্ছেমত নিয়ম জারি করে গিয়েছেন।

১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের ভাষণে জনাব জিন্নাহ স্পষ্টতই বলেন যে, “পাকিস্তানের একটাই হবে রাষ্ট্রভাষা আর তা হল উর্দু”। এটি ছিল অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক, কারণ পাকিস্তানের বেশিরভাগ মানুষ কথা বলত বাংলায়, যা ছিল ইন্দো-পাকিস্তান উপমহাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধ একটি ভাষা। তিনি আরও ইংগিত করেন যে, এই ভাষা ষড়যন্ত্রে ইন্ধন যুগিয়েছে “ফিফথ কলামিস্টস”। এই রাজনৈতিক দমনের কারণে খুব শীঘ্রই পূর্ব পাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে শোষণ করতে আরম্ভ করেছিল। পশ্চিম পাকিস্তান এও বুঝে গিয়েছিল যে, বাংলার রাজস্ব আয় ছাড়া তাদের সামরিক অস্ত্রের যোগান ফাঁটা বেলুনের মত চুপসে যাবে। এ কারণেই ‘পাকিস্তান বাঁচাও’, ‘ইসলাম বাঁচাও’ বলে মাতম শুরু হল। ইসলাম কিংবা দেশপ্রেমের একচেটিয়া অধিকার কেবলমাত্র পশ্চিম পাকিস্তানেরই আছে বলে পূর্ব পাকিস্তানিরা বিশ্বাস করে না। তারা নিজেদের মত করে ইসলামে নতুন মাত্রা যোগ করছে ঠিক যেমনটি করেছিল তুর্কী, মিশরীয়, আলজেরিয়ান আর ফিলিস্তিনিরা।

অর্থনৈতিক শোষণ

হাভার্ড ইউনিভার্সিটির একজন অর্থনীতিবিদ, রবার্ট ডর্ফম্যান, বলেছিলেন, “পাকিস্তানের দু’টি অংশের গড়পরতাজীবনযাত্রার মধ্যকার যে বিশাল ও বিস্তৃত ফারাক, তা আসলে প্রশ্নাতীত। এমনকি পশ্চিম পাকিস্তান অধ্যুষিত সরকারও স্বীকার করে যে, গড়ে একজন পূর্ব পাকিস্তানি পশ্চিম পাকিস্তানের গড় আয়ের মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ আয় করে এবং অতিরিক্ত দামও তাকে পরিশোধ করতে হয়। আয়ের এই অসমতার জন্য মূলত পশ্চিমাঞ্চলের স্বার্থ থেকে পূর্বাঞ্চলের স্বার্থ আদায়ের জন্য একটি পরিকল্পিত অধীনতাই দায়ী, বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তান দাবি করে যে বৈদেশিক আদান-প্রদান, যা পূর্ব পাকিস্তানের পাট রপ্তানি থেকে আসে, তা অসমভাবে পশ্চিম পাকিস্তানকেই সুবিধা দিয়ে থাকে, জাতীয় বিনিয়োগের এই বণ্টন আয়ের অসমতাকে বাড়িয়ে দেয় – ওই উচ্চ শুল্কহার এবং আমদানি কোটাসমূহ পশ্চিম পাকিস্তানে মুনাফা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে গিয়ে পূর্ব পাকিস্তানিদের পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়”। দ্য ইকোনমিস্ট আরও বলে, “আমাদের মতে এই বিষয়গুলোই মূলত মূল্যবৃদ্ধির কারণ”।

১৯৫২ সাল থেকেই পাকিস্তান একটি বৃহৎ বৈদেশিক সাহায্যগ্রহণকারী দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং চীন থেকে, যার বেশিরভাগ অংশই পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পায়নের পেছনে খরচ হয়েছে, আর পূর্ব পাকিস্তানে খুব অল্প সংখ্যক প্রকল্পই হাতে নেয়া হয়েছে, এমনকি সেগুলোর মালিকানাও পশ্চিম পাকিস্তানিদেরই। ১৯৫৯-৬০ সালে, পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের মাথা পিছু আয় ছিল ৩২% বেশি। পরবর্তী ১০ বছরে পশ্চিম পাকিস্তানে আয় বৃদ্ধির বার্ষিক হার ছিল ৬২%, যেখানে পূর্ব পাকিস্তানে ছিল মাত্র ৪.২%। ফলস্বরূপ, ১৯৬৯-৭০ সালের মধ্যে পূর্বের চেয়ে পশ্চিমে মাথা পিছু আয় ছিল ৬১% বেশি। পূর্ব পাকিস্তানের বৈদেশিক বাণিজ্য আয় পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থ আমদানিতে ব্যবহৃত হয়, বিশেষত শুল্ক, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পসংক্রান্ত লাইসেন্সিং পূর্ব পাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পণ্য ক্রয়ে বাধ্য করে, যেগুলো বিশ্ববাজার থেকে আরও স্বল্পদামে সংগ্রহ করা যায়। ১৯৭০ সালের লন্ডন টাইমসের ২০ অক্টোবর সংখ্যায় বলা হয়: এই মুহূর্তে পূর্ব পাকিস্তান চীন থেকে কয়লা সংগ্রহ করে প্রতি টন একদর ১৭২ রুপিতে। এটি পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র স্টিল কারখানার এই বিশাল পরিমাণ লোকসানের অন্যতম বড় একটি কারণ। তা সত্ত্বেও, সীমানা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিয়ে আসা কয়লা প্রতি টন মাত্র ৫০ রুপি। তাছাড়া পূর্ব পাকিস্তান তার মূল পণ্যসামগ্রী, মাছ এবং নিম্নমানের পাট পশ্চিমবঙ্গের আগ্রহী ও মুমুর্ষু কারখানাগুলোতে বিক্রি করতে পারত”।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের আরেকটি অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক শোষণের মাধ্যম হল পাবলিক বিনিয়োগ ক্ষেত্র। ১৯৫৫-৬৬ -১৯৬৯-৭০ সালে ৩য় পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনায় ৩৬% বৃদ্ধি অর্জন করে, ১৯৫০-৫৫ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৬০% সহ কেন্দ্রীয় সরকার উন্নয়ন ব্যয় ২০% কমে গেছে। পূর্ব পাকিস্তান প্রাইভেট শেয়ার বিনিয়োগের আরও কম অংশ পেয়েছে, ২.৫% এরও কম।

পূর্ব পাকিস্তানে ৫ মাস আগের জোয়ারে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১০ লক্ষ বাঙালি প্রাণ হারিয়েছে। পৃথিবীর কোন শক্তিই প্রাকৃতিক দূর্যোগকে রুখতে পারে না, কিন্তু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে পশ্চিম পাকিস্তানি নেতাদের ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি ক্ষমার অযোগ্য। ১৯৩৭ সালেই সুভাষ চন্দ্র বসু বন্যা প্রতিরোধ, ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাষের জমি পুনঃরুদ্ধারের জন্য ছয় লেনের পরিবহন ব্যবস্থা সমৃদ্ধ একটি ২৬০ মাইল লম্বা উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণের পরামর্শ দেন। সেই প্রকল্পসমূহের দায়িত্ব নিয়েছে পারস্পরিক শত্রুতাপূর্ণ ইউরোপ এবং পাকিস্তান ও ভারত। পূর্ব পাকিস্তান ও পূর্ববঙ্গ মিলে এটি করতে না পারার কোন কারণই ছিল না।

এই উপমহাদেশ শক্তিশালী পাহাড় দ্বারা সমৃদ্ধ। এখানে নুড়িপাথরের কোন অভাব নেই। বাঙালিরা কাজ করতে আগ্রহী। এখানে শ্রমের কোন অভাব নেই, কেবল নেতৃত্বের প্রয়োজন। এ শুধু বাঙালিদের পক্ষেই দেয়া সম্ভব, কারণ প্রাচীনকাল থেকে তারা সর্বনাশা সমুদ্র আর অদম্য নদীনালার সাথে বসবাস করে আসছে। প্রস্তাবিত বাঁধটি কেবলমাত্র সমগ্র অঞ্চলের অর্থনীতিকে গতিশীলই করবে না, বরঞ্চ ভবিষ্যতের জন্য দারিদ্র্যপীড়িত বাঙালির মধ্যে আশার আলোও জাগিয়ে তুলবে। সাম্প্রতিককালে ঢাকায় এক পশ্চিমা কুটনীতিক বলেন: “যদি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে তার শুরুটা হবে এই বাংলায়-ই”। উপকূলীয় বাঁধটিই কেবল পারে এই ধ্বংস ঠেকাতে। আর কিছু পারবে না। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বারবারই বাঙালিদেরকে বলে থাকে যে, এই বাৎসরিক বন্যা, এর ধ্বংসাত্মক জোয়ার এবং খরা – সবই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা, অথচ পশ্চিমের সাম্প্রতিক ইন্দো অববাহিকা প্রকল্প ওই মরুভূমি এলাকাকে উর্বর এক জমিতে পরিণত করেছে জলাবদ্ধতার সাথে সংগ্রাম করেও।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ৯০% সদস্যই আসে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে। সামরিক বাহিনী তত্ত্বাবধানের এই বিপুল খরচ সেখানকার মানুষের ৭৫% সুবিধায় কাজে লাগানো হয়, এত বছর ধরে অবিবেচকের মত এভাবেই পশ্চিম পাকিস্তানের কলহ আর পূর্ব পাকিস্তানের বঞ্চনা সংঘটিত হয়ে এসেছে। সেনাবাহিনীর বিনিময়ে বেশিরভাগ স্বার্থত্যাগের এটি একটি অর্থলোভী কর্মপন্থা, যা মূলত কাশ্মিরের মত বাহ্যিক কিছু সমস্যাকে জিইয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। কোন বাঙালিকে সি-ইন-সি কিংবা সেনাবাহিনীর অফিসের দায়িত্ব না দেয়ার জন্য পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এটি একটি অলিখিত কর্মপন্থা। বিমানবাহিনী কিংবা নৌবাহিনী এবং প্রতিভাবান বাঙালি অফিরসারদেরকে জোরপূর্বক মেজর কিংবা লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে এবং আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রদত্ত পদসমূহে অবসর গ্রহণে বাধ্য করা হয়। মুখ্য সামরিক প্রতিস্থাপনাসহ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর তিনটি মূল দফতরই পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থিত, যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের ধ্বংসের জন্য একটি সামরিকভাবে শক্তিশালী পাকিস্তান চেয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানকে দূর্বল করে একে চিরস্থায়ীভাবে উপনিবেশ হিসেবে শাসন করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানের এটি ছিল একটি ভয়ংকর উদাহরণ। বাঙালিরা যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী না, কথাটি সত্যের উপহাসমাত্র। কারণ হিসেবে বলা যায়, বাংলা সেনাবাহিনী ১৯৬৫ সালে লাহোর সেক্টরে ভারতের বিরুদ্ধে সাহসী যুদ্ধ করেছিল। এমনকি এখনও তারা সুপ্রশিক্ষিত ও সশস্ত্র পাকিস্তানি সেনাদের সাথে কোনরকম অস্ত্র ছাড়াই যুদ্ধ করে যাচ্ছে।

লাহোর চুক্তি ও ছয় দফা

১৯৬৬ সালে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান একটি ছয় দফা কার্যক্রম তৈরি করেন, যেখানে বিস্তারিত আলোচনা করে পূর্ব বাংলার স্বায়ত্ত্বশাসনের ডাক দেয়া হয় এবং এটি সর্বপ্রথম উত্থাপিত হয় ১৯৫৩ সালে ঢাকার একটি জনসভায়। এটি মূলত বাংলার অবহেলিত জনগণের মুক্তির জন্য তৈরি হয়েছিল এবং যা মূলত ১৯৪০ সালে মুসলিম লিগের লাহোর চুক্তি, যা পাকিস্তানের জন্মদান করে, তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। ভারত বিভাজনের ৭ বছর আগে এই চুক্তি পাশ করা হয়। এতে অনুমোদিত হয় যে, পাকিস্তানের মূল প্রদেশসমূহ পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্বশাসন ভোগ করবে। তার দাবির মূল বক্তব্য ছিল একটি যুক্ত্ররাষ্ট্রীয় সংবিধান যা ওই যুক্ত্ররাষ্ট্রীয় সরকারকে কেবল পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব দেবে এবং এমনকি যুক্ত দু’টি রাষ্ট্র তাদের “প্রাদেশিকতা” বাড়াতে পারবে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের তাদের নিজস্ব চুক্তি তৈরি কর‍্তে পারবে।

১৯৬৬ সালের মার্চ মাসে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান বলেন যে, শেখ মুজিবের ছয় দফাকে তিনি আলাদা হয়ে পড়ার হুমকি হিসেবে নিয়েছেন এবং সতর্ক করে দিয়েছেন যে দরকার হলে তিনি সেগুলো মেনে নেয়ার পরিবর্তে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হবেন যুক্তরাষ্ট্রে যেমন হয়েছিল। তৎক্ষণাৎ শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয় এবং বেশিরভাগ বিদেশি পত্রিকায়ই এ ঘটনা অগ্রাহ্য করা হয়। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে চতুর্থবারের মত গ্রেফতারের এই ঘটনায় বাঙালিরা তাকে শহীদ ভেবেছিল। রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান ও অন্যান্য শাসক গোষ্ঠীর কারসাজিতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় মুজিবকে আর ৩৫ জনের সাথে বিচারের আওতায় আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তারা শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ভারতীয় অনুচরদের সাহায্যে আইয়ুব সরকারের অপসারণে একটি বিদ্রোহের ষড়যন্ত্র করে। এই অভিযোগের সত্যতার কোন ছিটেফোঁটাও ছিল না এবং প্রমাণের অভাবে মুজিবের পক্ষে অসমাপ্ত অবস্থায় বিচারকার্যের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং কারাগারে গুলি খাওয়া একজন বাদে তিনি ও বাকি সবাইকে মুক্ত করে দেয়া হয়। মুজিব আসলে স্বায়ত্তশাসন নয়, অনৈতিক অপসারণ চাইছেন বলে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে ভুল বুঝিয়ে মুজিব ও তাঁর নেতৃত্বের সম্মানহানি করাই ছিল এই বিচারের উদ্দেশ্য। তা সত্ত্বেও, পাকিস্তান সরকার এই নীল নকশা দারুণভাবে ব্যর্থ হয়। রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান নিজেই এতে অপদস্ত হন।

পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মানসিকতার দু’টি খুব গুরুত্বপূর্ণ দিক এই বিচারকার্যের মাধ্যমে ফুটে ওঠে, প্রথমত, একটি দেশ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত রাজনৈতিক জ্ঞান তাদের নেই, মূলত তারা অত্যন্ত বিবেকবর্জিত এবং একটি সভ্য সমাজে অগ্রহণযোগ্য যেকোন কিছু ঘটিয়ে ফেলতে তারা সক্ষম, দ্বিতীয়ত, তারা সবসময়ই বাঙালিদেরকে সন্দেহ করত এবং যেকোন যেকোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় কম্যুনিস্ট ও ভারতের উস্কানিতে করেছে অপবাদ দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানকে সবখানে বাধা দেয়া হত।

বর্তমান সংকট

সাম্প্রতিক ডিসেম্বরের নির্বাচনে শেখ মুজিব ও তাঁর দল, আওয়ামিলীগ, পূর্ব পাকিস্তানকে বরাদ্দ করা জাতীয় সাংবিধানিক সভার ১৬৯ টি আসনের মধ্যে ১৬৭ টিতেই জয়ী হয়েছে। তাঁর দল ৩১৩টি চেম্বারে স্পষ্টতই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। পাকিস্তানের নব নির্বাচিত জাতীয় সভার ৩ মার্চ তারিখে দেখা করবার কথা ছিল। ৮৩ সদস্যের দল নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো দাবি করেন যে, বাণিজ্য ও সহায়তার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের হাতেই থাকা উচিত। যখন শেখ মুজিব অতীত অর্থনৈতিক শোষণের এই হাতিয়ারের সাথে আপোষ করতে অসম্মত হন, ভুট্টো তখন সভায় অংশগ্রহণ করা প্রত্যাখ্যান এবং তার ও অন্যান্য সামরিক নেতাদের পরামর্শে রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান অনির্দিষ্টভাবে সভা স্থগিত করে দেন।

“ভারতের বিরুদ্ধে হাজার বছরের সংগ্রাম” স্লোগান নিয়ে ভুট্টো নির্বাচনে জয়লাভ করেন। শেখ মুজিব নির্বাচনে জয়ী হন তাঁর বিখ্যাত ছয়দফার জন্য। এটাই হল বাঙালিদের জন্য স্বায়ত্ত্বশাসন, যেখানে পশ্চিম পাকিস্তানের কাছে থাকবে সামরিক, পররাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক বিষয়াদির জরুরি কাগজপত্র। একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে, “৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের সমর্থনে করাচির রাস্তায় বেলুচ, পাঠান ও সিন্ধিরা মার্চ করেছিল”। তারা কেবল পশ্চিম পাঞ্জাব প্রদেশ অতক্রম করতে পেরেছিল, যেখানকার লোকেরা পাকিস্তানের সমস্ত উচ্চ পদসমূহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং এখানেই ছিল মূল সমস্যা। “ভারতের বিরুদ্ধে হাজার বছরের সংগ্রাম” ছাড়া জনাব ভুট্টো ও পশ্চিম পাঞ্জাবীদের কাছে পাকিস্তান ছিল অর্থহীন এবং সাড়ে সাত কোটি বাঙালির দ্বারা অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়া পশ্চিম পাকিস্তানের যুদ্ধ করার কোন ক্ষমতাই ছিলনা।

কাশ্মির সমস্যা এবং তুরস্ক, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার একটি চুক্তি আঞ্চলিক কর্পোরেশন ও উন্নয়ন, পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করে তুলেছিল। লন্ডনের সানডে টাইমসের ডেভিড হোল্ডেন ঠিকই বলেছেন, “কাশ্মিরের সাথে পাকিস্তানের বারমাসী যুদ্ধে বাঙালিদের কোনকিছু যায় আসে না, তবুও এই যুদ্ধে সামরিক খরচ করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আয় থেকেই, যার সিংহভাগ অর্জিত হয়েছে বাঙালিদের দ্বারাই”। কাশ্মির ঘটনায় মতামত দিয়ে সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ান বলে, “পাকিস্তান অভিযোগ করে যে, কঠিনভাবে নিপীড়ন করে ভারত পাকিস্তানপ্রেমী কাশ্মিরীদেরকে আটকে রেখেছে। অথচ হাস্যকর ব্যাপার হল এই যে, ইসলামাবাদের জন্তারা নিজেরাই প্রকাশ্যেই সাড়ে সাত কোটি প্রকৃত পাকিস্তানিদের ওপরে সেই নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। কাশ্মিরের কথা আবারও উঠলে জাতিসংঘ নিশ্চয়ই এবার তিক্ত হাসি হাসবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মত এই বিষয়টিও এখন পুরনো হয়ে গেছে”।

জাতীয় সভার প্রতি ইয়াহিয়া খানের খামখেয়ালী স্থগিতাদেশের কারণে সারা বাংলায় প্রতিবাদ ও মিছিল ছড়িয়ে পড়ে ১ মার্চে, যা সেনাবাহিনী জোরপূর্বক থামানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলার প্রায় ২০০০ স্বাধীনতাকামী ছেলেপেলে এতে প্রাণ হারায়, এই রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ড ঘটা সত্ত্বেও আওয়ামিলীগ স্বাধীনতা ঘোষণা করা থেকে বিরত থাকে। এর বদলে তারা অহিংস অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যায়। বিশ্বের ইতিহাসে এই প্রথম বেসরকারি একটি দলের নেতা, শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র সরকারি প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস করে এবং তাদের অভিযোগসমূহ তাঁর কাছে প্রেরণ করে। এ ছিল এমন এক অসহযোগ আন্দোলন, যে আন্দোলনে এমনকি মহাত্মা গান্ধীও কোনদিন মানুষের মধ্যে এই পরিমাণ ঐক্য, সংহতি ও উৎসর্গের চেতনা অর্জন করতে পারেননি। সেসময়ে এটা প্রমাণিত হয় যে, তিনি কখনই পাকিস্তান থেকে আলাদা হতে চাননি। “পশ্চিম পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অন্তঃপ্রবাহের সুপ্রচারণা সত্ত্বেও তাঁর পরবর্তী দুই সপ্তাহর জন্য আলাপ চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই পাকিস্তানের ঐক্যের প্রতি তাঁর আপোষ ও অঙ্গীকারের প্রস্তুতি ফুটে ওঠে”।

রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া পূর্ব পাকিস্তানে তার সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বাড়াতে চাইছিলেন এবং কোনদিনই তিনি সরল বিশ্বাসে মুজিবের সঙ্গে কোন আপোষ করেন নি। আলাপ চলাকালে তিনি প্রকাশ্যেই বলেন যে, কিছু কিছু বিষয়ে তিনি সন্তুষ্ট হয়েছিলেন, ২৫ মার্চ তিনি ইসলামাবাদে ফিরে যান এবং পাকিস্তানের ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী, শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে সম্বোধন করেন। তিনি তাঁর দলকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ, বৃহষ্পতিবার রাতে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন, যেমনটি আর্মেনিয় খ্রিস্টানদের গণহত্যা ও হিটলারের ইহুদী হত্যার পর অনেকদিন দেখা যায়নি।

২৫ মার্চ সারা বাংলাদেশ আতংকে চিৎকার করে ওঠে। ভারীবর্ষনের পর সৃষ্ট বন্যার মত রাজপথে রক্ত বয়ে যায়। নারী-পুরুষ-শিশু-কিশোররা আতংকে রাস্তায় ছোটাছুটি করে। আকাশে-বাতাসে তাঁদের চিৎকারের শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। অস্ত্র ও গোলাবর্ষণের শব্দে তাদের চিৎকার হারিয়ে যায়। হাজার হাজার লোক মারা যায়। প্রখর রৌদ্রে রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষের লাশে পচন ধরে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জাল ভেদ করে কতিপয় সাহসী সাংবাদিকেরা তাঁদের অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দেয় – সারা বিশ্ব এই গণহত্যার বিষয়ে জানতে পারে ও টেলিভিশনের পর্দায় দেখে। বিশ্ব থমকে গিয়েছিল কি? তারা কি আতংক অনুভব করেছিল? তাদের প্রতিক্রিয়া যা-ই হয়ে থাক না কেন, যুদ্ধের শিকার বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ সেকথা কোনদিনও জানতে পারবে না। পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্মম ও বর্বর গণহত্যার রক্তাক্ত বর্ণনা দিয়েছিল আতংকিত প্রত্যক্ষদর্শীরা। পূর্ব পাকিস্তানের পত্রিকাগুলোর কন্ঠ চেপে ধরা হত, যদি না তাদের অফিসগুলো কামানের গোলার আঘাতে চুর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়ে না থাকত। বিদেশি সাংবাদিকদেরকে লাঞ্ছিত করা হত, শরীরে তল্লাসি করা হত, মানহানির অভিযোগে অবশেষে বিতাড়িত করা হত। একজন ব্রিটিশ ভদ্রমহিলা একজন পাকিস্তানি অফিসারকে জিজ্ঞেস করেছিল, “শিশুগুলোকে কেন মেরে ফেলা হল?” অফিসার উত্তর দিয়েছিল, “অনাথ এই শিশুগুলো পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা নিয়ে বড় হবে”। বাইরের পৃথিবীর কাছে যেন সত্য প্রকাশ না পায়, সে ব্যাপারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অত্যন্ত সচেষ্ট ছিল।

<৪,৩৪,৬১-৬৩>

অনুবাদকঃ সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৩৪।“ফ্যাক্ট শীট-৯”-দেশবিদেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে প্রতিবেদন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাকশন কমিটির প্রচা্র পত্র মে, ১৯৭১

 

ঘটনার বিবরণ

বিশ্বশান্তি সম্মেলনে বাংলাদেশের জনগণ

৪র্থ বিশ্বশান্তি সম্মেলনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত ছিলো, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে(মে ১৩-১.৬)। আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব পরিচালনা করেন জাতীয় পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব এম এ সামাদ এবং আরো ছিলেন জাতীয় আওয়ামি পার্টির যুগ্ম সচিব জনাব দেওয়ান মাহবুব আলী; যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাকশন কমিটির নির্বাহী সদস্য ডা: সরওয়ার আলী এবং জনাব ওয়ালী আশরাফ।                    

আমরা যুদ্ধবিদ্ধস্ত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার আমন্ত্রণে, সংগঠকদের ধন্যবাদপূর্বক প্রতিনিধিদের নেতা জনাব সামাদ বর্ণনা করেন যে, তাঁর দেশ যুদ্ধবিদ্ধস্ত। নৃশংস গণহত্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং এখানে সাড়ে সাত কোটি মানুষের বাস। সংবাদপত্র এবং অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে গত দেড় মাস ধরে ঘটতে থাকা গণহত্যা এবং নৃশংসতার কথা আপনারা হয়ত শুনে থাকবেন। ২৩ বছরের শোষণের ইতিহাসকে ইঙ্গিত করে আমরা আরো জানাই, “১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সর্বশেষ অধিবেশনে লাহোর প্রস্তাবের মূলনীতির ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। ব্রিটিশ ঔপনেশিক শাসকদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশের মানুষই সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছিলো। বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিলো অনেক বেশি – উল্লেখ্য খসড়াটি ভারতের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোর স্বাধীন ও সার্বভৌম একটি প্রদেশ সৃষ্টির নিশ্চয়তা দেয়। স্বাধীনতা অর্জিত হয় ১৪ আগস্ট, ১৯৪৭ সালে। কিন্তু সমগ্র পাকিস্তানের ক্ষমতা ন্যস্ত ছিলো কিছু সংখ্যক পশ্চিম পাকিস্তানির হাতে। তখন থেকেই শুরু হয় শোষণ ও নিপীড়ন। বাংলাদেশ কেবলই একটি উপনিবেশে পরিণত হয়, কিন্তু এ দেশের মানুষের নিরন্তর পরিশ্রমে এখানে অঢেল পরিমাণে পাট উৎপন্ন হতো, যা ছিলো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস এবং চা ও চর্মশিল্পের পাশাপাশি পাকিস্তানের মোট আয়ের ৭০% আসতো এখান থেকে। কিন্তু এ আয়ের খুবই অল্প পরিমাণ ব্যবহৃত হতো আমাদের উন্নতির জন্য। বাংলাদেশে অবস্থানরত জনগণের তুলনায় পশ্চিম পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় ছিল তিনগুণ বেশি।

সর্বশেষ নির্বাচন এবং পরবর্তী ঘটনাসমূহ বর্ণনাপূর্বক তিনি বলেন, “জেনারেল ইয়াহিয়া খান জনাব ভুট্টোকে সমর্থন করেন এবং সমাবেশ পিছিয়ে দেন। সমাবেশ পিছিয়ে দেয়ায় বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া ছিলো বাঁধভাঙা ও স্বতঃস্ফূর্ত এবং সারা দেশের মানুষ এ স্বেচ্ছাচারপ্রসূত কর্মকান্ডের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে, ইয়াহিয়া কখনোই ক্ষমতা স্থানান্তর করতে চায়নি এবং গণতন্ত্রের বিদ্রুপ করেছে। তা সত্ত্বেও, শেখ মুজিব একটি রাজনৈতিক মীমাংসার পথ খুঁজছেন।

জনাব সামাদ সংক্ষেপে বর্ণনা করেন কীভাবে জেনারেল প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সে ভয়াবহ কালরাতের যখন জেনারেল ইয়াহিয়া আলোচনার নামে সময় ক্ষেপণ করছিলেন। তিনি বলেন, “২৫ মার্চ রাত ১১টা, তখনো আলোচনা শেষ হয়নি। ইয়াহিয়া খান বিশ্বাসঘাতকতার এক নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সশস্ত্র সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়লো দুর্বল ও নিরস্ত্র নাগরিকদের উপর। কোন ধরণের সতর্কতা ও কারফিউ ছাড়াই ট্যাংক, মর্টার, কামান, মেশিনগান এবং রকেট ব্যবহার করে নির্বিচারে হত্যা করলো নিরপরাধ মানুষদেরকে। প্রথম দু’রাতে হত্যা করা হয়েছে অগুণিত মানুষকে। ঢাকাতেই আনুমানিক হত্যার সংখ্যা ১,০০,০০০। ধর্ষণ, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগের অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়বৃন্দ, আমি আপনাদের বর্ণনা করবো সে সব ঘটনা যাতে আপনারা তথাকথিত শান্তির জন্য রাখা এ সম্মেলনে বসে তা অনুভব করতে পারেন।”

জনাব সামাদ বলেন যে, বাঙালিরা পিছু হটেনি। “মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি সৈন্যদেরকে খুশিমত ছড়িয়ে পড়তে দিয়েছিল স্থান ও সময় বুঝে তাদেরকে ঘিরে ধরে যুদ্ধের মাধ্যমে কোণঠাসা করে দেবার জন্য।”

জনাব সামাদ নিশ্চিত করেন যে, পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শুধুই একটি দখলদার বাহিনীর, যাদের কোন জনসমর্থন নেই।

নৃশংসতার নিন্দা জানায় সদস্যবৃন্দ

সম্মেলনে অংশ নেয়া ১২৪টি দেশের ৮০০ জনেরও বেশি সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বাংলাদেশের প্রতি নৃশংসতা ও গণহত্যার তাঁদের তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিশ্বশান্তি সংস্থা স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশিদের সাথে তাদের সংহতি প্রকাশ করে। বাংলাদেশিদের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম এবং আত্ম-সংকল্পের কারণে তারা বাংলাদেশিদের ল্যামব্রাকিস পদকে ভূষিত করে।

জাতীয় আওয়ামী পার্টির প্রধান মওলানা ভাসানির একটি বাণী উক্ত সম্মেলনে পাঠানো হয়।

সফরে রাষ্ট্রদূত

জনাব এম এ সামাদ বাংলাদেশ সরকারের সফরকারী রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিশ্ব সফরে নিযুক্ত হন। তিনি হাঙ্গেরিয়ান সরকারের সদস্যদের সাথে দেখা করেন এবং বাংলাদেশের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি সোভিয়েৎ রাষ্ট্রপতি জনাব পডগোর্নির সাথে খুব শীঘ্রই মিলিত হবেন। পূর্ব ইউরোপ সফরের পর তিনি যুক্তরাজ্য সফরে আশাবাদী।

কমন প্রস্তাব

হাউস অব কমনস সর্বসম্মতিক্রমে ১৪ মে, ১৯৭১ তারিখে একটি প্রস্তাব পাশ করে। প্রস্তাবনায় জনাব ব্রুস ডগলাস-ম্যান এম পি বলেন, “এই হাউজ পূর্ব পাকিস্তানে ঘটতে থাকা হত্যা ও বিনাশ এবং খাদ্যঘাটতির হুমকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। শত্রুদের কাছ থেকে রক্ষা করার জন্য যথাযথ সরকারের প্রভাব, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তজার্তিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর স্বীকৃতি এবং রাজনৈতিক মীমাংসা অর্জন পাকিস্তানিদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।”

 

এ দুঃখজনক ঘটনার প্রকৃতি ও ব্যাপকতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ” ………. সর্বনিম্ন মৃত্যুসংখ্যা আনুমানিক ১,০০,০০০, কিন্তু অনেক মূল্যনির্ধারকের মতে তা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে।”

বিপুল সংখ্যক শরণার্থী যারা কিনা ভারতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে, তাদের দেখে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, “… পরিস্থিতি এমন যে, যেখানে ক্যাম্পটি স্থাপন করা হয়েছে, ভবিষ্যতে তা জনসমুদ্রে পরিণত হবে”। তিনি বলেন, “ক্যাম্পে খাবারের পরিমাণ পর্যাপ্ত কিন্তু তাতে ভারতীয় সরকারের খরচ মাথাপিছু প্রতিদিন এক টাকা।”

ভারতীয় উদ্বেগ সত্বেও, তিনি বাংলাদেশে তাঁর সফরের বর্ণনা দিয়ে বলেন, “প্রতিনিয়ত আমরা একই ঘটনা শুনে আসছি। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সেনাবাহিনী গ্রামে প্রবেশ করে, যা তখন সুরক্ষিত ছিলো না, তারা পুরুষদের উপর গুলি চালায়, নারী ও শিশুদেরকে হত্যা করে, অগ্নিসংযোগ করে চলে যায়”।

তিনি আরো বলেন, “হত্যা এবং ঘৃণার পরিমাণ এতোই বেশি যে অবিভক্ত পাকিস্তান রাষ্ট্র এখন মৃত”।

 

হাইড পার্কে কথা বললেন বিচারপতি চৌধুরী

সভা শেষ হবার পরদিন কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা এবং সম্মানিত এম পি জন স্টোন হাউজ ও বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, হাইড পার্ক স্পিকারর্স কর্ণারে একটি সার্বজনীন মিটিংয়ের আয়োজন করলেন, যেখানে উপস্থিত ছিলো প্রায় দু’হাজার বাঙালি। মিটিংটি আয়োজন করেছিলো স্টুডেন্টস এ্যাকশন কমিটি এবং এটি ছিলো বিচারপতি চৌধুরীর প্রথম জনসম্মুখে বক্তৃতা যেখানে তিনি কমন প্রস্তাবটি বিস্তারিত বর্ণনা করেন।

 

 

বাংলাদেশ স্টুডেন্টস এ্যাকশন কমিটি কর্তৃক প্রচারকৃত বন্টনকৃত

৩৫ গ্যামাজেজ বিল্ডিং, ১২০ হলবর্ণ , লন্ডন, . সি . .

যোগাযোগ. ৪০৫৫৯১৬ ( অফিস সময়)

                             ৬৭৩৫৭২০

 

 

<৪,৩৫,৬৪>

অনুবাদকঃ সমীরণ কুমার বর্মন

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৩৫। “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের প্রচারপত্র বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, যুক্তরাজ্য মে, ১৯৭১

 

 

বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদগ্রেট বৃটেন

৩৫ গ্যামেজ বিল্ডিং

১২০ হলবরন, লন্ডন ইসিআই

ফোন-০১-৪০৫-৫৯১৭

 

___________________

জাতীয় সংগীত

আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি

চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।।

ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,

মরি হায়, হায় রে- ও মা, অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।।

 

কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো-

কী আঁচল বিছায়েছ বতের মূলে, নদীর কূলে কূলে।

মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো,

মরি হায়, হায় রে-

মা, তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়নজলে ভাসি।।

 

তোমার এই খেলাঘরে শিশুকাল কাটিল রে,

তোমারি ধূলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি।

তুই দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী দীপ জ্বালিস ঘরে,

মরি হায়, হায় রে-

তখন খেলাধুলা সকল ফেলে তোমার কোলে ছুটে আসি।।

 

 

 

বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত।

 

 

___________________________

 

 

 

<৪, ৩৬, ৬৫>

অনুবাদকঃ তানভীর আহমেদ রিশাত

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৩৬। জনাব এ, সামাদ এমএন-র প্রতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর চিঠি ব্যক্তিগত চিঠি ২৪ মে, ১৯৭১

 

টেলিফোনঃ ০১-২৮৩-৩৬২২/৩

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি যুক্তরাজ্য

             গোরিং স্ট্রিট, লন্ডন, ইসি ৩.১১

 

জনাব সামাদ,

আমি হঠাৎই লন্ডন ছেড়ে চলে যাচ্ছি। আশা করি আপনি লন্ডনে পৌঁছানোর আগেই ফিরে আসব।আমার অনুপস্থিতিতে আপনি সম্পূর্ণভাবে পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক জনাব আজিজুল হক এবং পরিচালনা কমিটির সদস্য জনাব মান্নানের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেন। তাঁরা দু’জনেই নিবেদিতপ্রাণ কর্মী এবং আমি তাঁদেরকে কর্ম সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে এসেছি।

 

এ সামাদ, এম এন এ                                                       ধন্যবাদান্তে

এ এস চৌধুরী।

 

<৪, ৩৭, ৬৬-৬৭>

অনুবাদকঃ তানভীর আহমেদ রিশাত

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৩৭। বৃটেনে প্রবাসী জনাব এম, এ রাজ্জাক চৌধুরীর প্রতি কোলকাতাস্থ বাংলাদেশ মিশনের জনাব আনোয়ারুল করিম চৌধুরীর চিঠি ব্যক্তিগত চিঠি ২৪ মে, ১৯৭১

 

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মিশন

সার্কাস এভিনিউ                                   গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ মিশন

কলিকাতা ১৭                                                 , সার্কাস এভিনিউ

                                                       কলিকাতা১৭

                                             ২৪ মে, ১৯৭১

নং-বি-৫/৪/৭১

জনাব এম এ রাজ্জাক চৌধুরি

৬, ব্রিটানিয়া রোড,

সাউথ সি (যুক্তরাজ্য)

জনাব,

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের কলিকাতা মিশনের প্রধান জনাব এম হোসেন আলির কাছে ১৬ মে, ১৯৭১ এ লেখা চিঠিতে চোখ বুলানোর জন্য আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

মিশন প্রধান আপনাকে এবং লন্ডনে বসবাস করা বাঙালি সম্প্রদায়কে তাঁর ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন প্রদানের জন্য। বাংলাদেশের জনসাধারণ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে নির্মূল করার যুদ্ধে রত আছে এবং তাদের প্রচুর পরিমাণে সাহায্য দরকার দেশকে মুক্ত করতে। এমতাবস্থায়, আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি ,আপনার যেকোন রকম সাহয্যের জন্য, যাতে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারি।

আপনি জেনে খুশি হবেন যে, আমরা লন্ডনে নিম্নে উল্লেখিত নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছি:

বাংলাদেশ ফান্ড, একাউন্ট নং. ০০৭-৮৬৬-৩০,

হাম্ব্রোস ব্যাংক, ৪১, বিশপ গেইট, লন্ডন ই.. সি. ৩.

এই অ্যাকাউন্টের ট্রাস্টিদের নামগুলো হল সম্মানিত জন স্টোনহাউজ এমপি, মি. ডোনাল্ড হেজওয়ার্থ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিচারপতি জনাব আবু সায়ীদ চৌধুরি। বাংলাদেশের জন্য যত সাহায্য সংগৃহীত হয়েছে, তা উক্ত অ্যাকাউন্টে জমা দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। উক্ত অ্যাকাউন্ট থেকে প্রয়োজনের সময় বাংলাদেশের চাহিদা মেটানোর জন্য ফান্ড তুলবে বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং বুদাপেস্টে বিশ্বশান্তি সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান জনাব মোহাম্মদ আ সামাদ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে খুব শীঘ্রই লন্ডন সফরে আসবেন। বিচারপতি জনাব এ এস চৌধুরির নিকট থেকে জনাব সামাদের আগমন এবং তার কার্যক্রম সম্পর্কে ভালভাবে অবগত হওয়ার জন্য আপনাকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। জনাব চৌধুরির অফিসের ঠিকানা: ১১, গোরিং স্ট্রিট, লন্ডন, ইজি ২। টেলিফোনঃ ২৮৩-৩৬২৩২, ২৮৩-৩৫৫২৬।

জনাব চৌধুরি বাংলাদেশের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের নিকট হতে জাতিসংঘে দেশটির প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ও অন্যান্য মহাদেশে সংস্থাটির বিভিন্ন অংশের ফান্ড তোলার কাজে সমন্বয়ের করার জন্য এবং বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য কাজ করার আরো ক্ষমতা পেয়েছেন। আমরা আশা করব আপনি সব ধরনের প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা করবেন তাঁকে, যা বাংলাদেশের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে।

 

সাহায্য পাওয়া গেলে বিজয় আমাদের হবেই, ইনশা’আল্লাহ।

 

জয় বাংলা

                    আপনার বিশ্বস্ত,

(আনোয়ারুল করিম চৌধুরি)

মিশনপ্রধান

 

<৪, ৩৮, ৬৮>

অনুবাদকঃ সমীরন কুমার বর্মণ

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৩৮।বাংলাদেশের সমর্থনে ১৯শে জুন হাইড পার্কে অনুষ্ঠিতব্য জনসভা ও গণমিছিলের প্রচারপত্র বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প্রচারপত্র জুন, ১৯৭১

 

জনসভা

গণপ্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশের সমর্থনে আগামী ১৯শে জুন শনিবার বেলা ১টায় লন্ডনের হাইড পার্কের স্পিকার্স কর্নারে এক জনসভা হবে।

সভায় বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক মুখপাত্র বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ছাড়াও আরো অনেকে বক্তৃতা করবেন।

গণমিছিল

সভার পরে হত্যাকারী দেশ পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য স্পিকার্স কর্নার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে। মিছিল অক্সফোর্ড স্ট্রিট, পোর্টম্যান স্ট্রিট, গ্লোস্টার প্লেস, পার্ক রোড হয়ে ‘লর্ডস’ ক্রিকেট মাঠের সামনে সেন্ট জন্স উড রোডে শেষ হবে।

আবেদন

বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রতি সহানুভূতিশীল সকলকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উক্ত জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিলে যোগদানের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

 

 

গ্রেট বৃটেনস্থ বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক ৩৫নং গ্যামেজেস বিল্ডিং, ১২০নং হবোর্ন, লন্ডন ইসি-১ থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত। মুদ্রণে সাপ্তাহিক জনমত। দূরালাপনীঃ ০১-৪০৫-৫৯১৭ ও ০১-৬৭৩-৫৭২০।

 

<৪, ৩৯, ৬৯>

অনুবাদকঃ দিব্য কান্তি দত্ত

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৩৯। এ্যাকশন কমিটি কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যের প্রস্তাবের জবাবে বাংলাদেশ থেকে ক্যাপ্টেন এন হুদার চিঠি ব্যক্তিগত চিঠি ১২ জুন, ১৯৭১

 

 

মুক্তি ফৌজ

বায়রা ক্যাম্প

১২ জুন, ‘৭১।

জনাব ভূঁইয়া,

অগ্রসরমান বেস ক্যাম্পে আমাদেরকে পরিদর্শন করে যাবার জন্য আমার এবং আমার সৈন্যদলের পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আপনার সংস্থার পক্ষ থেকে আমার ছেলেদের মজুদ এবং সরঞ্জাম সরবরাহ করার সদয় প্রস্তাবের জন্য আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ। আপনার কাছ থেকে আমি আরও নিশ্চিত হলাম যে, এটি একটি বেসরকারি সাহায্য এবং আপনার তরফ থেকে সম্পূর্ণ একটি স্বেচ্ছাসেবা। আমি নিচে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তালিকা যুক্ত করছি যা আমার ছেলেদের কাজে আসবে।

আজ সন্ধ্যায় আপনাকে আমার সেক্টরের অধীনে বাংলাদেশের মুক্ত অঞ্চলে নিয়ে যেতে পারাটা আমার জন্য অনেক সম্মানের ব্যাপার ছিল। আমরা আশা করছি সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এবং আপনাদের সকলের শুভকামনায় আমরা বিজয়ী হব।

আপনার সদয় দৃষ্টি কাম্য।

একান্ত

(ক্যাপ্টেন এন, হুদা)

দ্রব্যাদির তালিকা

(১) জঙ্গল বুট                          …                             ১০০ টি

(২) ইউনিফর্ম, খাঁকি                     …                             ১৫০ সেট

(৩) বিছানা, সম্পূর্ণ                      …                             ১২৫ টি

(৪) রেইন কোট                   …                             ৫০ ,,

(৫) পশমী মোজা                        …                             ১০০ ,,

(৬) মশারি                            …                             ৩০ ,,

(৭) ফ্লাস্ক (বড়)                        …                             ২  ,,

(৮) দূরবীন                           …                             ৩ ,,

(৯)……অবস্থান নির্ণয়ের জন্য কম্পাস-                                 ১টি

 

 

 

 

 

 

<৪, ৪০, ৭০-৭৪>

অনুবাদকঃ দিব্য কান্তি দত্ত

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৪০। বাংলাদেশ সম্পর্কে ‘এইড বাংলাদেশ কমিটি, ইউরোপ’- এর প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশ নিউজ’ ৫ জুলাই, ১৯৭১

 

 

 

 

বাংলাদেশের খবর

(এইড বাংলাদেশ কমিটির অঙ্গসংগঠন, ইউরোপ)

জুলাই ৫, ১৯৭১।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ

ধ্বংসযজ্ঞ, ৭ কোটি ৬০ লক্ষ বাঙালির গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে বর্বরভাবে দমিয়ে রাখা, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা ছাত্রাবাসে ঘুমন্ত শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, বুদ্ধিজীবি, অধ্যাপক এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা ইত্যাদি প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানচিত্রে উদিত হয়েছে একটি নতুন দেশ। দেশটি ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’, পূর্ববর্তী ‘পূর্ব পাকিস্তান’।

স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এবং এ দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জনাব সৈয়দ নজরুল ইসলাম। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্ব মিডিয়ার লোকজনসহ প্রায় দশ হাজার প্রত্যক্ষদর্শী উপস্থিত হয়েছিলেন। ঠিক তখন জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অধীনে কর্মরত বাহিনী বাংলাদেশের গ্রাম এবং শহরগুলোতে বোমা, মেশিনগান ইত্যাদির দ্বারা লক্ষ লক্ষ পলায়নপর শরণার্থী হত্যা করছিল। বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেয়া এবং ইতিবাচক পদক্ষেপের দ্বারা লক্ষ লক্ষ বাঙালীর দূর্দশা লাঘব করার এখনই উপযুক্ত সময়। রক্ত যদি স্বীকৃতির জন্য যথার্থ মূল্য হয়, তবে আমরা তার জন্য যথেষ্ঠ মূল্য প্রদান করেছি।

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেছেন এবং বাংলাদেশের ৭ কোটি ৬০ লক্ষ জনগণ তাদের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেছেন।

একনায়ক ইয়াহিয়া খান ব্যালটের জবাব বুলেট দিয়ে দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন এবং জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসী হয়ে যুদ্ধ শুরু করেছেন। ঘুমন্ত অবস্থায় তারা আমাদের ছাত্রদের মেশিন গান দিয়ে হত্যা করেছে; অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবি, বিজ্ঞানীদেরকে তাদের ধর্ষিতা স্ত্রী, মেয়ে এবং বোনদের সামনে বেয়নেট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের শহরগুলোতে বোমাবাজি করা হয়েছে এবং নাপাম বোমার দ্বারা গ্রামগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। পুরো বাংলাদেশ বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে যেখানে ভিড় করছে অসংখ্য শকুন এবং আমাদের প্রিয়জন ও নিকটাত্মীয়ের চারপাশে ঘুরে বেড়ানো কুকুরের সংখ্যাও অগণিত।

 

যদি একটা ‘মাই লাই’ পুরো সভ্য দুনিয়ার ভিত নাড়িয়ে দেয় তাহলে বাংলাদেশে শত শত ‘মাই লাই’ তৈরি হওয়াকে কিভাবে অবহেলা করা যায়? আমরা মানবতা এবং গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে এই পাশবিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুরোধ জানাচ্ছি। তাদের ইয়াহিয়া খানের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে তার অসভ্য সৈনিকদলকে অপসারণ করতে বাধ্য করতে হবে। পশ্চিম পাকিস্তানে সকল আর্থিক এবং সামরিক সাহায্য বন্ধ করার মাধ্যমে এ অবস্থা অর্জন করা যেতে পারে। বাংলাদেশে সামরিক শক্তি ও সাহায্য নিয়ে প্রবেশ করার মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি কমানোর জন্য সরাসরি হস্তক্ষেপ জাতিসংঘের একটি অবশ্যপালনীয় কর্তব্য।

 

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা

বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে অনুমান করা যায় যে, বাংলাদেশের অবশিষ্ট জনবল এবং অস্ত্রাদি অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং বিচক্ষণভাবে ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশের সামরিক নীতি বর্তমানে শক্ত জমিনের মত। সম্মুখযুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তান মিলিটারির ব্যাপক গোলাবারুদসমৃদ্ধতাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে তা স্বীকৃত। এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ একটি নতুন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে।

বড় বড় শহর এলাকাগুলো আক্রমণকালীন অবস্থার অতিবাহিত করেছে। আক্রমণকারীদের বর্বর হত্যাকান্ড শহরের কেন্দ্রস্থলগুলোকে কিছুটা হলেও জনশূন্য করে ফেলেছে।

অপরদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার ভৌগোলিক এবং কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক জায়গায় অবস্থান নিয়েছে যাতে অতিসত্ত্বর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহন করা যায়।

পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাদের নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ এবং অপরাধকর্ম লক্ষ লক্ষ মানুষকে ঘরছাড়া করেছে। এখনো পর্যন্ত প্রায় ষাট লক্ষ মানুষ গন্তব্যহীন।

দখলকৃত গ্রামগুলোতে মজুদকৃত শস্য ধ্বংস করা হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তান খাদ্যসল্পতাকে চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের জনগণের মনোবল ভেঙে দেয়ার পাশাপাশি তাদের শারীরিকভাবেও দূর্বল করে ফেলতে চায়, এই ভীতি ছড়ানোর মাধ্যমে দখলদারদের সৃষ্ট গণ্ডগোল এবং ত্রাস কৃষিক্ষেত্রের সবধরণের কর্মকান্ডকে প্রভাবিত করেছে।

 

বাংলাদেশকে সাহায্য করার জন্য ইউরোপে বন্ধু দেশগুলো কি করেছিল?

যদি পাকিস্তান সাহায্য ক্লাবের সদস্য, ক্ষমতাসীন ব্যক্তিত্ব, সাহায্য সংস্থা আছে এমন দেশ বাংলাদেশ থেকে দ্রুত পাকিস্তানি সৈন্য অপসারণের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিত তবে অবশ্যই বাংলাদেশের এই দূর্দশার ইতি খুব দ্রুতই টানা যেত। ভৌগোলিকভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের অদ্ভূত অবস্থান এবং তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার কথা বিবেচনা করে আমরা বিশ্বকে মানবতার স্বার্থে পশ্চিম পাকিস্তানে কোন সাহায্য না দিতে অনুরোধ করলাম, যাতে তারা সেই সরঞ্জাম দিয়ে বাঙালিদের নির্মমভাবে হত্যা না করতে পারে।

 

 

এইড বাংলাদেশ কমিটি, ইউরোপা

‘এইড বাংলাদেশ কমিটি, ইউরোপা’ অতি সম্প্রতি ‘স্কেফেনটেলবাডেস্ট্রাট ২৫, রুরমন্ড, নেদারল্যান্ড একটি প্রধান কার্যালয়ের সাথে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর টেলিফোন নম্বরটি হল ০৪৭৫০-৯৭৮৭। এর নীতি হল, বাংলাদেশে চলমান বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে সমগ্র বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা এবং লক্ষ লক্ষ ভুক্তভোগী মানুষকে খাদ্য, ওষুধ, বস্ত্র, কম্বল, দুধ এবং অন্যান্য দ্রব্যাদির সরবরাহের পাশাপাশি নীতিগত সমর্থন যোগানো। এছাড়া এটি শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা দাবীর প্রচার এবং প্রসার ঘটাচ্ছে যা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টত বোঝা যায়, নির্বাচনের সময় পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার কোন ধরনের উদ্দেশ্যই বাঙালিদের ছিলনা। যদিও পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের বিশ্বাসঘাতকতা তাদের নিশ্চিত করেছিল, তারা পাকিস্তানের কাছ থেকে কোনরকম ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করতে পারেনা। তাদের সামনে স্বাধীনতা ঘোষণা করা ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ খোলা ছিলনা। এছাড়া এই কমিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পিছনে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক কারণটিও প্রচার করছে।

 

সংবাদ সম্মেলনসমূহ

‘বাংলাদেশ এইড কমিটি, ইউরোপ’ বাংলাদেশে চলমান বর্তমান প্রবল পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরো বিশ্বের মতামত এবং সংহতি প্রকাশের জন্য তিনটি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করে। সেগুলো অনুষ্ঠিত হয় ফ্রাঙ্কফুর্ট, দি হেগ এবং হার্লিনে। কমিটির এই কর্মকান্ড জার্মান রেডিও এবং টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়।

 

বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় সেবা গণহত্যার নিন্দা জানিয়েছিল কি?

১৬ এপ্রিল ‘বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় সেবা’র সম্পাদক জেনেভা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক একনায়ক জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে টেলিগ্রাম করেছেন। টেলিগ্রামটিতে মূলত নির্বিচারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছাত্র হত্যার দ্বারা বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার চক্রান্তকে নিন্দা জানানো হয়।

 

‘স্বাধীনতা’ হানাদার বাহিনীর উচ্ছেদ চেয়েছিল কি?

১৮ এপ্রিল লন্ডনে হয়ে যাওয়া ‘লিবারেশন’ (প্রাক্তন ঔপনিবেশিক স্বাধীনতা আন্দোলন) এর বার্ষিক সভায় বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার নিন্দা জানানো হয় এবং এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়। বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সৈন্যদের উচ্ছেদের বিষয়েও সেখানে একটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়।

 

গাফফার খান ইয়াহিয়া-ভূট্টো-কাইয়ূম গোষ্ঠীর প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন

 

‘আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’র ২৫০ জন শিক্ষক একটি স্মারকলিপিতে ইয়াহিয়া খান ইসলাম এবং পাকিস্তানের নামে বাংলাদেশে যা করেছেন তার প্রতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। ইন্দোনেশিয়া সংসদের স্পীকার এবং ‘আন্তর্জাতিক ইসলামিক সম্মেলন’ বাংলাদেশে পাকিস্তানি সৈন্যদের সংঘটিত এই পাশবিকতার নিন্দা জানিয়েছে।

 

বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত করা হয়েছিল হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে অবস্থিত চতুর্থ বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে (মে ১৩-১৬)। উক্ত সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দেন জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব আ সামাদ।

 

যুদ্ধরত বাংলাদেশ

সংস্থাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার থেকে প্রতিনিধি আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিনিধি দলের প্রধান জনাব আ সামাদ জানালেন যে, বাংলাদেশ এখন যুদ্ধাবস্থায়। জনাব সামাদ পরিপূর্ণভাবে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করলেন এবং পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যরা হানাদার ছাড়া আর কিছু নয়, কারণ তাদের বিশেষ কোন সমর্থনই নেই- এই বিষয়টিও পরিষ্কার করলেন।

 

পাশবিকতা নিন্দিত

সম্মেলনে ১২৪ টি দেশ থেকে উপস্থিত প্রায় ৮০০ সদস্য অবিসংবাদিতভাবে পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্য কর্তৃক বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া পাশবিকতা এবং গণহত্যার প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করে। ‘বিশ্ব শান্তি সংসদ’ স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামের সাথে সংহতি প্রকাশ করে। সংসদটি স্বকীয়তা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগনকে ‘ল্যাম্ব্রাকিস মেডেল’ দিয়ে সম্মানিত করে।

 

রাষ্ট্রদূতের সফর

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব এম এ সামাদ বর্তমানে বিশ্ব পরিদর্শন করছেন। তিনি ইতোমধ্যে হাঙ্গেরির সরকারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি পূর্ব ইউরোপিয়ান ভ্রমনের সমাপ্তি হিসেবে সোভিয়েত রাষ্ট্রপতি জনাব পডগর্নির সাথে সাক্ষাত করবেন এবং এরপর তিনি যুক্তরাজ্য ভ্রমণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

 

 

বৈশ্বিক মতামতে সংহতি

 

বিগত দুই মাস ধরে বিভিন্ন দেশের পত্রপত্রিকা বৈশ্বিক মতামতের সংহতি প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনা করেছে যেটা বর্তমানে বাংলাদেশে পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের পাশবিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

দুই ইংরেজি পত্রিকা- ‘দ্যা টাইমস’ এবং ‘দ্যা গার্ডিয়ান’র বিশেষ প্রতিবেদন দেখিয়েছে যে, শেখ মুজিবুর রহমান এবং ইয়াহিয়া খানের ভিতর আলোচনা চলাকালীন ইয়াহিয়া গোপনে বাংলাদেশে যুদ্ধের সৈন্যদল এবং সরঞ্জামাদি নিয়ে আসেন। পাকিস্তান সরকার থেকে প্রতি পদক্ষেপে চাপ প্রদান করা দুই দলের ভিতর পার্থক্য স্পষ্টত প্রতীয়মান করছিল। কথার খোলাসা না করেই ইয়াহিয়া বাংলাদেশ ত্যাগ করলেন এবং পাকিস্তানি সৈন্যরা হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ল নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর।

 

শরণার্থীদের দূর্দশা

সর্বশেষ প্রতিবেদন অনু্যায়ী ভারতে শরণার্থীদের ভিতর কলেরা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। শরণার্থীর সংখ্যা পঞ্চাশ লক্ষ অতিক্রম করতে চলেছে এবং ৬০,০০০ এরও বেশি লোক প্রতিদিন শরণার্থী হচ্ছে। ওষুধ দুর্লভ হয়ে পড়েছে এবং ভারতীয় সরকার সাহায্যের জন্য বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। রোগাক্রান্ত এলাকায় ব্রিটিশ, ডাচ এবং জার্মান সরকার ইতোমধ্যে আর্থিক সাহায্যসহ অন্যান্য সাহায্য পাঠিয়েছে। ‘এইড বাংলাদেশ কমিটি’ রেডিও, টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রের মাধ্যমে জার্মানীর জনগনের কাছে সাহায্যের জন্য বিশেষভাবে আবেদন জানিয়েছে। ‘মেডিকো ইন্টারন্যাশনাল’ ইউরোপে এবং ‘সেইন্ট জন’স অ্যাম্বুলেন্স প্রিগাডো, কলকাতা’ ভারতে এর প্রতিনিধি দ্বারা পশ্চিমবঙ্গে ২৫০০০০ ডি, এম এর বেশি চিকিৎসা সাহায্য পাঠিয়েছে। এরা আরও টাকা এবং সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে।

 

বাংলাদেশি সৈন্যদের প্রত্যুত্তর

 

সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ঝটিকা অভিজানে হারের পর পাকিস্তানী সৈন্যরা অবস্থান হারাতে শুরু করেছে। স্বাধীনতার সৈনিকরা উক্ত এলাকাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছে, এমনকি ঢাকা বিমানবন্দরও হুমকির সম্মুখীন। পাকিস্তানি সৈন্যরা সরঞ্জাম এবং লোকবলের অভাবে খুব বাজেভাবে ভুগছে। সাধারণ লোকের সমর্থনের অভাবে তারা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অভাবে ভুগছে। তারা দল ধরে শহর থেকে চলে যেতে পারে এবং তাদের বহরগুলোতে স্বাধীনতাকামী গেরিলা যোদ্ধারা সাধারণ মানুষের সাহায্য নিয়ে ওঁত পাতছে।

সময় এখন বাংলাদেশের পক্ষে এবং পাকিস্তানী সৈন্যারা বাংলাদেশের ওপর হস্তক্ষেপের প্রতিদান হিসেবে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাবে।

 

 

 

বাংলাদেশ কমিটি, ইউরোপের আবেদন

 

আমরা সকল দেশ, বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে ভারতে বাংলাদেশী শরণার্থী এবং বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ ভুক্তভোগীদের জন্য সাহায্য পাঠানোর আহ্বান জানাই। ধারণা করা হচ্ছে যে, শুধুমাত্র শরণার্থীদের জন্যই ত্রিশ লক্ষ কলেরা প্রতিষেধক, বিশ লক্ষ টিএবিসি প্রতিষেধক, এক লক্ষ বোতল স্যালাইন, পঁচিশ হাজার মোলার ল্যাকটেট, দশ লক্ষ অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ক্যাপসুল, এক লক্ষ প্যাকেট কটন, সত্তর হাজার ফুট গজ ব্যান্ডেজ এবং দশ হাজার ডোজ ডিপথেরিয়া প্রতিষেধক সিরাম প্রয়োজন। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ অসহায়ের চিকিৎসা সাহায্য খুব বেশি প্রয়োজন। কিন্তু তাদের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেয়ার জন্য আমাদের কিছু সময় প্রয়োজন। তাই মানবতার বৃহত্তর স্বার্থে আমরা আমাদের কাছে টাকা-পয়সা এবং দ্রব্যাদি পাঠানোর জন্য অনুরোধ করছি যাতে করে আমরা তা পৌঁছে দিতে পারি। “আবারো আমরা মানবতার দোহাই দিয়ে অনুরোধ করছি, পশ্চিম পাকিস্তানের সৈন্য পরিষদে যাতে কোন সাহায্য পাঠানো না হয় এবং এর দ্বারা আমরা ভুক্তভোগী বাংলাদেশকে পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার পূর্বেই বাঁচাতে পারব।”

আমরা বিভিন্ন দেশের কাছে পশ্চিম পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে চাপ দেয়ার জন্য অনুরোধ করব যাতে করে দেশটি বাংলাদেশ থেকে তার আক্রমণকারী সৈন্যদের সরিয়ে নেয়। আমরা তাদের কাছে আরও অনুরোধ করি যেন তারা অতিসত্ত্বর ‘বাংলাদেশ সরকার’কে স্বীকৃতি দেন।

 

এইড বাংলাদেশ কমিটি- ইউরোপ কর্তৃক ইস্যুকৃত।

 

 

 

 

 

 

<৪, ৪১, ৭৫-৭৯>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৪১। বৃটেনে অ্যাকশন কমিটিসমূহের ঐক্যবদ্ধ তৎপরতা চালানোর প্রচেষ্টা সম্পর্কে প্রতিবেদন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাকশন কমিটি প্রকাশিত প্রচারপত্র ৭ জুলাই, ১৯৭১

 

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটির প্রতি আহ্বান

আমরা প্রয়োজনে একতাবদ্ধ হয়েছি: এবার কর্মে একতাবদ্ধ হই

 

বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটির পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি

(ওয়েস্টমিনস্টারলন্ডন)

২৫ মার্চ ১৯৭১ এর ভয়াবহ গণহত্যা অভূতপূর্বভাবে গোটা বাঙালি জাতিকে একতাবদ্ধ করেছে। আওয়ামী লীগের ৬-দফাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ১-দফায় একীভূত করেছে তা। বাঙালির বন্ধনমুক্তির অতি জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ কাজটি পরিণত হয়েছে পশ্চিম পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জবরদখল থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে।

এ ঘটনার পর থেকে তিন মাস এবং কভেন্ট্রি কনফারেন্স সম্মেলন ও পরিচালক কমিটি নিয়োগের প্রায় আট সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে আমরা এখনো অ্যাকশন কমিটির একটি জাতীয় নেটওয়ার্কের আবির্ভাবের অপেক্ষায়, যা সমগ্র বৃটেনে আমাদের শত শত নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদেরকে দিকনির্দেশনা যোগাবে। আমাদের এখনো জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমের তাড়নার সুশৃঙ্খল ও দৃঢ়কর্মকান্ডে রূপান্তর প্রত্যক্ষ করা বাকি। পরিচালক কমিটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা কর্মীদের একটি সাংগঠনিক কাঠামো প্রদানে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। দুঃখজনকভাবে তারা কোনো খসড়া সংবিধান তৈরিতে সমর্থ হয়নি যা আমাদের জাতীয় সংঘবদ্ধ আন্দোলনে কোনো কাঠামো দাঁড় করাতে পারে।

অতএব, এখনই উপযুক্ত সময় কভেন্ট্রি কনফারেন্সের সময়কার মতোই সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার, পরিচালক কমিটির ব্যর্থতাগুলোকে অতিক্রম করতে। এযাবৎ গঠিত অ্যাকশন কমিটির অতিরিক্ত প্রতিনিধিসহ কভেন্ট্রি কনফারেন্সের প্রতিনিধিদের পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তা করা সম্ভব। এমন একটি সম্মেলন যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক ও সাংবিধানিক বিষয়াদির উপর প্রতিবেদন গ্রহণ করবে এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মীদের সম্মুখীন হওয়া কিছু অতি গুরুতর সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি (ওয়েস্টমিনস্টার-লন্ডন) যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মীদের সুসঙ্গত ও সুশৃঙ্খল একক জাতীয় সত্ত্বা হিসেবে সংগঠিত করার কাজে জড়িত সকলের বিবেচনাধীন হিসেবে এই স্মারকলিপির খসড়া তৈরি করেছে।

 

) আমাদের বিবেচনাধীন:

১। এমন একটি জাতীয় সংগঠন সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি-সহজভাবে উল্লেখের জন্য একে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ কাউন্সিল হিসেবে অভিহিত করা হোক-উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন সমর্থনে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মীদের চেতনাগত, রাজনৈতিক ও বৈষয়িক সংস্থানের উপযুক্ত ব্যবহার।

২। বাংলাদেশ কাউন্সিলের কর্মকান্ড বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রদূতের কর্মকান্ডের সাথে বিভ্রান্তির অবকাশ থাকবে না। এ দু’টো প্রতিষ্ঠান সম্পূরক, যদিও বিভিন্নভাবে পৃথক। এ পার্থক্য সুস্পষ্টভাবে উপলব্ধ, সমাদৃত এবং সর্বাধিক সতর্কতা ও সচেতনতার সাথে আমাদের আচরণ ও কর্মকান্ডে বহিঃপ্রকাশিত হবে। অন্যথায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের কারণে সংঘর্ষ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টিহবে।

৩। বাংলাদেশ কাউন্সিলের প্রাথমিক দায়িত্ব হবে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদকে সচল করা এবং জাতীয় সংস্থানের সর্বোচ্চ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কাউন্সিল সম্পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসন ভোগ করবে এবং বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাথে আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে। এছাড়াও, এর তহবিলের অবমূল্যায়ন এবং লোকবলের ব্যবহারে বাংলাদেশ কাউন্সিল দিকনির্দেশনার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং রাষ্ট্রদূতের শরণাপন্ন হবে, এবং আন্তর্জাতিক সংহতিমূলক কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কাউন্সিল, বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রদূতের দিকনির্দেশনা অনুসারে কাজ করবে।

৪। রাষ্ট্রদূত কার্যালয়ের প্রাথমিক দায়িত্ব হবে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করা এবং আন্তর্জাতিক সংহতিমূলক কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য এবং লন্ডন থেকে সহজে অভিগম্য দেশগুলোতে প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

৫। এ দু’টি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ ও যথাযথ সংস্থানে যৌথভাবে কাজ করবে।

 

 

 

) জাতীয় সাংগঠনিক কাঠামো প্রসঙ্গে -বাংলাদেশ কাউন্সিল

১। অন্যান্য সকল কার্যাবলীর উর্ধ্বে বাংলাদেশ কাউন্সিলের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হবে বাংলাদেশ সমর্থকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ আর্থিক অবদানসংগ্রহ। মনে রাখা উচিৎ যে সমগ্র জাতি এককভাবে দেশাত্ববোধের এক নজীরবিহীন উচ্চতায় স্থাপিত হয়েছে, তবে এমন কলাকৌশলের সরবরাহ প্রয়োজন যাতে এ সংস্থা তাদের কাছে পৌঁছতে পারে, সাপ্তাহিকভাবে সম্ভব না হলেও মাসিকভাবে। যদি আমরা তাদের কাছে পৌঁছতে না পারি, তহবিল সংগ্রহে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারি, তবে এ জনশক্তির সম্ভাবনার ১০ শতাংশ অর্জন করাও সম্ভব হবেনা।

২। অতএব, প্রাথমিক কমিটি-স্থানীয় কমিটি-আবাসিক অথবা পেশাগতঅবস্থাভেদে আমাদের জাতীয়তাবাদী কর্মীদের সমাবেশের উপর ভিত্তি করে এ দলীয়করণ খুব বেশি বেখাপ্পা অথবা ব্যাপকভাবে পরিব্যাপ্ত হবেনা। এ দু’টো বিষয়ই সম্ভাব্য সমর্থকদের সাথে ব্যক্তিগত ও স্বাভাবিক সম্পর্কে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে এবং…স্বাভাবিক যোগাযোগের গতিময়তার ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক হবে এবং তহবিল সংগ্রহ বাধাগ্রস্থ করবে।

৩। স্থানীয় কমিটি হবে একটি কার্যকরী একক এবং সংখ্যায় ৫০ পর্যন্ত হতে পারে, প্রতি ইউনিটে কর্মীসংখ্যা হবে পাঁচ এবং প্রত্যেক কর্মী দলের কমপক্ষে পাঁচ জন সদস্যের দায়িত্ব বহন করবে।

৪। স্থানীয় কমিটিগুলো বাংলাদেশ কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিবন্ধভুক্ত হবে এবং সাধারণ স্বার্থ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে যোগাযোগের মাধ্যম হবে সরাসরি। এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কার্যক্রমের দক্ষতাকে গতিশীল করা। এছাড়া, স্থানীয় কমিটিগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিজ আঞ্চলিক কমিটির অধীনে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে, তার অস্তিত্ব থাকুক অথবা বিলোপ ঘটুক যাই হোক না কেন।

৫। স্থানীয় কমিটিতে ভোটাধিকার উপস্থাপনের জন্য কমপক্ষে ১০০ জন সদস্যের প্রয়োজন হবে-সদস্যপদ ফি বার্ষিক ১২ ব্রিটিশ পাউন্ড এবং কেন্দ্রীয় তহবিলে কমিটির সর্বনিম্ন অবদান বার্ষিক ১০০০ ব্রিটিশ পাউন্ড হতে পারে। ভোট উপস্থাপনের ক্ষেত্রে স্থানীয় কমিটিকে কেন্দ্রীয় তহবিলে অতিরিক্ত অবদান অনুপাতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

৬। শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সমন্বিত কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রাথমিক ইউনিটগুলোকে আঞ্চলিক কমিটিতে যেমন (ক) গ্ল্যাসগো ও নর্থ; (খ) ম্যানচেস্টার ও লেনস; (গ) লীডস ও ইয়র্কস; (ঘ) বার্মিংহাম ও মিডল্যান্ডস; (ঙ) ব্রিস্টল অথবা কার্ডিফ ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ড; (চ) লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ড এভাবে সমন্বিত করা যেতে পারে। আঞ্চলিক কমিটিগুলোর প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় কমিটির বিবেচনাধীন ও আহূত বাংলাদেশ কাউন্সিলের জাতীয় সম্মেলন থেকে দায়িত্ব গ্রহণের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং সম্পূর্ণ সংস্থা গঠন করবে।

 

) সাংগঠনিক কার্যাবলী সম্পর্কিত

১। ‘কর্মে একতা’ অর্জনের ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা বড় প্রতিবন্ধক হবে প্রতিষ্ঠিত জননেতৃত্ব (গত দুই দশকে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকান্ড থেকে উদ্ভুত এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রবীণ; যারা স্বভাবতই কোনো না কোনোভাবে স্থূল বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন যদিও এতে তাদের কোন দোষ নেই) এবং স্থানীয় অ্যাকশন কমিটির নতুনভাবে উদ্ভূত নেতৃত্বের (বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তরুণ এবং শিক্ষিত কিন্তু অনেকেই ধৈর্যহীনতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক দাম্ভিকতায় আক্রান্ত) মধ্যে বর্ধিষ্ণু সাংঘর্ষিক সম্পর্ক। প্রতিষ্ঠিত জননেতৃত্ব নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের হস্তক্ষেপে বোধগম্যভাবেই চিন্তিত। অন্যদিকে, নতুন উদ্ভুত জননেতৃত্ববিরক্তিবোধ করে যখন তাদের শুভাকাংক্ষাউদ্ভুত কর্মকান্ড সংকীর্ণ ও সাম্প্রদায়িক বিরোধপূর্ণ রাজনীতি দ্বারা বাধাগ্রস্থ হয়। তরুণ প্রজন্ম কার্যক্রম ও দ্রুত তৎপরতার পরিবর্তে অপ্রাসঙ্গিক তর্ক-বিতর্কে সময় নষ্ট করছে। নেতৃত্বে এ দুই ভিন্ন ধরণের বৈশিষ্ট্য খুবই দৃশ্যতঃ হবে যদি লন্ডনের দুটি সংগঠন, স্টুডেন্টস’ অ্যাকশন কমিটি অথবা উইমেন’স কমিটি এবং লন্ডন অ্যাকশন কমিটির কার্যপন্থার তুলনামূলক বিচার করা হয়। এ দু’টো সম্পূর্ণ পৃথক ধারাকে একটিমাত্র সমন্বিত ধারায় একত্রিত করাটাই আমরা যারা যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ কর্মীদের মধ্যে ‘কর্মে একতা’ দেখতে আগ্রহী তাদের সকলের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরী সাংগঠনিক কাজ। সকল পর্যায়ে সকল প্রচেষ্টা এই সমস্যার সমাধানে ঘনীভূত করা উচিৎ।যদি প্রতিষ্ঠিত জননেতৃত্ব এবং নবউদ্ভুত নেতৃত্বের মধ্যে এ সম্মেলন সম্ভব হয় তবে আন্দোলনে তহবিল ও কর্মকান্ড সরবরাহে প্রধান দুটি সমস্যার তুলনামূলক সহজ সমাধান সম্ভবপর হবে। উভয় পক্ষের মধ্যে একতা ও সহযোগিতার জন্য উপযুক্ত মনস্তাত্বিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব এবং নবউদ্ভুত রাজনৈতিক কর্মীদের পরস্পরের সম্পর্কে আরো বেশি জানা এবং পরস্পরের শক্তি ও সীমাবদ্ধতাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষত রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতাগুলোর উপরে তাদের শক্তি ও ভালো দিকগুলোকে গুরুত্ব দেও্য়া এবং যথাযোগ্য ক্ষমতার বিবেচনায় তাদেরনেতৃত্বে স্থান দিয়েই একটি কাঠামো সৃষ্টি। এ সকল নেতৃত্বের মধ্যে অনেকেই কর্মঠ, দৃঢ়চেতা ও বিশ্বস্ত এবং লক্ষ্যের প্রতি তাদের নিষ্ঠা প্রশ্নের উর্ধ্বে। এসকল ব্যক্তিবর্গ ট্রাস্টি, মধ্যস্থতাকারী, কোষাধ্যক্ষ, ফিন্যান্স কমিটির সদস্য প্রভৃতি পদের জন্যবিশেষভাবে উপযুক্ত এবং তাদের মধ্যে অনেকেই আবার বিভিন্নসংস্থার প্রধান পদস্থিত হবার যোগ্য। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে তারা সম্পাদকীয় দায়িত্ব এবং দুয়েকটি ব্যতিক্রম বাদে চেয়ারম্যান পদের জন্য উপযুক্ত নন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের বৈঠকগুলো উপযুক্ত সূচনা পায়না, অপ্রাসঙ্গিকতায় বাধাগ্রস্থ হয়, সামান্যতম বিরোধিতায় লাইনচ্যুত হয়, সময়মত শুরু ও শেষ হয়না, কোনো গ্রহণযোগ্য ও বোধগম্য সমাধানে পৌঁছে না এবং এর কারণ হলো ত্রুটিপূর্ণ সভাপতিত্ব। ত্রুটিপূর্ণ সভাপতিত্বের কারণে বৈঠকগুলো জাতিকে একতাবদ্ধ হতে সহায়তা এবং আমাদের রাজনৈতিক চেতনা ও দেশাত্ববোধের তাড়নাকে উর্ধ্বে তুলে ধরার পরিবর্তে বিপরীত ঘটনা ঘটায়। এমন ত্রুটিপূর্ণভাবে পরিচালিত বৈঠকগুলো অপ্রীতিকর বিষণ্নতা ও হতাশা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। এ বৈঠকগুলো উৎসাহ প্রদানের পরিবর্তে বরং আমাদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভাটা সৃষ্টি করে।

২। অন্যদিকে, কার্যকরী সাবকমিটির ভিত্তিতে কর্মকর্তাবৃন্দের সমন্বয় প্রয়োজন, যাদের কার্যালয় পরিচালনা, প্রকাশনা, জনসম্পর্ক, অ্যাকাউন্টিং প্রভৃতি নির্দিষ্ট কাজ থাকবে। এসকল কর্মকর্তার যথাযোগ্য সমন্বয় সংগঠনটির কার্যনির্বাহী শাখা গঠন করবে। তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব হবে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জাতীয় সম্মেলন অথবা জাতীয় কাউন্সিলের বিভিন্ন সম্মেলনের মধ্যবর্তী সময়ে আসা নীতিমূলক সিদ্ধান্তগুলো নির্বাহ করা।

৩। ‘কর্মে একতা’ এবং একই সাথে ‘কার্যাবলীতে দক্ষতা’ অর্জন করতে সংস্থাটির আরো একটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে যা হলো প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিত্বমূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসা কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কোনো জনসংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট নন এমন ব্যক্তিবর্গ কিন্তু পেশাগত ও রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল পদের জন্য যোগ্য তাদের কার্যাবলী সমন্বয়। এসকল ব্যক্তিবর্গ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসবেন তা আশা করা যায়না। তাদের কাছে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হলো খসড়া। জাতীয় কাউন্সিলের প্রাথমিক ইউনিট থেকেই কর্মকান্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে সকল নির্বাচক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে ক্ষমতা বন্টনের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ আন্দোলনে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাংগঠনিক সমস্যা নিয়ে এই ছিলো আমাদের তাৎক্ষণিক কিছু ভাবনা এবং বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটির সদস্যবৃন্দ (ওয়েস্টমিনস্টার-লন্ডন) আমাদের সহকর্মী ও স্বদেশবাসীর কাছ থেকে এই স্মারকলিপির মন্তব্য ও সমালোচনা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবেন। এছাড়াও আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে অ্যাকশন কমিটিগুলোর নেতৃবৃন্দের উচিৎ আন্দোলনে প্রয়োজনীয় অ্যাড-হক সংবিধান সরবরাহে জরুরীভাবে বৈঠকে অংশগ্রহন করা, যাতে সদস্য এবং কমিটি হিসেবে আমাদের অধিকার ও বাধ্যবাধকতাগুলো উল্লিখিত এবং সীমাবদ্ধতাগুলো সংজ্ঞায়িত থাকবে। কেবল তবেই আমাদের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে একটি কার্যকরী কাঠামো প্রদান করা যাবে। অন্যথায় হতাশা গভীরতর হবে এবং জনগণের দেশাত্ববোধক প্রেরণাকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। যদি আমরা তা ঘটতে দেই, তা হবে জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের বিশ্বাসঘাতকতাস্বরূপ।

বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটির পক্ষে

(ওয়েস্টমিনস্টার-লন্ডন)

 

২৩ মিনফোর্ড গার্ডেনস

লন্ডনডাব্লিউআই

৭ জুলাই ১৯৭১,

.রহিম চৌধুরী

 

শরিফুল ইসলাম

যুগ্ম আহ্বায়ক

 

 

<৪, ৪২, ৮০-৮১>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৪২। পাকিস্তানকে সহায়তা বন্ধের জন্য বাঙালি শ্রমিক নেতাদের আহ্বান ‘ওয়ার্কার প্রেস’ লন্ডন ৯ জুলাই ১৯৭১

 

 

৯ জুলাই শুক্রবার, ১৯৭১

ওয়ার্কার্স প্রেস

বাংলাদেশ এক্সক্লুসিভ

 

পাকিস্তানে সরবরাহ বন্ধ হোক: ইউনিয়নিস্টদের কাছে আবেদন

রবার্ট ব্ল্যাক

 

বৃটিশ শ্রমিকেরা পাকিস্তানের প্রতি সহায়তা রোধ করুক, গতকাল চল্লিশ লক্ষ লোকের নেতা– ‘বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিকলীগশক্তিশালী বক্তব্য ওয়ার্কার প্রেসকে

 

লীগ সভাপতি শাহজাহান এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বৃহত্তর ব্যবসায়ী সমিতিগুলো বিশেষত বন্দর ও পরিবহন সমিতির কাছ থেকে সংহতির অঙ্গীকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে লন্ডনে আছেন।

বাঙালি এবং বৃটিশ শ্রমিকদের মধ্যে তাদের মৌলিক অধিকারগুলোর সাধারণ আন্দোলনে একতার উপর গুরুত্বারোপ করে শাহ জাহান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক লীগ এর মধ্যেই বৃটিশ বন্দর শ্রমিকদের ‘পাকিস্তানি বা পাকিস্তানে দ্রব্যাদি ও অস্ত্র পরিবহনে জড়িত যেকোন জাহাজে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে’ অনুরোধ জানিয়েছে।*

তিনি এই প্রস্তাবনাটি নিয়ে বৃটেনের সিংহভাগ বন্দর শ্রমিকদের একতাবদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত পরিবহন ও সাধারণ শ্রমিক সমিতির কর্ণধার জ্যাক জোনস-এর সাথে আলোচনায় বসার আগ্রহ ব্যক্তকরেছেন। (টি অ্যান্ড জি ডাব্লিউ ইউ কনফারেন্স স্কারবার-তে আগামী সোমবার শুরু হচ্ছে।)

শাহজাহান বলেন যে সারা বিশ্বের ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর সাথে বৈঠকের পর তিনি ধারণা পেয়েছেন যে যদি বৃটিশ শ্রমিকেরা বাংলাদেশ সমর্থনে নেতৃত্ব দেয়, তবে অন্যরাও শীঘ্রই তাদের অনুসরণ করবে।

 

প্রভাব

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি ইউরোপ, আমেরিকা এবং কানাডার শ্রমিকদের ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শ্রমিক ও তাদের নেতাদের বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ক্ষমতা বিবেচনায়’ বাংলাদেশ সমর্থন থেকে বিচ্যুত হওয়া উচিৎ না।

তাদের একমাত্র বিবেচনা হওয়া উচিৎ বিশ্বব্যাপী শ্রমিকেরা যে লক্ষ্যে আন্দোলনে জড়িত – রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি।

এ বিষয়গুলো প্রাক্তন পাটকল শ্রমিক আবদুল মান্নান কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। তিনি আইয়ুব খানের সেনাশাসনের বিরুদ্ধে প্রথম জনআন্দোলন সংগঠনের অভিযোগে সাত বছর ধরে পাকিস্তানি জেলে কারাভোগ করেন।

২৫ মার্চ থেকে এযাবৎ তার মা-সহ পরিবারের সাত সদস্য পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে হত্যাকান্ডের শিকার হয়।

 

জবাব

তিনি ঘোষণা করেন, ‘আমরা চাই টি ইউ সি এর অন্তর্ভুক্ত সকল বৃটিশ শ্রমিক তাদের নেতৃবৃন্দ আমাদের আবেদনে সাড়া দেবেন।‘

‘পাকিস্তান বর্জন করুন। ইয়াহিয়া খানের জন্য সকল প্রকার সরবরাহ বন্ধ করুন। যদি বৃটিশ শ্রমিকেরা নেতৃত্ব গ্রহণ করে, বিশেষ করে তাদের নেতৃবৃন্দ, তবে সারা পৃথিবীর শ্রমিকেরা তার অনুসারী হবে।‘

 

২৫শে মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সময়ে জাহান এবং মান্না উভয়েই বাংলাদেশে ছিলেন।‘ব্যবসায়ী সমিতিগুলো এ আক্রমণের সরাসরি শিকার হয়েছে।‘ শাহজাহান একথা বলেন।

ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য শহরে আন্দোলনকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

এমনকি বেতন সংগ্রহের আহ্বানে আসা শত শত শ্রমিকদের মেশিনগানের গুলিতে হত্যা করা হয়েছে।

‘কিন্তু তাদের চেতনা অক্ষুণ্ণ রয়েছে’। শাহজাহান ওয়ার্কার প্রেসকে এই বলে নিশ্চিত করেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে শতকরা ৩০ শতাংশ বাঙালি শ্রমিক ইয়াহিয়া শাসনের অধীনে সেনাপ্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে।

এসকল শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং নবগঠিত বাহিনীর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নিচ্ছে।

উভয় নেতাই বাংলাদেশের কৃষক-শ্রমিকদের সাথে বৃটিশ ব্যবসায়ী সমিতির দৃঢ় সংহতির জন্য আয়োজিত প্রচারণা কার্যক্রমের জন্য ওয়ার্কার্স প্রেসকে ধন্যবাদ জানান।

পাকিস্তানি বাহিনীর জন্য সকল দ্রব্য সামগ্রী ও অস্ত্রের উপর বাণিজ্যিক সমিতিগুলোর জন্য দাপ্তরিক নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তাদের আবেগপূর্ণ এ আবেদন জ্যাক জোনস, হিউ স্ক্যানলন এবং টি ইউ সি সাধারণ সম্পাদক ভিক্টর ফেদারের বিবেচনাধীন।

সকল সমিতির শ্রমিকদের এখনই পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দাবি জানানো দরকার।

 

 

<৪, ৪৩, ৮২-৮৫>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৪৩। পাকিস্তানে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইয়াহিয়া খানের সর্বশেষ প্রচেষ্টা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশান অফ নিউ ইংল্যান্ডের পুস্তিকা ১৪ জুলাই ১৯৭১

 

 

পাকিস্তানে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াএর সর্বশেষ সূত্র

বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশান অফ নিউ ইংল্যান্ড

জুলাই ১৪, ১৯৭১

 

 

ক্ষমতাশীল রাষ্ট্রগুলো এবং বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর চাপের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানে বেসামরিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করতে বাধ্য হয়েছেন । জুন ২৮, ১৯৭১-এ তার এ হাস্যকর পরিকল্পনা ঘোষিত হয়। তিনি এমন একটি প্রক্রিয়ার সূচনা করেন যার মাধ্যমে চার মাসের কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হবে। বেসামরিকসরকারগঠিতহওয়ারপরওতা সেনা আইনের আবরণে ঢাকা থাকবে। এছাড়া, সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপারটি যেঅকার্যকর পন্থায় সরকার গঠিত হবে তা নয়, বরং যেভাবে তাকে অভিহিত করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুতকৃত সংবিধানের খসড়া

এ পরিকল্পনা অনুসারে জাতীয় অ্যাসেম্বলিতে সংবিধান রচনার প্রাথমিক উদ্দেশ্যেই নির্বাচিত সদস্যবৃন্দ তাদের সে অধিকার হারাবেন। বরং সংবিধান রচনায় জাতীয় ও প্রাদেশিক কার্যাবলী সূচিত হওয়ার ঘোষণায় নির্বাচিত বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী সাধারণ নির্বাচন সংঘটন এবং সংবিধান রচনায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পর তথাকথিত বিশেষজ্ঞদের জন্য তাদের এ অধিকার বিলোপের কোনো অবকাশ থাকেনা। বরং তা জনগণের উপর শাসকগোষ্ঠীর নিজস্ব সংবিধান চাপিয়ে দেয়ার শামিল। এ স্বেচ্ছাচারী সংবিধান যে সেনাশাসনের অধীনে অভিষিক্ত হবে তাতে আইনত এর কোনো স্থান থাকবেনা। এ সংবিধান দীর্ঘসময়ের গ্রহণযোগ্যতে হারাবে, যে পরিণতি ঘটেছিলো প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান প্রণোদিত সংবিধানের ক্ষেত্রে। তা শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে অজ্ঞতাই নয়, একই সাথে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে যেকোন কিছুর মুখোমুখি হওয়া পরিকল্পিতভাবে এড়ানোর উদ্দেশ্য প্রকাশ করে। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে দেশে সংনিধান প্রণয়নের এ ‘অবিচ্ছেদ্য’ অধিকার সেনা শাসকদের কে দিয়েছে?

সংবিধানের প্রকৃতি

সংবিধানের প্রকৃতি ইয়াহিয়া খানের দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। তার মতে, এটি প্রাদেশিক ক্ষেত্রে দৃঢ়তর স্বায়ত্বশাসন এবং একই সাথে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চিত করবে। তা একই সাথে স্ববিরোধী এবং কথার মারপ্যাঁচ হিসেবে দাঁড়ায়। ২৫ মার্চের পর থেকে এযাবৎ সেনা অভিযানের মাধ্যমে বাঙালিদের সাথে যা ঘটেছে তার পর স্বায়ত্বশাসন তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। এই পরিকল্পিত ও নৃশংস গণহত্যা এবং অর্থনৈতিক ধ্বস পশ্চিম পাকিস্তান সামরিক জান্তার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে।তারা বাঙালিদের নিজ জনগণ বলে মনে করে না। বরং তারা মানবসভ্যতার ইতিহাসে নজীরবিহীনভাবে সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে চিরকাল অবদমিত রাখতে এবং বাংলাদেশকে উপনিবেশ হিসেবেশোষণ করতে চায়।তাদের বর্তমান পরিকল্পনা তাদের এ চক্রান্ত অবশ্যই ফাঁস করে দেয়, যদিও তা শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর চোখে ধূলো দেয়ার অভিপ্রেত চেষ্টা। তাতে ভারতে অবস্থানরত ছয় মিলিয়ন শরণার্থীসহ দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের জন্য কোনো সমবেদনার প্রকাশ নেই। বাঙালিদের মধ্যে আত্ববিশ্বাস ও মঙ্গলকামনা সৃষ্টির কোনো উদ্দেশ্য নেই। পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাশাসকদের কাছে এসবের কোনো প্রয়োজনই নেই। তারা বিশ্বাস করে তারা সেনাশাসনে অবদমন ও নৃশংসতার মধ্য দিয়ে তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে। তাদের এখনো এ সত্যটি মেনে নেয়া বাকি যে তথাকথিত একতা ও সংহতির বন্ধন তারা নিজেরাই ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।

 

প্রত্যাশিত সহকর্মীবৃন্দ:

বর্তমান পরিকল্পনায় ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশে কোন ব্যাক্তিবর্গের সহায়তা প্রত্যাশা করেন? অবশ্যই আওয়ামী লীগ নয় যারা জাতীয় অ্যাসেম্বলিতে মাত্র দুটো বাদে বাকি সব সীল অর্জন করেছে। আওয়ামী লীগ চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের যা ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী বা অপরাধ্মূলক কর্মকান্ডে’ জড়িত ছিলেন তাদের অ্যাসেম্বলিতে বসতে দেওয়া হবেনা। এছাড়া যারা এগিয়ে আসবেন তারা নিজ নিজ ক্ষমতার ভিত্তিতে অ্যাসেম্বলিতে অংশ নিতে পারবেন। নির্বাচনের মাধ্যমে আসন পূর্ণ করা হবে। এই হলো প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের বিবেচনায় দেশে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়ার অংশ।এভাবেই ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থন অর্জন করতে চান। কিন্তু তিনি জানেন যে অনেক আওয়ামী সমর্থক তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসবেনা। তিনি এটাও জানেন যে গত নির্বাচনের ফলাফলের সরাসরি প্রত্যাখ্যান পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও জটিলতার সৃষ্টি করবে। এ প্রেক্ষিতে গ্রণযোগ্যতা অর্জনের জন্য জগাখিচুড়ি সূত্র নিয়ে তার প্রাণপণ চেষ্টা, যদিও তিনি পুরোপুরিভাবে বুঝতে পেরেছেন যে তার এ প্রচেষ্টা অর্থহীন।

ইয়াহিয়া খানের সামনে বিকল্পের অভাবে আমরা বিন্দুমাত্র আগ্রহী নই, যা তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন। তিনি অর্থহীন কর্মকান্ডে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছেন, শুধুমাত্র সারা বিশ্বকে শান্ত করতে। তিনি ফাঁকা আসনগুলোর জন্য ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে দেশদ্রোহী ও সমমনাদের নিয়ে অ্যাসেম্বলি গঠন করতে চান। তা আইনত, সাংবিধানিক বা নৈতিক কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবেনা। সঠিকভাবে নির্বাচিত সদস্যদের অ্যাসেম্বলিতে বসা ও অংশগ্রহণ করার অধিকার কোনোভাবেই অস্বীকার করা সম্ভব নয়। জাতীয় অ্যাসেম্বলিতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য আচরণ ইয়াহিয়া খানের যোগ্যতায় মেনে নেয়া সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগের বিচ্ছিন্নতাবাদী আচরণ সম্পর্কিত তার ধারণা সত্যবিচ্যুত। ২৫ মার্চ, ১৯৭১ এর রাতে পশ্চিম পাকিস্তান বাহিনীর নৃশংস ধ্বংসযজ্ঞের আগে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। গোটা প্রচারমাধ্যম এর সাক্ষী। এর প্রেক্ষিতে শেখ মুজিবুর রহমান নন, বরং ইয়াহিয়া খানই পাকিস্তানের দ্বিবিভক্তির জন্য দায়ী। অতীত ও বর্তমানের পরিপ্রেক্ষিতে এব্যাপারে কোনোপ্রকার পুনর্বিবেচনা্ প্রশ্নের উর্ধ্বে।

পরিকল্পনার লক্ষ্য

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান স্পষ্টভাবেই বাঙ্গালিদের জন্য এ পরিকল্পনার অবতারণা করেননি, বরং প্রাথমিকভাবে সারা বিশ্বের সরকার এবং বিশেষত পাকিস্তানপন্থী সহযোগী রাষ্ট্রগুলোর জন্য। তিনি এ আশা করেন না যে বিশ্বের ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রগুলোর চোখে তার এ পরিকল্পনার অসারতা ধরা পড়বেনা। তিনি যা চাইছেন তা হলো ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রগুলোর কয়েকটি ‘পাকিস্তানের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার’ কূটনীতি চালিয়ে যাওয়ার কোনো অজুহাত খুঁজে পাবে।ইয়াহিয়া খান নিজের বরাতে দাবি করেন যে ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রগুলো পাকিস্তানে সংহতি ও দৃঢ়তা রক্ষার নামে বাংলাদেশে সেনা কর্মকান্ড সাধারণভাবে অনুমোদন করেছে। সত্যিই কি তাই? বিন্দুমাত্র না। বিশ্বের প্রচারমাধ্যমগুলো একক এবং প্রশ্নাতীতভাবে এ কর্মকান্ডের নিন্দা জানিয়েছে।ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রগুলোও নিন্দা প্রকাশের সাথে ইয়াহিয়া সরকারের জন্য এ সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানে জোর দিয়েছে।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ইয়াহিয়া খানের প্রস্তাবিত ধারণা এবং রাষ্ট্রগুলোর সরকারের ধারণা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই পরিকল্পনা গত তিন মাসে ইয়াহিয়া খানের সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান দিতে পারেনা। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দেশদ্রোহী ও সমমনাদের নিয়ে গড়া এ শাসনতন্ত্র বাংলাদেশে শাসনব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারবেনা। পরিশোধনের নামে এ নারকীয়তা এখনো চলছেই।কিন্তু শাসকগোষ্ঠী খুব ভালোভাবেই জানে যে এর জন্য সাড়ে সাত কোটি মানুষের গোটা একটি জাতিকেই বিলুপ্ত করে দিতে হবে। এভাবেই পাকিস্তানি বাহিনী অবশেষে বাংলাদেশ শাসনের অধিকারের প্রশ্নে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।

যাই হোক, ইয়াহিয়া খান কঠোর দমনের মাধ্যমে বাংলাদেশ শাসন করতে চান। তার এই উচ্চাভিলাষের কারণ কিছু ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রের নীরব সমর্থন। এটা বোধগম্য যে ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রগুলোর আরো অনেক সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের সম্পূর্ণ অসমর্থনযোগ্য পরিস্থিতির দীর্ঘসূত্রীতা্র পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কূটনৈতিক সমর্থন কি ন্যায়সঙ্গত?

বাংলাদেশের জনগণ অমানুষিক দুর্দশা, আতংক, হুমকি ও নিগ্রহের মধ্য দিয়ে দিনযাপন করছে। সেনা আগ্রাসনের ভয়ে ছয় মিলিয়ন শরণার্থী তাদের জন্মভূমিতে ফিরতে পারছেনা। বহু স্বাধীন প্রত্যক্ষদর্শী সেনাবাহিনীকে নৃশংস ও অস্ত্রমুখী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শরণার্থীরা তখনই ফিরে আসতে পারবে যখন তাদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হবে, যা শুধুমাত্র সম্ভব যদি তাদের নির্বাচিত নেতৃত্ব অবিলম্বে ক্ষমতা গ্রহণ করবে এবং সেনা আগ্রাসন তুলে নেওয়া হবে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে জনগণ তাদের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও গঠনমূলক কর্মকান্ডে ফিরে যাবে যদি তাদের বেছে নেয়া নেতৃত্বে গঠিত সরকার দেশ শাসন করে।

সর্বশেষ বিশ্লেষণ

কোনো এলাকায় শান্তি-শৃংখলা তখনই বজায় থাকে যদি ও কেবল যদি অনিবার্য ব্যাপারগুলো যত দ্রুত সম্ভব মেনে নেয়া হয়। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া আশা করেন যে সময়ের সাথে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে পড়বে এবং ক্ষত শুকিয়ে আসবে। বিশ্বের সরকারগুলোর সম্ভাব্য ধারণা বাংলাদেশ অবশেষে নতি স্বীকার করবে। এতো বড় মূল্য দেয়ার পর এর চেয়ে সত্যবিচ্যুত আর কিছু হতে পারেনা

সুগঠিত ও সুসজ্জিত সেনাবাহিনী তাদের অস্ত্রসীমার মধ্যে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে, কিন্তু মানুষের মনে নয়। সশস্ত্র বাহিনীর জন্য তা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু সাধারণ মানুষের অসহযোগিতার সাথে গেরিলা কর্মকান্ড, একই সাথে ছয় মিলিয়ন উদ্বাস্তু মানুষের অদৃশ্য চাপ সেনাশাসক জান্তাকে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ভেঙে পড়তে বাধ্য করবে। শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো যতো দ্রুত তা বুঝতে পারবে, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তা ততই মঙ্গলজনক হবে। ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রগুলো কি এভাবেই মানবসভ্যতার ইতিহাসের সর্ববৃহৎ দুঃখজনক ঘটনার নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে চরম মূল্যের মধ্য দিয়ে নতুন একটি জাতির অনিবার্য উদ্ভবকে বিলম্বিত করবে?

এ ব্যাপারে বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়ার জন্য এর মধ্যেই হয়তো অনেক দেরি হয়ে গেছে।

 

 

 

 

 

<৪, ৪৪, ৮৬>

অনুবাদকঃ আফসানা আশা

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৪৪। স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে গ্রুপ ক্যাপ্টেন তাওয়ারের প্রতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর চিঠি বিশেষ প্রতিনিধির চিঠি ১৯ জুলাই, ১৯৭১

 

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি

জয় বাংলা                                                          ১১ গোরিং স্ট্রিট

লন্ডন ই সি ৩

টেলিফোনঃ ০১-২৮৩৫৫২৬/ ৩৬২৩

৯-৭-৭১

প্রাণপ্রিয় গ্রুপ ক্যাপ্টেন তাওয়াব,

পাকিস্তানে ফেরা আপনার পক্ষে সম্পূর্ণভাবে অনিরাপদ। অনুগ্রহপুর্বক পাকিস্তানে ফিরবেন না। আপনাকে বাংলাদেশের প্রয়োজন। অনুগ্রহ করে অবিলম্বে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

শুভ কামনা।

আপনার অনুগত,

আ. স. চৌধুরী

——-

<৪, ৪৫, ৮৭>

অনুবাদকঃ আফসানা আশা

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৪৫। ৩১শে জুলাই বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের সমর্থন সভায় যোগদানের কথা জানিয়ে বৃটিশ এমপি-র চিঠি এম,এ, আর খানকে লিখিত চিঠি ২১ জুলাই, ১৯৭১

ফ্র্যাংক জুড, এমপি

জনাব খান,

আপনার ২০ জুলাই-এর চিঠিটির জন্যে ধন্যবাদ। জনাব সেলওয়ে আপনার সভা সম্পর্কে আমাকে অবগত করেছিলেন এবং আপনাকে সময়মত উত্তর দিতে পারিনি বলে দুঃখ প্রকাশ করছি।

৩১ জুলাই, শনিবার বেলা ৩টায় সোমার রোডের সেন্ট পিটারস্‌ হলে আসতে পারলে আমি আনন্দিত হবো, এবং আপনার সঙ্গে থাকার জন্যে উন্মুখ থাকবো।

জনাব ম. আ. র. খান                                                আপনার অনুগত,

সভাপতি,                                                          এসডি/-

বাংলাদেশ ক্রিড়া পরিষদ

৬ ব্রিটানিয়া রোড

সাউথসি।

———

< ৪, ৪৬, ৮৮>

অনুবাদকঃ আফসানা আশা

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৪৬। ৩১শে জুলাই-এর সভায় যোগদানের অক্ষমতা জানিয়ে জন স্টোনহাউজ, এমপি-র চিঠি এম,এ, আর খানকে লিখিত চিঠি ২২ জুলাই, ১৯৭১

 

সম্মানিত জন স্টোনহাউজ. এমপি হতে

হাউজ অফ কমনস্‌

লন্ডন, এসডব্লিউ১

২২শে জুলাই,১৯৭১

জনাব খান,

আপনার ২০শে জুলাই-এর চিঠিতে ৩১শে জুলাই-এর ঘটিতব্য সভায় আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

দুর্ভাগ্যবশত, সেদিন আরেকটি সাক্ষাৎকার থাকার নিমিত্ত আমার পক্ষে আপনার সভায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। সভাটির সফলতা কামনা করছি।

আপনার অনুগত,

জন স্টোনহাউজ।

 

জনাব ম. আ. র. খান

সভাপতি,

বাংলাদেশ ক্রিড়া পরিষদ,

৬ ব্রিটানিয়া রোড।

সাউথসি।

 

—————–

<৪, ৪৭, ৮৯>

অনুবাদকঃ আফসানা আশা

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৪৭। অচিরে লন্ডনে বাংলাদেশ মিশন প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়ে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর চিঠি ভেনেজুয়েলা প্রবাসী ড. এন আলম খন্দকারকে লিখিত চিঠি ৪ আগস্ট, ১৯৭১

 

৪ঠা আগস্ট, ১৯৭১

ড. এন. আলম খন্দকার,

ইন্সটিটিউটো ওশিয়ানো গ্রাফিকো,

আপারতাদো পোস্টাল ৯৪,

কিউমানা,

ভেনেজুয়েলা।

 

জনাব খন্দকার,

আপনার ২ জুন, ১৯৭১ এর চিঠিটি গ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত, কিন্তু পূর্বেই আপনাকে লিখতে না পারার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। আমার অধিকতর জরুরি কাজের জন্য এর জন্য দায়ী। গত তিন মাস যাবত আমি মধ্যরাতের পূর্বে বিছানায় যেতে পারিনি। তাছাড়া, তৎক্ষণাৎ চিঠির উত্তর দেয়ার উপযুক্ত সুযোগ আমার নেই।

আমরা খুব শীঘ্রই একটি বাংলাদেশ মিশন পেশ করতে যাচ্ছি এবং সবকিছু আরো ভালভাবে সংগঠিত হবে এবং তখন চিঠিগুলো আরো ভালভাবে মনোনিবেশিত হবে।

আমি খুব স্বল্প সময়ের জন্য নিউ ইয়র্ক ছিলাম। বিদেশে এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে মাঝে মাঝে বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়েছে, কিন্তু আমার প্রধান কার্যস্থল যুক্তরাজ্য এবং আমি লন্ডনে পদস্থিত।

আপনার মহৎ কথা এবং আপনার মহৎ চিন্তার জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যেগুলো আমাকে প্রকৃতপক্ষে সর্বদা অনুপ্রাণিত করবে। ব্যক্তিগতভাবে আমাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের জন্যও আমি কৃতজ্ঞ। এটি গভীরভাবে আমাকে নাড়া দিয়েছে। আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো সাহয্যের প্রয়োজন হলে আমি তা অবশ্যই আপনাকে লিখতে দ্বিধা করব না।

অনেক অভিনন্দন ও শুভকামনা।

আপনার অনুগত,

আবু সাঈদ চৌধুরী

——–

<৪, ৪৮, ৯০>

অনুবাদকঃ আফসানা আশা

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৪৮। শেখ মুজিবুর রহমানের বিচারের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটির প্রচারপত্র এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ৮ আগস্ট, ১৯৭১

 

যুক্তরাজ্যস্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের আকশন কমিটি

১১ গোরিং স্ট্রীট, লন্ডন, ই. সি. ৩

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এক লক্ষ বাঙালি সম্প্রদায় গভীর বেদনা এবং অভিঘাত সহকারে সংবাদটি গ্রহণ করেছে যে ইয়াহিয়া খান পরিশেষে সাড়ে ৭ কোটি বাংলাদেশী জনগণের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ১১ই আগস্টে একটি ষড়যন্ত্র মামলা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মানবিক মূল্যবোধকে ইয়াহিয়া খান কর্তৃক দশ লক্ষ মানুষের হত্যা, আশি লক্ষ মানুষকে তাদের দেশ থেকে তাড়ানো, তিন কোটি মানুষ কে সর্বস্বান্ত করা এবং বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি জনগণকে আতংকিত করার অপরাধ সম্পর্কে অবগত করার প্রয়োজন নেই বলেই জণগন মনে করছে। তিনি এখন আন্তর্জাতিক মতামতকে অবজ্ঞা করে মামলা চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আমরা সাধারণ বিশ্বমত এবং বিশেষ করে ব্রিটিশ সর্বসাধারণের কাছে ঘটনাটির উত্থানের দাবি করছি এবং তাদের স্ব স্ব সরকারের কাছে ইয়াহিয়া খানকে এই ক্ষতিকর এবং বিপদজনক আইন বন্ধ করে শেখ মুজিবর রহমানকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে অনুরোধ করছি।

—————

<৪, ৪৯, ৯১-৯৩>

অনুবাদকঃ আফসানা আশা

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৪৯। এ্যাকশন কমিটি কর্তৃক জাহাজ ক্রয়ের ব্যাপারে একটি বৃটিশ কোম্পানীর সাথে পত্র যোগাযোগ এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১০ ও ১২ আগস্ট, ১৯৭১

 

 

বেভিস মারক্স হাউজ।

বেভিস মারক্স,

লন্ডন. ই. সি. ৩।

হোরেস এস. করড্রান লিঃ

পরিচালবৃন্দঃ এইচ. এস. করড্রান, এইচ. এল. করড্রান

জাহাজের দালালগণ

টেলিফোনঃ ০১-২৮৩৩৯৭১/২

টেলিগ্রামসমূহঃ এনফিবিও. লন্ডন. ই. সি. ৩.

সংকেতসমূহঃ নিউ বব এবং স্কট’স

 

জনাব ভুঁইয়া

১১ গোরিং স্ট্রিট,

ই. সি. ৩.

জনাব ভুঁইয়া এর সৌজন্যে

প্রিয় মহাশয়,

আপনার গতকালের টেলিফোনে প্রেরিত তলবের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি, এবং আপনার বিনীত বিবেচনার জন্য এটির সঙ্গে বর্তমানে সর্বাধিক ৭০০ টন ওজনলভ্য বন্দরে বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজসমুহের তালিকাটি ভেতরে রাখা হলো যেভাবে অনুরোধ করা হয়েছিলো।

আমরা আপনার তদতিরিক্ত পরামর্শ অনুসরণ করব এবং ইতিমধ্যে এই জনযানগুলোর কোনোটিতে যদি আগ্রহ প্রকাশ করেন তবে তা শুনে আনন্দিত হব।

আপনার বিশ্বস্ত

হোরেস এস. করড্রান লিঃ

এসডি/-

হোরেস এস. করড্রান লিঃ

স্ক্রু স্টিমার ওয়াইয়াইইউকে আই এবং ডিইউএলএর বিবরণ

 

সর্বাধিক ওজন ইঙ্ক. জ্বালানী মজুদকারী অংশ- প্রায়         ইঞ্জিন-বর্নণা-এম. ডব্লিউ. এম.

৭৪০ টন

ভরা নকশা- ৩.৩২                               ডিজেল মোটর

জ্বালানী মজুদকারী অংশ-৯৪ / টন                       কোথায় স্থাপিত-এফট.

 

কখন,কোথায় তৈরি হয়েছে১৯৬৪/১৯৬৩,হল্যান্ড       তৈরিকারকের নাম-মোটোরেনরেক

তৈরিকারকের নাম- স্কিপ্স ভি/ডি ডি গ্রিত্তো             ম্যানহিম

হর্স পাওয়ার-৭৫০ এইচপি ৩৫৫ আর.এম.পি.

মান- সর্বচ্চো এললয়েড’স ক্লাস                       সিলিন্ডারের ব্যাস- ৬:৩২০ মিমি.

সর্বশেষ নিরীক্ষা- ১৯৬৮ ও ১৯৬৯                   পিস্টনের ইন্ধন জোগান-৪৮০ মিমি.

বায়লার………আয়তন……

আয়ু…………………………………

নিবন্ধন টন-৪৫৫, মোট-২০৪ প্রকৃত                   গড় দ্রুতি ১১ নট

ঘন ধারণক্ষ্মতা-৫৬.১ গ্রেইন/৫৩.১১৭ বেল                 ক্ষয় প্রায় প্রতি ২৪ ঘন্টা

পানি নিয়ন্রণ ও ভারসাম্য ১৫৫ টন দ্বিগুন তলদেশে,       ৩ টন গ্যাসোলিন

প্রায় ১২ টন বিশুদ্ধ পানি                         উত্তাপক পৃষ্ঠ……………

ঝাঁঝরি এস……………

উচ্চতা ৫৯.৭২ মি/৫৪.০০ মি         হাপড়ের সংখ্যা………

কাজের চাপ……………

মাত্রা   প্রস্থ ৯.২০                         পাউন্ড প্রতি ইঞ্চি…………

মাল রাখার অংশের গভীরতা ৩.৩২ মি.         ডাংকি বয়লার…………

ঢালাই গভীরতা ৫.৪০

মাল রাখার অংশের সংখ্যা………জলরধোক বেষ্টনীর সংখ্যা

………                                                                                          ৪ শক্তিশালী কপিকলবিশেষ হাইব্রাউলিক

উচ্চতার অর্ধেক দরজাসমূহের আয়তন ও সংখ্যা             ভা্র-উত্তোলন যন্ত্র

১১.৫৭ x ৫.৪৮                                 ৪ এট ৩ টন

বাষ্প চরকী………

ফেরিঘাট ব্যবস্থা খোলা আশ্রয়-পাটাতন                   বাষ্প চালনার যন্ত্র

অবস্থান………

মূল্য…………

পি…………বি……………এফ…………কিউ………।।

——————-

 

হোরেস এস. করড্রান লিঃ                                    বেভিস মারক্স হাউজ.

পরিচালবৃন্দঃ এইচ. এস. করড্রান, এইচ. এল. করড্রান                     বেভিস মারক্স.

জাহাজের দালালগণ,                                          লন্ডন. ই. সি. ৩.

টেলিফোনঃ ০১-২৮৩৩৯৭১/২

টেলিগ্রামসমূহঃ এনফিবিও. লন্ডন. ই. সি. ৩.

সংকেতসমূহঃ নিউ বোই এবং স্কট’স

 

জনাব ভুঁইয়া                                                ১২ আগস্ট,১৯৭১

১১ গোরিং স্ট্রিট,

ই. সি. ৩.

 

 

 

 

<৪, ৫০, ৯৪-৯৫>

অনুবাদকঃ নাবিলা ইয়াসিন তারিন

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৫০। ১৯৭১ সনের ৬ ও ১২ আগস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিত এ্যাকশন কমিটির সভায় প্রস্তাবপত্র এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১২ আগস্ট, ১৯৭১

প্রথম বৈঠক, আগস্ট, ১৯৭১: বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বিচারপতি এস চৌধুরী কর্তৃক অনুমোদিত হয়নি

দ্বিতীয় বৈঠক, আগস্ট, ১৯৭১: শেখ : মান্নান জনাব আজিজুল হক ভূঁইয়া সভার কার্যনির্বাহী কমিটিতে কাজ করার জন্য নির্বাচিত হন

৭ অগাস্ট, ১৯৭১ দ্বিতীয় বৈঠক অনুযায়ী নিম্নের সদস্যগণ বিচারপতি এ এস চৌধুরীর সাথে দেখা করেন :

ক) জনাব শেখ আবদুল মান্নান।

খ) জনাব শামসুর রাহমান।

গ) জনাব কাবিল চৌধুরী।

বিচারপতি এ এস চৌধুরী তাঁর এবং ব্রিটেনের বাঙালি সম্প্রদায়ের নেতাদের ভিতরে অনুষ্ঠিত অদপ্তরিক বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত পরিচালনা কমিটির তদন্তকারী সদস্যদের কাছে পৌঁছে দিলেন। এই সিদ্ধান্ত প্রচার করার দায়িত্ব পরিচালনা কমিটির সদস্য জনাব কবিরকে দেওয়া হয়। যেহেতু জনাব কবির চৌধুরী তৎকালীন নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেন নি, তাই পরিচালনা কমিটির আহ্ববায়ক ১২ অগাস্ট, ১১ গোরিং স্ট্রিট, ইসি৩, ৬ টায় গুরুত্তপূর্ণ একটি সভার ডাক দেন। উক্ত সভায় নিম্নের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন :

ক) জনাব শেখ আবদুল মান্নান।

খ) জনাব শামসুর রহমান।

গ) জনাব আজিজুর হক ভুইঞা

সভায় নিচের সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয় :

ক) বিচারপতি এ এস চৌধুরীর অনুরোধে তাঁর এবং ব্রিটেনের বাংলা সম্প্রদায়ের নেতাদের ভিতরে অনুষ্ঠিত বেসরকারি বৈঠকটিকে অনুমোদন দেওয়া হয় সেই সাথে বৈঠকে নেওয়া প্রস্তাবগুলো ও পরিচালনা কমিটি অনুমতি প্রদান করেন যেনো অধিবেশন কমিটি এটি আওতায় রাখতে পারে।

খ)আরো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, নিম্নের পরিচালনা কমিটির সদস্যগণ অধিবেশন কমিটির অধীনে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।

ক) জনাব শেখ আবদুল মান্নান।

খ) জনাব আজিজুর হক ভুইঞা।

পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

৬ আগস্ট, ১৯৯৭১, ১১ গোরিং স্ট্রিট, ইসি ৩, ৬ টায় বিচারপতি এ এস চৌধুরী এবং ব্রিটেনের বাংলা সম্প্রদায়ের নেতাদের ভেতরে অদপ্তরিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে নিম্নের ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন :

১) মি : শেখ আবদুল মান্নান।

২) মি: শামসুর রহমান।

৩) মি: আজিজুর হক ভুইঞা।

৪) মি: কাবিল চৌধুরী।

এবং বৈঠকে নিম্নের সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়:

ক) পরিচালনা কমিটির অধিবেশনের মাধ্যমে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সংগঠন তৈরী করার পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেইসাথে এই সংগঠন দ্বারা ব্রিটেনে মুক্তির আন্দোলন গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও অদপ্তরিক বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করা হয় নি, তারপরেও তারা আনন্দের সাথে চারজন স্থানীয় প্রতিনিধি দিয়ে কমিটি সংগঠিত করেন। এরূপ প্রচেষ্টার জন্য পরিচালনা কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটিকে আন্তরিক সাধুবাদ জানায়।

খ) এতে আরো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, সভার বক্তব্য বিচারপতি এ এস চৌধুরী এর কাছে পৌঁছে দেওয়া ও অনুমোদন এর জন্য জনাব শামসুর রহমান, জনাব শেখ আব্দুল মান্নান এবং জনাব কবির চৌধুরিকে বিচারপতি চৌধুরীরর সাথে পরের দিন সকালে দেখা করতে বলা হয়।

 

স্বাক্ষর/

আহ্বায়ক, পরিচালনা কমিটি

<৪, ৫১, ৯৬>

অনুবাদকঃ সমীরণ কুমার বর্মন

    শিরোনাম        সূত্র        তারিখ
৫১। ১১ই আগস্ট প্রতিরোধ দিবস পালনের আহবান এ্যাকশন কমিটির প্রচারপত্র ১০ আগষ্ট, ১৯৭১

 

 

১১ই আগস্ট: প্রতিরোধ দিবস

পাকিস্তানের সামরিক জান্তা গণপ্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে গোপনে সামরিক আদালতে বিচারের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

এই ষড়যন্ত্রকে বানচাল করতে হবে। একে রুখে দাঁড়াতে হবে। আসুন হাজার হাজারে এসে আগামী বুধবার, ১১ই আগস্ট, বেলা ২ টায় হাইড পার্ক স্পিকার্স কর্নারে জমায়েত হয়ে এই ঘৃণিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন।

বাংলাদেশের সরকারের বৈদেশিক প্রতিনিধি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর সঙ্গে পরামর্শ করে এই জরুরী গণ-সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এতে যোগদানের জন্য আমরা আপনাদের সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

জয় বাংলা

আহ্বায়ক

কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি।

 

 

 

কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি কর্তৃক ১১ গোরিং স্ট্রিট, ল-ন, ইসি-৩ থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত।

টেলিফোনঃ ০১-২৮৩ ৩৬২৩, ২৮৩৫৫২৬

 

<৪, ৫২, ৯৭>

শিরোনাম

 

সূত্র

 

তারিখ

৫২। বিচারপ্রতি আবু সাঈদ চৌধুরীর প্রতি মাসিক “ভেঞ্চার” সম্পাদক জর্জ কানিংহাম এম,পি’র চিঠি ব্যক্তিগত চিঠিপত্র ১২ আগস্ট ১৯৭১

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রঃ চতুর্থ খন্ডঃ ৯৭-১০১

ভাষান্তর :: Muwaffaq Muhsin

 

ভেঞ্চার

১১ ডার্টমাউথ স্ট্রিট, লন্ডন এসড ব্লিউ১ ডব্লিউ এইচ ১৩০৭৭

১২ আগস্ট ১৯৭১

 

 

বিচারপ্রতি আবু সাঈদ চৌধুরী,

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার,

১১ গোরিং স্ট্রিট, লন্ডন।

ইসি৩

বিচারপতি চৌধুরী,

ফ্যাবিয়ান সোসাইটির মাসিক ম্যাগাজিন “ভেঞ্চার” এর নাম আপনি হয়তো শুনে থাকবেন। আমার সম্পাদনায় বহির্বিশ্বের বিষয়াদি সম্বলিত এই ম্যাগাজিনটি প্রতি মাসে বের হয়। এটির একটি সম্পাদকীয়তে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করা হয়েছে (ম্যাগাজিনের একটি কপি চিঠির সাথে সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে) এবং ভবিষ্যতেও আমরা এই বিষয়ের উপর আরো প্রবন্ধ ছাপানোর আগ্রহ প্রকাশ করছি।

 

অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি যে, এই বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের আরো উদ্যমী মনোভাবের প্রয়োজনকে যুক্তি দ্বারা বিশ্লেষণ করে লিখিত একটি সুচিন্তিত ও সুসংগঠিত লিখা আমাদের অক্টোবর ইস্যুতে ছাপানো উচিত বলে আমি মনে করি। বিশেষতঃ আমি চাই লেখাটি যেন ব্রিটিশ সরকারের এবং আমেরিকান সরকারের পলিসির মধ্যে পার্থক্যকে স্পষ্ট করে তোলে। আমেরিকানরা ইয়াহিয়া খানের বিরুদ্ধে সম্ভবত বেশিদূর যাচ্ছে না কিন্তু ব্রিটিশ সরকার যতদূর যাওয়ার পরিকল্পনা করছে তার চেয়ে বেশি এগোচ্ছে।

 

আপনি এই বিষয়ের উপর কয়েকটি লাইন লিখে দিতে আগ্রহী হবেন কি? আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে, আপনাকে এর বিনিময়ে কোন সম্মানী দিতে পারবনা, কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটকে আমাদের প্রভাবশালী পাঠকদের সামনে তুলে ধরা আর্থিক বিনিময়ের চেয়ে আরো বেশি মূল্যবান কিছু হতে পারে।

 

এই আশা নিয়ে শেষ করছি যে, আপনি উপরোক্ত বিষয়ের উপর একটি আর্টিকেল লিখতে আগ্রহী হবেন। আমি আরো কৃতজ্ঞ থাকব যদি আপনি আমাদের অক্টোবর ইস্যুতে প্রকাশের নিমিত্তে উপরোক্ত বিষয়ের উপর একটি আর্টিকেল লিখে সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখের মধ্যে পাঠিয়ে দেন।

আপনার অনুগত,

জর্জ কানিংহাম, এমপি

সম্পাদক।

 

 

 

 

<৪, ৫৩, ৯৮>

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৫৩। ১৬ই আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য কনভেনশনের কমিটির সভার বিজ্ঞপ্তি একশন কমিটির দলিলপত্র ১৩ আগস্ট, ১৯৭১

 

১৩ আগস্ট, ১৯৭১

জনাব আলী,

প্রথমেই আপনাকে ভ্রাতৃত্বসূলভ অভিনন্দন জানাই অধিবেশন কমিটিতে আপনি নমিনেশন পেয়েছেন বলে।

 

অধিবেশন কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে ১৬ই আগস্ট রোজ সোমবার। স্থানঃ স্টিয়ারিং কমিটি অফিস, ১১ গোরিং স্ট্রিট, লন্ডন, ই,সি ৩। উক্ত সভায় কেন্দ্রীয় একশন কমিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব অ্যাকশন কমিটি নিয়ে সম্মেলন ডাকার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করা হবে।

আপনার ভ্রাতৃসূলভ,

আজিজুল হক ভূঁইয়া।

জনাব আরব আলী

কাশ্মীর রেস্টুরেন্ট,

২৮ নীড় স্ট্রিট,

স্টার্টফোর্ট-আপন-এভন।

 

 

 

 

 

<৪, ৫৪, ৯৯-১০০>

 

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৫৪। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের গোপন বিচার বন্ধের জন্য সোচ্চার আহ্বান সম্বলিত বিজ্ঞাপন বাংলাদেশ একশন কমিটির বিজ্ঞাপন ১৬ই আগষ্ট, ১৯৭১

বিজ্ঞাপন

জেগে ওঠো বিশ্বঃ থামাও এই ক্যামেরা ট্রায়াল

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মুক্তি নিশ্চিত কর

 

পাকিস্তান ন্যাশনাল এসেম্বলিতে ৩১৩ টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশের (পূর্ব পাকিস্তান) অধীনে রয়েছে ১৬৯টি এবং শেখ মুজিবুর রহমান ও তার দল জয়ী হয়েছে ১৬৭টি আসনে। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম দিকে ইয়াহিয়া খান ঘোষণা দিয়েছিল যে শেখ মুজিবুর রহমান হবে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী এবং এই খবর প্রচার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।

 

কী ঘটেছিল তারপর?

১. ইয়াহিয়া খানের সামরিক জান্তা নিরস্ত্র বাঙালির উপর নিষ্ঠুরভাবে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।

২. হাজার হাজার মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে ঘরছাড়া করা হয়েছে।

৩. বাংলাদেশের ভিতরেই শরণার্থীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

৪. সংখ্যাগরিষ্ঠদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

এখানেই শেষ নয়ঃ

 

এই একই জান্তা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত জননেতার সহকর্মীদের অনিষ্ট সাধনের লক্ষে “পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা” শিরোনামে একটি বানোয়াট খবর প্রচার করেছে।

 

শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে “অন্যায় বিচার” কি সাড়ে সাত কোটি বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অন্যায় নয়?

 

এটি কি গণতন্ত্রের বিচার?

পশ্চিম পাকিস্তানিদের এই হিংস্র প্রতিহিংসা বিশ্ববাসী কি শুধুই নির্বাক চোখে দেখবে?

 

টি কি হিংস্রতা দেখার সময় নাকি হিংস্রতা থামানোর সময়?

 

ব্রিটিশ সরকার, জাতিসংঘ এবং বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের দাবি, শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অন্যায় বিচার থামানো হোক আর তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করা হোক।

 

পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছেঃ

যুক্তরাজ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর অ্যাকশান কমিটির পরিচালনা কমিটি; বাংলাদেশ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন; লন্ডন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, লেই-অন-সী, বারমিংহাম ও ব্রাডফোর্ড, বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি, বেডফোর্ড , মিডলবরো, ব্রিস্টল, বোর্নমাউথ, ব্রিংটন, ওয়েস্ট লন্ডন, ডরেস্ট, এক্সেটার, এনফিল্ড, সাউথএন্ড-অন-সী, ইপ্সউইক, চ্যাথাম, লুফন, অক্সফোর্ড, স্কানথ্রোপ, এসআই.আলবান’স, ক্লেকহিটন। ওয়েস্টমিন্সটার, কিডারমিন্সটার, ওয়েলিংবরো, মেন্সফিল্ড, আক্সপ্রিজ, কারডিফ, লেইচেষ্টার, কভেনট্রি, সাউথাম্পটন, ব্লেচলি, সাউথওয়েস্ট লন্ডন, নর্দাম্পটন ও লেঙ্কাশায়ার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অ্যাকশান কমিটি, সুইন্ডন, সাউথসি, ব্রাডফোর্ড, শেফিল্ড, বারমিংহাম, ও নটিংহাম; গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অ্যাকশন কমিটি; লন্ডন, বাংলাদেশের অ্যাকশন কমিটি, নর্থ ও নর্থওয়েস্ট লন্ডন; ইস্ট বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন, নিউক্যাসল-আপন-টাইন, বাংলাদেশের ইস্লিংটন কমিটি, বাংলাদেশের জন্যে সাহায্য তহবিল, লন্ডন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর সাহায্য এবং অ্যাকশন কমিটি, বারমিংহাম; বাঙালি অ্যাসোসিয়েশান কেমব্রিজ ; কমিটি ফর বাংলাদেশ, টিপট্রি, বাংলাদেশ সারভাইভাল কমিটি, ক্রয়ডন, বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট, লিডস; বাংলাদেশ পপুলার ফ্রন্ট , ব্রাডফোর্ড; বাংলাদেশ সংগ্রাম পরিষদ , কেইলি , হেলিফ্যাক্স, ক্লেকহিটন ও ব্রাডফোর্ড; বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশান, স্কটল্যান্ড ও ম্যানচেষ্টার, বাংলাদেশ সোশ্যাল অ্যাসোসিয়েশান লাফবরো, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশান কমিটি , ব্রাডফোর্ড: বাংলাদেশ যুব সংস্থা, লন্ডন, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস’ অ্যাকশান কমিটি, কারডিফ, অ্যাকশান বাংলাদেশ, লন্ডন; বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অ্যাকশান কমিটি, লন্ডন।

এই বিজ্ঞাপনের জন্যে পৃষ্ঠপোষকতার আয়োজন করেছেঃ

বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অ্যাকশান কমিটি,

৩৫ গেমেজেস বিল্ডিং, ১২০ হলবোর্ন, লন্ডন, ই,সি ১, টেলিফোনঃ ০১-৪০৫-৫৯১৭

 

 

<৪, ৫৫, ১০১-১০৩>

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৫৫। ব্রিটেনে বাংলাদেশ আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো রচনার লক্ষে প্রস্তাবিত একটি খসড়া গঠনতন্ত্র একশন কমিটির দলিলপত্র ১৮ই আগস্ট, ১৯৭১

 

৭০এ হাই স্ট্রিট

কোলচেস্টার এসেক্স

১৮ই আগস্ট, ১৯৭১

প্রিয় বন্ধুগন,

ব্রিটেনে বাংলাদেশ আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো রচনার লক্ষে প্রস্তাবিত একটি খসড়া গঠনতন্ত্র আমি এখানে জুড়ে দিচ্ছি এই আশায় যে গঠনতন্ত্র তৈরিতে এটি সহায়ক হবে।

যদি প্রয়োজন হয় আমি সানন্দে এই খসড়ার যেকোন বিষয় ব্যাখ্যা করব।

বিনীত,

(জনাব লোকমান আলী)

একটি নিখুঁত ও একতাবদ্ধ আন্দোলন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, সকল কর্মকাণ্ডে একতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা নিশ্চিত করতে আমরা, যুক্তরাজ্যে সকল বাংলাদেশি সমর্থকণ, বাংলাদেশ একশন কমিটির এই গঠনতন্ত্র মেনে নিলাম। এখন থেকে যুক্তরাজ্যে এই কমিটির নতুন নাম হবে “বাংলাদেশ কাউন্সিল” এবং ঠিকানা হবে ১১ গোরিং স্ট্রিট (ভবিষ্যতে যেকোন কিছু পরিবর্তনযোগ্য)।

লক্ষ্যসমূহঃ

১. এই কাউন্সিলের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার এবং মুক্তি ফৌজদের জন্যে বিভিন্ন জিনিস-পত্র ক্রয়ের উদ্দেশ্যে তহবিল সংগ্রহ করা। অন্য কোনভাবে এটি করা আদৌ সম্ভব নয়।

২. যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি সমর্থকদের প্রচেষ্টার গতি বৃদ্ধি করতে এবং তাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের ইচ্ছাকে পূরণ করার লক্ষে তাদেরকে প্রাণোদ্দীপ্ত করা।

৩. দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশের সমর্থকদের অবগত করা এবং যতটা সম্ভব তাদের সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতার সদ্ব্যবহার সম্পর্কে তাদেরকে ওয়াকিবহাল রাখা।

৪. বাংলাদেশ সরকার ও তার প্রতিনিধিদের সাথে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি সমর্থকদের যোগাযোগ বজায় রাখা।

৫. তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সদ্ব্যবহারে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ তহবিল ট্রাস্টিদের সাহায্য করা।

৬. বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বসমর্থন বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া।

৭. বাংলাদেশি জনগণের দুর্দশা লাঘবে সাহায্য তৎপরতাসহ যেকোন সহায়ক কর্মকান্ডের আয়োজন করা।

গঠনঃ

১. বোর্ড অফ ট্রাস্টি

২. জাতীয় পরিষদ

৩. নির্বাহী কমিটি

৪. স্থানীয় কমিটি

নিয়মঃ

এখানে উল্লিখিত নিয়মগুলি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ আন্দোলনের সাথে জড়িত সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে

পরিষদঃ

১. কাউন্সিল স্বশাসিত হবে এবং সম্ভাব্য সর্বোত্তম চ্যানেলের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বিনাশর্তে এর সমর্থন দান করবে।

২. কাউন্সিল বাংলাদেশ সরকার ও তার দূতের নিকট থেকে আসা নির্দেশনা খুঁজবে।

৩. প্রত্যেক স্থানীয় কমিটি থেকে দুইজন করে সদস্য নিয়ে এই কাউন্সিল গঠিত হবে।

৪. কাউন্সিল একজন প্রেসিডেন্ট ও চারজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে। প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-প্রেসিডেন্টের মেয়াদ এক বছর কার্যকরী থাকবে।

৫. পরিষদের সেক্রেটারির পদবী হবে অঅবৈতনিক।

নির্বাহী কমিটিঃ

১. জাতীয় পরিষদ এবং স্থানীয় কমিটি উভয়ের সদস্য হতে উক্ত কাউন্সিল নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত করবে।

২. নির্বাহী কমিটির সদস্য বিভিন্ন পেশা যেমন আইনজীবী, সাংবাদিক, একাউন্ট্যান্ট এবং এইরূপ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ হবেন।

৩. নির্বাহী কমিটির মেয়াদকাল হবে এক বছর।

কার্যাবলীঃ

১.এই কাউন্সিলের প্রধান কাজ হবে আন্দোলন আরো বেগবান ও ফলপ্রসূ করার জন্য একটি নীতিমালা প্রনয়ন করা।

২. কাউন্সিল স্থানীয় কমিটির নিকট দায়বদ্ধ থাকবে স্থানীয় কমিটির সাথে লিয়াজো রক্ষা করা এবং কমিটিকে পূর্ণ অবগত রাখার জন্য।

৩. নির্বাহী কমিটির কার্যাবলী তদারক করবে উক্ত কাউন্সিল এবং নির্বাহি কমিটি কাউন্সিলের নিকট দায়বদ্ধ থাকবে।

৪. কোন ব্যক্তি কিংবা একটি বিশেষ কাজ করার নিমিত্তে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গকে মনোনীত করার ক্ষমতা থাকবে কাউন্সিলের হাতে।

৫.জরুরী কোন প্রয়োজন ছাড়া কাউন্সিল কোন মিটিংএর কমপক্ষে চারদিন আগে তার সদস্যকে লিখিতভাবে জানাবে।

৬. কোন চুক্তিভঙ্গের অপরাধে কাউন্সিল তার সদস্য কিংবা নির্বাহী কমিটির কোন সদস্যের বিরুদ্ধে যেকোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবে।

৭. কাউন্সিল সংবিধান পরিপন্থী কোনপ্রকার কাজ করতে পারবে না। এ বিষয়ে কোনপ্রকার সন্দেহ উত্থিত হলে নির্দিষ্ট একটি নির্বাচিত কমিটি গঠন করে তা সমাধান করতে হবে।

৮. পরিষদের যে কোন সদস্যের কোন একটি আন্দোলন করার ক্ষমতা থাকবে কিন্তু তা কাউন্সিলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য উপস্থিত থাকা অবস্থায় পাশ হওয়া লাগবে।

৯. কাউন্সিল প্রতিমাসে কমপক্ষে একবার বসা লাগবে কিন্তু নির্বাহী কমিটির প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একবার বসতেই হবে।

১০.আন্দোলনের সাথে জড়িত এমন যেকোন লেখ্য প্রমান,প্রস্তাবনার রেকর্ড রাখার দায়িত্ব কাউন্সিলের।

১১.অফিস চলাকালীন সময়ে কাউন্সিলের যেকোন সদস্যেরই এইসকল রেকর্ডে পূর্ণ এক্সেস থাকবে। কিন্তু তাদের সম্পাদককে তা জানিয়ে রাখতে হবে।

প্রেসিডেন্টের দায়িত্বঃ

প্রেসিডেন্টের প্রধান দায়িত্ব হবে কাউন্সিল বিষয়ক সার্বিক তত্ত্বাবধান করা, গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্যে কাউন্সিলের প্রতিনিধি হওয়া এবং যখন প্রয়োজন তখন পরামর্শ দান করা। ভাইস প্রেসিডেন্টেরও অনুরুপ দায়িত্ব পালন করতে হবে যখন প্রয়োজন।

চেয়ারম্যানের দায়িত্বঃ

     কাউন্সিলের সদস্যদের দ্বারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবে। তিনি কাউন্সিলের সব সভায় সভাপতিত্ব করবেন। তিনি সদস্যদের প্রতি সর্বাবস্থায় এবং কাউন্সিলকে তার লক্ষ্যে পরিচালনায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবেন। যেকোন কাউন্সিল মিটিং মূলতবী কিংবা স্থগিত করার ক্ষমতা তাঁর হাতে রয়েছে কিন্তু তা কখনই এক পক্ষকালের বেশি নয়। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁর দায়িত্ত্ব পালন করবেন।

স্থানীয় কমিটিঃ

     একটি স্থানীয় কমিটিতে কমপক্ষে ৫০ জন সদস্য থাকবে যারা কাউন্সিলের ভোটে প্রতিনিধিত্ব করবে।

৫০ জনের কম সদস্য সংখ্যা থাকলে তাদের অন্য যেকোন কমিটি,এলাকা কিংবা শহরে যোগদান করতে হবে এইরূপ ভোটদানের যোগ্যতা অর্জনের জন্য।

নিম্নে একটি স্কেচ ম্যাপ দেয়া হল যেখানে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ কাউন্সিলের গঠন দেখানো হয়েছেঃ

স্কেচ-ম্যাপ

 

এম. লুকমান

৭০এ হাই স্ট্রিট ,                                                                                 এম. লুকমান

কোলচেস্টার, এসেক্স                                                             বাংলাদেশ একশন কমিটির

টেলিঃ ০২০৬৭১২৫৫                                                                                পক্ষ থেকে

ক্যাম্ব্রিজ, এসেক্স,সাফোক এবং নরউইচ

 

 

 

 

 

<৪, ৫৬, ১০৪>

অনুবাদকঃ তানভীর আহমেদ রিশাত

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৫৬। ২০শে আগস্ট অনুষ্ঠতব্য কনভেনশন কমিটির সভার বিজ্ঞপ্তি এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১৮ আগস্ট, ১৯৭১

 

১৮ আগস্ট, ১৯৭১

জনাব খান,

আমি এখন এটাই নিশ্চিত করার জন্য লিখছি যে অধিবেশন কমিটির প্রথম মিটিং আগামি শুক্রবার ২০ আগস্ট সন্ধ্যা ৬ টায় পরিচালনা কমিটির অফিসে-(ঠিকানা ১১ গোয়িং স্ট্রিট, লন্ডন ইসি. ৩) অনুষ্ঠিত হবে। মিটিংটি হবে সকল অ্যাকশন কমিটির সাথে একটি প্রাথমিক আলোচন সভা কীভাবে কেন্দ্রীয় একশন কাউন্সিল গঠন করা যায় তা নিয়ে।

আপনি জানেন যে, এই মিটিংটি গত ১৬ আগস্ট, সোমবার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু অনেক সদস্যের অনুপস্থিতির কারনে এটি কয়েক দফা পেছানো হয়েছে। যাই হোক, যেহেতু এটি একটি জরুরী মিটিং, ২০ আগস্ট এর চূড়ান্ত তারিখ ধার্য করা হয়েছে। আপনি যদি মিটিংএ আসতে অপারগ থাকেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আপনাকে ছাড়াই উক্ত মিটিং অনুষ্ঠিত হবে।

আহ্বায়ক

আজিজুল হক ভুঁইয়া

জনাব গাউস খান

৫৮ বারউইক স্ট্রিট

লন্ডন, ডব্লিউ.সি.১.

 

 

 

<৪, ৫৭, ১০৫>

অনুবাদকঃ তানভীর আহমেদ রিশাত

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৫৭। স্বাধীনতা সংগ্রামে অর্থনৈতিক সাহায্য প্রদানের সুব্যবস্থার লক্ষ্যে ন্যাশনাল ওয়েস্টমিনস্টার ব্যাংকে নতুন হিসাব খোলার বিজ্ঞপ্তি এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১৯ আগস্ট, ১৯৭১

 

যুক্তরাজ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অ্যাকশন কমিটির পরিচালনা কমিটি

 

 

                                                    ১১, গোরিং স্ট্রিট

                                                         লন্ডন, ই.সি.৩

টেলিঃ০১-২৮৩-৫৫২৬/৩৬২৩

১৯ আগস্ট,১৯৭১

স্যার,

বাংলাদেশ ফান্ডের সাফল্য আমাদেরকে এটাই বুঝিয়েছে যে, হ্যাম্ব্রোস ব্যাংক থেকে পাওয়া সুযোগ সুবিধা এখন আর পর্যাপ্ত নয়। হ্যাম্ব্রোস ব্যাংকের উক্ত অ্যাকাউন্টটি থাকবে কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থনকারীদের তাদের প্রদেয়গুলো আরো সহজে ফান্ডে রাখার জন্য ন্যাশনাল ওয়েস্টমিনিস্টার ব্যাংক লিমিটেডে আরো একটি অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য সবাই সম্মত হয়েছেন।

যেহেতু ন্যাশনাল ওয়েস্টমিনিস্টার ব্যাংক একটি জয়েন্ট স্টক ব্যাঙ্ক এবং প্রত্যেকটি শহরে এবং গ্রামে এর শাখা রয়েছে, সুতরাং বাংলাদেশ ফান্ডের জন্য আমাদের যা দরকার তা দেয়ার জন্য এটি একটি ভাল অবস্থানে রয়েছে । এখন বাংলাদেশ সমর্থনকারীদের যে কেউ ন্যাশনাল ওয়েস্টমিনিস্টার ব্যাংকের যেকোন শাখায় গিয়ে বাংলাদেশ ফান্ডে টাকা প্রদান করতে পারবে। এটি করার জন্য তাদের নিম্নবর্ণিত কাজ করতে হবে। যেকোন শাখায় গিয়ে তাদের একটি ব্যাঙ্ক পেয়িং স্লিপ পূরণ করতে হবে নিম্নবর্ণিত তথ্যাবলী প্রদান করেঃ ন্যাশনাল ওয়েস্টমিনিস্টার ব্যাংক লিমিটেড, ৬ টটহিল স্ট্রিট, লন্ডন, এস.ডব্লিউ.আই. ব্যাঙ্ক কোডঃ ৬০-৪০-০৩। অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশ ফান্ড, নং-০০৭৭২২। ব্যাঙ্ক তাঁকে একটি পেমেন্টের রিসিপ্ট প্রদান করবে। পেয়িং স্লিপে সমর্থনকারির নাম এবং ঠিকানা দেয়াটা গুরুত্ত্বপূর্ণ তাহলে আমরা এভাবে জানতে পারব এই অ্যাকাউন্টে টাকা প্রদানকারীর নাম।

তবে হ্যামব্রোস ব্যাংককে কোন কিছু পরিশোধ করাটা এখনই এতটা গুরুত্ত্বপূর্ণ না যেহেতু উপরেই বলা হয়েছে যে সকল পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে ন্যাশনাল ওয়েস্টমিনিস্টার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।

 

আপনার বিশ্বস্ত

আজিজুল হক ভুঁইয়া

আহ্বায়ক

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

<৪, ৫৮, ১০৬-১০৮>

অনুবাদকঃ নাবিলা ইলিয়াস তারিন

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৫৮। ২০শে আগস্ট অনুষ্ঠিত কনভেনশন সাব-কমিটির সভার আলোচ্যসুচি ও কার্যবিবরণী এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১০ আগস্ট, ১৯৭১

 

অধিবেশন সাবকমিটির ১ম সভার আলোচ্য সুচি অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার, ২০শে আগস্ট, ১৯৭১ সন্ধ্যা ৬টায়, ১১ গোরিং স্ট্রিট, লন্ডন কে.সি.তে

১। যুক্তরাজ্য অধিবেশনকে সকল বাঙালির কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য যৌক্তিক কোন পন্থা বের করা।
২। ভবিষ্যতে কিসের ভিত্তিতে কাউন্সিলে (গঠিত হবে) প্রতিনিধিত্ব করা হবে তা নির্ধারণ করা।

৩। ভবিষ্যতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অবকাঠামো নির্ধারণ

ক.পারিষদের সংখ্যা
খ.নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা

গ.তিনজন ট্রাস্টি নির্বাচন করা

৪। জনাব আজিজুল হক ভুঁইয়া উপস্থাপিত খসড়া সংবিধান অথবা সভার অন্য যে কোন সদস্যের দ্বারা উপস্থাপিত খসড়া পর্যালোচনা, উন্নিতকরন, পরিবর্তন কিংবা সংযোজন করা।

৫। বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের বিশেষ প্রতিনিধির নির্দেশনায় স্বাধীনতা আন্দোলনের স্বপক্ষে কাজ করবার জন্য বাঙালিকে একটি ঐক্যবদ্ধ মাধ্যম প্রদানের লক্ষ্যে কনভেশন আহ্বানের প্রতি দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
উপরোক্ত আলোচ্য সূচি নিয়ে সভা সন্ধ্যা ৭:২০ মিনিটে শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ১২:২০ মিনিটে। পরিপূর্ণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে অত্যন্ত সাফল্যের সাথে আলোচ্য সূচির ৩ নাম্বার পয়েন্ট পর্যন্ত সবকিছু শেষ করা হয়। সকল বিষয়ের পক্ষে সর্বসম্মতিক্রমে সমাধান করা হয়। এই কার্যধারা এবং সমাধান নথিভুক্ত করা, অধীত হওয়া এবং অধিবেশন কমিটির সকল সদস্যদের দ্বারা স্বাক্ষর করা হয়েছিল।

আলোচ্য সূচির বাকি বিষয়গুলো অধিবেশন কমিটির পরবর্তী সভায় পর্যালোচনা ও নির্ধারণ করা হবে, যা অনুষ্ঠিত হবে ২৪শে আগস্ট ১৯৭১, মঙ্গলবার দুপুর ৩টায়।

জনাব আজিজুল হক ভুঁইয়ার পরিচালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যিনি পরিচালনা সংসদের আহ্বায়ক এবং একই সাথে অধিবেশন কমিটির সভা আহ্বানের জন্য কমিটির মাধ্যমে আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।

আজিজুল হক ভুঁইয়া

সভার কার্যবিবরণী এবং সমাধান


১। অধিবেশন কমিটির সভা আহ্বানের জন্য এবং সভার প্রতিটি সদস্য একজন অপরজনের সাথে যোগাযোগের জন্য ম্যানচেস্টারের জনাব মতিন একজন আহ্বায়ক নির্বাচনের প্রস্তাব দেন।

শেখ আব্দুল মান্নান এবং এ.এম.তরফদার কনভেনশন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে যৌথভাবে জনাব আজিজুল হক ভুঁইয়ার নাম প্রস্তাব করেন এবং জনাব গাউস খান, এ.মতিন, আরব আলি, ও জনাব ভুঁইয়া এই প্রস্তাবে সমর্থন দেন।

অধিবেশন কমিটির নামে এবং যৌথ আহ্বায়কের অধীনে নিজ নিজ ইউনিট এবং অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী প্রেরণ করতে হবে।
১ম আলোচ্যসূচি উত্থাপন

১।সকল বাঙ্গালির কাছে গ্রহণযোগ্য করার জন্য যৌক্তিক কোন পন্থা বের করা( ইউ.কে কনভেনশন)
উপরোক্ত আলোচ্যসূচি তে প্রতিটি শহরে একটি পরিষদের অধীনে সকল প্রতিষ্ঠান সমন্বয় করার বিষয়ে সভার সকলে একমত পোষন করেন।একটি শহরের মধ্যে যদি কোনপ্রকার অমিল বা মতানৈক্য হয় তবে কমিটিগুলোকে একত্রিত করার জন্য কমিটি তার সকল ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যাবহার করবে।

(স্বাক্ষরিত)গাউস খান                                                                                                   এ.মতিন                                                                                                  শেখ আব্দুল মান্নান                                                                                                   এ.এইচ.ভুঁইয়া                                                                                                  এ.এম.তরফদার                                                                                                   আরব আলি

২য় আলোচ্যসূচি
ভবিষ্যতে কিসের ভিত্তিতে কাউন্সিলে(গঠিত হবে) প্রতিনিধিত্ব করা হবে তা নির্ধারণ করা।

জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্বের ব্যাপারে সকলে একমত হন।গ্রহণযোগ্য আনুমানিক জনসংখ্যার তথ্যের ভিত্তিতে নিম্নোক্ত ভাবেঃ
সাউথ ইংল্যান্ড                                 ৩০.০০()
মিডল্যান্ডস                                   ২৫,০০০

ল্যাঙ্কশায়ার                                    ৯,০০০
ইয়র্কশায়ার                                     ৫,০০০
স্কটল্যান্ড.ওয়ালেস
ইষ্ট এংলিয়া                                     ৩,০০০

ছাত্র,নারী এবং
ডাক্তার                                       ৭২,০০০
(স্বাক্ষরিত)শেখ আব্দুল মান্নান

এ.মতিন

এ.এইচ.ভুঁইয়া

আরব আলি
এ.এম.তরফদার
গাউস খান ।

৩য় আলোচ্যসূচি

উত্থাপন-ভবিষ্যতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অবকাঠামো নির্ধারণ এবং যারা এ ব্যাপারে একমত তাদের সংখ্যা নিম্নরূপঃ
সবমিলিয়ে ২১৬ পারিষদের বিবরণ উপস্থাপন করা হল-
সাউথ ইংল্যান্ড                                 ৯০
মিডল্যান্ডস                                   ৭৫

ল্যাঙ্কশায়ার                                     ২৭
ইয়র্কশায়ার                                     ১৭
স্কটল্যান্ড                                       ৩
কার্ডিফ                                       ২
ইষ্ট এংলিয়া                                    

২১৬

এবং
নির্বাহী কমিটির সদস্য-
সাউথ ইংল্যান্ড                                 ১০
মিডল্যান্ডস                                       ৯

ল্যাঙ্কশায়ার                                      ৫
ইয়র্কশায়ার                                      

২৭
এবং
পারিষদদের মধ্যে হতে তিনজন ট্রাস্টি নির্বাচন

 

(স্বাক্ষরিত)গাউস খান

এ.এইচ.ভুঁইয়া

আরব আলি

শেখ আব্দুল মান্নান
এ.মতিন                                                                                          এ.এম.তরফদার।
 

 

<৪, ৫৯, ১০৯>

অনুবাদকঃ সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক

       শিরোনাম          সূত্র        তারিখ
৫৯। ২৪শে আগস্ট অনুষ্ঠিত কনভেনশন কমিটির সভার কারযবিবরণী ও প্রস্তাবসমূহ এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ২৪ আগস্ট, ১৯৭১

 

অধিবেশন কমিটির দ্বিতীয় মিটিং অনুষ্ঠিত হয় ২৪শে আগস্ট, ১৯৭১ গোরিং স্ট্রিটে।

জনাব গাউস খানের পৃষ্ঠপোষকতায় যেদিন খসড়া সংবিধান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিলো, সেদিন আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন জনাব এন ইসলাম এবং অন্য একজন আইনজীবী। এ দু’জন আইনী উপদেষ্টা ভোটাধিকার ছাড়াই সংবিধানিক আলোচনায় অংশ নিতে পেরেছিলেন।

এবং এও একমত যে, সংবিধানের খসড়া কপি মের্সাস. এ মতিন, এ এইচ ভুঁইয়া, এ এম তরফদার এবং গাউস খান জমা দিয়েছিলেন এবং তাঁদের বিবেচনায় অধিবেশন কমিটির সদস্যদের মধ্যে তা প্রচারিত হয়েছিল।

ইহা একমত যে, খসড়া সংবিধান আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো সোমবার, ৩০শে আগস্ট, ১৯৭১ বিকেল ৩ টায়, গোরিং স্ট্রিট, লন্ডন ই. সি. ৩-তে।

(স্বাক্ষরিত)

এ. এইচ. ভুঁইয়া

এ. মতিন

শেখ আব্দুল মান্নান

আরব আলী

এ. তরফদার

<৪, ৬০, ১১০-১১১>

অনুবাদকঃ সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক

শিরোনাম        সূত্র    তারিখ
৬০। ৩০শে আগস্ট অনুষ্ঠিত কনভেনশন কমিটির সভার প্রস্তাবসমূহ এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ৩০ আগস্ট,১৯৭১

 

অধিবেশন কমিটির তৃতীয় মিটিং অনুষ্ঠিত হয় সোমবার, ৩০শে        আগস্ট, ১৯৭১, গোরিং স্ট্রিট, লন্ডন ই. সি. ৩-তে

১. কোন ধরণের ভোটাধিকার ছাড়াই জনাব নূরুল ইসলাম এবং জনাব পাশাকে সংবিধান কাঠামোবদ্ধ করার জন্য উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

পরবর্তীকালে যখন সংবিধান কাঠামোবদ্ধ করা হয়, তখন একজন আইনী উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ করা হয়, সংবিধানের বৈধ দিকগুলো সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ করার জন্য। আইনী উপদেষ্টার সুপারিশসমূহ কমিটির সদস্য কর্তৃক বিবেচনায় রাখা হয়।

২. সংবিধানের ৩য় অনুচ্ছেদ।

“ট্রাস্টিবৃন্দ”

ধারা ১. পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত ছয়জন ট্রাস্টিজের সমন্বয়ে “বাংলাদেশ ফান্ড” গঠিত হবে। বর্তমান নির্বাচিত তিনজন ট্রাস্টির পাশাপাশি পরিষদ কর্তৃক আরও তিনজন ট্রাস্টি নির্বাচিত হবে। ফান্ড থেকে টাকা তুলে নেবার ক্ষেত্রে ন্যূনতম চারটি স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে। নির্বাহী কমিটির আলোচনার পূর্বে কোন টাকা উঠিয়ে নেয়া যাবে না।

ধারা ২. বাংলাদেশ সরকারের শর্তাধীন সুপারিশক্রমে অথবা যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ প্রতিনিধির সুপারিশক্রমে ট্রাস্টিগণ দ্রুত টাকা উঠাতে পারবেন – শুধুমাত্র এ ক্ষেত্রেই উপরোক্ত অনুচ্ছেদের ব্যতিক্রম হবে।

৩. অনুচ্ছেদ ৪

ট্রাস্টিগণ সরাসরি পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত হবে। তাদেরকে কাউন্সিলের পূর্ববর্তী – অফিস সদস্য হতে হবে এবং ভোটাধিকার ছাড়া নিরবাহী কমিটির সদস্য হতে হবে এবং কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় কমিটির হতে পারবে না।

৪. অনুচ্ছেদ ৫. কেন্দ্রীয় পরিষদ।

কেন্দ্রীয় পরিষদ গঠিত হবে নিম্নোক্ত প্রদেশগুলোর কমিটির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে। প্রদেশসমূহ :

১. দক্ষিণ ইংল্যান্ড, ২. মিডল্যান্ডস, ৩. ল্যাঙ্কাশায়ার, ৪. ইয়র্কশায়ার এবং সংলগ্ন দেশসমূহ।

সকল শহর এবং গ্রামে প্রতিনিধিদের কোটা হবে সাধারণ, মূলত জনসংখ্যার ভিত্তিতে।

কেন্দ্রীয় পরিষদ প্রতি তিনমাসে অন্তত একবার বসবে।

পরবর্তী মিটিং

কমিটির পরবর্তী মিটিং অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার, ৩য় সেপ্টেম্বর, বিকেল ৫টায়।

(স্বাক্ষরিত) এ. মতিন

এ. এইচ. ভুঁইয়া

নুরুল ইসলাম

শেখ আব্দুল মান্নান

এ. এম.তরফদার

গাউস খান

এ. পাশা

আরব আলী

<৪, ৬১, ১১২>

অনুবাদকঃ সৈয়দা ইসরাত জাহান কনক

     শিরোনাম        সূত্র      তারিখ
৬১। স্টিয়ারিং কমিটির ব্যাংক একাউন্ট খোলার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আহ্বায়কের প্রতি বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সম্পাদকের চিঠি এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ৩১ আগষ্ট, ১৯৭১

 

এটিএমজেডসি/এনইসি                                     ৩১শে আগস্ট, ১৯৭১

এ. এইচ. ভুঁইয়া, আইনজীবী

আহ্বায়ক,

অ্যাকশন কমিটির পরিচালনা কমিটি,

যুক্তরাজ্যস্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার,

১১, গোরিং স্ট্রিট

লন্ডন, ই. সি. ৩.

জনাব ভুঁইয়া,

১৯শে আগস্ট, ১৯৭১ -এ আপনার পত্রের জন্য ধন্যবাদ। বাংলাদেশ ফান্ডের জন্য হ্যামব্রস ব্যাংক লিমিটেড-এ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট ছাড়াও ন্যাশনাল ওয়েস্টমিনিস্টার ব্যাংক লিমিটেড-এও নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেছেন বলে ধারণা করছি। এ ধরণের একটি অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য, ন্যাশনাল ওয়েস্টমিনিস্টার ব্যাংকে যে কপিটি ফরওয়ার্ড করা হয়েছে তার একটি বিকল্প কপি আমার প্রয়োজন। তাছাড়াও, আমি জানতে চাই, এটি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কিনা, অথবা এটি আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত কিনা। সকল ট্রাস্টিগণের এ ধরণের অ্যাকাউন্ট সম্পর্কেও জানতে চাই। সম্প্রতি পর্যবেক্ষণ করেছি যে, আহ্বায়ক কমিটির অন্যান্য ব্যাংকে নিজস্ব একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে এবং আমি সে অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত জানতে চাই এবং যে সকল অনুবন্ধ ও স্বাক্ষর জমা দেয়া হয়েছে, সে বিষয়েও জানতে আগ্রহী। এইসূত্রে, আমি উল্লেখ করতে পারি যে, জনাব আবু সাঈদ চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি এবং যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশের হাই কমিশনার-এর সভাপতিত্বে, ১১, গোরিং স্ট্রীট, ৮ই মে, ১৯৭১, বিভিন্ন কমিটির মিটিংয়ে উল্লেখিত যে, আহ্বায়ক কমিটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অনুমোদিত নয়।

এ অ্যাকাউন্টের সাথে সম্পর্কযুক্ত বিস্তারিত সবকিছুই জানতে চাই।

আপনার উত্তরপ্রার্থী।

আন্তরিকভাবে অনুগত,

এ. টি. এম. জাফারুল্লাহ চৌধুরী

সাধারণ সম্পাদক,

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন।

সি. সি. জনাব আবু সাঈদ চৌধুরী,

যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশের বিশেষ প্রতিনিধি ও হাই কমিশনার।

 

 

 

<৪, ৬২, ১১৩-১১৪>

অনুবাদকঃ জিহাদ

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৬২। বৃটেনে প্রবাসী বাঙ্গালীদের আন্দোলন ও সংগঠন সম্পর্কে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বক্তব্য এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ৩১ অক্টোবর, ১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি

 

১১ গোরিং স্ট্রিট

লন্ডন ইসি৩

টেলিফোন: ০১-২৩৮ ৫৫২৬/ ৩৬২৩

জয় বাংলা

 

প্রবাসী বাঙালি ভাইবোনদের প্রতি

বিচারপতি চৌধুরীর আবেদন

 

 

প্রবাসী সংগ্রামী বাঙালি ভাইবোনেরা,

আসসালামু আলায়কুম

আপনারা যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন তার জন্য আমি গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও আমার নিজের পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের পবিত্র মাটি থেকে শেষ পশ্চিম পাকিস্তানি বর্বর সৈন্যটি নিশ্চিহ্ন না হবে ততদিন পর্যন্ত আপনারা অটুট মনোবল নিয়ে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অকুন্ঠ সমর্থন ও সক্রিয় সহযোগিতা করে যাবেন।

 

যে কোন সংগ্রামেই প্রয়োজন বলিষ্ঠ সংগঠনের। গত ২৪শে এপ্রিল কভেণ্ট্রিতে অনুষ্ঠিত বাঙালি প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতিনিধিবর্গের সম্মেলনে যে স্টিয়ারিং কমিটি গঠিত হয়েছিল, তা এতদিন পর্যন্ত বিলাত প্রবাসী বাঙালি ভাইবোনদের স্বাধীনতা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠন হিসেবে কাজ করে এসেছে। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি ও স্টিয়ারিং কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে আমি এতদিন চেষ্টা করে এসেছি দেশের সংগে যোগাযোগ রক্ষা করে বিদেশে আমাদের আন্দোলনকে ঐক্যবদ্ধ ও জোরদার করে তুলতে। খোদার ফজলে আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতায় এই আন্দোলন সাফল্যের দিকে এগিয়ে গিয়েছে বলে বাংলাদেশ সরকার এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

 

নির্বাচনে অনেক সময় দলাদলি বা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। সেই কারণে আমি মনে করেছিলাম যে কাজের ভিতর দিয়ে সংগ্রামী ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হওয়ার পর কেন্দ্রীয় অ্যাকশন কাউন্সিলের নির্বাচন হলে ভালো হয়। তাই আমি সুগঠিত আন্দোলন গড়ে উঠবার পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপদেশ দেই। নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে স্টিয়ারিং কমিটির বিশেষ উদ্বিগ্নতা সত্ত্বেও তাঁরা আমার উপদেশ অনুযায়ী এতদিন নির্বাচন থেকে বিরত থাকেন।

 

বর্তমানে আমি অনুভব করছি যে, আন্দোলনের খাতিরে এখানকার কেন্দ্রীয় সংগঠনকে আরো বলিষ্ঠ করা প্রয়োজন। প্রথমত মাত্র কয়েকজন লোকের পক্ষে এতবড় আন্দোলনের গুরুদায়িত্ব পালন করে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন। দ্বিতীয়তঃ যত বেশি লোক আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করবেন আন্দোলন ততই জোরদার হবে বলে আমার বিশ্বাস। তাই পুরোপুরিভাবে গণভিত্তিক ও প্রতিনিধিত্বমূলক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় অ্যাকশন কাউন্সিল গঠন করা খুবই দরকার। অতএব আমার উপদেশ অনুযায়ী স্টিয়ারিং কমিটি একটি CONVENTION বা সম্মেলন আহ্বানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য CONVENTION COMMITTEE গঠন করেছেন। CONVENTION COMMITTEE এ পর্যন্ত তিনটি বৈঠকে মিলিত হয়ে এই কাজে অনেক দূরে এগিয়ে গিয়েছেন। আমি আশা করছি সম্মেলন শীঘ্রই ডাকা হবে। এই সম্মেলনকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য আপনারা সূষ্ঠভাবে ও শৃংখলার সাথে এই ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন বলে আমি বিশ্বাস রাখি।

 

আমরা এক জীবনমরণ যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছি এবং খোদার ফজলে যুদ্ধক্ষেত্র হতে খুবই উৎসাহজনক খবর আসছে। এই সময় একতা বজায় রাখা খুবই প্রয়োজন। এই ঐক্য কোনরকম ফাটল ধরলে শুধু আমাদের সংগ্রামের ক্ষতিই হবে না, তা পশ্চিম পাকিস্তানি শত্রুদের সপক্ষে এক বিরাট হাতিয়ার। তাই আপনাদের কাছে আমার বিনীত আরজ এই যে, দেশ ও দশের খাতিরে আপনারা এতদিন পর্যন্ত যে একটা নজায় রেখে এসেছেন তা অক্ষুণ্ন রাখবেন। জয় বাংলা।

আপনাদের খাদেম

(আবু সাঈদ চৌধুরী)

৩১/৮/৭১

 

 

 

<৪, ৬৩, ১১৫>

অনুবাদকঃ আফসানা আহমেদ রিয়া

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৬৩। ৩রা সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কনভেনশন কমিটির সভার প্রস্তাবসমূহ এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ৩রা সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

১৯৭১ এর ৩ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার লন্ডনের গোরিং স্ট্রিট এ কনভেনশন কমিটির ৪র্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

কেন্দ্রীয় পরিষদ, অঞ্চলের সমস্ত কমিটির পক্ষ থেকে ২১৭ জন প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত হবে কেন্দ্রীয় পরিষদ।

 

অনুচ্ছেদ ৫ এর ধারাবাহিকতা:

 

 

পরিষদের কার্যাদি: জরুরি মুহূর্তে কার্যনির্বাহী কমিটি কর্তৃক গৃহীত তড়িত সিদ্ধান্তসমূহ ব্যতীত প্রতিষ্ঠানের অন্য সকল নীতির ব্যপারে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় পরিষদ। কার্যনির্বাহী কমিটির সাথে আলোচনার ভিত্তিতে আহবায়ক কর্তৃক পরিষদের মিটিং আহ্বান করা হবে। আর্থিক বিষয়াদি এবং কার্যনির্বাহী কমিটির কার্যকলাপ সংবলিত রিপোর্ট প্রতি তিন মাস অন্তর পরিষদের কাছে দাখিল করতে হবে। পঞ্চাশজন কাউন্সিলর তাদের যৌথ স্বাক্ষরের ভিত্তিতে পরিষদের বিশেষ প্রয়োজনে সভা ডাকতে পারবেন।

স্বাক্ষরসমূহ

 

 

 

অনুচ্ছেদ ৬ – কার্যনিবাহী কমিটির কার্যাদি:

গোপন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলরদের দ্বারা নির্বাচিত এবং কাউন্সিলরদের মধ্য থেকেই এগার জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হবে কার্যনির্বাহী কমিটি।

 

অনুবাদকঃ তন্দ্রা বিশ্বাস

<৪, ৬৪, ১১৬>

শিরোনাম

 

সূত্র

তারিখ
৬৪। আসন্ন কভেনশনে সরাসরি প্রতিনিধিত্ব চেয়ে ষ্টিয়ারিং কমিটিকে লেখা আইলিংটন কমিটি সম্পাদকের চিঠি এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১০সেপ্টেম্বর,১৯৭১

বাংলাদেশের জন্য আইলিংটন কমিটি
(১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত)
১৮৯. ক্যালেডোনিয়ান রোড, লন্ডন, এন ১
টেলিফোনঃ ০১-৮৩৭ ১৪৮০

তারিখঃ ১০ সেপ্টেম্বর,১৯৭১
পরিচালনা পরিষদ,
১১,গোরিং স্ট্রিট
লন্ডন,ই.সি.২.

জনাব,
আসন্ন অধিবেশনে প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে আমাদের মত প্রকাশ করে আমরা লিখছি। আমরা মনে করি যে অধিবেশনে কোন পরিচায়ক সংস্থা ছাড়াই সকল স্থানীয় দলকে সরাসরি প্রতিনিধিত্ব করতে দেয়া উচিত।

যেহেতু আমাদের দল এ যাবৎকালে স্বাধীন সত্তা হিসেবে ছিল, সেহেতু অধিবেশন আয়োজনের যেকোন অগ্রগতিতে আমাদেরকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করছি।

অভিবাদন এবং আশু জবাব প্রত্যাশী।

আন্তরিকতার সাথে
ই. রহমান
জি.এস.

 

 

 

 

<৪, ৬৫, ১১৭-১১৮>

অনুবাদকঃ তন্দ্রা বিশ্বাস

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৬৫। সাউথল বাংলাদেশ সংগ্রাম পরিষদের সভার প্রস্তাব ও গঠিত কমিটির বিবরণ এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১১ সেপ্টেম্বর,১৯৭১

প্রথম অধিবেশন


সাউথল
সময়-বিকাল ৪টা
তারিখ-১১।৯।৭১ ইং

অদ্য বিকাল ৪ ঘটিকার সময় গ্রেটার লন্ডনস্থ সাউথলে স্থানীয় বাঙালিদের উদ্যোগে এক সাধারণ সভা আহূত হয়। উক্ত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সাউথল বাংলাদেশ সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।

প্রকাশ থাকে যে, উক্ত সংগ্রাম পরিষদ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে জয়যুক্ত করিবার জন্য যাবতীয় দায়িত্বপূর্ণ কাজ করিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হইলেন।

 

উক্ত সংগ্রাম পরিষদ সর্বদাই গ্রেট বৃটেনস্থ বাংলাদেশ সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি এবং বাংলাদেশ মিশনের সংগে যোগাযোগ সহকারে কাজ করিবেন বলিয়াও প্রস্তাব গৃহীত হয়।

সাউথল বাংলাদেশ সংগ্রাম পরিষদ


ওয়ার্কিং কমিটি


১।মিঃ আব্দুসসালাম চৌধুরী                                          চেয়ারম্যান
২। ” আকবর আলী                                     ভাইস চেয়ারম্যান
৩। ” সাদিক আলী                                                    ঐ
৪। ” এম,ইউ, আহসান                                            সেক্রেটারি
৫। ” গজনফর আলী                              অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি
৬। ” চাঁন মিয়া                                                            ঐ
৭। ” সাজ্জাদুর রহমান                                            ট্রেজারার
৮। ” প্রতাব আলী                                      অ্যাসিট্যান্ট ট্রেজারার
৯। ” নূর হোসেন                                           অরগানাইজিং সেক্রেটারি
১০। ” আবুল হোসেন                     অ্যাসিস্ট্যান্ট অরগানাইজিং সেক্রেটারি                                                                                                                                   ১১। ” আব্দুল আউয়াল                                                  ঐ

সাধারণ সদস্যগণ

১।মিঃসাহিদআলী
২।” সূর্যলালবেঘী
৩। ” এম, বকসচৌধুরী
৪। ” তাহিরউল্যা

৫।মিঃমাহমুদআলী

৬। ”আরজুমিয়া

৭। ” মোহনলাল

৮। ” মতিলাল
৯। মিঃ আনা                             ১৬।মিঃ আব্দুল বারী
১০। ” মকবুল আলী                            ১৭। ” আব্দুল খালেক
১১। ” বি, এস, হাওলাদার                   ১৮। ” আব্দুল হান্নান
১২। ” গোলাম মর্ত্তুজা                       ১৯। ” আব্দুর রকিব
১৩। ” জৈন উল্যা                         ২০। ” আব্দুল মতিন
১৪। ” ওয়ারিশ উল্যা                     ২১। ” হাজী আফতাব আলী
১৫। ” তৈয়াব আলী                           ২২। ” কনু মিয়া

এম. ইউ. আহসান
১১-৯-৭১
সেক্রেটারী
বাংলাদেশ সংগ্রাম পরিষদ
সাউথল, মিডলসেক্স

________________

<৪,৬৬,১১৯-১২০>

অনুবাদকঃ তন্দ্রা বিশ্বাস

     শিরোনাম সূত্র তারিখ
৬৬। বাংলাদেশ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সরকার এবং জাতিসংঘে চাপ সৃষ্টির আহবান সংক্রান্ত বিভিন্ন লবির কাছে লিখিত চিঠি ইউনাইটেড এ্যাকশন বাংলাদেশ সেপ্টেম্বর,১৯৭১

 


ইউনাইটেড এ্যাকশন–বাংলাদেশ
৯১
. কমার্শিয়াল রোড,লন্ডন,ই. ১.

পরিচালনা পরিষদের জন্য অনুলিপি

—————————-
—————————-
—————————-

জনাব,
আপনার অবগতির জন্য ইয়াহিয়া খানের সাম্প্রতিক প্রেস সাক্ষাৎকারটি যা ১ সেপ্টেম্বর “লা ফিগারো’তে এবং পরবর্তীতে ২ সেপ্টেম্বর ‘হিন্দুস্তান স্ট্যান্ডার্ড’ এ প্রকাশিত হয়েছিল, তা এখানে লিপিবদ্ধ করার জন্য আমরা স্বাধীন মতামত প্রকাশের আশ্রয় গ্রহণ করছি।

তার সৈনিকদের হত্যা করার দায়ে তিনি সুস্পষ্টত গণহত্যার অনুমতি দিচ্ছেন এবং ভয়ংকর একটি ভুল করতে বদ্ধপরিকর হয়েছেন দশ লাখের বেশি মানুশ খুন হয়েছে, নব্বই লাখের বেশি সন্ত্রস্ত বাঙালি সীমান্ত পার করেছে, বাংলাদেশের সাড়ে ছয় কোটিরও বেশি বাঙালি দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হয়েছে, কিছু জেলায় অনাহারের সূচনা হয়েছে, গৃহযুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছে, ইয়াহিয়া এক রাজনৈতিক কানাগলির সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং তার কাছে দুইটি পথ খোলা আছে, হয় বাংলাদেশে বিশৃংখলা তৈরি নতুবা ভারতের সাথে যুদ্ধ।

সারা বিশ্বকে ইয়াহিয়া খানের কৈফিয়ত দিতে হবে কোথায় সাড়ে সাত কোটি বাঙালির নির্বাচিত শেখ মুজিব? ইয়াহিয়া পাঁচজন সেনাধ্যক্ষ নিযুক্ত সেনাবাহিনীর শাসন পরিচালনাকারী পরিষদের মুখপাত্র তিনি কারো প্রতিনিধিত্ব করেন না। তিনি যেখানে আছেন তা বেয়োনেট এবং বুলেটের ব্যবহার দ্বারা হয়েছেন।

শেখ মুজিব কে বিচারাধীন করে তিনি বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের স্বাধীনভাবে প্রকাশিত ইচ্ছাকে বিচারাধীন করেছেন কেউ ইয়াহিয়া খান অথবা তার প্রজ্ঞাপন কৌশল আর বিশ্বাস করে না। শেখ জীবিত এবং ভাল আছে শুধু এটুকু বললেই হবে না। আমরা জানতে চাই উনি কোথায় আছেন। শেখ এর একমাত্র অপরাধ হল তিনি একটি নির্বাচন জিতেছেন।

বাঁচার জন্য পালিয়ে যাওয়া নব্বই লাখ মানুষকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। ভারতের সাথে যুদ্ধ শুরু করে বিশ্ব মনোযোগ বিমুখ করার অধিকার ইয়াহিয়ার নেই। শরণার্থীদের সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য ভারতকে অবশ্যই বিশ্বের সাহায্য করা দরকার। সাম্প্রতিক সময়ে “দি টাইমস” বলেছে, পূর্ব পাকিস্তানে যা ঘটছে তা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে না।

জনাব, আমরা আপনাকে বাংলাদেশের সংকটাবস্থা এবং বিষয়াদি বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি অনুগ্রহপূর্বক আপনার সরকার এবং জাতিসংঘের উপর চাপ প্রয়োগ করুন। বাংলাদেশকে অবশ্যই এই অবিবেচক শাসকের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে বাঙালিরা ইয়াহিয়া খান ও তার পাঞ্জাবিদের সহকর্মী হয়ে থাকতে চায় না

আপনার অনুগত,

১। এম. এ. সামাদ খান
২। আর. ইউ. আহমেদ
৩। এ. এইচ. জোয়ার্দ্দার
৪। এ. মতলিব
৫। ………….
৬। মোঃ আবদুর রব

   ইউনাইটেড এ্যাকশন বাংলাদেশের জন্য

<৪,৬৭,১২১>

অনুবাদকঃ তন্দ্রা বিশ্বাস

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৬৭বাংলাদেশ তহবিলের সাহায্যার্থে প্রদর্শিত চ্যারিটি শোর বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ পিপলস সোসাইটি ইন গ্রেট বৃটেনের প্রচারপত্র ১১ সেপ্টেম্বর,১৯৭১

বাংলাদেশ তহবিলের সাহায্যার্থে চ্যারিটি শো

এক টিকিটে দুটি প্রখ্যাত বাংলা ছায়াছবি।
আগামী রবিবার লা কন্টিনেন্টাল সিনেমা হলে প্রদর্শিত হবে

বেলা ১২টায় শুরু

সূর্যান
অভিনয়েঃ আনোয়ার, নাসিমা খান, আনোয়ারা, রওশন আরা, কাজী খালেক।

পরবর্তী ছবি

দুই বাড়ি
অভিনয়েঃ জহুর গাঙ্গুলি, পাহাড়ী সান্যাল, রেনুকা, অনুপ, অনিল ও ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়

কাউন্টারেও টিকিট বিক্রি হবে

_______________________________________________________________________________
বাংলাদেশ পিপলস সোসাইটি ইন গ্রেটার লন্ডন কর্তৃক আয়োজিত।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিল : চতুর্থখন্ড

<৪,৬৮,১২২>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৬৮। কনভেনশানে সরাসরি প্রতিনিধিত্বের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ রিলিফ কমিটির সম্পাদকের চিঠি এ্যাকশান কমিটির দলিলপত্র ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

আহ্বায়ক,

অ্যাকশন কমিটির পরিচালনা কমিটি

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষে

১১, গোরিং স্ট্রিট,

 

লন্ডন, ইসি৩

 

জনাব,

আমাদের নজরে এসেছে যে সম্ভাব্য সমগ্র যুক্তরাজ্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজেদের অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যে তথাকথিত লন্ডন কমিটি দাবি করছে যে লন্ডন ও নিকটবর্তী এলাকাগুলোর সকল বর্তমান কমিটি এর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি তাদের সকলের প্রতিনিধিত্ব করে।

আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রকাশের উদ্দেশ্যে আমরা অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করবো এবং পরামর্শ জানাবো যে, এই কমিটি তথাকথিত লন্ডন কমিটির অন্তর্ভুক্ত নয় এবং উক্ত কমিটি আমাদের প্রতিনিধিত্ব করেনা। তেমন কোনো দাবি হবে সম্পূর্ণ মনগড়া, ভিত্তিহীন এবং অসাংগঠনিক।

যাইহোক, এ কমিটি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরবিচ্ছিন্ন সমাবেশ এবং বাংলাদেশের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদী জনসমর্থন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনায় সমমনা কমিটিগুলোর আন্দোলনে ‘ইউনাইটেড অ্যাকশন বাংলাদেশ’-এ অংশগ্রহণ করছে।

 

নিবেদক
আপনার বিশ্বস্ত

মো. আবদুস সামাদ খান

সাধারণ সম্পাদক

বাংলাদেশ ত্রাণ কমিটি

 

তারিখ:
১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
<৪,৬৯,২৩>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৬৯। আসন্ন কনভেনশন সম্পর্কে নর্থ এ্যান্ড নর্থ-ওয়েস্ট লন্ডন শাখা এ্যাকশন কমিটির সভাপতি কর্তৃক বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে লেখা চিঠি এ্যাকশান কমিটির দলিলপত্র ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭১

 

বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাকশন কমিটি

(উত্তর উত্তরপশ্চিম লন্ডন)
৩৩ ডাগমার রোড, লন্ডনএন ২২

টেলি. ৮৮৯-৪৪৭৪

 

 

বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে।
জনাব,

যুক্তরাজ্যে বাঙালি জনসাধারণের মধ্যে বিতরণকৃত আপনার ‘আবেদন’ আমি অত্যন্ত প্রশংসার সাথে পড়েছি। ইতোপূর্বে জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের বিপক্ষে পরিচালনা কমিটির কাছে আপনার পরামর্শের পেছনে উপস্থাপিত কারণগুলো অত্যন্ত অর্থবহ ও প্রশংসনীয়।

১০ এপ্রিল আমরা একটি স্থানীয় কমিটি গঠন করেছি এবং তখন থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আপনার ‘আবেদন’ এবং পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের ‘আবেদন’ থেকে জানতে পেরেছি যে, শীঘ্রই জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে, জাতীয় সম্মেলনে যাতে প্রতিটি কার্যকরী অ্যাকশন কমিটি সঠিক এবং সরাসরি প্রতিনিধিত্ব পায় মহামান্যের কাছে তার আবেদন জানাই। তথাকথিত প্রাদেশিক কমিটিগুলোর স্ব স্ব অঞ্চলে কাউন্সিলর নির্বাচনের মতো অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত আমাদের দৃষ্টিতে আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্রের মতোই ঘৃণ্য। আমাদের আন্দোলনের দৃঢ়তায় আমরা বিশ্বাস করি এবং আমাদের স্বাধীনতার আন্দোলনে গড়ে ওঠা সংগঠনে সরাসরি অংশগ্রহণের অধিকার আমাদের আছে।

সম্ভবত আপনার দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে, একদল ব্যক্তির ধারণা শুধুমাত্র তাদের সমর্থন ও অর্থে বাংলাদেশ স্বাধীন করা সম্ভব। তারা স্বাধীনতার আন্দোলনকে গতিশীল করার পরিবর্তে দলীয় রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত রয়েছে। আমার মতে, উক্ত ব্যক্তিবর্গ আন্দোলনে সহযোগিতার নামে বরং বৃহত্তম ক্ষতি সাধন করছে। এ সকল ব্যক্তির উদ্দেশ্যে জনসমক্ষে নিন্দা জানাতে  আপনার কাছে আবেদন জানাই এবং আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আপনি যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী সর্বস্তরের মানুষের অসাধারণ সমর্থন পাবেন।

আমি এছাড়াও জানতে পেরেছি যে, চারটি প্রাদেশিক কমিটির মধ্যে দুটিই বাংলাদেশ তহবিলে তাদের সংগ্রহ জমা করছেনা। কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই জনগণের অর্থ আটকে রাখা এ সকল ব্যক্তি সম্পর্কে জনগণকে জানিয়ে দেওয়ার আবেদন থাকবে আপনার কাছে। আমরা কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই আপনাকে পথপরিদর্শক ও নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছি। সফলতার পথে আপনার নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপের আমরা আবারও আন্তরিক সমর্থনের অংগীকার জানাই। ধন্যবাদ। জয়বাংলা।

 

আপনার বিশ্বস্ত,
(এস এম আইয়ুব)
সভাপতি।

 

 

<৪,৭০,১২৫>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৭০। ওলন্দাজ এম.পি-দের ভারত সফরের ব্যাপারে ল্যাংকাশায়াস্থ বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশনের তৎপরতা এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭১

 

 

 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন

ল্যাংকাশায়ার এবং সংলগ্ন প্রদেশসমূহ

 

এ. মতিন                                          অ্যাসোসিয়েশন-এর সংশ্লিষ্ট ইউনিটসমূহ:

চেয়ারম্যান                                        এ্যাক্রিংটন, ব্ল্যাকবার্ন, বার্নলি, চেস্টার

লতিফ আহমেদ                                     হসলিংডেন এবং রটেন্সটেল, লিভারপুল,

সাধারণ সম্পাদক                                        মোসলে, ম্যানচেস্টার এবং সংলগ্ন

শহরসমূহ, ওল্ডহ্যাম রকডেল, সেন্ট

হেলেনস, স্টোক-অন-ট্রেন্ট, টডমর্ডার্ন।

 

 

৩৩৬, স্টকপোর্টরোড,

ম্যানচেস্টার১৩।

টেলি.০৬১-২৭৩৩৪২২
তারিখ:২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭১
রেফারেন্স …

 

বিচারপতি জনাব এ. এস. চৌধুরী,

১১, গোরিং স্ট্রিট,

লন্ডন।

 

মহামান্য বিচারপতি জনাব চৌধুরী,

এ বার্তার উদ্দেশ্য ডাচ এমপিদের প্রস্তাবিত ভারতভ্রমণ প্রসংগে আপনাকে জানানো। আপনার নির্দেশনা অনুসারে আমরা টিকেটের (ফেরত) ব্যবস্থা করেছি, কে এল এম এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ফ্লাইটের সময় এবং তারিখ মহামান্য এমপিদের জানিয়ে দিয়েছি প্রভৃতি। কে এল এম থেকে প্রেরিত সর্বশেষ বার্তায় জানা গেছে যাত্রীরা (এমপিবৃন্দ) ৩০ আগস্ট ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

ভারতে তাঁদের মিশনের সফলতার ব্যাপারে আমাদের কাছে আর কোনো তথ্য নেই। যদি আপনার কাছে এ সম্পর্কিত কোন তথ্য থাকে তবে অনুগ্রহ করে আমাদের জানাবেন।

 

যথাযোগ্য সম্মানপূর্বক,
জহিরুল এইচ চৌধুরী

চেয়ারম্যান-এর পক্ষে

 

 

<৪,৭১,১২৬>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৭১। ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কনভেনশন সভার কার্যবিবরণী ও প্রস্তাবসমূহ এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭১

 

২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ এ অনুষ্ঠিত সম্মেলনের অগ্রগতি প্রসংগে।

 

অনুচ্ছেদ : নির্বাহী কমিটি

কাউন্সিলের সরাসরি নির্বাচিত ১১ সদস্য নিয়ে নির্বাহী কমিটি গঠিত হবে। তারা ‘কাউন্সিল’ এর সদস্য হবেন। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাহী কমিটি নির্বাচনের সাতদিনের মধ্যেই প্রথম সভায় কমিটি নিজেদের মধ্য থেকে আহ্বায়ক নির্বাচন করবে। নির্বাচিত আহ্বায়কের নাম নির্বাহী কমিটির প্রথম সভার চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে। নির্বাহী কমিটির নির্দেশনা অনুসারে আহ্বায়ক দায়িত্ব পালন করবেন।

 

কার্যাবলী

নির্বাহী কমিটির হাতে কাউন্সিলের নির্ধারিত  সাধারণ নীতি-কাঠামোর মধ্যে প্রাত্যহিক কর্মকান্ড ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকবে। এছাড়াও নির্বাহী কমিটি অন্যান্য সাহিত্য, প্যাম্ফলেট, বই প্রভৃতি প্রকাশ করবে। এটি সমগ্র যুক্তরাজ্যের ভিত্তিতে সাধারণ সভা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করবে। জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে সহায়ক যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নির্বাহী কমিটি নির্দিষ্ট কার্যাবলীর উপর ভিত্তি করে সাবকমিটি গঠন করবে এবং সাবকমিটির সদস্যবৃন্দ নন-কাউন্সিলর হতে পারবেন।

 

অনুচ্ছেদ : অংগীভূত অঞ্চল এবং কেন্দ্রের মধ্যে সম্পর্ক

অংগীভূত অঞ্চলগুলো কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অথবা নির্বাহী কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী সহযোগী হবে।অংগীভূত কমিটিগুলো সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বা নির্বাহী কমিটির কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে কোনো সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেনা। অঞ্চলগুলো কেন্দ্রীয় অফিসে সকল প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান করবে। নির্বাহী কমিটি কেন্দ্রীয় সকল নীতিমূলক সিদ্ধান্ত মাইমোগ্রাফিক সার্কুলারের মাধ্যমে প্রত্যেক অঞ্চলে পৌঁছে দেবেন। নির্বাহী কমিটির *অজ্ঞাতে* জাতীয় নীতি বা বাংলাদেশ সরকার বা এর মিশন বা যেকোনো সরকারী অথবা অন্যান্য যেকোনো সংগঠনের যেকোনো ব্যাপারে অংগীভূত কমিটিগুলোর নির্দেশনার অধিকার থাকবেনা। নির্বাহী কমিটি এবং যেকোনো (ইউনিট) কমিটির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে তার একটি কপি আঞ্চলিক কমিটিতে পাঠানো হবে।

কোনো অঞ্চলের অংগীভূত সংস্থাগুলোর মধ্যে বিবাদের ক্ষেত্রে তা আঞ্চলিক কমিটির অধীনে সমর্পিত হবে। আঞ্চলিক কমিটির সিদ্ধান্তের বিপক্ষে নির্বাহী কমিটির কাছে যেকোনো পক্ষই আপীল জানাতে পারবে। নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত যদি কোনো পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয় তবে তা কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের হাতে সমর্পিত হবে। কাউন্সিলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

কোনো অংগীভূত সংস্থা এবং তার আঞ্চলিক কমিটির মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে তা নির্বাহী কমিটির হাতে অর্পিত হবে। যদি নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত কোনো পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে বিষয়টি কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের হাতে অর্পিত হবে। কাউন্সিলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

 

অনুচ্ছেদ : শৃংখলাতান্ত্রিক পদক্ষেপ:

যেকোন অফিসনির্বাহী, সদস্য বা সংস্থার বিরুদ্ধে শৃংখলাতান্ত্রিক পদক্ষেপ আহ্বায়কের মাধ্যমে নির্বাহী কমিটির বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা যাবে।নির্বাহী কমিটি ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। উক্ত অফিসনির্বাহী, সদস্য বা সংস্থা চৌদ্দ দিনের মধ্যে আহ্বায়কের মাধ্যমে কাউন্সিলের কাছে নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে, যা পরবর্তীতে ৩০ দিনের মধ্যেই কাউন্সিলের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

অনুচ্ছেদ : কোরাম:

নির্বাহী কমিটির সাতজন এবং কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের ৯৫ জন সদস্য নিয়ে তাদের স্ব স্ব কোরাম গঠিত হবে।

অনুচ্ছেদ ১০

সংবিধানে যেকোন সংশোধনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের অর্ধেকের বেশি সদস্যের প্রয়োজন হবে।

 

অনুচ্ছেদ ১১

নোটিশ: নির্বাহী কমিটির সভার জন্য কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা কেন্দ্রীয় কমিটির সাতদিনের স্পষ্ট নোটিশ দেওয়া হবে।

 

অনুচ্ছেদ ১২

প্রধান উপদেষ্টা: যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনই কেন্দ্রীয় অ্যাকশন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হবেন।

 

অনুচ্ছেদ এর ধারাবাহিকতা

কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই পরপর নির্বাহী কমিটির তিনটি সভায় অনুপস্থিত যেকোন সদস্যই তার সদস্যপদ হারাবেন। কেন্দ্রীয় কমিটির পরবর্তী সভায় এই শূন্য পদ পূরণ করা হবে।

 

 

স্বাক্ষরসমূহ –

<৪,৭২,১২৮>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৭২। বাংলাদেশ গণ-সংস্কৃতি সংসদের সভার বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ গণ-সংস্কৃতি সংসদের দলিলপত্র ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

বাংলাদেশ গণসংস্কৃতি সংসদ

BANGLADESH PEOPLE’S CULTURAL SOCIETY

৫৯, সিমোর হাউজ

ট্যাভিস্টক প্লেস

লন্ডন ডাব্লিউ সি ১

ফোন: ৮৩৭-৪৫৪২

সেপ্টেম্বর২৮, ১৯৭১.

প্রিয়সুধী,

বাংলাদেশ গণ-সংস্কৃতি সংসদের নির্বাহী কমিটির একটি সভা ১ অক্টোবর, ১৯৭১ শুক্রবার স্টেপনি ইনস্টিটিউট, মিরডল স্ট্রিট (গ্র্যান্ড প্ল্যাইস হলের বিপরীতে) কমার্শিয়াল রোড, লন্ডনই১ (টিউব: হোয়াইটচ্যাপেল)-এ সন্ধ্যা ৭ টায় অনুষ্ঠিত হবে।

আপনার উপস্থিতি একান্ত কাম্য।

 

আলোচ্যসূচি:

১) গত সভার উল্লেখযোগ্য মুহূর্তগুলো।

২) ম্যানচেস্টার ভ্রমণের প্রস্তুতি।

৩) বিদ্যালয়ভিত্তিক রচনা প্রতিযোগিতা।

৪) সংবিধান।

৫) অ্যাকাউন্টসমূহ।

৬) অন্য যেকোনো বিষয়।

ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্ভাষণের সাথে

আপনার গুণমুগ্ধ,

মুন্নি রহমান(মিসেস)

সম্পাদক

<৪,৭৩,১২৯>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৭৩। বিচারপতি চৌধুরীর প্রতিবৃটিশ লেবার পার্টির চিঠি অ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ২৯সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

দ্যা লেবার পার্টি

ট্রান্সপোর্ট হাউজ স্মিথ স্কয়ার লন্ডন এসডাব্লিউ১

টেলিফোন: ০১-৮৩৪৯৪৩৪

টেলিগ্রাম: ল্যাব্রেপকমসো ওয়েস্ট লন্ডন

সাধারণ সম্পাদক: এইচ আর নিকোলাস ওবে

অবৈতনিক কোষাধ্যক্ষ: অবসরপ্রাপ্ত এল জে ক্যালাহ্যান এমপি

সহকারী সাধারণ সম্পাদক: জে জি মরগ্যান

রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি: আর জি হেওয়ার্ড

 

টিআর/ইই

বিচারপতি জনাব চৌধুরী                                       ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

বাংলাদেশ অফিস

১১ গোরিং স্ট্রীট, লন্ডন, ইসিথ্রি

 

বৃটিশ ওভারসীজ সোশ্যালিস্ট ফেলোশিপ

 

সম্মানিত সুধী,

এ বার্তার উদ্দেশ্য, বৃটিশ ওভারসীজ সোশ্যালিস্ট ফেলোশিপ এবং জনাব পিটার শোর দ্বারা যৌথভাবে আয়োজিত ৫ই অক্টোবর মঙ্গলবার বিকাল ৫.১৫-এ ব্রাইটন লেবার ক্লাব, লেউইস রোড, ব্রাইটন-এ বাংলাদেশ বিষয়ক সভায় বক্তব্য রাখতে এ সংগঠনের ভাইস-চেয়ারম্যান জনাব দালজিত সেহবাই-এর সাথে টেলিফোনে আপনার দেয়া সমাধানটি নিশ্চিত করা। আমি বুঝতে পারছি যে, আপনি লেবার পার্টি সম্মেলন পর্যবেক্ষণ করতে আগ্রহী এবং আপনার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে ৩, ৪ ও ৫ অক্টোবর তিন রাতের জন্য বেডফোর্ড হোটেল, কিংস রোড, ব্রাইটন-এ।

বৃটিশ ওভারসীজ সোশ্যালিস্ট ফেলোশিপ প্রতিষ্ঠিত হয় লেবার পার্টি- এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির মাধ্যমে, লেবার পার্টির সদস্যবৃন্দ এবং বৃটেনে অধিবাসী কমিউনিটিগুলোর মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ়তর করার প্রাথমিক উদ্দেশ্য নিয়ে, যা বর্তমানে লেবার পার্টি সদস্যদের বৈদেশিক বিষয়াদি সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করায় বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করছে। এই ফেলোশিপের চেয়ারম্যান হলেন জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং শ্রমিক সরকারের একজন সদস্য মিস জোয়ানলেস্টর, এমপি।

আমি আপনার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার ব্রাইটনে থাকবো।

 

আপনার বিশ্বস্ত

টম রিডাউট

সম্পাদক

<৪,৭৪,১৩০-১৩২>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৭৪। নেদারল্যান্ডের দৈনিক ‘DE TIJD’-এ প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিস্থিতির উপর নিবন্ধের অনুবাদ সংবলিত ‘ফ্যাকট শীট-১৮’ বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের বুলেটিন ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।

 

বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গ্রেট বৃটেন

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ

 

৩৫ গ্যামেজ বিল্ডিং

১২০ হলবর্নলন্ডনইসি১

ফোন০১৪০৫৫১৭

তারিখ: ৩০.৯.৭১

ঘটনার বিবরণ১৮

নিচে অ্যামস্টারড্যাম এর দে টাইড(নেদারল্যান্ডস-এ সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক)- এ ১৪ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখে প্রকাশিত একটি কলামের অনুবাদ প্রকাশিত হলো।

 

আন্তরিক শ্রদ্ধা?

আইরি কুইপার

 

 

দে টাইড, অ্যামস্টারড্যাম

শিরোনাম: আন্তরিক শ্রদ্ধা(মন্তব্যে আইরি কুইপার)

কলাম: বিভিন্ন সময়ে।

১৪-৯-৭১

“পাকিস্তান দূতাবাস রাজতান্ত্রিক ডাচ সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং দে টাইড ,অ্যামস্টারড্যাম-এ এপ্রিল ২২, ১৯৭১ ‘বিভিন্ন সময়ে’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধটি মন্ত্রণালয়ের নজরে আনতে পেরেছেন। এই নিবন্ধটি পূর্ব পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেয় এবং আর্টিকেলটির লেখক পাক রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে সবচেয়ে দুর্বিনীত, অবমাননাকর এবং মানহানিকর ভাষা ব্যবহার করেছেন। এবং তিনি পাক সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণার বীজ বপন করেছেন। নেদারল্যান্ডসের মতো একটি দেশ যার সাথে পাকিস্তান বন্ধুত্বপূর্ণ ও সুখী সম্পর্ক বজায় রাখে, তাতে এমন একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হতে পারে, এ ব্যাপারে পাক দূতাবাস ‘আহত ও ব্যথিত’। পাক দূতাবাস এই কলামের প্রকাশনার বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং আশা করছে যে এই বিষয়ে মন্ত্রণালয় ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবেন।

“পাক দূতাবাস রাজতান্ত্রিক ডাচ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে এর সুসম্পর্ক নিশ্চিত করতে এই সুযোগ লুফে নিচ্ছে।”

পাক দূতাবাস পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে কয়েক মাস আগে এই চিঠিটি পাঠিয়েছে। মাননীয় রাষ্ট্রদূত “কেউ যদি তা ব্যাখ্যা করতে পারেন” শিরোনামে আমার লেখা একটি নিবন্ধে রুষ্ট হয়েছিলেন।

আমার শেষ বক্তব্য ছিলো: “ভবিষ্যত যদি গৌরবান্বিতও হয়, শান্তি, সুখ ও ন্যায়বিচারে পরিপূর্ণ হয় বিশ্ব, তারপরও তা পূর্ব পাকিস্তান, বায়াফ্রা এবং ভিয়েতনামের জনগণের কোনোই কাজে আসবেনা। তারা কেবল একবারই বাঁচবে এবং কেন তাদের এভাবে ভুগতে হবে তা কেউই তাদের কাছে ব্যাখ্যা করতে পারবেনা।”

এ অংশটি অবশ্যই রাষ্ট্রদূতের ক্রোধের কারণ নয়। তিনি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন; কিন্তু সত্যি বলতে, তা মোটেই আমার উদ্দেশ্য ছিলো না। লেখাটিকে কেবল তখনই খারাপ বলা যেত, যদি তিনি তাতে সন্তুষ্ট হতেন।

বিশেষত পাক রাষ্ট্রপতি জেনারেল ইয়াহিয়া খান সম্পর্কে আমি যা লিখেছিলাম, মহামান্য রাষ্ট্রদূত তাতেই ক্ষুব্ধ। নিজের লেখার উদ্ধৃতি দেওয়া অসারত্বের পরিচায়ক, কিন্তু এবার আমার সপক্ষে একটি ভালো যুক্তি আছে। আমি লিখেছিলাম: “ইয়াহিয়া সেই ব্যাক্তি যে পূর্ব পাকিস্তানিদের অবদমিত রাখতে তার সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তাকে একজন খলনায়ক হিসেবেই বিবেচনা করে থাকি, একজন বিশৃঙ্খল অপরাধী যাকে গ্রেফতার করা উচিত, যাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করা উচিত, অথবা অন্ততপক্ষে পাগলাগারদে রাখা উচিত, কারণ তিনি উম্মাদ হয়ে থাকতে পারেন, তা নাহলে তিনি এমন নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিতে পারতেন না: হাজার হাজার, লাখ লাখ স্বদেশী জনগণের ওপর ঠান্ডা মাথায় খুনো মনোবৃত্তি নিয়ে আক্রমণ চালানো, রাষ্ট্রপতি হিসেবে যাদেরকে কিনা তার রক্ষা করার কথা! প্রকৃতপক্ষেই, এমন একজন মানুষ অবশ্যই অপরাধী।”

এছাড়াও আমি সানডে টাইমস-এর একজন সাংবাদিককে উদ্ধৃত করেছিলাম, যার মতে ইয়াহিয়া বাস্তবিকই এই ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন যে, যেকোনো মূল্যে পাক একতা রক্ষা করা তার দায়িত্ব। আমি লিখেছিলাম: “তিনি অনুধাবনই করতে পারছেন না যে তিনি কোনো অপরাধে অপরাধী। ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে থেকেও তিনি ক্ষমতার ব্যবহার সম্বন্ধে অবগত নন”। এবং: “বিশ্বের বর্তমান অরাজক পরিস্থিতির কারণেই তা সম্ভব হচ্ছে।“

এরই মধ্যে আমরা পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে বহু কিছু জানতে পেরেছি। আমি ২২ এপ্রিল যা ভেবেছিলাম, পরিস্থিতি তার চেয়েও অনেক খারাপ। শরণার্থীর সংখ্যা আনুমানিকভাবে প্রায় আশি লাখ, বা এক কোটি। শত শত মানুষ প্রত্যক্ষদর্শী; পাক রাষ্ট্রপতি পূর্ব পাক জনগণের প্রতি কেমন আচরণ করেছে, তা তারা বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছে।

আমেরিকান সাপ্তাহিক নিউজউইক “পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা” শিরোনামে পাক রাষ্ট্রপতির কর্মকান্ড বিষয়ে এক বিশাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মলাটে ছিলো রুগ্ন এক পূর্ব পাকিস্তানি শিশু, পিতৃমাতৃহীন, ভুখা-নিরন্ন, নিরাশ (আমরা কেনো বেঁচে থাকি, যদি আমরা শিশুদের ভোগান্তির শিকার হতে দেই?)- কিন্তু মহামান্য রাষ্ট্রদূত বিন্দুমাত্র মাথা ঘামান না এ ব্যাপারে। তিনি শুধু চান ডাচ সরকার “যথাযথ ব্যবস্থা” নিক, চান না পূর্ব পাকিস্তানি শিশুদের দুর্দশার কবল থেকে বাঁচাতে, চান শুধু এই নষ্ট পৃথিবীর অগণিত মানুষের অনুভূতি: ক্রোধ ও হতাশা প্রকাশে একজন সাংবাদিককে বাধা দিতে, কারণ এ সব আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে অথচ আমরা কিছুই করতে পারছি না।

 

একটি কাজই শুধু আমাদের করার আছে, তা হলো বিশ্ববিবেক, ৩০০ কোটি মানুষের বিবেককে নাড়া দেওয়া, যতক্ষণ না পর্যন্ত বিশ্ববিবেক এতোটা দৃঢ় ও অদম্য হয়ে উঠবে যে তা ইয়াহিয়া খানের মতো অযোগ্য রাজনীতিবিদদের কর্মকাণ্ড থামাতে সফল হবে। কিন্তু তারপরও: “এসব মানুষ শুধু একবারই বাঁচবে, এবং কেনো তাদের এমন ভোগান্তির শিকার হতে হবে তা কেউই তাদের কাছে ব্যাখ্যা করতে পারবেনা।”

যদি পাকিস্তান সরকার হেগ-এ তাদের দূতাবাসের প্রতিনিধিত্বে আমাকে অভিযুক্ত করতে চায়, একই সাথে তাদের অভিযুক্ত করতে হবে নিউজউইক (উদাহরণ হিসেবে বলছি), নিউ ইয়র্ক টাইমস-কেও, যারা ১ আগস্ট ইয়াহিয়ার “অমানবিক নীতি” এবং “নিয়মতান্ত্রিক গণহত্যা, ধর্ষণ এবং হিন্দুদের ভারতে নির্বাসন” নিয়ে লিখেছে।

এছাড়াও তাদের অভিযুক্ত করতে হবে সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি-কে, যিনি ১৬ আগস্ট নয়াদিল্লীতে ঘোষণা করেছেন যে পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা চালাচ্ছে। এবং বিশ্ব চার্চ কাউন্সিল-কে, যারা ভারতে শরণার্থীদের প্রত্যক্ষ করেছে এবং নিশ্চিত করেছে যে পাক বাহিনী “সবচেয়ে ভয়াবহ নির্দয়তা” সংঘটন করেছে।

কিন্তু নিম্নসাক্ষরিত এবং দে টাইড-কে সম্ভবত অভিযুক্ত করা হবে না। অ্যামস্টারড্যামে পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয় একজন পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে চিঠিটি পাঠিয়ে দিয়েছে। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সিআইডি-কে নির্দেশ দিয়েছেন। আমি সিআইডি অফিসারদের তাদের প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছি যে, নিবন্ধে আমার মতামত “পাক রাষ্ট্রপতির প্রতি অপমান নয়, বরং তার নীতির একটি সংজ্ঞায়িত সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ।”

এ ঘটনা ঘটেছে ছয় সপ্তাহ আগে এবং তখন থেকে আমি তাদের কাছ থেকে আর কোনো খবর পাইনি।

কেসটি সম্ভবত তুলে রাখা হয়েছে। দু;খের বিষয়, কারণ আমি বিচারকের কাছে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছিলাম যে, পাক দূতাবাস পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে, এছাড়াও আমি “আহত ও ব্যথিত” এ ব্যাপারে যে, এমন নির্লজ্জ অপমানজনক ও মানহানিকর নীতি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি অনুসরণ করতে পারেন, যার সাথে নেদাল্যান্ডস এমন বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সুখী সম্পর্ক বজায় রাখে।

আমি এছাড়াও বলতে চেয়েছিলাম যে, রাষ্ট্রপতি খান আমার সবচাইতে প্রাথমিক মানবিক অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন, যে তিনি পাক সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণার বীজ বপন করছেন। তার নীতির বিরুদ্ধে আমি দৃঢ় প্রতিবাদ জানাতাম এবং এই আশা ব্যক্ত করতাম যে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

কিন্তু আমি হয়তো তাতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সাথে আমার সুসম্পর্ক নবায়নের সুযোগ হারাতাম।”

 

 

<৪,৭৫,১৩৩-১৩৪>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৭৫। মুক্তিযুদ্ধের ছয় মাসঃ বাংলাদেশের অব্যাহত স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর একটি সমীক্ষা বাংলাদেশ স্টুডেন্ট এ্যাকশন কমিটি, গ্রেট বৃটেন। সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।

 

ছয় মাসের স্বাধীনতা আন্দোলন

বাংলাদেশের বিস্তৃত নদনদী অযথাই রক্তরঞ্জিত হয়নি!

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হানাদার অধ্যুষিত বাংলাদেশে যে রক্ত ঝরিয়েছে তা কিউসেকে মাপা সম্ভব। মেঘনা ও পদ্মায় বহমান প্লাবনের মতোই এই রক্তস্রোত বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশবে, বাংলার চিরসবুজ মাটিতে মিশে যাবে। ব-দ্বীপ বাংলাদেশের মাটি হাজার হাজার শহীদের রক্তে সমৃদ্ধ হয়ে আবার হেসে উঠবে, যখন হানাদার বাহিনী বিতাড়িত হবে।

এরই মধ্যে স্মরণীয় একটি উপলক্ষ্য হচ্ছে আজ ২৬ সেপ্টেম্বর। ২৫ মার্চের সেই কালোরাতের পর ছয়মাস গত হয়েছে, যখন ইয়াহিয়া তার অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীকে নিরস্ত্র বাঙালির হত্যাযজ্ঞে লেলিয়ে দেয়। নিশ্চিতভাবে এই ছয়টি মাস বাংলাদেশের প্রতিরোধ সংগ্রামে একটি যতিচিহ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়।

তারপরও, স্মৃতি চিরন্তন! এই ছয় মাসে ইতিহাস দেখেছে বর্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ আর নারী-শিশুর প্রতি নারকীয় অত্যাচার ও অনাচার – যার উদ্ভব বিকারগ্রস্ত মানসিকতার বিকৃত দুঃস্বপ্নে। এবং তা মানব সভ্যতার ইতিহাসে নজিরবিহীন, মধ্যযুগে মধ্য এশীয় বর্বরেরা যারা এশিয়া এবং ইউরোপের মাটিতে ভয়াবহতা নিয়ে নেমে এসেছিলো!

বাংলাদেশে ইয়াহিয়ার পোষা নেকড়েদের এই অনাচার ইতিহাসের পাতায় সাধারণ মানুষের উপর সংঘটিত সশস্ত্র বাহিনীর অত্যাচারের নিকৃষ্টতম উদাহরণ হিসেবে স্থান পাবে।

অস্বাভাবিক এই একশ আশিটি দিন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষায় পরিপূর্ণ।
শত্রুপক্ষের জ্ঞাত উদ্দেশ্যগুলো এবং তার অনাচারের ফলাফলের একটি সমীক্ষা থেকে তা উদ্ভুত। তার একটি উদ্দেশ্য ধরা যাক। ‘ঢাকার কসাই’ জেনারেল টিক্কা খান পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমিয়ে আনার মরণপণ লক্ষ্য নিয়ে তার গণহত্যামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করেছিলেন।

তার অনাচারের কারণে সংঘটিত জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের আপাত সাফল্য নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট হতেই পারেন: প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর রক্তলালসায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণ দিয়েছে; ৯০ লাখ স্ব-অবস্থায় ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে যেখানে শরণার্থী শিবিরে মহামারী এবং অপুষ্টি তাদের সংখ্যায় কমিয়ে আনছে; এবং আরো কয়েক মিলিয়ন উদ্বাস্তু মানুষ বাংলাদেশের মধ্যে ভাসমান অবস্থায় ইয়াহিয়ার বর্বর বাহিনীর হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

ইয়াহিয়া বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে দুর্ভিক্ষের আগমন, যার জন্যে ইসলামাবাদ জান্তা গভীর আগ্রহে অপেক্ষমান। এ অনিবার্য দুর্ভিক্ষ, যার পথ পাকিস্তান গড়ে দিয়েছে শস্যের ধ্বংসসাধন এবং চাষিদের ক্ষেত থেকে উৎখাতের মাধ্যমে, তা যে শুধু বাংলাদেশের আরো একটি অংশ ধ্বংস করবে তাই নয়, বরং বুভুক্ষু মানুষকে খাবারের বিনিময়ে হানাদার বাহিনীর হাতে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করবে।

বাঙালির জনসংখ্যা কমিয়ে আনার এতোসব গণহত্যামূলক চক্রান্ত তবেই অর্থবহ হতো, যদি বাংলাদেশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত থাকতো। কিন্তু, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাথে সাথে বাঙালি জনসাধারণের বিরুদ্ধে হানাদার বাহিনীর এ নীলনকশা শুধুই ঘৃণ্য অনাচার, যার সফলতা ইহুদি সমস্যার বিরুদ্ধে হিটলারের ‘চূড়ান্ত সমাধান’ – এর চাইতেও কম!

আরো একটি শিক্ষা হলো যে, দ্রুততার সাথে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় ও সশস্ত্র বাহিনীকে সংঘবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। গত মে – এর কালো সপ্তাহগুলোর দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, প্রাথমিক ধাক্কার পরপরই বিধ্বস্ত বাংলাদেশের মধ্য থেকে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি রাযে রাষ্ট্রীয় কলাকৌশল সৃষ্টি ও একটি কার্যকরী স্বাধীনতা বাহিনী গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন তা সত্যিই অসাধারণ। স্বাধীনতা বাহিনীর নতুন অর্জনগুলো বিস্তারিত বর্ণনার প্রয়োজন নেই এখানে। হানাদারদের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধের শক্তি এবং মুক্তিবাহিনীর সাফল্যগুলো প্রায় প্রতিদিনই নিরপেক্ষ পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

আন্তর্জাতিকভাবে, বাংলাদেশ ‘গ্রেট পাওয়ার গেইম’ – এর শিকার হিসেবেই রয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় জনসমর্থনের ভিত্তিতে উদ্ভুত নতুন একটি রাষ্ট্রকে বরণ করে নেয়ায় অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর স্বাভাবিক অনাগ্রহ ছাড়াও অদ্ভুতভাবে পাকিস্তানে আমেরিকা ও চীনের মিলিত স্বার্থ কুচক্রীজান্তাকে ইসলামাবাদেক্ষমতায় রেখেছে, যা একে বাংলাদেশে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার উদ্যম সরবরাহ করছে। ৯০ লক্ষ শরণার্থীর চাপে জর্জরিত ভারত ঘটনা প্রবাহে এই অপেক্ষা ও আশায় আছে যে মুক্তিবাহিনীর সশস্ত্র প্রচেষ্টা ইয়াহিয়া বাহিনীকে বাংলাদেশ থেকে পিছু হটতে বাধ্য করবে এবং শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব করবে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন দর্শকের ভূমিকায় অপেক্ষমান, নব উদ্ভুত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের টিকে থাকার সম্ভাবনা যাচাই করছে।

এমন আন্তর্জাতিক অবস্থার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ব্যাপক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আসবে। তারপরও, এমন একটি দূরবর্তী ঔপনিবেশিক যুদ্ধচালিয়ে যাওয়ায় ইসলামাবাদের সক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেখাটা ভুল হবে। পাকিস্তান আমেরিকা নয়।

যেখানে বাংলাদেশের জনগণের দুঃখদুর্দশা এরই মধ্যে হয়তো ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে গেছে, কিন্তু বাংলাদেশে যুদ্ধহয়তো ভিয়েতনাম যুদ্ধের বর্তমান অবস্থার মতো ততোটা লম্বা সময় নিয়ে চলবে না।

বাংলাদেশের দেশপ্রেমীদের তাই গভীর প্রত্যাশার সাথে নিকট ভবিষ্যত দেখা দরকার।

বাংলাদেশ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত

যুক্তরাজ্য

৩৫, গ্যামেজেস বিল্ডিং, ১২৯ হলবোম, লন্ডন ইসি১। টেলি – ০১. ৪০৫ ৫৯১৭

লার্কুলার লিমিটেড কর্তৃক মুদ্রিত

 

<৪,৭৬,১৩৫>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৭৬। ১লা অক্টোবর অনুষ্ঠিত কনভেনশন কমিটির সভার প্রস্তাবসমূহ এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১ অক্টোবর, ১৯৭১।

 অক্টোবর১৯৭১অধিবেশন কমিটির সিদ্ধান্তসমূহ

(ক) এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, ১ অক্টোবর সংঘটিত ৭ম সভার ২নং সিদ্ধান্তের সাথে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কমিটিগুলোর কাছে অধিবেশন কমিটির পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হবে, যা অধিবেশন কমিটির ছয়জন সদস্যের পক্ষে আহ্বায়ক স্বাক্ষরিত করতে পারবেন।

(খ) এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, এই প্রক্রিয়ার দ্রুতকরণে বিচ্ছিন্ন কমিটিগুলোর আঞ্চলিক কমিটিগুলোর সাথে সহযোগিতার তাড়না দিয়ে সংবাদ পরিক্রমায় সার্কুলার দাখিল করা হবে।

(গ) এছাড়াও এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, সম্মেলনটি ৭ নভেম্বর, ১৯৭১ রবিবার সকাল ১০.৩০ এ অনুষ্ঠিত হবে।

২২ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন, অধিবেশন কমিটির সদস্যবৃন্দের সাথে বৈঠকে আমন্ত্রিত হবেন। নির্বাচন কমিশনের নির্বাচিত সদস্যবৃন্দ তাদের সদস্য হিসেবে নির্বাচনের ব্যাপারে অবহিত হবেন। এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, নির্বাচন কমিটি নিম্নোক্ত সদস্যবৃন্দ নিয়ে গঠিত হবে:

(১) ব্যারিস্টার আমিন,

(২) ব্যারিস্টার ফেরদৌস,

(৩) ডক্টর হারুন,

(৪) ডক্টর সিরাজউদ্দৌলা

(৫) জনাব গণেশচন্দ্র দে।

 

এছাড়াও আরো একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে,  আসন্ন নির্বাচনের রেফারেন্সের শর্তাবলী অধিবেশন কমিটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হবে।

কমিশন নিজেদের মধ্য থেকে একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবে। নির্বাহী কমিটি এবং বাংলাদেশ ফান্ডের তিনজন ট্রাস্টির নির্বাচন পরিচালনার সম্পূর্ন ক্ষমতা কমিশনের থাকবে।

 

<৪,৭৭,১৩৬>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৭৭। সংগৃহীত চাঁদার হিসাবসহ রশিদ বই ফেরতদানের জন্য স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়কের আহ্বান এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১ অক্টোবর, ১৯৭১।

যুক্তরাজ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য অ্যাকশন কমিটির নির্বাহী কমিটি

১১ গোরিং স্ট্রীট

লন্ডন ই সিথ্রি

টেলি: ০১-২৮৩৫৫২৬/৩৬২৩

 

জয় বাংলা  

জরুরী আবেদন

 

বাংলাদেশ ফান্ডে টাকা আদায়ের জন্য গ্রেট বৃটেনের জন্য যে সমস্ত শাখা কমিটি বা ব্যক্তি বাংলাদেশ স্টিয়ারিং কমিটি থেকে ছাপানো রশিদ বই নিয়েছেন তাদের সবাইকে অবিলম্বে চাঁদার হিসাবসহ সমস্ত বই স্টিয়ারিং কমিটি অফিসে ফেরত দিবার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রস্তুতি ও তৎপূর্বে হিসাবনিকাশ পরিষ্কার করার জন্যই রশিদ বইসমূহ এবং তার হিসাব ফেরত নেওয়া প্রয়োজন বিধায় স্টিয়ারিং কমিটির এক জরুরীসভা উক্ত সিদ্ধান্তগ্রহণ করেছেন।

এ ব্যাপারে স্টিয়ারিং কমিটি আপনাদের সর্বপ্রকার সহযোগিতা কামনা করছে।

 

আজিজুল হক ভুঞা

আহ্বায়ক

স্টিয়ারিং কমিটি

১লা অক্টোবর, ১৯৭১।

 

<৪,৭৮,১৩৭>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৭৮। বে’সওয়াটার শাখা এ্যাকশান কমিটির ২রা অক্টোবরের সভার প্রস্তাবাবলী বে’সওয়াটার এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ২ অক্টোবর, ১৯৭১।

 

গণপ্রজাতন্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অ্যাকশন কমিটির

বে ওয়াটার শাখালন্ডন ডাব্লিউ১১

গৃহীত সিদ্ধান্তের সারমর্ম

২রা অক্টোবর১৯৭১

 

অত্র ২ আগস্ট শনিবার ১০৩ লেডবারী রোডে বে’সওয়াটার শাখার কার্য সংসদ পরিষদের সভায় নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

১। রিজিওনাল কমিটির প্রতি এইবে’স ওয়াটার প্রতিষ্ঠানের কোনো আস্থা নাই। বে’স ওয়াটার শাখা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং স্টিয়ারিং কমিটি ব্যতীত অন্য কোন কমিটির অধীনস্থ নয়।

২। কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিকট ভবিষ্যতে যে প্রতিনিধি নেওয়া হইবে তা এই শাখা হইতে সরাসরি নেওয়ার জন্য দাবী করা হইতেছে।

৩। এই প্রতিষ্ঠান রিজিওনাল কমিটির মধ্যস্থতায় কোন প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠাইতে সম্পূর্ণ অসম্মত।

 

 

 

এমমোরশেদ

২-১০-৭১

সভাপতি, বে’সওয়াটার কমিটি।

<৪,৭৯,১৩৮>

অনুবাদকঃ ইফতি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৭৯। বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে প্রচারিত রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর বিবৃতি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ৭ অক্টোবর, ১৯৭১।

বাংলাদেশ প্রেস বিজ্ঞপ্তি

লন্ডন, অক্টো. ৮:- আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা এবং পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মরহুম জনাব এইচ এস সোহরাওয়ার্দীর একমাত্র পুত্র জনাব রাশেদ সোহরাওয়ার্দী ৭ অক্টোবর লন্ডন ১১ – এ এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা আন্দোলনে তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং আশা করেন যে, বীর মুক্তিযোদ্ধারা পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে পূর্ণ বিজয় ছিনিয়ে আনতে সফল হবে।

জনাব রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর বিবৃতির পূর্ণ ভাষ্য নিম্নরূপ:-

“যখনই আমি পশ্চিম পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা কমিটির ব্যাপারে জানতে পারি তখন বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি আমার সহমর্মিতা ও সম্পূর্ণ সমর্থনছিলো। রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতা না থাকার কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজের বিবৃতির প্রয়োজন বোধ করিনি, কিন্তু যেহেতু এটি স্পষ্ট যে, আমার শ্রদ্ধেয় পিতা, জনাব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতি আমার পরিবারের একজন সদস্য তাঁর বিবৃতির মাধ্যমে অলংকৃত করতে চাইছেন, সেহেতু আমার এ ব্যাপারে মুখ খোলা কর্তব্য বলে মনে হয়েছে।

আমি দৃঢ়কন্ঠে নির্দ্বিধায় বলতে চাই যে, আমি বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা আন্দোলনের সর্বোত্তর সফলতা কামনা করি। বিগত ২৪ বছর যাবত তারা পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক অর্থনৈতিক ভাবে নিগৃহীত ও রাজনৈতিকভাবে অবদমিত হয়ে আসছে এবং এখন তারা পশ্চিম পাকিস্তান সেনাবাহিনী পরিচালিত গণহত্যা ও অন্যান্য ঘৃণ্য অনাচারের বিরুদ্ধে অস্ত্রহাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে।

আমার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, বীর মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীর উৎখাতের মাধ্যমে পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জনে সফল হবে।

নিকট ভবিষ্যতে আমি একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে যেতে চাই, যেখানে সকল বিশ্বাস ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার মানুষ সুখ-সমৃদ্ধিতে বাস করবে।

এছাড়াও আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সম্ভাষণ জানাই, যার সদস্যবৃন্দ আমার পিতার সহকর্মী এবং অত্যন্ত স্নেহের পাত্র ছিলেন।”

(রাশেদ সোহরাওয়ার্দী)

৭ অক্টোবর, ১৯৭১)

প্রচার/প্রকাশ/সম্প্রচারের জন্য প্রেরিত। হাতে লেখা বিবৃতির ফটোকপি সংযুক্ত।

(মহিউদ্দিন এ চৌধুরী)

সংবাদ ও প্রচার বিভাগ

বাংলাদেশ মিশন।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ মিশনের সংবাদ ও প্রচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত, ২৪ পেমব্রিজ গার্ডেনস, লন্ডন

ডব্লিউ ২। ফোন – ২২৯০২৮১.২২৯ ৫৪৩৫।

 

<৪,৮০,১৩৯>

অনুবাদকঃ মাহীন বারী

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৮০। কনভেনশন উপলক্ষে সকল আঞ্চলিক এ্যাকশন কমিটিকে অবিলম্বে প্রতিনিধি নির্বাচন ও তা কনভেনশন কমিটিকে জানানোর জন্য আহ্বায়কের বিজ্ঞপ্তি এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ৮ অক্টোবর, ১৯৭১

 

সম্পাদক/সভাপতি

অ্যাকশন কমিটি

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্য (মিডল্যান্ড অঞ্চল)

৯৩, স্ট্র্যাটফোর্ড রোড

বারমিংহাম – ১১

৮ অক্টোবর, ১৯৭১

জনাব,

 

কনভেনশন কমিটি আনন্দের সাথে জানাচ্ছে যে, খসড়া সংবিধানের অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে এবং সকল কমিটি সহযোগে একটি অধিবেশন ডাকবার কার্যপ্রণালী ঘটিত বিষয়সমূহে সম্মতিও অর্জিত হয়েছে।

 

১ অক্টোবর ১৯৭১ তারিখে অধিবেশন কমিটির মিটিং এর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, সকল কমিটির যৌথ

পরামর্শের ভিত্তিতে প্রতিটি কমিটির প্রতিনিধি সংখ্যা বণ্টনের জন্য আঞ্চলিক কমিটিগুলোকে তাদের

নিজস্ব অঞ্চলে অতিশীঘ্র মিটিং করবার জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। বণ্টন নির্ধারিত হওয়া মাত্রই প্রতিটি

আঞ্চলিক কমিটিকে অবশ্যই তাদের নিজস্ব মিটিং ডাকতে হবে প্রতিনিধি/কাউন্সিলরদেরকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য এবং ২০ অক্টোবর ১৯৭১ তারিখের আগেই অধিবেশন কমিটির কাছে এক কপি এবং আঞ্চলিক কমিটির কাছে এক কপি নামের তালিকা পাঠাতে হবে।

 

৪টি অঞ্চলে এবং অন্যান্য ইউনিটে প্রতিনিধি বণ্টন নিচের ক্রমানুযায়ী করা হবেঃ

 

লন্ডন এবং দক্ষিণ                                               ৯০

 

মিডল্যান্ড                                                  ৭৫

 

ল্যাঙ্কাশায়ার                                                 ২৯

 

ইয়র্কশায়ার                                            ২০

 

ছাত্রছাত্রী                                                      ৮

 

মহিলা                                                     ৮

 

গ্লাসকো                                                           ৩

 

ওয়েলস                                                           ২

 

পূর্ব অ্যাংলিয়া                                                     ২

 

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন                          ৪

 

মোট                                                           ২৩৩

 

৭ নভেম্বর ১৯৭১ তারিখটি অধিবেশনের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক চূড়ান্ত

তারিখের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। অধিবেশন কমিটিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত খামবন্ধ করে নেবার জন্য

অনুরোধ করা হচ্ছে। কমিটির কোন বিষয়ে আরও জানার থাকলে অনুগ্রহ করে লিখতে অথবা টেলিফোন

করতে বলা হচ্ছে।

 

আহ্বায়ক

 

অধিবেশন কমিটি

 

কপি করুনঃ তথ্যের জন্য সকল অ্যাকশন কমিটি

 

<৪,৮১,১৪০-১৪১>

অনুবাদকঃ মাহীন বারী

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৮১। লন্ডনে ১১ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত কনভেনশন প্রশ্নে ভিন্নমতালম্বীদের সভার প্রস্তাবাবলী এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১১ অক্টোবর, ১৯৭১

 

এস এম আইয়ুবের সভাপতিত্বে ১১ই অক্টোবর লন্ডনে কনয়ে হলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সক্রিয় কর্মীদের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত সমুহঃ

 

১/ বাংলাদেশ একশন কমিটির আন্দোলনকারীদের এই সভা সুস্থ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আন্দোলনের বিষয়ে ওয়াকিবহাল। একশন কমিটির অধুনা প্রকাশিতব্য জাতীয় কনভেনশনে যে সকল বিষয়ে আলোচনা আহ্বান করা হচ্ছেঃ

 

ক) যথাযথ মূল্যায়নের সাথে কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্ত উল্লেখ করতে হবে; যদিও অ্যাকশন কমিটির

 

সংস্থানিক কাঠামো ও কার্যপ্রণালী ঠিক করতে অতিশয় দেরি হয়ে গেছে কিন্তু তারপরেও অ্যাকশন কমিটি

 

কার্যকরী কমিটিকে প্রস্তাব করছে পূর্ণ সমর্থনের যাতে করে যতটুকু পারা যায় অধিবেশনকে সফল করার

 

ব্যাপারে।

 

খ) আঞ্চলিক কমিটিতে পেশ করবার জন্য কনভেনশন কমিটির সিদ্ধান্ত সত্যায়িত করা।

 

২/ সেন্ট্রাল বডির গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবনার উপরে গুরুগম্ভীর আলোচনা যেকোনো উপায়ে মিটিং এ রাখা হবে । এরই সাথে এর গঠনপ্রণালী ও কার্যকরণ প্রক্রিয়া বিষয়েও আলোচনা করা হবে।

 

৩/ এই সভা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, অধিবেশনের যেকোনো সিদ্ধান্তে ভোট প্রদানের অধিকার কেবল

 

তাদেরই আছে যারা যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ কম্যুনিটিতে আছেন এবং যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে হয় অর্থ

 

সংক্রান্ত বিষয়ে নয়ত সরাসরি সংগঠিত হতে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের সংখ্যা এবং গঠন জনসংখ্যার

 

ঘনত্বকে প্রকাশ করতে পারে আবার নাও পারে। এরই প্রেক্ষিতে আমরা বলব যে, সকল অ্যাকশন কমিটিকে কমপক্ষে দু’জন প্রতিনিধিকে পাঠাবার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো যাচ্ছে। এর সাথে যুক্তরাজ্যে স্বাধীনতা আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সংশ্লিষ্টতা বিষয়ক দৃঢ় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আসবার জন্য বলা হয়েছে।

 

৪/ সভা মনে করে অ্যাকশন কমিটির কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে দু’টি ভাগে ভাগ করা প্রয়োজন। প্রথম ভাগ কেবল অ্যাকশন কমিটির গঠন সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো ধারণ করবে। এর জন্যে অধিবেশন কমিটিকে অবশ্যই অতিশীঘ্র গঠন সংক্রান্ত খসড়া অ্যাকশন কমিটিকে প্রদান এবং এ সম্পর্কে তাদের মতামত আহ্বান করতে হবে। আলোচনা অ্যাকশন কমিটির দলিল পত্র ১১ অক্টোবর ১৯৭১

ও সমালোচনার আলোকে গৃহীত মতামত কনভেনশন কমিটি গ্রহণ করবে যা তাদের চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুতকরণে সহায়তা করবে। চূড়ান্ত খসড়া অবশ্যই প্রথম অধিবেশনে যোগদানকারী অ্যাকশন কমিটির প্রতিনিধিদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে।

 

৫/ প্রস্তাবিত অ্যাকশন কমিটিগুলোর কেন্দ্রীয় সংস্থার গঠন গৃহীত হয়ে গেলে ডকুমেন্ট কালবিলম্ব না করে

প্রণীত হবে এবং সকল অ্যাকশন কমিটিকে গঠনপ্রণালী অনুযায়ী নিজেদেরকে পুনরসজ্জিত করবার জন্য বলা হবে। পুনর্গঠিত অ্যাকশন কমিটিগুলো তাদের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানাবে, যাতে করে জাতীয় অধিবেশন পর্যায়ে গঠনপ্রণালীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া যায়। এটি অ্যাকশন কমিটিগুলোর জন্য একটি কার্যকরী অনুষ্ঠান গ্রহণ করবে। এরই সাথে খ) অধিবেশন কর্তৃক গৃহীত অনুষ্ঠান ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের তাগিদে জাতীয় অধিবেশনে কর্মচারী ও পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে।

 

৬/ তদুপরি এই সভা মনে করে যে, বর্তমান অধিবেশন কমিটির নিকট জাতীয় অধিবেশন আয়োজনের ঝক্কি-ঝামেলা পোহাবার মতন যথেষ্ট উপযুক্ত মানব সম্পদ নেই। এই প্রেক্ষিতে অধিবেশন কমিটিকে ছাত্র,

ডাক্তার এবং মহিলাদের সমন্বয়ে গঠিত অ্যাকশন কমিটির সাথে সহযোগী হয়ে বিস্তার লাভ করতে বলা হচ্ছে। প্রয়োজনে কনভেনশন কমিটিকে বিশেষ বিশেষ কাজের জন্য উপ কমিটি গঠনের জন্যও বলা হচ্ছে।

 

৭/ এগুলোর পাশাপাশি সভা অ্যাকশন কমিটিগুলোর জাতীয় অধিবেশনের জন্য দশ সদস্য বিশিষ্ট আয়োজক কমিটি নিয়োগ দিয়েছে এবং সকল আঞ্চলিক কমিটিকে একই ধরনের উদ্যোগ কার্যকরী কমিটিকে প্রেরণ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। যাতে করে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ আন্দোলন একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক রূপ পায়, এজন্য আয়োজক কমিটির প্রতি সমর্থন ও পরিচর্যার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

 

 

অ্যাকশন কমিটিগুলোর জাতীয় অধিবেশন আয়োজনের নিমিত্তে আয়োজক কমিটির পক্ষে এস এম আইয়ুব কর্তৃক ইস্যুকৃত, ৩৩ ডাগমার রোড, লন্ডন এন ২২ (০১-৮৮৯—–৪৪৭৪)

 

<৪,৮২,১৪২-১৪৪>

অনুবাদকঃ সমীরণ কুমার বর্মন

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৮২। লন্ডনে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিক কমিটি গঠন সম্পর্কে প্রচারপত্র লন্ডন আওয়ামী লীগের ‘প্রচারপত্র-১’

অক্টোবর,১৯৭১

 

 

প্রচারপত্র

আওয়ামী লীগ লন্ডন

পূর্বের আকাশে সূর্য উঠেছে

আলোকে আলোকময়

জয় জয় জয় জয় বাংলার জয়।

পাকিস্তানের ইতিহাস হলো মোনাকেফী, বেঈমানী শাসক ও শোষক চক্রের ইতিহাস। জিন্নার সাধের পাকিস্তান পূর্ব বাংলার মানুষদের জন্য ছিল এক বিরাট ফাঁকি আর ফাঁকিস্তান। পূর্ব বাংলা পশ্চিম পাকিস্তানের উপনিবেশে রূপান্তরিত হয়েছে, আর এর সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার ও স্তূপীকৃত হয়েছে। শাসন ও সামরিক বিভাগে বাঙালিদের স্থান নেই। জাতীয় সম্পদ হতে বাঙালিরা বঞ্চিত হয়েছে সদাই। সমগ্র পাকিস্তানের মোট রাজস্বের শতকরা ৬২ ভাগ দেশরক্ষা করতে ব্যাহত হয়, শতকরা ৩২ ভাগ খরচ হয় ইসলামাবাদে কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনায়। মোট রাজস্বের শতকরা ৯৪ ভাগ বিভিন্ন নামে পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় হয়। মাত্র ৬ ভাগ পূর্ব বাংলার ভাগ্য জোটে। যদিও পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের আয়ের শতকরা ৬৪ ভাগ জোগায়। তাই পূর্ব বাংলার মানুষের পরিশ্রমের বুনিয়াদের উপর পশ্চিম পাকিস্তানের ইমারত গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের মানুষকে পায়ের তলায় দাবিয়ে রাখার জন্য পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী গত ২৩ বছর ধরে বাঙালি জনগণের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও ইসলাম বিরোধী জিগির-বাহানা প্রয়োগ করে আসছে। অতএব বাংলার মানুষ রাজনৈতিক ও স্বাধীকার নিয়ে বাঁচার দাবী উঠালো। শোষিত, নিপীড়িত ও বঞ্চিত পূর্ব বাংলার জনগণের মুক্তির জন্য অগ্রসর হলো আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ গত ২০ বছর ধরে বাংলার দাবী নিয়ে চরম লড়াই করে আসছে শাসক ও শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। পূর্ব বাংলার মানুষেরা পাকিস্তানে জনসংখ্যার অনুপাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ। গত ডিসেম্বরে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হলো। মহান নেতা শেখ মুজিব সমগ্র পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হলেন। পাঞ্জাবি শাসক, শোষকচক্র ও নররক্তপিপাসু পশুরাজ ইয়াহিয়া বাংলার দাবীকে বানচাল করে দেবার জন্য “ডাণ্ডা দিয়া ঠাণ্ডা করার খেয়ালে” ২৫শে মার্চ রাত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের বর্বর সৈন্য বাহিনী বাংলার মানুষের উপর লেলিয়ে দিলেন। বাংলার প্রিয় জননেতা শেখ মুজিবকে বন্দী করলেন। এসব নৃশংস ও নারকীয় কার্যকলাপের কাহিনী আপনাদের সবার জানা। বাংলাদেশকে কলোনিতে পরিণত করে রাখার জন্য অসূর ইয়াহিয়ার সৈন্যরা ১২ লক্ষ নিরস্ত্র নাগরিককে হত্যা করেছে। দলে দলে তরুণীদের গ্রেফতার করেছে। বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে আটক তরুণীদের একেবারে উলংগ অবস্থায় রেখে পাক পশুবাহিনী এক নারকীয় আনন্দ উপভগ করছে। শত শত তরুণীকে পশ্চিম পাকিস্তানে চালান দেওয়া হয়েছে। পূর্ব বাংলার আজ বড়ই দুর্দিন। অসহায় ছেলেমেয়ে ও লাঞ্ছিত নারীত্বের ক্রন্দনে বাংলার আকাশ বাতাস আজ ভারী। গরীব মানুষের লাখো লাখো ঘরবাড়ি জ্বালিয়েছে। তাই অসূর ইয়াহিয়ার সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ আজ রুখে দাঁড়িয়েছে। বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম চলছে। হানাদার পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক ফৌজের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ ‘মুক্তি বাহিনী’ গড়ে তুলেছে। সার্বভৌম ও প্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়েছে, বাংলার মাটিতে ‘মুজিবনগরে’। বাংলাদেশ এখন পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। আজ এই জাতীয় সংগ্রামে বাংলাদেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পাক শত্রুকে মরণ আঘাত হানতে হবে। ইনশা-আল্লাহ বাংলার জয় অনিবার্য।

___________________

জনাব সামাদের সভাপতিত্বে

লন্ডনে আওয়ামী লীগ কর্মী সম্মেলন

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ভ্রাম্যমাণ দূত এবং সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব আবদুস সামাদ এম_এন_এ ইংল্যান্ড সফরে এসেছিলেন। তিনি বার্মিংহাম, ব্রাডফোর্ড ও ম্যাঞ্চেস্টার প্রভৃতি শহরগুলিতে আওয়ামী লীগ কর্মী সম্মেলন ও বিভিন্ন সভা-সমিতিতে বক্তৃতা করেন। গত ১৩ই অক্টোবর আওয়ামী লীগ লন্ডন শাখার এক কর্মী সম্মেলন হয়। এই কর্মী সম্মেলনে লন্ডন আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী ও জোরদার করে গড়ে তোলার জন্য জনাব আবদুস সামাদ বিশেষ জোর দেন এবং সকলের পরামর্শ অনুযায়ী জনাব আমাদের সভাপতিত্বে নিম্নলিখিত কর্মীবৃন্দকে নিয়ে আওয়ামী লীগ লন্ডনের অস্থায়ী কমিটি গঠিত হয়।

সভাপতি         ঃ জনাব আলহাজ আবদুল মান্নান

১ম সহ সভাপতি   ঃ জনাব মিনহাজ উদ্দিন আহমদ

২য় সহ সভাপতি   ঃ জনাব ইসমাইল মিয়া

৩য় সহ সভাপতি   ঃ জনাব মোহাম্মদ ইসহাক

সাধারণ সম্পাদক   ঃ জনাব মোহাম্মদ আবুল বশর

সংগঠন সম্পাদক   ঃ জনাব সুলতান মোহম্মদ শরীফ

জন-সংযোগ সম্পাদক ঃ জনাব জিল্লুর হক

সামাজিক সম্পাদক   ঃ জনাব মিম্বর আলী

শ্রম সম্পাদক       ঃ জনাব শাহ সিরাজুল হক

বহিরাগত সম্পর্কীয় সম্পাদক ঃ জনাব আব্দুর রকিব

মহিলা সম্পাদিকা   ঃ বেগম হেলেন তালুকদার

দফতর সম্পাদক   ঃ জনাব এম,এ,হাকিম

কোষাধক্ষ্য       ঃ জনাব মজির উদ্দিন

সদস্যবৃন্দ       ঃ জনাব রমজান আলী, শফিকুর রহমান,এন ইউ আহমদ, নুরুল ইসলাম, গাউস খান, বি এইচ তালুকদার, আবদুল হামিদ, শফিক মিয়া, মোহাম্মদ কলমদার আলী, শরিয়ত উদ্দিন আহমদ, মোহাম্মদ একরাম হোসেন, নুরুল হক, তোয়াহিদ আলী, শামসুর রহমান, মশ্রফ আলী, মোহাম্মদ অমর, রেদওয়ান মিয়া, এ কে এস ইসলাম, তৈয়বুর রহমান, মহিন উদ্দিন, আবদুল আজিজ ও রহিম উদ্দিন।

অস্থায়ী আওয়ামী লীগ লন্ডন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় গত ১৭ই অক্টোবর। এই অধিবেশনে বৃহত্তম লন্ডন শহরকে সাংগাঠনিক কার্যকলাপের ও গণ-সংযোগের সুবিধার জন্য লন্ডনকে ৯টি আঞ্চলিক ভাগে বিভক্ত করা হয় এবং এর এক এক ভাগকে একটি সাব-ডিভিশন আওয়ামী লীগের মর্যাদা দেওয়া হয়। সাব ডিভিশনগুলি নিম্নলিখিত ডিস্ট্রিক্ট এলাকা নিয়ে গঠিত হবেঃ-

১। এন+এন+ডবলিউ

২। ডাবলিউ+ ডাবলিউ-সি

 

৩। ই-১

৪। ই-২+৮+৫

৫। ই-৯+১৪+১৬+৬+১৩+১৫+৭+১২                     ৩ হতে ৬ পূর্ব লন্ডন

৬। ই- ১০+১১+১৭১৮+৪+ইসেক্স

৭। দক্ষিণ টেমস এলাকা

৮। উত্তর টেমস এলাকা

৯। নর্থ+এন-ডাবলিউ

লন্ডনের বাঙালি ভাইবোনদের কাছে অনুরোধ

আপনারা রাজনৈতিক বিভিন্ন ‘ইজম’ পন্থীদের প্রভাব থেকে নিজেদেরকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামকে শক্তিশালী করে তুলুন আর একটি মাত্র আওয়াজ তুলুনঃ

প্রিয় নেতা শেখ মুজিব আমাদেরকে ডাক দিয়েছেন গোলামীর জিঞ্জির ছিঁড়ে ফেলতে। আসুন, আমরা বাংলাদেশের কল্যাণের জন্য সর্বস্ব পণ করি।

 

______________________________________________________

সাধারণ সম্পাদক জনাব মোহাম্মদ আবুল বশর কর্তৃক ২৭৫ উলড ব্রোমটন রোড, লন্ডন, দঃ পঃ ৫ হইতে প্রকাশিত ও প্রচারিত। দূরালাপনীঃ ০১-৩৭৩ ৭৫৬১, ০১-৬০৩ ৭৪৬১

<৪,৮৩,১৪৫-১৪৭>

অনুবাদকঃ তন্দ্রা বিশ্বাস

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৮৩।বাংলাদেশ প্রশ্নে বৃটিশ লেবার পার্টির সিদ্ধান্ত জানিয়ে মিঃ আয়ান মিকার্ডো এম,পি-র চিঠি এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১৩ অক্টোবর,১৯৭১

প্যালেস চেম্বারস
ব্রিজ স্ট্রিট, লন্ডন এসডব্লিউ১এ ২ জেএক্স
টেলিফোন: ০১.৮৩৯২৭২১

জনাব এম এ এইচ মিয়া বিকম
৩৭’ বিসকট হাউজ
ডিভাস স্ট্রিট
লন্ডন ই৩ ৩এল

 

১৩ অক্টোবর ১৯৭১

জনাব মিয়া,
আমি আপনার ৩ তারিখের চিঠির জন্য আমার লেবার পার্টি সম্মেলনের বিবরণীতে আপনাকে ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ পেয়েছি। আমি নিশ্চিত যে জাতীয় নির্বাহী কমিটি কর্তৃক যে বিশ্লেষণটি সম্মেলনে উপস্থাপিত হয়েছে যা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য এবং সম্মেলন ও বাইরের সন্ধ্যার বৈঠকগুলোর উভয়ের বক্তৃতা পড়ে থাকবেন। লেবার পার্টিতে আপনার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সমর্থন রয়েছে।

একান্তে,

এসডি/

জনাব মিকারডো কর্তৃক আদিষ্ট এবং
তাঁর অনুপস্থিতি তে সই করা

আয়ান মিকারডো, এমপির পক্ষ থেকে

……………………………..

খবর প্রকাশিত

লেবার পার্টির তথ্য বিভাগ থেকে প্রকাশিত
ট্রান্সপোর্ট হাউজ লন্ডন এসডব্লিউ ১.০১৮৩৪৯৪৩৪
তথ্য পরিচালক: পার্সি ক্লার্ক

 

পিএস ৮৩/৭১
আশু প্রকাশের জন্য


পাকিস্তান

লেবার পার্টির আন্তর্জাতিক কমিটির আজকের বৈঠকে পাকিস্তানের পরিস্থিতি আলোচিত হয়েছে এবং নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়েছে

পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বর্তমান মানবীয় সংকট নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এন.ই.সি. ধারণা করে যে, পাকিস্তানের মধ্যকার বর্তমান সংঘর্ষের ঝুঁকি বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, শুধুমাত্র একটি সন্তোষজনক রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ স্থিতাবস্থা পুনরুদ্ধার করা ও শান্তির প্রতি হুমকির শেষ ঘটানো যেতে পারে এবং জরুরি অবস্থা ও শরণার্থীদের বর্তমান ভোগান্তির পরিমাণ এবং আসন্ন দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বৃটেনের কাছে একটি মুক্তহস্ত প্রতিক্রিয়া দাবি করে। নিম্নলিখিত আশু পদক্ষেপ নেয়ার জন্য এইচ. এম. সরকারকে সুপারিশ করা যাচ্ছে :

(ক) পাকিস্তানের শান্তির হুমকিস্বরূপ এবং অন্যদের নিরাপত্তা বিপন্নকারী সংঘর্ষ সিকিউরিটি কাউন্সিলে জরুরী প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনায় আনতে হবে।

(খ) উ থান্টের রিলিফ ফান্ডে বৃটিশ অবদান পর্যাপ্তরূপে বাড়ানো এবং শরনার্থীগত সমস্যায় ভারতকে অর্থনৈতিকভাবে বাড়তি সাহায্যের জন্য আশু দ্বিপার্শিক প্রস্তাব দিতে হবে।

এন..সি. আরো ধারণা করে যে, এই অবস্থায় এটি ঠিক যে বৃটিশ জনগণের জানা উচিত এইচ.এম. সরকার পাকিস্তান এইড কনসোরটিয়াম এর আসন্ন বৈঠকে অংশ নেয়ার জন্য প্রস্তাব দিচ্ছে, যা পাকিস্তানের মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটাবস্থা নিয়ে আলোচনা করবে।

এন..সি. ধারণা করে যে, যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধসে গেছে সেখানে উন্নয়নের জন্য সাহায্য অর্থবহ হতে পারে না। অতএব, কনসোরটিয়াম এর আসন্ন মিটিংএ সুপারিশ করা হচ্ছে যে, যতদিন না পূর্ব পাকিস্তানে একটি শান্তিপূর্ণ মীমাংসা অর্জন করা হয়, ততদিন ত্রাণ এবং ব্যধি ও সংকটাবস্থা নিবারণের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের জন্য সাহায্য সীমিত হওয়া উচিত কারণ যাদের সাহায্য দরকার তারা আর পাকিস্তানে নেই।

ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানে পর্যাপ্ত ত্রাণ দিতে না পারায় এবং অন্যান্য সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের সময় অনুরূপ প্রযুক্তিগত সমস্যায় কমিটি এইচ এম সরকারকে একটি আন্তর্জাতিক রিলিফ কমিশন প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব দেয়ার জন্য সুপারিশ করছে। এই কমিশন দ্রুত গঠন করা উচিত এবং ত্রাণ, পরিবহন ও বৃহৎ সংস্থা দক্ষতার সহিত সুবিন্যাশ করা উচিত। এমতাবস্থায় কমিশন পাকিস্তানে চলমান বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী জাতিসংঙ্ঘ কর্তৃক কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত সে বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করবে। প্রাকৃতিক এবং মানুষসৃষ্ট দুর্যোগে জীবন বাঁচাতে কমিশন শীঘ্রই ত্রাণ সরবরাহের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, জরুরী ওষুধ সরবরাহ করবে এবং প্রয়োজনে বর্তমান অবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেবে যতক্ষণ দীর্ঘ মেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা যাচ্ছে। এই কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে এইচ.এম. সরকারের উচিত সম্পূর্ণ বৃটিশ অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা।



জুন ৮, ১৯৭১
——————————–

                                                                               আইডি/১৯৭০৭১/৯৩

 


পাকিস্তানের বিষয়ে জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিবৃতি

আলোচনাসভা বাংলায় সংঘটিত হওয়া ভয়ানক দুঃখজনক ঘটনায় ভীতি ও উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা মনে করে যে, পাকিস্তানকে পূর্ব বাংলার মানুষের সহ্য করা ভয়ানক দুর্ভোগের দায়িত্ব নিতে হবে এবং আলোচনাসভা পাকিস্তান সরকারকে জনগণ ও পূর্ব বাংলার গণতান্ত্রিক ভোটে নির্বাচিত নেতার বিরুদ্ধে মিলিটারি বাহিনীর অহেতুক ব্যবহারের নিন্দা জানায়।

শরণার্থী
বিশাল শরণার্থী সমস্যায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের অপর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়ায় আলোচনাসভা মারাত্মক উদ্বিগ্ন। ভারতীয় সরকার এই সমস্যার কিছু অংশের দায়িত্ব নিয়েছে এবং শরণার্থীদের সহযোগিতার সকল দায়িত্ব নেয়ার জন্য আলোচনাসভা একটি জাতিসংঘ দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সুপারিশ করেছে। আলোচনাসভা এরকম একটি সংস্থাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেয়ার জন্য এবং ইতোমধ্যে ভারত সরকারকে ত্রাণের বর্তমান জরুরি সমস্যার সাথে মানিয়ে নিতে পর্যাপ্ত সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বৃটিশ সরকারকে সুপারিশ করে।

সহযোগিতা

আশানুরূপ রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া পাকিস্তানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার অর্থ দাঁড়াবে একটি নিন্দিত মিলিটারি শাসনব্যাবস্থায় ভর্তুকি প্রদান। অতএব, আলোচনাসভা সকল দেশ ও বিশেষ করে পাকিস্তান এইড কনসোরটিয়াম এর সদস্যদের পূর্ব বাংলার জনগণের সন্তোষজনক রাজনৈতিক সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত সকল ধরণের জরুরি মানবিক সহযোগিতা প্রতিরোধ করতে সুপারিশ করছে।

রাজনৈতিক

সমাধান

আলোচনাসভা মনে করে যে একটি রাজনৈতিক সমাধানে তখনই পৌঁছানো যাবে যখন:

১।পূর্ব বাংলায় সামরিক অত্যাচার বন্ধ হবে।

২। পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক নেতাদের বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমান কে কারামুক্ত করা হবে।
পূর্ব বাংলার গণতান্ত্রিক ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নেতাদের সাথে যেকোন রাজনৈতিক সমাধানের বন্দোবস্ত করা উচিত।

শান্তির প্রতি হুমকিস্বরূপ

আলোচনাসভা ধারণা করে যে, ভারতীয় উপমহাদেশের বর্তমান অবস্থা বিশ্ব শান্তির প্রতি হুমকিস্বরূপ। অতএব, পূর্ব বাংলার মানুষের ইচ্ছানুযায়ী রাজনৈতিক সমধানের উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের সরাসরি অংশগ্রহণ করা উচিত। আলোচনাসভা বিষয়টিকে জাতিসংঘের চলমান বৈঠকে উত্থাপন করার জন্য বৃটিশ সরকারকে সুপারিশ করেছে।
_______________________

 

<৪,৮৪,১৪৮-১৪৯>

অনুবাদকঃ তন্দ্রা বিশ্বাস

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৮৪। কনভেনশন সম্পর্কে ভিন্ন মতাবলম্বীদের বক্তব্য সম্বলিত চিঠি ক্যাম্পেন কমিটির দলিলপত্র ১৪ অক্টোবর,১৯৭১

এস.এম. আইয়ুব

০১-৮৮৯ ৪৪৭৪

৩৩, দাজিরিয়ার রোড                                                                                           লন্ডন এন ২২                                                                                    ১৪ অক্টোবর ১৯৭১

প্রিয় বন্ধু,
আমি আমার সভাপতিত্বে ১১ অক্টোবর সোমবার কনওয়ে হল, লন্ডন ডব্লিউ সি ২ এ সংঘটিত বৈঠকের কার্যবিবরণী আলোচনা করছি। লন্ডনের ভিতর ও বাহিরের ১৪ টি সক্রিয় দল থেকে ৪০ জনেরও বেশি বাঙালি কর্মী বৈঠকে অংশগ্রহণ করে এবং সর্বসম্মতিক্রমে আলোচিত সমাধান গ্রহণ করে।
আপনি যদি নথিপত্রে ব্যক্ত করা অধিকাংশ সমাধানের সাথে একমত হয়ে থাকেন, তাহলে আমরা আশা করব যে, আপনার কমিটি নথিতে প্রদর্শিত সমস্যাগুলোকে গুরুত্বসহকারে নেবে এবং সরাসরি ১১ গোরিং স্ট্রিট, লন্ডন ইসি৩ ঠিকানায় প্রতিনিধি সভার কমিটিকে উক্ত আলোচ্য বিষয়গুলোর বিপরীতে আপনার কমিটির মতামতসহ এ বিষয়ে চিঠি প্রেরণ করবে।

যুক্তরাজ্যে গণতান্ত্রিক ও স্বাভাবিক জীবনযাপনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের কর্মকান্ড নিশ্চিতের মাধ্যমে অ্যাকশন কমিটির জাতীয় অধিবেশনের জন্য প্রচারণা কমিটির একজন সদস্য হিসেবে যোগদান করা সম্ভব হলে আমরা খুশি হব
আমরা আশা করি, আপনি আমাদের সাথে একমত হবেন যে, সময়ের সাথে সাথে জনমনে ভীতি বেড়েই চলেছে। এই প্রক্রিয়া রোধ করা না গেলে আমাদের যুক্তরাজ্য গমন অপোষনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
আপনার দ্রুত প্রত্যুত্তর সহজতর করতে আমরা একটি ফর্ম পাঠাচ্ছি। বিষয়টির প্রতি আপনার জরুরি মনোযোগ প্রত্যাশা করি।
যেকোন ধরনের বিস্তারিত তথ্য জানতে আমার সাথে যোগাযোগ করতে সংকোচবোধ করবেন না।

শুভেচ্ছান্তে।
আপনার একান্ত,
এস.এম. আইয়ুব
প্রচারণা কমিটির পক্ষ থেকে

ফর্ম
সেক্রেটারি
কনভেনশন কমিটি
১১ গোরিং স্ট্রিট
লন্ডন ই সি ৩

আমাদের কমিটি ১১ অক্টোবর লন্ডনের বৈঠকের সাথে সম্পূর্ণ একমত এটি আমাদেরও অভিমত যে, অ্যাকশন কমিটিগুলোর প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় দলের সংবিধান কমিটিগুলোর একটি বিশেষভাবে মিলিত সম্মেলনে রচনা করা উচিত। শুধুমাত্র এমন একটি সংবিধান গৃহীত হওয়ার পরই কর্মকর্তা, পরিচালনা পর্ষদ প্রমুখ নির্বাচন করার জন্য জাতীয় অধিবেশন হওয়া উচিত।


আপনাম নাম————————–টেলিঃ নং————————নাম এবং অ্যাকশন কমিটির বিশেষ বিবরণ—————————————————————————————————————————————————————————————————————————-

_________________________________________

<৪,৮৫,১৫০>

অনুবাদকঃ তন্দ্রা বিশ্বাস

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৮৫কনভেনশনের জন্য নির্ধারিত দুজন প্রতিনিধির নামসহ কিডারমিনষ্টার শাখার সভাপতির চিঠি এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১৫ অক্টোবর,১৯৭১


বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি

৭২ কোভেন্ট্রি স্ট্রিট, কিডার মিনস্টার

টেলি নং৬২০১১

                                                                         তারিখ: ১৫ অক্টোবর,৭১


সেক্রেটারি
অধিবেশন কমিটি
১১ গোরিং স্ট্রিট,লন্ডন ই সি ৩


জনাব,
আমি কিডার মিনস্টার ওরস এর বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সমাধানের একটি কপিসহ প্রযোজনীয় সকল কাপজপত্র পাঠিয়ে দিচ্ছি।

১৫ অক্টোবর, ৭১ এ বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি কিডার মিনস্টার এর একটি বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকের জরুরি বক্তব্য ছিল প্রতিনিধিদের লন্ডনের অধিবেশন কমিটিতে পাঠিয়ে দেওয়া যার কোন ব্যতিক্রম নেই।

সবাইকে যথাক্রমে ৮ অক্টোবর, ৭১ এবং ১৪ অক্টোবর, ৭১ এ অধিবেশন কমিটির চিঠি দ্বারা বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

এই বৈঠক জনাব এস. এম. আইয়ুব এর সভাপতিত্বে লন্ডন বৈঠকে গৃহীত সমসধানের প্রশংসা করেছে।

যেহেতু লন্ডনের অধিবেশন কমিটি প্রত্যেকটি সমাধান গ্রহণ করেছে, সেহেতু আমি দুজন প্রতিনিধির নাম প্রেরণ করছি, যারা লন্ডনের অধিবেশন কমিটির কাছে কিডার মিনস্টার শাখার বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটিকে সম্পূর্নরূপে উপস্থাপন করে।

উপরন্তু, আমি আরও আপনার নজরে আনতে চাই যে, এই কমিটি মধ্যভূমি প্রদেশের মধ্য দিয়ে লন্ডনের অধিবেশন কমিটির কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য দাখিল করতে ইচ্ছুক নয়। প্রতিনিধিদের সাথে এলাকার অমনোভাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোচনা করা যেতে পারে

আশা করি, কনভেনশনাল কমিটিতে প্রতিনিধিদের নাম অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ সফল হবে।

ধন্যবাদ

 

প্রতিনিধিদের নাম                                     ঠিকানা

 

১। সৈয়দ আলবাব হোসেন     ৭২ কনভেন্ট্রি স্ট্রিট, কিডার মিনস্টার, ওরকস
টেলি নং: ৬২০১১

২। সৈয়দ আফরুজ হোসেন ২৮ গিলগাল,স্টুরপোর্ট অন সেভার্ন                                                                         ওরকস
বাংলাদেশ এ্যাকশন কমিটি কিডার মিন্সটার এর সভাপতি
(সৈয়দ মুজতবা হাসান)

___________________________________________________

<৪,৮৬,১৫১>

অনুবাদকঃ নিগার সুলতানা

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৮৬। কনভেনশন সম্পর্কে ভিন্ন মতাম্বলীদের পক্ষে আহ্ববায়কের প্রতি চিঠি এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১৫ অক্টোবর, ১৯৭১

 

এস. এম. আইয়ুব

 

৩৩, ড্যাজমার রোড

লন্ডন, এন. ২২

১৫ অক্টোবর, ১৯৭১

আহ্বায়ক,

অধিবেশন কমিটি,

১১, গোরিং স্ট্রিট, লন্ডন ইসি৩

 

প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষী,

আমি ১১ই অক্টোবর আমার সভাপতিত্বে কনওয়ে হলের সমাবেশে গৃহীত সিদ্ধান্তের একটি কপি সংযুক্ত করছি।

মিটিংটি দুই দিনের নোটিশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তথাপি এতে ১২ টি স্থানীয় কমিটির বহু সংখ্যক কর্মী অংশগ্রহণ করেছিলেন, যথা:

১. এনফিল্ড

২. কলচেস্টার

৩. আক্সব্রীজ

৪. বেলহাম

৫. ওয়েস্টমিনস্টার

৬. বেসওয়াটার

৭. হেনডন

৮. নর্থ ওয়েস্ট লন্ডন

৯. বাংলাদেশ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন

১০. ইসলিংটন

১১. ত্রাণ কমিটি (ইস্ট লন্ডন)

১২. ছাত্রসংগ্রাম কমিটি।

অতএব, এটি নিশ্চিতভাবেই অনুমান করা যায় যে, স্থানীয় কার্যকমিটির মধ্যে সভায় গৃহীত সুপারিশের জোরালো সমর্থন রয়েছে।

অতএব আমরা আশা করি যে, আপনি এই উপস্থাপনায় আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেবেন এবং অতি শীঘ্রই আপনার উত্তর জানাবেন, যাতে করে আমরা প্রস্তাবিত সম্মেলনে, কার্যকর অংশগ্রহণের জন্য   পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারি।

 

বিনীত

এসডি/-

এস এম আইয়ূব

 

 

 

<৪,৮৭,১৫২-১৫৩>

অনুবাদকঃ নিগার সুলতানা

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৮৭। কনভেনশন সম্পর্কে ভিন্ন বক্তব্য জানিয়ে নিউটন শাখা এ্যাকশন কমিটির সম্পাদকের চিঠি এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১৭ অক্টোবর, ১৯৭১

 

 

যুক্তরাজ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের

জনগণের অ্যাকশন কমিটি

লিউটন (বেডস) ইউনিট

 

 

৫, কেনিলওরথ রোড

লিউটন

বেডস

১৭ অক্টোবর, ১৯৭১

ফোন: লিউটন ২৬৯৯৪

 

আহ্বায়ক,

অ্যাকশন কমিটির পরিচালনা সংসদ

ব্রিটেনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে,

১১, গোরিং স্ট্রীট

লন্ডন, ই. সি. ৩।

 

জনাব,

আমরা বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করেছি যে, আমাদের ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখের চিঠির উত্তর আপনি দেন নি, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুক্তরাজ্যে আমাদের আন্দোলনের ধারাবাহিতা বজায় রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এমনকি চিঠিটি স্বীকৃতও হয় নি এবং যার ফলে আমাদের কমিটি, যেটি দৃঢভাবে সংগঠিত হয়েছে, তা এখন ধ্বংসের পথে এবং যদি এই ধরনের কিছু ঘটে, আপনি এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী হবেন।

ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি যে, একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করার জন্য একটি জাতীয় সম্মেলন খুব শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি প্রস্তাবিত কমিটিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে যদি না, আপনি একটি সভা আহ্বান করেন যা আমরা ইতিমধ্য প্রস্তাব করেছি, আঞ্চলিক কমিটির প্রধানদের সাথে পরামর্শক্রমে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য যা কিনা বিভিন্ন আঞ্চলিক উপ-সংসদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আসতে পারে এবং সব উপকমিটিকে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে, যাতে করে শান্তিপূর্ণভভাবে ও একটি গণতান্ত্রিক উপায়ে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা সম্ভব হতে পারে।

 

আমরা বুঝতে পেরেছি যে কিছু কমিটি অবগত নয় সংবিধান কি হবে এবং কিভাবে কমিটির প্রতিনিধিত্ব করা হবে। খসড়া সংবিধানের কপি সব কমিটির মধ্যে বন্টন করা হবে তাদের প্রস্তুত করতে অনুচ্ছেদ, ধারা ও অন্যান্য বিষয়ে বিতর্ক করার জন্য।

 

আমরা আশা করি যে, যুক্তরাজ্যে বাঙালি ঐক্যের নিমিত্তে আপনি এই চিঠিতে গুরুত্ব আরোপ করবেন।

 

জয় বাংলা

 

নিবেদক

sd/-

(মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন)

সম্পাদক

 

প্রতিলিপি: বিচারপতি জনাব এ. এস. চৌধুরী

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাই কমিশনার

২৪, পেমব্রিজ গার্ডেনস

লন্ডন ডব্লিউ ২

তথ্য এবং উহার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য।

<৪,৮৮,১৫৪>

অনুবাদকঃ নিগার সুলতানা

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৮৮। বাংলাদেশ আন্দোলন সমর্থনকারী জনৈক বৃটিশ নাগরিকের প্রতি এ্যাকশন কমিটির আহ্বায়কের চিঠি এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১৮ অক্টোবর, ১৯৭১

 

 

অক্টোবর ১৮, ১৯৭১

 

জনাব ব্রায়ান এম. কে

২১, শফিল্ড ড্রাইভ

ড্যারফিল্ড

বার্ন্সলে

ইয়র্ক।

 

জনাব কে,

আমি খুবই আনন্দিত যে, আমাদের ব্রিটেনের শ্রম পার্টি সম্মেলনের সভায় আপনি অংশগ্রহণ করছেন। আমরা খুবই উৎসাহিত হয়েছি আমাদের প্রয়োজনে আপনি সাহায্য করতে সম্মত হয়েছেন বলে।

 

বাংলাদেশে এখনও এই দেশের তরুণদের যথেষ্ট মনোযোগ পায়নি। এই দেশের তরুণ সমাজতাত্ত্বিকদের নিকট আমাদের প্রয়োজন প্রচার ও ব্যাখ্যার করে কিভাবে আমরা একটি জাতীয় প্রচারণায় যেতে পারি তার সাহায্য ও পরামর্শ দিয়ে আপনি আমাদেরকে অনেক সাহায্য করতে পারেন।

 

আপনি আমাদেরকে আপনার এলাকায় একটি সভার কোন সম্ভাবনা যদি থাকে, যেখানে আমি আমার একজন কর্মীকে প্রেরণ করতে পারি হয় একটি সমাবেশে ভাষণ দেয়ার জন্য নয়ত আপনার এলাকার একটি তরুণ সমাজতাত্ত্বিক দলের সাথে কথা বলার জন্য, সে বিষয়ে ধারণা দিলে আমি ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞ হব।   আপনার মতামত জানার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। এদিকে, আমরা আপনাকে বাংলাদেশের পাশাপাশি এখানকার উন্নয়ন সম্পর্কেও অবগত করতে থাকব।

নিবেদক

এম. এ. এইচ. ভূঁইয়া

 

 

<৪,৮৯,১৫৫,১৫৬>

অনুবাদকঃ আদিতি আদৃতা সৃষ্টি

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৮৯। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনারের প্রতি স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়কের চিঠি এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ১৮ অক্টোবর, ১৯৭১

 

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটির পরিচালনা কমিটি

জয় বাংলা

১১গোরিং স্ট্রিট                                                                                                        লন্ডন ই.সি.৩

টেলিফোন: ০১-২৮৩ ৫৫২৬/ ৩৬২৩

১৮ অক্টোবর, ১৯৭১

জনাব হোসেন আলী

হাই কমিশনার

ভারতস্থঃ হাই কমিশনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষে

জনাব আলী,

জনাব আবু ইউসুফ খান যিনি এই চিঠিটি বহন করছেন তিনি সম্প্রতি পাকিস্তান এয়ার ফোর্স (সৌদি আরবের কোথাও সংস্থিত) এর একজন ইঞ্জিনিয়ার, বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে অগ্রসর হচ্ছেন। জনাব খানের ভাই মেজর তাহের, যিনি আমাদের বাহিনীর অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, জনাব খানকে একটি চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন যে, লন্ডন থেকে কিছু অস্ত্রোপচার যন্ত্র সংগ্রহ করে সেগুলো নিয়ে যেন বাংলাদেশে (মেঘালয়ের কোথাও মূল হাসপাতাল) আসে। জনাব খান চিঠি পাওয়া মাত্রই আমাদের কাছে প্রকাশ করেছেন। আপনাদের নজরে আনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি প্রাপ্তির মাধ্যমে যন্ত্রগুলো সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটির দ্বারা সরবরাহ করাকেই আমরা সঠিক হবে বলে মনে করছি। যেহেতু খুব স্বল্প পরিমাণ অর্থ খরচ হবে, আমরা মনে করি যে, আপনি আনন্দের সাথে আমাদের সিদ্ধান্ত অনুমোদন এবং আমাদের খুব দ্রুত উত্তর পাঠাবেন।

এ প্রসঙ্গে সম্ভবত আপনার চিঠি নং বি – ৫/৪/৭১, ১৩ অক্টোবর ১৯৭১ তারিখে প্রচারিত চিঠিটি পড়ে দেখুন, যেখানে বলা আছে যে, গ্রেট ব্রিটেনের সব অ্যাকশন কমিটি এই বিশেষপরিচালনা কমিটির অধিভুক্ত। আপনার অন্যান্য প্রচারণার মধ্যে থেকেও এই বিশেষ চিঠিটি ব্রিটেনে বাংলা সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি মহান উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে আপনার সরাসরি আবেদন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, যা গুরুতর প্রভাব সৃষ্টি করেছে। সরকার আদেশ দিয়েছে তাদের পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নিকট অর্থ সংগ্রহ করে এবং ব্যাংকে এটি সঞ্চিত রাখতে, যাতে ঠিক সময়ে সরকার তা ব্যবহার করতে পারে। তখন থেকেই আমরা টাকা সংগ্রহ এবং ব্যাংকের মাধ্যমে তা গচ্ছিত রাখছি। আপনাদের এই কর্ম আমাদের বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। অনেক রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর অনেকেই অধৈর্য হয়ে অনেক অ্যাকশন কমিটি, বাঙালি নেতৃত্ব, বিভিন্ন সংস্থার নিকট চিঠি লিখে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে আমাদের ছেলেদের করুণ পরিস্থিতি ও অপরিমেয় দুঃখকষ্টের অবস্থা স্পষ্টভাবে চিত্রায়িত করেছে এবং আবেদন করছে তাদের জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। যেহেতু সমগ্র বাংলার জনগণ তাদের জন্য ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ এ চাঁদা দিয়েছে এবং এখনো দিচ্ছে সুতরাং তারা আসলেই চায় যে তাদের টাকা প্রকৃত এবং বাস্তব ফল প্রদান করুক। সুতরাং এখন আমাদের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করুন। এখন মুক্তিবাহিনীর অনেক কিছুর প্রয়োজন এবং আপনি আমাদের জনগণের কাছে তা লিখে পাঠাচ্ছেন। নিরীহ মানুষ আমাদের কাছে আসে এবং দোষারোপ করে। তারা বলে আমরা যুদ্ধে লড়াইরত সেনাদের দুর্ভোগের জন্য দায়ী। তারা জিজ্ঞাসা করে যদি টাকা সঠিক অবদানের জন্য কাজে লাগানো না হয় তবে কেন তা দেয়া হয়েছে, কেন আমরা আবার চাঁদা দেবো? আমাদের উপর নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ আসছে। ঠিক সে সময়েই পরিচালনা কমিটি আপনার কাছে তাদের দুর্ভাগ্যপূর্ণ অবস্থা বিবেচনা করার জন্য লিখছে, যখন আপনার সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি ব্রিটেনে জনগণের নিকট প্রকাশিত হয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ আমাদের নিকট এসে জানতে চায় কেন এখনো ঔষধ, কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্র পাঠানো হয়নি। তারা ব্যাখ্যা চায়, সক্রিয়তা চায় এবং জিনিসপত্র পাঠানোর ব্যাপারে আমাদের নীরবতাকে দায়ী করে দাবি জানায় তাদের জন্য আপনার কাছে লিখতে।

আমরা বুঝতে পারি না কেন আমরা অর্থের একটি অংশ ব্যয় করার অনুমতি পাই না, যা আমাদের দ্বারা আপনার জন্য সংগৃহীত। কারণ সত্যি বলতে, সাহায্য করার ক্ষেত্রে আমাদের অক্ষমতা এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তির সাথে আপনার সরাসরি যোগাযোগ পদ্ধতির কারণে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের নিকট কমিটি অবহেলিত হয়ে পড়বে এবং সব ব্যবহারিক উদ্দেশ্য অবশেষে উচ্ছনে যাবে। পাকিস্তান হাই কমিশন তাদের দূত পাঠিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, পরিচালনা কমিটি ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং বাংলাদেশ ফান্ডে অর্থ সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। অতএব, এটা সম্ভবত নিছক দেশপ্রেমের অত্যন্ত এক ক্ষ্যাপামি। পৃথক পৃথক সংগঠন বিভিন্ন তহবিল পরিচালনা করবে, অর্থ সংগ্রহ করবে এবং এর জন্য শুধু তারাই দায়ী থাকবে।

আশা করি আমি আপনাকে প্রচুর চাপ এবং অপমানের সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছি, যাতে আমরাও নিক্ষিপ্ত হয়েছি।

যাই ঘটুক না কেন আমি জনগণের কাছে ঠিক অনুরূপ একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছি যেখানে মুক্তিবাহিনীর জন্য গরম কাপড় চাওয়া হয়েছে, আশা করি সব উল্লেখ করেছি। আমি নিশ্চিত এতে একটি অসাধারণ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে। আমি শীঘ্রই আবার আপনার কাছে লিখবো। বিনম্র অভিবাদন ও শুভেচ্ছা রইলো।

জয় বাংলা।

আপনার বিশ্বস্ত

(এম এ এইচ ভূঁইয়া)

আহ্বায়ক।

 

<৪,৯০,১৫৭>

অনুবাদকঃ নাবিলা ইলিয়াস তারিন

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৯০। ‘থার্ড ওয়ার্নড ফার্স্ট’-এর উদ্যোগে আয়োজিত সভায় বাংলাদেশ সম্পর্কে বক্তব্য রাখার অনুরোধ সম্বলিত এ্যাকশন কমিটির আহ্বায়কের প্রতি চিঠি এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ২২ অক্টোবর, ১৯৭১

 

৩য় বিশ্ব প্রথমে

ব্রিটওয়েল স্যালোম

ওয়েলিংটন

অক্সন

ওএক্স৯৫এলএক্স

২২ অক্টোবর, ১৯৭১

বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি

১১, গোরিং স্ট্রিট

লন্ডন ইসি৩

জনাব ভূঁইয়া,

আমরা টেলিফোনে আপনার নিউল্যান্ড পার্ক কলেজ, শালফন্ট সেইন্ট গাইলস, বাকিংহ্যামশায়ার-এ বুধবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭ টায় কথা বলার জন্য যে আয়োজনটি করেছিলাম … সেটি নিশ্চিত করার জন্যই আমি আপনাকে চিঠিটি পাঠাচ্ছি। আমি কলেজের প্রতিনিধি স্টিভ ডে এর সাথে কথা বলেছি, আপনাকে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানাবার জন্য যে, আপনি কিভাবে ঐখানে পৌঁছুবেন এবং ট্রেনে কিভাবে দেখা করবেন।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে নভেম্বরের ৬ তারিখ শনিবারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় বিশ্ব অধিবেশনের সকল ব্যবস্থা চূড়ান্ত করবার লক্ষ্যে আয়োজকদের সাথে কথা বলব যেন তারা আপনার সাথে যোগাযোগ করে।

আপনি এই দু’টি সভায় আসতে সম্মত হয়েছেন, তার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং গতবারের বার্মিংহাম এডুকেশন কলেজের বৈঠকের ব্যাপারে ভুল বুঝাবুঝি হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত কারণ আমি শেষ মুহূর্তে জানতে পারি যে বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।

আপনার অনুগত                                                                                                                   স্বাক্ষরে                                                                                                                    বারবারা ক্লার্ক

————————-

<৪,৯১,১৫৮>

অনুবাদকঃ নাবিলা ইলিয়াস তারিন

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৯১। ২২ শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত কনভেনশন কমিটির সভার সিদ্ধান্তসমূহ এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ২২ অক্টোবর, ১৯৭১

 

অধিবেশন কমিটির সম্মেলন

২২শে অক্টোবর, ১৯৭১

দক্ষিণাঞ্চলীয় ইংল্যান্ডের কিছু কমিটির দৃষ্টিভঙ্গীতে যেসব আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে, তা সমাধানের লক্ষ্যে ৩০ অক্টোবর, শনিবার দুপুর ২টায় অধিবেশন কমিটি লন্ডনে একটি সভার আয়োজন করবে, যেখানে বর্তমান কমিটি ও আঞ্চলিক কমিটির প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করবেন। আগামিকাল ২৩ অক্টোবর, শনিবার, ১৯৭১ তারিখে আঞ্চলিক কমিটির দ্বারা গৃহীত ফলাফল বৈঠকে বিবেচনা করা হবে।

স্বাক্ষরসমূহ                                                                                                                             ২২.১০.১৯৭১

বৈঠকে এটাও নির্ধারণ করা হয় যে, নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের ৩০ অক্টোবর, ১৯৭১ তারিখে ১১ গোরিং স্ট্রিট এ নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের সাথে বসবার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

স্বাক্ষরসমূহ

 

<৪,৯২,১৫৯-১৬০>

অনুবাদকঃ তন্দ্রা বিশ্বাস

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৯২।অনুষ্ঠিতব্য কনভেনশনের জন্য মিডল্যান্ড অঞ্চলের কমিটিসমূহের প্রতিনিধিদের সংখ্যা ও নামসহ লিখিত চিঠি এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ২৩ অক্টোবর,১৯৭১

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি
(মিডল্যান্ড অঞ্চল)

৯৩ স্ট্যাফোর্ড রোড
স্পার্ক ব্রুক                                                                 বার্মিংহাম বি১১ আইআইআরই                                                                          ২৩.১০.১৯৭১

আহ্বায়ক
অধিবেশন কমিটি
১১ গোরিং স্ট্রিট,লন্ডন. ই সি ই ৩

জনাব,

আপনার অনুরোধ/চিঠির সাথে একমত পোষণ করে ৮/১০/৭১ তারিখে আমরা মিডল্যান্ড অঞ্চলে সকল কমিটি মিলে একটি সভার আয়োজন করেছিলাম। এবং আসন বরাদ্দ করা হয়েছিল মিডল্যান্ড অঞ্চলের সকল কমিটির উপস্থিতি ও আংশিক সম্মতির উপর।

আমরা নিম্নলিখিত তালিকাসমূহ পাঠিয়ে দিচ্ছি

কমিটি                                               বরাদ্দকৃত আসনসংখ্যা
কনভেন্ট্রি                                  
লেইসেস্টার                                    
লাফবোরো                                   ২
নর্থহ্যাম্পটন                                
ওয়েলিংবোরো                              
নটিংহাম                                  
ডার্বি ম্যান্সফিড                          
ওরচেস্টার                                  ১
কিডারমিনস্টার                          
১০ব্ল্যাকহেলথ                              
১১উলভারহ্যাম্পটন                        
১২ওয়েনেসবারি                            
১৩ওরল্যাস্টন                              
১৪য়ালসল                               ২
১৫ওয়েস্টব্রমউইচ                        
১৬টিপটন                                  
১৭স্মেথউইক                              
১৮বার্মিংহাম(বি ডি এ সি)           ___৪৪___
                                 মোট       ৭৫

ওয়েস্টব্রমউইচ : () জনাব আব্দুল জলিল, ৭৯, হ্যামিল্টন রোড, বিহাম২১, () জনাব আয়াস মিয়া, ৬৮, বিচার্স রোড, বিহাম২১

ওরচেস্টার             : () জনাব মুজাহিদ আহমেদ, ৭৪, ওয়ায়েল্ড লাইন, ওরচেস্টার
লাফবোরো              : () জনাব এ আহমেদ ১০২. ফ্রিহোল্ড স্ট্রিট, লাফবোরো
(
) জনাব এস এ হাই

নর্থহ্যাম্পটন             : () জনাব এ এইচ চৌধুরী, ৭ মার্কপার্ক, নর্থহ্যাম্পটন
(
)জনাব আব্দুল আহাদ

ওয়েলিংবোরো         : () জনাব ইসরাইল আলী, ৩২, চার্চ সি ওয়েলিংবোরো

স্মেথউইক             : () জনাব মদোরিস আলী, ১০৪, লুইসহ্যাম রোড, স্মেথউইক,স্টাফস
(
) জনাব মুসলাউদ্দিন, ৩৩, মিডলম্যান রোড,স্মেথউইক,স্টাফস
(
) জনাব আশাবুর রহমান জয়গিরদার, ১২৫, অক্সফোর্ড
রোড, স্মেথউইক, স্টাফস
() জনাব মনুহর আলী, ২৬, সেন্ট্রাল প্লেস, স্মেথউইক স্টাফস

নটিংহাম                 : () জনাব এম এ ইউসুফ চৌধুরী, ১৭৭, আলফেরটন রোড,নটিংহাম

ডারলাস্টন–          ||
ওয়েনেসবারি–                |                                                           |
কভেন্ট্রি–                     |                                                           |
লেস্টার–                     |                                                          |
ডারবি/মারসফিল্ড           |        পরে পাঠানো হবে         |
কিডারমিনস্টার–             |                                                           |
ব্ল্যাকওয়েলথ               |                                            |
উলভারহ্যাম্পটন–           |                                                           |
ওয়ালসল–                   |                                                           |

—————————————
<৪,৯৩,১৬১-১৬৩>

অনুবাদকঃ তন্দ্রা বিশ্বাস

শিরোনাম সূত্র তারিখ
৯৩কনভেনশনের জন্য মনোনীত বিভিন্ন কমিটির ও তাদের প্রতিনিধিদের তালিকাসহ সভাপতি ও সম্পাদকের চিঠি এ্যাকশন কমিটির দলিলপত্র ২৩ অক্টোবর,১৯৭১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ